কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়
ভনিতা বলরাম / বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২১শ পল্লব, উত্তর গোষ্ঠ, ১২০৭ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৭৩৮ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥
পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মায় পথ পানে চাইয়া॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুনি কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

টীকা -
২। “সঘনে” ইত্যাদি। আমি বারম্বার বিষম খাইতেছি,---(তাহাতে অনুমান হইতেছে যে)
মাতা আমার নাম স্মরণ করিতেছেন! (কেহ একাগ্র-মনে দূরস্থিত প্রিয় জনকে স্মরণ
করিলে, তাহার বিষম লাগে---এইরূপ প্রচলিত সংস্করা আছে।)
---সতীশচন্দ্র রায়, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠ হইতে গৃহে আগমন।
॥ তুড়ি॥

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়। সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া। হেন বুঝি কান্দে মা পথ পানে চাঞা॥
বেলি অবসান হইল চল যাই ঘরে। মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুনি কানায়ের বোল। সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, ২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই, নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে না পথ পানে চাঞা॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায় না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুনি কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মা পথ পানে চাঞা॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুন কানাইয়ের বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই, নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মাতা পথ পানে চাঞা॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুন কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই, নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মাতা পথ পানে চাঞা॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুনি কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পাল জর কর শ্রীদাম সান দাও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মাতা পথ পানে চাঞা॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুনি কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দাও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই, নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মাতা পথ পানে চাঞা॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমনজানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুনি কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ তাল - বড় দশপাহিড়া॥

পাল জর কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়। সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজু মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া। হেন বুঝি কান্দে মাতা পথ পানে চাইয়া॥
বেলি অবসান হ’ল চল যাই ঘরে। মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুনি কানাইর বোল। সকল রাখাল মাঝে পরে উতরোল॥

ভাবার্থ -
শ্রীকৃষ্ণ বলিতেছেন, আর বেলা নাই, এখন পাল জড় কর ; শিঙ্গা বাজাইয়া সকল ধেনু একত্র
কর। মা নিশ্চয়ই নাম করিতেছেন নইলে বিষম খাইব কেন।

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ তুড়ী - একতালা॥

পাল জড়ো করহে শ্রীদাম সান দাও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কাঁদে মাতা পথ পানে চাঞা॥
বেলি অবসান হইল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুনি কাহ্নাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তরগোষ্ঠ
॥ শ্রীরাগ॥

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মায় পথ পানে চাইয়া॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম কহে শুনি কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মায় পথ পানে চাইয়া॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুন কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়,
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়।
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া,
হেন বুঝি কান্দে মা পথ পানে চায়্যা।
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে,
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে।
বলরাম দাস কহে শুনি কানাইয়ের বোল,
সকল রাখাল মাঝে পড়ে উতরোল॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মায় পথ পানে চাইয়া॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরাম দাস কহে শুন কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে দ্রুত রোল॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পাল জড় কর শ্রীদাম সান দেও শিঙ্গায়।
সঘনে বিষম খাই নাম করে মায়॥
আজি মাঠে আমাদের বিলম্ব দেখিয়া।
হেন বুঝি কান্দে মায় পথ পানে চাইয়া॥
বেলি অবসান হৈল চল যাই ঘরে।
মায়ে না দেখিয়া প্রাণ কেমন জানি করে॥
বলরামদাস কহে শুন কানাইর বোল।
সকল রাখাল মাঝে পড়ে দ্রুত রোল॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নন্দ দুলাল বাছা যশোদা দুলাল
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২১শ পল্লব, উত্তর গোষ্ঠ, ১২১০ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথির ১৭৪১ সংখ্যক পদ।

॥ গৌরী॥

নন্দ-দুলাল বাছা যশোদা-দুলাল।
এত ক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন-প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
এক দিঠে দেখে রাঙ্গা চরণ দুখানি॥
নেতের আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার মুখের নিছনি লৈয়া মরি যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদন-কমলে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী॥

নন্দ দুলাল বাছা যশোদা দুলাল।
এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
গদ গদ কন্ঠ না নিকশয়ে বাণী॥
একদিঠে দেখে রাঙ্গা চরণ দুখানি।
কোরে লইয়া নিরখয়ে যুগল পাণি॥
নেতের অঞ্চলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার মুখের নিছনি লৈয়া মরে যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদন কমলে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী॥

নন্দ দুলাল বাছা যশোদা-দুলাল।
এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
গদ গদ কন্ঠ না নিকসয়ে বাণী॥
নেতের আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার মুখের নিছনি লৈয়া মরে যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদন-কমলে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী॥

নন্দ-দুলাল বাছা যশোদা-দুলাল।
এতক্ষণে মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
গদগদ কন্ঠ না নিকসয়ে বাণী॥
নেতের আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার মুখের নিছনি লৈয়া মরে যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদন-কমলে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী॥

নন্দ দুলাল বাছা যশোদা দুলাল।
এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
গদ গদ কন্ঠ না নিকসয়ে বাণী॥
নেতের আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার নিছনি লৈয়া মরে যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদন কমলে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী॥

নন্দ-দুলাল বাছা যশোদা-দুলাল।
এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
গদগদ কন্ঠ না নিকসয়ে বাণী॥
নেতের আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার মুখের নিছনি লৈয়া মরে যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদন-কমলে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ রাগিণী গৌরী - তাল দশপাহিড়া॥

নন্দ-দুলাল বাছা যশোদা-দুলাল। এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন প্রদীপ লইয়া আইলা নন্দরাণী। গদ গদ কন্ঠ না নিকসয়ে বাণী॥
নেতের অঞ্চলে রাণী মুছিল হাত পা। তোমার বালাই লইয়া মরে যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে। কত লক্ষ চুম্ব দেই বদন কমলে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ গৌরী - ডাঁশ পাহিড়া॥

নন্দ দুলাল বাছা যশোদা দুলাল।
এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
কোরে লইয়া নিরখয়ে গোপালের মুখানি।
এক দিঠে দেখে রাঙ্গা চরণ দুখানি॥
নেতের অঞ্চলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার নিছনি লইয়া মরে যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত চুম্ব দেই রাণী বদন কমলে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তরগোষ্ঠ
শ্রীযশোদার উক্তি
॥ গৌড়ী॥

নন্দদুলাল বাছা যশোদা দুলাল।
এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন-প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
এক দিঠে দেখে রাঙ্গা চরণ দুখানি॥
নেতের আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার নিছনি লৈয়া মরি যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদনকমলে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌড়ী॥

নন্দ-দুলাল বাছা যশোদা-দুলাল।
এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন-প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
এক দিঠে দেখে রাঙ্গা চরণ দুখানি॥
নেতের-আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার মুখের নিছনি লৈয়া মরি যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদন-কমলে॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ

নন্দ দুলাল বাছা যশোদা দুলাল,
এতক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল।
রতন প্রদীপ লয়্যা আইলা নন্দরাণী,
গদ গদ কণ্ঠ না নিকসয়ে বাণী।
কোরে লইয়া নিরখিয়ে যুগল পাণি,
এক দিঠে দেখে রাঙ্গা চরণ দু’খানি॥
নেতের অঞ্চলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার নিছনি নিয়ে মরি যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত কত চুম্ব দেয় বদন কমলে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নন্দদুলাল বাছা যশোদাদুলাল।
এত ক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন-প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
এক দিঠে দেখে রাঙ্গা চরণ দু’খানি॥
নেতের আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার মুখের নিছনি লৈয়া মরি যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদনকমলে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নন্দদুলাল বাছা যশোদাদুলাল।
এত ক্ষণ মাঠে থাকে কাহার ছাওয়াল॥
রতন-প্রদীপ লৈয়া আইলা নন্দরাণী।
একদিঠে দেখে রাঙ্গা চরণ দু’খানি॥
নেতের আঁচলে রাণী মোছে হাত পা।
তোমার মুখের নিছনি লৈয়া মরি যাউক মা॥
কহে বলরাম নন্দরাণী কুতূহলে।
কত লক্ষ চুম্ব দেই বদনকমলে॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাণী ভাসে আনন্দ সাগরে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, উত্তর গোষ্ঠ,
১২১৪ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১২১৪ সংখ্যক পদ।

॥ ইমন কল্যাণী॥

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম                 দক্ষিণে বসাইয়া রাম
চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥ ধ্রু॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর                আনিয়া সে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে                  দেয় রাণী মন-সুখে
নিরখয়ে চাঁদ-মুখ পানে॥
গোপের রমণী যত                    চৌদিগে শত শত
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি                     মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন-বাতি                  করে সবে আরতি
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে                  আনন্দ-সাগরে ভাসে
দোহঁ রূপের বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী” , ৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন কল্যাণি॥

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম,         দক্ষিণে বসাই রাম
চুম্ব দেই মুখ সুধাকরে॥ ধ্রু
ক্ষীর, ননী, ছেনা,সর,        আনিয়াছে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে,         দেয় রাণী মহাসুখে
নিরখয়ে চাঁদমুখ পানে॥
গোপের রমণী যত,            চৌদিগে শত শত
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতি মেলি,            মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বলিয়া রতনবাতি,           করে সভে আরতি
হরষিত যশোমতি মায়।
কহে বলরাম দাসে,         আনন্দ-সাগরে ভাসে
দুহুঁ রূপের বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন কল্যানী॥

রাণী ভাসে আনন্দ সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম,                দক্ষিণে বসাইয়া রাম,
চুম্ব দেই মুখ সুধাকরে॥ ধ্রু।
ক্ষীর ননী ছেনা সর,                আনিয়া সে থরে থর,
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইয়ের মুখে,                দেয় রাণী মহাসুখে,
নিরখয়ে চান্দ মুখ পানে॥
গোপের রমণী যত,                    চৌদিকে শত শত,
মুখ হেরি লহুঁ লহুঁ বলে।
মাতা যশোমতী মেলি,                      মঙ্গল হুলাহুলি,
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন বাতি,                 করে সভে আরতি,
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে,                 আনন্দ সাগরে ভাসে,
দুহুঁ রূপের বলিহারী যাই॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন কল্যানী॥

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম, দক্ষিণে বসাই রাম, চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর, আনিয়াছে থরে থর, আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে, দেয় রাণী মহাসুখে, নিরখয়ে চাঁদ-মুখ পানে॥
গোপের রমণী যত, চৌদিগে শত শত, মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি, মঙ্গল হুলাহুলি, আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন বাতি, করে সভে আরতি, হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরামদাসে, আনন্দ-সাগরে ভাসে, দুহুঁ রূপের বলিহারী যাই॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৪-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমনকল্যাণ॥

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম,              দক্ষিণে বসাইয়া রাম,
চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর,                আনিয়াছে থরে থর,
আগে দেই রামের বদন।
পাছে কানায়র মুখে,                  দেয় রাণী মহাসুখে,
নিরখয়ে চাঁদ-মুখ পানে॥
গোপের রমণী যত,                    চৌদিকে শত শত,
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি,                     মঙ্গল হুলাহুলি,
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন বাতি,                করে সভে আরতি,
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে,                আনন্দ-সাগরে ভাসে,
দুহুঁ রূপের বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৩৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন কল্যাণী॥

রাণী ভাসে আনন্দ সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম                 দক্ষিণে বসাইয়া রাম
চুম্ব দেই মুখ সুধাকরে॥ ধ্রু॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর                আনিয়া সে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে                  দেয় রাণী মহাসুখে
নিরখয়ে চাঁদ মুখ পানে॥
গোপের রমণী যত                    চৌদিগে শত শত
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি                      মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন বাতি                  করে সবে আরতি
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে                   আনন্দ সাগরে ভাসে
দুহুঁ রূপের বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমনকল্যাণ॥

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম, দক্ষিণে বসাই রাম,
চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর, আনিয়াছে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানায়র মুখে, দেয় রাণী মহাসুখে,
নিরখয়ে চাঁদ-মুখ পানে॥
গোপের রমণী যত, চৌদিকে শত শত-
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি, মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন বাতি, করে সবে আরতি,
হরষিত যশোমতি মাই।
কহে বলরামদাসে, আনন্দ-সাগরে ভাসে,
দুহুঁ রূপের বলিহারী যাই॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৭০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ (ফিরা গোষ্ঠ)
॥ তাল ছোট দশকুশী॥

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইল শ্যাম, দক্ষিণে বসাই রাম, চুম্ব দেই মুখ সুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর, আনিয়াছে থরে থর, আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইয়ের মুখে, দেয় রাণী মহাসুখে, নিরখয়ে চাঁদ মুখপানে॥
গোপের রমণী যত, চৌদিগে শত শত, মুখ হেরি লহুঁ লহুঁ বলে।
মাতা যশোমতী মেলি, মঙ্গল হুলাহুলী, আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন বাতি, করে সবে আরতি, হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে, আনন্দ সাগরে ভাসে, দুহঁ রূপে বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ শঙ্করাভরণ - মধ্যম ডাঁশপাহিড়া॥

রাণী ভাসে আনন্দ সায়রে।
বামে বসাইয়া শ্যাম,                 দক্ষিণে শ্রীবলরাম,
চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥
খির ননি ছেনা সরে,             আনিয়া সে থরে থরে,
আগে দেই বলাইয়ের বদনে।
পাছে কাহ্নাইর মুখে,                দেয় রাণী মহাসুখে,
নিরখয়ে চাঁদ মুখ পানে॥
ব্রজের রমণী যত,                   চৌদিকে শত শত,
মুখ হেরি লহু লহু বলে।
মাতা যশোমতি বলি,                     মঙ্গল হুলাহুলি,
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন বাতি,                করে সবে আরতি,
হরষিত যশোমতি মাই।
কহে বলরাম দাসে,                আনন্দ-সাগরে ভাসে,
দুহুঁ রূপের বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলী॥

রাণী ভাসে আনন্দসাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম                 দক্ষিণেতে বলরাম
চুম্ব দেই মুখসুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর                আনিয়া সে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে                  দেয় রাণী মহাসুখে
চাঁদমুখ নিরখে নয়নে॥
গোপের রমণী যত                    চৌদিগে শত শত
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি                         মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতনবাতি                     করে সবে আরতি
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে                    আনন্দসাগরে ভাসে
দোঁহ রূপে বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলী॥

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম                 দক্ষিণে বসাইয়া রাম
চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর                আনিয়া সে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে                  দেয় রাণী মন-সুখে
নিরখয়ে চাঁদ-মুখ পানে॥
গোপের রমণী যত                    চৌদিগে শত শত
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি                     মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন-বাতি                 করে সবে আরতি
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে                 আনন্দ-সাগরে ভাসে
দোহ রূপের বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম               দক্ষিণে বসাইয়া রাম
চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর                আনিয়া সে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে                  দেয় রাণী মনসুখে
নিরখয়ে চাঁদমুখ পানে॥
গোপের রমণী যত                    চৌদিগে শতশত
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি                    মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন-বাতি                  করে সব আরতি
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে                 আনন্দ সাগরে ভাসে
দোঁহ রূপের বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম                 দক্ষিণে বসাইয়া রাম
চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর                আনিয়া সে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে                  দেয় রাণী মনসুখে
নিরখয়ে চাঁদমুখ পানে॥
গোপের রমণী যত                    চৌদিগে শতশত
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি                    মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন-বাতি                  করে সব আরতি
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে                 আনন্দ সাগরে ভাসে
দোঁহ রূপের বলিহারি যাই॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদসঙ্কলন”, অনুরাগ, ৪৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


রাণী ভাসে আনন্দ-সাগরে।
বামে বসাইয়া শ্যাম                 দক্ষিণে বসাইয়া রাম
চুম্ব দেই মুখ-সুধাকরে॥
ক্ষীর ননী ছেনা সর                আনিয়া সে থরে থর
আগে দেই রামের বদনে।
পাছে কানাইর মুখে                  দেয় রাণী মন-সুখে
নিরখয়ে চাঁদ-মুখ পানে॥
গোপের রমণী যত                    চৌদিগে শতে শত
মুখ হেরি লহু লহু বোলে।
মাতা যশোমতী মেলি                     মঙ্গল হুলাহুলি
আরতি করয়ে কুতূহলে॥
জ্বালিয়া রতন-বাতি                 করে সবে আরতি
হরষিত যশোমতী মাই।
কহে বলরাম দাসে                আনন্দ-সাগরে ভাসে
দোহঁ রূপের বলিহারি যাই॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দধি মন্থধ্বনি শুনইতে নীলমণি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“পদরত্নাবলী” , ১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ুর॥

দধি মন্থধ্বনি,                  শুনইতে নীলমণি
আওল সঙ্গে বলরাম।
যশোমতি হেরি মুখ,          পাওল মরমে সুখ
চুম্বয়ে চান্দ বয়ান॥
কহে শুন যাদুমণি,        তোরে দিব ক্ষীর ননী
খাইয়া নাচহ মোর আগে।
নবনীলোভিত হরি,           মায়ের বদন হেরি
কর পাতি নবনীত মাগে॥
রাণী দিল পূরি কর,            খাইতে রঙ্গিমাধর
অতি সুশোভিত ভেল রায়।
খাইতে খাইতে নাচে,      কটিতে কিঙ্কিণী বাজে
হেরি হরষিত ভেল মায়॥
নন্দদুলাল নাচে ভালি
ছাড়িল মন্থনদণ্ড,                উথলিল মহানন্দ
সঘনে দেয় করতালি॥
দেখ দেখ রোহিণী,              গদগদ কহে রাণী
যাদুয়া নাচিছে দেখ মোর।
বলরাম দাস কয়,              রোহিণী আনন্দময়
দুহুঁ ভেল প্রেমে বিভোর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা
॥ মায়ুরা॥

দধিমন্থধ্বনি                           শুনইতে নীলমণি
আওল সঙ্গে বলরাম।
যশোমতী হেরি মুখ                   পাওল মরমে সুখ
চুম্বয়ে চান্দবয়ান॥
কহে শুন যাদুমণি                  তোরে দিব ক্ষীরননী
খাইয়া নাচহ মোর আগে।
নবনীলোভিত হরি                    মায়ের বদন হেরি
কর পাতি নবনীত মাগে॥
রাণী দিল পূরি কর                    খাইতে রঙ্গিমাধর
অতি সুশোভিত ভেল তায়।
খাইতে খাইতে নাচে              কটিতে কিঙ্কিণী বাজে
হেরি হরষিত ভেল মায়॥
নন্দদুলাল নাচে ভালি।
ছাড়িল মন্থনদণ্ড                        উথলিল মহানন্দ
সঘনে দেয় করতালি॥
দেখ দেখ রোহিণী                      গদগদ কহে রাণী
যাদুয়া নাচিছে দেখ মোর।
বলরাম দাসে কয়                    রোহিণী আনন্দময়
দুহু ভেল প্রেমে বিভোর॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ুরা॥

দধি-মন্থ-ধ্বনি                        শুনইতে নীলমণি
আওল সঙ্গে বলরাম।
যশোমতী হেরি মুখ                পাওল মরমে সুখ
চুম্বয়ে চান্দ-বয়ান॥
কহে শুন যাদুমণি                তোরে দিব ক্ষীর-ননী
খাইয়া নাচহ মোর আগে।
নবনী-লোভিত হরি                 মায়ের বদন হেরি
কর পাতি নবনীত মাগে॥
রাণী দিল পূরি কর                  খাইতে রঙ্গিমাধর
অতি সুশোভিত ভেল তায়।
খাইতে খাইতে নাচে            কটিতে কিঙ্কিণী বাজে
হেরি হরষিত ভেল মায়॥
নন্দ-দুলাল নাচে ভালি।
ছাড়িল মন্থন-দণ্ড                     উথলিল মহানন্দ
সঘনে দেয় করতালি॥
দেখ দেখ রোহিণী                    গদ গদ কহে রাণী
যাদুয়া নাচিছে দেখ মোর।
বলরাম দাসে কয়                  রোহিণী আনন্দময়
দুহু ভেল প্রেমে বিভোর॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ওগো মা তোমার গোপাল কিবা
ও মা নন্দরাণী তোমার গোপাল কিবা
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, উত্তর গোষ্ঠ,
১২১৩ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৭৪৪ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

ওগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী।
আমরা সঙ্গের ভাই                  তমু ত না মন পাই
তোমারে ভুলাবে কত খানি॥
তৃণ খাইতে ধেনুগণ                     যদি যায় দূর বন
কেহ ত না যায় ফিরাইতে।
তোমার দুলাল কানু                   পূরয়ে মোহন বেণু
ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥
আমরা ফিরাইতে ধেনু             তাহা নাহি দেয় কানু
সদা ফিরে সুবলের পাছে।
সুবলে করিয়া কোলে                 প্রেমে গদগদ বোলে
না জানি মরম কিবা আছে॥
কিবা লীলা করে এহ                বুঝিতে না পারে কেহ
অপরূপ চরিত বিহরে।
বলরাম দাস ভণে                  বলাই দাদা নাহি জানে
আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ তিরোথা ধানশী গৌরী - তেওট॥

ও মা নন্দরাণী                        তোমার গোপাল
কিবা জানয়ে মোহিনী।
আমরা সঙ্গের ভাই,                 তবুত না মন পাই,
তোমারে ভুলাবে কতখানি॥ ধ্রু॥
তৃণ খাইতে গাভীগণ,                   যদি যায় দূরবন,
কেহত না যায় ফিরাইতে।
তোমার দুলাল কানু,                পূরয়ে মোহন বেণু,
ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥
আমরা ফিরাইতে ধেনু,          তাহা নাহি দেয় কানু,
সদা ফিরে সুবলের পাছে।
সুবলে করিয়া কোলে,              প্রেমে গদ গদ বোল,
না জানি মরমে কিবা আছে॥
কিবা লীলা করে এহ,            বুঝিতে না পারে কেহ,
অপরূপ চরিত বিহার।
বলরাম দাসে বলে,              বলাইদাদা নাহি জানে,
আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ওগো মা তোমার গোপাল
কিবা জানয়ে মোহিনী।
আমরা সঙ্গের ভাই                তমু ত না মন পাই
তোমারে ভুলাবে কত খানি॥
তৃণ খাইতে ধেনুগণ                  যদি যায় দূর বন
কেহ ত না যাই ফিরাইতে।
তোমার দুলাল কানু                 পূরয়ে মোহন বেণু
ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥
আমরা ফিরাইব ধেনু             তাহা নাহি দেয় কানু
সদা ফিরে সুবলের পাছে।
সুবলে করিয়া কোলে               প্রেম গদগদ বোলে
না জানি কপালে কিবা আছে॥
কিবা লীলা করে এহ             বুঝিতে না পারে কেহ
অপরূপ চরিত বিহরে।
বলরাম দাস ভণে                বলাই দাদা নাহি জানে
আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৪১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ওগো মা তোমার গোপাল কিবা জানয়ে মোহিনী।
আমরা সঙ্গের ভাই                   তমু ত না মন পাই
তোমারে ভুলাবে কত খানি॥
তৃণ খাইতে ধেনুগণ                     যদি যায় দূর বন
কেহ ত না যায় ফিরাইতে।
তোমার দুলাল কানু                   পূরয়ে মোহন বেণু
ফিরে ধেনু মুরলীর গীতে॥
আমরা ফিরাইতে ধেনু             তাহা নাহি দেয় কানু
সদা ফিরে সুবলের পাছে।
সুবলে করিয়া কোলে                 প্রেমে গদগদ বোলে
না জানি মরম কিবা আছে॥
কিবা লীলা করে এহ               বুঝিতে না পারে কেহ
অপরূপ চরিত বিহরে।
বলরাম দাস ভণে                বলাই দাদা নাহি জানে
আনে কিবা বুঝিবে অন্তরে॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পঞ্চ বরিখ বয়সাকৃত মোহন
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের কৌমারলীলা
॥ মায়ূর - জপতাল॥

পঞ্চ বরিখ                        বয়সাকৃত মোহন,১
ধাবমান পর-অঙ্গনা২।
পায়স পানে,                        উথরলে মাখন,৩
খাওত মিটায়ত বয়না॥
দোলে দোলে মোহন গোপাল।
প্রখর চরণ গতি,                মুখর কিঙ্কিণী কটি,
লোটন লোটায় বনমালা॥ ধ্রু॥
সোণায় বান্ধিলা ভাল,           রুরু নখ ইরে মাল,
পিঠে দোলে পাটকি খোপা৪।
খেনে আলগছি দেই,            খেনে ভুমে গড়ি যাই
খেনে পরসন্ন খেনে কোপ॥
নন্দ সুনন্দ,                        যশোমতী রোহিণী,
আনন্দো সুত মুখ চায়।
নয়ন দৃগঞ্চল,                         কাজরে রঞ্জিত,
হাসি হাসি বদন দেখায়॥
কুন্তলে রতন মণি ঝলমল দেখি।
কুণ্ডলে উজ্জল গণ্ড কাজর আঁখি॥
বলরাম দাস বলে শুন নন্দরাণী।
ত্রিজগত নাথ নাচাও করে দিয়ে ননী॥

টীকা -
১। পঞ্চম বর্ষ বয়সে যে সুন্দর মূর্ত্তি হয়।
২। অপর রমণী তাড়াইয়া আসিতেছে। (মাখন চুরির জন্য?)
৩। হস্তে পায়স মাখিয়াছেন এবং বক্ষস্থলে মাখন গড়াইয়া পড়িতেছে।
৪। লম্বিত কেশের প্রান্তে রেশমের থোপা পৃষ্ঠে দুলিতেছে।

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জানিল গোঠেরে আজি যাবে নীলমণি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৭৭১ সালে দীনবন্ধু দাস দ্বারা সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী॥

জানিল গোঠেরে আজি জাবে নীলমণি।
মনের সাধে করে বেশ যশোদা রোহিণী॥
কপালে রচিঞা দিল চন্দনের রেখা।
চূড়াটি বান্ধিঞা দিল ময়ূরের পাখা॥
শ্যাম অঙ্গে বিরাজিত ধাতু প্রবাল।
ঝলমল করে মণি-মুকুতার মাল॥
কষিঞা পরাএ পীত ধটি কটিমাঝে।
দুগাছি নূপুর দিল চরণ-পঙ্কজে॥
না চলিতে চুএ ঘাম শ্রীমুখ-কমলে।
পুন পুন মোছে রাণী নেতের আচলে॥
বলরাম দাস কহে রাম পানে চাঞা।
কানুরে সোপিঞা দিল মুখে চুম্ব দিঞা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জানিল গোঠেরে আজি যাবে নীলমণি।
মনের সাধে করে বেশ যশোদা রোহিণী॥
কপালে রচিঞা দিল চন্দনের রেখা।
চূড়াটি বান্ধিঞা দিল ময়ূরের পাখা॥
শ্যাম অঙ্গে বিরাজিত ধাতু প্রবাল।
ঝলমল করে মণিমুকুতার মাল॥
কাছিঞা পরাএ পীত ধটি কটি মাঝে।
দুগাছি নূপুর দিল চরণ পঙ্কজে॥
না চলিতে চুয়ে ঘাম শ্রীমুখকমলে।
পুন পুন মোছে রাণী নেতের আঁচলে॥
বলরাম দাস কহে রাম পানে চাঞা।
কানুরে সোপিঞা দিল মুখে চুম্ব দিঞা॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জানিল গোঠেরে আজি যাবে নীলমণি।
মনের সাধে করে বেশ যশোদা রোহিণী॥
কপালে রচিঞা দিল চন্দনের রেখা।
চূড়াটি বান্ধিয়া দিল ময়ূরের পাখা॥
শ্যাম অঙ্গে বিরাজিত ধাতু প্রবাল।
ঝলমল করে মণি-মুকুতার মাল॥
কাছিঞা পরাএ পীত ধটি কটি মাঝে।
দুগাছি নূপুর দিল চরণ-পঙ্কজে॥
না চলিতে চুএ ঘাম শ্রীমুখ-কমলে।
পুন পুন মোছে রাণী নেতের আঁচলে॥
বলরাম দাস কহে রাম পানে চাঞা।
কানুরে সোপিঞা দিল মুখে চুম্ব দিঞা॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোপালে সাজাইতে নন্দরাণী না পারিল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠলীলা
॥ শ্রীরাগ॥

গোপালে সাজাইতে নন্দরাণী না পারিল।
যতনে কানাইএর চূড়া বলাই বান্ধিল॥
অঙ্গদ বলয়া হার শোভিয়াছে ভাল।
শ্রবণে কুণ্ডল দোলে গলে গুঞ্জাহার॥
পীত ধড়া আঁটিয়া পরায় কটিতটে।
বেত্র মুরলী হাতে শিঙ্গা দোলে পিঠে॥
ললাটে তিলক দিল শ্রীদাম আসিয়া।
নূপুর পরায় রাঙ্গা চরণ ধরিয়া॥
বলরাম দাসে বোলে কান্দিতে কান্দিতে।
অমনি রহিল রাণী বদন হেরিতে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

গোপালে সাজাইতে নন্দরাণী না পারিল।
যতনে কানাই-চূড়া বলাই বান্ধিল॥
অঙ্গদ বলয়া হার শোভিয়াছে ভাল।
শ্রবণে কুণ্ডল দোলে গলে গুঞ্জাহার॥
পীত ধড়া আঁটিয়া পরায় কটি-তটে।
বেত্র মুরলী হাতে শিঙ্গা দোলে পিঠে॥
ললাটে তিলক দিল শ্রীদাম আসিয়া।
নূপুর পরায় রাঙ্গা চরণ ধরিয়া॥
বলরাম দাসে বোলে কান্দিতে কান্দিতে।
অমনি রহিল রাণী বদন হেরিতে॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোলোকের নাথ হৈয়া দেশে দেশে ভরমিয়া
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, ১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ॥

গোলোকের নাথ হৈয়া,            দেশে দেশে ভরমিয়া,
পাত্রাপাত্র না কৈলা বিচার।
অযাচিত প্রেমধন,                  দান কৈলা জনে জন,
জগতেরে করল উদ্ধার॥
গোরা গোসাঞি করুণাসাগর অবতার।
কেবল আনন্দ ধাম,                 দিয়া হরেকৃষ্ণ নাম,
পতিতেরে করল নিস্তার॥ ধ্রু॥
অধম দুর্গত দেখি,                হৈয়া সকরুণ আঁখি,
মরি মরি বলি করে কোলে।
হিয়ার উপরে তুলি,                লোটায় ধরণী ধূলি,
নদী বহে নয়ানের জলে॥
তৃণ ধরি দুই করে,                কাতর হৈয়া উচ্চস্বরে,
হরি বোল বলি পহুঁ কান্দে।
প্রেমানন্দে অচেতন,                কান্দে সব, বলরাম
এড়াইল হেন ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ॥

গোলকের নাথ হৈয়া                 দেশে দেশে ভরমিয়া
পাত্রাপাত্র না কৈলা বিচার।
অযাচিত প্রেমধন                    দান কৈলা জনে জন
জগতেরে করল উদ্ধার॥
গোরা গোসাঞি করুণাসাগর অবতার।
কেবল আনন্দ ধাম                     দিয়া হরেকৃষ্ণ নাম
পতিতেরে করল নিস্তার॥
অধম দুর্গত দেখি                     হৈয়া সকরুণ আঁখি
মরি মরি বলি করে কোলে।
হিয়ার উপরে তুলি                     লোটায় ধরণী ধূলি
নদী বহে নয়ানের জলে॥
তৃণ ধরি দুই করে                 কাতর হৈয়া উচ্চস্বরে
হরি বোল বলি পহুঁ কান্দে।
প্রেমানন্দে অচেতন                    কান্দে সব, বলরাম
এড়াইল হেন ফান্দে॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ দেখ অপরূপ গৌর চরিত
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৮৬-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৯০
সংখ্যক পদ। “ব্রজ নবদ্বীপ নীলগিরিপুর” পদটির প্রথম চারটি কলি বাদ দিলে তার পরের অংশ এই পদের
সঙ্গে মিলে যায়।

॥ কামোদ॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌর-চরিত।
সো গোকুল-পতি অব পরকাশল
পুন কিয়ে বামন-রীত॥ ধ্রু॥
নিরখি প্রতাপ প্রতাপরুদ্র বলি
তনু মন সরবস দেল।
জগাই মাধাই আদি অসুরগণ
চরণ প্রবণ নিজ কেল॥
যছু পদ সহ অদ্বৈত-ভগীরথ
ভকতি-গঙ্গ-পরবাহ।
নিত্যানন্দ গিরিশ, দেই আনল
বাম-হিমাচল মাহ॥
যছু অবগাহনে অখিল ভকতগণে
বিলসই প্রেম-আনন্দ।
পামর পতিত পরম পদ পায়ল
বঞ্চিত বলরাম মন্দ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌর চরিত।
সো গোকুল পতি,                   অব পরকাশল,
পুন কিয়ে বামন রীত॥ ধ্রু॥
নিরখি প্রতাপ,                      প্রতাপরুদ্র বলি,
তনু মন সরবস দেল।
জগাই মাধাই,                      আদি অসুরগণে
চরণ প্রবলে নিজ কেল॥
যছু পথ সহ,                        অদ্বৈত ভগীরথ,
ভকত গঙ্গ পরবাহ।
নিত্যানন্দ,                      গিরিশ দেই আনল,
রাম হিমাচল মাহ॥
যছু অবগাহনে,                   অখিল ভকতগণে,
বিলসই প্রেম আনন্দ।
পামর পতিত,                      পরম দয়া পায়ল
বঞ্চিত বলরাম মন্দ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদা॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌর চরিত।
সো গোকুল পতি, অব পরকাশল, পুন কিয়ে বামন রীত॥
নিরখি প্রতাপ, প্রতাপরুদ্র বলি, তনু মন সরবস দেল।
জগাই মাধাই, আদি অসুরগণ, চরণ প্রবণ নিজ কেল॥
যছু পথ সঞে, অদ্বৈত-ভগীরথ, ভকত-গঙ্গা পরবাহ।
নিত্যানন্দ, গিরিশ দেই আনল, বাস হিমাচল মাহ॥
যছু অবগাহনে, অখিল ভকতগণে, বিলসই প্রেম আনন্দ।
পামর পতিত, পরম দয়া পায়ল, বঞ্চিত বলরাম মন্দ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌর-চরিত।
সো গোকুলপতি                                   অব পরকাশল
পুন কিয়ে বামন রীত॥ ধ্রু॥
নিরখি প্রতাপ                                   প্রতাপ রুদ্র বলি
তনুমন সরবস দেল।
জগাই মাধাই আদি অসুরগণে, চরণ প্রবলে নিজ কেল॥
যছু পথ সহ অদ্বৈত ভগীরথ ভকত গঙ্গ পরবাহ।
নিত্যানন্দ গিরীশ দেই আনল, রাম হিমাচল মাহ॥
যছু অবগাহনে অখিল ভকতগণে বিলসই প্রেম আনন্দ।
পামর পতিত পরম দয়া পায়ল বঞ্চিত বলরাম মন্দ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

.        দেখ দেখ অপরূপ গৌর-চরিত
সো গোকুল-পতি অব পরকাশল
.        পুনকিয়ে বামন-রীত॥
নিরখি প্রতাপ প্রতাপরূদ্র বলি
.        তনু মন সরবস দেল।
জগাই মাধাই আদি অসুরগণ
.        চরণ প্রবণ নিজ কেল॥
যছু পদ সহ অদ্বৈত-ভগীরথ
.        ভকতি-গঙ্গ-পরবাহ।
নিত্যানন্দ গিরিশ দেই আনল
.        বাম-হিমাচল মাহ॥
যছু অবগাহনে অখিল ভকতগণে
.        বিলসই প্রেম-আনন্দ।
পামর পতিত পরম পদ পায়ল
.        বঞ্চিত বলরাম মন্দ॥

.            ***********            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর