কবি বলাই দাসের-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
নাগর বলয়ে ডাকি এই সে করিব
ভনিতা দীন রলরাম দাস / বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বসন্তোত্সব, ১৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নাগর বলয়ে ডাকি এই সে করিব।
রাই সঙ্গে একে একে ফাগুয়া খেলাব॥
তোমরা সভাই থাক রাই দেহ রণ।
কে হারে কে জিনে তবে দেখিব যেমন॥
ললিতা বলেন শুন ওহে বনমালী।
রণেতে হারিলে কাড়ি লইব মুরলী॥
নাগর বলয়ে ভাল ওই বোল তবে।
তোমরা হারিলে মোরে কোন ধন দিবে॥
হাসিয়া বলেন শুন রাধা সুধামুখী।
থাকুক বড়াই তোমার আগে রণ দেখি॥
জিনিতে না পার কভু গোপীর সমাজ।
মিছাই গৌরব কর মুখে নাহি লাজ॥
নাগর বলয়ে ভাল ওই সত্য হয়।
আপনার যশ বিনে কেবা অন্য কয়॥
হারিলে মুরলী দিব আর পীতধড়া।
রাধার চরণে দিব মোহনীয়া চূড়া॥
নতুবা কি দিব বল এই বলি আমি।
চতুরা নাগরী রাধে সব জান তুমি॥
রাই কহে শঠ কথা এ নহে তোমার।
হারিলে বেসর দিব আর গলার হার॥
বলরাম দাস মনে আনন্দ হইল।
সত্য সত্য বলি ফাগু খেলিতে লাগিল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”-তে দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্তোত্সব
॥ শ্রীরাগ॥

নাগর বলয়ে ডাকি এই সে করিব।
রাই সঙ্গে একে একে ফাগুয়া খেলিব॥
তোমরা সভাই থাক রাই দেহ রণ।
কে হারে কে জিনে তবে দেখিব কেমন॥
ললিতা বলেন শুন ওহে বনমালী।
রণেতে হারিলে কাড়ি লইব মুরলী॥
নাগর বলয়ে ভাল ওই বোল তবে।
তোমরা হারিলে মোরে কোন ধন দিবে॥
হাসিয়া বলেন তবে রাধা সুধামুখী।
থাকুক বড়াই তোমার আগে রণ দেখি॥
জিনিতে না পার কভু গোপীর সমাজ।
মিছাই গৌরব কর মুখে নাহি লাজ॥
নাগর বলয়ে ভাল ওই সত্য হয়।
আপনার যশ বিনে কেবা অন্য কয়॥
হারিলে মুরলী দিব আর পীতধড়া।
রাধার চরণে দিব মোহনীয়া চূড়া॥
চতুরা নাগরী রাধে সব জান তুমি।
তোমরা কি দিবে বল এই বলি আমি।
রাই কহে শঠ কথা না সহে তোমার।
হারিলে বেসর দিব আর গলার হার॥
দীন বলরাম দাসের আনন্দ হইল।
সত্য সত্য বলি ফাগু খেলিতে লাগিল॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নাগর বলয়ে ডাকি এই সে করিব।
রাই সঙ্গে একে একে ফাগুয়া খেলাব॥
তোমরা সভাই থাক রাই দেহ রণ।
কে হারে কে জিনে তবে দেখিব যেমন॥
ললিতা বলেন শুন ওহে বনমালী।
রণেতে হারিলে কাড়ি লইব মুরলী॥
নাগর বলয়ে ভাল ওই বোল তবে।
তোমরা হারিলে মোরে কোন ধন দিবে॥
হাসিয়া বলেন শুন রাধা সুধামুখী।
থাকুক বড়াই তোমার আগে রণ দেখি॥
জিনিতে না পার কভু গোপীর সমাজ।
মিছাই গৌরব কর মুখে নাহি লাজ॥
নাগর বলয়ে ভাল ওই সত্য হয়।
আপনার যশ বিনে কেবা অন্য কয়॥
হারিলে মুরলী দিব আর পীতধড়া।
রাধার চরণে দিব মোহনীয়া চূড়া॥
নতুবা কি দিব বল এই বলি আমি।
চতুরা নাগরী রাধে সব জান তুমি॥
রাই কহে শঠ কথা এ নহে তোমার।
হারিলে বেসর দিব আর গলার হার॥
বলরাম দাস মনে আনন্দ হইল।
সত্য সত্য বলি ফাগু খেলিতে লাগিল॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই কানু খেলিবারে হইল দুই দল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বসন্তোত্সব, ১৩১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাই কানু খেলিবারে হইল দুই দল।
পিচকারী মারে শ্যামে গোপিনী সকল॥
মারয়ে আবীর গোরী কস্তুরী চন্দন।
ফুলেল মারিছে অঙ্গে জিতিয়ে কাঞ্চন॥
অতর গোলাপ মারয়ে শুভ চিত।
মারিছে শ্যামের অঙ্গে দেখি বিপরীত॥
যে দিগে পলায়ে নাগর সেই দিগে ধায়।
নয়ান ঝাঁপিয়া নাগর পলাইতে না পায়॥
ললিতা কাড়িয়া নিল শ্যামের পীতধড়া।
বিশাখা কাড়িয়া নিল মোহনীয়া চূড়া॥
ইন্দুরেখা সখী তখন শ্যামেরে ধরিল।
ভুজ যুগ বাঁধিয়া রাধার আগে আনি দিল॥
হাসিতে লাগিল রাই নাগর দেখিয়া।
মিছাই শরম কর বল না বুঝিয়া॥
নাগর কহয়ে শুন এই বলি আমি।
সুক্ষ্ম করি বিচার কর শুন বিনোদিনী॥
নাগরের কাতর বাণী শুনি সুধামুখী।
মলিন বদন রেয়ের ছল ছল আঁখি॥
বলরাম দাসের মনে আনন্দ হইল।
রাই সঙ্গে শ্যাম চাঁদ নিকুঞ্জে বসিল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”-তে দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্তোত্সব
॥ শ্রীরাগ॥

রাই কানু খেলিবারে হইল দুই দল।
পিচকারি মারে শ্যামে গোপিনী সকল॥
মারয়ে আবীর গোরী কস্তূরী চন্দন।
ফুলেল মারিছে অঙ্গে জিতিয়ে কাঞ্চন॥
আতর গোলাপ মারয়ে শুভ চিত।
মারিছে শ্যামের অঙ্গে দেখি বিপরীত॥
যে দিগে পলায়ে নাগর সেই দিগে ধায়।
নয়ান ঝাঁপিয়া নাগর পলাইতে না পায়॥
ললিতা কাড়িয়া নিল শ্যামের পীতধড়া।
বিশাখা কাড়িয়া নিল মোহনীয়া চূড়া॥
ইন্দুরেখা সখী তখন শ্যামেরে ধরিল।
ভুজ যুগ বাঁধিয়া রাধার আগে আনি দিল॥
হাসিতে লাগিল রাই নাগর দেখিয়া।
মিছাই শরম কর বল না বুঝিয়া॥
নাগর কহয়ে শুন এই বলি আমি।
সুক্ষ্ম করি বিচার কর শুন বিনোদিনী॥
নাগরের কাতর বাণী শুনি সুধামুখী।
মলিন বদন রাই ছল ছল আঁখি॥
দীন বলরাম দাসের আনন্দ হইল।
রাই সঙ্গে শ্যাম চাঁদ নিকুঞ্জে বসিল॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাই কানু খেলিবারে হইল দুই দল।
পিচকারি মারে শ্যামে গোপিনী সকল॥
মারয়ে আবীর গোরী কস্তূরী চন্দন।
ফুলেল মারিছে অঙ্গে জিতিয়ে কাঞ্চন॥
আতর গোলাপ মারয়ে শুভ চিত।
মারিছে শ্যামের অঙ্গে দেখি বিপরীত॥
যে দিগে পলায়ে নাগর সেই দিগে ধায়।
নয়ান ঝাঁপিয়া নাগর পলাইতে না পায়॥
ললিতা কাড়িয়া নিল শ্যামের পীতধড়া।
বিশাখা কাড়িয়া নিল মোহনীয়া চূড়া॥
ইন্দুরেখা সখী তখন শ্যামেরে ধরিল।
ভুজ যুগ বাঁধিয়া রাধার আগে আনি দিল॥
হাসিতে লাগিল রাই নাগর দেখিয়া।
মিছাই শরম কর বল না বুঝিয়া॥
নাগর কহয়ে শুন এই বলি আমি।
সুক্ষ্ম করি বিচার কর শুন বিনোদিনী॥
নাগরের কাতর বাণী শুনি সুধামুখী।
মলিন বদন রাই ছল ছল আঁখি॥
বলরাম দাসের মনে আনন্দ হইল।
রাই সঙ্গে শ্যাম চাঁদ নিকুঞ্জে বসিল॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভোলামন একবার ভাব পরিণাম
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস / দীন বলরাম
এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৫৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভোলামন একবার ভাব পরিণাম।
ভজ কৃষ্ণ কহ কৃষ্ণ লহ কৃষ্ণ নাম॥
কৃষ্ণ ভজিবার সেথা প্রতিজ্ঞা করিলে।
সংসারে আসিবামাত্র সকল ভুলিলে॥
কত কষ্টে পাল ভাই ভার্য্যা বেটী বেটা।
কৃষ্ণপদ ভজিতেই বাধে সব লেঠা॥
শত জিহ্বা পরনিন্দা পরতোষামোদে।
কৃষ্ণনাম কহিতেই রসনায় বাধে॥
পরপদ ধরি সদা করিছ লেহনে।
নিযুক্ত না কর কর সে পদসেবনে॥
আরে মন ভবরোগে ঘিরিল তোমারে।
হাসফাস করিতেছ বিষম বিকারে॥
কৃষ্ণপদ না ভজিয়া মর উপসর্গে।
কৃষ্ণপদ ভজ লাভ হবে চতুর্ব্বর্গে॥
লইতে মধুর নাম কেন রে কাতর।
কেন ভাই মিছামিছি হইছ ফাঁফর॥
কহে দাস বলরাম ঘুচিবে বিকার।
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”-তে দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভোলামন একবার ভাব পরিণাম।
ভজ কৃষ্ণ কহ কৃষ্ণ লহ কৃষ্ণ নাম॥
কৃষ্ণ ভজিবারে সেথা প্রতিজ্ঞা করিলে।
সংসারে আসিবা মাত্র সকল ভুলিলে॥
কত কষ্টে পাল ভাই ভার্য্যা বেটী-বেটা।
কৃষ্ণপদ ভজিতেই বাধে সব লেঠা॥
শত জিহ্বা পরনিন্দা পর তোষামোদে।
কৃষ্ণনাম কহিতেই রসনায় বাধে॥
পরপদ ধরি সদা করিছ লেহনে।
নিযুক্ত না কর সে পদ সেবনে॥
আরে মন ভব রোগে ঘিরিল তোমারে।
হাঁসফাঁস করিতেছ বিষম বিকারে॥
কৃষ্ণপদ না ভজিয়া মর উপসর্গে।
কৃষ্ণপদ ভজ লাভ হবে চতুর্ব্বর্গে॥
লইতে মধুর নাম কেন রে কাতর।
কেন ভাই মিছামিছি হইছ ফাঁফর॥
কহে দীন বলরাম ঘুচিবে বিকার।
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভোলামন একবার ভাব পরিণাম।
ভজ কৃষ্ণ কহ কৃষ্ণ লহ কৃষ্ণ নাম॥
কৃষ্ণ ভজিবারে সেথা প্রতিজ্ঞা করিলে।
সংসারে আসিবামাত্র সকল ভুলিলে॥
কত কষ্টে পাল ভাই ভার্য্যা বেটী-বেটা।
কৃষ্ণপদ ভজিতেই বাধে সব লেঠা॥
শত জিহ্বা পরনিন্দা পর তোষামোদে।
কৃষ্ণনাম কহিতেই রসনায় বাধে॥
পরপদ ধরি সদা করিছ লেহনে।
নিযুক্ত না কর সে পদ সেবনে॥
আরে মন ভব রোগে ঘিরিল তোমারে।
হাসফাস করিতেছ বিষম বিকারে॥
কৃষ্ণপদ না ভজিয়া মর উপসর্গে।
কৃষ্ণপদ ভজ লাভ হবে চতুর্ব্বর্গে॥
লইতে মধুর নাম কেন রে কাতর।
কেন ভাই মিছা মিছি হইছ ফাঁফর॥
কহে দাস বলরাম ঘুচিবে বিকার।
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ
ভনিতা দীন বলরাম
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে
দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ
॥ ধানশী॥

বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ।
যারে ঘুমে চিয়াইয়ে                        দুগ্ধ পিয়াইতে নারি
তারে তুমি গোঠে সাজাইছ॥
কত জন্ম ভাগ্য করি                       আরাধিয়া হর গৌরী
পাইলাম এ দুখ পাসরা।
কেমনে ধৈরজ ধরে                      মায়ে কি বলিতে পারে
বনে যাউক এ দুধ কোঙরা॥
বসন ধরিয়া হাতে                    ফিরে গোপাল সাথে সাথে
দণ্ডে দণ্ডে দশবার খায়।
এ হেন দুধের বাছা                        বনেতে বিদায় দিয়া
কেমনে ধরিবে প্রাণ মায়॥
জল খাইতে গিয়াছিল                      আনলে বেড়িয়াছিল
দু হাতে আনল ধরি জিয়ে।
এ নন্দের ভাগ্যবলে                         যশোদার পুণ্যফলে
তেঞি সে গোপাল মোর জিয়ে॥
দীন বলরামের বাণী                            শুন শুন নন্দরাণী
কেন সদা ভাবিতেছ তুমি।
গোপালে সাজায়ে দেহ                       আমার মিনতি লহ
সঙ্গেতে যাইব গোঠে আমি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নন্দরাণী কুতূহলে গোপাল লইয়া কোলে
ভনিতা দীন বলরাম
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে
দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ

নন্দরাণী কুতূহলে                       গোপাল লইয়া কোলে
বসিলেন কনক আসনে।
নীলমণি জলধর                            জিনি শ্যাম কলেবর
সাজাইছে নানা আভরণে॥
রুচুর চাঁচর চুল                              দিয়া নানা বনফুল
চূড়া বান্ধে বাম দিকে টালে।
নব গোরোচনা আনি                       সুন্দর করিয়া রাণী
তিলক রচিয়া দিল ভালে॥
অলকাতে সারি সারি                       দিল মুকুতার ঝুরি
তাহে দিল চন্দনের বিন্দু।
কদম্ব মঞ্জরী সনে                             কুণ্ডল পরাল কানে
ঝলমল করে মুখ ইন্দু॥
গলে গজমোতি হার                         কনক জিঞ্জির আর
গাঁথিয়া দিলেন চারু মণি।
হেমের বলয়া ভুজে                      পীত বসন কটি মাঝে
চাঁদ মুখের হাসিটি লাবণি॥
বিরিঞ্চি বাসুকি ভব                    অরুণ আদি যত দেব
করে সবে পদরেণি আশ।
হেন পদাম্বুজে রাণী                           পরায় নূপুর খানি
কহে দীন বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাদবেরে সাজাইয়া চাঁদমুখ নিরখিয়া
ভনিতা দীন বলরাম
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে
দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ

যাদবেরে সাজাইয়া                        চাঁদমুখ নিরখিয়া
আনন্দ সায়রে রাণী ভাসে।
মনে সাধ জনমিল                        মোহন মুরলী দিল
ধড়ায় গুঁজিয়া বামপাশে॥
সুগন্ধি বনের ফুলে                     মালা গাঁথি দিল গলে
সুগন্ধি চন্দন দিল গায়।
ধেনু ফিরাবার তরে                      পাঁচনি দিলেন করে
মণিময় বাধা দিল পায়॥
সাজন বাজন লইয়া                      কনক জিঞ্জির দিয়া
বাম কান্ধে দিল নন্দরাণী।
ধবলীর গলে দিতে                       হেম পাটা দিল হাতে
গোঠেরে মাতিল নীলমণি॥
বন্দিয়া ভার্গব হরে                        কর বুলাইয়া শিরে
কহে না যাইও দূর বনে।
মুরলীতে দিও সান                        শুনিয়া জুড়াবে প্রাণ
দীন বলরাম দাসে ভণে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর