| কবি বলরাম নরোত্তমভক্ত-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| প্রথমে জননী কোলে স্তন পান কুতূহলে ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ২৯৯৮ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৫০৭ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ৪৩|১১ সংখ্যক পদ। ॥ তুড়ী॥ প্রথমে জননী-কোলে স্তন-পান-কুতূহলে অজ্ঞান আছিলু মতি-হীন। তবে ত বালক-সঙ্গে খেলাইলুঁ নানা রঙ্গে এমতি গোঙাইলুঁ কথো দিন॥ দ্বিতীয়-সময় কাল বিকার ইন্দ্রিয়-জাল পাপ পুণ্য কিছুই না ভায়। ভোগ-বিলাস নারী এ সব কৌতুক করি তাহা দেখি হাসে যম-রায়॥ তৃতীয়-সময় কালে বন্ধন সে হাতে গলে পুত্রে কলত্রে গৃহ-বাস। আশা বাঢ়ে দিনে দিনে ত্যাগ নাহি হয় মনে হরি-পদে না করিলুঁ আশ॥ চারি কাল গেল যদি হরিল আঁখের জ্যোতি শ্রবণে না শুনি অতিশয়। বলরাম দাস কয় এইবার রাখ মহাশয় ভক্তি-দান দেহ রাঙ্গা-পায়॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ প্রথম জননী কোলে, স্তন পান কুতূহলে, অজ্ঞান আছিনু মতি হীন। তবেত বালক সঙ্গে খেলাইনু নানা রঙ্গে, এমতি গোঙাইনু কত দিন॥ দ্বিতীয় সময় কাল, বিকার ইন্দ্রিয় জাল, পাপ পুণ্য কিছুই না ভায়। ভোগ বিলাস নারী, এ সব কৌতুক করি, তাহা দেখি হাসে যমরায়॥ তৃতীয় সময় কালে, বন্ধন সে হাতে গলে, পুত্রে কলত্র গৃহবাস। আশা বাঢ়ে দিনে দিনে, ত্যাগ নাহি হয় মনে, হরি পদে না করিনু আশ॥ চারি হৈল গেল যদি, হরিল আঁখির জ্যোতি, শ্রবণে না শুনি অতিশয়। বলরাম দাস কয়, এই বার রাখ মহাশয়, ভক্তি দান দেহ রাঙ্গা পায়॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী রাগ॥ প্রথম জননী-কোলে, স্তন-পান কুতূহলে, অজ্ঞান আছিনু মতি-হীন। তবে ত বালক সঙ্গে, খেলাইনু নানা রঙ্গে, এমতি গোঙাইনু কত দিন॥ দ্বিতীয় সময় কাল, বিকার ইন্দ্রিয় জাল, পাপ পুণ্য কিছুই না ভায়। ভোগ-বিলাস নারী, এ সব কৌতুক করি, তাহা দেখি হাসে যম-রায়॥ তৃতীয় সময় কালে, বন্ধন সে হাতে গলে, পুত্র কলত্র গৃহ-বাস। আশা বাড়ে দিনে দিনে, ত্যাগ নাহি হয় মনে, হরি-পদে না করিনু আশ॥ চারি হৈল গেল যদি, হরিল আঁখির জ্যোতি, শ্রবণে না শুনি অতিশয়। বলরামদাস কয়, এইবার রাখ মহাশয়, ভক্তি-দান দেহ রাঙ্গা পায়॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি রাগ॥ প্রথম জননী কোলে স্তন পান কুতূহলে অজ্ঞান আছিনু মতিহীন। তবে বালক সঙ্গে খেলাইনু নানা রঙ্গে এমতি গোঙাইনু কত দিন॥ দ্বিতীয় সময় কাল বিকার ইন্দ্রিয় জাল পাপ পুণ্য কিছুই না ভায়। ভোগ বিলাস নারী এ সব কৌতুক করি তাহা দেখি হাসে যম রায়॥ তৃতীয় সময় কালে বন্ধন সে হাতে গলে পুত্র কলত্র গৃহ বাস। আশা বাড়ে দিনে দিনে ত্যাগ নাহি হয় মনে হরি পদে না করিনু আশ॥ চারি হৈল গেল যদি হরিল আঁখির জ্যোতি শ্রবণে না শুনি অতিশয়। বলরাম দাস কয় এইবার রাখ মহাশয় ভক্তিদান দেহ রাঙ্গা পায়॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ প্রথমে জননী-কোলে স্তনপান কুতূহলে অজ্ঞান আছিলু মতিহীন। তবে ত বালক সঙ্গে খেলাইনু নানা রঙ্গে এমতি গোঙানু কত দিন॥ দ্বিতীয় সময় কাল বিকার ইন্দ্রিয়জাল পাপ পুণ্য কিছুই না ভায়। ভোগ বিলাস নারী এ সব কৌতুক করি তাহা দেখি হাসে যমরায়॥ তৃতীয় সময় কালে বন্ধন সে হাতে গলে পুত্রকলত্র গৃহবাস। আশা বাঢ়ে দিনে দিনে ত্যাগ নাহি হয় মনে হরি-পদে না করিনু আশ॥ চারি হৈল গেল যদি হরিল চক্ষের জ্যোতি শ্রবণে না শুনি অতিশয়। বলরামদাসে কয় এইবার রাখ মহাশয় ভক্তিদান দেহ রাঙ্গা পায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে বলরাম দাস (নরোত্তম ভক্ত)-এর পদ হিসেবে, ৭৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ প্রথম জননীকোলে স্তনপান কুতূহলে অজ্ঞান আছিলুঁ মতিহীন। তবে ত বালক সঙ্গে খেলাইলুঁ নানা রঙ্গে এমতি গোঙাইলুঁ কত দিন॥ দ্বিতীয় সময় কাল বিকার ইন্দ্রিয়জাল পাপ পুণ্য কিছুই না ভায়। ভোগবিলাস নারী এ সব কৌতুক করি তাহা দেখি হাসে যমরায়॥ তৃতীয় সময় কালে বন্ধন সে হাতে গলে পুত্রে কলত্রে গৃহবাস। আশা বাঢ়ে দিনে দিনে ত্যাগ নাহি হয় মনে হরি-পদে না করিলু আশ॥ চারি কাল গেল যদি হরিল আঁখির জ্যোতি শ্রবণে না শুনি অতিশয়। বলরাম দাস কয় এবে রাখ মহাশয় ভক্তিদান দেহ রাঙ্গাপায়॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ কড়খা ধানসি - ছুটা॥ প্রথম জননী কোলে, স্তনপান কুতূহলে, অজ্ঞান আছিলুঁ মতিহীন। তবে ত বালকসঙ্গে, খেলাইলুঁ নানারঙ্গে, এমতি গোয়াইলুঁ কতদিন॥ দ্বিতীয় সময় কাল, বিকার ইন্দ্রিয় জাল, পাপপুণ্য কিছুই না ভায়। ভোগ বিলাস নারী, এ সব কৌতুক করি, তাহা দেখি হাসে যমরায়॥ তৃতীয় সময় কালে বন্ধন সে হাতে গলে পুত্রে কলত্র গৃহবাস। আশা বাড়ে দিনে দিনে ত্যাগ নাহি হয় মনে হরিপদ না করিলুঁ আশ॥ চারি হইল গেল যদি হরিল আঁখির জ্যোতি শ্রবণে না শুনি অতিশয়। বলরাম দাসে১ কয়, এইবার রাখ মহাশয়, ভক্তিদান দেহ রাঙ্গাপায়॥ ১ - এই পদটি নরোত্তমের ভণিতাতেো পাওয়া গিয়েছে। এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ প্রথম জননী-কোলে স্তন-পান-কুতূহলে অজ্ঞান আছিলু মতি-হীন। তবে ত বালক-সঙ্গে খেলাইলুঁ নানা রঙ্গে এমতি গোঙাইলুঁ কত দিন॥ দ্বিতীয়-সময় কাল বিকার ইন্দ্রিয়-জাল পাপ পুণ্য কিছুই না ভায়। ভোগ-বিলাস নারী এ সব কৌতুক করি তাহা দেখি হাসে যম-রায়॥ তৃতীয়-সময় কালে বন্ধন সে হাতে গলে পুত্রে কলত্রে গৃহ-বাস। আশা বাঢ়ে দিনে দিনে ত্যাগ নাহি হয় মনে হরি-পদে না করিলু আশ॥ চারি কাল গেল যদি হরিল আঁখের জ্যোতি শ্রবণে না শুনি অতিশয়। বলরাম দাস কয় এইবার রাখ মহাশয় ভক্তি-দান দেহ রাঙ্গা-পায়॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভাইরে সাধু সঙ্গ কর ভাল হৈয়া ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০০০ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৫০৯ সংখ্যক পদ। ॥ যথা রাগ॥ ভাইরে সাধু-সঙ্গ কর ভাল হৈয়া। এ ভব তরিয়া যাবা মহানন্দ সুখ পাবা নিতাই-চৈতন্য-গুণ গাইয়া॥ চৌরাশি লক্ষ জনম ভ্রমণ করিয়া শ্রম ভালই দুর্ল্লভ দেহ পাইয়া। মহতের দায় দিয়া ভক্তি-পথে না চলিয়া জম্ম যায় অকারণে বৈয়া॥ মালা মুদ্রা করি বেশ ভজনের নাহি লেশ ফিরি আমি লোক দেখাইয়া। মহাকালের ফল লাল দেখিতে সুন্দর ভাল ভাঙ্গিলে সে দেয় ফেলাইয়া॥ চন্দন-তরুর কাছে যত বৃক্ষ লতা আছে আত্ম-সম করে বায়ু দিয়া। হেন সাধু-সঙ্গ সার নাই বলরাম ছার ভব-কূপে রহিলাম পড়িয়া॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২০৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ ভাইরে সাধু সঙ্গ কর ভাল হৈয়া। এ ভব তরিয়া যাবে মহানন্দ সুখ পাবে, নিতাই চৈতন্য গুণ গাঞা॥ চৌরাশি লক্ষ জন্ম, ভ্রমণ করিয়া শ্রম, ভালই দুর্ল্লভ দেহ পাঞা। মহতের দায় দিয়া, ভক্তিপথে না চলিয়া, জম্ম যায় অকারণে বৈয়া॥ মালা মুদ্রা করি বেশ, ভজনের নাহি লেশ, ফিরি আমি লোক দেখাইয়া। মাখালের ফল লাল, দেখিতে সুন্দর ভাল, ভাঙ্গিলে সে দেয় ফেলাইয়া॥ চন্দন তরুর কাছে, যত বৃক্ষ লতা আছে, আত্ম সম করে বায়ু দিয়া। হেন সাধু সঙ্গ সার, নাই বলরাম ছার, ভব কূপে রহিলাম পড়িয়া॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ ভাইরে সাধু-সঙ্গ কর ভাল হৈয়া। এ ভব তরিয়া যাবে, মহানন্দ সুখ পাবে, নিতাই-চৈতন্য গুণ গাঞা॥ চৌরাশি লক্ষ জন্ম ভ্রমণ করিয়া শ্রম, ভালই দুল্লভ১ দেহ পাঞা। মহতের দায় দিয়া, ভক্তি-পথে না চলিয়া, জম্ম যায় অকারণে বৈয়া॥ মালা মুদ্রা করি বেশ, ভজনের নাহি লেশ, ফিরি আমি লোক দেখাইয়া। মাকালের ফল লাল, দেখিতে সুন্দর ভাল, ভাঙ্গিলে সে দেয় ফেলাইয়া॥ চন্দন-তরুর কাছে, যত বৃক্ষ লতা আছে, আত্ম-সম করে বায়ু দিয়া। হেন সাধু-সঙ্গ সার, নাই বলরাম ছার, ভব-কূপে রহিলাম পড়িয়া॥ ১ - “দুল্লভ”- এই শব্দটি “দুর্ল্লভ” হতে পারে। মুদ্রিত রূপে “দুল্লভ”-ই পড়া যাচ্ছে, আমাদের কাছে প্রাপ্ত গ্রন্থে। এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ ভাই রে সাধুসঙ্গ কর সাধু হৈয়া। এ ভব তরিয়া যাবে মহানন্দ সুখ পাবে নিতাই চৈতন্য গুণ গাইয়া॥ ধ্রু॥ চৌরাশী লক্ষ জনম ভ্রমণ করিয়া শ্রম ভালই দুর্ল্লভ দেহ পাইয়া। মহতের দায় দিয়া ভক্তিপথে না চলিয়া জম্ম যায় অকারণে বৈয়া॥ মালা মুদ্রা করি বেশ ভজনের নাহি লেশ ফিরি আমি লোক দেখাইয়া। মহাকালের ফল লাল দেখিতে সুন্দর ভাল ভাঙ্গিলে সে দেয় ফেলাইয়া॥ চন্দনতরুর কাছে যত বৃক্ষ লতা আছে আত্মসম করে বায়ু দিয়া। হেন সাধুসঙ্গসার নাহি বলরাম ছার ভবকূপে রহিল পড়িয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে বলরাম দাস (নরোত্তম ভক্ত)-এর পদ হিসেবে, ৭৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ ভাইরে সাধুসঙ্গ কর ভাল হৈয়া। এ ভব তরিয়া যাবা মহানন্দ সুখ পাবা নিতাই চৈতন্য গুণ গাইয়া॥ চৌরাশি লক্ষ জনম ভ্রমণ করিয়া শ্রম ভালই দুর্ল্লভ দেহ পাইয়া। মহতের দায় দিয়া ভক্তিপথে না চলিয়া জম্ম যায় অকারণে বৈয়া॥ মালা মুদ্রা করি বেশ ভজনের নাহি লেশ ফিরি আমি লোক দেখাইয়া। মহাকালের ফল লাল দেখিতে সুন্দর ভাল মরি যে মাকাল বিষ খাইয়া॥ চন্দনতরুর কাছে যত বৃক্ষ লতা আছে আত্মসম করে বায়ু দিয়া। হেন সাধুসঙ্গ সার নাই বলরাম ছার ভবকূপে রহিলাম পড়িয়া॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৫পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ ভাইরে সাধু-সঙ্গ কর ভাল হৈয়া। এ ভব তরিয়া যাবা মহানন্দ সুখ পাবা নিতাই-চৈতন্য গুণ গাইয়া॥ চৌরাশি লক্ষ জনম ভ্রমণ করিয়া শ্রম ভালই দুর্ল্লভ দেহ পাইয়া। মহতের দায় দিয়া ভক্তি-পথে না চলিয়া জম্ম যায় অকারণে বৈয়া॥ মালা মুদ্রা করি বেশ ভজনের নাহি লেশ ফিরি আমি লোক দেখাইয়া। মহাকালের ফল লাল দেখিতে সুন্দর ভাল ভাঙ্গিলে সে দেয় ফেলাইয়া॥ চন্দন-তরুর কাছে যত বৃক্ষ লতা আছে আত্ম-সম করে বায়ু দিয়া। হেন সাধু-সঙ্গ সার নাই বলরাম ছার ভব-কূপে রহিলাম পড়িয়া॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বুঢ়া তুমি কি আর গরব ধর বুঢ়া কি আর গৌরবধর ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৩৭ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৫৩৬ সংখ্যক পদ। ॥ তথা রাগ॥ বুঢ়া তুমি কি আর গরব ধর। এ ভব-সংসার- সাগর তরিতে হরি-নাম সার কর॥ পাকিল কুন্তল গায়ে নাহি বল কাঁকালি হইল বেঙ্কা। হাতে নড়ি করি যাও গুড়ি গুড়ি হুড়ি পড়িবারে শঙ্কা॥ সন্ধ্যায় শয়ন কাস ঘন ঘন সঘনে ডাকিছে গলা। বিদিত বসন ঘুচাইয়া দেখ উদিত হৈয়াছে বেলা॥ শ্বাস যে রোদন লঘি ঘনে ঘন সঘনে পিবহ পানী। অতয়ে বদন ভরি বোল হরি দাস বলরামের বাণী॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সারঙ্গ॥ বুঢ়া তুমি কি আর গরব ধর। এ ভব সংসার সাগর তরিতে হরি নাম সার কর॥ ধ্রু। পাকিল কুন্তল, গায়ে নাহি বল, কাঁকালি হৈয়াছে বঙ্কা। হাতে নড়ি করি, যাও গুড়ি গুড়ি, হুড়ি পড়িবারে শঙ্কা॥ সন্ধ্যায় শয়ন, কাস ঘন ঘন, সঘনে ডাকিছে গলা। মুদিত নয়ন, ঘুচাইয়া দেখ উদিত হৈয়াছে বেলা॥ শ্বাস যে রোদন, লঘ্বি ঘনে ঘন, সঘনে পিবই পানি। অতয়ে বদন ভরি বল হরি দাস বলরাম বাণী॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ বুঢ়া তুমি কি আর গরব ধর। এ ভব-সংসার-সাগর তরিতে হরি-নাম সার কর॥ পাকিল কুন্তল, গায়ে নাহি বল, কাঁকালি হৈয়াছে বাঁকা। হাতে নড়ি করি, যাও গুড়ি গুড়ি, হুড়ি পড়িবারে শঙ্কা॥ সন্ধ্যায় শয়ন, কাস ঘন ঘন, সঘনে ডাকিছে গলা। মুদিত নয়ন, ঘুচাইয়া দেখ, উদিত হইয়াছে বেলা॥ শ্বাস যে রোদন, লঘি ঘনে ঘন, সঘনে পিবহ পানী। অতয়ে বদন, ভরি বল হরি, দাস বলরাম-বাণী॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ বুঢ়া কি আর গৌরবধর। এ ভব সংসার, সাগর তরিতে, হরিনাম সার কর॥ ধ্রু॥ পাকিল কুন্তল, গায়ে নাহি বল, কাঁকালি হইল বঙ্কা। হাতে নড়ি করি, যাও গুড়ি গুড়ি, হুড়ি পড়িবারে শঙ্কা॥ সন্ধ্যায় শয়ন, কাস ঘন ঘন, সঘনে ডাকিয়ে গলা। মুদিত নয়ন, ঘুচাইয়া দেখ, উদিত হৈয়াছে বেলা॥ শ্বাস যে রোদন, লঘি ঘন ঘন, সঘনে পীবহি পানী। অতএ বদন ভরি বল হরি, দাস বলরাম বাণী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে বলরাম দাস (নরোত্তম ভক্ত)-এর পদ হিসেবে, ৭৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ বুঢ়া তুমি কি আর গরব ধর। এ ভব সংসার- সাগর তরিতে হরিনাম সার কর॥ পাকিল কুন্তল গায়ে নাহি বল কাঁকালি হৈয়াছে বঙ্কা। হাতে নড়ি করি যাও গুড়ি গুড়ি হুড়ি পড়িবারে শঙ্কা॥ সন্ধ্যায় শয়ন কাস ঘন ঘন সঘনে ডাকিছে গলা। আবৃত বসন ঘুচাইয়া দেখ উদিত হৈয়াছে বেলা॥ শ্বাস যে রোদন লঘ্বি ঘনে ঘন সঘনে পিবহ পানী। অতয়ে বদন ভরি বোল হরি দাস বলরামের বাণী॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ বুঢ়া তুমি কি আর গরব ধর। এ ভব-সংসার- সাগর তরিতে হরি-নাম সার কর॥ পাকিল কুন্তল গায়ে নাহি বল কাঁকালি হৈয়াছে বেঙ্কা। হাতে নড়ি করি যাও গুড়ি গুড়ি হুড়ি পড়িবারে শঙ্কা॥ সন্ধ্যায় শয়ন কাস ঘন ঘন সঘনে ডাকিছে গলা। বিদিত বসন ঘুচাইয়া দেখ উদিত হৈয়াছে বেলা॥ শ্বাস যে রোদন লঘি ঘনে ঘন সঘনে পিবহ পানী। অতয়ে বদন ভরি বোল হরি দাস বলরামের বাণী॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ছিলা জীব বাল্যকালে আচ্ছন্ন অজ্ঞানজালে ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ ছিলা জীব বাল্যকালে আচ্ছন্ন অজ্ঞানজালে না জানিতা উত্তর দক্ষিণ। পৌগণ্ডেতে হাতে খড়ি বিদ্যা লাগি দৌড়াদড়ি হরি না ভজিলা একদিন॥ কিশোর বয়স কালে বিদ্যামদে মত্ত ছিলে তর্কশাস্ত্রে হইলা পণ্ডিত। তর্করূপ মায়া জালে বাঁধা পৈলা হাতে গলে চরম না ভাবিলা কিঞ্চিত॥ যৌবনে কামের বশে মজিলা কামিনী-রসে নষ্ট কৈল কামিনী-কাঞ্চনে। উপজিল দুরমতি কামে ধনে গেল মতি সুমতি না লভিলা কখনে॥ হারে রে অধম মূঢ় শেষকালে দর্প চূর কৃষ্ণ-ভজনের কাল অন্ত। বলরাম কাঁদি বলে জনম গেল বিফলে এবে কেশে ধরিল কৃতান্ত॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে বলরাম দাস (নরোত্তম ভক্ত)-এর পদ হিসেবে, ৭৬৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ ছিলা জীব বাল্যকালে আচ্ছন্ন অজ্ঞানজালে না জানিতা উত্তর দক্ষিণ। পৌগণ্ডেতে হাতে খড়ি বিদ্যা লাগি দৌড়াদড়ি হরি না ভজিলা একদিন॥ কিশোর বয়সকালে বিদ্যামদে মত্ত ছিলে তর্কশাস্ত্রে হইলা পণ্ডিত। তর্করূপ মায়াজালে বাঁধা পৈলা হাতে গলে চরম না ভাবিলা কিঞ্চিত॥ যৌবনে কামের বশে মজিলা কামিনী-রসে নষ্ট কৈল কামিনী কাঞ্চনে। উপজিল দুরমতি কামে ধনে গেল মতি সুমতি না লভিলা কখনে॥ হারে রে অধম মূঢ় শেষকালে দর্প চূর কৃষ্ণ ভজনের কাল অন্ত। বলরাম কাঁদি বলে জনম গেল বিফলে এবে কেশে ধরিল কৃতান্ত॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ ছিলা জীব বাল্যকালে আচ্ছন্ন অজ্ঞানজালে না জানিতা উত্তর দক্ষিণ। পৌগণ্ডেতে হাতে খড়ি বিদ্যা লাগি দৌড়াদড়ি হরি না ভজিলা একদিন॥ কিশোর বয়সকালে বিদ্যামদে মত্ত ছিলে তর্কশাস্ত্রে হইলা পণ্ডিত। তর্করূপ মায়াজালে বাঁধা পৈলা হাতে গলে চরম না ভাবিলা কিঞ্চিত॥ যৌবনে কামের বশে মজিলা কামিনী-রসে নষ্ট কৈল কামিনী-কাঞ্চনে। উপজিল দুরমতি কামে ধনে গেল মতি সুমতি না লভিলা কখনে॥ হারে রে অধম মূঢ় শেষকালে দর্প চূর কৃষ্ণ ভজনের কাল অন্ত। বলরাম কাঁদি বলে জনম গেল বিফলে এবে কেশে ধরিল কৃতান্ত॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কর মন ভারি ভুরি যত কিছু চাতুরী ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ কর মন ভারি ভুরী যত কিছু চাতুরী কিছুতেই না হবে সুসার। বড়াই করিবে যত সকলি হইবে হত কিছুতেই নাহিক নিস্তার॥ ধনজন যৌবন সব হবে অকারণ বিদ্যাবুদ্ধি যাবে রসাতল। যদ্যপি মঙ্গল চাও শুন মোর মাথা খাও ভজ হরিচরণকমল॥ হরির চরণ বিনে নাহি গতি দীনহীনে হরিপদ দীনের সম্পদ। বদনে বল রে হরি অনায়াসে যাবে তরি তরণী করিয়া হরিপদ॥ বলরাম পড়ি দায় খেদে করে হায় হায় একুল ওকুল তার নাই। আর না করিও দেরি চাঁদবদনে বল হরি হরিবে শমনভয় ভাই॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-তে বলরাম দাস (নরোত্তম ভক্ত)-এর পদ হিসেবে, ৭৬৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ কর মন ভারি ভুরি যত কিছু চাতুরী কিছুতেই না হবে সুসার। বড়াই করিবে যত সকলি হইবে হত কিছুতেই নাহিক নিস্তার॥ ধনজন যৌবন সব হবে অকারণ বিদ্যাবুদ্ধি যাবে রসাতল। যদ্যপি মঙ্গল চাও শুন মোর মাথা খাও ভজ হরি চরণ কমল॥ হরির চরণ বিনে নাহি গতি দীনহীনে হরিপদ দীনের সম্পদ। বদনে বলরে হরি অনায়াসে যাবে তরি তরণী করিয়া হরিপদ॥ বলরাম পড়ি দায় খেদে করে হায় হায় একূল ওকূল তার নাই। আর না করিও দেরি চাঁদবদনে বল হরি হরিবে শমনভয় ভাই॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ কর মন ভারি ভুরি যত কিছু চাতুরী কিছুতেই না হবে সুসার। বড়াই করিবে যত সকলি হইবে হত কিছুতেই নাহিক নিস্তার॥ ধনজন যৌবন সব হবে অকারণ বিদ্যাবুদ্ধি যাবে রসাতল। যদ্যপি মঙ্গল চাও শুন মোর মাথা খাও ভজ হরি চরণ কমল॥ হরির চরণ বিনে নাহি গতি দীনহীনে হরিপদ দীনের সম্পদ। বদনে বলরে হরি অনায়াসে যাবে তরি তরণী করিয়া হরিপদ॥ বলরাম পড়ি দায় খেদে করে হায় হায় একুল ওকুল তার নাই। আর না করিও দেরি চাঁদবদনে বল হরি হরিবে সমন ভয় ভাই॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |