কবি অমিতাভ গুপ্তর কবিতা
অনুমরণের দয়া দিতে হবে মেয়েটিকে যেহেতু ভাতার তার
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
অনুমরণের দয়া দিতে হবে মেয়েটিকে যেহেতু ভাতার তার
উত্তরপ্রদেশে গিয়ে মরে গেল, এখানে হুগলির
শ্মশানে একাকী চিতা জ্বেলে ওই মেয়েটিকে দগ্ধ করা হোক
জীবন্ত পুড়লে তার পুণ্য হবে আরো তার বেশি
শুধু সহমরণের প্রথাবিধি অন্যান্য বা সবই মান্য হবে
বাজবে ঢাকের বাদ্যি অল্পস্বল্প আফিম খাওয়ানো হবে মেয়েটিকে
চিতায় শুইয়ে দিয়ে বাঁশ দিয়ে চেপে ধরা হবে
যদিও ভাতার তার ভাতার ছিল না তাকে ভাত দিতে পারেনি দুমুঠো
তবুও ভাতার তার লেলিহান স্বর্গের সিঁড়ি
জলটুঙ্গি পাখিদের অতিক্ষুদ্র শরীরের বাঁকে বাঁকে যেভাবে যেমন করে
কুশিনদীটির ক্ষীণ খরস্রোত লক্ষ করেছি
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
অনুমরণের দয়া দিতে হবে মেয়েটিকে যেহেতু ভাতার তার
উত্তরপ্রদেশে গিয়ে মরে গেল, এখানে হুগলির
শ্মশানে একাকী চিতা জ্বেলে ওই মেয়েটিকে দগ্ধ করা হোক
জীবন্ত পুড়লে তার পুণ্য হবে আরো তার বেশি
শুধু সহমরণের প্রথাবিধি অন্যান্য বা সবই মান্য হবে
বাজবে ঢাকের বাদ্যি অল্পস্বল্প আফিম খাওয়ানো হবে মেয়েটিকে
চিতায় শুইয়ে দিয়ে বাঁশ দিয়ে চেপে ধরা হবে
যদিও ভাতার তার ভাতার ছিল না তাকে ভাত দিতে পারেনি দুমুঠো
তবুও ভাতার তার লেলিহান স্বর্গের সিঁড়ি
জলটুঙ্গি পাখিদের অতিক্ষুদ্র শরীরের বাঁকে বাঁকে যেভাবে যেমন করে
কুশিনদীটির ক্ষীণ খরস্রোত লক্ষ করেছি
আমারই উজান থেকে যদি কোনো রামমোহনের উত্স পদ্মের কুঁড়ির মতো
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আমারই উজান থেকে যদি কোনো রামমোহনের উৎস পদ্মের কুঁড়ির মতো
জেগে ওঠে
যদি তারই শতদলে থাকে সহস্রদলের শত সম্ভাবনা তবু আমি
অদ্বৈতের দ্বিধাবিভাজন বলে তাকে আর মান্য করব না
এই হ্রদে একটি নিবিড় নৌকো প্রবাহিত হয়েছিল,
মাঝি শুধু হাল ধরেছিল
মেঝেন টেনেছে দাঁড়, সে যে সব জানে
নৌকোটি যখন গূঢ় বাঁক নেয়, দেখা যায়
একটি অথবা দুটি সহস্র কোটি
মহাকমলের আভা চিরঅতীতের মতো ছোটো ছোটো ঢেউয়ের চূড়ায়
নেচে ওঠে, কাঁদে, খেলা করে
তারপর হঠাৎ চিতাগ্নির থেকে যেকোনো অনংশা উঠে এসে
শ্রীকৃষ্ণকে পরামর্শ দিয়ে যেতে পারে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
আমারই উজান থেকে যদি কোনো রামমোহনের উৎস পদ্মের কুঁড়ির মতো
জেগে ওঠে
যদি তারই শতদলে থাকে সহস্রদলের শত সম্ভাবনা তবু আমি
অদ্বৈতের দ্বিধাবিভাজন বলে তাকে আর মান্য করব না
এই হ্রদে একটি নিবিড় নৌকো প্রবাহিত হয়েছিল,
মাঝি শুধু হাল ধরেছিল
মেঝেন টেনেছে দাঁড়, সে যে সব জানে
নৌকোটি যখন গূঢ় বাঁক নেয়, দেখা যায়
একটি অথবা দুটি সহস্র কোটি
মহাকমলের আভা চিরঅতীতের মতো ছোটো ছোটো ঢেউয়ের চূড়ায়
নেচে ওঠে, কাঁদে, খেলা করে
তারপর হঠাৎ চিতাগ্নির থেকে যেকোনো অনংশা উঠে এসে
শ্রীকৃষ্ণকে পরামর্শ দিয়ে যেতে পারে
সে যে চণ্ডী ছিন্নমস্তা তার প্রতি আশীর্বাদ
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
সে যে চণ্ডী ছিন্নমস্তা তার প্রতি আশীর্বাদ
খড়্ গের মতন আর চ্যুত শির থেকে প্রবাহিত শোণিতের মতো হিবিসকাস
এভাবেই
রহস্যের মর্মকথা ব্রহ্মই জানেন কিংবা ব্রহ্মময়ী রামপ্রসাদ শুনেছি তিনি
বেঁচে থাকলে হয়তো মীমাংসা হত কিন্তু
আরাধ্যকে বুকে নিয়ে থোকা থোকা রক্তজবার মতো
হালিশহরের কোনো নিভৃত দীঘির জলে ঝাঁপ দিয়ে জীবনের সব না পাওয়াকে
নিরঞ্জন করেছেন।
এদিকে বর্গীর মতো পঙ্গপালের মতো ওই ভাস্কর পণ্ডিতের লুঠেরার দল আর
মুর্শিদকুলির
গুন্ডাবাহিনীর পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাবুক এবং
মন্বন্তর নিঃস্ব রিক্ত বাংলায় একগুচ্ছ কৃষ্ণচন্দ্র
একগুচ্ছ মীরজাফর রামপ্রসাদ
অন্ন না পেয়ে শুধু লিখলেন অন্যতর অন্নদামঙ্গল না যদি দেখতে যাই তাঁর
ভিড়ে তবুও নিশ্চয় জানি আমার
দারিদ্র নিয়ে আমি তাঁর দারিদ্রকে
কুড়িয়ে নিয়েছি তাই কালীকীর্তনের সুরে লীন হয় ব্রহ্মসঙ্গীত
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
সে যে চণ্ডী ছিন্নমস্তা তার প্রতি আশীর্বাদ
খড়্ গের মতন আর চ্যুত শির থেকে প্রবাহিত শোণিতের মতো হিবিসকাস
এভাবেই
রহস্যের মর্মকথা ব্রহ্মই জানেন কিংবা ব্রহ্মময়ী রামপ্রসাদ শুনেছি তিনি
বেঁচে থাকলে হয়তো মীমাংসা হত কিন্তু
আরাধ্যকে বুকে নিয়ে থোকা থোকা রক্তজবার মতো
হালিশহরের কোনো নিভৃত দীঘির জলে ঝাঁপ দিয়ে জীবনের সব না পাওয়াকে
নিরঞ্জন করেছেন।
এদিকে বর্গীর মতো পঙ্গপালের মতো ওই ভাস্কর পণ্ডিতের লুঠেরার দল আর
মুর্শিদকুলির
গুন্ডাবাহিনীর পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাবুক এবং
মন্বন্তর নিঃস্ব রিক্ত বাংলায় একগুচ্ছ কৃষ্ণচন্দ্র
একগুচ্ছ মীরজাফর রামপ্রসাদ
অন্ন না পেয়ে শুধু লিখলেন অন্যতর অন্নদামঙ্গল না যদি দেখতে যাই তাঁর
ভিড়ে তবুও নিশ্চয় জানি আমার
দারিদ্র নিয়ে আমি তাঁর দারিদ্রকে
কুড়িয়ে নিয়েছি তাই কালীকীর্তনের সুরে লীন হয় ব্রহ্মসঙ্গীত
সুখ-অসুখের সীমা অংশত নিশ্চয় শারীরিক, প্রশ্ন শুধু সাধ্যাসাধ্য মতো
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
সুখ-অসুখের সীমা অংশত নিশ্চয় শারীরিক, প্রশ্ন শুধু সাধ্যাসাধ্য মতো
সম্পূর্ণ হল না
এই যে শরীর একি শুধুমাত্র মন দিয়ে গড়া
গত রাতে বড়ো হিম লেগেছিল, সর্বাঙ্গে শিহর, যেন অচেনা তুষারঝড়ে চৈত্র
পলাশের মতো ।
ভাবলাম, ইংরেজকথিত সেই ম্যাল-এরিয়া জ্বর
কিন্তু সেই রোগটি শুনেছি হতেই পারে বর্ধমানের
মশকদংশনে। এখানে ইংল্যান্ডেও সেই মশাও আছে মাছিও রয়েছে
তারা যথেষ্ট হূল বিদ্ধ করে যায়
হয়তো অন্য কোনো নাম. আজই ডাক্তারবাবু বললেন মেনিনজাইটিস
কিন্তু ইনি তো আর ডক্টর ওয়াটসন নয় শার্লক হোমসের সঙ্গেও সখ্য তার
হয়নি এখনো
সর্বাঙ্গশরীর শুধু লঘুভাব, তাপ বেড়ে যায়
মাথায় বিপুল হিংস্র ভার চাপিয়ে দিয়েছে কেউ বলে বোধ হল
আর কি ঘুমোতে যাব? তবে কি নতুন কোনো ইংরেজ রান্নাবান্না
আদৌ জানে না। ওদের স্বপ্ন শুরু হবে?
ডিনারে যেতে ভয় পাই
তবুও কদিন আগে ভোজসভা।
ইদানিং এখানে যা খুবই জনপ্রিয় প্যারিসের কৌটোভরা চিজ
আসছে দশকতিনেক ধরে।
সেও ভালো তবু কাঁচা মাংস?
কলকাতায় কতবার আন্ত পাঁঠা সাবাড় করেছি কাঠের উনুনে রাঁধা
অমৃততুল্য সেই স্বাদ
হয়তো অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়া
চতুর দংশন
হয়তো কয়েকদিন আগে সেই ডিনার পার্টি সেই প্যারিসের কৌটো
ভর্তি সুস্বাদু চিজ
'মহিষের মাংস কিন্তু কাঁচা ছিল, সাহেবরা রন্ধনশিল্পে পটু নয়
জানি না তারপর কেন ঘাড়ে ব্যাথা মেরুদণ্ড টনটন করে
একটু জোরালো আলো চোখে কষ্ট হয়, জ্বরের কাঁপুনি
বড়ো বেশি ক্লান্ত লাগে। সারাজীবনের চেয়ে ঢের বেশি শান্তিতে
উঠি
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
সুখ-অসুখের সীমা অংশত নিশ্চয় শারীরিক, প্রশ্ন শুধু সাধ্যাসাধ্য মতো
সম্পূর্ণ হল না
এই যে শরীর একি শুধুমাত্র মন দিয়ে গড়া
গত রাতে বড়ো হিম লেগেছিল, সর্বাঙ্গে শিহর, যেন অচেনা তুষারঝড়ে চৈত্র
পলাশের মতো ।
ভাবলাম, ইংরেজকথিত সেই ম্যাল-এরিয়া জ্বর
কিন্তু সেই রোগটি শুনেছি হতেই পারে বর্ধমানের
মশকদংশনে। এখানে ইংল্যান্ডেও সেই মশাও আছে মাছিও রয়েছে
তারা যথেষ্ট হূল বিদ্ধ করে যায়
হয়তো অন্য কোনো নাম. আজই ডাক্তারবাবু বললেন মেনিনজাইটিস
কিন্তু ইনি তো আর ডক্টর ওয়াটসন নয় শার্লক হোমসের সঙ্গেও সখ্য তার
হয়নি এখনো
সর্বাঙ্গশরীর শুধু লঘুভাব, তাপ বেড়ে যায়
মাথায় বিপুল হিংস্র ভার চাপিয়ে দিয়েছে কেউ বলে বোধ হল
আর কি ঘুমোতে যাব? তবে কি নতুন কোনো ইংরেজ রান্নাবান্না
আদৌ জানে না। ওদের স্বপ্ন শুরু হবে?
ডিনারে যেতে ভয় পাই
তবুও কদিন আগে ভোজসভা।
ইদানিং এখানে যা খুবই জনপ্রিয় প্যারিসের কৌটোভরা চিজ
আসছে দশকতিনেক ধরে।
সেও ভালো তবু কাঁচা মাংস?
কলকাতায় কতবার আন্ত পাঁঠা সাবাড় করেছি কাঠের উনুনে রাঁধা
অমৃততুল্য সেই স্বাদ
হয়তো অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়া
চতুর দংশন
হয়তো কয়েকদিন আগে সেই ডিনার পার্টি সেই প্যারিসের কৌটো
ভর্তি সুস্বাদু চিজ
'মহিষের মাংস কিন্তু কাঁচা ছিল, সাহেবরা রন্ধনশিল্পে পটু নয়
জানি না তারপর কেন ঘাড়ে ব্যাথা মেরুদণ্ড টনটন করে
একটু জোরালো আলো চোখে কষ্ট হয়, জ্বরের কাঁপুনি
বড়ো বেশি ক্লান্ত লাগে। সারাজীবনের চেয়ে ঢের বেশি শান্তিতে
উঠি
জাদুগোড়ার রাঙামাটি ট্রাকে উঠে চলেছে কোনো অজানা ল্যাবরেটরির দিকে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
জাদুগোড়ার রাঙামাটি ট্রাকে উঠে চলেছে কোনো অজানা ল্যাবরেটরির দিকে
যাচাই করার জন্য রক্তাক্ষরে কীভাবে লুকিয়ে কতটুকু ইউরেনিয়াম এবং
মাটি খুঁড়ে
তেজস্ক্রিয় পদার্থটি বাইরে বেরিয়ে আসার ফলে যদিও
সাঁওতাল মেয়েদের সন্তানেরা জন্ম নিয়ে চলেছে বিকলাঙ্গ হয়ে
যদিও একুশ শতকে ঘটবে এইসব কিছু যার আগে
নিশ্চয় সাঁওতাল বিদ্রোহ
যার আগে আমি ঘুরে ঘুরে শুনেছিলাম তথাকথিত বর্বর মানুষদের
বিশ্বাসে ও প্রত্যাশায় শীর্ণ হয়ে থাকা একক সত্তার কথা
লিখেছিলাম তুহাত-উল-মুহাউদ্দিন। তবু
নলখাগড়ার বনে চিকচিক্কি পাখিদের চিৎকার
শোনা যায়। নলখাগড়ার বুক চিরে
মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের জন্য ওই নগরায়নের শুরু হল
যেভাবে লবণহ্রদ ফুঁড়ে জেগে উঠতে পারে বহুতল
হর্ম্যপ্রাসাদ আর ডুবে যায় ধীবর জেলে ও জোলা
মাঝি বা মেঝেন নলখাগড়ার ভাঙা ডাঁটার মতন
দুঃখের স্মৃতিরা ভেসে থাকে।
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
জাদুগোড়ার রাঙামাটি ট্রাকে উঠে চলেছে কোনো অজানা ল্যাবরেটরির দিকে
যাচাই করার জন্য রক্তাক্ষরে কীভাবে লুকিয়ে কতটুকু ইউরেনিয়াম এবং
মাটি খুঁড়ে
তেজস্ক্রিয় পদার্থটি বাইরে বেরিয়ে আসার ফলে যদিও
সাঁওতাল মেয়েদের সন্তানেরা জন্ম নিয়ে চলেছে বিকলাঙ্গ হয়ে
যদিও একুশ শতকে ঘটবে এইসব কিছু যার আগে
নিশ্চয় সাঁওতাল বিদ্রোহ
যার আগে আমি ঘুরে ঘুরে শুনেছিলাম তথাকথিত বর্বর মানুষদের
বিশ্বাসে ও প্রত্যাশায় শীর্ণ হয়ে থাকা একক সত্তার কথা
লিখেছিলাম তুহাত-উল-মুহাউদ্দিন। তবু
নলখাগড়ার বনে চিকচিক্কি পাখিদের চিৎকার
শোনা যায়। নলখাগড়ার বুক চিরে
মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের জন্য ওই নগরায়নের শুরু হল
যেভাবে লবণহ্রদ ফুঁড়ে জেগে উঠতে পারে বহুতল
হর্ম্যপ্রাসাদ আর ডুবে যায় ধীবর জেলে ও জোলা
মাঝি বা মেঝেন নলখাগড়ার ভাঙা ডাঁটার মতন
দুঃখের স্মৃতিরা ভেসে থাকে।
শ্রীক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে চলেছে সহস্র তীর্থযাত্রী
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
শ্রীক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে চলেছে সহস্র তীর্থযাত্রী
যেন এখনই তাদের
ছুঁয়ে যেতে হবে অনন্ত জলধি যার সূচনায় শুধুমাত্র অর্ধনারীশ্বর
শুনেছি হয়তো এই নীলাচলে সমুদ্রসৈকতে যদি কেউ সিক্ত হয় তবে
ব্রহ্মসত্য লাভ করা সম্ভব হতে পারে, দূরীভূত হয়ে যাবে সব জন্মান্তর
আমি শুধু ওই মহাতীর্থ যাত্রার উদ্দেশে
অসহায় উদ্বেগে লক্ষ করি চলেছে তরুণী সেই বিধবা যারা
হয়তো তরুণ কোন পান্ডার সঙ্গ পাবে বলে। হয়তো ঈষৎ
মুক্ত হবে সারাজীবনের সব উপবাসক্লেশ থেকে। তারপর, এমন হতেও পারে
খুন হবে প্রেমিকের হাতে
পঁয়ত্রিশ টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে দিল্লির বুনো ঝোপে
যেমন হয়তো ঘটে ২০২২ সনের
প্রাক ফাল্গুনের রাতে
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
শ্রীক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে চলেছে সহস্র তীর্থযাত্রী
যেন এখনই তাদের
ছুঁয়ে যেতে হবে অনন্ত জলধি যার সূচনায় শুধুমাত্র অর্ধনারীশ্বর
শুনেছি হয়তো এই নীলাচলে সমুদ্রসৈকতে যদি কেউ সিক্ত হয় তবে
ব্রহ্মসত্য লাভ করা সম্ভব হতে পারে, দূরীভূত হয়ে যাবে সব জন্মান্তর
আমি শুধু ওই মহাতীর্থ যাত্রার উদ্দেশে
অসহায় উদ্বেগে লক্ষ করি চলেছে তরুণী সেই বিধবা যারা
হয়তো তরুণ কোন পান্ডার সঙ্গ পাবে বলে। হয়তো ঈষৎ
মুক্ত হবে সারাজীবনের সব উপবাসক্লেশ থেকে। তারপর, এমন হতেও পারে
খুন হবে প্রেমিকের হাতে
পঁয়ত্রিশ টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে দিল্লির বুনো ঝোপে
যেমন হয়তো ঘটে ২০২২ সনের
প্রাক ফাল্গুনের রাতে
এখানে আসিনি আগে। গ্রামের ছেলের মতো হুগলি জেলার এলোমেলো
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এখানে আসিনি আগে। গ্রামের ছেলের মতো হুগলি জেলার এলোমেলো
তেঁতুলতলায় কিংবা উঁচু জামগাছে লাফ দিয়ে
সময় কেটেছে তাই সুতানুটি পোর্টের কাছাকাছি
নৌকো বাঁধা হলে টের পাই
সুতানুটি আর তত সুতানুটি গ্রাম নেই,
কালীক্ষেত্র এবং গোবিন্দপুর এখন কলকাতা
ধর্মঠাকুরের সেই সুবিখ্যাত মন্দিরটি চৌরঙ্গিফকীরের
আশ্রমের মাইলখানেক দূরে যদিও রয়েছে
ব্ল্যাক প্যাগোডার ছায়া এখন পড়ে না আর গঙ্গার বুকে
এই যে গাঙ্গেয় স্রোত কোনো কোনো ভাগীরথিদের
হাতে হাত রেখে হুগলি নদীর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে
এই যে হুগলি নদী যার বাঁকে একটি সঙ্জিত বজরা ভেসে এসেছিল
ভিড়েছিল সুতানুটি বন্দরের ঘাটে যেন
বাংলার কাপাসতুলো থেকে বুনে তোলা সুতোর গুটির খোঁজে
বজরা থেকে নেমে এসে সাহেবরা শ্যামা দামা
পাখিদের ডাক শুনে ভেবেছিলে বুশলার্ক
কিংবা ভরতপাখি আশেপাশে মৃদুস্বরে ডাকছে তাদের
আমার জন্মের যেন অষ্টআশি বছর আগেই কিংবা আমার কলকাতায়
পৌঁছনোর শতবর্ষ আগে
কাঠের উনুন একটি জ্বলে উঠেছিল এই ঘাটে আর একটি
বৃহৎ হাঁড়ি পরিপূর্ণ হয়েছিল
চালে ডালে এলোমেলো মশলায় সবজি ও আনাজে
আতিথেয়তায় মুগ্ধ অভিভূত চার্ণক ঠিক করলেন তিনি
এখানেই ব্যবসার ঘাঁটি গড়বেন
তখনো অনেক দূরে পলাশী বকসার
চার্ণক ভদ্রলোক, চিতার আগুন থেকে বিধবাকে
উদ্ধার করেছেন, বিয়ে হল, কয়েকটি সন্তান
হুঁকো নিয়ে বটতলা ঘিরে বসে গেঁয়ো
মানুষের কথা দিব্যি বুঝতেন
তখনো অনেকদূরে পার্মানেন্ট সেটেলমেন্ট তখনো অনেক দূরে
উপনিবেশিকের সঙ্গে সামন্ততন্ত্রের বোঝাপড়া
তখন অগাস্ট মাস তারপর সেপ্টেম্বর অক্টোবর তারপর শ্রীপঞ্চমী
উচ্ছ্বসিত কৈশোরের মতো
গাঁদাফুল ফুটেছিল, গঙ্গাফড়িং আর প্রজাপতিদের ডানা
মিলেমিশে গিয়েছিল দোপাটি রঙ্গনে
তারপর সিপাই মিউটিনি
ইতিমধ্যে আমাদের জন্ম হল আমাদের বাঁচামরা হল
তুলিকা পাখির মতো দৃশ্য আর দৃশ্যাতীত ছোটো ছোটো ডানা
মেলে উড়ে যায়
গ্রাম্য বালক আমি, হঠাৎ হয়তো মনে পড়েছিল কোনো
পালাগান, ভস্মলোচন পালা, দুর্বাদলশ্যাম কোন
দেবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দর্পণ
ধরেছিল ভস্মলোচন তার আত্মপ্রতিবিম্বটিকে দেখে নেবে বলে
তারপর নিজেই সে দগ্ধ হল, ছাই হয়ে নিঃশেষে ফুরাল
কবি অমিতাভ গুপ্ত
ডিসেম্বর ২০২২ এ আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায়ের সার্ধদ্বিশতবর্ষ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত, কবি অমিতাভ গুপ্তর “পূর্ণের অভিমান” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
এখানে আসিনি আগে। গ্রামের ছেলের মতো হুগলি জেলার এলোমেলো
তেঁতুলতলায় কিংবা উঁচু জামগাছে লাফ দিয়ে
সময় কেটেছে তাই সুতানুটি পোর্টের কাছাকাছি
নৌকো বাঁধা হলে টের পাই
সুতানুটি আর তত সুতানুটি গ্রাম নেই,
কালীক্ষেত্র এবং গোবিন্দপুর এখন কলকাতা
ধর্মঠাকুরের সেই সুবিখ্যাত মন্দিরটি চৌরঙ্গিফকীরের
আশ্রমের মাইলখানেক দূরে যদিও রয়েছে
ব্ল্যাক প্যাগোডার ছায়া এখন পড়ে না আর গঙ্গার বুকে
এই যে গাঙ্গেয় স্রোত কোনো কোনো ভাগীরথিদের
হাতে হাত রেখে হুগলি নদীর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে
এই যে হুগলি নদী যার বাঁকে একটি সঙ্জিত বজরা ভেসে এসেছিল
ভিড়েছিল সুতানুটি বন্দরের ঘাটে যেন
বাংলার কাপাসতুলো থেকে বুনে তোলা সুতোর গুটির খোঁজে
বজরা থেকে নেমে এসে সাহেবরা শ্যামা দামা
পাখিদের ডাক শুনে ভেবেছিলে বুশলার্ক
কিংবা ভরতপাখি আশেপাশে মৃদুস্বরে ডাকছে তাদের
আমার জন্মের যেন অষ্টআশি বছর আগেই কিংবা আমার কলকাতায়
পৌঁছনোর শতবর্ষ আগে
কাঠের উনুন একটি জ্বলে উঠেছিল এই ঘাটে আর একটি
বৃহৎ হাঁড়ি পরিপূর্ণ হয়েছিল
চালে ডালে এলোমেলো মশলায় সবজি ও আনাজে
আতিথেয়তায় মুগ্ধ অভিভূত চার্ণক ঠিক করলেন তিনি
এখানেই ব্যবসার ঘাঁটি গড়বেন
তখনো অনেক দূরে পলাশী বকসার
চার্ণক ভদ্রলোক, চিতার আগুন থেকে বিধবাকে
উদ্ধার করেছেন, বিয়ে হল, কয়েকটি সন্তান
হুঁকো নিয়ে বটতলা ঘিরে বসে গেঁয়ো
মানুষের কথা দিব্যি বুঝতেন
তখনো অনেকদূরে পার্মানেন্ট সেটেলমেন্ট তখনো অনেক দূরে
উপনিবেশিকের সঙ্গে সামন্ততন্ত্রের বোঝাপড়া
তখন অগাস্ট মাস তারপর সেপ্টেম্বর অক্টোবর তারপর শ্রীপঞ্চমী
উচ্ছ্বসিত কৈশোরের মতো
গাঁদাফুল ফুটেছিল, গঙ্গাফড়িং আর প্রজাপতিদের ডানা
মিলেমিশে গিয়েছিল দোপাটি রঙ্গনে
তারপর সিপাই মিউটিনি
ইতিমধ্যে আমাদের জন্ম হল আমাদের বাঁচামরা হল
তুলিকা পাখির মতো দৃশ্য আর দৃশ্যাতীত ছোটো ছোটো ডানা
মেলে উড়ে যায়
গ্রাম্য বালক আমি, হঠাৎ হয়তো মনে পড়েছিল কোনো
পালাগান, ভস্মলোচন পালা, দুর্বাদলশ্যাম কোন
দেবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দর্পণ
ধরেছিল ভস্মলোচন তার আত্মপ্রতিবিম্বটিকে দেখে নেবে বলে
তারপর নিজেই সে দগ্ধ হল, ছাই হয়ে নিঃশেষে ফুরাল
