কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
নানা ন্যাস বেশ করি পরায় পাটের শাড়ী
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, রসোদ্গার, ৯৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

নানা ন্যাস বেশ করি,                পরায় পাটের শাড়ী,
সাধে সাধে সমুখে হাঁটায়।
দেখিয়া হাঁটন মোর,                 হইয়া আনন্দে ভোর,
দুই বাহু পসারিয়া ধায়॥
সই ! তেঞি সে হিয়ার মাঝে জাগে।
কত কুলবতী যারে,                  হেরিয়া ঝুরিয়া মরে,
সেই যোড় হাতে মোর আগে॥ ধ্রু॥
অতি রসে গরগরি,                     কাঁপে পহুঁ থরহরি,
আরতি করিয়া কোলে করে।
ঘন ঘন চুম্বনে,                           নিবিড় আলিঙ্গনে,
ডুবাইল রসের সাগরে॥
চন্দন মাখায় গায়,                        দেয় বসনের বায়,
নিজ করে তাম্বুল খাওয়ায়।
বিনি কাজে কত পুছে,                কত না মুখানি মোছে,
হেন বাসে দেখিতে হারায়॥
“তুমি মোর ধন প্রাণ,                তোমা বিনে নাহি আন,”
কহে প্রিয়া গদগদ ভাষে।
যতেক পিরীতি তার,                জগতে কি আছে আর,
কি বলিবে বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি কহব বধুঁর পিরীতি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, সম্ভোগ মিলন, ৯৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কি কহব বধুঁর পিরীতি।
নিরপম সকল কি রীতি॥
আপনা না জানে আমা পিয়ে।
রাখে মোরে হিয়ায় পুরিয়ে॥
সদায় বদন নিরখয়।
তবু আঁখি তিরপিত নয়॥
বচন শুনিতে সাধ কত।
রহে যেন সেবকের মত॥
আলতা পরায় মোর পায়।
আপনার নাম লেখে তায়॥
বলরাম দাসে কহে সার।
শ্যাম বঁধু রসের পাঁথার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কি কহব বধুঁর পিরীতি।
নিরুপম সকলি কি রীতি॥
আপনা না জানে আমা পিয়ে।
রাখে মোরে হিয়ায় পুরিয়ে॥
সদায় বচন নিরখয়।
তবু আঁখি তিরপিত নয়॥
বচন শুনিতে সাধ কত।
রহে যেন সেবকের মত॥
আলতা পরায় মোর পায়।
আপনার নাম লেখে তায়॥
বলরাম দাসে কহে সার।
শ্যাম বঁধু রসের পাথার॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কি কহব বধুঁর পিরীতি।
নিরপম সকলি কি রীতি॥
আপনা না জানে আমা পিয়ে।
রাখে মোরে হিয়ায় পুরিয়ে॥
সদায় বচন নিরখয়।
তবু আঁখি তিরপিত নয়॥
বচন শুনিতে সাধ কত।
রহে যেন সেবকের মত॥
আলতা পরায় মোর পায়।
আপনার নাম লেখে তায়॥
বলরাম দাসে কহে সার।
শ্যাম বঁধু রসের পাথার॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিকুঞ্জ মন্দিরে রাই প্রবেশিলা রঙ্গে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), প্রথম খণ্ড, ২য়
শাখা, ২২শ পল্লব, কারণাভাস মান, ৫৯১ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ
দাসের পদরসসার পুথির ৭৭৫ সংখ্যক পদ।

পুনশ্চ।
॥ সুহই॥

নিকুঞ্জ-মন্দিরে রাই প্রবেশিলা রঙ্গে।
আপনার বরণ দেখয়ে শ্যাম-অঙ্গে॥
আন রমণী কহি নিবারই দীঠ।
ফিরিয়া চলিলা ধনী শ্যাম করি পীঠ॥
আকুল গোকুলচাঁদ পসারিয়া বাহু।
শরদের চাঁদ যেন গরাসয়ে রাহু॥
দরশে বিরস কেন কিয়ে অপরাধ।
চান্দ বিনে চকোর না জিয়ে তিল আধ॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি।
শ্যাম-অঙ্গ কত কোটি দরপণ জিনি॥

টীকা -
১ - ৪। “নিকুঞ্জ” ইত্যাদি। শ্রীরাধা সানন্দে নিকুঞ্জ-গৃহে প্রবেশ করিলেন, (প্রবেশ করিয়া)
শ্রীকৃষ্ণের (মণি-দর্পণ তুল্য) অঙ্গে নিজের বর্ণ অর্থাৎ স্বর্ণবৎ কান্তি দেখিতে পাইলেন। (উহা
যে তাঁহার নিজের অঙ্গের প্রতিবিম্ব, তাহা লক্ষ্য না করিয়া) অন্য রমণী (এ কে শ্রীকৃষ্ণের
অঙ্গে সংলগ্ন হইয়া আছে), ইহা বলিয়া দৃষ্টি ফিরাইয়া শ্রীকৃষ্ণের দিকে পাছ দিয়া শ্রীরাধা
ফিরিয়া চলিলেন।--- সতীশচন্দ্র রায়, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পদং॥

নিকুঞ্জমন্দির রাই প্রবেশিলা রঙ্গে। আপন বরণ দেখে শ্যাম অঙ্গে॥
আন রমণী কহি নিবারয়ে দিঠ। ফিরিয়া চলিলা ধনি শ্যাম করি পিঠ॥
আকুল গোকুলচান্দ পসারএ বাহু। শরদের চান্দ জেন গরাসয়ে রাহু॥
দরসে বিরস কেন কি এ অপরাধ। চান্দ বিনে চকোর না জিএ তিল আধ॥
বলরাম দাস কহে সুন বিনোদিনি। শ্যামঅঙ্গ কত কোটী দরপন জিনি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, সম্ভোগ মিলন, ৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই॥

নিকুঞ্জ মন্দিরে রাই প্রবেশিলা রঙ্গে।
আপন বরণ দেখে শ্যামক অঙ্গে॥
আন রমণী কহি নিবারই দিঠ।
ফিরিয়া চলিলা ধনী শ্যাম করি পীঠ॥
আকুল গোকুল চাঁদ পসারিয়া বাহু।
শরদের চাঁদ যেন গরাসয়ে রাহু॥
দরশে বিরস কেনে কিয়ে অপরাধ।
চাঁদ বিনে চকোর না জীয়ে তিল আধ॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি।
শ্যাম অঙ্গে কত কোটি দরপণ জিনি॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৪৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
॥ করুণ সুহই - একতালা॥

নিকুঞ্জ মন্দিরে রাই প্রবেশিলা রঙ্গে।
আপনার বরণ দেখয়ে শ্যাম অঙ্গে॥
আন রমণী কহি নিবারই দীঠ।
ফিরিয়া চলিলা ধনী শ্যাম করি পীঠ॥
আকুল গোকুল চাঁদ পসারিয়া বাহু।
শরদের চাঁদ যেন গরাসয়ে রাহু॥
দরশে বিরস কেন কিয়ে অপরাধ।
চান্দ বিনে চকোর না জিয়ে তিল আধ॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি।
শ্যাম অঙ্গ কত কোটি দরপণ জিনি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অকারণ মান
॥ সুহই॥

নিকুঞ্জ মন্দিরে রাই প্রবেশিলা রঙ্গে।
আপনার বরণ দেখয়ে শ্যাম অঙ্গে॥
আন রমণী কহি নিবারল দীঠ।
ফিরিয়া চলিলা ধনী শ্যাম করি পীঠ॥
আকুল গোকুলচাঁদ পসারিয়া বাহু।
শরদের চাঁদ যেন গরাসয়ে রাহু॥
দরশে বিরস কেনে কিয়ে অপরাধ।
চান্দ বিনে চকোর না জিয়ে তিল আধ॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি।
শ্যাম অঙ্গ কত কোটি দরপণ জিনি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নিকুঞ্জ-মন্দিরে রাই প্রবেশিলা রঙ্গে।
আপনার বরণ দেখয়ে শ্যাম-অঙ্গে॥
আন রমণী কহি নিবারল দীঠ।
ফিরিয়া চলিলা ধনী শ্যাম করি পীঠ॥
আকুল গোকুলচাঁদ পসারিয়া বাহু।
শরদের চাঁদ যেন গরাসয়ে রাহু॥
দরশে বিরস কেনে কিয়ে অপরাধ।
চান্দ বিনে চকোর না জিয়ে তিল আধ॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি।
শ্যাম-অঙ্গে কত কোটি দরপণ জিনি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁ দুহুঁ নয়ানে নয়ানে ভেল মেলি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৭শ পল্লব, বসন্ত-বিহার প্রকারান্তর, ১৪৮৬ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২০৩৯ সংখ্যক পদ।

॥ বিহাগড়া॥

দুহুঁ দুহুঁ নয়নে নয়নে ভেল মেলি।
লখই না পারি কলহ কিয়ে কেলি॥
গদগদ বচন কহই নাহি পারি।
যৈছন রোখে অবশ রহু থারি॥
ভাঙ-ধনুয়া পর করই সন্ধান।
মরমহি হানল মনমথ-বাণ॥
ঋতুপতি সমতি সৈনপতি-রাজ।
আগহি ভেজল সমরক সাজ॥
মুকুলিত চূত অশোক বকফুল।
ভৈ গেল সবহুঁ বিশিখ সমতুল॥
তাহে মলয়ানিল ভেল অনুকূল।
বাওই রণ-বাজন দ্বিজকুল॥
অপরূপ রঙ্গভূমি বন মাঝ।
পৈঠল দুহুঁ জন সমর-সমাঝ॥
রতি-রণ-বীর-নয়ন-শরজালে।
ভাগল সহচরী দূরহি নেহালে॥
ভুজে ভুজে দুহুঁ জন বন্ধন-ছন্দ।
বলরাম দাস কহে লাগল ধন্ধ॥

টীকা -
১ - ২। “দুহুঁ” ইত্যাদি। (পদকর্ত্তা যুদ্ধরূপে সম্ভোগ-লীলা বর্ণন করিতেছেন) উভয়ের নয়নে
নয়নে সাক্ষাৎ হইল ; (ইহা) বিবাদ, কি ক্রীড়া, লক্ষ্য করিতে পারি না।
৩ - ৪। “গদগদ” ইত্যাদি। গদগদ বাক্য বলিতে পারিতেছেন না ; যেন ক্রোধে অধীর হইয়া
রহিয়াছে। (সাত্বিক-ভাবের ন্যায় ক্রোধেরও গদগদ বাক্য বহির্গত ও বাক্যস্তম্ভ হয়)।
৫ - ৬। “ভাঙ” ইত্যাদি। উভয়ে ভ্রূ-রূপ ধনুর উপর সন্ধান করিয়া (উভয়ের) মর্ম্মে মন্মথ-
প্রদত্ত বাণ অর্থাৎ কটাক্ষ বিদ্ধ করিল।
৭ - ৮। “ঋতুপতি” ইত্যাদি। সৈন্য-পতি-রাজ অর্থাৎ সেনাপতি-শিরোমণি কন্দর্প (নিজের
অনুচর) ঋতুপতি বসন্তের সহিত যুদ্ধের সজ্জা আগেই পাঠাইল।
৯ - ১২। “মুকুলিত” ইত্যাদি। (যুদ্ধের সজ্জা কি কি, তাহাই বলিতেছেন) মুকুলিত
চুত অর্থাৎ চুত-মুকুল, অশোক-পুষ্প, বকফুল---সমস্তই বাণের তুল্য হইল ; বিহঙ্গকুল (মধুর
নিনাদ দ্বারা) রণ-বাদ্য বাজাইতে লাগিল।
১৫ - ১৬। “রতি-রণ” ইত্যাদি। রতি-রণ-বীর প্রেমিক-যুগলের নয়ন-শর-সমূহ দ্বারা (ভীত
হইয়া) সহচরীগণ পলায়ন করিল, (কিন্তু অপূর্ব্ব যুদ্ধদর্শনের কৌতূহল হেতু) দূর হইতে
দেখিতে লাগিল।

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১০০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

দুহুঁ দুহুঁ নয়ানে নয়ানে ভেল মেলি।
লখই না পারই কলহ কিয়ে কেলি॥
গদ গদ বচন কহই নাহি পারি।
যৈছন রোখে অবশ রহু থারি॥
ভাঙ ধনুয়া পর করই সন্ধান।
মরমহি হানল মনমথ বাণ॥
ঋতুপতি সমতি শৈলপতি রাজ।
আগহি ভেজল সমরক সাজ॥
মুকুলিত চূত অশোক বক ফুল।
ভৈ গেল সবহুঁ বিশিখ সমতুল॥
তাহে মলয়ানিল ভেল অনুকূল।
বাওই রণ বাজন দ্বিজ কুল॥
অপরূপ রঙ্গভোমি বন মাঝ।
বৈঠল দুহুঁ জন সমর সমাঝ॥
রতিরণ বীরক নয়ন শরজালে।
ভাগল সহচরী দূরহি নেহালে॥
ভুজে ভুজে দুহুঁ জন বন্ধন ছন্দ।
বলরাম দাস কহে লাগল ধন্ধ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

দুহুঁ দুহুঁ নয়ানে নয়ানে ভেল মেলি। লখই না পারই কলহ কিয়ে কেলি॥
গদ গদ বচন কহই তাহি পারি। যৈছন রোষে অবশ রহু থারি॥
ভাঙ ধনুয়া পর করই সন্ধান। মরমহি হানল মনমথ-বাণ॥
ঋতুপতি সমতি শৈলপতি রাজ। আগহি ভেজল মরমক সাজ॥
মুকুলিত চূত অশোক বকফুল। ভৈ গেল সবহুঁ বিশিখ সমতুল॥
তাহে মলয়ানিল ভেল অনুকূল। বাওই রণ বাজন দ্বিজকুল॥
অপরূপ রঙ্গভূমি বন মাঝ। বৈঠল দুহুঁ জন সমর-সমাঝ॥
রতি-রণ বীরক নয়ন-শরজালে। ভাগল সহচরী দূরহি নেহারে॥
ভুজে ভুজে দুহুঁ জন বন্ধন ছন্দ। বলরামদাস কহে লাগল দ্বন্দ্ব॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

দুহুঁ দুহুঁ নয়ানে নয়ানে ভেল মেলি।
লখই না পারই কলহ কিয়ে কেলি॥
গদ গদ বচন কহই নাহি পারি।
যৈছন রোষে অবশ রহুঁ থারি॥
ভাঙ-ধনুয়া পর করই সন্ধান।
মরমহি হানল মনমথ-বাণ॥
ঋতুপতি সমতি শৈলপতি রাজ।
আগহি ভেজল সমরক সাজ॥
মুকুলিত চূত অশোক বকুল।
ভৈ গেল সবহুঁ বিশিখ সমতুল॥
তাহে মলয়ানিল ভেল অনুকূল।
বাওই রণ-বাজন দ্বিজকুল॥
অপরূপ রঙ্গভূমি বন মাঝ।
পৈঠল দুহুঁ জন সমর সমাজ॥
রতি-রণ-বীরক নয়ন-শরজালে।
ভাগল সহচরী দূরহি নেহারে॥
ভুজে ভুজে দুহুঁ জন বন্ধন ছন্দ।
বলরাম দাস কহে লাগল ধন্ধ॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

দুহুঁ দুহুঁ নয়ানে নয়ানে ভেল মেলি।
লখই না পারই কলহ কিয়ে কেলি॥
গদ গদ বচন কহই তাহি পারি।
যৈছন রোষে অবশ রহুঁ থারি॥
ভাঙ-ধনুয়া পর করই সন্ধান।
মরমহি হানল মনমথ বাণ॥
ঋতুপতি সমতি শৈলপতি রাজ।
আগহি ভেজল সমরক সাজ॥
মুকুলিত চূত অশোক বকুল।
ভৈ গেল সবহুঁ বিশিখ সমতুল॥
তাহে মলয়ানিল ভেল অনুকূল।
বাওই রণ বাজন দ্বিজকুল॥
অপরূপ রঙ্গভূমি বন মাঝ।
পৈঠল দুহুঁ জন সমর সমাঝ॥
রতিরণবীরক নয়ন শরজালে।
ভাগল সহচরী দূরহি নেহারে॥
ভুজে ভুজে দুহুঁ জন বন্ধন ছন্দ।
বলরাম দাস কহে লাগল ধন্ধ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ
॥ বিহাগড়া॥

দুহুঁ দুহুঁ নয়নে নয়নে ভেল মেলি।
লখই না পারি কলহ কিয়ে কেলি॥
গদগদ বচন কহই নাহি পারি।
যৈছন রোখে অবশ রহু ঠারি॥
ভাঙধনুয়া পর করই সন্ধান।
মরমহি হানল মনমথবাণ॥
ঋতুপতি সমতি সৈনপতি-রাজ।
আগহি ভেজল সমরক সাজ॥
মুকুলিত চূত অশোক বকফুল।
ভৈ গেল সবহুঁ বিশিখ সমতুল॥
তাহে মলয়ানিল ভেল অনুকূল।
বাওই রণবাজন দ্বিজকুল॥
অপরূপ রঙ্গভূমি বন মাঝ।
পৈঠল দুহুঁ জন সমরসমাজ॥
রতিরণবীর নয়নশরজালে।
ভাগল সহচরী দুরহি নেহালে॥
ভুজে ভুজে দুহুঁ জন বন্ধনছন্দ।
বলরাম দাস কহে লাগল ধন্ধ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৯৩ -পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

দুহুঁ দুহুঁ নয়নে নয়নে ভেল মেলি।
লখই না পারি কলহ কিয়ে কেলি॥
গদগদ বচন কহই নাহি পারি।
যৈছন রোখে অবশ রহু থারি॥
ভাঙ-ধনুয়া পর করই সন্ধান।
মরমহি হানল মনমথ-বাণ॥
ঋতুপতি সমতি শৈলপতি-রাজ।
আগহি ভেজল সমরক সাজ॥
মুকুলিত চূত অশোক বকফুল।
ভৈ গেল সবহুঁ বিশিখ সমতুল॥
তাহে মলয়ানিল ভেল অনুকূল।
বাওই রণ-বাজন দ্বিজকুল॥
অপরূপ রঙ্গভূমি বন মাঝ।
পৈঠল দুহুঁ জন সমর-সমাঝ॥
রতি-রণ-বীর-নয়ন-শরজালে।
ভাগল সহচরী দূরহি নেহালে॥
ভুজে ভুজে দুহুঁ জন বন্ধন-ছন্দ।
বলরাম দাস কহে লাগল ধন্ধ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কুসুম ভরে নব পল্লব দোল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৭শ পল্লব, বসন্ত-বিহার প্রকারান্তর, ১৪৯০ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২০৪২ সংখ্যক পদ।

॥ পঠমঞ্জরী॥

কুসুম-ভরে নব পল্লব দোল।
মধু পিবি মধুকরি মধুকর রোল॥
তাহে নব কোকিল পঞ্চম গায়।
দুহুঁ জন আরতি চন্দন-বায়॥
পুণমিক রাতি মোহন ঋতু-রাজ।
বৈদগধি বিদগধ মিলল সমাজ॥
নাহ নীলমণি বরণ সুঠাম।
রাই মুকুর কাঞ্চন দশবাণ॥
দোঁহে দোঁহা হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোরি।
রাই ভেল শ্যাম শ্যাম ভেল গোরী॥
আলিঙ্গন করইতে উপজল হাস।
ও রূপ বলিহারি বলরাম দাস॥

টীকা -
৪। “দুহুঁজন” ইত্যাদি। চন্দন-বায়ুতে অর্থাৎ চন্দ্নবৃক্ষোপলক্ষিত মলয়াচলের বায়ুদ্বারা
শ্রীরাধাকৃষ্ণের আরতি অর্থাৎ মঙ্গল আরতির পবন-ব্যজন (হইতেছে)।
৭ - ১০। “নাহ” ইত্যাদি। নাথ শ্রীকৃষ্ণ নীলকান্ত মণির বর্ণের ন্যায় সুন্দর ও শ্রীমাখা নির্ম্মল
দশবান স্বর্ণের দর্পণ-স্বরূপ ; উভয়ে উভয়কে দেখিবা-মাত্র উভয়েই ভ্রান্ত হইল ; (কেন না,
শ্রীরাধার পীত অঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নীল অঙ্গ-কান্তি প্রতিবিম্বিত হইয়া নীল ও পীত বর্ণের
মিশ্রণে) শ্রীরাধা (নব-দুর্ব্বাদলের ন্যায়) শ্যাম ও (শ্রীকৃষ্ণের দেহকান্তি শ্রীরাধার স্বর্ণকান্তির
প্রাচুর্য্যে আচ্ছাদিত হওয়ায়) শ্যাম অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ গৌরাঙ্গী শ্রীরাধা-স্বরূপ হইলেন।

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ )  রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা
সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

কুসুম ভরে নব পল্লব দোল।
মধু পিবি মধুকরী মধুকর বোল॥
তাহে নব কোকিল পঞ্চম গায়।
দুহুঁ জন আরতি চন্দন বায়॥
পূণমিক রাতি মোহন ঋতুরাজ।
বৈদগধি বিদগধ মিলল সমাজ॥
নাহ নীলমণি বরণ সুঠাম।
রাই মুকুর কাঞ্চন দশবাণ॥
দোঁহে দোঁহা হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোরি।
রাই ভেল শ্যাম শ্যাম ভেল গোরী॥
আলিঙ্গন করইতে উপজল হাস।
ওরূপ বলিহারি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুসুম-ভরে নব পল্লব দোল। মধু পিবি মধুকরী মধুকর বোল॥
তাহে নব কোকিল পঞ্চম গায়। দুহুঁ জন আরতি চন্দন বায়॥
পূণিমক রাতি মোহন ঋতু-রাজ। বৈদগধী বিদগধ মিলল সমাজ॥
নাহ নীলমণি-বরণ সুঠাম। রাই মুকুর কাঞ্চন দশবাণ॥
দোঁহে দোঁহা হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোরি। রাই ভেল শ্যাম শ্যাম ভেল গোরী॥
আলিঙ্গন করইতে উপজল হাস। ও রূপ বলিহারি বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

কুসুম-ভরে নব পল্লব দোল।
মধু পিবি মধুকরী মধুকর বোল॥
তাহে নব কোকিল পঞ্চম গায়।
দুহুঁজন আরতি চন্দন বায়॥
পূণিমক রাতি মোহন ঋতু-রাজ।
বৈদগধী বিদগধ মিলল সমাজ॥
নাহ নীলমণি-বরণ সুঠাম।
রাই মুকুর কাঞ্চন দশবাণ॥
দোঁহে দোঁহা হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোরি।
রাই ভেল শ্যাম শ্যাম ভেল গোরী॥
আলিঙ্গন করইতে উপজল হাস।
ও রূপ বলিহারি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্তবিলাস
॥ পঠমঞ্জরী॥

কুসুমভরে নব পল্লব দোল।
মধু পিবি মধুকরি মধুকর বোল॥
তাহে নব কোকিল পঞ্চম গায়।
দুহুঁ জন আরতি চন্দন-বায়॥
পুনমিক রাতি মোহন ঋতুরাজ।
বৈদগধি বিদগধ মিলল সমাজ॥
নাহ নীলমণি বরণ সুঠান।
রাই মুকুর কাঞ্চন দশবাণ॥
দোঁহে দোঁহা হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোরি।
রাই ভেল শ্যামরী শ্যাম ভেল গোরি॥
আলিঙ্গন করইতে উপজল হাস।
ও রুপ বলিহারি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৯৫ -পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

কুসুম-ভরে নব পল্লব দোল।
মধু পিবি মধুকরী মধুকর বোল॥
তাহে নব কোকিল পঞ্চম গায়।
দুহুঁ জন আরতি চন্দন-বায়॥
পুণমিক রাতি মোহন ঋতু-রাজ।
বৈদগধি বিদগধ মিলল সমাজ॥
নাহ নীলমণি বরণ সুঠাম।
রাই মুকুর কাঞ্চন দশবাণ॥
দোঁহে দোঁহা হেরইতে দুহুঁ ভেল ভোরি।
রাই ভেল শ্যাম শ্যাম ভেল গোরী॥
আলিঙ্গন করইতে উপজল হাস।
ও রূপ বলিহারি বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সব সখীগণে সঞে রাই সুধামুখী
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬৫৩-পদসংখ্যা।

॥ শ্রীরাগ॥

সব সখীগণ সঞে রাই সুধামুখি
কানুক ভোজন-শেষ।
ভুঞ্জয়ে কত  পরমানন্দ কৌতুকে
গুণমঞ্জরী পরিবেশ॥
অপরূপ ভোজন-কেলি।
করিয়া আচমন নিভৃত নিকেতন
চলু সব সহচরী মেলি॥
রতন-পালঙ্ক পর শূতল রাই কানু
প্রিয়-সখি তাম্বুল দেল।
খণ এক নিন্দে নিন্দায়লি দুহুঁ জন
বলরাম হরষিত ভেল॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সব সখীগণ সঞে,                     রাই সুধামুখী,
কানুক ভোজন শেষ।
ভুঞ্জয়ে কত,                     পরমানন্দ কৌতুকে,
গুণমঞ্জরী পরিবেস॥
অপরূপ ভোজন কেলি।
করিয়া আচমন,                     নিভৃত নিকেতন,
চলু সব সহচরী মেলি॥
রতন পালঙ্কপর,                    সুতল রাই কানু,
প্রিয় সখী তাম্বুল দেল।
ক্ষণে এক নিন্দে,                  নিন্দায়লি দুহুঁজন,
বলরাম হরষিত ভেল॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সব সখীগণ সঞে, রাই @@@@ কানুক ভোজন-শেষ।
ভুঞ্জয়ে কত পরমানন্দ কৌতুকে, গুণমঞ্জরী পরিবেশ॥
অপরূপ ভোজনকেলি।
করিয়া আচমন, নিভৃতে নিকেতন, চলু সব সহচরী মেলি॥
রতন-পালঙ্ক পর, সুতল রাই কানু, প্রিয়সখী তাম্বুল দেল।
ক্ষণ এক নিন্দে, নিন্দায়লি দুহুঁ জন, বলরাম হরষিত ভেল॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৯৪ -পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ শ্রীরাগ॥

সব সখীগণ সঞে  রাই সুধামুখী
কানুক ভোজন শেষ।
ভুঞ্জয়ে কত  পরমানন্দ কৌতুকে
গুণমঞ্জরী পরিবেশ॥
অপরূপ ভোজন-কেলি।
করিয়া আচমন  নিভৃত নিকেতন
চলু সব সহচরী মেলি॥
রতন-পালঙ্ক পর  শূতল রাই কানু,
প্রিয়-সখী তাম্বুল দেল।
খণ এক নিন্দে   নিন্দায়লি দুহুঁ জন
বলরাম হরষিত ভেল॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধামাধব রতি রণ বিরমে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১৩শ পল্লব, অভিসারোত্কণ্ঠা, ৯৮২ পদসংখ্যা। এই পদটি থেকে প্রথম দুটি পংক্তি
বাদ দিয়ে “হেরি সহচরি কোই চামর বিজই” পদটি হয়েছে। আমরা পদটিকে একটি স্বতন্ত্র
পদ হিসেবেও এখানে রাখছি।

॥ তথা রাগ॥

রাধামাধব রতি-রণ বিরমে।
বৈঠল মাধব রাধা বামে॥
হেরি সহচরি কোই চামর বিজই।
বয়ান পাখালি বসনে কোই মোছই॥
কোই সখি দেয়ল তাম্বুল বয়নে।
আনন্দে হেরই ঢরঢর নয়নে॥
কোই সখি দেয়ত গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাধামাধব রতি রণ বিরমে।
বৈঠল মাধব রাধা বামে॥
হেরি সহচরী কোই চামর বীজই।
বয়ন পাখালি বসনে কোই মোছই॥
কোই সখী দেয়ল তাম্বুল বয়ানে।
আনন্দে হেরই ঢর ঢর নয়ানে॥
কোই সখী দেয়ত গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাধামাধব রতিরণ বিরমে।
বৈঠল মাধব রাধা বামে॥
হেরি সহচরী কোই, চামর বীজই।
বেয়ান পাখালি বসনে কোই মোছই॥
কোই সখী দেয়ল তাম্বুল বয়ানে।
আনন্দে হেরই, ঢর ঢর নয়ানে॥
কোই সখী দেয়ত গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু বল রামদাসে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে
প্রথম দুটি পংক্তি বাদ দিয়ে পদ টি রয়েছে। আমরা পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও
এখানে রাখছি।

রুপানুরাগ
॥ ধানশী - একতালা॥

হেরি সহচরি কোই         চামর বিজই।
বয়ান পাখালি              বসনে কোই মোছই॥
কোই সখি দেয়ত          তাম্বুল বয়নে।
আনন্দে হেরই              ঢর ঢর নয়ানে॥
কোই সখি দেয়ত          গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু           বলরাম দাসে॥

এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী,
৯৩ -পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ কেদার॥

রাধামাধব রতি-রণ বিরমে।
বৈঠল মাধব রাধা বামে॥
হেরি সহচরি কোই চামর বিজই।
বয়ান পাখালি বসনে কোই মোছই॥
কোই সখি দেয়ল তাম্বুল বয়নে।
আনন্দে হেরই ঢরঢর নয়নে॥
কোই সখি দেয়ত গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেরি সহচরি কোই চামর বিজই
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
“রাধামাধব রতি-রণ বিরমে” পদটি থেকে প্রথম দুটি পংক্তি বাদ দিয়ে এই পদটি হয়েছে।
আমরা পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে রাখছি।

রুপানুরাগ
॥ ধানশী - একতালা॥

হেরি সহচরি কোই         চামর বিজই।
বয়ান পাখালি              বসনে কোই মোছই॥
কোই সখি দেয়ত          তাম্বুল বয়নে।
আনন্দে হেরই              ঢর ঢর নয়ানে॥
কোই সখি দেয়ত          গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু           বলরাম দাসে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮),
২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৩শ পল্লব, অভিসারোত্কণ্ঠা, ৯৮২ পদসংখ্যা। এই পদটি
থেকে প্রথম দুটি পংক্তি বাদ দিয়ে এই “হেরি সহচরি কোই চামর বিজই” পদটি হয়েছে।
আমরা পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে রাখছি।

॥ তথা রাগ॥

রাধামাধব রতি-রণ বিরমে।
বৈঠল মাধব রাধা বামে॥
হেরি সহচরি কোই চামর বিজই।
বয়ান পাখালি বসনে কোই মোছই॥
কোই সখি দেয়ল তাম্বুল বয়নে।
আনন্দে হেরই ঢরঢর নয়নে॥
কোই সখি দেয়ত গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাধামাধব রতি রণ বিরমে।
বৈঠল মাধব রাধা বামে॥
হেরি সহচরী কোই চামর বীজই।
বয়ন পাখালি বসনে কোই মোছই॥
কোই সখী দেয়ল তাম্বুল বয়ানে।
আনন্দে হেরই ঢর ঢর নয়ানে॥
কোই সখী দেয়ত গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৯৩ -পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাধামাধব রতি-রণ বিরমে।
বৈঠল মাধব রাধা বামে॥
হেরি সহচরি কোই চামর বিজই।
বয়ান পাখালি বসনে কোই মোছই॥
কোই সখি দেয়ল তাম্বুল বয়নে।
আনন্দে হেরই ঢরঢর নয়নে॥
কোই সখি দেয়ত গন্ধ সুবাসে।
চরণ সেবন করু বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা মাধব শয়নহি বৈঠল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব,
অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬৫৫-পদসংখ্যা।

॥ বরাড়ী॥

রাধামাধব                        শয়নহি বৈঠল
আলসে অবশ শরীর।
তবহি বনেশ্বরী                 বহুত যতন করি
আনল শারি শুক কীর॥
হেরি দোঁহে ভেল আনন্দ।
রাইক ইঙ্গিতে                    বৃন্দা পঢ়াওত
বহু গীত পদ্য সুছন্দ॥
কানুক রুপ গুণ                  শুক করু বর্ণন
প্রেমে প্রফুল্লিত-পাখ।
শারি পড়ত যত                    রাই-গুণামৃত
কানুক বুঝিয়া কটাখ॥
ঐছন দুহুঁ জন                  ইঙ্গিতে দুহুঁ পুন
পাঠ করত অনুপাম।
সো বচনামৃত                      শ্রবণহি শূনব
কব ইহ দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, সম্ভোগ মিলন, ১০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

রাধা মাধব,                       শয়নহি বৈঠল,
আলসে অবশ শরীর।
তবহি বনেশ্বরী,                 বহুত যতন করি,
আনল সারী শুক কীর॥
হেরি দোঁহে ভেল আনন্দ।
রাইক ইঙ্গিতে,                    বৃন্দা পঢ়াওত,
বহু গীত পদ্য সুছন্দ॥
কানুক রূপগুণ,                   শুক করু বর্ণন,
প্রেমে প্রফুল্লিত পাখ।
সারী পঢ়ত,                         রাই গুণামৃত,
কানুক বুঝিয়া কটাখ॥
ঐছন দুহুঁ জন                  ইঙ্গিতে দুহুঁ পুন,
পাঠ করত অনুপাম।
সো বচনামৃত,                      শ্রবণহি শুনব,
কব ইহ দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

রাধামাধব, শয়নহি বৈঠল, আলসে অবশ শরীর।
তবহি বনেশ্বরী, বহুত যতন করি, আনল সারী শুক কীর॥
হেরি দোঁহে ভেল আনন্দ।
রাইক ইঙ্গিতে, বৃন্দা পড়াওত, বহু গীত পদ্য সুছন্দ॥
কানুক রূপ গুণ, শুক করু বর্ণন, প্রেমে প্রফুল্লিত পাখ।
শারী পড়ত, রাই-গুণামৃত, কানুক বুঝিয়া কটাখ॥
ঐছন দুহুঁ জন, ইঙ্গিতে দুহুঁ পুন, পাঠ করত অনুপাম।
সো বচনামৃত, শ্রবণহি শুনব, কব ইহ দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুক শারি বর্ণন
॥ বরাড়ী জয় জয়ন্তী - দুঠুকী॥

রাধা মাধব,                        শয়নহি বৈঠল,
আলসে অবশ শরীর।
তবহি বনেশ্বরী,                 বহুত যতন করি,
আনল শারি সুকীর॥
হেরি দোহেঁ ভেল আনন্দ।
রাইক ইঙ্গিতে,                      বৃন্দা পঢ়ায়ত,
বহু গীত-পদ্য সুছন্দ॥
কানুক রূপ গুণ,                   শুক করু বর্ণন,
প্রেমে প্রফুল্লিত পাখ।
শারি পঢ়ত যত,                    রাই গুণামৃত,
কানুক বুঝিয়া কটাখ॥
ঐছন দুহুঁজন,                     ইঙ্গিতে দুহুঁ পুন,
পাঠ করত অনুপাম।
সো বচনামৃত,                      শ্রবণহি শুনব,
কব ইহ দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৯৩ -পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ বরাড়ী॥

রাধা মাধব                       শয়নহি বৈঠল,
আলসে অবশ শরীর।
তবহি বনেশ্বরী                 বহুত যতন করি
আনল শারি শুক কীর॥
হেরি দোঁহে ভেল আনন্দ।
রাইক ইঙ্গিতে                     বৃন্দা পঢ়াওত
বহু গীত পদ্য সুছন্দ॥
কানুক রুপ গুণ                  শুক করু বর্ণন
প্রেমে প্রফুল্লিত-পাখ।
শারি পড়ত যত                   রাই-গুণামৃত
কানুক বুঝিয়া কটাখ॥
ঐছন দুহুঁ জন                  ইঙ্গিতে দুহুঁ পুন
পাঠ করত অনুপাম।
সো বচনামৃত,                      শ্রবণহি শুনব
কব ইহ দাস বলরাম॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পদ আধ চলত খলত পুন বেরি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৫০৯-পদসংখ্যা।

॥ সুহই॥

পদ আধ চলত খলত পুন বেরি।
পুন ফেরি চুম্বয়ে দুহুঁ মুখ হেরি॥
দুহুঁজন-নয়নে গলয়ে জল-ধার।
রোই রোই সখীগণ চলই না পার॥
খেণে ভয়ে সচকিত নয়নে নেহার।
গলিত বসন ফুল কুন্তল-ভার॥
নূপুর অভরণ আঁচরে নেল।
দুহুঁ অতি কাতরে দুহুঁ পথে গেল॥
পুন পুন হেরইতে হেরই না পায়।
নয়নক লোরহিঁ বসন ভিগায়॥
চলইতে হেরল নিকটহিঁ গেহ।
পীত বসনে সব গোপয়ে দেহ॥
আপাদবদন সব বসনে বেয়াপি।
অলপে অলপে সভে পদযুগ চাপি॥
নিজ মন্দিরে ধনি আয়লি দেখি।
গুরুজন-গৃহে পুন সচকিত পেখি॥
তুরিতহিঁ পৈঠলি মন্দির-মাঝে।
বৈঠল সুন্দরি আপন শেজে॥
নিতি নিতি ঐছন দুহুঁক বিলাস।
নিতি নিতি হেরব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, রসালস, ১০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই॥

পদ আধ চলত, খলত পুন বেরি।
পুন ফেরি চুম্বয়ে দুহুঁ মুখ হেরি॥
দুহুঁ জন নয়নে গলয়ে জলধার।
রোই রোই সখীগণ চলই না পার॥
ক্ষেণে ভয়ে সচকিত নয়নে নেহার।
গলিত বসন ফুল কুন্তল ভার॥
নূপুর আভরণ আঁচরে নেল।
দুহুঁ অতি কাতরে দুহুঁ পথে গেল॥
পুনঃ পুন হেরইতে হেরই না পায়।
নয়নক লোরহিঁ বসন ভিগায়॥
চলইতে হেরল নিকটহিঁ গেহ।
পীত বসনে সব গোপয়ে দেহ॥
আপাদ মস্তক সব বসনে বেয়াপি।
অলপে অলপে চলে পদযুগ চাপি॥
নিজ মন্দিরে ধনি আওলি দেখি।
গুরুজন গৃহে পুন সচকিত পেখি॥
তুরিতহিঁ বৈঠলি মন্দির মাঝে।
বৈঠল সুন্দরী আপন শেজে॥
নিতি নিতি ঐছন দুহুঁক বিলাস।
নিতি নিতি হেরব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

পদ আধ চলত, খলত পুন বেরি। পুন ফেরি চুম্বয়ে দুহুঁ মুখ হেরি॥
দুহুঁ জন নয়নে গলয়ে জলধার। রোই রোই সখীগণ চলই না পার॥
ক্ষেণে ভয়ে সচকিত নয়নে নেহার। গলিত বসন ফুল কুন্তল-ভার॥
নূপুর আভরণ আঁচরে নেল। দুহুঁ অতি কাতরে দুহুঁ পথে গেল॥
পুন পুন হেরইতে হেরই না পায়। নয়নক লোরহিঁ বসন ভিগায়॥
চলইতে হেরল নিকটহিঁ গেহ। পীত বসনে সব গোপয়ে দেহ॥
আপাদমস্তক সব বসনে বেয়াপি। অলপে অলপে চলে পদযুগ চাপি॥
নিজ মন্দিরে ধনী আয়লি দেখি। গুরুজন গৃহে পুন সচকিতে পেখি॥
তুরিতহিঁ পৈঠলি মন্দির মাঝে। বৈঠল সুন্দরী আপন শেজে॥
নিতি নিতি ঐছন দুহুঁক বিলাস। নিতি নিতি হেরব বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

পদ আধ চলত খলত পুনঃ বেরি।
পুনঃ ফেরি চুম্বই দুহুঁ মুখ হেরি॥
দুহুঁ জন নয়ানে গলয়ে জলধার।
রোই রোই সখীগণ চলই না পার॥
ক্ষেণে ভয়ে সচকিত নয়ানে নেহার।
গলিত বসন ফুল কুন্তল ভার॥
নূপুর আভরণ আঁচরে নেল।
দুহুঁ অতি কাতরে দুহুঁ পথে গেল॥
পুনঃ পুনঃ হেরইতে হেরই না পায়।
নয়ানক নোরহি বসন ভিগায়॥
চলইতে হেরল নিকটহি গেহ।
পীতবসনে সব গোপই দেহ॥
আপাদ মস্তক বসনে বেয়াপি।
অলপে অলপে চলে পদযুগ চাপি॥
নিজ মন্দিরে ধনী আওলি দেখি।
গুরুজন গৃহে পুনঃ সচকিতে পেখি॥
তুরিতহি বৈঠল মন্দির মাঝে।
বৈঠল সুন্দরী আপন শেজে॥
নিতি নিতি ঐছন দুহুঁক বিলাস।
নিতি নিতি হেরব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসালস
॥ কৌবিভাস - জপতাল॥

পদ আধ চলত খলত পুন বেরি।
পুন ফেরি চুম্বয়ে দুহুঁ মুখ হেরি॥
দুহুঁজন নয়নে গলয়ে জলধার।
রোই রোই সখিগণ চলই না পার॥
খেণে ভয়ে সচকিত নয়নে নেহার।
গলিত বসন ফুল কুন্তল ভার॥
নূপুর আভরণ আঁচরে নেল।
দুহুঁ অতি কাতরে দুহুঁ পথে গেল॥
পুন পুন হেরইতে হেরই না পায়।
নয়নক লোরহি বসন ভিগায়॥
চলইতে হেরল নিকটহি গেহ।
নীল বসনে গোপয়ে সব দেহ॥
আপাদ মস্তক সব বসন হি ঝাঁপি।
অলপে অলপে সব পদ যুগ চাপি॥
নিজ মন্দিরে ধনি আয়লি দেখি।
গুরুজন গৃহে পুন সচকিত পেখি॥
তুরিতহি বৈঠলি মন্দির মাঝে।
বৈঠলি সুন্দরী আপন শেজে॥
নিতি নিতি ঐছন দুহুঁক বিলাস।
নিতি নিতি হেরব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গুহে গমন১
॥ সুহই॥

পদ আধ চলত খলত পুন বেরি।
পুন ফেরি চুম্বয়ে দুহুঁ মুখ হেরি॥
দুহুঁজন নয়নে গলয়ে জলধার।
রোই রোই সখিগণ চলই না পার॥
খেণে ভয়ে সচকিত নয়নে নেহার।
গলিত বসন ফুল কুন্তলভার॥
নূপুর আভরণ আঁচরে নেল।
দুহু অতি কাতরে দুহুঁ পথে গেল॥
পুন পুন হেরইতে হেরই না পায়।
নয়নক লোরহিঁ বসন ভিগায়॥
চলইতে হেরল নিকটহিঁ গেহ।
পীত বসনে সব গোপয়ে দেহ॥
আপাদ বদন সব বসনে বেয়াপি।
অলপে অলপে সভি পদযুগ চাপি॥
নিজ মন্দিরে ধনি আয়লি দেখি।
গুরুজন গৃহে পুন সচকিতে পেখি॥
তুরিতহিঁ পৈঠলি মন্দির মাঝে।
বৈঠল সুন্দরি আপন শেজে॥
নিতি নিতি ঐছন দুহুঁক বিলাস।
নিতি নিতি হেরব বলরাম দাস॥

১ - “গুহে গমন”-এর অর্থ সঠিকভাবে আমরা বুঝতে পারছি না। কথাটি কি “গৃহে গমন” বা
“গুহায় গমন” হবে? বা অন্য কিছু! কেউ সঠিক অর্থ জানালে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর নাম
এখানে উল্লেখ করা হবে।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৯৬ -পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

পদ আধ চলত খলত পুন বেরি।
পুন ফেরি চুম্বয়ে দুহুঁ মুখ হেরি॥
দুহুঁজন-নয়নে গলয়ে জল-ধার।
রোই রোই সখীগণ চলই না পার॥
খেণে ভয়ে সচকিত নয়নে নেহার।
গলিত বসন ফুল কুন্তল ভার॥
নূপুর অভরণ আঁচরে নেল।
দুহুঁ অতি কাতরে দুহুঁ পথে গেল॥
পুন পুন হেরইতে হেরই না পায়।
নয়নক লোরহিঁ বসন ভিগায়॥
চলইতে হেরল নিকটহিঁ গেহ।
পীত বসনে সব গোপয়ে দেহ॥
আপাদবদন সব বসনে বেয়াপি।
অলপে অলপে সভি পদযুগ চাপি॥
নিজ মন্দির ধনি আয়লি দেখি।
গুরুজন-গৃহে পুন সচকিত পেখি॥
তুরিতহিঁ পৈঠলি মন্দির-মাঝে।
বৈঠল সুন্দরি আপন শেজে॥
নিতি নিতি ঐছন দুহুঁক বিলাস।
নিতি নিতি হেরব বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর