| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| আমি কিছু নাহি জানি ভাঙ্গিয়াছে ক্ষির ননী ভনিতা বলরাম দাস / বলরাম কবি বলরাম দাস ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ টোড়ী॥ আমি কিছু নাহি জানি ভাঙ্গিয়াছে ক্ষীর ননী তোমারে সুধাই তার কথা। না দেখি গোকুল চাঁদ কেমন করয়ে প্রাণ বলনা গোপাল পাব কোথা॥ আমি কি এমন জানি কোলে করি যাদুমণি যাদুরে করাই স্তনপান। মোরে বিধি বিড়ম্বিল গোরস উথলি গেল তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥ গোপাল না নৈল কোলে ভুলিনু রোহিণী বোলে সে কোপে কোপিত যদুমণি। কোপিত নয়নে চাইয়া ছিল মো পানে আমি কি এমন হবে জানি॥ তোমরা করিছ খেলা গোপাল কোথায় গেলা দৃঢ় করি বল এক বোল। বলরাম দাস বলে আকূল হইয়া সবে রাখালের মাঝে উতরোল॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ টোড়ী রাগ॥ আমি কিছু নাহি জানি, ভাঙ্গিয়াছে ক্ষীর ননী, তোমারে সুধাই তার কথা। না দেখি গোকুলচাঁদে, কেমন করয়ে প্রাণ, বলনা গোপাল পাব কোথা॥ আমি কি এমন জানি, কোলে করি যাদুমণি, যাদুরে করাই স্তন পান। মোরে বিধি বিড়ম্বিল, গোরস উথলি গেল, তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥ গোপাল না লৈনু কোলে, ভুলিনু রোহিণী বোলে, সে কোপে কুপিত যদুমণি। কুপিত নয়ানে, চায়্যাছিল মোর পানে, আমি কি এমন হবে জানি॥ তোমরা করিছ খেলা, গোপাল কোথায় গেলা, দৃঢ় করি বল এক বোল্। বলরাম দাস বলে, আকূল হইয়া সবে, রাখালের মাঝে উতরোল॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ ) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ আমি কিছু নাহি জানি, ভাঙ্গিয়াছে ক্ষির ননী, তোমারে সুধাই তার কথা। না দেখি গোকুল চান্দ, কেমন করয়ে প্রাণ, বলনা গোপাল পাব কোথা॥ আমি কি এমন জানি, কোলে করি যাদুমণি, যাদুরে করাই স্তন পান। মোরে বিধি বিড়ম্বিল, গোরস উথলি গেল, তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥ গোপাল না লৈনু কোলে, ভুলিনু রোহিণী বোলে, সে কোপে কুপিত যদুমণি। কুপিত নয়নে, চাহিয়া ছিল মো পানে , আমি কি এমন হবে জানি॥ তোমরা করিছ খেলা, গোপাল কোথায় গেলা, দৃঢ় করি বল এক বোল। বলরাম বলে, আকূল হইয়া, সব রাখালের মাঝে উতরোল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীযশোদার উক্তি ॥ তোড়ী॥ আমি কিছু নাহি জানি ভাঙ্গিয়াছে ক্ষির ননী তোমারে সুধাই তার কথা। না দেখি গোকুল চান্দ কেমন করয়ে প্রাণ বলনা গোপাল পাব কোথা॥ আমি কি এমন জানি কোলে করি যাদুমণি যাদুরে করাই স্তন পান। মোরে বিধি বিড়ম্বিল গোরস উথলি গেল তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥ গোপাল না লৈনু কোলে ভুলিনু রোহিণী বোলে সে কোপে কুপিত যদুমণি। কোপিত নয়ন কোণে চাহিয়াছিল আমা পানে আমি কি এমন হবে জানি॥ তোমরা করিছ খেলা গোপাল কোথায় গেলা দৃঢ় করি বল এক বোল। বলরাম দাস বলে আকূল হইয়া সভে রাখালের মাঝে উতরোল॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ আমি কিছু নাহি জানি ভাঙ্গিয়াছে ক্ষির ননী তোমারে শুধাই তার কথা। না দেখি গোকুল চান্দ কেমন করয়ে প্রাণ বলনা গোপাল পাব কোথা॥ আমি কি এমন জানি কোলে করি যাদুমণি যাদুরে করাই স্তন পান। মোরে বিধি বিড়ম্বিল গোরস উথলি গেল তা দেখি ধরিতে নারি প্রাণ॥ গোপাল না লৈনু কোলে ভুলিনু রোহিণী বোলে সে কোপে কোপিত যাদুমণি। কোপিত নয়ান কোণে চাইয়াছিল আমা পানে আমি কি এমন হবে জানি॥ তোমরা করিছ খেলা গোপাল কোথায় গেলা দৃঢ় করি বল এক বোল বলরাম দাস বলে আকুল হইয়া সভে রাখালের মাঝে উতরোল॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী ভণিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, গোষ্ঠলীলা, ৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ আগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী। আমরা সঙ্গের ভাই, তমুত না মন পাই, তোমারে ভুলাবে কতখানি॥ ধ্রু॥ তৃণ খাইতে ধেনুগণ, যদি যায় দূর বন, কেহো ত না যায় ফিরাইতে। তোমার দুলাল কানু, পূরয়ে মোহন বেণু, ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥ আমরা ফিরাইতে ধেনু, তাহা নাহি দেয় কানু, সদা ফিরে সুবলের পাছে। সুবলে করিয়া কোলে, প্রেমে গদ গদ বোলে, না জানি মরম কিবা আছে॥ কিবা লীলা করে এহ, বুঝিতে না পারে কেহ, অপরূপ চরিত্র বিহরে। বলরাম দাস বলে, বলাই দাদা নাহি জানে, আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ আগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী। আমরা সঙ্গের ভাই, তবু ত না মন পাই, তোমারে ভুলাবে কত খানি॥ তৃণ খাইতে ধেনুগণ, যদি যায় দূর বন, কেহ ত না যায় ফিরাইতে। তোমার দুলাল কানু, পূরয়ে মোহন বেণু, ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥ আমরা ফিরাইতে ধেনু, তাহা নাহি দেয় কানু, সদা ফিরে সুবলের পাছে। সুবলে করিয়া কোলে, প্রেমে গদ গদ বোলে, না জানি মরমে কিবা আছে॥ কিবা লীলা করে এহ, বুঝিতে না পারে কেহ, অপরূপ চরিত্র বিহরে। বলরামদাস বলে, বলাই দাদা নাহি জানে, আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ আগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী। আমরা সঙ্গের ভাই, তবু ত না মন পাই, তোমারে ভুলাবে কতখানি॥ তৃণ খাইতে ধেনুগণ, যদি যায় দূর বন, কেহ ত না যায় ফিরাইতে। তোমার দুলাল কানু, পূরয়ে মোহন বেণু, ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥ আমরা ফিরাইতে ধেনু, তাহা নাহি দেয় কানু, সদা ফিরে সুবলের পাছে। সুবলে করিয়া কোলে, প্রেমে গদ গদ বোলে, না জানি মরম কিবা আছে॥ কিবা লীলা করে এহ, বুঝিতে না পারে কেহ, অপরূপ চরিত্র বিহরে। বলরাম দাস বোলে, বলাই দাদা নাহি জানে, আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥ এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ আগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী। আমরা সঙ্গের ভাই, তবু ত না মন পাই, তোমারে ভুলাবে কতখানি॥ তৃণ খাইতে ধেনুগণ, যদি যায় দূর বন, কেহ ত না যায় ফিরাইতে। তোমার দুলাল কানু, পূরয়ে মোহন বেণু, ফিরে ধেনু মূরলীর গীতে॥ আমরা ফিরাইতে ধেনু, তাহা নাহি দেয় কানু, সদা ফিরে সুবলের পাছে। সুবলে করিয়া কোলে, প্রেমে গদগদ বোলে, না জানি মরমে কিবা আছে॥ কিবা লীলা করে এহ, বুঝিতে না পারে কেহ, অপরূপ চরিত্র বিহরে। বলরামদাস বোলে, বলাইদাদা নাহি জানে, আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ। যারে ঘুমে চিয়াইয়ে, দুগ্ধ পিয়াইতে নারি, তারে তুমি গোঠে সাজাইছ॥ কত জন্ম ভাগ্য করি, আরাধিয়া হর গৌরী, পাইলাম এ সুখ পাসরা। কেমনে ধৈরজ ধরে, মায়ে কি বলিতে পারে, বনে যাউ এ দুগ্ধ কোঙরা॥ বসন ধরিয়া হাতে, ফিরে গোপাল সাথে সাথে, দণ্ডে দণ্ডে দশবার খায়। এহেন দুধের বাছা, বনেতে বিদায় দিয়া, কেমনে ধরিবে প্রাণ মায়॥ জল খাইতে গিয়াছিল, আনলে বেড়িয়াছিল , দু হাতে আনল ধরি পিয়ে। এ নন্দের ভাগ্য বলে, যশোদার পূণ্য ফলে, তেঞি সে গোপাল মোর জিয়ে॥ বলরাম দাসের বাণী, শুন শুন নন্দরাণী, কেন সদা ভাবিতেছ তুমি। গোপাল সাজায়ে দেহ, মোর মিনতি মানহ, সঙ্গে যাইব গোঠে আমি॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ বলরাম তুমি মোর গোপাল লৈয়া যাইছ। যারে ঘুমে চিয়াইয়ে দুগ্ধ পিয়াইতে নারি তারে তুমি গোঠে সাজাইছ॥ কত জন্ম ভাগ্য করি আরাধিয়া হর গৌরী পাইলাম এ সুখ পাসরা। কেমনে ধৈরজ ধরে মায়ে কি বলিতে পারে বনে যাও এ দুগ্ধ কোঙরা॥ বসন ধরিয়া হাতে ফিরে গোপাল সাথে সাথে দণ্ডে দণ্ডে দশবার খায়। এ হেন দুধের বাছা বনেতে বিদায় দিয়া কেমনে ধরিবে প্রাণ মায়॥ জল খাইতে গিয়াছিল আনলে বেড়িয়াছিল দু হাতে আনল ধরি পিয়ে। এ নন্দের ভাগ্য বলে যশোদার পূণ্য ফলে তেঞি সে গোপাল মোর জিয়ে॥ বলরাম দাসের বাণী শুন শুন নন্দরাণী কেন সদা ভাবিতেছ তুমি। গোপাল সাজায়ে দেহ, মোর মিনতি মানহ সঙ্গে যাইব গোঠে আমি॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায় ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়। সুবলে করিয়া কান্ধে বসন আঁটিয়া বান্ধে বংশীবট তলে লইয়া যায়॥ শ্রীদাম বলাই লইয়া চলিতে না পারে ধাইয়া শ্রমজল ধারা বহে অঙ্গে। এখন খেলাব রবে হইব বলাইয়ের দিগে আর না খেলাব কানাইয়ের সঙ্গে॥ কানাই না জিতে কভু জিতিলে হারয়ে তবু হারিলে জিতয়ে বলরাম। খেলিব বলাইয়ের সাথে চড়িব কানাইয়ের কান্ধে নহে কান্ধে করিব ঘনশ্যাম॥ মত্ত বলাই চান্দে কে পারে করিতে কান্ধে খেলিতে যাইতে লাগে ভয়। গেড়ুয়া লইয়া করে হারিলে সভারে মারে বলরাম দাস দেখি কয়॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়। সুবলে করিয়া কান্ধে, বসন আঁটিয়া বান্ধে, বংশীবটতলে লইয়া যায়॥ শ্রীদাম বলাই লইয়া, চলিতে না পারে ধাইয়া, শ্রমজল ধারা বহে অঙ্গে। এখন খেলারবে হইব বলাইয়ের দিগে আর না খেলাব কানায়ের সঙ্গে॥ কানাই না জিতে কভু, জিতিলে হারায় তবু, হারিলে জিতয়ে বলরাম। খেলিব বলাইয়ের সাথে, চড়িব কানায়ের কান্দে, নহে কান্দে করিব ঘনশ্যাম॥ মত্ত বলাই চাঁদে, কে পারে করিতে কান্দে, খেলিতে যাইতে লাগে ভয়। গেড়ুয়া লইয়া করে, হারিলে সবারে মারে, বলরাম দাস দেখি কয়॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়। সুবলে করিয়া কান্ধে, বসন আঁটিয়া বান্ধে, বংশী বট তলে লইয়া যায়॥ শ্রীদাম বলাই লইয়া, চলিতে না পারে ধাইয়া, শ্রমজল ধারা বহে অঙ্গে। এখন খেলাব যবে, হইব বলাইয়ের দিগে, আর না খেলাব কানাইয়ের সঙ্গে॥ কানাই না জিনে কভু, জিনিলে হারয়ে তবু, হারিলে জিতয়ে বলরাম। খেলিব বলাইয়ের সঙ্গে, চড়িব কানাইয়ের স্কন্ধে, নহে কান্ধে করিব ঘনশ্যাম॥ মত্ত বলাই চান্দে, কে করিতে পারে কান্ধে, খেলিতে যাইতে লাগে ভয়। গেড়ুয়া লইয়া করে, হারিলে সবারে মারে বলরাম দাস দেখি কয়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। গোষ্ঠযাত্রা রাখালগণের খেলা ॥ ধানশী॥ আজ কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়। শ্রীদামে করিয়া কান্ধে বসন আঁটিয়া বান্ধে বংশীবটের তলে লইয়া যায়॥ সুবল বলাই লৈয়া চলিতে না পারে ধাইয়া শ্রমজলধারা বহে অঙ্গে। এখন খেলিব যবে হইব বলাইর দিগে আর না খেলিব কানুর সঙ্গে॥ কানাই না জিতে কভু জিতিলে হারয়ে তভু হারিলে জিতয়ে বলরাম। খেলিয়া বলাইর সঙ্গে চড়িব কানাইর কান্ধে নহে কান্ধে নিব ঘনশ্যাম॥ মত্ত বলাইচান্দে কে করিতে পারে কান্ধে খেলিতে যাইতে লাগে ভয়। গেড়ুয়া লইয়া করে হারিলে সভারে মারে বলরাম দাস দেখি কয়॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ আজ কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়। সুবলে করিয়া কান্ধে বসন আঁটিয়া বান্ধে বংশীবটের তলে লইয়া যায়॥ শ্রীদাম বলাই লৈয়া চলিতে না পারে ধাইয়া শ্রম-জল-ধারা বহে অঙ্গে। এখন খেলিব যবে হইব বলাইর দিগে আর না খেলাব কানাইর সঙ্গে॥ কানাই না জিতে কভু, জিতিলে হারয়ে তভু হারিলে জিতয়ে বলরাম। খেলিব বলাইর সঙ্গে চড়িব কানাইর স্কন্ধে নহে কান্ধে নিব ঘন-শ্যাম॥ মত্ত বলাই-চান্দে কে করিতে পারে কান্ধে খেলিতে যাইতে লাগে ভয়। গেড়ুয়া লইয়া করে হারিলে সভারে মারে বলরাম দাস দেখি কয়॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়। সুবলে করিয়া কান্ধে বসন আঁটিয়া বান্ধে বংশীবটের তলে লইয়া যায়॥ শ্রীদাম বলাই লৈয়া চলিতে না পারে ধাইয়া শ্রমজলধারা বহে অঙ্গে। এখন খেলিব যবে হইব বলাইর দিগে আর না খেলিব কানাই সঙ্গে॥ কানাই না জিতে কভু জিতিলে হারয়ে তভু হারিলে জিতয়ে বলরাম। খেলিয়া বলাইর সঙ্গে চড়িব কানাইর কান্ধে নহে কান্ধে নিব ঘনশ্যাম॥ মত্ত বলাই চান্দে কে করিতে পারে কান্ধে খেলিতে যাইতে লাগে ভয়। গেড়ুয়া লইয়া করে হারিলে সভারে মারে বলরামদাস দেখি কয়॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আজু কানাই হারিল দেখ বিনোদ খেলায়। সুবলে করিয়া কান্ধে বসন আঁটিয়া বান্ধে বংশীবটের তলে লইয়া যায়॥ শ্রীদাম বলাই লৈয়া চলিতে না পারে ধাইয়া শ্রমজলধারা বহে অঙ্গে। এখন খেলিব যবে হইব বলাইর দিগে আর না খেলিব কানাই সঙ্গে॥ কানাই না জিতে কভু জিতিলে হারয়ে তভু হারিলে জিতয়ে বলরাম। খেলিয়া বলাইর সঙ্গে চড়িব কানাইর কান্ধে নহে কান্ধে নিব ঘনশ্যাম॥ মত্ত বলাই চান্দে কে করিতে পারে কান্ধে খেলিতে যাইতে লাগে ভয়। গেড়ুয়া লইয়া করে হারিলে সভারে মারে বলরামদাস দেখি কয়॥ . *********** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |