কবি বিজয় গুপ্ত-র মনসামঙ্গল কাব্য যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
হরিধ্বনি জয় জোকার বচাইর নগর | নাচিতে লাগিল শিব হয়ে দিগন্তর || একেত পাগল শিব নাচে আপন মনে | লজ্জায় কাতর হইল যত নারীগণে || পরস্পর নারীগণ আছয়ে গন্ডগোলে | না জানি কি হয় কার কর্ম ফলে || এতেক অদ্ভুত রূপ বচাই দেখিয়া | শিবের চরণে পড়ে দন্ডবৎ হইয়া || কৃপার সাগর প্রভু কৃপা হল জনে জনে | স্থির হইয়া সিলেন বৃষভ আসনে || প্রণাম করিয়া তারা বলে জনে জন | আনন্দিত হইয়া তারা জোগাড়ে দিল মন || স্নান করি বচাই মনে করিলেক সার | পদ্মার চরণে প্রণাম করে বার বার || পদ্মা বলে চেয়ে ছিলে বিবাহ কারণে | এখন চরণে পড় কাহার বচনে || বচাই বলে চর্মচক্ষে চিনিতে না পারি | অপরাধ ক্ষমা কর জয় বিষহরি || হয়েছে অযোগ্য ক্রোধ লও সম্বরিয়া | তোমারে করিব পূজা কামনা করিয়া || লক্ষ টাকা থুইল বচাই আঁচলে বান্ধিয়া | বাজার নগরে বচাই উত্তরিল গিয়া || কুমার দোকান কিনে ঘট আর শরা | মালীর দোকানে কিনে পুষ্প ছড়া ছড়া || বাছিয়া বাছিয়া আনে যত উপহার | পদ্মার উদ্দেশ্যে সদা করে নমস্কার || একে বারে লক্ষ পাঠা আনিয়া লইল | মনসার প্রীতে সব উৎসর্গ করিল || খান্ডা হাতে বচাই বাহির হইল | ছাগ কাটিয়া দেবীর চরণে পড়িল || সন্তুষ্ট হইল বড় জয় বিষহর | আইস বচাই পুত্র বুঝি লও বর || রাজ্যের রাজা হও তুমি জগত ঈশ্বর | এই বর দিলা তারে জয় বিষহর || যেই যেই বর দিলা বচাই হালিয়ার তরে | সেই সেই বর দিও তোমার ভক্তেরে || বাপ ঝির পূজা হইল বচাইর নগরে | পদ্মা লইয়া শিব চলে আপন ঘরে || বিজয়গুপ্ত রচে দেবী মনসার বরে | তাহা মিলনসাগর অদ্য পুনঃপ্রচার করে || . **************** সূচি...
মিলনসাগর
|
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
২
জয় জয় বিষহরি শিবের কুমারী বন্দম চরণ তোমার মাতা পদ্মাবতী | নাগ বংশ রাখিবারে ব্রহ্মায় সৃজিল তোরে নাম থুইল দেবী পদ্মাবতী || ক্ষীরোদ মথন কালে সুরাসর দেবগণে তাহাতে পাতিল বিভীষিকা | সেই মহাদেব হইয়া না বুঝিল তোমার মায়া যোগ বলে মহাদেবের রক্ষা | ( তোমার তেজ কেবা সহে দেবগণ কাঁপে ভয়ে পাতালে মোহন রূপ চারু | নাগবংশ রাখিবারে ব্রহ্মায় সৃজিল তোরে বিহা করিল মুনি জরৎ কারু || ) বিজয় গুপ্ত কবি ভনে বহুরূপ গুণ জানে সে পুনি তোমার হইল দাস ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
|
চাল হইতে নামাইল ফুলের করন্ডী ||
ইহার তরে ভাঙ্গারা ভাড়িয়া গেলা আজি |
সকল ফুল বিচির আজি ভাঙ্গিব ফলের সাজি ||
অতি কোপে ব্যাকুল দেবী পাছে নাহি গণি |
আথে ব্যাথে ফেলাইল ফুলের ঢাকনি ||
হাতের ঠেলায় পুষ্প বিচে চারিভিতে |
পুষ্পমধ্যে দিব্য কন্যা দেখে আচম্বিতে ||
খলখলি হাসে দেবী হস্তে দিয়া তালি |
পুষ্পবনে গিয়া কার নারী করিলে চুরি ||
আপন ইচ্ছায় গালি দেয় কারো ভয় নয় |
মুখে গালি পাড়ে দেবী যত মনে লয় ||
খলখলি হাসে দেবী হাতে দিয়া তালি |
চাপড় চোপড় মারে দেয় চূণ কালি ||
বুকে পৃষ্ঠে মারে দেবী বজ্র চাপড় |
মারনের ঘায়ে পদ্মা কাঁপে থরথর ||
বিপরীত ডাকে পদ্মা প্রাণে লাগে ব্যথা |
নিষ্ঠুর হইয়া মারে কার্তিকের মাতা ||
চন্ডীর প্রহার পদ্মা সহিতে না পারি |
বাপ বাপ বলি ডাকেন বিষহরি ||
কোথাগেলা বাপ মোর ত্রিদশাধিপতি |
নিকটে আসিয়া দেখ আমার দুর্গতি ||
তুমি বিদ্যমানে মোর অন্য জন মারে |
শূন্য ঘরে প্রাণ দিব চন্ডীর প্রহারে ||
( ব্যাধের হাতে পড়ে যেন পক্ষীর কিল কিলি |
উচ্চৈঃস্বরে ডাকে পদ্মা বাপ বাপ বলি ||
উচ্চৈঃ স্বরে ডাকে পদ্মা বলে বাপ বাপ |
তবুও দেবীর শরীরে কিঞ্চিৎ নাই তাপ ||
শুনিয়া সত্বর আইল যত নারীগণ |
আচম্বিতে হুড়াহুড়ি কিসের কারণ ||
জয়া বিজয়া আইল চন্ডীর দুই সখী |
ক্রন্দন শুনিয়া বলে চল গিয়া দেখি ||
সুচরিতা বসুমাতা আইলা দুই দেবী |
থাকুক অন্যের কাজ আসিলা জাহ্নবী ||
কানাকানি নারীগণে করে চারিধারে |
পরমা সুন্দরী কন্যা চন্ডী কেন মারে ||
পরমা সুন্দরী কন্যা অকুমারী বেশ |
চন্ডীর প্রহারে তার তনু হইল শেষ ||
অতি কোপে মারে চন্ডী সহিতে না পারে |
কাতর হইয়া পদ্মা চন্ডীর পায়ে ধরে ||
পদ্মা বলে দেবী তুমি জগতের মাতা |
অবিচারে মার মোরে পাছে পাবা ব্যথা ||
মন দিয়া শুন মাতা কহি তোমার ঠাঁই |
মহাদেবের কন্যা আমি উদাসিনী নই ||
অবিচারে অনুচিত করিলা অধর্ম |
মহাদেবের কন্যা আমি অযোনি সম্ভব ||
পদ্মবনে জন্ম আমার নাম পদ্মাবতী |
তোমার ঘরে আসিলাম কাল বাপের সংহতি ||
মা নাহি ভাই নাহি মনে বড় তাপ |
তোমার ক্রোধ দেখিয়া লুকাইয়া থুইল বাপ ||
কোপেতে ব্যাকুল তুমি পাছে নাহি চাও |
উচিত সম্বন্ধে তুমি হও সৎ মাও ||
কহিলাম সকল কথা যত মনে আসে |
না বুঝিয়া কোপ কর দুঃখ পাইবা শেষে ||
চন্ডী বলে মোর ঠাঁই না রহে নারীকলা |
মোর স্বামী লোভে তুমি আসিয়াছ কি কারণ ||
চন্ডীর প্রহার পদ্মা সহিতে না পারি |
গঙ্গা সম্বরিয়া বলে জয় বিষহরি ||
বিজয় গুপ্ত বলে গাইন দুঃখ লাগে বড়ি |
এই কালে বল ভাই করুণ লাচারি ||
বিজয়গুপ্ত রচে দেবী মনসার জারি |
ধন্য মিলনসাগর তাহা পুনঃপ্রচারি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
৪
গঙ্গা গো সৎমাও বাহির হইয়া চাও ভবানী আমাকে মারে | আপনি আসিয়া চাও খন্ড খন্ড কৈল গাও বুক নাড়িতে নারি ভারে || ধরিয়া দীঘল চুল মারে চন্ডী উভা কিল ভবানী আমারে করে বশ | জন্মিলাম কমলবনে আসিলাম তোমা দরশনে বুঝিতে নারিলাম তোমার আশ || বাপের বোল ভর করি আসিলাম সুরপুরী আমার নাম জয় মনসা | বিজয় গুপ্ত বলে সার পদ্মারে না মার আর প্রমাদে ফেলিবে অবিচারে ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
|
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
৫
ভাল মন্দ না বলে বুঝে পদ্মার মন |
পদ্মার দুঃখ দেখিয়া কাতর নারীগণ ||
কাতরস্বরে কান্দে পদ্মা করিয়া কাকুতি |
কোপমনে বলে পদ্মা কি কর পার্বতী ||
মহাদেবের কন্যা ও বলে বার বার |
হেনজনে মার তুমি কোন ব্যবহার ||
স্নান হেতু গেল প্রভু জাহ্নবীর জল |
ঘরে আসিলে বার্তা জানিবা সকল ||
যাবৎ না ঘরে আসেন দেব অধিকারী |
ভালমন্দ না বুঝিয়া উহারে কেন মারি ||
মহাদেবের ঝি হইলে আপনার ঝি |
হেন জন মারে কৌতুক বাস কি ||
সাহসালী নারী তুমি বিরোধে আগল |
আপনার দোষে তুমি করহ কন্দল ||
দূরে ঘোচ চন্ডী তোর স্বামীকে ভয় নাই |
লাচারি বলিতে ভাই এইত সময় ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
৬
তোমার মনে লয় কি ও বলে শিবের ঝি না বুঝিয়া হেনজন মারি | তুমি সাহসালী ঘরে কলঙ্ক রাখিয়া কুলে শুনিয়া হাসিবে সর্বনারী || ত্যজিয়া ধর্মের ভয় পেটের ছাওয়াল লয়ে গৌরবিত সতীনের ঝি | পদ্মারে ধরিয়া করে অবিচারে মারে তারে স্বামী শুনিলে লিবে কি ? চন্ডী বলে গঙ্গা শুন বিবাদে নাহিক মন পরের বিবাদে কেন জুড়ি | অনুচিত করি আমি তাহার ফল দিবে স্বামী তাহাতে আরের মাথা ঘুরি || বলে ভাল নিজ জনা যাহার যত সতী পনা তাহাত মুই জানি ভাল মতে | আনিতে ভগীরথে ঠেকিলা পর্বত পথে শৃঙ্গার মাগিলা ঐরাবতে || লোক মুখে হেন শুনি পথে পেয়ে জহ্ন মুনি গন্ডূষে তুলিয়া করে পান | তুষিয়া কাকুতি মতে বাহির হইলা কর্ণ পথে তবু তোর নাহি অপমান | | মল মূত্র যত ছার অপবিত্র যত আর নরকে পূর্ণিত তোর নীর | অশেষ পাতক করে সেই তোমার জলে মরে তবু তোমার নির্মল শরীর || গঙ্গা লে চন্ডী রহ বড় কথা যত কহ উচিত কহিতে লাগে দ্বন্দ্ব | যাহার তাহার ঘরে যাও মৎস্য মাংস বলি খাও সেও কি আরের বলে মন্দ || তুমি কি না জান এবে অসুরে শঙ্কর সেবে তাহারে বর দিলা পশুপতি || অসুরে যাহারে ছোঁয় করে সেজন তখনি মরে সেও তোর মাগিল সুরতি || কাহার কিনা জানি আমি নিত্য গালি পাড়ে স্বামী তবু তুমি বেড়াও কোন্দলে || তুমি মনসুখে কর কেলি হের আমি ঘরে চলি বিবাদে নাহিক কোন ফল || চন্ডীরে ভৎসিয়া ছলে কোপে গঙ্গা ঘরে চলে সখীগণ রহিলা চারিধারে | বিজয় গুপ্ত বলে সার পদ্মারে না মার আর প্রমাদে ফেলিবে অবিচারে ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
|
ক্ষণে বলে মরিলাম প্রাণ হইল শেষ |
কালবিছে আচ্ছাদিল শরীরে বিশেষ ||
লড়বড় করে মুন্ড মুখে ওঠে ফেণা |
কালবিষে চাপিয়াছে না বাসে আপনা ||
নাকে মুখে শ্বাস নাহি অতি ক্ষীণকায়া |
অচেতন হইয়া পড়ে দেবী মহামায়া ||
এক ভিতে হাত পড়ে আর ভিতে পাও |
পদ্মার ঘায়ে প্রাণ দিল কার্তিকের মাও ||
অচেতন হইয়া পড়ে নাহিক চেতন |
টলমল করি কাঁপে এ তিন ভুবন ||
শিবের কুমারী পদ্মা পরম দেবতা |
আপন দোষে মরে চন্ডী আরের কিবা কথা ||
শক্তিরূপী মহামায়া সৃষ্টির সহায় |
হেনজন প্রাণ দিল মনসার ঘায় ||
আরজন কেবা আছে ডরায় বিধাতা |
মোর মনে লয় পদ্মা দেবের দেবতা ||
ভকতবৎসলা দেবী অনাথের গতি |
একভাবে পূজা কর দেবী পদ্মাবতী ||
বিজয় গুপ্ত বলে গাইন বল রাম রাম |
পদ্মার চরণে সে করহ প্রণাম ||
চন্ডিকা ঢলিল হেন বুঝিল লক্ষণ |
আথেব্যাথে ধাইয়া আসিল দেবগণ ||
কেহ কানে মন্ত্র জপে কেহ রক্ষা বান্ধে |
দেবী দেবী বলি কেহ উচ্চৈঃস্বরে কান্দে ||
উঠ উঠ বলি কেহ কর্ণমূলে ডাকে |
মর্মশ্বাস চাহে কেহ তুলা দিয়া নাকে ||
অশেষ বিশেষ করে যত নারিগণ |
ছন্ডীর শরীরে নাই , জীবের লক্ষণ ||
শীঘ্র করি গঙ্গতীরে ধাইয়া গেল চর |
শুনিয়া ত্বরিতে আইলা দেব মহেশ্বর ||
আচম্বিতে মরে চন্ডী ছোট নহে কথা |
শুনিয়া দেখিতে আইল যতেক দেবতা ||
চন্ডিকার মৃত্যু দেখি স্থির নহে চিতে |
ভূমি আকর্ষিয়া শিব পড়িল ভূমিতে ||
বিজয় গুপ্ত বলে গাইন মনের ঘুচাও ধন্দ |
এইকালে বল ভাই লাচারির ছন্দ ||
বিজয়গুপ্ত রচে দেবী মনসার জারি |
ধন্য মিলনসাগর তাহা পুনঃপ্রচারি ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
৮
আজি বিধি হইল বাম ঘুচিল অন্তরের কাম দেশান্তরী হইব যোগী হইয়া | হেন দেবী ভূমে লোটে দেখিয়া পরাণ ফাটে আজু ঘরে যাব কারে লইয়া || কাহার বিধি হেন করে বৃদ্ধকালে স্ত্রী মরে কাহার মুখ চাহিবে দুই পোয়ে || বাসরে ত গৃহ শূন্য জীবনের কিবা পুণ্য লোকের মুখ চাহিব কোন লাজে | পূর্বজন্মে করিলাম পাপ শরীরে না সহে তাপ নিশ্চয় মজিব জল মাঝে || হিয়া হানে ছিড়ে চুল সঘনে লোটায় ধূল গৌরী গৌরী ডাকে উচ্চরায়া | যাত্রা করিলাম শুভক্ষণে কন্যা পাইলাম পুষ্পবনে পুত্রের অধিক করি দয়া || করুণা করিয়া কান্দে আপনার কর্ম নিন্দে শুনিয়া কাতর দেবগণ | পদ্মাবতী দরশনে সানন্দে বিজয় ভনে যাহারে সদয় নারায়ণ ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
|
চন্ডীর অঙ্গের গেল কালকূট বিষ ||
দুই আঁখি প্রসন্ন হইল নির্মল হইল কায়া |
নিন্দে গা মোড় দিয়া দেবী মহামায়া ||
গায়ের ধূলা ঝাড়ি শিব হইল হরষিত |
লাজে ব্যাকুল দেবী চাহে চারিভিত ||
চারিদিকে চাহে দেবী কাতর নয়ন |
চন্ডিকার মুখ দেখিয়া কৌতুক দেবগণ ||
বিজয় গুপ্ত বলে গাইন মন দেও কাজে |
সরস লাচারি বল মহাদেব নাচে ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
১০
জগত মোহন শিবের দাস |
সঙ্গে নাচে শিবের ভূত পিশাচ ||
রঙ্গে নেহারিল গৌরীর মুখ |
নাচে গঙ্গাধর মনের কৌতুক ||
হাসিতে খেলিতে চলিতে রঙ্গ |
নন্দী মহাকাল বাজায় মৃদঙ্গ ||
শিবাই নাচেরে মুখে গীত গাহে |
হাততালি দিয়া কিঙ্করে গীত গাহে ||
বিজট দশনে ভ্রূকুটি ভাল সাজে |
ডুম ডুম বলিয়া ডুম্বুরা বাজে ||
মরে ছিল চন্ডিকা জীল আরবার |
ডাকিনী যোগিনী দিল জয় জোকার ||
কার্তিক গণপতি দাঁড়াইয়া কাছে |
গৌরীর মুখ নেহালিয়া ত্রিলোচন নাচে ||
দেখিয়া কৌতুক দেব সমাজে |
পুষ্প বরিষণ করে ধুমধুমি বাজে ||
( পদ্মার চরিত্র চিন্তয়ে মনে মন |
প্রণতি স্তুতি করে সকল দেবগণ || )
ডাহিনে গৌরী বামে পদ্মাবতী |
হাসিয়া চলিল ঘরে দেব পশুপতি ||
বৈদ্য বিজয় গুপ্ত সরস গায় |
পদ্মাবতীর বিক্রমে সবার লাগে ভয় ||
সেই পদ্মাবতী করুণ নায়কের নিস্তার |
মরেছিল চন্ডিকা জীল আর বার ||
বাপের ঘরে আছে পদ্মা স্বতন্তরে খায় |
গৌরব করিয়া পালন করেন মহামায়া ||
মা নাহি পদ্মাবতীর বাপে করে দয়া |
বিক্রম জানিয়া পালন করেন মহামায়া ||
বিজয় গুপ্ত রচে পুথি মনসার বর |
গৌরী কেন্দল পালা এইখানে সোসর ||
. **************** সূচি...
মিলনসাগর
কবি বিজয় গুপ্তর মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
১ পার হয়ে মহাদেব আনন্দিত মন | বৃষে চড়ি গেল শিব বচাইর ভবন || বচাইর ভবনে শিব পদ্মা গেল থুইয়া | উভ হাতে ফুলের সাজি এড়িল তুলিয়া || মণিকণির্কার ঘাটে স্নান করে হর | হাল চষিয়া বচাই চলিয়া আইল ঘর ||
|
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
৭
( সেই পদ্মাবতী নায়কের পূরাও আশ |
ভর্ৎসিয়া চলিল দেবী আপনার বাস ||
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
৩
বন্দিলাম বন্দিলাম মাগো তালে দিয়া ঘা |
অবধান কর মাগো জগত গৌরী মা ||
জরৎকারু মুনি বন্দম মুনি পুরন্দর |
ভক্তি পুরঃসর বন্দম দেব মহেশ্বর ||
আস্তিক নামে মুনি বন্দম পদ্মার তনয় |
কবি বিজয় গুপ্তর
মনসা মঙ্গল
গৌরী কোন্দল পালা
৯
কাতর স্বরে কান্দে শিব মনে লাগে ব্যথা |
নারদ বলে মামা শুন মোর কথা ||
মিছা ক্রন্দনে আর কিছু নাহি কাজ |
স্ত্রী লাগি কান্দ মামা চোখে নাহি লাজ ||
এই পাতায় কোনো ভুল-ত্রুটি চোখে পড়লে অথবা যদি কোথাও ভুল বলে মনে হয়, তাহলে আমাদের এই ইমেলে জানাবেন। আমরা শুধরে নেবার চেষ্টা করবো। srimilansengupta@yahoo.co.in
|
|
|