দেওয়ালের লেখাগুলিকে কারা যেন মুছে দিতে চাইছে | কারা যেন বত্রিশ সিংহাসনের প্রচণ্ড স্পর্ধায় চক্ষু লাল ক'রে নির্দেশ দিচ্ছে : "এবার থামো ; এখন থেকে বিপ্লব আমাদের হুকুম মেনে চলবে" |
একবার সিংহাসনে উঠে বসতে পারলে তখন দেওয়ালের লেখাগুলি অশ্লীল প্রলাপের মতো মনে হয় | তখন অপরের পোস্টার ছেঁড়াই শ্রেণী-সংগ্রামের কাজ ; অথবা ডজন খানেক মন্ত্রী জড়ো ক'রে রাস্তায় বক্তৃতা দেওয়া : "সাবধান! যারা দেয়ালকে কলঙ্কিত করছ! তোমাদের পেছনে . এবার গুণ্ডা লেলিয়ে দেব |"
তারা বত্রিশ সিংহাসনের আশ্চর্য মহিমায় এখন থেকে বাংলা দেশের তামাম দেওয়ালগুলোকে নতুন ক'রে চুনকাম ক'রে দেবে, যেন কোথাও কোনো . গুলি খাওয়া মানুষের রক্ত ছিটেফোঁটাও দাগ না রাখে |
গাঁয়ের মানুষ মাঠে যায় না, শুকনো কুয়ো জল দেয় না--- সারা বছর হাতের মুঠোয় কান্না ছাড়া আর কিছু নেই ; সন্ধ্যাবাতি না জ্বলতেই রাজ্যি জুড়ে শেয়াল ডাকে!
নাকি মানুষ, দিনের আলোয় যাদের দেখলে পুলিশ পালায়? ঘুমের মধ্যে তারা আসে, স্বপ্নে আসে সমস্ত রাত!
ফুল্লরা | তুই বুকের জ্বালা বলবি কাকে? কে শুনতে চায় একটার পর একটা অসুখের গল্প, যখন রাত ফুরলে দিন আসে না---শুধু আকাল, শুধু শ্মশান--- শ্মশান জুড়ে ভুতের নৃত্য | যাকে জানতি সূর্য্যি ঠাকুর সে এখন ডাকাতের রাজা | আকাশ খেয়ে, মাটি খেয়ে তার খিদে মেটে নি---এবার তোদের খাবে |