বনফুলের কবিতা
*
*.
*.
প্রয়োজনে প্রাণ দাও, আছে তাই দরও,
আধুনিক জগতের "প্রোলিটারিয়েট" ---
জন-সাধারণ-হিতে পুড়ে পুড়ে মর !
আমি সেকালের লোক, উত্সাহ চাই |"
এই শুনে ভিজে ঘুঁটে এত অবিরাম,
এতই ছাড়িল ধোঁয়া এত রকমের,
কবির নয়নে জল, সারা দেহে ঘাম !
এই শুনে ভিজে ঘুঁটে এত অবিরাম |

.            ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*.
জানি না মোদের পূর্বপুরুষ
মিলনসাগরকিসে যে ভুলিয়া গেলেন,
খাইবার পাস অতিক্রমিয়া
মিলনসাগরএ দেশে চলিয়া এলেন |
বহু শতাব্দী এই পোড়া দেশে
মিলনসাগরবাস করিবার পর
এই দশা হায় হয়েছে মোদের
মিলনসাগরকণ্ঠে ফোটে না স্বর |
ধোঁয়ার
য়েতে পালাই এখন,
মিলনসাগরপাখার বাতাসে ডরি,
আঁধারে আড়ালে লুকাইয়া থাকি
মিলনসাগরশিশুর চাপড়ে মরি !
এই দুর্দশা হয়েছে জানেন
মিলনসাগরজল-বাতাসের গুণে --- "
কর্ণকুহরে কহিল মশক
মিলনসাগরঅবাক হইনু শুনে |

.            ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*.
লেখাপড়া শেখা বৃথা ওরে তোর, কেরানি না হলি যদি,
প্রবন্ধে লেখে বাঙালী-লেখনী এই কথা নিরবধি !
 
মিলনসাগর হায় রে কপাল হায়,
চাকরি না পেলে বাঙালী-জীবন শুকায়ে মরিয়া যায় !

মাড়োয়ারী হল বড়লোক নাকি করিয়া দোকানদারি,
মাড়োয়ারী-মোহ বাঙালী-মনেতে প্রভাব করেছে জারি !
লেখাপড়া শিখে লাভ নেই কিছু, দোকান খুলিয়া বোস,
কিন্তু হায় রে ক্যাপিটাল কই এযে মহা আফসোস |
অগত্যা শেষে বাঙালী-বালক পিসা বা মেসোকে ধরে
চাকরি চেষ্টা করিয়া বেড়ায় প্রতি অফিসের দোরে !
 
মিলনসাগর হায় রে কপাল হায়,
চাকরি না পেলে বাঙালী-জীবন শুকায়ে মরিয়া যায় |

মানুষ হওয়া যে আগে দরকার, বাঙালী ভুলেছে তা কি !
সত্যিকারের মানুষ হলেই কতটুকু থাকে বাকি |
মনুষত্ব বিকশিত হলে বোঝা যায় নিমেষেই
জীবন ধারণ করিবার তরে বেশী প্রয়োজন নেই |
অল্প যা কিছু আছে প্রয়োজন, মানুষ হলে তা মেলে
আপিসে দোকানে স্বদেশে বিদেশে ঘরেতে কিংবা জেলে,
 
মিলনসাগর মানুষ হওয়া যে চাই,
মানুষ না হলে সহজ-সরল নাহি কোন পন্থাই |

মানুষ হবার সাধনা কোথায় ? কই চরিত্রবল ?
জীবন-পথের কোথা ওরে তোর সেই সেরা সম্বল ?
নির্ভিক প্রাণ, শিক্ষিত মন --- কই সে কর্ম-বীর ?
এ যে দেখি শুধু চাকরি-লোলুপ ভিখারীর যত ভীড় |
ভিখারী কখনও পায় কি শ্রদ্ধা ? কে দেবে তাহারে মান,
যে জন নিজেরে জীবনে কখনও করিল না সম্মান |
  
মিলনসাগর মানুষ হওয়া যে চাই,
মানুষ না হলে সহজ-সরল নাহি কোন পন্থাই |

নেপোলিয়নের কীর্তি পড় নি ? বুকার ওয়াশিংটন
ফোর্ড, এডিসন, গান্ধি, প্রতাপ, যতীন্দ্র, নেলসন
আরো কত আছে --- ভেবে দেখ তোরা জীবনে ইহারা সবে
মানুষ হবার সাধনা করিয়া ধন্য হয়েছে তবে |
মানুষের কাছে বিঘ্ন ও বাধা কিছু দুস্তর নয়,
বীর্যবন্ত রামচন্দ্র কি করে নি সাগর জয় ?
   
মিলনসাগর মানুষ হওয়া যে চাই,
মানুষ না হলে সহজ-সরল নাহি কোন পন্থাই |

চাকরির লোভ ছাড়রে বাঙালী, চাকরির মোহ ভোল,
কুসুমের মত জগতের মাঝে নিজেকে ফুটায়ে তোল |
ফুল তো কাহারো চকরি করে না, পাখী তো কেরানি নয়,
অথচ তাহারা কোন্ সুধারসে চির আনন্দময় ?
আকাশ হইতে আলোর বারতা মরমে তাদের পশে,
সার্থক তারা প্রকৃতির কোলে ধরণীর প্রাণরসে |
   
মিলনসাগর মানুষ হওয়া যে চাই,
মানুষ না হলে সহজ-সরল নাহি কোন পন্থাই |
মুগ্ধ হইলাম,
কহিলাম,
"ধন্য কবিবর,
এতকাল অন্তর-বিবর
ছিল অন্ধকারে |
আলোকিত তুমি তারে
করেছ আজিকে
কবিতাটি লিখে |
কী করিতে পারি, বন্ধু, কহ প্রতিদানে ?"
চাহি মোর পাণে
কহে কবি তুলি কণ্ঠ ক্ষীণ
মিলনসাগর "স্যর , I mean, milansagar.com
সার্খক কবিতা মোর, চিত্ত তব করিয়াছে জয়,
কিন্তু স্যর পাইলে অভয়
মনের কথাটি মোর কহি অকপটে |
কবিতা লিখেছি বটে
কিন্তু অন্তরে
যে কথাটি গুমরিয়া মরে
নিত্য রহি রহি
অভয় দেন তো যদি কহি ;
Milansagar.com I mean, মিলনসাগর   
চাকরি একটি দয়া করে জুটাইয়া দিন |"
কহে কবি তুলি কণ্ঠ ক্ষীণ |
মিলমসাগরের কবিতা
.            ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
ওরে ও বাঙালী
কবি বনফুল

ওরে ও বাঙালী, ওরে ও কাঙালী ওরে ওরো ভিক্ষুক,
পরের দুয়ারে হস্ত পাতিয়া আজো কি রে পাস সুখ !
কেরানীর জাতি বলি মারে লাথি উপহাস করে সবে
মানুষের মত যোগ দিবি কবে জীবনের উত্সবে !
স্বপন-কুহেলি ছিঁড়িয়া বাহিরে এসো না ভুলি
মিলনসাগরস্বপন ভাঙিলে গুমোর তোমার টিকিবে নাকো ||
স্বপন-কুহেলি ছিঁড়িয়া বাহিরে এসো না ভুলি
দুর্লভ ছিলে : তোমারপায়ের নখর হেরিতে পারি না কি
মিলনসাগর
মুগ্ধ কবির লেখনী রচিত কত স্তব
কোথা সেই কবি ? আজ দেখিতেছি তোমারে ঘেরি
মিলনসাগরদালাল দোকানী খরিদ্দারের মহোত্সব |
মিলনসাগরে মিলনসারে কবিতা কবিতা মিলনসাগরে
সুলভ তোমার প্রকাশ আজিকে রূপসী, অয়ি,
সিনেমায়, নাচে, বিজ্ঞাপনেতে লাস্যময়ী
ভাবিছে পশুটা এতদিনে আমি হয়েছি জয়ী
মিলনসাগরবস্তাবস্তা রূপসী মিলিছে --- শস্তা সব |
ভীড় বাড়িতেছে : মনের মানুষ মিলিল কই ?
মিলনসাগরকহ বিজয়িনী কেন শোচনীয় এ পরাভব |

.                     ******************     
.                                                                             
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
দিক-ভুল
মিলনসাগর ডট কমের কবিতা
ফুল-বনে গেল হুলো মার্জার,
সেথা নাকি তার ছোট ভার্যার
           নবম ছেলে,
"কলা"র চর্চা করিছে ঠেলে !
"বিড়াল বংশে এ কি জুটস রে,"
বলি মার্জার মহা হুল্লোড়ে
          ধাইলো বেগে,
ফুলের বাগানে হতাশে রেগে !
শখ যদি তোর, চল তবে যাই

গিয়ে দেখে ছেলে তবু ভাল, যাক,
ফুল-কলি পানে করি খালি তাক
          ঝাপায়ে পড়ে
ইঁদুর ভাবিয়া ফুলের 'পরে |
হুলে কয়, "ওরে, ইঁদুর ধরাই
শখ যদি তোর, চল তবে যাই
          গর্তে আছে |
ইঁদুর ফলে কি ফুলের গাছে ?"
মিলনসাগরের কবিতা 'পরে |
.        ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*.
আশাকরি ওপারেতে হবে মোলাকাত।

.             ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*.

.        ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*.
সেখানে বাঙালিরা পাচ্ছে নাকো পাত্তা।

.          ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*.

.          ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*.

.          ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
পরিমল, মরে গিয়ে বেঁচে গেলে ভাই
কবি বনফুল
বন্ধুবর পরিমল গোস্বামী মারা যাবার পরদিন, ২৭শে জুন ১৯৭৬ তারিখে কবির "মর্জি
মহল" নামের ডায়রিতে লেখা


পরিমল, মরে গিয়ে বেঁচে গেলে ভাই
রাম যবে শ্যামের বৌকে
কবি বনফুল
২৫শে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ তারিখে কবির "মর্জি মহল" নামের ডায়রিতে লেখা

রাম যবে শ্যামের বৌকে
কোলকাতা আজ অবাঙালির
কবি বনফুল
১১ই মে ১৯৭৫ তারিখে কবির "মর্জি মহল" নামের ডায়রিতে লেখা

কোলকাতা আজ অবাঙালির
.        নামটি কল্ কাত্তা
বাঙালিরা কোনোখানেই
ইমার্জেন্সির ফলে
কবি বনফুল
২রা আগস্ট ১৯৭৫ তারিখে কবির "মর্জি মহল" নামের ডায়রিতে লেখা

ইমার্জেন্সির ফলে
যারা বই লেখে
কবি বনফুল
৩০শে আগস্ট ১৯৭৪ তারিখে কবির "মর্জি মহল" নামের ডায়রিতে লেখা

যারা বই লেখে