| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| দূতী শ্যাম অন্বেষণে যায় ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ দূতী শ্যাম অন্বেষণে যায়। ঢুঁরিতে ঢুঁরিতে, চন্দ্রাবলী কুঞ্জে, শ্যাম সৌরভ পায়॥ গন্ধেতে মাতিয়া, অলি পুঞ্জে পুঞ্জে, ভ্রমণ করয়ে তথা। তা দেখিয়া দূতী, মনে বিচারিল, নিচয় নাগর আছয়ে হেথা॥ আড়েতে দাঁড়ায়ে, গবাক্ষের পথে, কুঞ্জের ভিতরে চায়। চন্দ্রাবলী সনে, কুসুম শয়নে আছেন নাগর রায়॥ তথা ধিকি ধিকি জ্বলে বাতি। কোকিল জাগিল, কুহুরব করি, অলপ আছয়ে রাতি॥ তা দেখিয়া দূতী, তুরিত গমনে. চলিল রাইর পাশ। নিশি অবশেষে, কলহ বাধিবে কহে বলরাম দাস এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ দূতী শ্যাম অন্বেষণে যায়। ঢুঁরিতে ঢুঁরিতে চন্দ্রাবতী কুঞ্জে শ্যাম সৌরভ পায়॥ গন্ধেতে মাতিয়া অলি পুঞ্জে পুঞ্জে ভ্রমণ করয়ে তথা। তা দেখিয়া দূতী মনে বিচারিল নিচয় নাগর আছয়ে হেথা॥ আড়েতে দাঁড়ায়ে গবাক্ষের পথে কুঞ্জের ভিতরে চায়। চন্দ্রাবলী সনে কুসুম শয়নে আছেন নাগর রায়॥ তথা ধিকি ধিকি জ্বলে বাতি। কোকিল জাগিল কুহুরব করি অলপ আছয়ে রাতি॥ তা দেখিয়া দূতী তুরিত গমনে চলিল রাইর পাশ। নিশি অবশেষে কলহ বাধিবে কহে বলরাম দাস॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধনি এতেক ভাবিয়া মনে আজ্ঞা দিলা সখীগণে ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ ধনি এতেক ভাবিয়া মনে, আজ্ঞা দিলা সখীগণে বলরাম বেশ সাজাইতে। শ্বেত চন্দন আনি, অঙ্গেতে মাখায়ে দেহ, শিঙ্গাটী আনিয়া দেহ হাতে॥ ভেক বদল করি, যথায় আছয়ে বৈরী যাব আমি তাহার নিকটে। দেখিব কোমন জোর, কেমনে রাখয়ে চোর ধরিয়া আনিব তারে বাটে॥ আজ্ঞা পেয়ে সখীগণে, শিঙ্গা আনি ততক্ষণে, বলরাম বেশ সাজাইল। চন্দনে ঢাকিল গোরি, না ঢাকিল কুচগিরি, কহে বলরাম প্যারী ভাবিত হইল॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ ধনি এতেক ভাবিয়া মনে আজ্ঞা দিলা সখীগণে বলরাম বেশ সাজাইতে। শ্বেত চন্দন আনি অঙ্গেতে মাখায়ে দেহ শিঙ্গাটি আনিয়া দেহ হাতে॥ ভেক বদল করি যথায় আছয়ে বৈরী যাব আমি তাহার নিকটে। দেখিব কোমন জোর কেমনে রাখয়ে চোর ধরিয়া আনিব তারে বাটে॥ আজ্ঞা পেয়ে সখীগণে শিঙ্গা আনি ততক্ষণে বলরাম বেশ সাজাইল। চন্দনে ঢাকিল গোরি না ঢাকিল কুচগিরি কহে বলরাম প্যারী ভাবিত হইল॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ললিতা বলেন শুন ভাবনা করহ কেন ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ ললিতা বলেন শুন, ভাবনা করহ কেন, তবে সখি বৃথা নাম ধরি। কদম্বের ফুল আনি, গলায় গাঁথিয়া দিল, ঢাকিল কুচ যুগ গিরি॥ জয় জয় বলিয়া, শিঙ্গার নিশান দিয়া, ধনি দক্ষিণ চরণ বাড়াইলা কি কব রূপের ছটা, জিনিয়া বিজরী ঘটা, বলরাম দেখে সুখী হৈলা॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ ললিতা বলেন শুন ভাবনা করহ কেন তবে সখি বৃথা নাম ধরি। কদম্বের ফুল আনি গলায় গাঁথিয়া দিল ঢাকিল কুচ-যুগ গিরি॥ জয় জয় বলিয়া শিঙ্গার নিশান দিয়া ধনি দক্ষিণ চরণ বাড়াইলা। কি কব রূপের ছটা জিনিয়া বিজুরী ঘটা বলরাম দেখে সুখী হৈলা॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিশি অবশেষ জানি নিশ্বাস ছাড়িয়া ধনি ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, খণ্ডিতা, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ নিশি অবশেষ জানি, নিশ্বাস ছাড়িয়া ধনি, সখীগণে কহে বারে বারে। আমারে নৈরাশ করি, চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে হরি, নিশি বাস কৈল তার ঘরে॥ প্রভাতে আসিবে রসরাজ। সভে এক যোগ হয়ে, শ্যাম পানে না চাহিয়ে, শঠের পিরীতে নাহি কাজ॥ আমার শপথ রাখ, শ্যাম অঙ্গ নাহি দেখ, চিত রাখ উমাপতি পায়। বৃন্দাবন বাস ছাড়ি, চলহ কৈলাশ গিরি, এড়াইয়া বিরহের দায়॥ এথা ফেরি নাগর, উচকিত অন্তর, চাহে চন্দ্রাবলীরে বিদায়। বলরাম দাসে কয়, থাকিতে উচিত নয়, ঘন ঘন অনুমতি চায়॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ নিশি অবশেষ জানি নিশ্বাস ছাড়িয়া ধনি সখীগণে কহে বারে বারে। আমারে নৈরাশ করি চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে হরি নিশি বাস কৈল তার ঘরে॥ প্রভাতে আসিবে রসরাজ। সভে এক যোগ হয়ে শ্যাম পানে না চাহিয়ে শঠের পিরিতে নাহি কাজ॥ আমার শপথ রাখ শ্যাম অঙ্গ নাহি দেখ চিত রাখ উমাপতি পায়। বৃন্দাবন বাস ছাড়ি চলহ কৈলাশ গিরি এড়াইয়া বিরহের দায়॥ এথা ফেরি নাগর উচকিত অন্তর চাহে চন্দ্রাবলীরে বিদায়। বলরাম দাসে কয় থাকিতে উচিত নয় ঘন ঘন অনুমতি চায়॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |