কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
ভাল রঙ্গে নাচে মোর শচীর দুলাল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৮৩৭-পৃষ্ঠা।

॥ গীতে যথা - ধানশী॥

ভাল রঙ্গে নাচে মোর শচীর দুলাল।
সব অঙ্গে চন্দন দোলয়ে বনমাল॥
বিশাল হৃদয়ে গজ মুকুতার হার।
পদতলে তাল উঠে নূপুর ঝঙ্কার॥
ছন্দ বিছন্দে কত জানে অঙ্গ ভঙ্গি।
নদীয়া নগরে নাই এত বড় রঙ্গী॥
কিন্নর করয়ে শিক্ষা শুনি মৃদু গান।
গন্ধর্ব্ব তাণ্ডব হেরি ধরয়ে ধিয়ান॥
পঙ্কজ সঙ্কোচ পায় দেখিয়া নয়নে।
হাসিতে বিজুরি ছটা পড়য়ে দশনে॥
বাঁধুলি জিনিয়া রাঙা ওটখানি হাস।১
ওরূপ হেরিয়া কান্দে বলরাম দাস॥

১। ওট = ওষ্ঠ।

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাল রঙ্গে নাচে মোর শচীর দুলাল।
সব অঙ্গে চন্দন দোলয়ে বনমাল॥
বিশাল হৃদয়ে গজমুকুতার হার।
পদতলে তাল উঠে নূপুর ঝঙ্কার॥
ছন্দ বিছন্দে কত জাগে অঙ্গভঙ্গী।
নদীয়া নগরে নাই এত বড় রঙ্গী॥
কিন্নর করয়ে শিক্ষা শুনি মৃদু গান।
গন্ধর্ব তাণ্ডব হেরি ধরয়ে ধিয়ান॥
পঙ্কজ সঙ্কোচ পায় দেখিয়া নয়নে।
হাসিতে বিজুরিছটা পড়য়ে দশনে॥
বাঁধুলি জিনিয়া রাঙা ওঠখানি হাস।
ও রূপ হেরিয়া কান্দে বলরাম দাস॥

এই পদটি বিমানবিহারী মজুমদারও “ভক্তিরত্নাকর” থেকেই পেয়েছিলেন।

টীকা -
এই পদটিতে “ও রূপ হেরিয়া কান্ধে বলরাম দাস” থাকায় ইহা যে নিত্যানন্দের
অনুগত সঙ্গী বলরামের রচনা, তাহা বুঝা যায়। এই পদ হইতে জানা যায় যে, গৌরাঙ্গ
নৃত্য ও গীতে সুপটু ছিলেন, তাই তাঁহার মৃদু স্বরে গীত হইতে কিন্নরেরা যেন গান করিতে
শিখিংতেন এবং তাঁহার তাণ্ডবনৃত্য গন্ধর্বগণ মনোনিবেশ সহকারে দেখিতেন। প্রভুকে
কমললোচন না বলিয়া বলা হইয়াছে যে, তাঁহার নয়ন দেখিয়া কমল যন সঙ্কোচপ্রাপ্ত হয়।
তাঁহার দাঁতগুলি ঝকমক করে---হাসিতে যেন বিদ্যুৎ ঝলকিয়া যায়। আর তাঁহার রক্তিম
বর্ণের ওষ্ঠে হাসি যেন লাগিয়াই আছে।---বিমানবিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী॥

বিমানবিহারী ছিলেন শ্রীশচন্দ্র মজুমদারের পুত্র ও এই কবি বলরাম দাসের উত্তরপুরুষ
(অনাথনাথ দাস ও বিশ্বনাথ রায় সম্পাদিত, রবীন্দ্রনাথ ও শ্রীশচন্দ্র সম্পাদিত
পদরত্নাবলী-র আনন্দ সংস্করণ, ৩৩৬-পৃষ্ঠা।)
---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাল রঙ্গে নাচে মোর শচীর দুলাল।
সব অঙ্গে চন্দন দোলয়ে বনমাল॥
বিশাল হৃদয়ে গজমুকুতার হার।
পদতলে তাল উঠে নূপুর ঝঙ্কার॥
ছন্দ বিছন্দে কত জাগে অঙ্গভঙ্গী।
নদীয়া নগরে নাই এত বড় রঙ্গী॥
কিন্নর করয়ে শিক্ষা শুনি মৃদু গান।
গন্ধর্ব তাণ্ডব হেরি ধরয়ে ধিয়ান॥
পঙ্কজ সঙ্কোচ পায় দেখিয়া নয়নে।
হাসিতে বিজুরিছটা পড়য়ে দশনে॥
বাঁধুলি জিনিয়া রাঙা ওঠখানি হাস।
ও রূপ হেরিয়া কান্দে বলরাম দাস॥

এই পদটি বিমানবিহারী মজুমদারও “ভক্তিরত্নাকর” থেকেই পেয়েছিলেন।

টীকা -
এই পদটিতে “ও রূপ হেরিয়া কান্ধে বলরাম দাস” থাকায় ইহা যে নিত্যানন্দের
অনুগত সঙ্গী বলরামের রচনা, তাহা বুঝা যায়। চোখে না দেখিলে কবি “বঞ্চিত হইয়া
কান্দে” প্রভৃতি শব্দ লিখিতেন। এই পদ হইতে জানা যায় যে, গৌরাঙ্গ নৃত্য ও গীতে সুপটু
ছিলেন, তাই তাঁহার মৃদু স্বরে গীত হইতে কিন্নরেরা যেন গান করিতে শিখিংতেন এবং
তাঁহার তাণ্ডবনৃত্য গন্ধর্বগণ মনোনিবেশ সহকারে দেখিতেন। প্রভুকে কমললোচন না
বলিয়া বলা হইয়াছে যে, তাঁহার নয়ন দেখিয়া কমল যন সঙ্কোচপ্রাপ্ত হয়। তাঁহার দাঁতগুলি
ঝকমক করে---হাসিতে যেন বিদ্যুৎ ঝলকিয়া যায়। আর তাঁহার রক্তিম বর্ণের ওষ্ঠে হাসি
যেন লাগিয়াই আছে।---বিমানবিহারী মজুমদার, পাঁচশত বত্সরের পদাবলী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচত গৌর সুন্দর বর রঙ্গিয়া
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আসোয়ারি॥

নাচত গৌর সুন্দর বর রঙ্গিয়া।
প্রেমভরে ভেল ডগমগিয়া॥ ধ্রু॥
গোবিন্দের অঙ্গ নিজ অঙ্গ হেলাইয়া।
ভাবে অবশ চিৎ পড়ে মুরছিয়া॥
রাধার ভাবে পহু রাধার বরণ ধরে রাধা রাধা বয়নক ভাষে।
ইঙ্গিত বুঝিয়া দাস গদাধর কৌতুকে রহল বাম পাশে॥
মুরলী মুরলী বলি সঘনে ফুকরই রহই মুরলী মুখ হেরিয়া।
গো গোপী শ্রীবৃন্দাবন পুনঃ পুনঃ @লি পড়ে ঢলিয়া॥
গৌর আনন্দে গৌড় আনন্দে গোকুল সঙ্গিয়া।
ঠাকুর গৌরীদাসও মরম জানয়ে বলরাম দাস গুণ @ইয়া॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বাসনা নাই স্বর্গবাসে হেরি তব পীতবাসে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”,
২৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

বাসনা নাই স্বর্গবাসে                     হেরি তব পীতবাসে
বনবাসে থাকি সেই ভাল।
গললগ্ন কৃতবাসে                        এই মিনতি শ্রীনিবাসে
ব্রদবাসে রেখ চিরকাল॥
কীট পতঙ্গ পশু পাখী                     যা কর কমল আঁখি
না হয় তরু লতা তৃণ হব।
ইতে কিছু নাহি বাঁধা                     পুরিবে মনের সাধা
নিতি নিতি পদরজ পাব॥
যে কুলে জনম হয়                        পদে যেন মতি রয়
এই আশা তব রাঙ্গাপায়।
বলরাম দাস কয়                           একথা অন্যথা নয়
আশা পূর্ণ হবে নদীয়ায়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সো মুখ হেরিতে হিয়া বিদরয়ে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

সো মুখ হেরিতে                        হিয়া বিদরয়ে
কে তাহে পরাণ ধরে।
ভাল সে কামিনী                         দিবস রজনী
ঝুরিয়া ঝুরিয়া মরে॥
সই, কি জানি কদম্বতলে।
ও রূপ দেখিয়া                        কুলে তিলাঞ্জলি
দিনু যমুনার জলে॥
বঙ্কিম নয়নে                             ভঙ্গিম চাহনী
তিলে পাসরিতে নারি।
এত দিনে সখি                          নিশ্চয় জানিনু
মজিল কুলের নারী॥
চাঁচর চুলে সে                           ফুলের কাঁচনী
সাজনি ময়ূর পাখে।
বলরাম বলে                            কোন বা @@
কুলের ধরম রাখে॥

@@ - এই শব্দটি মুদ্রিত হয় নি।

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এস বঁধু আর বার খেলি হে ফাগুয়া
ভনিতা বলু
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন
পাদাবলী”, হোলীলীলা, ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত ধানসী - মধ্যম একতালা॥

এস বঁধু, আর বার খেলি হে ফাগুয়া।
এবার হারিবে যদি                    তোমা ফাগুহারা নিরবধি
জগ ভরি গাব এই ধুয়া॥
যদি বল একা আমি                        বহু সঙ্গের সঙ্গী তুমি
সম্মুখে বিশাখা হইক তুয়া।
ললিতা আমার সখি                  আইস আবার খেলি দেখি
জানা যাবে যে যেমন খেলুয়া॥
যদি বল রঙ্গ নাই                             লেহ রঙ্গ যত চাই
নহে বোলাও আপন খেলুয়া।
পিচকারী নাহি থাকে                     দিব আমি লাখে লাখে
যত চাবে পাবে হে বঁধুয়া॥
গিরিধর নাম ধর                          লোকে বলো বীর বড়
হেন নাম না হয় হারুয়া।
শুন হে রসিক শ্যাম                          জিনিয়া রাখহ নাম
বলু যেন না গায় ভাগুয়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কিবা যায় রে শ্যাম-সোহাগিনী
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন
পাদাবলী”, নৌকাখণ্ড, ৩০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুক - ধড়াতাল॥

কিবা যায় রে, শ্যাম-সোহাগিনী।
ধনী ঠমকি ঠমকি চলনী,           চরণে মণি-মঞ্জীর বোলনি,
পিঠ পর বেণী দোলনী॥
সাজায়ে পসরা                                  যাইতে মথুরা
যতেক গোপের নারী।
চলিতে চলিতে                                দেখে আচম্বিতে
প্রবল যমুনা-বারি॥
দেখিয়া লাগিল ডর।
দু কূল বাহিয়া                                বারি যায় বয়ে
জল ঘোরে নিরন্তর॥
কহে গোপনারী                                সে তরঙ্গ হেরি
পথে বিড়ম্বিল বিধি।
যাইব কেমনে,                                  বাড়িছে এখনে
প্রবল যমুনা নদী॥
এক দিঠ করি                                   সব গোপনারী,
দু কূলে নেহারি রয়।
আইলা শ্রীহরি,                                  হইয়া কাণ্ডারী
বলরাম দাসে কয়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
॥ তুক - ধড়াতাল॥

কিবা যায় রে শ্যাম সোহাগিনি।
ধনি ঠমকি ঠমকি চলনী,            চরণে মণি-মঞ্জীর বোলনি,
পিঠপর বেণী দোলনী॥
সাজায়ে পসরা,                                  যাইতে মথুরা,
যতেক গোপের নারী।
চলিতে চলিতে,                                দেখে আচম্বিতে,
প্রবল যমুনা বারি॥
দেখিয়া লাগিল ডর।
দুকূল বাহিয়া,                                  বারি যায় বয়ে,
জল ঘোরে নিরন্তর॥
কহে গোপ নারী,                                সে তরঙ্গ হেরি,
পথে বিড়ম্বিল বিধি।
যাইব কেমনে,                                  বাড়িছে এখনে,
প্রবল যমুনা নদী॥
এক দিঠ করি,                                 সব গোপ নারী,
দুকূলে নেহারি রয়।
আইলা শ্রীহরি,                                  হইয়া কাণ্ডারী,
বলরাম দাসে কয়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কেলি-কদম্বমূলে ওনা নব মেঘের কোড়া
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, রূপ খণ্ড, ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার - দাসপেড়ে॥

কেলি-কদম্বমূলে ওনা নব মেঘের কোড়া।
মেঘের উপরে চাঁদ তাঁহে দুটী কমল জোড়া॥
কিয়ে কমল দোলে নাটিয়া খঞ্জন পাখী।
মোর সর্ব্বস্ব যৌবন দিয়ে শ্যামরূপ দেখি॥
কিবা নিশি কিবা দিশি কিছুই না জানি।
জাগিতে স্বপন দেখি শ্যামরূপখানি॥
কাল কপালে শোভে চন্দনের চাঁদে।
বলরাম দাস কহে পরাণ সদাই কাঁদে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাধব চিরদিন মিলল রাইক পাশ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, বিরহখণ্ড, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - জপতাল॥

মাধব চিরদিন মিলল রাইক পাশ।
ধনি উঠই না পারই বিরহ হুতাশ॥
বাম পাণী দেই দক্ষিণ শরীরে।
চেতন হোয়ল হাতক ভারে॥
আঁখি মেলি হেরইতে উঠই না পার।
নাগর লেয়ল ধনি কোরে আপনার॥
বিরহিণী বামে করি বৈঠল কান।
ধনি তাহে মানল স্বপন সমান॥
পুরল যতহুঁ মরম অভিলাষ।
কিছু নাহি বুঝল বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিরদয় হে তুমি আর কি ব্রজে যাবে না
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোথা - জপতাল॥

নিরদয় হে তুমি আর কি ব্রজে যাবে না।
ব্রজের হাট কি ভাঙ্গিলে হে
তুমি আর কি ব্রজে যাবে না॥
(এখন) তুমি রাজা হলে মথুরার পাটে।
কমলিনী পড়ে আছে যমুনার তটে॥
বদনে বচন নাহি নাসিকায় নিশ্বাস।
আমা সবার ঘুচাইলে ব্রজভূমে বাস॥
বনে থাক ধেনু রাখ রাখালিয়া মতি।
তুমি কি রাখিতে পার অবলার পীরিতি॥
কাত্যায়নি ব্রত কৈল তোমার কারণে।
তাহার উচিত ফল দিলে এত দিনে॥
এখন শয়ন কর রতন পালঙ্কে।
কমলিনী পড়ে আছে যমুনার পঙ্কে॥
ব্রজাঙ্গনাগণ তুমি বধিলে পরাণে।
বলরাম দাস কাঁদে ধরিয়া চরণে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আনন্দ হইল দেখি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥

আনন্দ হইল দেখি।
হেদে হে কাণ্ডাকি,                   এসো ত্বরা করি,
ডাকিতেছেন চন্দ্রমুখি॥
কংসের যোগানি,                   হই যে হে আমি,
ত্বরায় করহ পার।
যে হয় বেতন,                         লেহ যে এখন,
নিবেদিয়ে বারবার॥
শুনি কহে হরি,                      ওহে গোপ নারী,
কংসের যোগানি যদি।
যমুনার তীরে,                          বলহ ফুকারে,
তরাসে শুকাবে নদী॥
এ তরঙ্গ হেরি,                        না বাহিব তরী,
আজ না যাইব পারে।
ভরসা আমার,                         যদি কর সার,
আজি ফিরে যাও ঘরে॥
না গেলে না হয়,                       তোমার হৃদয়,
তবে কত দিবে বল।
যে হয় সে হবে,                      যাই বোল তবে,
হইয়া রমণী দল॥
মনের মতন,                          বেতন না পাই,
তরি না খুলিব আমি।
বলরাম দাস,                          করে অভিলাষ,
বাসনা পুরাবে তুমি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর