কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
কে যাবে মথুরাপুর কার লাগি পাব
ভনিতা বলরাম / বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী পটমঞ্জরী॥ তালোচিত॥

কে যাবে মথুরাপুর কার নাগাল পাব। এসব দুখের কথা লিখিআ পাঠাব॥
হাথ কলম করি নয়ন করি দত। কলিজা কাগজ করি লিখি চান্দমুখ॥
কেহু ত না কহে রে আওব তোর প্রিআ। কত না রাখিব চিত নিবারণ দিআ॥
দেখিলে যতেক দুখ কহিবে বন্ধুরে। পুছিয়ো তাহারে মোরে মনে কি না করে॥
কহিবে দুখের কথা বিরলে পাইআ। ধরিবে চরণে তার সমঅ বুঝিআ॥
কহিঅ কহিঅ সখি মোর পিআপাস। এত দিনে গেলো মোর জীবনের আশ॥
এত সুনি সো সখী করল পয়ান। আওল মধুপুরী দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৭৭১ সালে দীনবন্ধু দাস দ্বারা সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ
বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৫৯-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কে যাবে মথুরাপুর কার লাগি পাব।
এ সব দুখের কথা লিখিঞা পাঠাব॥
হাথ কলম করি নয়ন করি দোয়াত।
কলিজা কাগজ করি লিখি চান্দমুখ॥
কে মোরে মিলাঞা দিব সো চান্দবয়ান।
অমূল্য রতন দিব বাটিঞা পরান॥
কেহো ত না বোলেরে আসিব তোর পিয়া।
কত না রাখিব চিত নিবারণ দিয়া॥
উঠি বসি করি কত পোহাইব রাতি।
ছার পরাণ রো কঠিন নারী জাতি॥
কত দূরে পিয়া মোর করে পরবাস।
সমতি না আয়ে কহে বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, মাথুর, ১৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে


॥ পঠমঞ্জরী॥

কে যাবে মথুরাপুর কার লাগি পাব।
এ সব দুখের কথা লিখিয়া পাঠাব॥
হাতকলম করি নয়ন করি দোত।
কলিজা কাগজ করি লিখি চাঁদ মুখ॥
কেহুত না কহেরে আওব তোর পিয়া।
কত না রাখিব চিত নিবারণ দিয়া॥ ধ্রু।
দেখিলা যতেক দুখ কহিও বন্ধুরে।
পুছিও তাহাকে মোরে মনে নাকি করে॥
কহিবে দুঃখের কথা বিরলে পাইয়া।
ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিও কহিও সখি মোর পিয়া পাশ।
এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখী করল পয়ান।
আওল মধুপুরী বলরাম গান॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কে যাবে মথুরাপুর কার লাগি পাব। এ মোর দুখের কথা লিখিয়া পাঠাব॥
হাত কলম করি নয়ন করি দোত। কলিজা কাগজ করি লিখি চাঁদ মুখ॥
কেহু ত না কহে রে আওব তোর পিয়া। কত না রাখিব চিত নিবারণ দিয়া॥
দেখিলা যতেক দুখ কহিও বন্ধুরে। পুছিও তাহারে মোরে মনে নাকি করে॥
কহিবে দুখের কথা বিরলে পাইয়া। ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিও কহিও সখি মোর পিয়া পাশ। এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখী করল পয়ান। আওল মধুপুরী বলরাম গান॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

কে যাবে মথুরাপুর কার লাগি পাব।
এ মোর দুখের কথা লিখিয়া পাঠাব॥
হাত কলম করি নয়নকরি দোত।
কলিজা কাগজ করি লিখি চাঁদমুখ॥
কেহু ত না কহে রে আওব তোর পিয়া।
কত না রাখিব চিত নিবারণ দিয়া॥
দেখিলা যতেক দুখ কহিও বন্ধুরে।
পুছিও তাহাকে মোরে মনে নাকি করে॥
কহিবে দুঃখের কথা বিরলে পাইয়া।
ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিও কহিও সখি মোর পিয়া পাশ।
এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখী করল পয়ান।
আওল মধুপুরী বলরাম গান॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

কে যাবে মথুরাপুর কার লাগি পাব।
এ মোর দুখের কথা লিখিয়া পাঠাব॥
হাত কলম করি নয়ন করি দোত।
কলিজা কাজর করি লিখি চাঁদমুখ॥
কেহু ত না কহে রে আওব তোর পিয়া।
কত না রাখিব চিত নিবারণ দিয়া॥
দেখিলা যতেক দুখ কহিল বন্ধুরে।
পুছিও তাহারে মোরে মনে নাকি করে॥
কহিবে দুখের কথা বিরলে পাইয়া।
ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিও কহিও সখি মোর পিয়া পাশ।
এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখী করল পয়ান।
আওল মধুপুরী বলরাম গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
॥ পঠমঞ্জরী॥

কে যাবে মথুরাপুরি কার লাগি পাব।
এ সব দুখের কথা লিখিয়া পাঠাব॥
মনেরে লেখনী করি মসীঘট আঁখি।
কলিজা কাগজ করি খত দিব লিখি॥
দেখিলা যতেক দুখ কহিয় বন্ধুরে।
পুছিয় তাহারে মোরে মনে নাকি করে॥
কহিবা দুখের কথা বিরলে পাইয়া।
ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিয় কহিয় সখি মোর পিয়া পাশ।
এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখি করল পয়ান।
আওল মধুপুরি বলরাম গান॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

কে যাবে মথুরাপুর কার লাগি পাব।
এ সব দুখের কথা লিখিয়া পাঠাব॥
হাথ কলম করি নয়ন করি দোত।
কলিজা কাগজ করি লিখি চাঁদ-মুখ॥
কেহু ত না কহে রে আওব তোর পিয়া।
কত না রাখিব চিত নিবারণ দিয়া॥
দেখিলা যতেক দুখ কহিয় বন্ধুরে।
পুছিয় তাহারে মোরে মনে নাকি করে॥
কহিবা দুখের কথা বিরলে পাইয়া।
ধরিবা চরণে তার সময় বুঝিয়া॥
কহিয় কহিয় সখি মোর পিয়া পাশ।
এত দিনে গেল মোর জীবনের আশ॥
এত শুনি সো সখী করল পয়ান।
আওল মধুপুরি বলরাম গান॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কত এ বেরি বেরি রচব শেজ রি
কতয়ে বেরি বেরি বিরচব শেজরি
কতহুঁ বেরি বেরি শেজ বিরচই
কতরে বেরি বেরি রচব শেজ রি
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত পদামৃত সমুদ্র সংকলনের
প্রথম মুদ্রিত সংস্করণে ১২৮৫ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ), ৩৬০-পৃষ্ঠা।

॥ পাশ্চাত্য ধানশী রাগ জয় মঙ্গল তালাভ্যাং॥

কত এ বেরি বেরি রচব শেজ রি সরস সরসিজ পাতি।
শিতল বীজনে সলিল সেঁচনে কত না পোহাইব রাতি॥
শুন শুন নিদয় নিঠুর চীত।
তো সঞে নেহ করি খোয়লুঁ সুন্দরি পরাণ দেই পরাচীত॥
কতএ চন্দন করব লেপন তবহুঁ না জুড়াএ অঙ্গ।
তবহুঁ দারুণ উঠয়ে পুন পুন হৃদয়ে মদন তরঙ্গ॥
সকল সখীগণ করএ রোদন কীভেল বলি উরে ডারি।
কুন্তল তোড়ই বসন ফারই বিহিকে দেওই গারি॥
কোই লূঠই কোই ছটই হা প্রিয় প্রাণ সখি ভাখি।
কহে বলরাম ধরল কালিম দেই বদনক সাখি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১১শ পল্লব,
দশ দশা, ১৯৩৯-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কতয়ে বেরি বেরি                     রচব শেজ রি
সরস-সরসিজ-পাঁতি।
শিতল বীজনে                            সলিল সিঞ্চনে
কত না পোহায়ব রাতি॥
শুন নিদয় নীঠুর চীত।
তো সঞে নেহ করি                    খোয়লু সুন্দরি
পরাণ দেই পরাচীত॥ ধ্রু॥
কতয়ে  চন্দন                             করব লেপন
তবহুঁ না জুড়য় অঙ্গ।
উঠয়ে পুন পুন                            তবহুঁ দারুণ
দহন মদন-তরঙ্গ॥
কবহুঁ অঙ্গন                            কবহুঁ সে সদন
কবহুঁ সহচরি-কোর।
ফুয়ল কবরী                             লুটয়ে সুন্দরি
কত নদী বহে লোর॥
ধরণি উপর                             নিচল কলেবর
পড়ই আঁচর ফোরি।
কোই না কহ                                শাস না বহ
নিমিখ তেজলি গোরি॥
কোই ছুটত                                  কোই লুঠত
প্রাণ-প্রিয় সখি ভাখি।
কহই বলরাম                             ধরল কালিম
বদনে দেয়বি সাখি॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুই॥

কতয়ে বেরি বেরি রচব শেজরি সরস সরসজি পাঁতি।
শিতল জীবনে সলিল সিচনে কতনা পোহায়ব রাতি॥
কতয়ে চন্দন করব লেপন তবহুঁ না জুড়য়ব অঙ্গ।
উঠয়ে পুনঃ পুনঃ তবহু দারুণ দহন হৃদয় দহন তরঙ্গ॥
শুন শুন নিরদয় নিঠুর চীত।
তো সঞে নেহ করি খোয়লি সুন্দরী পরাণ দেই পরাচীত॥ ধ্রু॥
@নহি অঙ্গন খেলহি মদন খেলহি সহচরী কোর।
ফুয়ল কুন্তল লুঠই সুন্দরী কতয়ে নদী বহে নোর॥

কতয়ে সখীগণ @@ রে দ@ কা@ বলি উরে ভারি।
কুন্তল তোরই বসন @@ @@@ দেবই পারি॥
ধরণি উপর নিচল কলেবর পড়য় আছয় ভোরি।
কাহিনী না কহে শ্বাস না বহে নিমিখ তেজল গোরী॥
কোই লুঠই কোই ছুটই প্রাণ প্রিয়া @@।
কি কহু বলরাম ধরল কারিম সা@॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৮৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কতয়ে বেরি বেরি,                    বিরচব শেজরি,
সরস সরসিজ পাঁতি।
শীতল বীজনে,                            সলিল সিঞ্চনে,
কত না পোহাইব রাতি॥
শুন নিদয়া নিঠুর চিত।
তো সঞে লেহ করি,                    খোয়লু সুন্দরী,
পরাণ দেই পরাচিত॥ ধ্রু।
কতয়ে চন্দন,                              করব লেপন,
তবহুঁ না জুড়য়ে অঙ্গ।
উঠয়ে পুন পুন,                             তবহুঁ দারুণ,
দহন মদন তরঙ্গ॥
কবহুঁ অঙ্গন,                                  কবহুঁ সদন,
কবহুঁ সহচরী কোর।
ফুয়ল কবরী,                               লুঠয়ে সুন্দরী,
কত নদী বহে লোর॥
ধরণী উপর,                              নিচয়ে কলেবর,
পড়ল আচর ফোরি।
কোই না কহ,                                শ্বাস না বহ,
নিমিখ তেজলি গোরি॥
কোই ছুটত,                                  কোই লুঠত,
প্রাণ প্রিয় সখী ভাখি।
কহই বলরাম,                              ধবলী কালিম,
বদনে দেয়বি সাখী॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কতয়ে বেরি বেরি, রচব শেজ রি, সরস-সরসিজ পাতি।
শীতল বীজনে, সলিল সিঞ্চনে, কত না পোহাইব রাতি॥
শুন শুন নিদয় নিঠুর চিত।
তো সঞে লেহ করি, খোয়লু সুন্দরী, পরাণ দেই পরাচিত॥
কতয়ে চন্দন, করব লেপন, এতহুঁ না জুড়য়ে অঙ্গ।
উঠয়ে পুন পুন, তবহুঁ দারুণ, দহন মদন-তরঙ্গ॥
কবহুঁ অঙ্গন, কবহুঁ সদন, কবহুঁ সহচরী কোর।
ফুয়ল কবরী, লুটয়ে সুন্দরী, কত নদী বহে লোর॥
ধরণী উপর, নিচল কলেবর, পড়ল আঁচর ফোরি।
কোই না কহ, শ্বাস না বহ, নিমিখ তেজল গোরী॥
কোই ছুটত, কোই লুঠত, প্রাণ-প্রিয় সখী ভাখি।
কহই বলরাম, ধবল কালিম, বদনে দেয়বি সাখী॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৩-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কতয়ে বেরি বেরি,                      রচব শেজ রি,
সরস-সরসিজ পাতি।
শীতল বীজনে,                            সলিল সিঞ্চনে,
কত না পোহাইব রাতি॥
শুন শুন নিদয় নিঠুর চিত।
তো সঞে লেহ করি,                     খোয়লু সুন্দরী,
পরাণ দেই পরাচিত॥
কতয়ে চন্দন,                               করব লেপন,
এতহুঁ না জুড়ায় অঙ্গ।
উঠয়ে পুন পুন,                              তবহুঁ দারুণ,
দহন মদন তরঙ্গ॥
কবহুঁ অঙ্গন,                                  কবহুঁ সদন,
কবহুঁ সহচরী-কোর।
ফুয়ল কবরী,                               লুটয়ে সুন্দরী,
কত নদী বহে লোর॥
ধরণী উপর,                              নিচল কলেবর,
পড়ল আঁচর ফোরি।
কোই না কহ,                                শ্বাস না বহ,
নিমিখ তেজল গোরী॥
কোই ছুটত,                                  কোই লুঠত,
প্রাণ-প্রিয় সখী ভাখি।
কহই বলরাম,                              ধবল কালিম,
বদনে দেয়বি সাখী॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

কতরে বেরি বেরি,                      রচব শেজ রি,
সরস-সরসিজ পাতি।
শীতল বীজনে,                            সলিল সিঞ্চনে,
কত না পোহাইব রাতি॥
শুন নিদয় নিঠুর চিত।
তো সঞে লেহ করি,                     খোয়লু সুন্দরী,
পরাণ দেই পরিচিত॥
কতয়ে চন্দন,                              করব লেপন,
এতহুঁ না জুড়ায় অঙ্গ।
উঠয়ে পুন পুন,                              হুবহুঁ দারুণ,
দহন মদন তরঙ্গ॥
কবহুঁ অঙ্গন,                                  কবহুঁ সদন,
কবহুঁ সহচরী-কোর।
ফুয়ল কবরী,                               লুটয়ে সুন্দরী,
কত নদী বহে লোর॥
ধরণী উপর,                              নিচল কলেবর,
পড়ল আঁচর ফোরি।
কোই না কহ,                                শ্বাস না বহ,
নিমিখ তেজলি গোরী॥
কোই ছুটত,                                  কোই লুঠত,
প্রাণ-প্রিয়া সখী ভাখি।
কহই বলরাম,                              ধবলী কালিম,
বদনে দেয়বি সাখী॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[ মাথুর বিরহ ]
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি  ;---
॥ ধানশী॥

কতহুঁ বেরি বেরি                      শেজ বিরচই
সরস-সরসিজ-পাঁতি।
শিতল বীজনে                            সলিল সেচনে
কত না পোহায়ব রাতি॥
কতহু  চন্দন                               করব লেপন
তভু না জুড়ায়ই অঙ্গ।
উঠই পুন পুন                              তেজ দারুণ
হৃদয় মদন-তরঙ্গ॥
শুন শুন নিদয় নীঠুর-চীত।
তো সনে নেহ করি                    খোয়লি সুন্দরি
প্রাণ দেই পরাচীত॥ ধ্রু॥
খণহি অঙ্গনে                           খণহি সে সদনে
খণহি সহচরি-কোরে।
ফুয়ল কবরী                             লুঠই সুন্দরি
কতহুঁ নদি বহ লোরে॥
কতহুঁ সখিগণ                            বেঢ়ি রোদন
কি ভেল বলি উর তাড়ি।
কুন্তল তোড়ই                             বসন ফোড়ই
বিহিক দেওই গারি॥
ধরণি-উপরে                            নিচল কলেবর
পড়ই আছয়ে ভোরি।
কাহে না কহ                               শাস না বহ
নিমিখ তেজলি গোরি॥
কোই লুঠই                                 কোই ছুটই
প্রাণ-প্রিয় সখি ভাখি।
কহই বলরাম                             ধরল-কালিম
বদন দেওবি সাখি॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুশী॥

কতয়ে বেরি বেরি,                     রচব শেজ রি,
সরস-সরসিজ-পাঁতি।
শিতল বীজনে,                            সলিল সিঞ্চনে,
কত না পোহাইব রাতি॥
শুন শুন নিরদয় নীঠুর চিত।
তো সঞে লেহ করি,                    খোয়লু সুন্দরী,
পরাণ দেই পরাচিত॥
কতয়ে  চন্দন,                             করব লেপন,
এতহু না জুড়ায় অঙ্গ।
উঠই পুন পুন,                              তবহু দারুণ,
দহন মদন তরঙ্গ॥
কবহুঁ অঙ্গন,                                কবহুঁ সদন,
কবহুঁ সহচরী কোর।
ফুয়ল কবরী,                             লুঠয়ে সুন্দরী,
কত নদী বহে লোর॥
ধরণী উপর,                            নিচল কলেবর,
পড়ই আঁচর-ফোরি।
কোই না কহ,                               শ্বাস না বহ,
নিমিখ তেজল গোরী॥
কোই ছুটত,                                কোই লুটত,
প্রাণ-প্রিয় সখী ভাখি।
কহই বলরাম,                             ধরল কালিম,
বদন দেয়বি সাখী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ ধানশী॥

কতহুঁ বেরি বেরি                        শেজ বিরচব
সরস সরসিজ পাতি।
শিতল বীজনে                            সলিল সেচনে
কত না পোহায়ব রাতি॥
কতহু  চন্দন                              করব লেপন
তভু না জুড়ায়ই অঙ্গ।
উঠই পুন পুন                              অনল দারুণ
হৃদয় মদন তরঙ্গ॥
শুন শুন নিদয় নিঠুর চীত।
তো সনে লেহ করি                   খোয়লি সুন্দরি
প্রাণ দেই পরাচীত॥
খণহি অঙ্গনে                         খণহি নিকেতনে
খণহি সহচরি কোরে।
ফুয়ল কবরী                             লুঠই সুন্দরি
কতহুঁ নদি বহ লোরে॥
কতহুঁ সখিগণ                            বেঢ়ি রোদন
কি ভেল বলি উর তাড়ি।
কুন্তল তোড়ই                            বসন ফোড়ই
বিহিক দেওই গারি॥
ধরণি-উপরে                           নিচল কলেবর
পড়ই আছয়ে ভোরি।
কাহে না কহ                              শাস না বহ
নিমিখ তেজলি গোরি॥
কোই লুঠই                                  কোই ছুটই
প্রাণ প্রিয় সখি ভাখি।
কহই বলরাম                              ধরল-কালিম
বদন দেওব সাখি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কতহুঁ বেরি বেরি                         শেজ বিরচই
সরস-সরসিজ-পাঁতি।
শিতল বীজনে                            সলিল সেচনে
কত না পোহায়ব রাতি॥
কতহু  চন্দন                                করব লেপন
তভু না জুড়ায়ই অঙ্গ।
উঠই পুন পুন                              তেজ দারুণ
হৃদয় মদন-তরঙ্গ॥
শুন শুন নিদয় নীঠুর-চীত।
তো সনে নেহ করি                    খোয়লি সুন্দরি
প্রাণ দেই পরাচীত॥
খণহি অঙ্গনে                          খণহি সে সদনে
খণহি সহচরি-কোরে।
ফুয়ল কবরী                              লুঠই সুন্দরি
কতহুঁ নদি বহ লোরে॥
কতহুঁ সখিগণ                             বেঢ়ি রোদন
কি ভেল বলি উর তাড়ি।
কুন্তল তোড়ই                            বসন ফোড়ই
বিহিক দেওই গারি॥
ধরণি-উপরে                            নিচল কলেবর
পড়ই আছয়ে ভোরি।
কাহে না কহ                              শাস না বহ
নিমিখ তেজলি গোরি॥
কোই লুঠই                                 কোই ছুটই
প্রাণ-প্রিয় সখি ভাখি।
কহই বলরাম                            ধরল-কালিম
বদন দেওবি সাখি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাধব কি কহব বিরহ বিষাদ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৯ম পল্লব, দ্বাদশমাসিক
বিরহ, ১৮৩১ পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ॥

মাধব কি কহব বিরহ-বিষাদ।
তিলে এক তুহুঁ বিনে যো কহে যুগশত
তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥ ধ্রু॥
পন্থ নেহারিতে নয়ান আন্ধায়ল
দিনে দিনে খিন ভেল দেহ।
কত উনমাদ মোহ বহি যাওত
কত পরবোধব কেহ॥
দশমি দশায়ে আছয়ে এক ঔষধ
শ্রবণে কহই তুয়া নাম।
শুনইতে তবহি পরাণ ফেরি আওত
সো দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি তোহে সম্বাদলুঁ
কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত ভীত রহুঁ অন্তরে
কহতহি বলরামদাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী আড়ানি॥ তালোচিত॥

মাধব কি কহব বিরহ বিষাদ।
তিলে এক তো বিন জো কহে যুগ শত তাহা কিয়ে তো পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে নয়ন আন্ধাঅল দিনে দিনে খিন ভেল দেহ।
কত উন্মাদ মোহ বহি জাওত কত বোধব কেহ॥
দশমী দশায়ে আছয়ে এক ঔষধ শ্রবণে কহই তুয়া নাম।
শুনইতে তরহি পরাণ ফেরি আওত সো দুঃখ কি কহব হাম॥
কতকত বেরী তোহে সম্বাদনু কৈছন তু আসআস।
না বুঝিয়া ঋত ভীত রহুঁ অন্তরে কহতহি বলরামদাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৯১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মাধব কি কহব বিরহ বিষাদ।
তিলে এক তুহুঁ বিনে,                যো কহে যুগশত,
তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে,                        নয়ান আন্ধায়ল,
দিনে দিনে খিন ভেল দেহ।
কত উনমাদ,                        মোহ বহি যাওত,
কত পরবোধব কেহ॥
দশমী দশায়ে,                      আছয়ে এক ঔষধ,
শ্রবণে কহয়ে তুয়া নাম।
শুনইতে তবহিঁ,                   নয়ান ফেরি আওত,
সো দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি,                         তোহে সম্বাদলুঁ,
কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত,                      ভীত রহুঁ অন্তরে,
কহতহি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

মাধব কি কহব বিরহ-বিষাদ।
তিলে এক তুহুঁ বিনে যো কহে যুগশত, তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে, নয়ন আন্ধায়ল, দিনে দিনে ক্ষীণ ভেল দেহ।
কত উনমাদ, মোহ বলি যাওত, কত পরবোধব কেহ॥
দশমী দশায়ে, আছয়ে এক ঔষধ, শ্রবণে কহয়ে তুয়া নাম।
শুনইতে তবহি, পরাণ ফেরি আওত, সো দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি, তোহে সম্বাদলু, কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত, ভীত রহুঁ অন্তরে, কহতহি বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৩-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

মাধব কি কহব বিরহ-বিষাদ।
তিলে এক তুহুঁ বিনে                যো কহে যুগশত
তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে,                       নয়ন আন্ধায়ল,
দিনে দিনে ক্ষীণ ভেল দেহ।
কত উনমাদ,                        মোহ বহি যাওত,
কত পরবোধব কেহ॥
দশমী দশায়ে,                      আছয়ে এক ঔষধ,
শ্রবণে কহিয়ে তুয়া নাম।
শুনইতে তবহি,                   পরাণ ফেরি আওত,
সো দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি,                         তোহে সম্বাদলু,
কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত,                      ভীত রহুঁ অন্তরে,
কহতহি বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

মাধব কি কহব বিরহ-বিষাদ।
তিল এক তুহুঁ বিনে,                যো কহে যুগশত,
তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে,                        নয়ন আন্ধায়ল,
দিনে দিনে ক্ষীণ ভেল দেহ।
কত উনমাদ,                        মোহ বহি যাওত,
কত পরবোধব কেহ॥
দশমী দশায়ে,                      আছয়ে এক ঔষধ,
শ্রবণে কহিয়ে তুয়া নাম।
শুনইতে তবহি,                   পরাণ ফেরি আওত,
সে দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি,                         তোহে সম্বাদলু,
কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত,                      ভীত রহুঁ অন্তরে,
কহতহি বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”,
২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মাধব কি কহব বিরহ-বিষাদ।
তিল এক তুহুঁ বিনে                যো কহে যুগশত
তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে                       নয়ন আন্ধায়ল
দিনে দিনে ক্ষীণ ভেল দেহ।
কত উনমাদ                        মোহ বহি যাওত
কত পরবোধব কেহ॥
দশমী দশায়ে                      আছয়ে এক ঔষধ
শ্রবণে কহয়ে তুয়া নাম।
শুনইতে তবহি                   পরাণ ফেরি আওত
সো দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি                         তোহে সম্বাদলু
কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত                      ভীত রহুঁ অন্তরে
কহতহি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ২৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ূর - মধ্যম দশকুশী॥

মাধব কি কহব বিরহ-বিষাদ।
তিলে এক তুহুঁ বিনে যো কহে যুগশত
তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে নয়ন আন্ধায়ল
দিনে দিনে খিন ভেল দেহ।
কত উনমাদ মোহ বহি যাওত
কত পরবোধব কেহ॥
দশমি দশায়ে আছয়ে এক ঔষধ
শ্রবণে কহই তুয়া নাম।
শুনইতে তবহি পরাণ ফেরি আওত
সো দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি তোহে সম্বাদলুঁ
কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত ভীত রহুঁ অন্তরে
কহতহি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ সুহই॥

মাধব কি কহব বিরহ বিষাদ।
তিল এক তুহুঁ বিনে যো কহে যুগশত
তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে নয়ান অন্ধায়ল
দিনে দিনে খিন ভেল দেহ।
কত উনমাদ মোহ বহি যাওত
কত পরবোধব কেহ॥
দশমি দশায়ে আছয়ে এক ঔষধ
শ্রবণে কহই তুয়া নাম।
শুনইতে তবহি পরাণ ফেরি আওত
সো দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি তোহে সম্বাদলুঁ
কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত ভীত রহুঁ অন্তরে
কহতহি বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৪৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মাধব কি কহব বিরহ-বিষাদ।
তিলে এক তুহুঁ বিনে যো কহে যুগশত
তাহে কি এতহুঁ পরমাদ॥
পন্থ নেহারিতে নয়ান আন্ধায়ল
দিনে দিনে খিন ভেল দেহ।
কত উনমাদ মোহ বহি যাওত
কত পরবোধব কেহ॥
দশমি দশায়ে আছয়ে এক ঔষধ
শ্রবণে কহই তুয়া নাম।
শুনইতে তবহি পরাণ ফেরি আওত
সো দুখ কি কহব হাম॥
কত কত বেরি তোহে সম্বাদলুঁ
কৈছন তুয়া আশোয়াস।
না বুঝিয়ে রীত ভীত রহুঁ অন্তরে
কহতহি বলরামদাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুমধুর মধুকর কোকিল কলরব
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৯৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সুমধুর মধুকর                       কোকিল কলরব,
সো ভেল ছরবন শেল।
চন্দন গরল,                     অনল ভেল সরসিজ,
চান্দ সূরজ ভৈ গেল॥
মাধব ধনী কি সাতাওব চিত।
পাপিনী বিরহিনী,                 কো বিহি সিরজিল,
হিতহি ভেল বিপরীত॥ ধ্রু।
জনম দিবস ভরি,                 জীউ অধিক করি,
যাহে বাঢ়াওলি রাই।
নিজ হিয় হোই,                    সোই উচ কুচ যুগ,
অনুখন দগধই তাই॥
নব কিশলয় শয়ন,                 রতনময় অভরণ,
পরশত সব অঙ্গ জারি।
কহ বল রাম                      সবহুঁ পুন পালটই,
যব তুহুঁ পালটি নেহারি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি
॥ ধানশী॥

সুমধুর মধুকর                       কোকিল কলরব
সো ভেল দারুণ শেল।
চন্দন গরল                       অনল ভেল সরসিজ
চান্দ সূরজ ভৈ গেল॥
মাধব ধনী কি সাতাওব চীত।
পাপিনী বিরহিনী                   কো বিহি সিরজিল
হিতহি ভেল বিপরীত॥
জনম দিবস ভরি                   জীউ অধিক করি
যাহে বাঢ়াওলি রাই।
নিজ হিয় হোই                      সোই উচ কুচ যুগ
অনুখন দগধই তাই॥
কিশলয় শয়ন                       রতনময় আভরণ
পরশত সব অঙ্গ জারি।
কহ বলরাম                          সবহুঁ পুন পালটই
যব তুহুঁ পালটি নেহারি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৪৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

সুমধুর মধুকর                       কোকিল কলরব
সো ভেল ছরবন শেল।
চন্দন গরল                       অনল ভেল সরসিজ
চান্দ সূরজ ভৈ গেল॥
মাধব ধনী কি সাতাওব চিত।
পাপিনী বিরহিনী                  কো বিহি সিরজিল
হিতহি ভেল বিপরীত॥
জনম দিবস ভরি                 জীউ অধিক করি
যাহে বাঢ়াওলি রাই।
নিজ হিয় হোই                     সোই উচ-কুচ যুগ
অনুখন দগধই তাই॥
নব কিশলয় শয়ন                 রতনময় অভরণ
পরশত সব অঙ্গ জারি।
কহ বল রাম                       সবহুঁ পুন পালটই
যব তুহুঁ পালটি নেহারি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হামারি যতেক দুখ বিরহ হতাশ
ভনিতা বলরাম দাস        
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৯ম পল্লব, দ্বাদশমাসিক বিরহ, ১৮৩৪ পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ॥

হামারি যতেক দুখ বিরহ-হুতাশ।
সবহি কহবি তুহুঁ বিরহিণি পাশ॥
দুয় এক দিবসে মিলব হাম যাই।
যতনহি তুহুঁ পরবোধবি রাই॥
কহবি সজনি মঝু আরতি-বাণী।
তাকর মুখ হেরি বিছুরহ জানি॥
শুনি দুতি ধাই চললি ধনি পাশ।
গদ গদ কহতহিঁ বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৯৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

হামারি যতেক দুখ বিরহ হুতাশ।
সবহিঁ কহবি তুহুঁ বিরহিনী পাশ॥
দুই এক দিবসে মিলব হাম যাই।
যতনহি তুহুঁ পরবোধবি রাই॥
কহবি সজনি মঝু আরতি বাণী।
তাকর মুখ হেরি বিছুরহ জানি॥
শুনি দূতী ধাই চললি ধনি পাশ।
গদ গদ কহতহি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হামারি যতেক দুখ বিরহ হুতাশ। সবহি কহবি তুহুঁ বিরহিণী পাশ॥
দ্বয় এক দিবসে মিলব হাম যাই। যতনহি তুহুঁ পরবোধবি রাই॥
কহবি সজনি মঝু আরতি-বাণী। তাকর মুখ হেরি বিছুরহ জানি॥
শুনি দূতী ধাই চললি ধনী পাশ। গদ গদ কহতহিঁ বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

হামারি যতেক দুখ বিরহ-হুতাশ।
সবহি কহবি তুহুঁ বিরহিণী পাশ॥
দ্বয় এক দিবসে মিলব হাম যাই।
যতনহি তুহুঁ পরবোধবি রাই॥
কহবি সজনি মঝু আরতি-বাণী।
তাকর মুখ হেরি বিছুরহ জানি॥
শুনি দূতী ধাই চললি ধনী পাশ।
গদ গদ কহতহি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

হামারি যতেক দুখ বিরহ হুতাশ।
সবহি কহবি তুহুঁ বিরহিণী পাশ॥
দ্বয় এক দিবসে মিলব হাম যাই।
যতনহি তুহু পরবোধবি রাই॥
কহবি সজনি মঝু আরতি-বাণী।
তাকর মুখ হেরি বিছুরহ জানি॥
শুনি দূতি ধাই চললি ধনি পাশ।
গদ গদ কহতহিঁ বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
দূতীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উক্তি

হামারি যতেক দুখ বিরহহুতাশ।
সবহি কহবি তুহুঁ বিরহিণি পাশ॥
দুয় এক দিবসে মিলব হাম যাই।
যতনহি তুহুঁ পরবোধবি রাই॥
কহবি সজনি মঝু আরতি বাণী।
তাকর মুখ হেরি বিছুরহ জানি॥
শুনি দূতি ধাই চললি ধনি পাশ।
গদগদ কহতহিঁ বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হামারি যতেক দুখ বিরহ-হুতাশ।
সবহি কহবি তুহুঁ বিরহিনি পাশ॥
দুয় এক দিবসে মিলব হাম যাই।
যতনহি তুহুঁ পরবোধবি রাই॥
কহবি সজনি মঝু আরতি-বাণী।
তাকর মুখ হেরি বিছুরহ জানি॥
শুনি দূতি ধাই চললি ধনি পাশ।
গদ গদ কহতহিঁ বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিরহিণি কি কহব নাহক দুখ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৯ম পল্লব, দ্বাদশমাসিক
বিরহ, ১৮৪৭-পদসংখ্যা।

॥ সুহই॥

বিরহিণি কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে                জীবন শূন্য মানে
তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি                 অবনত মুখ-শশী
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি                    রাই রাই করি
ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন                         যৈছন মুরুছন
পুন পুন করয়ে ধিকার।
গোকুল-নগরক                     পথিক হেরি কত
করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু-                 কহল তোহে কত কত
বচনে করহ বিশোয়াসে।
তোহারি প্রেম সোই                বিছুরি না পারব
পুছহ বলরাম দাসে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই॥ তালোচিত॥

বিরহিণী কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে জীবন শূন্য মানে তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি অবনত মুখশশী ঝরঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি রাই রাই করি ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন ঐছন মুরুছন পুন করয়ে ধিতকার।
গোকুল নগরক পথিক হেরি কত করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু কহল তোহে কত কত বচনে করহ বিসআসে।
তোহারি প্রেম শোই বিছরল না পারব পুছই বলরামদাসে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, মাথুর, ১৯৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখীর উক্তি।
॥ সুহই॥

বিরহিণি কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে                জীবন শূন মানে,
তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি,                 অবনত মুখশশী,
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি,                   রাই রাই করি,
ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন,                        যৈছন মুরুছন,
পুন পুন করয়ে ধিকার।
গোকুল নগরক,                     পথিক হেরি কত,
করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু,                কহল তোহে কত কত,
বচনে করহ বিশোয়াসে।
তোহারি প্রেম সোই,                বিছুরি না পারব,
পুছই বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বিরহিণি কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে, জীবন শূন মানে, তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি, অবনত মুখ-শশী, ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি, রাই রাই করি, ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন, ঐছনে মুরছন, পুন পুন করয়ে ধিকার।
গোকুল-নগরক, পথিক হেরি কত, করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু, কহল তোহে কত মত, বচনে করহ বিশোয়াসে।
তোহারি প্রেম সোই, বিছুরি না পারব, পুছই বলরামদাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১২-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বিরহিণি কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে,                জীবন শূন মানে,
তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি,                 অবনত মুখশশী,
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি,                  রাই রাই করি,
ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন,                         ঐছনে মুরছন,
পুন পুন করয়ে ধিকার।
গোকুল-নগরক                    পথিক হেরি কত,
করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু,                কহল তোহে কত মত,
বচনে করহ বিশোয়াসে।
তোহারি প্রেম সোই,                বিছুরি না পারব,
পুছই বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বিরহিণি কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে,                জীবন শূন মানে,
তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি,                 অবনত মুখশশী,
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি,                  রাই রাই করি,
ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন,                       যৈছন মুরুছন,
পুন পুন করয়ে ধিকার।
গোকুল-নগরক,                   পথিক হেরি কত,
করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু,                কহন তোহে কত মত,
বচনে করহ বিশোয়াসে।
তোহারি প্রেম সোই,              বিছুরি না পারব,
পুছই বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৩৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - দুঠুকী॥

বিরহিনি কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে               জীবন শূন্য মানে
তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি                 অবনত মুখশশী
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি                  রাই রাই করি
ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন                        যৈছন মুরছন
পুন পুন করয়ে ধিকার।
গোকুল-নগরক                    পথিক হেরি কত
করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু                কহল তোহে কত কত
বচনে কর বিশোয়াসে।
তোহারি প্রেম সোই                বিছুরি না পারব
পূছহ বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
শ্রীরাধার প্রতি দূতীর উক্তি
॥ সুহই॥

বিরহিণি কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে                জীবন শূন্য মানে
তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি                    অবনত মুখশশী
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি                রাই রাই রাই করি
ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন                           যৈছন মুরছন
পুন পুন করয়ে ধিকার।
গোকুল-নগরক                       পথিক হেরি কত
করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু                   কহল তোহে কত কত
বচনে করহ বিশোয়াসে।
তোহারি প্রেম সোই                  বিছুরি না পারব
পুছহ বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৪৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বিরহিণি কি কহব নাহক দুখ।
আধ তিল তুয়া বিনে                জীবন শূন্য মানে
তাহে কি মাথুর সুখ॥
সদাই বিরলে বসি                 অবনত মুখ-শশী
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান।
দুই হাত বুকে ধরি                   রাই রাই করি
ঐছনে হরয়ে গেয়ান॥
পুন চেতন পুন                         যৈছন মুরুছন
পুন পুন করয়ে ধিকার।
গোকুল-নগরক                     পথিক হেরি কত
করে ধরি করে পরিহার॥
আওব কানু                  কহল তোহে কত কত
বচনে করহ বিশোয়াসে।
তোহারি প্রেম সোই                বিছুরি না পারব
পুছহ বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই
জোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, স্বপ্ন-মিলন-রসোদ্গার, ১৭০৫ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ৯২৮ সংখ্যক পদ।

অথ আস্মিক স্বপ্নবৎ মিলনং।
॥ ভূপালী॥

যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই।
তুরিতহিঁ নাগর মীলল যাই॥
হেরইতে বিরহিণি চমকিত ভেল।
শ্যামর ধরি নিজ কোর পর নেল॥
পুলকিত সব তনু ঝর ঝর ঘাম।
দুহুঁ বিবরণ কাঁপয়ে অবিরাম॥
আনন্দ-লোরহিঁ সভ বহি যায়।
বয়ন বয়ন দুহুঁ হিয়ায় হিয়ায়॥
দুরে গেও যতহুঁ বিরহ-হুতাশ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীকৃষ্ণস্য মিলনম্॥ ভূপালী॥ তালোচিত॥

জোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই। তুরিতহি নাগরে মিলিলহ জাই॥
হেরইতে বিরহিণী চমকিত ভেল। শ্যামরূ ধনি নিজ কোরপর লেল॥
পুলকিত সব তনু ঝরঝর ঘাম। দুহু বিরলে কাঁপে অবিরাম॥
আনন্দ লোরই স্রোত বহি জায়। বয়নে বয়নে দুহু হিআয় হিয়ায়॥
দুরে গেও জতহু বিরহ হুতাশ। কছু নাহি বুঝল বলরামদাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, মিলন, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই।
তুরিতহিঁ নাগর মিলল যাই॥
হেরইতে বিরহিণী চমকিত ভেল।
শ্যাম ধরি নিজ কোর পর নেল॥
পুলকিত সব তনু ঝর ঝর ঘাম।
দুহুঁ বিবরণ কাঁপয়ে অবিরাম॥
আনন্দ লোরহিঁ শত বহি যায়।
বয়ানে বয়ানে দুহুঁ হিয়ায় হিয়ায়॥
দূরে গেও যতহুঁ বিরহ হুতাস।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই। তুরিতহিঁ নাগর মিলল যাই॥
হেরইতে বিরহিণী চমকিত ভেল। শ্যাম ধরি নিজ কোর পর নেল॥
পুলকিত সব তনু ঝর ঝর ঘাম। দুহুঁ বিবরণ কাঁপয়ে অবিরাম॥
আনন্দ লোর ঈশৎ বহি যায়। বয়ান বয়ান দুহুঁ হিয়ায় হিয়ায়॥
দূরে গেও যতহুঁ বিরহ হুতাশ। কছু নাহি বুঝল বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই।
তুরিতহি নাগর মিলল যাই॥
হেরইতে বিরহিণী চমকিত ভেল।
শ্যাম ধরি নিজ কোর পর নেল॥
পুলকিত সব তনু ঝর ঝর ঘাম।
দুহুঁ বিবরণ কাঁপয়ে অবিরাম॥
আনন্দ-লোর ঈষত বহি যায়।
বয়ানে বয়ান দুহুঁ হিয়ায় হিয়ায়॥
দূরে গেও যতহুঁ বিরহ-হুতাস।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
স্বপ্নবৎ মিলন
॥ ভূপালী - একতালা॥

যোই নিকুঞ্জে ধনী রাই।
তুরিতহিঁ নাগর মীলল যাই॥
হেরইতে বিরহিণি চমকিত ভেল।
শ্যামর ধরি নিজ কোর পর নেল॥
পুলকিত সব তনু ঝর ঝর ঘাম।
দুহুঁ বিবরণ কাঁপয়ে অবিরাম॥
আনন্দ-লোরহিঁ সভ বহি যায়।
বয়ন বয়ন দুহুঁ হিয়ায় হিয়ায়॥
দুরে গেও যতহুঁ বিরহ-হুতাশ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনে আগমন
॥ ভূপালী॥

যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই।
তুরিতহিঁ নাগর মীলল যাই॥
হেরইতে বিরহিণি চমকিত ভেল।
শ্যামর ধনি নিজ কোর পর নেল॥
পুলকিত সব তনু ঝর ঝর ঘাম।
দুহুঁ বি-বরণ কাঁপয়ে অবিরাম॥
আনন্দ লোরহিঁ সভ বহি যায়।
বয়ন বয়ন দুহুঁ হিয়ায় হিয়ায়॥
দুরে গেও যতহুঁ বিরহ হুতাশ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনী রাই।
তুরিতহিঁ নাগর মীলল যাই॥
হেরইতে বিরহিণি চমকিত ভেল।
শ্যামর ধরি নিজ কোর পর নেল॥
পুলকিত সব তনু ঝর ঝর ঘাম।
দুহুঁ বিবরণ কাঁপয়ে অবিরাম॥
আনন্দ-লোরহিঁ সভ বহি যায়।
বয়ন বয়ন দুহুঁ হিয়ায় হিয়ায়॥
দুরে গেও যতহুঁ বিরহ-হুতাশ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চির দিনে মিলল রাইক পাশ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, স্বপ্ন-মিলন-রসোদ্গার, ১৭০৬ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ৯২৯ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

চির দিনে মীলল রাইক পাশ।
উঠই না পারই বিরহ-হুতাশ॥
বাম পাণি দেই দক্ষিণ শরীরে।
চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার।
নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিণি বামে করি বৈঠল কান।
বিরহিণি মানল স্বপন সমান॥
পূরল যতহুঁ-মরম অভিলাষ।
কছু নাহি বূঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ভাব সম্মিলন, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চির দিনে মিলল রাইক পাশ।
উঠই না পারই বিরহ হুতাশ॥
বাম পাণি দেই দক্ষিণ শরীরে।
চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার।
নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিণী বামে করি বৈঠল কান।
বিরহিণী মানল স্বপন সমান॥
পূরল যতহুঁ মরম অভিলাষ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চির দিনে মিলল রাইক পাশ। উঠই না পারই বিরহ হুতাশ॥
বামপাণি দেই দক্ষিণ শরীরে। চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার। নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিণী বামে করি বৈঠল কান। বিরহিণী মানল স্বপন সমান॥
পূরল যতহুঁ মদন অভিলাষ। কছু নাহি বুঝল বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চির দিনে মিলল রাইক পাশ।
উঠই না পারই বিরহ-হুতাশ॥
বাম পাণি দেই দক্ষিণ শরীরে।
চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার।
নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিণী বামে করি বৈঠল কান।
বিরহিণী মানল স্বপন সমান॥
পূরল যতহুঁ মরম-অভিলাষ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চির দিনে মিলল রাইক পাশ।
উঠই না পারই বিরহ হুতাশ॥
বাম পাণি দেই দক্ষিণ শরীরে।
চেতন হোয়ল ধনী হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার।
নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিণী বামে করি বৈঠল কান।
বিরহিণী মানিল স্বপন সমান॥
পূরল যতহু মদম অভিলাষ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চির দিনে মিলল রাইক পাশ।
উঠই না পারই বিরহ-হুতাশ॥
বাম পাণি দেই দখিণ শরীরে।
চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার।
নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিণী বামে করি বৈঠল কান।
বিরহিণী মানস স্বপন সমান॥
পূরল যতহুঁ মদম-অভিলাষ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - জপতাল॥

চিরদিনে মীলল রাইক পাশ।
উঠই না পারই বিরহ-হুতাশ॥
বাম পাণি দেই দক্ষিণ শরীরে।
চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার।
নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিনি বামে করি বৈঠল কান।
বিরহিনি মানল স্বপন সমান॥
পূরল যতহুঁ মরম অভিলাষ।
কছু নাহি বূঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনে আগমন
॥ ধানশী॥

চির দিনে মীলল রাইক পাশ।
উঠই না পারই বিরহ হুতাশ॥
বাম পাণি দেই দখিণ ধারে।
চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরি উঠই না পার।
নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিণি বামে করি বৈঠল কান।
বিরহিণি মানল স্বপন সমান॥
পূরল যতহুঁ মরম অভিলাষ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চির দিনে মীলল রাইক পাশ।
উঠই না পারই বিরহ-হুতাশ॥
বাম পাণি দেই দক্ষিণ শরীরে।
চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার।
নাগর লেয়ল কোরে আপনার॥
বিরহিণি বামে করি বৈঠল কান।
বিরহিণি মানল স্বপন সমান॥
পূরল যতহুঁ-মরম অভিলাষ।
কছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বন্ধু তোমায় কি বলিব আন
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ভাবসম্মিলন, ১৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সর্ব্ব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তুলি সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
সামঞ্জসা সহ প্রেম এই দুঃখে মরি॥
বলরাম দাস বলে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া লিনু তব পরিবাদ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বন্ধু তোমায় কি বলিব আন।
যে বলু সে বলু লোকে তুমি সে পরাণ॥
তোমার কলঙ্ক বন্ধু গায় সর্ব্ব লোকে।
লাজে মুখ নাহি তুলি সতীর সমুখে॥
এ বড় দারুণ শেল সহিতে না পারি।
সামঞ্জসা সহ প্রেম এই দুঃখে মরি॥
বলরাম দাস বলে ভাঙ্গিল বিবাদ।
সকল নিছিয়া লিনু তব পরিবাদ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুনইতে রাই বচন অধরামৃত
শুনইতে রাইয়ের বাণী অমৃতে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, ১৯৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

শুনইতে রাই                         বচন অধরামৃত,
বিদগধ রসময় কান।
আপনাক ভাবে,                      ভাব প্রকাশিতে,
ধনী অনুমতি ভেল জান॥
সুন্দরি যে কহিলে গৌর স্বরূপ।
কোই নাহি জানয়ে,           কেবল তুয়া প্রেম বিনে,
মোহে করবি হেন রূপ॥
কৈছন তুয়া প্রেমা,                   কৈছন মধুরিমা,
কৈছন সুখে তুহুঁ ভোর।
এ তিন বাঞ্ছিত ধন,               ব্রজে নহিল পূরণ,
কি কহব না পাইয়ে ওর॥
ভাবিয়ে দেখিনু মনে,           তুহারি স্বরূপ বিনে,
এ সুখ আস্বাদ কভু নয়।
তুয়া ভাব কান্তি ধরি,          তুয়া প্রেম গুরু করি,
নদীয়াতে করব উদয়॥
সাধব মনের সাধা,                ঘুচাব মনের ধাঁধা,
জগতে বিলাব প্রেম ধন।
বলরাম দাসে কয়,                 প্রভু মোর দয়াময়,
না ভজিনু মুঞি নরাধম॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নান্দী বা পূর্ব্বাভাস।

শুনইতে রাই                           বচন অধরামৃত
বিদগধ রসময় কান।
আপনাকে ভাবে                        ভাব প্রকাশিতে
ধনী অনুমতি ভেল জান॥
সুন্দরি যে কহিলে গৌর স্বরূপ।
কোই নাহি জানয়ে               কেবল তুয়া প্রেম বিনা
মোহে করবি হেন রূপ॥ ধ্রু॥
কৈছন তুয়া প্রেমা                        কৈছন মধুরিমা
কৈছন সুখে তুহুঁ ভোর।
এ তিন বাঞ্ছিত ধন                    ব্রজে নহিল পূরণ
কি কহব না পাইয়ে ওর॥
ভাবিয়া দেখিনু মনে              তোহারি স্বরূপ বিনে
এ সুখ আস্বাদ কভু নয়।
তুয়া ভাব কান্তি ধরি              তুয়া প্রেম গুরু করি
নদীয়াতে করব উদয়॥
সাধব মনের সাধা                   ঘুচাব মনের বাধা
জগতে বিলাব প্রেমধন।
বলরাম দাসে কয়                   প্রভু মোর দয়াময়
না ভজিনু মুঞি নরাধম॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, কুঞ্জভঙ্গ, ৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুনইতে রাই,                      বচন অধরামৃত,
বিদগধ রসময় কান।
আপনাকে ভাবে,                  ভাব প্রকাশিতে,
ধনী অনুমতি ভেল জান॥
সুন্দরী যে কহিলে গৌর স্বরূপ।
কোই নাহি জানয়ে,       কেবল তুয়া প্রেম বিনে,
মোহে করবি হেন রূপ॥
কৈছন তুয়া প্রেমা,                কৈছন মধুরিমা,
কৈছন সুখে তুহুঁ ভোর।
এ তিন বাঞ্ছিত ধন,            ব্রজে নহিল পূরণ,
কি কহব না পাইয়ে ওর॥
ভাবিয়া দেখিনু মনে,        তুঁহারি স্বরূপ বিনে,
এ সুখ আস্বাদ কভু নয়।
তুয়া ভাব কান্তি ধরি,      তুয়া প্রেম গুরু করি,
নদীয়াতে করব উদয়॥
সাধব মনের সাধা,           ঘুচাব মনের বাধা,
জগতে বিলাব প্রেমধন।
বলরাম দাসে কয়,           প্রভু মোর দয়াময়,
না ভজিনু মুঞি নরাধম॥

ই পদটি ১৯৩৩সালে (১৩৪০ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সঙ্কলিত ও সম্পাদিত
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী-তেওট॥

শুনইতে রাই বচন অধরামৃত বিদগধ রসময় কান।
আপনাক ভাবে,                      ভাব প্রকাশিতে,
ধনী অনুমতি ভেল জান॥
সুন্দরি! যে কহিলে গৌর স্বরূপ।
কোই নাহি জানয়ে,          কেবল তুয়া প্রেম বিনা,
মোহে করবি হেনরূপ॥
কৈছন তুয়া প্রেমা,                   কৈছন মধুরিমা,
কৈছন সুখে তুহুঁ ভোর।
এ তিন বাঞ্ছিত ধন,                 ব্রজে নহিল পূরণ,
কি কহব না পাইয়া ওর॥
ভাবিয়ে দেখিনু মনে,            তুহারি স্বরূপ বিনে,
এ সুখ আস্বাদ কভু নয়।
তুয়া ভাব কান্তি ধরি,           তুয়া প্রেমগুরু করি,
নদীয়াতে করব উদয়॥
সাধব মনের সাধা,                ঘুচাব মনের বাধা,
জগতে বিলাব প্রেম ধন।
বলরাম দাসে কয়,                প্রভু মোর দয়াময়,
না ভজিনু মুঞি নরাধম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ শ্রীরাগ॥

শুনইতে রাইয়ের বাণী               অমৃতে সিঞ্চিল জানি
বিদগধ রসময় কান।
আপনাক ভাবে                       ভাব প্রকাশিতে এহ
ধনী অনুমতি ভেল জান॥
সুন্দরি যে কহিলে গৌর স্বরূপ।
অব কোই নাহি জানে               কেবল তুয়ার প্রেমে
মোহে করবি হেন রূপ॥
কৈছন তুয়া প্রেমা                        কৈছন মধুরিমা
কৈছন সুখে তুহু ভোর।
এ তিন বাঞ্ছিত ধন                     ব্রজে নহিল পূরণ
কি কহব না পাইয়ে ওর॥
ভাবিয়ে দেখিনু মনে                  তুহার স্বরূপ বিনে
এ সুখ আস্বাদ কভু নয়।
তুয়া ভাব কান্তি ধরি               তুয়া প্রেম গুরু করি
নদীয়াতে করব উদয়॥
সাধব মনের সাধা                      ঘুচাব মনের ধাঁধা
জগতে বিলাব প্রেম ধন।
বলরাম দাসে কয়                     প্রভু মোর দয়াময়
না ভজিনু মুঞি নরাধম॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

শুনইতে রাই                      বচন অধরামৃত
বিদগধ রসময় কান।
আপনাক ভাবে                   ভাব প্রকাশিতে
ধনী অনুমতি ভেল জান॥
সুন্দরি যে কহিলে গৌর স্বরূপ।
কোই নাহি জানয়ে       কেবল তুয়া প্রেম বিনে
মোহে করবি হেন রূপ॥
কৈছন তুয়া প্রেমা                 কৈছন মধুরিমা
কৈছন সুখে তুহু ভোর।
এ তিন বাঞ্ছিত ধন             ব্রজে নহিল পূরণ
কি কহব না পাইয়ে ওর॥
ভাবিয়ে দেখিনু মনে          তুহারি স্বরূপ বিনে
এ সুখ আস্বাদ কভু নয়।
তুয়া ভাব কান্তি ধরি          তুয়া প্রেম গুরু করি
নদীয়াতে করব উদয়॥
সাধব মনের সাধা               ঘুচাব মনের ধাঁধা
জগতে বিলাব প্রেম ধন।
বলরাম দাসে কয়              প্রভু মোর দয়াময়
না ভজিনু মুঞি নরাধম॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর