আমজনতার ভোটের ইশতেহার রাজেশ দত্ত। রচনাকাল: ২৮ মার্চ, ২০১৯।
বলত দেখি পতাকায় মোদের কয়টি রঙ আছে?
.
.
.
<<<এই দেয়ালিকা
<<<শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকা ৭
.
দেয়ালে  দেয়ালে  মনের  খেয়ালে
লিখি কথা |
আমি  যে  বেকার,  পেয়েছি লেখার
স্বাধীনতা ||
সুকান্ত ভট্টাচার্য    
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে! This page scrolls sideways, Left-Right !
যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে
ছড়া,
সে যে কোন ধরণেরই হোক না কেন, এই দেয়ালে তুলতে
হলে আমাদের কাছে নিচের ইমেলে পাঠাবেন। আমাদের
ওয়েবসাইটের সম্পাদক মণ্ডলীর অনুমোদন
সাপেক্ষে আমরা তা তুলে দেবো।

সোশিয়াল মিডিয়ার দৌলতে অনেক অনবদ্য সুন্দর
কবিতা আমরা পাচ্ছি। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই
কবির নাম জানা যায়না। সঠিক কবির নাম জানালে
আমরা সেই কবিতার পাশে কবির নাম-প্রেরক কে
কৃতজ্ঞতা জানাবো।

আমাদের ই-মেল:
srimilansengupta@yahoo.co.in    

তাহলে আর দেরী কেন?
ছড়ার ছররা ছড়িয়ে,
দেয়াল তুলুন ভরিয়ে...!
.                                                      রাজেশ দত্ত     
কবিদের পাতায় যেতে তাঁদের নামের উপর ক্লিক করুন
হামাগুড়ি - শঙ্খ ঘোষ
সবাই শুধু মিথ্যে রটায় - শঙ্খ ঘোষ
কী হতভাগ্য দেশ হে আমার - মন্দাক্রান্তা সেন
১৪ মার্চ ২০১৯: নন্দীগ্রাম - এক যুগ  পেরিয়ে - রাজেশ দত্ত
দিন আসে, দিন যায় - সাগরিকা সেনগুপ্ত
বিকর্ণ - আর্যতীর্থ
কোষাধ্যক্ষ - আর্যতীর্থ
বাছাই-পর্ব - অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
সেতু ভাঙে সেতু গড়ে - রেহান কৌশিক
বৈশাখ বলল ইস্ - অজ্ঞাত কবি
অন্ধজনে দেহো আলো - অজ্ঞাত কবি
যুদ্ধ বিরোধী গান - রাজেশ দত্ত
পূর্বরাগ - অজ্ঞাত কবি
অপ্রাসঙ্গিক - অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
বামাপদ (বাম + আপদ) - অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
কবিপক্ষ - দুষ্টকবি
ভোট-ভাট - স্বপ্নিল রায়
বলত দেখি পতাকায় মোদের কয়টি রঙ আছে? - অজ্ঞাত কবি
মাস্টার-স্ট্রোক্ - দুষ্টকবি
যতদিন রবে তুমি শ্রীঘর বাহিরে - সোমনাথ চক্রবর্তী
অজ্ঞাত কবি
ফেসবুক
প্রাপ্তি ২৪-৭-২০১৬
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
১৪ মার্চ ২০১৯: নন্দীগ্রাম - এক যুগ  পেরিয়ে

জানি দিবসগুলো পালিত হয়,
শপথগুলো নয়।
তবু কেমনে ভুলি চোদ্দো শহিদ
বীর, অকুতোভয়?

ভোলা কি যায় নন্দীগ্রামের
রক্তে রাঙানো স্মৃতি?
মরণপণ লড়াইয়ে চোদ্দো
প্রাণের আত্মাহুতি।

ইতিহাস থেকে যাবে না তো মোছা
নন্দীগ্রামের কথা।
রক্ত আখরে ফুটবে পলাশে
শহিদের জয়গাথা।

দখিনা বাতাসে আজও ভেসে আসে
চাপা ক্রন্দনধ্বনি --
কাঁদছে আকাশ, কাঁদছে বাতাস
কাঁদে না বিচারবাণী!

রাগে ও যাতনায় জাগে মানবতা
হিংস্র রোষে আদিম ---
বুকের আঙিনায় শহীদ স্মরণে
জ্বালাই চোদ্দো পিদিম।।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
২১.১.২০১৭
.
মুক্ত উন্নয়ন
সবাই শুধু মিথ্যে রটায়
পথগুলি সব দেদার খোলা
যার খুশি আয় বিরুদ্ধতায়

যথার্থ এই বীরভূমি
উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে এসে
পেয়েছি শেষ তীরভূমি

দেখ খুলে তোর তিন নয়ন
রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে
দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন

সবাই আমায় কর তোয়াজ
ছড়িয়ে যাবে দিগ্বিদিকে
মুক্ত গণতন্ত্র আজ।

কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল দেবেশ রায়
সম্পাদিত 'সেতুবন্ধন' পত্রিকায়। ২০১৬ সালের
পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে শাসক দলের ‘হিংসা’কে
ব্যঙ্গ করেছেন কবি

কবি শঙ্খ ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
( জয় জি-এস-টি,
জয় জি-এস-টি,
জয় জি-এস-টি,)
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কী হতভাগ্য দেশ হে আমার
কী উচ্ছন্ন রাজ্য
অশিক্ষিতেরা আকাশ ফাটায়
কবিকে করে না গ্রাহ্য
কবি আমাদের বিবেকের স্বর
ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
অক্সিজেনের অভাবেই হায়
ভুল বকছেন কেষ্টা
মন্দাক্রান্তা সেন

কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা মুক্ত নয়ন কবিতার
প্রত্যুত্তরে, বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস দলের
নেতা অনুব্রত মণ্ডলের  করা একটি অতি উদ্যত
মন্তব্যের বিরুদ্ধে কবির প্রতিবাদ।
কবি মন্দাক্রান্তা সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
অন্য পূজো
কাঁচের ভেতর লাল জামাটা
ইচ্ছে করে ছুঁই।
কেন আমায় পথকুড়ানী
করলি মাগো তুই ??
ঐ মেয়েটা প্যান্ডেলে যায়
বাবা মায়ের সাথে।
আমার বাবা জন্ম দিয়েই
পালিয়ে গেছে রাতে।
মা কে সবাই পাগলী বলে
দেয়না সে চুল বেঁধে।
আমায় বুকে জড়ায় না মা
যখন মরি কেঁদে।
ঝুপড়ি আমার দিল ভেঙে
বসবে আলোর সাজ।
রুক্ষ চুলে ছেঁড়া জামায়
আমার পূজো আজ।
ওদের পূজো পাঁচতারা তে
আকাশে নোট ছোঁড়া।
আমার পূজো ডাস্টবিনেতে
খাবার খুঁজে ঘোরা।
দুয়োরানীর মেয়ে আমি
থাকি পথের ঘরে।
দুগ্গা আমার মা নয় গো.
মা কি এমন করে ??
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
বৈশাখ বলল ইস্
বৈশাখ বলল ইস্
আমি ছিলাম ভাগ্যিস
.              তাই নতুন বছর আসে।
জষ্ঠী বলল থাম্
লোকে কেমনে খেত আম
.              যদি আমি না থাকতাম পাশে॥
আষাঢ় বলল থাক্
তোদের বর্ষপূর্তি রাখ্
.            আমিই বাঁচাই গরমের শেষে।
শ্রাবণ বলল ইশশ্
লোকে কোথায় পেত ইলিশ
.            নদীর পাশে না দাঁড়ালে এসে॥
ভাদ্র বলল ইসে
আমি কম যাই বা কিসে
.          আমার সাথেই শুরু শরতের যাত্রা।
আশ্বিন বলে থাম্
তোর গরমে ঝরে ঘাম
.          আমিই আনি আগমনীর বার্তা॥
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
কার্তিক বলে বেটা
তোদের ঝগড়া এবার মেটা
.          চেয়ে দেখ গাঁয়ে নবান্নের সুর।
অঘ্রাণ বলে ঠিক
বলেছিস সঠিক
.          আনন্দের মাঝে ঝগড়া থাকুক দুর॥
পৌষ বলল বেশ
হোক ঝগড়া ঝাটির শেষ
.          আমি বইয়ে দিলাম শীতল হাওয়ার রেশ॥
মাঘ বলল ওরে
তুই টেক্কা দিবি মোরে
.          আমি না থাকলে লেপের মজা শেষ॥
ফাগুন বলল দেখ্
আমি এনেছি রঙের ব্যাগ
.          রঙিন ফুলে বৃক্ষ উঠবে দুলে।
চৈত্র বলল আন্
হোক বছরের অবসান
.        নতুনের ভার বৈশাখে দিই তুলে॥

.                              অগ্রিম শুভ নববর্ষ
.
হামাগুড়ি
ঘুমটা ভেঙ্গে গেল হঠাৎ। বাইরে কি ঝড় হচ্ছে?
দাপাদাপি করছে জানলার পাল্লাদুটো
মাঝে মাঝে বিজলি ঝলকাচ্ছে।
ফের শুয়ে পড়তে গিয়ে সেই বিদ্যুতের ছটফটে আলোয় মনে হল ঘরের
মধ্যে যেন হামা দিচ্ছে কেউ।
'কে ওখানে? কে?'
হামা কোনো শব্দই করে না।
উঠে আসি কাছে, আবারও জিজ্ঞেস করিঃ 'কে আপনি? কী চান?'
সে তবু নিশ্চুপ থেকে এ - কোণে ও -কোণে ঘুরছে
মাথা তুলছে না কিছুতেই, চোখে চোখ নয়।
'কিছু কি খুঁজছেন আপনি?'
শুনতে পাচ্ছিঃ 'খুঁজছি ঠিকই, খুঁজতে তো হবেই -
পেলেই বেরিয়ে যাব, নিজে নিজে হেঁটে।'
'কি খুঁজছেন?'
মিহি স্বরে বললেন তিনি : 'মেরুদণ্ডখানা।'
সেই মুহুর্তে বিদ্যুৎ ঝলকালো ফের। চমকে উঠে দেখি :
একা নয়, বহু বহু জন
একই খোঁজে হামা দিচ্ছে এ-কোণে ও কোণে ঘর জুড়ে।
কবি শঙ্খ ঘোষ
মিলনসাগরে কবির পাতা
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
স্বনামধন্য স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রয়াত ডঃ মিহির চট্টোপাধ্যায় স্মরণে
দিন আসে, দিন যায়
কতকিছু ভেসে যায়-
কালচক্রে কত লয়-ক্ষয়।
স্মৃতির অরণ্যে দেখি  
মথিয়া সকল ছবি
মহীরূহ এক জেগে রয়।
সূর্যসম দীপ্তি যাঁর  
স্বনামে ধন্য তাঁর
কর্মব্যাপী সমস্ত জীবন !
তাঁরই আলোর স্পর্শে
মোদের চেতনা হর্ষে
ধন্য মোদের প্রাণমন।
হৃদয়ে স্নেহ অপার,
হাসিমুখ সদা তাঁর
কৌতুকে ছিল মায়াময়।
আজিও তেমনই ভাবে  
পেয়ে থাকি মোরা সবে
আশীর্বাদী দৃষ্টি বাঙ্ময়!
আজো তাঁর পদতলে,
সুরে, ছন্দে, ভাবে, তালে
সংগীতেরই পাঠ লভি যবে।
সমুখে প্রখরদ্যুতি
উদ্ভাস লব্ধকীর্তি
দৃষ্টি তব আশ্বাসিছে সবে।
তাই,  বৎসরের বেদনায়
শূন্যমন পূর্ণ হয়,
আশ্বাসবাণীতে ভরে প্রাণ।
আছ  অমর সকল মর্মে
তোমারই মহৎ কর্মে
প্রণতি লহ হে মহাপ্রাণ!
কবি সাগরিকা সেনগুপ্ত
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
অন্ধজনে দেহো আলো
যোগনিদ্রায় যোগেন রয়েছে,
জয় গোস্বামী ভয়ে-
সুবোধের মত মোছার চেয়ার,
পাবে কি না সংশয়ে।
বিভুষণ বাকি, পড়ে যাবে ফাঁকি,
বিভাস চক্র চুপ-
বুড়ো মোসাহেব, বৃদ্ধ দ্বিজেন
তেমনি নিলাজ রূপ।
অপর্ণা সেন গ্ল্যামার কুইন,
পথে নামছো না কেনো?
গোছানো হয় নি সবটা এখনো,
লেনদেন বাকি জেনো।
কোথা অর্পিতা, শাওলী কোথায়?
নেই কেন প্রতিবাদে?
নাটুকে গলার বিপ্লবী বুলি
আজ কেন অবসাদে?
কোথা সে বরাহ? প্রসন্ন কাকা-
বেহায়া বায়সজীবি,
দুয়ার বন্ধ, সাজিস অন্ধ
এখনও রক্ত খাবি?
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯

অনুনাসিকের প্রতুল এখনও
বাংলায় গান গাও?
জীবনানন্দ মনে যদি পড়ে,
এসো আজ, ক্ষমা চাও।
সলিল-কন্যা, বাবার লেখা সে
কাকদ্বীপ মনে পড়ে?
অহল্যা আজ পুড়ে ছাই হল-
অন্তর কেঁদে মরে?
কাদের জন্যে স্থবিরতা কবি?
কিসের অন্বেষণে?
রাখোনি শপথ, হয়ে গেছে দেরি
সবিনয় নিবেদনে!
ইতিহাস জানে, আমার উঠোনে
কারা ডেকেছে সর্বনাশ,
হাত ধুয়ে এসো কবীর সুমন-
তুলে নাও প্রাতঃরাশ!
.
যুদ্ধ বিরোধী গান
রাজার সেপাই ছুঁড়ল বোমা,
আহ্লাদের নাই সীমা।
প্যাটে দানা নাই, পানি নাই
পরনেতে নাই জামা।

যুদ্ধ খাতে বারো আনা,
শিক্ষা খাতে ছাই!
অসুখ হলে হাসপাতালে
মেলে না দাওয়াই।
লাঙল জমি দেনায় বিকায়,
বন্ধ কারখানা।

খাদ্যে ভেজাল, বাতাসে বিষ
জলে আর্সেনিক।
মরছে মানুষ, নাই কোনো হুঁশ
দ্যাশের বৈজ্ঞানিক।
মগজ বিকায় কোটি টাকায়,
বেচে মৃত্যু পরোয়ানা।

নুন আনতে পান্তা ফুরায়,
বাজারে আগুন।
অপুষ্টিতে ভুগছে শিশু,
হচ্ছে কত খুন।
তবু বোফর্স আছে, রাফাল আছে
আছে অস্ত্র ভাঁড়ার কেনা।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে রাজা
ভোট কুড়ানোর ফিকির।
পাক জুজুর ভয় দ্যাখায়ে
খাচ্ছে লাভের ক্ষীর।
দ্যাশ মানে আজ মানুষ তো নয়,
কাঁটাতারের সীমানা।

লুটছে রাজা আদিবাসীর
বনের অধিকার।
ধর্ম-জাতের হানাহানি,
ঘনায় অন্ধকার।
বিদ্রোহীদের "দেশদ্রোহী"
দ্যায় রাজা তকমা।

হাসছে মোদি, হাসছে অমিত
ভোটের অঙ্ক কষে।
'দ্যাশপ্রেমে'র সুড়সুড়িতে
আমজনতাও হাসে।
বাবু গো, খিদের জ্বালায় কান্না আসে,
হাসতে পারি না।।

রচনা - ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
.
যুদ্ধ
পাড়ার মোড়ে, ট্রেনের ভিড়ে
আমিও চাই যুদ্ধ হোক।
সেনায় যাবে,বললে ছেলে,
নিজের কথাই গিলছি ঢোঁক।

ড্রয়িংরুমে, কমনরুমে,
রক্ত আমার খুব গরম।
দাদা,আপনি যুদ্ধে যাবেন?
কেউ জিগালেই সুর নরম।

পেয়ালা হাতে,বউ এর সাথে,
আমিও ভীষণ যুদ্ধবাজ।
হবু জামাই জওয়ান শুনলে!
বৃথাই কেন যুদ্ধ আজ?

বাজারে গেলে,কেউ শুধালে
না না মশাই যুদ্ধ চাই।
যাবেন নাকি রণাঙ্গনে?
থুড়ি, আমি শান্তি চাই।
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯

ছেলের স্কুলে, সুইমিং পুলে
হোক না একটা যুদ্ধ বেশ।
মা,আমিও সেনানী হব?
এ কি কথা,সব্বনেশ!

আসলে একটা যুদ্ধ হলে,
কার কি গেল,আমার কি?
আমার টিভির বিজ্ঞাপনে,
'নবাব কিনলে আরাম ফ্রি'।

কোল খালি কার? কে বিধবা?
আমার কি আর যায় আসে।
কজনের আর মরলে সেনা,
নিজের ছেলের মুখ ভাসে?
.
বিকর্ণ
যাজ্ঞসেনীর খুলছে শাড়ি , টানছে ধরে দুঃশাসন,
দায় ছিলো যার গর্জে ওঠার,! নিচু মাথায় সে পাঁচজন।
দুর্যোধনের নগ্ন ঊরু. ইঙ্গিতে তার ধর্ষকাম,
হস্তিনাপুর দেখছে বসে, ধ্বস্ত হতে তার সুনাম।
অন্ধরাজা সিংহাসনে, আর্ত চেঁচান বৌমা তার,
নিজের দলের নির্যাতনে, সব রাজা হন নির্বিকার।
কর্ণ বসে হাসছে হা হা, রাজার দলের লোক তো সে
শর্তবিহীন সমর্থনেই , তাবত আরামসুখ বসে।
ভীষ্ম দ্রোণ কৃপ নীরব, সরকারী লোক হাজার হোক
রাজার কথাই তোমার কথা, তুমি যখন রাজার লোক।
খল শকুনি দেখছে সবই, বস্তুত সে ধ্বংস চায়,
ঘরের মাটি লাল হয়ে যাক, দেশবিভাগের যন্ত্রণায়।
সুশীল সভায় ঘটছে যখন, রাজঅপরাধ জঘন্য,
ঠিক তখনই তার বিরোধে, চেঁচিয়ে ওঠেন বিকর্ণ।
কবি আর্যতীর্থ
বিদগ্ধ চিকিত্সক ও কবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
বাংলা-কবিতা ওয়েবসাইট
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
বিকর্ণ নন কেউকেটা লোক, একশো ভাইয়ের একজনা
তেমন করে এর আগে কেউ, তার কথাটাই জানতো না।
জতুগৃহে কাড়েননি রা, অন্তত তা নেই লেখা,
ভীমকে যখন বিষ খাওয়ালো, তখনও তাঁর নেই দেখা।
কিন্তু যখন প্রকাশ্যতেই কাড়ছে নারীর আব্রু কেউ,
স্তব্ধ জিভের চুপসাগরে, বিকর্ণ হন একলা ঢেউ।
চেঁচিয়ে ওঠেন রাজার কুমার, যুবরাজের বিরুদ্ধেই,
মহাবলী পান্ডবেরও, তখন গলায় সে সুর নেই।
রাজাও যখন নীরব থেকে, সায় দিয়ে যায় ধর্ষণে,
ঠিক তখনই সমস্ত যুগ, বিকর্ণদের স্বর শোনে।

আমরা যারা কিচ্ছুটি নই, একটি মোটে ভোট কেবল,
অত্যাচারের সামনে এলে, সঙ্গী শুধু চোখের জল
পোষ্যভাবে জাবনা চেবাই, অন্ধ এবং নি-কর্ণ,
প্রার্থনা থাক আমরা যেন, একবার হই বিকর্ণ।

মরার আগে হতেই হবে, রাজার সভায় বিকর্ণ।
.
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ১৮-১০-২০১৮
.
যদি ভাবো কিনেছে আমায়
ঠিক ভেবেছো, বিক্রি হলাম।
এখন আমি ধারক বাহক
অনেকের মতোই তার গোলাম।
বেচেই দিলাম গীটার আমার
গানের খাতা গলার স্বর।
ভুল করেছো লালন ভেবে
ভেবে কবিয়াল জাতিস্মর।
আমার বিবেক আমার ধর্ম
বেচেছি তো কবেই জানো।
আমি ও অবাক তোমরা আজো
প্রতিবাদী আমায় মানো।
কবি লেখক বুদ্ধিজীবী
সবই হলো তুরুপের তাস।
আমিও ছিলাম তাদের দলে
আমিই হবো প্রধান দাস।
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
বলত দেখি                পতাকায় মোদের
কয়টি রঙ আছে?
শিক্ষক এসে                   শুধালেন হেসে
দ্বিতীয় শ্রেণীর কাছে।
একসাথে মিলে                সব ছেলে বলে
চিৎকার করে জোরে
তিনটি বর্ন                   রয়েছে রাঙানো
জাতীয় পতাকা জুড়ে।
শ্রেনীর পিছনে                  বেঞ্চের কোনে
শিশু ছিল এক বসে,
'পতাকার মাঝে                পাঁচ রঙ আছে'
বলল সে মৃদু ভাষে।
কথা তার শুনে                বাকি শিশুগনে
হেসে খায় লুটোপুটি,
শিক্ষক রেগে                     বলেন হেঁকে
বোঝাও কি করে পাঁচটি?
মাথা নিচু করে                  ভয়ার্ত স্বরে
সরল শিশুটি বলে,
ওপরে গেরুয়া                মাঝখানে সাদা
সবুজ আছে তার তলে
আর আছে আঁকা            গোলাকার চাকা
নীল রং আছে এতে।
শিক্ষক বলে                     এটিকে ধরলে
তবুও হচ্ছে চারটে।
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
অবোধ শিশুটি                বলল তখন
রং আছে আর এক।
লাল লাল ছোপ             দাগ দেখা যায়
ওই পতাকার মাঝে।
বাবাকে যখন                আনলে ওরা
কফিনের ঢাকা খুলে,
জড়ানো রয়েছে             দেহখানা তার
পতাকা আর ফুলে।
রক্তের দাগে               ছিল লাল ছোপ
ওই পতাকার মাঝে।
এই নিয়ে মোট                হল পাঁচটি
এবার ত ঠিক আছে।
সরল শিশুটির                জবাবখানি
কাঁপিয়ে দিল বুক
অশ্রু এলো                     নয়ন ভরে
শুকনো হল মুখ।
আজও যারা                 দেশের জন্য
করছে বলিদান
স্বাধীনতার                     শহীদ সম
তাদের অমর প্রাণ।
হয়েছি স্বাধীন              পেরিয়ে গেছে
সত্তরটি বছর
দেশ বাঁচাতে             যাচ্ছে যে প্রাণ
রাখছি কি তার খবর?
.
স্বাধীনতা ?
ভেজাল জিনিসে বাজার ভর্তি
খাঁটিটুকু মেলা দায়!
তবে  কি আমরা  এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?

ভাগাড় কান্ড ভুলে গেলো লোকে
বিশুরা জামিন পায় ,
তবে  কি আমরা  এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?

সমাজবিরোধী দিচ্ছে হুমকি
তাতে কার  কিবা এসে যায় ,
তবে  কি আমরা  এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?

উন্নয়ন এর ঠেলায় হচ্ছে
রাজকোষ  নয়ছয়,
তবে  কি আমরা  এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?

সাত দশকেও ওঠেনা দলিত
সংরক্ষণ এর জয় !
তবে  কি আমরা  এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?
বিদঘুটে ছড়াবাজ
রচনা ১৫ অগাস্ট ২০১৮
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
অত্যাচারিত মা বোনেরা
কেউ সে কথা না কয় ,
তবে  কি আমরা  এখন গোলাম?
মোরা কি স্বাধীন নয় ?

অন্যায় দেখে প্রতিবাদী হতে
লাগে যে বড্ডো ভয়
তবে  কি আমরা  এখন গোলাম
মোরা কি স্বাধীন নয় ?

কত বলিদান কত দেশপ্রেম
বৃথা হলো কি তায়?
মনে হয় মোরা এখনো গোলাম
মোরা তো স্বাধীন নয় !

বিদঘুটে ছড়াবাজ
১৫ অগাস্ট ২০১৮
.
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ১৮-১০-২০১৮
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৮
.
.
চুমুৎকার
কেউ গালে চুমু খায়, কেউ খায় বক্ষে,
কেউ বলে কি ফ্যাসাদ,ক্ষমা কর রক্ষে ;

কেউ বুঝি চুমু খায় ভালোবেসে ওষ্ঠে,
দূরদেশে চুমু নাকি যায় বুকপোস্টে ;

কারো চুমু ফ্লাই করে সিনেমার হলেতে,
কেউ ভাবে প্রচেষ্টা বুঝি গেল জলেতে ;

হারুদা তো চুমু খায় চিলেকোঠা ছাদে তে,
ধরা পরে কানমলা, শুনি সংবাদেতে ;

মুহূর্তে চুমু খায়, কারো চুমু লেনদি,
হাফ চুমু খেত নাকি মুনমুন সেন-দি ;

বাকী হাফ রেখে দিত ব্যাঙ্কের ভল্টে,
দিত নাকি ফিয়াসেকে অ্যাড্রেস পালটে ;

চুমু খায় বিপ্লবী, বড়বাবু, কেরানী,
পেটরোগা, ভুঁড়িওয়ালা, এলোকেশী কি
funny!

কেউ কেউ চুমু খায় নিরাপদে গোপনে,
মাধুরীকে নাড়ু নাকি কিস করে স্বপনে ;
কবি আশুতোষ ভট্টাচার্য
সোশিয়াল মিডিয়া থেকে
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
বুড়োর চিঠি বুড়িকে
Dear বুড়ি, কেমন আছো?
বড় ছেলের কাছে?
হিংসুটে ঐ বৌমাটি কি
তোমার পাশেই আছে?

নাতি, নাতনি কেমন আছে?
ওরা কি সব স্কুলে ?
এতদিনে ওরাও হয়তো
আমায় গেছে ভুলে!

সে যাক ভুলে, এবার তুমি
তোমার কথা বলো।
তোমার হাঁটুর ব্যথাটা কি
এখন একটু ভালো?

আসার সময়, তোমার প্রেশার
ছিল অনেক বেশি।
উপরে প্রায় দুশো ছিলো,
নিচে ছিল আশি।

এখনও কি তোমার প্রেশার
একই রকম আছে?
থাকলে পরে, ওষুধ চাইবে
বড় খোকার কাছে।

Sugar টাওতো বেশি তোমার,
মিষ্টিটা কম খেও।
মাঝে মাঝে
sugar টাকে
check করিয়ে নিও।
উষ্ণতা ভালো লাগে পেয়ালার চুমুকে,
চুমু খেতে গেল কেউ দিঘা, গড়চুমুকে ;

কারো মুখে পাইরিয়া, ভয়ানক গন্ধ,
রেগুলার দাঁত মাজে? মনে জাগে সন্দ্য ;

কেউ ভারী পরিপাটি ব্রাশ করে সকালে,
আশা মনে,যদি কেউ কিস করে বিকেলে ;

ফুটফুটে মেম বলে ‘হরে হরে কিস না’,
শ্রী কৃষ্ণ বলে চুমু কালকেই দিস না ;

নিষিদ্ধ চুমু বুঝি ধর্মের বিচারে,
ছাত্রীকে চুমু খেল ইংলিশ টিচারে;

কেউ কেউ চুমু খায় নির্জনে লিফটে,
নিয়মিত চুমু খায় কেউ তিন শিফটে ;

কবিরাও চুমু খায় বসন্তে, শ্রাবণে,
কোন মুখে চুমু খায় বল দেখি রাবণে?

খেলোয়াড় চুমু খায় ম্যাচ জিতে মাটিতে,
শান্তির খোঁজে কেউ জয়রামবাটিতে ;
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
গালে যারা চুমু খায় ব্যাঙ আর সর্পে,
সবখানে আছে তারা বলে বীরদর্পে;

জ্যাঠা বলে চুম্বন মোটে ভালো কাজ না,
জেঠী বলে কাল হবে, একাদশী আজ না?

কেউ কেউ চুমু খায় সশব্দে সজোরে,
কলেজের মেয়ে যদি পরে যায় নজরে ;

যাবে নাকি বেলেঘাটা মেগা কিস ফেয়ারে?
টালা থেকে সোজা রুট, অটো পাবে শেয়ারে ;

চুমু চলে ইতালিতে, লিসবন, ফ্রান্সে,
রাশিয়ান চুমু নাকি ইদানীং পানসে!

চুমু থেকে হয় বুঝি এডস কিবা ইবোলা?
বেপাড়ার ছেলে বুঝি বাঁশ দেব আছোলা!

‘ঝুমা প্লিজ চুমা দিয়ো’ বচ্চনী আর্তি,
কি লজ্জা বল দেখি হল লোকে ভর্তি!

বল দেখি কিসমিস কথাটার অর্থ,
মাদুলিটা পরে নিয়ো প্রেমে হলে ব্যর্থ ;

চাঁদ মামা চুমু দিয়ে দিত ঘুম পাড়িয়ে,
শৈশব, মার চুমু গেল সব হারিয়ে॥
এসেছিলাম দেখে তোমার
heartblockage আছে।
দেখিয়েছে কি ওরা তোমায়,
specialist এর কাছে?

ছোটো খোকার কাছে আছি,
ভীষণ কষ্টে আমি।
বৌমার কাছে আমার থেকেও
কুকুরটা তার দামি।

সকাল থেকেই বাজারঘাট আর
যত ঘরের কাজ,
বউমা আমায় করিয়ে নিয়ে
দেখায় আবার ঝাঁঝ।

আমারও তো শরীরটা আর
সুস্থ মোটেও নেই।
হাত-পা গুলো কাঁপতে থাকে,
উঠে দাঁড়ায় যেই।

কি আর করবো, এটাই হয়তো
বুড়ো হওয়ার জ্বালা,
হওয়ার ছিল ভাগের মা আর
ভাগের বাবার পালা।

পারলে তুমি ভালো থেকো
একটু আধটু ঘুরো,
চিন্তা কোরোনা আমার জন্য,
ইতি- "তোমার বুড়ো"......
মদ্যশ্রী চাই - বিষ্ণুপদ বিশ্বাস
স্বাধীনতা? - বিদঘুটে ছড়াবাজ
অলীক কুনাট্য রঙ্গ - আজু গোসাই
চুমুৎকার - বিদঘুটে ছড়াবাজ
স্বচ্ছ ভারত দিবসে - দুষ্ট কবি
বুড়োর চিঠি বুড়িকে - অজ্ঞাত কবি
যেদিন আমার বয়স হয়ে যাবে - অজ্ঞাত কবি
মূর্তি ভাঙ্গার গান - দুষ্টকবি
ভুতের কেত্তন - অজ্ঞাত কবি
মা, মা, বলে চেঁচাও কেন? - অজ্ঞাত কবি
কলকাতার ব্রিজের কাছে যেও না খবরদার - অজ্ঞাত কবি
হিং টিং ছট্ - অজ্ঞাত কবি
পরকীয়া পাঁচালি - অজ্ঞাত কবি
সাবধানে মা আসিস এবার - অজ্ঞাত কবি
মাল খেঁয়াছি ক্যানে - বিকাশ মণ্ডল
নেটপাত্র - অজ্ঞাত কবি
লন্ডন কোলকাতাতে - অজ্ঞাত কবি
আমি চিনতাম আমার ভারতবর্ষকে - রজত
যবন বলে রাখলে দূরে - রাজেশ দত্ত
তুমি ছিলে বলে - অজ্ঞাত কবি
.
যেদিন আমার বয়স হয়ে যাবে..

যেদিন আমার বয়স হয়ে যাবে..
তুইও হবি সুন্দরী এক বুড়ি...

ভোরে উঠে
morning walk যাবো..
alarm দিবি রোজ ৪ টে ২০..

তখন বুঝি সুগার হবে আমার,
কোলেস্টেরল বাড়বে বুঝি তোর..
কুঁচকে যাবে গায়ের চামড়া জানি,
আসবে কমে এই গায়ের জোর।

তাও ভীষন বাঁধন ছেঁড়া হবো..
দুর্গা পুজোয় দাঁড়িয়ে, ফুচকা খাবো..
লুকিয়ে গোলাপ খোঁপায় দেব গুঁজে..
সেই আদরে ভাবিস চোখটা বুজে...
বয়স বুঝি শুধুই সংখ্যা তবে,
বাষট্টিতেও বাইশ পাবি খুঁজে..
বাষট্টিতেও বাইশ পাবি খুঁজে।।

আয়না ভর্তি চিটিয়ে বাসি টিপ,
চুড়ির গোছে সেফটি পিনটা আঁটা..
চূড়ান্ত এক গিন্নীপোনা মাখা,
পা থেকে তোর চুলের কাঁটা..।

তোরও থাকবে একটা বাক্স গোপন..
যেটা হয়তো আমারো খুব আপন..
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯

প্রথম দেওয়া কিছু উপহার,
প্রথম পাওয়া কিছু অনুভূতি..
প্রথম যাওয়া হানিমুনের টিকিট..
প্রথম দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি..
আর তোর প্রিয় "ঘুঙুর"..
বাক্সে যদি এসবই কিছু আছে,
ছুঁয়ে দেখিস.....
ওতে আজও যৌবন লেগে আছে..

আসবে হাসি পুরনো চ্যাট দেখে..
পুরনো দিনের গন্ধ পাবি,
দেখিস স্মৃতি মেখে..

তখন বুঝি আর "ওসব" হবে না..?
চুমু বুঝি হয়ে যাবে হামি?
কাঁপা হাতের স্পর্শ থাকবে একই,
স্পর্শটাই সারা জীবন দামী..

আমার কাছে বাষট্টি তেও বাইশ হয়ে থাকিস..
সেদিনও কিন্তু কাজল পরার অভ্যেসটা রাখিস..

ঐ কাজল চোখটা সর্বনাশী..
বলবে সেদিন ভালোবাসি..
.
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ২-১০-২০১৮



বিষয়ের কারণে লিখি দুর্গন্ধ-ভাষায়!
কৃপা মোরে ক্ষমা কর, রচি এই আশায়।

.        দুনিয়াতে কোনো দেশে শুনেছো কি তোমরা,
.        জাতির পিতার নামে ঘাঁটে দেশ, নোংরা?
.        মোদীভাই, গান্ধীর কেড়ে নিয়ে চশমা,
.        মল-মুত্র সাফাইয়ের লাগিয়ে দিলো তকমা।

.        জাতির পিতার তিথি - কোনো দেশে জানো কি,
.        “স্বচ্ছ সে-দেশ দিবস” নামে সেথা ডাকে কি?
.        শৌচালয় ঘিরে যত গূঢ় তথ্যের ভর!
.        দিনভর আলোচনা - দোসরা অক্টোবর!
.        দেশে কত লোকে হাগে মাঠ ছেড়ে গৃহে আজ?
.        শহরে ও গ্রামে কত লোকে ফিরে পেলো লাজ?
.        হাই-টেক পায়খানা কি ভাবেতে করা যায়?
.        পায়খানা সরকারি খরচেতে কোথা পায়?
.        কত সুন্দর পায়খানা তুমি পেয়ে যাবে?
.        দরজায় গান্ধীর চশমাটা আঁকা পাবে!
.        কত নির্মল হলো এ ভারত দেশটা।
.        গণমাধ্যমে সেদিন জেনে যাবে সবটা!

মনে হবে জাতির পিতায় কত ভক্তি!
.        তার নামে রচা পরিকল্পনা সত্যি!
.        একটু বিষদভাবে ভাবো যদি মন দি’।
.        দেখবে, পেছনে আছে গূঢ় অভিসন্ধি!
.        মোদীজী যাদের ভোটে আজ জিতে হল শের,
তারা   গান্ধী-বিদ্বেষী। ভক্ত নাথুরাম গডসে-র!



.        গান্ধীকে গালি পাড়া মোদীর পদে অশোভন।
.        তাই কি তাঁর নামে শৌচালয় সংযোজন?

.        জনগণ ভাবে - বাপুর, মোদী বড় ভক্ত!
.        তারি নামে এ যোজনা, বিরাট ব্যায় অর্থ॥
.        ভক্তরাও হেভি খুশি “স্বচ্ছ” এ ভারতে।
.        দেখে গান্ধীর নাম স্রেফ পায়খানাতে॥

.        “জাতির জনক” ব’লে সুভাষ যাঁকে ডেকেছেন।
.        মোদী আজ তার নামে শৌচালয় রচিছেন!
.        শুনিনিকো প্রতিবাদ, ভারতের কোনো কোণে।
.        কংগ্রেসী সহ বিরোধীরা কি তা নিল মেনে!?

.        ভারতের যত যত পরিচিত মুখেরা,
.        বিজ্ঞাপনে পকেটে পুরছে ভাল বখেরা!
.        ওড়ে কোটি কোটি টাকা বিজ্ঞাপনের আকাশে,
.        তার কত ভাগ যায় পায়খানা নিকাশে?

.        কহেনা কো কটু কথা কভু মোদী গান্ধীরে।
কিন্তু,   গডসের ভক্তদের ফলো করে টুইটারে!
.        গান্ধী-শান্তি-পুরস্কার, মোদীই করেছে রদ!
.        গান্ধীর নামে শৌচালয়ে দেশ আজ গদগদ।

.        এক ঢিলে দুই পাখী এভাবেই মারা হয়!
.        গালাগাল না দিয়েও অপমান করা যায়!
.        দুষ্টকবি কি না বলে, ছাগলেতে কি না খায়!
.        এ কাব্যে দুর্গন্ধ ক্ষম। বল মোদীজীর জয়॥
.                            ২.১০.২০১৮, কলকাতা
স্বচ্ছ ভারত দিবসে . . .
জাতির জনকের জন্মদিনকে “স্বচ্ছ ভারত দিবস” নামকরণের প্রতিবাদে
.
মূর্তি ভাঙ্গার গান

লেনিনের মূর্তি হলো ভাঙা।
লাগেনা বাহুর বলে হানা॥
বুলডোজারেই ক্ষেপে চেপে।
এক ঠ্যালা দিতে গেল নেবে॥
শ্মশানের বাগিচায় চুপ।
শ্যামাপ্রসাদের শীলা রূপ॥
তারো নাক-কান গেল কাটা।
দেখ্ দেখ্ কী বুকের পাটা !
মুখে চুন-কালী মেখে দিলে।
চোখের বদলে চোখ গেলে॥
এটা নাকি আর্য্যের ভূমি!
দ্রাবিড় হলেই দোষ গুণি!
তাই, পেরিয়ারও হলো নাক কাটা!
দেশটা কি খুইয়েছে মাথা ?

মাথা মোরা খুইয়েছি, যবে
খুন-এ হাত রাঙাদের তাঁবে॥
দেশটিকে তুলে দিয়ে খুব।
দেশভক্তিতে দেই ডুব॥
আমি বলি তাঁহাদের কথা।
যাঁরা মূর্তির জন্মদাতা॥
কত ভাবনা-চিন্তা ভাঙা-গড়া।
কত কল্পনা-মায়াজালে ভরা॥
লালিত মানস প্রতিমাতে।
ধীরে ধীরে প্রাণ আসে তাতে॥
সৃষ্টির কাজ শেষ হলে।
যেন প্রসূতির শিশু আসে কোলে॥
নিজ শিশু এলে মার কোলে।
সাত রাজার ধন বলে॥
সে ধন মাণিক কেউ ছুঁলে।
মায়ের হৃদয় বিঁধে শূলে॥
তেমনই শিল্পী-কাছে তার
শিল্প, সন্তান-সম মার॥

পেরিয়ার লেনিন শ্যামায়।
ভেঙে কার কি যে আসে যায় ?
যায় শুধু শিল্পীর প্রাণ।
প্রাণেরও অধিক সন্তান॥

এ ব্যথা কে বুঝিবে রে হায় !
শেল বিঁধে (দুষ্ট) কবির হিয়ায়॥
.           কলকাতা ৭.৩.২০১৮
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ২-১০-২০১৮
.
ভুতের কেত্তন
বৃষ্টি পড়ে ঝমঝমিয়ে,
আবহাওয়াটি চমৎকার
তাইনা দেখে ভূশণ্ডিতে
ভূতের মেসো খুললে বার।

সাজিয়ে রাখা রঙিন বোতল,
সোডা এবং বরফদান
হাস্কি ভয়েস পেত্নী হাজির,
মাইক বাগিয়ে গাইছে গান।

ঝিঙ্কুনাকুর বাজনা বাজে,
সাইকোডেলিক জ্বলছে লাইট
সব ভুতেরা হচ্ছে জড়ো,
আজকে দারুণ জমবে নাইট।

হুইস্কি হাতে মামদো নাচে,
স্কন্ধকাটা সঙ্গী তার
বেম্মোদানো রসিক বেজায়,
বাসেন ভাল চিল্ড বিয়ার।
বৃষ্টি পড়ে ঝমঝমিয়ে,
আবহাওয়াটি চমৎকার
তাইনা দেখে ভূশণ্ডিতে
ভূতের মেসো খুললে বার।

সাজিয়ে রাখা রঙিন বোতল,
সোডা এবং বরফদান
হাস্কি ভয়েস পেত্নী হাজির,
মাইক বাগিয়ে গাইছে গান।

ঝিঙ্কুনাকুর বাজনা বাজে,
সাইকোডেলিক জ্বলছে লাইট
সব ভুতেরা হচ্ছে জড়ো,
আজকে দারুণ জমবে নাইট।

হুইস্কি হাতে মামদো নাচে,
স্কন্ধকাটা সঙ্গী তার
বেম্মোদানো রসিক বেজায়,
বাসেন ভাল চিল্ড বিয়ার।
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯
.
ডিসগাস্টিং
(এটাই কি এই কবিতার সঠিক নাম?)

মা, মা, বলে চেঁচাও কেন?
ডাকবে আমায় মাম্মী বলে।
বলতো স্ট্যাটাস্ কোথায় রবে
পাশের ফ্ল্যাটে শুনতেপেলে?

গেঁয়ো গেঁয়ো বাঙালিপনা
বদলেফেলার চেষ্টা করো।
মনেরেখো তুমি কিন্তু
ইংলিশ মিডিয়ামে পড়।

তোমার ড্যাডি ডিসগাস্টিং,
যত আতলামোতে ভক্তি তার।
খেয়েছে মাথা নোবেলজয়ী
বোলপুরের ঐ লোকটি তার।

কোথায় কার বই জোটেনি
পাশ করেছে মাধ্যমিকে,
কারো আবার অষুধ নেই,
দিচ্ছে কিনে মাইনে থেকে।
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯



হিসেব শুধু তোমারবেলায়
বার্থ ডে পার্টির টাকা চাইলে।
এই দেখ তো আমিও রোজ
পারিনা যেতে সপিংমলে।

পাশের ফ্ল্যাটে রথীন সেন,
M N C তে চাকরি করে।  
গানও শুনেন ইংরেজীতে,
ওদের ঘরে টাকা ওড়ে।

তুমি সোনা বড় হয়ে
আনবে টাকা চাকরি করে।
লাভ নেই করে সমাজসেবা
কিংবা ওই বাংলা পড়ে।

ছেলে বলে, “মাগো, আমি
রথীনকাকুর মতই হবো।
রথীনকাকুর মতই মাকে
ওল্ড এজ্ হোমে দেখতে যাবো।”
.
আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার
৭/৯/২০১৮ মাঝেরহাট ব্রীজ ভেঙে পড়ার পর।
আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার,
কলকাতার ব্রিজের কাছে যেও না খবরদার!
সর্বনেশে ব্রিজ সে ভাই যেও না তার ধারে —
হঠাৎ ভেঙে পরতে পারে, মাথায় কিম্বা ঘাড়ে,
কে যে সারায়, কেউ জানে না, কোন্ সে দপ্তরে
পরলে ভেঙ্গে জোর ক’রে ভাই গল্প শোনায় প’ড়ে।
বিদ্ঘুটে তার গল্পগুলো না জানি কোন দেশী,
শুনলে পরে হাসির চেয়ে কান্না আসে বেশি।
না আছে তার মুণ্ডু মাথা না আছে তার মানে,
তবুও তোমায় শুনতে  হবেই তাকিয়ে তাদের পানে।
কেবল যদি গল্প বলে তাও থাকা যায় সয়ে,
উন্নয়নের সুড়সুড়ি দেয় লম্বা পালক লয়ে।
কেবল বলে- "হোঃ হোঃ হোঃ, কালীঘাটের পিসি
ব্রিজের গায়ে আবোল-তাবোল আঁকত দিবা নিশি।
হোক্ পিঠ তার খন্দে ভরা, হোক্ গার্ডার বাঁকা,
রেলিং ভরে নীল ও সাদা আলপনা তার আঁকা।
অষ্টপ্রহর গাইত পিসি ঢাক পিটিয়ে নিজের,
উদ্ভট সব নাম দিত সে প্রত্যেকটি ব্রিজের!"
না হাসলেই দড়াম্ করে রদ্দা মারে ঘাড়ে,
হঠাৎ করে বার করে নল ঠেকায় পাঁজর-হাড়ে।
ব্রিজ ভেঙেছে ব্রিজের দোষে। কিংবা বামের ত্রুটি।
চটপট তা মানলে পরে তবেই পাবে ছুটি!
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯
.
হিং টিং ছট্

নীল সাদা রং হাওয়াই চটি
এবার পুজোয় ২৮ কোটি।
'গ্র্যাভিটি অফ পরিস্থিতি'
এবার পুজোয় ২৮ কোটি।
সেতু ভেঙে সব দাঁতকপাটি
এবার পুজোয় ২৮ কোটি।
উত্তরে বন্যার ভুরুকুটি
এবার পুজোয় ২৮ কোটি।
দেনায় চড়ছে ঘটিবাটি
এবার পুজোয় ২৮ কোটি।
উন্নয়ণের অবাধ গতি,
এবার পুজোয় ২৮ কোটি।
'গরমেন্ট' আজ সিন্ডিকেটই
এবার পুজোয় ২৮ কোটি।
মা মানুষ আর খানিক মাটি
এবার পুজোয় ২৮ কোটি।
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯
.
পরকীয়া পাঁচালি
শুন গো পুরুষগণ শুন মন দিয়া।
শাস্ত্রমতে সিদ্ধ হৈল আজ পরকীয়া॥
আয়ান ঘোষের পত্নী ছিল বটে রাধা।
মহামান‍্য আদালতে ঘুচিল সে বাধা॥
পরদ্রব‍্য হয় যদি নয়নলোভন।
সকলে বিমল আজ সকলে শোভন॥
কটাক্ষ করেন যদি এবে পরনারী।
নাহি দোষ চঞ্চল হলে করোনারী॥
মাদাম বোভারি আর হেলেন অব্ ট্রয়।
কেহই নহেন ব্রাত‍্য জানিও নিশ্চয়॥
লুপ্ত হৈল ধারা ফোর নাইন্টি সেভেন।
নির্ভয়ে হৃদয় তাই দান করিবেন॥
পূর্ণ হবে মনস্কাম সিদ্ধ হবে আশ।
আর নহে জরিমানা বা হাজতবাস॥
সুপ্রিম কোর্টের বাণী অমৃত-সমান।
শ্রবণ করেন আহা পতি পুণ‍্যবান॥
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯
.
সাবধানে মা আসিস এবার
সাবধানে মা আসিস এবার
করিসনে তুই ভুল,
তিন খানা চোখ রাখিস খোলা
দেখলে উড়াল পুল।

লক্ষ্মীর হাত ধরে রাখিস
চঞ্চল সে অতি,
ভিড়ের মাঝে ছোকরা বুড়োর
বদলে যায় মতি।

সরস্বতী শান্ত ভিষন
সামলে রাখিস ওকে,
বই পত্র ফেলে যেন
ফেসবুকে না ঝোকে।

গনেশটা মা বড্ড পেটুক
দিনরাত খাই খাই,
ভেজাল খেয়ে  নধর ভুড়ি
করবে যে আইঢাই ।
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯
কার্তিকটা হ্যান্ডু ভিষন
সামলে রাখিস কেমন,
ডিপিতে তো সব মেয়েরাই
ঊর্বশী হয় এখন।

কৈলাশেতে থাকবে বাবা
সেটাও এখন ভয়,
গাঁজার নেশায় বাবারও না
মতিভ্রম হয়।

যদি একলা পেয়ে মেনকারা
খোলে রূপের খাপ,
জানিস তো মা পরকিয়া
নয়তো এখন পাপ।
.
মাল খেঁয়াছি ক্যানে
মাল খেঁয়াছি ? গন্ধ যেছে ?
নাক কুঁচক্যাও ক্যানে ?
শুনবা তবে , কি হয়্যাঁছে ?
মাতলামিটোর মানে ?

দুগ্গাঠাকুর আসবে বুলে
শুনছি সবার মুখে ,
তখন থেকেই বুক ঢিপা ঢিপ
ঢাক বাজছে বুকে।
না গো--আনন্দে লয় , ভয়ে
রেতেও থেকি জেগে
লতুন জামা কিনতে হবে
ছেলেগুলার লেগে।

বাবুর বাড়ি দিন মজুরি
গতর দিয়ে উসুল করি
তবু ছারান নাই
কানের কাছে গজর গজর
দিন রাত্তির খ্যাঁচর খ্যাঁচর
লতুন পীড়ান চাই ।
বউটো আমার অবুঝ বড়
কোথা থেকে করব জড়
এত গুলান টাকা
ওরে কোঁচর ভরে মুড়ি মেলে
মাগনা কিছু চাল ও মেলে
পকেট থাকে ফাঁকা ।
কবি বিকাশ মণ্ডল
জয়সিংহপুর
( রামপুরহাট-২ )
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯
সারা বছর গতর খাটাই
মাগ ছেল্যাদের পেটটো চালাই
থাকে নাকো কিছু
দুগ্গা এলেই ভেতর কাঁপে
পাওনা সবাই বুঝে লেবে
আমার বেলায় কচু।

বড়লোকের বিটিগুলান
পড়বে জড়ির শাড়ি
ছেল্যাগুলার গায়ে দেবে
হরেক রঙবাহারী।

আমার ছেল্যাও তাল ধরবে
অমনি পীড়ান চাই
দিন খাটা এই জনমজুরে
কুথায় পাবে ভাই ?
তাই --দুগ্গার গান বাজলে পরে
ভেতর কেঁপে ওঠে ডরে
পালিং যেতে চাই ,
সটান উঠি শুঁড়িখানায়
ধেনো ঢেলে নিজের গলায়
ভয়টোকে তাড়াই।

বুঝলে বাবু ?  ভদ্দরলোক,
গন্ধ তোমার যতই লাগুক
উপায় আমার নাই ,
মাল খেঁয়্যাছি তাই।
.
নেটপাত্র
দেখছি গ্ৰুপের পোস্টে গিয়ে
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে
গঙ্গারামকে পাত্র পেলে
জানতে চাও সে কেমন ছেলে
এইতো সেদিন কমেন্ট দিলো
ভুল যদিও বানানগুলো
সেলফি তোলে যখন তখন
ডাইনে বাঁয়ে সামনে পেছন
পড়াশুনো ? বলছি মশায়
করবে কখন? সময় কোথায় ?
গ্ৰুপ চালায় ফেসবুকে সে
নিশুত রাতে দিনের শেষে
মাইনে কড়ি ? পেলে তো হায়
স্টেটাস দিতেই দিন কেটে যায়
মানুষ তো নয় ভাইগুলো তার
একটা হ্যাকার একটা স্টকার
আরেকটি সে তৈরী ছেলে
রোজই নতুন ব্যবসা খোলে
গঙ্গা কেবল তবলা বাজায়
সবার কথায় তাল ঠুকে যায়
তর্ক করে প্রবল বেগে
লাইক মারে সবার আগে
গঙ্গারাম তো খুব পপুলার
হাজার খানেক ফ্রেন্ড ফলোয়ার
এক সেলিব্রিটি ইনস্টাগ্রামের
লিস্টে আছে গঙ্গারামের
যাহোক এবার পাত্র পেলে
এমনকি আর মন্দ ছেলে
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯
.
লন্ডন কোলকাতাতে
একদিন রাতে আমি
খবর শুনিনু --
"চেয়ে দেখো" "চেয়ে দেখো"
বলে যেন হনু ।

চেয়ে দেখি, উন্নয়ন
মোড়েতে মোড়েতে,
লন্ডন আসিয়াছে
নড়িতে নড়িতে ।

হাতে গড়া তেলেভাজা
শিল্পটা সোজা,
ঘরে ঘরে তাই ভাজে
যত রাজা গজা ।

ত্রিফলা লেগেছে কতো
নেই কারো চাপ ,
নীল সাদা ব্রীজ গুলো
পড়ে ধুপ্ধাপ্ ।

ইস্কুলের বই গুলো
গল্পেতে ভরা,
ছাত্র ছাত্রীরা তাই
বোঝে নাতো পড়া ।

প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে
পুজো হবে বলে --
সরকারি অনুদান
দশ হাজার মেলে ।
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯

আমি মনে মনে ভাবি
চিন্তাটি নিয়ে ,
সরকারি চাকুরেরা
পাবে নাকো ডি-এ ।

ঝাড়ু হাতে , কেহ করে
স্বচ্ছ অভিযান ,
দেশের টাকা সাফ কোরে
নিরবে পালান ।

দোকান বাজারে দাম
শুধু বেড়ে ওঠে,
গরিবেরা তাই আজ
মরে মাথা কুটে ।

কেউ কথা শোনে নাকো
নেশার খেয়ালে --
শুধু সাদা নীল করে
দেয়ালে দেয়ালে ।

লন্ডন যদি আজ
কোলকাতায় ছোটে,
বাংরেজ হবে সবে
চটি-হ্যাট-কোটে ।

পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে
"বাংলা" ধরিলো ,
কোলকাতা তারি পিছে
লন্ডন হলো ।
.
আমি চিনতাম আমার ভারতবর্ষকে
৯.৭.২০১৭
আমি চিনতাম আমার ভারতবর্ষকে,
আজানের সুরের সঙ্গে যেখানে মিলে যায় হরিনাম,
আজহারউদ্দীন লম্বা জুটি বাঁধেন শচীনের সঙ্গে,
সুরজিত সেনগুপ্ত-র পাস থেকে গোল করে যান আকবর,
পিকে ব্যনার্জী চেঁচিয়ে ওঠেন, হাবিব, মানস কে বলটা দে ।

আমি চিনতাম আমার ভারতবর্ষকে,
রবিশংকর আর জাকির হোসেন সুরবাহারের তুফান তোলেন,
গোলাম আলির প্রতিটি মেহফিলে, মজে যায় তামাম ভারতবাসী,
নেতাজীর একটি মালার জন্য রেঙ্গুনের ধনী ব্যবসায়ী মি.হাবিব,
সেই সময় আজাদহিন্দ বাহিনীকে দিয়ে দেন এক কোটি টাকা,
আমি চিনতাম সেই ভারতবর্ষকে।

আজ যখন চারপাশেতে
হানাহানির জয়,
ক্ষিদে ভুলে অস্ত্র হাতে,
এদেশ আমার নয়,

আমার ভারত অন্য রকম,
সেজে ওঠা অঙ্গনে,
বিসমিল্লা সানাই বাজান,
দূর্গাবাড়ির প্রাঙ্গনে।
কবি রজত
ফেসবুক
তোলা হয়েছে ২১.৩.২০১৯
.
যবন বলে রাখলে দূরে
(‘লালনগীতির’ আঙ্গিকের সুরে এই গানটি লেখা)
কথা ও সুর- রাজেশ দত্ত, রচনা - ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১১, চন্দননগর।
শিল্পী সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে
এই গানটির ভিডিও . . .  
কবিকণ্ঠে
এই গানটি শুনতে . . .    

যবন বলে রাখলে দূরে,
করলে ঘৃণা মুসলমানে।
(হায়) তোমরা ভজো কৃষ্ণ-কালী
নজরুল ইসলামের গানে।

বিস্মিল্লাখানের সানাই
সাজায় তোমার বিয়ের বাসর।
বড়ে গুলাম আলির সুরে
ভরলো তোমার গানের আসর।
রবিশঙ্কর সেতার সাধেন
আমজাদ আলির সরোদ তানে।
তবু যবন বলে রাখলে দূরে,
করলে ঘৃণা মুসলমানে।

পল্লী কবি জসীম শোনান
নকশী কাঁথার মাঠের গাথা।
শামসুরের ছন্দে কথায়
তোমার আমার স্বাধীনতা।
বিশ্বে ওড়ান জয়ের নিশান
গুলজার আর রেহমানে।
তবু যবন বলে রাখলে দূরে,
করলে ঘৃণা মুসলমানে।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা
বৃটিশ রাজের বুক কাঁপালো।
কত না বীর আসফাকউল্লা
দেশের জন্য শহীদ হলো।
রোকেয়া দিলেন মুক্তিমন্ত্র
বঙ্গনারীর প্রাণে প্রাণে।
তবু যবন বলে রাখলে দূরে,
করলে ঘৃণা মুসলমানে।

ভালোবাসার আতিশ জ্বালায়
মির্জা গালিবের শায়েরী।
মেহেদি হাসান শুনতে বসে
কে বলো জাত বিচার করি?
দেখলাম না জাতের কী রূপ,
লালন বলে আপন মনে।
তবু যবন বলে রাখলে দূরে,
করলে ঘৃণা মুসলমানে।
.
কবি বিষ্ণুপদ বিশ্বাস
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
বৌ বন্দনা
সকালে  উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
সারা দিন আমি যেন বউএর কথায় চলি।

আদেশ করেন যাহা মোর বৌ রাণী
আমি যেন সব কথা মন দিয়ে শুনি।

শালা শালী সকলেরে যেন ভালবাসি
সারা দিন থাকে যেন বৌএর মুখে হাসি।

শশুর শাশুড়ীর সাথে মিলেমিশে চলি
কিছুতেই তাদের যেন নাহি দেই গালি।

ঝগড়া না করি যেন কভু বৌ এর সনে
এই কথা সদা যেন থাকে মোর মনে।

বৌএর সকল কাজ করি নিজেনিজে
বেশী করে রান্না করে রেখে দেই ফ্রিজে।

বাধা যেন নাহি দেই বৌএর কোনো কাজে
বৌ যেন সারাদিন ঘরে বসে সাজে।
কবি রাজেশ মাহাতো
অথবা
কবি পাপন দাশ
shalpolas.blogspot.com
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
বৌ যাহা কিনিতে চায় কিনিয়া যে দিব
জীবনেও কোনোদিন হিসাব নাহি খুজিব।

বৌ যদি যেতে চায় বাপের বাড়িতে
পারি যেন পাঠাইতে এসি গাড়ীতে।

দশটা না একটাই বৌ যে আমার
তবে কেন কথা আমি শুনবোনা তাহার।

বৌ যে ধ‍্যান আর ধারণা আমার
বৌ ছাড়া এজীবন বৃথা যে আমার।

বৌ  যে প্রাণের ধন নয়নের মণি
বৌ ছাড়া এ জগতে কিছু নাহি জানি।


বৌএর পাঁচালী যারা ভক্তিভরে শুনিবে
সোনার রথে চড়ে স্বর্গে যাইবে।
হরি বোল হরিবোল।
.
মানানসই
তুমি বললে পাহাড় কিনে দেবে
আমি বললাম কিসের প্রয়োজনে?
একটা পাথর কুড়িয়ে আনো যদি
সাজিয়ে রাখবো ঠাকুর সিংহাসনে

হঠাৎ তোমার বাগান কেনার শখ
শুনে বললাম খরচ করো বুঝে,
একটা বরং গোলাপ কিনে এনে
নিজের  হাতে খোঁপায় দিও গুঁজে...

সেদিন বললে বিদেশ নিয়ে যাবে
হেসে বললাম অর্থ অপচয়,
তার চেয়ে চলো দুজন মিলে ব'সে
নদীর পারে দেখবো সূর্যোদয় ...

জীবন হল ছোট্ট ডিঙ্গির মতো
কি হবে তার মস্ত বড় পাল?
ঝড় জল সব সামাল দিতে গেলে
চাই তো মোটে শক্ত দুটো হাল ... !

আমরা হলাম মাটির কাছের জীব
সারাজীবন মাটির মাপেই রই
চাওয়া পাওয়া ছোট্ট হবে যতো
জীবন ততো হবে মানানসই ।
কবি মিনাক্ষী দাস
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
কবি আর্যতীর্থ
বিদগ্ধ চিকিত্সক ও কবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
বাংলা-কবিতা ওয়েবসাইট
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
কোষাধ্যক্ষ
স্তব্ধ আজকে আজবনগরে রাজার সভাকক্ষ
চাবিটি গছিয়ে খানিক আগেই গিয়েছেন কোষাধ্যক্ষ।
দোষের মধ্যে রাজা চেয়েছেন কোষাগার থেকে টাকা
তুচ্ছ ও ব্যাটা বলে কিনা ওতে জনগণধন রাখা!
রেগে টং হয়ে রাজা বলেছেন ‘নতুন জিনিষ জানছি
কোথায় খরচ করবে মালিক বলে দেবে খাজাঞ্চি!
আমারই তো ধন, প্রজারা আমাকে খাজনা দিয়েছে যত
খরচ করবো স্বাভাবিকভাবে নিজের খেয়ালমতো,
সে ব্যাপারে তুই ব্যাগড়া বাঁধালি, কোথাকার হরিদাস,
রাজার নমক খেয়ে আজ তার দাড়ি ওপড়াতে চাস!
কোষাধ্যক্ষ, ভালো চাস তো তোর  সিন্দুক খুলে রাখ,
আমি বলে দেবো কোন মাছটাকে ভালো ঢাকে কোন শাক।’
কোষা ব্যাটা তবু ছাড়েনি তো জমি, নড়েনি সে একচুল,
বারবার বলে ‘ভাঁড়ারে এখন মুদ্রা অপ্রতুল।
খেয়ালখুশীতে খরচা বাড়ালে ধসবে অর্থনীতি’
রাজা বলে ‘ওরে, তোর নেই তো রে গদি হারাবার ভীতি।
আগুন বাজার, প্রজাদের আজ কুলায় না খরচাতে,
কিছুটা প্রলেপ দিতে হবে বাপ, ভোট আসে দরজাতে।’
শুনে কোষাপতি বলে ‘হে নৃপতি, খুরেতে দন্ডবৎ,
আমি কোনোকালে বাজাতে পারিনি ভোট ঢোল সহরত।
এই নাও চাবি, তোমার দাবিটি শুনুক পরের লোকে,
আমি পারবো না প্রজাদের ক্ষতি দেখতে নিজের চোখে।’


এসব অতীত, আপাতত চলো দেখি গে বর্তমান,
আজবনগরে মহারাজ  আজ কোষাগার সামলান।
কোষাধ্যক্ষ লাগবে যে এক, তেমনই আইনে বলে,
কাকে দেন ভার, ভেবে একাকার, রাজা ভারী দোলাচলে।
মন্ত্রীকে ডেকে বললেন রাজা, ভার নেবে নাকি তুমি হে?
মন্ত্রী তখন পাগড়ি আড়ালে ছিলেন হাল্কা ঘুমিয়ে।
ধড়মড় করে উঠে বললেন হুজুর রাজ্য সামলাই,
অষ্টপ্রহর ভাবনা বাড়ায় কত বিচিত্র মামলাই।
তার ওপরে যদি কোষাগার দেখি রুটিনটি যাবে ভড়কে,
এত দিকে যদি চোখ দিতে হয় দেখবো কি করে চোরকে?
রাজা বললেন , সেনাপতি তবে তুমি নেবে এর দায়টা?
সেনাপতি কন, দেখি বাহিনীর কুচকাওয়াজের কায়দা।
অস্ত্রশস্ত্র কিছু বুঝি বটে, টাকা খরচের কি জানি,
হয়তো কিনবো সব খালি করে ফরাসী যুদ্ধবিমানই।
রাজা বললেন , কোষাগারে তবে তুমি ভার নাও পাত্র,
কাচুমাচু মুখে পাত্র বলেন ‘ ডাহা ফেল করা ছাত্র!
অঙ্কে আমার লাল কালি ছিলো ওয়ানের থেকে ক্লাস টেন,
রাজা বললেন গুরু মহারাজ, আপনিই যদি ভার নেন।
গুরু বলে দেন, মন্দির হলে তবে ভাবতাম অন্য,
আমি তো দেখছি তুমি লোক খোঁজো ভোটে জেতাবার জন্য।
আমার দাবীকে দাবিয়ে রেখেছো দাওনি  পাদ্য অর্ঘ্য,
এখন আবার এই ভার নিলে মিডিয়া ট্রায়ালে মরবো!


রাজা হাঁকলেন ওহে বৈদ্য, তুমি তবে নাও কোষাগার,
বৈদ্য বলেন হাত জোড় করে, রোজ পাবলিক দেয় মার।
কোষাগার নিলে হাড়গুলো যাবে, প্লাস্টার হবে সারা গা-য়
বরং হুজুর ট্রান্সফার দিন, চলে যাই দূর পাড়াগাঁয়।
রাজা বললেন অমাত্য ওহে, তুমি কোষাগারে বসবে,
অমাত্য কন তাই যদি হবে, ভোটের ছক কে কষবে?

রাজা চুলকান বসে মাথা তার, কে ধরবে আজ তাঁর হাল,
হঠাৎ নজর যায় দরজাতে, দাঁড়িয়ে রয়েছে দ্বারপাল।
মুষকো জোয়ান, অমিত শক্তি, বিশ্বাসী লোক মস্ত,
রাজা হেঁকে কন, কাল থেকে তুই কোষাগারে গিয়ে বস তো।
দ্বারপাল বলে হে আমার প্রভু, আজ্ঞা নিলাম মাথাতে,
যেমন বলেন কোষাগারে বসে সেটাই  লিখবো খাতাতে।
চারদিক থেকে ফুলের বৃষ্টি, সভায় ধন্য ধন্য,
আজবনগরে অবশেষে আজ খাজাঞ্চি পেলো অন্য।

মন্দ লোকেরা ভাবতেই পারে সন্দেহ জাগে গন্ধে,
কাহিনী এসব পুরো মনগড়া, বলে দিই মুখবন্ধে।
.
রানার ছুটেছে Amazon থেকে বস্তা বইছে কাঁধে
রানার ছুটেছে Amazon থেকে বস্তা বইছে কাঁধে
রানার চলেছে
Swiggy প্যাকেট সাথে

রানার রানার চলেছে রানার
বস্তার ভারে নুয়ে পড়ে কোনো নিষেধ জানে না মানার
দিগন্ত থেকে দিগন্ত ছোটে রানার রানার
কাজ নিয়েছে সে অনেক প্যাকেট আনার রানার রানার

রানার রানার জানা অজানার বোঝা আজ তার কাঁধে
বোঝাই
scooter রানার চলেছে phone টা রয়েছে কানে

রানার চলেছে বুঝি দেরি হয় হয়
আরো জোরে আরো জোরে হে রানার দুর্বার দুর্জয়

তার জীবনের চিন্তার মত কানে বেজে যায়
phone,
আরো পথ আরো পথ বুঝি হয়ে
boss এর মাথা গরম,

সারা রাস্তা র লোক তাকে দেখে রাগ এ তে মুখ ব্যাঁকাএ
Scooter ছুটিয়ে পাগলের মতো কেন এ রানার যায়
কত পথ কত পথ যায় সরে সরে
ঠিকানাএ সে যাবেই পৌঁছে মরে
হাত টনটন মাথা ঝমঝম মুখটা হয়েছে কালো
মাভৈ রানার তবুও দৌড়ে চল
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
এমনি করেই যৌবনের বহু ইচ্ছে পেছনে ফেলে
পৃথিবীর যত প্যাকেট রানার পৌঁছে দিয়েছে হেঁসে

ক্লান্ত শাস ছুঁয়েছে আকাশ মাটি ভিজে গেছে ঘামে,
জীবনের সব শান্তি কে ওরা কিনেছে অল্প দামে

অনেক দুঃখে বহু বেদনায় অভিমানে অনুরাগে
যাবে তার প্রিয় এক দিন চলে অন্য কারুর সাথে

ঘরেতে অভাব তাই তার কাজ সবার পেটটা ভরা
বিরিয়ানি নিয়ে ঘুরছে তবুও সে খাবার যাবে না ছোঁয়া

রানার রানার এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে
Amazon ছেড়ে Zomato তে গিয়ে full and final হবে
.
অলীক কুনাট্য রঙ্গ
কলিযুগে এ কী হল? হায়, রাম, রাম!
ব্রিগেড ভরিয়ে দিল বঙ্গীয় "বাম"!
হাতুড়িটা ভাঙা ছিল, কাস্তেতে জং।
ফিকে হয়েছিল লাল পতাকার রং।
হঠাৎ কে শান দিলে কাস্তের ফালে?
কেমনে লাগল রং 'বামে"দের লালে!
ভরানো ব্রিগেড সভা ছেলেখেলা নয়।
মোদিজির মনে ছিল বড় সংশয়।
ব্রিগেডের মাঠ যদি পড়ে থাকে খালি,
বিজেপির মুখে পড়ে যাবে চুনকালি।
ভরসা যায় না রাখা দিলীপে-লকেটে,
ব্রিগেড মিটিং থেকে মোদি পিছু হটে।
সেই মাঠ ভরে দিল সিপিএম আজ!
মোদির কপালে তাই চিন্তার ভাঁজ।
পলিটব্যুরোর যত বুড়ো কমরেড
বুড়ো হাড়ে ভেলকিতে জমালো ব্রিগেড!
দিদি ভুরু কোঁচকান, "লাল" সমাবেশে
দেখেন সিঁদুরে মেঘ বঙ্গ আকাশে।
মোদি-দিদি মিলেজুলে করে অভিসন্ধি,
"বামে"দের "হিট শো"-কে ফ্লপ করা ফন্দি।
হাতে ছিল "সারদা"র তুরুপের তাস,
সিবিআই-পুলিশেরা ছিল দলদাস।
আজু গোঁসাই-এর ছড়া
রচনা ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
পথনাটিকায় নামে যত কুশীলব,
উর্দিধারীদের "কমেডি" আজব!
কমিশনারের বাড়ি সিবিআই হানা,
পুলিশ আটকে পথ চায় পরোয়ানা।
হাতাহাতি, গুঁতোগুঁতি -- কুনাট্য রঙ্গ!
প্রহসন দেখে হয় হতবাক বঙ্গ।
আসরে নামেন দিদি মহারানি চালে,
মঞ্চ সাজানো ছিল মেট্রো চ্যানেলে।
নাটক জমান দিদি ধরনায় বসে।
পার্টি ও প্রশাসন গেল মিলেমিশে!
পুলিশ কর্তারাও মঞ্চে হাজির!
কোন দেশে দেখা যায় এমন নজির?
অলক্ষ্যে হাসে স্ক্রিপ্ট রাইটার মোদি --
যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন দিদি,
বাংলায় চলবে আরএসএস-রাজ,
দিদি-মোদি একাসনে করবে বিরাজ।
একই বৃন্তে ফোটে পদ্ম-ঘাসফুল।
আধুলির দুই পিঠ -- বিজেপি, তৃণমূল!
দিদি-মোদিভাই এই জুটিটাকে চিনি,
ঠিক যেন হিটলার আর মুসোলিনি॥
.
তুমি ছিলে বলে
তুমি ছিলে বলে পুলিশকে ধরে চাবকানো যায় সোজা,
তুমি ছিলে বলে পাহাড়ে জঙ্গলে হাসির ফোয়ারা খোঁজা।
তুমি ছিলে বলে চার থেকে ষাট ধর্ষণ যায় করা,
তুমি ছিলে বলে রেট বেঁধে দাও , কেউ তো পড়ে না ধরা।
তুমি ছিলে বলে ধর্ষক আজ রেপুটেড  বিশেষণে,
তুমি ছিলে বলে বাংলা বলছ ভুলভাল মিশ্রনে।
তুমি ছিলে বলে সারদায় ফোঁটে গোলাপের কতো কুঁড়ি,
ছবি কিনে কেউ জেল খাটে, তুমি সাধু আজ, থুড়ি!
তুমি ছিলে বলে তোমরা সবাই চোর বলে পাও পুজো ,
তুমি ছিলে বলে উন্নয়নটা বুঝে ফেলে অবুঝ ও।
তুমি ছিলে বলে ছোট্ট ঘটনা , ছোটদের কারবার,
তুমি ছিলে বলে বিয়ে বাড়ির ঐ বাজি ফাটে বারবার।
তুমি ছিলে বলে ভূগোলের সাথে ইতিহাস যায় মিশে ,
তুমি ছিলে বলে দয়ার দানের ঘেউরা পায় না দিশে।
তুমি ছিলে বলে বুদ্ধিজীবিরা চেয়ার মোছার কাজে ,
মানিয়ে নিয়েছে, সমাজের  কাজে আর লাগে না যে ।
তুমি ছিলে বলে শিলার পাহাড়ে জমে আবর্জনা ,
সব মুছে দিয়ে নীলসাদা রঙে অদ্ভুত মুর্ছনা ।
তুমি ছিলে বলে দুর্গারা আজ কার্নিভালে হাঁটে ,
তুমি ছিলে বলে বেকারেরা আজ ঘোড়ার ঘাস কাটে ।
তুমি ছিলে বলে ঘুষখোর আজ অনুদানে কলাগাছ ,
তুমি ছিলে বলে দামাল ছেলেরা ঘোলা জলে ধরে মাছ।
তুমি ছিলে বলে দাঙ্গার দায় আদালতের ঘাড়ে ,
তুমি ছিলে বলে অক্সিজেন গুড় বাতাসায় মারে ।
তুমি ছিলে বলে কবিতা আজ কিম্ভুতকিমাকার,
তুমি ছিলে বলে উৎসবে আজ ঘিরে আছে যে আঁধার।
তুমি ছিলে বলে দার্জিলিং , গরুমারা নামে খ্যাত ,
কাটা দেহে তুমি ফুটবল জুড়ে হয়ে গেলে বিখ্যাত ।
অসীম তোমার করুণা , এবার সদলে বিদেয় হও ,
মুখোশ তোমার খুলে গেছে , তুমি আমাদের কেউ নও॥
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
বৌ বন্দনা - রাজেশ মাহাতো অথবা পাপন দাশ
মানানসই - মিনাক্ষী দাস
রানার ছুটেছে Amazon থেকে বস্তা বইছে কাঁধে - অজ্ঞাত কবি
যুদ্ধ - অজ্ঞাত কবি
অন্য পূজো - অজ্ঞাত কবি
ভোট ২০১৯ - মুক্তিপ্রকাশ রায়
আগমনী - পীযূষকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়
শক্তিমান - অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
যদি ভাবো কিনেছে আমায় - অজ্ঞাত কবি
ভয় পেয়ো না - রাজেশ দত্ত
ভাঙনের গান - রাজেশ দত্ত
অথ ‘সংঘ’ কথা - রাজেশ দত্ত
সীমান্ত - মুকুল পুরকায়স্থ
অন্য ভারত সংগৃহিত - জয় ভাদুড়ী
“পুরুষতন্ত্র” এর চেয়ে আর মন্দ কী? - দুষ্টকবি
দম আছে তাই দময়ন্তী - দুষ্টকবি
জেগে ওঠো কবর থেকে শুনছো সুজেট জর্ডন - রাজেশ দত্ত
গুপীবাঘার ভোটের গান - রাজেশ দত্ত
উন্নয়নের চিঠি সে পড়েনি - অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
এ কেমন রঙ্গ জাদু- রাজেশ দত্ত
.
বামাপদ (বাম+আপদ)
কয়েকটি বাম পঞ্চায়েতের
টঙ্কা পেলেই তা গুনতো
সেই কটা আজ বাঁশফুলে ভাই
কীই বা করে, বলুন তো?

কয়েকটি বাম সেই আমলের
আগুন-খেকো বিপ্লবী
সেই কটা আজ হন্যে হয়ে
পদ্মমধুর সিপ-লোভী

কয়েকটি বাম সেই আমলের
ঘোর কমরেড। যাঃ শালা...
শুনছি তারাই মাটির মানুষ
তলায় তলায় রামলালা।

কয়েকটি বাম বোকার হদ্দ
চড়াম ঢাকের বাদ্যিতে
না ঘাবড়িয়ে... থাকছে বামেই
পারছে না তা' বাদ দিতে!
কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
ফেসবুক
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
অপ্রাসঙ্গিক
পাখির চোখটি দ্যাখে অর্জুন
অন্যে মাপছে বালুর দম
গুড় জল খেয়ে হতাশ জনতা,
খেতে চায় লুচি আলুর দম।

মানি-মানি-মানি অর্থই হানি
'ম'য়-দানবের রোয়াব ভাই
ইয়েফুল এবে হল বাঁশফুল
পদ্ম-জোটেরও খোয়াব তাই।

কেন্দ্রীয় বুট রুটমার্চ করে
বোমার মশলা টন কে টন
এর মধ্যেই পতপত ওড়ে
ডেমোক্রেসির জয় কেতন!
কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
ফেসবুক
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
বাছাই-পর্ব
ভেবেছি তোমারও হবেই মন খারাপ
অপমানিতার মতই তুমি তো মেয়ে
কী আশ্চর্য... কী লজ্জাহীনা তুমি
অথচ মাতলে আখের গোছাতে চেয়ে।

কিছুদিন আগে মরে গেছে যে মেয়েটি
ঝাপসা নামের সেই অপমানিতার
তৎপর হয়ে দাঁড়াওনি কই পাশে!
নেত্রী বুঝিয়ে দিয়েছে... 'কাস্টমার'?

তুমি নাকি সেই 'কাস্টমার'এর সাথে
কাঁহা কাঁহা গেছ? লোকে বলে মুম্বাই
তার পরপরই শুরু হল উৎসব
সবাই জেনেছে আমাদের ঘুম বাই।

ঘুমোতে ঘুমোতে এসেছে গিয়েছে ভোট
ঘুমের মধ্যে কুড়িয়েছি অনুদান।
স্বপ্নে আগত উন্নয়নকে দেখে
প্রাণভয়ে কেঁপে পেশ করি সম্মান।
কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
ফেসবুক
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
কুঠারে হাতলে যেমন কাঠকে দেখে
বৃক্ষের জাগে আত্মীয়-ভালোবাসা।
এত ঠকে ঠকে তেমনই মানুষ-মনে
কিছুতেই মরে যাচ্ছে না প্রত্যাশা।

দেশের জন্য ঘুম ছেড়েছিল যারা
দশের জন্য লিস্টে তুলেছে নাম।
তাদের মধ্যে তোমাকে দেখতে পেয়ে
মিছে বলব না, ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

ওরা ঠিক জানে 'কাদের' কাদের লোক
কে ফিরে আসার ঠিকানাটি হারিয়েছে।
তাই বুঝি ওরা যাচাই কর্ম সেরে
ঠিক তোমাকেই সব শেষে নিল বেছে।

তুমি বুঝে গেছ... অশ্রু আসলে জলই
অশ্রু ফেলে না তাই চোখ দুটো যেচে।
আমাদেরও খুব জল দেখলেই ভয়
পাগল কুকুর যবে থেকে কামড়েছে।
কবি মুক্তিপ্রকাশ রায়
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
আগমনী..
ভোট এলো, ভোট এলো, জনগণ সাজো রে।
মাথাটা আঁচড়ে নাও, দাঁতগুলো মাজো রে।

ভিন-দেশি বাবু বিবি, কত ভোট-পায়রা
নায়িকার বোনঝি বা মন্ত্রীর ভায়রা
কিংবা নিপাট বুড়ো; স্বদেশীয় মাফিয়া
যার ভয়ে বঙ্গও উঠেছিল কাঁপিয়া
কবি, মানে আগে যিনি পানু-টানু ছাপতেন
মুদিখানা-দোকানী বা ফুটবল-কাপ্তেন
সকলে হাজির আজ গরীবের দুয়ারে।
ওদিকের ঝোপে খুব গু ঘাঁটছে শুয়ারে।

গু ঘাঁটছে! তা ঘাঁটুক, তবুও কী কেতা তোর
তুই তো ভোটার নোস, তুইও জননেতা তো।
নেতা মানে সেমি-নেতা, যেন বুড়ো আংলা
প্রায়ই দেখি গান গাস উন্নত বাংলার।

হঠাৎ বিরোধী হলে পাছে লাগে খটকা
তাই বুঝি গুষ্টির পিন্ডিটা চটকাস ?
মোড়ে, রকে, অফিসে বা রাতে শুঁড়িটোলাতে
নিত্য জ্ঞানদা হয়ে তোর জ্ঞানঝোলাতে
বিপ্লব-গুরু সেজে - ডাকাবুকো ভঙ্গি -
প্রায়ই দেখি বেজে ওঠে প্রশস্তি-সংগীত।
কবি পীযূষকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়
ফেসবুক
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
ভালো করে ভেবে দ্যাখ, ডান‚ বাম ওরা সব
আমরা দুপেয়ে পশু, রেসে ছোটা ঘোড়া সব।
সব কিছু ওনাদের - মদ, চিনি, নারীও
কবিতাও, সঙ্গীতও‚ ভাতফোটা হাঁড়িও
আমরা তো পাতিহাঁস, বেশ মোটা বা রোগা,
ওনারাই চিরকেলে ডিমখোর দারোগা।

বিরোধী বা সরকার বলে কিছু হয় না।
ওরা ভাবে ওরা সব সমাজের গয়না
আমরা ইতর শ্রেণী - চটি, জুতো, গামছা
তাইতো আপদগুলো আমাদেরই খামচায়।
কোনোদিন দেখেছিস, কোন নীচ পামরে
মন্ত্রীর স্ত্রী'র গায়ে বিষাক্ত কামড়ে
ঘা করেছে কিংবা সে কোনদিন আঁধারে
নেত্রীর যোনি ছিঁড়ে ফেলে গেছে বাদাড়ে?

দেখিসনি? আমিও না, ওসব তো মিথ্যে
লড়াই লড়াই খেলা। নীল বিষ পিত্তে
জমে ওঠে তোর, আমার, সুদে বাড়ে কষ্ট।
তার মানে বুঝলি তো, কী দাঁড়ালো স্পষ্ট
নেতা মানে সাপোর্টার - মানে হাতা, চামচা।
যদি খাঁটি ভোটার হোস্, রক্তের দাম চা।

ওরে বোকা, এখন কি কোনকিছু ফ্রি-তে হয়?
নেতাদের বুঝিয়ে দে নিতে গেলে দিতে হয়।
শক্তিমান
একটা ছেলের অভিজ্ঞতার ডেমোক্রেটিক নোট শিটে,
সুগার-কোটেড কোট-আনকোট রক্ত জমাট কালশিটে।

নেপোর গুষ্ঠি মারছে দধি, তার কোনও ভাগ চায়নি সে।
একান্ত তার প্রাপ্য যা যা বুঝতে সেটাই চায় নিজে।

বেকুব বনা বাপ-পিতামোর রাস্তাতে তার ভক্তি নেই।
কিন্তু সত্যি, এই ছেলেটার কলম ছাড়া শক্তি নেই।

নকুড়-দানা গুড়-জল আর চড়াম-ঢাকের কলঙ্কে
জড়িয়ে দিতে চায় না ছেলে, একান্ত তার কলমকে।

পরের টাকা করের টাকা চুরির পরিপক্বতা
চায় না পেতে। সম্বল তার বোকার মতন হক কথা।

কাজেই কলম আগুন লেখে। আর কী বলো পারতো সে!
সে জানতে চায় জাতের পাতের বিভেদ আজও কার দোষে?

জানতে চায় না বাম-দক্ষিণ কোথায় জন্মেছিলেন রাম!
সে জানতে চায় কোন ঠিকানায় আলুর এবং ধানের দাম?

সে চায় খুবই ঝলসে উঠুক শিক্ষা-আলোক যা মুক্ত।
মৌ-জমানার পাথর ভেঙে শিল্প জোয়ার নামুক তো।

যন্ত্র চালায়, অঙ্ক কষে, যুদ্ধে সে যায়, ফলায় ধান
সেই কলমই চাইছে হিসেব, শুনতে পাচ্ছো সংবিধান?
.
কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
ফেসবুক
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
পূর্বরাগ
'অসহিষ্ণুতা' পঠন শিখছি 'হিংসা' শিক্ষালয়ে
আস্থাশব্দ 'ভরসা', সরোষে বদলে দিচ্ছি 'ভয়ে'
'সংযম' ভুলে 'সংহার' শিখি 'হত্যা' পাঠক্রমে
'প্রতিশ্রুতি'র দেওয়াল গুঁড়িয়ে 'প্রতিহিংসা'রা জমে

সবার উপরে মানুষ সত্য সনাতন উপকথা
'সম্প্রদায়ে'র নিশান ওড়ায় উন্মাদ সভ্যতা
'ভালবাসা' ছিল সঞ্চিত পুঁজি হেঁটে চলা পথ মাঠ
শিখে নিতে হবে 'বিভেদসূচী'তে ঘৃণার সহজপাঠ

ভুলে যেতে হবে আশৈশবের ঘিরে রাখা অভ্যেস
চেনা গোলার্ধ, কি নামে ডাকব, জানিনা 'দেশ' না 'দ্বেষ'
'সমুখে শান্তি পারাবার' কোন সুদূরে দিয়েছে পাড়ি
বারুদসকালে রক্তে ভেসেছে একুশে ফেব্রুয়ারী

তবুও 'শব্দ' খুঁজছি, খুঁজব এখনো 'বন্ধুভাষা'
'প্রতিরোধ' দিন 'প্রতিস্পর্ধী' জীবনের বারমাসা
'পেশোয়ার' এসে 'পীরপাঞ্জালে' বুলেটের ক্ষত ছুঁয়ে
স্বাগত গোলাপে হৃদয় বাড়াক জমাট রক্ত ধুয়ে

মেহেদি হাসান গজল শোনাক আরবসাগর তীরে
সিন্ধুপ্রদেশে তান বিস্তার রবিশংকর মীড়ে
উটের পিঠের সওয়ারী আবার খাইবার গিরিপথ
আখরোট নিয়ে 'মিনি'র জন্য, ফিরে যাক 'রহমত'

'ঝিলমে' মিশবে 'ইরাবতী' ধারা, বইঠা বাইবে 'জারি'
ভেঙে যাওয়া সেতু বাঁধুক দু হাতে, একুশে ফেব্রুয়ারী
অজ্ঞাত কবি
সোশিয়াল মিডিয়া
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
.
কবি স্বপ্নিল রায়
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ২৪-৩-২০১৯
.
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
২১.৩.২০১৯
.
অথ ‘সংঘ’ কথা
রাজেশ দত্ত। রচনাকাল: মে,  ২০১৮।

কখনো ভাঙব লেলিনের স্ট্যাচু,
কখনো সরাব জিন্না।
ভেঙে পেরিয়ার,  ভীমের মূর্তি
ছড়াব বিভেদ, ঘেন্না।

কখনো বানাব মন্দির-থান,
আমাদের ‘গড’ গডসের।
গড়ে পেল্লাই স্ট্যাচু ‘প্যাটেলে’র
নজর কাড়ব গিনেসের!

সাভারকার, হেডগেওয়ারকে
বানাব দেশের ’আইকন্‌’!
গোলওয়ালকররা ‘দেশপ্রেমী’,
যত নিন্দুক যাই কন্‌।

শ্যামাপ্রসাদের শিষ্য আমরা,
‘হিন্দুত্বে’র পূজারী।
“হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানে”র
জিগির হুংকার জারি।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন - ২৪.৩.২০১৯
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
.
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন - ২৪.৩.২০১৯
মুসলিমদের করব নিকেশ,
গড়ব ‘হিন্দুরাষ্ট্র’।
আমাদের আছে জঙ্গি সংঘী
পুলিশ-সেপাই-অস্ত্র।

বিরানব্বইয়ে ভেঙেছি বাবরি,
দু’হাজার দু’য়ে গুজরাট।
গণহত্যার রক্তে রাঙানো
আমাদের রাম-রাজপাট।

‘এনকাউন্টার’ সাজিয়ে করব
আদিবাসীদের ধ্বংস।
ব্রাহ্মণ্যবাদী রোষে দলিতের
ঘুচে যাবে জাত-বংশ।

বুলেটে-প্যালেটে তছনছ করে
‘কাশ্মীর’ নেব ছিনিয়ে।
খতম করব কাশ্মীরিদের
উগ্রপন্থী বানিয়ে।

মনগড়া সব গল্পকথায়
ভুলিয়ে দেব ইতিহাস।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন সব --
আর যা কিছু ‘ছাইপাঁশ’!
আমাদের আছে ‘গোয়েবল্‌’ গুরু,
মিথ্যেকে করি ‘সত্য’।
মগজ ধোলাইয়ে পেটোয়া মিডিয়া
মোতায়েন আছে নিত্য।

ভাত ছড়ালেই ঝাঁকের কাকেরা
দলে দলে এসে জুটছে।
গণতন্ত্রের লাশের ভাগাড়ে
চিল-শকুনেরা লুটছে।

কন্ঠ যাদের রুদ্ধ হয় না,
তোলে বিরুদ্ধতার স্বর --
ওরা হবে কালবুর্গি, গৌরী
গোবিন্‌দ, দাভোলকর!

ভোট বৈতরণী পার করে দিয়ে
বাঁচিয়ে রাখতে গদি
আছে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর
অমিত, আদিত্য, মোদি।

ভাঙাগড়া সব ‘ত্রিদেব’-এর হাতে
শোনো সুধীজন মন দিয়া,
আম্বানিদের দাসখতে গড়ে
“ইনক্রেডিবল্‌ ইন্ডিয়া”!
.

দুষ্টকবির মাস্টার-স্ট্রোক কবিতাটি পড়ে . . .

যতদিন রবে তুমি শ্রীঘর বাহিরে,
হে কবি, বন্দিব তবে, এ রচনা তরে।
শুধু মাত্র হাস্যরস প্রচারি প্রাচীরে,
পুরবাসী যাদবের শিক্ষাগুরু মহা
পাত্রস্থিত অম্বিকেশ, গেছেন শ্রীঘরে।
তুমি কি পাইবে পার? সন্দেহামি তাহা।
শুভেচ্ছা শারদ সহ তাই কহি : বাহা: !
কবি সোমনাথ চক্রবর্তী
ফেসবুক
তোলা হয়েছে  ২৪.৩.২০১৯
.
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি মুকুল পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন - ২৫.৩.২০১৯
.
কবি জয় ভাদুড়ী
বাংলা-কবিতা ওয়েবসাইট
সোশিয়াল মিডিয়া থেকে
সংযোজন - ২৫.৩.২০১৯

একটা ভারত ফুটপাথে শোয়
ভিক্ষে করে খায় ,
অন্য ভারত সুইস ব্যাংকে
কালো টাকা জমায় l
একটা ভারত নুন আনতে
পান্তা ফুরিয়ে ফেলে,
অন্য ভারত রাত্রি জাগে
স্যাটেলাইট চ্যানেলে।

একটা ভারত ভাষণ দিচ্ছে
ময়দানে লোক সভায়,
অন্য ভারত পথ হাতড়ায়
খানা খণ্ড ডোবায়।
একটা ভারত কব্জা বাজার
বিশ্বায়নের ছন্দ,
অন্য ভারত ছাঁটাই লে-ওফ
কারখানা সব বন্ধ।

একটা ভারত তাগা তাবিজ
সতিদাহে পোড়ে,
অন্য ভারত মোবাইল ফোন
ইন্টারনেট এ ঘোরে।
একটা ভারত মাথা কূটছে
মন্দিরে মসজিদে,
অন্য ভারত শুকিয়ে মরছে
পেট জুড়ে তার খিদে।
একটা ভারত গান্ধী সুভাষ
ক্ষুদিরামের কষ্ট,
অন্য ভারত ডন মাফিয়া
কাটমানি তে নষ্ট।
একটা ভারত দাঁত নড়লেই
চিকিৎসা বিদেশে ,
অন্য ভারত বন্যা খরায়
যাচ্ছে দিব্বি তেসে ।

একটা ভারত বোমা ফাটায়
হেসে ওঠেন বুদ্ধ,
অন্য ভারত ভেবেই পায়না
কিসের জন্য যুদ্ধ ।
একটা ভারত ভোটে দাঁড়ায়
নোট কমাবার ফন্দি,
অন্য ভারত নিত্য নতুন
ভাষণ ফাঁদে বন্দি ।

একটা ভারত পাঁচটা দশক
রক্ত চুষে খাচ্ছে,
অন্য ভারত ভেতর ভেতর
এবার হয়তো জাগছে ।
একটা ভারত চেষ্টা চালায়
গুলিয়ে দিতে অঙ্ক,
অন্য ভারত সেই সুযোগে
হচ্ছে যে নিঃশঙ্ক।

একটা ভারত থাক বা নাথাক
কি যায় আসে তাতে,
অন্য ভারত জাগবে ভোরে
চেষ্টা করছে রাতে॥
অন্য ভারত
সংগৃহিত
.
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন - ২৫.১.২০১৯
জেগে ওঠো কবর থেকে, শুনছো সুজেট জর্ডন
কথা ও সুর: রাজেশ দত্ত।
রচনাকাল: ১৭ মার্চ, ২০১৯।
কবিকণ্ঠে গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .      

জেগে ওঠো কবর থেকে,
শুনছো সুজেট জর্ডন?
আজ চারপাশে আঁধার দেখে
ডাকছি তোমায়, ওগো বোন।
শুনছো সুজেট জর্ডন?

এখনও অশ্রুভেজা
নরম মাটি সমাধির।
এখনও ভাঙছে পাড়,
বাঁধভাঙা কান্না নদীর।
এই প্রলয় ভাঙনকালে
ফিরে এসো, ওগো সাহসিনী --
দেখো, দিকে দিকে ফণা মেলে
বিষাক্ত নাগনাগিণী।
মৃত্যুঞ্জয়ী, আনো
অমৃত চেতনায় গণজাগরণ।
ডাকছি তোমায়, ওগো বোন।
শুনছো সুজেট জর্ডন?
অনন্ত ঘুম ভেঙে জেগে
গাও ঘুমভাঙানিয়া গান।
অন্ধ মূঢ়তায় বন্ধ্যা
দেশে দাও মৃতজনে প্রাণ।
ওঠো, ফিনিক্স পাখির মতো
নিভন্ত চেতনায় জ্বলে --
গণরোষে সুপ্ত আগুন
ছড়াও দীপ্ত দাবানলে।
বহ্নিশিখায় পুড়ে খাক
হয়ে যাক সব শাসন-শোষণ।
ডাকছি তোমায়, ওগো বোন।
শুনছো সুজেট জর্ডন?

এসো, ঈশাণের কালো মেঘে
কালবৈশাখী ঝঞ্ঝায়।
এসো, বৃষ্টির ধারাপাতে
দহনের দারুণ জ্বালায়।
এসো, হেমন্ত গোধূলিতে
ধানখেতে সোনা রোদ্দুরে।
এসো, হিমেল শীতের রাতে
শুকনো পাতার মর্মরে।
আনো বসন্ত আবাহনে
পলাশের রক্তক্ষরণ।
ডাকছি তোমায়, ওগো বোন।
শুনছো সুজেট জর্ডন?
.
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন - ২৫.৩.২০১৯
গুপীবাঘার ভোটের গান
কথা: রাজেশ দত্ত। মূল সুর: শ্রদ্ধেয় সত্যজিৎ রায়। রচনাকাল: ২২ মার্চ, ২০১৯।
অবিস্মরণীয় ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছায়াছবির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি রূপে সেই জনপ্রিয় গুপীর গানের সমকালীন প্রেক্ষিতে প্যারডি।
কবিকণ্ঠে গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .     

ওরে বাবা, দেখো চেয়ে
কত নেতা ভোটের বাজারে!
কত নেতা, কত কেতা --
এ দল, ও দল, শুধু কোন্দল
দলাদলি করে।
দলাদলি, দলাদলি --
বাহা রে, বাহা রে, বাহা রে!

মুখে মারি জগতং,
কত দল, কত রং!
তেড়েফুঁড়ে রেগে টং,
রেগে টং, রেগে টং --
গালাগালি, চুলোচুলি করে মরে,
যত ব্যাটা ভোটের আসরে।
ওরে, জনমদুখী ভোটার,
তোরা বোতাম টিপে করবি কী তা বল?
ইভিএমের কারচুপিতে
কার ভোট যায় কার ঝাঁপিতে?
ওরে, অবাধ রিগিং, বুথ দখলে
গোড়ায় গণ্ডগোল।

দ্যাখ, বছর বছর চলছে দেশে
মিথ্যে ভোটের ছল।
ওরে, জনমদুখী ভোটার,
তোরা বোতাম টিপে করবি কী তা বল?
নেতা করেন তম্বিতম্বা,
ক্যাডারেরা কীসে কম বা?
ওরে, ভোটার পেয়ে অষ্টরম্ভা
দুর্গতি সম্বল।
তোরা ভোটবাজারে করবি কী তা বল?
ওরে, জনমদুখী ভোটার!

আয়, আয়, আয় রে আয়,
আয় রে, আয়
আয় রে, আয়
আয়রে সবাই জোট বেঁধে,
ফাঁসবো না আর ভোট ফাঁদে, আয় --
আয় ভাই দলে দলে
খাটি যারা ঘাম ফেলে,
আছি যারা ভুখ মিছিলে
রোষানলে উঠি জ্বলে,
উঠি জ্বলে, উঠি জ্বলে --
ওরে… … ...
.
কবি অরুণাচল দত্ত চৌধুরী
ফেসবুক
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
উন্নয়নের চিঠি সে পড়েনি
উন্নয়নের চিঠি সে পড়েনি
চোখে অভাবের চালশে
কার্নিভ্যালের মঞ্চে না গিয়ে
বিষ খেয়ে নিল কাল সে।

প্রায় মরীচিকা চাষের গর্ভে
বাড়ির মেয়ের গয়না
বন্ধক রাখে যে বোকা মানুষ
উৎসব তার সয় না।

থাই পাসপোর্ট, কিলো কিলো সোনা
দেশমুখ্যর ছল
সে তত বোঝে না, অল্পবুদ্ধি
ভালোবাসা সম্বল।

কে চৌকিদার, কে বা ফেডারেল...
কলরব দিবানিশি।
সব ধাপ্পাই ঢেকে দিল তার
কীট নাশকের শিশি।
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
এ কেমন রঙ্গ জাদু
কবি রাজেশ দত্ত

এ কেমন রঙ্গ জাদু, এ কেমন রঙ্গ?
বালাকোটে সার্জিক্যালের মেলে না তো অঙ্ক!
বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে, "জঙ্গি" নিধন কত?
রাজামশাই ঢোক গিলছেন, বেজায় থতমত।
পাক মুলুকে বোমাবাজি নিপাট ধাপ্পাবাজি।
দেশ-বিদেশে ফাঁস হয়েছে রাজার কারসাজি।
মন্ত্রী, নেতা, আমলা যত এমন বেআক্কেলে,
পাঁচজনেতে পাঁচ কথা কয়ে ড্রপসিনটা ফেলে
ভেস্তে দিলে রাজার নাটক, করল বেয়াকুবি!
মাঝদরিয়ায় রাজার ডিঙার হল ভরাডুবি।
বুক ফুলিয়ে যোগীর দাবি, "চারশো জঙ্গি শেষ!"
অমিত শাহের হিসেব বলে, "আড়াইশো নিকেশ"।
মেপেজুকে যৎকিঞ্চিৎ বলে বায়ুসেনা,
বেশি কথা বলতে আছে সরকারের মানা।
সেনাপ্রধান সাফাই দেন, "সফল বিমান হানা।
বোমার ঘায়ে মরল ক'জন যায় না হাতে গোনা।"
যার যা খুশি বলেই চলে, তিনশো, সাড়ে তিনশো ---
যোগ-বিয়োগের অঙ্কে জমে মিডিয়ার টকশো।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ১১ মার্চ ২০১৯
সংযোজন - ২৬.৩.২০১৯
একুশ দলের বিরোধী জোট চেঁচায় সমস্বরে,
"রাজামশাই পুকুর চুরি করছে দিনদুপুরে।"
মুখে কুলুপ এঁটে রাখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী!
ক্ষেপে উঠে রাজা চেঁচান, "সবাই ষড়যন্ত্রী!"
"বিরোধীরা 'দেশদ্রোহী', পাকিস্তানের দালাল।"
তেলেবেগুনে জ্বলে রাজা, যত ওঠে সওয়াল।
বাগিয়ে শিং ভি কে সিং শাঁসায় তেড়েফুঁড়ে,
"প্রশ্ন করলে, পাক মুলুকে ফেলে দেবো ছুঁড়ে!"
ত্রস্ত হয়ে ভুলিয়ে দিতে সবাই ব্যতিব্যস্ত।
কেমন করে ভুলতে পারি ইতিহাস সমস্ত?

ভুলিনি কেউ হীরক রাজার হাজার অধর্ম,
মিথ্যে বলে জিততে ভোটে অতীত কুকর্ম।
কে ভুলেছে বিরানব্বইয়ে বাবরি ভেঙে ফেলা?
"রামজন্মভূমি" নিয়ে ধর্ম ধর্ম খেলা?
কেমন করে ভুলতে পারি গোধরা, গুজরাত?
ঠান্ডা মাথায় খুন হয় সোহরাব, ইশরাত।
ভুলিনি কেউ মালেগাঁও, সমঝোতা এক্সপ্রেস।
বোম্বে থেকে আজমীর -- সন্ত্রাসে আরএসএস।
"মাও" তকমা লাগিয়ে কারা মারছে আদিবাসী?
কীসের ছলে, "জঙ্গি" বলে আফজলের ফাঁসি?
সবরমতীর কামরাতে ধরায় কারা আগুন?
পুলিশকর্তা কারকারের কারা করে খুন?
কী কাণ্ড কান্দাহারে বিমান অপহরণে?
কী চুক্তিতে মাসুদ খালাস হল সংগোপনে?
মক্কা মসজিদে কারা ঘটায় বিস্ফোরণ?
কাদের ষড়যন্ত্রে কাশ্মীরিদের মরণ?
কাদের রোষে স্তব্ধ রোহিত ভেমুলার স্বর?
কেন জ্বলে ভীমকোরেগাঁও, মুজাফ্ফরনগর?
কালবুর্গি, দাভোলকরের প্রাণ কেড়েছে কারা?
পানসারে ও লঙ্কেশ যান কাদের হাতে মারা?
কাদের হিংস্র মুখ ঢাকা ঝুটা গৈরিক বেশে?
ছড়িয়ে গুজব মারছে কারা দলিত সারা দেশে?

কেন ভোগে আমজনতা যাতনার নোটবন্দি?
দেশবাসীকে লুটে কাদের পকেট ভরার ফন্দি?
কাদের হাতে ধ্বংস হল দেশের অর্থনীতি?
"উন্নয়ন"-এর ছলে কাদের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি?
"অচ্ছে দিনে"র স্বপ্নে কারা বানাল রূপকথা?
পিষছে স্বদেশ অহরহ ভুখ-বেকারির যাঁতা।
কারা গড়ে ধর্মমোহের মগজ ধোলাই কল?
বিভেদ বিষ ঢালছে দেশে কোন নাগিণীর দল?
এসব প্রশ্ন মাথার ভেতর খেলে ঘুরপাক,
বলবে রাজা -- "দেশদ্রোহী, বেইমান সব 'পাক'!"
প্রশ্ন তবু বেঁচে থাকে, জমছে বারুদ হয়ে --
সশব্দে পড়বে ফেটে বিক্ষোভে, বিদ্রোহে॥
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
দুষ্টকবি
মিলমসাগরে কবির পাতা
সংযোজন - ২৬.৩.২০১৯
পরিহাস
দুষ্টকবি। রচনা ২৯.০৪.২০১৪। দেয়াল লিখন লিখতে গিয়ে পুলিশ হাত-কড়া দিয়ে নিয়ে গেছে বিরোধী দলের
কর্মীদের! এই অভূতপূর্ব ঘটনার জন্য লেখা।

এতদিনে পাওয়া গেল বামেদের ছড়া!
দেয়ালেতে লিখে পড়েছে হাত-কড়া!
কবিদের এই ঘোর আকালের দিনে,
বামেদের এ কি হাল ক্ষমতার বিনে।

পরিবর্তন বুঝি হোলো কমপ্লিট।
রাজা আজ প্রজা হয়ে এ কি খিটমিট?
পুরোপুরি উলটেছে বুঝি দেশটা!
এতকাল-শাসকের কেলো, কেস্ টা!

সেই সব বুদ্ধির জীবি যারা ছিল,
“পরিবর্তন চাই” যারা বলেছিল---
মুখ লুকাবার কোরোনাকো চেষ্টা,
তাওয়া থেকে তন্দুরে আজ দেশটা।
তিন-ফলা বাতি দিয়ে শুরু লাফ-ঝাঁপ!
সারদাতে বোমা ফেটে “পুকুরটা” সাফ্!
সিঙ্গুরের তাপসীর কে বা রাখে খোঁজ,
নন্দীগ্রামে আজো চোদ্দো নিখোঁজ!

কারা যেন বলেছিল দেবে প্রতিকার!
গণতন্ত্র এনে দেবে অধিকার,
প্রশ্ন করলেই সোজা হবে জেল!
কার্টুন আঁকলেই শুরু হবে খেল!

কেন চেয়েছিল সবে পরিবর্তন?
দুষ্ট কবিও ছিল তার একজন।
লোকমাঝে সেও আজ হাসির খোরাক!
মুখ তারও পুড়ে মিশে গিয়ে আজ খাক্!
.
দুষ্টকবি
মিলমসাগরে কবির পাতা
সংযোজন - ২৭.৩.২০১৯
দম আছে তাই দময়ন্তী  কাটালেন তিনি এই ভ্রান্তি
যে “পার্কস্ট্রীটে ছিলো সব সাজানো"।
মেয়েটির ক্রন্দন থামালেন            তিন দিনে আসামীকে ধরলেন
পথ পায়নি অনেকেই পালানোর॥

দেশজুড়ে বাহবার মধ্যেই               সংবাদ শিরোনামে জমতেই
পেলেন মুখ্যমন্ত্রীর বকুনি।
হরিদাস বাংগালি হতবাক্                 দুষ্ট কবির তো লাগে তাক্
দেখে বিপরীত ফল বীর রমণীর॥

শুরু ফোটা সত্যের ছবিটা               আগামীতে বঙ্গে কি হবে, তা
ঘাসফুলে ঢাকা ছবি এদেশের।
দেখে পুলিশের এই বীর প্রমীলার         মেডেলের বদলে ট্রান্সফার
মনোবল ধূলো চাটে পুলিশের॥

.                      **************************   কলকাতা, ১২.৭.১০১৫
.
পার্কস্টীটে এক মহিলার অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন “সব
সাজানো ঘটনা ও বিরোধীদের চক্রান্ত।” কিন্তু কলকাতা পুলিশের সাহসী পুলিশ  
অফিসার দময়ন্তী সেন সেই কেসের কিনারা করে দেন তাড়াতাড়ি। মুখ্যমন্ত্রী এই পুলিশ
অফিসারকে পুরস্কারের বদলে দেন শাস্তিমূলক বদলি! দুষ্টকবি ১৯.২.২০১২ তারিখে
একটি ছড়া লেখেন এই বিষয়ে। এই কবিতার জন্য আবার নতুন করে এই কবিতাটি
লেখা হয়েছিলো যা পরিবর্তনের পরে কে কোথায় দাঁড়িয়ে দেয়ালিকা-১ এ প্রকাশিত হয়।
পার্কস্ট্রীট কাণ্ডের কিছু কথা শুনতে
এখানে ক্লিক করুন . . .   
দুষ্টকবি
মিলমসাগরে কবির পাতা
এই পাতায় সংযোজন -
২৭.১.২০১৯
পরিহাস - দুষ্টকবি
আমজনতার ভোটের ইশতেহার - রাজেশ দত্ত
রাজতন্ত্র - আর্যতীর্থ
ভোটের দেয়ালিকা - রাজেশ দত্ত
অসময় - স্বপ্নীল রায়
সেল্ফির গান - কবি কাকলী রায় ঘোষ
চাঁদমারি - আর্যতীর্থ
ভোটের বুথে কি খেল দেখাইল - বিজয় মাহাতো
ভাঙরে ঙাঙ্ ভাঙরে ভাঙ্ - নিবারণ পণ্ডিত
ভোটের গান ১ - বিদ্যুৎ ভৌমিক
সরষা তেল দুকুড়ি টাকা পোস্ত দু একশ টাকা - বিজয় মাহাতো
পেটের কথা কেউ বলে না - নিবারণ পণ্ডিত
ভোটের গান ২ - বিদ্যুৎ ভৌমিক
বনে কেন কাঁদিস টুসু কেউ ঠাবেক কাঠ বোঝা - বিজয় মাহাতো
ই দেশ ছিল দেশের সেরা - নিবারণ পণ্ডিত
রদী মোর ভাই - নিবারণ পণ্ডিত
ভোট দিবা কারে - রমেশচন্দ্র শীল
এটা যে নাই রাজার দেশ - পরেশ ধর
মুরগী ক্যারক্যারায় - পরেশ ধর
ভোট এসেছে - মুরারি মুখোপাধ্যায়
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ভোটের ঢাকেতে পড়ে গেল কাঠি,
হইচই দেশ জুড়ে।
কত নেতা, কত রঙের পার্টি
পথে নামে জোরেশোরে।

মিটিং-মিছিল ফেস্টুন কত —
কত বাহারি জেল্লা!
সবাই কষছে ভোটের অঙ্ক
করতে ফতে কেল্লা!

কত দর কষা, রঙ্গতামাশা
দলাদলি, গলাগলি।
জিততে আসনে, বচনে-ভাষণে
প্রতিশ্রুতির বুলি।

কেউ পরে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি,
তেরঙা উত্তরীয়।
কারো পরিধানে খাদির বস্ত্র,
গান্ধী টুপিই প্রিয়।

বৈরাগী ভেক ধরে কত নেতা
গেরুয়া বেশ-বসনে।
নেক্সট জেনের মন কেড়ে কেউ
সাজে হালের ফ্যাশনে।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ২৮ মার্চ ২০১৯
সংযোজন - ৩০.৩.২০১৯
মিডিয়ার ফ্ল্যাশলাইট ঝলকে
মিঠে হাসি ঝোলে ঠোঁটে।
মেপে কথা কয়, ছেড়ে কনভয়
অলিগলি পথে হাঁটে।

কেউ ছাড়ে দল পাল্টিয়ে ভোল,
বিকোয় ভোটের হাটে।
দলবদলের ট্র্যাপিজের খেল
ভোট-সার্কাস মাঠে!

কত জোট গড়ে, কত জোট ভাঙে
কত ঘেঁটে ‘ঘ’ কে জানে?
আসন রফার দরাদরি চলে
বারো ভূতের গাজনে।

নেতারা গাজন সন্ন্যেসী হয়ে
ঘুরে ফেরে দোরে দোরে,
বাবা ভোটনাথের চরণ সেবায়
ভিখ মাগে করজোড়ে।

‘'তাসের দেশে’র রাজার মেজাজে
মোদি রোড শো-এ নামে।
ইসকাপনের রানিবিবি হয়ে
দিদির প্রচার জমে।
রানি বিলি করে দু’টাকার চাল,
রাজা “জনধন যোজনা”।
দস্যুভোগ্য ভিখারি স্বদেশ
এ অপমান বোঝো না?

কৃষক দরদি সেজেছে সবাই —
মমতা, নরেন মোদি।
স্কিমের নামের আহা কী বাহার!
“সাথী”, “সম্মান নিধি”!

মাথাপিছু টাকা হিসেব কষলে
মাথা হেঁট লজ্জায়।
হায়, পোড়া দেশ অন্নদাতাকে
মুষ্টিভিক্ষা দেয়!

গরিব কিষাণ চায় সম্মান,
চায় না ভিক্ষা নিতে।
আবাদভূমির অধিকার চায়,
হকের লড়াই জিতে।

অনুদান দেবে? বেইমান যত
লুঠেরাদের দল —
গরিবের শ্রম চুরি করে গড়ো
ধনীর রাজমহল।
টাকা লুঠ করে চম্পট দেয়
মাল্য, নীরব, মেহুল —
লুণ্ঠিত দেশে নিরন্ন পেটে
নোটবন্দির শূল!

আম্বানিদের প্রাসাদের ইট
গরিবের খুন মাখা।
মজুর, চাষি, গরিবের ধন
লুটে জমে কালো টাকা।

সারদা কাণ্ড, নারদার ঘুষ,
রাফাল কেলেঙ্কারি —
বুঝে ওঠা দায় দুর্নীতি ভারে
কার পাল্লাটা ভারী?

মোদি, মমতা একই আধুলির
এই পিঠ, ওই পিঠ।
কোরাপশনের কম্পিটিশনে
দু’জনে সুপার হিট!

দিদি ভুলে গেছে “মা-মাটি-মানুষ’’,
‘পরিবর্তন’ বাণী।
মোদি ভুলিয়েছে “আচ্ছে দিনে”র
স্বপ্নের হাতছানি।
মোদির “উজালা যোজনা”য় শুধু
গ্যাস চুল্লিই মেলে।
গ্যাসের অর্থ যুগিয়ে কে দেবে
গরিবের চুলো জ্বেলে?

“আয়ুষ্মান্ বিমা” প্রকল্পে
কাদের পকেটে ভরে?
বেসরকারি কোম্পানিদের
লাভের অঙ্ক বাড়ে।

শিক্ষা-স্বাস্থ্য সব পরিষেবা
কর্পোরেটের হাতে।
গরিব ক্রমশ হচ্ছে নিঃস্ব,
ধনপতি মৌতাতে।

কৃষকের বীজ সারে উঠে যায়
সরকারি ভর্তুকি।
ফসলের দাম কমছে, চাষের
খরচ ঊর্ধ্বমুখী।

কিষাণের ঘরে ভাতে পড়ে টান,
দেউলিয়া হয় ঋণে।
গরিব চাষির শেষ সম্বল
লুটে নেয় মহাজনে।
অভুক্ত চাষি বিষ খেয়ে মরে,
পরছে গলায় দড়ি।
অন্নদাতারা হা-অন্ন হয়ে
পথের ধূলায় ভিখারি।

তালা ঝোলে কত কারখানা-কলে,
দুঃসহ দুর্দিন।
লক আউট ছাঁটাই যাঁতায় পিষে
শ্রমিক কর্মহীন।

তাজা রক্তের দাগ লেগে আছে
হাতুড়ি, লাঙল ফালে।
“স্বচ্ছ ভারত” গড়তে কে পারে
এই দাগ মুছে ফেলে?

কত “কন্যাশ্রী” হয় ধর্ষিতা
“বেটি বাঁচাও”-এর দেশে!
নারীর ইজ্জত, অধিকার কাড়ে
বর্বর পৌরুষে।

কত ফুল ঝরে কামদুনি গাঁয়ে,
উন্নাও, কাঠুয়ায় —
নিপীড়িতা নারী পায় না বিচার
পার্ক স্ট্রিটে, কাটোয়ায়।
ধর্মের রাজনীতির ফিকিরে
সাপলুডো খেলা চলে।
দিদির ‘লৌহবাসর’ ছিদ্রে
মোদির ‘সর্প’ গলে!

মোদি দংশায় ‘কাল সাপ’ হয়ে,
দিদি ‘ওঝা’ হয়ে ঝাড়ে!
ধর্ম বিভেদ বিষের জ্বালায়
রাম-রহিমেরা মরে।

দিদি আওড়ায় ‘রবি-নজরুল’
‘সহিষ্ণুতা’র বাণী!
রানিগঞ্জ থেকে বসিরহাটে —
ধর্মের হানাহানি।

‘যবন’’, ‘কাফের’ উঠছে জিগির,
দাঙ্গা বাঁধছে দেশে।
রামনবমী, ঈদ-ইফতার
ভোটের অঙ্ক কষে।

রাজনীতি দুর্বৃত্তকরণে
পটু রাজা-রানি সব।
মোদির বাহিনী জঙ্গি ‘সঙ্ঘী’,
মমতার ‘ভৈরব’।
‘হার্মাদ’’ থেকে ‘ভৈরব’ হল,
‘ভৈরব’ থেকে ‘হনু’,
মৌলবীদের ‘শরিয়ত’ থাকে,
টিকিধারীদের ‘মনু’।

বেকসুর হয় অসীমানন্দ,
অমিত শা, কোদনানি।
শাস্তি পায় না অনুব্রতেরা,
আরাবুলের বাহিনী।

মঠ-মন্দিরে দান-খয়রাত,
ইমামেরা পান ভাতা।
কৃষকের ঘরে চড়ে না তো হাঁড়ি,
উপোসী অন্নদাতা।

কত ‘রহিমে’রা ভুখা পেটে কাঁদে,
মৌলালি, মালদায় —
কত অভুক্ত ‘রাম’ পথে পড়ে
শিয়ালদা, শিলদায়।

কত ‘সীতা’ পোড়ে অগ্নিশিখায়
বাংলায়, গুজরাটে।
শোকের দাহনে জ্বলে ‘কারবালা’
গোধরা, বসিরহাটে।
কত ‘আলি’ খুন হয়ে যায় দেশে
বিষমাখা তলোয়ারে।
নয়া ‘রামরাজে’ কত ‘শম্বুক’
ভেমুলার মতো মরে।

ক্ষুধার্ত দেশ, রুজিরুটি নেই,
ঘরে ঘরে হাহাকার।
সীমান্তে রণবাদ্য বাজায়
ভারতের হিটলার।

বনবাসীদের উচ্ছেদ করে
“সবুজ শিকারী” সেনা।
জল-জঙ্গল-জমিন লুটতে
কর্পোরেটের হানা।

হায়রে ভারত, আমার স্বদেশ
এ কোন সহিষ্ণুতায়?
সন্তানহারা হয়েও কাঁদো না
জননী যন্ত্রণায়!

তোমার মাটির বুক চিরে লুঠ
তোমার ঐশ্বর্য।
তবুও তোমার বুক ফাটে না,
অসহ্য এই ধৈর্য!
নব ‘পাণ্ডব’ খান্ডবদাহে
পোড়ায় অরণ্যানী।
তবুও ধরণী থাকো নির্বাক,
হায়, আদিম জননী!

জল্লাদের এই বধ্যভূমি
আমার স্বদেশ নয়।
বুকের যাতনা আখরে গাঁথতে
কলমের নিব ক্ষয়।

বছর বছর ভোট আসে যায়
নির্দয় প্রহসনে।
মুমূর্ষু দেশ ধুঁকতে ধুঁকতে
দাঁড়ায় ভোট-লাইনে!

পাগল ‘মেহের আলি’’ তবুও
কন্ঠ ছেড়ে চেঁচায় —
রঙবদলের ‘গণতন্ত্রে’র
সব কুছ ঝুট হ্যায়!

************************************
.
রাজতন্ত্র
যাকে ভোট দেবো ভালোবেসে, সে মানুষ দাঁড়াবে কি ভোটে,
অটোতে যে বসে পাশ ঘেঁষে , বাস এলে পা মিলিয়ে ছোটে,
সবজিতে ঘোর দরাদরি, মিছিলে আটকে ফেরে রাতে,
তাকে যদি  প্রতিনিধি ধরি, কোনো দল দেবে কি দাঁড়াতে?

যেই চাষী মাটি-ঘ্রাণে বাঁচে, ঘাম যার রোজকার ব্রত,
প্রাসাদের আনাচে কানাচে, তারা গেলে বড় ভালো হতো।
ডিগ্রীকে তাকে তুলে রেখে, যে যুবক হকারি ধরেছে,
কখনো কি যাবে দেশ দেখে, কেউ তাকে প্রার্থী করেছে?

ভোট এলে দেখি চারপাশে , তারকারা আশা ফেরি করে
যে কখনো দেয়নি পা ঘাসে, একহাঁটু মাটি মেখে ঘোরে।
সিন্দুকে  টাকা যার কোটি, সে-ও করে গরীবীর শোক
এরই নাম হয়তো প্রগতি , নেতা নয় সাধারণ লোক।

অবশ্য ইতিহাস বলে , আমাদেরও দোষ আছে বহু,
যা চলতো বাদশা আমলে, কপি পেস্ট করছি হুবহু।
রাজা কেউ রুটি  ছুঁড়ে দিলে, সাবড়াই প্রসাদের জ্ঞানে
হাঁটছে যে রোজের মিছিলে, কে তাকে নেতা বলে মানে?

এক রাজা গিয়ে আর রাজা, আমাদের ভোট বয়ে আনে . . .
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ভোটের দেয়ালিকা
ভোটের লিখন পাড়ায় পাড়ায়
ইটের দেয়ালে।
লাল, সবুজ আর গেরুয়া সব
দলের দখলে।
আমজনতার মনের কথা
কোথায় লিখি, ভাই?
সব দেয়ালে পার্টি প্রচার,
জায়গা খালি নাই।
অনেক খুঁজে হদিশ পেলাম
মিলনসাগরে।
একটি দেয়াল মস্ত বড়ো
আছে ফাঁকা পড়ে।
সেই দেয়ালই ভরিয়ে তুলি
ছন্দে-আখরে,
জনগণের মনের কথন
'দেয়ালিকা' জুড়ে।

নাই বা হল শক্তপোক্ত
ইটের গাঁথুনি।
ভার্চুয়ালে আলগা হয় না
ছড়ার বাঁধুনি।
সোজা কিংবা বাঁকা চোখে
যেমন খুশি পড়ুন।
হেলায় হেসে ওড়ান বা
যতই গোঁসা করুন।
নিন্দা, গালি, উপেক্ষা সব
নিলাম পেতে মাথা।
আমরা বেকার, পেয়েছি লেখার
অবাধ স্বাধীনতা!
কবি আর্যতীর্থ
বিদগ্ধ চিকিত্সক ও কবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
বাংলা-কবিতা ওয়েবসাইট
রচনা - ৩০.৩.২০১৯
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ৩০.৩.২০১৯
সংযোজন - ৩০.৩.২০১৯
ভোটের লিখন পাড়ায় পাড়ায়, ইটের দেয়ালে।
লাল, সবুজ আর গেরুয়া সব, দলের দখলে।
আমজনতার মনের কথা, কোথায় লিখি, ভাই?
সব দেয়ালে পার্টি প্রচার, জায়গা খালি নাই।
অনেক খুঁজে হদিশ পেলাম, মিলনসাগরে।
একটি দেয়াল মস্ত বড়ো, আছে ফাঁকা পড়ে।
সেই দেয়ালই ভরিয়ে তুলি, ছন্দে-আখরে,
জনগণের মনের কথন, 'দেয়ালিকা' জুড়ে।
কবি রাজেশ দত্তর পুরো ছড়াটি পড়তে . . .
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি স্বপ্নিল রায়
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৩১-৩-২০১৯
.
কবি কাকলী রায় ঘোষ
সংযোজন - ৩১.৩.২০১৯
সেল্ফির গান কবি কাকলী রায় ঘোষ
সেলফি ছাড়া
দিন যে জোলো,
সেলফি তোলো
সেলফি তোলো।

ট্রেন লাইনে
বাম ডাইনে
প্রাণের ঝুঁকি,
তাতেই বা কি ?
নদীর বুকে
হাস্য মুখে,
পথের মাঝে
পাহাড় খাঁজে,
ঝোপে ঝাড়ে
ঝিলের পাড়ে,
পার্কে বসে
নজর কাড়ে,
সেলফোন টি
বাগিয়ে ধরে
দেখতে দে না
কেমন হলো,
সেলফি তোলো
সেলফি তোলো।
টাকলু দাদু
গুঁফো মামা,
মডার্ন কাকার
ব্র্যান্ডো জামা,
হেয়ার কাটে
গগন ফাটে,
ডিস্কো থেকে
গড়ের মাঠে,
বাইরে গেলে
কি বা খেলে,
বিরিয়ানী ..
ফ্রাই কি পেলে ?

সিনেমা হলে
শপিং মলে,
জোড়ায় জোড়ায়
দলে দলে,
বন্দী কর
সেলফি তুলে,
যাচ্ছো ভুলে ?
কানটা মলো,
সেলফি তোলো
সেলফি তোলো।
পাড়ার হটি
খোলা চুলে,
হিরোর বাইক
স্পীডে তুলে,
ওল্ড প্রেমিক ও
দুঃখ ভুলে
সেলফি তোলে
হ্নদয় খুলে।
প্রথম ধুতি
প্রথম শাড়ি,
প্রথম প্রেমের
মিষ্টি আড়ি,
সেলফি নিতে
কাড়াকাড়ি,
একটা চুমু
বাড়াবাড়ি !
ও মেরি জান
ঘোমটা খোলো...
সেলফি তোলো
সেলফি তোলো।

ডিপ্ লিপস্টিক
কাজল চোখে,
জিভ ভেঙিয়ে
ছুঁচো মুখে,
ওয়াও বেবি
হট্ নাকি কুল্
লাগছো তুমি
কি বিউটিফুল,
কমেন্ট দিলো
রাঙা মূলো,,
সেলফি তোলো
সেলফি তোলো।

কুর্তি কালো
লাগছে ভালো,
ফেসবুক যে
করছে আলো,
নীলচে শাড়ি
দুষ্টু ভারি,
ফ্লোরাল টপে
কিউট নারী,
হলদে ড্রেসে
মিষ্টি হেসে
ঝগড়া করে
ভালবেসে,
ব্রেকাপ হলো
সেলফি তোলো,
সেলফি ছাড়া
বৃথাই গেল।


বর কনেতে
এক মনেতে,
বাসর ভুলে
সেলফি তোলে,
ফুলের মালা
খুলে ফেলে,
প্রেম পিরীতি
শিকেয় তুলে,
এই দিন টাও
দেখতে হলো!
সেলফি তোলো
সেলফি তোলো।

মরছে মানুষ
ডুবছে জলে,
সবার সাথেই
সেলফি চলে,
ব্যাঙ্ক ডাকাতি
গন্ডগোলে,
চলন্ত ট্রেন
উল্টে গেলে,
ভেঙে পড়া
উড়ালপুলে,
ভূমির কাঁপন,
বন্যা হলে,
খরায় গেলে
রসাতলে,
রণে বনে
কিংবা জলে,
গোমুখ্যুরা
নেতা হলে,
ঘুষ খাইয়ে
চাকরি পেলো,
সেলফি তোলো
সেলফি তোলো।
অফিস কলেজ
খেলার মাঠে,
হাটবাজারে
শ্মশানঘাটে,
পারলে শুয়ে
মরার খাটে,
বল্ হরিবোল
চিতায় তোলো,
শেষ বারটি
চোখ তো খোলো,
চুল্লী পিছে
সেলফি তোলো।
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
সেলফি তোলো
সেলফি তোলো,
জীবন ভোলো
জগৎ ভোলো,
কে বা এলো
কে বা গেল,
তাতে না হয়
বয়েই গেল,
দেখতে তোমায়
লাগছে ভালো,
মিষ্টি হেসে
সেলফি তোলো।

হালকা ভোরে
ঘুমের ঘোরে,
রোদে পুড়ে
ভর দুপুরে,
নিশুত রাতে
বাড়ির ছাতে,
কিংবা মাঠে
পুকুর ঘাটে,
সেলফি ওঠে
লাইক জোটে,
.
চাঁদমারি কবি আর্যতীর্থ
নকীব চেঁচালো একদিন ভোরে, ‘জড়ো হও সব জনগণ,
যে যেখানে আছো কাজ ছেড়ে আজ এইদিকে ঢালো তনুমন।
সুখবর আছে মস্ত সে এক, সকলের কানে যাক তা
প্রগতির দিকে চলেছে যে দেশ, আগামী এনেছে বার্তা।
অলিন্দে রাখো চোখ সব্বাই, হবে মহারাজ দর্শন,
হতে পারে আজ স্বর্গের থেকে পারিজাত ফুল বর্ষণ।
নিজের মুখেই বলবেন রাজা, কত এ মহান কীর্তি,
বিরোধীর যত প্রশ্নের ঢিলে এটা পাটকেল ফিরতি।

শুনে চাষী ভাবে এতদিনে তবে সুরাহা হয়েছে শস্যের
এতদিন এক সের দাম দিয়ে ফড়েরা নিয়েছে দশ সের।
নির্ঘাত রাজা করেছেন কিছু , প্রগতির তুলি বুলিয়ে
মহাজন দেবে ন্যায্য মূল্য ভান্ডারে ধান তুলিয়ে।
খিদের শেকল আজীবন পরে দাদনের ক্রীতদাস,
রাজার ঘোষণা শুনে সে আশায়, খেতে পাবে বারোমাস।

শ্রমজীবী ভাবে এবারে খুলবে কারখানাদের তালা,
চাকরী হারিয়ে কঠিন জোটানো দুবেলা ভাতের থালা।
আজকে ঘোষণা নির্ঘাত বান-জোয়ার আনবে শিল্পে
ঘাম দিয়ে গড়া কামের ইনাম এতদিনে ঠিক  মিলবে।
স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে বেকারি যাদের গ্লানি,
( অনশনে কেউ কত সাড়া দেয় সকলেই সেটা জানি)
তারা বুক বাঁধে নতুন আশায়, হয়তো চাকরি জুটবে
ম্লান হয়ে থাকা শিক্ষিত মুখে অবশেষে হাসি ফুটবে।
কবি আর্যতীর্থ
বিদগ্ধ চিকিত্সক ও কবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
বাংলা-কবিতা ওয়েবসাইট
রচনা - ২৭.৩.২০১৯ তারিখে করা
অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল পরীক্ষার
পর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে রচিত।
তোলা হয়েছে  ২১.৩.২০১৯
রোগীরা ভাবছে হয়তো এবারে বাজেট বাড়বে স্বাস্থ্যে,
উড়িয়ে দেবে না ব্যাঙের আধুলি কর্পোরেটের কাস্তে।
সরকারি যত হাসপাতালের যন্ত্র এবং যন্ত্রী,
এত ঠিক হবে, শরীর খারাপে ভর্তি হবেন মন্ত্রী।
চিটে ঠকা লোক ভাবে অবশেষে আসছে বিশেষ ঘোষণা,
( এতদিন বলা হয়েছে ঘুরিয়ে বুড়ো আঙুলটি চোষো না)
ধরা পড়ে যাবে সবকটা ঠগ, পর্দা আড়ালে কালো হাত,
এই আশা বুকে শুরু করে তারা ‘জয় জয়’ বলে কালোয়াত।

অবশেষে এলো মাহেন্দ্রক্ষণ, সামনে এলেন নৃপতি
( বীরবাহু তিনি, টক্করে তার পিছু হটে সব বিপদই)।
জলদমন্দ্র কন্ঠতে রাজা বেছে বেছে কন শব্দ,
বরাবরই তার তীক্ষ্ণ ভাষণে বিরোধী হয়েছে জব্দ।
রাজা হাঁকলেন, মহাশূন্যতে দেশ দিলো আজ পাড়ি,
ইচ্ছে করলে গোলাগুলি আজ চাঁদেও চালাতে পারি।
আগামীতে যদি চন্দ্রপৃষ্ঠে কখনো যুদ্ধ লাগে,
জেনে রাখো তবে, সেই চাঁদমারি আমাদের জয়ভাগে।

জনতার মাঝে কে যেন চেঁচালো, ‘পেটে বড় খিদে জাগে . . .’
.
কবি বিজয় মাহাতো
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
কবি নিবারণ পণ্ডিত
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
ভোটের গান – ১
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক, ১৯৮২ তে রচনা |
বহু বহু মিটিং মিছিলে গাওয়া | এ গান আজও প্রাসঙ্গিক |

ও দাদা জমছে না ভোটের বাজার,
ভোটের নেতায় বুকনি বেচেন চটকদার ||
সবাই ভাবেন দিল্লী যাবেন পাবেন গদি দিলবাহার ||

মিছিল সাজিয়ে মাইক বাজিয়ে,
ফাঁপা গলায় ফাঁকা বুলি মিটিংয়ে দিয়ে,
মন্ত্রী হবেন উর্দি পাবেন লুট-মহালের তহ্ শীলদার ||

কংগ্রেসী দেয় বাত দিনেক বানায় রাত,
শান্তি ঐক্য সংহতি সব আনবে কাটা হাত |
কুঁজোয় শোবে সটান হয়ে পঙ্গু ডিঙোবে পাহাড় ||

কি যে কয় পাগল, ( শুনে ) হাসে রামছাগল,
দর কমাবে চাকরি দেবে খুলবে বন্ধ কল |
বাঘে নেবে গো-রাখালি চোর হতে চায় চৌকিদার ||

ঐক্য সংহতি দেশের অগ্রগতি
খাটিয়ে মাথা বের করেছে দারুণ পদ্ধতি |
বসাবে গরুর গাড়ীতে হেড্ লাইট, ঠেলবে ঠেলা কম্পুটার ||

শরীর ঝাঁকিয়ে মুষ্টি পাকিয়ে
বামফ্রন্টী নেতারা বলেন ঘাড়টি বাঁকিয়ে |
আবার মোর্চা পাচ্ছি, দিল্লী যাচ্ছি দেখিয়ে দেবো চমত্কার ||

বেকার হটাবো, চাঁদ ধরে দেবো,
রুশ-মার্কিনী পুঁজি এনে ব্যাওসা বাড়াবো |
সাম্রাজ্যবাদ লুটুক নাফা, চাকরী হোক মামার শালার ||
ঐক্য সংহতি দেশের অগ্রগতি
রাষ্ট্র মোর্চা খিচুড়িতে দুরন্ত গতি |
বন্ধু রাজা হলে দেখিয়ে দেবো ন্যায়বিচার ||

আমরা শান্তিবাদী ভাই রাজ্যে শান্তি চাই,
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে খুন করি মাধাই |
নিরামিষ ছিল আমিষ হলো জ্যোতি-বচন বেদের বার ||

ভাঙতে আন্দোলন আছে সরস আয়োজন,
লাঠি পেটাই গুলি চালাই, নয় কথা গোপন |
কেন্দ্রের দৈন্য, পাঠায় সৈন্য আমরা নামাচ্ছি ক্যাডার ||

আমরা যত বিরোধী,  ছিলাম প্রতিবাদী
গদি পেয়ে হয়ে গেছে ঠ্যাঙাড়েবাদী |
এখন গদিই মোক্ষ গদিই লক্ষ্য জনগণের কপ্ নি সার ||

ঐ যে পৈতে টিকির দল আদবানি-অটল
( বলে ) চল্ ঘুরিয়ে চল পেছিয়ে, রামরাজত্বে চল
বাবরি ভাঙবো দাঙ্গা করবো লাগিয়ে দেবো ধুন্ধুমার ||

ওরা রামের ভক্ত নয় দেশের ভক্ত নয়
ভুজোর লোভে পূজোর বাড়ির পুরুত মহাশয়
হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্থানের জুড়েছে জবর চীত্কার ||

যত লুটের কারবারী মুনাফার ব্যাপারি
আইন-আদালত মন্ত্রী পুলিশ সবই তাদেরই |
( ওরা ) মোদের অর্থে ওদের স্বার্থে ভোটে গড়ে এ সরকার ||

ভাই রে, নিজের ঘর সামলে হয়ো না বেহাল
ভালো করে বুঝে নাও এই ধাপ্পাবাজির চাল |
ভোটের ঘোটে সময় নষ্ট জোট বেঁধে লড়া দরকার ||
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
কবি বিজয় মাহাতো
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
কবি নিবারণ পণ্ডিত
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
ভোটের গান – ২
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক

একবার ঠকলে ঠকের দোষ
( আর ) দুবার ঠকলে আহাম্মক,
ঠোকর খেয়ে বোকাও শেখে তিনবারে,
ঠেকে শেখাই আসল শেখা সংসারে ||
ফি বছরে ভোটের জ্বরে কত না বোলচাল,
দেঁতো হেসে নেতা ফেরান গরীব লোকের হাল |
দিন ফেরে না নেতা ফেরে আবার ভোট এলে পরে ||

বাইরে দেখি নেতায় নেতায় কতই চুলোচুলি,
অন্দরেতে বেজায় পিরীত হয়ে গলাগলি |
মোদের পাতে বেড়াল কাঁদে মেদ জমে নেতার ঘাড়ে ||
নিত্য চলে মিছিল মিটিং লড়াই লড়াই খেলা,
চাঁছা গলায় চাপান উতোর জবাব দেবার পালা |
শুনলে মগজ হাঁচোড় পাচোড় কান দুটো ভোঁ ভোঁ করে ||

ভালই বুঝি, লংকা, যে যায় সেইতো হয় রাবণ,
গদী পেলে একই চালে শোষণ আর শাসন |
ভোটে রাজা বদল হলেও রাজবদল তো হয় নারে ||

হাত চিতিয়ে চাইলে খাবার জুটবে মিঠে বুলি,
মুঠোয় করে ধরলে পরে ছুটবে সীসের গুলি |
মাথা তুলে হক চাহিলে ( দেবে ) ছ-ইঞ্চি ছোট করে ||

মিথ্যে আশা ঠক-গদীবাজ নেতার পিছে ধাওয়া,
এবার শুধু জোটের জোরে বাঁচারই গান গাওয়া |
ভোটের ঘোটে মিললো না যা নেব তা লড়াই করে ||
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
কবি বিজয় মাহাতো
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
কবি নিবারণ পণ্ডিত
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
কবি নিবারণ পণ্ডিত
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
ভোট দিবা কারে
কবি রমেশচন্দ্র শীল

ভোট দিবা কারে তোমরা ভোট দিবা ভাই কারে
ভোটের জ্বালায় অস্থির হইলাম টিকতে নারি ঘরে |
যদি কাপড় আনতে যাই দুঃখের সীমা সংখ্যা নাই
হুজুরে মজুরের মত দাঁড়াই করজোড়ে |
ফুড কমিটিতে যায়, ইউনিয়ন বোর্ডে দাঁড়ায় |
এক জনেরে তিন চার জায়গায় ভোট দি কেমন করে |
যদি ঘর ডাকাতি হয়, তাদের সুযোগ অতিশয়
ভোট দিতে যে নারাজী রয়, ধরিয়া দিবে তারে |
ভাই বলতে কি সরম, আগে কথা কয় নরম,
ভোট পেলে হয় মহাগরম, যেতে নারি ধারে |
শুন হিন্দু মুসলমান, রাখ কৃষকের পরাণ,
কৃষকের দরদী পেলে ভোট দিও ভাই তারে |
কবি রমেশচন্দ্র শীল
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
এটা যে নাই রাজার দেশ   
কবি পরেশ ধর    

এটা যে নাই রাজার দেশ
আমরা হেথায় হাওয়া খেয়ে সুখে আচি বেশ
ভাত নাই কাপড় নাই চাকরি মোদের নাই
মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই ফুটপাথে ঘুমাই
কয়লা নাই বিদ্যুৎ নাই বন্ধ হল কল
দেশটা জুড়ে এমন কি ভাই নাই খাবার জল
জনগণের দুর্দশা যে কবে হবে শেষ

ট্রামে বাসে জায়গা নাই অফিস যাওয়া দায়
হাসপাতালে সিট নাই রোগীর প্রাণ যায়
শুকনো মাঠে শস্য নাই গোলায় নাই ধান
গাছে গাছে ফুল নাই নাই পাখির গান
অভাবের এই ফিরিস্তিটা কোথায় করি শেষ
শ্রদ্ধা নাই ভক্তি নাই নাইরে হৃদয়
স্বার্থত্যাগের কথা নাই একী দুঃসময়
অফিসে আর আদালতে নাই রে সততা
নিরাপত্তা নাই জীবনে সর্বত্র ব্যর্থতা
লড়াই ছাড়া এই জীবনে ঘুচবে না তো ক্লেশ
কবি পরেশ ধর
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.
মুরগী ক্যারক্যারায়
কবি পরেশ ধর    

মুরগী ক্যারক্যারায়
মুরগী ক্যারক্যারায় ক্যারক্যারায় আন্ডা পাড়ে না
মিথ্যে বুলি কপচায় তবু ঠমক ছাড়ে না

বলেছিলে তুমি যদি দেশের গদী পাও
দুধে ভাতে খাবো দুঃখ হবে যে উধাও
( কিন্তু কি হল ?  )
একবেলা খাই আরেক বেলা অন্ন জোটে না

বলেছিলে জমির মালিক চাষীরা হবে
নিজের জমি নিজের ফসল নিজেরই ঘরে
( কিন্তু হয়েছে উল্টো ! )
এই জমি থেকে চাষী উচ্ছেদ বন্ধ হচ্ছে না
কবি পরেশ ধর
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
মজুর হবে কলের মালিক তাও বলেছিলে
শোষণ বন্ধ হবে তুমি শাষন হাতে নিলে
( কিন্তু কি দেখছি----- )
ধনী ছাড়া কলের মালিক হতে পারে না
বলেছিলে বেকারেরা চাকরি যে পাবে
রোয়াক বাজী বন্ধ করে অফিসে যাবে
( কিন্তু ------ )
দিনে দিনে বাড়ছে বেকার চাকরি পাচ্ছে না

সমাজতন্ত্র আসবে দেশে বলেছিলে কত
এখন দেখছি মালিক তোষণ তোমার মহান ব্রত
কালোবাজার ছাড়া কোন জিনিস মেলে না

( কিন্তু এরকম বেশীদিন চলবে না------ )
এই চাষী মজুর একজোটে ভাই রুখে দাঁড়াবে
আর সিংহাসনের থেকে তোমায় টেনে নামাবে
মনে রেখো তুমি কিন্তু পার তো পাবে না
.
ভোট এসেছে
কবি মুরারি মুখোপাধ্যায়

ভোট এসেছে, ভোট এসেছে
ভোট এসেছে ভাই !
দল গজালো, নেতাও এলো
দাদাও পাকায় ঘোঁট
প্রলেটারিয়েট জোট |
প্রাসাদ থেকে নেমে আসে
হঠাৎ হাওয়া নেতা
দুর্নীতি দূর হবেই এবার
যায় যদি ভাই জেতা !
কবি মুরারি মুখোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা
সংযোজন ৭-৪-২০১৯
.     শান্তি শান্তি ওঁ শান্তি
.     অপার শান্তি ভাই
.     বসিরহাটে রক্ত ঝরে
.     মন্ত্রী তোলে হাই |
দেবই তো ভোট, ভোট দেব না
দিয়েছো কাঁচকলা
মাইলো নাচে পেটের ভেতর
হাড়িকাঠে গলা |
দেবই তো ভোট, ভোট দেব না
.      ইঁদুরে সরার চাল
মধ্যরাতে ডিভ্যালুয়েশন
[ শুধু ] নিন্দুকে দেয় গাল
সমৃদ্ধির সমান বৃদ্ধি
টাটা বিড়লার ঘরে
গম মাইলোয় পেট ভরে যায়
দেশোন্নতির ঝড়ে ||
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার শুরুতে ফিরতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.

দ্যাখা হলো অনেক দেশ,
করা হলো গুষ্টির তুষ্টি,
গঙ্গা রইল গঙ্গাতেই বেশ!
এবার কি তবে গঙ্গা প্রাপ্তি?
.                                কবি অঞ্জন চ্যাটার্জী
ততকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর এই উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে রচিত . . .
"If Left liberals treated Ganga like mother, no one would have polluted it."
কবি অঞ্জন চ্যাটার্জী
ফেসবুক
সংযোজন ৩০-৪-২০১৯
দ্যাখা হলো অনেক দেশ - অঞ্জন চ্যাটার্জী
এলাটিং বেলাটিং সই লো - ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত
হায় বিদ্যাসাগর - রাজেশ দত্ত
.

এলাটিং বেলাটিং সই লো
ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত
এলাটিং বেলাটিং সই লো, কিসের খবর হইল
ভোট যুদ্ধের লড়াইয়ে ওরা থিম সং গাইল।
নিজের নামে সিনেমা হইল। নিজের প্রচার শুধু
দুর্যোধন-দুঃশাসন-ক্যাবিনেটে আমাদের ভাগ্য ধূধূ।
ফ্যাসিবাদী সম্রাট চালাচ্ছেন ফ্যাসিবাদ মন্ত্র নীতি।
ভোট শুরু হয়ে গেছে। তর্জন-গর্জনে যুদ্ধ-পরিস্থিতি।
মঞ্চে-মঞ্চেই পাল্টা, তোরা ভয় দেখাস না। চোপ।
পাবলিক দেখানো পূর্ব-সম্প্রীতি ভেঙেই মারছি কোপ ।
বন্ধুগন আসুন মন্দির মাঠে। জেনে নিন ভোট-পদ্ধতি।
বুথের পাশেই পূজা-অর্চনা। ঠোঁটে-ঠোঁটে পার্সেল নীতি।
কোথায় থাকবে প্রদীপ আর কোথায় থাকবে ধানছড়া
দেখে পাতুন মঙ্গলঘট। ডাব-আমপাতায় সাজিয়ে পুর্ণঘড়া।
স্যার খরচাপাতি? স্পনসরার কে? বললেন না তো মোটে।
দোর-বন্ধ মিটিং। সেরাত্রে গ্রাম-কে-গ্রাম লুট হল এক-শটে।
বাইকে চেপে আসবেন অতিথি, রণ-ক্লান্তে দেবেন শুশ্রূষা।
ফুল-অস্ত্র-মশলা-এলো, মদ-মাংস-বিরিয়ানি আর কি চাই
দূরে সিন্ডিকেটের বালির গাদায়, কেউ করবেনা বেগোরবাই-
.                                                     পড়ে চলেছে হনুমান চল্লিশা
কবি ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত
ইমেলে প্রাপ্ত
সংযোজন ৩০-৪-২০১৯
.
হায় বিদ্যাসাগর! কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পরে রচিত . . .
একটা প্রশ্ন অবাধ্য হয়ে
ঘুরছে খালি মাথায়,
বিদ্যাসাগর ভাঙল কেন
শহর কোলকাতায়?
উনিশ তারিখ আসছে দিন
মহানগরীর ভোট।
বাঙালি ভোটার আবেগে কেন
সংঘীরা দিল চোট?
আরএসএস তো নির্বোধ নয়,
ভোটের দোরগোড়ায়
তান্ডব করে মূর্তি ভেঙে
দলের মুখ পোড়ায়!!
অমিত শাহেরা ঝানু নেতা,
অবোধ বালক নয়।
খামোখা কেন ভোটের আগে
এই দুর্মতি হয়?
তাহলে কেন লাগল আগুন
'হনুমান'দের লেজে?
লঙ্কাকাণ্ড ঘটল কেন
রাতবিরেতে কলেজে?
ভাঙার সময় রইল কেন
পুলিশ-সেপাই 'স্ট্যাচু'?
প্রশ্নগুলোর মিলছে না তো
উত্তর কোনোকিছু।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ১৭..২০১
ভাঙাভাঙির ছবি কারা দেয়
তুলে মমতার হাতে?
কেন পাকড়াও হল না যারা
ধরা পড়ে ভিডিওতে?
যে পুলিশ ছিল নিশ্চল হয়ে
মূর্তি ভাঙন কালে,
পরদিন মারে বেদম লাঠি
মোদি-বিরোধী মিছিলে!
বাকবিতন্ডা, তরজা চলে
গেরুয়া, সবুজ দলে।
বিদ্যাসাগর টুকরো হয়ে
পড়ে থাকে ধরাতলে!
এ কেমন নয়া রঙ্গ যাদু,
বঙ্গ ভোটের হাটে!
বিদ্যাসাগর নিয়ে সবাই
ভোটের ফায়দা লোটে!
কে কত বড়ো মূর্তি বানাবে
তা নিয়েও হাঁকাহাঁকি!
সন্দেহ হয়, মোদি মমতার
'গট-আপ' খেলা নাকি?
দিদি-মোদির হয়তো আপোসে
আসনের সমঝোতা।
সংঘকে গাঁ-গঞ্জ বিলিয়ে
দিদি নেবে কোলকাতা।
সংখ্যালঘু, আদিবাসী গ্রামে
সংঘ গড়বে ঘাঁটি।
তৃণমূলীদের দখলে থাকবে
বাকি বাংলার মাটি।
ভাবছো, এ সব অসার ভাবনা,
আষাঢ়ে গল্পগাথা?
ভুলে যেও না মহাভারতের
পাশাখেলার কথা।
ক্ষমতার লোভে পাণ্ডবেরা
জায়াকেও রাখে পণ!
রাজদরবারে দ্রৌপদীর
বস্ত্র করে হরণ!
সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর পেরিয়ে
এসে ঘোর কলিকালে --
রাজনীতির পাশা খেলা দেখি
চলছে সমান তালে।
সেই খেলায় নির্বস্ত্র হল
বঙ্গ সংস্কৃতি।
হায়, বিদ্যাসাগর তোমায় নিয়েও
কদর্য রাজনীতি!
*****************

কবি রাজেশ দত্ত

রচনাকাল: ১৬ মে, ২০১৯