কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
দূতী শ্যাম অন্বেষণে যায়
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দূতী শ্যাম অন্বেষণে যায়।
ঢুঁরিতে ঢুঁরিতে,                       চন্দ্রাবলী কুঞ্জে,
শ্যাম সৌরভ পায়॥
গন্ধেতে মাতিয়া,                    অলি পুঞ্জে পুঞ্জে,
ভ্রমণ করয়ে তথা।
তা দেখিয়া দূতী,                     মনে বিচারিল,
নিচয় নাগর আছয়ে হেথা॥
আড়েতে দাঁড়ায়ে,                    গবাক্ষের পথে,
কুঞ্জের ভিতরে চায়।
চন্দ্রাবলী সনে,                         কুসুম শয়নে
আছেন নাগর রায়॥
তথা ধিকি ধিকি জ্বলে বাতি।
কোকিল জাগিল,                       কুহুরব করি,
অলপ আছয়ে রাতি॥
তা দেখিয়া দূতী,                      তুরিত গমনে.
চলিল রাইর পাশ।
নিশি অবশেষে,                      কলহ বাধিবে
কহে বলরাম দাস

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দূতী শ্যাম অন্বেষণে যায়।
ঢুঁরিতে ঢুঁরিতে                       চন্দ্রাবতী কুঞ্জে
শ্যাম সৌরভ পায়॥
গন্ধেতে মাতিয়া                      অলি পুঞ্জে পুঞ্জে
ভ্রমণ করয়ে তথা।
তা দেখিয়া দূতী                        মনে বিচারিল
নিচয় নাগর আছয়ে হেথা॥
আড়েতে দাঁড়ায়ে                      গবাক্ষের পথে
কুঞ্জের ভিতরে চায়।
চন্দ্রাবলী সনে                           কুসুম শয়নে
আছেন নাগর রায়॥
তথা ধিকি ধিকি জ্বলে বাতি।
কোকিল জাগিল                        কুহুরব করি
অলপ আছয়ে রাতি॥
তা দেখিয়া দূতী                       তুরিত গমনে
চলিল রাইর পাশ।
নিশি অবশেষে                       কলহ বাধিবে
কহে বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেথা ধনি বিনোদিনী বিরলে বসিয়া
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

হেথা ধনি বিনোদিনী বিরলে বসিয়া।
দক্ষিণ নয়ন নাচে, থাকিয়া থাকিয়া॥
ময়ূর না করে কেলী, অমঙ্গল দেখি।
সাত পাঁচ মনেতে, ভাবযে বিধুমুখী॥
মুখানি মলিন দূতী, আইল হেনকালে।
শ্যামের বারতা দূতী, ধীরে ধীরে বলে॥
তোমার নাগর বলি, জানে সব সখী।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে শ্যাম, শুন চন্দ্রোমুখী॥
বদনে বদন দিয়া, আছয়ে শয়নে।
সুখের অবধি নাই, বলরাম ভণে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

হেথা ধনি বিনোদিনি বিরলে বসিয়া।
দক্ষিণ নয়ন নাচে থাকিয়া থাকিয়া॥
ময়ূর না করে কেলী অমঙ্গল দেখি।
সাত পাঁচ মনেতে ভাবযে বিধুমুখী॥
মুখানি মলিন দূতী আইল হেনকালে।
শ্যামের বারতা দূতী ধীরে ধীরে বলে॥
তোমার নাগর বলি  জানে সব সখী।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে শ্যাম শুন চন্দ্রোমুখী॥
বদনে বদন দিয়া আছয়ে শয়নে।
সুখের অবধি নাই, বলরাম ভণে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখি! আজুকি শুনায়লি রে?
একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি

ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীরাধিকার উক্তি, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। এই পদটির প্রথম তিনটি পংক্তি বাদ দিয়ে বাকি পদটি “একে কুলবতী করি,
বিড়ম্বিলা বিধি” শিরোনামে অন্য সংকলনে পাওয়া গিয়েছে। আমরা এই পদটি এখানে
দেওয়ার পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে তুলে দিলাম।

॥ সুহই॥

.    সখি ! আজুকি শুনায়লি রে ?
.    পাঁজর জর জর, অন্তর কাতর,
.              তাসহ কঠিন পিরীতি রে।
একে কুলবতী করি, বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন, পিরীতের ব্যাধি॥
কি হল কি হল সই, কিবা সে করিনু।
কানুর কথায় কেন, শেজ বিছাইনু॥
শয়নে স্বপনে মনে, নাহি জানি আন।
সে নব নাগর বিনে, কাদয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর, হিয়ার পুড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি, ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন, জ্ঞাতিকুল তেজে।
বলরাম বলে তার, কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

সখি ! আজু কি শুনায়লি রে ?
পাঁজর জরজর অন্তর কাতর
.        তাসহ কঠিন পিরীতি রে।
একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরিতের ব্যাধি॥
কি হল কি হল সই কিবা সে করিনু।
কানুর কথায় কেন শেজ বিছাইনু॥
শয়নে স্বপনে মনে নাহি জানি আন।
সে নব নাগর বিনে কাঁদয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি ছার পরাধিনি॥
যার লাগি যেবা জন জ্ঞাতিকুল তেজে।
বলরাম বলে তার কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি বিয়াধি॥
কি হৈল কি হৈল সই কিবা সে করিনু।
গোপনে বাঢ়ায়ে প্রেম আপনা খোয়ানু॥
জাগিলে স্বপনে মনে নাহি জানি আন।
সে নব নাগর লাগি কাদয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিয়ে ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন পরাণ তেজে।
বলরাম বলে আর কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি বেয়াধি॥
কি হল কি হৈল সই কিবা সে করিনু।
গোপেতে বাঢ়ায়ে প্রেম আপনা খোয়ানু॥
জাগিলে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর লাগি কান্দয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়ানি।
কহিতে নাহিয়ে ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন পরাণ তেজে।
বলরাম বলে আর কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে প্রথম দুটি পংক্তির পর
থেকে গীত শুরু হয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি বেয়াধি॥
কি হল কি হল সই কিবা সে করিনু।
গোপেতে বাঢ়ায়ে প্রেম আপনা খোয়ানু॥
জাগিলে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর লাগি কান্দয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়ানি।
কহিতে নাহিয়ে ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন পরাণ তেজে।
বলরাম বলে আর কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ সুহই॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি ব্যাধি॥
কি হৈল কি হৈল সই কিবা সে করিনু।
কানুর কথায় কেনে শেজ বিছাইনু॥
শয়নে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর বিনে কাঁদয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন জ্ঞাতিকুল তেজে।
বলরাম বলে আর কি করিবে লাজে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি
সখি! আজুকি শুনায়লি রে?

ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯২৯ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৪১০ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ১৪।৪৩ সংখ্যক পদ। এই পদটির
আগে তিনটি পংক্তি যোগ দিয়ে “সখি! আজুকি শুনায়লি রে?” শিরোনামের পদ, অন্যান্য
সংকলনে পাওয়া গিয়েছে। আমরা এই পদটি এখানে দেওয়ার পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র পদ
হিসেবেও এখানে তুলে দিলাম।

॥ ভাটিয়ারি॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিল বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরিতি-বিয়াধি॥
কি হৈল কি হৈল সই  কিবা সে করিলুঁ।
গোপতে বাঢ়ায়্যা প্রেম আপনা খোয়ালুঁ॥
জাগিতে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর লাগি কান্দয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন জাতি প্রাণ তেজে।
বলরাম বলে তার কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অনুরাগ-সখীসম্বোধনে, ১৫৩-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিল বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি বেয়াধি॥
কি হৈল কি হৈল সই!  কিবা সে করিলুঁ।
গোপতে বাঢ়ায়ে প্রেম আপনে খোয়ালুঁ॥
জাগিলে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর লাগি কান্দয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন পরাণ তেজে।
বলরাম বলে তার কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীরাধিকার উক্তি, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম তিনটি পংক্তি বাদ দিয়ে বাকি পদটি “একে কুলবতী
করি, বিড়ম্বিলা বিধি” শিরোনামে অন্য সংকলনে পাওয়া গিয়েছে। আমরা এই পদটি
এখানে দেওয়ার পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে তুলে দিলাম।

॥ সুহই॥

.    সখি ! আজুকি শুনায়লি রে ?
.    পাঁজর জর জর, অন্তর কাতর,
.              তাসহ কঠিন পিরীতি রে।
একে কুলবতী করি, বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন, পিরীতের ব্যাধি॥
কি হল কি হল সই, কিবা সে করিনু।
কানুর কথায় কেন, শেজ বিছাইনু॥
শয়নে স্বপনে মনে, নাহি জানি আন।
সে নব নাগর বিনে, কাদয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর, হিয়ার পুড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি, ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন, জ্ঞাতিকুল তেজে।
বলরাম বলে তার, কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির আগে তিনটি
পংক্তি যোগ দিয়ে “সখি! আজুকি শুনায়লি রে?” শিরোনামের পদ, অন্যান্য সংকলনে
পাওয়া গিয়েছে। আমরা এই পদটি এখানে দেওয়ার পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও
এখানে তুলে দিলাম।

॥ ভাটিয়ারি॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি বিয়াধি॥
কি হৈল কি হৈল সই কিবা সে করিনু।
গোপনে বাঢ়ায়ে প্রেম আপনা খোয়ানু॥
জাগিলে স্বপনে মনে নাহি জানি আন।
সে নব নাগর লাগি কাদয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিয়ে ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন পরাণ তেজে।
বলরাম বলে আর কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি বেয়াধি॥
কি হল কি হৈল সই কিবা সে করিনু।
গোপেতে বাঢ়ায়ে প্রেম আপনা খোয়ানু॥
জাগিলে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর লাগি কান্দয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়ানি।
কহিতে নাহিয়ে ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন পরাণ তেজে।
বলরাম বলে আর কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে প্রথম দুটি পংক্তির পর
থেকে গীত শুরু হয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি বেয়াধি॥
কি হল কি হল সই কিবা সে করিনু।
গোপেতে বাঢ়ায়ে প্রেম আপনা খোয়ানু॥
জাগিলে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর লাগি কান্দয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়ানি।
কহিতে নাহিয়ে ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন পরাণ তেজে।
বলরাম বলে আর কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ সুহই॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি ব্যাধি॥
কি হৈল কি হৈল সই কিবা সে করিনু।
কানুর কথায় কেনে শেজ বিছাইনু॥
শয়নে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর বিনে কাঁদয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন জ্ঞাতিকুল তেজে।
বলরাম বলে আর কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি ২বার দেওয়া
রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ ভাটিয়ারি॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিল বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরীতি বিয়াধি॥
কি হৈল কি হৈল সই  কিবা সে করিলুঁ।
গোপতে বাঢ়ায়্যা প্রেম আপনা খোয়ালুঁ॥
জাগিতে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর লাগি কান্দয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন জাতি প্রাণ তেজে।
বলরাম বলে তার কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

একে কুলবতী করি বিড়ম্বিল বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরিতি-বিয়াধি॥
কি হৈল কি হৈল সই  কিবা সে করিলুঁ।
গোপতে বাঢ়ায়্যা প্রেম আপনা খোয়ালুঁ॥
জাগিতে স্বপনে মনে নাহি জানে আন।
সে নব নাগর লাগি কান্দয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি ছার পরাধিনী॥
যার লাগি যেবা জন জাতি প্রাণ তেজে।
বলরাম বলে তার কি করিবে লাজে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

সখি ! আজু কি শুনায়লি রে ?
পাঁজর জরজর অন্তর কাতর
.        তাসহ কঠিন পিরীতি রে।
একে কুলবতী করি বিড়ম্বিলা বিধি।
আর তাহে দিল হেন পিরিতের ব্যাধি॥
কি হল কি হল সই কিবা সে করিনু।
কানুর কথায় কেন শেজ বিছাইনু॥
শয়নে স্বপনে মনে নাহি জানি আন।
সে নব নাগর বিনে কাঁদয়ে পরাণ॥
কত না সহিব আর হিয়ার পোড়নি।
কহিতে নাহিক ঠাঞি ছার পরাধিনি॥
যার লাগি যেবা জন জ্ঞাতিকুল তেজে।
বলরাম বলে তার কি করিবে লাজে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধনি এতেক ভাবিয়া মনে আজ্ঞা দিলা সখীগণে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ধনি এতেক ভাবিয়া মনে,          আজ্ঞা দিলা সখীগণে
বলরাম বেশ সাজাইতে।
শ্বেত চন্দন আনি,                অঙ্গেতে মাখায়ে দেহ,
শিঙ্গাটী আনিয়া দেহ হাতে॥
ভেক বদল করি,                   যথায় আছয়ে বৈরী
যাব আমি তাহার নিকটে।
দেখিব কোমন জোর,              কেমনে রাখয়ে চোর
ধরিয়া আনিব তারে বাটে॥
আজ্ঞা পেয়ে সখীগণে,             শিঙ্গা আনি ততক্ষণে,
বলরাম বেশ সাজাইল।
চন্দনে ঢাকিল গোরি,                না ঢাকিল কুচগিরি,
কহে বলরাম প্যারী ভাবিত হইল॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ধনি এতেক ভাবিয়া মনে          আজ্ঞা দিলা সখীগণে
বলরাম বেশ সাজাইতে।
শ্বেত চন্দন আনি                অঙ্গেতে মাখায়ে দেহ
শিঙ্গাটি আনিয়া দেহ হাতে॥
ভেক বদল করি                   যথায় আছয়ে বৈরী
যাব আমি তাহার নিকটে।
দেখিব কোমন জোর             কেমনে রাখয়ে চোর
ধরিয়া আনিব তারে বাটে॥
আজ্ঞা পেয়ে সখীগণে            শিঙ্গা আনি ততক্ষণে
বলরাম বেশ সাজাইল।
চন্দনে ঢাকিল গোরি                না ঢাকিল কুচগিরি
কহে বলরাম প্যারী ভাবিত হইল॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ললিতা বলেন শুন ভাবনা করহ কেন
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ললিতা বলেন শুন,                ভাবনা করহ কেন,
তবে সখি বৃথা নাম ধরি।
কদম্বের  ফুল আনি,               গলায় গাঁথিয়া দিল,
ঢাকিল কুচ যুগ গিরি॥
জয় জয় বলিয়া,                শিঙ্গার নিশান দিয়া,
ধনি দক্ষিণ চরণ বাড়াইলা
কি কব রূপের ছটা,            জিনিয়া বিজরী ঘটা,
বলরাম দেখে সুখী হৈলা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ললিতা বলেন শুন                ভাবনা করহ কেন
তবে সখি বৃথা নাম ধরি।
কদম্বের  ফুল আনি               গলায় গাঁথিয়া দিল
ঢাকিল কুচ-যুগ গিরি॥
জয় জয় বলিয়া                 শিঙ্গার নিশান দিয়া
  ধনি দক্ষিণ চরণ বাড়াইলা।
কি কব রূপের ছটা            জিনিয়া বিজুরী ঘটা
বলরাম দেখে সুখী হৈলা॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শিঙ্গাটী লইয়া হাতে বলরাম বেশে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

শিঙ্গাটী লইয়া হাতে, বলরাম বেশে।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে রাই করিলা প্রবেশে॥
বলরাম দেখি চন্দ্রাবলী লুকাইল।
শ্যাম করে ধরি রাই বাহিরে আনিল॥
মনে মনে ভাবে শ্যাম, বলরাম দেখি।
অঙ্গ গন্ধে জানিলেন রাধাচন্দ্রমুখী॥
মুখেতে বসন দিয়া সখীগণ হাসে।
এ হেন মিলন রস বলরাম ভাষে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

শিঙ্গাটী লইয়া হাতে বলরাম বেশে।
চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে রাই আপনি প্রবেশে॥
বলরাম দেখি চন্দ্রাবলী লুকাইল।
শ্যাম করে ধরি রাই বাহিরে আনিল॥
মনে মনে ভাবে শ্যাম বলরাম দেখি।
অঙ্গ গন্ধে জানিলেন রাধাচন্দ্রমুখী॥
মুখেতে বসন দিয়া সখীগণ হাসে।
এ হেন মিলন রস বলরাম ভাষে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নব অনুরাগে মিলল দুহুঁ কুঞ্জে
চির অনুরাগে মিলল দুহুঁ কুঞ্জে

ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বাসকসজ্জা, ১৬৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নব অনুরাগে মিলল দুহুঁ কুঞ্জে।
আবেশে কহয়ে ধনি রস পরিপুঞ্জে॥
.        বন্ধু কি আর বলিব তোরে।
তোমা বিনে দেখি মুঞি সব অন্ধকারে॥
পেয়েছি তোমারে বন্ধু না ছাড়িব আর।
যে বলু সে বলু মোরে লোক দুরাচার॥
এক তিল না দেখিলে মরমেতে মরি।
শেজ বিছাইয়া কান্দি জাগিয়ে সর্ব্বরী॥
হিয়ার মাঝারে থুব বসন ঝাপায়া।
বলরাম কহে রাই দঢ় কর হিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার আত্মনিবেদন
॥ শ্রীরাগ॥

চির অনুরাগে মিলল দুহুঁ কুঞ্জে।
আবেশে কহয়ে ধনি রস পরিপুঞ্জে॥
বন্ধু কি আর বলিব তোরে।
তোমা বিনে দেখি মুঞি সব অন্ধকারে॥
পেয়েছি তোমারে বন্ধু না ছাড়িব আর।
যে বলু সে বলু মোরে লোক দুরাচার॥
এক তিল না দেখিলে মরমেতে মরি।
শেজ বিছাইয়া কান্দি জাগিয়ে শর্ব্বরী॥
হিয়ার মাঝারে থুব বসন ঝাঁপিয়া।
বলরাম কহে রাই দঢ় কর হিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নব অনুরাগে মিলল দুহুঁ কুঞ্জে।
আবেশে কহয়ে ধনি রস পরিপুঞ্জে॥
.        বন্ধু কি আর বলিব তোরে।
তোমা বিনে দেখি মুঞি সব অন্ধকারে॥
পেয়েছি তোমারে বন্ধু না ছাড়িব আর।
যে বলু সে বলু মোরে লোক দুরাচার॥
এক তিল না দেখিলে মরমেতে মরি।
শেজ বিছাইয়া কান্দি জাগিয়ে সর্ব্বরী॥
হিয়ার মাঝারে থুব বসন ঝাঁপিয়া।
বলরাম কহে রাই দঢ় কর হিয়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তেজ সখি কানু আগমন আশ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ১ম খণ্ড, ২য়
শাখা, ৭ম পল্লব, সর্ব্বকালোচিত খণ্ডিতা, ৩৬৭-পদসংখ্যা।

॥ বিহাগড়া॥

তেজ সখি কানু-আগমন-আশ।
যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার।
দূরহিঁ ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণি-মাণিক মাল।
জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়।
কানু বিনু জিউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক ধিক রে বিহি তোহারি বিধান।
এহেন রজনি মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ।
দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগ রাগ॥

তেজ সখী কানু আগমন আশা। যামিনী শেষ ভেল য়বহু নৈরাসা॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার। দূরহি ডারল যমূনা পার॥
কিশলয় শেজ মণি মাণিক মাল। জল মাহা ডারল সবহু জঞ্জাল॥
অব কি করব সখী কহ না উপায়। কানু বিনে জিউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক ধিক রে বিহি তোহারি বিধান। এ হেন রজনী মোহে বঞ্চল কান॥
সুনইতে ঐছন রাইক ভাষ। দ্রুত চলি জাওত বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, বিপ্রলব্ধা, ১৬৮পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

তেজ সখি কানু আগমন আশ।
যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার।
দূরহি ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণি মাণিক মাল।
জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়।
কানু বিনু জীউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক ধিক রে বিধি তোহারি বিধান।
এহেন রজনী মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ।
দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

তেজ সখি কানু-আগমন-আশ। যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার। দূরহি ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণি-মোতিক মাল। জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়। কানু বিনু জীউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক্ ধিক্ রে বিধি তোহারি বিধান। এহেন রজনী মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ। দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

তেজ সখি কানু আগমন-আশ।
যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার।
দূরহি ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণি-মাণিক মাল।
জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়।
কানু বিনু জীউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক ধিক রে বিধি তোহারি বিধান।
এহেন রজনী মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ।
দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

তেজ সখি কানু আগমন আশ।
যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার।
দূরহি ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণিমোতিক মাল।
জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়।
কানু বিনু জীউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক ধিক রে বিধি তোহারি বিধান।
এহেন রজনী মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ।
দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিপ্রলব্ধা
॥ রাগিণী বিহগড়া - তাল একতালা॥

তেজ সখি কানু আগমন আশ। যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার। দূরহি ডারহু যমুনাক পার॥
কিশলয় শেজমণি মাণিক মাল। জল মাহা ডারহু সবহু জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়। কানু বিনু জীউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক্ ধিক্ রে বিধি তোহারি বিধান। এ হেন রজনী মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ। দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ বিহাগড়া॥

তেজ সখি কানু আগমন আশ।
যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার।
দূরহিঁ ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণিমণিক মাল।
জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়।
কানু বিনু জীউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক ধিক রে বিধি তোহারি বিধান।
এহেন রজনি মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ।
দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ বিহাগড়া॥

তেজ সখি কানু-আগমন-আশ।
যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার।
দূরহিঁ ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণি-মাণিক মাল।
জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়।
কানু বিনু জীউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক ধিক রে বিধি তোহারি বিধান।
এহেন রজনি মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ।
দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিপ্রলব্ধা
সখী প্রতি রাধা

তেজ সখী কানু আগমন-আশ।
যামিনী শেষ ভেল যবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার।
দূরহিঁ ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণি-মাণিকলাল।
জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অবকি করব সখী কহনা উপায়।
কানু বিনু জিউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক্ ধিক্ রে বিধি তোহারি বিধান।
এ হেন রজনী মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ।
দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ১৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


তেজ সখি কানু-আগমন-আশ।
যামিনী শেষ ভেল সবহুঁ নৈরাশ॥
তাম্বুল চন্দন গন্ধ উপহার।
দূরহিঁ ডারহ যামুন পার॥
কিশলয় শেজ মণি-মাণিক মাল।
জল মাহা ডারহ সবহুঁ জঞ্জাল॥
অব কি করব সখি কহ না উপায়।
কানু বিনু জিউ কাহে নাহি বাহিরায়॥
ধিক ধিক রে বিহি তোহারি বিধান।
এহেন রজনী মোহে বঞ্চল কান॥
শুনইতে ঐছন রাইক ভাষ।
দ্রুত চলি আওল বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিশি অবশেষ জানি নিশ্বাস ছাড়িয়া ধনি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, খণ্ডিতা, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

নিশি অবশেষ জানি,                 নিশ্বাস ছাড়িয়া ধনি,
সখীগণে কহে বারে বারে।
আমারে নৈরাশ করি,                চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে হরি,
নিশি বাস কৈল তার ঘরে॥
প্রভাতে আসিবে রসরাজ।
সভে এক যোগ হয়ে,                শ্যাম পানে না চাহিয়ে,
শঠের পিরীতে নাহি কাজ॥
আমার শপথ রাখ,                   শ্যাম অঙ্গ নাহি দেখ,
চিত রাখ উমাপতি পায়।
বৃন্দাবন বাস ছাড়ি,                    চলহ কৈলাশ গিরি,
এড়াইয়া বিরহের দায়॥
এথা ফেরি নাগর,                          উচকিত অন্তর,
চাহে চন্দ্রাবলীরে বিদায়।
বলরাম দাসে কয়,                     থাকিতে উচিত নয়,
ঘন ঘন অনুমতি চায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥
নিশি অবশেষ জানি     
            নিশ্বাস ছাড়িয়া ধনি
সখীগণে কহে বারে বারে।
আমারে নৈরাশ করি                চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে হরি
নিশি বাস কৈল তার ঘরে॥
প্রভাতে আসিবে রসরাজ।
সভে এক যোগ হয়ে                শ্যাম পানে না চাহিয়ে
শঠের পিরিতে নাহি কাজ॥
আমার শপথ রাখ                    শ্যাম অঙ্গ নাহি দেখ
চিত রাখ উমাপতি পায়।
বৃন্দাবন বাস ছাড়ি                       চলহ কৈলাশ গিরি
এড়াইয়া বিরহের দায়॥
এথা ফেরি নাগর                             উচকিত অন্তর
চাহে চন্দ্রাবলীরে বিদায়।
বলরাম দাসে কয়                       থাকিতে উচিত নয়
ঘন ঘন অনুমতি চায়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর