কবি অমিতাভ গুপ্তর কবিতা
জীবন যেন শতসহস্র কালোমুক্তায় গাঁথা রত্নহার যাকে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
১
জীবন যেন শতসহস্র কালোমুক্তায় গাঁথা রত্নহার যাকে
বাক্প্রতিমার মতন ঘিরে রয়েছে কয়েকটি নক্ষত্রের মতো শ্বেতপ্রবাল
জানি না কেন হঠাৎ মনে হল
ব্রিস্টলের এই রাত
প্রবালদ্যুতির শ্বেতআভায় উঠেছে ঝলসে
হয়েছে গাঁথা এই জীবনের মুক্তাহারে
অনেক দূরে সমুদ্র আর একটু দূরে তরঙ্গিত
কুলহারানো চর
যেহেতু পুরাণগ্রন্থ পাঠ করি, শাস্ত্র নয়
প্রজ্ঞাপুঁথি বলে
বিশ শতকের কোনো কোসাম্বি বা গিরীন্দ্রশেখর এসে
নিশ্চয় জানিয়ে দেবেন
প্রত্নকথায় কত ইতিহাস কত যে ঐতিহ্যকল্প লুকিয়ে রয়েছে
উত্তরবর্ষের অনাগত অতীতের মতন সুঠাম ও ধবল
হিমশৈল কিছুটা কটাক্ষ করল একালে ভবিষ্যৎবক্তার দিকে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
১
জীবন যেন শতসহস্র কালোমুক্তায় গাঁথা রত্নহার যাকে
বাক্প্রতিমার মতন ঘিরে রয়েছে কয়েকটি নক্ষত্রের মতো শ্বেতপ্রবাল
জানি না কেন হঠাৎ মনে হল
ব্রিস্টলের এই রাত
প্রবালদ্যুতির শ্বেতআভায় উঠেছে ঝলসে
হয়েছে গাঁথা এই জীবনের মুক্তাহারে
অনেক দূরে সমুদ্র আর একটু দূরে তরঙ্গিত
কুলহারানো চর
যেহেতু পুরাণগ্রন্থ পাঠ করি, শাস্ত্র নয়
প্রজ্ঞাপুঁথি বলে
বিশ শতকের কোনো কোসাম্বি বা গিরীন্দ্রশেখর এসে
নিশ্চয় জানিয়ে দেবেন
প্রত্নকথায় কত ইতিহাস কত যে ঐতিহ্যকল্প লুকিয়ে রয়েছে
উত্তরবর্ষের অনাগত অতীতের মতন সুঠাম ও ধবল
হিমশৈল কিছুটা কটাক্ষ করল একালে ভবিষ্যৎবক্তার দিকে
প্রজ্ঞাচক্ষুর মতন সেদিন উন্মিলিত হয়েছিল সকালবেলার সূর্য
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
প্রজ্ঞাচক্ষুর মতন সেদিন উন্মিলিত হয়েছিল সকালবেলার সূর্য
পাশাপাশি ভেসে চলেছে আরেকটি
জাহাজ সূর্যালোকের মতন দীপ্ত
ফ্রান্সের জাহাজ, শেষ হয়েছে ফরাসি বিপ্লব
পতন হয়েছে অন্ধকারে বাস্তিলের
এরপরে কী হবে আমি জানি না, জানার সাধ্যে
নেই শুধু ডাক্তারের নিষেধ না শুনে
ভাঙা পা নিয়ে এসে দাঁড়ালাম আমার
জাহাজের ডেকে তাকিয়ে রইলাম
যতক্ষণ দেখা যায় মুক্তির আভায়
ঝলসে ওঠা ওই ফরাসি বিদ্রোহ
আর কেউ নেই শুধু নারদের বীণার দুপাশে
কয়েকটি অগ্নিস্নাত রাগ ও রাগিনী যেন এষণার মতো জেগে আছে।
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
প্রজ্ঞাচক্ষুর মতন সেদিন উন্মিলিত হয়েছিল সকালবেলার সূর্য
পাশাপাশি ভেসে চলেছে আরেকটি
জাহাজ সূর্যালোকের মতন দীপ্ত
ফ্রান্সের জাহাজ, শেষ হয়েছে ফরাসি বিপ্লব
পতন হয়েছে অন্ধকারে বাস্তিলের
এরপরে কী হবে আমি জানি না, জানার সাধ্যে
নেই শুধু ডাক্তারের নিষেধ না শুনে
ভাঙা পা নিয়ে এসে দাঁড়ালাম আমার
জাহাজের ডেকে তাকিয়ে রইলাম
যতক্ষণ দেখা যায় মুক্তির আভায়
ঝলসে ওঠা ওই ফরাসি বিদ্রোহ
আর কেউ নেই শুধু নারদের বীণার দুপাশে
কয়েকটি অগ্নিস্নাত রাগ ও রাগিনী যেন এষণার মতো জেগে আছে।
ভোরের আলোয় দুটি ডানা মেলে সিন্ধুভৈরবী
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
ভোরের আলোয় দুটি ডানা মেলে সিন্ধুভৈরবী
প্রবাহিত হয়ে যায় হয়তো ভোরের পাখি বিষাদে
মানুষ হয়ে ওঠা মানুষের জন্যেও এমন
গানের সংরাগ আজ। আমি কি রাখিনি সেই গান লিখে
আমি কি শিখিনি এই সুর
কালী মির্জার কাছে। মনে পড়ে একদিন নাটমন্দিরে
এই গান বেজে উঠবে কয়েকটি তরুণ কণ্ঠে। কে তারা জানি না
হয়তো রবীন্দ্রনাথ হয়তো নরেন দত্ত লালনের নতুন যৌবন
অজস্র উজ্জ্বল ভোর বাংলায় গড়বে সঙ্গীত
দয়ার মতন মুক্ত, উলুধ্বনির মতো প্রসারিত বিবাহবাসরে
তৃণবিন্দুর অভিশাপ তবু পারিজাতস্পর্শে ইন্দুমতী দেবজন্ম ফিরে পেয়েছিল
তবুও যৌবন দিয়ে অজস্র জীবন দিয়ে এই প্রেম পুনর্জাত হয়
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
ভোরের আলোয় দুটি ডানা মেলে সিন্ধুভৈরবী
প্রবাহিত হয়ে যায় হয়তো ভোরের পাখি বিষাদে
মানুষ হয়ে ওঠা মানুষের জন্যেও এমন
গানের সংরাগ আজ। আমি কি রাখিনি সেই গান লিখে
আমি কি শিখিনি এই সুর
কালী মির্জার কাছে। মনে পড়ে একদিন নাটমন্দিরে
এই গান বেজে উঠবে কয়েকটি তরুণ কণ্ঠে। কে তারা জানি না
হয়তো রবীন্দ্রনাথ হয়তো নরেন দত্ত লালনের নতুন যৌবন
অজস্র উজ্জ্বল ভোর বাংলায় গড়বে সঙ্গীত
দয়ার মতন মুক্ত, উলুধ্বনির মতো প্রসারিত বিবাহবাসরে
তৃণবিন্দুর অভিশাপ তবু পারিজাতস্পর্শে ইন্দুমতী দেবজন্ম ফিরে পেয়েছিল
তবুও যৌবন দিয়ে অজস্র জীবন দিয়ে এই প্রেম পুনর্জাত হয়
যে গান লিখেছি, যতটুকু গান
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
যে গান লিখেছি, যতটুকু গান
সারাজীবনের
তার চেয়ে ঢের বেশি
না-গাওয়া গানের রাগ ও রাগিনী অকথিত আঁধারের অনুসারে
তানপুরাটির সঙ্গে জড়িয়ে যদি আজ রেখে যাই,
আজ মনে হয় কখনো বিভাসে কখনো বেহাগে
পূরবীর কয়েকটি বিস্তারে
কখনো রাতের দ্বিতীয় প্রহরে কখনো নিবিড় ভোর
শুধু আবাহন করেছি চরম মন্ত্রের সাথে মিশিয়ে
দেবে বলে এই ভাষাকে, আমার ভাষার স্পন্দনে
দীর্ঘ, অতিদীর্ঘ কোনো না-লেখা চিঠির
মর্মার্থ গোপন করে স্মার্ত রঘুনন্দনের মতন
গঙ্গাজল গঙ্গায় ভেসেছে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
যে গান লিখেছি, যতটুকু গান
সারাজীবনের
তার চেয়ে ঢের বেশি
না-গাওয়া গানের রাগ ও রাগিনী অকথিত আঁধারের অনুসারে
তানপুরাটির সঙ্গে জড়িয়ে যদি আজ রেখে যাই,
আজ মনে হয় কখনো বিভাসে কখনো বেহাগে
পূরবীর কয়েকটি বিস্তারে
কখনো রাতের দ্বিতীয় প্রহরে কখনো নিবিড় ভোর
শুধু আবাহন করেছি চরম মন্ত্রের সাথে মিশিয়ে
দেবে বলে এই ভাষাকে, আমার ভাষার স্পন্দনে
দীর্ঘ, অতিদীর্ঘ কোনো না-লেখা চিঠির
মর্মার্থ গোপন করে স্মার্ত রঘুনন্দনের মতন
গঙ্গাজল গঙ্গায় ভেসেছে
কতদিন আগে যেন কার জন্ম হয়েছিল, কোনো এক অজাত জাতক
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
কতদিন আগে যেন কার জন্ম হয়েছিল, কোনো এক অজাত জাতক
একষট্টি বছর আগে অথবা সে এখনো রয়েছে
অজ্ঞাত ভ্রূণের মতো মৃত্তিকাদ্যুলোকের আগ্রহে উদ্বেগে
দেবমানবের বন্দনায়
সে হয়তো আমি নই, আজ এই ১৮৩৩ সন, সেপ্টেম্বর ২৭ তারিখ
আজ সকালের মতো সেই সব ছোটোবেলা মনে পড়ছে,
শিশির ভেজানো পায়ে রাধানগরের পাঠশালা
বাংলা বিদ্যা, তারপর আরবি ফারসি, তারপর বেনারসে সংস্কৃতপাঠ
তখন বয়স ষোলো, তিব্বতে গিয়ে মৃদু পালিভাষা ঈষৎ তিব্বতি
স্বীকার করতে দ্বিধা হয় তবু বুড়োবয়েসেও
শিখছি জার্মান ল্যাটিন ও গ্রিক
ঊর্দুও শিখেছি
আমাকে নির্বোধ বলো ক্ষতি নেই, আমি শুধু জানি
পরমসত্য সব ভাষায়ই জন্ম নেয়
কোন ব্রহ্মসূত্রে কাঁপে কোন কাব্যবীজ জানে না অর্জুন
আমৃত্যু পরিত্যক্ত কর্ণও জানে না। শুধু একলব্য জানে
ব্রাহ্মণের উপবীত ভিক্ষা করে মাতঙ্গঋষিরা
যুগান্ত ফুরিয়ে যায়, ফুরোয় না মাতঙ্গের অধৈর্যযাচনা
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
কতদিন আগে যেন কার জন্ম হয়েছিল, কোনো এক অজাত জাতক
একষট্টি বছর আগে অথবা সে এখনো রয়েছে
অজ্ঞাত ভ্রূণের মতো মৃত্তিকাদ্যুলোকের আগ্রহে উদ্বেগে
দেবমানবের বন্দনায়
সে হয়তো আমি নই, আজ এই ১৮৩৩ সন, সেপ্টেম্বর ২৭ তারিখ
আজ সকালের মতো সেই সব ছোটোবেলা মনে পড়ছে,
শিশির ভেজানো পায়ে রাধানগরের পাঠশালা
বাংলা বিদ্যা, তারপর আরবি ফারসি, তারপর বেনারসে সংস্কৃতপাঠ
তখন বয়স ষোলো, তিব্বতে গিয়ে মৃদু পালিভাষা ঈষৎ তিব্বতি
স্বীকার করতে দ্বিধা হয় তবু বুড়োবয়েসেও
শিখছি জার্মান ল্যাটিন ও গ্রিক
ঊর্দুও শিখেছি
আমাকে নির্বোধ বলো ক্ষতি নেই, আমি শুধু জানি
পরমসত্য সব ভাষায়ই জন্ম নেয়
কোন ব্রহ্মসূত্রে কাঁপে কোন কাব্যবীজ জানে না অর্জুন
আমৃত্যু পরিত্যক্ত কর্ণও জানে না। শুধু একলব্য জানে
ব্রাহ্মণের উপবীত ভিক্ষা করে মাতঙ্গঋষিরা
যুগান্ত ফুরিয়ে যায়, ফুরোয় না মাতঙ্গের অধৈর্যযাচনা
ব্রিস্টলের ছোট্ট বাড়ির কাচের জানালায় চোখ রেখে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
ব্রিস্টলের ছোট্ট বাড়ির কাচের জানালায় চোখ রেখে
মনে পড়ছে তিব্বতের
কোলাহলমুখর দিনরাতের কথা
শুনেছি প্রথম যৌবনে আমার দীর্ঘ দৃঢ় দেহ
উন্নত নাসা আর প্রশস্ত কপাল এবং ঋজু কণ্ঠস্বর
সম্ভ্রম আদায় করত সকলেরই
বৌদ্ধ লামাদের আচারনিষ্ঠায় অতিষ্ঠ আমি যখন তর্ক শুরু করতাম,
একেকটি গুম্ফা থেকে প্রেতছায়ার মতো
ক্লীব সন্ন্যাসীরা তখন জড়ো হত একে একে
কিছুদিন পরে কোনো নবীনচন্দ্র সেন হয়তো জন্ম নিয়েছেন
তিনি কবি, তাই সম্ভব হয়েছিল সব অলৌকিক সূত্র থেকে ছিন্ন করে
তথাগত গৌতমের সম্যক বুদ্ধের স্বরূপটি উন্মোচন করে
নিজেকেই উন্মোচিত করা
অধ্যক্ষ স্বভাবত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমাকে বহিষ্কারের
হিন্দু সমাজ তাড়িয়ে ছিল আমাকে
খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার কথা কখনো ভাবিনি যে কথা
কয়েকদশক পরে হয়তো ভাববে কোনো বিদ্রোহী কবি
ইসলামধর্মেরও হদিশ নিয়েছিল
তখন আমার কাছে জল স্থল অন্তরীক্ষে বেজে উঠেছিল
শুধু এক অন্তহীন,
ধর্ম যাকে ধারণ করে না
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
ব্রিস্টলের ছোট্ট বাড়ির কাচের জানালায় চোখ রেখে
মনে পড়ছে তিব্বতের
কোলাহলমুখর দিনরাতের কথা
শুনেছি প্রথম যৌবনে আমার দীর্ঘ দৃঢ় দেহ
উন্নত নাসা আর প্রশস্ত কপাল এবং ঋজু কণ্ঠস্বর
সম্ভ্রম আদায় করত সকলেরই
বৌদ্ধ লামাদের আচারনিষ্ঠায় অতিষ্ঠ আমি যখন তর্ক শুরু করতাম,
একেকটি গুম্ফা থেকে প্রেতছায়ার মতো
ক্লীব সন্ন্যাসীরা তখন জড়ো হত একে একে
কিছুদিন পরে কোনো নবীনচন্দ্র সেন হয়তো জন্ম নিয়েছেন
তিনি কবি, তাই সম্ভব হয়েছিল সব অলৌকিক সূত্র থেকে ছিন্ন করে
তথাগত গৌতমের সম্যক বুদ্ধের স্বরূপটি উন্মোচন করে
নিজেকেই উন্মোচিত করা
অধ্যক্ষ স্বভাবত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমাকে বহিষ্কারের
হিন্দু সমাজ তাড়িয়ে ছিল আমাকে
খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার কথা কখনো ভাবিনি যে কথা
কয়েকদশক পরে হয়তো ভাববে কোনো বিদ্রোহী কবি
ইসলামধর্মেরও হদিশ নিয়েছিল
তখন আমার কাছে জল স্থল অন্তরীক্ষে বেজে উঠেছিল
শুধু এক অন্তহীন,
ধর্ম যাকে ধারণ করে না
আমার বাংলার আজ আকাশের নীলে আর সাদা ছেঁড়া ছিন্ন মেঘে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আমার বাংলার আজ আকাশের নীলে আর সাদা ছেঁড়া ছিন্ন মেঘে
অজস্র আশ্বিন যদি শিউলিফুলের মতো ফুটে ওঠে, কে
কখন জানবে কীভাবে কেন বা এই ইংল্যান্ডের গ্রাম্য কুসুম
সূর্যমুখীর মতো ফুটে আছে হেলেনিয়ামের
গুচ্ছ আর ফুটেছে এস্থার, বিন্দু বিন্দু
লিলি ফুটে আছে,
সিজাম স্টেইন
বার্চ ও হেজেল আর পাইনের সারির আড়াল থেকে
উঁকি দেয় হুগলি জেলার ছোটোবেলার চেনা গ্রাম
পাইন ইংলিশ ওক আপেল ও একটি দুটি চেরি অরচার্ড
পিটার লু কতদূরে, রাজসৈনিকের আর ফিউডাল লর্ডের অস্ত্রাঘাতে
ক্ষত ও বিক্ষত মৃত কৃষকেরা বছর পনেরো দূরে, সেই
অকালপ্রয়াত কবি কিটস তাঁর ওড টু অটামে
সর্বস্বহারানো শেষ বিষাদের কথা লিখেছেন
কোকা হায়াসিন্থ স্টক মেরিগোল্ড আর ড্যাফোডিল
টগরফুলের মতো আকন্দফুলের মতো আর জবা আর নাগকেশরের
রূপ ও সুঘ্রাণ নিয়ে আমাকে সাজিয়ে দিয়েছিল
রবিনের মৃদু শিস ঠুংরির তালের মতো
ডাক শুনি নাইটিঙ্গেলের
কয়েকটি ধূসর হাঁস উড়ে গেল, পেঁচার ডাকের সঙ্গে ভেসে এল
ছোট ছোটো হামিংবার্ড, ওয়্যাক্সউইং
এই সেই পরিপূর্ণ বসুন্ধরা যেখানে ঘুমিয়ে পড়ি,
রাধানগর গ্রাম আর ব্রিস্টল
অখণ্ডিত ভূমি শুধু জেগে থাকে আমার শিয়রে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আমার বাংলার আজ আকাশের নীলে আর সাদা ছেঁড়া ছিন্ন মেঘে
অজস্র আশ্বিন যদি শিউলিফুলের মতো ফুটে ওঠে, কে
কখন জানবে কীভাবে কেন বা এই ইংল্যান্ডের গ্রাম্য কুসুম
সূর্যমুখীর মতো ফুটে আছে হেলেনিয়ামের
গুচ্ছ আর ফুটেছে এস্থার, বিন্দু বিন্দু
লিলি ফুটে আছে,
সিজাম স্টেইন
বার্চ ও হেজেল আর পাইনের সারির আড়াল থেকে
উঁকি দেয় হুগলি জেলার ছোটোবেলার চেনা গ্রাম
পাইন ইংলিশ ওক আপেল ও একটি দুটি চেরি অরচার্ড
পিটার লু কতদূরে, রাজসৈনিকের আর ফিউডাল লর্ডের অস্ত্রাঘাতে
ক্ষত ও বিক্ষত মৃত কৃষকেরা বছর পনেরো দূরে, সেই
অকালপ্রয়াত কবি কিটস তাঁর ওড টু অটামে
সর্বস্বহারানো শেষ বিষাদের কথা লিখেছেন
কোকা হায়াসিন্থ স্টক মেরিগোল্ড আর ড্যাফোডিল
টগরফুলের মতো আকন্দফুলের মতো আর জবা আর নাগকেশরের
রূপ ও সুঘ্রাণ নিয়ে আমাকে সাজিয়ে দিয়েছিল
রবিনের মৃদু শিস ঠুংরির তালের মতো
ডাক শুনি নাইটিঙ্গেলের
কয়েকটি ধূসর হাঁস উড়ে গেল, পেঁচার ডাকের সঙ্গে ভেসে এল
ছোট ছোটো হামিংবার্ড, ওয়্যাক্সউইং
এই সেই পরিপূর্ণ বসুন্ধরা যেখানে ঘুমিয়ে পড়ি,
রাধানগর গ্রাম আর ব্রিস্টল
অখণ্ডিত ভূমি শুধু জেগে থাকে আমার শিয়রে
এক-একটি শতাব্দী কত দীর্ঘ
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এক-একটি শতাব্দী কত দীর্ঘ
কত অপরূপ কত যে যুগান্ত যুগে
কত জানা কত যে অজানা
দেখে মুগ্ধ হয়ে উঠি। তাকিয়ে রয়েছি আজ ২০২২ সনের
অজস্র সূর্যের দিকে অন্তহারা জ্যোৎস্নার উদ্দেশে আর বাঙ্ময় স্পন্দিত আঁধারে
মুক্ত মুক্ত সর্বমুক্ত পৃথিবীবিশ্বের দিকে দিকে
যত হাসি যত গান,
যোড়শমাতৃকার মতো ঘিরে আছে চতুর্দিকে
ক্ষমা কল্প জ্যোতি কল্প কল্পান্তের পথভ্রষ্টতার পরে গৃহ খুঁজে পাওয়ার মতন
কয়েকটি সান্ত্বনা মুক্তি চন্দ্রোদয়
আড়াইশ'বছর পরে আমি তার উৎসে ও উজানে
আমি সেই ভারতবর্ষের মতো রূপকথাটির,
আভাস পেয়েছি টের, দেখেছি ধুলোর সব আলপনা
রাধানগরের কলকাতার বিদ্রোহীর পায়ে পায়ে আঁকা হয়েছিল
২০২২ সন, মে মাস হতেও পারে, ফুল আর পাতাদের
উচ্ছ্বাসে জড়িয়ে আছে দৃঢ় ডালপালা
ঈর্ষা নেই লোভ নেই দাসপ্রভু নেই নেই মূর্খতার অহংকার
২০২২ সন, মে মাস হতেও পারে, হয়তো আমার কথা
মনে পড়বে, মনেও পড়বে না
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এক-একটি শতাব্দী কত দীর্ঘ
কত অপরূপ কত যে যুগান্ত যুগে
কত জানা কত যে অজানা
দেখে মুগ্ধ হয়ে উঠি। তাকিয়ে রয়েছি আজ ২০২২ সনের
অজস্র সূর্যের দিকে অন্তহারা জ্যোৎস্নার উদ্দেশে আর বাঙ্ময় স্পন্দিত আঁধারে
মুক্ত মুক্ত সর্বমুক্ত পৃথিবীবিশ্বের দিকে দিকে
যত হাসি যত গান,
যোড়শমাতৃকার মতো ঘিরে আছে চতুর্দিকে
ক্ষমা কল্প জ্যোতি কল্প কল্পান্তের পথভ্রষ্টতার পরে গৃহ খুঁজে পাওয়ার মতন
কয়েকটি সান্ত্বনা মুক্তি চন্দ্রোদয়
আড়াইশ'বছর পরে আমি তার উৎসে ও উজানে
আমি সেই ভারতবর্ষের মতো রূপকথাটির,
আভাস পেয়েছি টের, দেখেছি ধুলোর সব আলপনা
রাধানগরের কলকাতার বিদ্রোহীর পায়ে পায়ে আঁকা হয়েছিল
২০২২ সন, মে মাস হতেও পারে, ফুল আর পাতাদের
উচ্ছ্বাসে জড়িয়ে আছে দৃঢ় ডালপালা
ঈর্ষা নেই লোভ নেই দাসপ্রভু নেই নেই মূর্খতার অহংকার
২০২২ সন, মে মাস হতেও পারে, হয়তো আমার কথা
মনে পড়বে, মনেও পড়বে না
সুখ-অসুখের সীমা অংশত নিশ্চয়ই শারীরিক
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
সুখ-অসুখের সীমা অংশত নিশ্চয়ই শারীরিক
তবু মনে হয় জীবন্ত ঝলসে যাওয়া মেয়েদের
দুঃখের সীমায় এসে সূর্যাস্তের মতো যদি দিগন্তকে দেখি তবে
হয়তো মনেও পড়ে দেহ আর দেহের অতীত সব অনুভব
কীভাবে যে ভস্ম হয়ে যায়
প্রশ্ন তবু সাধ্য ও সাধ্যের মতো সাধ্যাতীতের মতো
হয়ে রইল, এই যে শরীর এ কি শুধুমাত্র মন দিয়ে গড়া
গত রাতে বড়ো হিম লেগেছিল, সর্বাঙ্গশরীর, যেন
তুষারঝড়ের মধ্যে ক্ষত ও বিক্ষত একা ক্লান্ত ক্যাজুরিনা
অথচ ব্রিস্টল এই মুহূর্তেও দিকে দিকে হেমন্ত ঋতুর
আয়োজন আজ হয়তো আবার ডাক্তার
ডক্টর ওয়াটসন হলে যেন ভালো হয়
তার বন্ধু শার্লক হোমসের কাছে কোনো রহস্যই রহস্য থাকে না
আমি কি ঘুমিয়ে নেব তার আগে কিছুক্ষণ? ঘুম থেকে উঠে আমি কি কবিতা
লিখব?
মন্দারফুলের মাল্যমালিকার মতো
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর অনসূয়া জননীর স্তন্যপান করেছেন,
তাই আজও দেবতার মাতৃস্নেহ প্রয়োজন হয়
আমি কি নিভিয়ে দেব কয়েকটি চিতার আগুন
রূপ কানোয়ারের চিতা? কলকাতায় হাথরাসে গুজরাটে নাঙ্গা করে জ্বালিয়ে
দিয়েছিল কত মেয়েদের
কী করে তাদের চিতা নিভে যাবে এখনো জানি না
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
সুখ-অসুখের সীমা অংশত নিশ্চয়ই শারীরিক
তবু মনে হয় জীবন্ত ঝলসে যাওয়া মেয়েদের
দুঃখের সীমায় এসে সূর্যাস্তের মতো যদি দিগন্তকে দেখি তবে
হয়তো মনেও পড়ে দেহ আর দেহের অতীত সব অনুভব
কীভাবে যে ভস্ম হয়ে যায়
প্রশ্ন তবু সাধ্য ও সাধ্যের মতো সাধ্যাতীতের মতো
হয়ে রইল, এই যে শরীর এ কি শুধুমাত্র মন দিয়ে গড়া
গত রাতে বড়ো হিম লেগেছিল, সর্বাঙ্গশরীর, যেন
তুষারঝড়ের মধ্যে ক্ষত ও বিক্ষত একা ক্লান্ত ক্যাজুরিনা
অথচ ব্রিস্টল এই মুহূর্তেও দিকে দিকে হেমন্ত ঋতুর
আয়োজন আজ হয়তো আবার ডাক্তার
ডক্টর ওয়াটসন হলে যেন ভালো হয়
তার বন্ধু শার্লক হোমসের কাছে কোনো রহস্যই রহস্য থাকে না
আমি কি ঘুমিয়ে নেব তার আগে কিছুক্ষণ? ঘুম থেকে উঠে আমি কি কবিতা
লিখব?
মন্দারফুলের মাল্যমালিকার মতো
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর অনসূয়া জননীর স্তন্যপান করেছেন,
তাই আজও দেবতার মাতৃস্নেহ প্রয়োজন হয়
আমি কি নিভিয়ে দেব কয়েকটি চিতার আগুন
রূপ কানোয়ারের চিতা? কলকাতায় হাথরাসে গুজরাটে নাঙ্গা করে জ্বালিয়ে
দিয়েছিল কত মেয়েদের
কী করে তাদের চিতা নিভে যাবে এখনো জানি না
যেটুকু যা লক্ষ করি, যেদিকে দুচোখ মেলে মনে হয় অজস্র রয়েছে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
যেটুকু যা লক্ষ করি, যেদিকে দুচোখ মেলে মনে হয় অজস্র রয়েছে
একটি একক নেই, একক নিঃসঙ্গভাবে লীন
হতে পারে অজস্রের উৎফুল্ল হাহাকারে। তাই অজস্রও
কাছে এসে এককের নৈকট্যযাচনা
প্রাক মুহূর্তেই কিংবা পরমুহূর্তেও যদি লক্ষ্যের উজানে
বহে চলে যেতে যেতে মনে হয় যা কিছু ঘটেছে আর যা কিছু ঘটেনি
জীবনে জীবনাতীতে, মানদাসুন্দরীর
কাঁথায় জড়িয়ে যাওয়া সীবনশিল্পের মতো,
মনুসৃষ্ট ষাটকোটি অপ্সরার মতো
যারা শুধু মায়াবী রূপের মতো ব্যবহৃত হয়
অংশাবতারের মতো জন্ম নিয়ে জাতকের মতো
ফিরে যাওয়া শতপথ ব্রাহ্মণের সূত্রে স্মৃতিশাস্ত্র খুঁটে নিয়ে
বিষ্ণুপুরাণে তার প্রথম উন্মেষ যেরকম পাওয়া যেতে পারে
সেইসব মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকারের
সঙ্গে যত তর্ক আর ডিসকোর্স। একক বা অজস্রের টানে
ব্রাহ্মণ সেবধি থেকে গদ্যরীতি যেন উঠে আসে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
যেটুকু যা লক্ষ করি, যেদিকে দুচোখ মেলে মনে হয় অজস্র রয়েছে
একটি একক নেই, একক নিঃসঙ্গভাবে লীন
হতে পারে অজস্রের উৎফুল্ল হাহাকারে। তাই অজস্রও
কাছে এসে এককের নৈকট্যযাচনা
প্রাক মুহূর্তেই কিংবা পরমুহূর্তেও যদি লক্ষ্যের উজানে
বহে চলে যেতে যেতে মনে হয় যা কিছু ঘটেছে আর যা কিছু ঘটেনি
জীবনে জীবনাতীতে, মানদাসুন্দরীর
কাঁথায় জড়িয়ে যাওয়া সীবনশিল্পের মতো,
মনুসৃষ্ট ষাটকোটি অপ্সরার মতো
যারা শুধু মায়াবী রূপের মতো ব্যবহৃত হয়
অংশাবতারের মতো জন্ম নিয়ে জাতকের মতো
ফিরে যাওয়া শতপথ ব্রাহ্মণের সূত্রে স্মৃতিশাস্ত্র খুঁটে নিয়ে
বিষ্ণুপুরাণে তার প্রথম উন্মেষ যেরকম পাওয়া যেতে পারে
সেইসব মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকারের
সঙ্গে যত তর্ক আর ডিসকোর্স। একক বা অজস্রের টানে
ব্রাহ্মণ সেবধি থেকে গদ্যরীতি যেন উঠে আসে
