কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় - ছিলেন
প্রখ্যাত রবীন্দ্রজীবনীকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন
নদীয়া জেলার রানাঘাটে। পিতা নগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
ওকালতী করতেন বিহারের গিরিডিতে। কবি বিবাহ
সূত্রে আবধ্য হন শান্তিনিকেতনের প্রথম যুগের ছাত্রী
এবং বোলপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাত্রী ও বহু
বছর ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা, ব্রহ্মবাদী পণ্ডিত সীতানাথ তত্ত্বভূষণের কন্যা সুধাময়ী দেবীর সঙ্গে।

এই কবি রবীন্দ্রজীবনীকার
ব্যতীত অন্য কোনও ব্যক্তি হতেও পারেন। এই বিষয়ে আমাদের মতামত বা
বিশ্লেষণ “
রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা” অংশের শেষে দেওয়া রয়েছে। তা
পড়ে দেখতে
এখানে ক্লিক করুন . . .
কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা মিলনসাগরে তুলে, তাঁকে মিলনসাগরের কবিদের সভায় স্থান
দিতে পেরে আমরা ধন্য হলাম এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রয়াসের সার্থকতা।
এই কবিতার পাতা, তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।



উত্স -   



বীন্দ্রজীববনীকার কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ, কবির জন্ম শতবর্ষে - ৫.৬.২০২০                                          ^^ উপরে ফেরত   
...
কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষা জীবন    
কবি প্রভাতকুমারের কর্ম জীবন ও রচনাসম্ভার    
রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়    
কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত সম্মাননা    
রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা   
*
কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষা জীবন -                                      ^^ উপরে ফেরত   
পিতার কর্মক্ষেত্র বিহারের গিরিডিতেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। ১৯০৭ সালে, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে যোগ
দেওয়ার অপরাধে তিনি বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত হন। ১৯০৮ সালে, জাতীয় শিক্ষা পরিষদ প্রবর্তিত  
প্রবেশিকা পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে দশ টাকা বৃত্তি পান। পিতার মৃত্যু ও নিজের রুগ্নতার কারণে
কলেজে পড়া তাঁর হয়নি।
*
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কর্ম জীবন ও রচনাসম্ভার -                           ^^ উপরে ফেরত   
১৯০৯ সালে তিনি শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রমে যোগ দেন। তথন থেকেই তিনি শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু
করেন। ১৯১৬ থেকে ১৯১৮ সালে তিনি কলকাতার সিটি কলেজের গ্রন্থাগারিক হয়েছিলেন। ১৯১৮  সালে
তিনি পাঠভবনের শিক্ষকতা এবং গ্রন্থাগারিকের কার্যভার নিয়ে শান্তিনিকেতনে ফিরে আসেন। ১৯২৬ সাল
থেকে কলেজ শাখায় অধ্যাপক নিযুক্ত হন।

ইতিহাসেই তার উৎসাহ ছিল বেশি। তবে সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়েও ক্লাস নিতেন। জাতীয় জাগরণে উদ্বুদ্ধ
হয়ে তিনি লিখেছেন “প্রাচীন ইতিহাসের গল্প” (১৯১২), “ভারত পরিচয়” (১৯২১), "ভারতে জাতীয় আন্দোলন”
(১৯২৫), “বঙ্গ পরিচয়" দু-খণ্ড (১৯৩৬ ও ১৯৪২)। তাঁর রচিত বালক-পাঠ্য বইয়ের মধ্যে  রয়েছে  
“জ্ঞানভারতী” নামে একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ।

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় ১৯২১ সালে,
orientalist বা প্রাচ্যবীদ সিলভা লেভি (Sylvain Lévi) শান্তিনিকেতনে
এলে তাঁর কাছে চীনা ও তিব্বতি ভাষা শিখে গবেষণা শুরু করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বৌদ্ধ ও
হিন্দুদর্শনের সমগ্র চীনা ভাষ্য।

১৯২৫ সালে ইটালীয় প্রাচ্যবীদ ও ভারততত্ত্ববিদ জিউসেপ্প তুচ্চির
(Giuseppe Tucci) কাছে কংফুৎসুর
বা চীনা দার্শনিক কনফুশিয়াসের গ্রন্থ পাঠ করে তা অনুবাদ করেন।

১৯২৮ খ্রি. কাশী বিদ্যাপীঠে বৃহত্তর ভারত সম্পর্কে যে বক্তৃতা দেন তা পরে
“Indian Literature in China and
Far East”
নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বিশ্বভারতীর ঐক্যের তত্ত্বে বিশ্বাসী তিনি লিখলেন “পৃথিবীর  
ইতিহাস” (১৯৬৬)। যুক্তিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় লিখেছেন, “রামমোহন ও তত্কালীন সমাজ ও সাহিত্য”
(১৯৭২)।

সত্তর বছর বয়সে সোভিয়েত সায়েন্স অ্যাকাডেমির আমন্ত্রণে রাশিয়া ভ্রমণে যান। তা নিয়ে লেখেন  
“সোভিয়েত সফর” গ্রন্থ। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “ফিরে ফিরে চাই” (১৯৭৮)। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে
রয়েছে "বাংলা ধর্মসাহিত্য” (১৯৮১)।

গ্রন্থাগার  আন্দোলনের  তিনি  ছিলেন  অন্যতম পথিকৃৎ।  বিশ্বভারতীর  গ্রন্থাগার  গঠনে  তাঁর  ভূমিকা
অনস্বীকার্য্য। উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে “বাংলা দশমিক বর্গীকরণ” গ্রন্থ।
*
রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় -                                         ^^ উপরে ফেরত   
তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ৪ খণ্ডে রচিত “রবীন্দ্রজীবনী”। ১৯১০ থেকে তিনি এই গ্রন্থ রচনার ভাবনা-চিন্তা ও তৈয়ারী
শুরু করেন। জীবনীটি লিখতে সময় লেগেছিল পঁচিশ বছর (১৯২৯-৫৪)। ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয় ১ম খণ্ড।
রবীন্দ্রনাথ এই ১ম খণ্ডটিই দেখে যেতে পেরেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে
“রবীন্দ্রগ্রন্থ পঞ্জী” (১৯৩২), “রবীন্দ্রজীবনকথা”, “রবিকথা”, “রবীন্দ্রনাথের চেনাশোনা মানুষ”, “শান্তিনিকেতন-
বিশ্বভারতী”, “রবীন্দ্রনাথের গান--- কালানুক্রমিক সূচী”, “রবীন্দ্র গ্রন্থ পরিচিতি” প্রভৃতি।
*
কবি প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত সম্মাননা -                                   ^^ উপরে ফেরত   
কবি জীবনে বহু সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নানা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি.লিট. উপাধিতে ভূষিত
করেছে। তিনি ১৯৬৫ সালে বিশ্বভারতীর “দেশিকোত্তম” ও ১৯৮১ সালে ভারত সরকার দ্বারা “পদ্মভূষণ”
উপাধিতে ভূষিত হন।

১৯৫৪ সালে তিনি বিশ্বভারতী থেকে অবসরগ্রহণ করেন। অবসরগ্রহণের পর তিনি শান্তিনিকেতনের উপকণ্ঠে
ভুবনডাঙ্গায় নিজস্ব বাসভবনে কাটিয়েছেন।
*
রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা -                             ^^ উপরে ফেরত   
মিলনসাগরে আমরা মনে করি যে বাঙালী হয়ে পৃথিবীতে এলেই, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তার সাথে আসে একটি
কবিসত্তা, একটি অকর্তিত বা আন্-কাট্ হীরের মতো! এবার, এই আন্-কাট্ হীরের মত কবিসত্তাটিকে যে
যতটা ঘষা-মাজা করে, তাঁর কবিসত্তা ততটা উজ্জ্বলতার সঙ্গে চারিদিক উদ্ভাসিত করে। কথাটি মোটেই
অসত্য-ভাষণ নয় কারণ প্রাচীন কাল থেকে বাংলার ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও মনীষীদের ক্ষেত্রে আমরা তা
দীর্ঘকাল ধরে সত্য বলে দেখে আসছি। প্রখ্যাত রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ও বাঙালীর
জন্মসূত্রে পাওয়া, সেই কবিসত্তা থেকে বাদ পড়েন নি!

১৯৩৯ থেকে ১৯৪৪ সালের মধ্যে আমরা মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও ক্ষিতীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত,
“রামধনু” পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায় প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ৮টি কবিতা প্রকাশিত পেয়েছি।

আমরা জানি যে প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় নামের আরেকজন বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক ছিলেন, যিনি গল্পকার,
ঔপন্যাসিক এবং মানসী ও মর্মবাণী পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে বেশী পরিচিত। তিনি রবীন্দ্রজীবনীকার
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। গল্পকার
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের জীবনকাল ছিল
৩.২.১৮৭৩ ~ ৫.৪.১৯৩২। সুতরাং এই পাতার কবিতাগুলি, যা আমরা “রামধনু” পত্রিকা থেকে পেয়েছি, তা
তাঁর মৃত্যুর পরেই রচিত হয়েছিল। সুতরাং নিঃসন্দেহে এই কবিতাগুলি  
গল্পকার ও ঔপন্যাসিক  
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের কবিতা নয়

এই কবি রবীন্দ্রজীবনীকার
ব্যতীত অন্য কোনও ব্যক্তি হতেও পারেন। কারণ তাঁর “বিজয়ার চিঠি” কবিতাটি
পড়ে মনে হয় যে কবি কলকাতায় থাকতেন এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানীদের বোমার ভয়ে আরও
বহু কলকাতাবাসীর মত তিনিও কলকাতা ছেড়ে মফঃস্বলে বা গ্রামাঞ্চলে চলে গিয়েছিলেন। আমাদের কাছে
যে তথ্য আছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে ১৯২৬ সাল থেকে, রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
বিশ্বভারতীতে কলেজ শাখায় অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সুতরাং তিনি নিশ্চয়ই কলকাতাবাসী
ছিলেন না। কিন্তু কবিতাগুলির ভাবনা ও উত্কর্ষতা বলছে যে এই কবি, রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনের
সাংস্কৃতিক পরিবেশের মানুষ হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়।

এই বিষয় প্রমাণসহ সঠিক তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা এই পাতা সংশোধন করে, তা
উল্লেখ করে আমাদের কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করবো