| কবি বলাই দাসের-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ ভনিতা দীন বলরাম কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠ ॥ ধানশী॥ বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ। যারে ঘুমে চিয়াইয়ে দুগ্ধ পিয়াইতে নারি তারে তুমি গোঠে সাজাইছ॥ কত জন্ম ভাগ্য করি আরাধিয়া হর গৌরী পাইলাম এ দুখ পাসরা। কেমনে ধৈরজ ধরে মায়ে কি বলিতে পারে বনে যাউক এ দুধ কোঙরা॥ বসন ধরিয়া হাতে ফিরে গোপাল সাথে সাথে দণ্ডে দণ্ডে দশবার খায়। এ হেন দুধের বাছা বনেতে বিদায় দিয়া কেমনে ধরিবে প্রাণ মায়॥ জল খাইতে গিয়াছিল আনলে বেড়িয়াছিল দু হাতে আনল ধরি জিয়ে। এ নন্দের ভাগ্যবলে যশোদার পুণ্যফলে তেঞি সে গোপাল মোর জিয়ে॥ দীন বলরামের বাণী শুন শুন নন্দরাণী কেন সদা ভাবিতেছ তুমি। গোপালে সাজায়ে দেহ আমার মিনতি লহ সঙ্গেতে যাইব গোঠে আমি॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নন্দরাণী কুতূহলে গোপাল লইয়া কোলে ভনিতা দীন বলরাম কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠ নন্দরাণী কুতূহলে গোপাল লইয়া কোলে বসিলেন কনক আসনে। নীলমণি জলধর জিনি শ্যাম কলেবর সাজাইছে নানা আভরণে॥ রুচুর চাঁচর চুল দিয়া নানা বনফুল চূড়া বান্ধে বাম দিকে টালে। নব গোরোচনা আনি সুন্দর করিয়া রাণী তিলক রচিয়া দিল ভালে॥ অলকাতে সারি সারি দিল মুকুতার ঝুরি তাহে দিল চন্দনের বিন্দু। কদম্ব মঞ্জরী সনে কুণ্ডল পরাল কানে ঝলমল করে মুখ ইন্দু॥ গলে গজমোতি হার কনক জিঞ্জির আর গাঁথিয়া দিলেন চারু মণি। হেমের বলয়া ভুজে পীত বসন কটি মাঝে চাঁদ মুখের হাসিটি লাবণি॥ বিরিঞ্চি বাসুকি ভব অরুণ আদি যত দেব করে সবে পদরেণি আশ। হেন পদাম্বুজে রাণী পরায় নূপুর খানি কহে দীন বলরাম দাস॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যাদবেরে সাজাইয়া চাঁদমুখ নিরখিয়া ভনিতা দীন বলরাম কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে দীন বলরাম-এর পদ হিসেবে, ৭৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠ যাদবেরে সাজাইয়া চাঁদমুখ নিরখিয়া আনন্দ সায়রে রাণী ভাসে। মনে সাধ জনমিল মোহন মুরলী দিল ধড়ায় গুঁজিয়া বামপাশে॥ সুগন্ধি বনের ফুলে মালা গাঁথি দিল গলে সুগন্ধি চন্দন দিল গায়। ধেনু ফিরাবার তরে পাঁচনি দিলেন করে মণিময় বাধা দিল পায়॥ সাজন বাজন লইয়া কনক জিঞ্জির দিয়া বাম কান্ধে দিল নন্দরাণী। ধবলীর গলে দিতে হেম পাটা দিল হাতে গোঠেরে মাতিল নীলমণি॥ বন্দিয়া ভার্গব হরে কর বুলাইয়া শিরে কহে না যাইও দূর বনে। মুরলীতে দিও সান শুনিয়া জুড়াবে প্রাণ দীন বলরাম দাসে ভণে॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |