কবি ভবতোষ নায়েকের কবিতা
*
এক খুনি
কবি ভবতোষ নায়েক

কবিতাটির বিচার আজ আমি
কলমের নিব ভেঙ্গে রায় দেবো।

সব কবিতা খুনি হয় না ।

দোষ শুধু এই টুকুই,  
পাগল করে তুলেছিল  
এক নিরীহ কবিকে
নিঃস্বার্থে প্রতিবাদী ভাষা তৈরি করার জন্য।

.     ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
না জানা ভয়
কবি ভবতোষ নায়েক

আজকের আকাশে জোনাকিরা খেলা করে না
কর্তব্য বোধে দায়িত্ব নিয়েছে কালপুরুষ।
দূরে কোন এক ভয় বার্তা আসে
দূর, বহুদূর থেকে,
সাগর পাড়ের নিবিড় জঙ্গল ভেতর থেকে
ভেদ করে, যেখানে থেকে পরিযায়ী পাখিরা বাসা ছেড়ে
ভিন্ন দেশে যাত্রা দেয়,
তারা তো অনেকটা  পিছিয়ে।
এই ভয়াবহ বার্তা অনেক কাছে এসে পড়েছে।
অশনি সংকেত বাজিয়ে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হারালাম যাকে
কবি ভবতোষ নায়েক

কিছুক্ষণ আগে দেখেছিলাম যাকে
ভেসে উঠছিল মেয়েটির হৃদয় বিভা
দিনের সূর্য অস্তমিত মতো হারালাম আমি।
সব ছেড়ে উঠা মফস্বলের বুকে ঘন ঘন ছুটে যাওয়া
অ্যাম্বুলেন্সের ভারি চাকার দাগে আজ ক্ষতবিক্ষত শহর।

কিছুক্ষণ আগে রোদের দীপ্তিতে ধরেছিল তার তেজস্বী রুপ
বেশী দেরি হয়নি অন্ধকার নামার আগে পৃথিবী ছিল সুস্থ
আজ শেয়ালের ডাকে পৃথিবী হল স্তব্ধতর।

যার জন্য প্রতিনিয়ত হচ্ছি রোমাঞ্চিত  
পেনডেমিকে ভিড়ে হয়ত হারিয়ে ফেলেছি তাঁকে
তাঁর মুখায়ব ছিল না আমার কাছে খুব স্পষ্ট
সুস্থ থাকার জন্য তাঁর মুখে ছিল
সদ্য প্রস্ফুটিত হলদে কাপড়ের মাস্ক।

.                ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কিছু করার অপেক্ষায়
কবি ভবতোষ নায়েক

চারটি পুরুষ, একপথে হেঁটে
এলোমেলো আসা যাওয়া ভাবনা
এক জোট হতে পেরে অনিল আনন্দ
অপরের, কিছু পড়ে অপরিসীম লম্বা অসমাপ্ত
রাস্তার লাইট আলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে
হাজার স্বপ্নরা নিরাশ হয়।

যখন সন্ধান পৌঁছনো যায়,
অচিল কুকুরের চিৎকার
রাস্তার আলো নিভে এসে
জানে চার পুরুষ
এবার
কিছু করার অপেক্ষায়।

.           ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পুজার ছবিটি
কবি ভবতোষ নায়েক

ছবিটি  সামনে রেখে
একা থাকি বসে
.  রঙ গুলো সব ফিরে আসতে থাকে
.        কেন জানি

বারবার হার মেনে যায়
পুজার প্রতিকৃতির সামনে
নিজের চোখ মেলে ধরতে।

.           ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নিরীহগুলো
কবি ভবতোষ নায়েক

হিসেবের শেষে শূন্য উঠেছে
না বাচক শব্দে মিল ঘটবে না
নদীর পাড় ধরে এগোলে এখনো দেখতে পাবে।
বল্লম, ছোরা হাতে নিয়ে
জনক জাতির কাছে আদেশ অনুসরণ পথে
হেঁটে চলে, রাতের চাঁদ আলো নিয়ে

নিঝুম সরল চাউনি রেখা
ভেঙ্গে দিয়েছে শরীরের পেশিটান।
অক্ষত মজুত বারুদ ভরা ডেনামাইট
হাতে লড়ে চলে। অজানা অদৃশ্য করে কার হুকুমে।
মুখ আজ অচেনা,শুধু জানা আছে
ডেনামাইটের ফাটার শব্দ শুনতে বাধ্য
তবেই  
পরের সকালে থালা ভর্তি ভাত আসবে।

.           ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তুমি কার?
কবি ভবতোষ নায়েক

মহামারী বলে আমি শোষিত,নিপীড়িত অভাবনীয়,
আজ যা কিছু আজ আমার কাল তোমার ছিল।

অভাব বলে, তুমি মূর্খ বুদ্ধিহীন
অবহেলায় বেড়েছি আমি,অট্টহাউসের প্রসাদে আজ স্থান আমার।

লালকুঠি বলে আমি নৃপুরুষ পিছলতার অভাবে জ্বালা অনুভুব করি।
কেঁড়ে নিয়েছে ভাত আমার আশা যাওয়াই নিষিদ্ধ কারনে।

আমার শরীর বলে, আমি শুকনো মসৃণ গলায় থুতু গিলি।
দেহ পায় না জল,কাম, মুক্তি ।

শরীরের কথা আমি শুনি না,আসলে শরীরের মন নেই। মন আছে মস্তিষ্ককে।
আমার ভাবনা গুলো শিরা উপশিরা মস্তিষ্ককে নিয়ে যেতে আসে

দুর্বল হয়েছে যৌনাঙ্গ, বারবার বাঁধা পেয়ে   
অথচ ভেজা জিভের চুমুতে আমার মস্তিষ্ক সক্রিয় ঘটতে পারতো।
শরীর উত্তেজিতে রক্ত হত আবেগে টগবগ ফিরফিরের মতো।   

অভাব নিজেই জানতে পারলো না,যে কার পাতে অতিথি হয়েছে আজ।
লালকুঠি,অট্টহাউসের না মহামারীর।

.           ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হঠাৎ হাওয়া
কবি ভবতোষ নায়েক

সাদা ধবধবে উরুর দুটোর মাঝে
জল ছেটাতে ছেটাতে
মোহ ভাঙ্গে পুজার। দেখে দাঁড়িয়ে আমি আরও আগ্রহে
যেতে রাজী হতাম যদি ইকোস্বরে
শব্দ ভাসতো বাথরুমের চার দেওয়ালের ।

জলের তীব্রতা-তে ঘসে পড়ছে বাসি   
ঘামের জমে থাকা যোনিকেশর।
একে একে এসে জমাট বাঁধে  
আমার তলে, লিবিডর জাগিয়ে তোলার চেষ্টায়।

সুক্ষ জমকালো কোঁকড়ানো কেশরাশি।
আর লজ্জা নয় তখন পরিচিতি সময়
মুখোমুখি হয়ে হয় কিংবা কেউ এক
মুখ নামিয়ে ধরতে হবে যে এক কারো যৌনাঙ্গ।

আরও কাছে, দূরে থেকে স্পর্শ আসে না  
এমন কি কিছু হত কারো ভাবা ছিল।
হঠাৎ না চাইতেই হয়ে উঠলো

ভোর রাতের অলসতা দুটো শরীর
এলোমেলো ভাবে নিল ভাগা-ভাগি করে।

.           ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অর্ঘ্য
কবি ভবতোষ নায়েক

আর্তি আর্তি আর্তি
মেরু আকাশে উড়ন্ত কালো ঈগলের আর্তি
আভুমি প্রণাম মেঘে এক আর্তি

ধমক দেওয়া বাতাসে উড়ে যাওয়া দিক বিহীন করুন
বকের আর্তি।

রক্ত পিপাসু নিশাচর বাচাল বাদুড়ের আর্তি
সমস্বরের কণ্ঠে ধবনি শুরু করে তাল মিলিয়ে  
আর্তির প্রাথনা।
কামদেব পুজিত হোক, পৃথিবীর নিবাসি মনুষ্যের যৌন অর্ঘ্যে।

.           ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
না বলা কথাটা
কবি ভবতোষ নায়েক

স্নায়ু রোগের বড়ি গুলো ব্যর্থ হয়েছে
আমায় নিদ্রায় নিয়ে যেতে।  

ঘোর কলির রাতে বিছানায় কাম আর  
জাগে না।

চোখ জুড়ে ঘুমায়, রাত জাগার ব্যাধি আসে    
মস্তিষ্কে খেলা করে পাগল খাপছাড়া ভবনা

জানালার অদিল গলি দিয়ে রাস্তায় আলো
এসে আমার মগজের অ্যানিউরিজমে পড়ে  

জ্বলে উঠে যজ্ঞের কাঠ
আয়োজন করি পৃথিবীর সব রাত্রি এক হবার।

.           ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর