কবি অতুলপ্রসাদ সেনের গান
*
আইল শীত ঋতু হেমন্তের পরে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “ছয় রাগ ও ছয় ঋতু” পর্যায়ের গান।

॥ শ্রী॥
( শীত )

আইল শীত ঋতু হেমন্তের পরে,
শীতল ধরণী এরে চাহে দিবাকরে।

কুন্দ-শেফালিকা ফুলে
নীহারবিন্দু উছলে ;
কুসুমকানন-মূলে,
শ্রীরাগ বিহার করে ;

রাগিনী নবরঙ্গিনী,
শ্রীরাগ-অনুসঙ্গিনী,
নাচিছে লাস-ভঙ্গিনী,
গাহিছে মোহন স্বরে ৷

.      ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নবরূপ হেরি আজি বিশ্ব বিমোহিত
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “ছয় রাগ ও ছয় ঋতু” পর্যায়ের গান।

॥ বসস্ত॥
( বসন্ত )

নররূপ হেরি আজি বিশ্ব বিমোহিত,
তরু নব পত্র ফুলে পুষ্পে বিশোভিত।

কুহরিছে পিককুল, মুকুলে নীপ আকুল,
নন্দিত জীবকুল হরষেতে ব্যাকুল।

সুরভি-অনিলে আজ মৃদুল পরশ,
হের বসন্ত পীতবসন-পরিহিত।

.      ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আপন কাজে অচল হলে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “বিবিধ” পর্বের গান।

॥ বেহাগ॥

আপন কাজে অচল হলে
চল্ বে না  রে চল্ বে  না।
অলস স্ত্বতি-গানে তাঁর আসন
টল্ বে  না রে টল্ বে  না।

হল্‌ যদি তোর না হয় সচল,
বিফল হবে জলদ জল ;
উষর ভূমে সোনার ফসল,
ফল্ বে  না রে ফল্ বে  না।

সবাই আগে যায় রে চলে;
বসে আছিস তুই কি বলে?
নোঙর বেঁধে স্রোতের জলে,
তরী তোর চল্ বে না রে চল্ বে না।

তীরের বাঁধন দে রে খুলি,
চলে যা তৃই পালটি তুলি ;
দিক্ যদি তুই না যাস্‌ ভুলি,
তরী তোর তল্ বে  নারে তল্ বে না।

.      ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নমো বাণি, বীণাপাণি, জগত-চিত্ত-সম্মোহিনি
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “বিবিধ” পর্বের গান।

॥ ইমন কল্যাণ॥

নমো বাণি, বীণাপাণি, জগত-চিত্ত-সম্মোহিনি!
নমো বাদ-সঙ্গীত-মাতঃ, ভারতি, ভবতারিণি!

সৌরলোক গীত-চালিত, দ্যুলোক-ভূলোক গীত-মুখরিত ;
ষড়ঋতু ষড়রাগরঞ্জিত---বন্দে চরণে বন্দিনী।

সুপ্তস্মৃতি পুনঃ জীবিত, শাস্ত-তৃপ্ত তাপিত চিত,
সুখীজন সদানন্দিত---তব সঙ্গীত-ছন্দে।

প্রেমমুখর মুরলী-রন্ধ্র, সমরে ডমরু মরণমন্দ্র,
গীত আদি-বেদ-মন্ত্র---তব সঙ্গীত-ছন্দে ;
নমো ঈশ্বরনন্দিনি!

.      ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এ আঁধারে কেন আসে, কেন হাসে
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “বিবিধ” পর্বের গান।

॥ মিশ্র কানাড়া॥

এ আঁধারে কেন আসে, কেন হাসে, কেন মিশে যায় বিজলী?
জনমের সুখ, জনমের দুঃখ--মরুমায়া কি গো সকলি?

হেথা যত চাই তত পাই না ;
যত পাই তত চাহি না ;
যত জানি তত জানি না ;
অন্ধ নয়ন, ---তবু দেখিবার আকুল পিয়াসা কেবলই।

ষাহারে বলি মোরা ভালবাসা,
---আপন পূজা, নিজ সুখের আশা।
প্রাণের শোণিতে পালন করি, হায়,
দুদিনে আশাগুলি কোথা যে উড়ে যায়,
নীরব সাগরে, নীরব শৈলশিরে
প্রাণ-পাখী কাঁদে---“কোথায় গেলি?”

.      ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
যাহারে দেখ্ তে  নারি, তারেই আমি চাই গো
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “বিবিধ” পর্বের গান।

॥ মিশ্র খাম্বাজ॥

যাহারে দেখ্ তে নারি, তারেই আমি চাই গো,
যাহারে ধর্ তে চাহি, তারেই নাহি পাই গো !

খেলি এ মাটির খেলা,
হরষে গেল বেলা,
নয়নে বারি তবু--কি যেন কি নাই গো !

গোপনে চিত্তে বসি
কে যেন বাজায় বাঁশী ;.
মনে হয় আমার “কালা*, আমি তাহার “রাই” গো!

বুঝি সে আঁধার রাতে
সহসা ধর্ বে হাতে ;
তাই আমি মালা হাতে আঁধার পানে ধাই গো!

.      ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
যতই গড়ি সাধের তরী, যতই করি আশা
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “বিবিধ” পর্বের গান।

॥ রামায়ণী॥

যতই গড়ি সাধের তরী, যতই করি আশা,
এক তুফানে ডুবায় তারে, এমন সর্ব্বনাশা,
সে এমন সর্ব্বনাশা!

আবার যখন আঁধার রাতে কূলের পাইনা দিশা,
হালটি আমার লয় গো কেড়ে, এমন ভালবাসা,
তার এমন ভালবাসা!

সাগর মাঝে প্রলয় নাচে হুহুস্কারে ধায় ;
অন্তরের অগ্নি ক্রোধে বিশ্বেরে নাচায়,
সে বিশ্বেরে নাচায়!

আবার, ভোরের পুবে নিশির নভে এমন চাওয়া চায়!
তরুর ডালে শিশুর গলে এমন গাওয়া গায়,
সে এমন গাওয়া গায়!

কখন কাঁদায়, কখন হাসায়, কখন যে গো মারে ;
এই পাগলের লীলা বল বুঝতে কেবা পারে!
তারে বুঝতে কেবা পারে?

যখন থাকি ঘুমের ঘোরে ( আমার ) সকল বিভব হরে ;
তবু আমার পরাণ পাগল ঐ পাগলের তরে,
হায়, ঐ পাগলের তরে!

.      ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এস দুজনে খেলি হোলি, হে মোর কালো
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “বিবিধ” পর্বের গান।

॥ হোলি॥

এস দুজনে খেলি হোলি, হে মোর কালো!

এসেছি আঁধারে
খুঁজিতে তোমারে
নিভায়ে ঘরের আলো!
মোহন মুরলী তব,
হে মম মাধব,
শুন, আঁধারে বাজে ভাল।

সব নিলে কাড়ি,
নিঠুর বিহারী !
কাটিয়ে সরম-জাল ;
লাজ পরিহরি,
'এসেছি হে হরি,
আজি আবিরে ভরি গাল।

হে মোর নিয়তি,
শ্যাম-মূরতি,
খেল নিঠুর খেলা খেল ;
আজি প্রেমতীরে
হৃদয় রুধিরে
এস, তোমারে করি লাল।

.      ****************                
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বলে দে, ওরে নিঠুর মনের মালী
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “বিবিধ” পর্বের গান।

॥ কালাংড়া॥

বলে দে, ওরে নিঠুর মনের মালী!
কেন তুই কাঁটা বনে ফুল ফোটালি?

এ ফুলে হয় না মালা,
এ ফুলে ভরে ডালা ;
মিছে তুই কাঁটার ঘায়ে হাত রাঙালি!
মিছে তুই বঁধুর আশে দিন নোয়ালি।

ভবের এ ফুলের মেলায়,
গেল দিন অবহেলায় ;
মিছে তুই প্রেমের পাতে ফুল কুড়ালি।

লয়ে তোর ভরা সাজি,
ফিরে যা ঘরে আজি,
কেন তুই এমন ভুলে মন ভুলালি?
ডালি আজ কাহার পায়ে কর্ বে খালি?

.      ****************       
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সবারে বাস্ রে ভাল
কবি অতুলপ্রসাদ সেন
কবির “কয়েকটি গান” গীতিগ্রন্থের, “বিবিধ” পর্বের গান।

॥ ভৈরব॥

সবারে বাস, রে ভাল ;
নইলে মনের কাল ঘুচ্‌বে না রে।
আছে তোর যাহ] ভাল,
ফুলের মত দে সবারে।

করি তুই আপন আপন,
হারালি যা ছিল আপন ;
এবার তোর ভরা আপণ
বিলিয়ে দে তুই যারে তারে।

যারে তুই ভাবিস্ ফণী,
তারো মাথায় আছে মণি ;
বাজা তোর প্রেমের বাঁশী
---ভবের বনে ভয় বা কারে!

সবাই যে তোর মায়ের ছেলে ;
রাখ্‌ বি কারে কারে ফেলে?
একই নায়ে সকল ভায়ে
ষেতে হবে রে ওপারে!

.      ****************       
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর