| ||||||||||||
| বিদ্যাসুন্দর অন্নদামঙ্গল কাব্য (দ্বিতীয় খণ্ড), কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রী সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, ১৯৪৩ (ভাদ্র ১৩৫০) |
| দিবাবিহার ও মানভঙ্গ বিদ্যাসুন্দর, অন্নদামঙ্গল কাব্য (২য় খণ্ড) কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র এক দিন দিবাভাগে কবি বিদ্যাঅনুরাগে বিদ্যার মন্দিরে উপনীত। দুয়ারে কপাট দিয়া বিদ্যা আছে ঘুমাইয়া দেখিয়া সুন্দর আনন্দিত॥ রজনীর জাগরণে নিদ্রা যায় অচেতনে সখীগণ ঘুমায় বাহিরে। দিবসে ভুঞ্জিতে রতি সুন্দর চঞ্চলমতি অলি কি পদ্মিনী পাইলে ফিরে॥ মত্ত হৈলা যুবরাজ জাগিতে না সহে ব্যাজ আরম্ভিলা মদনের যাগ। না ভাঙ্গে নিদ্রার ঘোর কামরসে হয়ে ভোর স্বপ্নবোধে বাড়ে অনুরাগ॥ দিবসে রজনীজ্ঞান চুম্ব আলিঙ্গন দান বন্ধে বন্ধে বিবিধ বন্ধান। নিদ্রাবেশে সুখ যত জাগ্রতে কি হয় তত বুঝ লোক যে জান সন্ধান॥ সাঙ্গ হৈল রতিরঙ্গ সুখে হৈল নিদ্রাভঙ্গ রাঙ্গা আঁখি ঘূর্ণিত অলসে। বাহিরে আসিয়া ধনী দেকে আছে দিনমণি ভাবে এ কি হৈল দিবসে॥ আতিবিতি ঘরে যায় সুন্দরে দেখিতে পায় অভিমানে উপজিল মান। দিবসে নিদ্রার ঘোরে আলুথালু পেয়ে মোরে এ কর্ম কেবল অপমান॥ ঘৃণা লজ্জা দয়া ধর্ম নাহি বুঝে মর্ম্ম কর্ম্ম১ নিদারুণ পুরুষের মন। এত ভাবি মনোদুখে মৌন হয়ে হেঁটমুখে ত্যজে হার কুণ্ডল কঙ্কণ॥ সুন্দর বুঝিল মর্ম্ম ঘাটি হৈল এই কর্ম্ম কেন কৈনু হইয়া পাগল। করিনু সুখের লাগি হইনু দুঃখের ভাগী অমৃতে উঠিল হলাহল॥ কি করি ভাবেন কবি অস্তগিরি গেল রবি রাত্রি হৈল চন্দ্রের উদয়। করিবারে মানভঙ্গ কবি করে কত রঙ্গ ক্রোধে উপরোধ কোথা রয়॥ ছল করি কহে কবি হের যে উদিত রবি বিফলে রজনি গেল রামা। তোর ক্রেধানল লয়ে চন্দ্র আইল সূর্য্য হয়ে হের দেখ পোড়াইছে আমা॥ কেবল বিষের ডালি কোকিল পাড়িছে গালি ভ্রমর হুঙ্কার দিছে তায়। সেই কথা দূত হয়ে ঘরে ঘরে ফেরে কয়ে মন্দ মন্দ মলয়ের বায়॥ ফুল২ হাসে মোর দুখে সুগন্ধ প্রফুল্লমুখে সব শত্রু লাগিল বিবাদে। ভরসা তোমার সবে তুমি না রাখিলে তবে কে রাখিবে এমন প্রমাদে॥ অপরাধ করিয়াছি হজুরে হাজির আছি ভুজপাশে বান্ধি কর দণ্ড। বুকে চাপ কুচগিরি নখাঘাতে চিরি চিরি দশনে করহ খণ্ড খণ্ড॥ আঁটিয়া কুন্তল ধর নিতম্বপ্রহার কর আর আর যেবা মনে লয়। কেন রৈলে মোনী হয়ে গালি দেহ কটি কয়ে কেরোধ কৈলে গালি দিতে হয়॥ এরূপে সুন্দর যত চাতুরি কহেন কত বিদ্যা বলে ঠেকেছেন দায়। জানেন বিস্তর ঠাট দেখাইব তার নাট কথা কব ধরাইয়া পায়॥ ভাবে কবি মহাশয় লঘু মধ্য মান নয় সে হইলে ভাঙ্গিত কথায়। গুরু মান বুঝি ভাবে চরণে ধরিলে যাবে দেখি আগে কতদূর যায়॥ চতুর কুমার ভাবে জীব বাক্যে মান যাবে হাঁচিলেন নাকি কাঠি দিয়া। চতুরা কুমারী ভাবে জীব কৈলে মান যাবে জীব কব না কথা কহিয়া॥ জীব বুঝাবার তরে আপন আয়তি ধরে তুলি পরে কনককুণ্ডল। দেখি ক্রিয়া বিদগ্ধায় বাখানে সুন্দররায় পায়ে ধরি ভাঙ্গিল কন্দল॥ হৃদে ধরে রাঙ্গা পদ হ্রদে যেন কোকনদ নূপুর ভ্রমর ধ্বনি করে। ভারত কহিছে সার বলিহারি যাই তার হেন পদ মাথায় যে ধরে॥ ************ ১ – পু১ --- মর্ম্মামর্ম্ম ২ – পু৪, বি --- বৃক্ষ **************** . কবির মূল সূচিতে ফেরত . . . মিলনসাগর |
| বিদ্যাসুন্দর কাব্যের সূচি |