মানুষ কবি বিপ্লব চক্রবর্তী মিলনসাগরে প্রকাশ ২০.৪.২০২২।
মেরুদণ্ড যেন হাইওয়ের মতন সোজা চলতে চলতে হঠাৎ বেঁকে গেছে, আপোষে,মাথা না নোয়ানোর মানুষিকটাও কখনো লড়াই এর শেষে জীতে যাওয়ার অন্তে সেভাবেই বেঁকে যাচ্ছে, আমি ,তুমি, সে সকলে একটা বাঁকা সমায়ের মধ্যে নিজেকে সরল মনে করছি, যেটা চোখ দেখছে, সেটা দেখতে দেখতে মনের অভ্যাসে মিশে যাচ্ছে, বিবেক অকর্মণ্য স্থির, পা চাঁটার অভ্যাসে ধাক্কা খাচ্ছেনা দেয়াওয়ালে, অথবা দেওয়ালটাকে খুব আপন ভেবে নিয়েচ্ছে। ভেঙ্গে বেরোবে? কোন অজানার ভয়ে দেওয়ালের ওইপাশে নিজের সঙ্গে নিজের পরিচয় হোল না, এভাবেই কাটতে থাকা জীবন, একদিন প্রহর গুনবে মৃত্যুর, আমি স্থির হয়ে গেলেও, অস্থিরতা ছড়িয়ে যাবে প্রতিটা জীবনে, উন্মোচিত হবে অনেক মূর্তি, কিন্তু মূর্তি হয়েই থাকবো জন্মানোর আনন্দে। . *************************
বদল কবি বিপ্লব চক্রবর্তী মিলনসাগরে প্রকাশ ২০.৪.২০২২।
মাঝে মাঝে বোবা হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। যারা কোনদিনও শুনবেনা তাদের আর কি শোনাবো, ওরাই বলুক ওরাই শুনুক। ওদের মতন ওরাই ব্যাখ্যা করুক। ঈশ্বরের আমি কে তো আর চিনল না। আমার আমির জল তোলার ভঙ্গীকে ব্যাঙ্গ করুক। আমি ক্লান্ত, ওরা ভীরে ঈশ্বর হারাল, হারাল নিজেকেও, কি পেলো? নগ্ন মূর্তিতে আমার উলঙ্গ দেহ। আমি নগ্নই থেকে গেলাম ওরা কিন্তু থামল না। তবে আমি কিন্তু প্রতিবাদ করবো না, আমি সাধারণ, হয়তো তাই, আমার মতন সাধারণ আর কি বলবে, তবে যেদিন আমার আমি জাগবে সেদিন, বলবে তো ভগবান, প্রতিবাদ ঈশ্বরের দেওয়া ক্ষমতা।
দুর্নীতির নীতি কবি বিপ্লব চক্রবর্তী মিলনসাগরে প্রকাশ ২০.৪.২০২২।
পরিচিত সড়কের ওপর দিয়ে। দুর্নীতি আজও বয়ে চলে যায়, তুমি,আমি আজও হেটে চলি নীরবে। কোন এক পরিবর্তনের আশায়, তারপর আরও দু-পা এগিয়ে আমরাও আশাহীন হয়ে পরি খড় খুটো জমানো বাসস্থান, ভবিষ্যৎ আঁকরে ধরি, বারো লাখে নীতিগুলো বিক্রি হল, ভবিষ্যতের চিন্তা কি আর, আমি এখন পরিচিতদের তালিকায় কোন এক প্রাইমারীর টিচার।
শুধু টিকে থাকার খেলা কবি বিপ্লব চক্রবর্তী মিলনসাগরে প্রকাশ ২০.৪.২০২২।
শুধু টিকে থাকার খেলা সবাই সবার বাধ্য আপোষে হাত পাতি দেয় নিজের মতন সাধ্য। আমি সেজেগুজে আছি শুধু বিক্রি হবো বলে। যে যার বিক্রি হবার মূল্য যে যার বাজার দর ছুলে। যদি ধরাছোঁয়ার বাইরে আমি দুর্বোধ্য কোন কাব্যে, তুমি চাইবে আমায ততোই যত দূরে আমায় ভাববে। শুধু অজুহাতের সুরে ভালো না লাগারই গান পেয়ে হারিয়ে ফেলি যতই তা তো না পাওয়ার টান।
১ + ১ = নো ওয়ান কবি বিপ্লব চক্রবর্তী বন্ধু রুদ্রকে নিয়ে লেখা, বেঁচে নেই মৃত্যুর আগে একদিন ফোন করে বলেছিল আমার জন্য একটা কবিতা লিখবে।মিলনসাগরে প্রকাশ ২০.৪.২০২২।
মাঝে মাঝে এখনো খুজি তোকে আমার আকাশ ছাদে তাঁরাদের এল ই ডির নিচে। কিম্বা সরনার ওই গাছাটাতে জীবনের ভাবসম্প্রসারনের পথে। প্রেমের পরিণতিকে কি বলছেন ধর্মের চোরাকারবারিরা। বিলীন তো প্রেমেও হউয়া যায়, অনুভব তো প্রেমেও হয়। তবে কি ভালোবাসা ধর্ম? অবাধ্য অনুভুতিরা কষ্ট পেতে চায় কেন। প্রশ্নের আরালে তুই, আমি, আর আমাদের জীবন। একটা শব্দের মলমে ক্ষত পূরণ? ক্লাসের আরালে মোবাইলের খুটুর মুটুর দৈনন্দিন জীবনের অক্সিজেন কমায়। পরীক্ষায় ফল? নাম্বার হালকা হলে শিক্ষা সীলমোহর পায় না। তবুও এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে সেই মদ্যপায়ী অন্নধংসকারি আমাকে। যে কোনদিনও সৃষ্টি স্থিতি ও বিনাসের ধারেকাছেও ছিল না। হুম তবুও পথ চলা সেই দিনের অপেক্ষায়.................. খোলা আকাশের নিচে স্বপ্ন খোঁজায়।
ভান কবি বিপ্লব চক্রবর্তী মিলনসাগরে প্রকাশ ২০.৪.২০২২।
কিছু কিছু সময় হীনমন্যতা মান্যতা পায়, তারাদের মাঝে রাতজাগা অভ্যাসে, সকাল হলে সেই চেনা ভীর ফাঁকফোকর খোঁজে, ফন্দি ফিকির এর আস্তিনে, উৎসবেরা, মেঘ মাখে কৃত্রিম উল্লাসে, শালীনতা গুজে ফেলি ভদ্রতার ফরমাল দোনালায়। চোখের কথাগুলো তুমিও লুকিয়ে ফেলো, উজ্জলতা মনের কালো কে মেকআপ করে, সত্যি ? নাকি খারাপ লাগাটাও জমিয়ে রাখা ভালোলাগার যত্নআত্তি তে। তুমি আমি সে সকলেই সমান্তরালভাবে একে অপরের থেকে ছিটকে যাচ্ছি। একাকিত্বের গ্লোবালাইজেশন হচ্ছে মুঠোফোনের অন্তরে। উন্নতি এবং অবনতি পরস্পরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। গরুর গাড়িটা আর নেই চাকা এখন স্টীয়ারিং-এ ঠেলছি, তবে একইভাবে জীবনের সব কালোকে মুড়ে দিচ্ছি এলইডি আলোতে। তাই আলো টাওয়ার ঝাপসা, চোখগুলোও আজ ক্লান্তিতে বোঝা যায় না। উন্নতির স্বভাবগুলো তোমাকে আমাকে অপরিচিত করে দিচ্ছে। হ্যাঁ দাদা মুড়ে দিচ্ছি, অপরিচ্ছন্নতা চাপা পড়ে থাক, মেকি সাজে, মনের মধ্যে বিড়বিড় করতে থাকুক, তারপর ধীরে ধীরে আকাঙ্ক্ষা গুলোর মৃত্যু ঘটুক, তবুও শহর আলোতে ভাসুক, দুঃখ চাপা পড়ুক শহুরে আলোতে।