| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| দূরে গেল না খানি একেলা রহিল বলি ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, নৌকাবিলাস, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ----- কৌতুকে দূরে গেল না খানি একেলা রহিল বলি ভয় পেঞা নায়্যা বলে ডাকে। তোমরা যতেক সখী মোরে একাকিনী রাখি আগু সে তোমরা হইলে পার। কী আছে মরমে মোর ভাবিয়া না পাইলাম ওর কিবা গতি হইবে আমার॥ শুনিয়া সিদ্ধিগণে ধারা বহে দু নয়ানে করজোড়ে কহে মৃত বানি। তুমি হেন বন্ধু যার তরে কি তরিতে ভার কি ভাবিয়াছ মনে নাহি জানি॥ পুলকে পুরল গা অমনি ফিরাইলা না আসিঞা লাগাইলা রাইএর কাছে॥ তখন ফুকরি ফুকরি কান্দএ কিশোরী আরবার রাখে যাও পাছে। হাসি কহে শ্রীহরি কত তুমি দিবে কড়ি চুকাইঞা নাএ চাপসিঞা॥ শুনিয়া নাইয়ার বাণী কহিতে লাগিলা ধনি কেনে বা করিবে পার মজুরি না পাইঞা। লক্ষের পসার তাহে বেশভার তোমারে করিব পার। ইহার মজুরি হিআর ওপরি আছয়ে মতিম হার॥ শুন নরহরি নবীন কাণ্ডারী ধনি কহে বারে বার। সবে পণ তিন পসারার মূল্য মজুরি মতিম হার॥ পার করিবে মঞ্জুরি পাইবে ওপারে য়েস না থুঞা। একথা কহিঞা হাসিতে হাসিতে নাএতে চাপিলা জেঞা॥ রসেতে আকুল বাহে কেরআল কহে সুমধুর বাণী। শ্রীহরি শ্রীহরি বলয়ে কিশোরী মাধব হাসঅ শুনি॥ যমুনা আনন্দভরে অধিক ওথলে পরে ঢেউ উঠে গুড়ার সমান। দেখি সব গোপিগণে ধারা বহে দুনআনে যমুনাতে হারাইলা পরাণ॥ যত তরণী টলমল করে থরহরি কাপত্র ডরে আইলাম আপনা খাঞা # # # # # # আসি প্রাণ হারালাম নেয়া। তুমি কেমন করিঞা বাহিছ না দেখিঞা তরঙ্গে হানিছে গায় [ নাএ ] র উপরে উঠিল জল পসরা ভাসিঞা গেল সকল॥ শুন ধনি না খানি ডুবিবেক পাছে তোমার ডালা পসরা যতেক আছে তাহাতে করিঞা ছিচহ জল দধি দুগ্ধ ফেল সকল। মজুরির কড়ি খাবে হে কাণ্ডারি আমরা ছিচিব জল। ডহরে বসিঞা ফেলাব ছিচিঞা এত কার আছে বল বসন ভূষণ বেসর হার তাহাতে লওক নাশএ ভার ভাসিলা সোন্দরী নআনজলে কান্দিআ পড়িলা নাগরকোলে কান্দিয়া কেশোরী দুবাহু পসারি ধরিলা শ্যামের বেহে রাধা কোলে করি রসিক মুরারি ঝাপ দিলা সেই জলে ভাসিতে ভাসিতে আসিঞা লাগিলা কুসুমকানন বনে মনে জেবা ছিল বিধি ঘটাঅল বলরামদাসে ভনে॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হেদে রাধা বিনোদিনি শুনহ আমার বাণী ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ হেদে রাধা বিনোদিনি, শুনহ আমার বাণী, ত্বরায় চলিয়া যাইছ বাট। কংসের নিকটে যাইয়ে, এক লক্ষ টাকা দিয়া, কিনিয়া লয়েছি আমি ঘাট॥ নিতি ভাঁড়াইয়া যাও, রাজকর নাহি দাও, গতাগতি কর এই পথে। দানি বলে নাহি ডর, নাহি দেও রাজকর, ঠেকে গেলে জোগাতের হাতে॥ যে হয় গণ্ডাকে বুড়ি, হিসাব করহ কড়ি, রাজকর দিয়া যাহ মোরে। দানি হৈত অন্য জনা, দোলাইত কাণে সোণা, বিকিকিনি শিখাইত তোরে॥ মাথায় করবী ভার, এক লক্ষ দান তার, দুইলক্ষ সীঁথার সিন্দুর। গলে গজমতিহার, তিন লক্ষ দান তার, চারি লক্ষ বলয়া কেয়ুর॥ করে অঙ্গুরি মাণিক্য, তার দান পঞ্চলক্ষ, ছয়লক্ষ কটিতে কিঙ্কিনী। চরণে নূপুর মণি, নবলক্ষ তায় গণি, বলরাম দাস হাসে শুনি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। দানলীলা শ্রীকৃষ্ণের উক্তি ॥ সুহই॥ হেদে রাধা বিনোদিনি শুনহ আমার বাণী ত্বরায় চলিয়া যাইছ বাটে। কংসের নিকটে যাইয়া এক লক্ষ টাকা দিয়া কিনিয়া লয়েছি আমি ঘাটে॥ নিতি ভাঁড়াইয়া যাও রাজকর নাহি দাও গতাগতি কর এই পথে। দানী বলি নাহি ডর নাহি দাও রাজকর ঠেকে গেলে জাগাতের হাতে॥ যে হয় গণ্ডাকে বুড়ি হিসাব করহ কড়ি রাজকর দিয়া যাহ মোরে। দানি হৈত অন্যজনা দোলাইত কাণে সোণা বিকিকিনি শিখাইত তোরে॥ মাথায় করবী ভার এক লক্ষ দান তার দুইলক্ষ সীঁথার সিন্দূর। গলে গজমতিহার তিনলক্ষ দান তার চারিলক্ষ বলয়া কেয়ুর॥ করে মুদরি মাণিক্য তার দান পঞ্চলক্ষ ছয়লক্ষ কটিতে কিঙ্কিনী চরণে নূপুর মণি নয়লক্ষ তার গণি বলরাম দাস হাসে শুনি॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ হেদে রাধা বিনোদিনি শুনহ আমার বাণী ত্বরায় চলিয়া যাইছ বাট। কংসের নিকটে যাইয়ে এক লক্ষ টাকা দিয়া কিনিয়া লয়েছি আমি ঘাট॥ নিতি ভাড়াইয়া যাও রাজকর নাহি দাও গতাগতি কর এই পথে। দানি বলে নাহি ডর নাহি দাও রাজকর ঠেকে গেলে জগাতের হাতে॥ যে হয় গণ্ডাকে বুড়ি হিসাব করহ কড়ি রাজকর দিয়া যাহ মোরে। দানি হৈত অন্যজনা দোলাইত কাণে সোণা বিকিকিনি শিখাইত তোরে॥ মাথায় করবী ভার এক লক্ষ দান তার দুইলক্ষ সীঁথার সিন্দুর। গলে গজমতিহার তিনলক্ষ দান তার চারিলক্ষ বলয়া কেয়ুর॥ করে অঙ্গুরি মাণিক্য তার দান পঞ্চলক্ষ ছয়লক্ষ কটিতে কিঙ্কিনী চরণে নূপুর মণি নয়লক্ষ তার গণি বলরাম দাস হাসে শুনি॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন হে গোপের ঝি কাল নিন্দা কর কি ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বড়াড়ী॥ শুন হে গোপের ঝি, কাল নিন্দা কর কি, কালরূপ সবার মাধুরী। জানিয়া শুনিয়া মনে, যতেক রমণীগণে, কালরূপ আগে কৈল চুরি॥ ভুবনে যতেক নারী, কালরূপ করে চুরি, কামিনীমোহন নাম ধরে। হয় নয় কর সোর, একে একে ধরি চোর, কাল দোষী না রহে সংসারে॥ দেখ প্রথমেই কাল ভাল, দুই আঁখি তারা কাল, তার মাঝে কাল যে পুতুলি। মখিয়ে অনঙ্গনিধি, ভাবিয়ে গণিয়ে বিধি, কাল বিন্দু ধরি দিল তুলি॥ কাল যে যুগল ভুরু, চৌরস কপাল চারু, তাহে শোভে বদন মাধুরী। বলরাম দাস বলে, কাল ছাড়া এ অখিলে, কেবা আছে দেখাও সুন্দরী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। দানলীলা শ্রীকৃষ্ণের উক্তি ॥ বরাড়ী॥ শুন হে গোপের ঝি কাল নিন্দা কর কি কালরূপ সবার মাধুরী। জানিয়া শুনিয়া মনে যতেক রমণীগণে কালরূপ আগে কৈলা চুরি॥ ভুবনে যতেক নারী কালরূপ করে চুরি কামিনী মোহন নাম ধরে। হয় নয় কর সোর একে একে ধরি চোর কাল দোষী না রহে সংসারে॥ দেখ আগে কাল ভাল দুই আঁখি তারা কাল তার মাঝে কাল যে পুতুলি। মথিয়ে অনঙ্গবিধি ভাবিয়ে গণিয়ে বিধি কাল বিন্দু ধরি দিল তুলি॥ কাল যে যুগল ভুরু চৌরস কপাল চারু তাহে শোভে বদন মাধুরী। বলরাম দাস বলে কাল ছাড়া এ অখিলে কেবা আছে দেখাও সুন্দরী॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ শুন হে গোপের ঝি কাল নিন্দা কর কি কালরূপ সবার মাধুরী। জানিয়া শুনিয়া মনে যতেক রমণীগণে কালরূপ আগে কৈল চুরি॥ ভুবনে যতেক নারী কালরূপ করে চুরি কামিনী মোহন নাম ধরে। হয় নয় কর সোর একে একে ধরি চোর কাল দোষী না রহে সংসারে॥ দেখ আগে কাল ভাল দুই আঁখি তারা কাল তার মাঝে কাল যে পুতুলি। মখিয়ে অনঙ্গবিধি ভাবিয়ে গণিয়ে বিধি কাল বিন্দু ধরি দিল তুলি॥ কাল যে যুগল ভুরু চৌরস কপাল চারু তাহে শোভে বদন মাধুরী। বলরাম দাস বলে কাল ছাড়া এ অখিলে কেবা আছে দেখাও সুন্দরী॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আন্ধার বরণ কাল গা গরবে না পড়ে পা ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ আন্ধার বরণ কাল গা, গরবে না পড়ে পা, কি গরবে কর উপহাস। যমুনার তীরে থাক, নব লক্ষ ধেনু রাখ, কালরূপে লাজ নাহি বাস॥ উচ করি বান্ধ চূড়া, পেঁচ দিয়া পর ধড়া, ভাবন কর রাঙ্গা মাটি মাখি। ব্রজের রমণী দেখি, হৈয়া বেড়াও সচকিত, সঘনে ফিরাও দুটী আঁখি॥ দিগর দিগর করে সাথি, ক’রে বেড়াও হাতাহাতি, ননী চুরি করে তুমি খাও। নারীর বসন কর চুরি, নাম হইল চোরা হরি, ইথে তুমি লাজ নাহি পাও॥ এলায়ে ফেলিব চূড়া, কাড়ি লব পীতধড়া, বসিতে না দিব তরুতলে। কু বোল বলিবে যদি, মাথায় ঢালিব দধি, মুরলী ভাসয়ে দিব জলে॥ মুখে আন ভাষে গোরি, অন্তরেতে জপে হরি, শ্যাম-প্রেমে ডুবল ধনী। বলরাম দাসের বাণী, শুন শুন বিনোদিনি, শ্যামসঙ্গে কর বিকিকিনি॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ আন্ধার বরণ কাল গা গরবে না পড়ে পা কি গরবে কর উপহাস। যমুনার তীরে থাক নব লক্ষ ধেনু রাখ কালরূপে লাজ নাহি বাস॥ উচ করি বান্ধ চূড়া পেঁচ দিয়া পর ধড়া ভাবন কর রাঙ্গা মাটি মাখি। ব্রজের রমণী দেখি হৈয়া বেড়াও সচকিত সঘনে ফিরাও দুটি আঁখি॥ দিগর দিগর করে সাথি করে বেড়াও হাতাহাতি ননী চুরি করে তুমি খাও। নারীর বসন করে চুরি নাম হইল চোরা হরি ইথে তুমি লাজ নাহি পাও॥ এলায়ে ফেলিব চূড়া কাড়ি লব পীত-ধড়া বসিতে না দিব তরুতলে। কু বোল বলিবে যদি মাথায় ঢালিব দধি মুরলী ভাসিয়ে দিব জলে॥ মুখে আন ভাষে গোরি অন্তরেতে জপে হরি শ্যাম-প্রেমে ডুবল ধনি। বলরাম দাসের বাণী শুন শুন বিনোদিনি শ্যাম সঙ্গে কর বিকিকিনি॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আন্ধার বরণ কাল গা গরবে না পড়ে পা ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ আন্ধার বরণ কাল গা, গরবে না পড়ে পা, কি গরবে কর উপহাস। যমুনার তীরে থাক, নব লক্ষ ধেনু রাখ, কালরূপে লাজ নাহি বাস॥ উচ করি বান্ধ চূড়া, পেঁচ দিয়া পর ধড়া, ভাবন কর রাঙ্গা মাটি মাখি। ব্রজের রমণী দেখি, হৈয়া বেড়াও সচকিত, সঘনে ফিরাও দুটী আঁখি॥ দিগর দিগর করে সাথি, ক’রে বেড়াও হাতাহাতি, ননী চুরি করে তুমি খাও। নারীর বসন কর চুরি, নাম হইল চোরা হরি, ইথে তুমি লাজ নাহি পাও॥ এলায়ে ফেলিব চূড়া, কাড়ি লব পীতধড়া, বসিতে না দিব তরুতলে। কু বোল বলিবে যদি, মাথায় ঢালিব দধি, মুরলী ভাসয়ে দিব জলে॥ মুখে আন ভাষে গোরি, অন্তরেতে জপে হরি, শ্যাম-প্রেমে ডুবল ধনী। বলরাম দাসের বাণী, শুন শুন বিনোদিনি, শ্যামসঙ্গে কর বিকিকিনি॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ আন্ধার বরণ কাল গা গরবে না পড়ে পা কি গরবে কর উপহাস। যমুনার তীরে থাক নব লক্ষ ধেনু রাখ কালরূপে লাজ নাহি বাস॥ উচ করি বান্ধ চূড়া পেঁচ দিয়া পর ধড়া ভাবন কর রাঙ্গা মাটি মাখি। ব্রজের রমণী দেখি হৈয়া বেড়াও সচকিত সঘনে ফিরাও দুটি আঁখি॥ দিগর দিগর করে সাথি করে বেড়াও হাতাহাতি ননী চুরি করে তুমি খাও। নারীর বসন করে চুরি নাম হইল চোরা হরি ইথে তুমি লাজ নাহি পাও॥ এলায়ে ফেলিব চূড়া কাড়ি লব পীত-ধড়া বসিতে না দিব তরুতলে। কু বোল বলিবে যদি মাথায় ঢালিব দধি মুরলী ভাসিয়ে দিব জলে॥ মুখে আন ভাষে গোরি অন্তরেতে জপে হরি শ্যাম-প্রেমে ডুবল ধনি। বলরাম দাসের বাণী শুন শুন বিনোদিনি শ্যাম সঙ্গে কর বিকিকিনি॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পরম পবিত্র সার শ্রীঅঙ্গ পরশে যার ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৮০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ পরম পবিত্র সার, শ্রীঅঙ্গ পরশে যার, দানব্রত তুয়া নামে পাই। তীর্থ সহস্র কোটী, সার আঁখির দুটী, নিজ অঙ্গে ধরিয়াছ রাই॥ ব্রহ্মাদি সাবিত্রী যার, নারে কোন স্পর্শিবার, প্রেম হইতে আনু তিরিতি। দিবা নিশি হেন বাসি, অমৃত সাগরে ভাসি, চিন্ময় শুদ্ধ তোহারি পিরিতি॥ মলয় বাতাসে যেন, চন্দন সে তরুগণ, ঐছে মলয় তছু অঙ্গ। ঐছে লাগিয়া ধনি, অনুরাগে হইলাম দানি, নিশি দিশি চাই তুয়া সঙ্গ॥ তোমার পরশে ধনি, কোটী তীর্থ হেন মানি, সুধা লাগি যৈছে চকোর। নাগর বচন শুনি, পুলকিত ভেল ধনি, বলরাম দাস তাহে ভোর॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। দানলীলা শ্রীকৃষ্ণের উক্তি ॥ সুহই॥ পরম পবিত্র সার শ্রীঅঙ্গ পরশ যার দানব্রত তুয়া নামে পাই। তীর্থ সহস্র কোটী সার আঁখি দুটী নিজ অঙ্গ ধরিয়াছ রাই॥ ব্রহ্মাদি সাবিত্রী যারে নারে কভু স্পর্শিবারে প্রেম বিনা আন ব্রত রীতে। দিবানিশি হেন বাসি অমৃত সাগরে ভাসি চিন্ময় তোহারি পিরীতে॥ মলয় বাতাসে যেন চন্দন সে তরুগণ ঐছে মলয় তছু অঙ্গ। ঐছে লাগিয়া ধনি অনুরাগে হইলাম দানি নিশি দিশি চাই তুয়া সঙ্গ॥ তোমার পরশ ধনি কোটী তীর্থ হেন মানি সুধা লাগি যৈছে চকোর। নাগর বচন শুনি পুলকিত ভেল ধনি বলরাম দাস তাহে ভোর॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ পরম পবিত্র সার শ্রীঅঙ্গ পরশে যার দানব্রত তুয়া নামে পাই। তীর্থ সহস্র কোটী সার আঁখির দুটি নিজ অঙ্গ ধরিয়াছে রাই॥ ব্রহ্মাদি সাবিত্রী যার নারে কোন স্পর্শিবার প্রেম হইতে আনু তিরিতি। দিবানিশি হেন বাসি অমৃত সাগরে ভাসি চিন্ময় শুদ্ধ তোহারি পিরিতি॥ মলয় বাতাসে যেন চন্দন সে তরুগণ ঐছে মলয় তছু অঙ্গ। ঐছে লাগিয়া ধনি অনুরাগে হইলাম দানি নিশি দিশি চাই তুয়া সঙ্গ॥ তোমার পরশে ধনি কোটী তীর্থ হেন মানি সুধা লাগি যৈছে চকোর। নাগর বচন শুনি পুলকিত ভেল ধনি বলরাম দাস তাহে ভোর॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুনিয়া দানির বানী বৃষভানু-নন্দিনী ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৮০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বড়াড়ী॥ শুনিয়া দানির বাণী, বৃষভানু-নন্দিনী, চাতুরী করিয়া কহে কথা। বাঙন হইয়া চায়, কবে চাঁদ কোথা পায়, কি তপ করেছ যথা তথা॥ তেয়াগিয়ে নিজস্থান, তীর্থ কর পর্য্যটন, গোদাবরী প্রয়াগ-তরঙ্গে। যে সাধ করেছ চিতে, ব্রত কর অচিরাতে, তবে পরশিও মঝু অঙ্গে॥ এত যদি সাধ হিয়া, গৌরী আরাধই গিয়া, তবে সে করিও মোর আশ। ধেনুর রাখাল যেবা, তাহারে গণয়ে কেবা, হেন কেন মন অভিলাষ॥ নিকড়ে গুঞ্জরে গাভা, অঙ্গের করহ শোভা, নিকড়ে বনের ফুলে বেশ। নিকড়ে পাখীর পাখে, যার মূল্য নাহি লেখে, চূড়া বান্ধ উভ করে কেশ॥ না হইত কাল অঙ্গ, তবে কি করিতে রঙ্গ, গৌর হইলে পরশিতে বলে। বলরাম দাস কয়, এ তব উচিত নয়, ঝাঁপ দেহ কালিন্দীর জলে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। দানলীলা শ্রীরাধার উক্তি ॥ বরাড়ী॥ শুনিয়া দানির বানী বৃষভানু নন্দিনী চাতুরী করিয়া কহে কথা। বাঙন হইয়া চায় কবে চাঁদ কোথা পায় কি তপ করেছ যথা তথা॥ তেয়াগিয়ে নিজস্থান তীর্থ কর পর্য্যটন গোদাবরী প্রয়াগ তরঙ্গে। যে সাধ করেছ চিতে ব্রত কর অচিরাতে তবে পরশিও মঝু অঙ্গে॥ এত যদি সাধ হিয়া গৌরী আরাধহ গিয়া তবে সে করিও মোর আশ। ধেনুর রাখাল যেবা তাহার গণয়ে কেবা হেন কেন মন অভিলাষ॥ নিকড়্যে গুঞ্জার গাভা অঙ্গের করহ শোভা নিকড়্যে বনের ফুলে বেশ। নিকড়্যে পাখীর পাখে যার মূল্য নাহি লেখে চূড়া বান্ধ উভ করে কেশ॥ না হইত কাল অঙ্গ তবে কি করিতে রঙ্গ গৌর হইলে পরশিতে বলে। বলরাম দাস কয় এ তব উচিত নয় ঝাঁপ দেহ কালিন্দীর জলে॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ শুনিয়া দানির বানী বৃষভানু-নন্দিনী চাতুরী করিয়া কহে কথা। বাঙন হইয়া চায় কবে চাঁদ কোথা পায় কি তপ করেছ যথা তথা॥ তেয়াগিয়ে নিজস্থান তীর্থ কর পর্য্যটন গোদাবরী প্রয়াগ-তরঙ্গে। যে সাধ করেছ চিতে ব্রত কর অচিরাতে তবে পরশিও মঝু অঙ্গে॥ এত যদি সাধ হিয়া গৌরী আরাধই গিয়া তবে সে করিও মোর আশ। ধেনুর রাখাল যেবা তাহার গণয়ে কেবা হেন কেন মন অভিলাষ॥ নিকড়্যে গুঞ্জার গাভা অঙ্গের করহ শোভা নিকড়্যে বনের ফুলে বেশ। নিকড়্যে পাখীর পাখে যার মূল্য নাহি লেখে চূড়া বান্ধ উভ করে কেশ॥ না হইত কাল অঙ্গ তবে কি করিতে রঙ্গ গৌর হইলে পরশিতে বসে। বলরাম দাস কয় এ তব উচিত নয় ঝাঁপ দেহ কালিন্দীর জলে॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |