| ||||||||||||
| বিদ্যাসুন্দর অন্নদামঙ্গল কাব্য (দ্বিতীয় খণ্ড), কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রী সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, ১৯৪৩ (ভাদ্র ১৩৫০) |
| রাজার বিদ্যাগর্ভ শ্রবণ বিদ্যাসুন্দর, অন্নদামঙ্গল কাব্য (২য় খণ্ড) কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র ক্রোধে রাণী ধায় রড়ে আঁচল ধরায়১ পড়ে আলু থালু কবরীবন্ধন। চক্ষু ঘুরে যেন চাক হাতনাড়া ঘন ডাক চমকে সকল পুরজন॥ শয়নমন্দিরে রায় বৈকালিক নিদ্রা যায় সহচরী চামর ঢুলায়। রাণী আইল ক্রোধমনে নূপুরের ঝনঝনে উঠি বৈসে বীরসিংহ রায়॥ রাণীর দেখিয়া হাল জিজ্ঞাসয়ে মহীপাল কেন কেন কহ সবিশেষ। রাণী বলে মহারাজ কি কব কহিতে লাজ কলঙ্কে পূরিল সব দেশ॥ ঘরে আইবড় মেয়ে কখন না দেখ চেয়ে বিবাহের না ভাব উপায়। অনায়াসে পাবে সুখ দেখিবে নাতির মুখ এড়াইলে ঝির বিয়াদায়॥ কি করিব হায় হায় জ্বলন্ত আগুনপ্রায় আইবড় এত বড় মেয়ে। কেমনে বিবাহ হবে লোকধর্ম্ম কিসে রবে দিনের দেখিতে হয় চেয়ে॥ উচ্চ মাথা হৈল হেঁট বিদ্যার হয়েছে পেট কালামুখ দেখাইবে কারে। যেমনি আছিল গর্ব্ব তেমনি হইল খর্ব্ব অহঙ্কারে গেলে ছারখারে॥ বিদ্যার কি দিব দোষ তারে বৃথা করি রোষ বিয়া হৈলে হৈত কত ছেলে। যৌবনে কামের জ্বালা কদিন সহিবে বালা কথায় রাখিব কত টেলে॥ সদা মত্ত থাক রাগে কোন ভার নাহি লাগে উপযুক্ত প্রহরী কোটাল। এক ভস্ম আর ছার দোষ গুণ কব কার আমি মৈলে ফুরায় জঞ্জাল॥ যে জন আপনা বুঝে পরদুঃখ তারে শুঝে সকলে আপন ভাবে জানে। রাণী গেলা এত বলে বীরসিংহ ক্রোধে জ্বলে বার দিল বাহির দেয়ানে॥ কালান্তকালের কাল ক্রোধে কহে মহীপাল কে আছে আন ত কোটালে। উকীল আছিল যারা কীলে সারা হৈল তারা কোটালের যে থাকে কপালে॥ হুঙ্কারে২ হুকুম পায় শত শত খোজা ধায় খানেজাদ চেলা চোপদার। কীল লাথি লাঠি হুড়া চর্ম্ম উড়ে হাড় গুঁড়া এনে ফেলে মৃতের আকার॥ ক্ষণেকে সম্বিত পেয়ে জোড়হাতে রহে চেয়ে ভারত কহিছে কহে রায়। যেমন নিমক খালি হালাল করিলি ভালি মাথা কাটি তবে দুঃখ যায়॥ ******************* ১ – পু১, পী --- ধুলায় ২ – পু১, পু৩ --- ইঙ্গিতে **************** . কবির মূল সূচিতে ফেরত . . . মিলনসাগর |
| বিদ্যাসুন্দর কাব্যের সূচি |