কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩
খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১৬৮-পৃষ্ঠা। এই পদটিরই কলি আগে পরে
করে “কি রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর” শিরেনামে, বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত দুটি সংকলন
“পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” এবং “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” তে দেওয়া রয়েছে। “কি রূপ
দেখিনু সই নাগর-শেখর” পদটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে তোলা হয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি। জাগিতে স্বপনে দেখোঁ কালাবরণ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে। পরাণ হরিলে রাঙ্গা নয়ন-নাচনে॥
কি খেণে দেখিলু সই! নাগরশেখর। আখি ঝুরে, প্রাণ কান্দে, পরাণ ফাঁফর॥ ধ্রু॥
সহজে মুরুতিখানি বড়ই মধুর। মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি। কুলেরে যতন করে কোন্ বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে। আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কালা কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে। বলরাম বলে তায় সদাই পরাণ কাঁন্দে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব,
রূপানুরাগ, ৭৮৪ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৭৪
ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ৩।৪০ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালা রূপখানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিলে রাঙ্গা নয়ন-নাচনে॥
কি খেণে দেখিলাম সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে পরাণ ফাঁফর॥
সহজে মুরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈলে চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধী॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগ-মন হরে।
আধ মুচকি হাসে কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদাই পরাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – সখী সম্বোধনে, ১৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালরূপ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙ্গা নয়ন নাচনে॥
কিরূপ দেখিলু সোই নাগর শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ান ফাঁপর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধী॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চান্দে।
বলরাম বলে তেই সদাই পরাণ কান্দে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালরূপ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙ্গা নয়ন নাচনে॥
কি রূপ দেখিনু সই নাগর শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ানে ফাঁফর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধী॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগ-মন-হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদাই পরাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৭-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কাল রূপ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙ্গা নয়ন নাচনে॥
কিরূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ান ফাঁপর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধী॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চান্দে।
বলরাম বলে তেই সদাই পরাণ কান্দে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৯-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপন দেখি কালরূপ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙা নয়ান নাচনে॥
কিরূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ান ফাঁপর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে যে চাঁদমুখ জগ-মন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদাই পরাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি - মধ্যম একতালা॥

কিবা রাতি, কিবা দিন, কিছুই না জানি।
জাগিতে ঘুমাতে দেখি শ্যামরূপ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙ্গা নয়ন নাচনে॥
কিবা রূপ দেখিলুঁ সেই নাগর শেখর।
আঁখি ঝোরে মন কাঁদে পরাণ কাতর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধী॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসে কত সুধা ঝরে॥
কালো কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদা প্রাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ১৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালরূপখানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙ্গা নয়ন নাচনে॥
কিরূপ দেখিনু সই নাগর শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ানে ফাঁপর॥
সহজে মুরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈলে চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদাই প্রাণে কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রুপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালা রূপখানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিলে রাঙ্গা নয়ননাচনে॥
কি খেনে দেখিলাম সই নাগরশেখর।
আঁখি ঝুরে মন কাঁদে পরাণ ফাঁফর॥
সহজে মুরতিখানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈলে চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসে কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদা প্রাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালা রূপখানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিলে রাঙ্গা নয়ন-নাচনে॥
কি খেনে দেখিলাম সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে পরাণ ফাঁফর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈলে চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগ-মন হরে।
আধ মুচকি হাসে কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চান্দে।
বলরাম বলে তেঞি সদাই পরাণ কাঁন্দে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১০৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। “কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি” পদটির কলি আগে পরে করে “কি
রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর” শিরেনামে, বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত দুটি সংকলন “পাঁচশত
বত্সরের পদাবলী” এবং “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” তে দেওয়া রয়েছে। অন্যান্য সংকলকদের
সংকলনে প্রাপ্ত “কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি” পদটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে তোলা হয়েছে।

কি রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝুরে মন কাঁদে নয়ান ফাঁপর॥
কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি শ্যামরূপখানি॥
সহজে মূরতিখানি বড়ই মাধুরি।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চুরি॥
আর বা তাহে কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কালার কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদা প্রাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ান ফাঁপর॥
কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি শ্যামরূপখানি॥
সহজে মূরতিখানি বড়ই মাধুরি।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চুরি॥
আর বা তাহে কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কালার কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদা প্রাণ কাঁদে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১০৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। “কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি” পদটির কলি আগে পরে করে “কি
রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর” শিরেনামে, বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত দুটি সংকলন “পাঁচশত
বত্সরের পদাবলী” এবং “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” তে দেওয়া রয়েছে। অন্যান্য সংকলকদের
সংকলনে প্রাপ্ত “কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি” পদটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে তোলা হয়েছে।

কি রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝুরে মন কাঁদে নয়ান ফাঁপর॥
কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি শ্যামরূপখানি॥
সহজে মূরতিখানি বড়ই মাধুরি।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চুরি॥
আর বা তাহে কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কালার কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদা প্রাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ান ফাঁপর॥
কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি শ্যামরূপখানি॥
সহজে মূরতিখানি বড়ই মাধুরি।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চুরি॥
আর বা তাহে কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কালার কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদা প্রাণ কাঁদে॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১৬৮-পৃষ্ঠায় রয়েছে। এই পদটিরই
কলি আগে পরে করে “কি রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর” শিরেনামে, বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত দুটি
সংকলন “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” এবং “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য” তে দেওয়া রয়েছে। “কি
রূপ দেখিনু সই নাগর-শেখর” পদটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে তোলা হয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি। জাগিতে স্বপনে দেখোঁ কালাবরণ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে। পরাণ হরিলে রাঙ্গা নয়ন-নাচনে॥
কি খেণে দেখিলু সই! নাগরশেখর। আখি ঝুরে, প্রাণ কান্দে, পরাণ ফাঁফর॥ ধ্রু॥
সহজে মুরুতিখানি বড়ই মধুর। মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি। কুলেরে যতন করে কোন্ বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে। আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কালা কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে। বলরাম বলে তায় সদাই পরাণ কাঁন্দে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব,
রূপানুরাগ, ৭৮৪ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৭৪
ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ৩।৪০ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালা রূপখানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিলে রাঙ্গা নয়ন-নাচনে॥
কি খেণে দেখিলাম সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে পরাণ ফাঁফর॥
সহজে মুরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈলে চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধী॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগ-মন হরে।
আধ মুচকি হাসে কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদাই পরাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – সখী সম্বোধনে, ১৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালরূপ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙ্গা নয়ন নাচনে॥
কিরূপ দেখিলু সোই নাগর শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ান ফাঁপর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধী॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চান্দে।
বলরাম বলে তেই সদাই পরাণ কান্দে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি - মধ্যম একতালা॥

কিবা রাতি, কিবা দিন, কিছুই না জানি।
জাগিতে ঘুমাতে দেখি শ্যামরূপ খানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙ্গা নয়ন নাচনে॥
কিবা রূপ দেখিলুঁ সেই নাগর শেখর।
আঁখি ঝোরে মন কাঁদে পরাণ কাতর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈল চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধী॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসে কত সুধা ঝরে॥
কালো কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদা প্রাণ কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ১৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালরূপখানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিল রাঙ্গা নয়ন নাচনে॥
কিরূপ দেখিনু সই নাগর শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে নয়ানে ফাঁপর॥
সহজে মুরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈলে চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগমন হরে।
আধ মুচকি হাসি কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম বলে তেঞি সদাই প্রাণে কাঁদে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কিবা রাতি কিবা দিন কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপনে দেখি কালা রূপখানি॥
আপনার নাম মোর নাহি পড়ে মনে।
পরাণ হরিলে রাঙ্গা নয়ন-নাচনে॥
কি খেনে দেখিলাম সই নাগর-শেখর।
আঁখি ঝরে মন কাঁদে পরাণ ফাঁফর॥
সহজে মূরতি খানি বড়ই মধুর।
মরমে পশিয়া সে ধরম কৈলে চূর॥
আর তাহে কত কত ধরে বৈদগধি।
কুলেতে যতন করে কোন বা মুগধি॥
দেখিতে সে চাঁদমুখ জগ-মন হরে।
আধ মুচকি হাসে কত সুধা ঝরে॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চান্দে।
বলরাম বলে তেঞি সদাই পরাণ কাঁন্দে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কিবা সে মোহন বেশ ভুলাইলে সব দেশ
কিবা সে মোহন বেশ দেখিতে মুরছে দেশ

ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব, রূপানুরাগ,
৭৯৩ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৮৩ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর
পুথির ১৪।৩৩ সংখ্যক পদ।

॥ সিন্ধুড়া॥

কিবা সে মোহন-বেশ                ভুলাইলে সব দেশ
না রহে সতীর সতীপনা।
ভরমে দেখিলে তারে                 জনম ভরিয়া গো
ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
সই হাম কি করিলুঁ                  কেন বা সে বাঢ়াইলুঁ
কি শেল হানিল জানি বুকে।
জাতি কুল শীলে সই                    বজর পড়িল গো
কালারূপ দেখি চৌখে চৌখে॥
কিবা সে নয়ন-বাণ                    হিয়ায় হানিল গো
গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী                 আপনা রাখয়ে গো
আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই                   নিন্দ দূরে গেল গো
হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে।
উড়ু উড়ু আনছান                     ধক ধক করে প্রাণ
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মুরতি সে                      দেখিলে না রহে দে
বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরাম দাসে বোলে                  সে অঙ্গ পরশ হৈলে
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব,
আক্ষেপানুরাগ, ৯২১ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির
১৪০৩ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

কিবা সে মোহন বেশ             দেখিতে মুরুছে দেশ
না রহে সতীর সতীপনা।
ভরমে দেখিলে যারে                 জনম ভরিয়া সই
ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
কি করিলুঁ কি না হৈল            কেনে বা সে বাড়াইল
কি শেল হানিয়া গেল বুকে।
জাতি-কুল-শীল-শিরে                  বজর পড়িল সই
কানুরে দেখিয়া চৌখে চৌখে॥
খাইতে সোয়াস্তি নাই                 নিন্দ গেল দূরে গো
হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে।
উড়ু পুড়ু আনছান                    ধক ধক করে প্রাণ
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মুরতি সে                      দেখিলে না রহে দে
বাতাসে পাষাণ হয় পানি।
বলরাম দাসে বলে                   সে অঙ্গ পরশ হলে
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – সখী সম্বোধনে, ১৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কিবা সে মোহন বেশ,                 ভুলাইল সব দেশ,
না রহে সতীর সতীপণা।
ভরমে দেখিলে তারে,                 জনম ভরিয়া গো,
ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
সই হাম রি করিনু,                 কেন বা সে বাঢ়ায়নু,
কি শেল হানিল যেন বুকে।
জাতি কুল শীলে সই,                   বজর পড়িল গো,
কালারূপ দেখি চোখে চোখে॥
কিবা সে নয়ন বাণ,                   হিয়ায় হানিল গো,
গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী,                আপনা রাখয়ে গো,
আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই,                  নিদ দূরে গেল গো,
হিয়া দহ দহ মন ঝুরে।
উড়ু পড়ু আনচান,                    ধক ধক করে প্রাণ,
কি হৈল রহিতে নাহি ঘরে॥
রসের মূরতি সে,                     দেখিলে না রহে যে,
বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরাম দাসে বলে,                   সে অঙ্গ পরশ হলে,
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কিবা সে মোহন-বেশ, ভুলাইল সব দেশ, না রহে সতীর সতীপণা।
ভরমে দেখিলে তারে, জনম ভরিয়া গো ঝুরিয়া মজয়ে কত জনা॥
সই হাম রি করিনু, কেন বা সে বাঢ়ায়নু, কি শেল হানিল যেন বুকে।
জাতি কুল শীলে সই, বজর পড়িল গো কালারূপ দেখি চোখে চোখে॥
কিবা সে নয়ন বাণ, হিয়ায় হানিল গো, গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী, আপনা রাখয়ে গো আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিঁদ দূরে গেল গো, হিয়া দহ দহ মন ঝুরে।
উড়ু পড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ, কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মুরতি সে, দেখিলে না রহে যে, বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরামদাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে, প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৬-পৃষ্ঠায় ২য় বার এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কিবা সে মোহন-বেশ, দেখিতে মূরছে দেশ, না রহে সতীর সতীপণা।
ভরমে দেখিলে যারে, জনম ভরিয়া সই, ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
কি করিনু কি না হৈল, কেন রস বাড়াইল, কি শেল হানিল গেল বুকে।
জাতি-কুল-শীলে-শিরে, বজর পড়িল সই, কানুরে দেখিয়ে চোখে চোখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিঁদ গেল দূরে গো, হিয়া দহ দহ মন ঝুরে।
উড়ু পড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ, কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মুরতি সে, দেখিলে সে রহে যে, বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরামদাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে, প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৮-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কিবা সে মোহন বেশ,                 ভুলাইল সব দেশ,
না রহে সতীর সতীপণা।
ভরমে দেখিলে তারে,                 জনম ভরিয়া গো,
ঝুরিয়া মজয়ে কত জনা॥
সই হাম কি করিনু,                 কেন বা সে বাঢ়ায়নু,
কি শেল হানিল যেন বুকে।
জাতি কুল শীলে সই,                    বজর পড়িল গো,
কালা রূপ দেখি চোখে চোখে॥
কিবা সে নয়ন বাণ,                     হিয়ায় হানিল গো,
গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী                  আপনা রাখয়ে গো,
আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই,                  নিন্দ দূরে গেল গো,
হিয়া দহ দহ মন ঝুরে।
উড়ু পড়ু আনছান,                     ধক ধক করে প্রাণ,
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মূরতি সে,                      দেখিলে না রহে দে,
বাতাসে পাষাণ হয় পানি।
বলরাম দাসে বলে,                     সে অঙ্গ পরশ হলে
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১০-পৃষ্ঠায় ২য়
বার এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কিবা সে মোহন বেশ,                 দেখিতে মুরছে দেশ,
না রহে সতীর সতীপণা।
ভরমে দেখিলে যারে,                    জনম ভরিয়া সই,
ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
কি করিনু কি না হৈল,                 কেনে রস বাড়াউল,
কি শেল হানিয়া গেল বুকে।
জাতি-কুল-শীল-শিরে,                    বজর পড়িল সই,
কানুরে দেখিয়ে চোখে চোখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই,                    নিদ গেল দূরে গো,
হিয়া দহ দহ মন ঝুরে।
উড়ু পড়ু আনচান,                      ধক ধক করে প্রাণ,
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মুরতি সে,                      দেখিলে সে রহে দে,
বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরাম দাসে বলে,                      সে অঙ্গ পরশ হলে
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি এই গ্রন্থে দুইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কিবা সে মোহন বেশ, ভুলাইল সব দেশ
না রহে সতীর সতীপণা।
ভরমে দেখিলে তারে, জনম ভরিয়া গো
ঝুরিয়া মজয়ে কতজনা॥
সই হাম কি করিনু, কেন বা সে বাঢ়ায়নু
কি শেল হানিল যেন বুকে।
জাতি কুল শীলে সই, বজর পড়িল গো
কালারূপ দেখি চোখে চোখে॥
কিবা সে নয়ন বাণ, হিয়ায় হানিল গো
গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী, আপনা রাখয়ে গো
আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিদ দূরে গেল গো
হিয়া দহ দহ মন ঝুরে।
উড়ু উড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মূরতি সে, দেখিলে না রহে যে,
বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরাম দাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে,
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি এই গ্রন্থে দুইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কিবা সে মোহন বেশ, দেখিতে মুরছে দেশ,
না রহে সতীর সতীপণা।
ভরমে দেখিলে যারে, জনম ভরিয়া সই,
ঝুরিয়া মরয়ে কতজনা॥
কি করিনু কিনা হৈল, কেনে রস বাড়াউল
কি শেল হানিয়া গেল বুকে।
জাতি-কুল-শীল-শিরে, বজর পড়িল সই,
কালারূপ দেখিয়ে চোখে চোখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিদ গেল দূরে গো
হিয়া দহ দহ মন ঝুরে।
উড়ু উড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মূরতি সে, দেখিলে সে রহে দে,
বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরাম দাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে,
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রুপানুরাগ
॥ সিন্ধুড়া॥

কিবা সে মোহনবেশ                ভুলাইলে সব দেশ
না রহে সতীর সতীপনা।
ভরমে দেখিলে তারে                 জনম ভরিয়া গো
ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
সই হাম কি করিলুঁ                  কেনে বা সে বাঢ়াইলুঁ
কি শেল হানিল জানি বুকে।
জাতি কুল শীলে সই                    বজর পড়িল গো
কালারূপ দেখি চৌখে চৌখে॥
কিবা সে নয়নবাণ                     হিয়ায় হানিল গো
গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী                 আপনা রাখয়ে গো
আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই                  নিন্দ দূরে গেল গো
হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে।
উড়ু পড়ু আনছান                     ধক ধক করে প্রাণ
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মুরতি সে                      দেখিলে না রহে দে
বাতাসে পাষাণ হয় পানি।
বলরাম দাসে বোলে                  সে অঙ্গ পরশ হৈলে
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কিবা সে মোহন-বেশ                ভুলাইলে সব দেশ
না রহে সতীর সতীপনা।
ভরমে দেখিলে তারে                 জনম ভরিয়া গো
ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
সই হাম কি করিলুঁ                  কেন বা সে বাঢ়াইলুঁ
কি শেল হানিল যেন বুকে।
জাতি কুল শীলে সই                    বজর পড়িল গো
কালারূপ দেখি চৌখে চৌখে॥
কিবা সে নয়ন বাণ                    হিয়ায় হানিল গো
গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী                 আপনা রাখয়ে গো
আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই                   নিন্দ দূরে গেল গো
হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে।
উড়ু পড়ু আনছান                      ধক ধক করে প্রাণ
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মুরতি সে                      দেখিলে না রহে দে
বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরাম দাসে বোলে                  সে অঙ্গ পরশ হৈলে
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কিবা সে মোহন বেশ                 ভুলাইল সব দেশ
না রহে সতীর সতীপনা।
ভরমে দেখিলে তারে                 জনম ভরিয়া গো
ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
সই হাম কি করিলুঁ                  কেন বা সে বাঢ়াইলুঁ
কি শেল হানিল জানি বুকে।
জাতি কুল শীলে সই                    বজর পড়িল গো
কালোরূপ দেখি চোখে চোখে॥
কিবা সে নয়ন বাণ                     হিয়ায় হানিল গো
গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী                  আপনা রাখয়ে গো
আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই                   নিন্দ দূরে গেল গো
হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে।
উড়ু উড়ু আনছান                      ধক ধক করে প্রাণ
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মূরতি সে                      দেখিলে না রহে দে
বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরাম দাসে বোলে                   সে অঙ্গ পরশ হৈলে
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কিবা সে মোহন বেশ                ভুলাইল সব দেশ
না রহে সতীর সতীপনা।
ভরমে দেখিলে তারে                 জনম ভরিয়া গো
ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥
সই হাম কি করিলুঁ                  কেন বাসে বাঢ়াইলুঁ
কি শেল হানিল জানি বুকে।
জাতি কুল শীলে সই                  বজর পড়িল গো
কালোরূপ দেখি চোখে চোখে॥
কিবা সে নয়ন বাণ                   হিয়ায় হানিল গো
গরল ভরিয়া রৈল বুকে।
কোন বা পামরী নারী                 আপনা রাখয়ে গো
আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥
খাইতে সোয়াস্ত নাই                  নিন্দ দূরে গেল গো
হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে।
উড়ু উড়ু আনছান                    ধক ধক করে প্রাণ
কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥
রসের মূরতি সে                      দেখিলে না রহে দে
বাতাসে পাষাণ হয় পানী।
বলরাম দাসে বোলে                 সে অঙ্গ পরশ হৈলে
প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যারে মুঞি না দেখোঁ নয়ানে
যারে মুই না দেখি নয়ানে

ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯০৮ পদসংখ্যা।

ভাদরে দেখিনু নট চাঁদের ইত্যাদি গেয়ম্।
॥ সুহই॥

যারে মুই না দেখোঁ নয়ানে।
কলঙ্ক তোলায় তার সনে॥
নগরে আছয়ে কত নারী।
কে না চাহে শ্যাম পানে ফিরি॥
কে না পিরিতি নাহি করে।
গুরুজন নাহি কার ঘরে॥
মোর হৈল সব বিপরীত।
জগতে করিলে বেয়াপিত॥
যাহা নাহি দেখয়ে নয়নে।
তাহা যেন দেখিল এখনে॥
বলরাম কহে পাপ-লোকে।
মিছা কথা করে পরতেকে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ-আত্মপ্রতি, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যারে মুঞি না দেখোঁ নয়ানে।
কলঙ্ক তোলয়ে তার সনে॥
নগরে আছয়ে কত নারী।
কেনা চাহে শ্যাম পানে ফিরি॥
কেনা পিরীতি নাহি করে।
গুরুজন নাহি কার ঘরে॥
মোর হইল সব বিপরীত।
জগতে করিল বেয়াপিত॥
যাহা নাহি দেখয়ে নয়নে।
তাহা যেন দেখিলুঁ এখানে॥
বলরাম কহে পাপ লোকে।
মিছা কথা কহে পরতেকে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যারে মুই না দেখি নয়ানে।
কলঙ্ক তোলায়ে তার সনে॥
নগরে আছয়ে কত নারী।
কে না চাহে শ্যাম পানে ফিরি॥
কে না পিরীতি নাহি করে।
গুরুজন নাহি কার ঘরে॥
মোর হৈল সব বিপরীত।
জগতে করিল বেয়াপিত॥
যাহা নাহি দেখয়ে নয়নে।
তাহা যেন দেখিল এখানে॥
বলরাম কহে পাপ লোকে।
মিছা কথা কহে পরতেকে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যারে মুই না দেখি নয়ানে।
কলঙ্ক তোলায়ে তার সনে॥
নগরে আছয়ে কত নারী।
কেনা চাহে শ্যাম পানে ফিরি॥
কে না পিরীতি নাহি করে।
গুরুজন নাহি কার ঘরে॥
মোর হইল সব বিপরীত।
জগতে করিল বেয়াপিত॥
যাহা নাহি দেখয়ে নয়নে।
তাহা যেন দেখিল এখানে॥
বলরাম কহে পাপ লোকে।
মিছা কথা কহে পরতেকে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যারে মুই না দেখোঁ নয়ানে।
কলঙ্ক তোলায়ে তার সনে॥
নগরে আছয়ে কত নারী।
কে না চাহে শ্যাম পানে ফিরি॥
কেনা পিরীতি নাহি করে।
গুরুজন নাহি কার ঘরে॥
মোর হইল সব বিপরীত।
জগতে করিল বেয়াপিত॥
যাহা নাহি দেখয়ে নয়নে।
তাহা যেন দেখিল এখানে॥
বলরাম কহে পাপ লোকে।
মিছা কথা কহে পরতেকে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই॥

যারে মুঞি না দেখোঁ নয়ানে।
কলঙ্ক তোলায় তার সনে॥
নগরে আছয়ে কত নারী।
কে না চাহে শ্যাম পানে ফিরি॥
কে না পিরীতি নাহি করে।
গুরুজন নাহি কার ঘরে॥
মোর হৈল সব বিপরীত।
জগতে করিলে বেয়াপিত॥
যাহা নাহি দেখয়ে নয়নে।
তাহা যেন দেখিল এখনে॥
বলরাম কহে পাপ লোকে।
মিছা কথা কহে পরতেকে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যারে মুঞি না দেখোঁ নয়ানে।
কলঙ্ক তোলায় তার সনে॥
নগরে আছয়ে কত নারী।
কে না চাহে শ্যাম পানে ফিরি॥
কে না পিরিতি নাহি করে।
গুরুজন নাহি কার ঘরে॥
মোর হৈল সব বিপরীত।
জগতে করিলে বেয়াপিত॥
যাহা নাহি দেখয়ে নয়নে।
তাহা যেন দেখিল এখনে॥
বলরাম কহে পাপ-লোকে।
মিছা কথা কহে পরতেকে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুটি ভুরু কামের কামান
দুই ভুরু কামের কামান

ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১৬৭-পৃষ্ঠা।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ পুন শ্রীরাগ॥

দুটি ভুরু কামের কামান। নষ্ট কৈল কুল অভিমান॥
কত ছান্দে নয়ান ঢুলায়। মনের সনে পরাণ দোলায়॥
সে মোহন নাগর কিশোর। মরমে পশিয়ে রৈল মোর॥ ধ্রু॥
কত না নাগরপনা জানে। চাহনি সে আধনয়ানে॥
আধ মুচকি কথা কয়। অবলার প্রাণে কিতা সয়॥
কে না কৈল মনোহর বেশ। সেই সে মজাইল সব দেশ॥
তিরীবধে তারে নাহি ভয়। বলরামের মনে হেন লয়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮),
২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব, রূপানুরাগ, ৭৮২ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৭২ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর
পুথির ৩।৩৫ সংখ্যক পদ।

॥ সুহই॥

দুই ভুরু কামের কামান।
নঠ কৈল কুল-অভিমান॥
কত ছাঁদে নয়ান ঢুলায়।
মন সনে পরাণ দোলায়॥
সে মোহন নাগর কিশোর।
মরমে পশিয়া রৈল মোর॥
কত না নাগরপনা জানে।
নিরখয়ে আধ নয়ানে॥
আধ মুচকি কথা কয়।
অবলা-পরাণে কিতা সয়॥
কে না কৈল মনোহর বেশ।
সেই সে মজাইল সব দেশ॥
তিরি-বধে তার নাহি ভয়।
বলরামের মনে হেন লয়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ-আত্মপ্রতি, ১৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

দুই ভুরু কামের কামান।
নঠ কৈল কুল অভিমান॥
কত ছাঁদে নয়ান ঢুলায়।
মন সনে পরাণ দোলায়॥
সে মোহন নাগর কিশোর।
মরমে পশিয়া রৈল মোর॥
কত না নাগরপনা জানে।
নিরখয়ে আধ নয়ানে॥
আধ মুচকি কথা কয়।
অবলা পরাণে কি তা সয়॥
কেনা কৈল মনোহর বেশ।
সেই সে মজাইল সব দেশ॥
তিরি বধে তার নাহি ভয়।
বলরামের মনে হেন লয়॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

দুই ভুরু কামের কামান। নট কৈল কুল-অভিমান॥
কত ছাঁদে নয়ান ঢুলায়। মন সনে পরাণ দোলায়॥
সে মোহন নাগর কিশোর। পরমে পশিয়া রৈল মোর॥
কত না নাগরপনা জানে। নিরখয়ে আধ নয়ানে॥
আধ মুচকি কথা কয়। অবলা পরাণে কি তা সয়॥
কে না কৈল মনোহর বেশ। সেই সে মজাইল সব দেশ॥
নারী-বধে তার নাহি ভয়। বলরামের মনে হেন লয়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

দুই ভুরু কামের কামান।
নঠ কৈল কুল-অভিমান॥
কত ছাঁদে নয়ান ঢুলায়।
মন সনে পরাণ দোলায়॥
সে মোহন নাগর কিশোর।
মরমে পশিয়া রৈল মোর॥
কত না নাগরপনা জানে।
নিরখয়ে আধ নয়ানে॥
আধ মুচকি কথা কয়।
অবলা পরাণে কি তা সয়॥
কে না কৈল মনোহর বেশ।
সেই সে মজাইল সব দেশ॥
নারী-বধে তার নাহি ভয়।
বলরামের মনে হেন লয়॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

দুই ভুরু কামের কামান।
নট কৈল কুল-অভিমান॥
কত ছাঁদে নয়ান ঢুলায়।
মন সনে পরাণ দোলায়॥
সে মোহন নাগর কিশোর।
মরমে পশিয়া রৈল মোর॥
কত না নাগরপনা জানে।
নিরখয়ে আধ নয়ানে॥
আধ মুচকি কথা কয়।
অবলা পরাণে তা কি সয়॥
কে না কৈল মনোহর বেশ।
সেই সে মজাইল সব দেশ॥
নারী-বধে তার নাহি ভয়।
বলরামের মনে হেন লয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রুপানুরাগ
॥ সুহই॥

দুই ভুরু কামের কামান।
নট কৈল কুলঅভিমান॥
কত ছাঁদে নয়ান ঢুলায়।
মন সনে পরাণ দোলায়॥
সো মোহন নাগর কিশোর।
মরমে পশিয়া রৈল মোর॥
কত না নাগরপনা জানে।
নিরখয়ে আধ নয়ানে॥
আধ মুচকি কথা কয়।
অবলাপরাণে কি তা সয়॥
কে না কৈল মনোহর বেশ।
সেই সে মজাইল সব দেশ॥
তিরিবধে তার নাহি ভয়।
বলরামের মনে হেন লয়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

দুই ভুরু কামের কামান।
নঠ কৈল কুল-অভিমান॥
কত ছাঁদে নয়ান ঢুলায়।
মন সনে পরাণ দোলায়॥
সে মোহন নাগর কিশোর।
মরমে পশিয়া রৈল মোর॥
কত না নাগরপনা জানে।
নিরখয়ে আধ নয়ানে॥
আধ মুচকি কথা কয়।
অবলা-পরাণে কিতা সয়॥
কে না কৈল মনোহর বেশ।
সেই সে মজাইল সব দেশ॥
তিরি-বধে তার নাহি ভয়।
বলরামের মনে হেন লয়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রসের ভরে অঙ্গ না ধরে
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩
খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ২২৫-পৃষ্ঠা।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ পুনঃ শ্রীরাগ॥

রসের ভরে          অঙ্গ না ধরে          হেলিয়া পড়িছে বায়।
অঙ্গ মোড়া দিয়া          ত্রিভঙ্গ হইয়া          ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥
রসিয়া নাগর          দেখিয়া মেলু          কি শেল রহল মোরে।
গুরু পরিজন          লাগে উচাটন          তারে সে পরাণ ঝুরে॥
আঁখির ঠারে          বুক বিদরে          ও বড় বিষম বাণ।
কুলবতী সতী          পাপিনী যুবতী          রাখুক কুলের মান॥
হিয়া জরজর          পরাণ ফাফর          দারুণ বাঁশীর স্বরে।
ফুটিল হরিণী          লোটায় ধরণী          কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥
মধুর বোলে          পরাণ দোলে          তাহে পরমাদ হাস।
বলরাম কহে          এবে সে নিচয়          ছাড়িল ঘরের আশ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব,
রূপানুরাগ, ৭৮১ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৭১
ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ৩।৩৯ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

রসের ভরে                          অঙ্গ না ধরে
হেলিয়া পড়িছে বায়।
অঙ্গ মোড়া দিয়া                    ত্রিভঙ্গ হইয়া
ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥
রসিয়া নাগর                       হেরিয়া মরিলুঁ
কি শেল বাজিল মোরে।
গুরু পরিজন                        লাগে উচাটন
তারে সে পরাণ ঝুরে॥
আঁখির ঠারে                        বুক বিদারে
ও বড় বিষম বাণ।
কুলবতী সতী                      পাপিনী যুবতি
রাখুক কুলের মান॥
হিয়া জরজর                        পরাণ ফাঁফর
দারুণ মুরলী-স্বরে।
ফুটিল হরিণী                       লোটায় ধরণী
কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥
মধুর বোলে                         পরাণ দোলে
তাহে পরমাদ হাস।
বলরাম কহে                     এবে সে নিচয়ে
ছাড়িলুঁ ঘরের আশ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রসের ভরে,                          অঙ্গ না ধরে,
হেলিয়া পড়িছে বায়।
অঙ্গ মোড়া দিয়া,                    ত্রিভঙ্গ হইয়া,
ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥
রসিক নাগর,                        হেরিয়া মরিলুঁ,
কি শেল বাজিল মোরে।
গুরু পরিজন,                         লাগে উচাটন,
তরাসে পরাণ ঝরে॥
আঁখির ঠারে,                          বুক বিদারে,
ও বড় বিষম বাণ।
কুলবতী সতী,                      পাপিনী যুবতী,
রাখুক কুলের মান॥
হিয়া জ্বর জর,                       পরাণ ফাঁফর,
দারুণ মুরলী স্বরে।
কুটিল হরিণী,                         লোটায় ধরণী,
কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥
মধুর বোলে,                           পরাণ দোলে
তাহে পরমাদ হাস।
বলরাম কহে,                       এবে সে নিশ্চয়,
ছাড়িল ঘরের আশ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রসের ভরে অঙ্গ না ধরে, হেলিয়া পড়িছে বায়।
অঙ্গ মোড়া দিয়া, ত্রিভঙ্গ হইয়া, ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥
রসিক নাগর, হেরিয়া মরিনু, কি শেল বাজিল মোরে।
গুরু পরিজন, লাগে উচাটন, তরাসে পরাণ ঝুরে॥
আঁখির ঠারে, বুক বিদরে, ও বড় বিষম বাণ।
কুলবতী সতী, পাপিনী যুবতি, রাখলু কুলের মান॥
হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁফর, দারুণ মুরলী স্বরে।
কুটিল হরিণী, লোটায় ধরণী, কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥
মধুর বোলে, পরাণ দোলে, তাহে পরমাদ হাস।
বলরাম কহে, এবে সে নিশ্চয়, ছাড়িল ঘরের আশ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৬-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রসের ভরে,                           অঙ্গ না ধরে,
হেলিয়া পড়িছে বায়।
অঙ্গ মোড়া দিয়া,                     ত্রিভঙ্গ হইয়া,
ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥
রসিক নাগর,                        হেরিয়া মরিনু,
কি শেল বাজিল মোরে।
গুরু পরিজন,                          লাগে উচাটন,
তরাসে পরাণ ঝুরে॥
আঁখির ঠারে,                           বুক বিদারে,
ও বড় বিষম বাণ।
কুলবতী সতী,                       পাপিনী যুবতী,
রাখলুঁ কুলের মান॥
হিয়া জর জর,                       পরাণ ফাঁফর,
দারুণ মুরলী স্বরে।
কুটিল হরিণী,                         লোটায় ধরণী,
কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥
মধুর বোলে,                           পরাণ দোলে
তাহে পরমাদ হাস।
বলরাম কহে,                       এবে সে নিশ্চয়ে,
ছাড়িল ঘরের আশ॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রসের ভরে                          অঙ্গ না ধরে
হেলিয়া পড়িছে বায়।
অঙ্গ মোড়া দিয়া                     ত্রিভঙ্গ হইয়া
ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥
রসিয়া নাগর                        হেরিয়া মরিনু
কি শেল বাজিল মোরে।
গুরু পরিজন                          লাগে উচাটন
তরাসে পরাণ ঝুরে॥
আঁখির ঠারে                          বুক বিদারে
ও বড় বিষম বাণ।
কুলবতী সতী,                       পাপিনী যুবতি
রাখুক কুলের মান॥
হিয়া জর জর,                       পরাণ ফাঁপর
দারুণ মুরলী-স্বরে।
কুটিল হরিণী                         লোটায় ধরণী
কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥
মধুর বোলে                          পরাণ দোলে
তাহে পরমাদ হাস।
বলরাম কহে                     এবে সে নিশ্চয়ে
ছাড়িল ঘরের আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অকারণ মান
॥ শ্রীরাগ॥

রসের ভরে                          অঙ্গ না ধরে
হেলিয়া পড়িছে বায়।
অঙ্গ মোড়া দিয়া                    ত্রিভঙ্গ হইয়া
ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥
রসিক-নাগর                        হেরিয়া মরিলুঁ
কি শেল বাজিল মোরে।
গুরু পরিজন                          লাগে উচাটন
আকুল পরাণ ঝুরে॥
আঁখির ঠারে                          বুক বিদারে
ও বড় বিষম বাণ।
কুলবতী সতী                        পাপিনী যুবতী
রাখুক কুলের মান॥
হিয়া জরজর                       পরাণ ফাঁফর,
দারুণ মুরলীস্বরে।
ফুটিল হরিণী                       লোটায় ধরণী
কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥
মধুর বোলে                          পরাণ দোলে
তাহে পরমাদ হাস।
বলরাম কহে                        এবে সে নিচয়ে
ছাড়িলুঁ ঘরের আশ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

রসের ভরে                           অঙ্গ না ধরে
হেলিয়া পড়িছে বায়।
অঙ্গ মোড়া দিয়া                     ত্রিভঙ্গ হইয়া
ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥
রসিক-নাগর                        হেরিয়া মরিলুঁ
কি শেল বাজিল মোরে।
গুরু পরিজন                         লাগে উচাটন
তরে  সে পরাণ ঝুরে॥
আঁখির ঠারে                         বুক বিদারে
ও বড় বিষম বাণ।
কুলবতী সতী                      পাপিনী যুবতী
রাখুক কুলের মান॥
হিয়া জরজর                       পরাণ ফাঁফর,
দারুণ মুরলী স্বরে।
কুটিল হরিণী                        লোটায় ধরণী
কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥
মধুর বোলে                         পরাণ দোলে
তাহে পরমাদ হাস।
বলরাম কহে                     এবে সে নিচয়ে
ছাড়িলুঁ ঘরের আশ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নয়ান কোণের বাণে হিয়ায় হানিলরে
নয়ানের বাণ হিয়ায় হানিলে
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব,
আক্ষেপানুরাগ, ৯২৮ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৪০৯ সংখ্যক পদ।

॥ তথারাগ॥

নয়ান-কোণের বাণে                    হিয়ায় হানিলে রে
সেই হইল পিঠের পার।
জ্বালিয়া তিন কোণের খড়,           দিলুঁ ও সুখের মুখে
তবে আমার দুখের নাহি পার॥
রসের আবেশে                          অঙ্গ মোড়া দিয়া
হাসিয়া কথাটি কয়।
কত ভঙ্গিমায়                              ও ভুরু নাচায়
তাতে কি পরাণ রয়॥
বাঁশীর ফুকে                                বুকের ভিতরে
ফুটিয়া আগুন জ্বলে।
মধুর বচনে                               হিয়ার হিলোলে
পরাণ-পুতলী দোলে॥
হিয়া জর জর                               পরাণ ফাঁফর
দেখিয়া ও মুখ চান্দ।
বলরাম-মনে                                 আন নাহি লয়
সবে প্রাণ গোকুলচান্দ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ-আত্মপ্রতি, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

নয়ান কোণের বাণে,                    হিয়ায় হানিলরে,
সেই হইল পিঠের পার।
জ্বালিয়া তিন কোণের খড়,         দিলুঁ ও সুখের মুখে,
তবু আমার দুখের নাহি পার॥
রসের আবেশে,                        অঙ্গ মোড়া দিয়া,
হাসিয়া কথাটি কয়।
কত ভঙ্গিমায়,                            ও ভুরু নাচায়,
তাতে কি পরাণ রয়॥
বাঁশীর ফুকে,                             বুকের ভিতরে,
ফুটিয়া আগুন জ্বালে।
মধুর বচনে,                               হিয়ার হিলনে,
পরাণ পুতলি দোলে॥
হিয়া জর জর,                            পরাণ ফাঁফর,
দেখিয়া ও মুখচন্দ্র।
বলরাম মনে,                             আন নাহি লয়,
সবে প্রাণ গোকুল চন্দ্র॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বারুণ বরাড়ী॥

নয়ান-কোণের বাণে, হিয়ায় হানিল রে, সেই হইল পিঠের পার।
জানিয়া তিন কোণের খড়, দিনু ও সুখের মুখে, তবু আমার দুখের নাহি পার॥
রসের আবেশে, অঙ্গ মোড়া দিয়া, হাসিয়া কথাটী কয়।
কত ভঙ্গিমায়, ও ভূরু নাচায়, তাতে কি পরাণ রয়॥
বাঁশীর ফুকে, বুকের ভিতরে, ফুটিয়া আগুন জ্বলে।
মধুর বচনে, হিয়ার হিলনে, পরাণ-পুতলী দোলে॥
হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁফর, দেখিয়াও মুখচন্দ্র।
বলরাম মনে, আন নাহি লয়, সবে প্রাণ গোকুলচন্দ্র॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১১-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নয়ান-কোণের বাণে,                    হিয়ায় হানিল রে,
সেই হইল পিঠের পার।
জানিয়া তিন কোণের খড়,            দিনু ওসুখের মুখে,
তবু আমার দুখের নাহি পার॥
রসের আবেশে,                          অঙ্গ মোড়া দিয়া,
হাসিয়া কথাটি কয়।
কত ভঙ্গিমায়,                               ও ভুরু নাচায়,
তাতে কি পরাণ রয়॥
বাঁশীর ফুকে,                                বুকের ভিতরে,
ফুটিয়া আগুন জ্বলে।
মধুর বচনে,                                 হিয়ার হিলনে,
পরাণ-পুতলী দোলে॥
হিয়া জর জর,                              পরাণ ফাঁপর,
দেখিয়া ও-মুখচন্দ্র।
বলরাম মনে,                                আন নাহি লয়,
সবে প্রাণ গোকুলচন্দ্র॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নয়ান-কোণের বাণে,                    হিয়ায় হানিলরে,
সেই হইল পিঠের পার।
জ্বালিয়া তিন কোণের খড়,        দিনু ও সুখের মুখে,
তবু আমার দুখের নাহি পার॥
রসের আবেশে,                        অঙ্গ মোড়া দিয়া,
হাসিয়া কথাটি কয়।
কত ভঙ্গিমায়,                             ও ভুরু নাচায়,
তাতে কি পরাণ রয়॥
বাঁশীর ফুকে,                             বুকের ভিতরে,
ফুটিয়া আগুন জ্বলে।
মধুর বচনে,                                হিয়ার হিলনে,
পরাণ-পুতলি দোলে॥
হিয়া জর জর,                              পরাণ ফাঁপর,
দেখিয়া ও-মুখচন্দ্র।
বলরাম মনে,                                আন নাহি লয়,
সবে প্রাণ গোকুলচন্দ্র॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তথারাগ॥

নয়ানের বাণ                            হিয়ায় হানিলে
হইল পিঠের পার।
কোণের খড় জ্বালি                        দিনু সুখ মুখ
দুখের নাহি পার॥
রসের আবেশে                       অঙ্গ মোড়া দিয়া
হাসিয়া কথাটি কয়।
কত ভঙ্গিমায়                            ও ভুরু নাচায়
তাতে কি পরাণ রয়॥
বাঁশীর ফুকে                             বুকের ভিতরে
তুষের আগুন জ্বলে।
মধুর বচনে                              হিয়ার হিলোলে
পরাণ পুতলী দোলে॥
হিয়া জর জর                             পরাণ ফাঁফর
দেখিয়া ও মুখচান্দ।
বলরাম-মনে                               আন নাহি লয়
সবে প্রাণ গোকুল চান্দ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৮১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

নয়ান-কোণের বাণে                     হিয়ায় হানিল রে
সেই হইল পিঠের পার।
জ্বালিয়া তিন কোণের খড়,            দিলুঁ ও সুখের মুখে
তবে আমার দুখের নাহি পার॥
রসের আবেশে                            অঙ্গ মোড়া দিয়া
হাসিয়া কথাটি কয়।
কত ভঙ্গিমায়                                ও ভুরু নাচায়
তাতে কি পরাণ রয়॥
বাঁশীর ফুকে                                বুকের ভিতরে
ফুটিয়া আগুন জ্বলে।
মধুর বচনে                                 হিয়ার হিলোলে
পরাণ-পুতলী দোলে॥
হিয়া জর জর                                 পরাণ ফাঁফর
দেখিয়া ও মুখ চান্দ।
বলরাম-মনে                                 আন নাহি লয়
সবে প্রাণ গোকুল-চান্দ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঈষত হাসিতে কত অমিয়া উথলে
ঈষৎ হাসিতে কত অমিয়া উথলে

ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১৬৮-পৃষ্ঠা।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ পুনঃ তোড়ি॥

ঈষত হাসিতে কত অমিয়া উথলে। ধরম করম হরে আধ আধ বোলে॥
রূপ দেখি কি শেল করিলু। বল করি জাতি প্রাণ পর হাতে দিলু॥ ধ্রু॥
নানা ফুলে চাচর চুলে চূড়ার কাঁছনি। কত না ভঙ্গিমা দুটি নয়ান-নাচনি॥
কিসের লোকের লাজ কিবা গুরুলাজে। ও মধুর মূরতি লাগিল হিয়া মাঝে॥
অলকা আবৃত মুখ শ্রবণে কুণ্ডল। ঝলমল ঝলমল করে তিলক উজ্জ্বল॥
চৌদিগে ফাগু বিন্দু মাঝে চন্দন চান্দ। বলরাম বোলে ওই সে পিরীতের ফান্দ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮),
২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব, রূপানুরাগ, ৭৮৩ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৭৩ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর
পুথির ৩।৩৭ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী তুড়ী॥

ঈষত হাসিতে কত অমিয়া উথলে।
ধরম করম হরে আধ আধ বোলে॥
রূপ দেখি কি না সে করিলুঁ।
বল করি জাতি প্রাণ পর-হাতে দিলুঁ॥ ধ্রু॥
নানা ফুলে চাঁচর চুলে চূড়ার কাঁচনি।
কত না ভঙ্গিমা দুটি নয়ান-নাচনি॥
কিসের লোকের ভয় কিবা গুরু-লাজে।
মধুর মুরতি সে লাগিল হিয়ার মাঝে॥
ফাগু বিন্দু বিন্দু মাঝে চন্দনের চাঁদ।
কহে বলরাম ওই পিরিতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ-আত্মপ্রতি, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

ঈষত হাসিতে কত অমিয়া উথলে।
ধরম করম হরে আধ আধ বোলে॥
রূপ দেখি কিনা সে করিলুঁ।
বল করি জাতি প্রাণ পর হাতে দিলুঁ॥ ধ্রু।
নানা ফুলে চাঁচর চুলে চূড়ার কাঁছনি।
কত না ভঙ্গিমা দুটি নয়ান নাচনি॥
কিসের লোকের ভয় কিবা গুরু লাজে।
মধুর মূরতী সে লাগলি হিয়ার মাঝে॥
ফাগু বিন্দু বিন্দু মাঝে চন্দনের চাঁদ।
কহে বলরাম এই পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধনশী তুড়ী॥

ঈষত হাসিতে কত অমিয়া উথলে।
ধরম করম হরে আধ আধ বোলে॥
রূপ দেখি কিনা সে করিনু।
বল করি জাতি প্রাণ পর-হাতে দিনু॥
নানা ফুলে চাঁচর চুলে চূড়ার কাঁচনী।
কত না ভঙ্গিমা গুটি নয়ান নাচনি॥
কিসের ভয় কিবা গুরুজন লাজে।
মধুর মূরতী সে লাগিল হিয়ার মাঝে॥
ফাগু বিন্দু বিন্দু মাঝে চন্দনের চাঁদ।
কহে বলরাম এই পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী বা তুড়ী॥

ঈষত হাসিতে কত অমিয়া উথলে।
ধরম করম হরে আধ আধ বোলে॥
রূপ দেখি কি না সে করিনু।
বল করি জাতি প্রাণ পর-হাতে দিনু॥
নানা ফুলে চাঁচর চুলে চূড়ার কাঁচনী।
কত না ভঙ্গিমা দুটি নয়ান নাচনি॥
কিসের ভয় কিবা গুরুজন লাজে।
মধুর মুরতি সে লাগিল হিয়ার মাঝে॥
ফাগু বিন্দু বিন্দু মাঝে চন্দনের চাঁদ।
কহে বলরাম এই পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী বা তুড়ী॥

ঈষৎ হাসিতে কত অমিয়া উথলে।
ধরম করম হবে আধ আধ বোলে॥
রূপ দেখি কি না সে করিনু।
বল করি জাতি প্রাণ পরহাতে দিনু॥
নানা ফুলে চাঁচর চুলে চূড়ার কাঁচনী।
কত না ভঙ্গিমা দুটি নয়ান নাচনি॥
কিসের ভয় কিবা গুরুজন লাজে।
মধুর মূরতি সে লাগিল হিয়াহ মাঝে॥
ফাগু বিন্দু বিন্দু মাঝে চন্দনের চাঁদ।
কহে বলরাম ইহা পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

রুপানুরাগ
॥ ধানশী॥

ঈষত হাসিতে কত অমিয়া উথলে।
ধরম করম হরে আধ আধ বোলে॥
রূপ দেখি কি না সে করিলুঁ।
বল করি জাতি প্রাণ পর হাতে দিলুঁ॥
নানা ফুলে চাঁচর চুলে চূড়ার কাঁচনি।
কত না ভঙ্গিমা দুটি নয়ান নাচনি॥
কিসের লোকের ভয় কিবা গুরুলাজে।
মধুর মূরতি সে লাগিল হিয়ার মাঝে॥
ফাগু বিন্দু বিন্দু মাঝে চন্দনের চাঁদ।
কহে বলরাম ওই পিরীতের ফাঁদ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ঈষত হাসিতে কত অমিয়া উথলে।
ধরম করম হরে আধ আধ বোলে॥
রূপ দেখি কি না সে করিলুঁ।
বল করি জাতি প্রাণ পর-হাতে দিলুঁ॥
নানা ফুলে চাঁচর চুলে চূড়ার কাঁচনি।
কত না ভঙ্গিমা দুটি নয়ান নাচনি॥
কিসের লোকের ভয় কিবা গুরু লাজে।
মধুর মূরতি সে লাগিল হিয়ার মাঝে॥
ফাগু বিন্দু বিন্দু মাঝে চন্দনের চাঁদ।
কহে বলরাম ওই পিরিতের ফাঁদ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ছাড়ে ছাড়ুক পতি কি ঘর বসতি
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব,
আক্ষেপানুরাগ, ৯৩২ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৪১৩ ও কমলাকান্ত দাসের
পদরত্নাকর পুথির ১৮।২৬ সংখ্যক পদ।

॥ সিন্ধুড়া॥

ছাড়ে ছাড়ুক পতি                       কি ঘর-বসতি
কিবা বা করিবে বাপ মায়।
জাতি জীবন ধন                          এ রূপ যৌবন
নিছিয়া ফেলিব শ্যাম-পায়॥
কহিলুঁ নিদান                        আর না রহে প্রাণ
শ্যাম সুনাগর বিনে।
কুলের ধরম                                 ভরম সরম
ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥
সমুখে রাখিয়া                            নয়ানে দেখিমু
লইয়া থাকিমু চৌখে চৌখে।
হার করিয়া                              গলায় গাঁথিয়া
লইয়া থাকিমু বুকে॥
চিতে উঠে যত                         বেশ করি তত
অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাথ।
অনেক দিনের                             সাধ পূরাইব
কোলে করি প্রাণনাথ॥
দেখিয়া দেখিয়া                         মুখানি মাজিব
তাম্বুল দিব চাঁদমুখে।
বলরামের কথা                   বন্ধু লৈয়া যাব যথা
রাধা বলি কেহ নাহি ডাকে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ-আত্মপ্রতি, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ছাড়ে ছাড়ুক পতি,                কি ঘর বসতি,
কিবা বা করিবে বাপ মায়।
জাতি জীবন ধন,                    এরূপ যৌবন,
নিছিয়া ফেলিব শ্যাম পায়॥
কহিলুঁ নিদান,                    আর না রহে প্রাণ,
শ্যাম সুনাগর বিনে।
কুলের ধরম,                           ভরম সরম,
ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥
সমুখে রাখিয়া,                       নয়ানে দেখিব,
লইয়া থাকিমু চোখে চোখে।
হার করিয়া,                          গলায় গাঁথিয়া,
লইয়া থাকিমু বুকে॥
চিতে উঠে যত,                     বেশ করি তত,
অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাত।
অনেক দিনের                          সাধ পূরাইব,
কোলে করি প্রাণনাথ॥
দেখিয়া দেখিয়া,                      মুখানি মাজিব,
তাম্বুল দিব চাঁদ মুখে।
বলরামের কথা,                বন্ধু লৈয়া যাব তথা,
রাধা বলি কেহ নাহি ডাকে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

ছাড়ে ছাড়ুক পতি, কি ঘর বসতি, কিবা বা করিবে বাপ মায়।
জাতি জীবন ধন, এ রূপ যৌবন, নিছনি ফেলিব শ্যাম পায়॥
কহিনু নিদান, আর না রহে প্রাণ, শ্যাম সুনাগর বিনে।
কুলের ধরম, ভরম সরম, ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥
সমুখে রাখিয়া, নয়ানে দেখিব, লইয়া থাকিব চোখে।
হার করিয়া, গলায় গাঁথিয়া, লইয়া থাকিব বুকে॥
চিতে উঠে যত, বেশ করি তত, অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাত।
অনেক দিনের, সাধ পূরাইব, কোলে করি প্রাণনাথ॥
দেখিয়া দেখিয়া, মুখানি মাজিব, তাম্বুল দিব চাঁদমুখে।
বলরামের কথা, বন্ধু লৈয়া যাব তথা, রাধা বলি কেহ নাহি ডাকে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সিন্ধুড়া॥

ছাড়ে ছাড়ুক পতি                     কি ঘর বসতি
কি করিবে বাপ মায়।
জাতি প্রাণ ধন                          এ রূপ যৌবন
নিছিব শ্যামের পায়॥
কহিলুঁ নিদান                            না রহে পরাণ
শ্যাম সুনাগর বিনে।
কুলের ধরম                               ভরম সরম
ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥
সমুখে রাখিয়া                           নয়ানে দেখিমু
থাকিমু চৌখে চৌখে।
হার যে করিয়া                           গলায় গাঁথিয়া
লইয়া থাকিমু বুকে॥
চিতে উঠে যত                         বেশ করি তত
অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাত।
অনেক দিনের                             সাধ পূরাইব
কোলে করি প্রাণনাথ॥
দেখিয়া দেখিয়া                         মুখানি মাজিব
তাম্বুল দিই চাঁদমুখে।
বলরামের কথা                         বন্ধু লব তথা
রাধারে যথা না ডাকে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

ছাড়ে ছাড়ুক পতি,                কি ঘর বসতি,
কিবা বা করিবে বাপ মায়।
জাতি জীবন ধন,                    এরূপ যৌবন,
নিছিয়া ফেলিব শ্যাম পায়॥
কহিলুঁ নিদান,                  আর না রহে প্রাণ,
শ্যাম সুনাগর বিনে।
কুলের ধরম,                          ভরম সরম,
ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥
সমুখে রাখিয়া,                     নয়ানে দেখিব,
লইয়া থাকিমু চোখে চোখে।
হার করিয়া,                        গলায় গাঁথিয়া,
লইয়া থাকিমু বুকে॥
চিতে উঠে যত,                    বেশ করি তত,
অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাত।
অনেক দিনের                        সাধ পূরাইব,
কোলে করি প্রাণনাথ॥
দেখিয়া দেখিয়া,                     মুখানি মাজিব,
তাম্বুল দিব চাঁদ মুখে।
বলরামের কথা,               বন্ধু লৈয়া যাব তথা,
রাধা বলি কেহ নাহি ডাকে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অনুপম মন অভিলাষ
ভনিতা বলরাম দাস

কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৪র্থ পল্লব,
বসন্তকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, ৩১০-পদসংখ্যা।

॥ কেদার॥

অনুপম মন অভিলাষ।
সঙ্কেত-কুঞ্জহিঁ                      শেজ বিছায়ই
কানু মিলব প্রতিআশ॥ ধ্রু॥
মৃগমদ চন্দন                         গন্ধ-সুলেপন
বিকসিত-চম্পক-দাম।
কর্পূর তাম্বুল                সম্পুট ভরি রাখয়ে
পূরব মনরথ কাম॥
মঙ্গল-কলস পর                   দেই নব পল্লব
রম্ভা শোভে তছু ঠাম।
রতন-প্রদীপ                       সমীপহিঁ জারল
চামর-বিজন অনুপাম॥
কত উপহার                   কুঞ্জ মাহা করলহি
কানু মিলব প্রতিআশ।
ঘর বাহির কত                    আয়ত যায়ত
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অনুপাম মন অভিলাষ।
সঙ্কেতকুঞ্জে সেজ বিছাওই কানু মিলিব প্রীতিআশ॥
মৃগমদ চন্দন গন্ধ সুলেপন বিকশিত চম্পকদাম।
কর্পূর তাম্বুল সম্পুট ভরি রাখএ পূরব মনোরথকাম॥
মঙ্গল কলস পর দেই নবপল্লব রম্ভাশোভিত তছু ঠাম।
রতনপ্রদীপ সমীপহি জারল চামর বীজন অনুপাম॥
কত উপহার কুঞ্জ মাহা কওলহি কাহ্ন মিলিব প্রীতিআশ।
ঘরের বাহির কত আত জাওত কি কহব বলরামদাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অনুপম মন অভিলাষ।
সঙ্কেত কুঞ্জহি,                      শেজ বিছায়ই,
কানু মিলব প্রতি-আশ॥ ধ্রু।
মৃগমদ চন্দন,                         গন্ধ সুলেপন,
বিকশিত চম্পক দাম।
কর্পূর তাম্বুল,                সম্পূট ভরি রাখয়ে,
পূরব মনোরথ কাম॥
মঙ্গল কলস পর,                   দেই নব পল্লব,
রম্ভা শোভে তছু ঠাম।
রতন প্রদীপ,                       সমীপহি জারল,
চামর বীজন অনুপাম॥
কত উপহার,                    কুঞ্জ মাহাকয়লহি,
কানু মিলব প্রতি-আশ।
ঘর বাহির কত,                   আওত যাওত,
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অনুপম মন অভিলাষ।
সঙ্কেত কুঞ্জহি, শেজ বিছায়ই, কানু মিলব প্রতি আশ॥
মৃগমদ চন্দন, গন্ধ সুলেপন, বিকসিত-চম্পক-দাম।
কর্পূর তাম্বুল, সম্পূট ভরি রাখয়ে, পূরব মনোরথ কাম॥
মঙ্গল কলসপর, দেই নব পল্লব, রম্ভা শোভে তছু ঠাম।
রতন প্রদীপ, সমীপহি জারল, চামর বীজন অনুপাম॥
কত উপহার, কুঞ্জমাহা করলহি, কানু মিলব প্রতি আশ।
ঘর বাহির কত, আওত যাওত, কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৩-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অনুপম মন অভিলাষ।
সঙ্কেত কুঞ্জহি,                      শেজ বিছাইনু,
কানু মিলব প্রতি আশ॥
মৃগমদ চন্দন,                        গন্ধ সুলেপন,
বিকশিত-চম্পক দাম।
কর্পূর তাম্বুল,                সম্পূট ভরি রাখয়ে,
পূরব মনোরথ কাম॥
মঙ্গল কলস পর,                  দেই নব পল্লব,
রম্ভা শোভে তছু ঠাম।
রতন প্রদীপ,                       সমীপহি জারল,
চামর বীজন অনুপাম॥
কত উপহার,                   কুঞ্জমাহা করলহি,
কানু মিলব প্রতি আশ।
ঘর বাহির কত,                   আওত যাওত,
কি কহব বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অনুপম মন অভিলাষ।
সঙ্কেত কুঞ্জহি                      শেজ বিছাইনু
কানু মিলব প্রতি আশ॥
মৃগমদ চন্দন                          গন্ধ সুলেপন
বিকসিত চম্পক দাম।
কর্পূর তাম্বুল                   সম্পুট ভরি রাখয়ে
পূরব মনোরথ কাম॥
মঙ্গল কলসপর                     দেই নব পল্লব
রম্ভা শোভে তছু ঠাম।
রতন প্রদীপ                       সমীপহি জারল
চামর বিজন অনুপাম॥
কত উপহার                   কুঞ্জ মাহা করলহি
কানু মিলব প্রতি আশ।
ঘর বাহির কত                   আওত যাওত
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসকসজ্জা
॥ কেদার॥

অনুপম মন অভিলাষ।
সঙ্কেতকুঞ্জহিঁ                      শেজ বিছায়ই
কানু মিলব প্রতিআশ॥
মৃগমদ চন্দন                         গন্ধ সুলেপন
বিকসিত চম্পকদাম।
কপূর তাম্বুল                        সম্পুটে রাখয়ে
পূরব মনোরথ কাম॥
মঙ্গলকলস পর                     দেই নব পল্লব
রম্ভা শোভে তছু ঠাম।
রতন প্রদীপ                       সমীপহিঁ জারল
চামরবীজন অনুপাম॥
কত উপহার                    কুঞ্জ মাহা করলহি
কানু মিলব প্রতিআশ।
ঘর বাহির কত                     আয়ত যায়ত
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৬০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

অনুপম মন অভিলাষ।
সঙ্কেত-কুঞ্জহিঁ                    শেজ বিছায়ই
কানু মিলব প্রতিআশ॥
মৃগমদ চন্দন,                      গন্ধ-সুলেপন
বিকসিত-চম্পক-দাম।
কর্পূর তাম্বুল                সম্পুট ভরি রাখয়ে
পূরব মনোরথ কাম॥
মঙ্গল-কলস পর                  দেই নব পল্লব
রম্ভা শোভে তছু ঠাম।
রতন-প্রদীপ                       সমীপহি জারল
চামর-বীজন অনুপাম॥
কত উপহার,                  কুঞ্জ মাহা করলহি
কানু মিলব প্রতিআশ।
ঘর বাহির কত                আওত যাওত
কি কহব বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একদিন ধনি নিকুঞ্জে বসিয়া
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

একদিন ধনি,                        নিকুঞ্জে বসিয়া,
গাঁথিল ফুলের হার।
মল্লিকা মালতী,                    জাতি যূথী দিয়া,
করিল শেজ বিথার॥
শ্যামের লাগিয়া,                     রহিল জাগিয়া ,
সখীসহ বিনোদিনী।
ত্রিযাম রজনী,                           শুক উজরল,
দেখিয়া আকুল ধনী॥
নিশির ভূষণ,                      খদ্যোতিকা তারা,
মণি হল জ্যোতিঃ হীন।
তাম্বুলের রাগ,                         অধরে মিলিল,
বদন হইল ক্ষীণ॥
শ্যামের   আশায়,                      নিরাশা হইয়া,
সখীরে কহিছে রাই।
বলনা কি করি,                        ওলো সহচরি,
ঐ দেখ নিশি যায়॥
আসিব বলিয়া,                          এলনা নাগর,
সকলি হইল বৃথা।
যাও সহচরি,                         শ্যাম অন্বেষণে,
আছয়ে নাগর যথা॥
শঠের সহিতে,                       পীরিতি করিয়া,
এতেক দুর্গতি মোর।
আজি হাম তথি,                         গমন করিব,
দেখিব কেমন চোর॥
হাতে লোতে ধরে,                  তারে সাজা দিব,
ভেক বদল করি।
কহে বলরাম,                           বিলম্ব করনা,
গমন করহ প্যারি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

একদিন ধনি                        নিকুঞ্জে বসিয়া
গাঁথিল ফুলের হার।
মল্লিকা মালতী                   জাতি যূথী দিয়া
করিল শেজ বিথার॥
শ্যামের লাগিয়া                     রহিল জাগিয়া
সখীসহ বিনোদিনি।
ত্রিযাম রজনী                         শুক উজরল
দেখিয়া আকুল ধনি॥
নিশির ভূষণ                    খদ্যোতিকা তারা
মণি হল জোতি হীন।
তাম্বুলের রাগ                        অধরে মিলাল
বদন হইল ক্ষীণ॥
শ্যামের   আশায়                    নিরাশা হইয়া
সখীরে কহিছে রাই।
বলনা কি করি                       ওলো সহচরি
ঐ দেখ নিশি যায়॥
আসিব বলিয়া                        এলনা নাগর
সকলি হইল বৃথা।
যাও সহচরি                        শ্যাম অন্বেষণে
আছয়ে নাগর যথা॥
শঠের সহিতে                     পিরিতি করিয়া
এতেক দুর্গতি মোর।
আজি হাম তথি                       গমন করিব
দেখিব কেমন চোর॥
হাতে লোতে ধরে                 তারে সাজা দিব
ভেক বদল করি।
কহে বলরাম                         বিলম্ব কর না
গমন করহ প্যারি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর