.
.
<<<হোক কলরব এর শুরুতে ফিরতে
হোক কলরব এর শেষ কবিতায় যেতে>>>
২৮শে অগাস্ট ২০১৪ তারিখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয়। নিগৃহীতা ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার
নিরপেক্ষ তদন্তের ক্ষেত্রে, উপাচার্য মহাশয়ের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও কর্তাভজা মনোভাবের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবাদ-অবস্থানে নামেন। ১৭ই
সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখের মধ্যরাতে উপাচার্যের ডাকে পুলিশ, কমান্ডো ও "গেঞ্জিপড়া পুলিশ" (?) ক্যামপাসে ঢোকে এবং অবস্থানরত ছাত্র-
ছাত্রীদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালায় মিডিয়ার ক্যামেরার সামনেই। প্রতিবাদী ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করা হয়।প্রায় চলিশজন ছাত্র-ছাত্রী
আহত হয়ে হাস্পাতালে ভর্তি হন। একজন ছাত্রী সহ ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের লক-আপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সক্রীয় পুলিশের
মধ্যে কোনো মহিলা পুরুষ ছিল না। এই ঘটনাকে ঢাকতে শিক্ষামন্ত্রী ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার অসত্যের আশ্রয় নেন। এই ঘটনাপ্রবাহে
উঠে আসে ছাত্র-আন্দোলনের এক নতুন মুখ। আকাশ ভেঙে পড়া বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা মহামিছিলে পথে নামেন। বাংলা, দেশ ও
বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়।

মাত্র ক'দিনের মধ্যেই রচিত হয় অজস্র প্রতিবাদী কবিতা, ছড়া ও গান। বেশিরভাগই ফেসবুকের পাতায়। আমরা কৃতজ্ঞ
কবি রাজেশ দত্তর
কাছে যিনি অতি ধৈর্যসহকারে বিভিন্ন উত্স থেকে সেই সব কবিতা আমাদের তুলে এনে দিয়েছেন এই দেয়ালে তুলে দেবার জন্য। আমরা চেষ্টা
করছি সেই সকল রচনাকে একত্রে এখানে তুলে রাখার।
সেই আন্দোলনের একটি স্লোগান দিয়েই আমরা এই দেয়ালের নামকরণ করলাম . . হোক কলরব!
একটি আবেদন - যদি আপনারা এখানে কোনো কবিতা ও কবির নাম বা তথ্যে ভুল দেখতে পান তাহলে আমাদের ইমেলে
যোগাযোগ করুন। যে সব কবিতা আমরা এখানে তুলে উঠতে পারিনি, তাও যদি আমাদের কাছে পাঠান তাহলে আমরা
এখানে তা তুলে দেবার ব্যবস্থা করবো।
আমাদের ই-মেল:  
srimilansengupta@yahoo.co.in    
আমাদের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কবিতার সম্ভারে যেতে এখানে ক্লিক্ করুন
হোক কলরব এর শেষ প্রান্তে যেতে>>>
<<<হোক কলরব এর শুরুতে ফিরতে
<<<হোক কলরব এর শুরুতে ফিরতে
হোক কলরব এর শেষ কবিতায়>>>
<<<হোক কলরব এর শুরুতে ফিরতে
হোক কলরব এর শেষ কবিতায় যেতে>>>
<<<হোক কলরব এর শুরুতে ফিরতে
হোক কলরব এর শেষ কবিতায় যেতে>>>
<<<হোক কলরব এর শুরুতে ফিরতে
হোক কলরব এর শেষ কবিতায় যেতে>>>
হোক কলরব
যতই তুমি ভয় দেখাবে
সাহস ততই বাড়বে-
কি করবে আমায় না হয়,
আরেকটু খানি মারবে;
তোমার হাতে ভাঙবে লাঠি
ভাঙবে আমার হাড়-
আবার আমি দাঁড়াবো উঠে,
তোমার ভাঙা লাঠিই সার।

দিনের বেলায় চোখ রাঙিয়ে
হাত বাড়িয়ে হিস্সা নেবে,
সত্যি কথা বললে পরে-
আলো নিভিয়ে বাঠাম দেবে।
সত্যি বলছি রাগ করিনি-
ওটাই তোমার কাজ,
বিশ্বাস কর অর্থহীন-
তোমার খাঁকির সাজ।

তুমি তো কেবল পুতুল মাত্র
পুতুলই রয়ে যাবে,
দাদা-দিদির আশীর্বাদে
মন্ডা মিঠাই খাবে।
তবে জেনে রাখো আমরা
হলাম রক্তবীজের জাত,
আমরা ভোরের আলো
তোমরা হলে কেবল রাত।
দীপাঞ্জন মাইতি
হোক কলরব এর শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কলরব হোক - রূপম ইসলাম গান
হোক কলরব - দীপাঞ্জন মাইতি
দানবপুর - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
কুশপুতুল - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
মদ গাঁজা চরস বন্ধ - দুষ্ট কবি
হোক কলরব - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রতিরোধ, তোমাকে সেলাম - হিন্দোল ভট্টাচার্য
নির্ঘোষ - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
তফাত - শ্রীজাত
আগুন - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
শহর - অভীক কুমার মৈত্র
গ্রাস - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
পুলিশ কাকু - ইন্দ্র মিত্র
ধুলোপথ বারুদপথ - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
উন্মাদিনীর আপন দেশে - শুভ্রাংশু সরকার
দখল - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় (গান)
হোক কলরব -অতনু বর্মণ
বিশে মিছিল - শুভ্রাংশু সরকার
দুন্দুভি - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
যা দিদি . . . - অজ্ঞাত কবি
হোক কলরব - সৌমিত দে
আমি সরকারের চর - রোশনি কুহু চক্রবর্তী
শহর থেকে একটু দূরে - পারিজাত সেন
যাদবপুরে ধর্না - পারিজাত সেন
পায়ে তাহার হাওয়াই চটি - অরিন্দম মৈত্র
.
হোক কলরব এর শেষ কবিতায় যেতে>>>
.
<<<হোক কলরবের এই দেয়ালিকার
<<<শুরুতে ফিরতে

ভীতু না গো অলস ছিলাম
বইয়ের পাতায় ভরা ভুষো,
ধন্যবাদ জানায় মেরেছো
বলে - এমন একটা ঢুষো;
দেখো কেমন উঠছি জেগে-
আমরা উঠছি জেগে সব,
সবাই মিলে বলছি এবার-
হোক হোক হোক কলরব।
কুশপুতুল
না, গুন্ডা ছিল না কোনো, ছিল না মনে কোনো বিষ
শুঁড়ির সাক্ষী ওই চিরকালই বলে – লাঠিচার্জ করেনি পুলিশ

শুধু নরম মনে নিয়মমাফিক সরিয়ে দিয়েছে বহিরাগত
তবে আকাশ থেকে উল্কা পড়ে আমার মেয়ের বুকের ক্ষত

ধক্‌ধক্‌ করে জ্বলছে এখন সর্বগ্রাসী অন্ধকারে
ডুবন্ত লোক খড়কে পেলেও ভীষণ জোরে জড়িয়ে ধরে

আর সেইদিন বন্ধুর পাশে আতঙ্করাত জাগতে দিয়ে
ফিরছে দেখো ক্রুদ্ধ তরুণ, ‘বহিরাগত’ নামটি নিয়ে

নাকি, বাইরে থেকে অস্ত্র হাতে লোক ঢুকেছে পড়ার দেশে
কলম গিটার অস্ত্র এখন – এসব কথাই কী অক্লেশে

ছড়িয়ে দিয়ে রাজার গোলাম পা-চাটবার শপথ নিল
এসব গল্পে ভুলছে না আর ছেঁচড়ে-টানা শরীরগুলো

সেইরাত্রে লাঠির ঘায়ে আঁকছিল যারা বিপুল ধ্বংস
নিজেই জানে না ও–লাঠি কখন তাদের দেহের গভীর অংশ

অংশটি শুধু বশ্যতা জানে রাজভক্তির পরমোৎসবে
ওই দেহ ভেঙে আগুনে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ার যজ্ঞ হবে

আজ মাটির ওপর রক্তবিন্দু রাস্তা আঁকছে অনেক দূর
সে পথ দিয়ে মানুষ হওয়ার ডাক পাঠাচ্ছে যাদবপুর
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
হোক কলরব
এখনও যে তুমি ঠিক করোনি
আজকে মিছিল তোমার কি না
তাকেই বলছি – তোমায় ছাড়া
‘হোক কলরব’ জোর পাবে না

এখনও যে তুমি কষছ হিসেব
কার অন্যায়, কার কী দোষে
ডাকছি তোমায় – স্নান করে যাও
আজ আমাদের দারুণ রোষে

এখনও যে আছো দ্বন্দে-দ্বিধায়
রাজার আঙুল স্বপ্নে দেখো
ভয় পেয়ো না – ও-হাতখানা
অক্ষত আর থাকবে নাকো

হাড়ের আসন কবজা করে
তর্জনীর আজ স্পর্ধা ভারী
ভুলেই গেছে – গড়ার মজুর
এক নিমেষে ভাঙতে পারি

ডাক উঠেছে অন্ধরাজা
এক্ষুনি ওই তখ্‌ত ছাড়ো
দুলছে মালা মৃত্যুফুলের  
দেখব কত মারতে পারো

যে তুমি এখনও শান্ত আছো
ভাবছ হাঁটবে হুকুমমতো
কাল দেখবে নিজের ঘরে
নিজেই কেমন বহিরাগত!
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
.
আজকে মিছিল দিনবদলের
হার না-মানা বিচার-চাওয়া
রাজপথে আজ ভয়-না-পেয়ে
পুলিশকর্ডন পেরিয়ে যাওয়া

পুলিশকর্ডন রাত চিরে খায়
পুলিশকর্ডন কন্ঠরোধে
চাইছে ওরা শাসন ছড়াক
আমার প্রেমে তোমার বোধে

তোমার মেয়ের ছেঁচড়ে শরীর
দম্ভ ছেঁড়ে আব্রু, কাপড়
একবারটি তাকিয়ে দেখো –
পুলিশ তোমার বুকের ওপর

আজকে মিছিল হাড়মাংসের
দহনভাষায় কাব্য লেখার
বুকের থেকে উপড়ে শাসন
চোখ-রাঙানি ভাঙতে শেখার

দাবানলের গাছগুলো সব
ঘিরছে শহর কদমতালে
জানলা দিয়ে তুমিও ঠিক
মুখ বাড়াবে কৌতূহলে

সাহস পেয়ে রাস্তা ভাবে
যাক জ্বলে যাক এ রৌরব
শিকল-ছেঁড়ার বন্ধু এসো –
হোক কলরব হোক কলরব ...
লাঠির মুখে গানের সুর দেখিয়ে দিল যাদবপুর
হিন্দোল ভট্টাচার্য
.
.
নির্ঘোষ

শব্দের পাশে শব্দ বসে আগুন জ্বালায়, জ্বালায় রোষ
তাদের মধ্যে শান্ত সেতু, ওই যে নীরব শঙ্খ ঘোষ

দাঁড়-পাঁজরের ভীষণ আওয়াজ, জল-বাতাসের কী আক্রোশ
আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ঢেউ ভেঙে যান শঙ্খ ঘোষ

মধ্যরাত্রি, বর্বরতা – ফুরিয়ে আসছে অস্ত্রকোষ
নিজের হাড়ে বজ্র গড়ে যুদ্ধে দিলেন শঙ্খ ঘোষ

অবাক মুন্ডু হেঁট হয় না – রাজদ্রোহীর এই তো দোষ
দ্রোহ যখন শরীর পেল, আমরা পেলাম শঙ্খ ঘোষ

আসন যতই হোক না উঁচু, আসন তবু – আকাশ নোস্‌
সেই আসনেও ঘেরাও হবে, রাত জাগবেন শঙ্খ ঘোষ

কবজাগুলোর কবজি ভাঙে তাই তো তাদের অসন্তোষ
পোস্টারে ওই পংক্তিগুলোয় তাকিয়ে আছেন শঙ্খ ঘোষ

চুল্লিগুলো উঠবে জ্বলে যতই পুলিশ, গুন্ডা পোষ
তোমার দেহেই ফুঁ দিয়েছি, লড়াই শুরু – শঙ্খ ঘোষ!
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
শ্রীজাত
.
.
আগুন
ঘুমের ভেতর ঢেউ থাকে না
জেগে উঠলেই যন্ত্রণা
পথের আওয়াজ স্বপ্ন ভেঙে
আছড়ে পড়ে – শান্ত না

নষ্ট দিনের ভ্রষ্ট আওয়াজ
ঘরে ঢোকবার কী দরকার
গোঙানিরব ঢাকার জন্য
গান এনেছে এ-সরকার

বাজাচ্ছে গান পাড়ায় পাড়ায়
গান শোনাচ্ছে ট্র্যাফিকমোড়
জাগার জন্য জীবন আছে
বহাল থাকুক ঘুমটি তোর

আমরাও সেই গানের ফাঁদে
স্বপ্ন দেখি সরকারী
মিছিলদিনে বৃষ্টি এত
পৌঁছতে কি আর পারি?

আঁচ-বাঁচানোর বোলতানি সব
বৃষ্টি, অসুখ, ব্যস্ততা
আসল অসুখ আরামচেয়ার
শিরায় শিরায় বশ্যতা
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
আজকে যারা জাগার কথা
বলতে বলতে হাঁটছে ওই
জিন্দা তাদের রক্তমাংস
ভিজছে দারুণ, ভাগছে কই?

একটা মিছিল দেখছ পথে
তাতেই এত অশান্তি
মধ্যরাতে বুটের মুখে
জন্ম নিল অগুন্তি

রক্তবীজ ওই মিছিলগুলো
মরবে তবু থামবে না
যে ঘুমোচ্ছে – মুক্তিটি তার
স্বপ্ন থেকে নামবে না

কলরবের পাগলগুলো
দিচ্ছে কথা – হাঁটবে ফের
স্বপ্নশাসন দুখান করে
করবে শাসন স্বপ্নদের

ওদের স্বপ্ন রক্তে আমার
উল্লাসিত, বাড়ায় ভিড়
রাস্তা থেকে ডাক পাঠাচ্ছি –
ঘুম ভেঙে যাক বন্দীটির

নতুন স্লোগান হতেই পারে –
‘আমিও যাব, দাঁড়াস তো’
হাঁটার জন্য পা লাগে না
আগুনটুকুই যথেষ্ট !
.
শহর

শহর, তোমার সঙ্গে প্রেমের
অন্ত ছিলো বিচ্ছেদে ।
শহর, তোমার পালটে যাওয়ার
দুঃখ আমায় কম বেঁধে ?

শহর, তুমি পালটালে ফের,
শহর, তুমি রুক্ষ নেই,
ওই মুঠো হাত জড়িয়ে নেবো -
এ-পালটানোয় দুঃখ নেই !

(২১/৯/২০১৪)
অভীক কুমার মৈত্র
.
গ্রাস

বন্ধ দরজা বন্ধ দরজা তুমি শুধু সব জানো –
কীভাবে সজীব সাদাকালো ঘুঁটি
অক্ষমতার ছকজুড়ে সাজানো

বন্ধ দরজা বন্ধ দরজা রাজা এল কাল ঘরে
যারা মার খেল আমার মেয়ের হয়ে
সেই মুখগুলো বড্ড মনে পড়ে

বন্ধ দরজা বন্ধ দরজা শিরদাঁড়া বেঁকে যায়
লালবাতিটির আলো এসে পড়ে
ইজ্জতে আর আমার মেয়ের গায়

বন্ধ দরজা বন্ধ দরজা অপরাধ নিও না
হাঁটতে গেলাম অন্ধ দু-চোখে
পুতুলখেলায় বিকিয়ে দিলাম পা

বন্ধ দরজা বন্ধ দরজা আর কী করব বলো
জেগে ওঠবার ভীষণ ক্ষণেই
চাপা হুঙ্কার - সন্ধ্যা নেমে এল
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
.
পুলিশ কাকু
পুলিশ কাকু ... পুলিশ কাকু তোমার বাড়ি যাব।
পুলিশ কাকু তুমি কি আর আমার কথা ভাবো ?
পুলিশ কাকু সেদিন রাত 'এ হঠাথ অন্ধকারে
ছত্রভঙ্গ হয়েছিলাম তোমার ভীষণ মারে
ডেস্ক এ বসে '
Protest' করি , 'অরবিন্দ ঘর'
মাত্র কজন , একশ - দুশ ' মাওবাদী দের চর '
আমি তখন মহীন - ডিলান , প্রতিবাদের ভাষা
তোমরা তখন কষছিলে ছক - ভীষণ সর্বনাশা

পুলিশ কাকু ...পুলিশ কাকু , বেশ তো ছিলাম ভালো
হঠাথ করে তুমি তখন নিভিয়ে দিলে আলো
তখনও আমরা ভেবেছিলাম আলোচনাই হবে
কিন্তু তুমি শান্তিপূর্ণ , কি করেছ ? কবে ?
কুঞ্জে অলি গুঞ্জে তবু , ফুটেছে মঞ্জরী
এতকিছুর পরেও তোমায় বুঝতে ভুল করি
আমি তখন হাত মিলিয়ে মানব-প্রাচীর গড়ে
'পিশাচ'টাকে আটকেছিলাম মধ্যরাতের পরে

পুলিশ কাকু ...পুলিশ কাকু , এই যে দুদিন পরে
এখনো তুমি গাইছ সাফাই , লজ্জা তোমার করে ?
সেসব কথা বলেছ তুমি , নবান্নতে গিয়ে ?
ইন্দ্র মিত্র
গভীর রাতে ঢুকেছিলে ভাড়াটে গুন্ডা নিয়ে
তারা সবাই 'সিভিল ড্রেস' এ , গায়ের রং কালো
স্বীকার করি , দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো
ফাটিয়ে দিলে মুখ , আমার বুজিয়ে দিলে চোখ
তখনও আমরা বলেছিলাম এসব বন্ধ হোক

এরপরে যা করলে তুমি রাতের অন্ধকারে
এখনো সেসব ভাবতে কাকু ... ভীষণই ভয় করে
আমার সামনে আমারই এক বান্ধবী কে মেরে
ছিড়লে জামা , মারলে ঘুষি চুলের মুঠি ধরে
রক্ত অনেক ঝরেছে , এবার ফেরত দেওয়ার পালা
লাগলে গায়ে আবার মারো , মিটিয়ে নিও জ্বালা
আজ দেখছ আমরা কেমন নেমেছিলাম পথে
হাজার হাজার 'পলাশ' 'অনিল' 'মৌমিতা' দের সাথে
তোমরা তখন মিছিল দেখে মুচকি মুচকি হেসে ..
ভাবছ বুঝি 'বিপ্লব' আর আসবে না এই দেশে
আজ মেরেছ , কাল কি হবে ? ... কালের ঘরে শনি
যতই তোমায় আসকারা দিক তোমার 'দিদিমনি'
এবার আগুন জ্বলবে কাকু , একটু পেয় ভয়
কেমন হবে , শহর যদি '
Tien An Mien' হয় ?

(কবি জয় গোস্বামীর কবিতা অনুসরণে)
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪
.
ধুলোপথ বারুদপথ
তুমি কি ভিজে গেছ খুব? আজ কি হেঁটেছ মিছিলে?
তুমিই কি দূর-থেকে-আসা কিশোরকে পথ বলে দিলে

এই প্রথম মিছিলে আসা। একাই। নন্দন চেনে না ও ছেলে
তুমি কি যাওনি আজ, ভোর থেকে জল হল বলে?

সেদিনও জলের মতো মাঝরাতে ঝরেছিল শতধারা খুন
চিনতে পারোনি ঠিক, শোনো বলি – জল আজ আসলে আগুন

দেখে নিল সঙ্গে কে কে আছে কার আছে বুকফাটা রাগ
আর কে কাঁপে বৃষ্টিভয়ে, লুকোয় উল্কি আঁকা ক্রীতদাস-দাগ

তুমি কি বসেছ ধুলোয়, বলেছ হোক হোক কলরব হোক
অদূরে নিথর ক্ষমতাসীমা টানা – ত্রিস্তরে কাঁপছে শাসক

এভাবে কি রোখা যায় আর, হে আদিম বুরবক সেনা
শব্দ রুখতে পারো? রোখো তবে মেঘে মেঘে ক্রুদ্ধ চেতনা

সে মেঘ বার্তা নিয়ে পৌঁছল দূরদেশে, সেই জলে বন্ধুরা বুঁদ
আসতে পারেনি তবু রাত-জাগা – মনে মনে সবাই বারুদ!

এসেছে গঞ্জ গ্রাম, এসেছে মফস্বল, ‘আছি’ বলে এসেছে সবাই
যে আজ আসেনি সে-ও আগামীর রণে – ভাববে একবার যাই

তুমি কি রাজপথ, ছেলেরা বসবে শুনে ধুলোমাখা বুক পেতে দিলে?
আজকে বর্ষা ঘোর, তবু জল নয় – গোটা দেশ ভিজেছে মিছিলে ...
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
.
উন্মাদিনীর আপন দেশে

উন্মাদিনীর আপন দেশে
আইন কানুন সর্বনেশে
ছাত্র যদি ঘেরাও করে
পুলিশ এসে পাকড়ে ধরে
ভিসি’র কাছে হয় বিচার
পুলিশ-লাঠি দন্ড তার

সেথায় সকাল ছটা’র আগে
গান গাইতে টিকিট লাগে
গাইলে যে গান বিন-টিকিটে
দমদমাদম লাগায় পিঠে
পুলিশ এসে গেঞ্জি ঝাড়ে
ঘামের গন্ধে হাঁচিয়ে মারে

ছাত্রী যদি তর্ক করে
‘মাওবাদী’দের তকমা পরে
কারুর যদি সাহস হয়
খাস পেয়াদা পৌঁছে যায়
খুঁচিয়ে পিঠে গুঁজিয়ে ঘাড়
মারের ঠেলায় লালবাজার
শুভ্রাংশু সরকার

পড়তে গিয়ে কেউ যদি হায়
বদ লোকেদের পাকড়াতে চায়
ভিসি’র কাছে খবর ছোটে
পল্টনেরা লাফিয়ে ওঠে
নিভিয়ে আলো অন্ধকার
‘এঁচোড়পাকা’ হয় সাবাড়

সেথায় যারা পদ্য লেখে
তাদের ধরে খাঁচায় রাখে
মন্ত্রীমশাই নানান সুরে
গপ্পো শোনান রাজ্য জুড়ে
সামনে রেখে মুদীর খাতা
রিডিং পড়েন পুলিশ-হোতা

হঠাৎ সেথায় রাতদুপুরে
মুশকো যত গায়-গতরে
কাড়তে আসে মোদের মান
নবীন ঠোঁটের নতুন গান
তবুও ভাসে অনেকদূর
লাঠির মুখে গানের সুর

(কবি সুকুমার রায়ের ছড়া অনুসরণে)
.
দখল
রাজেশ দত্তর সুরে ও কণ্ঠে গানটি শুনুন. . .
পিঠে মার নিয়ে যখন শিখছি আগুন পেরিয়ে যাওয়া
মিছিলের থেকে স্লোগান উড়িয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে হাওয়া
হাওয়া তো পাগল, ঘরবাড়ি নেই, যেই দেখে হানাদারি
বুক পেতে দেয় লাঠি-বন্দুকে – আমিও লড়তে পারি

দল নেই ওর, রাজনীতি নেই, শুধু কান্নার পাশে
গান এনে রাখে আলোয় আলোয়, গান এনে দেয় ঘাসে
হাওয়ার ফুলকি গায়ে লাগতেই ভিনরাজ্যও হাঁটে
জেএনএউ থেকে আওয়াজ মিশছে যাদবপুরের মাঠে

যারা সারা রাত মার খায় আর পোস্টার লেখে জেগে
তারা একা নয় – ওই দেখো দেশ ঘুমোয় না উদ্বেগে
একে একে এসে ভিড় করে মাঠে হাজার বন্ধু, ভাই
অগ্নিকুণ্ড ঘিরে রব ওঠে - দ্রুত সুবিচার চাই

চিৎকার লেগে কুশের পুতুল লহমায় জ্বলে খাক
অসুররাজার ঘুম ভেঙে দেয় হল্লা বোলের ডাক
কাঁপছে আকাশ, কাঁপছে বাতাস –এই জল্লাদরাজ না
ক্ষতচিহ্নেরা এক হলে পরে হৃৎস্পন্দও বাজনা

বাজনা বাজছে বাজনা বাজছে হাতে হাত তালে তাল
আজ বিকেলের মিছিল বলছে – আবার আসব কাল
কাল দেখা হবে সংহতিগান, আবার হাঁটব একজোট
নদীও বলেছে কালকে পাঠাবে উত্তাল যত তার স্রোত

সে স্রোতে ভাসাব ক্যাম্পাস-ঘেরা যত লালচোখ গুন্ডা
ভয় দেখাচ্ছে চুয়াল্লিশের পা-চাটা কখানা বান্দা
কাল দেখে নিও জংলাপোশাক ‘মানবিক’ প্রতিপক্ষ –
চুয়াল্লিশের চোখে চোখ হানে কয়েক হাজার লক্ষ!
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
.
হোক কলরব
অতনু বর্মণ

ছাত্ররা গাঁজা খায় ছাত্রীরা মদ,
'ঠিক ঠিক' মাথা নাড়ে যত পারিষদ।
বৃষ্টির মদে ভিজে স্লোগানের গাঁজা
হোক কলরব হোক আরও তরতাজা।
.
বিশে মিছিল

এ রাজপথে আগুন জ্বলে,
গলার তেজে বৃষ্টি জ্বলে,
স্লোগান ঘিরে ঘুরপাক খায়
খামখেয়ালি মাতাল হাওয়া
পায়ে পায়ে প্রতিবাদের
নিশান নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
মুখের হাসি, তামাক ধোঁয়া, স্বপ্নসুর
হাঁটল শহর সিক্ত হয়ে ভর দুপুর।
হাতে হাতে হাততালিদের দামাল দল
কীভাবে তুই শাসক সোনা বাঁচবি বল
মানসচক্ষে ঠিক দেখা যায়
অত্যাচারীর করুণ শব
হোক হোক হোক হোক
হোক হোক হোক কলরব।
শুভ্রাংশু সরকার
.
দুন্দুভি
আবার আজকে বিকেলবেলায়
দেখা হবে রোদজলে
দৃপ্ত আমার পাগল বন্ধু
সহাস্যমুখে বলে –
আমরা সবাই সময়ে আসব
তুই কি ভাবলি, যাবি?
আবার উঠবে দশহাজার মুঠো –
পদত্যাগের দাবী

আবার কাঁপবে ধুলোয় ধুলোয়
আঘাত, রক্ত, কষ্ট
রাজার মুকুটে জ্বল্‌জ্বল্‌ করে
ওই দলদাস – ভ্রষ্ট
তাকে যেতে হবে প্রাঙ্গণ ছেড়ে
এক্ষুনি, এইবেলা
নাহলে আবার রক্ত ছিটিয়ে
ভেঙে দেবে ধুলোখেলা

আমাদের দেশে আমরাই রাজা
আমাদের যত কাব্য
লিখব পাতায়, ইস্তেহারে
দেওয়াল ভরিয়ে ভাবব
যত মার পারে গুন্ডার বুট
তার চেয়ে বেশি জেদ
আরেক জেদকে বার্তা পাঠায় –
সলিডারিটি, কমরেড!
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
তুমি যদি জানো বন্দুক তুলে
চোখ রাঙাবার বিদ্যে
আমরাও পারি কবিতা নামিয়ে
অস্ত্র-বানানো শিখতে
অস্ত্রে অস্ত্রে দেখা হবে আজ
হাড়ে হাড় লেগে ঘর্ষণ,
কলেজে বলবি, কফি হাউসেও
হ্যাঁ, ভালো কথা, আর শোন

ফেরবার পথে স্টেশনের গাছ
বলে যাবি মরা গলিদের,
হাঁক দিয়ে যাবি দীঘিজলে, আর
হাঁকবি কুমোরটুলিতে
এখনও এ মাটি বিক্রি হয়নি
আকাশ এখনও জিন্দা
যে পথ চলেছে সমুখসমরে
সেই রাস্তাই চিনবার

কুমোরটুলির আবছা আলোয়
ত্রিনয়ন একা জাগে
দশখানা হাত দশদিক হয়ে
হাঁটে মিছিলের আগে
আজ দেখা হবে বিকেলবেলায়
বইপত্রিকা ভিড়ে
আমদের ডাকে কবিতা হাঁটবে
সূচিপত্রটি ছিঁড়ে
আবার ফিরব প্রিয় ক্লাসরুমে
মৃত্যুর বাজি জিতে
শারদোৎসব এবছর হবে
মিছিলে – কলেজস্ট্রিটে ...
.
যা দিদি সর্বলুটেষু সারদারূপেণ সংস্থিতা,
ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাঃ ঘৃণাঃ।

যা দিদি ছাত্রাঃ হত্যাষু পুলিশরূপেণ সংস্থিতা,
ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাঃ ঘৃণাঃ।

যা দিদি ধর্ষণেষু তাপসরূপেণ সংস্থিতা,
ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাঃ ঘৃণাঃ।

যা দিদি নৃত্যেষু টলিউডরূপেণ সংস্থিতা,
ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাঃ ঘৃণাঃ।

যা দিদি কটুবাক্যেষু খিস্তিরূপেণ সংস্থিতা,
ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাস্তসৈ ঘৃণাঃ ঘৃণাঃ।

-- মহালয়া, লেখক – অজ্ঞাত (সৌজন্য :
ফেসবুক পেজ
‘Mirror’)
অজ্ঞাত কবি
.
হোক কলরব
হুকুম এলো চালাও লাঠি, হুকুম এলো জোরে
করবে তামিল অন্ধকারে ক্ষান্ত দেবে ভোরে
হুকুম ছিলো পেট পুরিয়ে খাইয়ে দেবে খাবি
নাক টিপলে দুধ পড়ে ছাই তাদের আবার দাবী
কথা মতই লাথি-ঘুসি দাদার-মামার আদর
হাল্কা শাসন দিতেই হবে মালগুলো যা বাঁদর
বাপের বয়সী গুরুজনের জীবন নিয়ে খেলা
হাল্কা করে না কড়কালে চলছেনা এইবেলা

যেসব কথা ভেবে ভেবে ঘুম হয়না রাতে
জামা তুলে সার্চে নিও তুমুল সুযোগ হাতে
মেয়ে পুরুষের প্রভেদ কিসের সবাই মর্ডান তাই
মেয়েই পেটাতে মেয়েই লাগে কে বলেছে ভাই?
কিন্তু একি রুলের গুঁতো হিঁচড়ে মারায় টান
তাও ব্যাট্যারা জোর গলাতে গায় কি করে গান?
কি করে চায় শেষ দেখতে কি করে চায় জয়
এত্ত কিছু দেখিয়ে দিলাম তাও পেলোনা ভয়

তাও দমেনি রত্তিখানেক ফুটছে আরও তেজে
লক্ষ গলায় সত্যিকথা একসাথে যায় বেজে
একসাথে যায় ঝড়ে খোঁজে একসাথে যায় সব
গর্জে উঠে বলছে সময় হোক কলরব
সৌমিত দে
কলরব হোক
(গান)
আমরা নই গেরুয়া লাল
সবুজ কিংবা সাদা নীল
জেনে বুঝে বৃষ্টি ভিজে
এই মিছিলে হও সামিল
পেটে পেটে কূটবুদ্ধি এঁটে
মিশতে এলে যাও তফাত
আন্দোলনের শেষ থাকে না
থাকে শুধু শুরুয়াত

গানে গানেই রাত্রি দিন
হারমোনিকা আর গীটার
ভীষণ অস্ত্র শিরদাঁড়া
আর মারণ অস্ত্র অহংকার
অধিকার নিজেকে চেনার
বুঝতে শেখা রাইট রং
ভোটের খেলা সাঙ্গ হলে
গীটারটাই শিখো বরং

কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
জব্দ হোক নিঃশব্দ হোক
স্তব্ধ হোক শত্রু সব
ঐতিহাসিক প্রায়শ্চিত্তে
নিজেই টানছো নিজের শব
নিজেই খুঁড়ছো নিজের কবর
সম্মানিত বেয়াদব
.
রূপম ইসলাম

গানটি শুনতে এখানে ক্লিক্ করুন

একটা মেয়ে নির্যাতিত
মদে ভেজা ওর শরীর
তার জবাবে কদর্য হাত
ছিঁড়লো জামা বান্ধবীর
পুলিশ ছুঁলে কত ঘা
প্রকাশ্যে বলা বারণ
পাওয়ার মানেই কোরাপশন
আর সিংহাসন মানেই রাবণ

জানতে চাইছি ওদের নাম
যাদের নামে এফ.আই.আর.
অপদার্থ কর্তৃপক্ষের
তদন্তে বল কী দরকার
তদন্ত হোক নিজের তালে
ঢিমে তেতাল ধ্রুপদী
গদি ছাড়ো রাজা তুমি
অনাচার করো যদি

কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
জব্দ হোক নিঃশব্দ হোক
স্তব্ধ হোক শত্রু সব
ঐতিহাসিক প্রায়শ্চিত্তে
নিজেই টানছ নিজের সব
নিজেই খুঁড়ছো নিজের কবর
সম্মানিত বেয়াদব



ছোট্ট শিশু রেপ হলে কি
স্বভাব পোশাক জানতে চাস
পুরুষতন্ত্র ঝোপ বুঝে কোপ
হচ্ছে কালো তোর আকাশ
ড্রেসের দোহাই মদের দোহাই
দোহাই বলছি বন্ধ কর
শরীর থেকে মুক্তি চাইছে
বন্দী মেয়ের একলা ঘর

কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
জব্দ হোক নিঃশব্দ হোক
স্তব্ধ হোক শত্রু সব
ঐতিহাসিক প্রায়শ্চিত্তে
নিজেই টানছ নিজের সব
নিজেই খুঁড়ছো নিজের কবর
সম্মানিত বেয়াদব

কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
কলরব হোক কলরব হোক
কলরব হোক কলরব
.
আমি সরকারের চর
(ভূপেন হাজারিকার ‘আমি এক যাযাবর’ গানের প্যারডি)

আমি সরকারের চর ,
আমি সরকারের চর
শাসককে আমি আপন করেছি ,
গোছালাম নিজ ঘর ।
আমি এক বর্বর ।
আমি নবান্ন থেকে জে এউ এসে
নিজের ভূমিকা ভুলেছি ।
আমি পুলিশ ডাকিয়ে ছাত্র পিটিয়ে
মিডিয়াকে ঢপ দিয়েছি ।
ন্যাক থেকে জে ইউ দেখতে আসায়
ঘুষের অফার দিয়েছি ,
আমি শিক্ষকতা করার বদলে
চামচা হয়েই থেকেছি ।
আমি ছাত্রদেরকে সরিয়ে দিতে
পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছি ।
শঙ্কুদাদা আপন হয়েছে
জে ইউ ছাত্ররা পর ,
তাই আমি বর্বর
আমি সরকারের চর ।
রোশনি কুহু চক্রবর্তী

আমার শরীর হৃদয়বিহীন
আমার রয়েছে পণ ,
পার্থদাদাকে যখন দেখেছি
দিয়েছি আমার মন ।
আমি রেখেছি জমিয়ে বেশ কিছুদিন
তেলের শিশির বাটি ,
গেঞ্জিপুলিশ ফোন করে ডেকে
মাঝরাতে ভয়ে কাটি ।
আমি ভুলেই গিয়েছি অশ্লীলতার শিকার
সেই যে মুখ ,
বিনিময়ে আমি গুছিয়ে নিয়েছি
নিজের সবটা সুখ ।
আমাকে সরাতে স্বার্থ ছাড়াই
একজোট হল জে ইউ
প্রশাসন কে যদিও তারা
পাশে পাইনি কেউ ,
শিক্ষামন্ত্রী সবচেয়ে আপন
ছাত্রছাত্রী পর ।
তাই আমি বর্বর ,
আমি সরকারের চর
ছুটি নিয়ে ঘরে বসে লুডো খেলি
আমি সরকারের চর ।
আমি ভি সি বর্বর ।
.
হর থেকে একটু দূরে
অবাক কাণ্ড যাদবপুরে ,
কিছু ফুলিশ উর্দি পরে
বাগিয়ে লাঠি সেথায় ঘোরে ।
প্যাঁদায় নাকি ছাত্র পেলে ,
তফাত নাইকো মেল ফিমেলে ।
তাদের দাবি পড়ার ফাঁকে ,
এরাও নাকি বিড়াল ডাকে ।
এত্ত এদের বাড় বেড়েছে
ফুলিশ কাকু তাই মেরেছে ।
ফুলিশ কাকু রাগ করেছো ?
নবান্নতে পা ধরেছো ?
জানি তুমি আজ্ঞার দাস ,
না প্যাঁদালে তোমারই বাঁশ ।
তবুও কাকু যতই মারো ,
মাইনে তোমার একশ বারো
পারিজাত সেন
.
যাদবপুরে ধর্না
মোটে ভালো কাজ না।

ভর পেট মার খাই
অন্যায় মানা চাই ।

যায় যদি যাক প্রাণ
জে ইউ ভি সি [ ছিঃ ] ভগবান !!!!!
পারিজাত সেন
.
পায়ে তাহার হাওয়াই চটি
টাকা লুঠেছে কোটি কোটি

মুখে বড় বাতেলা
ভোট জিতলো লুটেরা

ধুলোয় মেশাও জনতা
হাওয়াই চটির ক্ষমতা
অরিন্দম মৈত্র
মারবে মারো, লড়াই তবু চলবে।
রক্ত ঝরুক, পাল্টা আগুন জ্বলবে॥
আমরা সবাই বহিরাগত
থাকব পাশে মারবে যত
আলিমুদ্দিন শুকিয়ে কাঠ
এবার শত্রু কালীঘাট
ভি.সি.কে কেউ চিনবে না
ওএলএক্স-ও কিনবে না।
তোমার আমার সবার রব
হোক হোক হোক কলরব
মানসচক্ষে ঠিক দেখা যায়
অত্যাচারীর করুণ শব।
হোক হোক হোক হোক
হোক হোক হোক কলরব॥
.
মিথ্যে কথার তিনটে ঠেক
ভিসি-সিপি-অভিষেক
প্রদীপ ভট্টাচার্য
.
বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়
মিখ্যে কথার তিনটে ঠেক - প্রদীপ ভট্টাচার্য
খবর ছড়াই - দেবাশিষ রায় গান
তৃণাচার্য - বরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়
গেঞ্জি পুলিশের সাওয়াল জবাব - অনামিকা মিত্র
হোক কলরব - সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
ছিঃ ছিঃ হচ্ছেটা কী - অমর নস্কর
ধরব দড়ি মারব টান - দর্শনা বোস
হোক কলরব আগুন সুর - কাজল দত্ত
ওরা মার খেতে খেতে জাগবে - অনির্বাণ গোস্বামী
ছাত্র মেরে জামা ছিঁড়ে - রূপক চক্রবর্ত্তী
আমরা যারা রাত্রে বাড়ি ফিরছি - সোমনাথ রায়
আমরা আবার পথে - শতদ্রু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান
আমার রক্ত, হা উন্মত্ত - অনীক
বুটের আওয়াজ স্কুলের মাঠে - সুমন গোস্বামী
সেই মুহূর্ত মিছিলে - সুদীপ্ত রায়
আমরা যারা খানিক দূরে - স্থিতধী ঘোষ
আগমনী ২০১৪ - কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য
আমার বন্ধু - অজ্ঞাত কবি
মাথা নোয়াতে শিখিনি কখনও - অনিমেষ বৈদ্য
বহিরাগত বহি রাগত - শুভমন
হোক কলরব - অর্ণবের গান
লাঠি তো মারিনি - অলকানন্দা মজুমদার
হোক কলরব - শুভব্রত ব্রহ্মচারী
হোক কলরব - দেবাশিস রায়ে গান
বহিরাগত - রাজেশ দত্ত গান
.
অনামিকা মিত্র
গেঞ্জি পুলিশের সাওয়াল জবাব
.
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়
হোক কলরব
.
ছিঃ ছিঃ হচ্ছেটা কী
হাঁটছে পথে কারা?
চিৎকারেতে কারা এখন
জাগিয়ে রাখে পাড়া?
ক্ষমতার হু-হুংকারে
ছাত্র ঠেঙায় পুলিশ
শাসককূলের সোহাগ ফুলে
ফিরতি মঞ্চে তুলিস্।
হম্বি-তম্বি অহং-মোহং
মা-য়ের আসন ফাঁকা
সব ঘাটেতেই পূজিত হন
সারদা-মা একা !
অমর নস্কর
.
ধরব দড়ি মারব টান
তোমার থাকুক ভাড়াটে গুণ্ডা
ডান্ডা বুলেট জোশ,
কলজে সেঁকেছি আগুনে আমরা
দিকে দিকে জ্বালি রোষ।

কামদুনি থেকে মধ্যমগ্রাম
ইতিহাস নির্মাণ
ভুলে গেছ তুমি নির্ভয়াদের
জ্বলন্ত উত্থান!

হাজার কন্ঠে রক্ত উঠেছে
আগুন জ্বলছে আজ,
রক্তের দাগ রক্তে মুছব
আমরা করব রাজ।

'চুপ 'এর ধমকি শুয়েছে কবরে
Mass-ই হল আজ ত্রাস,
লাশকাটা ঘরে কাঁদবে না আর
গণতন্ত্রের লাশ।
দর্শনা বোস
.
হোক কলরব আগুন সুর
বৃষ্টি রোদে যাদবপুর ।
চাই না ভিসি এমুখ খানি
জ্বলবে আগুন আমরা জানি ।
কাজল দত্ত
.
রা মার খেতে খেতে জাগবে-আর মারের বদলে মারবে।
দিনে দিনে আরও বাড়বে আঘাত-একসাথে মাথা নাড়বে-
রাণী তোমার আসন ধরে, হ্যাঁচকা টানে ভীষণ জোরে-
করবে তোমায় ভূলুণ্ঠিত, আচমকা এক দমকা ঝড়ে।
উঠবে সে ঝড় বাংলা জুড়ে, আজকে শুরু যাদবপুরে!
অনির্বাণ গোস্বামী
.
ছাত্র মেরে জামা ছিঁড়ে
দখল নেবো যাদবপুর !
পুলিশ আছে VC আছে
মুছে দেব গানের সুর !

ওরে, মোরা লালের গরম স্তব্ধ করে
প্রতিবাদের চেনা মুখ !
সবুজ আগুন নিভিয়ে দেবো
মুষ্টিবদ্ধ যাদবপুর!

তোরা পুলিশ পাঠা,
RAF এর ছাতা
VCর চেয়ার সবুজ হোক!
তোদের লাঠির পাল্টা জবাব
গানের সুরে যাদবপুর !
রূপক চক্রবর্ত্তী
.
মরা যারা রাত্রে বাড়ি ফিরছি
আমরা যারা কুন্ঠাভয়ে থাকছি
বুঝতে পারি এ পথ কিছু পিচ্ছিল
এবার যদি হোক কলরব ডাক দি?
আমরা যারা পাসপোর্টের ঘুষ দি
ফোনের লাইন খারাপ থাকে দশদিন
নিজের মধ্যে মানুষ যাকে পুষছি
রোজ দুবেলা তার জ্বালাতে অস্থির
আমরা যারা বাস পাইনা রাস্তায়
রোজ যে দেখি বাড়ছে বাজারমূল্য
আমরা যারা আচ্ছে দিনের আস্থায়
ভাবছি কি আজ কারখানাটা খুললো?
আমরা যারা কলেজ ফি এর ধাক্কা
লোনের আকর টানতে গিয়ে ধুঁকছি
রাস্তা ভাঙা, নল সারানোর পাকখাই
এবং শুনি মন্ত্রী-নেতার উক্তি
আমরা যারা টেবিলের এই পারটা
ঘাড়টি গুঁজে নিচ্ছি তাই যা দিচ্ছে
ফলন কমে, দাম বেড়ে যায় সারটার-
হোক কলরব, তাই আমাদের ইচ্ছে
শিউরে উঠে ভোরের কাগজ পড়ছি
আমরা যারা খবর দেখে অন্ধ
শহর জুড়ে সবাই আছে পড়শি
হোক কলরব সামনে যখন বন্ধ
আমরা যারা সিঁটিয়ে ছিলাম পাশটায়
মানুষটাকে সামনে এনে রাখছি-
বন্ধুরা সব আসবে নেমে রাস্তায়
এবার যদি হোক কলরব ডাক দি
সোমনাথ রায়
.
মরা আবার পথে ভালোর, খোঁজে আলোর
আরেক বার ...
আর ইঁট - কাঠ - পাথরের শহর, গোনে প্রহর
আরেক বার ...
প্রতিবাদ, প্রতিবাদ
প্রতিবাদে মুখর নগর
প্রতিবাদ, প্রতিরোধ
প্রতিবাদের শহর
আমরা লাঠির মুখে গাই গান, ছুঁড়ে দিই প্রাণ
বারে বার ...
ভাঙ্গে অত্যাচারীর সিংহাসন, থামে শাসন
বারে বার ...
প্রতিবাদ, প্রতিবাদ
প্রতিবাদে মুখর নগর
প্রতিবাদ, প্রতিরোধ
প্রতিবাদের শহর
রাজপথ জুড়ে ছাপোষা মুখ, কেন নিশ্চুপ ?
কিসের ভয় ?
আমরা রঙ ভুলে হাতে হাত, যত আঘাত
হবে জয়
আমরা করব জয়
কলরব, কলরব
কলরবে মুখর শহর
কলরব, হোক কলরব
কলরবে জাগুক শহর
আমরা আবার পথে ভালোর, খোঁজে আলোর
আরেক বার ...
আর ইঁট - কাঠ - পাথরের শহর, গোনে প্রহর
আরেক বার ... আরেক বার
শতদ্রু বন্দ্যোপাধ্যায়
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক্ করুন
.
মার রক্ত, হা উন্মত্ত, জমছে যথাস্থানে
লাঠির মুখে হোক কলরব যাদবপুরের গানে
আমার রক্ত, অপর্যাপ্ত,ছড়িয়ে পড়েছে কাল
লাঠির মুখে যাদবপুর আজ ঝড়ের মত লাল
অনীক
.
বুটের আওয়াজ স্কুলের মাঠে
বুটের আওয়াজ কলেজ ঘাটে
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
বুটের আওয়াজ চিনিয়ে দিয়েই
রাষ্ট্র চেনায় ভয়ের মানে

তবুও কারা চিল স্লোগানে
মিছিল ছবি শব্দ গানে
নাড়িয়ে দিয়ে বদ্ধ চেয়ার
বলছে সরল ঠান্ডা গলায়
'তোদের করি থোড়াই কেয়ার'
সুমন গোস্বামী
.
সুদীপ্ত রায়
.
স্থিতধী ঘোষ
.
কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য
.
অজ্ঞাত কবি
.
অনিমেষ বৈদ্য
.
শুভমন
.
“মদ গাঁজা চরস বন্ধ
তাই কি প্রতিবাদের গন্ধ?”
কাটাইয়া সকল দ্বন্দ্ব,
কহেন কবি অভিষেক বন্দ্যো!

আহা! কি সুন্দর ছন্দ!
কাব্যিক তথা মৃদু-মন্দ!
যেন, কাব্যাকাশে নতুন চন্দ!
পিসির হবেই মন-পসন্দ!

কি দিয়া শুঁকিলেন গন্ধ?
নাক তো ক্ষমতার দম্ভে বন্ধ!
কিছু পূর্বে এমন ছন্দ---
গাহিতেন বামফ্রন্টের বৃন্দ!

এখন তারা নাই শ্রীমন্ত
ভুগিছেন নির্বাসন দণ্ড!
রাজপাট গিয়া লণ্ড-ভণ্ড
অতি দম্ভের ফল প্রচণ্ড!

দুষ্ট কবি কহে --- হে অভি বন্দ্যো!
দেখিয়া শেখে বুদ্ধিমন্ত।
সুবুদ্ধিরই যদি হইলো অন্ত,
লাভ কি হইয়া হন্ত-দন্ত?
.                                  ২২.০৯.২০১৪
দুষ্ট কবি
.
হোক কলরব
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক্ করুন
হোক কলরব ফুলগুলো সব
লাল না হয়ে নীল হলো ক্যান
অসম্ভবে কখন কবে
মেঘের সাথে মিল হলো ক্যান

হোক অযথা এসব কথা
তাল না হয়ে তিল হলো ক্যান
কুয়োর তলে ভীষণ জলে
খাল না হয়ে ঝিল হলো ক্যান

ধুত্তরি ছাই মাছগুলো তাই
ফুল না হয়ে চিল হলো ক্যান
হোক কলরব ফুলগুলো সব
লাল না হয়ে নীল হলো ক্যান
অর্ণব
.
অলকানন্দা মজুমদার
পাঠিয়েছেন শ্রেয়সী
২৫.৯.২০১৪ তারিখে
.
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক্ করুন
সংবাদিকদের মারধোর, ক্যামেরা ভেঙে দেওয়ার
বিরুদ্ধে ( যা যাদবপুরেও ঘটেছে ) . . .
 
মোরা, করছি বড়াই, খবর ছড়াই,
তোমার আদেশ ছাড়াই |
তুমি, মারছো মারো, ধরছো ধরো,
কেয়ার করি থোড়াই!

যুগের, দীপ্ত-মশাল আলোর তলে
আঁধার যতই সরাই!
সুপ্ত খবর লুপ্ত করার
চেষ্টা রুখে দাঁড়াই |

সবার, ধোপ-দুরস্ত বসন তলে
হিয়ার কেমন লড়াই!
আসল মুখটা দেখতে কেমন,
মুখোশ যখন সরাই!

তুমি, করলে ভালো, বলবো ভালো,
মন্ত্র “সত্য” বলাই,
মোদের, কণ্ঠ রুদ্ধ করলে হবে--
তোমার মুখোশ খোলাই!

ক্যামেরা ভেঙে, চোখ রাঙিয়ে,
ঠ্যাঙারে দিয়ে ধোলাই,
মারছো মারো, ধরছো ধরো,
কেয়ার করি থোড়াই!
দেবাশিস রায়ের গান
কথা দুষ্ট কবি
.
শারদ প্রাতে শক্তির স্তব
হোক কলরব
বুক চিতিয়ে হাঁটবো মোরা
ডরাই না আর কোথায় তোরা
হাতে মোদের ফুলের তোড়া
পূজার থালায় তিল আর যব
হোক কলরব

পিষ্ট হওয়া মানের পুঁজি
যুযুধান বেশেই যুঝি
শুনতে তোরা পাসনি বুঝি
আর্তনাদের প্রতিবাদী রব
হোক কলরব

মা যেখানে নিজেই মাটি
মানুষ যেন হাওয়াই চটি
উপড়ে নলি ফেলবে বঁটি
জোর জুলুমের দিশি কসব
হোক কলরব

পেয়েছে যে রক্তের স্বাদ
কিছুই আর রাখছেনা বাদ
তাই এই ঢক্কা নিনাদ
এই বিপ্লব
হোক কলরব

মিথ্যে অপবাদের ঝুলি
চরস, গাঁজা, মদের বুলি
আনলো ওদের খোচরগুলি
তাই আমাদের গিটার সরব
হোক কলরব
শুভব্রত ব্রহ্মচারী
shuvob3720@gmail.com
পোস্টারেতে কল্জে সাঁটা
তাই নিয়ে রাজপথে হাঁটা  
দেখি কত বুকের পাটা
আটকাবে তালেবরেরা সব
হোক কলরব

ধুনুচি আজ নাচবে খুলে
জুলুম, বিষন্নতা ভুলে
চড়তে রাজি আছি শূলে
পুলিশ যখন ভাড়াটে মব
হোক কলরব

শক্তি রূপের প্লাবন এনে
শ্বাস রুদ্ধ দুয়ার হেনে
ললাট পরে তিলক টেনে
বরণ করব দেবীর পরব
হোক কলরব

আসবে কবে হায়রে সুদিন
হবে এ দেশ আবার স্বাধীন
ফিরে পাব চুকিয়ে যে ঋণ
সোনার বাংলা মোদের গরব
হোক কলরব

মাগো সন্তানেরা তোর
করজোরে আছি অনড়
হয়েতো নতুন সূর্যের ভোর
আনবে আবার এই উত্সব
হোক কলরব
.
হোক কলরব
দেবাশিস রায়ের গান
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন...
সবুজ মাঠে মিষ্টি ঠোঁটে
মিষ্টি গানের তুলছিল রব।
ক’দিন পরেই নীল আকাশে
উড়বে সবাই বলছিল সব।
হোক কলরব হোক কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।

হঠাৎ বিশাল বাজপাখিটা
বাগিয়ে নখর, কর্কশ রব।
ঝাঁপিয়ে পড়ে জোরসে ধরে---
তবুও থামেনি কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।

কণ্ঠ যতই ধরলো চেপে
বাড়লো ততই জোর কলরব।
থামবেনা রে থামবেনা রে
তোর কলরব মোর কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।
রচনা দুষ্ট কবি

আকাশ যাদের চারণ ভূমি
কণ্ঠে যাদের গানের গরব---
বলছে --- দেখি তাকত কত
থামাও মোদের এই কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।

পারবে নাকো দশ জনমেও
স্তব্ধ করতে এই কলরব।
বাজপাখিদের রুখতে সদা
হোক কলরব হোক কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।
হোক কলরব হোক কলরব।
.                 ২৬.০৯.২০১৪
.
রাজেশ দত্ত
.
মঙ্গলবার...রাত দু’টো
সাবাস পুলিশ! পেটাও ওদের অন্ধকারে
হিঁচড়ে টেনে লাথিকষাও
( হিজড়ে গুলোর বন্ধকী ধন মেরুদণ্ড – বঙ্গভূষণ )
মেরে ফাটাও ফোটায় যারা শিমুলতুলো
কুড়ি টাকার আলু যখন বাজার উধাও
কুড়ি টাকায় বোনলেস সাত চিকেন চাপ্ –ও
অভিমন্যু একাই লড়ে একাকারে
কুড়ি টাকায় খরিদ হবে মেয়ের বাপ্- ও?
তোদের দেখে হৃৎপিণ্ডে বলিভিয়া
মনে হচ্ছে আবার ফিরি যযাতিতে
উট পাখি আর শামুক হয়েই থাকতে হবে!
কবে আবার ফিরব মানব প্রজাতিতে?

ফুল নয় রে মুঠো ভরে অঙ্গার দিই
মুঠো খুলে দ্যাখ দধীচি বজ্র পাঠায়
প্রতি বিন্দু রক্তে তোদের ফিনিক্স পাখি
রাষ্ট্র যতই ক্রোধে তোদের অঙ্গ ফাটায়-
. . . . . . . . . . . . .পাঠিয়েছেন - কবি মনামী ঘোষ
দেবেশ ঠাকুর
মঙ্গলবার...রাত দু’টো - দেবেশ ঠাকুর
ওইখানে যেওনাকো তুমি - দেবেশ ঠাকুর
রাত কত হল - কবীর সুমন গান
নীরবতা ভাঙ্গো - অসীম গিরি গান
কিনেছো তো কামদুনিতে - অসীম গিরি গান
মহালয়া - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
পরিচয়পত্র - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
স্লোগান - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
জবাব - শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
ছাত্রানাং অধ্যয়ন রীতি - নারায়ণচন্দ্র দাস
গীতশ্রী - দেবেশ ঠাকুর
.
ওইখানে যেওনাকো তুমি
অভিজিৎ!
ওইখানে যেওনাকো তুমি
কথা কয়ো নাকো অই বালকের সাথে
কি কথা ওদের সাথে, উহাদের সাথে
অই সব চপলমতি অর্বাচীন তরল প্রকৃতি
নব শ্মশ্রু কিশোরের সাথে

তোমার হৃদয় আজ সমুদ্রের ঢেউ
তোমার দুমুঠোতে আজ ভাদর আকাশ
নীল-সাদা আকাশের গায়ে
দেবদ্যুতি মরালীর ছায়া

কতগুলি ব্রিজ পার হয়ে তুমি ধরেছ গেলাস
দুর্গাপুর দামোদর হাওড়া থেকে ঢাকুরিয়া ব্রিজ
গেলাস ঠোঁটের মধ্যে সামান্য ফারাক
যে টুকু ফারাক থাকে মানুষে- নবান্নে
অভিজিৎ তোমার হৃদয় আজ ঘাস
তোমার হৃদয় ঘাসফুল
. . . . . . . . . . . . .পাঠিয়েছেন - কবি মনামী ঘোষ
দেবেশ ঠাকুর
সন্ধ্যা নামে সন্ধ্যা নামে দেশজুড়ে ভয়ভয়
শকুনির ওই চতুর দাবায় দেখো
আমার মেয়ের লজ্জা বিক্রি হয়

বন্ধ দরজা বন্ধ দরজা চৌদিকে ক্রুর থাবা
পরের জন্ম যদি দিতে চাও –
আর যাই করো, কোরো না মেয়ের বাবা

ক্ষমা চাইলাম তোমাদের কাছে ওই যারা উত্তাল
আজকে যে দোর বন্ধ রয়েছে
তোমরাই এসে লাথি মেরে ভেঙো কাল

দেখো নিও তার ভেতরে স্তব্ধ মুখচাপা কলরব
বিশ্বাস করো – আজ হাঁটেনি বাবা
হাঁটতে গিয়েছে পরাজিত তার শব
.
রাত কত হল
গানটি শুনুন এখানে ক্লিক্ করে . . .   
রাত কত হল
পুলিশ পাঠাবে সরকার
বেয়াদপ ছেলে মেয়ে শায়েস্তা করা দরকার॥
আলোচনা নয় কোন
নয় স্নেহ নয় পিঠে হাত
কি চাও আমায় বল, কথা বলি এসো সারারাত॥
উপায় বেরুবে ঠিক
শিক্ষক বাবা-মার মত
বড়সড় পরিবার ঝগড়া করবে আর কত !
সে পথে গেল না কেউ
এতটুকু ভালোবাসা নিয়ে
ব্যবস্থা নেয়া হল মাঝরাতে পুলিশ পাঠিয়ে॥
এ বুড়ো যাদবপুরী
ওখানে আমার যৌবন
শঙ্খ আলোক রঞ্জনের যা ছিল তপোবন॥
আমি নই প্রতিবাদী
ওসব করেছি ঢের আগে
এখন বাপের মন ভয়ে ভয়ে শুধু রাত জাগে॥
এ রাত রাজ্যজোড়া
নিকস রাতের রাজধানী
ছেলে মেয়েরাই হোক এই রাতে আলো সন্ধানী॥
কবীর সুমন
.
নীরবতা ভাঙ্গো
নীরবতা ভাঙ্গো
অনেক তো হলো দেখা
দেখলে কামদুনি,
সুজাট, বারাসাতে
যাদবপুরে রাত
অন্ধকারে নামে
“নতুন হার্মাদ”
গানওয়ালার সুরে ডাকি—
“কন্ঠ ছাড়ো জোরে”
ফের দেখা হোক রাস্তায়
নতুন কিছুর খোঁজে
কি হবে বলো ভেবে
অনেকতো দেখে নিলে
এটাকেও দাও ফেলে
যাক সরকার রসাতলে
আমার ছেলে-মেয়ের গায়ে
রক্তের গন্ধ ওঠে
ফের বিদ্রোহ তোকে ডাকি
ওদের মৄত্যু কামনা করে
নৈরাজ্যই আসুক নেমে
বিশ্বাস নেই কোনো দলে
প্রস্তুত হও বন্ধু
সবই হয় একজোটে
দেখা হবে তোমায় আমায়
গণঅভ্যুত্থানে।
অসীম গিরি
.
কিনেছো তো কামদুনিতে
কিনেছো তো কামদুনিতে
আরো কতো কতো অন্যায়
এবারো কিনলে ভাবছো
লেলিয়ে পুলিশ আর গুন্ডায়
মিছিল ছিলো তরুণ-সবুজ
পাল্টা মিছিলে কিনলে কাকে?
ভাবছো বোধহয় কিনে কিনে
কিনে নেবে আমার ভয়
ভুল ভেবেছো থমকে থাকা
সময়টাকে কেনাই যায়
কিন্তু সময় নড়বে যেদিন
দেখবে সেদিন পাল্টা মার
ইতিহাস কি বলেগো?
তোমার হাতে বন্দি সে?
মুচকি হেসে গুনছে প্রহর
দেখছে তোমার মূর্খতা
কিনতে কিনতে নিজের মাকেও
বেচবে নাকি ‌হাটে-মাঠে?
নিজের বাড়ির সব মেয়েকে
তুলে দিও “দলে”-র হাতে
পুলিশ দিয়ে খাইয়ো তাদের
রাতে-দিনে-অন্ধকারে
তারপরেতে সামলাবে তো?
হাসছে তোমার ভাগ্যটা
“মাথার ওপর জ্বলছে রবি”
তৈরি সোনার ছেলে-মেয়ে।
অসীম গিরি
.
মহালয়া
ক্রমশ কেটে যাচ্ছে কুমোরটুলির বিষণ্ণ অন্ধকার।
খড়, মাটি, রঙ-তুলি, দুঃখ ও তেজে
একটু একটু করে ফুটে উঠছ তুমি।

কুমোর পিতার স্পর্শে প্রত্যেক খড়ে আজ ধমনীর গুণ
মাংসের সুদীর্ঘ যন্ত্রণায় থর্‌থর্‌ কেঁপে উঠছে মাটি
ঠিক নিজের মেয়ের মতো তোমায় কালো কেশরাশি
দিয়েছে কুমোর।

শূন্যতা থেকে শরীর নিচ্ছ, সর্বভূত থেকে
গ্রহণ করছ ক্রোধ,
অন্ধকার আকন্দঝোপ থেকে বিক্ষত কন্যা
তোমায় পাঠিয়েছে বজ্রের হাড়
ক্রন্দিত পিতা দিলেন কমণ্ডলু, হাহাকারজল

ঊষালোক এসে কুমোরটুলির শিরে
ছড়িয়ে দিয়ে গেল একমুঠো শিউলির ফুল

ওই দেখো কাঁপে রাজপথ –
এক অবিনাশী মিছিল আজ বয়ে আনে তোমার ত্রিশূল ...
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
.
পরিচয়পত্র
তোমায় আমি চিনতাম না।

তুমিও কি আমায় চেনো?

প্রথম দেখি আবছা আলোয় যখন তুমি মধ্যরাতে
হুকুম তামিল করতে এলে
নীল থাবাতে
ভাঙতে গেলে আমার কন্ঠ, শিরদাঁড়াটি

আলোও লাগে, হাওয়াও লাগে চিনতে গেলে
আমার মাটি

তারই সঙ্গে রাগও লাগে!

মায়ের অথই জলের বাড়ি চিনতে হলে
চুমোর সঙ্গে হলুদ-লাগা শুভ্র হাতের মারটি লাগে

ধানের বুকে রক্তঘামের কাব্যগুলির
ছন্দ যখন শিরায় শিরায় বোধন আনে
আমার দেশের ক্রুদ্ধ ও মুখ আকাশজুড়ে ওই তো জাগে

তাই দেখে কী থাকতে পারি?
দৃপ্ত আমার পায়ের মিছিল ঘুরতে ঘুরতে দারুণ রাগে

যখন দেখে দূরের কজন দাঁড়ায় পাশে –
এক নিমেষে বন্ধু বলে ঠিক চিনে যাই মারের দাগে
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

আমার গিটার আমার কলম আর বেহালার সুরকে যখন
অস্ত্র বলো
তখন তুমি আর তোমার ওই দাসের দলও
উলটো দিকে দাঁড়িয়ে পড়ে – মধ্যে কেবল মত্ত শাঁখের শব্দ শুনি

তোমার আমার স্বরূপ চেনে উথালপাথাল যুদ্ধভূমি

সদ্যোজাতক বধির কিনা, ওর দু-ঠোঁটে শব্দ কিনা
জানতে যখন ঝাঁকায় তাকে – উৎসারিত কান্না জাগে

তেমন কিছু অশ্রু আমার, যখন শুনি

আমায় চিনতে তোমার এখন সব দরজায় রক্ষী লাগে!
.
স্লোগান
তোমার জন্য আজকে দেখো পিঠের ওপর দগ্ধ ক্ষত
তোমার জন্য দরজা ঘিরে রাত জেগেছে বহিরাগত

তোমার জন্য গান গেয়েছে, মার খেয়েছে ছেলের দল
আসবে তুমি আকাশ হয়ে, মুক্তধারায় নতুন জল

সেই জলে স্নান সারবে বলে দাঁড়িয়ে আছি দেশজুড়ে
তোমার নিশান বর্ধমান আর মিশিগানেও ওই ওড়ে

তোমার জন্য বিশ্বজুড়ে একশো শহর স্লোগান লেখে
তোমার মুখটি দেখবে বলে অন্ধ ছেলেও হাঁকতে শেখে

হাঁকতে হাঁকতে দূরদূরান্ত মারের মুখেও বন্ধু হয়
শেখাও তুমি গর্জে ওঠা, তুমিই শেখাও সমন্বয়

তোমার জন্য দু-মুঠো চাল আজ দেখি মা বেশিই নেয়
মায়ের পাগল পথের পাথর রক্ত ঢেলে ধুইয়ে দেয়

ওই যে ছেলে ওই যে মেয়ে বুটের মুখেও অচল, স্থির
তোমার জন্য অতীত গানে নতুন স্তবক মৌসুমির

কখন দ্বারে শব্দ হবে - প্রহর জাগি অপেক্ষায়
যাদবপুরের ভাইয়ের জন্য ভ্রমরদিদির কান্না পায়

অশ্রু ওড়ে অশ্রু ওড়ে – শাসক দেখে অলিন্দে
উড়তে উড়তে জলও আগুন তূণ ভরে দেয় স্ফুলিঙ্গে

কলরবের ঝান্ডা তুলে দুনিয়াজোড়া বন্ধুরাজ
তোমার জন্য লিখবে বলে আঙুলগুলোও অস্ত্র আজ!
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
.
জবাব
এই যে দাঁড়ালাম, আর সরছি না কিছুতেই।

রাজদন্ড নয়, আমি উত্তর চাই – দূরে তুমি প্রশ্নের ভয়ে
কেঁপে কেঁপে ওঠো,
ভাবো তোমার ওই সোনার শিরদাঁড়া বুঝি ছিনিয়ে নিতে চাই!

তুমি পুলিশ পাঠাও – আমি সরছি না
গুণ্ডামহল্লা উজাড় করে নামাও দমনে
দেখো - একেকটা আঘাতের মুখোমুখি আমাকে ঘিরে দাঁড়ায়
আরও এক এক আমি

সেই তিয়েনয়ামেন থেকে দাঁড়িয়ে আছি।
আমিই দাঁড়িয়ে ছিলাম যখন বসন্তে কলম্বিয়ায় –
আমার প্রত্যেক মুখে তখন দাউদাউ করে জ্বলছে ভিয়েতনাম।
আমিই সোরবর্ন থেকে চেয়ে আছি নিষ্পলক
আর আশঙ্কায় ঘামে ভিজে যাচ্ছে তোমার ফ্যাকাশে কাগজের মুখ

আমার দিকে পাথর তাক করে তুমি যত বলছ – পাথর
তুমি যত বলছ – নেশায় চুর
যত তুমি বলছ – ভ্রষ্ট
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
ততই আমার পায়ের পাতা থেকে, ঊর্ধ্বাকাশ থেকে
নাভীর কেন্দ্র থেকে
উঠে আসছে
নেমে আসছে
ঘিরে ধরছে নেশা – সে-ই আমার নাছোড়বান্দা জেদ –
সমস্ত বন্ধুর পথ, উত্তাল সমুদ্রজলরাশি অতিক্রম করে
মৃত্যুঞ্জয় নেশায় জারিত, বলছি –
উত্তর দাও
উত্তর দাও
উত্তর না জেনে একচুলও নড়ব না।

নড়ব না বলেই শুয়ে আছি Tlatelolco-র রাত্রিজোড়া শব
আমার শরীর দাঁতে নখে করে ছিঁড়ে নিতে চায় জাকার্তা শ্বাপদসঙ্কুল
কত শতাব্দীকাল তোমার বুলেট শরীরে সঞ্চয় করে করে
আজ অগ্নিগর্ভ থেকে ছুঁড়ে দিই একেকটা জিজ্ঞাসা

তোমাকে প্রশ্ন করে
আমি অপেক্ষায় আছি –ভ্রষ্ট, নেশাতুর, জেদী ও প্রেমিক

তোমার ত্রস্ত শাসন ঝাঁপিয়ে পড়ে আর উল্লাস করে বুট বন্দুক লাঠি

যবে থেকে চোখে চোখ রেখে রয়েছি নিশ্চল
সেইদিন থেকে প্রত্যেক পাথরের গায়ে, প্রতিশ্রুত
ফুটে আছে তার সঙ্গী ঝর্ণাটি!
.
দানবপুর
আমার বন্ধু গিয়েছিল কাল রাতে
হাতে হাত রেখে লড়াই করার ডাকে
সদরদুয়ারে মা-ই দাঁড়িয়েছিল
ত্রস্ত দুচোখে, যেমন সবার থাকে

আমার বন্ধু অনেক বন্ধু মিলে
ক্যাম্পাসে জুটে জাগছিল সারা রাত
কিছু কথা ছিল, কিছু দাবী, কিছু রাগ
বাড়িতে সবার জুড়িয়েছে বাড়া-ভাত

প্রহরার কথা স্লোগানে গেঁথেছে ওরা
আর কিছু নয়, সত্যি জানার টানে
একদল ক্ষুধা নাছোড়বান্দা জেদে
দাউদাউ করে জ্বলে উঠছিল গানে

প্রতিরোধ বড়ো ভয়াল সংক্রামক
এইসব গান মহামারী ডেকে আনে
অবাধ্য পথ কেঁপে কেঁপে ওঠে পায়ে
এ ভয়টুকুই রক্ষককুল জানে

তাই তারা বাছে অন্ধ মধ্যরাত
তাই তারা আসে জংলাপোশাক গায়ে
সাথে ক্রীতদাস, লাঠি আর বন্দুক
ভাতের আগুন পিষে দিতে চায় পায়ে
শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
আমার বন্ধু হাঁক দিয়েছিল রাগে
তার পাশে ছিল মহাসমুদ্রক্রোধ
আলো নিভিয়েই ওরা ভেবেছিল বুঝি
শেষ হল যত অতন্দ্র প্রতিরোধ

বাইরের আলো নেভানোটা বড়ো সোজা
মূর্খ রাজার খেয়ালে একথা নেই –
যারা দেখবার দুচোখ জ্বালাবে তারা
যারা জাগবার তারা ঠিক জাগবেই

আমার বন্ধু মার খেল কাল রাতে
তার প্রেমিকার চুল ছিঁড়ে নিল ওরা
মাটিতে শুইয়ে আরও মার, গর্জন –
‘কঠোর শাসন কাকে বলে দেখ তোরা’

কাল শাসন করেছে রাষ্ট্রগুণ্ডাদল
ঝিকিয়ে উঠেছে খুনমাখা সাদা-দাঁত
রক্ত ঝরেছে লাইব্রেরি, ক্লাসঘরে
গোঙানি শুনেছে নিঃস্ব মধ্যরাত

এক পেট খিদে, চোখজোড়া ঘুম নিয়ে
জমি-না-ছাড়ার আহুতি হয়েছে যারা
তাদের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে ওই
পুলিশের পাশে চোখ রাঙাচ্ছে কারা?
রাঙানো দুচোখ চিরকাল ভুলে যায়
উপড়ে নেওয়ার হাত নয় খুব দূরে
সেই সব হাত আজ রণ-পা হয়ে
এগিয়ে আসছে ভীষণ যাদবপুরে

আমার বন্ধু এখন বন্দী জেলে
তবু কি বন্দী? সেও কী মিছিলে নেই?
আমরা সবাই ধান খেয়ে যারা বাঁচি
ভাতের আগুন ঢেলে দেব মিছিলেই

যে যেখানে আছি শিকলে শান্ত, বাঁধা
সেখান থেকেই চিৎকার করি রাগে –
আসল শাসক রাজাসনে নয়, যারা
সুখে থুথু চাটে সিংহাসনের আগে

ওই করজোড় লাথি মেরে ভাঙা ছাড়া
ভেবে দেখো আর ধর্ম রয়েছে কিনা
ক্রুদ্ধ দুচোখে এই গোটা লেখা জুড়ে
‘ছিঃ’ বলবার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না ...
<<<হোক কলরব এর শুরুতে ফিরতে
হোক কলরব এর শেষ কবিতায় যেতে>>>
.
ছাত্রানাং অধ্যয়ন রীতি
নৈবচ লাঠ্যাঔষূধি করিষ্যতি।
এই শাস্ত্রবাক্যের হলে অবাধ্য
রাজদন্ডই আরাধ্য
আচার্যের কিবা দোষ
কেনো কর বৃথা রোষ
এসো ত্বরা করি বোসো পদতলে
পূজ তারে ভক্তি আর ফল ফুলে।
নারায়ণচন্দ্র দাস
.
গীতশ্রী
দেবেশ ঠাকুর

তোর জন্যে শ্রদ্ধায় নিচু হচ্ছে মাথা
যেভাবে অনায়াসে হাসিমুখে ফিরিয়ে দিলি পদক
আমরা যারা খেতাব কিনতে ঘাড়কুঁজো সব শব
আমরা যারা ‘রত্ন’ পেতে ডোবায় দিচ্ছি ডুব
তুই যে কেন আকাশ ফুঁড়ে বর্শা হতে গেলি!
কোন সাহসে ভুবনমালা- কুন্দমালা হলি!
যেখানে যে ছা- পোষা ক্লীব গোষ্ঠ- পাদ দেশে
আপোস করতে করতে যারা পা-পোষ হয়ে যায়
তোকে দেখে খুলে ফেলবে উলের বাঁদর টুপি
নাচতে নাচতে গীতশ্রীকে দেখেই অংক শুরু
এই মেয়েটা কী হারাবে করে খাওয়ার যুগে!
হায়রে আমার সীতা- স্বদেশ বেহুলা – বাংলা।
করে খাওয়ার চর্যাপদে লড়ে বাঁচার মেয়ে।
দেবেশ ঠাকুর
.
হোক কলরবের দেয়ালিকা

দেয়ালে  দেয়ালে  মনের  খেয়ালে
লিখি কথা |
আমি  যে  বেকার,  পেয়েছি লেখার
স্বাধীনতা ||
সুকান্ত ভট্টাচার্য
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে! This page scrolls sideways, Left-Right !