কবি
বিরাজমোহিনী দাসীর
কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
www.milansagar.com
১।
২।
মধ্যাহ্নকালের সূর্য
ভারতের প্রতি
মিলনসাগর
কবি
বিরাজমোহিনী দাসীর
পরিচিতির পাতায়...
*
মধ্যাহ্নকালের সূর্য
বিরাজমোহিনী দাসী
(কবিতাহার কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া ১৮৭৩)
. ১
মরি কি মধ্যাহ্নকালের প্রখর তপন!
হেরে হেন বোধ হয় যেন অগ্নিরাশি ;
ব্যাপিয়াছে চতুর্দিকে সবেগেতে আসি,
পোড়াইতে করেছে মনন ||
. ২
পান্থগণ সে তাপেতে হইয়া তাপিত |
নাহি চলে পদ যেন জ্ঞানহীন-প্রায়,
অবিরত স্বেদবারি বহিতেছে গায়,
সঘনে ধাইছে বৃক্ষছায়া সন্নিহিত ||
. ৩
পশুগণ অগণন সে তপ্ত তাপেতে,
ক্ষুধায় আকুল, তবু নাহি কাতরায়,
থাকে মৃত্যুবৎ পড়ি বৃক্ষের তলায় ;
রহে সুপ্তভাবে কত গিরি-গহ্বরেতে ||
. ৪
এ তাপে বিহঙ্গদল চঞ্চল হইয়া
রহিতে না পারে স্থির হয়ে তরু’পরে,
ব্যাকুল হইয়া ভুলি নিজ মধুস্বরে,
পত্রের আড়ালে রহে নিস্তব্ধ হইয়া ||
. ৫
বৃক্ষহীন ক্ষেত্রমাঝে দুঃখী কৃষি-চয় |
প্রচণ্ড তপন-তাপ সহি’ অবিরত,
ব্যস্ত চিত্তে আপন কার্যেতে আছে রত ;
তা’দের সে দুঃখ ভাবি হয় দুখোদয় ||
. ৬
হে প্রচণ্ড দিবাকর, তব এ কিরণ |
সদাকাল সমভাবে রহি এ প্রকারে,
পারে কি সকল জীবে দগ্ঝ করিবারে ?
জানিহ সম্ভব তাহা নহে কদাচন |
. ***************
.
উপরে
মিলনসাগর
কবি
বিরাজমোহিনী দাসীর
পরিচিতির পাতায়...
*
ভারতের প্রতি
বিরাজমোহিনী দাসী
(কবিতাহার কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া ১৮৭৩)
ওমা! রত্নগর্ভে! ভারত-জননী,
বীর প্রসবিনী স্বরূপ কও।
প্রভাত শশাঙ্ক সম প্রভাহীনা,
হইয়া এখন কেন মা রও ?
* * * *
বীরের জননী বলিয়া তখন,
আদর করিয়া ডাকিত সবে।
তার পরিবর্ত্তে এবে দাস-মাতা,
এ দুঃখ কেমনে পরাণে সবে।
* * * *
দীন, হীন, ক্ষীণ, অসংখ্য অসংখ্য
এখন তোমার তনয় যত।
দাসেক পশরা, বহিয়া মস্তকে,
করিছে দুর্লভ জীবন গত।
আহা, এবে তব নন্দিনী যতেক,
বঞ্চে সর্বক্ষণ দাসীর মত।
লাঞ্ছনা গঞ্জনা অঙ্গের ভূষণ,
বিস্তারি সে সব কহিব কত।
* * * *
তাঁর প্রিয় কার্য্য সাধিতে যতনে,
শিখাও তোমার সন্তানগণে।
তব্ পদে পদে তরিবে বিপদে
পাবে স্বাধীনতা হারাণ ধনে।
. ***************
.
উপরে
মিলনসাগর
কবি বিরাজমোহিনী দাসীর পরিচিতির পাতায়...