| ||||||||||||
| বিদ্যাসুন্দর অন্নদামঙ্গল কাব্য (দ্বিতীয় খণ্ড), কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রী সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, ১৯৪৩ (ভাদ্র ১৩৫০) |
| মালিনী নিগ্রহ বিদ্যাসুন্দর, অন্নদামঙ্গল কাব্য (২য় খণ্ড) কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র মালিনী কীল খাইয়া বলিছে দোহাই দিয়া। আমারে যেমন মারিলি তেমন পাইবি তাহার কিয়া॥ নষ্টের এ বড় গুণ পিঠতে মাখয়ে চূণ। কি দোষ পাইয়া অরে কোটালিয়া মারিয়া করিলি খুন॥ এ তিন প্রহক রাতি ডাকিয়া কর ডাকাতি। দোহাই রাজার লুঠিলি আগার ধরিয়া খাইলি জাতি॥ কোটাল হাসিয়া কয় কহিতে লাজ না হয়। হেদে বুড়ী শালী বলে জাতি খালি শুনিয়া লাগয়ে ভয়॥ হীরা বলে অরে বেটা তোরে ভয় করে কেটা। তোর গুণপনা১ জানে সর্ব্বজনা পাসরিলি বটে সেটা॥ কোটাল কহিছে রাগি কি বলে রে বুড়া মাগী। ঘরে পোষে চোর আরো কহে জোর এ বড় কুটিনী ঘাগী॥ হীরা কহে পুন জোরে কুটিনী বলিলি মোরে। রাজার মালিনী বলিলি কুটিনী কালি শিখাইব তোরে॥ যুবতী বেটী বহুড়ী না রাখি আপনি বুড়ী। কার বহু বেটি কারে দিনু ভেটী যে বলে সে হবে কুড়ী॥ লোকের ঝি বহূ লয়ে সদা থাক মত্ত হয়ে। তোর ঘরে যত সকলি অসত আমি দিতে পারি কয়ে॥ ধূমকেতু ক্রোধে ফুলে ভূমে পাড়ে ধরি চুলে। কুটিনী গস্তানী বড় যে মস্তানী উভে উভে দিব শূলে॥ আমারে হেন উত্তর এখন না হয় ডর। রাজার নন্দিনী হয়েছে গর্ভিণী তুই দিলি চোরা বর॥ হীরারে হইল ভয় কানে হাত দিয়া কয়। আমি জানি নাই জানেন গোসাঁই যতো ধর্ম্মস্ততো জয়॥২ শুনিয়া কোটাল টানে সুড়ঙ্গের কাছে আনে। এই পথ দিয়া চুরি কৈল গিয়া মালিনী বলে কে জানে॥ মালিনী বুঝিল মর্ম্ম কোটাল জানায় ধর্ম্ম। হোমকুণ্ড বলি বুঝি মোরে ছলি সুন্দরের এই কর্ম্ম॥ হাতে লোতে৩ ধরিয়াছে আর কি উপায় আছে যার ঘরে সিঁধ সে কি যায় নিদ৪ ইহা কব কার কাছে॥ কোটাল জিজ্ঞাসা করে হীরার কথা না সরে। চোরের যে ছিল লুঠিয়া লইল যে ছিল হীরার ঘরে॥ খুঙ্গী পুথি রত্নভারে দিতে হবে সরকারে। পিঞ্জর সহিত লয় হরষিত পড়া শুক সারিকারে॥ মালিনী অবাক ত্রাসে কোটাল মুচকি হাসে। সুড়ঙ্গে ফেলিয়া পায়ু ছেঁচুড়িয়া লইল চোরের পাশে॥ সুন্দর কহেন হাসি এস গো মাসী হিতাশী। মালিনী রুষিয়া বলে গালি দিয়া কে তুই কে তোর মাসী॥ কি ছার কপাল মোর আমি মাসী হব তোর। মাসী মাসী কয়ে ছিলি বাসা লয়ে কে জানে সিঁধেল চোর॥ যজ্ঞকুণ্ড ছল পাতি সিঁধ কাটা সারা রাতি। আই মা কি লাজ করিলি যে কাজ ভাগ্যে বাঁচে মোর জাতি॥ যত দিন আর জীব কারেহ না বাসা দিব। গিয়া তিন কাল শেষে এই হাল খত বা নাকে লিখিব॥ অরে বাছা ধূমকেতু মা বাপের পূণ্যহেতু। কেটে ফেল চোরে ছাড়ি দেহ মোরে ধর্ম্মের বাঁধহ সেতু॥ সুন্দর হাসি আকুল মাসী সকলের মূল। বিদ্যার মাশাশ মোর আইশাশ পড়ি দিয়াছিল ফুল॥ কৌতুক না বুঝে হীরা পুনঃ পুনঃ করে কিরা। কি বলে ডেগরা বড় যে চেগরা ঐ কথা ফিরা ফিরা॥ কোটাল কহে এ নয় দুহারে থাকিতে হয়। রাজার নিকটে যাহার যা ঘটে ভারত উচিত কয়॥ ******************* ১ – পু১, পু২, পু৩, পু৪, গ, পী --- গুণ্ডাপনা ২ – পু১ --- যত ধর্ম্ম তত জয়॥ ৩ – পু১ --- নাতে ৪ – পু১, পু৩ --- . . . সেই যায় নিদ **************** . কবির মূল সূচিতে ফেরত . . . মিলনসাগর |
| বিদ্যাসুন্দর কাব্যের সূচি |