কবি অমিতাভ গুপ্ত-র সাথে উত্তর আধুনিক চেতনা নিয়ে একটি
সাক্ষাত্কারের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন . . .।

কবি অমিতাভ গুপ্ত - জন্ম ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ (১৯ ভাদ্র ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), হুগলী জেলার ব্যাণ্ডেল শহরে। পিতা বীরেন্দ্র কুমার গুপ্ত। মাতা মাধবী গুপ্ত।

কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন খুব ছোটবেলা থেকেই। তিনি বলেন হয়তো হাতের লেখা শিখেই কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন। এমন কি হাতে লেখা শুরু করার আগেও হয়তো মুখে মুখে ছন্দ মিলিয়েই কবিতার শুরু হয়ে গিয়েছিল।

বাবার বদলীর চাকরি ছিল। তিনি সরকারের শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকের চাকরি করতেন। তাই কবিকে একাধিক ইস্কুলে পড়তে হয়েছিল। তাঁর মধ্যে রয়েছে বীরভূম জেলা স্কুল এবং হুগলী ব্র্যাঞ্চ স্কুল। এই হুগলী ব্র্যাঞ্চ স্কুল আমাদের দেশের প্রাচীনতম স্কুলের মধ্যে অন্যতম। এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর মত মনিষীরা।

কবি ১৯৬৪ সালে হাইয়ার সেকেণ্ডারি পাশ করে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে থেকে ইংরেজীতে অনার্স নিয়ে স্নাতক হন ১৯৬৭ সালে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এম.এ. পাশ করেন ১৯৬৯ সালে।

দমদমের কুমার আশুতোষ ইনস্টিটিউশন স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি দিয়ে শুরু হয় কর্ম জীবন। পরে আসেন বালিগঞ্জ গভমেন্ট স্কুলে। এম.এ. পরীক্ষার ফল বার হবার পরই তিনি বজবজ-এ একটি প্রাইভেট কলেজে শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন। এরপর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা পাশ করে সরকারী কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন দুর্গাপুর গভমেন্ট কলেজে। তারপর মৌলানা আজাদ কলেজ, গোয়েঙ্কা কলেজ, হুগলী মোহসিন কলেজ হয়ে মৌলানা কলেজ থেকে ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর নেবার পরেও তিনি মৌলানা আজাদ কলেজে ইংরেজী এম.এ. এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্যারিটিভ লিটারেচারের বাংলা স্পেশাল পেপার পড়ান।

তাঁর কলেজ জীবনটা ছিল বাংলার বুকে রাজনৈতিক চরম অস্থিরতার সময়। আর পাঁচজন বাঙালী যুবকের মত তিনিও খুব বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন। শোষণহীন সাম্য সমাজের স্বপ্ন। ৬৭ তে কংগ্রেসের সংসদীয় শাসন শেষ হয়েছিল। একটা বিকল্প বা অল্টারনেটিভ গভমেন্ট এসেছিল। তাকে কেন্দ্র করেও অনেকের মত তিনিও স্বপ্ন দেখতে লাগলেন যে এবারে সুশাসন আসবে। তাঁরা, যারা নানাভাবে এ ধরণের স্বপ্নে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের স্বপ্ন দেখার সাথে সাথে স্বপ্ন-ভঙ্গটাও তিন চার বছরের মধ্যেই হয়ে গিয়েছিল।

কবি বলেন যে তিনি খুব অল্প ছাত্র রাজনীতি করেছেন। ঐ তথাকথিত বামপন্থী রাজনীতির, কমিউনিজম এর আকর্ষণে এগিয়েছিলেন। শেষ দিকের পর্যায়ে স্বভাবতই নকশালবাড়ীর রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছিলেন। তাঁর প্রথম স্বপ্নভঙ্গটা ঘটেছিল সেদিন, যেদিন হঠাৎ কলকাতায় একটা তত্ত্ব এসে হাজির হয়েছিল --- ব্যক্তিহত্যার তত্ত্ব। এই ব্যক্তিহত্যার তত্ত্ব যেদিন প্রথম আলোচিত হয় গেট-মিটিং এ, সেদিনই তিনি, ঘোষিত ভাবে, এই রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেন। তাঁকে বলাও হয়েছিল, "কমরেড আপনি যদি আপনার অভিমত না পাল্টান তাহলে আর আসবেন না গেট মিটিং এ"।

আধুনিক কবিতা যে পথে এগোচ্ছিল তার সঙ্গে তিনি একমত হতে পারেন নি। প্রতিবাদ করেছেন এবং বাংলা কবিতায় ইউরোপমুখিতা মূলত হাংগ্রিয়ালিজম্, মডার্নিজম্ ও পোস্ট মডার্নিজম্ এর ধারার বিরুদ্ধে এক নতুন ধারার দর্শন, যাকে বলা হয় "উত্তর আধুনিক চেতনা", সেই চিন্তাগোষ্ঠির তিনি অন্যতম পথিকৃত। এই উত্তর আধুনিক চিন্তাধারার কবিতা হলে তা উত্তর আধুনিক কবিতা। তিনি মনে করেন, ক্ষুধা এবং দারিদ্রের যে বাস্তবতা, সেখানে এই উত্তর আধুনিক চেতনা ব্যাপারটা রাজনীতির দিক থেকে, অর্থনীতির দিক থেকে, শিক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে বোধহয় খুব বেশী দরকারী।

মিলনসাগরের সঙ্গে ২৫শে জুলাই ২০১০ তারিখে একটি সাক্ষাত্কারে তিনি এই "উত্তর আধুনিক চেতনা" নিয়ে সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করছেন। সেই সাক্ষাৎকারটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "মাতা ও মৃত্তিকা" (১৯৮৪), "মুক্তিশৃঙ্খল" (১৯৯০), "দুঃখমহূল" (১৯৯৫) প্রভৃতি। উত্তর আধুনিক কাব্যচিন্তার পরিচয় পাওয়া যাবে "উত্তর আধুনিক চেতনার ভূমিকা" (১৯৯২), "Moments of Infinity" (১৯৯১) গ্রন্থে। কবি অমিতাভ গুপ্ত, সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলন চলাকালীন তাঁর কবিতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনবিরোধী নীতি ও নক্কারজনক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। সেই সব কবিতা নানা পত্র পত্রিকায় আন্দোলনকালেই প্রকাশিত হয়ছিল। আমাদের সাইটের "সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার" সংগ্রহেও তাঁর কয়েকটি কবিতা সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। সেই সব কবিতা এবং অন্যান্য আন্দোলন ও ঘটনাবলির প্রসঙ্গে লেখা কবিতা নিয়ে ১৪ই আগষ্ট ২০১০ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে "বিন্দু বিন্দু ধরিত্রী" বইটি। আমরা কবির অনুমতি নিয়ে তার থেকে ১০টি কবিতা এখানে প্রকাশিত করলাম।

মিলনসাগরে আমরা কবি অমিতাভ গুপ্তর এই পাতা ও কবিতা প্রকাশ করে আনন্দিত এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁর কবিতা পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রয়াসের সার্থকতা।


কবি অমিতাভ গুপ্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


কবির সঙ্গে যোগাযোগ - -
ঠিকানা - ৭৪ এ, যোধপুর পার্ক, কলকাতা-৭০০০৬৮ দূরভাষ - ৯১ ৩৩২৪১৩৭১৩৫

ফেসবুক -  
Poet-Essayist Amitabha Gupta          



আমাদের ই-মেল
: srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ
: +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭



এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৮.৭.২০১২
"যুক্তিশৃঙ্খল" কাব্যগ্রন্থের ৩৪টি কবিতা নিয়ে পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২৫.১১.২০১৩
"ও" কাব্যগ্রন্থের ১৫টি এবং "বিন্দু বিন্দু ধরিত্রী" থেকে ১২টি কবিতা নিয়ে পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১৭.২.২০১৬
"পূর্ণের অভিমান" কাব্যগ্রন্থের ৩৭টি কবিতা নিয়ে পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২৮.৩.২০২৩

^^ উপরে ফেরত