কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
রজনী প্রভাতে উঠি নন্দের গৃহিনী
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

রজনী প্রভাতে উঠি নন্দের গৃহিনী।
দধির মন্থন করে তুলিতে নবনী॥
নিদ্রাগত ছিল কৃষ্ণ শয়ন মন্দিরে।
নিদ্রাভঙ্গ হইল বৈসে পালঙ্ক উপরে॥
আমার হয়েছে ক্ষুধা শুন গো জননী।
স্তন কিম্বা দেহ মোরে খাইতে নবনী॥
মা মা বলিয়া তবে বাহিরে আইলা।
কি খাব বলিয়া কৃষ্ণ কাঁদিতে লাগিলা॥
দেহ দেহ ননী দেহ বলে বারম্বার।
ক্ষুধায় ব্যাকুল প্রাণ হইল আমার॥
এত বলি দ্রুত ধরে মথনের দণ্ড।
ভাঙ্গিয়ে ফেলিব এই যত আছে ভাণ্ড॥
বলরাম দাসে কহে শুন নীলমণি।
কিঞ্চিৎ বিলম্ব কর দিব রে নবনী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা
॥ বিভাস॥

রজনী প্রভাতে উঠি নন্দের গৃহিনী।
দধির মন্থন করে তুলিতে নবনী॥
নিদ্রাগত ছিল কৃষ্ণ শয়ন মন্দিরে।
নিদ্রাভঙ্গ হইল বৈসে পালঙ্ক উপরে॥
আমার হয়েছে ক্ষুধা শুন গো জননী।
স্তন কিম্বা দেহ মোরে খাইতে নবনী॥
মা মা বলিয়া তবে বাহিরে আইলা।
কি খাব বলিয়া কৃষ্ণ কাঁদিতে লাগিলা॥
দেহ দেহ ননী দেহ বলে বারম্বার।
ক্ষুধায় ব্যাকুল প্রাণ হইল আমার॥
এত বলি দ্রুত ধরে মথনের দণ্ড।
ভাঙ্গিয়ে ফেলিব এই যত আছে ভাণ্ড॥
বলরাম দাসে কহে শুন নীলমণি।
কিঞ্চিৎ বিলম্ব কর দিব রে নবনী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা, ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

রজনী প্রভাতে উঠি নন্দের গৃহিণী।
দধির মন্থন করে তুলিতে নবনী॥
নিদ্রাগত ছিল কৃষ্ণ শয়ন মন্দিরে।
নিদ্রাভঙ্গ হইল বৈসে পালঙ্ক উপরে॥
আমার হয়েছে ক্ষুধা শুন গো জননী।
স্তন কিম্বা দেহ মোরে খাইতে নবনী॥
মা মা বলিয়া তবে বাহিরে আইলা।
কি খাব বলিয়া কৃষ্ণ কাঁদিতে লাগিলা॥
দেহ দেহ ননী দেহ বলে বারম্বার।
ক্ষুধায় ব্যাকুল প্রাণ হইল আমার॥
এত বলি দ্রুত ধরে মথনের দণ্ড।
ভাঙ্গিয়ে ফেলিব এই যত আছে ভাণ্ড॥
বলরাম দাসে কহে শুন নীলমণি।
কিঞ্চিৎ বিলম্ব কর দিব রে নবনী॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমি কিছু নাহি জানি ভাঙ্গিয়াছে ক্ষির ননী
ভনিতা বলরাম দাস / বলরাম
কবি বলরাম দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ১৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ টোড়ী॥

আমি কিছু নাহি জানি ভাঙ্গিয়াছে ক্ষীর ননী তোমারে সুধাই তার কথা।
না দেখি গোকুল চাঁদ কেমন করয়ে প্রাণ বলনা গোপাল পাব কোথা॥
আমি কি এমন জানি কোলে করি যাদুমণি যাদুরে করাই স্তনপান।
মোরে বিধি বিড়ম্বিল গোরস উথলি গেল তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥
গোপাল না নৈল কোলে ভুলিনু রোহিণী বোলে সে কোপে কোপিত যদুমণি।
কোপিত নয়নে চাইয়া ছিল মো পানে আমি কি এমন হবে জানি॥
তোমরা করিছ খেলা গোপাল কোথায় গেলা দৃঢ় করি বল এক বোল।
বলরাম দাস বলে আকূল  হইয়া সবে রাখালের মাঝে উতরোল॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ টোড়ী রাগ॥

আমি কিছু নাহি জানি, ভাঙ্গিয়াছে ক্ষীর ননী, তোমারে সুধাই তার কথা।
না দেখি গোকুলচাঁদে, কেমন করয়ে প্রাণ, বলনা গোপাল পাব কোথা॥
আমি কি এমন জানি, কোলে করি যাদুমণি, যাদুরে করাই স্তন পান।
মোরে বিধি বিড়ম্বিল, গোরস উথলি গেল, তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥
গোপাল না লৈনু কোলে, ভুলিনু রোহিণী বোলে, সে কোপে কুপিত যদুমণি।
কুপিত নয়ানে, চায়্যাছিল মোর পানে, আমি কি এমন হবে জানি॥
তোমরা করিছ খেলা, গোপাল কোথায় গেলা, দৃঢ় করি বল এক বোল্।
বলরাম দাস বলে, আকূল  হইয়া সবে, রাখালের মাঝে উতরোল॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ ) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

আমি কিছু নাহি জানি,             ভাঙ্গিয়াছে ক্ষির ননী,
তোমারে সুধাই তার কথা।
না দেখি গোকুল চান্দ,                কেমন করয়ে প্রাণ,
বলনা গোপাল পাব কোথা॥
আমি কি এমন জানি,               কোলে করি যাদুমণি,
যাদুরে করাই স্তন পান।
মোরে বিধি বিড়ম্বিল,                  গোরস উথলি গেল,
তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥
গোপাল না লৈনু কোলে,           ভুলিনু রোহিণী বোলে,
সে কোপে কুপিত যদুমণি।
কুপিত নয়নে,                    চাহিয়া ছিল মো পানে ,
আমি কি এমন হবে জানি॥
তোমরা করিছ খেলা,              গোপাল কোথায় গেলা,
দৃঢ় করি বল এক বোল।
বলরাম বলে,                                আকূল  হইয়া,
সব রাখালের মাঝে উতরোল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীযশোদার উক্তি
॥ তোড়ী॥

আমি কিছু নাহি জানি                        ভাঙ্গিয়াছে ক্ষির ননী
তোমারে সুধাই তার কথা।
না দেখি গোকুল চান্দ                           কেমন করয়ে প্রাণ
বলনা গোপাল পাব কোথা॥
আমি কি এমন জানি                          কোলে করি যাদুমণি
যাদুরে করাই স্তন পান।
মোরে বিধি বিড়ম্বিল                              গোরস উথলি গেল
তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥
গোপাল না লৈনু কোলে                       ভুলিনু রোহিণী বোলে
সে কোপে কুপিত যদুমণি।
কোপিত নয়ন কোণে                        চাহিয়াছিল আমা পানে
আমি কি এমন হবে জানি॥
তোমরা করিছ খেলা                         গোপাল কোথায় গেলা
দৃঢ় করি বল এক বোল।
বলরাম দাস বলে                               আকূল  হইয়া সভে
রাখালের মাঝে উতরোল॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

আমি কিছু নাহি জানি                ভাঙ্গিয়াছে ক্ষির ননী
তোমারে শুধাই তার কথা।
না দেখি  গোকুল চান্দ                     কেমন করয়ে প্রাণ
বলনা গোপাল পাব কোথা॥
আমি কি এমন জানি                   কোলে করি যাদুমণি
যাদুরে করাই স্তন পান।
মোরে বিধি বিড়ম্বিল                     গোরস উথলি গেল
তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥
গোপাল না লৈনু কোলে              ভুলিনু রোহিণী বোলে
সে কোপে কোপিত যাদুমণি।
কোপিত নয়ান কোণে                 চাইয়াছিল আমা পানে
আমি কি এমন হবে জানি॥
তোমরা করিছ খেলা                 গোপাল কোথায় গেলা
দৃঢ় করি বল এক বোল
 বলরাম দাস বলে                            আকুল হইয়া সভে
রাখালের মাঝে উতরোল॥

.            ***********            

.                                                                                            
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোঠে আমি যাব মা গো
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২২শ পল্লব, প্রকারান্তর সখ্য-বাত্সল্য, ১২১৭ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ১৭৫০ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

গোঠে আমি যাব মা গো গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরি চরাব॥
চূড়া বান্ধি দে গো মা মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাঁড়াইয়া রাজপথে॥
পীতধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতী।
সাজায় বিবিধ বেশে মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষিত কৈল রত্ন-ভূষণ।
কটীতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখি-পুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্ন-হার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপালের মুখ কাতর পরাণি॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী” , ২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

গোঠে আমি যাব মা গো গোঠে আমি যাব
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরি চরাব॥
চূড়া বান্ধি দেগো মা, মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাঁড়াঞা রাজপথে॥
পীত ধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের-তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতি।
সাজায় বিবিধ বেশ মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষিত কৈল রত্ন ভূষণ।
কটীতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখিপুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিল তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্নহার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপাল মুখ কাতর পরাণি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

গোঠে আমি যাব মাগো গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরী চরাব॥
চুড়া বান্ধি দেগো মা মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাঁড়াঞা রাজপথে॥
পীতধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতী।
সাজায় বিবিধ বেশে মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষিত কৈলা রত্ন ভূষণ।
কটিতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্পগুঞ্জা শিখিপুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্নহার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপাল মুখ কাতর পরাণী॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

গোঠে আমি যাব মা গো গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে @@@ চরাব॥
চুড়া বান্ধি দে গো মা মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাড়াঞা রাজপথে॥
পীতধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতী।
সাজায় বিবিধ বেশে মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষিত কৈলা রতন-ভূষণ।
কটিতে কিঙ্কিণী ধটী পীতবসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখি-পুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্নহার গলে॥
বলরামদাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপাল-মুখ কাতর পরাণী॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

গোঠে আমি যাব মা গো গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরী চরাব॥
চুড়া বান্ধি দে গো মা মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাড়াঞা রাজপথে॥
পীতধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতী।
সাজায় বিবিধ বেশে মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষিত কৈলা রতন-ভূষণ।
কটিতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখি-পুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্ন-হার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপাল মুখ কাতর পরাণী॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

গোঠে আমি যাব মা গো গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরী চরাব॥
চূড়া বান্ধি দে মাগো মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাড়াঞা রাজপথে॥
পীতধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতী।
সাজায় বিবিধ বেশে মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষিত কৈলা রতন-ভূষণ।
কটিতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখিপুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্নহার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপাল মুখ কাতর পরাণী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠলীলা
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ ভাটিয়ারী॥

গোঠে আমি যাব মা গো গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরি চরাব॥
চূড়া বান্ধি দে গো মা মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাঁড়াইয়া রাজপথে॥
পীতধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতী।
সাজায় বিবিধ বেশ মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষিত কৈল রতন-ভূষণ।
কটিতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখিপুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্ন-হার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপালের মুখ কাতর পরাণি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

গোঠে আমি যাব মা গো গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরি চরাব॥
চূড়া বান্ধি দে গো মা মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাঁড়াইয়া রাজপথে॥
পীতধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের-তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতী।
সাজায় বিবিধ বেশ মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষিত কৈল রত্ন-ভূষণ।
কটীতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখি-পুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্ন-হার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপালের মুখ কাতর পরাণি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোঠে আমি যাব মা গো, গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরি চরাব॥
চূড়া বান্ধি দে গো মা, মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাঁড়াইয়া রাজপথে॥
পীত ধড়া দে গো মা, গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতি।
সাজায় বিবিধ বেশে মনের আরতি॥
অঙ্গ বিভূষণ কৈল রতন ভূষণ।
কটীতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখিপুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চিত অঙ্গ রত্নহার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপালের মুখ কাতর পরাণি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোঠে আমি যাব মা গো, গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরি চরাব॥
চূড়া বান্ধি দে গো মা, মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাঁড়াইয়া রাজপথে॥
পীত ধড়া দে গো মা, গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতি।
সাজায় বিবিধ বেশে মনের আরতি॥
অঙ্গ বিভূষণ কৈল রতন ভূষণ।
কটীতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখি-পুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চিত অঙ্গ রত্নহার গলে॥
বলরামদাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপালের মুখ কাতর পরাণি॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ৩৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোঠে আমি যাব মা গো গোঠে আমি যাব।
শ্রীদাম সুদাম সঙ্গে বাছুরি চরাব॥
চূড়া বান্ধি দে গো মা মুরলী দে মোর হাতে।
আমার লাগিয়া শ্রীদাম দাঁড়াইয়া রাজপথে॥
পীতধড়া দে গো মা গলায় দেহ মালা।
মনে পড়ি গেল মোর কদম্বের তলা॥
শুনিয়া গোপালের কথা মাতা যশোমতী।
সাজায় বিবিধ বেশে মনের আরতি॥
অঙ্গে বিভূষণ কৈল রতন ভূষণ।
কটিতে কিঙ্কিণী ধটী পীত বসন॥
কিবা সাজাইল রূপ ত্রিভুবন জিনি।
পুষ্প গুঞ্জা শিখিপুচ্ছ চূড়ার টালনি॥
চরণে নূপুর দিলা তিলক কপালে।
চন্দনে চর্চ্চিত অঙ্গ রত্নহার গলে॥
বলরাম দাসে কয় সাজাইয়া রাণী।
নেহারে গোপালের মুখ কাতর পরাণী॥

.            ***********            

.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী
ভণিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, গোষ্ঠলীলা, ৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী।
আমরা সঙ্গের ভাই,                     তমুত না মন পাই,
তোমারে ভুলাবে কতখানি॥ ধ্রু॥
তৃণ খাইতে ধেনুগণ,                     যদি যায় দূর বন,
কেহো ত না যায় ফিরাইতে।
তোমার দুলাল কানু,                    পূরয়ে মোহন বেণু,
ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥
আমরা ফিরাইতে ধেনু,               তাহা নাহি দেয় কানু,
সদা ফিরে সুবলের পাছে।
সুবলে করিয়া কোলে,                 প্রেমে গদ গদ বোলে,
না জানি মরম কিবা আছে॥
কিবা লীলা করে এহ,                 বুঝিতে না পারে কেহ,
অপরূপ চরিত্র বিহরে।
বলরাম দাস বলে,                   বলাই দাদা নাহি জানে,
আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী।
আমরা সঙ্গের ভাই, তবু ত না মন পাই, তোমারে ভুলাবে কত খানি॥
তৃণ খাইতে ধেনুগণ, যদি যায় দূর বন, কেহ ত না যায় ফিরাইতে।
তোমার দুলাল কানু, পূরয়ে মোহন বেণু, ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥
আমরা ফিরাইতে ধেনু, তাহা নাহি দেয় কানু, সদা ফিরে সুবলের পাছে।
সুবলে করিয়া কোলে, প্রেমে গদ গদ বোলে, না জানি মরমে কিবা আছে॥
কিবা লীলা করে এহ, বুঝিতে না পারে কেহ, অপরূপ চরিত্র বিহরে।
বলরামদাস বলে, বলাই দাদা নাহি জানে, আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৩-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আগো মা তোমার গোপাল
কিবা জানয়ে মোহিনী।
আমরা সঙ্গের ভাই,                    তবু ত না মন পাই,
তোমারে ভুলাবে কতখানি॥
তৃণ খাইতে ধেনুগণ,                      যদি যায় দূর বন,
কেহ ত না যায় ফিরাইতে।
তোমার দুলাল কানু,                    পূরয়ে মোহন বেণু,
ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥
আমরা ফিরাইতে ধেনু,               তাহা নাহি দেয় কানু,
সদা ফিরে সুবলের পাছে।
সুবলে করিয়া কোলে,                প্রেমে গদ গদ বোলে,
না জানি মরম কিবা আছে॥
কিবা লীলা করে এহ,                বুঝিতে না পারে কেহ,
অপরূপ চরিত্র বিহরে।
বলরাম দাস বোলে,                 বলাই দাদা নাহি জানে,
আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আগো মা তোমার গোপাল
কিবা জানয়ে মোহিনী।
আমরা সঙ্গের ভাই, তবু ত না মন পাই,
তোমারে ভুলাবে কতখানি॥
তৃণ খাইতে ধেনুগণ, যদি যায় দূর বন,
কেহ ত না যায় ফিরাইতে।
তোমার দুলাল কানু, পূরয়ে মোহন বেণু,
ফিরে ধেনু মূরলীর গীতে॥
আমরা ফিরাইতে ধেনু, তাহা নাহি দেয় কানু,
সদা ফিরে সুবলের পাছে।
সুবলে করিয়া কোলে, প্রেমে গদগদ বোলে,
না জানি মরমে কিবা আছে॥
কিবা লীলা করে এহ, বুঝিতে না পারে কেহ,
অপরূপ চরিত্র বিহরে।
বলরামদাস বোলে, বলাইদাদা নাহি জানে,
আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥

.            ***********            

.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হের আরে বলরাম হাত দে মায়ের মাথে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

হের আরে বলরাম হাত দে মায়ের মাথে।
দেহ রাখিয়া প্রাণ দিলাম তোমার হাতে॥
আর এক কথা বলি শুন হলধর।
যশোদা নন্দন বলি না ভাবিহ পর॥
দূরে না লইহ ধেনু চরাইয় বাছুরি।
ষোড় শিঙ্গা রব দিহ পরাণে না মরি॥
দণ্ডে দশবার খায় তার নাহি লেখা।
নবনী লোভিত গোপাল পাছে আইসে একা॥
বলরাম দাসে কয় রাম সঙ্গে যাবে।
নয়ান গোচরে বাছায় সদাই রাখিবে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা
॥ শ্রীরাগ - বড় একতালা॥

হের আয়রে বলরাম হাত দে মোর মাথে।
ধড় রাখিয়া প্রাণ দিলাম তোমার হাতে॥
আর এক কথা কহি শুন হলধর।
যশোদার বালক বলি না ভাবিহ পর॥
আপন অনুজ তোর এমতি রাখিহ।
আমার সমান স্নেহ বনেতে করিহ॥
দণ্ডে দশবার খায় তার নাহি লেখা।
নবনী-লোভিত গোপাল পাছে আইসে একা॥
যাচিয়া নবনী দিয়ো নিকটে রাখিহ।
বেলি অবসান হইলে সকালে আসিহ॥
বলরাম দাস বলে শুন নন্দরাণী।
মনে কিছু ভেব না (মা) আনি দিব যাদুমণি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠলীলা
॥ ভাটিয়ারী॥

হের আরে বলরাম হাত দে মায়ের মাথে।
দেহ রাখিয়া প্রাণ দিলাম তোমার হাতে॥
আর এক কথা বলি শুন হলধর।
যশোদা নন্দন বলি না ভাবিহ পর॥
দূরে না লইহ ধেনু চরাইয় বাছুরি।
ষোড় শিঙ্গা রব দিহ পরাণে না মরি॥
দণ্ডে দশবার খায় তার নাহি লেখা।
নবনী লোভিত গোপাল পাছে আইসে একা॥
বলরাম দাসে কয় রাম সঙ্গে যাবে।
নয়ান গোচরে বাছায় সদাই রাখিবে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

হের আরে বলরাম হাত দে মায়ের মাথে।
দেহ রাখিয়া প্রাণ দিলাম তোমার হাতে॥
আর এক কথা বলি শুন হলধর।
যশোদা নন্দন বলি না ভাবিহ পর॥
দূরে না লইহ ধেনু চরাইয় বাছুরি।
যোড় শিঙ্গা রব দিহ পরাণে না মরি॥
দণ্ডে দশবার খায় তার নাহি লেখা।
নবনী লোভিত গোপাল পাছে আইসে একা॥
বলরাম দাসে কয় রাম সঙ্গে যাবে।
নয়ান গোচরে বাছায় সদাই রাখিবে॥

.            ***********            

.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, ৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ।
যারে ঘুমে চিয়াইয়ে,                দুগ্ধ পিয়াইতে নারি,
তারে তুমি গোঠে সাজাইছ॥
কত জন্ম ভাগ্য করি,              আরাধিয়া হর গৌরী,
পাইলাম এ সুখ পাসরা।
কেমনে ধৈরজ ধরে,             মায়ে কি বলিতে পারে,
বনে যাউ এ দুগ্ধ কোঙরা॥
বসন ধরিয়া হাতে,            ফিরে গোপাল সাথে সাথে,
দণ্ডে দণ্ডে দশবার খায়।
এহেন দুধের বাছা,                  বনেতে বিদায় দিয়া,
কেমনে ধরিবে প্রাণ মায়॥
জল খাইতে গিয়াছিল,               আনলে বেড়িয়াছিল ,
দু হাতে আনল ধরি পিয়ে।
এ নন্দের ভাগ্য বলে,                যশোদার পূণ্য ফলে,
তেঞি সে গোপাল মোর জিয়ে॥
বলরাম দাসের বাণী,                    শুন শুন নন্দরাণী,
কেন সদা ভাবিতেছ তুমি।
গোপাল সাজায়ে দেহ,                 মোর মিনতি মানহ,
সঙ্গে যাইব গোঠে আমি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ।
যারে ঘুমে চিয়াইয়ে                  দুগ্ধ পিয়াইতে নারি
তারে তুমি গোঠে সাজাইছ॥
কত জন্ম ভাগ্য করি                আরাধিয়া হর গৌরী
পাইলাম এ সুখ পাসরা।
কেমনে ধৈরজ ধরে                মায়ে কি বলিতে পারে
বনে যাও  এ দুগ্ধ কোঙরা॥
বসন ধরিয়া হাতে                ফিরে গোপাল সাথে সাথে
দণ্ডে দণ্ডে দশবার খায়।
এ হেন দুধের বাছা                    বনেতে বিদায় দিয়া
কেমনে ধরিবে প্রাণ মায়॥
জল খাইতে গিয়াছিল                  আনলে বেড়িয়াছিল
দু হাতে আনল ধরি পিয়ে।
এ নন্দের ভাগ্য বলে                   যশোদার পূণ্য ফলে
তেঞি সে গোপাল মোর জিয়ে॥
বলরাম দাসের বাণী                      শুন শুন নন্দরাণী
কেন সদা ভাবিতেছ তুমি।
গোপাল সাজায়ে দেহ,                  মোর মিনতি মানহ
সঙ্গে যাইব গোঠে আমি॥

.            ***********            

.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নটবর নব কিশোর রায়
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

নটবর নব কিশোর রায়,
রহিয়া রহিয়া যায় গো।
ঠমকি ঠমকি চলত রঙ্গে,
ধূলি ধূসর শ্যাম অঙ্গে,
হৈ হৈ হৈ ঘনয়ে বোলত,
মধুর মুরলী বায় গো॥
নীল কমল বদন চান্দ,
ভাঙর ভঙ্গিম মদন ফান্দ,
কুটিল অলকা তিলক ভাল,
কলিত ললিত তায় গো।
চূড়ে বরিহা গোকুলচন্দ,
কিবা পবন বায় মন্দ মন্দ,
মধুকর মন হয়ে বিভোর,
নিরখি নিরখি ধায় গো॥
নয়ানে সঘনে উলটি উলটি,
হেরি হেরি পালটি পালটি,
গোরী গোরী থোরি থোরি,
আন নাহিক ভায় গো।
বলরাম দাস করতহিঁ আশ,
রাখাল সঙ্গে সদাই বাস,
বেত্র মুরলী লইয়ে খুরলি,
সঙ্গে সঙ্গে যায় গো॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, গোষ্ঠখণ্ড, ২৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ খাম্বাজ মিশ্র - বৃহৎ জপতাল॥

নটবর নব কিশোর রায়
.        রহিয়া রহিয়া যায় গো।
ঠমকি ঠমকি চলত রঙ্গ
ধূলি ধুসর শ্যাম অঙ্গ
হৈ হৈ হৈ সঘনে বোলত
.        মধুর মুরলী বায় গো॥
নীল কমল বদন চাঁদ
ভাঙর ভঙ্গিম মদন ফাঁদ
কুটিল অলকা তিলক ভাল
.        কলিত ললিত তায় গো।
চূড়ে বরিহা গোকুলচন্দ
পবনে দোলয়ে মন্দ মন্দ
মধুকর মন হয়ে বিভোর
.        নিরখি নিরখি ধায় গো॥
নয়ানে সঘনে উলটি উলটি
হেরি হেরি পালটি পালটি
গোরী গোরী থোরি থোরি
.        আন নাহিক ভায় গো।
বলরাম দাস করত আশ
রাখাল সঙ্গে সদাই বাস
বেত্র মুরলী লইয়া খুরলী
.        সঙ্গে সঙ্গে যায় গো॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠযাত্রা
॥ বিহাগড়া॥

নটবর নব কিশোর রায়
.        রহিয়া রহিয়া যায় গো।
ঠমকি ঠমকি চলত রঙ্গে
ধূলি ধূসর শ্যাম অঙ্গে
হৈ হৈ হৈ বোলত ঘন
.        মধুর মুরলী বায় গো॥
নীল কমল বদন চান্দ
ভাঙর ভঙ্গিম মদন ফান্দ
কুটিল অলকা তিলক ভাল
.        কলিত ললিত তায় গো।
চূড়ে বরিহা গোকুলচন্দ
পবন বহয়ে মন্দ মন্দ
মধুকর মন হয়ে বিভোর
.        নিরখি নিরখি ধায় গো॥
নয়ানে সঘনে উলটি উলটি
হেরি হেরি পালটি পালটি
গোরী গোরী থোরি থোরি
.        আন নাহিক ভায় গো।
বলরাম দাস করত আশ
রাখাল সঙ্গে সদাই বাস
বেত্র মুরলী লইয়ে খুরলি
.        সঙ্গে সঙ্গে যায় গো॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

নটবর নব কিশোর রায়
.        রহিয়া রহিয়া যায় গো।
ঠমকি ঠমকি চলত রঙ্গে
ধূলি ধূসর শ্যাম - অঙ্গে
হৈ হৈ হৈ ঘনয়ে বোলত
.        মধুর মুরলী বায় গো॥
নীল কমল বদন চান্দ
ভাঙর ভঙ্গিম মদন ফান্দ
কুটিল অলকা তিলক ভাল
.        কলিত ললিত তায় গো।
চূড়ে বরিহা গোকুলচন্দ
কিবা পবন বায় মন্দ মন্দ
মধুকর মন হয়ে বিভোর
.        নিরখি নিরখি ধায় গো॥
নয়ানে সঘনে উলটি উলটি
হেরি হেরি পালটি পালটি
গোরী গোরী থোরি থোরি
.        আন নাহিক ভায় গো।
বলরাম দাস করতহিঁ আশ
রাখাল সঙ্গে সদাই বাস
বেত্র মুরলী লইয়ে খুরলি
.        সঙ্গে সঙ্গে যায় গো॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নটবর নব কিশোর রায়, রহিয়া রহিয়া যায় গো।
ঠমকি ঠমকি চলত রঙ্গে, ধূলি ধূসর শ্যাম অঙ্গে
হৈ হৈ হৈ ঘন যে বোলত, মধুর মুরলী বায় গো॥
নীল কমল বদন চান্দ, ভাঙর ভঙ্গিম মদন ফান্দ
কুটিল অলকা তিলক ভাল, কলিত ললিত তায় গো।
চূড়ে বরিহা গোকুল চন্দ, কিবা পবন বয় মন্দ মন্দ
মধুকর মন হয়ে বিভোর, নিরখি নিরখি ধায় গো॥
নয়ানে সঘনে উলটি উলটি, হেরি হেরি পালটি পালটি
গোরী গোরী থোরি থোরি আন নাহিক ভায় গো।
বলরাম দাস, করতহি আশ, রাখাল সঙ্গে সদাই বাস
বেত্র মুরলী, লইয়ে খুরলি, সঙ্গে সঙ্গে যায় গো॥

ভিন্ন ভণিতাযুক্ত পাঠান্তর -
এই পদটি ভণিতার অংশের পরিবর্তে এই দুই কলি বরাহনগর পাটবাড়ীর এক পুথিতে
পাইয়াছি---
অরুণ অধরে ইষত হাস, মধুর মধুর অমিয়া ভাষ
খঞ্জনবর গঞ্জন হতি, বঙ্ক নয়নে চায় গো।
রসের আবেশে অবশ দেহ, মন্থর গতি চলহি সেহ
দাস লোচন দেখয়ে অমনি, হাসিয়া হাসিয়া চায় গো॥
---বিমান বিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের পদাবলী॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নটবর নব কিশোর রায়, রহিয়া রহিয়া যায় গো।
ঠমকি ঠমকি চলত রঙ্গে, ধূলি ধূসর শ্যাম অঙ্গে
হৈ হৈ হৈ ঘন যে বোলত, মধুর মুরলী বায় গো॥
নীলকমল বদন চান্দ, ভাঙর ভঙ্গিম মদন ফান্দ
কুটিল অলকা তিলক ভাল, কলিত ললিত তায় গো।
চূড়ে বরিহা গোকুল চন্দ, কিবা পবন বয় মন্দ মন্দ
মধুকর-মন হয়ে বিভোর, নিরখি নিরখি ধায় গো॥
নয়ানে সঘনে উলটি উলটি, হেরি হেরি পালটি পালটি
গোরী গোরী থোরি থোরি আন নাহিক ভায় গো।
বলরামদাস, করতহি আশ, রাখাল সঙ্গে সদাই বাস
বেত্র মুরলী, লইয়ে খুরলি, সঙ্গে সঙ্গে যায় গো॥

ভিন্ন ভণিতাযুক্ত পাঠান্তর -
এই পদটি ভণিতার অংশের পরিবর্তে এই দুই কলি বরাহনগর পাটবাড়ীর এক পুথিতে
পাইয়াছি---
অরুণ অধরে ইষত হাস, মধুর মধুর অমিয়া ভাষ
খঞ্জনবর গঞ্জন হতি, বঙ্ক নয়নে চায় গো।
রসের আবেশে অবশ দেহ, মন্থর গতি চলহি সেহ
দাস লোচন দেখয়ে অমনি, হাসিয়া হাসিয়া চায় গো॥
---বিমান বিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের পদাবলী॥

.            ***********            

.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লৈয়া
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২১শ পল্লব, উত্তর গোষ্ঠ, ১২০৬ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৭৩৭ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লৈয়া।
মাথামাথি রণ করে শ্রমযুত হৈয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুখাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হইল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে।
সকালে যাইতে মা কহিয়াছে সভারে॥
মলিন হইল কানাই মুখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সভাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী” , ৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

          ॥ শ্রীরাগ॥

যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লইয়া।
মাতামাতি রণ করে শ্রমযুত হৈয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুখাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হৈল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে॥
সকালে যাইতে মা কহিয়াছে সভারে॥
মলিন হইল কানাই মুখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সবাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লৈয়া।
মাথামাথি রণ করে শ্রমযুত হৈয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুকাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হইল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে।
সকালে যাইতে মা কহিয়াছে সবারে॥
মলিন হইল কানাই মুখখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সবাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লৈয়া।
মাতামাতি রণ করে শ্রমযুত হৈয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুকাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হইল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে।
সকালে যাইতে মা কহিয়াছে সবারে॥
মলিন হইল কানাই মুখখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সবাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ ধানশী - একতালা॥

যমুনার তীরে কাহ্নাই শ্রীদামেরে লইয়া।
মাতামাতি রণকরে শ্রমযুত হইয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুখাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হইল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে।
সকালে যাইতে মা কৈয়াছে সভারে॥
মলিন হইল কাহ্নাই মুখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সভাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠযাত্রা
॥ শ্রীরাগ॥

যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লৈয়া।
মাতামাতি রণ করে শ্রমযুত হৈয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুখাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হইল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে।
সকালে যাইতে মা কহিয়াছে সভারে॥
মলিন হইল কানাই মুখখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সভাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লৈয়া।
মাথামাথি রণ করে শ্রমযুত হৈয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুখাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হইল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে।
সকালে যাইতে মা কহিয়াছে সভারে॥
মলিন হইল কানাই মুখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সভাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লৈয়া।
মাথামাথি রণ করে শ্রমযুত হৈয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুখাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হইল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে।
সকালে যাইতে মা কহিয়াছে সভারে॥
মলিন হইল কানাই মুখখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সভাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যমুনার তীরে কানাই শ্রীদামেরে লৈয়া।
মাথামাথি রণ করে শ্রমযুত হৈয়া॥
প্রখর রবির তাপে শুখাইল মুখ।
দেখি সব সখাগণের মনে হইল দুখ॥
আর না খেলিব ভাই চল যাই ঘরে।
সকালে যাইতে মা কহিয়াছে সভারে॥
মলিন হইল কানাই মুখখানি তোমার।
দেখিয়া বিদরে হিয়া আমা সভাকার॥
বেলি অবসান হৈল চল ঘরে যাই।
কহে বলরাম দূর বনে গেল গাই॥

.            ***********            

.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাম কানু দুই ভাই দুই দিকে দাঁড়াইল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, গোষ্ঠলীলা, ৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

রাম কানু দুই ভাই দুই দিকে দাঁড়াইল।
দুজনে সমান খেলু বাঁটিয়া লইল॥
সুবল কানায়ের দিকে নাচিতে লাগিল।
শ্রীদাম সুদাম তারা কানাইয়ের দিকে হৈল॥
সভাই সমান খেলু বাঁটিয়া লইল।
হারিলে চড়িব কান্ধে এই পণ করিল॥
আজুকার খেলাতে ভাই যে জন হারিবে।
কান্ধে করি বংশীবটে রাখিয়া আসিবে॥
সাতলি ভাঙ্গিতে নারে ভেয়েরে কানাই।
আপনি সাতলি ভাঙ্গি জিতল বলাই॥
বলরাম দাসে কয় শুন প্রাণ কানু।
কান্ধে করি লয়ে চল চরে যেথা ধেনু॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠযাত্রা
রাখালগণের খেলা
॥ ভাটিয়ারী॥

রাম কানু দুই ভাই দুদিকে দাঁড়াইল।
দুজনে সমান খেলু বাঁটিয়া লইল॥
সুবল কানায়ের দিকে নাচিতে লাগিল।
শ্রীদাম সুদাম বলাইয়ের দিকে হৈল॥
দুভাই সমান খেলু বাঁটিয়া লইল।
হারিলে চড়িব কান্ধে এই পণ কৈল॥
আজুকার খেলাতে ভাই যে জন হারিবে।
কান্ধে করি বংশীবটে রাখিয়া আসিবে॥
সাতলি ভাঙ্গিতে নারে ভেয়ারে কানাই।
আপনি সাতলি ভাঙ্গি জিতল বলাই॥
বলরাম দাসে কয় শুন প্রাণ কানু।
কান্ধে করি লয়ে চল চরে যেথা ধেনু॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

রাম কানু দুই ভাই দুই দিকে দাঁড়াইল।
দুজনে সমান খেলু বাঁটিয়া লইল॥
সুবল কানায়ের দিকে নাচিতে লাগিল।
শ্রীদাম সুদাম তারা কানাইয়ের দিকে হৈল॥
সভাই সমান খেলু বাঁটিয়া লইল।
হারিলে চড়িব কান্ধে এই পণ করিল॥
আজুকার খেলাতে ভাই যে জন হারিবে।
কান্ধে করি বংশীবটে রাখিয়া আসিবে॥
সাতলি ভাঙ্গিতে নারে ভেয়েরে কানাই।
আপনি সাতলি ভাঙ্গি জিতল বলাই
বলরাম দাসে কয় শুন প্রাণ কানু
কান্ধে করি লয়ে চল চরে যেথা ধেনু॥

.            ***********            

.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ২৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়।
সুবলে করিয়া কান্ধে বসন আঁটিয়া বান্ধে বংশীবট তলে লইয়া যায়॥
শ্রীদাম বলাই লইয়া চলিতে না পারে ধাইয়া শ্রমজল ধারা বহে অঙ্গে।
এখন খেলাব রবে হইব বলাইয়ের দিগে আর না খেলাব কানাইয়ের সঙ্গে॥
কানাই না জিতে কভু জিতিলে হারয়ে তবু হারিলে জিতয়ে বলরাম।
খেলিব বলাইয়ের সাথে চড়িব কানাইয়ের কান্ধে নহে কান্ধে করিব ঘনশ্যাম॥
মত্ত বলাই চান্দে কে পারে করিতে কান্ধে খেলিতে যাইতে লাগে ভয়।
গেড়ুয়া লইয়া করে হারিলে সভারে মারে বলরাম দাস দেখি কয়॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়।
সুবলে করিয়া কান্ধে, বসন আঁটিয়া বান্ধে, বংশীবটতলে লইয়া যায়॥
শ্রীদাম বলাই লইয়া, চলিতে না পারে ধাইয়া, শ্রমজল ধারা বহে অঙ্গে।
এখন খেলারবে হইব বলাইয়ের দিগে আর না খেলাব কানায়ের সঙ্গে॥
কানাই না জিতে কভু, জিতিলে হারায় তবু, হারিলে জিতয়ে বলরাম।
খেলিব বলাইয়ের সাথে, চড়িব কানায়ের কান্দে, নহে কান্দে করিব ঘনশ্যাম॥
মত্ত বলাই চাঁদে, কে পারে করিতে কান্দে, খেলিতে যাইতে লাগে ভয়।
গেড়ুয়া লইয়া করে, হারিলে সবারে মারে, বলরাম দাস দেখি কয়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়।
সুবলে করিয়া কান্ধে,                          বসন আঁটিয়া বান্ধে,
বংশী বট তলে লইয়া যায়॥
শ্রীদাম বলাই লইয়া,                        চলিতে না পারে ধাইয়া,
শ্রমজল ধারা বহে অঙ্গে।
এখন খেলাব যবে,                            হইব বলাইয়ের দিগে,
আর না খেলাব কানাইয়ের সঙ্গে॥
কানাই না জিনে কভু,                          জিনিলে হারয়ে তবু,
হারিলে জিতয়ে বলরাম।
খেলিব বলাইয়ের সঙ্গে,                   চড়িব কানাইয়ের স্কন্ধে,
নহে কান্ধে করিব ঘনশ্যাম॥
মত্ত বলাই চান্দে,                         কে করিতে পারে কান্ধে,
খেলিতে যাইতে  লাগে ভয়।
গেড়ুয়া লইয়া করে,                            হারিলে সবারে মারে
বলরাম দাস দেখি কয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠযাত্রা
রাখালগণের খেলা
॥ ধানশী॥

আজ কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়।
শ্রীদামে করিয়া কান্ধে                        বসন আঁটিয়া বান্ধে
বংশীবটের তলে লইয়া যায়॥
সুবল বলাই লৈয়া                        চলিতে না পারে ধাইয়া
শ্রমজলধারা বহে অঙ্গে।
এখন খেলিব যবে                              হইব বলাইর দিগে
আর না খেলিব কানুর সঙ্গে॥
কানাই না জিতে কভু                      জিতিলে হারয়ে তভু
হারিলে জিতয়ে বলরাম।
খেলিয়া বলাইর সঙ্গে                       চড়িব কানাইর কান্ধে
নহে কান্ধে নিব ঘনশ্যাম॥
মত্ত বলাইচান্দে                         কে করিতে পারে কান্ধে
খেলিতে যাইতে  লাগে ভয়।
গেড়ুয়া লইয়া করে                         হারিলে সভারে মারে
বলরাম দাস দেখি কয়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৪৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥

আজ কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়।
সুবলে করিয়া কান্ধে                         বসন আঁটিয়া বান্ধে
বংশীবটের তলে লইয়া যায়॥
শ্রীদাম বলাই লৈয়া                       চলিতে না পারে ধাইয়া
শ্রম-জল-ধারা বহে অঙ্গে।
এখন খেলিব যবে                              হইব বলাইর দিগে
আর না খেলাব কানাইর সঙ্গে॥
কানাই না জিতে কভু,                       জিতিলে হারয়ে তভু
হারিলে জিতয়ে বলরাম।
খেলিব বলাইর সঙ্গে                        চড়িব কানাইর স্কন্ধে
নহে কান্ধে নিব ঘন-শ্যাম॥
মত্ত বলাই-চান্দে                         কে করিতে পারে কান্ধে
খেলিতে যাইতে  লাগে ভয়।
গেড়ুয়া লইয়া করে                          হারিলে সভারে মারে
বলরাম দাস দেখি কয়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়।
সুবলে করিয়া কান্ধে                      বসন আঁটিয়া বান্ধে
বংশীবটের তলে লইয়া যায়॥
শ্রীদাম বলাই লৈয়া                     চলিতে না পারে ধাইয়া
শ্রমজলধারা বহে অঙ্গে।
এখন খেলিব যবে                             হইব বলাইর দিগে
আর না খেলিব কানাই সঙ্গে॥
কানাই না জিতে কভু                       জিতিলে হারয়ে তভু
হারিলে জিতয়ে বলরাম।
খেলিয়া বলাইর সঙ্গে                       চড়িব কানাইর কান্ধে
নহে কান্ধে নিব ঘনশ্যাম॥
মত্ত বলাই চান্দে                       কে করিতে পারে কান্ধে
খেলিতে যাইতে  লাগে ভয়।
গেড়ুয়া লইয়া করে                        হারিলে সভারে মারে
বলরামদাস দেখি কয়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়।
সুবলে করিয়া কান্ধে                       বসন আঁটিয়া বান্ধে
বংশীবটের তলে লইয়া যায়॥
শ্রীদাম বলাই লৈয়া                      চলিতে না পারে ধাইয়া
শ্রমজলধারা বহে অঙ্গে।
এখন খেলিব যবে                           হইব বলাইর দিগে
আর না খেলিব কানাই সঙ্গে॥
কানাই না জিতে কভু                     জিতিলে হারয়ে তভু
হারিলে জিতয়ে বলরাম।
খেলিয়া বলাইর সঙ্গে                     চড়িব কানাইর কান্ধে
নহে কান্ধে নিব ঘনশ্যাম॥
মত্ত বলাই চান্দে                     কে করিতে পারে কান্ধে
খেলিতে যাইতে  লাগে ভয়।
গেড়ুয়া লইয়া করে                      হারিলে সভারে মারে
বলরামদাস দেখি কয়॥

.            ***********            

.                                                                             
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর