| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| কিবা সে মোহন বেশ ভুলাইলে সব দেশ কিবা সে মোহন বেশ দেখিতে মুরছে দেশ ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব, রূপানুরাগ, ৭৯৩ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৮৩ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৪।৩৩ সংখ্যক পদ। ॥ সিন্ধুড়া॥ কিবা সে মোহন-বেশ ভুলাইলে সব দেশ না রহে সতীর সতীপনা। ভরমে দেখিলে তারে জনম ভরিয়া গো ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ সই হাম কি করিলুঁ কেন বা সে বাঢ়াইলুঁ কি শেল হানিল জানি বুকে। জাতি কুল শীলে সই বজর পড়িল গো কালারূপ দেখি চৌখে চৌখে॥ কিবা সে নয়ন-বাণ হিয়ায় হানিল গো গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী আপনা রাখয়ে গো আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই নিন্দ দূরে গেল গো হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে। উড়ু উড়ু আনছান ধক ধক করে প্রাণ কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মুরতি সে দেখিলে না রহে দে বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরাম দাসে বোলে সে অঙ্গ পরশ হৈলে প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯২১ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৪০৩ সংখ্যক পদ। ॥ তথা রাগ॥ কিবা সে মোহন বেশ দেখিতে মুরুছে দেশ না রহে সতীর সতীপনা। ভরমে দেখিলে যারে জনম ভরিয়া সই ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ কি করিলুঁ কি না হৈল কেনে বা সে বাড়াইল কি শেল হানিয়া গেল বুকে। জাতি-কুল-শীল-শিরে বজর পড়িল সই কানুরে দেখিয়া চৌখে চৌখে॥ খাইতে সোয়াস্তি নাই নিন্দ গেল দূরে গো হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে। উড়ু পুড়ু আনছান ধক ধক করে প্রাণ কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মুরতি সে দেখিলে না রহে দে বাতাসে পাষাণ হয় পানি। বলরাম দাসে বলে সে অঙ্গ পরশ হলে প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ – সখী সম্বোধনে, ১৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কিবা সে মোহন বেশ, ভুলাইল সব দেশ, না রহে সতীর সতীপণা। ভরমে দেখিলে তারে, জনম ভরিয়া গো, ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ সই হাম রি করিনু, কেন বা সে বাঢ়ায়নু, কি শেল হানিল যেন বুকে। জাতি কুল শীলে সই, বজর পড়িল গো, কালারূপ দেখি চোখে চোখে॥ কিবা সে নয়ন বাণ, হিয়ায় হানিল গো, গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী, আপনা রাখয়ে গো, আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিদ দূরে গেল গো, হিয়া দহ দহ মন ঝুরে। উড়ু পড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ, কি হৈল রহিতে নাহি ঘরে॥ রসের মূরতি সে, দেখিলে না রহে যে, বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরাম দাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে, প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কিবা সে মোহন-বেশ, ভুলাইল সব দেশ, না রহে সতীর সতীপণা। ভরমে দেখিলে তারে, জনম ভরিয়া গো ঝুরিয়া মজয়ে কত জনা॥ সই হাম রি করিনু, কেন বা সে বাঢ়ায়নু, কি শেল হানিল যেন বুকে। জাতি কুল শীলে সই, বজর পড়িল গো কালারূপ দেখি চোখে চোখে॥ কিবা সে নয়ন বাণ, হিয়ায় হানিল গো, গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী, আপনা রাখয়ে গো আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিঁদ দূরে গেল গো, হিয়া দহ দহ মন ঝুরে। উড়ু পড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ, কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মুরতি সে, দেখিলে না রহে যে, বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরামদাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে, প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৬-পৃষ্ঠায় ২য় বার এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কিবা সে মোহন-বেশ, দেখিতে মূরছে দেশ, না রহে সতীর সতীপণা। ভরমে দেখিলে যারে, জনম ভরিয়া সই, ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ কি করিনু কি না হৈল, কেন রস বাড়াইল, কি শেল হানিল গেল বুকে। জাতি-কুল-শীলে-শিরে, বজর পড়িল সই, কানুরে দেখিয়ে চোখে চোখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিঁদ গেল দূরে গো, হিয়া দহ দহ মন ঝুরে। উড়ু পড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ, কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মুরতি সে, দেখিলে সে রহে যে, বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরামদাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে, প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কিবা সে মোহন বেশ, ভুলাইল সব দেশ, না রহে সতীর সতীপণা। ভরমে দেখিলে তারে, জনম ভরিয়া গো, ঝুরিয়া মজয়ে কত জনা॥ সই হাম কি করিনু, কেন বা সে বাঢ়ায়নু, কি শেল হানিল যেন বুকে। জাতি কুল শীলে সই, বজর পড়িল গো, কালা রূপ দেখি চোখে চোখে॥ কিবা সে নয়ন বাণ, হিয়ায় হানিল গো, গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী আপনা রাখয়ে গো, আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিন্দ দূরে গেল গো, হিয়া দহ দহ মন ঝুরে। উড়ু পড়ু আনছান, ধক ধক করে প্রাণ, কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মূরতি সে, দেখিলে না রহে দে, বাতাসে পাষাণ হয় পানি। বলরাম দাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১০-পৃষ্ঠায় ২য় বার এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ কিবা সে মোহন বেশ, দেখিতে মুরছে দেশ, না রহে সতীর সতীপণা। ভরমে দেখিলে যারে, জনম ভরিয়া সই, ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ কি করিনু কি না হৈল, কেনে রস বাড়াউল, কি শেল হানিয়া গেল বুকে। জাতি-কুল-শীল-শিরে, বজর পড়িল সই, কানুরে দেখিয়ে চোখে চোখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিদ গেল দূরে গো, হিয়া দহ দহ মন ঝুরে। উড়ু পড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ, কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মুরতি সে, দেখিলে সে রহে দে, বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরাম দাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি এই গ্রন্থে দুইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কিবা সে মোহন বেশ, ভুলাইল সব দেশ না রহে সতীর সতীপণা। ভরমে দেখিলে তারে, জনম ভরিয়া গো ঝুরিয়া মজয়ে কতজনা॥ সই হাম কি করিনু, কেন বা সে বাঢ়ায়নু কি শেল হানিল যেন বুকে। জাতি কুল শীলে সই, বজর পড়িল গো কালারূপ দেখি চোখে চোখে॥ কিবা সে নয়ন বাণ, হিয়ায় হানিল গো গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী, আপনা রাখয়ে গো আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিদ দূরে গেল গো হিয়া দহ দহ মন ঝুরে। উড়ু উড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মূরতি সে, দেখিলে না রহে যে, বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরাম দাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে, প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি এই গ্রন্থে দুইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ কিবা সে মোহন বেশ, দেখিতে মুরছে দেশ, না রহে সতীর সতীপণা। ভরমে দেখিলে যারে, জনম ভরিয়া সই, ঝুরিয়া মরয়ে কতজনা॥ কি করিনু কিনা হৈল, কেনে রস বাড়াউল কি শেল হানিয়া গেল বুকে। জাতি-কুল-শীল-শিরে, বজর পড়িল সই, কালারূপ দেখিয়ে চোখে চোখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই, নিদ গেল দূরে গো হিয়া দহ দহ মন ঝুরে। উড়ু উড়ু আনচান, ধক ধক করে প্রাণ কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মূরতি সে, দেখিলে সে রহে দে, বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরাম দাসে বলে, সে অঙ্গ পরশ হলে, প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। রুপানুরাগ ॥ সিন্ধুড়া॥ কিবা সে মোহনবেশ ভুলাইলে সব দেশ না রহে সতীর সতীপনা। ভরমে দেখিলে তারে জনম ভরিয়া গো ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ সই হাম কি করিলুঁ কেনে বা সে বাঢ়াইলুঁ কি শেল হানিল জানি বুকে। জাতি কুল শীলে সই বজর পড়িল গো কালারূপ দেখি চৌখে চৌখে॥ কিবা সে নয়নবাণ হিয়ায় হানিল গো গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী আপনা রাখয়ে গো আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই নিন্দ দূরে গেল গো হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে। উড়ু পড়ু আনছান ধক ধক করে প্রাণ কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মুরতি সে দেখিলে না রহে দে বাতাসে পাষাণ হয় পানি। বলরাম দাসে বোলে সে অঙ্গ পরশ হৈলে প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ কিবা সে মোহন-বেশ ভুলাইলে সব দেশ না রহে সতীর সতীপনা। ভরমে দেখিলে তারে জনম ভরিয়া গো ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ সই হাম কি করিলুঁ কেন বা সে বাঢ়াইলুঁ কি শেল হানিল যেন বুকে। জাতি কুল শীলে সই বজর পড়িল গো কালারূপ দেখি চৌখে চৌখে॥ কিবা সে নয়ন বাণ হিয়ায় হানিল গো গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী আপনা রাখয়ে গো আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই নিন্দ দূরে গেল গো হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে। উড়ু পড়ু আনছান ধক ধক করে প্রাণ কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মুরতি সে দেখিলে না রহে দে বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরাম দাসে বোলে সে অঙ্গ পরশ হৈলে প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কিবা সে মোহন বেশ ভুলাইল সব দেশ না রহে সতীর সতীপনা। ভরমে দেখিলে তারে জনম ভরিয়া গো ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ সই হাম কি করিলুঁ কেন বা সে বাঢ়াইলুঁ কি শেল হানিল জানি বুকে। জাতি কুল শীলে সই বজর পড়িল গো কালোরূপ দেখি চোখে চোখে॥ কিবা সে নয়ন বাণ হিয়ায় হানিল গো গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী আপনা রাখয়ে গো আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই নিন্দ দূরে গেল গো হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে। উড়ু উড়ু আনছান ধক ধক করে প্রাণ কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মূরতি সে দেখিলে না রহে দে বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরাম দাসে বোলে সে অঙ্গ পরশ হৈলে প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কিবা সে মোহন বেশ ভুলাইল সব দেশ না রহে সতীর সতীপনা। ভরমে দেখিলে তারে জনম ভরিয়া গো ঝুরিয়া মরয়ে কত জনা॥ সই হাম কি করিলুঁ কেন বাসে বাঢ়াইলুঁ কি শেল হানিল জানি বুকে। জাতি কুল শীলে সই বজর পড়িল গো কালোরূপ দেখি চোখে চোখে॥ কিবা সে নয়ন বাণ হিয়ায় হানিল গো গরল ভরিয়া রৈল বুকে। কোন বা পামরী নারী আপনা রাখয়ে গো আগুণ জ্বালিয়া দি তার মুখে॥ খাইতে সোয়াস্ত নাই নিন্দ দূরে গেল গো হিয়া ডহ ডহ মন ঝুরে। উড়ু উড়ু আনছান ধক ধক করে প্রাণ কি হৈল রহিতে নারি ঘরে॥ রসের মূরতি সে দেখিলে না রহে দে বাতাসে পাষাণ হয় পানী। বলরাম দাসে বোলে সে অঙ্গ পরশ হৈলে প্রাণ লৈয়া কি হয় না জানি॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রসের ভরে অঙ্গ না ধরে ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ২২৫-পৃষ্ঠা। শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ। ॥ পুনঃ শ্রীরাগ॥ রসের ভরে অঙ্গ না ধরে হেলিয়া পড়িছে বায়। অঙ্গ মোড়া দিয়া ত্রিভঙ্গ হইয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥ রসিয়া নাগর দেখিয়া মেলু কি শেল রহল মোরে। গুরু পরিজন লাগে উচাটন তারে সে পরাণ ঝুরে॥ আঁখির ঠারে বুক বিদরে ও বড় বিষম বাণ। কুলবতী সতী পাপিনী যুবতী রাখুক কুলের মান॥ হিয়া জরজর পরাণ ফাফর দারুণ বাঁশীর স্বরে। ফুটিল হরিণী লোটায় ধরণী কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥ মধুর বোলে পরাণ দোলে তাহে পরমাদ হাস। বলরাম কহে এবে সে নিচয় ছাড়িল ঘরের আশ॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১০ম পল্লব, রূপানুরাগ, ৭৮১ পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২৭১ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ৩।৩৯ সংখ্যক পদ। ॥ শ্রীরাগ॥ রসের ভরে অঙ্গ না ধরে হেলিয়া পড়িছে বায়। অঙ্গ মোড়া দিয়া ত্রিভঙ্গ হইয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥ রসিয়া নাগর হেরিয়া মরিলুঁ কি শেল বাজিল মোরে। গুরু পরিজন লাগে উচাটন তারে সে পরাণ ঝুরে॥ আঁখির ঠারে বুক বিদারে ও বড় বিষম বাণ। কুলবতী সতী পাপিনী যুবতি রাখুক কুলের মান॥ হিয়া জরজর পরাণ ফাঁফর দারুণ মুরলী-স্বরে। ফুটিল হরিণী লোটায় ধরণী কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥ মধুর বোলে পরাণ দোলে তাহে পরমাদ হাস। বলরাম কহে এবে সে নিচয়ে ছাড়িলুঁ ঘরের আশ॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রসের ভরে, অঙ্গ না ধরে, হেলিয়া পড়িছে বায়। অঙ্গ মোড়া দিয়া, ত্রিভঙ্গ হইয়া, ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥ রসিক নাগর, হেরিয়া মরিলুঁ, কি শেল বাজিল মোরে। গুরু পরিজন, লাগে উচাটন, তরাসে পরাণ ঝরে॥ আঁখির ঠারে, বুক বিদারে, ও বড় বিষম বাণ। কুলবতী সতী, পাপিনী যুবতী, রাখুক কুলের মান॥ হিয়া জ্বর জর, পরাণ ফাঁফর, দারুণ মুরলী স্বরে। কুটিল হরিণী, লোটায় ধরণী, কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥ মধুর বোলে, পরাণ দোলে তাহে পরমাদ হাস। বলরাম কহে, এবে সে নিশ্চয়, ছাড়িল ঘরের আশ॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রসের ভরে অঙ্গ না ধরে, হেলিয়া পড়িছে বায়। অঙ্গ মোড়া দিয়া, ত্রিভঙ্গ হইয়া, ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥ রসিক নাগর, হেরিয়া মরিনু, কি শেল বাজিল মোরে। গুরু পরিজন, লাগে উচাটন, তরাসে পরাণ ঝুরে॥ আঁখির ঠারে, বুক বিদরে, ও বড় বিষম বাণ। কুলবতী সতী, পাপিনী যুবতি, রাখলু কুলের মান॥ হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁফর, দারুণ মুরলী স্বরে। কুটিল হরিণী, লোটায় ধরণী, কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥ মধুর বোলে, পরাণ দোলে, তাহে পরমাদ হাস। বলরাম কহে, এবে সে নিশ্চয়, ছাড়িল ঘরের আশ॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রসের ভরে, অঙ্গ না ধরে, হেলিয়া পড়িছে বায়। অঙ্গ মোড়া দিয়া, ত্রিভঙ্গ হইয়া, ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥ রসিক নাগর, হেরিয়া মরিনু, কি শেল বাজিল মোরে। গুরু পরিজন, লাগে উচাটন, তরাসে পরাণ ঝুরে॥ আঁখির ঠারে, বুক বিদারে, ও বড় বিষম বাণ। কুলবতী সতী, পাপিনী যুবতী, রাখলুঁ কুলের মান॥ হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁফর, দারুণ মুরলী স্বরে। কুটিল হরিণী, লোটায় ধরণী, কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥ মধুর বোলে, পরাণ দোলে তাহে পরমাদ হাস। বলরাম কহে, এবে সে নিশ্চয়ে, ছাড়িল ঘরের আশ॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রসের ভরে অঙ্গ না ধরে হেলিয়া পড়িছে বায়। অঙ্গ মোড়া দিয়া ত্রিভঙ্গ হইয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥ রসিয়া নাগর হেরিয়া মরিনু কি শেল বাজিল মোরে। গুরু পরিজন লাগে উচাটন তরাসে পরাণ ঝুরে॥ আঁখির ঠারে বুক বিদারে ও বড় বিষম বাণ। কুলবতী সতী, পাপিনী যুবতি রাখুক কুলের মান॥ হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁপর দারুণ মুরলী-স্বরে। কুটিল হরিণী লোটায় ধরণী কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥ মধুর বোলে পরাণ দোলে তাহে পরমাদ হাস। বলরাম কহে এবে সে নিশ্চয়ে ছাড়িল ঘরের আশ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। অকারণ মান ॥ শ্রীরাগ॥ রসের ভরে অঙ্গ না ধরে হেলিয়া পড়িছে বায়। অঙ্গ মোড়া দিয়া ত্রিভঙ্গ হইয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥ রসিক-নাগর হেরিয়া মরিলুঁ কি শেল বাজিল মোরে। গুরু পরিজন লাগে উচাটন আকুল পরাণ ঝুরে॥ আঁখির ঠারে বুক বিদারে ও বড় বিষম বাণ। কুলবতী সতী পাপিনী যুবতী রাখুক কুলের মান॥ হিয়া জরজর পরাণ ফাঁফর, দারুণ মুরলীস্বরে। ফুটিল হরিণী লোটায় ধরণী কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥ মধুর বোলে পরাণ দোলে তাহে পরমাদ হাস। বলরাম কহে এবে সে নিচয়ে ছাড়িলুঁ ঘরের আশ॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রসের ভরে অঙ্গ না ধরে হেলিয়া পড়িছে বায়। অঙ্গ মোড়া দিয়া ত্রিভঙ্গ হইয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চায়॥ রসিক-নাগর হেরিয়া মরিলুঁ কি শেল বাজিল মোরে। গুরু পরিজন লাগে উচাটন তরে সে পরাণ ঝুরে॥ আঁখির ঠারে বুক বিদারে ও বড় বিষম বাণ। কুলবতী সতী পাপিনী যুবতী রাখুক কুলের মান॥ হিয়া জরজর পরাণ ফাঁফর, দারুণ মুরলী স্বরে। কুটিল হরিণী লোটায় ধরণী কান্দিয়া মরয়ে ঘরে॥ মধুর বোলে পরাণ দোলে তাহে পরমাদ হাস। বলরাম কহে এবে সে নিচয়ে ছাড়িলুঁ ঘরের আশ॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নয়ান কোণের বাণে হিয়ায় হানিলরে নয়ানের বাণ হিয়ায় হানিলে ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯২৮ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৪০৯ সংখ্যক পদ। ॥ তথারাগ॥ নয়ান-কোণের বাণে হিয়ায় হানিলে রে সেই হইল পিঠের পার। জ্বালিয়া তিন কোণের খড়, দিলুঁ ও সুখের মুখে তবে আমার দুখের নাহি পার॥ রসের আবেশে অঙ্গ মোড়া দিয়া হাসিয়া কথাটি কয়। কত ভঙ্গিমায় ও ভুরু নাচায় তাতে কি পরাণ রয়॥ বাঁশীর ফুকে বুকের ভিতরে ফুটিয়া আগুন জ্বলে। মধুর বচনে হিয়ার হিলোলে পরাণ-পুতলী দোলে॥ হিয়া জর জর পরাণ ফাঁফর দেখিয়া ও মুখ চান্দ। বলরাম-মনে আন নাহি লয় সবে প্রাণ গোকুলচান্দ॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ-আত্মপ্রতি, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ নয়ান কোণের বাণে, হিয়ায় হানিলরে, সেই হইল পিঠের পার। জ্বালিয়া তিন কোণের খড়, দিলুঁ ও সুখের মুখে, তবু আমার দুখের নাহি পার॥ রসের আবেশে, অঙ্গ মোড়া দিয়া, হাসিয়া কথাটি কয়। কত ভঙ্গিমায়, ও ভুরু নাচায়, তাতে কি পরাণ রয়॥ বাঁশীর ফুকে, বুকের ভিতরে, ফুটিয়া আগুন জ্বালে। মধুর বচনে, হিয়ার হিলনে, পরাণ পুতলি দোলে॥ হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁফর, দেখিয়া ও মুখচন্দ্র। বলরাম মনে, আন নাহি লয়, সবে প্রাণ গোকুল চন্দ্র॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বারুণ বরাড়ী॥ নয়ান-কোণের বাণে, হিয়ায় হানিল রে, সেই হইল পিঠের পার। জানিয়া তিন কোণের খড়, দিনু ও সুখের মুখে, তবু আমার দুখের নাহি পার॥ রসের আবেশে, অঙ্গ মোড়া দিয়া, হাসিয়া কথাটী কয়। কত ভঙ্গিমায়, ও ভূরু নাচায়, তাতে কি পরাণ রয়॥ বাঁশীর ফুকে, বুকের ভিতরে, ফুটিয়া আগুন জ্বলে। মধুর বচনে, হিয়ার হিলনে, পরাণ-পুতলী দোলে॥ হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁফর, দেখিয়াও মুখচন্দ্র। বলরাম মনে, আন নাহি লয়, সবে প্রাণ গোকুলচন্দ্র॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ নয়ান-কোণের বাণে, হিয়ায় হানিল রে, সেই হইল পিঠের পার। জানিয়া তিন কোণের খড়, দিনু ওসুখের মুখে, তবু আমার দুখের নাহি পার॥ রসের আবেশে, অঙ্গ মোড়া দিয়া, হাসিয়া কথাটি কয়। কত ভঙ্গিমায়, ও ভুরু নাচায়, তাতে কি পরাণ রয়॥ বাঁশীর ফুকে, বুকের ভিতরে, ফুটিয়া আগুন জ্বলে। মধুর বচনে, হিয়ার হিলনে, পরাণ-পুতলী দোলে॥ হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁপর, দেখিয়া ও-মুখচন্দ্র। বলরাম মনে, আন নাহি লয়, সবে প্রাণ গোকুলচন্দ্র॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৪- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ নয়ান-কোণের বাণে, হিয়ায় হানিলরে, সেই হইল পিঠের পার। জ্বালিয়া তিন কোণের খড়, দিনু ও সুখের মুখে, তবু আমার দুখের নাহি পার॥ রসের আবেশে, অঙ্গ মোড়া দিয়া, হাসিয়া কথাটি কয়। কত ভঙ্গিমায়, ও ভুরু নাচায়, তাতে কি পরাণ রয়॥ বাঁশীর ফুকে, বুকের ভিতরে, ফুটিয়া আগুন জ্বলে। মধুর বচনে, হিয়ার হিলনে, পরাণ-পুতলি দোলে॥ হিয়া জর জর, পরাণ ফাঁপর, দেখিয়া ও-মুখচন্দ্র। বলরাম মনে, আন নাহি লয়, সবে প্রাণ গোকুলচন্দ্র॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ তথারাগ॥ নয়ানের বাণ হিয়ায় হানিলে হইল পিঠের পার। কোণের খড় জ্বালি দিনু সুখ মুখ দুখের নাহি পার॥ রসের আবেশে অঙ্গ মোড়া দিয়া হাসিয়া কথাটি কয়। কত ভঙ্গিমায় ও ভুরু নাচায় তাতে কি পরাণ রয়॥ বাঁশীর ফুকে বুকের ভিতরে তুষের আগুন জ্বলে। মধুর বচনে হিয়ার হিলোলে পরাণ পুতলী দোলে॥ হিয়া জর জর পরাণ ফাঁফর দেখিয়া ও মুখচান্দ। বলরাম-মনে আন নাহি লয় সবে প্রাণ গোকুল চান্দ॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথারাগ॥ নয়ান-কোণের বাণে হিয়ায় হানিল রে সেই হইল পিঠের পার। জ্বালিয়া তিন কোণের খড়, দিলুঁ ও সুখের মুখে তবে আমার দুখের নাহি পার॥ রসের আবেশে অঙ্গ মোড়া দিয়া হাসিয়া কথাটি কয়। কত ভঙ্গিমায় ও ভুরু নাচায় তাতে কি পরাণ রয়॥ বাঁশীর ফুকে বুকের ভিতরে ফুটিয়া আগুন জ্বলে। মধুর বচনে হিয়ার হিলোলে পরাণ-পুতলী দোলে॥ হিয়া জর জর পরাণ ফাঁফর দেখিয়া ও মুখ চান্দ। বলরাম-মনে আন নাহি লয় সবে প্রাণ গোকুল-চান্দ॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ছাড়ে ছাড়ুক পতি কি ঘর বসতি ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯৩২ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৪১৩ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৮।২৬ সংখ্যক পদ। ॥ সিন্ধুড়া॥ ছাড়ে ছাড়ুক পতি কি ঘর-বসতি কিবা বা করিবে বাপ মায়। জাতি জীবন ধন এ রূপ যৌবন নিছিয়া ফেলিব শ্যাম-পায়॥ কহিলুঁ নিদান আর না রহে প্রাণ শ্যাম সুনাগর বিনে। কুলের ধরম ভরম সরম ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥ সমুখে রাখিয়া নয়ানে দেখিমু লইয়া থাকিমু চৌখে চৌখে। হার করিয়া গলায় গাঁথিয়া লইয়া থাকিমু বুকে॥ চিতে উঠে যত বেশ করি তত অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাথ। অনেক দিনের সাধ পূরাইব কোলে করি প্রাণনাথ॥ দেখিয়া দেখিয়া মুখানি মাজিব তাম্বুল দিব চাঁদমুখে। বলরামের কথা বন্ধু লৈয়া যাব যথা রাধা বলি কেহ নাহি ডাকে॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ-আত্মপ্রতি, ১৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ ছাড়ে ছাড়ুক পতি, কি ঘর বসতি, কিবা বা করিবে বাপ মায়। জাতি জীবন ধন, এরূপ যৌবন, নিছিয়া ফেলিব শ্যাম পায়॥ কহিলুঁ নিদান, আর না রহে প্রাণ, শ্যাম সুনাগর বিনে। কুলের ধরম, ভরম সরম, ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥ সমুখে রাখিয়া, নয়ানে দেখিব, লইয়া থাকিমু চোখে চোখে। হার করিয়া, গলায় গাঁথিয়া, লইয়া থাকিমু বুকে॥ চিতে উঠে যত, বেশ করি তত, অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাত। অনেক দিনের সাধ পূরাইব, কোলে করি প্রাণনাথ॥ দেখিয়া দেখিয়া, মুখানি মাজিব, তাম্বুল দিব চাঁদ মুখে। বলরামের কথা, বন্ধু লৈয়া যাব তথা, রাধা বলি কেহ নাহি ডাকে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ ছাড়ে ছাড়ুক পতি, কি ঘর বসতি, কিবা বা করিবে বাপ মায়। জাতি জীবন ধন, এ রূপ যৌবন, নিছনি ফেলিব শ্যাম পায়॥ কহিনু নিদান, আর না রহে প্রাণ, শ্যাম সুনাগর বিনে। কুলের ধরম, ভরম সরম, ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥ সমুখে রাখিয়া, নয়ানে দেখিব, লইয়া থাকিব চোখে। হার করিয়া, গলায় গাঁথিয়া, লইয়া থাকিব বুকে॥ চিতে উঠে যত, বেশ করি তত, অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাত। অনেক দিনের, সাধ পূরাইব, কোলে করি প্রাণনাথ॥ দেখিয়া দেখিয়া, মুখানি মাজিব, তাম্বুল দিব চাঁদমুখে। বলরামের কথা, বন্ধু লৈয়া যাব তথা, রাধা বলি কেহ নাহি ডাকে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ সিন্ধুড়া॥ ছাড়ে ছাড়ুক পতি কি ঘর বসতি কি করিবে বাপ মায়। জাতি প্রাণ ধন এ রূপ যৌবন নিছিব শ্যামের পায়॥ কহিলুঁ নিদান না রহে পরাণ শ্যাম সুনাগর বিনে। কুলের ধরম ভরম সরম ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥ সমুখে রাখিয়া নয়ানে দেখিমু থাকিমু চৌখে চৌখে। হার যে করিয়া গলায় গাঁথিয়া লইয়া থাকিমু বুকে॥ চিতে উঠে যত বেশ করি তত অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাত। অনেক দিনের সাধ পূরাইব কোলে করি প্রাণনাথ॥ দেখিয়া দেখিয়া মুখানি মাজিব তাম্বুল দিই চাঁদমুখে। বলরামের কথা বন্ধু লব তথা রাধারে যথা না ডাকে॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ ছাড়ে ছাড়ুক পতি, কি ঘর বসতি, কিবা বা করিবে বাপ মায়। জাতি জীবন ধন, এরূপ যৌবন, নিছিয়া ফেলিব শ্যাম পায়॥ কহিলুঁ নিদান, আর না রহে প্রাণ, শ্যাম সুনাগর বিনে। কুলের ধরম, ভরম সরম, ভাঙ্গিল এতেক দিনে॥ সমুখে রাখিয়া, নয়ানে দেখিব, লইয়া থাকিমু চোখে চোখে। হার করিয়া, গলায় গাঁথিয়া, লইয়া থাকিমু বুকে॥ চিতে উঠে যত, বেশ করি তত, অঙ্গে অঙ্গে দিয়া হাত। অনেক দিনের সাধ পূরাইব, কোলে করি প্রাণনাথ॥ দেখিয়া দেখিয়া, মুখানি মাজিব, তাম্বুল দিব চাঁদ মুখে। বলরামের কথা, বন্ধু লৈয়া যাব তথা, রাধা বলি কেহ নাহি ডাকে॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অনুপম মন অভিলাষ ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৪র্থ পল্লব, বসন্তকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, ৩১০-পদসংখ্যা। ॥ কেদার॥ অনুপম মন অভিলাষ। সঙ্কেত-কুঞ্জহিঁ শেজ বিছায়ই কানু মিলব প্রতিআশ॥ ধ্রু॥ মৃগমদ চন্দন গন্ধ-সুলেপন বিকসিত-চম্পক-দাম। কর্পূর তাম্বুল সম্পুট ভরি রাখয়ে পূরব মনরথ কাম॥ মঙ্গল-কলস পর দেই নব পল্লব রম্ভা শোভে তছু ঠাম। রতন-প্রদীপ সমীপহিঁ জারল চামর-বিজন অনুপাম॥ কত উপহার কুঞ্জ মাহা করলহি কানু মিলব প্রতিআশ। ঘর বাহির কত আয়ত যায়ত কি কহব বলরাম দাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ অনুপাম মন অভিলাষ। সঙ্কেতকুঞ্জে সেজ বিছাওই কানু মিলিব প্রীতিআশ॥ মৃগমদ চন্দন গন্ধ সুলেপন বিকশিত চম্পকদাম। কর্পূর তাম্বুল সম্পুট ভরি রাখএ পূরব মনোরথকাম॥ মঙ্গল কলস পর দেই নবপল্লব রম্ভাশোভিত তছু ঠাম। রতনপ্রদীপ সমীপহি জারল চামর বীজন অনুপাম॥ কত উপহার কুঞ্জ মাহা কওলহি কাহ্ন মিলিব প্রীতিআশ। ঘরের বাহির কত আত জাওত কি কহব বলরামদাস॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ অনুপম মন অভিলাষ। সঙ্কেত কুঞ্জহি, শেজ বিছায়ই, কানু মিলব প্রতি-আশ॥ ধ্রু। মৃগমদ চন্দন, গন্ধ সুলেপন, বিকশিত চম্পক দাম। কর্পূর তাম্বুল, সম্পূট ভরি রাখয়ে, পূরব মনোরথ কাম॥ মঙ্গল কলস পর, দেই নব পল্লব, রম্ভা শোভে তছু ঠাম। রতন প্রদীপ, সমীপহি জারল, চামর বীজন অনুপাম॥ কত উপহার, কুঞ্জ মাহাকয়লহি, কানু মিলব প্রতি-আশ। ঘর বাহির কত, আওত যাওত, কি কহব বলরাম দাস॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ অনুপম মন অভিলাষ। সঙ্কেত কুঞ্জহি, শেজ বিছায়ই, কানু মিলব প্রতি আশ॥ মৃগমদ চন্দন, গন্ধ সুলেপন, বিকসিত-চম্পক-দাম। কর্পূর তাম্বুল, সম্পূট ভরি রাখয়ে, পূরব মনোরথ কাম॥ মঙ্গল কলসপর, দেই নব পল্লব, রম্ভা শোভে তছু ঠাম। রতন প্রদীপ, সমীপহি জারল, চামর বীজন অনুপাম॥ কত উপহার, কুঞ্জমাহা করলহি, কানু মিলব প্রতি আশ। ঘর বাহির কত, আওত যাওত, কি কহব বলরাম দাস॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ অনুপম মন অভিলাষ। সঙ্কেত কুঞ্জহি, শেজ বিছাইনু, কানু মিলব প্রতি আশ॥ মৃগমদ চন্দন, গন্ধ সুলেপন, বিকশিত-চম্পক দাম। কর্পূর তাম্বুল, সম্পূট ভরি রাখয়ে, পূরব মনোরথ কাম॥ মঙ্গল কলস পর, দেই নব পল্লব, রম্ভা শোভে তছু ঠাম। রতন প্রদীপ, সমীপহি জারল, চামর বীজন অনুপাম॥ কত উপহার, কুঞ্জমাহা করলহি, কানু মিলব প্রতি আশ। ঘর বাহির কত, আওত যাওত, কি কহব বলরামদাস॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৪- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ অনুপম মন অভিলাষ। সঙ্কেত কুঞ্জহি শেজ বিছাইনু কানু মিলব প্রতি আশ॥ মৃগমদ চন্দন গন্ধ সুলেপন বিকসিত চম্পক দাম। কর্পূর তাম্বুল সম্পুট ভরি রাখয়ে পূরব মনোরথ কাম॥ মঙ্গল কলসপর দেই নব পল্লব রম্ভা শোভে তছু ঠাম। রতন প্রদীপ সমীপহি জারল চামর বিজন অনুপাম॥ কত উপহার কুঞ্জ মাহা করলহি কানু মিলব প্রতি আশ। ঘর বাহির কত আওত যাওত কি কহব বলরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। বাসকসজ্জা ॥ কেদার॥ অনুপম মন অভিলাষ। সঙ্কেতকুঞ্জহিঁ শেজ বিছায়ই কানু মিলব প্রতিআশ॥ মৃগমদ চন্দন গন্ধ সুলেপন বিকসিত চম্পকদাম। কপূর তাম্বুল সম্পুটে রাখয়ে পূরব মনোরথ কাম॥ মঙ্গলকলস পর দেই নব পল্লব রম্ভা শোভে তছু ঠাম। রতন প্রদীপ সমীপহিঁ জারল চামরবীজন অনুপাম॥ কত উপহার কুঞ্জ মাহা করলহি কানু মিলব প্রতিআশ। ঘর বাহির কত আয়ত যায়ত কি কহব বলরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ অনুপম মন অভিলাষ। সঙ্কেত-কুঞ্জহিঁ শেজ বিছায়ই কানু মিলব প্রতিআশ॥ মৃগমদ চন্দন, গন্ধ-সুলেপন বিকসিত-চম্পক-দাম। কর্পূর তাম্বুল সম্পুট ভরি রাখয়ে পূরব মনোরথ কাম॥ মঙ্গল-কলস পর দেই নব পল্লব রম্ভা শোভে তছু ঠাম। রতন-প্রদীপ সমীপহি জারল চামর-বীজন অনুপাম॥ কত উপহার, কুঞ্জ মাহা করলহি কানু মিলব প্রতিআশ। ঘর বাহির কত আওত যাওত কি কহব বলরাম দাস॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| একদিন ধনি নিকুঞ্জে বসিয়া ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ একদিন ধনি, নিকুঞ্জে বসিয়া, গাঁথিল ফুলের হার। মল্লিকা মালতী, জাতি যূথী দিয়া, করিল শেজ বিথার॥ শ্যামের লাগিয়া, রহিল জাগিয়া , সখীসহ বিনোদিনী। ত্রিযাম রজনী, শুক উজরল, দেখিয়া আকুল ধনী॥ নিশির ভূষণ, খদ্যোতিকা তারা, মণি হল জ্যোতিঃ হীন। তাম্বুলের রাগ, অধরে মিলিল, বদন হইল ক্ষীণ॥ শ্যামের আশায়, নিরাশা হইয়া, সখীরে কহিছে রাই। বলনা কি করি, ওলো সহচরি, ঐ দেখ নিশি যায়॥ আসিব বলিয়া, এলনা নাগর, সকলি হইল বৃথা। যাও সহচরি, শ্যাম অন্বেষণে, আছয়ে নাগর যথা॥ শঠের সহিতে, পীরিতি করিয়া, এতেক দুর্গতি মোর। আজি হাম তথি, গমন করিব, দেখিব কেমন চোর॥ হাতে লোতে ধরে, তারে সাজা দিব, ভেক বদল করি। কহে বলরাম, বিলম্ব করনা, গমন করহ প্যারি॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ একদিন ধনি নিকুঞ্জে বসিয়া গাঁথিল ফুলের হার। মল্লিকা মালতী জাতি যূথী দিয়া করিল শেজ বিথার॥ শ্যামের লাগিয়া রহিল জাগিয়া সখীসহ বিনোদিনি। ত্রিযাম রজনী শুক উজরল দেখিয়া আকুল ধনি॥ নিশির ভূষণ খদ্যোতিকা তারা মণি হল জোতি হীন। তাম্বুলের রাগ অধরে মিলাল বদন হইল ক্ষীণ॥ শ্যামের আশায় নিরাশা হইয়া সখীরে কহিছে রাই। বলনা কি করি ওলো সহচরি ঐ দেখ নিশি যায়॥ আসিব বলিয়া এলনা নাগর সকলি হইল বৃথা। যাও সহচরি শ্যাম অন্বেষণে আছয়ে নাগর যথা॥ শঠের সহিতে পিরিতি করিয়া এতেক দুর্গতি মোর। আজি হাম তথি গমন করিব দেখিব কেমন চোর॥ হাতে লোতে ধরে তারে সাজা দিব ভেক বদল করি। কহে বলরাম বিলম্ব কর না গমন করহ প্যারি॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |