অপ্রত্যাশিত   সাহায্য
প্রণব রায়চৌধুরী
ই-মেল :  pranab.raychaudhuri@gmail.com                   এই পাতাটি Counterবার দেখা হয়েছে
                                                                
                                  

মি, প্রণব আমার স্ত্রী জয়তী আর মেয়ে শ্রেয়া সেবারে মধ্যপ্রদেশ বেড়াতে বেরিয়েছি । জব্বলপুর থেকে বম্বে
এক্সপ্রেসে কলকাতায় ফেরার টিকিট কেটে আমরা পাঁচমাড়ি নামে একটা শৈলশহরের উদ্দেশে রওয়ানা দিলাম। ঠিক
করা ছিল ওখানে এক রাত কাটিয়ে  পরের দিন পাঁচমাড়ি পাহাড়ের নিচের রেল ষ্টেশন পিপারিয়া থেকে ট্রেনে
জব্বলপুর এসে পরের দিনের বম্বে এক্সপ্রেস ধরবো ।সবকিছুই প্ল্যান অনুযায়ী ভালই চলছিল যতক্ষণ না অমল
ভৌমিক ও তার স্ত্রী ও মেয়ের সাথে ফেরার দিন সকালে পাঁচমাড়ীতে দেখা হোল । জানলাম ওরাও ওই একই ট্রেনে
একই দিনে কলকাতা ফিরছে তবে ওরা জব্বলপুরে রাত্রে থাকছে না । পরের দিন পিপারিয়া থেকেই বম্বে এক্সপ্রেসে
উঠছে । সেদিনটা ওরা পাঁচমাড়িতেই কাটাচ্ছে ।ওদের অনুরোধে আমরা সে রাত্রি পাঁচমাড়িতে কাটিয়ে পরের দিন
সবাই মিলে সকালে পিপারিয়াতে এসে পৌঁছlলাম  ।

ওখানে এসে  জানলাম বম্বে এক্সপ্রেস অনেক লেটে চলছে , কখন ওখানে আসবে জানা নেই । আরও জানলাম ওখানে
ট্রেনটা দু মিনিট দাঁড়ায় ও পিপারিয়া থেকে জব্বলপুর যাওয়ার ওই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে না  (দূরত্ত্ব কম
হওয়ার জন্য) । আমাদের জব্বলপুর  থেকে হাওড়া  টিকিট ছিল । তাই  ওই টিকিটের দরকার ছিল। কি আর করা
যাবে , সাধারণ এক্সপ্রেস ট্রেনের অসংরক্ষিত আসনের টিকিট কাটলাম । ঠিক করা হোল অসংরক্ষিত কামরাতেই
জব্বলপুর অবধি যাব । ট্রেন  এলো ছ ঘন্টা পরে বিকেল চারটের সময়ে । কুলির সাহায্য নিয়ে একটা অসংরক্ষিত
কামরার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ট্রেন দাঁড়ালো , দেখলাম ভিতরে খুব ভিঁড় কিন্তু দরজা খুলছে না। তাড়াতাড়ি গার্ডকে
ডেকে  এনে খোলালাম দরজা । মেয়েদের ঢুকিয়ে দিলাম , নিজেরাও কোনরকমে গেটে ঝুলবার  জায়গা করে নিলাম।
শত চেষ্টা করেও কিন্তু কুলি কোন স্যুটকেস  কামরার মধ্যে ঢোকাতে পারল না ।ট্রেনছেড়ে  দিল , আমরা দরজায় ,
মেয়েরা ভিতরে  কোনরকমে বসবার জায়গা জোগাড় করছে । চেঁচিয়ে বললাম চেন্‌ টানতে । ট্রেন আবার দাঁড়াল ,
তবে প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে এসে । গার্ড এলেন , ঘটনা  শুনলেন , বললেন ট্রেন তখনই অনেক দেরীতে চলছে , উনি খালি
দুমিনিট দাঁড়াতে পারেন তার মধ্যে হয় আমাদের সবাইকে নেমে  যেতে হবে , নয় মাল বাদ  দিয়ে সবাইকে যেতে
হবে , নয় মেয়েরা চলে যাবে মাল ছাড়া, আমরা ছেলে দুজন নেমে মালের খোঁজ করে মাল নিয়ে পরের ট্রেনে আসতে
পারি। কোন কারণেই মাল নেবার জন্য ট্রেন থামিয়ে দেরী করা সম্ভব নয়। বলে তিনি চলে গেলেন। আমি জয়তীকে
ট্রেনের ভিতরের অন্যলোক মারফত কিছু টাকা ও ওদের টিকিট পাঠিয়ে দিলাম ।ট্রেন চলে গেল  মেয়েদের নিয়ে।
তখন জানতে পারলাম অমলবাবুর কাছে নিজের টিকিট, টাকা কিছুই নেই । সব টিকিট,  টাকা ওনার স্ত্রীর কাছে।
এরপরে আমরা দুজনে দেখলাম আমাদের কুলি আমাদের স্যুটকেস মাথায় নিয়ে দৌড়ে দৌড়ে আসছে। আমরা ওকে
দৌড়ে আসতে বারণ করে দিলাম ও ওখানেই দাঁড়াতে বললাম । আমরা ওর  কাছে গেলাম ও তারপরে সবাই মিলে
ষ্টেশনে গিয়ে কুলিকে ছেড়ে দিলাম । ষ্টেশন মাস্টারের কাছে গিয়ে সব বললাম । উনি বললেন উনি এখনই পরের
ষ্টেশনে খবর পাঠিয়ে যারা ট্রেনে আছে তাদের  নেমে  যাবার জন্য মাইকে ঘোষণার বন্দোবস্ত করতে পারেন ।  
অমলবাবুতো তখনই রাজী হয়ে যাচ্ছিলেন । আমি কিছু সময় চেয়ে বাইরে এসে অমলবাবুকে বোঝালাম কেন
মেয়েদের চলে যাওয়াই ভাল । ওরা ওই ট্রেনেই হাওড়া অবধি যেতে পারবে ।জব্বলপুরে গিয়ে নিজেদের সংরক্ষিত
কামরায় চলে যেতে পারে , না চাইলে নাও পারে, তাহলে কষ্ট করে অসংরক্ষিত কামরায়ই যেতে হবে, তবে সেখানে
ওরা বসার জায়গা পেয়েছে । ওদের কাছে টিকিট, টাকা  দুইই আছে । ভাগ্য যদি ভাল হয় আমরা ওদের সাথে
জব্বলপুরে গিয়ে মিলতেও পারি । আর যদি ঘোষণা শুনে ওরা নেমে যায় আমরা জানতে পারবো না কোন ষ্টেশনে
নামল , আমরাও ওদের সাথে দেখা করতে অসুবিধায় পড়বো , ওরাও  ফেরার ব্যাপারে নানা অসুবিধায় পড়বে ।
তা সত্ত্বেও অমলবাবু ঘোষণা করাবেন মনস্থ করলেন । তখন আমি বাধ্য হয়ে বললাম আপনি খালি আপনার স্ত্রী ও
মেয়ের কথা ঘোষণা করান । আমি চাই আমার স্ত্রী ও মেয়ে এভাবেই হাওড়া যাক। তখন উনি আর কারো ঘোষণার  
কথা চাইলেন না । আমরা সেভাবে ষ্টেশন মাস্টারকে বলে এলাম । এবার  জানতে পারলাম ওখান থেকে  
জব্বলপুরের পরের গাড়ি পবন এক্সপ্রেস এক ঘন্টা পরে । আরো জানলাম বোম্বে এক্সপ্রেস ওই লাইনের সবচেয়ে
দ্রুতগামী গাড়ি। পবন এক্সপ্রেস জব্বলপুরে পৌঁছবার অনেক আগেই বোম্বে এক্সপ্রেস  জব্বলপুর ছেড়ে চলে যাওয়ার
কথা। যথা সময়ে ট্রেন এল ও মালপত্র তুললাম । বেশ ফাঁকাই ছিল । প্রায় আড়াই ঘন্টা লাগবে জব্বলপুরে পৌঁছতে।
প্রত্যেক ষ্টেশনে ট্রেন থামলেই অমলবাবু জিজ্ঞাসা করেন বোম্বে এক্সপ্রেস সম্বন্ধে । কেউ কিছু বলতে পারেন না। যখন
প্রায় পনেরো মিনিট বাকি আছে কোন এক ষ্টেশন থেকে উঠে এক ভদ্রলোক প্রথম বললেন তিনি ষ্টেশনে ঢোকার সময়
তাঁর মনে হয়েছিল বোধহয় বোম্বে এক্সপ্রেস কিছু আগে  ছেড়ে  গেছে । অমলবাবু আর কিছু জিজ্ঞাসা করতে গেলে
উনি রুঢ় ভাবে ওনাকে থামিয়ে দিলেন ও বললেন যদি এর থেকে বেশি কিছু পরে  জানতে পারেন  তাহলে আমাদের
জানাবেন । উনি এবার আমার থেকে পুরো ঘটনাটা জেনে নিলেন । তার কিছুক্ষণ পরে বুঝলাম জব্বলপুর ষ্টেশন
আসছে। আর তখনই যা আরম্ভ  হোল  তা যে কোন রোমহর্ষকারী হিন্দী সিনেমার চেয়েও শ্বাসরোধকারী।

ওই ভদ্রলোক হঠাৎ সিট ছেড়ে উঠে দরজার কাছে গেলেন ও তার পরেই ফিরে এসে আমাদের বললেন আমাদের বড়
স্যুটকেস দুটো দরজার কাছে নিয়ে আসতে । আমরা দরজার কাছে মাল আনার আগেই উনি চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে
গেছেন ও ট্রেনের পাশে দৌড়চ্ছেন । আমাদের বললেন স্যুটকেস দুটো ফেলে দিতে । আমরা প্রথমে একটু ইতস্তত
করছিলাম । কিন্তু ট্রেন আরও গতি কমানোর জন্য ফেলে  দিলাম । উনি সেগুলো পড়ার আগেই লুফে নিলেন ও
আমাদের লাফিয়ে পড়তে বললেন । ট্রেন তখন বেশ আস্তে চলছে । আমরাও নেমে পড়লাম । দেখলাম আমাদের
ডানদিকে কিছু আগে অন্য একটা ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে । আমাদের ট্রেন বাঁদিকে তখনও আস্তে আস্তে এগোচ্ছে ও
প্ল্যাটফর্মে  ঢুকছে । উনি আমাদের স্যুটকেসদুটো নিয়ে আমাদের আগে দৌড়চ্ছেন আমরা পিছনে পিছনে অন্য ছোট
মাল নিয়ে দৌড়চ্ছি । উনি থামা ট্রেনটার শেষ কামরা থেকে আরম্ভ করে প্রতি কামরার দরজ়ার সামনে মাল রাখছেন,
দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছেন , ভিতরের লোকের সঙ্গে কি কথা বলছেন ,ফিরে আসছেন , আবার   মাল তুলে
আগের  কামরা অবধি দৌড়চ্ছেন ও আগের কাজের পুনরাবৃত্তি করছেন । আমরা পিছনে পিছনে শুধু ট্রেনের পাশে
দৌড়েই হাঁপিয়ে পড়েছি । এবার একটা প্রথম শ্রেণীর কামরায় উঠলেন, বন্ধ দরজায় মধ্য দিয়ে   কন্ডাকটার গার্ডের
সঙ্গে কি কথা বললেন আবার নীচে নেমে আমাদের স্যুটকেসদুটো  নিয়ে উপরে উঠলেন, এদিকের দরজা খুলে গেল ,
আমরা কামরার মধ্য দিয়ে ওদিকে গেলাম ও খোলা দরজা দিয়ে প্ল্যাটফর্মে নামলাম । উনি খালি আমাদের বলতে
পারলেন আগের কামরাটাতেই  আমাদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ।আমরা কোনরকমে মাল নিয়ে উঠলাম । তার
আগেই ট্রেন চলতে সুরু  করেছে ।মাল রেখে যখন পিছনে ফিরে তাকালাম ওনাকে আর দেখতে পেলাম না । ওনার
এধরণের উপকার  আমাদের চিরদিন মনে থাকবে যা না করলে আমাদের দুর্দশা যে আরো অনেক বাড়ত তা বলাই
বাহুল্য । কিন্তু ওনাকে একটা ছোট ধন্যবাদ জানাবার সুযোগও পেলাম না ।

যাইহোক,  ভাবলাম  আমাদের কষ্টের ও দুশ্চিন্তার  বোধহয় শেষ হয়েছে। আমাদের নম্বরের আসনের কাছে গিয়ে
দেখলাম সেখানে অন্যলোকেরা বসে রয়েছে । আমাদের মেয়ে বউরা কেউ নেই। কন্ডাকটারের কাছ থেকে জানলাম
ওই সিটের জন্য কেউ আসেনি বলে ও অন্যদের দিয়ে দিয়েছে । তবে তখনি সিটগুলো খালি করে দিল। আমরা তো
আবার মাথায় হাত  দিয়ে বসে পড়লাম । এবার চিন্তাটা আরো গভীর ও আশঙ্কাজনক । ট্রেনটা নিশ্চয় জব্বলপুরে
অনেকক্ষণ ছিল । তাহলে ওরা এল না কেন । ভালোর মধ্যে এই চিন্তা , ওরা হয়ত এই সিটের খোঁজ করার জন্য
নিজেদের অসংরক্ষিত কামরার সিট ছাড়তে চায়নি। তখন রাত নটা বেজে গেছে , পরের ষ্টেশন কাট্‌নি আসবে
দশটার  পরে, থামবে মাত্র দুমিনিট । কি করে ওদের খোঁজ করব ও এখানে আনব । অন্ততঃ ওরা যে এই ট্রেণেই
আছে সে খবরটা তখন ভীষণ জরুরী ।কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় হোয়ে সবে জায়গায় বসেছি একজন উত্তর ভারতীয় ২৫/২৬
বছরের যুবক , হাতে একটা রসোগোল্লার হাড়ি আর জলের বোতল , এসে পাশে বসে বললেন , ‘দাদা বহুৎ থক্ গিয়া,
মুহ্ মিঠা কিজিয়ে, পানি পি লিজিয়ে আউর উসকা বাদ বাতাইয়ে কেয়া হুয়া‘ ওর আর ওর অন্য বন্ধুদের অনুরোধে  
কয়েকটা রসোগোল্লা ও জল খেলাম । খিদে আর জলতেষ্টা দুটোই খুব পেয়েছিল ।  এবার ওদের পুরো ঘটনাটা
বললাম । ওরা আমাদের কিছু করতে বারণ করল । যা করার ওরা নাকি চিন্তা করে করবে । খালি আমাদের
মেয়েদের নামদুটো জেনে নিল। কিছু পরে আমাকে এসে বললো ওদের কাজ ট্রেণ কাট্‌নি ষ্টেশনে ঢুকলেই শুরু হবে।
আমাকে বসে বসে তখন শুধু দুটো কাজ করতে হবে । ওরা সবাই কামরা থেকে ওখানে নেমে যাবে,  ওরা ফিরে
আসার আগে যদি ট্রেন ছেড়ে দেয় তবে চেন টানতে হবে । আর যদি ওরা আমাদের বউ মেয়েকে নিয়ে আসে তবে
সনাক্ত করতে হবে। খুবই দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে। ওরা এসে একবার জিজ্ঞাসা করল অসংরক্ষিত কামরাটা কোথায়
বলতে পারি কিনা , সেটা এই কামরার আগে না পরে , কতগুলো  কামরার  আগে বা পরে ইত্যাদি । আমরা কিছুই  
বলতে পারলাম না ।ওরা তখন ঠিক করলো  দুদলে বিভক্ত হয়ে একদল সামনের দিকে , আর একদল পিছনের দিকে
যাবে । ট্রেণ একসময়ে কাট্‌নি এল। ওরা দুদল হুইসিল বাজাতে বাজাতে মেয়েদের নাম ধরে চেঁচাতে চেঁচাতে দুদিকে
দৌড়ে চলে গেল । এবারে যেটা ঘটল তা যদি আমার নিজের  সাক্ষাৎ অভিজ্ঞতানা  হতো আমি কিছুতেই বিশ্বাস
করতাম না । ওরা চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম ঠিক আমার মেয়ের মতো একটা মেয়ে আমাদের কামরাতেই
আমার  কিছুটা আগে দাঁড়িয়ে রয়েছে । একেবারে হতম্ভব হয়ে আছে । কাউকে চিনতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না।
আর আমি ভাবছি অন্য কারুর মেয়ে কিন্তু আমার মেয়ের মতো দেখতে । বেশ কিছুটা পরে প্রায় ট্রেণ ছেড়ে দেবার
সময়  ওদের কয়েকজন আমার বউকে নিয়ে এসে  বলতে বলল সেই ওদের ভাবী কিনা ।এ সময়ে আর একটা অদ্ভুৎ
ব্যাপার ঘটল ।ওই আমার মেয়ের মতো দেখতে মেয়েটা জোরে কেঁদে উঠল আর জয়তী ওকে কোলে তুলে নিতেই
কান্না বন্ধ করল । ওকে বোধহয় কেউ ঘুমন্ত অবস্থায় কোলে করে এই কামরায় নিয়ে এসেছিল । তাই পুরো
হকচকিয়ে গিয়েছিল । আর আমি প্রমাণ পেলাম সময়ের পরিমাণ সব অবস্থায় বিজ্ঞান অনুযায়ী  এক হলেও আসলে
মানসিক অবস্থার উপর  এই পরিমাণ পুরোপুরি নির্ভরশীল ।  অমলবাবুর স্ত্রী ও মেয়েকেও ওরা এনেছিল । আমরা
সবাই আবার এক হলাম ।ট্রেণ তখন আবার জোরে চলতে লাগল । আমরা ও ওই ছেলেরা  সবাই খুব ক্লান্ত ।  যে
যার জায়গায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম ও অল্প পরেই ঘুমিয়ে পড়লাম । পরের দিন ভোরবেলায় উঠে ধন্যবাদ দেবার জন্য
ওই ছেলেদের খোঁজ করতে গিয়ে জানলাম যে ওরা মাঝরাত্তিরে এলাহাবাদ ও  মোঘলসরাই ষ্টেশনে নেমে গেছে। এই
উপকারটার জন্যও কারুকে ধন্যবাদ দেওয়া হল না । বাঁকী পথটা আনন্দ করতে করতে অনেক দেরীতে হাওড়া এসে
পৌঁছলাম । সবাই যে যার বাড়ি ফিরে এলাম। মনটা অবশ্যএকটু খারাপ লাগছিল স্বার্থহীণ উপকারী সেই জব্বলপুরের
ভদ্রলোক আর ওই পূজোর ছুটিতে বাড়ি ফেরা একদল যুবকের কথা ভেবে । যাদের কাছ থেকে শুধু নিয়েই গেলাম।
বিণিময়ে ধন্যবাদ জানানর কর্ত্তব্যটাও পালন করতে পারলাম  না ||


                                               ************************

.                     
.                                                                                                                      উপরে  


   মিলনসাগর