কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
বৃন্দা বিপিনহিঁ সব দ্বিজকুল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, রসালস, ১২৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

বৃন্দা বিপিনহিঁ সব দ্বিজকুল।
কূজয়ে চৌদিশে হোই আকুল॥
সারী শুক তহিঁ কোকিল মেলি।
কপোত ফুকারত অলিকুল কেলি॥
ময়ূর ময়ূরী ধ্বনি শুনিতে রসাল।
বানরী রব তহি অতি সুবিশাল॥
ঐছন শবদ ভেল বনমাহ।
জাগল দুহুঁ জন নাগরী নাহ॥
আলসে দুহুঁ তনু দুহুঁ নাহি তেজে।
শুতি রহল পুন কিশলয় শেজে॥
পুনহি ফুকারই সারী সুকীর।
ঐছন যৈছে সুধারস গীর॥
কব বলরাম শুনব তহিঁ শ্রবণে।
রাধা মাধব হেরব নয়নে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

বৃন্দা-বিপিনহিঁ সব দ্বিজকুল।
কূজয়ে চৌদিশে হোই আকুল॥
সারী শুক তহিঁ কোকিল মেলি।
কপোত ফুকারত অলিকুল কেলি॥
ময়ূর ময়ূরী ধ্বনি শুনিতে রসাল।
বানরীরব তহিঁ অতি সুবিশাল॥
ঐছন শবদ ভেল বন মাহ।
জাগল দুহুঁ জন নাগরী নাহ॥
আলসে দুহুঁ তনু দুহুঁ নাহি তেজে।
শুতি রহল পুন কিশলয় শেজে॥
পুনহি ফুকারই শারী সুকীর।
ঐছন যৈছে সুধারস গীর॥
কব বলরাম শুনব তহি শ্রবণে।
রাধামাধব হেরব নয়নে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রসালস (প্রকারান্তর)
॥ ললিত॥

বৃন্দা বিপিনহিঁ সব দ্বিজকূল।
কূজয়ে চৌদিশে হোই আকুল॥
শারি শুক তহিঁ কোকিল মেলি।
কপোত ফুকারত অলিকুল কেলি॥
মউর মউরি ধ্বনি শুনিতে রসাল।
বানরি রব তহিঁ অতি সুবিশাল॥
ঐছন শবদ ভেল বন মাহ।
জাগল দুহুঁজন নাগরি নাহ॥
আলসে দুহুঁতনু দুহুঁ নাহি তেজে।
শুতি রহল পুন কিশলয়শেজে॥
পুনহি ফুকারই শারি সুকীর।
ঐছন যৈছে সুধারস গীর॥
কব বলরাম শুনব তহি শ্রবণে।
রাধামাধব হেরব নয়নে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
      
॥ ললিত॥

বৃন্দা-বিপিনহিঁ সব দ্বিজ-কূল।
কূজয়ে চৌদিশে হোই আকুল॥
শারি শুক তহিঁ কোকিল মেলি।
কপোত ফুকারত অলিকুল কেলি॥
মউর-মউরি-ধ্বনি শুনিতে রসাল।
বানরি-রব তহিঁ অতি সুবিশাল॥
ঐছন শবদ ভেল বন মাহ।
জাগল দুহুঁজন নাগরি নাহ॥
আলসে দুহুঁ-তনু দুহুঁ নাহি তেজে।
শুতি রহল পুন কিশলয়-শেজে॥
পুনহি ফুকারই শারি সুকীর।
ঐছন যৈছে সুধা-রস গীর॥
কব বলরাম শুনব তহি শ্রবণে।
রাধামাধব হেরব নয়নে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একে সে মোহন যমুনার কূল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয় মহারাস, ১২৭৮ পদসংখ্যা। এই পদটি কমলাকান্ত দাসের
পদরত্নাকর পুথির ৩৮|১১ সংখ্যক পদ।

॥ কেদার॥

একে সে মোহন যমুনার-কূল
আর সে কেলি-কদম্ব-মূল
আরে সে বিবিধ ফুটল ফূল
.        আরে সে শরদ-যামিনি।
ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব
পিক কুহু কুহু করত গাব
সঙ্গিনি রঙ্গিণি মধুর বোলনি
.        বিবিধ রাগ গায়নি।
বয়স কিশোর মোহন ঠাম
নিরখি মূরছি পড়ত কাম
সজল-জলদ-শ্যাম-ধাম
.        পিয়ল বসন দামিনি।
শাঙল ধবল কালি গোরি
বিবিধ বসন বনি কিশোরি
নাচত গায়ত রস-বিভোরি
.        সবহুঁ বরজ-কামিনি।
বিণা কপিনাস পিণাক ভাল
সপ্ত-সুর বাজত তাল
এ সর-মণ্ডল মন্দিরা ডম্ফ
.        মেলি কতহুঁ গায়নি।
নুপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল
ঝনন ননন নটন লোল
হাসি হাসি কেহু করত কোল
.         ভালি ভালি বোলনি।
বলরাম দাস পঢ়ত তাল
গাওত মধুর অতি রসাল
শুনত শুনত জগত উমত
.        হৃদয়-পুতলি দোলনি।

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, রাস-লীলা, ২২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

একে সে মোহন যমুনার কুল,
আরে সে কেলি কদম্ব মূল,
আরে সে বিবিধ ফুটল ফুল,
.        আরে সে শরদ যামিনী।
ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব
পিক কুহু কুহু করত গাব
সঙ্গিনী রঙ্গিনী মধুর বোলনি
.        বিবিধ রাগ গায়নী॥
বয়স কিশোর মোহন ঠাম
নিরখি মূরছি পড়ত কাম
সজল জলদ শ্যাম ধাম
.        পিয়ল বসন দামিনী।
সাঙল ধবল কালিম গোরি,
বিবিধ বসন বনি কিশোরী,
নাচত গাওত রসে বিভোরি
.        সবই বরজ কামিনী॥
বীণা কপিনাস পিনাক ভাল,
সপ্ত সুর বাজত তাল
এ স্বর মণ্ডল মন্দিরা ডম্বু
.        কেলি কতহুঁ গায়নী।
নুপূর ঘুঙ্ঘুর মধুর বোল
ঝনন ননন নটন লোল
হাসি হাসি কেহু করত কোল
ভালি ভালি বোলনী॥
বলরাম দাস করত তাল
সঙ্গীত মধুর অতি রসাল,
শুনত ভুলত জগত উমত
.        হৃদয় পুতলি দোলনী॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, রাস-লীলা, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ কেদার॥

একে সে মোহন যমুনার কূল,
আর সে কেলি কদম্বের মূল,
আরে সে বিবিধ ফুটল ফুল,
আরে সে শারদ যামিনী।
ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব,
পিক কুহু কুহু করত রাব,
সঙ্গিনী রঙ্গিণী মধুর বোলনি,
বিবিধ রাগ গায়নী॥
বয়স কিশোর মোহন ঠাম,
নিরখি মূরছি পড়ত কাম,
সজল জলদ শ্যাম ধাম,
পিঙল বসন দামিনী।
সাঙল ধবল কালিম গোরি,
বিবিধ বসন বনি কিশোরী,
নাচত গাওত রসে বিভোরী,
সবহুঁ বরজ কামিনী॥
বিশাল পিনাস পিণাক ভাল,
সপ্ত সুর বাজত তাল,
এ সর মণ্ডল মন্দিরা ডম্ফ,
.                        কেলি কতহুঁ গায়নী।
নূপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল,
ঝন নন নন নটন লোল,
হাসি হাসি কেহু করত কোল,
.                         ভালি ভালি বোলনী॥
বলরাম দাস পঢ়ত তাল,
গাওত মধুর অতি রসাল,
শুনত ভুলত জগত উমত,
.                         হৃদয় পুতলি দোলনী॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

একে সে মোহন যমুনার কূল, আরে সে কেলি কদম্ব-মূল, আরে সে বিবিধ ফুটল ফুল, আরে
সে শারদ যামিনী। ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব, পিক কুহু কুহু করত গাব, সঙ্গিনী রঙ্গিণী মধুর
বোলনি বিবিধ রাগ গায়নী॥ বয়স কিশোর মোহন ঠাম, নিরখি মুরছি পড়ত কাম, সজল-
জলদ শ্যাম-ধাম, পিঙল বসন দামিনী। শাঙল ধবল কালিম গোরী, বিবিধ বসন বনি
কিশোরী, নাচত গাওত রস বিভোরি, সবহুঁ বরজ-কামিনী॥ বীণা কপিনাস পিনাক ভাল, সপ্ত-
সুর বাজত তাল, এ স্বর-মণ্ডল মন্দিরা ডম্বু কেলি কতহুঁ গায়নী॥ নূপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল,
ঝনন ননন নটন লোল, হাসি হাসি কেহুঁ করত কোল, ভালি ভালি বোলনী। বলরাম দাস
করত তাল, গাওত মধুর অতি রসাল, শুনত ভুলত জগত উমত, হৃদয়-পুতলী দোলনী॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

একে সে মোহন যমুনার কুল
আর সে কেলি-কদম্ব-মূল
আরে সে বিবিধ ফুটল ফুল
আরে সে শারদ-যামিনী।
ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব
পিক কুহু কুহু করত গাব
সঙ্গিনী রঙ্গিণী মধুর বোলনি
বিবিধ রাগ গায়নী॥
বয়স কিশোর মোহন ঠাম
নিরখি মুরছি পড়ত কাম
সজল-জলদ-শ্যাম-ধাম
পিঙল বসন দামিনী।
শাঙল ধবল কালিম গোরী
বিবিধ বসন বনি কিশোরী
নাচত গাওত রস বিভোরি
সবহুঁ বরজ-কামিনী॥
বীণা কপিনাস পিণাক ভাল
সপ্ত-সুর বাজত তাল
এ স্বর-মণ্ডল মন্দিরা ডম্বু
কেলি কতহুঁ গায়নী॥
নূপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল
ঝনন ননন নটন লোল
হাসি হাসি কেহুঁ করত কোল
ভালি ভালি বোলনী।
বলরাম দাস করত তাল
গাওত মধুর অতি রসাল
শুনত ভুলত জগত উমত
হৃদয়-পুতলী দোলনী॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

একে সে মোহন যমুনার কুল
আর সে কেলি-কদম্ব-মূল
আরে সে বিবিধ ফুটল ফুল
আরে সে শারদ-যামিনী।
ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব
পিক কুহু কুহু করত গাব
সঙ্গিনী রঙ্গিণী মধুর বোলনি
বিবিধ রাগ গায়নী।
বয়স কিশোর মোহন ঠাম
নিরখি মূরছি পড়ত কাম
সজল-জলদ-শ্যাম-ধাম
পিঙল বসন দামিনী।
সাঙল ধবল কালিম গোরী
বিবিধ বসন বনি কিশোরী
নাচত গাওত রস বিভোরি
সবহুঁ বরজ কামিনী।
বীণা কপিনাস পিণাক ভাল
সপ্ত-সুর বাজত তাল
এ স্বরমণ্ডল মন্দিরা ডম্বু
কেলি কতহুঁ গায়নী।
নূপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল
ঝনন ননন নটন লোল
হাসি হাসি কেহুঁ করত কোল
ভালি ভালি বোলনী।
বলরাম দাস করত তাল
গাওত মধুর অতি রসাল
শুনত ভুলত জগত উমত
হৃদয়-পুতলী দোলনী।

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৩৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার - মধ্যম একতালা॥

একে সে মোহন যমুনার কূল,
আরে সে কেলি-কদম্বের-মূল,
আরে সে বিবিধ ফুটল ফুল,
.        আরে সে শারদ যামিনী।
ভ্রমর ভ্রমরী করত রাব,
পিক কুহু কুহু করত গাব,
সঙ্গিনী রঙ্গিণী মধুর বোলনি,
.        বিবিধ রাগ গায়নী।
বয়স কিশোর মোহন ঠাম,
নিরখি মূরছি পড়ত কাম,
সজল-জলদ-শ্যাম-ধাম,
.        পিয়ল বসন দামিনী।
শাঙল ধবল কালিম গোরী,
বিবিধ বসন বনি কিশোরী,
নাচত গায়ত রস বিভোরী,
.        সবহুঁ বরজ-কামিনী।
বীণা কপিনাস পিণাক ভাল,
সপ্ত সুর বাজত তাল,
এ স্বর-মণ্ডল মন্দিরা ডম্ফ
.        মেলি কতহুঁ গায়নী।
নুপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল,
ঝনন ননন নটন লোল,
হাসি হাসি কেহু করত কোল,
.         ভালি ভালি বোলনি।
বলরাম দাস পঢ়ত তাল,
গাওত মধুর অতি রসাল,
শুনত শুনত জগত উমত
.        হৃদয়-পুতলি দোলনি।

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস
॥ কেদার - মধ্যম একতালা॥

একে সে মোহন যমুনার কূল,
আরে সে কেলি কদম্বমূল,
আরে সে বিবিধ ফুটল ফূল,
.        আরে সে শারদ যামিনী।
ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব,
পিক কুহু কুহু করত গাব,
সঙ্গিনী রঙ্গিনী মধুর বোলনী,
.        বিবিধ রাগ গায়নী॥
বয়েস কিশোর মোহন ঠাম,
নিরখি মূরছি পড়ত কাম,
সজল-জলদ-শ্যাম-ধাম,
.        পিয়ল-বসন-দামিনী।
শাঙল ধবল কালিম গোরী,
বিবিধ বসন বনি কিশোরি,
নাচত গাওত রস বিভোরি,
.        সবহুঁ বরজ কামিনী॥
বীণা কপিনাশ পিনাক ভাল,
সপ্ত-সুর বাজত তাল,
এ স্বর মণ্ডল মন্দিরা ডম্ফ,
.        মেলি কতহুঁ গায়নী।
নূপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল,
ঝনন নন নটন লোল,
হাসি হাসি কেহু করত কোল,
.         ভালি ভালি বোলনী॥
বলরাম দাস পঢ়ত তাল,
গাওত মধুর অতি রসাল,
শুনত ভুলত জগত উমত,
.        হৃদয়-পুতলি দোলনি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসলীলা
॥ কেদার॥

একে সে মোহন যমুনাকুল
আর সে কেলি কদম্বেমূল
আরে সে বিবিধ ফুটল ফুল
.        আরে সে শারদ যামিনি।
বয়স কিশোর মোহন ঠাম
নিরখি মুরছি পড়ত কাম
সজল জলদ শ্যামধাম
.        পিয়ল বসন দামিনি।
শাঙল ধবল কালি গোরি
বিবিধ বসন বনি কিশোরি
নাচত গায়ত রসবিভোরি
.        সবহুঁ বরজকামিনি।
ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব
পিক কুহু কুহু করত গাব
সঙ্গিনি রঙ্গিণি মধুর বোলনি
.        বিবিধ রাগ গায়নি।
বিণা কপিনাস পিনাক ভাল
সপ্ত-সুর বাজত তাল
এ সরমণ্ডল মন্দিরা ডম্ফ
.        মেলি কতহুঁ বায়নি।
নুপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল
ঝনন রনন নটন লোল
হাসি হাসি কেহ করত কোল
.         ভালি ভালি বোলনি।
বলরাম দাস ধরত তাল
গাওত মধুর অতি রসাল
শুনত শুনত জগত উমত
.        হৃদয়-পুতলি দোলনি।

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসলীলা
॥ কেদার॥

একে সে মোহন যমুনার-কূল
আর সে কেলি-কদম্বের-মূল
আরে সে বিবিধ ফুটল ফুল
.        আরে সে শারদ-যামিনি।
ভ্রমরা ভ্রমরী করত রাব
পিক কুহু কুহু করত গাব
সঙ্গিনি রঙ্গিণি মধুর বোলনি
.        বিবিধ রাগ গায়নি।
বয়স কিশোর মোহন ঠাম
নিরখি মূরছি পড়ত কাম
সজল-জলদ-শ্যাম-ধাম
.        পিয়ল বসন দামিনি।
সাঙল ধবল কালিম গোরি
বিবিধ বসন বনি কিশোরি
নাচত গায়ত রস-বিভোরি
.        সবহুঁ বরজ-কামিনি।
বিণা কপিনাস পিণাক ভাল
সপ্ত-সুর বাজত তাল
এ সর-মণ্ডল মন্দিরা ডম্ফ
.        মেলি কতহুঁ গায়নি।
নুপুর ঘুঙ্গুর মধুর বোল
ঝনন ননন নটন লোল
হাসি হাসি কেহু করত কোল
.         ভালি ভালি বোলনি।
বলরাম দাস পঢ়ত তাল
গাওত মধুর অতি রসাল
শুনত শুনত জগত উমত
.        হৃদয়-পুতলি দোলনি।

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তোমরা কে বট ধনি পরিচয় দেহ আগে জানি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, নৌকা-বিলাস, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

তোমরা কে বট ধনি পরিচয় দেহ আগে জানি।
এ হেন বিনোদ সাজে,                কোথা যাবে কোন কাজে,
বল বল বলগো তা শুনি॥
কমল বদন খানি,                            চরণ কমল জিনি,
কমল লোচনী কমলিনী।
জীবনে যৌবন ভরা,                        তাহে মাথে পসরা,
হাঁটিয়া এসেছ ধন্য মানি॥
এনা বেশে কিবা আশে,                   যাইবা কাহার বাসে,
বিজয় করিয়া বিনোদিনি।
মোর ভাগ্যে হেন হবে,                     নায়ে পদ পরশিবে,
বিশ্রাম করিবা ধনি তুমি॥
তোমরা ডাকিছ সুখে,                    তরণী পড়েছে পাকে,
আপনা সারিয়া পাছে আনি।
সুপ্রভাত হইল নিশি,                        দিবসে উদয় শশী,
বলরাম দাসে কহে বাণী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ কামোদ॥

তোমরা কে বট ধনি পরিচয় দেহ আগে জানি।
এ হেন বিনোদ সাজে                কোথা যাবে কোন কাজে
বল বল বলগো তা শুনি॥
কমল বদনখানি                                চরণ কমল জিনি
কমল লোচনী কমলিনী।
জীবন যৌবন ভরা                            তাহে মাথে পসরা
হাঁটিয়া এসেছ ধন্য মানি॥
এনা বেশে কিবা আশে                     যাইবা কাহার বাসে
বিজয় করিয়া বিনোদিনি।
মোর ভাগ্যে হেন হবে                        নায়ে পদ পরশিবে
বিশ্রাম করিবা তুমি ধনি॥
তোমরা ডাকিছ সুখে                       তরণী পড়েছে পাকে
আপনা সারিয়া পাছে আনি।
সুপ্রভাত হইল নিশি                           দিবসে উদয় শশী
বলরাম দাসে কহে বাণী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১১৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

তোমরা কে বট ধনি পরিচয় দেহ আগে জানি।
এ হেন বিনোদ সাজে           কোথা যাবে কোন কাজে
বল বল বলগো তা শুনি॥
কমল বদনখানি                         চরণ কমল জিনি
কমল লোচনী কমলিনি।
জীবনে যৌবন ভরা                   তাহে মাথে পসরা
হাঁটিয়া এসেছ ধন্য মানি॥
এনা বেশে কিবা আশে              যাইবা কাহার বাসে
বিজয় করিয়া বিনোদিনি।
মোর ভাগ্যে হেন হবে                নায়ে পদ পরশিবে
বিশ্রাম করিবা ধনি তুমি॥
তোমরা ডাকিছ সুখ               তরণী পড়েছে পাকে
আপনা সারিয়া পাছে আনি।
সুপ্রভাত হইল নিশি,দিবসে উদয় শশী,
বলরাম দাসে কহে বাণী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ওহে আমরা এসেছি না জানিয়ে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, নৌকা বিলাস, ১৩৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারী॥

ওহে আমরা এসেছি না জানিয়ে।
কথায় বুঝিলাম মোরা,              তরণী করিয়া ভারা,
আইলা নবীন নেয়া হোয়ে॥
কড়ি দিয়া পার হব,                ভাঙ্গা নায়ে না চড়িব,
নৌতুন আনগা গড়াইয়া।
তরণী নৌতুন নয়,                   নানা ছলে কথা কয়,
 হাসি হাসি মুখানি ঝাঁপিয়া॥
কালিন্দীর কাল জল,                    মুখ পদ্ম শত দল,
মেঘের আড়েতে যেন শশী।
হাসিতে বিজুরী খেলে,              বচন কহিবার কালে,
অমিয়া বরিখে রাশি রাশি॥
নয়ানে নয়ান বাণ,                     করে দোঁহ সন্ধান,
দোঁহ বাণে দোঁহ জর জর।
উথলিল প্রেম সিন্ধু,                   চকোর পাইল ইন্দু,
দোঁহ প্রেমে দোঁহ গরগর॥
দিব কি রূপের সীমা,                  নাহি দেখি উপমা,
সে আনন্দের নাহিক উপনা।
বলরাম দাসে কয়,                  কিবা সে আনন্দময়,
ভাগ্যবতী কালিন্দী যমুনা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
শ্রীরাধার উক্তি
॥ বড়ারী॥

ওহে আমরা এসেছি না জানিয়া।
কথায় বুঝিলাম মোরা                তরণী করিয়া ভাড়া
আইলা নবীন নেয়া হইয়া॥
কড়ি দিয়া পার হব                 ভাঙ্গা নায়ে না চড়িব
নৌতুন আনগা গড়াইয়া।
তরণী নৌতুন নয়                     নানা ছলে কথা কয়
হাসি হাসি মুখানি ঝাঁপিয়া॥
কালিন্দীর কাল জল                      মুখ পদ্ম শত দল
মেঘের আড়েতে যেন শশী।
হাসিতে বিজুরী খেলে               বচন কহিবার কালে
অমিয়া বরিখে রাশি রাশি॥
নয়ানে নয়ান বাণ                      করে দোঁহ সন্ধান
দোঁহ বাণে দোঁহ জরজর।
উথলিল প্রেম সিন্ধু                    চকোর পাইল ইন্দু
দোঁহ প্রেমে দোঁহ গরগর॥
দিব কি রূপের সীমা                   নাহি দেখি উপমা
সে আনন্দের নাহিক তুলনা।
বলরাম দাসে কয়                    কিবা সে আনন্দময়
ভাগ্যবতী কালিন্দী যমুনা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১১৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারী॥

ওহে আমরা এসেছি না জানিয়ে।
কথায় বুঝিলাম মোরা             তরণী করিয়া ভারা
আইলা নবীন নেয়া হোয়ে॥
কড়ি দিয়া পার হব               ভাঙ্গা নায়ে না চড়িব
নৌতুন আনগা গড়াইয়া।
তরণী নৌতুন নয়                   নানা ছলে কথা কয়
হাসি হাসি মুখানি ঝাঁপিয়া॥
কালিন্দীর কাল জল                    মুখ পদ্ম শত দল
মেঘের আড়েতে যেন শশী।
হাসিতে বিজুরী খেলে               বচন কহিবার কালে
অমিয়া বরিখে রাশি রাশি॥
নয়ানে নয়ান বাণ                     করে দোঁহ সন্ধান
দোঁহ বাণে দোঁহ জরজর।
উথলিল প্রেম সিন্ধু                    চকোর পাইল ইন্দু
দোঁহ প্রেমে দোঁহ গরগর॥
দিব কি রূপের সীমা                 নাহি দেখি উপমা
সে আনন্দের নাহিক উপমা।
বলরাম দাসে কয়                  কিবা সে আনন্দময়
ভাগ্যবতী কালিন্দী যমুনা॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কে যাবে কে যাবে বলি ডাকে উচ্চৈস্বরে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, দান-লীলা, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারী॥

কে যাবে কে যাবে বলি ডাকে উচ্চৈস্বরে।
দধি দুগ্ধ ঘৃত ঘোল বিকি বেচিবারে॥
সাজায়ে পসরা রাই দিল দাসীর মাথে।
চলিল মথুরার বিকে বড়ায়ের সাথে॥
পথে যেতে কহে কথা কানু পরসঙ্গ।
অন্তরে উপজিল প্রেম তরঙ্গ॥
নবীন প্রেমের ভরে চলিতে না পারে।
চঞ্চল হরিণী যেন দিগ নেহারে।
বলরাম দাসে কহে শুন বিনোদিনি।
গমন বিলম্ব কর পথে আছে দানী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ বড়ারী॥

কে যাবে কে যাবে বলি ডাকে উচ্চৈঃস্বরে।
দধি দুদ্ধ ঘৃত ঘোল বিকে বেচিবারে॥
সাজায়ে পসরা রাই দিল দাসীর মাথে।
চলিল মথুরার বিকে বড়ায়ে সাথে॥
পথে যেতে কহে কথা কানু পরসঙ্গ।
অন্তরে উপজিল প্রেমের তরঙ্গ॥
নবীন প্রেমের ভরে চলিতে না পারে।
চঞ্চল হরিণী যেন চৌদিকে নেহারে॥
বলরাম দাসে কহে শুন বিনোদিনী।
গমন বিলম্ব কর পথে আছে দানী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারী॥

কে যাবে কে যাবে বলি ডাকে উচ্চৈস্বরে।
দধি দুদ্ধ ঘৃত ঘোল বিকি বেচিবারে॥
সাজায়ে পসরা রাই দিল দাসীর মাথে।
চলিল মথুরার বিকে বড়ায়ে সাথে॥
পথে যেতে কহে কথা কানু পর সঙ্গ।
অন্তরে উপজিল প্রেম তরঙ্গ॥
নবীন প্রেমের ভরে চলিতে না পারে।
চঞ্চল হরিণী যেন দিগ নেহারে॥
বলরাম দাসে কহে শুন বিনোদিনি।
গমন বিলম্ব কর পথে আছে দানী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চলে বৃষভানুর নন্দিনী
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, দান-লীলা, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

চলে বৃষভানুর নন্দিনী।
আনন্দে পূরল চিত,                অঙ্গ ভেল পুলকিত,
শুনিয়া গোবিন্দ পথে দানী॥ ধ্রু।
সুবর্ণের ভাণ্ড প্রতি,                ঘৃত ঘোল ছেনা দধি,
পসরা সাজায়ে সারি সারি।
তাহার উপরে ভালি,                বিচিত্র নেতের ফালি,
দাসী শিরে করে ঝলমলি॥
রঙ্গিয়া বড়াই সঙ্গে,                  যায় নানা রস রঙ্গে,
মত্ত গতি জিনিয়া করিণী।
বায়ু বেগে চলি যায়,                   বসন উড়য়ে গায়,
হংস গমন ধনী জিনি॥
লোটন লোটায় পিঠে,                 কাঁকালি লুকায় মুঠে,
নবীন কিশোরী রাই তনু।
নীল উড়নি তায়,                    শোভে ভাল হেম গায়,
নিতম্বে সোণার রুণু ঝুনু॥
মুখে চুয়াইছে ঘাম,                  জিনি মুকুতার দাম,
হেন বুঝি কুমুদের সখা।
শীতল তরুর ছায়,                   রহিয়া রহিয়া যায়,
    কদম তলায় আসি দিল দেখা॥
নাগর আছিল কতি,                 দেখিয়া সে রসবতী,
দান ছলে মিলিল আসি।
বলরাম দাসে কয়,                       হইল আনন্দময়,
যেমন চকোরে মিলে শশী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

চলে বৃষভানুর নন্দিনী।
আনন্দে পূরল চিত                অঙ্গ ভেল পুলকিত
  শুনিয়া গোবিন্দ পথে দানী॥
সুবর্ণের ভাণ্ড প্রতি                ঘৃত ঘোল ছেনা দধি
পসরা সাজায়ে সারি সারি।
তাহার উপরে ভালি                বিচিত্র নেতের ফালি
দাসী শিরে করে ঝলমলি॥
রঙ্গিয়া বড়াই সঙ্গে                  যায় নানা রস রঙ্গে
মত্ত গতি জিনিয়া করিণী।
বায়ু বেগে চলি যায়                   বসন উড়য়ে গায়
হংস গমন ধনী জিনি॥
লোটন লোটায় পিঠে                কাঁকালি লুকায় মুঠে
নবীন কিশোরী রাই তনু।
নীল উড়নি তায়                   শোভে ভাল হেম গায়
নিতম্বে সোণার রুণুঝুনু॥
মুখে চুয়াইছে ঘাম                জিনি মুকুতার দাম
হেন বুঝি কুমুদের সখা।
শীতল তরুর ছায়                  রহিয়া রহিয়া যায়
    কদম তলায় আসি দিল দেখা॥
নাগর আছিল কতি                দেখিয়া সে রসবতী
দান ছলে মিলিল আসি।
বলরাম দাসে কয়                     হইল আনন্দময়
যেমন চকোরে মিলে শশী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কোথা হইতে এলে তুমি কোথায় তোমার ঘর
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুজ্জরী॥

কোথা হইতে এলে তুমি কোথায় তোমার ঘর। কিসের পসরা তোমার মাথার উপর॥
হেন ধনী কমলিনী কোথাকে গমন। মুনি জনার ধ্যান ভাঙ্গে দেখে ওচরণ॥
না যাইও না যাইও ধনী বৈস তরুতলে। আইস কাছে বাজে পাছে চরণ কমলে॥
চাঁচর চিকুরে বেণী দোলিছে কোমরে। ফণির ভরমে বেণী গিলিবে ময়ূরে॥
করি কুম্ভ জিনি তায় কুচ যুগ গিরি। গজের ভরমে পাছে পরশে কেশরী॥
সিন্দুরের বিন্দু ভালে ভানুর উদয়। রবি শশী বলি পাছে রাহু গরাসয়॥
নলিনী বদন রাই তব মুখ করে। খাইলে ছাড়িবে নাই দারুণ ভ্রমরে॥
নানা অভরণ অঙ্গে করে ঝলমলি। দারুণ ব্রজের চোরে লুটিবে সকলি॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি। শ্যাম সঙ্গে রঙ্গ রসে কর বিকি কিনি॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুঞ্জরী॥

কোথা হইতে এলে তুমি, কোথায় তোমার ঘর। কিসের পসরা তোমার মাথার উপর॥
হেন ধনি কমলিনি কোথাকে গমন। মুনিজনার ধ্যান ভাঙ্গি দেখে ও চরণ॥
না যাইও না যাইও ধনি বৈস তরুতলে। আইস কাছে, বাজে পাছে চরণ-কমলে॥
চাঁচর চিকুরে বেণী দোলিছে কোমরে। ফণির ভরমে বেণী গিলিবে ময়ূরে॥
করিকুম্ভ জিনি তোর কুচযুগ গিরি। গজের ভরমে পাছে পরশে কেশরী॥
সিন্দুরের বিন্দূ ভালে ভানুর উদয়। রবি শশী বলি পাছে রাহু গরাসয়॥
নলিনী-দমন রাই তব মুখ করে। খাইলে ছাড়িবে নাই দারুণ ভ্রমরে॥
নানা অভরণ অঙ্গে করে ঝলমলি। দারুণ ব্রজের চোরে লুঠিবে সকলি॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি। শ্যাম সঙ্গে রসরঙ্গে কর বিকিকিনি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

কোথা হইতে এলে তুমি কোথায় তোমার ঘর।
কিসের পসরা তোমার মাথার উপর॥
হেন ধনী কমলিনী কোথাকে গমন।
মুনি জনার ধ্যান ভাঙ্গে দেখে ও চরণ॥
না যাইও না যাইও ধনী বৈস তরু তলে।
আইস কাছে বাজে পাছে চরণ কমলে॥
চাঁচর চিকুরে বেণী দোলিছে কোমরে।
ফণির ভরমে বেণী গিলিবে ময়ূরে॥
করি কুম্ভ জিনি তার কুচ যুগ গিরি।
গজের ভরমে পাছে পরশে কেশরী॥
সিন্দুরের বিন্দু ভালে ভানুর উদয়।
রবি শশী বলি পাছে রাহু গরাসয়॥
নলিনী বদন রাই তব মুখ করে।
খাইলে ছাড়িবে নাই দারুণ ভ্রমরে॥
নানা অভরণ অঙ্গে করে ঝলমলি।
দারুণ ব্রজের চোরে লুটিবে সকলি॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি।
শ্যাম সঙ্গে রসরঙ্গে কর বিকি কিনি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ গুর্জ্জরী॥

কোথা হতে এলে তুমি কোথায় তোমার ঘর।
কিসের পসরা তোমার মাথার উপর॥
হেন ধনী কমলিনী কোথাকে গমন।
মুনি জনার ধ্যান ভাঙ্গে দেখে ও চরণ॥
না যাইও না যাইও ধনী বৈস তরুতলে।
আইস কাছে বাজে পাছে চরণ কমলে॥
চাঁচর চিকুরে বেণী দোলিছে কোমরে।
ফণির ভরমে বেণী গিলিবে ময়ূরে॥
করি কুম্ভ জিনি তার কুচ যুগ গিরি।
গজের ভরমে পাছে পরশে কেশরী॥
সিন্দুরের বিন্দু ভালে ভানুর উদয়।
রবি শশী বলি পাছে রাহু গরাসয়॥
নলিনী বদন রাই তব মুখ করে।
খাইলে ছাড়িবে নাই দারুণ ভ্রমরে॥
নানা অভরণ অঙ্গে করে ঝলমলি।
দারুণ ব্রজের চোরে লুটিবে সকলি॥
বলরাম দাস কহে শুন বিনোদিনি।
শ্যাম সঙ্গে রসরঙ্গে কর বিকিকিনি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কোথাকারে যাও রাধে আমারে ছাড়িয়ে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, দান-লীলা, ১৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কোথাকারে যাও রাধে আমারে ছাড়িয়ে।
হইয়াছি পথের দানী তোমার লাগিয়ে॥
ব্রহ্মা আদি দেব যত না পায় ধেয়ানে।
সো হরি মিনতি করে নাহি শুন কাণে॥
তোমার লাগিয়া হাম বৃন্দাবন কৈল।
তুয়া গুণ গাইবারে মুরলী শিখিল॥
বিরলে পাইয়াছি নাগল না দিব ছাড়িয়া।
বলরাম দাসে কয় উলসিত হৈয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কোথাকারে যাও রাধে আমারে ছাড়িয়ে।
হইয়াছি পথের দানী তোমার লাগিয়ে॥
ব্রহ্মা আদি দেব যত না পায় ধেয়ানে।
সো হরি মিনতি করে নাহি শুন কাণে॥
তোমার লাগিয়া হাম বৃন্দাবন কৈল।
তুয়া গুণ গাইবারে মুরলী শিখিল॥
বিরলে পাইয়াছি নাগল না দিব ছাড়িয়া।
বলরাম দাসে কয় উলসিত হৈয়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ওহে কানাই তিলেক নাহিক তোমার লাজ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, দান-লীলা, ১৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

ওহে কানাই তিলেক নাহিক তোমার লাজ।
বিষয় কে দিল পথে,                ঠেকেছে রাধার হাতে,
অলপে সে না আসিবে কাজ॥ ধ্রু।
দ্বিভুজে মুরলী ধর,                     বাঁশীতে সন্ধান পূর,
বুকে হান মনমথ বাণ।
রমণী মণ্ডলী করি,                      আভরণ লব কাড়ি,
ভাল মতে সাধাইব দান॥
কুবোল বলহ যদি,                      মাথায় ঢালিব দধি,
বসিতে না দিব তরুতলে।
কাড়ি লব পীতধড়া,                এউলায়ে ফেলিব চূড়া,
বাঁশীটি ভাসায়ে দিব জলে॥
শকট পড়িল পায়,                   ভাঙ্গিলা পায়ের ঘায়,
পুতনা বধেছ শিশুকালে।
বত্সাসুরে বধে যে,                    তাহারে পরশে কে,
তাহা মোরা জানি ভালে ভালে॥
একুই নগরে ঘর,                       দেখা শুনা আট পর,
বুঝাইব আঁখি ঠারাঠারি।
বলরাম দাসে কয়,                     এ কথা অন্যথা হয়,
তবে জেন আয়ানের নারী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

ওহে কানাই তিলেক নাহিক তোমার লাজ।
বিষয় কে দিল পথে                      ঠেকেছে রাধার হাতে
অলপে সে না আসিবে কাজ॥
দ্বিভুজে মুরলী ধর                            বাঁশীতে সন্ধান পূর
বুকে হান মনমথ বাণ।
রমণী মণ্ডলী করি                            আভরণ লব কাড়ি
ভাল মতে সাধাইব দান॥
কুবোল বলহ যদি                            মাথায় ঢালিব দধি
বসিতে না দিব তরুতলে।
কাড়ি লব পীতধড়া                     আউলায়ে ফেলিব চূড়া
বাঁশীটি ভাসায়ে দিব জলে॥
শকট পড়িল পায়                         ভাঙ্গিলা পায়ের ঘায়
পুতনা বধেছ শিশুকালে।
বত্সাসুরে বধে যে                           তাহারে পরশে কে
তাহা মোরা জানি ভালে ভালে॥
একুই নগরে ঘর                             দেখা শুনা আট পর
বুঝাইব আঁখি ঠারাঠারি।
বলরাম দাসে কয়                           এ কথা অন্যথা হয়
তবে জেন আয়ানের নারী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানু কহে ওহে ধনী শুন বিনোদিনি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, দান-লীলা, ১৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

কানু কহে ধনী,                       শুন বিনোদিনি,
কালিয় বরণ আমি।
মোরে পরশিয়া,                          গৌর করহ,
কেমন রূপসী তুমি॥
যাহার যেমন,                           বিধির করণ,
সকল সমান নয়।
রূপের গরিমা                     কি কাজ কিশোরী,
দেহ দান যেবা হয়॥
আহীরের নারী,                       না কর চাতুরী,
অনেক জানহ ছলা।
মোরে লাজ বাস,                    দেখিয়ে যে হাস,
ধরিয়ে সখীর গলা॥
রাজারে দিয়াছি কর,           সুধু ঘাট নহে মোর,
কিসের গরিমে কর তুমি।
বলরাম দাসে কয়,           উচিত গণ্ডা যেবা হয়,
না দিলেও যাইতে পার তুমি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ভাটিয়ারী॥

কানু কহে ধনী                        শুন বিনোদিনি
কালিয়া বরণ আমি।
মোরে পরশিয়া                           গৌর করহ
কেমন রূপসী তুমি॥
যাহার যেমন                            বিধির করণ
সকলে সমান নয়।
রূপের গরিমা                     কি কাজ কিশোরী
দেহ দান যেবা হয়॥
আহীরের নারী                        না কর চাতুরী
অনেক জানহ ছলা।
মোরে লাজ বাস                    দেখিয়ে যে হাস
ধরিয়া সখীর গলা॥
দেহ রাজকর                          এই ঘাট মোর
মিছা না বলিয়ে আমি।
বলরাম কয়                            উচিত যে হয়
দিয়া যেতে পার তুমি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

কানু কহে ধনী                        শুন বিনোদিনি
কালিয়া বরণ আমি।
মোরে পরশিয়া                           গৌর করহ
কেমন রূপসী তুমি॥
যাহার যেমন                           বিধির করণ
সকল সমান নয়।
রূপের গরিমা                     কি কাজ কিশোরী
দেহ দান যেবা হয়॥
আহীরের নারী                       না কর চাতুরী
অনেক জানহ ছলা।
মোরে লাজ বাস                     দেখিয়ে যে হাস
ধরিয়ে সখীর গলা॥
রাজারে দিয়াছি কর             সুধু ঘাট নহে মোর
কিসের গরিমে কর তুমি।
বলরাম দাসে কয়             উচিত গণ্ডা যেবা হয়
না দিলেও যাইতে পার তুমি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর