| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| বাসনা নাই স্বর্গবাসে হেরি তব পীতবাসে ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ বাসনা নাই স্বর্গবাসে হেরি তব পীতবাসে বনবাসে থাকি সেই ভাল। গললগ্ন কৃতবাসে এই মিনতি শ্রীনিবাসে ব্রদবাসে রেখ চিরকাল॥ কীট পতঙ্গ পশু পাখী যা কর কমল আঁখি না হয় তরু লতা তৃণ হব। ইতে কিছু নাহি বাঁধা পুরিবে মনের সাধা নিতি নিতি পদরজ পাব॥ যে কুলে জনম হয় পদে যেন মতি রয় এই আশা তব রাঙ্গাপায়। বলরাম দাস কয় একথা অন্যথা নয় আশা পূর্ণ হবে নদীয়ায়॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সো মুখ হেরিতে হিয়া বিদরয়ে ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ সো মুখ হেরিতে হিয়া বিদরয়ে কে তাহে পরাণ ধরে। ভাল সে কামিনী দিবস রজনী ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥ সই, কি জানি কদম্বতলে। ও রূপ দেখিয়া কুলে তিলাঞ্জলি দিনু যমুনার জলে॥ বঙ্কিম নয়নে ভঙ্গিম চাহনী তিলে পাসরিতে নারি। এত দিনে সখি নিশ্চয় জানিনু মজিল কুলের নারী॥ চাঁচর চুলে সে ফুলের কাঁচনী সাজনি ময়ূর পাখে। বলরাম বলে কোন বা @@ কুলের ধরম রাখে॥ @@ - এই শব্দটি মুদ্রিত হয় নি। . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এস বঁধু আর বার খেলি হে ফাগুয়া ভনিতা বলু কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, হোলীলীলা, ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বসন্ত ধানসী - মধ্যম একতালা॥ এস বঁধু, আর বার খেলি হে ফাগুয়া। এবার হারিবে যদি তোমা ফাগুহারা নিরবধি জগ ভরি গাব এই ধুয়া॥ যদি বল একা আমি বহু সঙ্গের সঙ্গী তুমি সম্মুখে বিশাখা হইক তুয়া। ললিতা আমার সখি আইস আবার খেলি দেখি জানা যাবে যে যেমন খেলুয়া॥ যদি বল রঙ্গ নাই লেহ রঙ্গ যত চাই নহে বোলাও আপন খেলুয়া। পিচকারী নাহি থাকে দিব আমি লাখে লাখে যত চাবে পাবে হে বঁধুয়া॥ গিরিধর নাম ধর লোকে বলো বীর বড় হেন নাম না হয় হারুয়া। শুন হে রসিক শ্যাম জিনিয়া রাখহ নাম বলু যেন না গায় ভাগুয়া॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কিবা যায় রে শ্যাম-সোহাগিনী ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, নৌকাখণ্ড, ৩০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুক - ধড়াতাল॥ কিবা যায় রে, শ্যাম-সোহাগিনী। ধনী ঠমকি ঠমকি চলনী, চরণে মণি-মঞ্জীর বোলনি, পিঠ পর বেণী দোলনী॥ সাজায়ে পসরা যাইতে মথুরা যতেক গোপের নারী। চলিতে চলিতে দেখে আচম্বিতে প্রবল যমুনা-বারি॥ দেখিয়া লাগিল ডর। দু কূল বাহিয়া বারি যায় বয়ে জল ঘোরে নিরন্তর॥ কহে গোপনারী সে তরঙ্গ হেরি পথে বিড়ম্বিল বিধি। যাইব কেমনে, বাড়িছে এখনে প্রবল যমুনা নদী॥ এক দিঠ করি সব গোপনারী, দু কূলে নেহারি রয়। আইলা শ্রীহরি, হইয়া কাণ্ডারী বলরাম দাসে কয়॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নৌকাবিলাস ॥ তুক - ধড়াতাল॥ কিবা যায় রে শ্যাম সোহাগিনি। ধনি ঠমকি ঠমকি চলনী, চরণে মণি-মঞ্জীর বোলনি, পিঠপর বেণী দোলনী॥ সাজায়ে পসরা, যাইতে মথুরা, যতেক গোপের নারী। চলিতে চলিতে, দেখে আচম্বিতে, প্রবল যমুনা বারি॥ দেখিয়া লাগিল ডর। দুকূল বাহিয়া, বারি যায় বয়ে, জল ঘোরে নিরন্তর॥ কহে গোপ নারী, সে তরঙ্গ হেরি, পথে বিড়ম্বিল বিধি। যাইব কেমনে, বাড়িছে এখনে, প্রবল যমুনা নদী॥ এক দিঠ করি, সব গোপ নারী, দুকূলে নেহারি রয়। আইলা শ্রীহরি, হইয়া কাণ্ডারী, বলরাম দাসে কয়॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আনন্দ হইল দেখি ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নৌকাবিলাস ॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥ আনন্দ হইল দেখি। হেদে হে কাণ্ডাকি, এসো ত্বরা করি, ডাকিতেছেন চন্দ্রমুখি॥ কংসের যোগানি, হই যে হে আমি, ত্বরায় করহ পার। যে হয় বেতন, লেহ যে এখন, নিবেদিয়ে বারবার॥ শুনি কহে হরি, ওহে গোপ নারী, কংসের যোগানি যদি। যমুনার তীরে, বলহ ফুকারে, তরাসে শুকাবে নদী॥ এ তরঙ্গ হেরি, না বাহিব তরী, আজ না যাইব পারে। ভরসা আমার, যদি কর সার, আজি ফিরে যাও ঘরে॥ না গেলে না হয়, তোমার হৃদয়, তবে কত দিবে বল। যে হয় সে হবে, যাই বোল তবে, হইয়া রমণী দল॥ মনের মতন, বেতন না পাই, তরি না খুলিব আমি। বলরাম দাস, করে অভিলাষ, বাসনা পুরাবে তুমি॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |