| বিপ্লবী কবি বারীন্দ্রকুমার ঘোষ-এর গান ও কবিতা |
| অকিঞ্চনের প্রেম কবি বারীন্দ্র কুমার ঘোষ কবির ১৯২৫ সালে প্রকাশিত "দ্বীপান্তরের বাঁশী" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। তুমি নহ চাহিবার ধন!--- বুক ভরা মর্ম্ম ভরা অচিন্চ্য পরাণ কাড়া কালজয়ী সে তোমার আমার মিলন,--- কামনা কলুষ হরা মগ্ন স্বপন | তুমি নহ খুঁজে গো পাবার!--- নিজের মরণ কবে কে খুঁজে পেয়েছে ভবে? তুমি যে পাথার মোর ডুবে মরিবার,--- শ্মশান লক্ষ কোটী জনম লীলার | এ পরাণ পরশ রসিক!--- অলখে চুমিয়া মোরে কবে সব নেছ হরে মন আঁখি তাই তোমা চেয়ে অনিমিখ ; সব কামনার মম তুমি গে অধিক | এ প্রেম নাহি কি অবধি ; হরিতে আমার হিয়া কত রূপ রস দিয়া রচিছ এ মায়া ; কেন এত সাধাসাধি? তোমাতে যে কাম মোক্ষ লয়েছে সমাধি | অকূলের হে রাসবিহারী! পরশে সহজ করি সব যে গো আছ ভরি | তৃপ্তি মেনেছে হার আহা মরি মরি! ---সুখের অধিক মোর নির্ব্বাণ লহরী | . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অন্তর্মুখতা কবি বারীন্দ্র কুমার ঘোষ কবির ১৯২৫ সালে প্রকাশিত "দ্বীপান্তরের বাঁশী" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। এ পরাণে ওগো অগোচর! তুয়া বৃন্দাবন মাঝে রচি ফুলশয্যা লাজে কোথা রেখেছিলে মোরে করিয়া বিভোর ; অখণ্ডের ঘরে যেথা তব দূরান্তর | হে আমার মায়া যাদুকর! মজাইতে অবেলায় কেন গো জাগাতে তায়? সহজে পাগল দাসী ; অসহ সুন্দর--- তুমি যে তাহার সুখ-কলঙ্কের ডর | তব বুকে ঘুমাবার সাধ মেটেনি এখনো আজি লাজ মান ভয় ত্যজি ছিনু শুয়ে, সুখে মোর কে সাধিল বাদ? ---একাকারে চিনি ঘুম সুধার আস্বাদ | হে আমার সীমান্তে সোহাগ-সিন্দূর! . তব প্রেম কলঙ্কিনী . করিবে বৈকুণ্ঠ রাণী আমারে? সবে না সে যে সুখ ভরপুর ; তুয়া-সঙ্গ-সুধা মোর মরণ ঠাকুর | মোরা হব লক্ষ্মী নারায়ণ | এস ক্ষীর শ্যয্যাপাতি কাটাব অনন্ত রাতি, কোটী সৃষ্টি নাশা ওগো সে সহমরণ ত্রিতাপ জুড়ান মোর শ্রীঅঙ্গ চন্দন | মোর এস চির বিজয়াদশমী! জীবনের সপ্তস্বরা বাজিয়া হয়েছে সারা, শ্রান্তা ভোগপুরে তব বারবিলাসিনী ; তোমাতে গো গঙ্গাঞ্জলী কর তানে আনি | . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| স্বতঃস্ফুর্ত্ত কবি বারীন্দ্র কুমার ঘোষ কবির ১৯২৫ সালে প্রকাশিত "দ্বীপান্তরের বাঁশী" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। দু'টি কর্ণ ভরি পরাণ নিঙ্গাড়ি গঞ্জরে গোপন পথে, সে অলির ডাকে লাখে লাখে লাখে কি ফুল ফুটিল চিতে | বসন্ত সরস কার প্রেমরস কোন মঞ্জু বরষায়, হৃদি বিজ নিয়া করিল সিঞ্চিয়া হরিত সুরভিময়? অনূঢ়া যৌবনে কার আলিঙ্গনে মোরে করিল নবোঢ়া বঁধু? কারে নাথ করি আস্বাদিনু মরি এ পতি সোহাগ মধু? সিঞ্চিয়া সুধায় কে দিল আমায় যোগীর বাঞ্ছত ধন? আপনারি মাঝে খুঁজিয়া পেনু যে জগতের প্রস্রবণ! ধরা দেও যেথা মরণের নাম জীবন---সে বঁধু পাওয়া, অনন্তের সাথে চোখা চোখী হয়ে অধরে অধর দেওয়া | লক্ষ জনম মোর ফুলে গাঁথি ওরে প্রেম বৈজয়ন্তী মালা স্বয়ম্বরা হয়ে নিছিনু বরিয়ে আমি সে পরাণ কালা | কাল সেথা ওগো বঁধুর সোহাগ, দেশ তার প্রেমকোর, সৃষ্টি মোদের চুম্বন মধু, প্রলয় আঁখির লোর | . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |