কবি ভবতোষ নায়েকের কবিতা
*
শেষোক্ত
কবি ভবতোষ নায়েক

বুকের পাঁজরের মধ্যে মাথা গলিয়ে

নিজের রক্ত শোষণ কর,
শোষিত রক্তে ভাপ উবে যায় বাতাসে এসে।

ফল হয় না কিছু।

তুমি অন্যের রক্ত শোষণ কর
হবে তেজী, শরীর গজবে দৈব্য রাশি  

নিজের মধ্যে এক নিজ অশ্ব যেন হ্রেসে উঠে

.     ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নিঃসঙ্গতা
কবি ভবতোষ নায়েক

আমার নিঃসঙ্গতা হাটাতে
আমার জানান দিয়ে গেলো
যে আমি আসলে কতটা নিঃসঙ্গতা।
এই ভয়াবহ সত্যটা এড়ানোর জন্য আমি দলবব্ধ ।
ভাবি অংশগ্রহণের প্রয়াসগুলো যে আসলে ভয়াবহ রকমের
মেকী তা,
সত্যিই আমি সীমাবব্ধতার বাইরে ছিলাম।  
না, এর জন্য আমি দুঃখিত নই
হতাশও নই,- আমি শুধুই নিঃসঙ্গতা।

.     ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বিষাক্ত চুমু
কবি ভবতোষ নায়েক

ব্যর্থ
পৃথিবীর পবিত্র বিয়পি
তুমি আর আমি মিলে করি চুমাচুমি
প্রেমের সম্ভারে শরীর টলবলে
তৃপ্তি কত, অতৃপ্তির নেশায় হয় কণ্ঠরোধ
হ্রদয় হয় লীন
ভেজা যোনিতে কত চুমু খায়,
শুনতে পায় তোমার গোঁগানি
মোনালিসা তুমি কত নিষ্ঠুর
মিছেটা কর ভয়,
বেদনায় জ্বলবে তোমার দুটো মাই
তবুও চুমু দিতে দিতে
জোয়ার ডেকে আনবো তোমার শরীরে,
গোপন পর্বতে,কোন কাহিনীর আবেগে ভরা
অভিমানের সোপান গতিহীন নীরবতা
আমি দূর করবো
তোমাকে চুমু দিতে দিতে।

.     ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমি সুবর্ণরেখা
কবি ভবতোষ নায়েক

অর্ধ শতাব্দীর বিস্তৃন চর আমার জলে
বিলীন হয়ে যায় ।
সুনীল আকাশ পলিবালির মধ্যে দিয়ে
.           পথ ধরে ঘুরছি ।
এখন আমার জলে জীবনের সাড়া পড়েছে
এসছে অতিরিক্ত যৌবন,
তৃষ্ণার দেবতারা সাঙ্গ দেয়না আমার ।
কাল বৈশাখী তাণ্ডবে
নির্মল অনমনীয় প্রাণ করি
.          কাড়া কাড়ি,
আমি এমনই গভীর নিরৎসর
পিপাসায় সংকীর্ণ ।
আজও আমি নিশ্চুপ হয়ে শুনি
দুই পারে মানুষের ক্রন্দন,
উড়ে উড়ে - যায় বহুদূর
আমার আকুল আহ্বান ।
সোনালী সূর্যকে ঢাকি
আমার গায়ে চাদর দিয়ে ।
এমনই অসম শক্তির অধিকারী আমি
ঋতুচক্রের মাঝে তীরে মাটি ধসে উঠে  
আমার জল ভেদ করে জেগে উঠে চর ।  
ফাল্গুন, চৈত্র সময়
আমার মাটির বুক দেখেনি কেউ
.            কোনদিন,  
চিরকাল রেখেছি গোপন।  
যার জলধারা শুকায় না কখনও
আমি হলাম সেই
সুবর্ণরেখা।

.     ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এই বেশ ভালো আছি
কবি ভবতোষ নায়েক

পথ অনেকটা
হেঁটে হয়নি শেষ এখনো
চোরকাঁটা বনে তোমার পাশে
স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করি।
বাসের জানালায়
মাথা রেখে, ঘুমিয়ে পড়ি গল্প শেষ করে
তবুও,  
কারো প্রশ্নের জবাবে
ঠোটের কোনে নিষ্প্রাণ
হাসি বুলিয়ে বলি
এই বেশ ভালো আছি

.     ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর