| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| দাঁড়াইয়া নন্দের আগে গোপাল কান্দে অনুরাগে দাঁড়ায়্যা নন্দের আগে গোপাল কান্দে অনুরাগে ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ আহিরী॥ দাঁড়াইয়া নন্দের আগে গোপাল কান্দে অনুরাগে বুক বহিয়া পড়ে ধারা। না থাকিব তোমার ঘরে অপযশ দেহ মোরে মা হইয়া বলে ননী চোরা॥ ধরিয়া যুগল করে বান্ধয়ে ছাদন ডোরে বাঁধে রাণী নবনী লাগিয়া। আহিরী রমণী হাসে দাঁড়াইয়া চারি পাশে হয় নয় চাহ সুধাইয়া॥ আনের ছাওয়াল যত তাহারা ননী খায় কত মা হইয়া কেবা বাঁধে করি। যে বলো সে বলো মোরে না থাকিব তোর ঘরে এনা দুঃখ সহিতে না পারি॥ বলাই খাইয়াছে ননী মিছা চোর বলে রাণী ভাল মন্দ না করে বিচার। পরের ছাওয়াল পাইয়া মারেন আসেন ধাইয়া শিশু বলি দয়া নাহি তার॥ অঙ্গদ বলয় তাড় আর যত অলঙ্কার আর মণি মুকুতার হার। সকল খসাইয়া লহ আমারে বিদায় দেহ এ দুঃখে যমুনা হব পার॥ বলরাম দাসে কয় এই কর্ম্ম ভাল নয় ধাইয়া গোপাল কর কোরে। যশোদা আসিয়া কাছে গোপালের মুখে মুছে অপরাধ ক্ষমা কর মোরে॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ আহীরী রাগ॥ দাঁড়াইয়া নন্দের আগে, গোপাল কান্দে অনুরাগে, বুক বাহিয়া পড়ে ধারা। না থাকিব তোমার ঘরে, অপযশ দেহ মোরে, মা হইয়া বলে ননী চোরা॥ ধরিয়া যুগল করে, বাঁধিয়ে ছান্দন ডোরে, বাঁধে রাণী নবনী লাগিয়া। আহীরী রমণী হাসে, দাঁড়াইয়া চারিপাশে, হয় নয় চাহ সুধাইয়া॥ অন্যের ছাওয়াল যত, তাহারা ননী খায় কত, মা হইয়া কেবা বান্ধে করে। যে বলো সে বলো মোরে, না থাকিব তোর ঘরে, এনা দুঃখ সহিতে না পারে॥ বলাই খায়্যাছে ননী, মিছা চোর বলে রাণী, ভাল মন্দ না করি বিচার। পরের ছাওয়াল পাইয়া, মারেন আসেন ধাইয়া, শিশু বলি দয়া নাহি তার॥ অঙ্গদ বলয় তাড়, আর যত অলঙ্কার, আর মণি মুকুতার হার। সকল খসায়্যা লহ, আমারে বিদায় দেহ, এ দুঃখে যমুনা হব পার॥ বলরাম দাসে কয়, এই কর্ম্ম ভাল নয়, ধাইয়া গোপাল কর কোরে। যশোদা আসিয়া কাছে, গোপালের মুখে মুছে, অপরাধ ক্ষমা কর মোরে॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ আহিরী॥ দাঁড়াইয়া নন্দের আগে, গোপাল কান্দে অনুরাগে, বুক বহিয়া পড়ে ধারা। না থাকিব তোমার ঘরে, অপযশ দেহ মোরে, মা হইয়া বলে ননীচোরা॥ ধরিয়া যুগল করে, বান্ধয়ে ছান্দন ডোরে, বান্ধে রাণী নবনী লাগিয়া। আহিরী রমণী হাসে, দাঁড়াইয়া চারি পাশে, হয় নয় চাহ সুধাইয়া॥ অন্যের ছাওয়াল যত, তারা ননী খায় কত, মা হইয়া কেবা বান্ধে ধরি। যে বোল সে বল মোরে, না থাকিব তোর ঘরে, এনা দুঃখ সহিতে না পারি॥ বলাই খাইছে ননী, মিছা চোর বলে রাণী, ভাল মন্দ না করে বিচার। পরের ছাওয়াল পাইয়া, মারেন আসেন ধাইয়া, শিশু বলি দয়া নাহি তার॥ অঙ্গদ বলয়া তাড়, আর যত অলঙ্কার, আর মণি মুকুতার হার। সকল খসাইয়া লই, আমারে বিদায় দেয়, এ দুখে যমুনা হব পার॥ বলরাম দাসে কয়, এই কর্ম্ম ভাল নয়, ধাইয়া গোপাল কর কোরে। যশোদা আসিয়া কাছে, গোপালের মুখ মুছে, অপরাধ ক্ষমা কর মোরে॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বাত্সল্য রস ॥ ধানশী - দশকুশী॥ দাঁড়াইয়া নন্দের আগে, গোপাল কান্দে অনুরাগে, বুক বহিয়া পড়ে নয়ন-ধারা। না থাকিব তোমার ঘরে, অপযশ দেহ মোরে, মা হইয়া বলে ননীচোরা॥ ধরিয়া যুগল করে, আনিয়া ছান্দন ডোরে, বাঁধে রাণী নবনী লাগিয়া। আহীর রমণী হাসে, দাঁড়াইয়া চারিপাশে, হয় নয় চাহ শুধাইয়া॥ আনের ছাওয়াল যত, তারা ননী খায় কত, মা হইয়া কেবা বান্ধে কারে। যে বোল সে বোল মোরে, না থাকিব তেমার ঘরে, এনা দুখ সহিতে না পারে॥ বলাই খাইছে ননী, মিছা চোর বলে রাণী, ভাল মন্দ না করে বিচার। পরের ছাওয়াল পাইয়া, মারিতে আসেন ধাইয়া, শিশু বলি দয়া নাহি তার॥ অঙ্গদ বলয়া তাড়, আর যত অলঙ্কার, আর মণি মুকুতার হার। সকল খসাইয়া লহ, আমারে বিদায় দেহ, এদুখে যমুনা হব পার॥ বলরাম দাসে কয়, এই কর্ম্ম ভালো নয়, ধাইয়া গোপালে কর কোরে। যশোদা আসিয়া কাছে, গোপালের মুখ মোছে, অপরাধ ক্ষমা কর মোরে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের উক্তি ॥ আহিরী॥ দাঁড়াইয়া নন্দের আগে গোপাল কান্দে অনুরাগে বুক বাহিয়া পড়ে ধারা। না থাকিব তোমার ঘরে অপযশ দেহ মোরে মা হইয়া বলে ননিচোরা॥ ধরিয়া যুগল করে বাঁধিয়া ছান্দনডোরে বাঁধে রাণী নবনী লাগিয়া। আহীরী রমণী হাসে দাঁড়াইয়া চারি পাশে হয় নয় দেখ সুধাইয়া॥ অন্যের ছাওয়াল যত তারা ননি খায় কত মা হইয়া কেবা বান্ধে করে। যে বল সে বল মোরে না থাকিব তোর ঘরে এ না দুঃখ সহিতে কে পারে॥ বলাই খায়্যাছে ননি মিছা চোর বলে রাণী ভাল মন্দ না করি বিচার। সঙ্গের সঙ্গীরে পাইয়া মারিতে আসেন ধাইয়া শিশু বলি দয়া নাহি তার॥ অঙ্গদ বলয় তাড় আর যত অলঙ্কার আর মণিমুকুতার হার। সকল খসায়্যা লহ আমারে বিদায় দেহ এ দুঃখে যমুনা হব পার॥ বলরাম দাসে কয় এই কর্ম্ম ভাল নয় ধাইয়া গোপাল কর কোরে। যশোদা আসিয়া কাছে গোপালের মুখ মুছে অপরাধ ক্ষমা কর মোরে॥ এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, বাল্যলীলা ও কালীয়দমন, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। দাঁড়াইয়া নন্দের আগে গোপাল কান্দে অনুরাগে বুক বাহিয়া পড়ে ধারা। না থাকিব তোমার ঘরে অপযশ দেহ মোরে মা হইয়া-বলে ননি চোরা॥ ধরিয়া যুগল করে বাঁধিয়া ছান্দন-ডোরে বাঁধে রাণী নবনী লাগিয়া। আহীরী রমণী হাসে দাঁড়াইয়া চারি পাশে হয় নয় দেখ সুধাইয়া॥ অন্যের ছাওয়াল যত তারা ননি খায় কত মা হইয়া কেবা বান্ধে করে। যে বল সে বল মোরে না থাকিব তোর ঘরে এ না দুঃখ সহিতে না পারে॥ বলাই খায়্যাছে ননি মিছা চোর বলে রাণী ভাল মন্দ না করি বিচার। পরের ছাওয়াল পাইয়া মারেন আসেন ধাইয়া শিশু বলি দয়া নাহি তার॥ অঙ্গদ-বলয়-তাড় আর যত অলঙ্কার আর মণি-মুকুতার হার। সকল খসায়্যা লহ আমারে বিদায় দেহ এ দুঃখে যমুনা হব পার॥ বলরাম দাসে কয় এই কর্ম্ম ভাল নয় ধাইয়া গোপাল কর কোড়ে। যশোদা আসিয়া কাছে গোপালের মুখ মুছে অপরাধ ক্ষমা কর মোরে॥ টীকা - গোপাল কান্দে অনুরাগে - এ কান্না দুঃখের কান্না নয়, ইহা অনুরাগের কান্না, সোহাগের কান্না, অভিমানের কান্না। পরের ছাওয়াল --- শ্রীকৃষ্ণ যশোদার গর্ভজাত সন্তান নন। বসুদেবের ঔরসে, দেবকীর গর্ভে তাঁহার জন্ম। কংসের ভয়ে বসুদেব কৃষ্ণের জন্মের অব্যবহিত পরেই তাঁহাকে নন্দালয়ে রাখিয়া আসেন। নন্দ ও তত্পত্নী যশোদা তাঁহাকে পুত্রবৎ লালন-পালন করেন। এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ আহিরী॥ দাঁড়াইয়া নন্দের আগে গোপাল কান্দে অনুরাগে বুক বাহিয়া পড়ে ধারা। না থাকিব তোমার ঘরে অপযশ দেহ মোরে মা হইয়া বলে ননি-চোরা॥ ধরিয়া যুগল করে বাঁধিয়া ছান্দন-ডোরে বাঁধে রাণী নবনী লাগিয়া। আহীরী রমণী হাসে দাঁড়াইয়া চারি পাশে হয় নয় দেখ সুধাইয়া॥ অন্যের ছাওয়াল যত তারা ননি খায় কত মা হইয়া কেবা বান্ধে করে। যে বল সে বল মোরে না থাকিব তোর ঘরে এ না দুঃখ সহিতে না পারে॥ বলাই খায়্যাছে ননি মিছা চোর বলে রাণী ভাল মন্দ না করি বিচার। পরের ছাওয়াল পাইয়া মারেন আসেন ধাইয়া শিশু বলি দয়া নাহি তার॥ অঙ্গদ-বলয় তাড় আর যত অলঙ্কার আর মণি-মুকুতার হার। সকল খসায়্যা লহ আমারে বিদায় দেহ এ দুঃখে যমুনা হব পার॥ বলরাম দাসে কয় এই কর্ম্ম ভাল নয় ধাইয়া গোপাল কর কোড়ে। যশোদা আসিয়া কাছে গোপালের মুখ মুছে অপরাধ ক্ষমা কর মোরে॥ এই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শিশু-অভিমান দাঁড়ায়্যা নন্দের আগে গোপাল কান্দে অনুরাগে বুক বহিয়া পড়ে ধারা। না থাকিব তোর ঘরে অপযশ দেয় মোরে মা হইয়া বলে ননীচোরা॥ ধরিয়া যুগল করে বান্ধয়ে ছাঁদন-ডোরে বাঁধে রানী নবনী লাগিয়া। আহিরী রমণী হাসে দাঁড়াইয়া চারি পাশে হয় নয় চাহ সুধাইয়া॥ অন্যের ছাওয়াল যত তারা ননী খায় কত মা হইয়া কেবা বান্ধে কারে। যে বোল সে বল মোরে না থাকিব তোর ঘরে এত দুখ সহিতে না পারে॥ বলাই খায়্যাছে ননী মিছা চোর বলে রাণী ভাল মন্দ না করে বিচার। পরের ছাওয়াল পায়্যা মারেন আসেন ধায়্যা শিশু বলি দয়া নাহি তার॥ অঙ্গদ বলয় তাড় আর যত অলঙ্কার আর মণি-মুকুতার হার। সকল খসায়্যা লহ আমারে বিদায় দেহ এ দুখে যমুনা হব পার॥ বলরাম দাসে কয় এই কর্ম ভাল নয় ধাইয়া গোপাল কর কর। যশোদা আসিয়া কাছে গোপালের মুখ মোছে অপরাধ ক্ষমা কর মোর॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রীদাম সুদাম দাম শুন রে বলরাম ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২২শ পল্লব, প্রকারান্তর সখ্য-বাত্সল্য, ১২১৮ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৭৫১ সংখ্যক পদ। ॥ সিন্ধুড়া॥ শ্রীদাম সুদাম দাম শুন ওরে বলরাম মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কত অতিদূর নব তৃণ কুশাঙ্কুর গোপাল লৈয়া না যাহ দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে গোপাল করিয়া মাঝে ধীরে ধীরে করিহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে রাঙ্গা পায় জানি লাগে প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রাখ্য মা বল্যা শিঙ্গায় ডাক্য ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈলে গোপ-জাতি গোধন-পালন বৃত্তি তেঞি বনে পাঠাই যাদব॥ বলরাম দাসের বাণী শুন ওগো নন্দরাণী মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লৈয়া দিব আমরা যোগাইয়া তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ শ্রীদাম সুদাম দাম, শুন রে বলরাম, মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কত অতি দূর, নব তৃণ কুশাঙ্কুর, গোপাল লৈয়া না যাইহ দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে, গোপাল করিয়া মাঝে, ধীরে ধীরে করিহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে, রাঙ্গা পায় জানি লাগে, প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রেখো, মা বলে শিঙ্গাতে ডেকো, ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈলা গোপ জাতি, গোধন পালন বৃত্তি, তেঞি বনে পাঠাই যাদব॥ বলরাম দাসের বাণী, শুন ওগো নন্দরাণি, মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লৈয়া, দিব আমরা যোগাইয়া, তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ শ্রীদাম সুদাম দাম, শুন রে বলরাম, মিনতি করিয়ে তো সবারে। বন কত অতি দূর, নব তৃণ কুশাঙ্কুর, গোপাল লৈয়া না যাইও দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে, গোপাল করিয়া মাঝে, ধীরে ধীরে করিও গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে, রাঙ্গা পায় জনি লাগে, প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রেখো, মা বলে শিঙ্গাতে ডেকো, ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈলা গোপ জাতি, গোধন-পালন বৃত্তি, তেঞি বনে পাঠাইয়া দিব॥ বলরাম দাসের বাণী, শুন ওগো নন্দরাণি, মনে কিছু না ভাবিও ভয়। চরণের বাধা লৈয়া, দিব আমরা যোগাইয়া, তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীদাম সুদাম দাম, শুন ওরে বলরাম, মিনতি করি যে তো সবারে। বন কত অতি দূর, নব তৃণ কুশাঙ্কুর, গোপাল লৈয়া না যাইও দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে, গোপাল করিয়া মাঝে, ধীরে ধীরে করিও গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে, রাঙ্গা পায় যদি লাগে, প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রেখো, মা বলে শিঙ্গাতে ডেকো, ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈলা গোপ জাতি, গোধন পালন বৃত্তি, তেঞি বনে পাঠাইয়া দিব॥ বলরাম দাসের বাণী, শুন ওগো নন্দরাণী, মনে কিছু না ভাবিও ভয়। চরণের বাধা লৈয়া, দিব আমরা যোগাইয়া, তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ শ্রীদাম সুদাম দাম, শুন ওরে বলরাম, মিনতি করি যে তো সভারে। বন কত অতি দূর, নব তৃণ কুশাঙ্কুর, গোপাল লৈয়া না যাইও দূরে॥ সখিগণ আগে পাছে, গোপাল করিয়া মাঝে, ধীরে ধীরে করিও গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে, রাঙ্গা পায় যদি লাগে, প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রেখো, মা বলে শিঙ্গাতে ডেকো, ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈলা গোপজাতি, গোধন পালন বৃত্তি, তেঞি বনে পাঠাইযা দিব॥ বলরাম দাসের বাণী, শুন ওগো নন্দরাণী, মনে কিছু না ভাবিও ভয়। চরণের বাধা লৈয়া, দিব আমরা যোগাইয়া, তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা ॥ মঙ্গলমিশ্র ভাটিয়ারী - ধামালী॥ শ্রীদাম সুদাম দাম, শুন ওরে বলরাম, মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কত অতিদূর, নব তৃণ কুশাঙ্কুর, গোপাল লৈয়া না যাইহ দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে, গোপাল করিয়া মাঝে, ধীরে ধীরে করহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে, রাঙ্গা পায় জানি লাগে, প্রবোধ না মানে মোর মন॥ নিকটে গোধন রেখ্য, মা বোলে শিঙ্গায় ডেক্য, ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈলে গোপজাতি, গোধন পালন বৃত্তি, তেঞি বনে পাঠাই যাদব॥ বলরাম দাসের বাণী, শুন ওগো নন্দরাণী, মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লইয়া, দিব আমরা যোগাইয়া, তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীযশোদার উক্তি ॥ সিন্ধুড়া॥ শ্রীদাম সুদাম দাম শুন ওরে বলরাম মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কত অতিদূর নব তৃণ কুশাঙ্কুর গোপাল লৈয়া না যাইহ দূরে॥ সখাগণ আগেপাছে গোপাল করিয়া মাঝে ধীরে ধীরে করিহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে রাঙ্গা পায় যদি লাগে প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রেখো মা বলে শিঙ্গাতে ডেকো ঘরে থাকি যেন রব শুনি। বিহি কৈলা গোপজাতি গোধনপালনবৃত্তি তেঞি বনে পাঠাই বাছনি॥ বলরামদাসের বাণী শুন ওগো নন্দ-রাণি মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লৈয়া দিব আমি যোগাইয়া তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, বাল্যলীলা ও কালীয়দমন, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীদাম সুদাম দাম শুন ওরে বলরাম মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কত অতিদূর নব তৃণ কুশাঙ্কুর গোপাল লৈয়া না যাইহ দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে গোপাল করিয়া মাঝে ধীরে ধীরে করহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে রাঙ্গা পায় যদি লাগে প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রেখো মা বলে শিঙ্গাতে ডেকো ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈলা গোপ-জাতি গোধন-পালন-বৃত্তি তেঞি বনে পাঠাইয়া দিব॥ বলরামদাসের বাণী শুন ওগো নন্দরাণী মনে কিছু না ভাবিও ভয়। চরণের বাধা লৈয়া দিব আমরা যোগাইয়া তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ শ্রীদাম সুদাম দাম শুন ওরে বলরাম মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কত অতিদূর নব তৃণ কুশাঙ্কুর গোপাল লৈয়া না যাহ দূরে॥ সখাগণ আগেপাছে গোপাল করিয়া মাঝে ধীরে ধীরে করিহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে রাঙ্গা পায় যদি লাগে প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রেখো মা বলে শিঙ্গাতে ডেকো ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈলা গোপ-জাতি গোধন-পালন-বৃত্তি তেঞি বনে পাঠাইয়া দিব॥ বলরামদাসের বাণী শুন ওগো নন্দ-রাণি মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লৈয়া দিব আমরা যোগাইয়া তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পূর্ব-গোষ্ঠ শ্রীদাম সুদাম দাম শুন ওরে বলরাম মিনতি করিয়ে তো-সভারে। বন কত অতিদূর নব তৃণ কুশাঙ্কুর গোপাল লৈয়া না যাইহ দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে গোপাল করিয়া মাঝে ধীরে ধীরে করিহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর-আগে রাঙ্গা পায় জনি লাগে প্রবোধ না মানে মোর মন॥ নিকটে গোধন রাখ্য মা বল্যা শিঙ্গায় ডাক্য ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈল গোপজাতি গোধন-পালন বৃত্তি তেঞি বনে পাঠাই যাদব॥ বলরামদাসের বাণী শুন ওগো নন্দ-রাণী মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লইয়া দিব মোরা যোগাইয়া তোমার আগে কহিল নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীদাম সুদাম দাম শুন ওরে বলরাম মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কত অতি দূর নব তৃণ কুশাঙ্কুর গোপাল লৈয়া না যাইহ দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে গোপাল করিয়া মাঝে ধীরে ধীরে করিহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে রাঙ্গা পায় জনি লাগে প্রবোধ না মানে মোর মন॥ নিকটে গোধন রাখ্য মা বল্যা শিঙ্গায় ডাক্য ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈল গোপজাতি গোধন পালন বৃত্তি তেঞি বনে পাঠাই যাদব॥ বলরাম দাসের বাণী শুন ওগো নন্দরাণী মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লৈয়া দিব আমরা যোগাইয়া তোমার আগে কহিল নিশ্চয়॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী- সাহিত্য”, ৩৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীদাম সুদাম দাম শুন ওরে বলরাম মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কত অতি দূর নব তৃণ কুশাঙ্কুর গোপাল লৈয়া না যাইহ দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে গোপাল করিয়া মাঝে ধীরে ধীরে করিহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে রাঙ্গা পায় জনি লাগে প্রবোধ না মানে মোর মন॥ নিকটে গোধন রাখ্য মা বল্যা শিঙ্গায় ডাক্য ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈল গোপজাতি গোধন পালন বৃত্তি তেঞি বনে পাঠাই যাদব॥ বলরামদাসের বাণী শুন ওগো নন্দরাণী মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লৈয়া দিব আমরা যোগাইয়া তোমার আগে কহিল নিশ্চয়॥ টীকা - মা যশোদার বাত্সল্য প্রতি শব্দে ফুটিয়া উঠিয়াছে। পদকর্ত্তা বলরাম দাস যেন একজন সখা হইয়া মাকে আশ্বাস দিতেছেন যে, বাধা অর্থাৎ খড়ম লইয়া কৃষ্ণের নিকট যোগাইবেন, সুতরাং তাঁহার পায়ে তৃণের অঙ্কুর লাগিবে না। ---বিমানবিহারী মজুমদার, ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য॥ বিমানবিহারী ছিলেন শ্রীশচন্দ্র মজুমদারের পুত্র ও এই কবি বলরাম দাসের উত্তরপুরুষ (অনাথনাথ দাস ও বিশ্বনাথ রায় সম্পাদিত, রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীশচন্দ্র সম্পাদিত পদরত্নাবলী-র আনন্দ সংস্করণ, ৩৩৬-পৃষ্ঠা।) এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ৩৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীদাম সুদাম দাম শুন ওরে বলরাম মিনতি করিয়ে তো সভারে। বন কতি অতি দূর নব তৃণ কুশাঙ্কুর গোপাল লৈয়া না যাইহ দূরে॥ সখাগণ আগে পাছে গোপাল করিয়া মাঝে ধীরে ধীরে করিহ গমন। নব তৃণাঙ্কুর আগে রাঙ্গা পায় জনি লাগে প্রবোধ না মানে মায়ের মন॥ নিকটে গোধন রাখ মা বলি শিঙ্গায় ডাক ঘরে থাকি শুনি যেন রব। বিহি কৈল গোপ জাতি গোধন-পালন বৃত্তি তেঞি বনে পাঠাই যাদব॥ বলরাম দাসের বাণী শুন ওগো নন্দরাণী মনে কিছু না ভাবিহ ভয়। চরণের বাধা লৈয়া দিব আমরা যোগাইয়া তোমার আগে কহিনু নিশ্চয়॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চাঁদ মুখে বেণু দিয়া সব ধেণু নাম লৈয়া ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, উত্তর গোষ্ঠ, ১২০৮ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৭৩৯ সংখ্যক পদ। ॥ ভাটিয়ারি॥ চাঁদ-মুখে বেণু দিয়া সব ধেনু নাম লইয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানাইর বেণু ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু-রব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজ-সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল ফিরিয়া একত্র কৈল চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেত কান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘন-শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গো-ক্ষুর-রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা ঘনে ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠ হইতে গৃহে আগমন। ॥ তুড়ী॥ চাঁদ মুখে বেণু দিয়া, সব ধেনুর নাম লঞা, ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানায়ের বেণু, ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু, পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনুরব, শুনিয়া রাখাল সব, আসিয়া মিলিল নিজ সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল, ফিরিঞা একত্র কৈল, চালাইলা গোকুলের মুখে॥ শ্বেতকান্তি অনুপাম, আগে ধায় বলরাম, আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে, তার মাঝে নবঘন শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গোক্ষুর রেণু, পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা ঘনে ঘন, বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী” , ৩৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ চাঁদ মুখে বেণু দিয়া, সব ধেনু নাম লৈয়া ডাকিতে লাগিল উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানাইর বেণু, ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেণুরব, বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজ সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল, ফিরাঞা একত্র কৈল চালাইয়া গোকুলের মুখে॥ শ্বেতকান্তি অনুপাম, আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে, তার মাঝে নব ঘন-শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গোক্ষুর রেণু পথে চলু করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা ঘনে ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ চাঁদ মুখে বেণু দিয়া, সব ধেনু নাম লৈয়া, ডাকিতে লাগিলা উচ্চৈঃস্বরে। শুনিয়া কানাইয়ের বেণু, উর্দ্ধ মুখে ধায় ধেনু, পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু রব, বুঝিয়া রাখাল সব, আসিয়া মিলিল নিজ-সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল ফিরিয়া একত্র কৈল চালাইলা গোকুলের মুখে॥ শ্বেত-কান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘন-শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গো-ক্ষুর-রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা ঘনে ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ চাঁদ মুখে বেণু দিয়া, সব ধেনু নাম লইয়া, ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানাইর বেণু, ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু, পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু রব, বুঝিয়া রাখাল সব, আসিয়া মিলিল নিজ-সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল, ফিরিয়া একত্র কৈল, চালাইলা গোকুলের মুখে॥ শ্বেতকান্তি অনুপাম, আগে ধায় বলরাম, আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে, তার মাঝে নবঘনশ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গো-ক্ষুর রেণু, পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা ঘনে ঘন, বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ চাঁদ-মুখে বেণু দিয়া, সব ধেনু নাম লইয়া, ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানাইর বেণু, ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু, পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেণু-রব, বুঝিয়া রাখাল সব, আসিয়া মিলিল নিজ-সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল, ফিরিয়া একত্র কৈল, চালাইলা গোকুলের মুখে॥ শ্বেত-কান্তি অনুপাম, আগে ধায় বলরাম, আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে, তার মাঝে নবঘন-শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গো-ক্ষুর-রেণু, পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা ঘনে ঘন, বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ চাঁদ মুখে বেণু দিয়া সব ধেনু নাম লৈয়া ডাকিতে লাগিল উচ্চৈঃস্বরে। শুনিয়া কানাইর বেণু ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু রব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজ-সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল ফিরিয়া একত্র কৈল চালাইলা গোকুলের পখে॥ শ্বেত কান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাইন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘন শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোক্ষুর রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা ঘন ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারী॥ চাঁদ-মুখে বেণু দিয়া সব ধেনু নাম লৈয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানাইর বেণু, ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু, পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু-রব, বুঝিয়া রাখাল সব, আসিয়া মিলিল নিজ-সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল, ফিরিয়া একত্র কৈল, চালাইলা গোকুলের মুখে॥ শ্বেত-কান্তি অনুপাম, আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘন-শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গো-ক্ষুর-রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা ঘনে ঘন, বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। উত্তর গোষ্ঠ ॥ তাল - দশকুশী॥ চাঁদ মুখে বেণু দিয়া, সব ধেনু নাম লইয়া, ডাকিতে লাগিল উচ্চ স্বরে। শুনিয়া কানাইয়ের বেণু, ঊর্দ্ধ মুখে ধায় ধেনু, পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনুরব, বুঝিয়া রাখাল সব, আসিয়া মিলিল নিজ সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল, ফিরাইয়া একত্র কৈল, চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেত কান্তি অনুপাম, আগে ধায় বলরাম, আর শিশু চলে ডাইনে বামে। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে, তার মাঝে নবঘনশ্যামে॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গোখুর-রেণু, পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা ঘন ঘন, বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, উত্তরগোষ্ঠখণ্ড, ২৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গৌরী মিশ্র মায়ূর - তেওট॥ চাঁদ-মুখে বেণু দিয়া সব ধেনুর নাম লইয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চৈঃস্বরে। শুনিয়া কানুর বেণু ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু-রব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলল নিজ সুখে। যে ধেনু যে বনে ছিল ফিরাইয়া একত্র কৈল চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেতকান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বামে। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘনশ্যামে॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোক্ষুর-রেণু পথে চলে করি কত রঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা দিয়া ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। উত্তর গোষ্ঠ ॥ মায়ূর - তেওট॥ চান্দ মুখে বেণু দিয়া সব ধেনুর নাম লৈয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কাহ্নাইর বেণু ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনুরব, বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলল নিজসুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল, ফিরিয়া একত্র কৈল চালাইলা গোকুলের মুখে॥ শ্বেত-কান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বামে। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘন-শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙা বেণু, গগনে গোখুর-রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা ঘনে ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। উত্তরগোষ্ঠ ॥ ভাটিয়ারি॥ চাঁদমুখে বেণু দিয়া সব ধেনু নাম লইয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানুর বেণু ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনুরব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজসুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল ফিরায়ে একত্র কৈল চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেতকান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘনশ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোক্ষুররেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা ঘনে ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, বাল্যলীলা ও কালীয়দমন, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চাঁদমুখে বেণু দিয়া সব ধেনু নাম লইয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানুর বেণু উর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু-রব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলল নিজ-সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল ফিরাইয়া একত্র কৈল চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেত-কান্তি অনুপাম আগ ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘন-শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গো-ক্ষুর-রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা ঘনে ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ চাঁদমুখে বেণু দিয়া সব ধেনু নাম লইয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানুর বেণু উর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু-রব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজ সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল, ফিরাইয়া একত্র কৈল, চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেত কান্তি অনুপাম, আগে ধায় বলরাম, আর শিশু চলে ডাহিনে বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে, তার মাঝে নব ঘন শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গোক্ষুর রেণু, পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা ঘনে ঘন, বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। উত্তর-গোষ্ঠ চান্দমুখে দিয়া বেণু নাম লৈয়া সব ধেনু ডাকিতে লাগিল উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানুর বেণু ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অনুসারে বেনুরব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজসুখে। যে ধেনু যে বনে ছিল ফিরিয়া একত্র কৈল চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেতকান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন-বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘনশ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোখুর রেণু পথে চলে করি কত রঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা দিয়া ঘন বলরামদাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। উত্তর গোষ্ঠ চান্দ মুখে দিয়া বেণু, নাম লৈয়া সব ধেণু, ডাকিতে লাগিল উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানুর বেণু, ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু, পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অনুসারে বেনু রব বুঝিয়া রাখাল সব, আসিয়া মিলিল নিজ সুখে। যে ধেনু যে বনে ছিল, ফিরিয়া একত্র কৈল, চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেতকান্তি অনুপমা, আগে ধায় বলরাম, আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে, ভাল শোভা করিয়াছে, তার মাঝে নব-ঘন-শ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু, গগনে গোখুর রেণু, পথে চলে করি কত রঙ্গে। যতেক রাখালগণ, আবা আবা দিয়া ঘন, বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চাঁদ-মুখে বেণু দিয়া সব ধেনু-নাম লইয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানুর বেণু ঊর্ধ্বমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু রব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজসুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল ফিরিয়া একত্র হৈল চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেত কান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘনশ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোক্ষুর রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা ঘনে ঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী- সাহিত্য”, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চাঁদমুখে বেণু দিয়া সব ধেনু-নাম লইয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানুর বেণু ঊর্ধ্বমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু রব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজসুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল ফিরিয়া একত্র হৈল চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেত কান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘনশ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোক্ষুর রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা ঘনে ঘন বলরামদাস চলু সঙ্গে॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চাঁদ মুখে বেণু দিয়া সব ধেনু নাম লইয়া ডাকিতে লাগিলা উচ্চস্বরে। শুনিয়া কানাইর বেণু ঊর্দ্ধমুখে ধায় ধেনু পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥ অবসান বেনু-রব বুঝিয়া রাখাল সব আসিয়া মিলিল নিজ-সুখে। যে বনে যে ধেনু ছিল ফিরিয়া একত্র কৈল চালাইল গোকুলের মুখে॥ শ্বেতকান্তি অনুপাম আগে ধায় বলরাম আর শিশু চলে ডাহিন বাম। শ্রীদাম সুদাম পাছে ভাল শোভা করিয়াছে তার মাঝে নবঘনশ্যাম॥ ঘন বাজে শিঙ্গা বেণু গগনে গোখুর-রেণু পথে চলে করি কত ভঙ্গে। যতেক রাখালগণ আবা আবা ঘনেঘন বলরাম দাস চলু সঙ্গে॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আরে মোর আরে মোর নিত্যানন্দ রায় আরে মোর নিত্যানন্দ রায় ভনিতা বলরাম দাস / গৌরী দাস / বলরাম বসু কবি বলরাম দাস বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, পঞ্চবিংশ ক্ষণদা-শুক্লা দশমী, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির একটি রূপ “পহু মোর নিত্যানন্দ রায়” শিরোনামে পদকর্তা গৌরীদাসের ভণিতায় প্রচলিত রয়েছে। সেখানে পদটির শেষ পংক্তি “গৌরীদাস হাসি হাসি রাজার নিকটে বসি হাটের মহিমা কিছু শুনে॥” মিলনসাগরে গৌরীদাসের পদাবলীর পাতায় দৃষ্টব্য। পদটি বলরাম বসুর ভণিতায়ও পাওয়া গিয়েছে (নিচে দ্রষ্টব্য)। ॥ ধানশী॥ আরে মোর আরে মোর নিত্যানন্দ রায়। মথিয়া সকল তন্ত্র হরিনাম-মহামন্ত্র করে ধরি জীবেরে বুঝায়॥ ধ্রু॥ অচ্যুত-অগ্রজ নাম মহাপ্রভু বলরাম সুরধুনী-তীরে কৈল থানা। হাট করি পরবন্ধ রাজা হৈলা নিত্যানন্দ পাষণ্ড-দলন বীর-বানা॥ পসারি শ্রীবিশ্বম্ভর সঙ্গে লয়ে গদাধর আচার্য্য চতুরে বিকে কিনে। গৌরীদাস হাসি হাসি রাজার নিকটে বসি হাটের মহিমা কিছু শুনে॥ পাত্র রামাই লয়া রাজ আজ্ঞা ফিরাইয়া কোটাল হইলা হরিদাস। কৃষ্ণদাস হইলা দাড়্যা কেহ যাইতে নারে ভাঁড়্যা লিখয়ে পঢ়য়ে শ্রীনিবাস॥ বলরাম দাসে বলে অবতার কলিকালে জগাই মাধাই হাটে আসি। ভাণ্ড হাতে ধনঞ্জয় ভিক্ষা মাগিয়া লয় হাটে হাটে ফিরয়ে তপসি॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৩৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ আরে মোর আরে মোর নিত্যানন্দ রায়। মথিয়া সকল তন্ত্র, হরি নাম মহামন্ত্র, করে ধরি জীবেরে বুঝায়॥ অচ্যুত-অগ্রজ নাম, ভুবনেতে অনুপাম, সুরধনী তীরে কৈল থানা। হাট করি পরিবন্ধ, রাজা হৈলা নিত্যানন্দ, পাষণ্ড দলন বীরবানা॥ পসারি শ্রীবিশ্বম্ভর, সঙ্গে লয়ে গদাধর আচার্য্য চতুরে বিকিকিনি। গৌরীদাস হাসি হাসি, রাজার নিকটে বসি, হাটের মহিমা কিছু শুনি॥ পাত্র রামাই লৈয়া, রাজ আজ্ঞা ফিরাইয়া, কোটাল হইল হরিদাস। কৃষ্ণদাস হৈল ডাড়্যা, কেহ যাইতে নারে ভাড়্যাঁ, লেখয়ে পড়য়ে শ্রীনিবাস॥ বলরাম দাসে বলে, অবতার কলিকালে, জগাই মাধাই হাটে আসি। ভাণ্ড হাতে ধনঞ্জয়, ভিক্ষা মাগিয়া লয়, হাটে হাটে ফিরয়ে তপাসি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দের বর্ণনা ॥ বরাড়ী॥ ॥ ধানশী॥ আরে মোর আরে মোর নিত্যানন্দ রায়। মথিয়া সকল তন্ত্র হরি নাম মহামন্ত্র করে ধরি জীবেরে বুঝায়॥ অচ্যুত-অগ্রজ নাম ভুবনেতে অনুপাম সুরধনী তীরে কৈল থানা। হাট করি পরিবন্ধ রাজা হৈলা নিত্যানন্দ পাষণ্ড দলন বীর বানা॥ পসারি শ্রীবিশ্বম্ভর সঙ্গে লয়ে গদাধর আচার্য্য চতুরে বিকিকিনি। গৌরীদাস হাসি হাসি রাজার নিকটে বসি হাটের মহিমা কিছু শুনি॥ পাত্র রামাই লৈয়া রাজ আজ্ঞা ফিরাইয়া কোটাল হইল হরিদাস। কৃষ্ণদাস হৈল দ্বারি কেহ যাইতে নারে ভাঁড়ি লেখয়ে পড়য়ে শ্রীবাস॥ বলরাম দাসে বলে অবতার কলিকালে জগাই মাধাই হাটে আসি। ভাণ্ড হাতে ধনঞ্জয় ভিক্ষা মাগিয়া লয় হাটে হাটে ফিরয়ে তপাসি॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ আরে মোর আরে মোর নিত্যানন্দ রায়। মথিয়া সকল তন্ত্র হরি নাম মহামন্ত্র করে ধরি জীবেরে বুঝায়॥ অচ্যূত-অগ্রজ নাম ভুবনেতে অনুপাম সুরধুনী তীরে কৈল থানা। হাট করি পরিবন্ধ রাজা হৈলা নিত্যানন্দ পাষণ্ড দলন বীরবানা॥ পসারি শ্রীবিশ্বম্ভর সঙ্গে লয়ে গদাধর আচার্য্য চতুরে বিকিকিনি। গৌরীদাস হাসি হাসি রাজার নিকটে বসি হাটের মহিমা কিছু শুনি॥ পাত্র রামাই লৈয়া রাজ আজ্ঞা ফিরাইয়া কোটাল হইল হরিদাস। কৃষ্ণদাস হইল ডাড়্যা কেহ যাইতে নারে ভাড়্যাঁ লেখয়ে পড়য়ে শ্রীনিবাস॥ বলরাম দাসে বলে অবতার কলিকালে জগাই মাধাই হাটে আসি। ভাণ্ড হাতে ধনঞ্জয় ভিক্ষা মাগিয়া লয় হাটে হাটে ফিরয়ে তপাসি॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত “বলরামদাসের পদাবলী” সংকলনে, সুকুমার সেনের “বৈষ্ণব-পদাবলী ও বলরামদাস” প্রবন্ধে, ষোল-পৃষ্ঠায়, “বলরাম বসু”-র ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি সুকুমার রায় পেয়েছিলেন একটি পুরানো পুঁথিতে। "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস", ১ম খণ্ড (২য় সংস্করণ) ৩০০-পৃষ্ঠায় এর উল্লেখ রয়েছে। আরে মোর নিত্যানন্দ রায় মথিয়া সকল তন্ত্র হরিনাম মহামন্ত্র করে ধরি জীবেরে বুঝায়। অনন্ত অগ্রজ নাম ভুবনেতে অনুপাম সুরধনী-তীরে কৈল থানা হাট করি পরিবন্ধ রাজা হৈলা নিত্যানন্দ পাষণ্ডী যাইতে হৈল মানা। পাত্র রামাই লৈয়া রাজ-আজ্ঞা ফিরাইয়া কোটাল হইলা হরিদাস কৃষ্ণদাস হইল দ্বাব়্যা কেহ যাইতে নারে ভাড়্যাঁ লিখয়ে পড়য়ে শ্রীনিবাস। শ্রীরূপ সনাতন সেই হাটের মহাজন প্রেমধন বিলাইতে আইলা মহাজন দয়ালু বড় না চিনয়ে ছোট বড় নিকড়িতে বিতরণ কৈলা। পসারি শ্রীবিশ্বম্ভর গদাধর দাস আর আচার্য্য চত্বরে বিকিকিনি গৌরীদাস হাসি হাসি রাজার নিকটে বসি হাটের মহিমা কিছু শুনি। বসু বলরামে বলে অবতরি কলিকালে জগাই মাধাই হাটে আসি ভাণ্ড হাথে ধনঞ্জয় ভিক্ষা মাগিয়া লয় হাটে হাটে ফিরয়ে তপাসি॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নন্দ-সুত হেরি যশোমতী রোহিণী ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ নন্দ-সুত হেরি, যশোমতী রোহিণী, আনন্দ করত বাধাই। হেরিয়া গোপগণ, সভে আনন্দিত মন, নন্দমহলে ধায়াধাই॥ কোথা গেল নন্দরাজ, পড়িল মানস কাজ, দেখসিয়া পুত্রের বদন। নীল বরণ শশী, উদয় করিল আসি, দেখি কর সফল জীবন॥ এত বলি নন্দরাণী, সুতিকা দুয়ারে আনি, দেখাইছে সভারে ডাকিয়া। আনন্দে মাতিল কায়, শুনি যত গোপ ধায়, আশীর্ব্বাদে দুবাহু তুলিয়া॥ কেহ বা আনন্দচিতে, গান করে নানাগীতে, কোন গোপ করে জয়ধ্বনি। কেহ বলে শুন ভাই, হেন রূপ দেখি নাই, কোটি চান্দের মুখের বলনি॥ কোন গোপ ধেয়া গিয়া, দধি দুগ্ধ ঘৃত ল’য়া, উভারয়ে নন্দের ভবনে। দুজনে দুজন মেলি, বাহুযুদ্ধ পেলাপেলি, কোন গোপ করয়ে নর্ত্তনে॥ গোপ গোপী এক মেলি, জয় জয় হুলাহুলি, যুবক বৃদ্ধক সব ধায়। নন্দের ভবনে গিয়া, ফিরে সভে নাচিয়া, বলরাম দাস গুণ গায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। নন্দোত্সব ॥ কামোদ॥ নন্দসুত হেরি যশোমতী রোহিণী আনন্দ করত বাধাই। হেরিয়া গোপগণ সভে আনন্দিত মন নন্দমহলে ধাওয়া ধাই॥ কোথা গেল নন্দরাজ ফেলিয়া সকল কাজ দেখসিয়া পুত্রের বদন। নীল বরণ শশী উদয় করিল আসি দেখি কর সফল জীবন॥ এত বলি নন্দরাণী সূতিকা দুয়ারে আনি দেখাইছে সভারে ডাকিয়া। আনন্দে মাতিল কায় শুনি যত গোপ ধায় আশীর্ব্বাদে দুবাহু তুলিয়া॥ কেহ বা আনন্দচিতে গান করে নানা গীতে কোন গোপ করে জয়ধ্বনি। কেহ বলে শুন ভাই হেন রূপ দেখি নাই কোটি চান্দের মুখের বলনি॥ কোন গোপ ধায়্যা গিয়া দধি দুগ্ধ ঘৃত লয়্যা উভারয়ে নন্দের ভবনে। দুজনে দুজন মেলি বাহুযুদ্ধ ফেলাফেলি কোন গোপ করয়ে নর্ত্তনে॥ গোপ গোপী এক মেলি জয় জয় হুলাহুলি যুবক বৃদ্ধ যুবা সভে ধায়। নন্দের ভবনে গিয়া ফিরে সভে নাচিয়া বলরাম দাস গুণ গায়॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, নন্দোত্সব, ৩৩- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ নন্দ-সুত হেরি যশোমতী রোহিণী আনন্দ করত বাধাই। হেরিয়া গোপগণ সভে আনন্দিত মন নন্দমহলে ধায়াধাই॥ কোথা গেল নন্দরাজ পড়িল মানস কাজ দেখসিয়া পুত্রের বদন। নীল বরণ শশী উদয় করিল আসি দেখি কর সফল জীবন॥ এত বলি নন্দরাণী সুতিকা দুয়ারে আনি দেখাইছে সভারে ডাকিয়া। আনন্দে মাতিল কায় শুনি যত গোপ ধায় আশীর্ব্বাদে দুবাহু তুলিয়া॥ কেহ বা আনন্দচিতে গান করে নানা গীতে কোন গোপ করে জয়ধ্বনি। কেহ বলে শুন ভাই হেন রূপ দেখি নাই কোটি চান্দের মুখের বলনি॥ কোন গোপ ধেয়া গিয়া দধি দুগ্ধ ঘৃত লয়্যা উভারয়ে নন্দের ভবনে। দুজনে দুজন মেলি বাহুযুদ্ধ পেলাপেলি কোন গোপ করয়ে নর্ত্তনে॥ গোপ গোপী এক মেলি জয় জয় হুলাহুলি যুবক বৃদ্ধক সভে ধায়। নন্দের ভবনে গিয়া ফিরে সভে নাচিয়া বলরাম দাস গুণ গায়॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |