দুধে ভাতে থাকো
সিঙ্গুর গাঁয়ের বুকের আগুন বেড়ে আরো বহু শত গুন নন্দীগ্রামে পৌঁছল অবশেষে | একে একে সবার জমি রাজার খাতায় উঠছে শুনি ক্ষেপল মানুষ সেথায় নির্বিশেষে ||
ফেলছে ছুঁড়ে সেই নেতাদের বলছে যারা মানুষ তাঁদের দলের ভোটের, সমর্থনের পুঁজি | মেদিনীপুরের মেদিনী ছুঁলে লড়বে সবাই বৈরী ভুলে যুদ্ধবেশে সাজছে মানুষ আজি ||
রাজা বলছে - মানুষ যত, দিচ্ছে জমি স্বেচ্ছা মত শুধু পাশে থাকছে পুলিশ অল্প-সল্প | রাজার স্বপ্ন-ব্যাধি নতুন বলছে কৃষির নেই কোনো গুন তাই কৃষি ছেড়ে এখন ভজ শিল্প ||
কৃষি করে ক'টাকা পাও, শিল্পে দেখবে কেমন গড়াও টাকায় ভরা তাকিয়া মাথায় দিয়ে | টাটা-সালিম নিয়ে জমি গড়বে শিল্প গগন-চুমি তোমরা সেথায় চাকরি পাবে চাতক পক্ষী হয়ে ||
সবার জন্য আরও আছে - রইবে তোমরা ভাতে মাছে নারী-কুলের 'ঝি' এর কাজ পাকা | সবার কথাই ভাবছি আমরা ছেলে ছোকরা শিশু দামড়া সবাই ধোবে লাখের-গাড়ীর চাকা ||
রইল বাকি ঠাঁইয়ের কথা মরূদ্যানেই আসন পাতা পার্টি ছাতার ছায়ায় টানা বস্তি | এখন তোমরা মোদের ক্ষমি দাও লিখে দাও নিজের জমি দুধে ভাতে থাকো তোমরা, মনে সুখ ও স্বস্তি ||
দুষ্ট কবি মিলন ভনে রাজার কথা দেখে শুনে বলতো কি আজ থাকলে কমরেড বিনয় | যাঁদের নিয়ে শুরু হাঁটা তাঁরাই আজকে বলির পাঁঠা দেখ, কালের চাকা ঘুরলে কি হয় ||
**********৪/১/২০০৭,কলকাতা কমরেড বিনয় - শ্রদ্ধেয় বিনয় চৌধুরী | নন্দীগ্রামের মানুষ আর প্রশাসনের উপর ভরসা রাখতে না পেরে রাস্তা কেটে, জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেড করে নিজেদের যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন যাতে পুলিশ এবং শাসক দল না আসতে পারে |
|
সিঙ্গুরে কে কোথায় দাঁড়িয়ে
(পড়ুন ঠিক এমনই আরও একটি কবিতা "নন্দীগ্রামে কে কোথায় দাঁড়িয়ে" )
এই কবিতার উপর আপনার মতামত বা প্রতিক্রিয়া জানাতে এখানে ক্লিক করুন
মনমোহন সিং, প্রধাণ মন্ত্রী অর্থনীতির মহান যন্ত্রী সবাই পুলকিত তাহা ভাবি | তাঁহার মুখে একই বাণী সেনসেক্স এর জয়ধ্বনি যেন উহাই দেশের এক মাত্র ছবি || ইহার উপর অন্তরাত্মা কাড়িয়া লইছে সকল পাত্তা তাঁহার কেবল থাকে পুঁজির স্তুতি | তাহাই নিয়া খুশি বেজায় সকাল সন্ধ্যা হাতড়ে বেড়ায় অর্থনীতির সূক্ষ্ম পরিস্থিতি || এদিকে তাঁর জনগণের ওষ্ঠাগত জীবন মানের ভ্রান্ত নীতির যূপকাষ্ঠে বলি | কিষাণ করছে আত্মহনন শাসক লুঠছে প্রাণ-মান-ধন তিনি ভাজেন বিশ্বায়ণের কলি || ************************ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্জী কি যে তাহার মতি-মর্জি জানিল না এখনো কেহ ভবে | কি চাও হে রাজা তুমি কেন কাড়ছো মোদের ভূমি হাহাকার করে প্রজা সবে || বিরোধী দল মিলি সবই বজ্রকণ্ঠে করে দাবী প্রতিবাদ বন্ ধে দেশ স্তব্ ধ | তাদেরও সেই এক কথা কি করিতে চাও হেথা বল রাজা কেন এত শব্ দ || কি কারণে প্রজা মেরে অবাধ্য মিডিয়াকে ঝেড়ে করেছ এই সন্ত্রাস সৃষ্টি | টাটা সালেমের শংসা এবং পুঁজিবাদের প্রশংসা লাগছে কি তাই শিল্প এত মিষ্টি || চাষা বর্গার ভোটে জিতে তাদেরই আজ বলি দিতে বিবেক চিপে এ কি তোমার কৃষ্টি | গরীব চাষা ভূষার জমি জোর করে নিচ্ছো তুমি কি কারণে এই অনাসৃষ্টি || পার্শ্ব হইতে ক্ষীণ কণ্ঠে বলে - যদিও বাম ফ্রন্টে তবু ইহার করিতেছি প্রতিবাদ | শরিক দলের যত নেতা তাহাদেরও একই কথা- বুদ্ধবাবুর এই প্রসাদে আমরা ছিলাম বাদ || দুষ্ট কবি মিলন অবাক বলেন মন্ত্রী মোল্লা-রেজ্জাক তিনিও নাকি এখন খানিক রুষ্ঠ | মন্ত্রি পারিষদ সবই অন্ধকারে খাচ্ছে খাবি শুধু রতন টাটাই হেথা মহা তুষ্ঠ || ********************** মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর নিয়ে নতুন অধ্যায় রচিছ তুমি এখন এই বঙ্গে | দুধে-ভাতে যারা থাকছে আর 'শান্তিতে আছে' যারা ভাবছে নেই তারা কেউ আজ তোমার সঙ্গে || দেশের যারা সর্বহারা ছিল বামের শিরদাঁড়া তারাই তোমার কাছে এখন আসছে | রাজার চোখের বালি যারা জমির লুঠে পড়ল মারা তোমার কাছেই এর প্রতিকার, ভাবছে || ************************ শ্রীযুক্ত প্রণব মুখার্জী তাহার কাছে মোদের আর্জি হে মহামন্ত্রী প্রবর | রাজ্যে দলের যে দুর্দশা মানুষেরই বা কি প্রত্যাশা কিঞ্চিত্ রাখেন কি সেই খবর || রাজ্যে বিরোধীর ভেক ধরিয়া কেন্দ্রে বামের গলা জড়াইয়া রচিয়াছেন এক নয়া ভেল্কি জবর | সাধে কি নিন্দুকে বলে আল্লাই জানেন কি কি হলে বিরোধী থেকেই খুশি ত্রিশ বছর || ভেবে কূল নাহি পাই রাজ্যে যাদের জমি নাই কেন্দ্রে কেমনে পাও এত কদর | বাংলায় দলকে নিরস্ত্র রাখার হাই কম্যান্ডের এ পুরস্কার দুষ্ট কবি শঙ্কা করে বসে দিনভর || *********************** প্রিয় রঞ্জন দাশমুন্সী সারাক্ষণ বাজাইলেন বংশী সাইড লাইনের বাহিরে দাঁড়াইয়া | লাইন ম্যানের কার্য করি প্রধাণ মন্ত্রীর দৌত্য সারি ধরছিলেন মাছ জলে হাত না চুবাইয়া || এ ওর মুখে চায় কিছুতেই বুঝিতে না পায় কেহ যদি দিত আসি বুঝাইয়া | আসলে কি করিতে চান মিটিং মিছিল লোক দেখান বুদ্ধের কাছে টিকি-বান্ধা হইয়া || ********************** মাননীয় মানস ভুঁইয়া লাগিয়াছেন আদাজল খাইয়া দিতে রাজ্যের মানুষকে এই খবর | তাঁহারাও পিছাইয়া নাই, জমি লুঠের বিরূদ্ধে তাই অন্য সবার থেকেও বেশী তত্পর || কিন্তু তাঁদের বাছ-বিচার সহ-বিরোধীর জাত বিচার মৌলবাদী(?) ভাবিলেই নাক শিটকান্ | শুরুতে সবার সাথে থাকিলেও সিঙ্গুর প্রশ্নে শরিক হইলেও এখন তফাতে শুধুই গলা ফাটান || বুঝিতে কাহারো বাকি নাই যতই করেন ধানাই পানাই সবই তাঁদের লোক দেখানো আস্ফালন | কেন্দ্রে বামের 'ক্রাচ্'এ ভর রাজ্যে গট্-আপ নাটক যবর দুষ্ট কবির বৃথাই করা এঁদের মূল্যায়ণ || ********************** সুব্রত মুখোপাধ্যায় অনেকে এখনো ভরসা পায় তাঁহার কাজ কর্ম দেখিয়া | জমি বাঁচাও আন্দোলন বেগ পাইতো বহুগুণ তাঁহাকে আজ সঙ্গে রাখিয়া || কিন্তু তাঁরা মন্দভাগী, ক্ষূদ্র স্বার্থে দলত্যাগী এখন তিনি কংগ্রেসে বিরাজেন | এখন তাঁহার সকল ভাষণ সদিচ্ছাতেও সকল চরণ সবই হচ্ছে অতি অর্থহীন || ********************** সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী দাঁড়াইয়াছেন ঘুরি আজ কৃষকের জমি বাঁচাইতে | জমিয়তে তিনি নেতা আন্দোলনের হোতা নন্দীগ্রামের উচ্ছেদ ঠেকাইতে || দুষ্ট কবি মিলন বলে ভেসেছে তার নয়ন, জলে বহুকাল পর এই দেখে | এমন মুসলমান নেতা গনিখানের পর হেথা হিন্দু মুসলিম সবাই মানছে যাকে || রাজনীতিতে বহু দেখা মুসলমান নেতাদের রাখা তাঁরা শুধু ভোটব্যাঙ্ক টানিবেন | তাঁদের যাবতীয় কর্মের অর্থ ছিল এই মর্মের শুধু সংখ্যালঘু বিষয় তিনি ঘাঁটিবেন || কিন্তু সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব করে হিন্দু-মুসলিম বিভেদ গায়েব সব জমিহারার হয়ে লড়িছেন | সারা দেশে এমত্ কার্য তিনি এখন অপরিহার্য বিরোধী সব দলের সাথে বসিছেন || তাহার এই ভীষণ রূপে রাজার শিবির উঠছে কেঁপে নানান ফন্দি তাহাকে ঠেকাইবার | প্রকাশ্যে তাই দিয়ে বিবৃতি রাজা বলে ও মৌলবাদী দেখছো না ওর দাড়ি-টুপির কারাবার || যাদের যাচ্ছে জীবন-জমি ইহা শুনি নাহি দমি ভীড় জমাইছে তাঁর জনসভায় | সর্ব জাতি-ধর্ম মিলে এ শাপে বর সিঙ্গুর ছলে একই লক্ষ্যে লড়িছে নির্ভয় || ********************** শ্রীযুক্ত সোমেন মিত্র তাঁর রাজনীতির যে চিত্র মডার্ন-আর্টকেও করে মাথা নত | সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম জমিরক্ষার অভিযান রক্তঝরা দ্রোহে যখন পরিনত || তখন তিনি নদিয়াতে বিরোধীদের দল ভাঙ্গাতে দুষ্ট কবি বোঝে, কি কারণ | আজকে রাজার আসন টলে বিরোধীরা এক্কাট্টা বলে তাইতো তাঁহার এমত আচরণ || ********************** বাম ফ্রন্টের শরিক দল এ সবাই মিলে এটাই বলে রাজার এই কাজকে আমরা ভজি না | সিঙ্গুর দিয়ে শুরু লুঠের সঙ্গে আওয়াজ পুলিশ-বুটের জন দরদী রাজার এটা সাজে না || মিটিং মিছিল গণ-মাধ্যমে তাঁদের কথায় আড্ডাটা জমে যেন রাজাকে করবে এক্ষনি তাঁরা বাধ্য | কিন্তু যখনি বৈঠকে যায় অন্তরালে কি কথা হয় সে কথা জানিবে এদেশে কাহার সাধ্য || বৈঠকে যাহা ফলাফল হয় পুরানো সুরেই সবে কথা কয় জনতা থাকে বিফল নেত্রে চাহি | দুষ্ট কবি দেখে শুনে বলে কেন এরা সবে কভু নাহি বলে- রাজার প্রতি আস্থা মোদের নাহি || ********************** রামকৃষ্ণ মিশন পরনে গেরুয়া বসন মানুষের সেবায় তাঁরা ব্রতী | চিরকাল সেই ব্রতে কন্যাকুমারী হতে কাশ্মির তক্ ছড়িয়ে তাঁদের খ্যাতি || সিঙ্গুরের সংগ্রাম যখন খবরের শিরোনাম চাষি বাঁচান জমি, দিয়ে প্রাণ | মিশন তখন বলে এগিয়ে যেতে হলে অধিগ্রহণ সঠিক পন্থা, করতে উন্নয়ন || দুষ্ট কবি মিলন বলে চাষির কপাল যাবেই জ্বলে মিশন সেবায়, লাভের অঙ্ক মেশায় | নারী-প্রশিক্ষা-কাজ নামে মিশনের ভাগ শিল্পায়নে শিল্পের ভিতে কৃষিকে পোতার নকশায় || নিবেদিতার কালে মিশন তাঁকে বলে স্বদেশী করলে আমরা সাথে নেই | নির্ঝঞ্ঝাট হতে অথবা সুযোগ পেতে সচেষ্ট তাঁরা হয়েছেন সদাই || **************** ২৩/৩/২০০৭
দুষ্ট কবি মিলন বলে আমার কাব্য এখন পড়লে ভাববে কবি, 'দিদির' মহা ভক্ত | সত্য আমি ভক্ত এখন তাঁহার, যাহার কার্য-কথন দুস্হ, আর্তজনের অনুরক্ত || এঁরাই তখ্ তে বসবে যখন যদি করে এমনই শোষন ধরবো কলম ধৃষ্ট কাব্যে ঝালিয়ে | তখন যদি নীরব দেখো সারমেয়র নাম রেখো দুষ্ট কবির নামের সঙ্গে মিলিয়ে ||
********** ৫/১/২০০৭ - ২৩/৩/২০০৭,কলকাতা যেমন যেমন আন্দোলন এগোচ্ছে, নানান চরিত্র তাঁদের স্থান করে নিচ্ছে | এই কবিতাটিতে কবি তাঁদের সংযোজন তেমন তেমন ভাবে করে যাচ্ছে |
এই কবিতার উপর আপনার মতামত বা প্রতিক্রিয়া জানাতে এখানে ক্লিক করুন
(পড়ুন ঠিক এমনই আরও একটি কবিতা "নন্দীগ্রামে কে কোথায় দাঁড়িয়ে" )
|
স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ
স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ
ভয়ের আছে কি?
স্বাধীন জন্মে স্বাধীন মরবো
মোদের রুখবে কি?
রাজার ক্ষমতা মাথায় চড়লে
বর্গি সাজবে কি?
পূঁজিপতির হাতের তামাক
সুখে টানলে কি?
সর্বহারার নেতারা আজ
সঙ্গে নইলে কি?
আধেক প্রজা সন্মোহনে
বেবাক সাজলে কি?
আধেক, যাঁদের হুঁশ আছে ভাই
সঙ্গে পেয়েছি |
ঘর বাঁচাতে মরলো যাঁরা
তাদের ভুলবো কি?
রাজা, তোমায় খবর করছি
স্বপ্ন ভাঙবে কি?
জেগে উঠে মোদের কথা
একটু ভাববে কি?
হ্যাঁচকা টানে পড়বে ধরায়
তখন বাঁচবে কি?
দেশের রাজা আমরা বাছি
ধন্ধ আছে কি?
দুষ্ট কবির কাব্যে ধরা
ছন্দ পেলে কি?
স্বাধীন জন্মে স্বাধীন মরবো
মোদের রুখবে কি?
স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ
ভয়ের আছে কি?
**********৬/১/২০০৭,কলকাতা
নন্দীগ্রামে এমন কেন?
নন্দীগ্রামের শান্ত কিষাণ,
হঠাত্ কেন তুলছে স্লোগান?
তুলছে কেন হাত মুষ্টিবদ্ধ?
যে হাত থাকে লাঙ্গল ধরা,
করতলপট কড়ায় ভরা,
সে হাত কেন যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ?
ফলায় সোনার ফসল ধরায়,
সদা, হাসি মুখে ঘাম ঝরায়,
তাঁরাই কেন আজ এত ক্ষিপ্ত?
বাংলা মায়ের কৃষক মেয়ে,
ধান কাটে যে কাস্তে দিয়ে,
সেই, কাস্তে কেন মাথার উপর দৃপ্ত?
গরীব চাষির কেড়ে মুলুক,
গড়তে ধণীর শিল্প তালুক,
সংস্কৃতিবান রাজা এখন ব্যস্ত!
পুলিশ পোষা-গুণ্ডা ছেড়ে,
অনিচ্ছুক কৃষক মেরে,
লুঠতে জমি রাজা সিদ্ধহস্ত!
গবাদ পষুর ভরণ-পোষণ,
সহজ সরল গ্রামীণ জীবন,
হঠাত্ সে সব আজ বিপর্যস্ত |
মিষ্টি কূজন, কানন, গগন,
দীগন্ত ছোঁওয়া প্রান্তর, বন,
দুষ্ট কবি দেখছে - সবই অস্ত |
কাকুতি-মিনতী, বাদ-প্রতিবাদ,
ফুত্কারি সব দিয়ে কানে হাত,
যেন, গিলছে কালিয়া গলায় দিয়ে কণ্ঠি!
বর্গা চাষার ভোটে ধণী,
সালেম টাটার চোখের মণি,
রাজা নাকি এখনও বামপন্থী!
**********৭/১/২০০৭,কলকাতা
নন্দীগ্রামে আজ রাতে শাসক দলের প্ররোচনায় গভীর রাতে
গোলাগুলিতে ৭ জনের মৃত্যু হয় | গ্রামবাসীরা এখনো জমি
বাঁচাতে বদ্ধ পরিকর | পুলিশকে নিরব দর্শক করে রাখা হয়েছে |
গতরাতে নানাম গণমাধ্যমে সিপিএম দলের কৃষক নেতা কমরেড
বিনয় কোঙার বলেন যে নন্দীগ্রামের মানুষদের তিন দিক থেকে
ঘিরে ফেলে তাদের লাইফ হেল করে দেবেন |
জমির মূল্য ফেলনা নয়
টাকার মালিক পুঁজিপতি, এই দেশে নাকি অল্প,
বিদেশ থেকে ডাকছে তাদের, গড়তে নানান শিল্প |
বার বার বলছে রাজা, ঢালবে যারা টাকা কড়ি,
তাদের দিতে হবে জমি, তাদের মর্জি মাফিক, ধরি |
শিল্প! সে কি হাওয়ায় হবে? টাকার সাথে লাগে জমি,
শিল্প পতির তোয়াজ হলেও, জমির বেলায় 'লাঠির ধ্বনি' |
ভাবছে রাজা বাংলা জুড়ে, সাত পুরুষের জমিদারী,
যখন যেটা লাগবে নেবেন, পার্টি-পুলিশ লেলিয়ে, কাড়ি |
তাইতো টাকার মালিকানার, এত নিলাজ সাধন-ভজন,
সাত পুরুষের ভিটার মালিক, বাঁচলে প্রাণে চাটবে জখম!
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মানুষ, দেখিয়ে দিল আজকে যেটা,
গরীব হলেও স্বাধীন তাঁরা, রক্ত দিয়েও রাখবে ভিটা |
বাংলা মায়ের আঁচল-বিক্রি-দালাল-চক্র রুখছো ভাই,
শহিদ হচ্ছে যাঁরা, তাঁদের দুষ্ট কবি বন্দে তাই |
বুঝুক সবে, বাংলা মায়ের আঁচল অত সস্তা নয়,
পুঁজির মূল্য আকাশ ছুঁলেও, জমির মূল্য ফেলনা নয় ||
**********৮/১/২০০৭,কলকাতা
আজ রাতেও নন্দীগ্রামে গন্ডগোল হয় | ভোরের দিকে সিপিএমের
পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হয় | সেখানে এখন টানটান
উত্তেজনা | বাংলায় কি এখন গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি? প্রশাসন
এখনো নীরব দর্শক |
ধন্য রাজা! তুমি দীর্ঘজীবী হও!
আমরা জানতাম
রাজা বলবেনই |
দেখ! রাজা কিন্তু বললেনই!
'সব আমাদের ভুল |
নন্দীগ্রামের জমি নেবার বিজ্ঞপ্তি ছিঁড়ে ফেলে দাও |'
চারিদিকে ধন্য ধন্য পড়ে গেল !
আকাশে বাতাশে মিডিয়ার তরঙ্গে |
সব্বাই যেন এটারই অপেক্ষায় ছিলেন!
কখন রাজা বলেন --- আমাদের ভুল হয়েছে |
তিনি তো যে সে রাজা নন!
তিনি সংস্কৃতিবান রাজা |
আমরা, বুদ্ধিজীবীরা স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে পুলকিত!
দিন দিন আমাদের প্রতি দুষ্ট কবির কূ-মন্তব্য প্রবলতর হয়ে উঠছিল |
তা এখন থামবে |
এই একটি কথায় নিন্দুকের মুখে ছাই ঘষে দিলে!
এর সঙ্গে পেলাম ফাউ---
দিস্তে দিস্তে লেখার মত রাজ-মহিমার উপাদান!
একেবারেই কিছু না বললে কেমন দেখায়!
তাই আমরা কয়েকজন কিঞ্চিত্ ট্যাঁ ফু করেছি!
রাজা তুমি দীর্ঘজীবী হও!
নিজে দীর্ঘজীবী হয়ে আমাদেরও দীর্ঘজীবি কর!
সামনেই আবার বই মেলা আসছে!
মমার্তে দাঁড়িয়ে কবিতা-ভাষণের রসদের জন্য ধন্যবাদ!
তুমি আমাদের এই দুর্দিনে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ালে!
ধন্য রাজা! তুমি দীর্ঘজীবী হও!
**********১০/১/২০০৭,কলকাতা
গত কাল মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন যে তাঁদের
ভুলের জন্যই নন্দীগ্রামের এই অবস্থা | তিনি নাকি জিলা ম্যাজিস্ট্রেটকে
বলেছেন সেই জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিটা ছিঁড়ে ফেলতে | সব শেষে তিনি
বলেছেন যে তিনি নন্দীগ্রামে 'পলিটিকাল প্রসেস' শুরু করতে চলেছেন! সিঙ্গুরের
জন্য তিনি কোনো প্রকারের দুঃখ প্রকাশ করেন নি | দু এক দিনের মধ্যেই
মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে ছাড়া পাওয়ার কথা |
চল! এখন লুডোই খেলা যাক!
সব আমাদের ভুল |
নন্দীগ্রামের জমি নেবার বিজ্ঞপ্তি ছিঁড়ে ফেলে দাও |
তুমি কি একটা চান্স নিয়ে দেখছিলে?
জমিটা হাতিয়ে নেওয়া যায় কি না?
নিতে পারলে আর কে পায়?
ঠিক যেমন সিঙ্গুরে!
কই, সিঙ্গুরের জন্য তো বললে না যে তোমাদের ভুল?
নন্দীগ্রামে কপালটা খারাপ ছিল |
অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে
উসকানিমূলক কথা বলে
সন্ত্রাসের হুমকি দিয়ে
হাফ-ডজনের উপর লাশ পরে গেলেও---
তালে গোলে জমিটা হাতিয়ে নিতে পারলে না!
তাই!
দুষ্ট কবি যেন শুনছে ---
চলো! এখন লুডোই খেলা যাক!
**********১০/১/২০০৭,কলকাতা
গত কাল মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন যে তাঁদের ভুলের
জন্যই নন্দীগ্রামের এই অবস্থা | তিনি নাকি জিলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছেন সেই
জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিটা ছিঁড়ে ফেলতে | সব শেষে তিনি বলেছেন যে তিনি
নন্দীগ্রামে 'পলিটিকাল প্রসেস' শুরু করতে চলেছেন! সিঙ্গুরের জন্য তিনি কোনো
প্রকারের দুঃখ প্রকাশ করেন নি | দু এক দিনের মধ্যেই মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়
হাসপাতালে ছাড়া পাওয়ার কথা |
সেই ডেনজারাস্ বিরোধী নেত্রী!
দুটো চান্স নিয়েছিলে---
দুদিনই সেই ডেনজারাস্ বিরোধী নেত্রী উপস্থিত ছিল না!
একটা চান্স নিয়েছিলে---
সিঙ্গুরে!
সেদিনও ওই ডেনজারাস্ বিরোধী নেত্রী উত্তরবঙ্গে গিয়েছিল!
সেই খবর তো তোমার কাছে ছিলই!
এক এটেম্পট্ এই জমিটা পেয়ে গিয়েছিলে |
তারপর
যেই সেই ডেনজারাস্ বিরোধী নেত্রী
অনশনের পর হাসপাতালে ঢুকলো,
ওমনি দ্বিতীয় চান্স টা নিলে নন্দীগ্রামে!
নন্দীগ্রামে ব্যাড লাক্! সম্ভব হল না!
সেই ডেনজারাস্ বিরোধী নেত্রী
বেশ কয়েক দিন হাস্পাতালে আটকা ছিল!
ভেবেছিলে এই সুযোগে জমিটা নিয়ে নেওয়া যাবে!
তা হল না!
কি করে যে নন্দীগ্রামটা হাতছাড়া হয়ে গেল, টেরও পেলে না!
সারা দিন যদি টাটা-সালেমদের সঙ্গেই কাটাও,
তাহলে টের পাবে কি করে?
তার উপর ওই ডেনজারাস্ বিরোধী নেত্রী
নাকি দু এক দিনের মধ্যেই হাস্পাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছে!
মরেও না ছাই!
অগত্যা, দুষ্ট কবির মতে---
ঝামেলা শেষ করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ!
তাই, বলে দেওয়াই ভাল---
'সব আমাদেরই ভুল |
নন্দীগ্রামের জমি নেবার বিজ্ঞপ্তি ছিঁড়ে ফেলে দাও |'
**********১০/১/২০০৭,কলকাতা
গত কাল মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন যে তাঁদের ভুলের
জন্যই নন্দীগ্রামের এই অবস্থা | তিনি নাকি জিলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছেন সেই
জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিটা ছিঁড়ে ফেলতে | সব শেষে তিনি বলেছেন যে তিনি
নন্দীগ্রামে 'পলিটিকাল প্রসেস' শুরু করতে চলেছেন! সিঙ্গুরের জন্য তিনি কোনো
প্রকারের দুঃখ প্রকাশ করেন নি | দু এক দিনের মধ্যেই মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়
হাসপাতালে ছাড়া পাওয়ার কথা |
বড্ড দেরীতে, বড্ড অল্প!
অবশেষে রাজা বললেন ---
সব আমাদের ভুল |
নন্দীগ্রামের জমি নেবার বিজ্ঞপ্তি ছিঁড়ে ফেলে দাও |
যে হুকুমনামাকে 'গুজব' বলে এতদিন নিজেই প্রচার করে আসছিলেন!
সেটা যে মোটেই গুজব ছিল না তা স্বীকার করেই নিলেন |
তাঁর বিবেক কেন যে এতদিন ধরে
এত গভীর নিদ্রায় মগ্ন ছিল কে জানে?
কোন ঘুমের ঔষধে?
টাটা সালেমের ধনৌষধি?
না, ২৩৫ বনাম ৩০ এর দম্ভৌষধি?
নন্দীগ্রামে সাত সাতটা তাজা প্রাণের বলি সুসম্পন্ন হবার পর
রাজার আজ মনে হচ্ছে ---সব ভুল হয়েছে?
কিন্তু সিঙ্গুরের মানুষের উপর বর্বর আক্রমণ?
মহিলা-শিশু-বিরোধীদের মেরে ফাটকের পর সোজা হাস্পাতাল?
১৪৪ ধারার কুজ্ঝটিকা সৃষ্টি করে, কাউকে ঢুকতে না দিয়ে
গ্রামশুদ্ধ নিরিহ মানুষকে ঠেঙিয়ে জমি লুঠ?
অসহায় শিশু-নর-নারী-বৃদ্ধা-বৃদ্ধদের হাহাকার?
যুবতীর দগ্ধ শরীরের গন্ধে মত্ত রাজার শাসন যন্ত্রের আপ্রাণ চেষ্টা--
হত্যাকে আত্মহত্যা বা প্রণয়ঘটিত লজ্জাকর পরিনতি প্রমাণ করার?
সুবিচারের দাবীতে ২৫ দিনের অনশন শেষ করার পর দিনই
সিঙ্গুরের কুজ্ঝটিকা আরও কুড়ি দিন বাড়িয়ে দিয়ে
রাজনৈতিক ধোকাবাজীর নজীর সৃষ্টি করা?
এগুলোও কি ভুল নয়?
নাকি, জমিটা হাতিয়ে নেওয়া গেছে বলে সেটা ভুল হয় নি?
আর নন্দিগ্রামে পারলেন না বলে সেটাই ভুল?
আবার বললেন পলিটিক্যাল প্রসেস শুরু করবেন!
এই দুষ্ট কবির সেটাই কিন্তু সিঁদুরে মেঘের মত লাগছে!
এদিকে নন্দিগ্রামে নিয়ে এলেন পাঁশকুড়ার ওসি কে!
তবে কি আপনার পলিটিক্যাল প্রসেস পাঁশকুড়া লাইন ঘেঁষা হবে?
বললেন বটে!
বড্ড দেরীতে বললেন, বড্ড অল্প বললেন ||
**********১০/১/২০০৭,কলকাতা
গত কাল মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন যে তাঁদের
ভুলের জন্যই নন্দীগ্রামের এই অবস্থা | তিনি নাকি জিলা ম্যাজিস্ট্রেটকে
বলেছেন সেই জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিটা ছিঁড়ে ফেলতে | সব শেষে তিনি
বলেছেন যে তিনি নন্দীগ্রামে 'পলিটিকাল প্রসেস' শুরু করতে চলেছেন!
সিঙ্গুরের জন্য তিনি কোনো প্রকারের দুঃখ প্রকাশ করেন নি | দু এক দিনের
মধ্যেই মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে ছাড়া পাওয়ার কথা | কেন্দ্রীয়
গ্রামোন্নয়ণ মন্ত্রী নতুন জমি অধিগ্রহণের আইন তৈরি করার কথা আজ
ঘোষণা করেছেন | কাজেই সিঙ্গুর আন্দোলন কে কোনো মতেই বিফল বলা
চলে না |
তিন কন্যার গান
বাংলা মায়ের আজ দুর্দিনে ভরষা, তিনজন উদ্যমী কন্যা |
রাজনীতি-নাগপাশে জর্জর জনগণ, ভিটা মাটি হারা হতে চান না ||
প্রথমা মহাশ্বেতা-সার্থক নাম তাঁর, বাগদেবীর আশির্ব্বাদ ধন্যা |
আর্তজন, হরিজন, গিরিজন-পরিজন, সমাজের আলো যাঁরা পান না ||
চার কুড়ি ঊর্ধ জীবনের প্রতিপল, গাইছেন তাহাদেরই জয়গান |
জীবন সায়াহ্নের অবসর কাল ঠেলে, কৃষিজমি বাঁচাতে আগুয়ান ||
রবির সাধের দেশে পদাঘাত করে শেষে, ভূমি-গ্রাসীদের পোতা ভিত তো |
বাংলা মায়ের কোলে এখনো যে সোনা ফলে, বোঝালেন নির্ভয় চিত্ত ||
দ্বিতীয়া মেধা পাটেকর নামে ধন্যা, আজ শুধু নন মহারাষ্ট্রের কন্যা |
নর্মদা থেকে আজ বাংলায় এসে তিনি, জনমতে বিশ্ব বরেণ্যা ||
দিও না জীবন কেটে নিজের চাষের জমি, শিল্পের যাতাকলে তুলি |
শিল্প হোক, গাড়ী হোক, রুক্ষ মাটির পরে, চাষিদের যেন নাহি ভুলি ||
খালি হাতে গ্রামে এসে, অতি সাধারণ বেশে, দাঁড়ালেন চাষিদের মধ্যে |
তাহাতেই ভয়ে মরে, প্রশাসন ঘিরে ধরে, করে যাহা তাহাদের সাধ্যে ||
তৃতীয়া মমতা, আজ বাম-ডান-সমাগমে, অবিসংবাদী এক নেত্রী |
এক জন নির্ভিক, নিরলস, নিরাপোষ, অবিরত সংগ্রাম যাত্রী ||
সুখি গৃহকোণে যারা, 'শান্তিতে আছে' যারা, মূক ও বধীর জ্ঞানী গুণি |
তাহা বাদে সকলেই, মমতার পাশে আজ, ঘোচাইতে দেশের এই গ্লানি ||
অর্ধেক বাঙালীর মগজ ধোলাই সারা, বাকি অর্ধেক আজ কুশাসনে দিশাহারা |
চাষের জমি কেঁড়ে, প্রোমোটারী কারবারে, রাজ-স্বপ্নে দেখা গাড়ী-তলে চাপা পড়া ||
চেষ্টা প্রচুর মমতাঁর ইতি টানতে, তাঁকে কেন চায় লোকে সেই কথা জানতে |
হতভাগী বাংলার জমি লুঠ রুখতে, মমতাকে হৃতজনে নাহি পারে ভুলতে ||
ম দিয়ে নাম শুরু, ম দিয়ে মহানতা, ম এ মহাশ্বেতা, মেধা আর মমতা |
দুষ্ট কবি মিলনেও ম আছে দেখো তাই, তাঁহাদেরই বন্দনে আমার এ ধৃষ্টতা ||
**********১১/১/২০০৭,কলকাতা
গতকাল অনুরাধা তলোয়ারের নেতৃত্বে সিঙ্গুরে জন সভা হয় | ১৪৪ ধরার জন্য তাঁরা
গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন নি | মেধা পাটেকর যাতে সিঙ্গুরে না যেতে পারেন তাই
তাঁকে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাস থেকেই ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয় | তিনি
পুলিশের দেওয়া কোন খাবার গ্রহণ করেন নি | দু এক দিনের মধ্যেই মমতা
বন্ধ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে ছাড়া পাওয়ার কথা | নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢোকা শুরু হয়েছে
কিন্তু মানুষের আর প্রশাসনের উপর ভরসা নেই |
মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের ৯/১/২০০৭ এ বলেন যে তিনি নন্দীগ্রামে
'পলিটিকাল প্রসেস' শুরু করতে চলেছেন! সিঙ্গুরের জন্য তিনি কোনো প্রকারের দুঃখ
প্রকাশ করেন নি |
পলিটিকাল প্রসেস?
হে রাজন! তুমি বললে!
"ডি এম, তুমি জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি ছিঁড়ে ফেলে দাও |
আমরা পলিটিকাল প্রসেস শুরু করছি!"
তার পর থেকেই নন্দীগ্রাম নাকি স্বাভবিক হয়ে আসছে!
দ্বিতীয় শান্তি বৈঠক ভেস্তে গেল |
অন্যায়ভাবে আটক করে মিথ্যে মামলা দিয়েছিলে একজনের বিরুদ্ধে |
তাই জমি অধিগ্রহণ বিরোধীরা তাকে ছেড়ে দিতে বলেছিল |
তুমি দাও নি |
এটাই কি তোমার পলিটিকাল প্রসেস?
যে ক্যাম্পগুলি সরাবার কথা ছিল
তা এখনো সরাও নি |
ওখানে নাকি পুলিশ থাকবে!
সরকারী পুলিশ না পলিটিকাল পুলিশ?
অভিযোগ, তোমার পলিটিকাল পুলিশ নাকি আজকাল সরকারী পুলিশের
পোশাকেই একশানে নামে!
এটাই কি তোমার পলিটিকাল প্রসেস?
শান্তি মিছিলের নামে সশস্ত্র মানুষের মিছিল থেকে
অনেকেরই মুণ্ডু চেয়ে স্লোগান শুনতে পেলাম!
এটাই কি তোমার পলিটিকাল প্রসেস?
পরের বৈঠকটাও ভেস্তে গেল |
গ্রামের মানুষের কাটা রাস্তা সারাই করা ছাড়া
আর কোন কথাই তুলতে দিলে না!
রাস্তা ঠিক করে ফেললেই তোমার সব রকম পুলিশই
চট্ করে তোমার বিরোধীদের গ্রামে ঢুকে যেতে পারবে |
এটাই কি তোমার পলিটিকাল প্রসেস?
কয়েকদিন আগে তোমার একজন পলিটিকাল নেতা বলেছিলেন---
নন্দীগ্রামকে আমরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে
ওদের লাইফ হেল্ করে দেব |
প্রাচীন কালের অবরুদ্ধ দুর্গের মত!
সেই রাতেই সাতটা লাশ পরেছিল সেখানে!
এটাই কি তোমার পলিটিকাল প্রসেস?
সরকারী পুলিশকে নীরব দর্শক করে রেখে
পলিটিকাল পুলিশ দিয়ে বিরোধীদের নতজানু করাবে?
তাও যদি না মানে,
পুরো এলাকারই দখল নিয়ে নেবে?
এটাই কি তোমার পলিটিকাল প্রসেস?
একটি জাতীয়তাবাদী মুসলমান
সংঘটনকে এক কথায় তুমি বললে মৌলবাদী |
এখন দেখছি যে নানান অছিলায়
তাঁদের ভাঙিয়ে আনতে চাইছ!
ইতিহাস বলছে তাঁদের ভাঙিয়ে আনা সম্ভব হবে না |
এটাই কি তোমার পলিটিকাল প্রসেস?
দুষ্ট কবির মনে এই প্রশ্ন জাগে যে
তোমার ধাঁচের গণতন্ত্রে যখন
ভিন্ন মতের কোনো স্থান নেই,
তখন, হে রাজন!
ভারতবর্ষের ধাঁচের গণতন্ত্রে,
তোমার মত পলিটিকাল মৌলবাদীর
কি কোনো স্থান থাকা উচিত?
**********১২/১/২০০৭,কলকাতা
নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢোকা শুরু হয়েছে কিন্তু মানুষের এখন আর প্রশাসনের
উপর ভরসা নেই | এরই মধ্যে নন্দীগ্রামে 'জামিয়াত এ উলেমা এ হিন্দ' কে,
যাঁরা জমি বাঁচাও আন্দোলনের সক্রিয় শরিক, মৌলবাদী বলে আখ্যা দেন
মুখ্যমন্ত্রী | মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের ৯/১/২০০৭ এ
বলেন যে তিনি নন্দীগ্রামে 'পলিটিকাল প্রসেস' শুরু করতে চলেছেন! মেধা
পাটেকর যাতে সিঙ্গুরে না যেতে পারেন তাই ১০/১/২০০৭ এ তাঁকে ইস্টার্ন
মেট্রোপলিটান বাইপাস থেকেই ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয় | গতকাল
তিনি সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেছেন সিঙ্গুরের জন্য তিনি
কোনো প্রকারের দুঃখ প্রকাশ করেন নি |
রাজা, তুমি আজ পথভ্রষ্ট
সিংগুরে চোখ ফুটে,
নন্দীগ্রামে এসে ছুটে,
পুরোপুরি ডানা তার মেলছে |
মানুষের গণ-রোষ,
নাহি চায় খোরপোশ,
নাহি দেবে জমি তারা বলছে |
সাবধান সরকার!
জমি যার, থাক তার,
চাষ-বাস জমি তুমি ছোঁবে না |
শিল্পের নাম করে,
প্রোমোটারী কারবারে,
জমির দালালী তুমি খাবে না |
শিল্প গড়তে ভাই,
অর্থ চাই, জমি চাই,
এই কথা জানি মোরা সত্য |
টাকা নিতে - পায়ে তেল!
জমি নিতে - লাঠির খেল!
রাজা, তোমার এ কেমন তত্ব?
জনগণ বাংলার,
শাসনের দায় ভার
দিল, তাই রাজা হও কৃতজ্ঞ |
গৃহহারা কোথা রবে?
জীবিকার কি বা হবে?
কেন এই নরমেধ যজ্ঞ?
রঙিন চশমা চোখে,
কোন্ স্বপ্ন রাজা দ্যাখে?
প্রজা আজ আতঙ্কে ত্রস্ত!
দুষ্ট কবি বলে---
টান মেরে ফেলে দেবে |
রাজা, তুমি আজ পথভ্রষ্ট ||
**********১৩/১/২০০৭,কলকাতা
নন্দীগ্রামে গতকাল মেধা পাটেকর গিয়ে এক বিশাল জনসভা করে
এসেছেন | দেরিতে হলেও, জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে, কিছু বুদ্ধিজীবি
গতকাল কলেজ স্কোয়ার থেকে রাণী রাসমণি রোড পর্যন্ত এক পদযাত্রা
করেন | মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের ৯/১/২০০৭
তারিখে বলেন যে তিনি নন্দীগ্রামে 'পলিটিকাল প্রসেস' শুরু করতে
চলেছেন! তিনি বলেন নি যে নন্দীগ্রামে জমি নেওয়া হবে না | সিঙ্গুরের
জন্য এখনও তিনি কোনো প্রকারের দুঃখ প্রকাশ করেন নি |
বুদ্ধিজীবীরা, হেঁটে প্রতিবাদ করছেন
যখন লুঠছে চাষের জমি, শাসক নির্বোধ | বিরোধী পক্ষ যখন তাহার, করছিল প্রতিরোধ || জ্ঞানি-গুণি সব চুপ করে ছিল, নিন্দুকে বলে ভণ্ড | রাজার বিরাগ-ভাজন-নারাজ, নমনীয় মেরুদণ্ড || রাজার কণ্ঠে মিলায়ে কণ্ঠ, অনেকেই বলে যান | কৃষি করে আজ কোনো লাভ নেই, গাও শিল্পের গান || মহাশ্বেতা-মেধা-মমতা, বিদ্রুপে জর্জর | বিরোধীরা নাকি সব জ্ঞানহীন, অসভ্য বর্বর || একেই আকাশ চুম্বী দম্ভ, দুশো খুঁটির জোর | বুদ্ধিজীবীর মৌনতা দেখে, বেড়েছে রাজার ঘোর || জমি কাড়ার পন্থা দেখে, আগুনের আঁচ পান | বামপন্থী রাজার নাকি, এ কাজ বে-মানান || দেরীতে হলেও বুদ্ধিজীবীরা, হেঁটে প্রতিবাদ করছেন | কিছু দৃঢ়চেতা কণ্ঠ কিন্তু, বরাবর জোরে বলছেন ||
দুষ্ট কবির প্রশ্ন মনে -- বিবেক যাদের প্রাণ | সর্ব ঘটেই কেন আজ তাঁরা, খোঁজেন বাম ডান || মানদণ্ডে ভিন্ন কেন, বাম শাসকের স্থান | বুদ্ধিজীবীর কাছে নয় কি, মানুষই আজ প্রধান ||
**********১৩/১/২০০৭,কলকাতা নন্দীগ্রামে গতকাল মেধা পাটেকর গিয়ে এক বিশাল জনসভা করে এসেছেন | দেরিতে হলেও, জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে, কিছু বুদ্ধিজীবি গতকাল কলেজ স্কোয়ার থেকে রাণী রাসমণি রোড পর্যন্ত এক পদযাত্রা করেন | মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের ৯/১/২০০৭ তারিখে বলেন যে তিনি নন্দীগ্রামে 'পলিটিকাল প্রসেস' শুরু করতে চলেছেন! তিনি বলেন নি যে নন্দীগ্রামে জমি নেওয়া হবে না | সিঙ্গুরের জন্য এখনও তিনি কোনো প্রকারের দুঃখ প্রকাশ করেন নি |
|
হে রাষ্ট্রপতি, তুমিও?
হে মহামহিম, মনে পড়ে?
২৮শে ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখটা?
সেই রাতে,
তোমার সই-সীল-মোহোর যুক্ত
একটা চিঠি পাঠিয়েছিলে কলকাতায়!
তাতে লিখেছিলে তোমার গভীর উদ্বেগ,
ধর্মতলায় অনশনরত আন্দোলনকারীদের জীবনের প্রতি |
তাতে লিখেছিলে তোমার অনুরোধ,
অনশন তুলে নেবার জন্য |
তাতে লিখেছিলে তোমার আশ্বাসের কথা,
যে তাঁদের সব দাবী বিবেচনা করা হবে |
তোমার চিঠি পাওয়ার পরই,
তোমার ডাকে,
তোমার কথা বিশ্বাস করে,
গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, অহিংস আন্দোলনকারীরা
মুখে অন্ন তুলে নিয়ে
অনশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল |
তোমার চিঠির তারিখটা ছিল ২৮শে ডিসেম্বর ২০০৬ |
কিন্তু তার পরের দিনই আমরা কি দেখলাম?
সমাধান সূত্রের বদলে
রাজ্য প্রশাসন
সিঙ্গুরে ১৪৪-ধারা বাড়িয়ে দিল আরও ২০ দিন!
গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেবার কথা বাতিল করে দিল!
বিতর্কিত জমিটায় একের পর এক কাজ করেই চলেছে প্রশাসন!
তোমার চিঠিটার কি কোনো মূল্যই নেই তাদের কাছে?
তোমার কি কোনো মূল্য নেই তাদের কাছে?
এখন তো মনে হচ্ছে,
কেন্দ্র আর রাজ্য, দুই সরকারই
তোমার সেই চিঠির কথা---
একদম ভুলেই গেছে!
আমি দুষ্ট কবি মিলন
বুকে এক অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছি এই দেখে যে
ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতির দেওয়া কথা ভারতের মাটিতেই আজ উপেক্ষিত |
তাহলে জানতে ইচ্ছে হয় যে,
এখন আমার দেশে আমারই রাষ্ট্রপতির স্থান কোথায়?
এখন আমার দেশে আমারই রাষ্ট্রপতির মর্যাদা কী?
তুমি কি বুঝতে পারো নি যে
ওরা তোমার কথা এভাবে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবে?
তাহলে কি তোমাকে ওরা,
গরীব চাষিদের জমি বাঁচাবার আন্দোলনটাকে
ভেঙ্গে দেবার জন্য ব্যবহার করেছিল?
সময় দ্রুত বয়ে চলেছে |
তোমার কথার খেলাফ যাতে না হয়,
তার জন্য একটা কিছু কর, হে মহামহিম |
দেশের অসহায় মানুষ এখনও তোমাকে বিশ্বাস করে |
নাহলে, ওরা যে বলবে ---
হে রাষ্ট্রপতি, তুমিও !?
**********১৫/১/২০০৭,কলকাতা
২৮/১২/২০০৭ এ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পাবার পর সিঙ্গুরের জমি
আন্দোলনের নেতৃবর্গ অনশন তুলে নেন | পর দিনই রাজ্য সরকার
সমাধানের দিকে না এগিয়ে সিঙ্গুরে ১৪৪-ধারা বাড়িয়ে দেয় আরও ২০
দিনের জন্য এবং বলে যে আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে
নেবার কথা তারা এখন চিন্তাই করছেন না | তাঁদের প্রধান দাবীগুলির মধ্যে
এগুলোও ছিল |
এই কবিতাটি রাষ্ট্রপতির কাছে সেইদিনই পাঠানো হয়েছে |
ফিরিয়ে দাও গণতন্ত্র
আজ জ্বলছে আগুন!
হ্যাঁ আগুন!
তাপসী মালিকের গায়ে---
আজ জ্বলছে আগুন!
হ্যাঁ আগুন!
পুড়েছে আসমুদ্রহিমাচল বাঙ্গালীর মুখ---
আজ জ্বলছে আগুন!
হ্যাঁ আগুন!
সিঙ্গুরে পোতা ব্যাড়ার খাম্বায়---
আজ জ্বলছে আগুন!
হ্যাঁ আগুন!
মানুষের বুকের পাঁজরায়---
আজ জ্বলছে আগুন!
হ্যাঁ আগুন!
নন্দীগ্রামের কৃষকের ভিটায়---
আজ জ্বলছে আগুন!
হ্যাঁ আগুন!
সিঙ্গুরের উলঙ্গ শিশুদের প্রতিবাদে---
এ আগুন নিভবে না
সরকারী দমকলে---
এ আগুন নিভবে না
প্রহরারত রাজ-প্রহরীদের প্রহারে---
এ আগুন নিভবে না
তোমার শত কৌশলে, রাজন!
দুষ্ট কবি বলছে---
এ আগুন নিভবে
প্রজা-রোষের আগুনে,
তোমার দম্ভের পূর্ণাহুতির পর |
রাজা, তুমি নেমে এসো
ভ্রান্ত স্বপ্নের মসনদ থেকে |
ক্ষমা চেয়ে তাঁদের কাছে,
ফিরিয়ে দাও তাঁদের জীবন, জমি, ঘর |
সংবিধানের অঙ্গিকার করেছ যখন,
যাঁরা তোমাকে বিশ্বাস করে রাজা করেছিল---
ফিরিয়ে দাও তাঁদের আজ গণতন্ত্র ||
**********২৬/১/২০০৭,কলকাতা
সিঙ্গুরে ১৪৪-ধারা এখনও অব্যাহত | আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে
মামলা তুলে নেবার কথা আজকাল আর শোনা যায় না | টাটার জন্য জোর
করে অধিগৃহিত জমিতে ভূমিপূজা সারা হয়েছে | প্রতিবাদে সিঙ্গুরের মানুষ
জ্বালিয়েছে বেড়ার খাম্বা | বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করার আমন্ত্রণ,
সরকার জানাবে না বলেছে | সরস্বতী পূজার দিন সিঙ্গুরে শিশুরা উলঙ্গ হয়ে
প্রতিবাদ করেছে | সি-বি-আই, তাপসি মালিকের হত্যা রহস্য তদন্ত শুরু
করার পরই তাপসীর জ্যাঠামশায়ের রেলে কাটা পড়ার খবর আসে | সর্বত্র
ধিকি ধিকি আগুন জ্বলছে! আজ গণতন্ত্র দিবস!
দেখি, কে রুখবে মোদের জয়?
তোমারই তরে ছিলাম বসে প্রতিটি পল্ ধীরজ ধ'রে, তোমার দীর্ঘ সুস্থ জীবন হৃতজন সবে কামনা ক'রে |
ছাব্বিশ দিনের অনশন ফলে নিজের যে হেতু ক্ষতি সাধন, অনশন শেষে পেলে না কিছুই রাখেনি রাজা নিজের বচন |
নন্দীগ্রামে, বারইপুরে, সিঙ্গুর, ভাঙ্গর, হরিপুরে, যেখানেই কালো হাতের ছায়া সেখানেই মোরা যাচ্ছি লড়ে |
তুমি মাঠে নেই সেই সুযোগে বৈধতা দিতে ভূমিপূজা সারা, পরদিনই মোরা ভেঙ্গেছি সে বেদী দেখুক, সিঙ্গুরে মালিক কারা |
নন্দীগ্রামের নিডর মানুষ করিনি ত্রাসে নতি স্বীকার, তুড়িতে উড়িয়ে হুংকারে শোনা রাজাবাবুদের মনোবিকার |
দুষ্ট কবি মিলনের কথা --- জমি এক চুলও হয় নি ক্ষয়, আবার তোমাকে পেয়ে আজ মাঝে দেখি, কে রুখবে মোদের জয়?
**********৩০/১/২০০৭,কলকাতা গত কাল বিরোধী নেত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় কিছুটা সেরে উঠে প্রথম প্রেস কনফারেন্স করেছেন | এদিন সর্বদলীয় 'কৃষিজমি বাঁচাও কমিটির' মিটিং হয় তাতে কমিটির নতুন নাম 'পশ্চিমবঙ্গ কৃষিজমি বাঁচাও কমিটি' রাখা হয়েছে | ১০ দিনের মধ্যে সরকার কোন সদিচ্ছা ব্যক্ত না করলে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুমকি দিয়েছেন | তিনি অসুস্থতার পর ফিরে আসায় বিরোধীদের মনোবল আরও বেড়ে গেছে একথার কোন দ্বিমত নেই | দুদিন হল সিঙ্গুরে ১৪৪-ধারার পুনর্প্রয়োগ করা হয়নি | আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা এখনো ঝুলে আছে | ২৭ তারিখে সিপিএম দলের এক জনসভায় কমরেড বিনয় কোঙারের দেওয়া বক্তৃতায় নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি আরও গরম হয়ে উঠেছে |
|
হে নারী! বাঙ্গালী পুরুষকে খানিকটা পৌরুষ ধার দাও
হে বাঙ্গালী!
তোমার তুলনা হয়না!
তুমি না খেতে পেয়ে মরলে সরকার যখন বলে---
যে তুমি অনাহারে নয় অখাদ্য খেয়েই মরেছ!
তা শুনেই তোমার আত্মার মুক্তি হয়!
তোমার স্ত্রী, তোমার সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে
যখন হাস্পাতালের বেড না পেয়ে মাটিতে শুয়ে থাকে!
স্বাস্থ্ব্য মন্ত্রকের মহিলা আমলা তখন বলে---
মাত্র তো দু এক দিনের ব্যাপার! তেমন কোনো প্রবলেম তো হবার কথা নয়!
শুনে তোমার মন গভীর প্রশান্তিতে ভরে ওঠে!
হাস্পাতালে তোমাদের শিশুরা যখন মুরগীর মড়কের মত মরতে থাকে!
ডাক্তার মন্ত্রীর পরিসংখানে ব্যাপারটা নর্মাল---
শুনেই তুমি আশ্বস্ত হও!
প্রকাশ্য দিবালোকে মহিলার কাপড় টেনে ছিঁড়লেও,
যখন প্রশাসন বলেন---
এরকম তো কতই হয়!
তোমার বিক্ষুব্ ধ মন শান্ত হয়ে যায়!
শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবার অপরাধে
হাত কেটে নেওয়া মানুষের ছবি দেখেও---
'শান্তিতে থাকার' জন্য বিপুল বহুমতে তাদেরই ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনো!
শিল্পায়ণের নামে সিঙুরের আবালবৃদ্ধবনিতাকে নির্মম প্রহার করে
তাদের জমি জোর করে কেড়ে নেবার চলন্ত ছবি দেখেও---
সংস্কৃতিবাণ মূখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হও!
বিস্মিত এই দুষ্ট কবির প্রশ্ন---
যারা এই পোড়া দেশে প্রতিবাদ করতে পথে নেমেছে
তাঁদের মধ্যে এত নারী কেন?
মহাশ্বেতা, মমতা, মেধা, অনুরাধা, শাঁওলি .....
রাজ-কল্কের দমে বুঁদ সেই সংস্কৃতির ধামাধরা পুরুষরা কোথায়?
ওহো! তাঁরা তো সব সংস্কৃতিতে মশগুল!
তাঁদেরও গর্জে উঠতে দেখা যায়---
বিদেশে বা কোনো দূর প্রান্তে যখন অন্যায় করা হয়!
কিন্তু, এখন তাঁরা ব্যস্ত মেলার মেলায় ---
অগত্য নারীদেরই এগিয়ে এসে সবার লাজ রক্ষা করতে হচ্ছে!
জানিনা এত পৌরুষ এই নারীরা পেলেন কোথায়?
হে নারী!
এই ক্লীব, মানবেতর, বাঙ্গালী পুরুষকে খানিকটা পৌরুষ ধার দাও!
**********৩০/১/২০০৭,কলকাতা
বিদ্রোহ আবৃত্তি শুনুন
আমি বিদ্রোহ, ফিরেছি আবার এই বংলার বুকে,
আমি বিদ্রোহ, ঘুম ভাঙ্গা ডাক, নিদ্রিত বাঙ্গালীকে |
আমি বিদ্রোহ, এসেছি আবার বাংলাকে নাড়া দিতে
আপাত-শান্তি-স্বপন ভেঙ্গে সত্যের দোরে নিতে |
আমি বিদ্রোহ তার মনে, যার সন্ত্রাসে দিন কাটে,
এই বুঝি কারা কেড়ে নেবে এসে জীবন-জমি-ভিটে |
আমি বিদ্রোহ, শোষকের চষা পাকা ধানে মই চালি,
অপরের কেড়ে আখের-গোছানো-গরম-ভাতের বালি |
আমি বিদ্রোহ, স্মরণ করাই পশু-পাখী-কীট নও,
এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রজাতি, আরও সংযত হও |
আমি বিদ্রোহ, দর্পণ তার, বিদ্রোহী ছিল যারা,
বিস্মৃত সবই, শাসকের বেশে শোষণে ব্যস্ত তারা |
আমি বিদ্রোহ, পদাঘাতে করি সবার দর্পচূর্ণ,
পরিসংখানে রাঙা চশমার স্বপ্ন করি বিদীর্ণ |
আমি বিদ্রোহ, সিঙ্গুরে তাপসী, সেলীম নন্দীগ্রামের,
আগ্রাসী হাত থামিয়ে দিতে, বলি দিতে পারি প্রাণের |
আমি বিদ্রোহ, কবিদের বলি প্রতিবাদ করে চল,
হেঁয়ালী-কথার আড়াল ছেড়ে, সোজাসুজি কথা বল |
আমি বিদ্রোহ, বলি জ্ঞানী তুমি সমাজে বিবেক-বিভু ,
রাজার প্রসাদে চোক্ষু মুদিলে কাল কি ক্ষমিবে কভু?
আমি বিদ্রোহ, করি বাধ্য রাজাকে মানতে প্রজার দাবী,
আমি ছন্দহীনেরে কবি করে ছাড়ি, যেমন এ দুষ্ট কবি |
আমি বিদ্রোহ, আসবো আবার যবে তুমি হবে ভ্রষ্ট,
আমি বিদ্রোহ, তোমারে সুমতি ফিরিয়েই হব তুষ্ট ||
*********************১/২/২০০৭,কলকাতা
থ্যাঙ্ক য়ু বইমেলা, থ্যাঙ্ক য়ু সিঙ্গুর
|
আমি কবি দুষ্ট
বই পড়ে তুষ্ট!
শুধু চাই জানতে---
বইমেলা হবে কি?
ময়দানে ছিল ভাল
এত কালে সাবেকী!
আর কোথা যদি হয়
হু হু মন করবেই,
কত স্মৃতি, কত কথা,
মনে ঠিক পড়বেই |
ক'রে মন শান্ত
হবে কাজ করতে |
হাই কোর্টের রায়
হবে সবে মানতে |
এই কথা, বইমেলা,
তোমারই তো শিক্ষা |
সেটাই তো প্রকৃত
জ্ঞানের পরীক্ষা |
আরো পথ বিচারের,
যদি খুশি নহি রায়ে |
সুপ্রীম কোর্টে চল
সুবিচারের আশায় |
পরিশেষে বলি শোনো
একদল জ্ঞানী গুণি---
হাইকোর্টের রায়ে
'ময়দানে নয়' শুনি,
ক্ষোভে ফেটে বলে দিল
রায় অ-মানবিক |
বিচারক 'মূর্খ'! নাই
পরিবেশ জ্ঞান ঠিক |
এই বিজ্ঞের দল
স্বনামধন্য যারা ;
রাজার বিরূদ্ধে রায়,
তাই শোকে দিশাহারা!
শুনি নাই ট্যাঁ ফুঁ
এই সব মানুষের |
সিংগুরে রাজা যবে
লুঠছিল চাষিদের |
থ্যাঙ্ক য়ু বইমেলা
থ্যাঙ্ক য়ু সিঙ্গুর |
সংস্কৃতিবানদের
মুখোশটা ভেঙে চূর ||
****************
২/২/২০০৭,কলকাতা
বইমেলা! বইমেলা!
তুমি বাঙ্গালীর মান!
বাঙ্গালী যে বই পড়ি
তুমি তারই পরমান |
পপ্- ড়্যাপ্ কালচারে
দেশ যবে ডুবছে,
কমপিউটর টিভি
হাতছানি ডাকছে,
সেই ক্ষণে বাংগালী
বই ভালবাসছে |
'ময়দানে' বইমেলা
এই ভালবাসা পিছে,
কেহ কভু বলবে না
সেই কথা ডাহা মিছে |
আজ তাই মন ভার
এর, তার, সব্বার,
হাইকোর্ট বলে দিছে
'ময়দানে' নয় আর |
মন ভার! তাই বলে
'আর নয়' যে কারণ,
বহু ব'লে কমেনি তো
পরিবেশ প্রদূষণ |
হলফনামায় ছিল
গতবারই শেষ হোথা |
সরকার বলেছিল
এই বার অন্য কোথা |
সেই কথা নাহি রেখে
এবারেও ময়দান!
হতবাক হাইকোর্ট,
তাই এই রায় দান |
মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে এবার থেকে 'কলকাতা পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ড'
পরিচালিত 'কলকাতা বইমেলা' আর ময়দান বা গড়ের মাঠে করা যাবে না | গত বছরই এক
হলফনামায় পশ্চিম বঙ্গ সরকার মহামান্য হাইকোর্টকে জানান যে আর ময়দানে বইমেলা করা হবে
না | প্রশ্ন ওঠে, এ বছর আগে থাকতে অন্য কোন স্থানে করার উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়নি |
২৯/১/২০০৭ তারিখে রায় বেরোবার পর বেশ কিছু বুদ্ধিজীবী ক্ষোভে ফেটে পড়েন | সিঙ্গুরের
বেলায় কিন্তু এই সব বিদগ্ধজন দের সামান্য দুঃখ প্রকাশ করতেও দেখা যায় নি |
শেষে ঠিক হয় যে এবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে |
বাংলা তুমি জ্বলছো আবৃত্তি শনুন
বাংলা তোমার হৃদয়ে আজকে লেগেছে আগুন |
জ্বলছে সিঙ্গুর, জ্বলছে ভাঙ্গর, জ্বলছে নন্দীগ্রাম |
জ্বলছো বাংলা, দাউ দাউ করে
দাবানল ছোটে মেঠো পথ ধরে
বাংলা তোমার গ্রামে গ্রামে আজ জ্বলছে আগুন |
রাজার পেয়াদা-পাইক-প্রশাসন
জ্বলন্ত গ্রামে ঢুকতে বারণ
সড়ক, রাস্তা জনপথ কাটা
যেতে চাও সেথা? শুধু পথ হাঁটা |
বাংলা তোমার বুকের মধ্যে জ্বলছে আগুন |
আমি পলাশের কথা বলছি না
আমি শিমুলের গান গাইছি না
আমি ভেতো বাঙ্গালীর বুকের আগুনে বিস্ময় বে-জবান!
মৃদু ভাষী চির কোমল প্রকৃতি
আবেগ বিলাসে মেতে থাকে চিতি
সেই বাংলার রুদ্র মুরত এ স্তম্ভিত ত্রিভূবন!
বাংলা, তোমার মনের গহনে জ্বলছে আগুন |
কেড়ে নেওয়া জমি-বেড়া ধরে নেড়ে
উপড়িয়ে ফেলে আগুনে পুড়িয়ে
বাংলা, তুমি ছিনিয়ে নিয়েছ বুদ্ধ-রাজার ঘুম |
বাংলা নামক জতুগৃহ ভরা
মিছে-শান্তির ঘুমে ছিল যারা
অগ্নিকন্যা আগুন ঝরিয়ে হানলো নিদারুন |
দুষ্ট কবির লেখনি এ আঁচে শোধিত শত গুন |
বাংলা তুমি জ্বলছো, তোমার আত্মায় কী আগুন?
****************
৫/২/২০০৭,কলকাতা
কবিতাটি দিল্লীর জাকিরহুসেন কলেজের বাংলা বিভাগের পত্রিকার ২০০৭
সালের সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে |
গত কাল ৪/২/২০০৭ নন্দীগ্রামে কলেজ প্রাঙ্গণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর দীর্ঘ
অসুস্থতার পর প্রথম জনসভা করেন | স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মানুষ আসার ফলে
সেই প্রাঙ্গণে আর তীলধারণের যায়গা ছিল না | সেখানকার আন্দোলন ধীরে ধীরে
খেজুরিতেও ছড়িয়ে পড়েছে | দীর্ঘকালের সিপিএম এর সমর্থক ও দলীয় কর্মিরা
জমি বাঁচাও আন্দোলনে সামিল হয়েছেন |
অন্য দিকে সিঙ্গুরে অনুরাধা তলওয়ার ও বেচারাম মান্নার নেতৃত্বে গ্রামের মানুষ
টাটার জন্য অধিগৃহিত জমির বেড়ার পাশে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে
পুলিশি হেনস্থার জন্য বিক্ষুব্ ধ হয়ে বেড়া ভেঙে দেন | আরও অনেকের সাথে
অনুরাধা তলওয়ার গ্রেফতার হন | তাঁকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়া
হয় | বেচারাম মান্না গুরুতর আহত হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয় |
দেখে যাও রাজা আবৃত্তি শুনুন
দেখে যাও তুমি রাজা, পারিষদ শুদ্ধ, দেখে যাও মানুষের টিকে থাকা যুদ্ধ | দেখে যাও কারা সব তোমাকেই হেসে হেসে, বারবার দিয়েছিল রাজপাট ভালবেসে | দেখে যাও কোন কোন জোতদার(?) জমিদার(?), রোখে তব স্বপনের শিল্পের কারবার | প্রান্তিক-ভূমিহীন চাষা ভূষা বর্গা, কোন মনে বলো - যা শূলে তোরা চড় গা | জমি-জান-সম্মান, দীনহীনে আছে কি? আমীরের পৌষমাস, প্রজাদের ভেলকি | দেখে যাও রাজা তুমি, তোমারই এ রাজ্যে, নারী-শিশু পথে, কেন রণসাজে সাজছে? দেখে যাও রাজা তুমি কোন দেশ গড়ছো, দেখে যাও ছা-পোষার কি হাল করে ছাড়ছো | একশো চুয়াল্লিশে ধারা দিয়ে ভাবলে! জনরোষ-আগ্ তুমি ছাই দিয়ে ঢাকলে | দেখ তব হুকুমেতে কারা অবরুদ্ধ, দেখে যাও তুমি রাজা, দেখ জন যুদ্ধ | সভা-কবি-কুল ঘেরা মিঠে মিঠে ছন্দ বলে দুষ্ট কবি, রাজা তুমি আজ অন্ধ!
**************** ৬/২/২০০৭,কলকাতা গতকাল সিঙ্গুরে ১৪৪ ধারা আবার বলবত্ করা হয় | বিরোধীরা তা অমান্য করে সারাদিন সিঙ্গুরে বিরোধ-প্রতিরোধ চালায় | পুলিশের একটি ট্রাক জ্বালিয়ে দেওয়া হয় | কার্যত, গতকাল সিঙ্গুর রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিল | ১৪৪ধারা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারী মাঝরাত পর্যন্ত | তার পরদিনই মূখ্যমন্ত্রীর জনসভা করার কথা সিঙ্গুরে! এর মধ্যেই সিঙ্গুরে পৃথকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর সভা হবে বলে বলা হয়েছে |
|