| ||||||||||||
| বিদ্যাসুন্দর অন্নদামঙ্গল কাব্য (দ্বিতীয় খণ্ড), কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র শ্রী ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রী সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, ১৯৪৩ (ভাদ্র ১৩৫০) |
| দেবীর সুন্দরে অভয় দান বিদ্যাসুন্দর, অন্নদামঙ্গল কাব্য (২য় খণ্ড) কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বরপুত্র চোর হৈল কোটাল মশানে লৈল কালীর অন্তরে হৈল রোষ। সাজ বলি কৈলা রব ধাইল যোগিনী সব অট্টহাস ঘর্ঘর নির্ঘোষ॥ ডাকিনী হাকিনী১ ভূত শাঁখিনী পেতিনী দূত ব্রহ্মদৈত্য ভৈরব বেতাল। পিশাচ ভৈরব চলে যক্ষ রক্ষ আগুদলে ঘন্টাকর্ণ নন্দী মহাকাল॥ লোল জটা কেশপাশ অট্ট২ অট্ট অট্ট হাস চক্রসম রাঙ্গা ত্রিনয়ন। লোল জিহী লক লক ভালে অগ্নি ধক ধক কড়মড় বিকট দশন॥ মুখ অতি সুবিস্তার সৃক্কেতে রক্তের ধার৩ শবশিশু শ্রবণে কুণ্ডল। খড়গ মুণ্ড বরাভয় চারি হস্ত মোহময় গলে মুণ্ডমালা দলমল॥ দৈত্যনাড়ী গাঁথা থরে কিঙ্কিণী দৈত্যের করে অস্থিময় নানা অলঙ্কার। রুধির মাংসের লোভে চারি দিকে শিবা শোভে ফে রবে ভূবন চমত্কার॥ পদভরে টলমল স্বর্গ মর্ত্ত্য রসাতল অকালপ্রলয় নিবারণে। শিব শবরূপ হয়ে হৃদয়ে সে পদ লয়ে ধ্যানে শুয়ে মুদ্রিতলোচনে॥ এইরূপে বর্দ্ধমানে রহিলা আকাশযানে সুন্দরেরে করিয়া অভয়। মা ভৈষীঃ মা ভৈষীঃ বেটা তোরে বা বধিবে কেটা৪ তবে আজি করিব প্রলয়॥ তোরে রাজা বধে যদি রুধিরে বহাব নদী বীরসিংহে সবংশে বধিয়া। তোরে পুন বাঁচাইয়া বিদ্যা দিব রাজ্য দিয়া ভয় কি রে বিদ্যাবিনোদিয়া॥ দেবীর আকাশবাণী শুনিলা সুন্দর জ্ঞানী আর কেহ শুনিতে না পায়। ঊর্দ্ধমুখে কবি চায় দেবীরে দেখিতে পায় পুলকে পূরিল সব কায়॥ কালিকার অনুগ্রহে সুন্দর আনন্দে রহে দূর হৈল যতেক বন্ধন। কোটালে সৈন্যের সনে বান্ধিলেক জনে জনে ডাকিনী যোগিনী ভূতগণ॥ এরূপে সুন্দর আছে ওথায় রাজার কাছে গঙ্গ ভাট হৈল উপনীত। ভারত সরস ভণে শুন সবে একমনে ভাট ভূপে কথা সুললিত॥ ****************** ১ – পু১ --- যোগিনী ২ – পু১, পী --- মুখে ৩ – পু১ --- . . . এষ্ঠেতে রুধিরধার **************** . কবির মূল সূচিতে ফেরত . . . মিলনসাগর |
| বিদ্যাসুন্দর কাব্যের সূচি |