কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
ধিক ধিক মাধব তোহারি সোহাগ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৬শ পল্লব, সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগের রসোদ্গার, ২০৩২-পদসংখ্যা।

॥ ধানশী॥

ধিক্ ধিক্ মাধব তোহারি সোহাগ।
জানলুঁ তোহারি যতহুঁ অনুরাগ॥
ইহ মধু-যামিনি কামিনি গোরি।
তোহারি অমীলনে বিরহে বিভোরি॥
আওল তোহে মিলব করি আশ।
কপট-প্রেম তুহুঁ ভেলি উদাস॥
অব যদি না মিলহ বিরহিণি পাশ।
নিচয়ে ছোড়হ তব তাকর আশ॥
সো মানিনি তুহুঁ জানসি কান।
পুন নাহি হেরব তোহারি বয়ান॥
সো ধনি-সঙ্গ ছোড়ি রহ আন।
এতহুঁ কি তাকর সহয়ে পরাণ॥
শুনইতে কানুক দরপয়ে চিত।
অন্তরে মানয়ে বহুতর ভীত॥
গদ গদ কহই আধ-আধ ভাষ।
শুনইতে আকুল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৭০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক ধিক মাধব তোহারি সোহাগ।
জানলু তোহারি যতহুঁ অনুরাগ॥
ইহ মধু যামিনী কামিনী গোরী।
তোহারি অমিলনে বিরহে বিভোরি॥
আওল তোহে মিলব করি আশ।
কপট প্রেম তুহুঁ ভেলি উদাস॥
অব যদি না মিলহ বিরহিণী পাশ।
নিচয়ে ছোড়হ অব তাকর আশ॥
সো মানিনী তুহুঁ জানসি কান।
পুন নাহি হেরব তোহারি বয়ান॥
সো ধনি সঙ্গ ছোড়ি রহু আন।
এতহুঁ কি তাকর সহয়ে পরাণ॥
শুনইতে কানুক দরবয়ে চিত।
অন্তরে মানয়ে বহুতর ভীত॥
গদ গদ কহই আধ আধ ভাষ।
শুনইতে আকুল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক্ ধিক্ মাধব তোহারি সোহাগ। জানলু তোহারি যতহুঁ অনুরাগ॥
ইহ মধু-যামিনী কামিনী গোরী। তোহারি অমিলনে বিরহে বিভোরি॥
আওল তোহে মিলব করি আশ। কপট প্রেম তুহুঁ ভেলি উদাস॥
অব যদি না মিলহ বিরহিণী পাশ। নিচয়ে ছোড়হ অব তাকর আশ॥
সো মানিনী তুহুঁ জানসি কান। পুন নাহি হেরব তোহারি বয়ান॥
সো ধনী সঙ্গ ছোড়ি রহ আন। এতহুঁ কি তাকর সহয়ে পরাণ॥
শুনইতে কানুক দরবয়ে চিত। অন্তরে মানয়ে বহুতর ভীত॥
গদ গদ কহই আধ আধ ভাষ। শুনইতে আকুল বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক্ ধিক্ মাধব তোহারি সোহাগ।
জানলু তোহারি যতহুঁ অনুরাগ॥
ইহ মধু যামিনী কামিনী গোরী।
তোহারি অমিলনে বিরহে বিভোরি॥
আওল তোহে মিলব করি আশ।
কপট-প্রেম তহুঁ ভেলি উদাস॥
অব যদি না মিলহ বিরহিণী পাশ।
নিচয়ে ছোড়হ অব তাকর আশ॥
সো মানিনী তুহুঁ জানসি কান।
পুন নাহি হেরব তোহারি বয়ান॥
সো ধনী সঙ্গী ছোড়ি রহু আন।
এতহুঁ কি তাকর সহয়ে পরাণ॥
শুনইতে কানুক দরবয়ে চিত।
অন্তরে মানয়ে বহুতর ভীত॥
গদগদ কহই আধ আধ ভাষ।
শুনইতে আকুল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক্ ধিক্ মাধব তোহারি সোহাগ।
জানত তোহারি যতহুঁ অনুরাগ॥
ইহ মধু যামিনী কামিনী গোরী।
তোহারি অমিলনে বিরহে বিভোরি॥
আওল তোহে মিলব করি আশ।
কপট-প্রেম তহুঁ ভেলি উদাস॥
অব যদি না মিলহ বিরহিণী পাশ।
নিচয়ে ছোড়হ তব তাকর আশ॥
সো মানিনী তুহুঁ জানসি কান।
পুন নাহি হেরব তোহারি বয়ান॥
সো ধনী সঙ্গ ছোড়ি রহ আন।
এতহুঁ কি তা কর সহয়ে পরাণ॥
শুনইতে কানুক দরবয়ে চিত।
অন্তরে মানয়ে বহুতর ভীত॥
গদগদ কহই আধ আধ ভাষ।
শুনইতে আকুল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

দূতীর উক্তি
॥ ধানশী॥

ধিক্ ধিক্ মাধব তোহারি সোহাগ।
জানলুঁ তোহারি যতহুঁ অনুরাগ॥
ইহ মধুযামিনি কামিনি গোরি।
তোহারি অমীলনে বিরহে বিভোরি॥
আওল তোহে মিলব করি আশ।
কপট প্রেমা তুহুঁ ভেলি উদাস॥
অব যদি না মিলহ বিরহিণি পাশ।
নিচয়ে ছোড়হ তব তাকর আশ॥
সো মানিনি তুহুঁ জানসি কান।
পুন নাহি হেরব তোহারি বয়ান॥
সো ধনিসঙ্গ ছোড়ি রহ আন।
এতহুঁ কি তাকর সহয়ে পরাণ॥
শুনইতে কানুক দরবয়ে চীত।
অন্তরে মানয়ে বহুতর ভীত॥
গদ গদ কহই আধ আধ ভাষ।
শুনইতে আকুল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক্ ধিক্ মাধব তোহারি সোহাগ।
জানলুঁ তোহারি যতহুঁ অনুরাগ॥
ইহ মধু-যামিনী কামিনি গোরি।
তোহারি অমীলনে বিরহে বিভোরি॥
আওল তোহে মিলব করি আশ।
কপট-প্রেম তুহুঁ ভেলি উদাস॥
অব যদি না মিলহ বিরহিণি পাশ।
নিচয়ে ছোড়হ অব তাকর আশ॥
সো মানিনি তুহুঁ জানসি কান।
পুন নাহি হেরব তোহারি বয়ান॥
সো ধনি-সঙ্গ ছোড়ি রহ আন।
এতহুঁ কি তাকর সহয়ে পরাণ॥
শুনইতে কানুক দরপয়ে চিত।
অন্তরে মানয়ে বহুতর ভীত॥
গদ গদ কহই আধ-আধ ভাষ।
শুনইতে আকুল বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধিক রহু মাধব তোহারি সোহাগ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ১ম খণ্ড, ২য়
শাখা, ১১শ পল্লব, অধীরা মধ্যা খণ্ডিতা, ৪১৬-পদসংখ্যা।

॥ ধানশী॥

ধিক রহু মাধব তোহারি সোহাগ।
ধিক রহু যো ধনি তোহে অনুরাগ॥
চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।
কৈতব বচনে অবহুঁ কিয়ে কাজ॥
সহজই অনলে দগধ ভেল অঙ্গ।
কাহে দেহ আহুতি-বচন-বিভঙ্গ॥
সো ধনি কামিনি গুণবতি নারী।
হাম নিরগুণ রতি-রভসে গোঙারি॥
সোই পুরব তুয়া হিয়-অভিলাষ।
বঞ্চলি ইহ নিশি যো ধনি পাশ॥
পুন পুন কাহে ধরসি মঝু পায়।
তুহুঁ বহু-বল্লভ তোহে না যুয়ায়॥
সিন্দুর কাজর ভালহিঁ তোর।
ছল করি চরণে লাগায়সি মোর॥
কহইতে রোখে অবশ ভেল অঙ্গ।
কহ বলরাম ইহ প্রেম-তরঙ্গ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৭১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক রহুঁ মাধব তোহারি সোহাগ।
ধিক রহুঁ যো ধনী তোহে অনুরাগ॥
চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।
কৈতব বচনে অবহুঁ কিয়ে কাজ॥
সহজই আনলে দগধ ভেল অঙ্গ।
কাহে দেহ আহুতি বচন বিভঙ্গ॥
সোধনী কামিনী গুণবতী নারী।
হাম নিরগুণ রতি রভসে গোঙারি॥
সেই পূরব তুয়া হিয়া অভিলাষ।
বঞ্চলি ইহ নিশি যোধনী পাশ॥
পুন পুন কাহে ধরসি মঝুপায়।
তুহুঁ বহুবল্লভ তোহে না জুয়ায়॥
সিন্দুর কাজর ভালহিঁ তোর।
ছল করি চরণে লাগায়সি মোর॥
কহইতে রোখে অবশ ভেল অঙ্গ।
কহ বলরাম ইহ প্রেম তরঙ্গ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক রহুঁ মাধব তোহারি সোহাগ।
ধিক রহু যো ধনী তাহে অনুরাগ॥
চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।
কৈতব বচনে অবহুঁ কিয়ে কাজ॥
সহজই আনলে দগধ অঙ্গ।
কাহে দেহ আহুতি বচন-বিভঙ্গ॥
সো ধনী কামিনী গুণবতী নারী।
হাম নিরগুণ রতি-রভসে কোঙারি॥
সোই পূরব তুয়া হিয়া অভিলাষ।
বঞ্চলি ইহ নিশি যো ধনী পাশ॥
পুন পুন কাহে ধরনি মঝু পায়।
তুহুঁ বহু বল্লভ তোহে না জুয়ায়॥
সিন্দূর কাজর ভালহি তোর।
ছল করি চরণে লাগায়সি মোর॥
কহইতে রোখে অবশ ভেল অঙ্গ।
কহ বলরাম ইহ প্রেম তরঙ্গ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক রহুঁ মাধব তোহারি সোহাগ।
ধিক রহুঁ যো ধনী তোহে অনুরাগ॥
চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।
কৈতব বচনে অবহুঁ কিয়ে কাজ॥
সহজই আনলে দগধ অঙ্গ।
কাহে দেহ আহুতি বচন বিভঙ্গ॥
সো ধনী কামিনী গুণবতী নারী।
হাম নিরগুণ রতি রভসে কোঙারী॥
সোই পূরব তুয়া হিয়া অভিলাষ।
বঞ্চলি ইহ নিশি যো ধনী পাশ॥
পুন পুন কাহে ধরসি মঝু পায়।
তুহুঁ বহু বল্লভ তোহে না যুয়ায়॥
সিন্দূর কাজর ভালহি তোর।
ছল করি চরণে লাগায়সি মোর॥
কহইতে রোখে অবশ ভেল অঙ্গ।
কহ বলরাম ইহ প্রেম তরঙ্গ॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক রহুঁ মাধব তোহারি সোহাগ।
ধিক রহুঁ যো ধনী তোহে অনুরাগ॥
চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।
কৈতব বচনে অবহুঁ কিয়ে কাজ॥
সহজই আনলে দগধ অঙ্গ।
কাহে দেহ আহুতি বচন বিভঙ্গ॥
সো ধনী কামিনী গুণবতী নারী।
হাম নিরগুণ রতি রভসে কোঙারী॥
সোই পূরব তুয়া হিয়া অভিলাষ।
বঞ্চলি ইহ নিশি যো ধনী পাশ॥
পুন পুন কাহে ধরসি মঝু পায়।
তুহুঁ বহু বল্লভ তোহে না যুয়ায়॥
সিন্দূর কাজর ভালহি তোর।
ছল করি চরণে লাগায়সি মোর॥
কহইতে রোখে অবশ ভেল অঙ্গ।
কহ বলরাম ইহ প্রেম তরঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
॥ ধানশী - জপতাল॥

ধিক রহু মাধব তোহারি সোহাগ।
ধিক রহু যো ধনি তোহে অনুরাগ॥
চলহ কপট শঠ না কর বিয়াজ।
কৈতব বচনে অবহুঁ কিয়ে কাজ॥
সহজই অনলে দগধ ভেল অঙ্গ।
কাহে দেহ আহুতি বচন বিভঙ্গ১॥
সো ধনী কামিনী গুণবতী নারী।
হাম নিরগুণবতী রভসে গোঙারি২॥
সোই পূরব তুয়া হিয়া-অভিলাষ।
বঞ্চলি ইহ নিশি যো ধনি পাশ॥
পুন পুন কাহে ধরসি মঝু পায়।
তুহুঁ বহুবল্লভ তোহে না জুয়ায়॥
সিন্দুর কাজর ভালহি তোর।
ছল করি চরণে লাগায়সি মোর৩॥
কহইতে রোখে অবশ ভেল অঙ্গ।
কহ বলরাম ইহ প্রেম-তরঙ্গ॥

টীকা -
১। অমনিই আমার দেহ অনলে পুড়িয়া যাইতেছে, তাহাতে আবার বনচাতুরী দ্বারা আহুতি
দিতেছ কেন?
২। রসক্রীড়ায় অপটি। গোঙারী - গাঁওয়ার - গ্রাম্য, অশিক্ষিত, অপটু।
৩। তোমার কপালে (অপরা নায়িকার) সিন্দূর ও কাজল লাগিয়া রহিয়াছে। তুমি ছল
করিয়া তাহা আমার পায়ে লাগাইয়া দিতেছ!
---খগেন্দ্রনাথ মিত্র, “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ ধানশী॥

ধিক রহু মাধব তোহারি সোহাগ।
ধিক রহু যো ধনি তোহে অনুরাগ॥
চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।
কৈতব বচনে অবহুঁ কিয়ে কাজ॥
সহজই অনলে দগধ ভেল অঙ্গ।
কাহে দেহ আহুতি বচনবিভঙ্গ॥
সো ধনি কামিনি গুণবতি নারী।
হাম নিরগুণি রতিরভসে গোঙারি॥
সোই পুরব তুয়া হিয়অভিলাষ।
বঞ্চলি ইহ নিশি যো ধনি পাশ॥
পুন পুন কাহে ধরসি মঝু পায়।
তুহুঁ বহুবল্লভ তোহে না যুয়ায়॥
সিন্দুর কাজর ভালহি তোর।
ছল করি চরণে লাগায়সি মোর॥
কহইতে রোখে অবশ ভেল অঙ্গ।
কহ বলরাম ইহ প্রেমতরঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ধিক রহু মাধব তোহারি সোহাগ।
ধিক রহু যো ধনি তোহে অনুরাগ॥
চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।
কৈতব বচনে অবহুঁ কিয়ে কাজ॥
সহজই অনলে দগধ ভেল অঙ্গ।
কাহে দেহ আহুতি-বচন-বিভঙ্গ॥
সো ধনি কামিনি গুণবতি নারী।
হাম নিরগুণ রতি-রভসে গোঙারি॥
সেহ পুরব তুয়া হিয়-অভিলাষ।
বঞ্চলি ইহ নিশি যো ধনি পাশ॥
পুন পুন কাহে ধরসি মঝু পায়।
তুহুঁ বহু-বল্লভ তোহে না যুয়ায়॥
সিন্দুর কাজর ভালহি তোর।
ছল করি চরণে লাগায়সি মোর॥
কহইতে রোখে অবশ ভেল অঙ্গ।
কহ বলরাম ইহ প্রেম তরঙ্গ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দূর কর মাধব কপট সোহাগ
দূরে কর মাধব কপট সোহাগ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮),
১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১১শ পল্লব, অধীরা মধ্যা খণ্ডিতা, ৪১৩-পদসংখ্যা।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দূর কর মাধব কপট সোহাগ।
হাম সমুঝল সব তুয়া অনুরাগ॥
ভাল ভেল অব সে মিটল সব দ্বন্দ্ব।
ভাল নহে কবহুঁ আশ-পরিবন্ধ॥
তুহুঁ গুণ-সাগর সেহ গুণ জান।
গুনে  গুণে বান্ধল মদন পাঁচবাণ॥
তুরিত চলহ তাহাঁ না কর বিয়াজ।
ভ্রমর কি তেজই নলিনি-সমাজ॥
কৈতবিনি হামরা কৈতব নাহি তায়।
তোহারি বিলম্ব অব নাহিক যুয়ায়॥
বিমুখি ভেল ধনি গদ গদ ভাষ।
বিনতি না শূনল বলরামদাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে(১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৭২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দূরে কর মাধব কপট সোহাগ।
হাম সমুঝল সব তুয়া অনুরাগ॥
ভাল ভেল অলপে মিটল সব দ্বন্দ্ব।
ভাল নহে কবহুঁ আশ পরিবন্ধ॥
তুহুঁ গুণ সাগর সো গুণ জান।
গুনে  গুণে বান্ধল মদন পাঁচ বাণ॥
তুরিতে চলহ তাঁহা না কর বেয়াজ।
ভ্রমর কি তেজই নলিনী সমাঝ॥
কৈতবিনী হামরা কৈতব নাহিতায়।
তোহারি বিলম্ব অব নাহিক জুয়ায়॥
বিমুখ ভেল ধনী গদ গদ ভাষ।
মিনতি না শুনল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দূরে কর মাধব কপট সোহাগ।
হাম সমুঝল সব তুয়া অনুরাগ॥
ভাল ভেল অলপে মিটল সব দ্বন্দ্ব।
ভাল নহে কবহুঁ আশ পরিবন্ধ॥
তূহুঁ গুণসাগর সো গুণ জান।
গুনে  গুণে বান্ধল মদন পাঁচবাণ॥
তুরিত চলহ তাঁহা না কর বেয়াজ।
ভ্রমর কি তেজই নলিনী সমাজ॥
কৈতবিনী হামরা কৈতব নাহি তায়।
তোহারি বিলম্ব অব নাহিক যুয়ায়॥
বিমুখ ভেল ধনী গদ গদ ভাষ।
বিনতি না শুনয়ে বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দূর কর মাধব কপট সোহাগ।
হাম সমুঝল সব তুয়া অনুরাগ॥
ভাল ভেল অলপে বিটল সব দ্বন্দ্ব।
ভাল নহে কবহুঁ আশ পরিবন্ধ॥
তুহুঁ গুণ-সাগর সো গুণ জান।
গুনে গুণে বান্ধল মদন পাঁচবাণ॥
তুরিতে চলহ তাঁহা না কর বেয়াজ।
ভ্রমর কি তেজই নলিনী-সমাজ॥
কৈতবিনী হামরা কৈতব নাহি তায়।
তোহারি বিলম্ব অব নাহিক যুয়ায়॥
বিমুখ ভেল ধনী গদ গদ ভাষ।
মিনতি না শুনয়ে বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দূর কর মাধব কপট সোহাগ।
হাম সমঝুল সব তুয়া অনুরাগ॥
ভাল ভেল অলপে বিটল সব দ্বন্দ্ব।
ভাল নহে কবহুঁ আশ পরিবন্ধ॥
তুহুঁ গুণ-সাগর সো গুণ জান।
গুনে  গুণে বান্ধল মদন পাঁচবাণ॥
তুরিত চলহ তাঁহা না কর বেয়াজ।
ভ্রমর কি তেজই নলিনী-সমাজ॥
কৈতবিনী হামরা কৈতব নাহি তায়।
তোহারি বিলম্ব অব নাহিক যুয়ায়॥
বিমুখ ভেল ধনী গদ গদ ভাষ।
বিনতি না শুনয়ে বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ পঠমঞ্জরী॥

দূর কর মাধব কপট সোহাগ।
হাম সমুঝল সব তুয়া অনুরাগ॥
ভাল ভেল অব সে মিটল সব দ্বন্দ্ব।
ভাল নহে কবহু আশ-পরিবন্ধ॥
তুহুঁ গুণসাগর সো গুণ জান।
গুনে  গুণে বান্ধল মদন পাঁচবাণ॥
তুরিতে চলহ তাহাঁ না কর বিয়াজ।
ভ্রমর কি তেজই নলিনি সমাজ॥
কৈতবিনি হামরা কৈতব নাহি তায়।
তোহারি বিলম্ব অব নাহিক যুয়ায়॥
বিমুখি ভেল ধনি গদ গদ ভাষ।
বিনতি শুনি কহ বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

দূর কর মাধব কপট সোহাগ।
হাম সমুঝল সব তুয়া অনুরাগ॥
ভাল ভেল অব সে মিটল সব দ্বন্দ্ব।
ভাল নহে কবহু আশ-পরিবন্ধ॥
তুহুঁ গুণ সাগর সো গুণ জান।
গুনে  গুণে বান্ধল মদন পাঁচবাণ॥
তুরিতে চলহ তাহাঁ না কর বিয়াজ।
ভ্রমর কি তেজই নলিনি সমাজ॥
কৈতবিনি হামরা কৈতব নাহি তায়।
তোহারি বিলম্ব অব নাহিক যুয়ায়॥
বিমুখ ভেল ধনি গদ গদ ভাষ।
বিনতি না শুনল বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান
শুন সুন্দরী অব তহি ত্যেজসি কান
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৮ম পল্লব, ধীরা মধ্যা
খণ্ডিতা, ৪১৭-পদসংখ্যা।

সখ্যুক্তি
॥ গান্ধার॥

সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান।
সুখময় কেলি-                     নিকুঞ্জে যব পৈঠবি
তব কাঁহা রাখবি মান॥ ধ্রু॥
ইহ নাগর-বর                          রসিক-কলা-গুরু
চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
লঘুতর দোখহিঁ                        রোখ বাঢ়ায়সি
চরণহিঁ ঠেলসি তায়॥
প্রেম-লছিমি হিয়                     ছোড়ল বুঝি অব
মান-অলখি পরবেশ।
গুণ বিছুরাই                          দোখ সব ঘোষই
আরতি ছোড়ায়ল দেশ॥
ইহ অলখী যব                    তোহে ছোড়ি যাওব
তব গুণ-গণ সোঙরাব।
রোই পুন হামারি                      বাহু ধরি সাধবি
তব কোই নিয়ড় না যাব॥
সহচরি এতহুঁ                          বচন নাহি শূনয়ে
কোপে ভরল সব অঙ্গ।
কহ বলরাম                       চমক মোহে লাগল
সখিক বচন ভেল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখি উক্তি।
॥ কালাংড়া॥

শুন সুন্দরী অব তহি ত্যেজসি কান।
সুখময় কেলি নিকুঞ্জে যব বৈঠবি তব কাঁহা রাখবি মান॥
ইহ নাগর বর রসিক কলা গুরু চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
নাহ তব দোখসি রোখ বাড়ায়সি চরণহি ঠেলসি তায়॥
প্রেম লছমি হিয়া ছোড়ল বুঝি অব মান অলখি পরবেশ।
গুণ বিছরাই দোখ সব ঘোষই আরতি ছোড়ায়ল দেশ॥
এহ অলখি যব তোহে ছোড়ি যাওব তব গুণগণ সওরাব।
রোই পুনঃ হামারি বাহু ধরি সাধবি তব কোই নিয়ড়ে না যাব॥
সহচরী এতহু বচন নাহি শুনয়ে কোপে ভরল সব অঙ্গ।
কহে বলরাম চমক মোহে লাগল সখিক বচন ভেল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, সখ্যুক্তি, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান।
সুখময় কেলি                     নিকুঞ্জে যব বৈঠবি
তব কাঁহা রাখবি মান॥
ইহ নাগর বর,                      রসিক কলা গুরু,
চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
লঘুতর দোখহিঁ,                      রোখ বাঢ়ায়সি,
চরণহিঁ ঠেলসি তায়॥
প্রেম লছিমি হিয়,                  ছোড়ল বুঝি অব,
মান অলখি পরবেশ।
গুণ বিছুরাই,                       দোখ সব ঘোষই,
আরতি ছোড়ায়ল দেশ॥
ইহ অলখিত যব,                তোহে ছোড়ি যাওব,
তব গুণ গণ সোঙরাব।
রোই পুন হামারি                     বাহু ধরি সাধবি,
তব কোই নিয়ড়ে না যাব॥
সহচরী এতহুঁ                         বচন নাহি শুনয়ে,
কোপে ভরল সব অঙ্গ।
কহ বলরাম                       চমক মোহে লাগল,
সখীক বচন ভেল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান।
সুখময় কেলি নিকুঞ্জে যব বৈঠবি তব কাঁহা রাখবি মান॥
ইহ নাগর-বর রসিক কলাগুরু, চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
লঘুতর দোখহি, রোখ বাঢ়ায়সি, চরণহি ঠেলসি তায়॥
প্রেম-লছিমি হিয়, ছোড়ল বুঝি অব, মান অলখি পরবেশ।
গুণ বিছুরাহ, দেখি সব ঘোসই, আরতি ছাড়িল দেশ॥
ইহ অলখী যব, তোহে ছোড়ি যাওব, তব গুণগণ সোঙরাব।
রোই পুন হামারি, বাহু ধরি সাধবি, তব কোই নিয়ড়ে না যাব॥
সহচরী এতহুঁ বচন নাহি শুনয়ে, কোপ ভরল সব অঙ্গ।
কহ বলরাম চমক মোহে সাগল, সখীর বচন ভেল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৯-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান।
সুখময় কেলি,                     নিকুঞ্জে যব বৈঠবি,
তব কাঁহা রাখবি মান॥
ইহ নাগর বর,                        রসিক কলা গুরু,
চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
লঘুতর দোখহি,                         রোখ বাঢ়ায়সি,
চরণেহি ঠেলসি তায়॥
প্রেম লছিমি হিয়,                     ছোড়ল বুঝি অব,
মান অলখি পরবেশ।
গুণ বিছুরাই,                           দেখি সব ঘোষই,
আরতি ছোড়ল দেশ॥
ইহ অলখী যব,                    তোহে ছোড়ি যাওব,
তব গুণ-গণ সোঙরাব।
রোই পুন হামারি,                       বাহু ধরি সাধবি,
তব কোই নিয়ড়ে না যাব॥
সহচরী এতহুঁ,                         বচন নাহি শুনয়ে,
কোপ ভরল সব অঙ্গ।
কহ বলরাম,                         চমক মোহে লাগল,
সখীক বচন ভেল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান।
সুখময় কেলি,                     নিকুঞ্জে যব বৈঠায়
তব কাঁহা রাখবি মান॥
ইহ নাগর বর                        রসিক কলা গুরু
চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
লঘুতর দোখহি,                        রোখ বাঢ়ায়সি
চরণেহি ঠেলসি তায়॥
প্রেম লছিমি হিয়,                     ছোড়ল বুঝি অব
মান অলখি পরবেশ।
গুণ বিছুরাই                           দেখি সব ঘোষই
আরতি ছোড়ল দেশ॥
ইহ অলখী যব,                    তোহে ছোড়ি যাওব,
তব গুণ-গণ সোঙরাব।
রোই পুন হামারি                        বাহু ধরি সাধবি
তব কোই নিয়ড়ে না যাব॥
সহচরি এতহুঁ                          বচন নাহি শুনয়ে
কোপে ভরল সব অঙ্গ।
কহ বলরাম                          চমক মোহে লাগল
সখীক বচন ভেল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৩৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খণ্ডিতা
সখীর উক্তি।
॥ গান্ধার - মধ্যম একতালা॥

সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান।
সুখময় কেলি                     নিকুঞ্জে যব পৈঠবি
তব কাহাঁ রাখবি আন॥ ধ্রু॥
ইহ নাগর-বর                        রসিক-কলা-গুরু
চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
লঘুতর দোখহিঁ                         রোখ বাঢ়ায়সি
চরণহিঁ ঠেলসি তায়॥
প্রেম লছিমি হিয়                    ছোড়ল বুঝি অব
মান-অলখি পরবেশ১।
গুণ বিছুরাই                          দোখ সব ঘোষই
আরতি ছোড়ায়ল দেশ২॥
ইহ অলখী যব                     তোহে ছোড়ি যাওব
তব গুণপণ সোঙরাব।
রোই পুন হামারি                       বাহু ধরি সাধবি
তব কোই নিয়ড়ে না যাব॥
সহচরি এতহুঁ                          বচন নাহি শূনয়ে
কোপে ভরল সব অঙ্গ।
কহ বলরাম                         চমক মোহে লাগল
সখিক বচন ভেল ভঙ্গ॥

টীকা -
১। প্রেম রূপ লক্ষ্মী বুঝি এখন তোমার হৃদয়কে পরিত্যাগ করিয়াছে এবং তাহার স্থলে মান রূপ অলক্ষ্মী
প্রবেশ করিয়াছে।
২। (তাহার ফলে) গুণ বিস্মিত হইয়া দোষ সকলকে ঘোষণা করিতেছে এবং প্রেমকে দেশ ছাড়া করিয়াছে।
---নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র, শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ গান্ধার॥

সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান।
সুখময় কেলি-                     নিকুঞ্জে যব বৈঠবি
তব কাহাঁ রাখবি মান॥
ইহ নাগরবর                          রসিক কলাগুরু
চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
লঘুতর দোখহিঁ                        রোখ বাঢ়ায়সি
চরণহিঁ ঠেলসি তায়॥
প্রেমলছিমি হিয়                     ছোড়ল বুঝি অব
মান অলখী পরবেশ।
গুণ বিছুরাই                          দোখ সব ঘোষই
আরতি ছোড়ায়ল দেশ॥
ইহ অলখী যব                    তোহে ছোড়ি যাওব
তব গুণপণ সোঙরাব।
রোই পুন হামারি                      বাহু ধরি সাধবি
তব কোই নিয়ড় না যাব॥
সহচরী এতহুঁ                         বচন নাহি শূনয়ে
কোপে ভরল সব অঙ্গ।
কহ বলরাম                        চমক মোহে লাগল
সখিক বচন ভেল ভঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

সুন্দরি অব তুহুঁ তেজসি কান।
সুখময় কেলি-                     নিকুঞ্জে যব বৈঠবি
তব কাঁহা রাখবি মান॥
ইহ নাগর-বর,                        রসিক-কলা গুরু
চরণ পাকড়ি গড়ি যায়।
লঘুতর দোখহিঁ                         রোখ বাঢ়ায়সি
চরণহিঁ ঠেলসি তায়॥
প্রেম-লছিমি হিয়                     ছোড়ল বুঝি অব
মান-অলখি পরবেশ।
গুণ বিছুরাই                          দোখ সব ঘোষই
আরতি ছোড়ায়ল দেশ॥
ইহ অলখী যব                    তোহে ছোড়ি যাওব
তব গুণ-পণ সোঙরাব।
রোই পুন হামারি                     বাহু ধরি সাধবি
তব কোই নিয়ড়ে না যাব॥
সহচরী এতহু                          বচন নাহি শুনয়ে
কোপে ভরল সব অঙ্গ।
কহ বলরাম                         চমক মোহে লাগল
সখিক বচন ভেল ভঙ্গ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখি নাহি বোলহ আর
সখি নাহি বোলবি আর
সখি না বোলহ আর
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ১ম খণ্ড, ২য়
শাখা, ১৫শ পল্লব, কলহান্তরিতা, ৪৭১-পদসংখ্যা।

॥ সুহই॥

সখি নাহি বোলহ আর।
হাম ফল পায়লুঁ তার॥
সহজই মতি গতি বাম।
তৈছন ইহ পরিণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পূর।
সো অব হোয়ল চূর॥
অবহুঁ না রহত পরাণ।
সমুচিত কয়লহিঁ মান॥
যৈছে রহয়ে মঝু দেহ।
সোই করহ অব থেহ॥
তুহুঁ যদি না পুরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুই॥

সখী নাহি বোলহ আর।
হাম ফল পায়নু তার॥
সহজই মতি গতি বাম।
তৈছন ইহ পরণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পূর।
সোসব হোওল চূর॥
অবহু না রহু যাও প্রাণ।
সমোচিত করলহু মান॥
তৈছে রহয়ে মঝু দেহ।
সহ করহ অবথেহ॥
তুহু যদি না পুরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, কলহান্তরিতা, ১৭৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই॥

সখি নাহি বোলহ আর।
হাম ফল পায়লুঁ তার॥
সহজই মতি গতি বাম।
তৈছন ইহ পরিণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পর।
সো অব হোয়ল চূর॥
অবহুঁ না রহ পরাণ।
সমুচিত কয়লহিঁ মান॥
যৈছে রহত মঝু দেহ।
সোই করহ অবথেহ॥
তুহুঁ যদি না পূরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখি নাহি বোলহ আর।
হাম ফল পায়নু তার॥
সহজেই মতি গতি বাম।
তৈছন ইহ পরিণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পুর।
সো অব হোয়ল চূর॥
অবহুঁ না রহ পরাণ।
সমুচিত কয়লহিঁ মান॥
যৈছে রহত মঝু দেহ।
সোই করহ অবথেহ॥
তুহুঁ যদি না পূরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

সখি না বোলহ আর।
হাম ফল পায়নু তার॥
সহজেই মতি গতি বাম।
তৈছন ইহ পরিণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পুর।
সো অব হোয়ল চূর॥
অবহু না রহ পরাণ।
সমুচিত কয়লহিঁ মান॥
যৈছে রহত মঝু দেহ।
সোই করহ অব থেহ॥
তুহুঁ যদি না পূরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

সখি না বোলহ আর।
হাম ফল পায়নু তার॥
সহজেই মতি গতি বাম।
তৈছন ইহ পরিণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পূর।
সে অব হোয়ল চূর॥
অবহু না রহ পরাণ।
সমুচিত কয়লহিঁ মান॥
যৈছে রহত মঝু দেহ।
সোই করহ অব থেহ॥
তুহুঁ যদি না পূরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কলহান্তরিতা
শ্রীমতীর উক্তি।
॥ সুহই - দশকুশী॥

সখি নাহি বোলবি আর।
হাম ফল পাওলুঁ তার॥
সহজই মতি গতি বাম।
তৈছন ইহ পরিণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পূর।
সো অব হোয়ল চূর॥
অবহু না রহল পরাণ।
সমুচিত কয়লহি মান॥
যৈছে রহয়ে মঝু দেহ।
সোই করহ অব থেহ॥
তুহু যদি না পূরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ সুহই॥

সখি নাহি বোলহ আর।
হাম ফল পায়লুঁ তার॥
সহজই গতি মতি বাম।
তৈছন ইহ পরিণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পূর।
সো অব হোয়ল চূর॥
অবহুঁ না রহত পরাণ।
অনুচিত কয়লহুঁ মান॥
যৈছে রহয়ে মঝু দেহ।
সোই করহ অব থেহ॥
তুহুঁ যদি না পুরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

সখি নাহি বোলহ আর।
হাম ফল পায়লুঁ তার॥
সহজই মতি গতি বাম।
তৈছন ইহ পরিণাম॥
যৈছে গরবে হিয়া পূর।
সো অব হোয়ল চূর॥
অবহুঁ না রহ পরাণ।
সমুচিত কয়লহি মান॥
যৈছে রহয়ে মঝু দেহ।
সোই করহ অব থেহ॥
তুহুঁ যদি না পুরবি আশ।
কি কহব বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভোখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানী
ভুখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানী
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১০ম পল্লব, নানাবিধ বিরহ, ১৮৬০-পদসংখ্যা।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ভোখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানী।
রাতি দিবস মোর দেখে মুখখানি॥
আঁখির নিমিখে পিয়া হারায় হেন বাসে।
হেন পিয়া কেমনে আছয়ে দূর দেশে॥
প্রাণ করে ছটপট নাহিক সম্বিত।
কি করিয়া পাসরিব পিয়ার পিরীত॥
মরিব মরিব সই কি আর যতনে।
সে পিয়া বিসরে যদি কি ছার জীবনে॥
কত পরিহার কৈল ধরিয়া আঁচলে।
হাস বিলাস কত করে নানা ছলে॥
তভু তারে না চাহিলাম নয়ানের কোণে।
সোঙরি এ দুখে প্রাণ কান্দে রাতি দিনে॥
হাস হাস নয়ান জুড়াক চাঁদ-মুখি।
এ বোল বলিতে পিয়ার ছল-ছল আঁখি॥
বলরাম দাস পহুঁর সোঙরিতে লেহ।
পরাণ ফাঁফর হৈল খীণ হৈল দেহ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, প্রবাস, জীবনী ও টীকা
সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, প্রবাস, ১৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ভোখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানী।
রাতি দিবস মোর দেখে মুখখানি॥
আঁখির নিমিষে পিয়া হারায় হেন বাসে।
হেন পিয়া কেমনে আছয়ে দূর দেশে॥
প্রাণ করে ছটফট নাহিক সম্বিত।
কি করিয়া পাসরিব পিয়ার পিরীত॥
মরিব মরিব সই কি আর যতনে।
সে পিয়া বিসরে যদি কি ছার জীবনে॥
কত পরিহার কৈল ধরিয়া আঁচলে।
হাস বিলাস কত করে নানা ছলে॥
তবু তারে না চাহিলাম নয়ানের কোণে।
সোঙরি এ দুঃখে প্রাণ কান্দে রাতি দিনে॥
হাস হাস নয়ান জুড়াক চাঁদ মুখী।
এ বোল বলিতে পিয়ার ছল ছল আঁখি॥
বলরাম দাস পহুঁর সোঙরিতে লেহ।
পরাণ ফাঁফর হৈল ক্ষীণ হইল দেহ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ভুখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানী। রাতি দিবস মোর দেখে মুখখানি॥
আঁখির নিমিখে পিয়া হারা হেন বাসে। হেন পিয়া কেমনে আছয়ে দূর দেশে॥
প্রাণ করে ছটফট নাহিক সম্বিত। কি করিয়া পাসরিব পিয়ার পিরীত॥
মরিব মরিব সই কি আর যতনে। সে পিয়া বিসরে যদি কি ছার জীবনে॥
কত পরিহার কৈল ধরিয়া আঁচলে। হাস বিলাস কত করে নানা ছলে॥
তবু তারে না চাহিলাম নয়ানের কোণে। সোঙরি এ দুখে প্রাণ কান্দে রাতিদিনে॥
হাস হাস নয়ান জুড়াক চাঁদ-মুখি। এ বোল বলিতে পিয়া ছল ছল আঁখি॥
বলরামদাস পহুঁর সোঙরিতে লেহ। পরাণ ফাঁফর হৈল ক্ষীণ হইল দেহ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ভুখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানী।
রাতি দিবস মোর দেখে মুখখানি॥
আঁখির নিমিখে পিয়া হারা হেন বাসে।
হেন পিয়া কেমনে আছয়ে দূর দেশে॥
প্রাণ করে ছটফট নাহিক সম্বিত।
কি করিয়া পাসরিব পিয়ার পিরীত॥
মরিব মরিব সই কি আর যতনে।
সে পিয়া বিসরে যদি কি ছার জীবনে॥
কত পরিহার কৈল ধরিয়া আঁচলে।
হাস বিলাস কত করে নানা ছলে॥
তবু তারে না চাহিলাম নয়ানের কোণে।
সোঙরি এ দুখে প্রাণ কান্দে রাতি দিনে॥
হাস হাস নয়ান জুড়াক চাঁদমুখি।
এ বোল বলিতে পিয়া ছল ছল আঁখি॥
বলরাম দাস পহুঁর সোঙরিতে লেহ।
পরাণ ফাফর হৈল ক্ষীণ হইল দেহ॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ভুখে হাত না খায় তিরিষায় পানী।
রাতি দিবস মোর দেখে মুখখানি॥
আঁখির নিমিখে পিয়া হারা হেন বাসে।
হেন পিয়া কেমনে আছয়ে দূর দেশে॥
প্রাণ করে ছটফট নাহিক সম্বিত।
কি করিয়া পাসরিব পিয়ার পিরীত॥
মরিব মরিব সই কি আর যতনে।
সে পিয়া বিসরে কি ছার জীবনে॥
কত পরিহার কৈল ধরিয়া আঁচলে।
হাস বিলাস কত করে নানা ছলে॥
তবু তারে না চাহিলাম নয়ানের কোণে।
সোঙরি এ দুখে প্রাণ কান্দে রাতি দিনে॥
হাস হাস নয়ান জুড়াক চাঁদমুখি।
এ বোল বলিতে পিয়া ছল ছল আঁখি॥
বলরাম দাস পহুঁর সোঙরিতে লেহ।
পরাণ ফাঁফর হৈল ক্ষীণ হইল দেহ॥


ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ পঠমঞ্জরী॥

ভোখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানি।
রাতি দিবস মোর দেখে মুখখানি॥
আঁখির নিমিখে পিয়া হারায় হেন বাসে।
হেন পিয়া কেমনে আছয়ে দূর দেশে॥
প্রাণ করে ছটফট নাহিক সম্বিত।
কি করিয়া পাসরিব পিয়ার পিরীত॥
মরিব মরিব সই কি আর যতনে।
সে পিয়া পাসরে যদি কি ছার জীবনে॥
কত পরিহার কৈল ধরিয়া আঁচলে।
হাস বিলাস কত করে নানা ছলে॥
তভু তারে না চাহিলাম নয়ানের কোণে।
সোঙরি এ দুখে প্রাণ কান্দে রাতি দিনে॥
হাস হাস নয়ান জুড়াক চাঁদমুখি।
এ বোল বলিতে পিয়া ছলছল আঁখি॥
বলরাম দাস পহুঁর সোঙরিতে লেহ।
পরাণ ফাঁফর হৈল খীণ হৈল দেহ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ভোখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানী।
রাতি দিবস মোর দেখে মুখখানি॥
আঁখির নিমিখে পিয়া হারায় হেন বাসে।
হেন পিয়া কেমনে আছয়ে দূর দেশে॥
প্রাণ করে ছটপট নাহিক সম্বিত।
কি করিয়া পাসরিব পিয়ার পিরিত॥
মরিব মরিব সই কি আর যতনে।
সে পিয়া পাসরে যদি কি ছার জীবনে॥
কত পরিহার কৈল ধরিয়া আঁচলে।
হাস বিলাস কত করে নানা ছলে॥
তভু তারে না চাহিলাম নয়ানের কোণে।
সোঙরি এ দুখে প্রাণ কান্দে রাতি দিনে॥
হাস হাস নয়ান জুড়াক চাঁদ-মুখি।
এ বোল বলিতে পিয়ার ছল-ছল আঁখি॥
বলরাম দাস পহুঁর সোঙরিতে লেহ।
পরাণ ফাঁফর হৈল খীণ হৈল দেহ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভোখে ভাত না খায় পিয়া তিরিষায় পানি।
রাতি দিবস মোর দেখে মুখখানি॥
আঁখির নিমিখে পিয়া হারায় হেন বাসে।
হেন পিয়া কেমনে আছয়ে দূর দেশে॥
প্রাণ করে ছটপট নাহিক সম্বিৎ।
কি করিয়া পাসরিব পিয়ার পিরীত॥
মরিব মরিব সই কি আর যতনে।
সে পিয়া পাসরে যদি কি ছার জীবনে॥
কত পরিহার কৈল ধরিয়া আঁচলে।
হাস বিলাস কত করে নানা ছলে॥
তবু তারে না চাহিলাম নয়ানের কোণে।
সোঙরি এ দুখে প্রাণ কান্দে রাতি দিনে॥
হাস হাস নয়ান জুড়াক চাঁদমুখী।
এ বোল বলিতে পিয়া ছলছল আঁখি॥
বলরাম দাস পহুঁর সোঙরিতে লেহ।
পরাণ ফাঁফর হৈল খীণ হৈল দেহ॥

ব্যাখ্যা -
যে ক্ষুধা তৃষ্ণা পরিহার করে শুধু আমার মুখের উপর চোখ-দুটিকে রেখে দিন আর রাত
কাটিয়েছে, চোখের পলক ফেললে আমাকে হারিয়ে ফেলবে এই ছিল যার ভয়---সে কেমন
করে আমাকে ছেড়ে প্রবাসে রয়েছে। একদিন যে আমার আঁচল ধরে কত মিনতি করেছে,
কত হাসি ছিল যার আমাকে ঘিরে, কত বিলাস---তবু গরবিনীর মতো যার দিকে কটাক্ষেও
তাকালাম না এখন তার কথা স্মরণ করতে গিয়ে অশ্রুপাত করি। একদিন যে এই বলে
প্রার্থনা করেছে---হে প্রিয়তমে, হাসো একবার, আমার হৃদয় জুড়াও, এখন সে কতদূর।
---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদরত্নাবলী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কখন না জানি আমি বিচ্ছেদের জ্বালা
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ২য় পল্লব, ভাবী বিরহ, ১৬১১ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ৮২২ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

কখন না জানি আমি বিচ্ছেদের জ্বালা।
কে সহিবে ইহ দুখ হইয়া অবলা॥
মরিব মরিব সখি না রাখিব জিউ।
কে রাখিবে দেহ না হেরিয়া সেহ পিউ॥
কে রহিবে গোকুলে কে শুনিবে বোল।
কে করিবে অনুখণ ক্রন্দনের রোল॥
কে হেরিবে শূণ্য কদম্বক কোর।
কে যাওব ঐছন কুঞ্জক ওর॥
নারিব নারিব প্রাণ রাখিতে নারিব।
কহে বলরাম হাম আগে সে মরিব॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, প্রবাস, ১৭৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

কখন না জানি আমি বিচ্ছেদের জ্বালা।
কে সহিবে ইহ দুঃখ হইয়া অবলা॥
মরিব মরিব সখি না রাখিব জীউ।
কে রাখিবে দেহ না হেরিয়া সেই পিউ॥
কে রহিবে গোকুলে কে শুনিবে বোল।
কে করিবে অনুক্ষণ ক্রন্দন রোল॥
কে হেরিবে শূণ্য কদম্বক কোর।
কে যাওব ঐছন কুঞ্জক ওর॥
নারিব নারিব প্রাণ রাখিতে নারিব।
কহে বলরাম হাম আগে সে মরিব॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কখন না জানি আমি বিচ্ছেদের জ্বালা। কে সহিবে ইহ দুখ হইয়া অবলা॥
মরিব মরিব সখি না রাখিব জীউ। কে রাখিবে দেহ না হেরিয়া সেই পিউ॥
কে রহিবে গোকুলে কে শুনিবে বোল। কে করিবে অনুক্ষণ ক্রন্দনের রোল॥
কে হেরিবে শূন্য কদম্বের কোর। কে যাওব ঐছন কুঞ্জক ওর॥
নারিব নারিব প্রাণ রাখিতে নারিব। কহে বলরাম হাম আগে সে মরিব॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

কখন না জানি আমি বিচ্ছেদরে জ্বালা।
কে সহিবে ইহ  দুখ হইয়া অবলা॥
মরিব মরিব সখি না রাখিব জীউ।
কে রাখিবে দেহ না হেরিয়া সেই পিউ॥
কে রহিবে গোকুলে কে শুনিবে বোল।
কে করিবে অনুক্ষণ ক্রন্দনের-রোল॥
কে হেরিবে শূন্য কদম্বের কোর।
কে যাওব ঐছন কুঞ্জক ওর॥
নারিব নারিব প্রাণ রাখিতে নারিব।
কহে বলরাম হাম আগে সে মরিব॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কখন না জানি আমি বিচ্ছেদের জ্বালা।
কে সহিবে ইহ দুখ হইয়া অবলা॥
মরিব মরিব সখি না রাখিব জীউ।
কে রাখিবে দেহ না হেরিয়া সেই পিউ॥
কে রহিবে গোকুলে কে শুনিবে বোল।
কে করিবে অনুখণ ক্রন্দনের-রোল॥
কে হেরিবে শূণ্যে কদম্বের-কোর।
কে যাওব ঐছন কুঞ্জক ওর॥
নারিব নারিব প্রাণ রাখিতে নারিব।
কহে বলরাম হাম আগে সে মরিব॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - বড় একতালা॥

কখন না জানি আমি বিচ্ছেদের জ্বালা।
কে সহিবে ইহ দুখ হইয়া অবলা॥
মরিব মরিব সখি না রাখিব জীউ।
কে রাখিবে দেহ না হেরিয়ে সেই পিউ॥
কে রহিবে গোকুলে কে শুনিবে বোল।
কে করিবে অনুখণ ক্রন্দনের রোল॥
কে হেরিবে শূণ্য কদম্বক কোর।
কে যাওব ঐছন কুঞ্জক ওর॥
নারিব নারিব প্রাণ রাখিতে নারিব।
কহে বলরাম হাম আগে সে মরিব॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ গান্ধার॥

কখন না জানি আমি বিচ্ছেদের জ্বালা।
কে সহিবে ইহ দুখ হইয়া অবলা॥
মরিব মরিব সখি না রাখিব জিউ।
কে রাখিবে দেহ না হেরিয়া সেহ পিউ॥
কে রহিবে গোকুলে কে শুনিবে বোল।
কে করিবে অনুখণ ক্রন্দনের রোল॥
কে হেরিবে শূণ্য কদম্বক কোর।
কে যাওব ঐছন কুঞ্জক ওর॥
নারিব নারিব প্রাণ রাখিতে নারিব।
কহে বলরাম হাম আগে সে মরিব॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

কখন না জানি আমি বিচ্ছেদের জ্বালা।
কে সহিবে ইহ  দুখ হইয়া অবলা॥
মরিব মরিব সখি না রাখিব জিউ।
কে রাখিবে দেহ না হেরিয়া সেই পিউ॥
কে রহিবে গোকুলে কে শুনিবে বোল।
কে করিবে অনুখণ ক্রন্দনের রোল॥
কে হেরিবে শূণ্য কদম্বক কোর।
কে যাওব ঐছন কুঞ্জক ওর॥
নারিব নারিব প্রাণ রাখিতে নারিব।
কহে বলরাম হাম আগে সে মরিব॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কালিন্দি-তীর নিকুঞ্জক মাঝ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৬শ পল্লব, সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগের রসোদ্গার, ২০৩০-পদসংখ্যা।

॥ শ্রীরাগ॥

কালিন্দি-তীর নিকুঞ্জক মাঝ।
রোয়ত সুবদনি ছোড়ল লাজ॥
অতি উতকন্ঠিত বিরহ-বিষাদ।
সহচরিবৃন্দ গণয়ে পরমাদ॥
দারুণ কোকিল ভ্রমর ঝঙ্কার।
মলয়-পবনে ধনি করু সিতকার॥
হরি হরি শবদে লুঠতি সখি-কোর।
অবিরত লোচনে গলতহিঁ লোর॥
হেরি চলল সখি কানুক পাশ।
কত যে নিবেদব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৮১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কালিন্দী তীর নিকুঞ্জক মাঝ।
রোয়ত সুবদনী ছোড়ল লাজ॥
অতি উত্কন্ঠিত বিরহ বিষাদ।
সহচরী বৃন্দা গণয়ে পরমাদ॥
দারুণ কোকিল ভ্রমর ঝঙ্কার।
মলয় পবনে ধনি করু সিতকার॥
হরি হরি শবদে লুঠিত সখী-কোর।
অবিরত লোচনে গলতহিঁ লোর॥
হেরি চলত সখী কানুক পাশ।
কতয়ে নিবেদব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কালিন্দী-তীর নিকুঞ্জক মাঝ। রোয়ত সুবদনী ছোড়ল লাজ॥
অতি উত্কন্ঠিত বিরহ-বিষাদ। সহচরীবৃন্দ গণয়ে পরমাদ॥
দারুণ কোকিল ভ্রমর ঝঙ্কার। মলয়-পবনে ধনী করু সীতকার॥
হরি হরি শবদে লুঠতি সখী-কোর। অবিরত লোচনে গলতহিঁ লোর॥
হেরি চলত সখী কানুক পাশ। কতয়ে নিবেদব বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কালিন্দীতীর নিকুঞ্জক মাঝ।
রোয়ত সুবদনী ছোড়ল লাজ॥
অতি উত্কন্ঠিত বিরহ-বিষাদ।
সহচরীবৃন্দ গণয়ে পরমাদ॥
দারুণ কোকিল ভ্রমর ঝঙ্কার।
মলয় পবনে ধনী করু সীতকার॥
হরি হরি শবদে লুঠিত সখী কোর।
অবিরত লোচনে গলতঁহি লোর॥
হেরি চলত সখী কানুক পাশ।
কত যে নিবেদব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কালিন্দীতীর নিকুঞ্জক মাঝ।
রোয়ত সুবদনী ছোড়ল লাজ॥
অতি উতকন্ঠিত বিরহ-বিষাদ।
সহচরীবৃন্দ গণয়ে পরমাদ॥
দারুণ কোকিল ভ্রমর ঝঙ্কার।
মলয় পবনে ধনী করু সীতকার॥
হরি হরি শবদে লুঠিত সখী কোরা।
অবিরত লোচনে গলতহিঁ লোরা॥
হেরি চলত সখী কানুক পাশ।
কত যে নিবেদব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - একতালা॥

কালিন্দি-তীর নিকুঞ্জক মাঝ।
রোয়ত সুবদনি ছোড়ল লাজ॥
অতি উত্কন্ঠিত বিরহ-বিষাদ।
সহচরিবৃন্দ গণয়ে পরমাদ॥
দারুণ কোকিল ভ্রমর ঝঙ্কার।
মলয়-পবনে ধনি করু সিতকার॥
হরি হরি শবদে লুঠিত সখি-কোর।
অবিরত লোচনে গলতহিঁ লোর॥
হেরি চলল সখি কানুক পাশ।
কতয়ে নিবেদব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ শ্রীরাগ॥

কালিন্দি-তীর নিকুঞ্জক মাঝ।
রোয়ত সুবদনী ছোড়ল লাজ॥
অতি উতকন্ঠিত বিরহ-বিষাদ।
সহচরিবৃন্দ গণয়ে পরমাদ॥
দারুণ কোকিল ভ্রমর ঝঙ্কার।
মলয়-পবনে ধনি করু সিতকার॥
হরি হরি শবদে লুঠতি সখি-কোর।
অবিরত লোচনে গলতহিঁ লোর॥
হেরি চলত সখী কানুক পাশ।
কত যে নিবেদব বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অঞ্জলিতে লয়ে বারি বারি আচমন
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

অঞ্জলিতে লয়ে বারি বারি আচমন।
কর্পূর তাম্বুলে করেন মুখের শোধন॥
মুখের শোধন করি সেই গৌরহরি।
সঙ্কীর্ত্তনের মাঝে যেয়ে নাচে ফিরি ফিরি॥
নাচেরে গৌরাঙ্গচান্দ সঙ্কীর্ত্তনের মাঝে।
সোণার নূপুর রাঙ্গা চরণে বিরাজে॥
বামে নাচে গদাধর দক্ষিণে মুকুন্দ।
সম্মুখেতে নাচয়ে শ্রীবাস নিত্যানন্দ॥
পূরবে পুরুষোত্তম পরম পণ্ডিত।
দক্ষিণে শ্রীরাম নাচে উত্তরে অদ্বৈত॥
অগ্নি কোণে অভিরাম মারুতে মুরারি।
ঈশানে ঈশান দাস নৈঋতে নরহরি॥
বেষ্টিত বৈষ্ণব সব কীর্ত্তন মণ্ডলে।
খোল করতাল বাজে ভাসে অশ্রুজলে॥
কোলাকুলি হুলাহুলি ভাবে নাহি ওর।
বলরাম দাস তহি ভাবেতে বিভোর॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যেই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-
পদাবলী”, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

যেই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই।
তুরতহি নাগর মিলল যাই॥
হেরইতে বিরহিণী চমকিত ভেল।
শ্যাম হরি নিজ কোর পর নেল॥
পুলকিত সব তনু ঝর ঝর ঘাম।
দুহুঁ বিবরণ কাঁপয়ে অবিরাম॥
আনন্দ-লোর ঈষত বহি যায়।
বয়ান বয়ান দুহুঁ হিয়ায় হিয়ায়॥
দূরে গেও যতহুঁ বিরহ-হুতাশ।
কিছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

.            *************************          

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর