কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
বঁধূহে শুনইতে কাঁপই দেহা
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, ২০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বঁধূহে শুনইতে কাঁপই দেহা।
তুহুঁ ব্রজ জীবন,                      তুয়া বিনু কৈছন,
ব্রজ পুর বান্ধব থেহা॥
জল বিনু মীন,                         ফণি মণি বিনু,
তেজয়ে আপন পরাণ।
তিল আধ তুহারি,                  দরশ বিনু তৈছন,
ব্রজপুর গতি তুহুঁ জান॥
সকল সমাধি,                     কোন বিধি সাধবি,
পাওবি কোনহি সুখ।
কিয়ে আন জন,                  তুয়া মরমহি জানব,
ইথে লাগি বিদরয়ে বুক॥
বৃন্দাবন কুঞ্জ,                        নিকুঞ্জহি নিবসবি,
তুহুঁ বর নাগর কান।
অহ নিশি তুহারি,                   দরশ বিনু ঝুরব,
তেজব সবহুঁ পরাণ॥
অগ্রজ সঙ্গে,                         রঙ্গে যমুনা তটে,
সখা সঙে করবি বিলাস।
পরিহরি মুঝে কিয়ে,                প্রেম পরকাশবি,
না বুঝয়ে বলরাম দাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বঁধু হে শুনইতে কাঁপই দেহা।
তুহুঁ ব্রজজীবন                      তুয়া বিনু কৈছন
ব্রজপুর বাঁধব থেহা॥
জল বিনু মীন                        ফণী মণি বিনু
তেজয়ে আপন পরাণ।
তিল আধ তুহারি                দরশ বিনু তৈছন
ব্রজপুর গতি তুহুঁ জান॥
সকল সমাধি                    কোন বিধি সাধবি
পাওবি কোনহি সুখ।
কিয়ে আন জন তুয়া                মরমহি জানব
ইথে লাগি বিদরয়ে বুক॥
বৃন্দাবন কুঞ্জ                     নিকুঞ্জহি নিবসয়ি
তুহুঁ বর নাগর কান।
অহনিশি তুহারি                  দরশ বিনু ঝুরব
তেজব সবহুঁ পরাণ॥
অগ্রজ সঙ্গে                       রঙ্গে যমুনা তটে
সখা সঞে করবি বিলাস।
পরিহরি মুঝে কিয়ে                প্রেম প্রকাশবি
না বুঝয়ে বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বঁধুহে শুনইতে কাঁপই দেহা।
তুহুঁ ব্রজ জীবন,                      তুয়া বিনু কৈছন,
ব্রজপুর বান্ধব থেহা॥
জল বিনু মীন,                  ফণি যৈছে মণি বিনু,
তেজয়ে আপন পরাণ।
তিল আধ তুঁহারি,                 দরশ বিনু তৈছন,
ব্রজপুর গতি তুঁহু জান॥
সকল সমাধি,                     কোন সিধি সাধবি,
পায়বি কোনহি সুখ।
কিয়ে আন জন তুয়া,                 মরাহি জানব,
ইথে লাগি বিদরয়ে বুক॥
বৃন্দাবন কুঞ্জ,                      নিকুঞ্জহি নিবসহ,
তুহুঁ বর নাগর কাণ।
অহনিশি তোঁহারি,                 দরশ বিনু ঝুরব,
তেজব সবহুঁ পরাণ॥
অগ্রজ সঙ্গে,                        রঙ্গে যমুনা তটে,
সখা সঙে করবি বিলাস।
পরিহরি মুঝে কিয়ে,                প্রেম পরকাশবি,
না বুঝয়ে বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৩৩সালে (১৩৪০ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সঙ্কলিত ও সম্পাদিত
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই-ছোট দশকুশী॥

বঁধু হে শুনইতে কাঁপই দেহা।
তুহুঁ ব্রজজীবন,                      তুয়া বিনু কৈছন,
ব্রজ পুর বাঁধব থেহা॥
জল বিনু মীন,                        ফণি মণি বিনু,
তেজয়ে আপন পরাণ।
তিল আধ তুহারি,                দরশ বিনু তৈছন,
ব্রজপুরগতি তুহুঁ জান॥
সকল সমাধি,                    কোন বিধি সাধবি,
পাওবি কোন হি সুখ।
কিয়ে আনজন তুয়া                 মরমহি জানব,
ইথে লাগি বিদরয়ে বুক॥
বৃন্দাবনকুঞ্জ,                     নিকুঞ্জহি নিবসয়ি,
তুহুঁ বর নাগর কান।
অহর্নিশি তুহারি,                দরশ বিনু ঝুরব,
তেজব সবহুঁ পরাণ॥
অগ্রজ সঙ্গে রঙ্গে যমুনা তটে
সখা সঞে করবি বিলাস।
পরিহরি মুঝে কিয়ে,                 প্রেম প্রকাশবি,
না বুঝয়ে বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ শ্রীরাগ॥

বঁধূহে শুনইতে কাঁপই দেহা।
তুহুঁ ব্রজ জীবন                    তুয়া বিনু কৈছন
ব্রজপুর বান্ধব থেহা॥
জল বিনু মীন                        ফণি মণি বিনু
তেজয়ে আপন পরাণ।
তিল আধ তুহারি                দরশ বিনু তৈছন
ব্রজপুর গতি তুহুঁ জান॥
সকল সমাধি                     কোন বিধি সাধবি
পাওবি কোনহি সুখ।
কিয়ে আন জন তুয়া                মরমহি জানব
ইথে লাগি বিদরয়ে বুক॥
বৃন্দাবন কুঞ্জ                     নিকুঞ্জহি নিবসবি
তুহুঁ বর নাগর কান।
অহ নিশি তুহারি                 দরশ বিনু ঝুরব
তেজব সবহুঁ পরাণ॥
অগ্রজ সঙ্গে                        রঙ্গে যমুনা তটে
সখা সঙে করবি বিলাস।
পরিহরি মুঝে কিয়ে               প্রেম পরকাশবি
না বুঝয়ে বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বঁধূহে শুনইতে কাঁপই দেহা।
তুহুঁ ব্রজ জীবন                    তুয়া বিনু কৈছন
ব্রজ পুর বান্ধব থেহা॥
জল বিনু মীন                        ফণি মণি বিনু
তেজয়ে আপন পরাণ।
তিল আধ তুহারি                দরশ বিনু তৈছন
ব্রজপুর গতি তুহুঁ জান॥
সকল সমাধি                    কোন বিধি সাধবি
পাওবি কোনহি সুখ।
কিয়ে আন জন                তুয়া মরমহি জানব
ইথে লাগি বিদরয়ে বুক॥
বৃন্দাবন কুঞ্জ                     নিকুঞ্জহি নিবসবি
তুহুঁ বর নাগর কান।
অহ নিশি তুহারি                দরশ বিনু ঝুবব
তেজব সবহুঁ পরাণ॥
অগ্রজ সঙ্গে                      রঙ্গে যমুনা তটে
সখা সঙে করবি বিলাস।
পরিহরি মুঝে কিয়ে               প্রেম পরকাশবি
না বুঝয়ে বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুনহুঁ সুন্দরি মঝু অভিলাষ
শুন শুন সুন্দরী মঝু অভিলাষ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীকৃষ্ণের উক্তি, ২০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই॥

শুনহুঁ সুন্দরি মঝু অভিলাষ।
ব্রজ পুর প্রেম করব পরকাশ॥
গোপ গোপাল সব জন মেলি।
নদীয়া নগর পর করবহুঁ কেলি॥
তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।
অবিরত বদনে বলব তুয়া নাম॥
ব্রজ পুর পরিহরি কবহুঁ না যাব।
ব্রজ বিনু প্রেম না হোয়ব লাভ॥
ব্রজ পুর ভাবে পূরব মনকাম।
অনুভবি জানল দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন সুন্দরী মঝু অভিলাষ।
ব্রজপুর প্রেম করব পরকাশ॥
গোপ গোপাল সব জন মেলি।
নদীয়া নগর-পর করবহুঁ কেলি॥
তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।
অবিরত বদনে বোলব তুয়া নাম॥
ব্রজপুর পরিহরি কবহু না যাব।
ব্রজবিনু প্রেম না হোয়ব লাভ॥
ব্রজপুর ভাবে পূরব মনকাম।
অনুভবি জানল দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৯৩৩সালে (১৩৪০ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সঙ্কলিত
ও সম্পাদিত শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী-তেওট॥

শুনহ সুন্দরি মঝু অভিলাষ।
ব্রজপুর প্রেম করব পরকাশ॥
গোপ গোপাল সব জন মেলি।
নদীয়া নগর পর করবহুঁ কেলি॥
তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।
অবিরত বদনে বলব তুয়া নাম॥
ব্রজপুর পরিহরি কবহুঁ না যাব।
ব্রজবিনু প্রেম না হোয়ব লাভ॥
ব্রজপুর ভাবে পূরব মনকাম।
অনুভবি জানল দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

শুনহুঁ সুন্দরি মঝু অভিলাষ।
ব্রজপুর প্রেম করব পরকাশ॥
গোপ গোপাল সব জন মেলি।
নদীয়া নগর পর করবহুঁ কেলি॥
তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।
অবিরত বদনে বলব তুয়া নাম॥
ব্রজপুর পরিহরি কবহুঁ না যাব।
ব্রজ বিনু প্রেম না হোয়ব লাভ॥
ব্রজপুর ভাবে পূরব মনকাম।
অনুভবি জানল দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

শুনহুঁ সুন্দরি মঝু অভিলাষ।
ব্রজপুর প্রেম করব পরকাশ॥
গোপ গোপাল সব জন মেলি।
নদীয়া নগর পর করবহুঁ কেলি॥
তনু তনু মেলি হোই এক ঠাম।
অবিরত বদনে বলব তুয়া নাম॥
ব্রজপুর পরিহরি কবহুঁ না যাব।
ব্রজ বিনু প্রেম না হোয়ব লাভ॥
ব্রজপুর ভাবে পূরব মনকাম।
অনুভবি জানল দাস বলরাম॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জানিয়া কামিনী যামিনী শেষ
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৭১ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২৫৭৫ সংখ্যক পদ।

॥ ললিত॥

জানিয়া কামিনি যামিনি-শেষ।
জাগহ সখি সবে করব নিদেশ॥
ললিতা বিশাখা ঘুমায়ব সখি সঙ্গে।
সবহুঁ চরণ সম্বাহব রঙ্গে॥
হরি হরি কবহুঁ শ্রীচরণ সম্বাই।
কনকমঞ্জরি-মুখ হেরব জাগাই॥
ঘুমল সখিগণে জাগব শয়নে।
কর্পূর তাম্বুল দেয়ব বদনে॥
বিরচিব সিন্দুর কাজর বেশ।
বসন পিন্ধায়ব বান্ধব কেশ॥
তনু অনুলেপব চন্দন-গন্ধ।
পুনহি পরায়ব কাঁচলি-বন্ধ॥
আরতি করব হেরব মুখ-চন্দ।
টূটব চিরদিন বিরহক ধন্দ॥
শয়ন-নিকুঞ্জে গবাখ আগোরি।
হেরব সখিগণে আনন্দ ভোরি॥
বলরাম হেরব দুহুঁ-মুখ-চন্দ।
ভাগব কব দিঠি শ্রবণক দ্বন্দ্ব॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

জানিয়া কামিনী যামিনী শেষ।
জাগহ সখী সবে করব নিদেশ॥
ললিতা বিশাখা ঘুমায়ব সখী সঙ্গে।
সবহুঁ চরণ সম্বাহব রঙ্গে॥
হরি হরি কবহুঁ শ্রীচরণ সম্বাই।
কনক মুঞ্জরী মুখ হেরব জাগাই॥
ঘুমল সখীগণে জাগব শয়নে।
কর্পূর তাম্বুল দেয়ব বদনে॥
বিরচিব সিন্দূর কাজর বেশ।
বসন পিন্ধায়ব বান্ধব কেশ॥
তনু অনুলেপন চন্দন গন্ধ।
পুনহি পরায়ব কাঁচলি বিবন্ধ॥
আরতি করব হেরব মুখচন্দ।
টুটব চির দিনে বিরহক ধন্দ॥
শয়ন নিকুঞ্জে রাখব আগোরি।
হেরব সখীগণে আনন্দে ভোরি॥
বলরাম হেরব দুহুঁ মুখচন্দ।
ভাগব কব দিঠি শ্রবণক দ্বন্দ্ব॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

জানিয়া কামিনী যামিনী শেষ।
জাগহ সখী সবে করব নিদেশ॥
ললিতা বিশাখা ঘুমায়ব সখী সঙ্গে।
সবহুঁ চরণ সম্বাহব রঙ্গে॥
হরি হরি কবহুঁ শ্রীচরণ সম্বাই।
কনকমঞ্জরী মুখ হেরব জাগাই॥
ঘুমল সখীগণে জাগব শয়নে।
কর্পূর তাম্বুল দেয়ব বদনে॥
বিরচিব সিন্দূর কাজর বেশ।
বসন পিন্ধায়ব বান্ধব কেশ॥
তনু অনুলেপন চন্দন-গন্ধ।
পুনহি পরায়ব কাঁচলি নিবন্ধ॥
আরতি করব হেরব মুখচন্দ্র।
টুটব চিরদিনে বিরহক ধন্দ॥
শয়ন-নিকুঞ্জে গবাখ আগোরি।
হেরব সখীগণে আনন্দ ভোরি॥
বলরাম হেরব দুহুঁ মুখচন্দ্র।
ভাগব কব দিঠি-শ্রবণক দ্বন্দ্ব॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

জানিয়া কামিনী যামিনী শেষ।
জাগহ সখী সবে করব নিদেশ॥
ললিতা বিশাখা ঘুমায়ব সখী-সঙ্গে।
সবহুঁ চরণ সম্বাহব রঙ্গে॥
হরি হরি কবহুঁ শ্রীচরণ সম্বাই।
কনক মঞ্জরী মুখ হেরব জাগাই॥
ঘুমাল সখীগণে জাগব শয়নে।
কর্পূর তাম্বুল দেয়ব বদনে॥
বিরচিব সিন্দূর কাজর বেশ।
বসন পিন্ধায়ব বান্ধব কেশ॥
তনু অনুলেপন চন্দন গন্ধ।
পুনহি পরায়ব কাঁচলী নিবন্ধ॥
আরতি করব হেরব মুখচন্দ্র।
টুটব চিরদিনে বিরহক ধন্দ॥
শয়ন-নিকুঞ্জে গবাখ আগোরি।
হেরব সখীগণে আনন্দ ভোরি॥
বলরাম হেরব দুহুঁ মুখচন্দ।
ভাগব কব দিঠি শ্রবণক দ্বন্দ্ব॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ ললিত॥

জানিয়া কামিনি যামিনি শেষ।
জাগব সখি সভে করব নিদেশ॥
ললিতা বিশাখা ঘুমায়ব সখি সঙ্গে।
সবহুঁ চরণ সম্বাহব রঙ্গে॥
হরি হরি কবহুঁ শ্রীচরণ সম্বাই।
কনকমঞ্জরি মুখ হেরব জাগাই॥
ঘুমল সখিগণে জাগব শয়নে।
কর্পূর তাম্বুল দেয়ব বদনে॥
বিরচিব সিন্দুর কাজর বেশ।
বসন পিন্ধায়ব বান্ধব কেশ॥
তনু অনুলেপব চন্দনগন্ধ।
পুনহি পরায়ব কাঁচলিবন্ধ॥
আরতি করব হেরব মুখচন্দ।
টুটব চিরদিন বিরহক ধন্দ॥
শয়ননিকুঞ্জে রাখব আগোরি।
হেরব সখিগণে আনন্দে ভোরি॥
বলরাম হেরব দুহুঁ মুখচন্দ।
ভাঁগব কব দিঠি শ্রবণক দন্দ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

জানিয়া কামিনি যামিনি শেষ।
জাগহ সখি সবে করব নিদেশ॥
ললিতা বিশাখা ঘুমায়ব সখি সঙ্গে।
সবহুঁ চরণ সম্বাহব রঙ্গে॥
হরি হরি কবহুঁ শ্রীচরণ সম্বাই।
কনকমঞ্জরি- মুখ হেরব জাগাই॥
ঘুমল সখিগণে জাগব শয়নে।
কর্পূর তাম্বুল দেয়ব বদনে॥
বিরচিব সিন্দূর কাজর বেশ।
বসন পিন্ধায়ব বান্ধব কেশ॥
তনু অনুলেপব চন্দন-গন্ধ।
পুনহি পরায়ব কাঁচলি-বন্ধ॥
আরতি করব হেরব মুখ-চন্দ।
টূটব চিরদিন বিরহক ধন্দ॥
শয়ন-নিকুঞ্জে রাখব আগোরি।
হেরব সখিগণে আনন্দে ভোরি॥
বলরাম হেরব দুহুঁ-মুখ-চন্দ।
ভাগব কব দিঠি শ্রবণক দ্বন্দ্ব॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিপরীত অম্বর পালটি পিন্ধায়ব
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব,
প্রার্থনা, ৩০৭৫ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৫৭৮ ও কমলাকান্ত দাসের
৩৯|৩৯ সংখ্যক পদ।

॥ কেদার॥

বিপরিত অম্বর পালটি পিব্ধায়ব
বান্ধব কুন্তল-ভার।
গাঁথি দুহুঁক হিয়ে পুন পহিরায়ব
টূটল মোতিম-হার॥
হরি হরি কব নব-পল্লব-শয়নে।
রতি-রণ-ছরমে ঘরমে দুহুঁ বৈঠব
বীজব কিশলয় বিজনে॥ ধ্রু॥
লোচন-খঞ্জন কাজরে রঞ্জব
নব-কুবলয় দুই কাণে।
সিন্দুর চন্দনে তিলক বনায়ব
অলক করব নিরমাণে॥
দুহুঁ-মুখ-জ্যোতি মুকুর দরশায়ব
দেয়ব সুকপুর পাণে।
বলরাম দাসক চির-দুখ মীটব
কব দুহুঁ হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বিপরীত অম্বর,                পালটি পিব্ধায়ব,
বান্ধব কুন্তল ভার।
গাঁথি দুহুঁক হিয়ে,                 পুন পহিরায়ব,
টুটল মোতিম হার॥
হরি হরি কব নব পল্লব শয়নে।
রতি রণ ছরমে,                ঘরমে দুহুঁ বৈঠব,
বীজব কিশলয় বিজনে॥
লোচন খঞ্জন,                      কাজরে রঞ্জব,
নব কুবলয় দুই কাণে।
সিন্দুর চন্দনে,                    তিলক বনায়ব,
অলকা করব নিরমাণে॥
দুহুঁ মুখ জ্যোতি,                 মুকুর দরশায়ব,
দেয়ব সুকর্পূর পানে।
বলরাম দাসক,                    চির দুখ মিটব,
দুহুঁ হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বিপরীত অম্বর, পালটি পিব্ধায়ব, বান্ধব কুন্তল-ভার।
গাঁথি দুহুঁক হিয়ে, পুন পহিরায়ব, টুটল মোতিম-হার॥
হরি হরি কব নব-পল্লব-শয়নে।
রতি-রণ-ছরমে, ঘরমে দুহুঁ বৈঠব, বীজব কিশলয়-বিজনে॥
লোচন-খঞ্জন, কাজরে রঞ্জব, নব-কুবলয় দুই কাণে।
সিন্দূর চন্দনে, তিলক বনায়ব, অলক করব নিরমাণে॥
দুহু মুখজ্যোতি, মুকুর দরশায়ব, দেয়ব সুকপূর পানে।
বলরামদাসক, চির-দুখ মিটব, দুহুঁ হেরব নয়ানে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বিপরীত অম্বর                 পালটী পিধাঁয়ব
বাঁধব কুন্তল ভার।
গাঁথি দুহুঁক হিয়ে                পুনঃ পহিরায়ব
টুটল মোতিহার॥
হরি হরি কব নবপল্লবশয়নে।
রতিরস-ছরমে                ঘরমে দুহুঁ বৈঠব
কিশলয় বিজনে॥ ধ্রু॥
লোচন খঞ্জন                      কাঁজরে রঞ্জব
নবকুবলয় দুই কানে।
সিন্দূর চন্দনে                    তিলক বনায়ব
অলকা করব নিরমাণে॥
দুহুঁ মুখজ্যোতি                 মুকুরে দরশায়ব
দেয়ব সুকর্পূর পানে।
বলরামদাসক                  চিরদুঃখ মিটায়ব
দুহুঁ হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০২-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বিপরীত অম্বর,                পালটী পিন্ধায়ব,
বান্ধব কুন্তল-ভার।
গাঁথি দুহুঁক হিয়ে,                 পুন পহিরায়ব,
টুটল মোতিম-হার॥
হরি হরি কব নব-পল্লব-শয়নে।
রতি-রণ-ছরমে                ঘরমে দুহুঁ বৈঠব,
বীজন কিশলয়-বীজনে॥
লোচন-খঞ্জন,                      কাজরে রঞ্জন,
নব-কুবলয় দুই কাণে।
সিন্দূর চন্দনে,                    তিলক বনায়ব,
অলক করব নিরমাণে॥
দুহুঁ-মুখ-জ্যোতি,                 মুকুর দরশায়ব,
দেয়ব সুকর্পূর পানে।
বলরাম দাসক,                   চির-দুখ মিটব,
দুহুঁ হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বিপরীত অম্বর,                পালটি পিন্ধায়ব,
বান্ধব কুন্তল-ভার।
গাঁথি দুহুঁক হিয়ে,                 পুন পহিরায়ব,
টুটল মোতি-হার॥
হরি হরি কব নব পল্লব-শয়নে।
রতি-রণ-ছরমে                ঘরমে দুহুঁ বৈঠব,
বীজ কিশলয়-বিজনে॥
লোচন-খঞ্জন,                      কাজরে রঞ্জন,
নব-কুবলয় দুই কাণে।
সিন্দূর চন্দনে,                   তিলক বনায়ব,
অলক করব নিরমাণে॥
দুহুঁ-মুখ-জ্যোতি,                 মুকুর দরশায়ব,
দেয়ব সুকর্পূর পানে।
বলরাম দাসক,                  চির-দুখ মিটায়ব,
দুহুঁ হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ কেদার॥

বিপরিত অম্বর পালটি পিন্ধায়ব
বান্ধব কুন্তলভার।
গাঁথি দুহুঁক হিয়ে পুন পহিরায়ব
টূটল মোতিমহার॥
হরি হরি কব নবপল্লব শয়নে।
রতিরণ ছরমে ঘরমে দুহুঁ বৈঠব
বীজব কিশলয় বিজনে॥
লোচন খঞ্জন কাজরে রঞ্জব
নবকুবলয় দুই কানে।
সিন্দূর চন্দনে তিলক বনায়ব
অলক করব নিরমাণে॥
দুহুঁ মুখ জোতি মুকুর দরশায়ব
দেয়ব সকপুর পাণে।
বলরাম দাসক চির দুখ মীটব
কব দুহু হেরব নয়ানে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

বিপরিত অম্বর পালটি পিব্ধায়ব
বান্ধব কুন্তল-ভার।
গাঁথি দুহুঁক হিয়ে পুন পহিরায়ব
টুটল মোতিম-হার॥
হরি হরি কব নব-পল্লব-শয়নে।
রতি-রণ-ছরমে ঘরমে দুহুঁ বৈঠব
বীজব কিশলয় বিজনে॥
লোচন-খঞ্জন কাজরে রঞ্জব
নব-কুবলয় দুই কাণে।
সিন্দুর চন্দনে তিলক বনায়ব
অলক করব নিরমাণে॥
দুহুঁ-মুখ-জ্যোতি মুকুর দরশায়ব
দেয়ব সুকপুর পাণে।
বলরাম দাসক চির-দুখ মীটব
কব দুহু হেরব নয়ানে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লীলা শুনইতে শীলা দরবই
যো লীলা শুনইতে শীলা দারু দরবই
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব,
প্রার্থনা, ২৯৯৭ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৫০৬ ও কমলাকান্ত দাসের
পদরত্নাকর পুথির ৩৯|৪০ সংখ্যক পদ।

॥ গুর্জ্জরী॥

লীলা শুনইতে                          শীলা দরপই
গুণ শুনি মুনি-মন ভোর।
ও সুখ-সায়রে                     জগ-জন নিমগন
শ্রবণে পরশ নহে মোর॥
হরি হরি কি শেল রহল মোর চিত।
না শুনিলুঁ শ্রুতি ভরি                  নাগর নাগরি
দুহুঁজন-মধুর-চরিত॥ ধ্রু॥
সোই গোবর্দ্ধন                        সোই বৃন্দাবন
সো নব-রসময় কুঞ্জে।
সো যমুনা-জল                     কেলি কুতূহল
হত-চিত তাহে নাহি রঞ্জে॥
প্রিয়-সহচরীগণ                     সঙ্গে আলাপন
খেলন বিবিধ বিলাস।
হৃদয়ে না স্ফুরই               বিকলে সে জীবই
ধিক্ ধিক্ বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২০৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

লীলা শুনইতে,                          শীলা দরবই,
গুণ শুনি মুনি মন ভোর।
ও সুখ সাগরে,                     জগজন নিমগন,
শ্রবণে পরশ নহে মোর॥
হরি হরি কি শেল রহল মোর চিত।
না শুনিনু শ্রুতি ভরি,                 নাগর নাগরী,
দুহুঁ জন মধুর চরিত॥ ধ্রু।
সোই গোবর্দ্ধন,                       সোই বৃন্দাবন,
সো নব রসময় কুঞ্জে।
সো যমুনা জল,                      কেলি কুতূহল,
হত চিত তাহে নাহি রঞ্জে॥
প্রিয় সহচরীগণ,                     সঙ্গে আলাপন,
খেলন বিবিধ বিলাস।
হৃদয়ে না স্ফুরই,               বিকলে সে জীবই,
ধিক ধিক বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

লীলা শুনইতে, শীলা দরবই, গুণ শুনি মুনি মন ভোর।
ও সুখ সাগরে, জগ-জন নিমগন, শ্রবণে পরশ নহে মোর॥
হরি হরি কি শেল রহল মোর চিত।
না শুনিনু শ্রুতি ভরি, নাগর নাগরী, দুহুঁ জন মধুর চরিত॥
সোই গোবর্দ্ধন, সোই বৃন্দাবন, সো নব-রস-ময় কুঞ্জে।
সো যমুনা-জল, কেলি-কুতূহল, হত চিত তাহে নাহি রঞ্জে॥
প্রিয়-সহচরীগণ সঙ্গে আলাপন, খেলন বিবিধ বিলাস।
হৃদয়ে না স্ফুরই, বিফলে সে জীবই, ধিক্ ধিক্ বলরাম দাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

লীলা শুনইতে                       শীলা দরবই
গুণ শুনি মুনিমন ভোর।
ও সুখসাগরে                     জগজন নিমগন
শ্রবণে পরশ নহ মোর॥
হরি হরি কি শেল রহল চিতে।
না শুনিনু শ্রুতি ভরি                নাগর-নাগরী
দুহুঁজন মধুর চরিতে॥ ধ্রু॥
সেই গোবর্দ্ধন                        সেই বৃন্দাবন
সো নব রসময় কুঞ্জে।
সো যমুনাজল                     কেলি কুতূহল
হতচিত তাহে নাহি রঞ্জে॥
প্রিয়সহচরীগণ                    সঙ্গে আলাপন
খেলন বিবিধ বিলাস।
হৃদয়ে না স্ফুরই               বিকলে সে জীবই
ধিক্ ধিক্ বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ গুর্জ্জরী॥

যো লীলা শুনইতে                  শীলা দারু দরবই
গুণ শুনি মুনিমন ভোর।
ও সুখসায়রে মাঝে                    জগজন নিমগন
শ্রবণে পরশ নহ মোর॥
হরি হরি কি শেল রহল মোর চিতে।
না শুনিলুঁ শ্রুতি ভরি                নাগর নাগরি মিলি
দুহুঁজন মধুরচরিতে॥
সোই গিরি গোবর্দ্ধন                সোই ধাম বৃন্দাবন
সো নবরসময় কুঞ্জে।
সোই যমুনাজল                     কেলি কলা কুতূহল
হতচিত তাহে নাহি রঞ্জে॥
প্রিয়সহচরীগণ                      সঙ্গে সুখ আলাপন
খেলন বিবিধ সুবিলাস।
হৃদয়ে না স্ফুরই                    বিফলে সে জীবই
ধিক্ ধিক্ বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

লীলা শুনইতে                          শীলা দরপই
গুণ শুনি মুনি-মন ভোর।
ও সুখ-সাগরে                     জগ-জন নিমগন
শ্রবণে পরশ নহে মোর॥
হরি হরি কি শেল রহল মোর চিত।
না শুনিলুঁ শ্রুতি ভরি                  নাগর নাগরি
দুহুঁজন-মধুর-চরিত॥
সোই গোবর্দ্ধন                        সোই বৃন্দাবন
সো নব-রসময় কুঞ্জে।
সো যমুনা-জল                     কেলি কুতূহল
হত-চিত তাহে নাহি রঞ্জে॥
প্রিয়-সহচরীগণ,                   সঙ্গে আলাপন
খেলন বিবিধ বিলাস।
হৃদয়ে না স্ফুরই               বিফলে সে জীবই
ধিক্ ধিক্ বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পূরবে বাঁধল চূড়া এবে কেশহীন
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে এই পদটি ২২৫৫-সংখ্যক পদ
হিসেবে ‘বাসুঘোষ’ ভণিতায় দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

পূরবে বাঁধল চূড়া এবে কেশহীন।
নটবরবেশ ছাড়ি পরিলা কৌপীন॥
গাভী-দোহন ভাণ্ড ছিল বাম করে।
করঙ্গ ধরিলা গোরা সেই অনুসারে॥
ত্রেতায় ধরিল ধনু দ্বাপরেতে বাঁশী॥
কলিযুগে দণ্ডধারি হইলা সন্ন্যাসী।
বলরাম কহে শুন নদীয়ানিবাসী।
বলরাম অবধূত কানাই সন্ন্যাসী॥

টিকা -
একখানি হস্তলিখিত গ্রন্থে এই পদটী বাসুঘোষের বলিয়া উদ্ধৃত হইয়াছে। পদকল্পতরুতেও
তাই।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ গান্ধার॥

পূরবে বাঁধল চূড়া এবে কেশহীন।
নটবরবেশ ছাড়ি পরিলা কৌপীন॥
গাভীদোহন ভাণ্ড ছিল বাম করে।
করঙ্গ ধরিলা গোরা সেই অনুসারে॥
ত্রেতায় ধরিল ধনু দ্বাপরেতে বাঁশী॥
কলিযুগে দণ্ডধারি হইলা সন্ন্যাসী।
বলরাম কহে শুন নদীয়ানিবাসী।
বলরাম অবধূত কানাই সন্ন্যাসী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

পূরবে বাঁধল চূড়া এবে কেশহীন।
নটবরবেশ ছাড়ি পরিলা কৌপীন॥
গাভী-দোহন ভাণ্ড ছিল বাম করে।
করঙ্গ ধরিলা গোরা সেই অনুসারে॥
ত্রেতায় ধরিল ধনু দ্বাপরেতে বাঁশী॥
কলিযুগে দণ্ড ধারি হইলা সন্ন্যাসী।
বলরাম কহে শুন নদীয়া-নিবাসী।
বলরাম অবধূত কানাই সন্ন্যাসী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরা মোর পাতকী উদ্ধারে করুণায়ে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

গোরা মোর পাতকী উদ্ধারে করুণায়ে।
বেদমুখে শুনি আমি                পাতকী উদ্ধার তুমি
উদ্ধারিয়া রাখ নিজ পায়ে॥
রোগ শোকময় গেহ                 বিষয় সংসার এহ
পড়িয়া রহিনু মায়াজালে।
না দেখো করুণ জন                যারে কর নিবেদন
উদ্ধার পাইব কত কালে॥
শরীরের মাঝে যত                তারা হইল বৈরী মত
কেহ কারো নিষেধ না মানে।
দেখিয়া যমের ঘর                     বড়ই লাগয়ে ডর
হরি কথা না শুনিনু কানে॥
সাধু সঙ্গ না করিনু                আপনি আপনা খাইনু
সদাই কুমতি সঙ্গদোষে।
দশনে ধরিয়া তৃণ                    করো এই নিবেদন
না বঞ্চিও বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

গোরা মোর পাতকী উদ্ধারে করুণায়ে।
বেদমুখে শুনি আমি                পাতকী উদ্ধার তুমি
উদ্ধারিয়া রাখ নিজ পায়ে॥
কোক শোকময়                         বিষয় বিষম বড়
পড়িয়া রহিনু মায়া জালে।
না দেখো করুণ জন                তারে কর নিবেদন
উদ্ধার পাইব কত কালে॥
শরীরের মাঝে যত                তারা হইল বৈরীমত
কেহ কারো নিষেধ না মানে।
দেখিয়া যম রঘুবর                     বড়ই নাগয়ে ডর
হরি কথা না শুনিনু কানে॥
সাধু সঙ্গ না করিনু                আপনি আপনা খাইনু
সদাই কুমতি সঙ্গ দোষে।
দশনে ধরিয়া তৃণ                     করো এই নিবেদন
বঞ্চিত না কৈর বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখরে মাই সুন্দর শচীনন্দনা
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

দেখরে মাই সুন্দর শচীনন্দনা।
আজানুলম্বিত ভুজ বাহু সুবলনা॥
ময় মত্ত হাতি ভাতি গতি চালনা।
কিয়েরে মালতী মালা গোরা অঙ্গে দোলনা॥
শরদ ইন্দু নিন্দি সুন্দর বয়না।
প্রেম আনন্দে পরিপূরিত নয়না॥
পদ দুই চারি চলত ডগমগীয়া।
নাচত প্রভু মোর প্রেমে গরগরিয়া॥
বলরাম দাস চিতে গোরা নট রঙ্গিয়া।
বলিহারি যাই প্রভুর সঙ্গের অনুসঙ্গিয়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধুঋতু যামিনী সুরধুনি-তীর
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২১৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থের টীকায় দেওয়া রয়েছে যে হরিবল্লভ সংকলিত
গীতচিন্তামণি গ্রন্থে এই পদটি নয়নানন্দের ভণিতায় দেওয়া রয়েছে। আমাদের
সংগ্রহে থাকা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত
ও বিরোচিত এবং ১৯২৬ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত শ্রীশ্রীক্ষণদাগীতচিন্তামণি
এবং ১২৩৪ বঙ্গাব্দে (১৮২৭ খৃষ্টাব্দ) আহীরীটোলা ৮ নং বাটী থেকে প্রকাশিত,
শ্রীগীতচিন্তামণি গ্রন্থে এই পদটি আমরা পাই নি।

॥ বসন্ত বা সুহই॥

মধুঋতু-যামিনী সুরধুনীতীর।
উজোর সুধাকর মলয় সমীর॥
সহচর সঙ্গে গৌর নটরাজ।
বিহরয়ে নিরুপম কীর্ত্তন মাঝ॥
খোল করতাল ধ্বনি নটন হিল্লোল।
ভুজ তুলি ঘন ঘন হরি হরি বোল॥
নরহরি গদাধর বিহরই সঙ্গে।
নাচত গাওত কতহুঁ বিভঙ্গে॥
কোকিল মধুর পঞ্চম ভাষ।
বলরাম দাস পহুঁ করয়ে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, বাসন্তীরাস, ৩৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্তরাগ - মধ্যম দশকুসী॥

মধুঋতু-যামিনী সুরধুনী-তীর।
উজোর সুধাকর মলয়-সমীর॥
সহচর সঙ্গে গৌর নটরাজ।
বিহরয়ে নিরুপম কীর্ত্তন মাঝ॥
খোল করতালধ্বনি নটন-হিলোল।
ভুজ তুলি ঘন ঘন হরি হরি বোল॥
নরহরি গদাধর বিহরই সঙ্গে।
নাচত গাওত কতহুঁ বিভঙ্গে॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
বলরামদাসপহুঁ করয়ে বিলাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মধু-ঋতু-যামিনি সুরধুনি-তীর।
উজোর সুধাকর মলয় সমীর॥
সহচর সঙ্গে গৌর নট-রাজ।
বিহরয়ে নিরুপম কীর্ত্তন মাঝ॥
খোল করতাল-ধ্বনি নটন-হিলোল।
ভুজ তুলি ঘন ঘন হরি হরি বোল॥
নরহরি গদাধর বিহরই সঙ্গ।
নাচত গাওত কতহুঁ বিভঙ্গ॥
কোকিল মধুকর পঞ্চম ভাষ।
বলরাম দাস পহুঁ করয়ে বিলাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঠাকুর গৌরাঙ্গ নাচে নদীয়া নগরে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯২৮-পৃষ্ঠা।

॥ পুনঃ কামোদঃ॥

ঠাকুর গৌরাঙ্গ নাচে নদীয়া নগরে।
শুনিয়া বিবিধ লোক না রহিল ঘরে॥
হেমমণি আভরণ শ্রীঅঙ্গেতে সাজে।
চন্দনে লেপিত অঙ্গ ফাগু-বিন্দু মাঝে॥
চাঁদ চন্দনে কিবা সুমেরু ভূষিত।
মালতীর মালা কিবা সুমেরু বেষ্টিত॥
কুঞ্চিত কুন্তল চারু বেঢ়িল নানা ফুলে।
সফুল করবি ডাল মল্লিকার দলে॥
নাটুয়া ঠমকে কিবা পহু মোর নাচে।
রামাই সুন্দরানন্দ মুকুন্দ গায় পাছে॥
আগে নাচে অদ্বৈত যা লাগি অবতার।
বাহিরে গৌরাঙ্গ নাচে আনন্দ সবার॥
নাচিতে নাচিতে গোরা যে না দিকে যায়।
লাখে লাখে দীপ জ্বলে লোকে হরি গায়॥
কুলবতী সকল ছাড়িয়া হরি বোলে।
প্রেমনদী বহে সবার নয়নের জলে॥
কি করিব তপ জপ কিবা বেদ বিধি।
হরিনামে উদ্ধারিল আচণ্ডালাবধি॥
কুলবধূ আদি করি ছাড়ে গৃহবাস।
তপস্বী ছাড়িয়ে তপ সন্ন্যাসী সন্ন্যাস॥
যবনে হ নাচে গায় লয় হরিনাম।
এ রসে বঞ্চিত হৈল দাস বলরাম॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৫৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

ঠাকুর গৌরাঙ্গ নাচে নদীয়ানগরে।
শুনিয়া ত্রিবিধ লোক না রহিল ঘরে॥
হেম-মণি-আভরণ শ্রীঅঙ্গেতে সাজে।
চন্দনে লেপিত অঙ্গ ভাণ্ডবিন্দু মাঝে॥
চাঁদে চন্দনে কিবা সুমেরু ভূষিত।
মালতীর মালে গলদেশ অলঙ্কৃত॥
আগে নাচে অদ্বৈত যার লাগি অবতার।
বাহিরে গৌরাঙ্গ নাচে আনন্দ সবার॥
নাচিতে নাচিতে গোরা যেনা দিগে যায়।
লাখে লাখে দীপ জ্বলে কেহ হরি গায়॥
কুলবধূ সকল ছাড়িয়া হরি বলে।
প্রেমনদী বহে সবার নয়নের জলে॥
কুঞ্চিত কুন্তল বেড়িয়া নানা ফুলে।
সফুল করবীডাল মল্লিকার দলে॥
নাটুয়া ঠমকে কিবা পহুঁ মোর নাচে।
রামাই সুন্দরানন্দ মুকুন্দ গান পাছে॥
কি করিব তপ জপ কিবা বেদবিধি।
হরিনামে উদ্ধারিল চণ্ডাল অবধি॥
কুলবতী আদি করি ছাড়িল গৃহকাজ।
তপস্বী ছাড়িল তপ সন্ন্যাসী সন্ন্যাস॥
যব সেহ নাচে গায় লয় হরিনাম।
এ রসে বঞ্চিত ভেল দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

ঠাকুর গৌরাঙ্গ নাচে নদীয়া নগরে।
শুনিয়া ত্রিবিধ লোক না রহিল ঘরে॥
হেমমণিআভরণ শ্রীঅঙ্গেতে সাজে।
চন্দনে লেপিত অঙ্গ ভক্তবৃন্দ মাঝে॥
চন্দ চন্দনে কিবা সুমেরু ভূষিত।
মালতীর মালে গলদেশ অলঙ্কৃত॥
আগে নাচে অদ্বৈত যার লাগি অবতার।
বাহিরে গৌরাঙ্গ নাচে আনন্দ সবার॥
নাচিতে নাচিতে গোরা যে না দিগে যায়।
লাখে লাখে দীপ জ্বলে কেহ হরি গায়॥
কুলবধূ সকল ছাড়িয়া হরি বলে।
প্রেমনদী বহে সবার নয়নের জলে॥
কুঞ্চিত কুন্তল বেড়ি মল্লিকার দাম।
তাহে ভ্রমরের মালা শোভা অভিরাম॥
কহে বলরাম বৃথা আইলুঁ ভুবনে।
না হেরিলুঁ হেনরুপ ও পাপ নয়নে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

ঠাকুর গৌরাঙ্গ নাচে নদীয়া নগরে।
শুনিয়া ত্রিবিধ লোক না রহিল ঘরে॥
হেম-মণি-আভরণ শ্রীঅঙ্গেতে সাজে।
চন্দনে লেপিত অঙ্গ ভাণ্ডবিন্দু মাঝে॥
চাঁদে চন্দনে কিবা সুমেরু ভূষিত।
মালতীর মালে গলদেশ অলঙ্কৃত॥
আগে নাচে অদ্বৈত যার লাগি অবতার।
বাহিরে গৌরাঙ্গ নাচে আনন্দ সবার॥
নাচিতে নাচিতে গোরা যেনা দিগে যায়।
লাখে লাখে দীপ জ্বলে কেহ হরি গায়॥
কুলবধূ সকল ছাড়িয়া হরি বলে।
প্রেমনদী বহে সবার নয়নের জলে॥
কুঞ্চিত কুন্তল বেড়িয়া নানা ফুলে।
সফুল করবীডাল মল্লিকার দলে॥
নাটুয়া ঠমকে কিবা পহু মোর নাচে।
রামাই সুন্দরানন্দ মুকুন্দ গান পাছে॥
কি করিব তপ জপ কিবা বেদবিধি।
হরিনামে উদ্ধারিল চণ্ডাল অবধি॥
কুলবতী আদি করি ছাড়িল গৃহকাজ।
তপস্বী ছাড়িল তপ সন্ন্যাসী সন্ন্যাস॥
যব সেহ নাচে গায় লয় হরিনাম।
এ রসে বঞ্চিত ভেল দাস বলরাম॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর