কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
যখন গোধন লৈয়া আঙ্গিনার নিকট দিয়া
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, দান-লীলা, ১৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যখন গোধন লৈয়া,                আঙ্গিনার নিকট দিয়া,
যাও তুমি বেণু বাজাইয়া।
বেণু ধ্বনী কৈলা তুমি,             অট্টালিকা পরে আমি,
সভে এলাম বাহির হৈয়া॥
দেখিব ব’লে এলাম আমি,       ফিরিয়া না চাইলা তুমি,
নেচে গেলে হলধরের বামে।
অদর্শন হইলা তুমি,            কান্দিতে কান্দিতে আমি,
প্রবেশিলাম ললিতার ধামে॥
ললিতা চতুরা ছিল,                   দান ছলে মিলাওল,
তেঞি এলাম তোমা দরশনে।
বলরাম দাসে কয়,                  না ঠেলিহ রাঙ্গা পায়,
আন নাহি জানি তোমা বিনে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
শ্রীরাধার উক্তি
॥ সুহই॥

যখন গোধন লৈয়া                আঙ্গিনার নিকট দিয়া
যাও তুমি বেণু বাজাইয়া।
বেণু ধ্বনি কৈলা তুমি             অট্টালিকা পরে আমি
সভে এলাম বাহির হৈয়া॥
দেখিব বলে এলাম আমি        ফিরিয়া না চাইলা তুমি
নেচে গেলে হলধরের বামে।
অদর্শন হইলা তুমি            কান্দিতে কান্দিতে আমি
প্রবেশিলাম ললিতার ধামে॥
ললিতা চতুরা ছিল                   দান ছলে মিলাওল
তেঞি এলাম তোমা দরশনে।
বলরাম দাসে কয়                 না ঠেলিহ রাঙ্গা পায়
আন নাহি জানি তোমা বিনে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২২-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যখন গোধন লৈয়া                আঙ্গিনার নিকট দিয়া
যাও তুমি বেণু বাজাইয়া।
বেণু ধ্বনী কৈলা তুমি             অট্টালিকা পরে আমি
সভে এলাম বাহির হৈয়া॥
দেখিব বলে এলাম আমি       ফিরিয়া না চাইলা তুমি
নেচে গেলে হলধরের বামে।
অদর্শন হইলা তুমি           কান্দিতে কান্দিতে আমি
প্রবেশিলাম ললিতার ধামে॥
ললিতা চতুরা ছিল                  দান ছলে মিলাওল
তেঞি এলাম তোমা দরশনে।
বলরাম দাসে কয়                 না ঠেলিহ রাঙ্গা পায়
আন নাহি জানি তোমা বিনে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮১৭ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৩০৭ সংখ্যক পদ।

॥ তুড়ী॥

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়ে ধারা ঢাকি যদি গায়।
আন ছলে ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লৈতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জিতে পাসরিতে নারি তোমার পিরিতি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুখিনি ব্যথিত বন্ধু সোন দুখের কথা। কাহারে মরম কবো কে জানিবে ব্যথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদিনী তাপে। আখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিএ কাআ রাখি জদি গায়। আচলে ধরিয়া গুরুজনেরে দেখায়॥
কাল নাম লইতে না দেয় দারুণ সাসুড়ি। কাল হার কাঢ়ি লয় কাল পাটের সাড়ি॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ। দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁন্দমুখ॥
দেখা দিয়া জাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে। না যায় নিল্লজ প্রাণ দাড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি। জিতে পাসুরিতে নারি তোমার পিরিতি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – নায়ক সম্বোধনে, ১৪৩-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে ব্যথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা রাখি যদি গায়।
আনছলে ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লইতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদ মুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দঢ়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাসে বলে হউক খেয়াতি।
জীতে পাশরিতে নারি তোমার পিরীতি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা রাখি যদি গায়।
আনছলে ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লইতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরামদাস বলে হউক খেয়াতি।
জীতে পাশরিতে নারি তোমার পিরীতি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা রাখি যদি গায়।
আন ছলে ধরি গুরুজনেরা দেখায়॥
কালা নাম লইতে না দেয় দারুণ শ্বাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলাজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জীতে পাশরিতে নারি তোমার পিরীতি॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা রাখি যদি গায়।
আন ছলে ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লইতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাসে বলে হউক খেয়াতি।
জীতে পাসরিতে নারি তোমার পিরীতি॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তুড়ি মিশ্র বালা ধানশী - শশীশেখর তাল॥

দুখিনীর ব্যথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে ব্যথা॥
কাঁদিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া কায়া রাখি যদি গায়।
আন ছলে ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কানু নাম লৈতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জিতে পাসরিতে নারি তোমার পিরিতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তোড়ী॥

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা ঢাকি যদি গায়।
আন ছলে ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লৈতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জিতে পাসরিতে নারি তোমার পিরীতি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা ঢাকি যদি গায়।
আন ছলে ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লৈতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জিতে পাসরিতে নারি তোমার পিরিতি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা ঢাকি যদি গায়।
আন ছলে ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লৈতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জিতে পাসরিতে নারি তোমার পিরিতি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা ঢাকি যদি গায়।
আন ছল ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লৈতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদ মুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জিতে পাসরিতে নারি তোমার পিরিতি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা ঢাকি যদি গায়।
আন ছলা ধরি গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লৈতে না দেয় দারুণ শাশুড়ি।
কালো হার কাড়ি লয় কালো পাটের শাড়ি॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আর দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চাঁদমুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলাজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জিতে পাসরিতে নারি তোমার পিরীতি॥

ব্যাখ্যা -
কাঁদলে ওরা ভাবে তোমার কথা ভেবেই কাঁদছি। যদি আঁচলে মুছে ফেলি চোখের
জল তবে সিক্ত অঞ্চল তারা গুরুজনদের দেখায়। কালো এই শব্দ উচ্চারণ করার উপায়
নেই। আর তুমিও একবার দেখা দিয়ে যাও না। বুঝতে পারি না যে শুধু দেখা দিয়ে যেতে
তোমার কী ক্ষতি হয়। নির্লজ্জ প্রাণও হয়েছে তেমনি---দেহ ছেড়ে চলেও যায় না।
---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদরত্নাবলী॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ১০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


দুখিনীর বেথিত বন্ধু শুন দুখের কথা।
কাহারে মরম কব কে জানিবে বেথা॥
কান্দিতে না পাই পাপ ননদীর তাপে।
আঁখির লোর দেখি কহে কান্দে বন্ধুর ভাবে॥
বসনে মুছিয়া ধারা ঢাকি যদি গায়।
আন ছলা ধরে গুরুজনেরে দেখায়॥
কালা নাম লৈতে না দেয় দারুণ শাশুড়ী।
কাল হার কাড়ি লয় কাল পাটের শাড়ী॥
দুখের উপরে বন্ধু অধিক আরও দুখ।
দেখিতে না পাই বন্ধু তোমার চান্দ মুখ॥
দেখা দিয়া যাইতে বন্ধু কিবা ধন লাগে।
না যায় নিলাজ প্রাণ দাঁড়াই তোমার আগে॥
বলরাম দাস বলে হউক খেয়াতি।
জিতে পাসরিতে নারি তোমার পিরিতি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১০ম পল্লব, রূপানুরাগ, ৮১১ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৩০১ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৪।১৩৬ সংখ্যক পদ।

॥ আশাবরী॥

নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা।
তার আগে দাঁড়াইতে ভয়ে কাঁপে গা॥
তাহে আর ননদিনী করে অপমান।
তোমার পিরিতি লাগি রাখিয়াছি প্রাণ॥
মোর দিব্য লাগে বন্ধু মোর দিব্য লাগে।
চাঁদমুখ দেখি মরি দাড়াও মোর আগে॥
এ তোমার ভুবন-মোহন রূপ খানি।
ভাবিতে ভাবিতে মোর দগধে পরাণি॥
গুরু-ভয় লোক-লাজ নাহি পড়ে মনে।
কাঠের পুতলী যেন থাকি রাতি দিনে॥
কত পরকারে চিত করি নিবারণ।
তবু সে তোমার প্রেম নহে বিসরণ॥
তোমার পিরিতি বন্ধু পরাণ সনে জড়া।
কহে বলরাম দাস কেমনে যাবে ছাড়া॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – নায়ক সম্বোধনে, ১৪৪-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আশাবরী॥

নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা।
তার আগে দাঁড়াইতে ভয়ে কাঁপে গা॥
তাহে আর ননদিনী করে অপমান।
তোমার পিরীতি লাগি রাখিয়াছি প্রাণ॥
মোর দিব্য লাগে বন্ধু মোর দিব্য লাগে।
চাঁদ মুখ দেখি মরি দাঁড়াও মোর আগে॥
এ তোমার ভুবন-মোহন রূপখানি।
ভাবিতে ভাবিতে মোর দগধে পরাণী॥
গুরুভয় লোক লাজ নাহি পড়ে মনে।
কাঠের পুতলী যেন থাকি রাতি দিনে॥
কত পরকারে চিত করি নিবারণ।
তবু সে তোমার প্রেম নহে বিস্মরণ॥
তোমার পিরীতি বন্ধু পরাণ সনে জড়া।
কহে বলরাম দাস কেমনে যাবে ছাড়া॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আশাবরী॥

নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা।
তার আগে দাঁড়াইতে ভয়ে কাঁপে গা॥
তাহে আর ননদিনী করে অপমান।
তোমার পিরীতি লাগি রাখিয়াছি প্রাণ॥
মোর দিব্য লাগে বন্ধু মোর দিব্য লাগে।
চাঁদমুখ দেখি মরি দাঁড়াও মোর আগে॥
এ তোমার ভুবন-মোহন রূপ খানি।
ভাবিতে ভাবিতে মোর দগধে পরাণী॥
গুরু-ভয় লোক-লাজ নাহি পড়ে মনে।
কাঠের পুতলী যেন থাকি রাতি দিনে॥
কত পরকারে চিত করি নিবারণ।
তবু সে তোমার প্রেম নহে বিস্মরণ॥
তোমার পিরীতি বন্ধু পরাণ সনে জড়া।
কহে বলরাম দাস কেমনে যাবে ছাড়া॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আশাবরী॥

নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা।
তার আগে দাঁড়াইতে ভয়ে কাঁপে গা॥
তাহে আর ননদিনী করে অপমান।
তোমার পিরীতি লাগি রাখিয়াছি প্রাণ॥
মোর দিব্য লাগে বন্ধু মোর দিব্য লাগে।
চাঁদমুখ দেখি মরি দাঁড়াও মোর আগে॥
এ তোমার ভুবন মোহন রূপ খানি।
ভাবিতে ভাবিতে মোর দগধে পরাণী॥
গুরু-ভয় লোক লাজ নাহি পড়ে মনে।
কাঠের পুতলী যেন থাকি রাতি দিনে॥
কত পরকারে চিত করি নিবারণ।
তবু সে তোমার প্রেম নহে বিস্মরণ॥
তোমার পিরীতি বন্ধু পরাণ সনে জড়া।
কহে বলরাম দাস কেমনে যাবে ছাড়া॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আশাবরী॥

নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা।
তার আগে দাঁড়াইতে ভয়ে কাঁপে গা॥
তাহে আর ননদিনী করে অপমান।
তোমার পিরীতি লাগি রাখিয়াছি প্রাণ॥
মোর দিব্য লাগে বন্ধু মোর দিব্য লাগে।
চাঁদমুখ দেখি মরি দাঁড়াও মোর আগে॥
এ তোমার ভুবন মোহন রূপ খানি।
ভাবিতে ভাবিতে মোর দগধে পরাণী॥
গুরু-ভয় লোক লাজ নাহি পড়ে মনে।
কাঠের পুতলী যেন থাকি রাতি দিনে॥
কত পরকারে চিত করি নিবারণ।
তবু সে তোমার প্রেম নহে বিস্মরণ॥
তোমার পিরীতি বন্ধু পরাণ সনে জড়া।
কহে বলরাম দাস কেমনে যাবে ছাড়া॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ - ছোট ডাঁসপাহিড়া॥

নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা।
তার আগে দাঁড়াইতে ভয়ে কাঁপে গা॥
তাহে আর ননদিনী করে অপমান।
তোমার পিরিতি লাগি রাখিয়াছি প্রাণ॥
মোর দিব্য লাগে বন্ধু মোর দিব্য লাগে।
চাঁদমুখ দেখি মরি দাঁড়াও মোর আগে॥
এ তোমার ভুবন মোহন রূপখানি।
ভাবিতে ভাবিতে মোর দগধে পরাণি॥
গুরুভয় লোক লাজ নাহি পড়ে মনে।
কাঠের পুতলী যেন থাকি রাতি দিনে॥
কত পরকারে চিত করি নিবারণ।
তবু সে তোমার প্রেম নহে বিসরণ॥
তোমার পিরিতি বন্ধু পরাণ সনে জড়া।
কহে বলরাম দাস কেমনে যাবে ছাড়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ আশাবরী॥

নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা।
তার আগে দাঁড়াইতে ভয়ে কাঁপে গা॥
তাহে আর ননদিনী করে অপমান।
তোমার পিরীতি লাগি রাখিয়াছি প্রাণ॥
মোর দিব্য লাগে বন্ধু মোর দিব্য লাগে।
চাঁদমুখ দেখি মরি দাঁড়াও মোর আগে॥
এ তোমার ভুবনমোহন রূপখানি।
ভাবিতে ভাবিতে মোর দগধে পরাণি॥
গুরুভয় লোকলাজ নাহি পড়ে মনে।
কাঠের পুতলী যেন থাকি রাতি দিনে॥
কত পরকারে চিত করি নিবারণ।
তমু সে তোমার প্রেম নহে বিসরণ॥
তোমার পিরীতি বন্ধু পরাণ সনে জড়া।
কহে বলরাম দাস কেমনে যাবে ছাড়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আশাবরী॥

নিজ পতির বচন যেমন শেলের ঘা।
তার আগে দাঁড়াইতে ভয়ে কাঁপে গা॥
তাহে আর ননদিনী করে অপমান।
তোমার পিরিতি লাগি রাখিয়াছি প্রাণ॥
মোর দিব্য লাগে বন্ধু মোর দিব্য লাগে।
চাঁদমুখ দেখি মরি দাঁড়াও মোর আগে॥
এ তোমার ভুবন-মোহন রূপখানি।
ভাবিতে ভাবিতে মোর দগধে পরাণি॥
গুরু-ভয় লোক-লাজ নাহি পড়ে মনে।
কাঠের পুতলী যেন থাকি রাতি দিনে॥
কত পরকারে চিত করি নিবারণ।
তবু সে তোমার প্রেম নহে বিসরণ॥
তোমার পিরিতি বন্ধু পরাণ সনে জড়া।
কহে বলরাম দাস কেমনে যাবে ছাড়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী
ভনিতা বলরাম / বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮১২ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৩০২ সংখ্যক পদ।

॥ গান্ধার॥

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী।
দারুণ শাশুড়ী মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
শাণান ক্ষুরের ধার স্বামী দুরজন।
পাঁজরে পাঁজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥ ধ্রু॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তোলোঁ সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম দাস কহে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া নিলুঁ তোমার পরিবাদ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী। দারুণ সাসুড়ি মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
সিনান খুরের ধার স্বামী দুরজন। পাজরে পাজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন। যে বলু সে বলু লোক তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে। লাজে মুখ নাহি তুলি সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি। মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম কহে ভাঙ্গিল বিবাদ। সকলি নিছিআ নিল তোমার পরিবাদ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – নায়ক সম্বোধনে, ১৪৫-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী।
দারুণ শাশুরী মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
সানান ক্ষুরের ধার স্বামী দুরজন।
পাঁজরে পাঁজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে।
লাজে মুখ না তোলোঁ সতীর সমুখে॥
গুরুজন পরিজন বলে অখেয়াতি।
তভু পাসরিতে নারোঁ তোমার পিরীতি॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম দাস কহে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া নিলুঁ তোমার পরিবাদ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী।
দারুণ শাশুরী মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
শাণান ক্ষুরের ধার স্বামী দুরজন।
পাঁজরে পাঁজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তোলি সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম দাস কহে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া নিনু তোমার পরিবাদ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী।
দারুণ শাশুরী মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
শাণান ক্ষুরের ধার স্বামী দুরজন।
পাঁজরে পাঁজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তোলি সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম দাস কহে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া নিনু তোমার পরিবাদ॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী।
দারুণ শ্বাশুরী মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
শাণান ক্ষুরের ধার স্বামী দুরজন।
পাঁজরে পাঁজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তুলি সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম দাস কহে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া নিনু তোমার পরিবাদ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ খাম্বাজ - ছোট ডাঁসপাহিড়া॥

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী।
দারুণ শাশুড়ী মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
শাণান ক্ষুরের ধার স্বামী দুরজন।
পাঁজরে পাঁজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥ ধ্রু॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তোলোঁ সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম দাস কহে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া নিলুঁ তোমার পরিবাদ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ গান্ধার॥

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী।
দারুণ শাশুড়ী মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
শাণান ক্ষুরের ধার স্বামী দুরজন।
পাঁজরে পাঁজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তোলোঁ সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম দাস কহে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া নিলুঁ তোমার পরিবাদ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

বিষের অধিক বিষ পাপ ননদিনী।
দারুণ শাশুড়ী মোর জ্বলন্ত আগুনি॥
শাণান ক্ষুরের ধার স্বামী দুরজন।
পাঁজরে পাঁজরে কুলবধূর গঞ্জন॥
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তোলোঁ সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
মোরে দেখি আন নারী করে ঠারাঠারি॥
বলরাম দাস কহে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া নিলুঁ তোমার পরিবাদ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮১৮ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৩০১ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৪।১৩৬ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
সুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সভাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥ ধ্রু॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াকু নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরিতি॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী” , ১৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
সুধুই শরীর মোর, প্রাণ তোমার হাতে॥
.        বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সবাই বলে                আমি তোমার
.        তেঞি জীতে চাই॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াক নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরীতি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – নায়ক সম্বোধনে, ১৪৬-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
সুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সবাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥ ধ্রু।
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াক নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরীতি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
সুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সবাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে যুড়াক নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরীতি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
শুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সবাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াক নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরীতি॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
শুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সবাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে যুড়াক নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরীতি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সাক্ষাৎ আক্ষেপ
॥ রাগিণী ধানশী - তাল দাশপাহিড়া॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে। সুধুই শরীর মোর প্রাণ তুয়া হাতে॥
বঁধু হে তোমারে বুঝাই। সবাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ। তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াক পরাণ॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি। কহে বলরাম বড় বিষম পিরীতি॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-
রত্নমালা”, ১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
শুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সবাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াক নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরীতি॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ আশাবরী - তেওট॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
সুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সভাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥ ধ্রু॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াকু নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরিতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
সুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সভাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াকু নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরীতি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আপন শপতি করি হাত দিয়া মাথে।
সুধুই শরীর মোর প্রাণ তোমার হাতে॥
বন্ধু হে তোমারে বুঝাই।
সভাই বলে আমি তোমার তেঞি জীতে চাই॥
নিরবধি তোমা লাগি দগধে পরাণ।
তিলেক দাঁড়াও কাছে জুড়াকু নয়ান॥
কি লাগি দারুণ চিত কাঁদে দিন রাতি।
কহে বলরাম বড় বিষম পিরিতি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ছাড়িব ঘরের আশ করিব সে বনবাস
ছাড়িয়া ঘরের আশ করিব সে বনবাস
ছাড়িয়া ঘরের আশ করিমু সে বনে বাস
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব,
আক্ষেপানুরাগ, ৯১৭ পদসংখ্যা।

॥ তুড়ী॥

ছাড়িয়া ঘরের আশ                    করিব সে বনবাস
এই চিতে দঢ়াইলুঁ সার।
রাতি দিবসে হাম                      হিয়ার উপরে থোব
না করিব আর আঁখির আড়॥
সই তোমারেই কহিয়ে মরম।
জাতি ভাসাইলুঁ                        কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ
ঘুচাইলুঁ ধরম-করম॥ ধ্রু॥
শাশুড়ী-ননদী-ডরে                     নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে
এই দুখে হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুইয়া                 চান্দমুখ নিরখিয়া
মনের কথাটি কব তারে॥
নয়ানে না দেখে আন                 আন নাহি শুনে কাণ
যত দেখি সব লাগে ধন্দ।
বলরাম দাসে বলে                    না জানি কি করিলে
ও নাগর গোকুলের চন্দ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ–সখী সম্বোধনে, ১৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

ছাড়িব ঘরের আশ,                করিব সে বনবাস,
এই চিতে দঢ়াইনু সার।
রাতি দিবস চিতে,                হিয়ার উপরে থোব,
না করিব আর আঁখের আড়॥
সই ! তোমারেই কহিয়ে মরম।
জাতি ভাসাইলুঁ,                  কুলে তিলাঞ্জলী দিলুঁ,
খাইলুঁ সে ধরম করম॥
শাশুড়ী ননদী ডরে,              নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে,
এই দুখে হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুইয়া,             চাঁদমুখ নিরখিয়া,
মনের কথাটি কব তারে॥
নয়ানে না দেখি আন,            আর নাহি শুনে কাণ,
যত দেখোঁ সব লাগে ধন্দ।
বলরাম দাসে বলে,                না জানি কি কহিলে,
ও নাগর গোকুলের চন্দ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

ছাড়িব ঘরের আশ, করিব সে বনবাস, এই চিতে দঢ়াইনু সার।
রাতি দিবস চিতে, হিয়ার উপরে থোব, না করিব আর আঁখির আড়॥
সই তোমারেই কহিয়ে মরম।
জাতি ভাসাইনু, কুলে তিলাঞ্জলী দিনু, খাইনু সে ধরম করম॥
শ্বাশুড়ী ননদী ডরে, নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে, এই দুখে হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুইয়া, চাঁন্দমুখ নিরখিয়া, মনের কথাটী কব তারে॥
নয়ানে না দেখে আন, আন নাহি শুনে কাণ, যত দেখে সব লাগে ধন্দ।
বলরামদাসে বলে, না জানি কি করিলে, ও নাগর গোকুলের চন্দ্র॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১০-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

ছাড়িব ঘরের আশ,                করিব সে বনবাস,
এই চিতে দঢ়াইনু সার।
রাতি দিবস চিতে,                হিয়ার উপরে থোব,
না করিব আর আঁখির আড়॥
সই তোমারেই কহিয়ে মরম।
জাতি ভাসাইনু,                  কুলে তিলাঞ্জলি দিনু,
খাইনু সে ধরম করম॥
শ্বাশুড়ী ননদী ডরে,               নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে,
এই দুখে হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুইয়া,           চাঁন্দমুখ নিরখিয়া,
মনের কথাটি কব তারে॥
নয়ানে না দেখে আন,            আর নাহি শুনে কাণ,
যত দেখে সব লাগে ধন্দ।
বলরাম দাসে বলে,                না জানি কি করিলে,
ও নাগর গোকুলের চন্দ্র॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

ছাড়িব ঘরের আশ,                করিব সে বনবাস,
এই চিতে দঢ়াইনু সার।
রাতি দিবস চিতে,                হিয়ার উপরে থোব,
না করিব আর আঁখির আড়॥
সই তোমারেই কহিয়ে মরম।
জাতি ভাসাইনু,                   কুলে তিলাঞ্জলি দিনু,
খাইনু সে ধরম করম॥
শ্বাশুড়ী ননদী ডরে,               নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে,
এই দুখে হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুইয়া,            চাঁদমুখ নিরখিয়া,
মনের কথাটি কব তারে॥
নয়ানে না দেখে আন,             আন নাহি শুনে কাণ,
যত দেখে সব লাগে ধন্দ।
বলরামদাসে বলে,                না জানি কি করিলে,
ও নাগর গোকুলের চন্দ্র॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ ললিত - দশকুশী॥

ছাড়িয়া ঘরের আশ,              করিমু সে বনে বাস,
এই চিতে দঢ়াইনু সার।
রাতি দিবস চিতে,                হিয়ার উপরে থোব,
না করিব নয়নের আড়॥
সখিরে তোমারে কহিনু মরম।
জাতি ভাসাইব,                   কুলে তিলাঞ্জলি দিব,
ঘুচাইব কুলের ধরম॥ ধ্রু॥
শাশুড়ি ননদীর ডরে,             নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে,
এই দুঃখ হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুঞা,              চাঁদ মুখ নিরখিয়া,
মনের কথাটি কব তারে॥
নয়ানে না দেখে আন,               আন নাহি শুনে কান,
যত দেখি সব লাগে ধন্দ।
বলরাম দাসে বলে,               না জানি সে কি করিলে,
ও নাগর গোকুলের চন্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তোড়ী॥

ছাড়িয়া ঘরের আশ                করিব সে বনবাস
এই চিতে দঢ়াইলুঁ সার।
রাতি দিবসে হাম                হিয়ার উপরে থোব
না করিব আর আঁখির আড়॥
সই তোমারেই কহিয়ে মরম।
জাতি ভাসাইলুঁ                   কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ
ঘুচাইলুঁ সে ধরম করম॥
শাশুড়ী ননদী ডরে               নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে
এই দুখে হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুইয়া            চাঁদমুখ নিরখিয়া
মনের কথাটি কব তারে॥
নয়ানে না দেখে আন             আন নাহি শুনে কান
যত দেখি সব লাগে ধন্দ।
বলরাম দাসে বলে              নাহি জানি কি করিলে
সে নাগর গোকুলের চন্দ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

ছাড়িব ঘরের আশ                করিব সে বনবাস
এই চিতে দঢ়াইলুঁ সার।
রাতি দিবসে হাম                হিয়ার উপরে থোব
না করিব আর আঁখির আড়॥
সই  তোমারেই কহিয়ে মরম।
জাতি ভাসাইলুঁ                  কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ
ঘুচাইলুঁ সে ধরম-করম॥
শাশুড়ী-ননদী-ডরে,              নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে
এই দুখে হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুইয়া            চাঁদমুখ নিরখিয়া
মনের কথাটি কব তারে॥
নয়ানে না দেখি আন             আন নাহি শুনে কাণ
যত দেখি সব লাগে ধন্দ।
বলরাম দাসে বলে                না জানি কি করিলে
ও নাগর গোকুলের চন্দ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদরত্নাবলী”, ১৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


ছাড়িয়া ঘরের আশ                করিব সে বনবাস
এই চিতে দঢ়াইলুঁ সার।
রাতি দিবসে হাম                হিয়ার উপরে থোব
না করিব আর আঁখির আড়॥
সই  তোমারেই কহিয়ে মরম।
জাতি ভাসাইলুঁ                   কুলে তিলাঞ্জলি দিলুঁ
ঘুচাইলুঁ সে ধরম করম॥
শাশুড়ী ননদী ডরে               নিশ্বাস না ছাড়ি ঘরে
এই দুখে হেন সাধ করে।
অঙ্গের উপর অঙ্গ থুইয়া            চান্দমুখ নিরখিয়া
মনের কথাটি কব তারে॥
নয়ানে না দেখে আন             আন নাহি শুনে কান
যত দেখি সব লাগে ধন্দ।
বলরাম দাসে বলে                না জানি কি করিলে
ও নাগর গোকুলের চন্দ॥

ব্যাখ্যা -
সেই সুখকে খুঁজতে গিয়েই রাধা শেষে প্রতিজ্ঞা করছেন যে, সংসারের আশা ত্যাগ করে বনবাস করব।
দিবারাত্র তাকে নিজের বুকের উপরে রেখে দেব, চোখের আড়াল আর করব না। সমস্ত জাতি-কুল-মান,
ধর্মাধর্ম বিসর্জন দেওয়ার পরেও তুচ্ছ সংসার ভয়ে মিলনে এত বাধা এ আর সহ্য হয় না। ইচ্ছা করে---
কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে, হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব। ইচ্ছা করে কেবল তাকেই মনের কথা বলি
। শুধু সেই একমাত্র সরল, বাকি সবই যেন ধাঁধার মতো জটিল। ওদের কথায় ধাঁধা লাগে, তোমার কথা
আমি বুঝি।---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদরত্নাবলী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮৩৮ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৩২৫ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৪।৪৫ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিহি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহোঁ দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ সুরুজের মুখ॥
কহ সখি কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈলে বিদগধ রায়॥ ধ্রু॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তভু ত না গুণে মনে এত পরমাদ॥
ও রূপ দেখিয়া কৈলুঁ মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহোঁ যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি মোর শ্যাম আইসে মুখে॥
ভাবে বিভোর তনু গদ-গদ বাণী।
ধরিতে ধরণে না যায় দুটি চৌখের পানি॥
সে রূপে মজিল চিত পাসরিলে নয়।
বলরামদাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – সখী সম্বোধনে, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিধি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহোঁ দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ সূরযের মুখ॥
কহ সখি !  কি হবে উপায় ?
না জানি কি গুণ কৈল বিদগধ রায়॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তবুত না গুণে মনে এত পরমাদ॥
ও রূপ দেখিয়া কৈলুঁ মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহোঁ যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি মোর শ্যাম আইসে মুখে॥
ভাবেতে বিভোর তনু গদগদ বাণী।
ধরিতে ধরণ না যায় দুটি আঁখির পাণী॥
ও চান্দ মুখের হাসি আধ আধ বোলে।
হিয়ার ভিতরে প্রাণ নিরবধি দোলে॥
সে রূপে মজিল চিত্ত পাসরিলে নয়।
বলরাম দাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিধি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহে দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ পুরুষের মুখ॥
কহ সখি কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈল বিদগধ রায়॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তবু ত না গণে মনে এত পরমাদ॥
ও রূপ দেখিয়া কৈনু মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহি যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি শ্যাম-নাম আইসে মুখে॥
ভাবেতে বিভোর তনু গদ গদ বাণী।
ধরিতে ধরণ না যায় দুটী আখির পানী॥
সে রূপে মজিল চিত পাসরিলে নয়।
বলরামদাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিধি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহে দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ পুরুষের মুখ॥
কহ সখি কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈল বিদগধ রায়॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তবু ত না গণে মনে এত পরমাদ॥
ওরূপ দেখিয়া কৈনু মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহি যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি শ্যামনাম আইসে মুখে॥
ভাবিতে বিভোর তনু গদ গদ বাণী।
ধরিতে ধরণ না যায় দুটি আঁখির পানী॥
সেরূপে মজিল চিত পাশরিলে নয়।
বলরাম দাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিধি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহে দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ পুরুষের মুখ॥
কহ সখি কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈলে বিদগধ রায়॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তবু ত না গণে মনে এত পরমাদ॥
ও রূপ দেখিয়া কৈনু মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহি যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি শ্যামনাম আইসে মুখে॥
ভাবিতে বিভোর তনু গদ-গদ বাণী।
ধরিতে ধরণে না যায় দুটি আঁখির পানী॥
সেরূপে মজিলে চিত পাশরিলে নয়।
বলরামদাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই মিশ্র মায়ূর - তেওট॥

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিহি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহোঁ দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ সুরুযের মুখ॥
কহ সখি কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈলে বিদগধ রায়॥ ধ্রু॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তবু ত না গুণে মনে এত পরমাদ॥
ওরূপ দেখিয়া কৈলুঁ মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কাঁদে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহোঁ যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি মোর শ্যাম আইসে মুখে॥
ভাবিতে বিভোর তনু গদ-গদ বাণী।
ধরিতে ধরণে না যায় দুটি আঁখির পানি॥
সে রূপে মজিল চিত পাসরিল নয়।
বলরাম দাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই॥

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একসরী।
কোন বিহি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহোঁ দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ সুরুজের মুখ॥
কহ সখি  কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈলে বিদগধরায়॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তভু ত না গুণে মনে এত পরমাদ॥
ও রূপ দেখিয়া কৈলুঁ মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহোঁ যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি মোর শ্যাম আইসে মুখে॥
ভাবে বিভোর তনু গদগদ বাণী।
ধরিতে ধরণ নহে দুটি চৌখের পানি॥
সে রূপে মজিল চিত পাসরিল নয়।
বলরাম দাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিহি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহোঁ দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ সুরুজের মুখ॥
কহ সখি  কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈলে বিদগধ-রায়॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তভু ত না গুণে মনে এত পরমাদ॥
ও রূপ দেখিয়া কৈলুঁ মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহোঁ যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি মোর শ্যাম আইসে মুখে॥
ভাবে বিভোর তনু গদ-গদ বাণী।
ধরিতে ধরণে না যায় দুটি চৌখের পানি॥
সে রূপে মজিল চিত পাসরিলে নয়।
বলরামদাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিহি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহোঁ দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ সুরুজের মুখ॥
কহ সখি, কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈল বিদগধরায়॥
ও রূপ দেখিয়া কৈলুঁ মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহোঁ যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি মোর শ্যাম আইসে মুখে॥
ভাবে বিভোর তনু গদগদ বাণী।
ধরিতে ধরণে না যায় দুটি চোখের পানি॥
সে রূপে মজিল চিত পাসরিল নয়।
বলরামদাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিহি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহোঁ দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ সুরুজের মুখ॥
কহ সখি, কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈল বিদগধরায়॥
ও রূপ দেখিয়া কৈলুঁ মরণ সমাধি।
রাতি দিনে কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহোঁ যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি মোর শ্যাম আইসে মুখে॥
ভাবে বিভোর তনু গদগদ বাণী।
ধরিতে ধরণে না যায় দুটি চোখের পানি॥
সে রূপে মজিল চিত পাসরিল নয়।
বলরাম দাস বলে না জানি কি হয়॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ১০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আন্ধার ঘরের কোণে থাকি একেশ্বরী।
কোন বিহি সিরজিল ছার কুলনারী॥
কথার দোসর নাই যারে কহোঁ দুখ।
দেখিতে না পাঙ চাঁদ সুরুজের মুখ॥
কহ সখি কি হবে উপায়।
না জানি কি গুণ কৈলে বিদগধ রায়॥
ঘরের আঙ্গিনা দেখিবারে লাগে সাধ।
তভু ত না গুণে মনে এত পরমাদ॥
ও রূপ দেখিয়া কৈলুঁ মরণ সমাধি।
রাতিদিন কান্দে প্রাণ বিষম বেয়াধি॥
আন কথা কহোঁ যদি গুরুর সমুখে।
ভরমে তখনি মোর শ্যাম আইসে মুখে॥
ভাবে বিভোর তনু গদগদ বাণী।
ধরিতে ধরণে না যায় দুটি চৌখের পানি॥
সে রূপে মজিল চিত পাসরিল নয়।
বলরাম দাস বলে না জানি কি হয়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাজার ঝিয়ারী কুলের বৌহারী
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব,
আক্ষেপানুরাগ, ৮৩৬ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৩২৫ ও
কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৪।৪৫ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজার ঝিয়ারী                        কুলের বৌহারী
স্বামী-সোহাগিনী নারী।
পিরিতি লাগিয়া                        এ তিন খোয়ালুঁ
হইলুঁ কুল-খাঁখারি॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে সে জন                             নাহি দরশন
জগত ভরিল লাজে॥ ধ্রু॥
ধরম করম                              সব তেয়াগিলুঁ
যাহার পিরিতি সাধে।
জাতি কুল শীল                          সকলি মজিল
সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে                        হিয়া জর-জর
না রুচে আহার পানি।
কহে বলরাম                            এ তিন আখর
কেবল দুখের খনি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব,
আক্ষেপানুরাগ, ৯২৪ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির
১৪০৫ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজার ঝিয়ারী                        কুলের বৌহারী
স্বামী-সোহাগিনী নারী।
পিরিতি লাগিয়া                       এ তিন খোয়ালুঁ
হইনু কুল-খাঁখারি॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে তা সনে                            নাহি দরশন
জগত ভরিল লাজে॥ ধ্রু॥
ধরম করম                              সব তেয়াগিলুঁ
যাহার পিরিতি-সাধে।
জাতি কুল শীল                          সকলি নাশিলুঁ
সে জনার পিরিতি-বাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে                       হিয়া জর জর
না রুচে আহার পানি।
কহে বলরাম                            এ তিন আখর
কেবল দুখের খনি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজার ঝিআরি কুলের বৌহারী সোয়ামীসোহাগিনী নারী।
পিরিতি লাগিআ এ তিন খোআইনু হইনু কুল খাঁখারি॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
সপনে সে জন নাহি দরশন জগত ভরিল লাজে॥
ধরম করম সব তেয়াগিনু জাহার পিরিতি সাধে।
জাতিকুলশীল সকলি মজিল সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে হিয়া জরজর না রোচে আহার পানি।
কহে বলরাম এ তিন আঁখর কেবল দুঃখের খনি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – সখী সম্বোধনে, ১৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজার ঝিয়ারী,                        কুলের বৌহারী,
স্বামী সোহাগিনী নারী।
পিরীতি লাগিয়া,                      এ তিন খোয়াইলুঁ,
হইলুঁ কুল খাঁখারি॥
সই ! কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে সে জন,                            নাহি দরশন,
জগত ভরিল লাজে॥
ধরম করম,                             সব তেয়াগিলুঁ,
যাহার পিরীতি সাধে।
জাতি কুলশীল,                          সকলি মজিল,
সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে,                      হিয়া জর জর,
না রুচে আহার পানী।
কহে বলরাম,                            এ তিন আঁখর,
কেবল দুখের খনি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজার ঝিয়ারী, কুলের বৌহারী, স্বামী সোহাগিনী নারী।
পিরীতি লাগিয়া, এ তিন খোয়ানু, হইনু কুল খাঁখারী॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে সে জন, নাহি দরশন, জগত ভরিল লাজে॥
ধরম করম, সব তেয়াগিনু, যাহার পিরীতি সাধে।
জাতি কুল শীল, সকলি মজিল, সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে, হিয়া জর জর, না রুচে আহার পানী।
কহে বলরাম, এ তিন আখর, কেবল দুখের খনি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৮-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

রাজার ঝিয়ারী,                        কুলের বৌহারী,
স্বামী-সোহাগিনী নারী।
পিরীতি লাগিয়া,                      এ তিন খোয়ানু,
হইনু কুল খাঁখারী॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে সে জন,                            নাহি দরশন,
জগত ভরিল লাজে॥
ধরম করম,                             সব তেয়াগিনু,
যাহার পিরীতি সাধে।
জাতি কুল শীল,                          সকলি মজিল,
সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে,                        হিয়া জর জর,
না রুচে আহার পানী।
কহে বলরাম,                            এ তিন আখর,
কেবল দুখের খনি॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজার ঝিয়ারী                        কুলের বৌহারী
স্বামি-সোহাগিনী নারী।
পিরীতি লাগিয়া                      এ তিন খোয়ানু
হইনু কুল খাঁখারী॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে সে জন                            নাহি দরশন
জগত ভরিল লাজে॥
ধরম করম,                             সব তেয়াগিনু
যাহার পিরীতি সাধে।
জাতি কুল শীল                          সকলি মজিল
সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে                        হিয়া জর জর
না রুচে আহার পানী।
কহে বলরাম                            এ তিন আখর
কেবল দুখের খনি॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ - মধ্যম দুঠুকী॥

রাজার ঝিয়ারী                        কুলের বৌহারী,
স্বামী সোহাগিনী নারী।
পিরিতি লাগিয়া,                    এ তনু খোয়াইলুঁ,
হইলুঁ কুল-খাঁখারী॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে সে জন                            নাহি দরশন
জগত ভরিল লাজে॥
ধরম করম                             সব তেয়াগিনু
যাহার পিরিতি সাধে।
জাতি কুলশীল                          সকলি মজিল
সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে                       হিয়া জর জর
না রুচে আহার পানি।
কহে বলরাম                            এ তিন আখর
কেবল দুখের খনি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

রাজার ঝিয়ারী                        কুলের বৌহারী
স্বামীসোহাগিনী নারী।
পিরীতি লাগিয়া                       এ তিন খোয়ালুঁ
হইলুঁ কুলখাঁখারী॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে সে জন                            নাহি দরশন
জগত ভরিল লাজে॥
ধরম করম                             সব তেয়াগিলুঁ
যাহার পিরীতি সাধে।
জাতি কুলশীল                          সকলি মজিল
সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে                      হিয়া জর জর
না রুচে আহার পানি।
কহে বলরাম                            এ তিন আখর
কেবল দুখের খনি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রাজার ঝিয়ারী                         কুলের বোহারী
স্বামী-সোহাগিনী নারী।
পিরিতি লাগিয়া                        এ তিন খোয়ালুঁ
হইলুঁ কুল-খাঁখারি॥
সই কি ছার পরাণ কাজে।
স্বপনে সে জন                            নাহি দরশন
জগত ভরিল লাজে॥
ধরম করম                              সব তেয়াগিলুঁ
যাহার পিরিতি সাধে।
জাতি কুলশীল                           সকলি মজিল
সে জনার পরিবাদে॥
ভাবিতে চিন্তিতে                        হিয়া জর-জর
না রুচে আহার পানি।
কহে বলরাম                            এ তিন আখর
কেবল দুখের খনি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মুখ নিরখিতে বুক বিদরে
মুখ দেখিতে বুক বিদরে
যে মুখ দেখিতে হিয়া বিদরয়ে
যো মুখ দেখিতে হিয়া বিদরয়ে
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩
খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১৭১-পৃষ্ঠা। এই পদটির সঙ্গে “সই কি জানি
কদম্বতলে” পদটির আশ্চর্য মিল রয়েছে। যেন কলিগুলি অদল-বদল হয়ে এই রূপ পেয়েছে।
পদটিকে পূর্বের পদবলী বিষারদগণ ভিন্ন স্বতন্ত্র পদ হিসেবে উপস্থাপন করে গিয়েছেন। আমরাও তাই ওই
পদটিকে, এই পদের সঙ্গে রাখার সাথে সাথে, একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে রাখছি। আমাদের মনে
হয় এই দুটি পদ এক ও অভিন্ন এবং কালের প্রবাহে, বিভিন্ন কীর্তনিয়া ও পদাবলী সংগ্রাহকদের হাতে
পড়ে এরকম হয়ে গিয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ পুনঃ ভাটিয়ালী॥

মুখ নিরখিতে           বুক বিদরে          কে তাহে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী          দিবস যামিনী          ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই! কি জানি কদম্বতলে।
দেখিয়া ও রূপ          কুলে তিলাঞ্জলি          দিনু যমুনার জলে॥ ধ্রু॥
বঙ্কিম নয়ানে          ভঙ্গিম চাহনি          তিলে পাসরিতে নারি।
এতদিনে সই          জানিলু নিশ্চয়         মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে          ফুলের কাচনী         সাজানি ময়ূর পাখে।
বলরাম বোলে          কোন্ বা দারুণী          কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব,
রূপানুরাগ, ৭৮০ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৭০ ও কমলাকান্ত দাসের
পদরত্নাকর পুথির ৩।৩৮ সংখ্যক পদ।

॥ ভাটিয়ারি॥

যো মুখ দেখিতে                    হিয়া বিদরয়ে
কে তাথে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী                     দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই সে কালা কদম্বতলে।
ও রূপ দেখিয়া                    কুলে তিলাঞ্জলি
দিলুঁ যমুনার জলে॥ ধ্রু॥
বঙ্কিম নয়ানে                         ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                        নিশ্চয় জানিলুঁ
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                        ফুলের কাঁচনি
সাজনি ময়ূর-পাখে।
বলরাম বলে                        কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – সখী সম্বোধনে, ১৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

যো মুখ দেখিতে,                হিয়া বিদরয়ে,
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী,                 দিবস রজনী,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সোই কি জানি কদম্ব তলে।
ওরূপ দেখিয়া,                  কুলে তিলাঞ্জলী
দিলুঁ যমুনার জলে॥ ধ্রু।
বঙ্কিম নয়ানে,                     ভঙ্গিম চাহনি,
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি,                  নিশ্চয় জানিলু,
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে,                   ফুলের কাঁচনী,
সাজসী ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে,                   কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

যো মুখ দেখিতে, হিয়া বিদরয়ে, কে তাহে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী, দিবস রজনী, ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব তলে।
ও রূপ দেখিয়া, কুলে তিলাঞ্জলী দিনু যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে, ভঙ্গিম চাহনী, তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি, নিশ্চয় জানিনু, মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে, ফুলের কাঁচনী, সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে, কোন বা দারুণী, কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৬-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

যো মুখ দেখিতে,                হিয়া বিদরয়ে,
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী,                 দিবস রজনী,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব তলে।
ও রূপ দেখিয়া,                কুলে তিলাঞ্জলি,
দিনু যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে,                     ভঙ্গিম চাহনী,
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি,                  নিশ্চয় জানিনু,
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে,                   ফুলের কাঁচনী,
সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে,                  কোন বা দারুণী,
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[ রূপোল্লাস ]

॥ ভাটিয়ারি॥

মুখ দেখিতে                      বুক বিদরে
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভাবিলে কামিনী                  দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব তলে।
দেখিয়া ও রূপ                কুলে তিলাঞ্জলি
যাইতে যমুনা-জলে॥ ধ্রু॥
বঙ্কিম নয়নে                    ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সই                  জানিলু নিশ্চয়
মজিল কুলের নারী॥
চাচর চুলে                      ফুলের কাছনি
সাজনি মউর-পাখে।
বলরাম বলে                     কোন কামিনী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

যো মুখ দেখিতে                       হিয়া বিদরয়ে
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভাবিলে কামিনী                         দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব তলে।
ও রূপ দেখিয়া                        কুলে তিলাঞ্জলি
দিনু যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে                            ভঙ্গিম চাহনী
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                          নিশ্চয় জানিনু
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                            ফুলের কাঁচনী
সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে                           কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥


ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

যে মুখ দেখিতে                     হিয়া বিদরয়ে
কে তাথে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী                     দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই সে কালা কদম্বতলে।
ওরূপ দেখিয়া                      কুলে তিলাঞ্জলি
দিলুঁ যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে                         ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                      নিচয়ে জানিলুঁ
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                       ফুলের কাঁচনী
সাজনি ময়ূর-পাখে।
বলরাম বলে                      কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৬১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

মুখ দেখিতে                        বুক বিদরে
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভাবিলে কামিনী                  দিবস-রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব-তলে।
দেখিয়া ও রূপ                কুলে তিলাঞ্জলি
যাইতে যমুনা-জলে॥
বঙ্কিম নয়নে                     ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সই                   জানিলু নিশ্চয়
মজিল কুলের গোরি॥
চাচর চুলে                     ফুলের কাছনি
সাজনি মউর-পাখে।
বলরাম বলে                    কোন কামিনী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

যো মুখ দেখিতে                হিয়া বিদরয়ে
কে তাথে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী                দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই সে কালা কদম্বতলে।
ওরূপ দেখিয়া                 কুলে তিলাঞ্জলি
দিলুঁ যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে                     ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                   নিশ্চয় জানিলুঁ
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                    ফুলের কাঁচনী
সাজসী ময়ূর-পাখে।
বলরাম বলে                    কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির সঙ্গে “সই কি জানি কদম্বতলে”
পদটির আশ্চর্য মিল রয়েছে। যেন কলিগুলি অদল-বদল হয়ে এই রূপ পেয়েছে। পদটিকে পূর্বের পদবলী
বিষারদগণ ভিন্ন স্বতন্ত্র পদ হিসেবে উপস্থাপন করে গিয়েছেন। আমরাও তাই ওই পদটিকে, এই
পদের সঙ্গে রাখার সাথে সাথে, একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে রাখছি। আমাদের মনে হয় এই দুটি পদ
এক ও অভিন্ন এবং  কালের প্রবাহে,  বিভিন্ন কীর্তনিয়া ও  পদাবলী সংগ্রাহকদের হাতে পড়ে এরকম হয়ে
গিয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ শঙ্করাভরণ - মধ্যম ডাঁশপাহিড়া॥

সই কি জানি কদম্ব তলে।
ওরূপ দেখিয়া                        কুলে তিলাঞ্জলি দিয়া
ডারি দিনু যমুনার জলে॥ ধ্রু॥
যো মুখ দেখিতে                       হিয়া মোর বিদরয়ে
কে তাথে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী,                             দিবস রজনী,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
বঙ্কিম নয়ানে,                                ভঙ্গিম চাহনি,
তিলে পাশরিতে নারি।
এতদিনে সখি,                               নিশ্চয় জানিনু,
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে,                              মালতী ফুলের,
সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম কহে,                             কোন বা দারুণী,
কুলের ধরম রাখে॥


.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সই কি জানি কদম্ব তলে
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির সঙ্গে “মুখ নিরখিতে বুক
বিদরে” বা “মুখ দেখিতে বুক বিদরে” পদটির আশ্চর্য মিল রয়েছে। যেন কলিগুলি অদল-বদল হয়ে এই
রূপ পেয়েছে। পদটিকে পূর্বের পদবলী বিষারদগণ ভিন্ন, স্বতন্ত্র পদ হিসেবে উপস্থাপন করে গিয়েছেন।
আমরাও তাই ওই পদটিকে, এই পদের সঙ্গে রাখার সাথে সাথে,  একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে  
রাখছি। আমাদের মনে হয় এই দুটি পদ এক ও অভিন্ন এবং কালের প্রবাহে, বিভিন্ন কীর্তনিয়া ও পদাবলী
সংগ্রাহকদের হাতে পড়ে এরকম হয়ে গিয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ শঙ্করাভরণ - মধ্যম ডাঁশপাহিড়া॥

সই কি জানি কদম্ব তলে।
ওরূপ দেখিয়া                       কুলে তিলাঞ্জলি দিয়া
ডারি দিনু যমুনার জলে॥ ধ্রু॥
যো মুখ দেখিতে                     হিয়া মোর বিদরয়ে
কে তাথে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী,                           দিবস রজনী,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
বঙ্কিম নয়ানে,                               ভঙ্গিম চাহনি,
তিলে পাশরিতে নারি।
এতদিনে সখি,                            নিশ্চয় জানিনু,
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে,                            মালতী ফুলের,
সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম কহে,                            কোন বা দারুণী,
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে রয়েছে। এই
পদটির সঙ্গে “সই কি জানি কদম্বতলে” পদটির আশ্চর্য মিল রয়েছে। যেন কলিগুলি অদল-বদল হয়ে এই
রূপ পেয়েছে। পদটিকে পূর্বের পদবলী বিষারদগণ ভিন্ন স্বতন্ত্র পদ হিসেবে উপস্থাপন করে গিয়েছেন।
আমরাও তাই ওই পদটিকে, এই পদের সঙ্গে রাখার সাথে সাথে, একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে রাখছি
। আমাদের মনে হয় এই দুটি পদ এক ও অভিন্ন এবং কালের প্রবাহে, বিভিন্ন কীর্তনিয়া ও পদাবলী
সংগ্রাহকদের হাতে পড়ে এরকম হয়ে গিয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ পুনঃ ভাটিয়ালী॥

মুখ নিরখিতে           বুক বিদরে          কে তাহে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী          দিবস যামিনী          ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই! কি জানি কদম্বতলে।
দেখিয়া ও রূপ          কুলে তিলাঞ্জলি          দিনু যমুনার জলে॥ ধ্রু॥
বঙ্কিম নয়ানে          ভঙ্গিম চাহনি          তিলে পাসরিতে নারি।
এতদিনে সই          জানিলু নিশ্চয়         মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে          ফুলের কাচনী         সাজানি ময়ূর পাখে।
বলরাম বোলে          কোন্ বা দারুণী          কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব,
রূপানুরাগ, ৭৮০ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৭০ ও কমলাকান্ত দাসের
পদরত্নাকর পুথির ৩।৩৮ সংখ্যক পদ।

॥ ভাটিয়ারি॥

যো মুখ দেখিতে                    হিয়া বিদরয়ে
কে তাথে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী                     দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই সে কালা কদম্বতলে।
ও রূপ দেখিয়া                    কুলে তিলাঞ্জলি
দিলুঁ যমুনার জলে॥ ধ্রু॥
বঙ্কিম নয়ানে                         ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                        নিশ্চয় জানিলুঁ
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                        ফুলের কাঁচনি
সাজনি ময়ূর-পাখে।
বলরাম বলে                        কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – সখী সম্বোধনে, ১৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

যো মুখ দেখিতে,                হিয়া বিদরয়ে,
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী,                 দিবস রজনী,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সোই কি জানি কদম্ব তলে।
ওরূপ দেখিয়া,                  কুলে তিলাঞ্জলী
দিলুঁ যমুনার জলে॥ ধ্রু।
বঙ্কিম নয়ানে,                     ভঙ্গিম চাহনি,
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি,                  নিশ্চয় জানিলু,
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে,                   ফুলের কাঁচনী,
সাজসী ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে,                   কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

যো মুখ দেখিতে, হিয়া বিদরয়ে, কে তাহে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী, দিবস রজনী, ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব তলে।
ও রূপ দেখিয়া, কুলে তিলাঞ্জলী দিনু যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে, ভঙ্গিম চাহনী, তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি, নিশ্চয় জানিনু, মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে, ফুলের কাঁচনী, সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে, কোন বা দারুণী, কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৬-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

যো মুখ দেখিতে,                হিয়া বিদরয়ে,
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী,                 দিবস রজনী,
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব তলে।
ও রূপ দেখিয়া,                কুলে তিলাঞ্জলি,
দিনু যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে,                     ভঙ্গিম চাহনী,
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি,                  নিশ্চয় জানিনু,
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে,                   ফুলের কাঁচনী,
সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে,                  কোন বা দারুণী,
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[ রূপোল্লাস ]

॥ ভাটিয়ারি॥

মুখ দেখিতে                      বুক বিদরে
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভাবিলে কামিনী                  দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব তলে।
দেখিয়া ও রূপ                কুলে তিলাঞ্জলি
যাইতে যমুনা-জলে॥ ধ্রু॥
বঙ্কিম নয়নে                    ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সই                  জানিলু নিশ্চয়
মজিল কুলের নারী॥
চাচর চুলে                      ফুলের কাছনি
সাজনি মউর-পাখে।
বলরাম বলে                     কোন কামিনী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

যো মুখ দেখিতে                       হিয়া বিদরয়ে
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভাবিলে কামিনী                         দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব তলে।
ও রূপ দেখিয়া                        কুলে তিলাঞ্জলি
দিনু যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে                            ভঙ্গিম চাহনী
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                          নিশ্চয় জানিনু
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                            ফুলের কাঁচনী
সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে                           কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥


ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

যে মুখ দেখিতে                     হিয়া বিদরয়ে
কে তাথে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী                     দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই সে কালা কদম্বতলে।
ওরূপ দেখিয়া                      কুলে তিলাঞ্জলি
দিলুঁ যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে                         ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                      নিচয়ে জানিলুঁ
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                       ফুলের কাঁচনী
সাজনি ময়ূর-পাখে।
বলরাম বলে                      কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৬১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

মুখ দেখিতে                        বুক বিদরে
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভাবিলে কামিনী                  দিবস-রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই কি জানি কদম্ব-তলে।
দেখিয়া ও রূপ                কুলে তিলাঞ্জলি
যাইতে যমুনা-জলে॥
বঙ্কিম নয়নে                     ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সই                   জানিলু নিশ্চয়
মজিল কুলের গোরি॥
চাচর চুলে                     ফুলের কাছনি
সাজনি মউর-পাখে।
বলরাম বলে                    কোন কামিনী
কুলের ধরম রাখে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

যো মুখ দেখিতে                হিয়া বিদরয়ে
কে তাথে পরাণ ধরে।
ভালে সে কামিনী                দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই সে কালা কদম্বতলে।
ওরূপ দেখিয়া                 কুলে তিলাঞ্জলি
দিলুঁ যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়ানে                     ভঙ্গিম চাহনি
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                   নিশ্চয় জানিলুঁ
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                    ফুলের কাঁচনী
সাজসী ময়ূর-পাখে।
বলরাম বলে                    কোন বা দারুণী
কুলের ধরম রাখে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর