কবি ভবতোষ নায়েকের কবিতা
*
সময়ের ছাপ
কবি ভবতোষ নায়েক

উষ্ণ বুকের মাঝে জানালার গরাদ দুটি
চেপে ধরে মন ডাকে আজ ।  
চেরাপুঞ্জির বন কোঁয়াশার   
ভেজা পায়ের ছাপ ফেলে যায়
অধরা প্রণয়ী রম্ভা
জ্যোৎস্নার আলোয় দেখি
পদ্মের জলে হাত তুলে ডাকে,
আয় !আয় !আয়!  
শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে পড়া
বিজলির ছায়া পেতে অধীর আগ্রহী
আজ আমি সব মায়া ছেড়ে
ক্লান্ত দিনের আলোয়হীন জায়গায়
চাঁদের মায়াবী আলো, হাত নাড়া দেয়।
আরও এক চেনা পথে পথিক
হয়ে মফস্বলে জুড়ে আর্ত করে বেড়ায়।
নীরব প্রেম সব
আজও যুগল যোগ্য সঙ্গী খোঁজার
জ্বালায় হাহাকার।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রেম
কবি ভবতোষ নায়েক

কাকে বলে জানি না
তবে ভালোবাসা আর প্রেম
যেন এক না হয়,
ভালোলাগা মধ্যে যেন প্রেম না আসে
যদি আসত
তবে, আজকের হারানো ভালোবাসা
স্বরাজ আমি হতাম।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নিছক স্বপ্ন
কবি ভবতোষ নায়েক

শিশির ভেজা ঘাসের গায়ে আলত
পা রেখে,
বনস্পতির চাদরে মোড়া গাঁয়ের হাঁটা পথে নিখোঁজ হলাম   
অশেষ প্রেমের সন্ধানে ।
আজ যাক, আর কিছু
চাওয়া পাওয়া মধ্যে দিয়ে
জীবন্ত সব মায়া
আমায় আঁকড়ে ধরে।
নাড়া দিয়ে উঠেছে স্বশরীর নিমগ্নতায়,
চাওয়া কথার উত্তর
ভেসে আসে
আমার ক্যানভাসে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ছেলেটা
কবি ভবতোষ নায়েক

ছেলেটা পারত
প্যান্ট শার্ট টাই গলায় দিয়ে
লিফটে দরজা বেয়ে উঠতে
কিন্তু তা করল না।    
রাস্তার ফুটপাতে বেঞ্চে,আস্তকুড়ে
ভেজা গায়ে গন্ধ চুষে নেই     
সামনের দোকানের এঁটো খাবারের।

এখন  যকৃতেও তার ঠিক কাজ করে না
সামান্য জল তার পেট ভরাই।
ছেলেটা পারত,    
ক্ষুদিরাম পার্কে মহুয়া গাছের আড়ালে লুকিয়ে বসে চুম্বন করতে থাকা
সুন্দর মেয়েটিকে তার প্রণয়ী করতে
কিন্তু পারল না।
জট ধরা চুলে শুকনো ডালের কঞ্চি খোঁচাই।
একবার শুধু পেপারে বেরিয়ে ছিল তার ছবি
কেউ খোঁজ নেবার প্রয়োজনে।
একদম শিরোনামে ছিল
পিতা সুবিনয় মহাজনের নাম।
চাইলে হয়ত খোঁজ ঠিক পেতো
কিন্তু সময় গেছে অনেকটা কেটে,
এখন সুবিনয় নেই আর বেঁচে
আর খোঁজ কেউ নেই নি সেই ছেলেটির।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ব্যর্থ
কবি ভবতোষ নায়েক

একটা পূর্ণ শতাব্দীর শেষে
নতুন করে চেয়েছিলাম তোমায়
ব্যাল্কনির পোতা গাছগুলি
আজ অযত্নে মারা গেছে।
কলিং বেলের শব্দে
অসমাপ্ত খবরের কাগজ
ফেলে রেখে উঠতে হবে না ।
আজও আর মলাটের প্রয়োজনে
ফুরিয়েছে চাদর বিছানার ।
সব কিছুই তৃপ্তির প্রয়োজনে   
কুর্ণিশ একে যায়, যেন
অপ্রয়োজন মনের অন্ধকারে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হকার
কবি ভবতোষ নায়েক

চোখের পলকে হাত সাফাই
সামান্য চকচকে চাউনি     
ঘাড় ঘোরে কাতর আর্তি নয়
ধিক্কার জন্মায়।
কামরার উত্তেজনা চেপে রাখে স্নায়ু,
চেনা ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে বলার উদেশ্য
কোনটা আগে কোনটা পরে।
ওদের বিবেক কাজ করে না,
ঠাট্টার হাসি ফেসে ফেলে
কাজ লুকোনোর চেষ্টায়।
দেখছেন তো !
খেটে খাওয়া মানুষ আমি
হকারি হয়ে জন্ম হয়েছে আমার।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পুজার দেশে
কবি ভবতোষ নায়েক

আমি কোনদিন কালিম্পং দেখিনি  
শুনেছি পুজা তুমি নাকি সেখানে গিয়েছ।
আমি এক হতভাগা,
এক কাজ কর।
আসীম সেই সৌন্দর্যর বিচিত্র বাহার
আমাকে দেবে,   
তাঁর বদলে আমি তোমাকে
আমার সব নস্টালজিয়া ভেজা
দিনগুলি দিতে পারি।
এই নস্টালজিয়া চেনার মধ্যে তুমি
আমাকে খুঁজে পাবে।
কারন এই শহর আমার  
শুধু অপেক্ষা তোমার মতো রংবাহারি এক রাজ-রানী
যে জীবদ্দশায় জীবন্মৃতের চেয়ে কঠিন
অথচ বিনিময় মধ্যে থাকবে
এক একপট দৃষ্টি বিনিময়
চিরন্তর।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অপেক্ষায়
কবি ভবতোষ নায়েক

বলতে পারো,
জীবাশ্ম হতে গেলে আমাকে
কোথায় গিয়ে পৌছতে হবে?
তিনশো কোটি বছর আগে !
না,লাল জামানায়।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
একটু সময় জন্য
কবি ভবতোষ নায়েক

প্রতিদিনের হতাশা আমাকে একটু একটু
করে উৎসাহিত করে
কিছু লেখার জন্য।   
হতাশা কারণ লোকে জিজ্ঞাসা করে, আমি বলি না।   
কলম ধরলে কেন জানি সব শব্দমালাও
আমাকে নিঃসঙ্গ করে চলে যায়
হয় তো আমি এক ব্যর্থ কবি বলে।

সমুদ্রে ঢেউ আসার আগে বালির চরে
চুপি চুপি উৎসাহের সাথে কাজটি সেরে ফেলব
নতুন কোন ঢেউ আসার আগে
কেউ জানতে পারবো না কি ছিল
আমার হতাশার কারণ ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কেন এমন হয়
কবি ভবতোষ নায়েক

অন্তিম চুড়ায় পৌঁছে ব্যর্থতার স্বাদ আর
পায় না, নিকাশি নালার হল-ড্রেনে   
ভেসে আসে কটা এ-ফোরের প্রিন্টেড ডাটা পেজ।
শহর বড় অস্থির চঞ্চল অমনোযোগী
সময় পাইনা মিনিট দুয়েক,
ঝুকে পড়ে রঙিন ডাটা প্রিন্টেডে বেকার যুবক
গুলোর মুখ পড়ে নিতে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর