কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাই অঙ্গে পীতধড়া
ভনিতা দীন বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মুরলী শিক্ষা
॥ জয়জয়ন্তী - তেওট॥

রাই অঙ্গে পীতধড়া,                        শিরে শিখিপুচ্ছ চূড়া
করে তার বিনোদিনী বাঁশি।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম হৈয়া,                        বাম পদ আগে দিয়া
রাই দাঁড়াইল হাসি হাসি॥
শ্যাম দাঁড়াইল তছু বামে।
কিবা সে রাধার রূপ,                      হেরি কত বাড়ে সুখ,
মুরছিত কত কোটী কামে॥ ধ্রু॥
নবীন নাগরী রাই                               তেরছ নয়নে চাই
হাসি হাসি কহে রস-বাণী।
শুনিয়া সে সব নর্ম্ম,                             হরয়ে নাগর মর্ম্ম,
কেলি করে সে সুখ যামিনী॥
দোহে রহু হেলাহেলি,                        করু রস নর্ম্ম-কেলি,
সহচরী সুখামৃতে ভাসে।
সব সখী রহে ঘেরি,                          দোঁহার চরণ হেরি
কহে দীন বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অনুক্ষণ কোণে থাকি বসনে আপনা ঢাকি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ ললিত - মধ্যম দশকুশী॥

অনুক্ষণ কোণে থাকি                        বসনে আপনা ঢাকি
দুয়ারের বাহির পরবাস।
আপনি বলিয়া বলে                        হেন নাহি ক্ষিতিতলে
হেন ছারের হেন অভিলাষ॥
সখি হে তুয়া পায়ে কি বলিব আর।
সে হেন দুলহ জনে                           অবিরত যার মনে
নিশ্চয় মরণ প্রতিকার॥ ধ্রু॥
যত যত মনে করি                        নিশ্চয় করিতে নারি
রাতি দিবস নাহি যায়।
ঘরে যত গুরুজন                            সব মোর রিপুগণ
কি করিব কি হবে উপায়॥
মরমে মরিয়া থাকি                       কাহুকে বলিতে নারি
শুন শুন পরাণের সই।
বলরাম দাসে ভণে                       শ্যাম জাগে রাত্রি দিনে
দুখের কথা কার কাছে কই॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিলসই রাধাশ্যাম নিকুঞ্জহি মাঝ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

বিলসই রাধাশ্যাম নিকুঞ্জহি মাঝ। দোঁহ বিচল রতি সমরক সাজ॥
সুধারস পানেতে ভোলল দুহু জন। ভুরিদ আনন্দ আঁখি ভেল অদরসন॥
দোহ দোঁহা না হেরিএ ব্যথিত হৃদয়। আকুল হইআ কান্দে দোহ উভরায়॥
শ্যাম কহে কাঁহা রাই মোরে ভেল বাম। রাই বলে কাঁহা মোর মবঘন শ্যাম॥
দোঁহার চরিত হেরি বলরামদাস। মরমে ভাবএ তাহি বহুত উদাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিনোদিনী কান্দে শ্যাম বলিআ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

বিনোদিনী কান্দে শ্যাম বলিআ। চাঁদমুখ না দেখিআ প্রাণ যায় পুড়িআ॥
শ্যাম কান্দে কোথা মোর প্রাণেশ্বরী রাই। রাই রাই করি শ্যাম ধুলাএ লোটাই॥
শ্রীমতী রাধিকা কান্দে ধুলাএ লোটাআ। কোথা মোর প্রাণনাথ বলিআ বলিআ॥
কালাচাঁদ কান্দে বহু বিলাপ করিআ। বিধুমুখী না দেখিআ পুড়ি যায় হিআ॥
রাই বলে আর কবে পাব দরসন। কালা বলে না দেখিলে হইল মরণ॥
দোহে দোহার গুণ গায় দোহে উচ্চনাদে। প্রাণেশ্বরী প্রাণনাথ বলি দোহে কান্দে॥
বলরাম দাস কহে কান্দিএ কান্দিএ। মুই পাপী মরি দোহার বালাই লইএ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ললিতা বিশাখা দোহে দোহারে তুলিআ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ললিতা বিশাখা দোহে দোহারে তুলিআ। দোহ অঙ্গ এক কৈল নিভৃতে লইআ॥
দোহ মুখে এক মুখ হইল জখনে। অধর অমিআ রস দোহ করে পানে॥
অধর অমিআ রসে হইল মত্ততা। বিভোর হইআ দোহে দোহে কহে কথা॥
ভাবের তরঙ্গে হয় রসের উদ্দামে। বিভোর হইয়া কহে দাস বলরামে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিধুবনে কি আনন্দ ভেল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

নিধুবনে কি আনন্দ ভেল। ভাবের তরঙ্গ বহি গেল॥
রাই শ্যাম বিভোর ভাবেতে। রসের তরঙ্গ বহে তাথে॥
দোহ অঙ্গ এক অঙ্গ হআ। সুতিআছে মুখে মুখ দিআ॥
রসের তরঙ্গ উনমাদ। নিধুবনে বিধেয় সংবাদ॥
দরসনে সখীগণ ভোর। বলরাম কহে কর জোড়ে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আক্ষেপ তেজিএ ধনি করহ সাজনি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥ যথা রাগ॥

আক্ষেপ তেজিএ ধনি করহ সাজনি। চল চল অভিসারে কানু মনমোহিনী॥
তুই সরবস তার তোর সে পরাণ। ভেট গেএ কালাচান্দে দুখ নাহি মান॥
মনের বেদনা জত কহিবি তাহারে। পুনু নাহি করে জেন এইছে বেভারে॥
এত বলি সুবেশ করিল সখীগণে। যূথ মেলি চলে রাই শ্যামদকসনে॥
মিলল সখিসাঙ্গ কুঞ্জগি মাঝ। আগুসারি লেয়ল নাগররাজ॥
বৈঠলি বিনোদিনী শ্যামহি কোড়। বলরাম দাস হেরি সুখ নাহি ওর॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সময় সুজানিএ জত সখীগণ
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥ একতালি॥

সময় সুজানিএ জত সখীগণ। তৈখনে দূরহি করল গমন॥
রাধামাধব মনমথ রঙ্গে। দুহুঁ মুখে চুম্বই মদন তরঙ্গে॥
হিয়া হিয়া লাগল বদনে বদন। ভূজলতা বেঢ়ি দুহু করল বন্ধন॥
হট পরিরম্ভণে নহে অনিবার। বহুঁক্ষণে কিঙ্কিণী করত ফুকার॥
দুহুঁ পুলকাইত অবসর ভেল। শ্রিজল বিথরই অঙ্গহি কেল॥
রতিরণ সমাধিয়ে রাধাশ্যাম। বৈঠল দুহুজন কহে বলরাম॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ব্রজবাসিগণ কান্দে ধেনু বত্স শিশু
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-
পদাবলী”, ৩২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ব্রজবাসিগণ কান্দে ধেনু বত্স শিশু।
কোকিল ময়ূর কান্দে যত মৃগ পশু॥
যশোদা রোহিণী দেহ ধরণে না যায়।
সবে মাত্র বলরাম প্রবোধে সবায়॥
নন্দ উপানন্দ আদি যত গোপগণ।
ধাইয়া চলয়ে বিষ করিতে ভক্ষণ॥
বলরাম রাখে সবায় প্রবোধ করিয়া।
এখনি উঠিছে কালী দমন করিয়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর