প্রশ্ন করতে মানা কথা সুর ও কণ্ঠ - পল্লব কীর্তনীয়া
NPR-NRC-CAA বিরোধী দেয়ালিকা
.
দেয়ালে  দেয়ালে  মনের  খেয়ালে
লিখি কথা |
আমি  যে  বেকার,  পেয়েছি লেখার
স্বাধীনতা ||
সুকান্ত ভট্টাচার্য    
দেয়ালিকার শেষ প্রান্তে যেতে>>>
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
এই পাতাটি পাশাপাশি, ডাইনে-বামে স্ক্রল করে!
This page scrolls sideways - Left - Right !
.  যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে
ছড়া,
সে যে কোন ধরণেরই হোক না কেন, এই দেয়ালে তুলতে
হলে আমাদের কাছে নিচের ইমেলে পাঠাবেন। আমাদের
ওয়েবসাইটের সম্পাদক মণ্ডলীর অনুমোদন সাপেক্ষে
আমরা তা তুলে দেবো।

সোশিয়াল মিডিয়ার দৌলতে অনেক অনবদ্য সুন্দর
কবিতা আমরা পাচ্ছি। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই
কবির নাম জানা যায়না। সঠিক কবির নাম জানালে
আমরা সেই কবিতার পাশে কবির নাম-প্রেরক কে
কৃতজ্ঞতা জানাবো।

আমাদের ই-মেল:
srimilansengupta@yahoo.co.in    

তাহলে আর দেরী কেন?
ছড়ার ছররা ছড়িয়ে,
দেয়াল তুলুন ভরিয়ে...!
.                                                      রাজেশ দত্ত     
কবিদের পাতায় যেতে তাঁদের নামের উপর ক্লিক করুন
हम देखेंगे - फ़ैज़ अहमद फ़ैज़
আমরা দেখবো ।‘হাম দেখেঙ্গে’ - আর্যতীর্থ
যে দেশ আমার বাবাকে বিদেশি বানায় - কাজী নীল
আসামীরা আসামী - নাসির হোসেন হালদার
দেশী বিদেশী - আর্যতীর্থ
নিকেশ হিসেব - আর্যতীর্থ
দহনকাল - রাজেশ দত্ত
সংবিধান - কবীর সুমন
যত হামলা করো - নীতীশ রায়
পিণ্ডি গেছে চটকে যাদের ইণ্ডিয়াতে বাড়ী - দীপাংশু আচার্য
সেল-সেল-সেল - শঙ্খজিৎ
“ঘুসপৈঠী” বাঙালী - দুষ্টকবি
ধ্বংস করো তারে - অশোক চট্টোপাধ্যায়
জিঙ্গল বেল আই টি সেল - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
ধর্মদ্বেষের ঘন কালো মেঘ - রাজেশ দত্ত
হিঁদু পাড়ায় গুজব ছড়ায় - মনিরুল
খোঁচা - আর্যতীর্থ
মন্দির মসজিদ গুরুদ্বারে গীর্জায় গুম্ফায় - দুষ্টকবি
ওরা - আর্যতীর্থ
.
কবি দীপাংশু আচার্য
তোলা হয়েছে  ২১.১১.২০১৯
বাঙালী তথা সারা দেশের, বিশেষ করে
আদিবাসী, দলিত, মুসলমান ও পিছিয়ে
থাকা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে
তাদের নিকেশ করার মারণ ফাঁদ
-
তাই নিয়ে এই পাতার গান ও কবিতা
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
পিণ্ডি গেছে চটকে যাদের ইণ্ডিয়াতে বাড়ী কবি দীপাংশু আচার্য

পিণ্ডি গেছে চটকে যাদের ইণ্ডিয়াতে বাড়ী,                         
ফেসবুকে কবির আবৃত্তির ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .
মাথার ভেতর করছে প্যারেড সাত শো মিলিটারি।              কবি একজন স্ট্যাণ্ডআপ কমেডিয়ান। ইউটিউবে তাঁর পুরো অনুষ্ঠানটি
ইচ্ছে মতো ঘুরছে তারা আমার শরীর জুড়ে,                      দেখুন নীচে ক্লিক করে। ১৩:২০ মিনিট থেকে শুরু হয় কবিতাটি . . .
দেখছে আমি হিন্দু কি না পাকস্থলি খুড়ে।
ফরেন কাঙাল নরেন মোদী দুষ্টু এবং ব্রেণী,
গিলিয়ে দেবে ধর্ম টনিক, ভুলিয়ে দেবে শ্রেণী।
খেলেই তুমি জন্মভূমির নকল নেশার ঘোরে,
মোল্লা বিজয় করতে যাবে মোটর বাইকে চড়ে।
উড়বে ফ্ল্যাগের মাল্টি কালার, ঘুরবে অশোক চাকা,
নাচবে সবাই ত্রিশূল হাতে, ঢালবে মোদী টাকা।
ভয় দেখাবে, বুক বাজাবে, লিগাল লেঠেল পুষে,
আমরা তবু চুপটি ক’রে বুড়ো আঙুল চুষে।
তার চেয়ে চলো
তার চেয়ে চলো প্রোটেস্ট করি হিউমারে আর গানে,
বঞ্চিতরা সঞ্চিত মাল ছিনিয়ে নিতে জানে।
আমরা আজও বাংলা খেয়ে, আড্ডা জমাই রাতে,
কৃষ্ণ যীশু বুদ্ধ এবং মোহম্মদের সাথে।
.
কবি শঙ্খজিৎ
ফেসবুক
তোলা হয়েছে  ২১.১১.২০১৯
.
“ঘুসপৈঠী” বাঙালী
যে বাঙালী স্বাধীনতা আনলো সবার দোর,
মৃত্যু বরণ সবার আগে,
মূল্য দিয়ে বাংলা ভাগে,
তারাই নাকি আজ ভারতে “ঘুসপৈঠী” চোর?
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।

ছাই-চাপা যে আগুন আছে, বুকের ভিতর তোর,
দাবানলে উস্ কে দে তা,
তুই ক্ষেপেছিস, বুঝিয়ে দে তা,
ভাল মানুষ হলেও আছে বিরুদ্ধতার জোর।
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।

গা ঝাড়া দিয়ে লাফিয়ে উঠে কণ্ঠ ছাড়্ রে জোর।
ভীড় করে সব নাম্ রে পথে,
ঘুমিয়ে যে জন ডাক্ রে সাথে,
বিদ্বেষীরা বলছে এবার কাড়বে এ দেশ তোর।
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।

বৌদ্ধ খৃষ্ট মুসলমানী হিন্দু ঘোর-অঘোর
বাংলা ভাষাই জুড়ছে তোদের,
সেই কারণেই কাড়ছে রে ফের,
জমি-জমা-ভিটে-মাটি-স্বদেশ-জীবন তোর।
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।

বাংলা মায়ের দুর্দিনে আজ, এই অপমান ঘোর।
কে ঘোচাবে মায়ের এ হাল?
কে ঠেকাবে দেশ-কাড়া চাল?
দুষ্টকবি সুধায় --- কই রে তেমন নেতা তোর?
ওরে বাঙালী! চুপ না থেকে, গর্জে ওঠ্ রে জোর।
. কলকাতা, ২৮.১১.২০১৯।
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
তোলা হয়েছে  ২১.১১.২০১৯
<<<এই দেয়ালিকার
<<< শুরুতে ফিরতে
.
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ
রচনা ০২.১০.২০১৯
এখানে তোলা হয়েছে  ২১.১১.২০১৯
নিকেশ হিসেব
চুপিচুপি ঢুকছে যারা,
রুপি’র টুপি পরিয়ে দিয়ে সঠিক মাথায়,
ওঠাচ্ছে নাম ভোটের খাতায়,
রেশন কার্ড আর আধার পাওয়া তাদের কাছে
সহজ অতি; এটুক তোমায় বলতে পারি,
তাদের হাতে তৈরী নথি,
দেখিয়ে দেবে বাস রয়েছে শায়েস্তা খাঁ-র আমল থেকে;
যতই মরুক পঞ্জীওয়ালা মানুষ ধরার ছাঁকনি ছেঁকে,
পারবে না সে।
লালফিতেদের ভেতর থেকে ঘুষের ঢেঁকুর গন্ধ আসে,
ঠিক হাত-পায়ে তেল পানিতে
লোকদেখানি নিয়ম ফুঁড়ে
ঝকঝকে সব নথিতে খুব সরল গতি,
পঞ্জীওয়ালার কঠিন মুঠোর ফাঁকফোকরে
বেরোয় তারা বিনা ক্ষতি।
কিন্তু যারা নিজের ঘরে হন যাযাবর,
পেট-তাগিদে দারুণ খিদে তাড়িয়ে বেড়ায়,
আকাশকুসুম একখানি নীড় বেড়ার ঘেরায় পান না তাঁরা,
পেটের তাড়ায় ছুটতে থাকেন ভীষণ জোরে,
প্রজন্মদের ঠাঁইবদলে
শিকড়ে তাই রস জমেনা তেমন করে।
এঁদের কাছে চাইলে নথি,
চোখের নজর অধোগতি,
বাবা ছিলেন এক প্রদেশে, ঠাকুর্দা কোন আন-মুলুকে,
সুলক সেটার লেখা শুধু গল্পগাছায়।
পঞ্জীওয়ালার থাবা যখন
বাবার বাবা তস্য বাবার সন্ধান চায়,
এঁদের কাছে প্রমাণস্বরূপ কিচ্ছুটি নেই,
ক্রমাগত চলতে গিয়ে,
কখন যে কি যায় হারিয়ে,
পড়বে ধরা এবার সেসব বিচ্যুতিতেই।
এবং যারা নদীর পাশে,
আবাদ-চাষে মন ঢেলে দেন,
শ্রমের ঘামটি উপুড় করে ফসল ফলান,
নদীর হঠাৎ গোঁসা হলে,
সবখাকি সেই ফোঁসা জলের থেকে পালান,
বানভাসি সেই মানুষগুলোর কি হবে রে?
জল নিয়েছে সবই কেড়ে, প্রাণটুকু বাদ,
নিত্য বে-ছাদ তাদের কাছে খুঁজবে কি কার্ড?
কেউ জানেনা,
শেকড় থাকার প্রমাণ নিয়ে রাখলো নদী কোন পলিতে..
তাদেরও কি দেশের থেকে করবে নিকেশ এন আর সি-তে?
.
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ
রচনা ৩০.০৮.২০১৯
এখানে তোলা হয়েছে  ২১.১১.২০১৯
দেশী বিদেশী
কারা নাগরিক আর কারা মোটে নয়,
সেটার ভিত্তি লেখা তুলোট কাগজে,
যাদের ওপরে নয় সময় সদয়,
জীবন হাতড়ে তারা পরিচয় খোঁজে।

শিকড় মাটিতে ছিলো কতটা গভীরে,
জন্মপঞ্জী তার মানে বোঝে একা
মানুষী সীমানা দেয় পরিচয় ছিঁড়ে,
বিদেশীর সাথে হয় আয়নায় দেখা।

কতটা সুবোধ হলে নাগরিক হবে,
ব্যাখ্যাটি ধরা থাকে রাষ্ট্রের কাছে,
কোন গর্তের থেকে কেউটে বেরোবে
সে গুজব সেঁকে লোকে জাতীয়তা আঁচে

কোনখানে ঘর তার কোথায় স্বদেশ
মানুষ ভাবেনা সেটা যাপনের ফাঁকে
যেখানে রয়েছে সে শুরু থেকে শেষ
নথিরা বানাতে পারে আনভূমি তাকে।

আজ আমি দুধেভাতে, অ-বাস্তু তুমি,
কাল উল্টাবে কিনা বলা দুষ্কর,
ভিটে বলে কিছু নেই, শুধু বাসভূমি,
হয়তো এ ভাবীকালে অন্যের ঘর।

আজকে যে নাগরিক, কাল যাযাবর..
.
কবি কবীর সুমন
মিলনসাগরে কবির পাতা
সুকুমার মিত্রর ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত
এখানে তোলা হয়েছে  ১২.১২.২০১৯
সংবিধান

পুড়ল আদিকন্দ দলুই
পুড়ছে আমার সংবিধান
পুড়তে পুড়তে হয়তো আগুন
লিখবে নিজেই একটা গান।

সামনে তোমার আমার সময়
সামনে দেশের সংবিধান
লিখতে চাইছি তোমার জন্য
একটি গান একটি গান।

সবই গেল উলটে পালটে
কোথায় আমার সংবিধান
আম্বেদকর শুনুন এ বার
পালটে দেওয়ার একটি গান।

হাড়কাঁপানো শীতের রাতে
রাস্তায় হোক আত্মদান
কোন রাষ্ট্রের ভোটার ওরা
লেপের তলায় আমার গান।
বাঁচলে কিন্তু মরতে হবে
যেমনই হোক সংবিধান
সেই সুযোগে কবীর সুমন
ফেলছে লিখে একটা গান।

সন্দেহ কী সবাই সমান
সাম্য চাইছে সংবিধান
সবার জন্য সমান সুযোগ
সেই সুযোগে একটি গান।

বাবুইঘাসের দড়ির দামে
সারা মাসের সংস্থান
শুকনো গ্রামে শুকনো মুখে
কেমন শোনায় আমার গান?

ওই তো নীতি, মিষ্টি নীতি
তন্ত্রে প্রজা, মন্ত্রে গান
কাদের খাওয়া আমার পেটে
কাদের জন্য সংবিধান।

আসছে টাকা লগ্নি হবে
নিষ্ফলা সব জমির টান
গানের কসম গাইব তোমায়
আমার দেশের সংবিধান।
নীতির নামে চারশো লাইন
পালটে যাবে অমুক ধারা
পালটে যাবে তমুক আইন।
পালটে যাওয়াই প্রাণের ধর্ম
আসুন সবাই পালটে যান
অন্য রকম পালটে দেওয়ার
স্বপ্ন দেখত আমার গান।

কিংবদন্তী, বন্ধু আমার,
সংবিধানের চোখের জল
হঠাৎ তুমি চেঁচিয়ে ওঠো:
আর এক দফা হামলা বল!

আমার গানের দাফন হবে
আমার সঙ্গে আসছে কাল
আয় রে কুমির সায়েব কুমির
তোরই জন্য কাটছি খাল।

কাদের কলে থেঁতলে যাচ্ছে
প্রজার ফসল প্রজার ফল
গানের দিব্যি চেঁচাও এ বার:
হামলা বল হামলা বল।
.
ধ্বংস করো তারে
ভিটেমাটি সব যাবে। স্বপ্ন আশা দিবারাত্রি সব।
আকাশ হারিয়ে যাবে। বাতাস অচেনা হবে জেনো।
ঠিকানা হারিয়ে তুমি বদ্ধ খাঁচায় হবে একদিন শব
দাবিহীন বেনাগরিক, বে-ওআরিশ। বনলতা সেন-ও

মুখোমুখি অন্ধকারে দুফোঁটা চোখের জলে কলার মান্দাসে
ভাসিয়ে বাউলগীতি, নকশিকাঁথা আর কিছু লখাইয়ের হাড়
হারাবে অন্ধকারে একদিন অমাবস্যা রাতে। বৈশাখের মাসে
মনুর কঙ্কাল পুজো, রামের পাদোদকে নবতর শিক্ষার

আবাহন হবে। হিন্দু ভারতের স্তোত্রে সঞ্জীবিত আদিম পিতারা
মালা দেবে অমিত শাহ-মোদির গলায়। সরব ডিজেয়
মূর্ত হবে ফ্যাসিস্ত সঙ্গীত। প্রজন্ম চত্বরে দাসী সীতা ও গীতারা
পুণ্যবতী সতী-লক্ষ্মী হবে। হিন্দু ভারতের পুণ্যে নিজের নিজের

অস্তিত্ব লুপ্ত হবে এনার্সি-ক্যাবের কালো মূঢ় অন্ধকারে।
সময় গিয়েছে চলে ঢের আগে জ্যোৎস্না ভেজা গাঙ্গুরের ধারে

পথের লড়াই ছেড়ে সব দেখো হিসেবের অঙ্ক কষে বসে
নদীছোঁয়া নগরের পুরানো দিনের বাড়ি ক্রমে যায় ধ্বসে

যে তোমার আকাশ কাড়ে, দেশ কাড়ে, প্রশ্বাসের বায়ুটুকু কাড়ে
এখনই ধ্বংস করো, ধ্বংস করো, ধ্বংস করো তারে…
কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
তোলা হয়েছে  ১২.১২.২০১৯
.
কবি সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
ভিডিও পরিকল্পনা এবং পরিচালনা:
অনমিত্র রায়
ফেসবুক পাতা
Late66A | Guruchandali
রচনা ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
তোলা হয়েছে  ১২.১২.২০১৯
ভিলেন কিম্বা ভ্যাম্প, আগুন কিম্বা ড্যাম্প
বড়দিনে সবার হাতে হ্যারিকেনের ল্যাম্প
গরীব বড়লোক, সবার ভালো হোক
লাইন দিয়ে যাবে সবাই ডিটেনশন ক্যাম্প

বাঙালী কাঙালী পাবে প্রীতি উপহার
NRC CAA এর সঙ্গে আনবে NPR
বাঙালী কাঙালী পাবে প্রীতি উপহার
NRC CAA এর সঙ্গে আনবে NPR

কার ধড়ে কটা প্রাণ, তাকে আটকাতে চান
একই সাথে লাথি খাবে হিন্দু মুসলমান
তিনি ইণ্ডিয়ান জ্যাকি চ্যান, আর তাকেই করে ধ্যান
এমপি এমএলে রা ভোট দিতেই ভুলে যান

যখন তখন মারবে লাথি করবে টাকা ব্যান
ডিসেম্বরে স্লেজে চড়ে আসছে সুপারম্যান
যখন তখন মারবে লাথি করবে টাকা ব্যান
ডিসেম্বরে স্লেজে চড়ে আসছে সুপারম্যান

পা গা রে সা পা, এবার গরু হবে মা
জাতির নতুন জনক হবেন ক্যানাডা কুমার
নিরামিশ খেলে খা, আরে নইলে ভোগে যা
পালক পনির হইবে মোদের জাতীয় খাবার

জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
বাঙালী হলেই বুঝবে অনুপ্রবেশ
জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
বাঙালী দেখলেই জানবে অনুপ্রবেশ . . .
NRC বিরোধী গান
.জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
বাঙালী হলেই বুঝবে অনুপ্রবেশ
জিঙ্গল বেল আই টি সেল রক্ষা করে দেশ
বাঙালী দেখলেই জানবে অনুপ্রবেশ

এখন রবীন্দ্রনাথ নেই, আজও নিখোঁজ সুভাষ বোস
তাই বাঙালীর নেতা হয়ে আসবে দিলীপ ঘোষ
এখন রবীন্দ্রনাথ নেই, আজও নিখোঁজ সুভাষ বোস
তাই বাঙালীর নেতা হয়ে আসবে দিলীপ ঘোষ

তার গাড়ি টানে ষাঁঢ়, তার বিরাট আবিষ্কার
সে গরু দুয়ে সোনা ফলায়, জ্যান্ত স্যান্টাক্লজ
স্লেজে চড়ে ডিসেম্বরে আসছে দিলীপ ঘোষ
তার গোয়াল ভরা গরু আছে খাটাল ভরা মোষ
স্লেজে চড়ে ডিসেম্বরে আসছে দিলীপ ঘোষ
তার গোয়াল ভরা গরু আর খাটাল ভরা মোষ

তার বড়দা চৌকিদার, সে আরেক অবতার
দিনের বেলায় টাকা মারে রাত্রে ভাঙে ঘাড়
তার বড়দা চৌকিদার, সে আরেক অবতার
দিনের বেলায় টাকা মারে রাত্রে ভাঙে ঘাড়

সে গুজরাটি এক ভাঁড়, তার ল্যাজটি চমত্কার
সে দেশের লোককে মিত্রোঁ বলে, আম্বানি কে স্যার
স্লেজে চড়ে ডিসেম্বরে আসছে চৌকিদার
বাঙালীকে পুরে দেবে প্রীতি উপহার
স্লেজে চড়ে ডিসেম্বরে আসছে চৌকিদার
বাঙালীকে পুরে দেবে প্রীতি উপহার
জিঙ্গল বেল, আই টি সেল, রক্ষা করে দেশ
.
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ২৬.১২.২০১৯
তোলা হয়েছে  ২৮.১২.২০১৯
.
১৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্তরের গভীর শ্রদ্ধায় ও স্মরণে বাংলায় যুক্তিবাদী মুক্তচিন্তা প্রসারের অগ্রদূত হেনরি লুই
ভিভিয়ান ডিরোজিও (জন্ম: ১৮ এপ্রিল, ১৮০৯ – মৃত্যু: ২৬ ডিসেম্বর, ১৮৩১)। স্কেচ: তপোমিত্র বন্দোপাধ্যায়।
চেতনা মননে যুক্তির আলো
জ্বেলে দিয়ে প্রাণে প্রাণে
'ঝড়ের পাখি' ডানা মেলে ওড়ো
বাংলার আসমানে
কালবোশেখির ঝড় নিয়ে এসে
আঁধার ঘুচিয়ে দিও
নবযৌবনে জেগে ওঠো আজ
বিদ্রোহী ডিরোজিও!
- রাজেশ দত্ত, চন্দননগর।
ধর্মদ্বেষের ঘন কালো মেঘ
.
ধর্মদ্বেষের ঘন কালো মেঘ
বাংলায় ধেয়ে আসে
নাগিনীরা ফেলে বিষ নিঃশ্বাস
আমাদের চারপাশে
ধর্মমোহের বিষের ছোবল
মৃত্যু-সমন আনে
'বাংলার মুখ' পুড়ছে আগুনে
শ্মশানে-গোরস্থানে
আলোর পথযাত্রী, তোমাকে
ডাকছি কাতর স্বরে
গেরুয়া বর্গী দিচ্ছে হানা
বাংলার ঘরে ঘরে
ধর্ম-জাতের রাজনীতিতে
দেশটাকে ভাগ করে
বিভেদ গড়ে মানুষের মাঝে
ধর্মের কাঁটাতারে
সাড়া দাও হে অগ্রপথিক
বিবেকের আহ্বানে
তোমাকেই আজ স্মরণ করি
নিদারুণ দুর্দিনে
.
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ২০.১২.২০১৯
তোলা হয়েছে  ২৮.১২.২০১৯
দহনকাল

এখনো যদি চুপ করে থাকি
মনে পুষে রেখে ভয়,
নতমস্তকে সোল্লাসে বলি --
'হীরক রাজার জয়'!
এখনো যদি জাত-ধর্মের
বিভেদের বিষ ঢালি,
'যবন' বলে ঘৃণা বিদ্বেষে
পড়শিকে দিই গালি।
এখনো যদি 'হিন্দুয়ানি'র
ধর্মমোহের বশে
অন্ধ হয়ে বন্ধ করি
বিবেক দুয়ার কষে।
এখনো যদি জঙ্গি যত
সংঘীর দলে ভিড়ি,
দাঙ্গা বাঁধিয়ে সারা দেশটাকে
অগ্নিদগ্ধ করি।
সেই আগুনে সকলেই পুড়ে
হয়ে যাব ছারখার,
মুসলমানের জানাজার সাথে
হিন্দুর সৎকার!
গোরস্থানের পাশেই জ্বলবে
শ্মশানের চিতাকাঠ --
থাকবে পড়ে শূন্য বসত,
নির্জন হাট-বাট।
বধ্যভূমিতে গড়বে বলো
কোন সে 'রামরাজ্য'?
ঘৃণার আগুনে রাম-রহিমের
সব লাশই হয় দাহ্য!
-- ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯
চন্দননগর।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি মনিরুল
ফেসবুকে কবির পাতা
তোলা হয়েছে  ৩.১.২০২০
হিঁদু পাড়ায় গুজব ছড়ায়
হয়েছে মোল্লারা সব এক ।
মোল্লা পাড়ায় ফিসফিসানি,
হল সব হিঁদুরা এক প্যাক॥

তোমার আমার সমস্যারা
পড়ুক সব আজ চাপা ।
কে কতটা ভয়ের কারণ,
সেটাই হোক আজ মাপা॥

সরকারেতে গুজব ঠেকায়,
বন্ধ রেখে ইন্টার নেট ।
গন্ডগোলে হলে কাজ বন্ধ,
গরীব কেমনে চালায় পেট ??

ছড়িয়ে গুজব নিচ্ছে মজা,
যত দাঙ্গাবাজের দল ।
ঘুরিয়ে নজর মানুষ মেরে,
যত দেশ লুটবার ছল॥
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ
এখানে তোলা হয়েছে  ৫.১.২০২০
খোঁচা
আমার ধর্ম একমাত্র ভালো।
অন্য ধর্ম দেখলে খেপে উঠি।
কেবল আমার ধর্মটি দেয় আলো।
খিদে পেটে ইচ্ছেমতন রুটি।
না না শেষের বাক্যটা ধরোনা,
ওটা আমার নিরালা প্রার্থনা,
ধর্ম শুনে বেরোলো অভ্যাসে।
খিদে আমার চাপা দেওয়া অখন্ড বিশ্বাসে।
দোষ আমারই বলেছে গ্রন্থরা।
গীতা কোরান বাইবেল বেদ ত্রিপিটক আর তোড়া,
সবাই বলে তাই।
এজন্ম বা পূর্বজন্মে পাপ, তাই পেটে ভাত নাই।
যে ধর্মেরই চশমা পরে মানুষজনকে মাপি,
ধর্মবিধি  মানেনা যে , সে লোক মহাপাপী।
পুণ্য কারে কয়?
খিদে পেটে খাবার ভুলে জয় ধর্মের জয়,
চেঁচিয়ে গেলে তারস্বরে সে কাজ মহান জেনো,
ধর্ম বলে শ্লোগান দিয়ে স্বর্গে জমি কেনো।
তাই আমার ধর্ম ভালো,
ওর ধর্ম ওঁচা,
স্বর্গে সবার বাড়ি গাড়ি,
মর্ত্যে খিদের খোঁচা।
আমার দেশ একমাত্র ভালো।
বাকির সাথে কাঁটাতারের বেড়া।
ওদের নেতা কুটিল ও প্যাঁচালো।
আমার দেশেও ঠিক নেই গল্পেরা।
না না শেষের বাক্যটি ধরোনা,
কেউ শুনলে কি হবে তা জানা,
নেতার কথায় এমনি এলো জিভে।
জানলে যাবে ভিটের আলোই নিভে।
দেশ মানে তো ওঁদেরই খিদমত,
অতীত খোঁড়া পোক্ত  ভিতে ওঁদের ভবিষ্যৎ
আমাদের তো আজ কাল পরশুতে,
সকাল বিকেল পেটের ভেতর
কিলোয় খিদের ভূতে, বিনা উপশমে।
ওসব ভুলে মাতো দেশপ্রেমে,
তেমনটি চাহিদা সব রাজার।
প্রেম দিয়ে যে যায় না করা বাজার,
কে যে তাদের বলবে!
খিদের ওপর দিয়ে স্বদেশ চলছে এবং চলবে!
তাই আমার দেশটি ভালো,
পড়শীরা সব পচা।
দেশপ্রেমিক সব নাগরিক,
ঘরে খিদের খোঁচা।

ধর্ম এবং দেশ দেখিয়ে যায় না যাকে মোছা।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
মন্দির মসজিদ গুরুদ্বারে গীর্জায় গুম্ফায়
মন্দির মসজিদ গুরুদ্বারে
গীর্জায় গুম্ফায়,
যে যার দেবতা পূজে, তবু প্রাণ
নিবেদিত একই মায়।

বিশ্ববাসীরা বিস্মিত দেখে
ভারতবাসীর এ গর্ব।
তাদেরই আবার ভাঙতে নেমেছে
ধর্ম-বিষের সর্প।

ঠগীদের হাতে দেশ, বলে নাকি
নই মোরা দেশবাসী!
তাদেরি দয়াতে হ’তে হবে শেষে
আবার ভারতবাসী?

টুকরো করার ছক রুখে দে রে,
দেশকে, আবার তোর।
ধর্মের নামে ভাঙে যারা দেশ,
তাদের বিদেয় কর্।

হুংকার দিয়ে পথে নাম্ সবে
ধিক্কারে গলা ছাড়্।
একতার জোরে নির্বিষ ক’রে
কর্ রে পগার পার।

রাম রহিম রণজিত রবার্টের
মায়ের চক্ষু ছলছল্।
দুষ্টকবি বলছে তোদের---
মোছ সে আঁখির জল।
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ২.১.২০২০
তোলা হয়েছে  ৫.১.২০২০
.
কবি ফৈজ আহমেদ ফৈজের রচনা ১৯৭৯।
১৯৮৬তে ইকবাল বানো পাকিস্তানে
জেনারেল জিয়া’র অত্যাচারী শাসনের
বিরুদ্ধে এতে সুর দিয়ে চিরকালীন
প্রতিবাদের গান করে দেন।

২০১৯ সালে মোদী সরকারের
NPR-NRC-CAA
বিরোধী আন্দোলনে গানটি
মূল প্রতিবাদী গান হিসেবে গাওয়া হয়।
IIT Kanpur এর এক প্রফেসার দেখতে চান এটি
ভারত বিরোধী কি না!

আমরা কৃতজ্ঞ কবিতাকোশ
(कविताकोश)
ওয়েবসাইটের কাছে কারণ এই কবিতাটি
আমরা সেখান থেকেই নিয়েছি।
http://kavitakosh.org/kk/हम_देखेंगे_/_फ़ैज़_अहमद_फ़ैज़

मिलनसागर में
फ़ैज़ अहमद फ़ैज़ का कविता . . .
हम देखेंगे।   कवि फ़ैज़ अहमद फ़ैज़
लाज़िम है कि हम भी देखेंगे
वो दिन कि जिसका वादा है
जो लोह-ए-अज़ल में लिखा है
जब ज़ुल्म-ओ-सितम के कोह-ए-गरां
रुई की तरह उड़ जाएँगे
हम महकूमों के पाँव तले
ये धरती धड़-धड़ धड़केगी
और अहल-ए-हकम के सर ऊपर
जब बिजली कड़-कड़ कड़केगी
जब अर्ज-ए-ख़ुदा के काबे से
सब बुत उठवाए जाएँगे
हम अहल-ए-सफ़ा, मरदूद-ए-हरम
मसनद पे बिठाए जाएँगे
सब ताज उछाले जाएँगे
सब तख़्त गिराए जाएँगे

बस नाम रहेगा अल्लाह का
जो ग़ायब भी है हाज़िर भी
जो मंज़र भी है नाज़िर भी
उट्ठेगा अन-अल-हक़ का नारा
जो मैं भी हूँ और तुम भी हो
और राज़ करेगी खल्क-ए-ख़ुदा
जो मैं भी हूँ और तुम भी हो
.
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ
এখানে তোলা হয়েছে  ৫.১.২০২০


আমরা দেখবো, দেখবো ঠিক।
আদিম থেকে আদমি শোনে যার কথা,
একদিন সে আগুন হয়ে জ্বলবে ধিক,
প্রতিশ্রুতি করবে পালন সভ্যতা।

সিংহাসনের চাবুকক্ষত’র পাষাণভার
হালকা পেঁজা তুলোর মাফিক উড়বে
আমরা , যাদের ন্যুব্জ মিছিল সবহারার,
ঘুরবে ঠিক, এই পৃথিবী তাদের ঘিরেই ঘুরবে।
কড়কড়াৎ বিজলিপাত করবে আলো সব আঁধার,
মতলবি সব লোভী বাজ-আগুনে পুড়বে।
ওপরদিকে যাওয়ার বাধা হটবে ঠিক,
মূলসমেত উৎখাতে মিথ্যা চাটু ভক্তদের,
আমরা যারা সাচ্চা দিলের সৎ পথিক,
আমরা সেদিন সবাই মালিক মসনদের।
তাজগুলো সব ধুলোয় পড়ে মাঙবে ভিখ,
ফালতু  ভাঙা রদ্দি হবে তখত ওদের।

দিন হবে সে  বিধাতাহীন মানবতার,
আড়াল  হয়েও মরেনি যে, দৃশ্যমান.
সেই দর্শক , সেই তো চালক এই দুনিয়ার
তুমি ,আমি ,আমরা সবাই সব সমান।
থাকবে তো সে-ই, মানুষ নামটা যোগ্য যার,
সবাই রাজা, সিংহাসনে সবার স্থান।

হে নির্ভীক,
আঁধারকালে আলোর দিশা ভরসা দিক
দেখবো সে দিন, আমরা দেখবো, দেখবো ঠিক।
আমরা দেখবো ।‘হাম দেখেঙ্গে’।
(ফায়াজ আহমেদ ফায়াজ এই নাজম’টি লেখেন ১৯৭৯য়ে। ১৯৮৬তে ইকবাল বানো
পাকিস্তানে জেনারেল জিয়া’র অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এতে সুর বসিয়ে চিরকালীন
প্রতিবাদের গান করে দেন। মূল নাজমটিতে আল্লাহ’র রূপকে দীনদের
দিনবদলের কথা বলা আছে। এটা অনুবাদ নয়, পড়ে ও শুনে এই অকবির যেটা মনে
হয়েছে তাই লিখলাম। স্বভাবতই, ঈশ্বরের জায়গাগুলো বদলে মানুষ এসে গেছে।)
मिलनसागर में फ़ैज़ अहमद फ़ैज़ का कविता . . .
.
ওরা
ওরা মুখোশ পরে আসে।
ওরা রক্ত ভালোবাসে।
ওরা রড ছুরিতে শিকার খোঁজে দাপিয়ে আশেপাশে।
ওরা কারা?
হিংসা ছড়ায় যারা,
কারা ওরা? কারা?
ওরা পণ রেখেছে ভাঙতে দেশের অদম্য শিরদাঁড়া,
ওরা অন্ধকারের সেনা,
ওরা অন্ধ এবং কেনা,
ওরা জানে পুলিশ ওদের কিচ্ছুটি বলবে না।
ওদের তবুও মুখোশ ,
ফোকাস করা লেন্সকে ভীষণ ভয়,
চেনা গেলেই জুজু বলেন এ আমাদের নয়।
জুজুই আসল হুজুর এবং পুতুল নাচের আঙুল,
জুজুর জোরেই খণ্ড -ত হয় আস্ফালনের লাঙুল,
হাতটা ওদের,
রুমাল ওদের,
লাঠি ওদের না তো,
ওই যে মেয়েকে দেখেছো যে রক্ত দিয়ে স্নাত,
ওকে জুজু  জুজুর মতন ভয় করে তা জানো?
বোমার চেয়ে বিপজ্জনক কবিতা আর গানও,
কে জানে কে গাইবে ফায়াজ,
বলবে শঙ্খ ঘোষ,
এমন সময় যেসব শব্দ মনে আনাও দোষ,
সদম্ভে তার পতাকা বয় ওইসব ছাত্ররা,
জুজুর নাকে গন্ধ আসে বিপর্যয়ের পোড়া।

তাই মুখোশ পরে রাত আঁধারে নেমে এলো ওরা...
আর্যতীর্থ
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ
এখানে তোলা হয়েছে  ৬.১.২০২০, ০৯:২০
JNU তে ঢুকে ABVPর গুণ্ডামির পরে লেখা...
.
ক্ষুদিরামের কণ্ঠস্বর
দেবেশ ঠাকুর

মুখোশে মুখ ঢেকেছ বীর--,চোরের মতো
কিসের আড়াল ঢাকবে বই এর বুকের ক্ষত!

জে এন ইউ --গভীর রাতের সবরমতী
দ'লে পিষে ধ্বস্ত হলেন সরস্বতী

বীনাপাণির পদ্মবনে মত্ত হাতি
পদ্ম-নালের কাঁটায় ক্ষত ছাত্রজাতি

বঙ্গভূমও পোড়ায় শোলক নষ্টক্ষণে
টোল পোড়াবে হিরক রাজা উদয়নের

শিক্ষার্থীর গলা টিপছো তপ্ত রোষে
বন্ধ হবে সামনে চলা ঐশী ঘোষের!

যেখানে যা কণ্ঠ আছে প্রতিবাদের
কোন আঁধারে ঢোকাতে চাও গহিন খাদে!

বই থাকবে। জানা থাকবে। আগামীকাল--
মাটির জ্ঞানই মুছতে পারে স্বর্গ-পাতাল

বিদ্যাসাগর। দুশো বছর । শাস্ত্র বাতিল
মুখোশ থেকে আজও ঘোরে গান্ধী-কাতিল

আজও পোড়ে বিদ্যায়তন রক্ত ঝরে
ক্ষুদিরামের কন্ঠ আজও সমস্বরে----
কবি দেবেশ ঠাকুর
মিলনসাগরে কবির পাতা কবির
ফেসবুক
এখানে তোলা হয়েছে  ৭.১.২০২০
JNU তে ঢুকে ABVPর গুণ্ডামির পরে লেখা...
.
কবি বিপুল চক্রবর্তী
ইংরেজী অনুবাদ - সুমন্ত ব্যানার্জী
হিন্দী অনুবাদ - কাঞ্চন কুমার  
  
মিলনসাগরে কবির পাতা  
ফেসবুক
এখানে তোলা হয়েছে  ৭.১.২০২০।

কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮০ সালে,
কবির "তোমার মারের পালা শেষ হলে"
কাব্যগ্রন্থে। বিদগ্ধজনের মতে এই কবিতাটি
হয়ে উঠেছিল ততকালীন বাম আন্দোলনের
মূল কবিতা কণ্ঠস্বর! কবির কবিতা ও গান
সম্বন্ধে  জানতে, পড়তে ও শুনতে
মিলনসাগরের লিঙ্কে ক্লিক করুন . . .
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আমি সংহতি জানাই কথা সুর ও কণ্ঠ রূপম ইসলাম
রূপম ইসলামের একদা জে.এন.ইউ. এর ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে রচিত গান। “আবার আজ এই কথাগুলো সজোরে, কথায় কথায়, সুরে সুরে বলবার সময় এসে গ্যাছে”। --- রূপম ইসলাম
গানটির
VDO, YouTube এ দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .  ।

আমি মানুষের স্বাধীনতা চাই
আছি মানুষের বিপ্লবে তাই
তাই যতদূরে হোক না লড়াই
আমি সংহতি জানাই।

ছাত্রেরা বাক্ স্বাধীনতা চায়
ওরা হাঁটে যুক্তির রাস্তায়
সেই সড়কে অগাধ বিশ্বাস
আমার, তাই সংহতি জানাই।

তুমি লেঠেল পাঠালে প্রশাসন
তুমি বশ্যতা চাও বিরোধীর
জেনে নাও সবাই নয় স্তাবক
ওরা আগুন নতুন পংক্তির।

বুঝে দূর প্রদেশের অভিমান
ওরা গেয়েছে বিদ্রোহের গান
ওটা সাহসী প্রেমের পরিচয়
এটাই শুদ্ধতা বিপ্লবীর।
কবি রূপম ইসলাম
কবির ফেসবুক
এখানে তোলা হয়েছে  ৭.১.২০২০।
শোনো কান পেতে বিবেক নিদান
কেউ দিচ্ছেন সাহস যোগান
তাকে স্তব্ধ করলে ফেসবুক
আমি তার ভিত্তি ফিরে চাই।

এটা জমায়েত স্বাধীন মনের
এটা ইশারা সেই ফ্রী জোনের
যেখানে শেষমেশ আমরা সবাই
সবাই সব চুক্তি ছিঁড়ে যাই।

ওহে আমার দেশের যুবদল
হও যুদ্ধে যুদ্ধেই সবল
চল রাষ্ট্রের ছোবল খেয়েও
লড়ার পদ্ধতি বানাই।

চল নতুন প্রশ্ন তুলে দিই
অচলায়তনে আবার ঘা দিই
স্বচ্ছ মনন লড়ুক আজাদির লড়াই
আমি সংহতি জানাই।
তোমার মারের পালা শেষ হ'লে - বিপুল চক্রবর্তী
Whip me - Sumanta Banerjee (translation)
इस तरह पीटो कि - कंचन कुमार (अनुवाद)
ক্ষুদিরামের কণ্ঠস্বর - দেবেশ ঠাকুর
আমি সংহতি জানাই - রূপম ইসলাম
ওদের আছে লাঠি রাইফেল - রৌণক
অথ ‘সংঘ’ কথা - রাজেশ দত্ত
আমরা করি ঝড়ের বুকে আগুন খেলা - রাজেশ দত্ত
মাগো জাগো - সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
আজ ধর্মঘট - অশোক মুখোপাধ্যায়
আগুন যখন জ্বলছে - শংকর কুশারী
আজ পালাবার পথ নাই - বিষাণ রুদ্র
নো এন আর সি তোলো আওয়াজ - মন্দাক্রান্তা সেন
শব্দরা টুপ্‌টুপ্‌ ঝরে - সব্যসাচী গোস্বামী
এমন তো কথা ছিলোনা - অনীশ সরকার
অবাধ্য - সব্যসাচী গোস্বামী
পোশাক - সব্যসাচী গোস্বামী
ভীড় - মিলি মুখার্জী
নব্য হিটলারনামা - রাজেশ দত্ত
প্রশ্ন করতে মানা - পল্লব কীর্তনীয়া
.
.                ওদের আছে লাঠি রাইফেল
.                        কমরেড ঐশী ঘোষের লড়াকু স্পৃহাকে লক্ষ লক্ষ লাল সেলাম।

দের আছে লাঠি রাইফেল
মারবেই ওরা তোকে
মেয়েছেলে হয়ে রুখে দাঁড়াবি
বলবে না কিছু লোকে

রাতের আঁধারে মুখ ঢাকা দিয়ে
তোদের শরীর মেপে
ছাত্রী আবাসে ঢুকলো কারা
এ গণতন্ত্রে চেপে

হিন্দু তারা, শাসক তারা
ব্যালট পেপার বলে
ঐশী ঘোষের কন্ঠে নাকি
মনুসংহিতা টলে

দে মাগীটার মাথা ফাটিয়ে
হাড় গুলো সব গুঁড়িয়ে
ঠিক যেভাবে দিয়েছিল তারা
গ্রাহাম স্টেইন্সকে পুড়িয়ে
কবি রৌণক
কবির ফেসবুক
এখানে তোলা হয়েছে  ৭.১.২০২০।
ঠিক যেভাবে মালালাকে গুলি
করেছিল তালিবান
জেএনইউ তে লাফাবে সেভাবে
বিজেপির হনুমান

এ গণতন্ত্রে সংখ্যাই সব
শাসকদেরই দেশ
বাবরি ভেঙে পাড় পাওয়া যায়
বিচার হলে শেষ

তবুও ঐশী ভীষণ জেদি
নোয়াবে না মাথা মেয়ে
তার দিকে তাই অপলক চোখে
সোনি সোরি আছে চেয়ে

আসুক আঘাত, তবুও শ্লোগানে
চিৎকার করে হাস
ঐশী তোকে পাহাড়া দিচ্ছে
সাফদারদের লাশ

রৌণক, ৭ই জানুয়ারি ২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
অথ ‘সংঘ’ কথা - রাজেশ দত্ত। রচনাকাল: মে, ২০১৮
কখনো ভাঙব লেলিনের স্ট্যাচু,
কখনো সরাব জিন্না।
ভেঙে পেরিয়ার, ভীমের মূর্তি
ছড়াব বিভেদ, ঘেন্না।

কখনো বানাব মন্দির-থান,
আমাদের ‘গড’ গডসের।
গড়ে পেল্লাই স্ট্যাচু ‘প্যাটেলে’র
নজর কাড়ব গিনেসের!

সাভারকার, হেডগেওয়ারকে
বানাব দেশের ’আইকন্‌’!
গোলওয়ালকররা ‘দেশপ্রেমী’,
যত নিন্দুক যাই কন্‌।

শ্যামাপ্রসাদের শিষ্য আমরা,
‘হিন্দুত্বে’র পূজারী।
“হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানে”র
জিগির হুংকার জারি।

মুসলিমদের করব নিকেশ,
গড়ব ‘হিন্দুরাষ্ট্র’।
আমাদের আছে জঙ্গি সংঘী
পুলিশ-সেপাই-অস্ত্র।
বিরানব্বইয়ে ভেঙেছি বাবরি,
দু’হাজার দু’য়ে গুজরাট।
গণহত্যার রক্তে রাঙানো
আমাদের রাম-রাজপাট।

‘এনকাউন্টার’ সাজিয়ে করব
আদিবাসীদের ধ্বংস।
ব্রাহ্মণ্যবাদী রোষে দলিতের
ঘুচে যাবে জাত-বংশ।

বুলেটে-প্যালেটে তছনছ করে
‘কাশ্মীর’ নেব ছিনিয়ে।
খতম করব কাশ্মীরিদের
উগ্রপন্থী বানিয়ে।

মনগড়া সব গল্পকথায়
ভুলিয়ে দেব ইতিহাস।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন সব --
আর যা কিছু ‘ছাইপাঁশ’!

আমাদের আছে ‘গোয়েবল্‌’ গুরু,
মিথ্যেকে করি ‘সত্য’।
মগজ ধোলাইয়ে পেটোয়া মিডিয়া
মোতায়েন আছে নিত্য।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা মে.২০১৮
তোলা হয়েছে  ৮.১.২০২০

দেড় বছর আগে লেখা আমার একটি ছড়া।
সমকালীন প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক বিবেচনায়
পুনঃপ্রকাশ।--- রাজেশ দত্ত
ভাত ছড়ালেই ঝাঁকের কাকেরা
দলে দলে এসে জুটছে।
গণতন্ত্রের লাশের ভাগাড়ে
চিল-শকুনেরা লুটছে।

কন্ঠ যাদের রুদ্ধ হয় না,
তোলে বিরুদ্ধতার স্বর --
ওরা হবে কালবুর্গি, গৌরী
গোবিন্‌দ, দাভোলকর!

ভোট বৈতরণী পার করে দিয়ে
বাঁচিয়ে রাখতে গদি
আছে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর
অমিত, আদিত্য, মোদি।

ভাঙাগড়া সব ‘ত্রিদেব’-এর হাতে
শোনো সুধীজন মন দিয়া,
আম্বানিদের দাসখতে গড়ে
“ইনক্রেডিবল্‌ ইন্ডিয়া”!
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
‘এ যৌবন-জলতরঙ্গ রোধিবে কে?’ শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে যুবশক্তির এই তেজোদ্দীপ্ত প্রতিস্পর্ধী আন্দোলনে সামিল গোটা দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সচেতন মানুষ। সেই গণআন্দোলনের
সংহতিতেই এই গান। সবরকম সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে ধর্ম-জাতপাত-বর্ণ-লিঙ্গবৈষম্য বিভেদ ভুলে উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে
একজোটে রুখে দাঁড়াবার আহ্বানের গান। বিশ্বমানবতার সপক্ষে অবিচল থেকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ-প্রতিরোধে জীবনের প্রাণোদ্দীপনাময় উৎসবে সমস্বরে গেয়ে ওঠার গান


আমরা করি ঝড়ের বুকে আগুন খেলা,
মেঘলা রাতেও আমরা পোড়াই আতশবাজি।
আমরা আনি দারুণ শীতেও বসন্তকাল।
আপোস নিয়ে বাঁচার চেয়ে, মরতে রাজি।
আমরা করি ঝড়ের বুকে আগুন খেলা।।

দারুণ ত্রাসেও আমরা বাঁচি কবিতা-খাতায়,
মৃত্যুশীতল হাতছানিতেও স্বপ্ন দেখি।
হাঁটতে পারি ক্লান্তি নিয়েও অনেকটা পথ —
কোনটা আসল, কোনটা মেকি, চিনতে শিখি।।

আমরা দু’জন, আরো অনেক, অনেক মানুষ
স্বপ্ন ছুঁয়ে হাঁটতে থাকি মাটির টানে —
হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম মাটির গভীর,
হাত মেলেছি এবার সুদূর আকাশ পানে।।

আমরা করি ঝড়ের বুকে আগুন খেলা,
মেঘলা রাতেও আমরা পোড়াই আতশবাজি।
দারুণ শীতেও আমরা আনি বসন্তকাল।
আপোস নিয়ে বাঁচার চেয়ে, মরতে রাজি।
আমরা করি ঝড়ের বুকে আগুন খেলা।।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির ফেসবুক
রচনা মে.২০১৮
তোলা হয়েছে  ৮.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আজ ধর্মঘট
কবি অশোক মুখোপাধ্যায়

কাজের দাবিতে যাচ্ছি না কাজে, আজকে ধর্মঘট!
শ্রমের মূল্য আদায়ের এটা লড়াই চিত্রপট।
আট ঘন্টার অধিকার তুমি কেড়ে নেবে ভেবেছ কি?
ভিক্ষা ছড়িয়ে গোলাম বানাবে এই উদ্দেশ্য কি?
তাহলে জানাই ভিখ্ মাগা নয়, প্রাপ্য অংশ চাই,
জীবন জীবিকা স্বাস্থ্য শিক্ষা সব টুকু যেন পাই!

বড় মোদী আর ছোট মোদীকেও খবরটা দিয়ে রাখি,
যতই ভাঙবে, আরও বহু ঘট রয়ে যাবে তবু বাকি!
সারা বিশ্বের মানচিত্রটা একবারও দেখনি ক’,
ফ্রান্স থেকে চিলি, বলিভিয়া হয়ে ব্রাজিল বা মেক্সিকো—
জার্মানি আর অস্ট্রেলিয়ায়, মিছিল শুধু মিছিল,
লুটেরা মালিক ধনপতিদের সুখনিদ্রায় ঢিল!

শান্তির বাণী অনেক তো হল, অহিংসা অনশন,
গান্ধীবাবার কোবরেজ বুলি আরও খাবে জনগণ?
ক্যা এনে ভেবেছ নাগরিকদের ঘুম কেড়ে নেবে সুখে,
ধর্মের নামে আওয়াম ঐক্য ভাঙবে দেশের বুকে!
এবার দেখবে ঐক্য ভাঙবে তোমার ধর্ম ঘট—
আমার ধর্মঘটের মঞ্চে নতুন প্রেক্ষাপট!
কবি অশোক মুখোপাধ্যায়
রচনা - ৮.১.২০২০, সকাল ৮টা
এখানে তোলা হয়েছে  ৮.১.২০২০।

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আগুন যখন জ্বলছে
কবি শংকর কুশারী

আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে
আগুন জ্বলছে আগুন
আগুন জ্বলছে গ্রামে বন্দরে
আগুন জ্বলছে প্রতি ঘরে ঘরে
আগুনে পুড়ছে জীবন-উচ্ছ্বাস
আগুনে পুড়ছে ল্যাব, ক্যাম্পাস
আগুনে পুড়ছে আধো আধো বোল
আগুনে পুড়ছে মায়ের আঁচল
আগুনে পুড়ছে রবি নজরুল
আগুনে পুড়ছে রামধুন
আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে
আগুন জ্বলছে আগুন !

আগুন যখন জ্বলছে তখন আগুন জ্বালানো শিখে নাও
সুর লয় তান, ফুলের বাগান যারা পোড়াচ্ছে, তাদেরও পোড়াও
আগুন যখন জ্বলছে তখন আগুন জ্বালানো শিখে নাও।
কবি শংকর কুশারী
রচনা - ৭.১.২০২০, সকাল ৮টা
এখানে তোলা হয়েছে  ৮.১.২০২০।

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত


আগুনে পুড়ছে  পথ প্রান্তর
আগুনে পুড়ছে আশার প্রহর
আগুনে পুড়ছে তোমাদের স্বর
আগুনে পুড়ছে আমার শিকড়
আগুনে পুড়ছে ইতিহাস খাতা
আগুনে পুড়ছে ভূগোলের পাতা
আগুনে পুড়ছে পাহাড় সাগর
আগুনে পুড়ছে রান্নার ঘর
আগুনে পুড়ছে রবি নজরুল
আগুনে পুড়ছে রামধুন
আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে
আগুন জ্বলছে আগুন !

আগুন যখন জ্বলছে তখন আগুন জ্বালানো শিখে নাও
প্রেম ভালোবাসা, ছন্দের ভাষা যারা পোড়াচ্ছে, তাদেরও পোড়াও
আগুন যখন জ্বলছে তখন আগুন জ্বালানো শিখে নাও ॥

৭ জানুয়ারি, ২০২০। চন্দননগর।
.
আজ পালাবার পথ নাই
কবি বিষাণ রুদ্র

ভেবেছিলে তোমার ঐ আগুন খেলায়
মানুষ হবে পতঙ্গ
তোমার এই রক্ত হোলির
.                দেশটা হবে কবন্ধ।
টের পাওনি ভয় পেয়ে পেয়ে
ভয় পেতে মানুষ বিতৃষ্ণ।
জয় করে ভয়, ঘর ছেড়ে মানুষ
নামলে পথে কি হয়, কী হয়
পেলে তো মালুম
তোমরা দুজন হালুম, হুলুম ---
আজ যেদিকে পালাতে চাও
সব দিকে খাঁড়া মানব পাঁচিল
সব ধর্ম বর্ণ সমন্বয়
.                সব পথ অবরুদ্ধ।
কবি বিষাণ রুদ্র
এখানে তোলা হয়েছে  ৮.১.২০২০।

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত
.
মাগো জাগো
আকাশে বাতাসে শুনি - ছেড়ে দাও,
পায়ে পড়ি যেতে দাও, মেরনা আমায়।
লাল রক্ত সবারই ,তোমার ,আমার,
তাদের ,তবু কেন এত রক্ত পাত!
এত কদর্য ভাষা ..এত হিংসা এত কান্না
চারিধার।
দেবীপক্ষের কত দেরী ..কবে জাগবে মা।
আর তো সহ্য হয় না ।

মা গো তোমায় অসময়ে জাগিয়েছিলেন রাম
ভক্তের ভগবান।

অত্যাচারী রাবন নিধন যজ্ঞ। কোন সে
সকালে, তুমি নেমে এলে দশভুজা ;
আজ কলি কালে মানুষের মনে বিষাক্ত
নাগ জাগে, নিপীড়িত কত অসহায়,
মানব সন্তান!  
শিশু বৃদ্ধ বালক বালিকা মায়েদের ....
ধর্ম জাত খুঁজে খুঁজে মারছে রোজ ,
এরা কারা! কোথা থেকে এলো উঠে
পৃথিবীর
বুক চিরে, নিয়ে এলো হিংসা
অপরিমিত।
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
এখানে তোলা হয়েছে  ৮.১.২০২০।

মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির ফেসবুক
আমরা ....আর যে পারিনা।
সহ্যের সীমা গেছে টুটে।
এত অনাচার,
এত অন্যায়, এক নিষ্ঠুরতা চলেছে
বিনা বাধায়।
মাগো জাগো করো বিনাশ এই শয়তান...
অন্তরে যে বাস করে মানুষ কে করছে
পিশাচ- ক্রোধের আগুনে শুদ্ধ করো আজ,
ক্ষমাহীন অগ্নি শিখায় জ্বালো মংগলদীপ ;
মাগো এস নেমে, বজ্র বিদ্যুত শান্তির বারি
ঢালো । সময় হয়েছে মা
গো জাগো॥
.
যত হামলা করো
কথা ও সুর - কবি নীতীশ রায়

যত হামলা করো
সব সামলে নেবো
চ্যালেঞ্জ তোমায় যদি মারতে পারো

অনেক মেরেছ তবু
মরিনি আজো
বিছন হয়ে গেছি আজ ---
.                  তাই ছড়িয়ে যাবো |

ছড়িয়ে গেছি আমি অনেক দূরে
পাখির মুখে মুখে গানের সুরে
মাঠ-ঘাট-নদ-নদী গ্রাম পেরিয়ে
মাটির গভীর থেকে গভীরে যাবো |
.                  বিছন হয়ে গেছি --- ||

ডাক হয়ে উত্তর পাহাড় থেকে
শন শন কিষানের তীরের মুখে
বসন্তে বজ্রের নয়া ঘোষণায়
জীবনের স্রোত হয়ে সাগরে যাবো ---
.                  বিছন হয়ে গেছি ---
কবি নীতীশ রায়
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .
কবির ফেসবুক . . .
এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০।

গানটি বহু আন্দোলনের অন্যতম
গান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমন
কি সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনেও
প্রায় সব মিটিঙের মঞ্চ থেকেই
গানটি গাওয়া হতো। তাই আমরা
গানটিকে এখানে তুললাম।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি কাজী নীল
মিঞা ভাষার কবি

এখানে বাংলায় অনুবাদ
সুমনা রহমান চৌধুরী
তাঁর ওয়েবসাইট . . .
https://4numberplatform.com/?p=14110

এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০
সামের ১০ জন কবির বিরুদ্ধে এফআইআর জারি করা হয়েছে। কবি কাজী নীল তাঁদের মধ্যে।
এঁদের প্রায় সকলেই বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম কবি এবং সমাজকর্মী। এঁরা লেখালিখি করেন যে ভাষায়, তা স্থানীয় ভাবে 'মিঞা ভাষা' বলে পরিচিত। রাজ্যে নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে যে সংকট
একাংশের বহুসংখ্যক মানুষ ভোগ করছেন, তা নিয়ে একটি কবিতা লেখা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রের এই দমনমূলক ব্যবস্থা।
এইসব কবি ও অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ বি, ১৫৩এ, ২৯৫এ এবং ১৮৮ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ আনা হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬
নং ধারাতেও। "এই দশজন কবি-সহ সমগ্র মিঞা কবিদের, মিঞা ভাষার প্রতিবাদকে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে বুঝতে হবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। অসমীয়া উগ্র
জাতীয়বাদ তথা এনআরসি নামের এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে প্রতিহত করতে হবে। ডিটেনশন ক্যাম্পগুলো নির্মূল করার স্বার্থে সর্বোপরি মানুষের অধিকারকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে সমস্ত ভাষাভাষির
মানুষকে জাত-ধর্মের উর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। - সুমনা রহমান চৌধুরী  ((মূল কবিতা থেকে বাংলায় অনুবাদিত))

যে দেশ আমার বাবাকে বিদেশি বানায়
যে দেশ আমার ভাইকে গুলি করে মারে
যে দেশে আমার বোন মরে গণধর্ষণে
যে দেশে আমার মা বুকে আগুন চেপে রাখে
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।

যে দেশে লুঙ্গি পরার অধিকার নাই
যে দেশে কান্না শুনার মানুষ নাই
যে দেশে সত্য বললে ভূত কিলায়
যে দেশ আমার আজীবন দাসত্ব চায়
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।

যে দেশে টুপী মানেই মৌলবাদী
যে দেশে মিঞা মানে নীচজাতি
যে দেশে ‘চরুয়ারা’ সব বাংলাদেশি
যে দেশ টাটা বিড়লা আম্বানীর হাতে বিক্রি হয়ে যায়
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।
যে দেশে আমাদের লাশের পর লাশ কুপিয়ে কেটে
নদীতে ভাসিয়ে দেয়
যে দেশে ৮৩ তে মানুষ মেরে শালার বেটারা জল্লাদের
মতো উল্লাস নৃত্য নাচে
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।

যে দেশে আমার ভিটা বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়
যে দেশে আমার অস্তিত্বকে বাতিল করা হয়
যে দেশ আমাকে অন্ধকারে রাখার ষড়যন্ত্র চালায়
যে দেশ আমার থালাতে পান্তার বদলে পাথর ঢালতে চায়
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।

যে দেশে আমি গলা ছিঁড়ে চিৎকার করলেও কেউ শুনেনা
যে দেশে আমার খুনের জন্য কেউ দায়ী না
যে দেশে আমার ছেলের কফিন নিয়ে রাজনীতি চলে
যে দেশ আমার বোনের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলায়
যে দেশে আমি জানোয়ারের মতো বেঁচে থাকি
সেই দেশ আমার, আমি সেই দেশের না।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি নাসির হোসেন হালদার

এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০
আসামীরা আসামী
কবি নাসির হোসেন হালদার

গেয়েছিল তারা ‘জনগণ মন’
জাতীয়তার গান,
পতাকা নিয়ে ছুটেছিল কাঁধে
স্বাধীনতার সম্মান॥

পূর্ব পুরুষ লড়েছিল কারো
স্বাধীনতা সংগ্রামে,
ম্লান হয়েছে সেই ইতিহাস
প্রতিহিংসার জ্যামে॥

কিছুদিন আগেও আগলে ছিল
সোলজার হয়ে দেশ,
এনআরসিতে আজকে তাদের
ভীটে মাটি সব শেষ॥

চল্লিশ লক্ষ জনতা আসামী
আসামের বুকে আজ,
তাদের ভোটেই নেতাগিরি করে
শয়তান ধোকাবাজ॥
বিদেশীকে কত দিতেছি এখনো
নাগরিকের অধিকার,
নাগরিক যারা তাদের বিদেশী
সাজিয়েছি বার বার॥

চল্লিশ লক্ষ জনতার প্রতি
নির্যাতন সামনে আরো
সব যালিমের এটাই নীতি
ফেরাউন কিংবা জারও॥

আগে গুজরাট আজকে আসাম
কালকে বাংলা হয়তো,
এ সরকার যদি না সরাও
আগামীতে চরম ভয় তো॥
মতামত - ৬২৯০৬৬৯৮৪৮
.
নো এন আর সি তোলো আওয়াজ
কবি মন্দাক্রান্তা সেন

শাসক তোমার সামনে রাখছি এ প্রশ্ন
তুমি কেড়ে নেবে স্বদেশের কোল কবোষ্ণ !
দেশমাতৃকা তোমাদেরই বুঝি? আমার নয়?

কাগজ পত্র ঘেঁটেঘুটে দ্যাখো কে নাগরিক
আমরা তোমায় ঠেকিয়ে দেব বলছি ঠিক
আমার এ দেশ আমার ভারত আমার দেশ
কাদের তাড়াবি, স্পর্ধার তোর নেইকো শেষ

ধর্মের নামে এই বিভাজন মানবো না
বন্ধু আজকে এদেশে সকাল আনবো না?
মানুষ মরছে নরক ডিটেনশন ক্যাম্পে তো
আমরা লড়লে শাসক কি এত দম পেত?

লড়ছি লড়ব, মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপাও আজ
নো এন আর সি, নো এন আর সি, তোলো আওয়াজ
কবি মন্দাক্রান্তা সেন
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .
কবির ফেসবুক . . .
এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০।
.
শব্দরা টুপ্‌টুপ্‌ ঝরে
কবি সব্যসাচী গোস্বামী

সুখ নেই, তবু শুকতারা
দিয়ে ফেরে পথের ইশারা।

ঘুম নেই আমার শহরে
শব্দরা টুপ্‌টুপ্‌ ঝরে।

কুঁড়িয়ে তা উঠোনেতে রাখি
খুঁটে খায় রাতচরা পাখি।

পাখিদেরও ঠোঁটের বিষাদ
নিয়ে আসে শোক সংবাদ।

সেই শোকে গৃহহারা হই
আমার স্বদেশ তবে কই?

সে কি তবে কালের নিয়মে
নথিহীন হলো ক্রমে ক্রমে

নাকি গেলো বন্যায় ভেসে?
খিদে কিছু খেলো অবশেষে?
কবি সব্যসাচী গোস্বামী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .

এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০।
কি তবে আমার পরিচয়?
পিছু ডাকে বহতা সময়।

সময়কে বলি, মুশাফির
তোমাকেই ছুঁয়েছি নিবিড়।

###

এই দেহ এ দেশের মাটি
এই শ্বাস দেশের বাতাস
এই রক্তস্রোত বয়ে ফেরে
এ দেশের লাল ইতিহাস।
এদেশেই আমার শিকড়
ছড়িয়েছে শাখা বিস্তর।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
এমন তো কথা ছিলোনা কবি অনীশ সরকার

বারবার রক্তে'র-স্তুপ ঘুরেফিরে জড়সড় পোড়া-বারুদে'র ঘ্রানে---
তারপর অগোছালো হয়ে ছড়ানো প্রত্যাশাগুলো পুড়ে ছাই অবিচল
-অপ্রত্যাশে;
আবার কোনো এক-মাঝরাতে বেহালা'র চার-তারে
...বিরহ-বেদনা'রা ব্যথাতুর বেজে ওঠে সকরুণে---
যেন যান্ত্রিক-দু'চোখ জোড়া মৃতঘুম
যত্নে পলকে আঁকড়াবে উদগ্রীব ভালোবেসে।।

সৃষ্টির বার্তা রুপে টুপ করে অন্তজ -শ্রেনীযোগে...
বসতি'তে ভূঁইফোঁড় নয়তো সে এ ভূখন্ড-কুঁড়ে,
তবু ঠিকানা বাঁচেনা সংখ্যালঘু'র
-সংখ্যাত দলদাসে;
ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা বংশপুরুষ
নাগরিক-তকমা'র অদ্ভুতগেরো বিঁধে অযথা শেষপাতে নড়বড়ে---
অথবা বয়স-ভারে স্বচ্ছমৃত্যু-প্রাপ্তি
-ধনও শ্লথ পঙ্কিল পরিক্লান্ত বেনামি-ত্রাসে।।

বেগার-খাটা ঝলসানো-দু'হাত প্রাপ্য নৈরাশ্যে'র ক্ষতচিহ্ন
-বিগ্রহে...
ঝুপড়ি-তলে দুধের-শিশুর শুকনো-মুখে থমকে দাঁড়ায়;
বুঝিবা অপুষ্ট-রক্তনালী বারবার পোড়া-বারুদ ঘ্রানে'র প্রবাহে...
এতোকাল শুধুই খাদ্য-ভাগাড়ের
-মানচিত্র,
শ্রুত-মুখস্থতায় সাঁটায়ে অক্ষরহীন-মগজে...
কাগুজে-সনদবিনে হারাতে বসেছে---    
কয়েক-জীবন ধারে পাওয়া দেশজ-পরিচয়।।
কবি অনীশ সরকার
কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত
এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০।
.
অবাধ্য
কবি সব্যসাচী গোস্বামী

সক্রিয় ষড়যন্ত্রী হাত,
বুকের ভিতর রক্তপাত,
হৃদয়হীনের ‘মন কি বাত’,
তবু ...

বাজার ছুঁলো আগুন দাম,
নিঙ্‌রে বুকের রক্ত-ঘাম,
এবং মুখে ‘জয় শ্রী রাম’
তবু ...

সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু,
রহিম, কানাই, মহিম, রঘু,
গুন গাই না পুঁজির প্রভুর,
কভু।

আমরা তত বাধ্য নয় হে,
থোরাই কেয়ার পরিচয়ের,
বাঁচব না আর ভয়ে ভয়ে,
কভু।
কবি সব্যসাচী গোস্বামী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .

এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০।
.
পোশাক
সব্যসাচী গোস্বামী

অসংকোচে ছড়িয়েছ ঘৃণা।
সংক্রামিত হলো কি? জানিনা।

টুপি, দাড়ি, তাগা, তসবির,
হাতের শিকল, জঞ্জির।

চিহ্নিত হবো কি পোশাকে?
মন আজ সংশয়ে থাকে।

বিদ্বেষ পুষেছ গোপনে।
ধরা পরে গেছো আচরণে।

আজ দেখো জনতার রোষে
মুখোশও সেই গেলো খসে!

বোঝোনি তো সময়ের ডাক।
মুখোশও তো একটা পোশাক ...
২১-১২-২৯১৯
কবি সব্যসাচী গোস্বামী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .

নরেন্দ্র মোদীর "পোশাক দেখে চেনা যায়"
বলার পরে লেখা।
এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০।
.
ভীড়
কবি মিলি মুখার্জী

জাগ্রত চোখ নজর রাখছে
গনতন্ত্রের দিকে
চারদিকে উন্মাদনার ভীড়
জাতীয়তাবাদের যাত্রায় অসহায় মানুষ
মাটি ছাড়া হয়ে যাচ্ছে ।
যুবকটি  দাঁড়িয়ে আছে পথে
হাত ধরে পোস্টার
যার উপরে লেখা আছে
'গণতন্ত্র বাঁচাও'
ভীড়ের মধ্যে  দাঁড়িয়ে মানবতা
উকিঁ মেরে দেখছে আর লজ্জা পাচ্ছে ।
কবি মিলি মুখার্জী
কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত
এখানে তোলা হয়েছে  ৯.১.২০২০।
.
নব্য হিটলারনামা কবি রাজেশ দত্ত
২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল, কুখ্যাত স্বৈরাচারী খুনি একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের ১২৯তম জন্মবার্ষিকীতে তীব্র ক্রোধে, ঘৃণায় ও ধিক্কারে আমাদের দেশে “হিটলারের নবজন্মে”র বিরুদ্ধে,
ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণসংগ্রামের  সংকল্পে, আহ্বানে, সংহতিতে রচিত একটি কবিতাকে পরিবর্ধিত করে পুণঃপ্রকাশ করলাম। নয়া হিটলারের কলকাতা আগমনের
বিরুদ্ধে সমস্বরে সোচ্চারে বলুন:
Go Back Modi!

মন্দির ভাসে আসিফার খুনে,
আদালতে ‘মৃত’ লোয়া!
সবার ঊর্ধ্বে নয়া হিটলার –
পদতলে মাথা নোয়া!
তেরঙা পতাকা গৈরিক হল,
‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’!
চুপ করো যত ‘দেশদ্রোহী’,
গোয়েবলরা সাচ্চা!
রাষ্ট্র বলছে, প্রশ্ন কোরো না
মেনে নাও নতশিরে।
‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’
জয় বলো সোচ্চারে!
প্রশ্ন কোরো না, কেন আফজল
ফাঁসির দড়িতে ঝোলে।
প্রশ্ন কোরো না, অসীমানন্দ,
কোদনানি ছাড়া পেলে।
প্রশ্ন কোরো না, বুরহান কেন
‘জঙ্গি’ দমনে মরে।
প্রশ্ন কোরো না, মোদি-অমিতেরা
মসনদে কেন চড়ে।
কবি রাজেশ দত্ত
প্রথম রচনা: ২০ এপ্রিল ২০১৮।
পরিবর্ধন ও পরিবর্তন: ১০ জানুয়ারি, ২০২০।

এখানে তোলা হয়েছে  ১০.১.২০২০।
প্রশ্ন করলে জবাব পাবে না,
‘জঙ্গি’ তকমা জুটবে।
দেশ জুড়ে দেখো মানুষের খুনে
রাঙা ‘শতদল’ ফুটবে।
জঙ্গী সঙ্ঘী হুঙ্কার দেয় --
রুখবে 'অনুপ্রবেশ'!
দলিত সংখ্যালঘুর পীড়নে
গুমরে কাঁদছে দেশ।
'এনআরসি'র খাঁড়ার আঘাতে
গরিব আর্তজনে
বসত, স্বজন হারিয়ে মরছে
ক্যাম্পে ডিটেনশনে।
‘আচ্ছে দিন’-এর স্বপ্নপূরণে
‘রামরাজ্য’ গড়তে
কত আসিফারা বলি হয়ে যাবে,
লোয়াদের হবে মরতে!
কত ইশরাত, সোহরাব, ভেমুলা
বারবার হবে খুন।
চিরে ফেলে ভাবীকালের গর্ভ
ত্রিশূলে বিঁধবে ভ্রূণ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কাশ্মীর থেকে দণ্ডকবনে
খাণ্ডবদাহ চলবে।
চাষি-মজুর-দলিত-আদিবাসী
রাষ্ট্ররোষে জ্বলবে।
কুনান পোশপোরার কান্না
উন্নানে কাঠুয়ায়।
তেলেঙ্গানার শামশাবাদও
মুখ ঢাকে লজ্জ্বায়।
ভুলিয়ে দিচ্ছে বাবরি ধ্বংস,
গুজরাট গণহত্যা।
হীরক রাজার বচনই সত্য,
সব ইতিহাস ‘মিথ্যা’!  
ধর্ম জিগিরে মেরে আখলাক,
পেহেলু, আফরাজুল –
গৈরিক গোয়েবল দল সব
মুছে দেবে বিলকুল।
রক্তের হোলি খেলার মাতন,
মৃত্যু মিছিল দেশে।
গৌরী, দাভোলকরেরা মরেন
গৈরিকী সন্ত্রাসে।
লোয়া নয়, আজ আদালতে পড়ে
গণতন্ত্রের লাশ।
বিচারের বাণী কাঁদে না নিভৃতে,
বিচার মোদির দাস!
বিরুদ্ধতার কণ্ঠ রুদ্ধ,
বিরোধীরা 'পাক চর'!
'দেশপ্রেম'-এর পাঠ শেখাচ্ছে
যত মোদি-অনুচর।
শিক্ষাঙ্গণে রক্ত ঝরায়
গৈরিক হানাদার --
পুলিশ-রাষ্ট্রে কয়েদি জনতা,
মোদি-শাহ থানাদার!
মানব না জোরজুলুম শাসন,
টলবে রাজার গদি --
গর্জে উঠে বলছে স্বদেশ
'দূর হঠো তুমি, মোদি!'
.
কবি পল্লব কীর্তনীয়া
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা: ১.১.২০২০।

এখানে তোলা হয়েছে  ১০.১.২০২০।
কার ঘরে রাখা গরুর মাংস
কারা হে খরিদ্দার
আমরা এখন হিসেব রাখছি
মাংস চৌকিদার
কার ঘরে রাখা গরুর মাংস
কারা হে খরিদ্দার
আমরা এখন হিসেব রাখছি
মাংস চৌকিদার
প্রশ্ন করবি না সাবধান
কেন মারব মুসলমান
প্রশ্ন করবি না সাবধান
কেন মারব মুসলমান
গণপিটুনিতে লাশ ফেলি
রাজা দিয়েছে সম্মতি
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন রাজনীতি জেলখানা॥
নীচু জাতগুলো মল ও মুত্র
এদেশের জঞ্জাল
তাদের জন্য প্রশ্ন করিছ
আরবান নকশাল!
নীচু জাতগুলো মল ও মুত্র
এদেশের জঞ্জাল
তাদের জন্য প্রশ্ন করিছ
আরবান নকশাল!
দলিত ন্যাংটো করে পোড়াও
জেলে পোরো ভারাভারা রাও
দলিত ন্যাংটো করো পোড়াও
জেলে পোরো ভারাভারা রাও
লংকেশদের লাশ ফেলি
ওরা প্রশ্ন-বিদ্রোহী
ওরা দেশদ্রোহী
ওরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন জাতপাত জেলখানা॥
কোটি কোটি টাকা মকুব হয়ে যায়
কর্পোরেটের ঋণ
ফুলে ফেঁপে আম্বানি বা আদানি
এটাই আচ্ছে দিন
কোটি কোটি টাকা মকুব হয়ে যায়
কর্পোরেটের ঋণ
ফুলে ফেঁপে আম্বানি বা আদানি
এটাই আচ্ছে দিন
ওদের হাতে তুলে দেব রেল
হবে কর্পোরেট মডেল
পেট্রোলিয়াম, বিএসএনএল
বেসরকারীকরণের খেল
চাকরি খোয়াবে লক্ষ মানুষ
প্রশ্ন যে বিরোধীর
সে দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
রাজা আহ্লাদে আটখানা॥
বিধর্মীগুলো দেশছাড়া হবে
এনেছি এনআরসি
ডিটেনশনের ক্যাম্পে পরব
নাত্সির জার্সি
বিধর্মীগুলো দেশছাড়া হবে
এনেছি এনআরসি
ডিটেনশনের ক্যাম্পে পরব
নাত্সির জার্সি
সংবিধানের ধারি না ধার
আমরা হিন্দুর হিটলার
সংবিধানের ধারি না ধার
বর্ণহিন্দুর হিটলার
প্রশ্ন করলে পিষে মেরে দেব
যত স্বর বিরোধী
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন ধর্ম জেলখানা॥
বেকারত্বের রেকর্ড করেছি
তাতে কী? হবে না কথা
পাকিস্তানকে বোমা টপকেছি
চেটে খাবি জাতীয়তা
বেকারত্বের রেকর্ড করেছি
তাতে কী? হবে না কথা
পাকিস্তানকে বোমা টপকেছি
চেটে খাবি জাতীয়তা
আছে জাতির চন্দ্রযান
সাথে গোমূত্র অনুপান
আছে জাতির চন্দ্রযান
,সাথে গোদুগ্ধে সোনা পান
'জয় শ্রীরাম'-এর আবেগ মেশাব
ফুটে যাবে বিরোধী
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন মগজ জেলখানা॥
স্বশাসিত সংস্থার ওপরেতে
বসাব দলের লোক
শুধু শাসকদলেরই সরকার
গণতন্ত্রের জয় হোক
সব সরকারী সংস্থার 'পরে
বসাব দলের লোক
শুধু শাসকদলেরই সরকার
গণতন্ত্রের ভয় হোক
নোটবন্দী, জিএসটির
ফাঁদে ছোট ব্যবসায়ী কি
নোটবন্দী, জিএসটির
মারে ছোট ব্যবসায়ী কি
কে করে প্রশ্ন দেশের মন্দা
ছিদ্র-অন্বেষী
সে দেশদ্রোহী
তারা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
প্রশ্ন করতে মানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
কেন কাশ্মীর জেলখানা
প্রশ্ন করতে মানা
কেন কাশ্মীর জেলখানা
প্রশ্নের দিবি ছুটি
কেন কাশ্মীরে টেপা টুঁটি
প্রশ্নের দিবি ছুটি
কেন কাশ্মীরে টেপা টুঁটি
প্রশ্ন কোরো না খবরদার
কেন কাশ্মীর কারাগার
প্রশ্ন কোরো না খবরদার
কেন কাশ্মীর কারাগার
প্রশ্ন করিস মানেই তো তোরা
এদেশের বিরোধী
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী॥
বছরে দুকোটি চাকরি জুটবে
পকেটে পনেরো লাখ
গরিব রাজার দশলাখি স্যুটে
জুমলার জয়ঢাক
বছরে দুকোটি চাকরি জুটবে
পকেটে পনেরো লাখ
গরিব রাজার দশলাখি স্যুটে
জুমলার জয়ঢাক
এদেশ হবে হিন্দিস্থান
মহামন্ত্রীর ফরমান
রাজা একটি ভাষাই চান
এদেশ হবে হিন্দিস্থান
প্রশ্ন করলে পিষে মেরে দেব
যত স্বর বিরোধী
তোরা দেশদ্রোহী
তোরা দেশদ্রোহী
প্রশ্ন করতে মানা
কেন মগজটা জেলখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
কেন রাজনীতি জেলখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
কেন ধর্ম জেলখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
কেন জাতপাত জেলখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
রাজা আহ্লাদে আটখানা॥
প্রশ্ন করতে মানা
প্রশ্ন করতে মানা॥
.
অচেনা মানুষ
দেখি আশপাশে, ঘিরে চারপাশে
অচেনা মানুষ জন।
পরিচিত মুখ, দূর ও সমুখ
তবু পরিচিত নন।

এরা কী যে বলে, কী যে খেলা খেলে,
কী যে চায় বুঝি না যে।
কোন অভিঘাতে, কী যে প্রতিঘাতে
কী যে ক’বে জানি না যে।

ধর্মের জিগিরে দেশজোড়া নাচে
তালি দিয়ে নাচে সাথে।
বোঝে না এদেরই সব কিছু যাবে
দেশ গিয়ে র’বে পথে।

পরিচিত মুখে, সমব্যাথী-দুঃখে
প্রতিবাদ দূর অস্তো।
উল্টে বলে যত দেশদ্রোহী শত
আরো মারো আরো পিটো।

কত ভয়ানক বিদ্বেষেী দক্
অন্ধকার হৃদে-মনে।
তবু বসে ভাবে, এ আঁধার যাবে
দুষ্টকবি কথা বোনে।
.                            কলকাতা, ১১.১.২০২০
দুষ্টকবি
মিলনসাগরে কবির পাতা
তোলা হয়েছে  ১১.১.২০২০
অচেনা মানুষ - দুষ্টকবি
মোদির কোলকাতা আগমন - রাজেশ দত্ত
রাজা মারবে তুমি কত? - প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী
কালো পতাকা কালো বেলুন - প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী
ভেবে দ্যাখো মহারাজ - প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী
চলো আগুন পুহিয়ে আসি - শিবশংকর পাল
চোদ্দো সালে চৌকিদার এসেছিল ঘরে - রাজেশ দত্ত
অনেক রাত হলো - সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
(যদি) "দেশপ্রেমিক" নাচে!!! - অজ্ঞাত কবি
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे - वरुण ग्रोवर
কাগজ আমরা দেখাব না - বাংলায় অনুদিত
ভারত ছাড়ো - সান্ত্বনা চ্যাটার্জ্জি
জেগে থাকো তুমি, মান্টো - রাজেশ দত্ত
এন.আর.সি. আর এন.পি.আর.-এ ছাঁটাই - উত্তম মজুমদার
ধর্ম ও ঈশ্বর - দিগন্ত রায়
আমার দেশ - দিগন্ত রায়
মোদী আর ট্রাম্প - দিগন্ত রায়
আমরা দেখো ঘাবড়াইনি - বিশাল ভরদ্বাজ/ অনুবাদ - শুভেন্দু দাশগুপ্ত
মান্যবরেষু - বিপুল চক্রবর্তী
ভয় নেই - উপমা নির্ঝরণী
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
মোদির কোলকাতা আগমন
রাজেশ দত্ত ॥  কার্টুন : শুভেন্দু সরকার ॥    #GoBackModi
ওই দ্যাখো রাজা আসে
স্থলে, জলে, আকাশে --
ভয়ে বুক দুরু দুরু,
মুখখানা ফ্যাকাশে!

বিমানে, মোটরকারে
কপ্টারে, লঞ্চে ---
সশস্ত্র এসপিজি
সতর্ক মঞ্চে।

সেপাই-সান্ত্রী কত
শত চারপাশে।
তবুও রাজার প্রাণ
কাঁপছে তরাসে।

বিক্ষোভে ক্রোধে দ্যাখো
কাঁপে কোলকাতা --
'গো ব্যাক' স্লোগান তুলে
মুখর জনতা।

শাহিনবাগের ঢেউ
পার্ক সার্কাসে ---
জ্বলে ওঠে দাবানল
ঘোর গণরোষে।

ধর্ম-জাতের ভেদ
বাংলায় গড়ে
রাজা ভেবেছিল দেবে
দু'টুকরো করে।
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা

রচনা ১১ জানুয়ারি, ২০২০, বিকেল ৪টে
তোলা হয়েছে  ১১.১.২০২০
নির্বোধ রাজা গোণে
ভুলের মাশুল।
বাঙালির চেতনায়
রবি-নজরুল।

এবার বুঝেছে রাজা
বাংলার মাটি
একতার বন্ধনে
দুর্জয় ঘাঁটি
*******************
.
রাজা, মারবে তুমি কত?
কবি প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী
(জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ও তার সংগ্রামী সাথীদের উপর
হামলার প্রতিবাদ)
মেরুদন্ড ভাঙতে চাও
মারের ওপর মারতে চাও
রাজা, মারবে তুমি কত ?

ভয়ের সাগর পাড়ি দিয়ে
ঢলযৌবন মিছিল নিয়ে
স্রোতের তোড়ে ভাসাবে তোমার
ক্ষমতায়নের ক্ষত...

মারছ রাজা আজকে তুমি
চাইছ প্রজা বনুক মমি
তোমার ত্রিশূল, তোমার লাঠি
ওদের শ্লোগান, ওদের মাটি
কবর ফুঁড়ে জাগবে সময়, চুকিয়ে হিসেব যত !

পন্থা কিম্বা রাজনীতি নয়
মন্দির নয়, মসজিদও নয়
যতই তুমি ওড়াও ফানুস
দেশের দশা মাপছে মানুষ
চাইছ তুমি ছিঁড়তে পাতা ইতিহাসের পাল্লাতে
যদিও প্রহর নিষ্ঠ ভীষণ পৃষ্ঠা তোমার ওলটাতে।
কবি প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী
আসানসোলের কলেজ শিক্ষক।

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী
আসানসোলের কলেজ শিক্ষক।

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী
আসানসোলের কলেজ শিক্ষক।

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১২.১.২০২০
.
না, এটা কবিতা না। যা খুশি ভাবুন, ভাবুন একটা লিফলেট, শাহিনবাগের কিম্বা
পার্কসার্কাসের ----- কবি রাজেশ দত্ত
চলো আগুন পুহিয়ে আসি
(শাহিনবাগ ও পার্কসার্কাস স্মরণে)
শিবশংকর পাল

এখানে কোনো ভৌতিক আসবাব নেই
অথচ চারিদিকে ছমছম করছে ঘন ছায়া
মানুষের মতো কিছু প্রাণি জিভ দিয়ে চেটে নিচ্ছে পাথরেরও রক্ত
গাছের পাতার রসও বাষ্প করে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে বক রাক্ষসের দল
এমুড়ো ওমুড়ো ভয়ের নিশান
বীভৎস মুখোশ থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে নামছে ভেদরক্ত
নদীতে ভেসে যাচ্ছে বমি ও লাশ
পোড়া কাঠ নিয়ে প্রেতচারীর লড়াই ফিকে করে দিচ্ছে ভারতীয় গ্রন্থের আলো

হারিয়ে যাওয়া আগুনের খোঁজে কারা সব চলেছে এ পথে সে পথে
তাঁদের বাঁধা হাত-পা থেকে রক্তের মতো ঝরছে বৃষ্টি
বৃষ্টির ছাট থেকে কেউ বাঁচাচ্ছে না মাথা
শব্দহীন চরাচরে ন্যূনতম হার্জেও ভেসে আসছে গর্জন
কোথাকার নামহীন সব মেয়েরা কোলে ফুলের কুঁড়ির মতো বাচ্চা নিয়ে
বুক চিতিয়ে আগলাচ্ছে মাটি মানুষ ও ভারতীয় ফসলের ঘ্রাণ

এই ফসল এবার ঘরে উঠবে বলে সকলেই
মেরামত করে নিচ্ছে ঘরদোর জলের ভাঙা কল
বাতাসে আর জলে এখন বড়ো বাঙময় ঢেউ
বিশ্বাসের বুকে গেঁথে দিচ্ছে কবিতার মতো বিশুদ্ধ বিশ্বাস
--- প্রেতলোক থেকে উঠে আসবেই কালো হয়ে যাওয়া সূর্যের ধবল আলো  
এই অবসরে চলো ঐ মেয়েদের ঘিরে ঘিরে সবাই আগুন পুহিয়ে আসি
কবি শিবশংকর পাল

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
সোসিয়াল মিডিয়াতে ঘুরে বেড়ানো নীচের ইংরেজীতে লেখা পোস্টটিতে করা
কবি রাজেশ দত্তর একটি চমত্কার কমেন্টকে আমরা এই পাতায় তুলে দিয়েছি
. . .  

চোদ্দো সালে চৌকিদার এসেছিল ঘরে --
বলেছিল, পাহারা দেবে দাঁড়িয়ে থেকে দোরে।
পাঁচ বছরে ঘর লুটে নিয়ে সেই চৌকিদার
এখন কেড়ে নিচ্ছে আমার ঘরের অধিকার!
রাজেশ দত্ত।
১২ জানুয়ারি, ২০২০









.
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা

রচনা ১২ জানুয়ারি, ২০২০,
তোলা হয়েছে  ১২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.









.
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
এখানে তোলা হয়েছে  ১৩.১.২০২০।

মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির ফেসবুক
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি সুকুমার রায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে "কুমড়োপটাশ" কবিতাটির সুরে . . .
অজ্ঞাত কবি

(যদি) "দেশপ্রেমিক" নাচে!!!
খবরদার চাইবে না কেউ
চাকরি তাহার কাছে
চাইবে না কেউ ভাত বা রুটি
চাইবে না কেউ খেতে
(থাকো) চার পা তুলে
সিনেমা হলে
'জনগণ' তেই মেতে!

(যদি) "দেশপ্রেমিক" কাঁদে-!!!
খবরদার! বাড়িতে যেন মাংস কেউ না রাঁধে
গোরুর খুরে মাথা খুঁড়ে তুমুল অট্টনাদে
ভোজপুরি গান চালিয়ে দিও
বেডরুমে আর ছাদে!!

(যদি) "দেশপ্রেমিক" হাসে!!!
সাবসিডির ঐ চিন্তা যেন
কারও মনে না আসে।
থাকবে খাড়া ব্যাঙ্ক লাইনে
তুলবে মেপে টাকা
জানবে ওসব আম্বানিদের
জন্য আছে রাখা।
অজ্ঞাত কবি
কবিতাটি সংগ্রহ করেছেন
কবি রাজেশ দত্ত
কবিতাটি ফেসবুকের কবিতার খাতা
গ্রুপ থেকে নেওয়া।
কবিতাটি
মৈত্রী দাসও শেয়ার করেছিলেন।
তাঁর লেখা কি না নিশ্চিত নই।
তোলা হয়েছে  ১৭.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
(যদি) "দেশপ্রেমিক" ছোটে!!!
সবাই যেন সাতসকালে যোগা করতে ওঠে।
ভক্তি ভরে গেলাস ভরে
পান কোরো গো-চোনা
বুঝবে সুফল প্রাতঃকৃত্যে
বেরোবে ভরি সোনা!!

(যদি) "দেশপ্রেমিক" ডাকে!!!
চেঁচিয়ে বলবে "সব বদমাশ
পাশের দেশেই থাকে।"
যুদ্ধ-রসদ-নেতার মাইনে
মন্ত্রী-ট্যুর বিদেশে
নাই বা পেলে কিছুই তবু
ট্যাক্সো দিও হেসে।

তুচ্ছ ভেবে এসব কথা করছ যারা হেলা
তাদের ঘরে পৌঁছে যাবে
চাড্ডি পরা চ্যালা
বাঁদরামি আর গুন্ডামি তে
বিরক্ত যেই হলে
অমনি তোমায় দাগিয়ে দেবে
"দেশদ্রোহী" বলে !!
-- সংগৃহিত
.
VARUN GROVER || HUM KAGAZ NAHI DIKHAYENGE
नागरिकता संशोधन कानून (CAA) और नेशनल रजिस्टर ऑफ सिटिजन्स (NRC) के खिलाफ देशभर में जारी प्रदर्शन के बीच कॉमेडियन और गीतकार वरुण ग्रोवर ने ट्विटर पर एक कविता का
वीडियो शेयर किया है।
Lyrics : Varun Grover, Music & Vocals : Rahul Ram, Editing : Shoaib Nazeer, Additional Guitar : Nikhil Rao, Additional Vocals : Nikhil Rao & Pronay Roy.
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे।
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे,
तानाशाह आके जायेंगे,

तानाशाह आके जायेंगे,
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे,

तुम आंसू गैस उछालोगे,
तुम ज़हर की चाय उबालोगे,
हम प्यार की शक्कर घोलके इसको,
गट-गट-गट पी जायेंगे,
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे।

ये देश ही अपना हासिल है,
जहां राम प्रसाद भी बिस्मिल है,
मिट्टी को कैसे बांटोगे,
सबका ही खून तो शामिल है,
कवि वरुण ग्रोवर

কবিতাটি সংগ্রহ করেছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৮.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ये देश ही अपना हासिल है,
जहां राम प्रसाद भी बिस्मिल है,
मिट्टी को कैसे बांटोगे,
सबका ही खून तो शामिल है,

तुम पुलिस से लट्ठ पड़ा दोगे,
तुम मेट्रो बाँदा करादोगे,
हम पैदल-पैदल आएंगे,
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे।

हम मंजी यहीं बिछाएंगे,
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे।
हम संविधान को बचाएंगे,
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे।
हम जन-गन-मन भी जाएंगे,
हम कागज़ नहीं दिखाएंगे।
.
<<<< কবি বরুণ গ্রোভারের কণ্ঠে মূল হিন্দী কবিতার আবৃত্তি          
কাগজ আমরা দেখাব না
বরুণ গ্রোভারের সিএএ, এনআরসি নিয়ে জনপ্রিয় 'হাম কাগজ নেহি দিখায়েঙ্গে' কবিতাটির আবৃত্তি বাংলায় বিশিষ্টজনদের কণ্ঠে। সংবাদটি পড়তে "এই সময়" পত্রিকায় . . .  
ভিডিওটির পরিচালক রনি সেন। অংশগ্রহণে রয়েছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, মনোরঞ্জন ব্যাপারী, স্বস্তিকা মুখার্জী, দেবলীনা, কঙ্কণা সেনশর্মা, নন্দনা সেন, আয়ুষ্মান মিত্র, স্নেহা ঘোষ, চিত্রাঙ্গদা শতরূপা, মধুযা মুখার্জী,
তিলোত্তমা সোম, রূপম ইসলাম, সুমন মুখোপাধ্যায় এবং ধৃতিমান চ্যাটার্জী।

শাসক আসবে শাসক যাবে
কাগজ আমরা দেখাব না
শোষক আসবে শোষক যাবে
তবু কাগজ দেখাব না
যতই মারো জলকামান
আর যতই চলুক টিয়ার গ্যাস
ভালবাসা আর বিপ্লব বুকে
ভয়ে তো পিছু হটবো না
কাগজ আমরা দেখাবো না
এ দেশ আমার এদেশ সবার
বিসমিল যে সে রামপ্রসাদ
ধর্মে ধর্মে বিভেদ করে
আজকে তুমি বাঁচবে না
কাগজ আমরা দেখাবো না
ইনটারনেট বন্ধ করো
মাথায় মারো পুলিশ লাঠি
স্লোগান তবু থামবে না
কাগজ মোটেই দেখাবো না
কবি বরুণ গ্রোভার
এর মূল হিন্দী কবিতার বাংলায় আবৃত্তি।
অনুবাদকের নাম উল্লেখিত হয় নি।

কবিতাটি সংগ্রহ করেছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৮.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
জাতিভেদের রাজনীতিতে
মনভোলানো মন কি বাতেঁ
আর তো ভবি ভুলবে না
কাগজ আমরা দেখাবো না
গলায় আছে জনগণমন
বুকের মাঝে সংবিধান
লড়ছে সবাই পথে নেমেই
লড়াই আজকে থামবে না
কাগজ আমরা দেখাবো না
জাত নয় আজ ভাত দে বলে
দেড়শো কোটির আবাদি
মন্দির নয় মসজিদ নয়
দেশ জুড়ে চাই আজাদি
কাগজ আমরা দেখাবো না
কাগজ মোটেই দেখাবো না
কবিতাটির বাংলায় অনুবাদের আবৃত্তি >>>
.
ভারত ছাড়ো
সান্ত্বনা চ্যাটার্জ্জি

আজ মনে হয় এসেছে সময়,
অস্ত্র ধরো!
ভারত মায়ের বীর সন্তান,
ক্ষতম করো!
নরকের থেকে তুলেছে মাথা,
ক্লেদাক্ত হাত ধরেছে হিজাব,
এতো সাহস !
উপড়ে শিকড় ফেল রাস্তায়,
লাথিয়ে মারো ।
মায়ের আব্রু কেড়েছে এদের
এতো সাহস ।
ভায়ে ভায়ে যাতে হয় সংঘাত
তুলেছে ধরে তাই জাত-পাত,
এদের ঘারে ধাক্কা মারো।
অনেক হয়েছে শান্তি মিছিল,
কথায় গানে।
আছে যত বীর মা’র সন্তান
দাঁড়াও ঘুরে ।
অনেক সহ্য করেছি আমরা,
এবার , ক্ষতম করো।
কুকুরের মতো করবে গুলি?
এতো সাহস,
নিজের মাথার খুলিটি এখন রক্ষা করো।
অনেক হয়েছে এবার তোমরা,
ভারত ছাড়ো॥
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
এখানে তোলা হয়েছে  ১৮.১.২০২০।

মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির ফেসবুক
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
Sung in protest against the imprisonment of poet Faiz Ahmad Faiz by
Pakistan's dictator General Zia-ul Haq by Iqbal Bano.

IQBAL BANO, the Ghazal Queen, sang Faiz's immortal song "Hum Dekhenge"
(We shall witness) at Alhamra Arts Council, in Lahore, on 13 February,1986,
full of 50,000 people, wearing a black sari in defiance of Zia's ban on the sari.
.
প্রবাদপ্রতিম উর্দু কথাসাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টোর ৬৫তম জীবনাবসান
দিবসে তাঁর অমর ও অবিস্মরণীয় স্মৃতির প্রতি অন্তরের গভীর অনুরাগে ও বিনম্র
শ্রদ্ধায় রচিত কবিতা। দেশভাগের নির্মম বলি এই দরদি কথাশিল্পীর জন্যে কোনও
বেদনাই যথেষ্ট নয়। তবু মান্টো এই উপমহাদেশের আর্ত মানবতার কন্ঠস্বর হয়ে,
তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে প্রতিবাদী চেতনার চিরন্তন প্রেরণা হয়ে বেঁচে
ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন আমাদের অন্তরের অন্তঃপুরে!
জেগে থাকো তুমি, মান্টো... কবি রাজেশ দত্ত

এখনো যখন রাজার হুমকি
রুদ্ধ করছে কণ্ঠ
ধর্মদ্বেষের আগুন ছড়িয়ে
দেশকে করে অশান্ত
এখনো যখন প্রান্তজনেরা
শোষণে সর্বস্বান্ত
লাশকাটা ঘরে পড়ে আগোচরে
কত গরিবেরা জ্যান্ত
এখনো যখন জুলুম শাসন
চলছে অবিশ্রান্ত
এখনো যখন গোয়েবল-রাজে
জনতারা দিগভ্রান্ত
এখনও যখন রাষ্ট্র দেখায়
হিংসার নখ-দন্ত
নির্যাতিতের আর্তিতে কেঁপে
উঠছে দিগদিগন্ত
এখনো যখন মিছিলের পথে
হাঁটতে হবে অনন্ত
লক্ষ প্রাণে দুরন্ত হয়ে
জেগে থাকো তুমি, মান্টো... ...
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা

রচনা ১৮ জানুয়ারি, ২০২০,
তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
এন.আর.সি. আর এন.পি.আর.- এ ছাঁটাই করার ফন্দি
কবি উত্তম মজুমদার

এন. আর. সি. আর এন. পি. আর.-এ ছাঁটাই করার ফন্দি
ডিটেনশনের ক্যাম্পে রাখবে বেনাগরিক বন্দি।
নাগরিক তো এদেশেরই, আবার কাগজ কেন?
মজুর-কিষাণ রক্তে ঘামে দেশ গড়েছে জেনো।
দাস-মজুর আর হিন্দুরাষ্ট্র বানানোর এই ছক
গুঁড়িয়ে দেবেই,কাড়বে মানুষ সব অধিকার হক ?      
গুলির ঘায়ে ঘোষ নাকি এক, মারবে সবার জান
দেশপ্রেমিক বিদ্রোহীদের, নকশাল আরবান ?
দেশপ্রেমটা শিখবো নাকি, শিখবো খুনীর  কাছে ?
বিশ্বাসঘাত ,দালাল কখনো না হই যেন পাছে!
ফ্যাসিস্ট দস্যু শুনে নাও তুমি কান খুলে আরবার
গ্রামের পর গ্রাম জেগেছে ঢেউয়ে ঢেউয়ে তলোয়ার।
কবি উত্তম মজুমদার

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ধর্ম ও ঈশ্বর
কবি দিগন্ত রায়

সুপ্ত ধর্মের বীজ অঙ্কুরিত যখনই
দারিদ্র, কুশিক্ষায় চিহ্নিত হয় ধর্ম
'বাড় বেড়েছে অনেক' এবার খেদাও ওদের
'রামরাজ্য আসলে স্বর্গীয় সব কর্ম'
মনের বনেতে বাঘ...জাত গেল, জাত গেল
ডিজিটাল দেশে ঘোমটা, ফাঁদ পাতা চোরাবালিতে
রাম রহিমে ফোটায় ফুল জীবন যাপনে
নিমেষে কখন ভাগ হয়ে যায় ভোটের তালিতে
বড় চেনা তুই কলেজে, বাজারে, পুজোতে ও ঈদে
সুখ, দুঃখে বড় কাছাকাছি হই নিরবধি
কখন যেন মেঘলা আকাশে হারাই তোকে
কারা যেন তোলে বেড়া মাঝখানে, রক্তের নদী
ধর্মের ঐ ফসিল জাগিয়ে তোলে ক্ষমতা
জীবন, মৃত্যু, ঘটনার স্রোত অবিনশ্বর
যে কোনও তন্ত্রে মানুষ কোথাও বড় একাকী
তবুও ধর্মে খড়কুঁটো খোঁজে, মরা ঈশ্বর!...
কবি দিগন্ত রায়

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আমার দেশ
কবি দিগন্ত রায়

চিরুনি তল্লাশি করে, লাই-ডিটেক্টরের সামনে বসিয়ে,   
কিংবা আমার পোশাক দেখে খুঁজে রাজা আমাকে,
করেছে আমাকে নগ্ন, চিনতে কে আমি?  

আঁধারে খুঁজি আমার সোনার দেশ, সোনার ফসল
যেখানে ফাগুন নেচে বেড়ায় বারোটা মাস
ফুল ফোটে সব যে যার মত আপন মনের আনন্দে
এক জমিতে সবাই সবার, একই মালার বন্ধনে।

কবন্ধরাজ বিভেদ টানেন আমরা ওরার সীমান্তে
পাশে থাকার আশ্বাসে ও বিরোধিতার হুঙ্কারে
আসন ছড়ায় শক্ত শেকড় দেশপ্রেমের উল্লাসে
প্রশ্নে ক্ষিপ্ত বেরোয় দাঁত-নখ, রাজার নিদান --
'তারকাঁটা ঘেরা পায়ের তলার মাটিটাই তোর দেশ'
কবি দিগন্ত রায়

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
উন্নয়ের রথের চাকা ছোটে বিদ্যুৎ ঝলকানিতে
লাগায় ধাঁধা, তবু চোখে তোলা যায়না কাপড়!
মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ধুলো সহ্য করে দম যায় যায়
তবু প্রকাশ্যে নাকে না-চাপা কাপড়, কড়া নির্দেশ!
ক্ষুধার আগুনে চোখে ঝরে কত না নোনতা জল
কত না মাটির মায়ের পরনে ছিন্ন, নোংরা, মলিন বেশ!
রাজা পুজো করে সুবেশা ভারতমাতার ছবিকে --
'মাভৈ বলে তোল পতাকা সব দেশপ্রেমীরা'!

রাজার ঝুলিতে লুকানো হিংস্র ধর্মের সাপ যত
ভোটের পাশায় বের করে সব দরকারে কৌশলে

কে আর খোঁজে ধর্ম রক্তদানে, রক্ত গ্রহণে
কোথায় ধর্ম আলাদা অঙ্গদানে, প্রতিস্থাপনে
তৃষ্ণার জল কোথায় আলাদা ধর্ম প্রভেদে
বিপদে বাড়ানো হাতটায় কে বলো খোঁজে ধর্ম!

ক্ষমতার যত প্রভুরা দেয়াল তোলে মানুষে
আসনের রঙ পাল্টায় একই কথার ফানুসে...
.
মোদী আর ট্রাম্প
কবি দিগন্ত রায়

যখন টালমাটালে দেশ হাঁটে কাঁটা পথে
দৃষ্টি ঘোরাতে যুদ্ধ, ডিটেনশন ঐ ক্যাম্প
দেশোদ্ধারে দেশপ্রেমী একাই শাসক
এক দেশ এক দলের ঘোড়া ছোঁটায় ব়্যাম্প
ভোট ফাৎনায় দৃষ্টি, মাপে আবেগের পারাটা,
একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ মোদী আর ট্রাম্প...
কবি দিগন্ত রায়

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আমরা দেখো ঘাবড়াইনি
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ। জে.এন.
ইউ-তে ফ্যাসিবাদী আক্রমণের প্রতিবাদে মুম্বইতে মধ্যরাতের
সমাবেশে লেখা কবিতা
বাংলা অনুবাদ : শুভেন্দু দাশগুপ্ত।

আমরা দেখো ঘাবড়াইনি
অবাক হইনি মোটেই,
আমাদের যা ভাবা ছিল,
তাই তোমরা হলে।
বলেছিলে মধ্যরাতে সূর্য জ্বেলে দেবে,
মধ্যদিনে রাত্রি আড়াল বানিয়ে চলে এলে।
বলেছিলে বৃষ্টি জলে ভিজিয়ে দেবার কথা,
ভিজিয়ে দিলে অ্যাসিড ঢেলে দিয়ে।
তোমরা যেমন, তেমন দেখিয়ে দিলে।
ক্ষমতাখানি দেখিয়ে দিলে
ছড়িয়ে আগুন জ্বেলে।
ঘাবড়াইনি, অবাক হইনি মোটেই।
সত্যি যা, তা মিথ্যে বানিয়ে দিলে
মিথ্যে যা, তা সত্যি করিয়ে দিলে।
কে বলেছে আমাদের মাথায় ভাগ ঢুকিয়ে দিলে!
আমরা বলি তাকিয়ে দেখো রাজার মাথায় কাঁটার মুকুটখানি ।
আমরা জানি ভোরের আগে রাত্রি গভীর হয়।
তোমরা এখন জুলুমশাহীর রাত্রি গভীর করায়।
আমরা আনছি রাত্রি শেষে ভোরের রঙিন আলো।
তোমরা বাড়াও জুলুমশাহীর রাজ।
আমরা এখন নিশ্চয়তায় আছি,
এগিয়ে যাবো জুলুম ভাঙ্গার পথে।
ঘাবড়াইনি, অবাক হইনি জেনো।
তোমরা এখন ঠিক তেমনই,
যেমন ভাবা ছিল।
কবি বিশাল ভরদ্বাজ
বাংলা অনুবাদ : শুভেন্দু দাশগুপ্ত

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
.









.
কবি বিপুল চক্রবর্তী
মিলনসাগরে কবির পাতা
ফেসবুক

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.









.
কবি উপমা নির্ঝরণী

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
এই সময়
(শাহিনবাগ থেকে পার্ক সার্কাসের মা-
বোনদের আন্দোলনকে সংহতি জানিয়ে)
কবি মৌতুলি নাগসরকার

যোজন তফাৎ
তবু বাড়িয়েছে হাত
এই সময়।
ভয়ের আগলে
কেটে যাওয়া রাত
দেখিয়েছে ভোর
এই সময়।
তাঁবুতে তাঁবুতে জেগেছে স্লোগান
কেঁপেছে বাতাস
কাঁপেনি তবু আধো আলো ভোর
এই সময়।
বুকে টেনে নিই
যে আছে জেগে প্রহরায় ভাই
এই সময়।
কবি মৌতুলি নাগসরকার

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
এই সময় - মৌতুলি নাগসরকার
কথোপকথন - বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী
মিছিল - সুরজিৎ চক্রবর্তী
নিজের কথা ভাবলে রে - ফেসবুকের জনগণমন জনগণমন গ্রুপ
বঙ্গ-বিজেপির দশাবতার - রাজেশ দত্ত
রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয় - অনমিত্র রায়
মানবতার সারমর্ম - কবি মিলি মুখার্জী
NRC নয় - অসীম গিরি
ধর্ম তখন তফাৎ গিয়েছিল - কবি উত্তম মজুমদার
আমার বাস, ভারত ভূম - চারুদত্ত নীহারিকা রজত
কাগজ - কবি অংশুমান কর, আবৃত্তি - নিবেদিতা
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি - TMC এর অজ্ঞাত কবি
দেশটা কার? - শুভনাথ
কাগজ চাইতে এলে - কবি দেবরাজ কোলে
ডাকছে শাহিনবাগ - কাজরী রায়চৌধুরী
এই সময়টা যুদ্ধের... - বাবলু চট্টরাজ
রাজার অবয়ব - কবি মিলি মুখার্জি
মিছিলে - বরুণ কুমার আড়ী
আমরা কাগজ বলতে বুঝি - কবি দেবর্ষি সরকার
অন্য ওষুধ - অজাতশত্রু মিত্র
.
কথোপকথন
কবি বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী

"এই ব্যাটা, তোর কাগজ আছে?"
"আজ্ঞে, মালিক"। "দেখা"।
"এই যে হুজুর,"
"এ আবার কী?
কিচ্ছুটি নেই লেখা।"
"লেখা তো ছিল,
গত সনের বানে
মুছায়ে দিছে ভাসায়ে দিছে ঘর।"
"এই কথাডার মানে?"
এও জানে না, ওই বা বুঝি জানে?
এইরকমই কথাবার্তা চলছে পরস্পর।
"আপনি কিছু লিখে দ্যান না কেনে?"
ভিখিরিটি বললো অতঃপর।
হাত বাড়ালো, বললো, মৃদুস্বর,
"আঁকিয়া দ্যান আমার ভাগ্যরেখা।"
কবি বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
.
মিছিল
কবি সুরজিৎ চক্রবর্তী

এখনও তুমি চুপ কেন, সাথী?
আসমানে ঐ মুষ্টিবদ্ধ গর্জে ওঠা হাত
মিছিলে স্লোগানে
ঐক্যের গর্জনে
প্রতিরোধ গড়ে লড়ছে, করছে প্রতিবাদ।
এখনো বন্ধু থাকতে চাও কি গৃহে
চোখের সামনে দেখছো নাকি
মানুষকে নিয়ে ঐ স্বৈরাচারী করছেটা কি!
ধর্মের নামে এই সমাজের মানব বিভাজন দিয়ে।
চুপ কে তুমি আজকেও সাথী
আত্মবিষাদ নিয়ে?
নেমে এসো তুমি এই রাস্তায়
দেখো কত হাত তোমার অপেক্ষায়
তোমারই জন্য আঙুল উঁচিয়ে
প্রতিবাদ করে, প্রতিরোধ গড়ে
শাসকের কী ক্ষমতা যে তোমায় আজকে শাসায়!
কবি সুরজিৎ চক্রবর্তী

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৯.১.২০২০
কাঁধে কাঁধ দিয়ে, হাতে হাত ধরে
জীবনের বাঁধা আজ ছিন্ন করে
নগর, গঞ্জ রাস্তার উপরে
দেখো শত শত মানবিক মুখ
কাঁপিয়ে দিয়ে ঐ কু-শাসকের বুক
তোমার জন্য গর্জে উঠছে, যতই বাধা আসুক I
তোমার গলার স্বর কেন ক্ষীণ?
সময় হয়েছে তীব্র স্বরের
বিরোধিতা করো রাষ্ট্রীয় স্বৈরাচারের
এসো আজ এই গণমিছিলে
শোধ করো তোমার মাতৃভূমির ঋণ।
আসমানে ঐ মুষ্টিবদ্ধ গর্জে ওঠা হাত
মিছিলে স্লোগানে
ঐক্যের গর্জনে
প্রতিরোধ গড়ে লড়ছে, করছে প্রতিবাদ।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
নিজের কথা ভাবলে রে ভাই মন করে কেমন
নিজের কথা ভাবলে রে ভাই মন করে কেমন
মোরা ছিলাম কোথা মোরা ছিলাম কোথা
মোরা ছিলাম কোথা কোথা এলাম দেখবো এবার কোন ভূবন
মোরা ছিলাম কোথা ও মোরা ছিলাম কোথা
মোরা ছিলাম কোথা কোথা এলাম দেখবো এবার কোন ভূবন
নিজের কথা ভাবলে রে ভাই মন করে কেমন।
মোদের নিজের কথা ভাবলে রে বোইন মন করে কেমন
মানষের মধ্যে যে রে ভাই, ধর্ম ভেদ তো করতে নাই
মানুষের মধ্যে যে রে ভাই, ধর্ম ভেদ তো করতে নাই
কবীর লালন রবি নজরুল চৈতনে তাই কয়।
যত বানিয়া নেতা হায়, দেশে দাঙ্গা যে বাধায়
যত বানিয়া নেতা হায়, মাঝে দাঙ্গা যে বাধায়
হিন্দু মুসলমানের লাশ ফেলে দেয় পাল্টিটাও তো হয়।
ওরে ভুলিস না ভাই, ওরে ভুলিস না ভাই
দেশ ভাগেরই ষড়যন্ত্র সঙ্গোপন। দালাল দিয়ে
দেশী দালাল দিয়ে করলো ব্রিটিশ বঙ্গদেশ দ্বিখণ্ডন
নয়া দালাল পাতছে রে ফাঁদ সজাগ রাখো মন।
নয়া দালাল পাতছে রে ফাঁদ সজাগ রাখো মন।
মোদের তাইতো লাগে ভয়,
ধর্মের কল হাওয়ায় নড়ে হাওয়া কারা দেয়?
মোদের তাইতো লাগে ভয়,
ধর্মের কল হাওয়ায় নড়ে হাওয়া কারা দেয়?
ওদের তাইতো লাগে ভয়,
ভোট যেমন হাওয়াতে হয় দাঙ্গাও তাই হয়।
ওরে যেন ভুলিস না এই হাওয়ার মহিমা
বদ হাওয়ার এই ঝোড়ো কালে কেউ তো বাঁচিস না।
ওরে এন.আর.সি. তো না, আর এন.পি.আরও না
সি.এ.এ.-এরও ফাঁদে যেন কেউ তো ফাঁসিস না।
ফেসবুকের
"
জনগণমন জনগণমন" গ্রুপ
গীতিকারের নাম অজ্ঞাত।

গানটি সংগ্রহ করেছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ১৮.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
ওরে এন.আর.সি. তো না, আর এন.পি.আরও না
সি.এ.এ.-এরও ফাঁদে যেন কেউ তো ফাঁসিস না।
ওরে তাই বলি আয়,
ওরে তাই বলি আয় জোট বাঁধি সব লড়ি জান করে কবুল
ওরে তাই বলি আয়,
ওরে তাই বলি আয় জোট বাঁধি সব লড়ি জান করে কবুল।
এন.আর.সি. না, নারে না না এন.পি.আর. না, সি.এ.এ. না
না রে না না না কিছুই
এন.আর.সি. না, নারে না না এন.পি.আর. না, সি.এ.এ. না
না রে না না না কিছুই
ভেদাভেদ তো অনেক হলো জোট বাঁধি সবাই।
ভেদাভেদ তো অনেক হলো জোট বাঁধি সবাই।
সেই জোটের বলে, ও সেই জোটের বলে লড়বো মোরা
দেবো নাকো নো কাগজ,
জোটের বলে, ও সেই জোটের বলে লড়বো মোরা
দেবো নাকো নো প্রমাণ।
হই নাগরিক, ও মোরা হই নাগরিক ভারতেরি
বাপের যায়গা নয় কারো
হই নাগরিক, ও মোরা হই নাগরিক ভারতেরি
বাপের যায়গা নয় কারো
তারা শালা দুশমনেদের দালাল রঙ বেরঙ।
তারা যত ভোটবাজদের ঢপবাজদের দল।
তারা শালা দুশমনেদের দালাল রঙ বেরঙ।
তারা যত ভোটবাজদের ঢপবাজদের দল।
ফেসবুকের "জনগণমন জনগণমন" গ্রুপ
সুরকার ও গীতিকারের নাম অজ্ঞাত।
গানের ভিডিওটি দেখতে . . .
.
বঙ্গ-বিজেপির দশাবতার ('পরিবর্তনে'র পরে আবির্ভূত)
(১)
রাহুল সিংহ
মুখ ফুটেও 'রা' কাড়েনি
এখন ফোটায় 'হুল'!
হালুম করে গর্জে ওঠে
'সিংহ' মশাই রাহুল!

(২)
দিলীপ ঘোষ
ঘোষবাবুর বেজায় রোষ,
বেলাগাম তার দু'
LIP --
বঙ্গে এলো নয়া সঙ্ঘী
জঙ্গী নেতা দিলীপ।

(৩)
বাবুল সুপ্রিয়
বঙ্গবাসীর প্রিয় গায়ক
সুপ্রিয় বাবুল
'এমপি' হয়ে শিং বাগালো
কেয়াবাত বাঃ
BULL!

(৪) লকেট চ্যাটার্জি
দিদির কন্ঠহারে শোভা
পাচ্ছিল যে 'লকেট',
LAW কেটে দল ছেড়ে জোটে
সাংসদ পদ ভেট!

(৫)
মুকুল রায়
সারদা-নারদা কেলেঙ্কারি
ভাসিয়েছিল দু'কূল --
আশ্রয় করে গৈরিক তরী
প্রাণ বাঁচালো মুকুল!
কবি রাজেশ দত্ত
মিলনসাগরে কবির পাতা

রচনা ১৯ জানুয়ারি, ২০২০,
তোলা হয়েছে  ২০.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
(৬) রাজু ব্যানার্জি
টক-শোয়ে বসে ব্যানার্জি রাজু
নয় 'জেন্টলম্যান',
মুখে কুকথার তুবড়ি ছোটায়,
নেই লঘু-গুরু জ্ঞান।

(৭)
সায়ন্তন বসু
বসিরহাটের ভোটে হেরেও
ধনুর্ভাঙা পণ --
গলার জোরে গালির তোড়ে
জিতবে সায়ন্তন!

(৮)
জয়প্রকাশ মজুমদার
ধোলাই খেলো, জেল খাটলো
দুর্নীতির পর্দা ফাঁস!
তবুও চতুর হাসি হাসে
ধুরন্ধর জয়প্রকাশ!

(৯)
রূপা গাঙ্গুলী
রাজনীতির মঞ্চ কাঁপিয়ে
'দ্রৌপদী' রূপা আসে,
'শিশুপাচার' কেসে ফেঁসে
গেল অজ্ঞাতবাসে!

(১০)
অর্জুন সিং
তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে
পাণ্ডা  'তৃতীয় পাণ্ডব'!
ভাটপাড়া করে কুরুক্ষেত্র,
নৈহাটি হয় খাণ্ডব!
.
রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়
কবি অনমিত্র রায়

রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়
সকালবেলার আলোয় আছে আমার পরিচয়
কাগজ চাওয়া তাদের সাজে
হোঁৎকা যেসব দাঙ্গাবাজে
দেশের লোকের মাথায় ঢোকায় দেশ হারানোর ভয়

রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়
দেশের পানি-দেশের হাওয়ায় আমার পরিচয়
কাগজ দেখাক সেসব ছেলে
একলা মুসলমানকে পেলে
কোতল করে বলবে যারা জয় শ্রী রামের জয়

রক্ত দিয়ে কেনা মাটি, কাগজ দিয়ে নয়
মৌলবাদের চোখরাঙানোয় পাচ্ছি না আর ভয়
আমিই আলি আমিই কানাই
কাগজ দিয়ে ঠোঙা বানাই
ক্ষিদের সময় পেটের জ্বালা কেমন করে সয়?
জ্বালা থামে খাবার খেয়ে
দেখিস রে তুই কাগজ চেয়ে
বুঝবি সেদিন ক'মণ ধানে ক'কিলো চাল হয়!
রক্তে আছে, রক্ত দেবে আমার পরিচয়।
কবি অনমিত্র রায়

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২০.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
মানবতার সারমর্ম
কবি মিলি মুখার্জী

প্রেম এক রাষ্ট্রবিহীন মানুষের মতো
মাটির সীমা না জানা
অবাধ্য উদ্বাস্তু ছাঁচে
রাজনীতি-কূটনীতি
শাসকের তাস
বারবার ব্যর্থ হয় তার কাছে ।

পরিচয়হীন সেই অনাগরিকের মতো
স্বীকৃতির দাঁড়িপাল্লায়
নিয়তই চড়ে
টেকে না কোনো ত্রাণ
ফুটো পাত্রে তার
শুধু টিকে থাকার যুদ্ধ করে মরে !
কবি মিলি মুখার্জী

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২০.১.২০২০
.
NRC নয় কথা সুর ও কণ্ঠ - কবি অসীম গিরি
কারা কারা নাগরিক কারা কারা নয়
দেশদ্রোহীরাই দেশপ্রেমী হয়।
কারা কারা নাগরিক কারা কারা নয়
দেশদ্রোহীরাই দেশপ্রেমী হয়।
NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়।
NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়।
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।

জঙ্গলে আদিবাসী উচ্ছেদ চলে
দলিতদের ওরা পুড়িয়ে মারে।
জঙ্গলে আদিবাসী উচ্ছেদ চলে
দলিতদের ওরা পুড়িয়ে মারে।
এদিকে "মেরা দেশ মহান" হলো তাই
ব্যাঙ্ক লোটে নীরব-ললিত-মেহুলি ভাই।
NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়।
NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়, NRC যাক চুলায়।
NRC যাক চুলায় NRC যাক চুলায়
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।

বন্ধ কারখানা বেকার শ্রমিক
বিষ সারে ক্ষেত মরে, ঘরে বিদেশী বণিক।
বন্ধ কারখানা বেকার শ্রমিক
বিষ সারে ক্ষেত মরে, ঘরে বিদেশী বণিক।
বীজের দাম বাড়ে, নেই ফসলের দাম।
কবি অসীম গিরি
মিলনসাগরে কবির পাতা

কবিতাটি সংগ্রহ করেছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২১.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
বীজের দাম বাড়ে, নেই ফসলের দাম
হাইটেক সিটির নামে উচ্ছেদ কৃষাণ।
No NRC, No NRC, No NRC, No NRC,
No NRC, No NRC, No NRC, No NRC,
No NRC, No NRC,

ধর্ষিতা কতদিন কতগুলো মেয়ে
লুটেরা সব লোটে মেয়েদেরও লোটে।
ধর্ষিতা কতদিন কতগুলো মেয়ে
লুটেরা সব লোটে মেয়েদেরও লোটে।
লুট হয় পাহাড় জঙ্গল আর
খনি থেকে তামা লোহা পগার পার।
বল
NRC নয়, NRC নয়, বল NRC নয়, NRC নয়
বল
NRC নয়, NRC নয়, বল NRC নয়, NRC নয়
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।
দেশ অধিকার আর পূর্ণ স্বরাজই চায়।

সরকারি কোম্পানি বন্ধ করে
বেচে দেয় সব কিছু বিদেশী বাবুরে।
সরকারি কোম্পানি বন্ধ করে
বেচে দেয় সব কিছু বিদেশী বাবুরে।
ভাষা আর ধর্মের বিভেদ ঘটায়
ওরা হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্থান চায়।
বিদেশী বাবুদের বেচে দেয়
বেচে দেয়, বেচে দেয়,
বেচে দেয় ওরা হিন্দু হিন্দী হিন্দুস্তান চায়
এদেশ আমার
বল
NRC নয়, NRC নয়, বল NRC নয়, NRC নয়
এদেশ আমার, এদেশ আমার, এদেশ তোমার বল
NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়।
NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়।
NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়।
NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়, NRC নয়।
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ধর্ম তখন তফাৎ গিয়েছিল
কবি উত্তম মজুমদার

পালামৌর জঙ্গলে তখন
হাড়-কাঁপানো রাত।
ট্যালটেলে খিচুড়ির সাথে
বুনো ফুলের বড়া
যখন এগিয়ে দেয়
ঘোমটা -আনত মেয়েটি,
কোনো ধর্মের হিম্মত হয়নি
আমাদের সানকিতে উঁকি মারার।

জাহানাবাদের পাসোয়ান টোলায়
টালির ছাউনির নিকোনো দাওয়ায় বসে
যখন ভাত খাচ্ছি খেসারি শাক সহযোগে,
সাহস হয়নি কোনো জাতপাতের
ভ্রুকুটি নিক্ষেপের।

বারিপদার গহিন অরণ্যে
তিন-চার দিনের বাসি পান্তাভাতের
টক খাওয়ার সময়,
আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে
ভয় পেয়েছিল
সব ধর্ম আর জাত।

সেই আমরা ক'জন শহুরে যুবা
ডোভার লেনের মজলিশে
যখন হাজির হলাম, দেখি ---
ভীমসেন যোশী আল্লারাখা মিলে
সুরের আশ্চর্য ওম সৃষ্টি করে চলেছেন,
ধর্ম তখন তফাৎ গিয়েছিল।
কবি উত্তম মজুমদার

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২০.১.২০২০
.
আমার বাস, ভারত ভূম
কবি - চারুদত্ত নীহারিকা রজত।

আমার বাস, ভারত ভূম,
আমার শান্তি, আমার ঘুম।
আমার আশা, কারখানায়,
আমার ভাষা শব্দ খায়।

এখন রাত, খুব কালো,
আমার মা খুব ভালো।
আমার মেয়ে, ছোট্ট সে,
আমার বাবা, বৃদ্ধ যে।

কবে থেকে, কত সে দিন,
ক’বার ভোট, কতটা ঋণ?
আমার পেট, খাবার চায়,
আমার হাত, তাই যোগায়।

আমার বন্ধু, চাষ করে,
কাঁটাতারের দুই পারে।
আমরা সবাই বাঁচতে চাই,
আমরা খুঁজছি, থাকার ঠাঁই।

তোমরা তো লোক আনো,
কাঁটার তার নাই জানো!
আমরা শুধু বাঁচতে চাই,
আমাদের তাই খাবার চাই।
কবি চারুদত্ত নীহারিকা রজত

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২০.১.২০২০
তোমার ক্ষতি, তোমার লাভ,
আমার ঘরে অন্নাভাব।
তোমরা শুধু তালিকা চাও,
আমার কথা শুনতে পাও?

অসহ্য এই যন্ত্রণা,
পেটের ভিতর নাই দানা।
মাঝে মাঝে মরতে চাই,
মায়ের জঠর দেখতে পাই।

জঠর কালো, অন্ধকার,
সেথায় যাবো আরেকবার।
মায়ের রসে ডুবিয়ে মুখ,
করবো উজাড় আমার দুখ।

অথবা এক রাইফেলে,
বাঁচার আশায় ছাই ফেলে,
তোমার চোখে রাখবো চোখ,
দেখবে সেদিন আমার রোখ।

আমরাও যে বাঁচতে চাই,
সম্মান আর অন্ন চাই।
আমার মাটি, আমার দেশ,
কীসের সীমা, কোন বিদেশ?
.
কাগজ কবি - অংশুমান কর, আবৃত্তি - নিবেদিতা।

আমার একটা কাগজ চাই।
একটা অলৌকিক কাদজ।
আমার একটা সাদা কালো কাগজ আছে।
সে কাগজটার নাম ভোটার কার্ড।
কিন্তু সেই কাগজে হবে না।
আমার একটা গেরুয়া সাদা সবুজ কাগজ আছে।
সে কাগজটার নাম আধার কার্ড।
কিন্তু সেই কাগজেও হবে না।
আমার একটা হাল্কা বেগুনী রঙের কাগজ আছে।
সেই কাগজটার নাম রেশন কার্ড।
সে কাগজে তো হবেই না।
আমার একটাই কাগজ চাই।
একটা অলৌকিক কাগজ।
আমার বাবার নাম শেখ সুলেমান। বয়স আশি।
আমি বাবাকে বললাম, "বাবা আমাকে কাগজ দাও"।
বাবা বলল, "কাগজ বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে,
কাগজ ঝড় উড়িয়ে নিয়ে গেছে,
কাগজ অনাহার খেয়ে নিয়েছে,
আমার কোনও কাগজ নেই।
আমার শরীরটাই এখন একটা কাগজ।
আমার হাতে আর পায়ে লেখা রয়েছে আমি যা
করেছি এতকাল, সেই ইতিহাস।
আমার বুকের ভিতর এতদিন গোপনে লুকিয়ে ছিল যে কথা,
সে কথাও আজ আর গোপন নেই।
লেখা হয়ে গেছে আমার করুণ দুই চোখে।
এই নাও, আমার শরীর আমি তোমাকে দিচ্ছি।
তুমি ওকে বল উনি পড়ে নিন এই কাগজ।"
কবি অংশুমান কর
আবৃত্তি নিবেদিতা
আবৃত্তির ফেসবুক পাতা

কবিতাটি সংগ্রহ করেছেন
কবি ও ভাস্কর
দেবজ্যোতি পুরকায়স্থ
মিলনসাগরে তাঁর ভাস্কর্যের পাতা . . .
মিলনসাগরে তাঁর কবিতার পাতা . . .

তোলা হয়েছে  ২৩.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
আমি ওঁকে বললাম, "মাননীয় এই নিন আমার কাগজ।
আমার বাবা। আপনি পড়ে নিন।
ওঁর দুই হাত পায়ে লিখে রাখা এ দেশ গড়ার ইতিহাস।
পড়তে পড়তে শুনতে পাবেন -
কারখানার ভেপু। ব্যাটের ঠিক মাঝখানে লাগা ডিউজ বলের
মিষ্টি শব্দ। শানাইয়ের শুর আর তবলার বোল।
আপনি পড়ে নিন ওর করুণ দুচোখে লেখা কয়েকটা অক্ষর -
আমি চটকলের শ্রমিক।
আমি পঁচাশির বেনসন অ্যাণ্ড হেজেসের আজহারউদ্দীন।
আমি বিসমিল্লাহ খান। জাকির হোসেন। ধর্মে আমি মুসলমান।
কিন্তু তারও আগে - আমি একজন ভারতীয়।"

কাগজে লেখা নির্বোধ অক্ষর পড়তে পড়তে ওঁর চোখ মানুষের
শরীর পড়তে ভুলে গেছে।
উনি বাবার হাত পা পড়তে পারলেন না।
বাবার চোখ পড়তে পারলেন না।
আমি আবার একটা অলৌকিক কাগজের সন্ধানে শুরু করলাম
দৌড়।

আমার চাই একটা অলৌকিক কাগজ।
যে কাগজটা না পেলে সামনের বছর দুর্গা পুজোয়
আমি বাজাতে পারবো না ঢাক। যে কাগজটা না পেলে আমি
মাটি ছেনে বানাতে পারবো না লক্ষ্মীর শরা। যে কাগজটা না
পেলে আমি অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া দুপক্ষের মাঝে দাঁড়িয়ে
গলা উঁচু করে বলতে পারবো না "কি করছো কি তোমরা? শান্ত
হও।"

আমার একটা কাগজ দরকার। একটা অলৌকিক কাগজ।
আমি ছুটতে শুরু করলাম। কাশমীর থেকে কন্যাকুমারিকা।
দেখলাম কাশমীরের মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
পাঞ্জাবে মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
অসমে মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
উত্তর প্রদেশে মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।
এমন কি দিল্লীতেও মানুষ বলছে কাগজ দেবো না।

না মাননীয়, আমি ওদের দলে নই। আপনার কাগজ চাই?
আমি আপনাকে কাগজ দেবো। শেখ সুলেমানের পুত্র আমি।
শেখ সাদ্দাম। আমার কোনও কাজে নেই। সারা দিন কবিতা
নামের এক নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে বনবাদাড় আর মানুষের
মনের গোপন সুড়িপথে আমি ঘুরে বেড়াই।
আমি আপনাকে দেবো আমাদের বিশ্বাস দিয়ে বানানো একটা
সাদা কাগজ। দেবো আমাদের স্বপ্ন দিয়ে বানানো এক ঝর্না
কলম। ওই বিশ্বাসের সাদা কাগজে, স্বপ্নের ঝর্না কলমে, আস্থা
রঙের কালি ভরে, আপনি প্লীজ, নতুন করে লিখে দিন - একটা
কবিতা, যার নাম "সনাতন ভারত"।
.
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
কবি ও শিল্পী অজ্ঞাত। তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির একটি গান। বিগত নির্বাচনের সময়ে বাঁধা, মাটির গন্ধ ছড়ানো গান।

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
দিল্লী থেকে মোদী এবার যায় জেন চলি
মোদী গেলে চলে
মোদী গেলে চলে সবাই বলে শান্তি আসবে দেশে
দেশের মানুষ বাঁচবে সবাই থাকবে মিলে মিশে
ভোট এলে দেশে
ভোট এলে দেশে মোদী এসে বলে রাম রাম
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি মোদীর নংরা কাম
হায়রে ভোট গেলে
হায়রে ভোট গেলে মোদী ভুলে এই রামের কথা
চোখের জলে লেখা রইলো নোট বদলের ব্যথা
দেশে মোদী করে
দেখো বুদ্ধি করে যুক্তি করে করে মাস্টার প্ল্যান
ঘুষের টাকা অমিত মোদী ভাগ করে কাম
যেমন কুকিল ডাকে
যেমন কুকিল ডাকে বসন্তে বর্ষায় ডাকে ব্যাঙ
ভোট আইলে নরেন্দ্র মোদী করে ঘ্যাঙোর ঘ্যাঙ
দেখো ঘাটালেতে
দেখো ঘাটালেতে ভারতী ঘোষ করে ফোঁস ফোঁস
ঘাটালবাসী চায়না তোমারে দেবের কি বা দোষ
দিদি ভারতী
দিদি ভারতী তুমার কার্তি সবার আছে জানা
জেলের ভাত খাবে তুমি যাবে জেলখানায়
আবার মেদনীপুরে
অজ্ঞাত কবি ও শিল্পী
গানটির ফেসবুক পাতা

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
রাম চক্রবর্তী
তাঁর ফেসবুক পাতা . . .

তোলা হয়েছে  ২৪.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
আবার মেদনীপুরে বেড়ায় ঘুরে একা দিলীপ ঘোষ
মানস ভুঁইয়া জিতে যাবে দিলীপ আঙ্গুল চোষ
আলুর ধরলে পচন
আলুর ধরলে পচন নাইরে বাঁচন রোগের নাম ধ্বসা
দেশে এখন বিজেপির ঐ মতন দশা
নদী পার ভাঙে
নদী পার ভাঙে ভরা গাঙে লাগে যখন ঢেউ
অত্যাচার করলে ঘরে থাকে নাতো বৌ
মোদী দাঙ্গাবাজ
মোদী দাঙ্গাবাজ ধান্ধাবাজ এমন হারামখোর
দিনে সাধু ঘটা মুখে রাইতে সাজে চোর
ছিল চাওয়ালা
ছিল চাওয়ালা টাকাওয়লা হইলো চৌকিদার
চৌকিদারে চুরে করে হইলো জমিদার
মোদীর ভাঁওতা ভাষণ
মোদীর ভাঁওতা ভাষণ অপশাসন করলো সর্বনাশ
নরেন্দ্র মোদীকে দিবেন অছিলা বাঁশ
মোদী গর্জন করে
মোদী গর্জন করে তর্জন করে লাভ হবে না কিছু
বাংলার মাটি তৃণমূলের মোদী খাও কচু
আগে দিল্লী সামলাও
আগে দিল্লী সামলাও পরে বাংলার আশা কর ভাই
দূরবীন দিয়া দেখবে মানুষ তোমার দেখা নাই
মোদী হুঙ্কার মারে
মোদী হুঙ্কার মারে গর্জন করে কমর করে খাড়া
বাংলায় আইসা সিংহ বাঘ হইয়া যায় ভ্যাড়া
মোদী বাংলায় এসে
মোদী বাংলায় এসে সাধু বেশে যত ঘোরো ভাই
বাংলা হলো তৃণমূলের তোমার জায়গা নাই
যেমন গাছের শোভা
যেমন গাছের শোভা ফুলের ঝোপা মাথার শোভা চুল
বাংলার শোভা আশা ভরসা মোদের তৃণমূল
আমার দিদির সাথে
আমার দিদির সাথে মানুষ আছে পাহাড় সমতুল
সবার চোখে মমতাদি পবিত্রহ ফুল
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
দেশটা কার ?
কবি শুভনাথ -- ১০.১০.১৯

দেশটা কার বলো? দেশটা কার ?
হিমালয় কার বলো? গঙ্গা কার?

তোমার আমার না কি আম্বানি-টাটার ?
দেশটা কার বলো?  দেশটা কার?

শ্রমিক-কৃষক না কি মোদির বাবার?
দেশটা কার বলো? দেশটা কার?

আমার তোমার দেশ আমাদেরই রবে
আমার দেশের মানুষ বিদেশী কেন হবে?

এই মাটি আমাদের, জমি-জঙ্গল
এই বার আমাদের লড়াই সম্বল।

এসো এসো বন্ধু লড়াইয়ের রাস্তায়
আমাদের মেহনত বিকোবেনা সস্তায়।

আমাদের ঘরবাড়ি, আমাদের জীবিকা
আমাদের ছেলে-মেয়ে, আমাদের সবটা।

মানবো না
NRC, মানবো না ফরমান
এই মাটি আমাদেরই এইটুকু জেনে যান ।

রক্তের বন্যায় যদি ভাসি ভাসবো
যুদ্ধের শেষ হাসি আমরাই হাসব।
কবি শুভনাথ

কবির ইমেল -
debabratanath143@gmail.com

তোলা হয়েছে  ২৪.১.২০২০
.
কাগজ চাইতে এলে
কবি দেবরাজ কোলে

ওরা কাগজ চাইতে এলে আমি হাতে তুলে দেব
এ দেশের সহস্র ভাষার অক্ষরমালালিপি
যে লিপি চেতনার রুদ্ধ দ্বারগুলি প্রতিটি শিশুর কাছে
একে একে উন্মুক্ত করে দেবে ঘরে ঢোকা প্রথম সূর্যালোকের মতো

কেউ কাগজ চাইতে এলে আমি তার হাতে
দুমুঠো শস্যদানা তুলে দিয়ে জিগ্যেস করবো
এই ফসলের ধর্ম কি? যারা ফলিয়েছে তাদের?
যার শ্রমে ফিবছর উৎপাদন, তৈরি হয় আয় ব্যয় বৃদ্ধির
রাষ্ট্রীয় হিসেব নিকেষ, যাবতীয় নথি
তার তো মানপত্র পাওয়ার কথা! অথচ,
মাটির বুকে ফুঁড়ে যে রচনা করে সৃষ্টির রহস্যজাল
তাকে জিগ্যেস করো মাটির মালিক সে কিনা!

কেউ কাগজ চাইতে এলে আমি তার হাতে
নক্ষত্রের ধুলো ঝেড়ে রোহিতের সুইসাইড নোটের
ভাঁজ করা পান্ডুলিপি দিয়ে বলবো
এই নাও এই ভগ্ন সময়ের দলিল
চিরআবহমান মহা জগৎ সংসারের যে কোনো মুহুর্তেই
আমার জন্ম একটি অকস্মাৎ দুর্ঘটনামাত্র
এইটুকু কাগজ আছে আমার কাছে
আপাতত পথ ছাড়ো, আমাকে অনেকদূর যেতে হবে
কবি দেবরাজ কোলে

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২৪.১.২০২০


কেউ কাগজ চাইতে এলে বলবো, কাগজ সে তো
সিন্দুকে রাখা আছে!
সমস্ত ঘর তছনছ করে
রাষ্ট্র যখন বোকা বনে গিয়ে রেগে এসে
আমার বুকে বন্দুকের নল রাখবে, আমি হেসে বলবো
ওই খানেই, বাঁদিকের পাঁজরের একটু ভিতরেই আছে
সিন্দুকটা! ওর ভিতরে রক্তরাঙা অক্ষরে লেখা আছে
আমার সমস্ত জীবনবৃত্তান্ত
আমার প্রিয় লাইনগুলো
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। "
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ডাকছে শাহিনবাগ
দিল্লি ও কলকাতার শাহিনবাগ আন্দোলনকে সংহতি জানিয়ে মানস ফিরাক ভট্টাচার্যের ইংরেজি কবিতা 'Come to
ShaheenBagh'
-এর একটি অংশ ভাবানুবাদ করে গানের রূপ দিলাম। - কবি কাজরী রায়চৌধুরী।

তুমি যদি চাও দেখতেই চাও আলোর সমুদ্দুর
গভীর আঁধার পথ জুড়ে আছে ভেঙে ভেঙে যাক রাত
ডাকছে শাহিনবাগ

তুমি যদি চাও দেখতেই চাও রাত্রির চাঁদমুখ
চাঁদের আলোর মায়া ভরা রাত
ডাকছে শাহিনবাগ

তুমি যদি চাও শুনতেই চাও মেয়েদের তেজি সুর
নীরবতা নয়,গোঙানিও নয়, স্পর্ধিত শতবাক্
ডাকছে শাহিনবাগ

তুমি যদি চাও শুনতেই চাও মায়েদের আহ্বান
দুনিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে আজ
ডাকছে শাহিনবাগ

তুমি যদি চাও দেখতেই চাও সাহসী শিশুর মুখ
শীত রাত্তিরে রাস্তার পরে প্রতিবাদে উন্মুখ
এসে দেখে যাও আজ
ডাকছে শাহিনবাগ

তুমি যদি চাও দেখতেই চাও স্বাধীনতা কারে কয়
ভয়ের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে জীবন কাব্যময়
(তাই) এসো সাথী আজ শীত রাত্তিরে
এসো সাথী আজ ভোরের আজানে
এসো সাথী আজ আসবে আজাদ
ডাকছে শাহিনবাগ॥
কবি কাজরী রায়চৌধুরী

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২৪.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
এই সময়টা যুদ্ধের...
কবি বাবলু চট্টরাজ

এই সময়টা যুদ্ধের, যুদ্ধের আগে দেখে নাও -
তোমার গায়ের রং সাদা - না -কালো।
যুদ্ধের আগে দেখে নাও , তুমি হিন্দু -না -মুসলিম
যুদ্ধের আগে দেখে নাও , এ দেশটা তোমার -না -আমার।
এ দেশটা দীর্ঘ , এ পথটা হাঁটার আগে দেখে নাও
এ পথটা মন্দির না মসজিদ - কার কাছাকাছি।
ধর্মীয় উন্মাদনায় মাতোয়ারা হওয়ার আগে একবার দেখে নাও -
মায়ের খালি কোলে  কবরের মাটি লেগে?
নাকি শ্মশানের কালো চিতার প্রলেপ।
এ দেশটা এখন এক দীর্ঘ মিছিলের ,
মিছিল শুরু হওয়ার আগে দেখে নাও
এখানে শুধু লক্ষ লক্ষ মানুষ , শুধুই -
মানুষের আর্তি সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার মানুষের মতো করে।
কবি বাবলু চট্টরাজ

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২৪.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
রাজার অবয়ব
কবি মিলি মুখার্জি

রাজার মুখটি বাঘের মতো
হাতির  মতো চারটে পা
রাজা রেগে গেলে প্রথমে
শত শত  মানুষকে পদদলিত করে
তারপর গলায় দাঁত ফুটায় !

রাজার আছে  হাজার  প্রতিশ্রুতি  
তোমারই  শ্রমের কিছু অংশ কেটে
সুস্থ রাখার বাহানা
অসুস্থ হলে ওষুধ দেবে
তোমার মাংসকে  সুস্বাদু করতে
এটা তার একটা পরিকল্পনা !

এখন আর জঙ্গলে থাকেনা
এই গজবাঘ কারণ
হরিণের স্বাদ আর তার মুখে লাগেনা
খরগোশের কলিজা তার
সুপারীর মতো কষা লাগে
চিবাতে বড় বিরক্তি  !

এখন সে সেই সব জায়গায় হামলা করে
যেখানে মানুষ এক সুরে বাজতে চায়
অসংখ ভয়ভীত চেহারাদের দেখা
তার উন্মাদি লালসার উল্লাসিত রূপ
কবির আছে কলমে বারুদ
আগুন জ্বালিয়ে দাঁড়িয়েছে আজ  
গজব্যাঘ্রের  মুখো মুখি!
কবি মিলি মুখার্জি

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২৪.১.২০২০
.









.
কবি বরুণ কুমার আড়ী

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২৪.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.









.
কবি দেবর্ষি সরকার

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২৪.১.২০২০
.
অন্য ওষুধ
অজাতশত্রু মিত্র

দেশে যখন উঠলো সে রব, গেল গেল গেল
মহারাজা গর্জে ওঠেন 'এমন কি বা হ'ল!
সব দেশেরই এমন দশা,শুধু আমার নয়
সবার যত বাড়াবাড়ি, সহ্য নাহি হয়।
অনাবশ্যক চেঁচামেচি চিৎকারে সব মাতে
মহারাজা বলেন হেসে, কি যায় আসে তাতে'?
শিল্পী, মজুর, গায়ক, কবি, একসাথে সব কয়
মহারাজা এমনি করেই কাটবে কি দিন হায়?

রাজা দেখেন বিপদ ভারী,মন্ত্রী কে তার ডেকে
কহেন, 'কিছু কর, নইলে বসবে সবাই বেঁকে।
এমন আমার মৌরসিপাট্টা যাবে ছাড়েখারে
আবার কি সাজিয়ে নিয়ে বসবো কেটলি ভাঁড়ে'?

মন্ত্রী কহেন, দুদিন পরে, ফাঁদ পেতেছি তিনটা
তাতেই সবাই ছটফটিয়ে ভাববে সারা দিনটা
একটা ক্যা, অন্যটার নাম দিয়েছি এন পি আর
একটার নাম কাছাকাছি, সেটা হ'ল, এন সি আর
নাম রেখেছি জব্বর, তবু আমার কাছে নয় ক্লিয়ার।

এতেই সবাই পাগল হবে, ছটফটিয়ে মরবে
বাকি যারা থাকবে বেঁচে, অন্য ওষুধ ধরবে।
কবি অজাতশত্রু মিত্র

কবিতাটি বিদ্যুত চৌধুরীর
ফেসবুক থেকে পাওয়া

তোলা হয়েছে  ২৫.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
আগলে রাখো
কবি প্রসূন ভৌমিক

আগলে রাখো রহিমচাচার ঘর
আগলে রাখো ফাদার গির্জায়
আগলে রাখো গুরুদোয়ারগুলি
ডাকাত হানা দিয়েছে বাংলায়

আগলে রাখো পুণ্য জাহেরথান
আগলে রাখো আদিবাসীর মাটি
আগলে রাখো তুলসীর মঞ্চ
বর্গীরা প্ল্যান করছে কাটাকুটির

আগলে রাখো টুসু ভাদুর গান
আগলে রাখো প্রেমের সত্যপির
আগলে রাখো গ্রাম কৃষ্টির মেলা
মুক্ত জ্ঞানের উচ্চ যেথা শির

আগলে রাখো পাহাড় অরণ্যানী
আগলে রাখো পুকুরভর্তি হাঁস
আগলে রাখো প্রেমিক প্রেমিকাকে
ওদের শুধু লুঠের সিলেবাস

আগলে রাখো ফুলের ভিতর মধু
আগলে রাখো পাখির বাসায় ডিম
আগলে রাখো মনের হিরণ্ময়
বাংলার পুজো দস্যু বধের থিম!
কবি প্রসূন ভৌমিক

মিলনসাগরে কবির পাতা . . .
কবির ফেসবুক পাতা . . .

তোলা হয়েছে  ২৫.১.২০২০
আগলে রাখো - প্রসূন ভৌমিক
সমন্বয়ের উদার বাণীর পুণ্য পীঠস্থানে - অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী
স্বদেশের জন্য - উত্তম মজুমদার
২৬শে জানুয়ারি ২০২০ - সব্যসাচী গোস্বামী
বল আজ কোন পথ বেছে নিবি? - অশোক চট্টোপাধ্যায়
ঘরের পাশে ডালিম গাছের ডালে - শিশুশিল্পী রূপকথা দে
CAA / NRC পরবর্তী কটা দিন - আজহার উদ্দিন সাহাজি
ভারতীয় - আর্যতীর্থ
চিঁড়ে - আর্যতীর্থ
বিরোধী - আর্যতীর্থ
কাগজ - আর্যতীর্থ
অলক্ষ্যে - আর্যতীর্থ
কাগজ দেবো - আর্যতীর্থ
রাজা থাকার সহজ উপায় - আর্যতীর্থ
নামকরন - আর্যতীর্থ
শুনুন রাজা - আর্যতীর্থ
নির্ভীক - আর্যতীর্থ
কবির গল্প - আর্যতীর্থ
ফাইন - আর্যতীর্থ
খাবার আনে ফজল আলী - দেবেশ ঠাকুর
যে কোনো কবিতায় ক্লিক্ করলেই সেই কবিতাটি আপনার ব্রাওজারের ডান দিক ঘেঁষে ফুটে উঠবে  .
.
সমন্বয়ের উদার বাণীর পুণ্য পীঠস্থানে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী, জামশেদপুর।

সমন্বয়ের উদার বাণীর পুণ্য পীঠস্থানে
হায় কে যে আজ বিভেদনীতির বার্তা বয়ে আনে!
বেসুরো আজ সম্প্রীতি আর সহিষ্ণুতার গান,
রাজনীতিকের কূটচালে গেরুয়া আজ ম্লান!
বশম্বদ আর চাটুকারের দিন কি হল শুরু?
আজকে তাঁরাই লঘু হলেন, যাঁরা ছিলেন 'গুরু'!
এলেন উড়ে পরদ্বেষী দেশপ্রেমের পান্ডা--
ছড়াও এবার গোবর, ওড়াও বিভেদনীতির ঝান্ডা!
ওই গোবরে ফুটবে কমল-
.      এটাই এখন ভিশন
আপাতত গোবরগন্ধে
.      ম' ম' করুক 'মিশন'!
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২৫.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
স্বদেশের জন্য
কবি উত্তম মজুমদার  

চলতে চলতে পথ চিনে নেব ঠিক ---
হ্যাঁ, আমাদের যেতে হবে বহু দূর
নদী  অরণ্য  সাহারা সমুদ্দুর
পেরবো, কখনো হব না ভ্রষ্ট দিক I

রক্ত দিয়েই অর্জিত এই মাটি
দস্যুরা চায় সেই মাটি কেড়ে নিতে
আমাদের নেই কুণ্ঠা রক্ত দিতে ----
গ্রাম  শহরে গড়বো শক্ত ঘাঁটি।

শাহীনবাগের উৎসার দিকে দিকে
দ্বিধা সংশয় সব হয়ে  যায় ফিকে ----
ভরসা সাহস জোগায় বৃদ্ধা চাচি;
ভাবি না কী হবে, মৃত্যু কিম্বা বাঁচি
কলজের ওমে আগলাবো এই ভুমি।
চাই আজাদী  সবাই, আমি ও তুমি॥
কবি উত্তম মজুমদার

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

তোলা হয়েছে  ২৭.১.২০২০
.
২৬শে জানুয়ারি ২০২০
কবি সব্যসাচী গোস্বামী

শ্মশানেরও শোক আছে, শোকেরও শ্মশান
অপেক্ষায় কিছু দূরে শববাহী যান।

সেই যানে শুয়ে আছে আমার স্বদেশ
চিতাকাঠে ইন্ধন ঘৃণা-বিদ্বেষ।

সে ঘৃণা-চাদর আজ গেরুয়ায় ঢাকা
তাকে অনুদান দেয় বেনিয়ার টাকা।

সে টাকার রঙ কিন্তু হরেক কিসিম
‘আচ্ছেদিনের’ মতো অশ্বের ডিম।

সেই ডিমে তা দেয় দুই ভেকধারি
দিনে করে রাহাজানি রাতে কেপমারি।

আদালতও ওঠে বসে তাদেরই কথায়
প্রজাতন্ত্রের  বুলি মাটিতে গড়ায় ...
কবি সব্যসাচী গোস্বামী
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .

এখানে তোলা হয়েছে  ২৭.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
বল আজ কোন পথ বেছে নিবি?
কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়

কী ভীষণ আগুন জ্বেলে মন্ত্র পড়ে অঘোরতান্ত্রিক
রাত্রির জঠর ছিঁড়ে জেগে ওঠে সহস্র অযুত
ফ্যাসিস্ত বিরোধী সেনা, শস্ত্রপানি, নির্মম নির্ভীক
জাগে মহা রণক্ষেত্র বসন্তের আর এক নির্ঘোষে

হাঁক দেয় জনারণ্যে ভারতের আদিমাতা ভুঁই
বল, সুত, বল আজ কোন পথ বেছে নিবি তুই?
কবি অশোক চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে কবির পাতা
রচনা ডিসেম্বর ২৩.১,২০২০

তোলা হয়েছে  ২৭.১.২০২০
.

VDO টি আমরা এই পাতায় এমবেড করতে পারছি
না।
গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন
ছোট্ট মেয়ে রূপকথার গলায়ও আজ
CAA NRC
বিরুদ্ধে প্রতিবাদের গান।
ঘরের পাশে ডালিম গাছের ডালে
কথা ও শিশুশিল্পী -- রূপকথা দে,
সুর -- শিউলি ভট্টাচার্য্য

ঘরের পাশে ডালিম গাছের ডালে
তিনটে পাখীর ছোট্ট বাসা ছিল
আমার সাথে ভাব ছিল বেশ তাদের
সে সুখ কারা হঠাৎ কেড়ে নিল?

একটা পাখী ঘর ছাড়াদের ডালে
তার সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই
আরেকটা তার জন্মভূমি খোঁজে
NRC তে গান হারালো কি?

আরেক জনের প্রমাণপত্র আছে
সে নাকি এক বিশেষ দলের ছানা
চোখের জলে ভেজায় সে তার বাসা
কারণ তারও ওড়ান দেওয়া মানা।

মনের ভেতর ব্যথায় কাতর আমি
একই সাথে দিব্বি ছিলাম সুখে
কই আগে তো হয়নি অসুবিধা
এই গান তাই গাইছি ক্ষোভে দুখে।
কথা ও শিশুশিল্পী
রূপকথা দে

গানটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ২৭.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
CAA / NRC পরবর্তী কটা দিন
কবি আজহার উদ্দিন সাহাজি

কদিন,
আমার দিন কেটেছে মিছিলে মিছিলে
কখনো ভাবিনি এমনও হবে।
কদিন,
আমি চলেছি
কারফিউ ভেঙে
পথে পথে
হাতে প্ল্যাকার্ড ধরে
কখনো ভাবিনি, এমনও করতে হবে।
কদিন,
ব্যারিকেড ভেঙেছি
অল্পের জন্য গুলি খেতে খেতে বেঁচে গেছি
গা বাঁচিয়েছি ধরপাকড় থেকে

কখনো ভাবিনি, এমনও করতে হবে।
কদিন,
স্লোগানে স্লোগানে গলা মিলিয়েছি
চিল্লে চিল্লে---
আজাদীর--- স্বাধীন দেশে
কখনো ভাবিনি, সেটাও করতে হবে।
কবি আজহার উদ্দিন সাহাজি
দিল্লী বিশবিদ্যালয়ের অধ্যাপক
তাঁর ফেসবুক পাতা . . .  
মিলনসাগরে শীঘ্রই তাঁর কবিতার পাতা
প্রকাশিত হতে চলেছে।

এখানে তোলা হয়েছে  ২৮.১.২০২০
.
ভারতীয় কবি আর্যতীর্থ
যদি বলো কেন আমি ভারতীয়,
সুযোগ ছিলো না কোনো অন্য দ্বিতীয়,
মা বাপ, তাদেরও মা বাপ, এই ভূঁইয়ে বাস,
সমূহ সুখের খনি অতীতের সব সর্বনাশ,
ঘটেছে এখানে, অখন্ড ও কর্তিত ভারতে,
পূর্বজ পারেননি সীমা পার হতে,
তাই আমি ভারতীয়। বাছাইয়ের থাকলে ক্ষমতা
পাশ্চাত্য প্রথম বিশ্বের দেশ হতো তা,
যেখানে সুযোগ বেশি, লোকজন কম,
খাওয়া পরা ঈশ্বর নিয়ে মাথা ব্যথা নেই একদম
যেখানে শিক্ষা করে না রাজনীতির গোলামি,
তেমনই কোনো ভূমি  ঠিক বাছতাম আমি।

আমি কি গর্বিত ভারতীয় বলে?
যা কিছু কীর্তি বাঁধা দেশের আঁচলে,
সবই পূর্বজকান্ড। সে ভাণ্ড আমার শুধু উত্তরাধিকার
অবদান তাতে নেই কিছুই আমার।
দেশ চাঁদ ছুঁলে ভালো লাগে,
গরু ছুতো খুনে ফাটি রাগে,
কিন্তু দুটোর কোনোটাতে আমি তো করিনি কিছু,
ভালো বা খারাপ লাগা চলে আসে জন্মের পিছু,
কঙ্গো বা সুদানে, সিরিয়া পাকিস্তানে যে জন্মাবে,
সেও নিশ্চিত দেশ নিয়ে গর্বের কোনো কিছু পাবে,
নাগরিক হলে সেটা সহজাত বোধ।
ভালোবাসি বলে হয় নষ্টতে ক্রোধ, সৃষ্টিতে সুখ,
কিন্তু গর্ব করে ফোলাই কি বুক,
সেই ধারণাতে?  ভারতীয় পরিচয়ে,
অন্যদেশীয় কেউ যদি ওঠে ঈর্ষাকাতর হয়ে,
যদি কেউ মনে মনে বলে ওঠে ‘ইসস, আমি কেন নই!’
তবেই গর্ব সাজে। কিন্তু সে লোকগুলো কই?
.
কবি আর্যতীর্থ
রচনা - ১২.০১.২০২০
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
২৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে, মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ)
সমর্থনে একটি সেমিনারে অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করে বিজেপির নেতা, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির
দায়িত্বপ্রাপ্ত কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়েছিলেন যে তার বাড়িতে কাজ করতে আসা রাজমিস্ত্রিরা
পোহা (চিঁড়ে দিয়ে তৈরি) খাচ্ছিলেন, তা দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তারা বাংলাদেশি,
অনুপ্রবেশকারী।

চিঁড়ে  কবি আর্যতীর্থ
পিঁড়ে পেতে চিঁড়ে খাওয়া, তাও এই ভারতে,
কিভাবে পারলো ওরা বর্ডার পার হতে!
সাবধানে দোর এঁটে থাকো ঘরে জনতা,
এদেশীয় নয় ওরা, বলছি যা শোনো তা।

চিঁড়ে কত ভয়ানক , জানোনা তা তোমরা
টেররিস্ট বিদেশীর এ যে প্রাণভোমরা।
যে যত চিঁড়ে খায়, সে তত ফরেনার,
এ নতুন থিওরিটা শিখবে যে কবে আর!

সামলাতে দেশ জুড়ে কাগজের গোঁসাকে
বড় নেতা বলেছেন চেনা যায় পোশাকে।
এগোই আরেক ধাপ, স্বদেশীর ভিড়েতে
কোনটা বাংলাদেশী মাপা যায় চিঁড়েতে।
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কবি আর্যতীর্থ
রচনা - ৯.০১.২০২০
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
এখানে বলতে পারেন বাঘচোখো জাতীয়তাবাদী,
দেশে কেন বসে আছো, ওহে অপরাধী,
দুচোখ বন্ধ করে মা’কে ভজেনা যে পাপী,
আমরা দিয়েছি বলে পাকিস্তানি তার বাপই,
চলে যাও উটকো আপদ, নাও না বিদায় !
করজোরে বলি, ওইভাবে কোনোখানে যাওয়া কি যায়?
এদেশীয় পরিচয়ে ট্যুরিস্ট ভিসাটি দিতে এত নথি লাগে,
বাকি দেশগুলো দেখে কত অনুরাগে,
তখনই বোঝা যায়। কত কাঠখড়ে,
ভারতীয় বংশজ বিদেশে বসত গড়ে,
যে যায় ,না তাড়ালে ফেরে না স্বদেশে আর,
কেন?জবাবে অস্বস্তি হয়, তবু জানা তো সবার।
সুতরাং, আমার মতন যারা নির্গুণ মেধাহীন
এদেশ ছাড়ে না তারা, ছাড়তে পারবেনা জেনো কোনোদিন।

তাবলে কি ভালোবাসিনা? ওই ঘেমো বাসে ট্রেনে ভিড়ে
মন হাট করে খোলা আলগা মানুষজন ভোলা যায় কি রে?
শিষ্টতা না মানা বন্ধুর দল, রঙে বিপরীত তবু আড্ডা প্রবল,
চা দোকানে রাজনীতি, অচেনা লোকের থেমে পথ বলে দেওয়া,
এত ভাগাভাগি শেষে করিম আর পরেশের আলাদা না হওয়া,
রক্তের দরকারে ঝাঁপানো পড়শিকুল, গয়না ফেরত দেওয়া অটোর চালক,
ফুটপাতি শিশুদের ক্ষুদে শিক্ষিকা, ঠান্ডায় কম্বল বিলানো যুবক,
এরা তো এদেশরই, স্বতঃপ্রবাহিনী কাহিনীরা বয়ে যায় জীবনের স্রোতে,
ভালো না লাগুক, বড় ভালোবাসি আমি ভারতীয় হতে।

গর্বিত নই আমি দেশে কি ঘটছে তা দেখে
সেরা দেশ মিছেকথা বলতে চাইনা ডেকেহেঁকে।
ক্ষত জানি, ক্ষতি জানি, গ্লানি ও লজ্জাকাহিনী সব জানা,
এতটা অন্ধকারে মানছি এখন আর স্বপ্ন দেখিনা,
তবু সব তীর্থ সফরে, ভক্ত যেমন তার আরাধ্যতে ফেরে,
তেমনি যাপনে রোজ নতুনের আশা নিয়ে ফিরে ফিরে আসি,
এ ভূমির সব কালো মানি, তবু যে ভারতকে আমি বড় ভালোবাসি।
এই যে এন এর সি, এ কিসের জন্যে?
চিঁড়েখেকো খুঁজি জেনো , ভারী হয়ে হন্যে।
বাধ্যবাধক এক সওয়াল তো থাকবেই,
খাবারে যে খাবে চিঁড়ে,দেশে তার স্থান নেই।

চিঁড়ে দিয়ে মাপা যায়, আস্তিনে সাপটা
কারা দেশ দিতে চায় করে চিঁড়েচ্যাপ্টা।
যেইখানে বোম ফেটে শোরগোল হয় জোর
জেনো তার পিছে আছে দু দশটা চিঁড়েখোর।

এত করি সাবধান, তবুও ভেজাচ্ছো,
শুনেছি ভারতে কিছু লোক চিঁড়ে খাচ্ছো,
নজরে পড়ছে সবই, করে দিই সাবধান,
চিঁড়ে খেলে স্থান তার অচিরে ডিটেনশান।

চিঁড়ে চেনা সদুপায়ে বিদেশীরা বিদ্ধ,
এইবারে বিল এনে করবো নিষিদ্ধ।
তবুও এখনও যারা চিঁড়ে খেতে হ্যাংলা
তোমাদের দেশ জানি ওপারের বাংলা।

কাগজ দেবোনা যা, নে ঠেলা সামলা...
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
বিরোধী কবি আর্যতীর্থ

ওকে ধরো, ও বিরুদ্ধে কথা বলেছে।
ওর ইতিহাস খোঁড়ো, ও অন্য মিছিলে পা মিলিয়ে চলেছে।
যেহেতু ও অন্য ভেবেছে, সুতরাং  নিশ্চিত দ্রোহী,
কিংবা স্বার্থপর, ভাইরাল সংবাদে হুজুগ-আরোহী।
মোট কথা , ও আমার প্রতিবাদী, কাজেই ও দুষ্টু লোক,
চরিত্রকর্তনে গাল দেওয়া ট্রোলসারি পুরুষ্টু হোক।

আসলে আমিই সব, পান্ডব কৌরব, গোটা মহাভারতই,
আমাকেই ইতিহাস বেছে নিয়েছে তার যুগের সারথী,
বাকিরা উহ্য সব, তুচ্ছতা মাখা কিছু ভাবনা শিকার,
নতুবা আমার মতো অবিসংবাদীকে কেউ করে অস্বীকার?
শুরু নাও হতে পারি, তাই বলে হবো না কি শেষ,
অনুগত সৈন্যের মতো না এলে এটা নয় তাদের স্বদেশ।

যে কোনো বর্ণ হতে পারি আমি, কাল লাল, গেরুয়াতে আজ
পরশু হয়তো নীল বা সবুজ। যখনই যে রঙে নেবো সাজ,
বাকি সব্বাই সেই একমেবাদ্বিতীয় বর্ণে ছুপাবে তাদের জীবন,
রাম হলে বনবে বানর, রাক্ষস হবে যদি হই দশানন।
তা যদি না করে কেউ, অন্য পতাকা বয়ে করে অনাচার,
তবে সে দেশদ্রোহী। কি বলছে সেটা শোনা নেই দরকার।

বিরোধী বলতে পারে, একথা মানেনি আজও কোনো সরকার।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা - ৯.০১.২০২০
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
.
কাগজ কবি আর্যতীর্থ
আমার কাছে কাগজ আছে, এই ।
কিন্তু আমার অন্য কিছু নেই ।
ভাতের পাতে শূন্য থালা
কারখানাময় ঝুললো তালা,
ভবিষ্যতের ভাবনাতে আজ হারিয়ে ফেলি খেই ,
কাগজ আছে, কারণ তা নয় নাচ লাগাতে ধেই ।

এই তো কাগজ, এটাই আমার মাটি,
অতীত থেকে অদ্যকালে এপথ ধরে হাঁটি,
সন্দেহ নেই , প্রমাণ কাছেই রাখি,
বাদবাকিটুক প্রকাণ্ড এক ফাঁকি,
অভাব তাড়ায় সারা জীবন, আর চলে না পা’টি
কাগজ থাকলে সুবিধা কি , কেউ কাড়ে না রা’টি।

কাগজ দেবো, তার বদলে থাকতে দিলেই হবে?
ডিগ্রী কাগজ দেখলে বেতন পেট ভরাবে কবে?
কাগজ থাকা কৃষক মজুর যত,
খেতে পরতে পাবে কি অন্তত?
তা না পেলে কাগজ কাগজ লাফাও কেন তবে?
কাগজ পেলেই প্রগতি কি লম্ফতে দৌড়োবে?

কয় কোটি আর কাগজ ছাড়া বলো?
এক  দুই তিন ছেড়ে দিয়ে দশই ধরি চলো।
বাকি কোটি একশো বিশ,
যাদের কাগজ নয় হাপিস,
আলুপেয়াঁজ কিনতে তাদের জীবন টলোমলো,
নেই কাগজের সাথে তবে কি বা তফাত হলো?
কাগজ দিলে তুমি আমায় কি দেবে তা বলো।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
অলক্ষ্যে কবি আর্যতীর্থ

এক মানুষের সীমানা টানা ভূখণ্ডে কে থাকবে, আর বাইরে যাবে কে,
তাই নিয়ে শাসনের শাসানি আর প্রতিবাদী মিছিলের চেঁচানির চাপানউতোর দেখে,
সীমান্ত হওয়া পাহাড়টা তার গায়ে পড়া একটা নদীকে হেসে বললো, ‘ ওরা জানেও না যে..’

পাহাড়টা পেরোলেই হলুদ মানুষের দেশ। সেখানে মানুষেরা সব মানে বিনা আওয়াজে,
গলায় একটু জোর হলেই, চিরতরে নীরবতা নেমে আসে
সে বিরোধী স্বরে,
সেই দেশে একটা গোটা জাতকে ভেঙে মগজধোলাই যন্ত্র বাধ্যতম নাগরিক গড়ে,
পুরোটাই রাষ্ট্রের কল্যাণ হেতু। তাদের পাঁচিল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বিষণ্ণ নদী,
আরো বড় নদীতে মিশে যাওয়ার আগে মোহানাতে হেসে বলে ‘দিদি, ওরা জানতো যদি..’

আর একটা ধারে বিস্তীর্ণ মরূভূমি, মাটি খুঁড়লেই মেলে গলানো সোনা,
সে ভূমিতে ঈশ্বরে বন্দীদের রাজ্যপাট। পৃথিবী আতঙ্কে থাকে কবে হয় যুদ্ধ ঘোষণা,
বস্তুত এপাশে ওপাশে ক্ষেপণাস্ত্র লেনদেন হয় রুটিনের বিনিময়প্রথায়,
জীবিত লোক লাশ হয়ে যায় যখনতখন। অবশ্য কোন দেশে আর সেটা বাদ যায়,
ওটাই দস্তুর ইতিহাসে।  সারি সারি সাঁজোয়া বাহিনী বুকের ওপর
সীমান্তের দিকে পা বাড়ালে,
বালিয়াড়িরা মরূর গরম হাওয়াকে ডেকে ফিসফিস করে বলে,
‘ওরা জানে না যে আড়ালে আড়ালে..’
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
চারদিকে নানান নামের দেশ, যদিও সীমান্তে পৃথিবী কোনো চিহ্ন রাখেনা
চেকপোস্ট বন্দুক জেলখানা পাসপোর্ট বেড়াগুলো শুধু  মানুষের
বেড়ি-কল্পনা,
পাখিরা উৎসাহী নয় তাতে, গাছেদেরও যায়আসেনা।জড়ো হয়ে বিভিন্ন পতাকার ভ্রমে,
মানুষ অন্য মানুষকে কোথাও ঢুকতে দেয়না, বৃত্তরা ছোটো হয়ে আসে ক্রমে ক্রমে,
পাঁচিল তুলে নানা গোষ্ঠীরা সরাসরি বা পরোক্ষ সন্ত্রাসে দাবী করে মাটির মালিকানা,
ঘাতক যুদ্ধের ওপর দিয়ে ভেসে যাওয়া কালো মেঘ আকাশকে ডেকে বলে ‘ওদের বোধহয় নেই জানা..’

মেরুপ্রদেশের যত নির্জন আইসবার্গ, মানুষ দেখেনা তারা, স্বভাবত কপটতাহীন,
গলে যেতে যেতে, গলে যেতে যেতে, হিমেল সমুদ্রকে বরফের স্বরে বলে আর তো ক’দিন,
তারপরো ভেসে যাবে সব। ওদের তো নোয়াহ নেই , নৌকা বানাচ্ছে না যে কেউ এখনো,
মাটি ভেসে গেলে ওই যুদ্ধ ধর্ম আর সীমাহীন ক্ষমতার দাম থাকে কোনো?

সমুদ্র তার জল আরেকটু বাড়িয়ে নিরুত্তাপে বলে,
বাদ দাও,
বরং মহাপ্লাবনের কদিন আর  বাকি আছে গোনো..
.
কাগজ দেবো কবি আর্যতীর্থ
দেখবে যেদিন রাজার লোকে ,
কার বাড়িতে খায়নি কে কে ভোটের বালাই ছাড়াই,
বলবে হেঁকে ও ভুখা রে, মানুষ ছেড়ে চল খিদেকে তাড়াই,
খিদে সূচক উঠবে কিসে  হিসেব কেবল হবে..

সব নাগরিক লাইন দিয়ে কাগজ দেবো তবে।

দেখি যদি পথে এবং ঘাটে,
হাঁকছে পাইক কে আছে তল্লাটে, যার হাতে কাজ নেই,
কে কোন পেশায় কেমন দড় বলবে তা আজকেই,
ঠিক হয়েছে বেকার বলে থাকবে না কেউ দেশে...

কাগজ নিয়ে লাইনে তবে দাঁড়াবো নিজে এসে।

হঠাৎ শুনলে পেয়াদার হুংকার,
স্কুল যেতে বাকি কোন কোন বাচ্চার, লিস্টি হচ্ছে করা,
একশো শতাংশ বালক ও বালিকার হবে লেখাপড়া,
সর্বসম্মতভাবে সংসদে পাশ হলো সেরকম আইন..

সাতদিন সাতরাত কাগজ দেখাতে দেবো লাইন।

ধর্ম ও জাত দিয়ে কলুষিত অতি
এত দিন যত পাওয়া পরিচয় নথি,তাই হলে রাষ্ট্রের কথা,
নতুন এক নথি যদি মুছে দেয় নাগরিক বিভাজন প্রথা,
যদি দাবী ওঠে শুধু দেশ ছাড়া কোনো পরিচয় রাখবোনা,

তাহলে কাগজ দেবো, লাইনে দাঁড়াতে পারি বিনা আলোচনা।
অন্যরকম হলে কাগজ দেবোনা।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
রাজা থাকার সহজ উপায় কবি আর্যতীর্থ
দয়া মায়া মমতা ও সহমর্মিতা
চৌকাঠের বাইরে পা দিলে মানবতা যেই সব আভরণে সাজে,
ওসব খুলতে হবে আগে।
দেখো যেন বাইরে বেরোতে গিয়ে খুব ভয় লাগে,
সন্দেহ আর অজ্ঞতাগুলোকে মাইন করে পুঁতে রাখো যাত্রাপথে,
ফাটলে তীক্ষ্ণ  স্প্লিন্টারগুলো যার গায়ে লাগে,
মানবতা খসে পড়ে সেসব মগজ থেকে।
পুঁতে দিও ঘৃণাভরা টাইমবোমাগুলো কোনখানে শান্তি সেটা দেখে দেখে।

এইবারে কাজকে ছিনাও।
সকালের খিদেপেট কখন যে রুটি পাবে,
আজ পেলে কালকেও পাবে কি আদৌ,
সে সব প্রশ্ন যেন মাঝরাতে আধোঘুমে আসে দেয়ালাতে,
মনে রেখো,  রোজগার স্থায়ী হলে ধর্ম ইত্যাদির বিষ কমে তাতে।
খিদে আর নেই-কাজ, শিরদাঁড়া ভেঙে দিতে এর বেশি কিছু লাগেনা,
সবকটা দিন ঘাম ধুঁকে শোধ করে যায় বাঁচবার দেনা।

মোটামুটি জমি তৈরি,
এইবারে প্রতিঘরে ভরে দাও ভিটেভাঙা ভয়।
ভয়ে খুব ভালো গ্যাস চেম্বার হয়,
একবার ফুসফুসে ঢুকে গেলে সে মানুষ কুঁকড়িয়ে পালাতেই থাকে,
এলোমেলো করে দিতে হবে সেই দৌড় মাঝে মাঝে যুদ্ধের ডাকে।
শিকড়ের ফোকড়ে কোথায় রক্ষিত আছে বংশলতিকা,
পাগলের মতো লোক থাক সন্ধানে,
মনোমত নথি পেলে নিমেষে পাল্টে আইন নাগরিক কথাটার বদলিও মানে।

মোটামুটি, মাথা তোলবার লোকে সুযোগ না পায় যেন,
মনে রেখো , দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন হলো ‘কেন?’
ব্যাস, শুধু এইটুকই।
একবার এইসব করে দিলে দেশজুড়ে  গোলমালে তোমার জীবনে গোল থাকবে না বড়।
তারপর? আর কি হে, জমিয়ে সিংহাসনে রাজত্ব করো।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
.
নামকরন কবি আর্যতীর্থ
দুঃখ, তোমাকে আজ থেকে আমি ডাকবো ‘আসন্ন সুখ’ বলে
কে না জানে চক্রবৎ পরিবর্তন্তে ইত্যাদি কথা।
না জানো যদি, সেটা গর্হিত, ধর্মগ্রন্থ পড়া হয়নি তাহলে,
কদিন বাদেই জেনো অ-জামিন অপরাধ বলে গণ্য হবে তা।

নীরবতা, তোমার নাম পাল্টে আমি করে দিলাম ‘বেঁচে থাকা’
বেচাল বাচাল হলে পেয়াদা লাগতে পরে এখন পিছনে,
সমাপ্তি করুণ হবে।কল্পনা, আজ থেকে শুরু তোমায়  ‘ইতিহাস’ বলে ডাকা,
বাস্তব জরুরী নয় অতীতস্মরণে।

খিদে, তোমার নাম এখন থেকে ‘অপপ্রচার’ হলো অভিধানে
বেকারত্ব কথাটা আর ব্যবহার হবে না, তার বদলে চালু হলো ‘পাগুলে প্রলাপ’,
বিরোধিতা’র এখন থেকে ‘বিদ্রোহ’ হবে মানে,
শিক্ষা’র মানে পাল্টে দিয়ে করলাম ‘সভ্যতার অভিশাপ’।

অন্ধভক্তি এখন থেকে ‘জনমত’ বলে প্রচারিত হবে, কেননা জনতা অন্ধ হওয়া ভালো।
নিঃশর্ত আনুগত্যকে ‘গণতন্ত্র’ বলে ডাকা হোক ।
যুদ্ধের সমর্থনকে ‘দেশপ্রেম’ বলে ডাকার আছে যুক্তি জোরালো, তাই হোক তবে।
খটমট শুনতে হলেও, বুদ্ধিজীবি বদলে করলাম ‘ক্রীড়নক’।

আত্মঘাতী কৃষকদের এখন থেকে ডাকা হবে ‘বোঝবার ভুল’
কারখানা লকআউট আর কেউ বলবেনা, নাম দিয়ে দিয়েছি ‘উন্নয়নের সোপান’
ভোটাধিকারের নতুন নাম হলো ‘এপ্রিল ফুল’,
আর আমার অধীনে থাকা দলটির নাম দিলাম
‘লক্ষ্মীবাবু কা আসলি সোনে চাঁদি কি দুকান’।

অনেক নামকরন বাকি রয়ে গেছে, ক্রমে সব পাল্টানো হবে,
দেশ, নাগরিক, ধর্ম ও জি ডি পি , সব বদলাবো পর পর,
একটু ধৈর্য্য রাখুন । এই তো আজকেই ঘুম থেকে উঠে সবে,
ডিটেনশন সেন্টারের নাম করে দিলাম ‘ চিড়িয়াঘর।’
আমার নামটাও বদলে ফেলেছি, এখন থেকে আমি হবো ‘ঈশ্বর’।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
.
শুনুন রাজা কবি আর্যতীর্থ
ভাবনা কেন গান না হয়ে হচ্ছে শ্লোগান, ভাবুন রাজা
প্রায় প্রতিদিন জ্বলছে কেন আগুন তাজা, ভাবুন রাজা।
মেশিনগানের বুলেটগুলো ফুঁড়ছে কাদের একটু দেখুন ,
ভেজায় যারা দেশের মাটি ,কাদের সে খুন, ভাবুন রাজা,
মঞ্চ থেকে একমুখী তোপ দাগার থেকে নামুন রাজা।

এদেশ বড় রামধনু দেশ, ভিবজিওরের বর্ণরা সব পাশাপাশি
ডান বাম আর মধ্যপথের মত সব আর সব উৎসব পাশাপাশি,
মৌলভাষের সর্বনাশের মধ্যে থেকেও মিলনকামী চারিত্রিকে,
খুব বিপরীত মানুষজনও চলছে তাদের জীবন লিখে পাশাপাশি,
জানুন রাজা, আর কিছু নয়, সুতোয় এদেশ গাঁথে ভালোবাসাবাসি।

দেশ বলে যা বইছে সবার শিরায় শিরায় রক্ত বলে, রাজামশাই
পাল্টায়না ধর্মটা তার, বিরোধী বা ভক্ত হলে , রাজামশাই।
এদেশ আমার, আমার মাটি, সবাই দেশের জন্য খাটি,
ভারত মা আর হিন্দ-এ জয়ে নেই তো কোনো ঝগড়াঝাঁটি রাজামশাই,
সন্দেহতে যায় আসে না, দেশ আমাদের, চলুক নথির যেই তামাশাই।

মেশিনগানের বিরুদ্ধে তাই দেশের হয়ে শ্লোগান তুলি, রাজামশাই।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
নির্ভীক কবি আর্যতীর্থ

ভয় ছাড়া হারানোর কিছু নেই আপনার, প্রান্তিক।
নথি খুঁজে ছোটাছুটি এদিক ওদিক, থামান এবারে।
স্থির হয়ে আছে আপনি এপারে না ওপারে, ভোটের
লাইন অফ কন্ট্রোলে।সেই অনুযায়ী দেবেন হুজুর বলে
আপনি স্বদেশজাত, নাকি বিদেশি, এটুকু জানুন শুধু,
নথিদের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজ-বাহুপেশী।
সুতরাং হয় আপনি আছেন, নয়তো নেই হয়ে বাঁচেন,
খামোখা ভাত না খুঁজে নথি খুঁজে পেটে দেন টান,
ওরা তো বলেইছে, খেতে ও পরতে দেবে যদি ডিটেনশন,
পড়শি দেশগুলো দুহাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাবে নাকি,
নথি থাকুক না থাকুক, এদেশেই কাটাবেন দিন বাদবাকি,
ঘর তো বারবার ভাঙে আপনার, নয়তো তৈরিই হয়না,
সিংহাসনের হাতবদলে কখনো হায়না কখনো পোষা ময়না
নাম হয় আপনাদের, থাক বা না থাক নথিতে গন্ডগোল
ডিটেনশনে বদরু শেখ আর রিটেনশনে হারান মন্ডল
মরার আগে অবধি একই কাজ করবে, পরের প্রজন্মও তাই
দশ প্রজন্ম পরে দশটা ধর্ম আর দেশ বদলিয়ে এক অবস্থাই।
কাজেই হে প্রান্তিক, শেকল আপনাদের কখনো ছাড়বে না,
ওটা হারাতে দেবেনা কোনো পক্ষই, আজীবন ধারদেনা
সুদে বেড়ে যাবে, আর ক্রমশ পায়ের বেড়ির আংটাগুলো আরো
মোটা হবে  প্রজন্মান্তরে। কিছুই না বদলালে কি হবে ভয় করে,
নথির থাকা না থাকায় আপনাদের উপায় নেই ঘুরে দাঁড়াবার,

কাজেই নিশ্চিন্তে নির্ভীক হোন। ভয় ছাড়া আপনাদের কিচ্ছু নেই
হারাবার।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
.
কবির গল্প কবি আর্যতীর্থ
‘বাহাত্তর সালে লেখা আপনার কবিতা
সেদিন একজন আবৃত্তি করলো!’

বৃদ্ধ কবির চলন এখন স্থবির, কানেও শোনেন কম,
তবু এ কথা শুনে মুখে আলো জ্বললো।

‘কোথায়?’

‘ওই যে , যেখানে আন্দোলনের ওপর পুলিশ ছুঁড়লো জলকামান,
টিয়ার গ্যাসে দিশেহারা ছত্রভঙ্গ মিছিল,
ওদিকে ক্রমশ স্থির হচ্ছে রাইফেলের টার্গেট, এদিক থেকে ছোঁড়া অবিশ্রান্ত ঢিল,
সেই বিস্রস্ত সন্ধ্যায় এতরফ বা ওতরফ কারো একটা মেগাফোনে
এক যুবক হঠাৎ  বলে উঠলো আপনার কবিতা।’

‘তারপর? কবি শুধোলেন উদগ্রীব স্বরে,
‘ খুঁজে পেলো মানুষ কি সেই বার্তা,
যা বলে চলেছে আজও দগ্ধ অক্ষর?
কিছু কি বদল হলো পুলিশে মানুষে সেই কবিতার পর?’

‘হলো তো! মন্ত্রের মতো আপনার কবিতা আওড়াতে শুরু করলো ততক্ষণ পর্যন্ত
উদভ্রান্ত জনতা।
প্রথমে ছাত্ররা, তারপর শ্রমিক আর চাষী, শেষ অবধি গৃহবধূ আর নাবালকেরা বলে
উঠলো আপনার কথা,
আপনার বাহাত্তরে লেখা শব্দেরা দুহাজার কুড়ির সন্ধের রোদ মেখে মশালের
মতো জ্বলে উঠলো,
আর ঠিক তখনই.. ‘
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
‘তখনই কি?’

‘তখনই প্রথম কার্তুজটা ছুটলো।
তারপর আরো,  কবিতার যতিচিহ্নের মতো চারদিকে অনুরণন হতে থাকলো,
গুড়ুম গুড়ুম গুড়ুম গুড়ুম....
আর অবিকল আপনার কবিতার মতো কারো বুকে , কারো মগজে সেঁধোতে লাগলো,
অথচ আপনার প্রজ্ঞার প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা কারো পা ছুঁলো না!’

স্নায়ুশিথিলতা ভুলে কবি উঠে বসেন।
কত অশ্রুর জলে সাগরেরা লোনা, মনে মনে হিসেব কষেন,
অন্তহীনের কি হিসেব হয়?
টিক টক টিক টক.. ঘড়ি বেয়ে পেরোয় সময়,
ফিসফিসে কবির জিজ্ঞাসা,
‘তাহলে কবিতা শেষ? রক্ত ও লাশে মাখা এই যুগ থেকে শুধু প্রাপ্য হতাশা?’

‘কে বলেছে শেষ? ওরকম সমাপ্তি বলতে আসিনি আজ।
খুন হওয়া মানুষের চারপাশ থেকে ,
বেঁচে না বাঁচা মানুষের দল
মরে মুছে যাওয়া মানুষের দল
কখনো না জেতা মানুষের দল
আজন্ম চুপ থাকা মানুষের দল
আপনার কবিতাকে কন্ঠে জ্বালিয়ে নিয়ে তুললো আওয়াজ।
সেই প্রলয়ের ডাকে ট্রিগারের আঙুলগুলো কেঁপে উঠলো ভয়ে,
নীরব হয়ে গেলো ওয়াকি টকির নির্দেশ..
আর লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি কন্ঠে দাবী নয় , ঘোষণা ভেসে এলো ..
‘ এটা আমার দেশ, এটা আমারও দেশ, এটা আমাদের দেশ!’

কবি হাসলেন।
যুদ্ধের  শেষে রণক্লান্ত সেনাপতি যেমন হাসেন।
তারপর,
কাঁপা কাঁপা আঙুলে অক্ষর বুনে দিতে তুলে নেন পেন।
.
ফাইন কবি আর্যতীর্থ
আগে নাগরিক বুঝি, তারপরে দেবো রুটি রুজি ।
ভালো করে খুঁজি গলিঘুঁজি ,
কোথায় বিদেশি আছে আনাচে কানাচে,
একজনও না বাঁচে নজরের থেকে,
এদেশ ওদেশ থেকে এভূমিতে লুকিয়েছে কে কে,
বেছে বেছে উপড়াবো আগাছার ঝাড়! ..
এই বলে মহারাজ দেন হুংকার!

ব্যাপারটা খুলে বলি, ভালো হবে তাতে।
শিক্ষা সবার চাই, কাজ চাই হাতে,
প্রজা উত্তাল ভারী এমন দাবীতে।
চাইলেই হাতে মোয়া দিতে হবে ফ্রী-তে,
এমন আজব কথা কোত্থাও  নেই লেখা,
দিচ্ছি এবং দেবো, পরে যাবে দেখা,
সেসব বুলিতে ঠাসা সব মসনদই,
যদি আর কিন্তুতে টিঁকে থাকে গদি।
যাকগে সে কথা,
আবিলতা যত ঘাঁটো গন্ধ বেরোবে,
অতটা সাবান নেই সে নোংরা ধোবে,
ভারী বিচ্ছিরি! তার চেয়ে গল্পতে ফিরি..

হয়েছে কি জানো,
কোষাগারে আছে বড় তালা আটকানো।
ভেবোনা তা বলে আছে রত্ন মানিক,
চোরে নিয়ে ভেগেছে বিদেশে খানিক,
আর বাকি লুটেপুটে খেয়ে গেছে কারা,
সকলে যদিও জানে তাদের চেহারা, বলাটা নিষেধ।
কার বুক করে যায় ভেদ কখন বুলেট,
মুখ খুলে বুঝলেও তখন
too late,
ক্ষমা চেয়ে লাভ নেই কিছু।
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে কবির পাতা
কবির মূল সংগ্রহ

এখানে তোলা হয়েছে  ২.১.২০২০
দাঁড়াও একটু দেখি, আসে কোনো লোক নাকি পিছু,
যুগ ভালো নয়।
চারদিকে কুয়াশার মতো জমে ভয়।

ওই দেখো, শিবগীতি গাই ধান না ভেনে।
জানা জিনিস লাভ হবে কি জেনে,
গল্পে ফিরুক চোখ।
হয়েছে কি, খিদের মুখে বেরোজগারে পাগল হলো লোক।
সবার দাবী ভাত আর রুটি,
রাজামশাই কাটান ছুটি হরেক দেশে,
মাঝে মাঝে যেই স্বদেশে পড়েন এসে,
দুকান ঝালাপালা করে প্রজার দাবীদাওয়া,
সমর্থনের প্রবল হাওয়া থিতিয়ে আসে যেন,
যাচ্ছে বেকার ধর্ম নিয়ে একঘেয়ে ঘ্যানঘ্যানও,
সীমান্ততে হুজ্জতিটাও খাচ্ছে না লোক ঠিক,
কি দিয়ে দেন ঠেকা?
হঠাৎ মনে ভাবনা আসে, ‘ ইউরেকা , ইউরেকা!’

হুংকার দেন রাজামশাই,
সামনে এসো, দেখি কি চাই,
সব দাবীকে মান্যতা দিই, আমি সরলমতি
যা কিছু চাও দেবো সবই,
দাবীর আগে দেখাও ছবি,
দেশটা তোমার সেই প্রমাণে দেখাও দেখি নথি।
যে নাগরিক , সে সব পাবে,
বিনা নথি বাইরে যাবে, এই করলাম আইন!

রুটি রুজির কথা ভুলে,
যে যার নিজের নথি খুলে দিচ্ছে এখন লাইন।
রাজামশাই গবাক্ষতে,
হাস্যমুখে কথার স্রোতে,
বিদেশী চ্যানেলে বলেন
‘Kingdom is fine!’
.
খাদ্য বিতরণ সংস্থা "জোমাটো"-র মুসলমান সরবরাহকারীর
পৌঁছে দেওয়া খাবার নিতে অস্বীকার করার পরে লেখা।
কবি দেবেশ ঠাকুর
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .
কবির ফেসবুক

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ২৯.১.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
কাগজ চাইতে এলে - দেবরাজ কোলে
Bikaaou Mann ki Baat  - Jamia Page
স্লোগান - উত্তম মজুমদার
মানবতা কোথায় গেল? - চিন্ময়ী দত্ত
কোথা তানসেন? - বিনয় ভট্টাচার্য্য
আবদুল করিম খাঁর ধর্ম ছিল গান - শ্রীজাত
প্রাচীর গড়ো - চন্দন নাথ
ভারতবর্ষ - সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়
নিষেধের রাত - কবি সুপ্রতিম দত্ত
শাহীনবাগের ডাক - উত্তম মজুমদার
দেশপ্রেমী ইস্তেহার - শুভদীপ ঘোষাল
বাংগালি রে বাংগালি - দুষ্টকবি
জবাব হবে কানায় কানায় - স্বপ্না ঘোষ
মানুষ কমে গেল - স্বপ্না ঘোষ
মানুষই বিস্তার - স্বপ্না ঘোষ
গাজীর গান - অমর গাজী
রূদ্র জাগো - সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
মন্দিরেতে রামকে রাখো - মুকুল পুরকায়স্থ
দাঙ্গা - শুভাঞ্জন চক্রবর্তী
দাঙ্গা - দিগন্ত রায়
.
কাগজ চাইতে এলে কবি দেবরাজ কোলে

ওরা কাগজ চাইতে এলে আমি হাতে তুলে দেব
এ দেশের সহস্র ভাষার অক্ষরমালালিপি
যে লিপি চেতনার রুদ্ধ দ্বারগুলি প্রতিটি শিশুর কাছে
একে একে উন্মুক্ত করে দেবে ঘরে ঢোকা প্রথম সূর্যালোকের মতো

কেউ কাগজ চাইতে এলে আমি তার হাতে
দুমুঠো শস্যদানা তুলে দিয়ে জিগ্যেস করবো
এই ফসলের ধর্ম কি? যারা ফলিয়েছে তাদের?
যার শ্রমে ফিবছর উৎপাদন, তৈরি হয় আয় ব্যয় বৃদ্ধির
রাষ্ট্রীয় হিসেব নিকেষ, যাবতীয় নথি
তার তো মানপত্র পাওয়ার কথা! অথচ,
মাটির বুকে ফুঁড়ে যে রচনা করে সৃষ্টির রহস্যজাল
তাকে জিগ্যেস করো মাটির মালিক সে কিনা!

কেউ কাগজ চাইতে এলে আমি তার হাতে
নক্ষত্রের ধুলো ঝেড়ে রোহিতের সুইসাইড নোটের
ভাঁজ করা পান্ডুলিপি দিয়ে বলবো
এই নাও এই ভগ্ন সময়ের দলিল
চিরআবহমান মহা জগৎ সংসারের যে কোনো মুহুর্তেই
আমার জন্ম একটি অকস্মাৎ দুর্ঘটনামাত্র
এইটুকু কাগজ আছে আমার কাছে
আপাতত পথ ছাড়ো, আমাকে অনেকদূর যেতে হবে
কবি দেবরাজ কোলে

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ৩০.১.২০২০


কেউ কাগজ চাইতে এলে বলবো, কাগজ সে তো
সিন্দুকে রাখা আছে!
সমস্ত ঘর তছনছ করে
রাষ্ট্র যখন বোকা বনে গিয়ে রেগে এসে
আমার বুকে বন্দুকের নল রাখবে, আমি হেসে বলবো
ওই খানেই, বাঁদিকের পাঁজরের একটু ভিতরেই আছে
সিন্দুকটা! ওর ভিতরে রক্তরাঙা অক্ষরে লেখা আছে
আমার সমস্ত জীবনবৃত্তান্ত
আমার প্রিয় লাইনগুলো
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। "
.

Bikaaou Mann ki Baat | Music Video | Raisin George
Jamia Page (Lyricist and Guitarist)

MERE SALES WALE MITRON
WHY DO YOU GO DOOR TO DOOR?
BE THE MAN WHO SOLD ONCE CHAI
BUT NOW SELLS THE LOK SABHA FLOOR.

HE SOLD YOU RAM MANDIR RINGTONES
INSTEAD OF A JOB WALA CALL.
USE YOUR DEGREE TO WRAP PAKODAS
YOU FRY AT VIKAS BHAI'S MALL.

HE SOLD NOTEBANDI LIKE PATAKAS
CAUSE, YOU KNOW, ALL MONEY COMES IN BLACK.
IF THE GDP'S LOST ITS LEGS
HE'LL SELL IT THE WHEELCHAIR AT THE BACK.

HE'LL SELL YOU A SUICIDE GOLI
MAKE YOU FEEL HE MEANS WELL.
TUNE INTO HIS BIKAOU MANN KI BAAT
BOOK YOUR COUNTRY'S TICKET TO HELL.

CHECKOUT HIS BEST SELLING TIRANGAS
WITHOUT THE GREEN WHITE AND BLUE.
IT'LL COST YOU HALF A BHEJA
BUT YOU'LL GET A KHAKI CHADDI TOO.

THERE CAN'T BE DHOKA IN AADHAR!
HE SOLD IT LOOKING INTO YOUR EYES.
YOU DIDN'T LINK YOUR BHOOK TO TRUSTING HIM?
YOU DON'T DESERVE THAT RICE.

HE'LL SELL YOU A SUICIDE GOLI
MAKE YOU FEEL HE MEANS WELL.
TUNE INTO HIS BIKAOU MANN KI BAAT
BOOK YOUR COUNTRY'S TICKET TO HELL.
Bikaaou Mann ki Baat
গানটির ইউটিউব পাতা

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
শিল্পী বিপ্লব কুণ্ডু
মিলনসাগরে তাঁর পেইনটিং-এর পাতা . . .

তোলা হয়েছে  ৬.২.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
HIS BETI BACHAO DEAL IS REAL
YOU NOW GOT REASON TO RAVE.
IF HIS PARTY STOCKS UP ON RAPISTS
HEY, IT'S TO KEEP YOU NAARI SAFE.
HE'LL SELL YOU A LYNCHINING LICENSE
IF YOU GOT A PROBLEM WITH BEEF.
YOU GOT TERMITES AS NEIGHBOURS?
HIS NRC'LL BRING YOU RELIEF!
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
স্লোগান
কবি উত্তম মজুমদার

চোখ রাঙিয়ে রাতকে শাসায়,
রাস্তা জব্দ জোটে
স্লোগান লেখে পাঁজর দিয়ে
বিশটি ছেলে মোটে ।

কোত্থেকে পায় রসদ এতো
অকুতোভয় ছোটে
রাস্তা জুড়ে স্লোগান লেখে
বিশটি ছেলে মোটে।

ঘাড়ের কাছে ফ্যাসিস্ট শমন
শ্বাস ফেলছে জোরে
রাত জেগে তাই স্লোগান লেখে
সব রাস্তা  ভ'রে।
কবি উত্তম মজুমদার

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ৬.২.২০২০
.
মানবতা কোথায় গেল?
কবি চিন্ময়ী দত্ত


যাচ্ছে ভুলে দেশের মানুষ
মহাপুরুষের মন্ত্র,
নিজ স্বার্থে লঙ্ঘিত আজ
বিঘ্নিত গণতন্ত্র ------
        প্রজাতন্ত্র...........
হিংসায় আজ জ্বলছে আগুন
পুড়ছে গোটা দেশ,
মানবতা কোথায় গেল??
 দিব্যি আছি বেশ l
কবি চিন্ময়ী দত্ত

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ৬.২.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কোথা তানসেন? কবি বিনয় ভট্টাচার্য্য

দেশময় জ্বলছে আগুন দাঙ্গা রক্তপাত
কে দোষী, কে বা র্নিদোষ খুঁজে পাওয়া দায়
চিলে নাকি কান নিয়ে গেছে এই ভেবে
দলে দলে সবাই ছুটছে বেগে ক্ষুধা তৃষ্ণা ভুলে চিলের পিছনে
ঊর্ধ্বাকাশে উড়ন্ত লোলুপ শকুনের দল
খুঁজে ফেরে শব
কর্মহীন যৌবনের দল মত্ত হয় কর্মনাশা
দুষ্কর্ম সাধনে
কর্মের দাবি নিয়ে জেহাদ তোলে না কেউ কোনোখানে
অগ্নিমূল্য বাজার তবু অদ্ভুত শীতল রক্ত উত্তপ্ত হয় না কভু
জনগন ব্যস্ত অহর্নিশি ধর্মের অহিফেন সেবনে।
দেশময় কৃতদাস শ্রমিক কৃষক নিত্য শোষিত হয়,
মালিকেরা মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার পাহাড় গড়ে বিরামবিহীন দধীচিদের অস্থি শ্রমদানে;
শ্রমিকের রক্ষাকল্পে রচিত অসংখ্য আইন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে পড়ে থাকে অন্ধকারে
আদালতে বিচারের নামে নিস্পেষিত শ্রমিক
নিত্য অবিচার কেনে।
ইউনিয়ন নেতা মালিক আর শ্রম আধিকারিকদের ত্রিকোণ প্রেমালাপ চলে
হোটেল রেস্তোরা বারে।
বিপন্ন দেশ, বিপন্ন মানুষ, বিপন্ন শ্রমিক কৃষক, বিপন্ন যৌবন দিগভ্রান্ত
দীপক রাগিনী গেয়ে জ্বালায় আগুন ওরা ঘরে ও বাইরে।
কোথা সেই তানসেন খুঁজে ফেরে বিদগ্ধ সমাজ, যার জাদুকরী মেঘমল্লার সুরের মায়ায়  
কখন এদেশে পড়বে ঝরে
শান্তিবারি ও সুখপ্রেম বরিষণ।
কবি বিনয় ভট্টাচার্য্য
রচনা ২০ডিসেম্বর ২০১৯

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ৬.২.২০২০
.
আবদুল করিম খাঁর ধর্ম ছিল গান
কবি শ্রীজাত
কবি শ্রীজাত
মিলনসাগরে কবির পাতা . . .

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ৬.২.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
কবি চন্দন নাথ

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ৬.২.২০২০
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
ভারতবর্ষ
কবি সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়


মাথায় ফেজ টুপি, কপালে তিলক
বুকপকেটে হোলি ক্রস আর লোটাস-সূত্র, কোমরে কৃপাণ---
নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণায় এ রকম একটি লোককে দেখা গেল
বয়স ৭০-৭১, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ভারসাম্যহীনও হতে পারে
চোখের দৃষ্টা ঘোলাটে, থুতনির ওপর একটা কাটা দাগ
সাতচল্লিশ সালে কেটেছিল, এখনও শুকোয়নি
হাওড়া স্টেশনের বড় ঘড়ির তলায়
শেষ দেখা গেছে, নাম---
"ভারতবর্ষ" ...
কবি সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ৬.২.২০২০
.
নিষেধের রাত
কবি সুপ্রতিম দত্ত

নিষেধের স্রোতে আজ বিরুদ্ধ স্বর।
প্রতিদিন রাত লেখে ধার্মিক চর॥

এখানে দাঁড়িয়ে শুধু খাদ্য খাদক।
মেঘের আড়ালে রোজ চাঁদ ডুবে যায়॥
এ যুদ্ধে জিতবোই আমরা সবাই।
ঘামের গন্ধ মেশে খিদের থালায়॥

পৃথিবীর প্রতি বাঁকে মৃত্যুরা জানে।
ধর্মের মোহে রোজ বেড়ে চলে লাশ॥
তবুও ছাইয়ের নিচে জমা হয় সোনা।
এখানেই ভুখা পেট লেখে ইতিহাস॥

জেনেছি আকাশ মানে পাখিদের গান।
রাষ্ট্রের গায়ে লেখা ভীরুতার নাম॥
কবি সুপ্রতিম দত্ত

কবিতাটি সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন
কবি রাজেশ দত্ত

এখানে তোলা হয়েছে  ৬.২.২০২০
.
<<<দেয়ালিকার সূচীতে যেতে
দেয়ালিকার শেষ ছড়াটিতে যেতে>>>
.
শাহীনবাগের ডাক কবি উত্তম মজুমদার
শাহীনবাগের এলো রে ডাক
রণপায়ে চল ধেয়ে
নূপুর কাঁকন রাখিস তুলে
যতেক সোনার মেয়ে।

তোদের দিদি খালা চাচি
রাত জাগে পাহারায়
কোমর ক'ষে ওড়না বাঁধে
আপদ-বালাই তাড়ায়।

করছে কারা গুণ্ডাগর্দি
কারা চালায় গুলি
জানে না কি রাষ্ট্র এসব?
পরুক চোখে ঠুলি।

আজন্মের এই ভিটের উপর
বুকের হাপর পড়ে
সেই মাটিখান ছিনবে নাকি !
চোক্ষে আগুন ঝরে।

শোন্, তবে শোন্, গল্প বলি---
লড়া&#