| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| রসে ঢর ঢর গৌর কিশোর ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধিকার গোচারণ। ॥ গৌরচন্দ্র॥ রসে ঢর ঢর, গৌর কিশোর, বঙ্কিম নয়নে চায়। জিনি করিবর, গমন মন্থর, পরাণ দোলায়ে যায়॥ চাঁচর চিকুরে, চূড়ার টালনি, গাঁথিয়ে চাঁপার কলি। তাহার সৌরভে, জগত মাতল, ঝাঁকি ঝাঁকি উড়ে অলি॥ গৌরাঙ্গ রূপের, ছটার কিরণ, লাগয়ে যাহার গায়॥ উনমত হয়ে, বাহু পসারিয়ে, কিরণ ধরিতে চায়॥ আইস আইস বলি, করয়ে ব্যাকুলি, নদিয়া নাগরী কান্দে। ভণে বলরাম, ওপদ নিছনি, শোভিত নখের চান্দে॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ রসে ঢর ঢর গৌর কিশোর বঙ্কিম নয়নে চায়। জিনি করিবর গমন মন্থর পরাণ দোলায়ে যায়॥ চাঁচর চিকুরে চূড়ার টালনি গাঁথিয়ে চাঁপার কলি। তাহার সৌরভে জগত মাতল ঝাঁকি ঝাঁকি উড়ে অলি॥ গৌরাঙ্গ রূপের ছটার কিরণ লাগয়ে যাহার গায়॥ উনমত হয়ে বাহু পসারিয়ে কিরণ ধরিতে চায়॥ আইস আইস বলি করয়ে ব্যাকুলি নদিয়া নাগরী কান্দে। ভণে বলরাম ও পদ নিছনি শোভিত নখের চান্দে॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গোপীগণ কুচ কুঙ্কুমে রঞ্চিত ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ গোপীগণ-কুচ-কুঙ্কুমে রঞ্জিত, অরুণ বসন শোভে অঙ্গে। কাঞ্চনকান্তি বিনিন্দিত কলেবর, রাই পরশ রস রঙ্গে॥ দেখ দেখ অপরূপ গৌরবিলাস। লাখ যুবতি রতি যো গুরু লম্পট, সো অব করল সন্ন্যাস॥ ধ্রু॥ যো ব্রজ-বধূগণ, দৃঢ়ভূজ-বন্ধন, অবিরত রহত আগোর। সো তনু পুলকে পূরিত অব ঢর ঢর নয়ানে গলয়ে প্রেমলোর॥ যো নটবর ঘনশ্যাম কলেবর, বৃন্দাবিপিন-বিহারী। কহয়ে বলরাম নটবর সো অব, অকিঞ্চন ঘরে ঘরে প্রেমভিখারী॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ গোপীগণ-কুচ- কুঙ্কুমে রঞ্জিত অরুণ বসন শোভে অঙ্গে। কাঞ্চন-নিন্দিত কান্তি কলেবর রাই পরশ-রস-রঙ্গে॥ দেখ দেখ অপরূপ গৌর-বিলাস। লাখ যুবতি-রতি যো গুরু লম্পট সো অব করল সন্ন্যাস॥ যো ব্রজ-বধূগণ দৃঢ় ভূজ-বন্ধন অবিরত রহত অগোর। সো তনু পুলকে পুরিত অব ঢর ঢর নয়নে গলয়ে প্রেম-লোর॥ যো নটবর ঘন- শ্যাম-কলেবর বৃন্দা-বিপিন-বিহারী। কহয়ে বলরাম নটবর সো অব অকিঞ্চন ঘরে ঘরে প্রেম ভিখারী॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিরলে নিতাই পাঞা হাতে ধরি বসাইয়া ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ৫ম উচ্ছাস, ২৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ বিরলে নিতাই পাঞা হাতে ধরি বসাইয়া মধুর কথা কন ধীরে ধীরে। জীবেরে সদয় হৈয়া হরিনাম লওয়াও গিয়া যাও নিতাই সুরধুনীতীরে॥ নামপ্রেম বিতরিতে অদ্বৈতের হুঙ্কারেতে অবতীর্ণ হইনু ধরায়। তারিতে কলির জীব করিতে তাদের শিব তিমি মোর প্রধান সহায়॥ নীলাচল উদ্ধারিয়া গোবিন্দেরে সঙ্গে লৈয়া দক্ষিণদেশেতে যাব আমি। শ্রীগৌড়মণ্ডল ভার করিতে নাম প্রচার ত্বরা নিতাই যাও তথা তুমি॥ মো হৈতে না হবে যাহা তুমি ত পারিবে তাহা প্রেমদাতা পরম দয়াল। বলরাম কহে পহুঁ দোঁহার সমান দুহু তার মোরে আমি ত কাঙ্গাল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দ বিষয়ক। শ্রীগৌরাঙ্গের উক্তি ॥ বরাড়ী॥ বিরলে নিতাই পাঞা হাতে ধরি বসাইয়া মধুর কথা কন ধীরে ধীরে। জীবেরে সদয় হৈয়া হরিনাম লওয়াও গিয়া যাও নিতাই সুরধুনী তীরে॥ নামপ্রেম বিতরিতে অদ্বৈতের হুঙ্কারেতে অবতীর্ণ হইনু ধরায়। তারিতে কলির জীব করিতে তাদের শিব তিমি মোর প্রধান সহায়॥ নীলাচল উদ্ধারিয়া কৃষ্ণদাসে সঙ্গে লৈয়া দক্ষিণদেশেতে যাব আমি। শ্রীগৌড়মণ্ডল ভার লৈয়া কর নাম প্রচার ত্বরা নিতাই যাও তথা তুমি॥ মো হৈতে না হবে যাহা তুমি ত পারিবে তাহা প্রেমদাতা পরম দয়াল। বলরাম কহে পহুঁ দোঁহার সমান দুহু তার মোরে আমি ত কাঙ্গাল॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ বিরলে নিতাই পাঞা হাতে ধরি বসাইয়া মধুর কথা কন ধীরে ধীরে। জীবেরে সদয় হৈয়া হরিনাম লওয়াও গিয়া যাও নিতাই সুরধুনীতীরে॥ নামপ্রেম বিতরিতে অদ্বৈতের হুঙ্কারেতে অবতীর্ণ হইনু ধরায়। তারিতে কলির জীব করিতে তাদের শিব তিমি মোর প্রধান সহায়॥ নীলাচল উদ্ধারিয়া গোবিন্দেরে সঙ্গে লৈয়া দক্ষিণদেশেতে যাব আমি। শ্রীগৌড়মণ্ডল ভার করিতে নাম প্রচার ত্বরা নিতাই যাও তথা তুমি॥ মো হৈতে না হবে যাহা তুমি ত পারিবে তাহা প্রেমদাতা পরম দয়াল। বলরাম কহে পহুঁ দোঁহার সমান দুহু তার মোরে আমি ত কাঙ্গাল॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাচতরে নিতাই বরচাঁদ ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ নাচতরে নিতাই বরচাঁদ। সিঞ্চই প্রেম- সুধা রস জগজনে অদভুত নটন সুছাঁদ॥ ধ্রু॥ পদতল-তাল খলিত মণি-মঞ্জরি চলতহি টলমল অঙ্গ। মেরু-শিখরে কিয়ে তনু অনুপামরে ঝলমল ভাব-তরঙ্গ॥ রোয়ত হসত চলত গতি মন্থর হরি বলি মূরছি বিভোর। খেনে খেনে গৌর গৌর বলি ধাবই আনন্দে গরজত ঘোর॥ পামর পঙ্গু অধম জড় আতুর দীন অবধি নাহি মান। অবিরত দুর্ল্লভ প্রেম রতন ধন যাচি জগতে করু দান॥ অযাচিত-রূপে প্রেম-ধন বিতরণে নিখিল তাপ দূরে গেল। দীনহীন সবহু মনরথ পূরল অবলা উনমত ভেল॥ ঐছন করুণ নয়ন অবলোকনে কাহু না রহ দুরদিন। বলরাম দাস কহে ভেল বঞ্চিত দারুণ হৃদয় কঠিন॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ নাচতরে নিতাই বরচাঁদ। সিঞ্চই প্রেম- সুধা রস জগজনে অদভুত নটন সুছাঁদ॥ পদতল-তাল খলিত মণি-মঞ্জরি চলতহি টলমল অঙ্গ। মেরু-শিখরে কিয়ে তনু অনুপামরে ঝলমল ভাব-তরঙ্গ॥ রোয়ত হসত চলত গতি মন্থর হরি বলি মূরছি বিভোর। খেনে খেনে গৌর গৌর বলি ধাবই আনন্দে গরজত ঘোর॥ পামর পঙ্গু অধম জড় আতুর দীন অবধি নাহি মান। অবিরত দুর্ল্লভ প্রেম রতন ধন যাচি জগতে করু দান॥ অযাচিত-রূপে প্রেম-ধন বিতরণে নিখিল তাপ দূরে গেল। দীনহীন সবহু মনরথ পূরল অবলা উনমত ভেল॥ ঐছন করুণ নয়ন অবলোকনে কাহু না রহ দুরদিন। বলরাম দাস কহে ভেল বঞ্চিত দারুণ হৃদয় কঠিন॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভাবের আবেশে বহু সীতাপতি মোর পহু ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীঅদ্বৈত-বন্দনা ॥ সুহই॥ ভাবের আবেশে বহু সীতাপতি মোর পহুঁ যোগাসনে বসিয়া আছিলা। হঠাৎ কি ভাব মনে হুহুঙ্কার গরজনে অকস্মাৎ উঠি দাঁড়াইলা॥ আনিয়াছি আনিয়াছি অবনীমণ্ডলী। জগত তারিবে যেই নদীয়া উদয় সেই ইহা বলি নাচে বাহু তুলি॥ তাঁহার উদণ্ড নৃত্যে ভূকম্পন হইল মর্ত্ত্যে ধরণী ধরিতে নারে ভার। শান্তিপুরনাথ সঙ্গে নরনারী নাচে রঙ্গে যেন ভেল আনন্দ-বাজার॥ অদ্বৈতের হুহুঙ্কারে সপ্ত সর্গ ভেদ কৈরে পরব্যোমে লাগিল ঝঙ্কার। মহাপ্রভু-আগমনে জানিলেক ত্রিভুবন বলরামের আনন্দ অপার॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীঅদ্বৈত বন্দনা ॥ সুহই॥ ভাবের আবেশে বহু সীতাপতি মোর পহুঁ যোগাসনে বসিয়া আছিলা। হঠাৎ কি ভাব মনে হুহুঙ্কার গরজনে অকস্মাৎ উঠি দাঁড়াইলা॥ আনিয়াছি আনিয়াছি অবনীমণ্ডলী। জগত তারিবে যেই নদীয়া উদয় সেই ইহা বলি নাচে বাহু তুলি॥ তাঁহার উদ্দণ্ড নৃত্যে ভূকম্পন হইল মর্ত্ত্যে ধরণী ধরিতে নারে ভার। শান্তিপুরনাথ সঙ্গে নরনারী নাচে রঙ্গে যেন ভেল আনন্দবাজার॥ অদ্বৈতের হুহুঙ্কারে সপ্ত সর্গ ভেদ কৈরে পরব্যোমে লাগিল ঝঙ্কার। মহাপ্রভু-আগমন জানিলেক ত্রিভুবন বলরামের আনন্দ অপার॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ ভাবের আবেশে বহু সীতাপতি মোর পহুঁ যোগাসনে বসিয়া আছিলা। হঠাৎ কি ভাব মনে হুহুঙ্কার গরজনে অকস্মাৎ উঠি দাঁড়াইলা॥ আনিয়াছি আনিয়াছি অবনীমণ্ডলী। জগত তারিবে যেই নদীয়া উদয় সেই ইহা বলি নাচে বাহু তুলি॥ তাঁহার উদণ্ড নৃত্যে ভূকম্পন হইল মর্ত্ত্যে ধরণী ধরিতে নারে ভার। শান্তিপুরনাথ সঙ্গে নরনারী নাচে রঙ্গে যেন ভেল আনন্দ-বাজার॥ অদ্বৈতের হুহুঙ্কারে সপ্ত সর্গ ভেদ কৈরে পরব্যোমে লাগিল ঝঙ্কার। মহাপ্রভু-আগমনে জানিলেক ত্রিভুবন বলরামের আনন্দ অপার॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নন্দ গৃহে আজি কিবা আনন্দ বাড়িল ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৭৬- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ নন্দ গৃহে আজি কিবা আনন্দ বাড়িল। বেণুরব কৈল যবে শুনিল অমর সবে স্বর্গবাসী যত দেবগণে। আইলেন ত্রিলোচন সঙ্গেতে চতুরানন গণপতি নারদের সনে॥ সুরলোক ব্রহ্মলোক স্বর্গবাসী দেবলোক আইলা সবে নন্দের মহলে। দাঁড়াইল সব জনে সব কৃষ্ণ মুখপানে নেত্র পরিপূর্ণ প্রেমজলে॥ কহত বিনয় করি দয়া কর গিরিধারী আর দুঃখ সহিতে না পারি। দেবাসুরে নাই আশ ব্রজপুরে দাস বাস গলে বাস করজোড় করি॥ কি ছার স্বর্গের সুখ দেখিলে ও চাঁদ মুখ তৃণ করি নাহি মানি তায়। বনে বনে ভ্রমিব ধেনু বত্স চরাইব তোমারে রাখিব তরু ছায়॥ যশোদা কহে পুনঃ ধন্য তব সাধন তব গৃহে পরম ঈশ্বর। বলরাম দাস বাণী শুন গো মা নন্দরাণি মনে কিছু ভয় নাহি কর॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ নন্দ গৃহে আজি কিবা আনন্দ বাড়িল। বেণুরব কৈল যবে শুনিল অমর সবে স্বর্গবাসী যত দেবগণে। আইলেন ত্রিলোচন সঙ্গেতে চতুরানন গণপতি নারদের সনে॥ স্বরলোক ব্রহ্মলোক স্বর্গবাসী দেবলোক আইলা সবে নন্দের মহলে। দাঁড়াইল সব জনে সব কৃষ্ণ মুখ পানে নেত্র পরিপূর্ণ প্রেম জলে॥ কহত বিনয় করি দয়া কর গিরিধারী আর দুঃখ সহিতে না পারি। দেবাসুরে নাহি আশ ব্রজপুরে দাস বাস গলে বাস কর জোড় করি॥ কি ছার স্বর্গের সুখ দেখিলে ও চাঁদমুখ তৃণ করি নাহি মানি তায়। বনে বনে ভ্রমিব ধেনু বত্স চরাইব তোমারে রাখিব তরু ছায়॥ যশোদা কহে পুন ধন্য তব সাধন তব গৃহে পরম ঈশ্বর। বলরামদাস বানী শুন গো মা নন্দরাণি মনে কিছু নাহি ভয় কর॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এক অদভুত সখি জনমিঞা নাঞি দেখি ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ ॥ কামোদ॥ এক অদভুত সখি জনমিঞা নাঞি দেখি হেন রামা কাহার নন্দিনী। গিয়াছিলাম গোচারণে দেখিল কালিন্দী বনে পুষ্প তুলি ফিরিছে কামিনী॥ কনকের সাজি হাথে সখিগণ লয়্যা সাথে যেন বিধু নমিয়াছে পারা। তেমতি তাহার শোভা দিনমণি জিনি আভা চৌদিগে বেড়ল যেন তারা॥ বরণ চম্পক জ্যোতি কাঞ্চন জিনিয়া তথি কেতকী নিছনি নাহি হয়। করবীতে ফুল মাল উড়িছে ভ্রমর জাল ফণী যেন শিখরে উদয়॥ সুবেশ করিয়া বেণী কত সাজাইয়াছে মণি তাহাতে করয়ে ঝলমল। পদ্ম জিনি মুখ ইন্দু কপালে সিন্দূর বিন্দু প্রতি অঙ্গ শোভায় উজল॥ কটাক্ষ করিয়া মোরে হানিল নয়ান শরে ঈষৎ হাসিয়া নিল প্রাণ। নাসামণি তিল ফুল মুকুতা তাহে অতুল বিম্বাধর শোভা অনুপাম॥ কিবা সে কুরঙ্গ আঁখি বসিয়াছে কীর পাখী ভাঙ্গিয়া ভাঙ্গিয়া খায় মধু। দন্ত কুণ্ড শোভা অতি রসেন্দ্র বসন তথি চিবুকে সাজিছে এক বিধু॥ গলে গজমতি হার তুলনা কি দিব তার বলয়া শোভিত করে বাহু। কুচের উপরে কিবা সুনীল কঞ্চুক শোভা চাঁদে যেন গরাসিল রাহু॥ ক্ষীণ মাজাখানি সরু জিনি হর ডম্বরু কেশরী নিছনি দিয়ে তায়। তাহাতে কিঙ্কিণী বাজে নিবিড় নিতম্ব মাঝে উলট কদলী শোভা পায়॥ কুসুমিত তনুখানি তাহে সাজাইল আনি মণিময় কত আভরণ। অমিয়া রসের নিধি নিরমাইল কোন বিধি চিন্তিয়া চঞ্চল হৈল মন॥ রাতুল চরণে কিবা যাবক রঞ্জিত শোভা কনক নূপুর শোভে তায়। বলরাম দাসে কয় ধৈরয কেমনে রয় পরাণ নিছিয়া দিয়ে পায়॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, শ্রীরাধার রূপ, ৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ এক অদভুত সখি জনমিঞা নাঞি দেখি হেন রামা কাহার নন্দিনি। গিয়াছিলাম গোচারণে দেখিল কালিন্দি বনে পুষ্প তুলি ফিরিছে কামিনি॥ কনকের জাঠি হাথে সখিগণ লয়্যা সাথে যেন বিধু নমিয়াছে পারা। তেমতি তাহার শোভা দিনমণি জিনি আভা চৌদিগে বেড়ল যেন তারা॥ বরণ চম্পক জোতি কাঞ্চন জিনিয়া তথি কেতকী নিছনি দিয়া তায়। কিবা সে করবী মাল উড়িছে ভ্রমর জাল ফণি যেন শিখরে উদয়॥ সুবেশ করিয়া বেণী কত সাজাইয়াছে মণি তাহিতে করয়ে ঝলমল। অমিয়া জিনিয়া ইন্দু কপালে সিন্দুরের বিন্দু প্রতি অঙ্গ করে ঝলমল॥ কটাক্ষ করিয়া মোরে হানিল নয়ান শরে ঈষৎ হাসিয়া নিল প্রায়। নাসামণি তিল ফুল মুকুতাতে ঝলমল বিম্বাধর শোঙা করে তায়॥ কিবা সে কুরঙ্গ আঁখি বসিয়াছে থির পাখী ভাঙ্গিয়া ভাঙ্গিয়া খায় মধু। দন্ত কুণ্ড শোভা অতি রসেন্দ্র বসন তথি চিবুকে সাজাইছে এক বিন্দু॥ গলে গজমতি হার তুলনা কি দিব তার বলয়া শোভিত করে বাহু। কুচের উপরে কিবা নীলের কাঞ্চন শোভা চাঁদে যেন গরাসিল রাহু॥ মাজাখানি ক্ষীণ উরু জিনি হর ডম্বরু কেশরী নিছনি দিয়া তায়। কিবা সে তিলক সাজে কটিতে কিঙ্কিণী বাজে মণিময় কত অভরণ। অমিয়া রসের নিধি নিরমাইল কোন বিধি কাঁচে যেন বেড়িল কাঞ্চন॥ রাতুল চরণে কিবা যাবক রঞ্জিত শোভা কনক নূপুর শোভে তায়। বলরাম দাসে কয় সেরূপ দেখিল তায় কেমনে পরাণ ধৈরয হয়॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |