কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
ব্রজ নবদ্বীপ নীলগিরিপুর
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম চারটি কলি বাদ দিয়ে তার পরের অংশ “দেখ
দেখ অপরূপ গৌর-চরিত” পদের সঙ্গে মিলে য়ায়।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ কামোদ॥

ব্রজ নবদ্বীপ                                নীলগিরিপুর
তিনধামের পদ তিন আপি।
সংকীর্ত্তনময়                              ভাবরসবিগ্রহ
এ তিন ভুবন বেয়াপি॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌরচরিত।
সো গোকুল পতি                        অব পরকাশল
পুন কিয়ে বামন রীত॥
নিরখি প্রতাপ                           প্রতাপরুদ্র বলি
তনু মন সরবস দেল।
জগাই মাধাই                          আদি অসুরাবলি
চরণ শরণ সব নেল॥
যছু পথ সঞে                           অদ্বৈত ভগীরথ
ভকতিগঙ্গ পরবাহ।
নিত্যানন্দ গিরিশ                       আশ দেই আনল
তেজি হিম মরত মাহ॥
যছু অবগাহনে                         অখিল ভকতগণে
বিলসই প্রেমআনন্দ।
পামর পতিত                           পরম পদ পায়ল
বঞ্চিত বলরাম মন্দ॥

ব্যাখ্যা -
শ্রীবৃন্দাবন, নবদ্বীপ এবং পুরুষোত্তম এই তিন ধামে চরণার্পণ করিয়া সংকীর্ত্তনময় ভাবরসবিগ্রহ ত্রিভুবন
ব্যপিয়া বিরাজ করিলেন। অপরূপ গৌরচরিত দেখ, সেই গোকুলপতি কে এখন পুনরায় বামন অবতারের
রীতি প্রকাশ করিলেন।তাঁহার প্রতাপ দেখিয়া মহাবলী প্রতাপরুদ্র তাঁহাকে তনুমন সর্ব্বস্ব দান করিলেন।
জগাই মাধাই আদি অসুরগণ সকলেই তাঁহার চরণে শরণ লইলেন। শ্রীনিত্যানন্দ মহাদেবের মত আশা দিয়া
সেই সুরধুনীকে হিমাচল ত্যাগ করাইয়া মর্ত্ত্যের মাঝে আনায়ন করিলেন। (মহাদেব যেমন গঙ্গা প্রবাহ শিরে
ধারণ করিয়াছিলেন, শ্রীপাদ নিত্যানন্দও তেমনই ভক্তিরূপা সুরধুনীকে মাথায় করিয়া জগতে বিলাইয়া
বেড়াইলেন)। যে প্রবাহে অবগাহনপূর্ব্বক অখিল ভুবনের ভক্তগণ প্রেমানন্দে বিলাস করিতেছেন, যে গঙ্গায়
স্নান করিয়া পতিত পামরগণ পরমপদ প্রাপ্ত হইলেন, মন্দ বলরাম দাস তাহাতে বঞ্চিত হইলেন।
---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌরসুন্দর পহুঁ নদীয়া উদয় করি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৪৪-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৪৯
সংখ্যক পদ।

॥ রামকেলী॥

গৌরসুন্দর পহু                         নদীয়া উদয় করি
ভুবন ভরিয়া প্রেম-দান।
পামর পাষণ্ড আদি                  দীন হীন ক্ষীণ জাতি
উদ্ধারিল দিয়া হরি-নাম॥
ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ শুনিতে পরাণ কান্দে।
অগেয়ান যত জন                     দেখিয়া অথির মন
হরিবোল বলি মন বান্ধে॥ ধ্রু॥
গদাধর দেখি  কান্দে                 মন থির নাহি বান্ধে
করে ধরি স্বরূপ রামানন্দে।
পহু মোর শ্রীপাদ বলি                 লোটায় ধরণী-ধূলি
কোলে করি কান্দে নিত্যানন্দে॥
অন্ধ বধির যত                       গোরা-গুণে উনমত
দিগ বিদিগ নাহি জানে।
ভাব-ভরে গরগর                      না চিনে আপন পর
নিস্তার করয়ে জনে জনে॥
বাহু তুলি হরি বোলে                 পতিত লইয়া কোলে
গোরা-প্রেমে জগ-জন ভাসে।
উত্তম অধম যত                       তারা হৈল ভাগবত
বঞ্চিত বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলি॥

গৌরসুন্দর পহুঁ,                        নদীয়া উদয় করি,
ভুবন ভরিয়া প্রেম দান।
পামর পাষণ্ড আদি,                দীন হীন ক্ষীণ জাতি,
উদ্ধারিল দিয়া হরিনাম॥
ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ শুনিতে পরাণ কান্দে।
অগেয়ান যত জন,                    দেখিয়া অথির মন,
হরি বোল বলি মন বান্ধে॥ ধ্রু॥
গদাধর দেখি কান্দে,                 পহুঁ থির নাহি বান্ধে,
করে ধরি স্বরূপ রামানন্দ।
পহুঁ মোর শ্রীপাদ বলি,                 লোটায় ধরণী ধূলি,
কোলে করি কান্দে নিত্যানন্দ॥
অন্ধ বধির যত,                      গোরা গুণে উনমত,
দিগ বিদিগ নাহি জানে।
ভাব ভরে গর গর,                   না চিনে আপন পর,
নিস্তার করয়ে জনে জনে॥
বাহু তুলি হরি বোলে,                পতিত লইয়া কোলে,
গোরা প্রেমে জগজন ভাসে।
উত্তম অধম যত,                      তারা হৈল ভাগবত ,
বঞ্চিত বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলি॥

গৌরসুন্দর পহু, নদীয়া উদয় করি, ভুবন ভরিয়া প্রেম-দান।
পামর পাষণ্ড আদি, দীন হীন ক্ষীণ জাতি, উদ্ধারিল দিয়া হরি-নাম॥
ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ শুনিতে পরাণ কান্দে।
অগেয়ান যত জন, দেখিয়া অথির মন, হরি বোল বলি মন বান্ধে॥
গদাধর দেখি কান্দে, পহু থির নাহি বান্ধে, করে ধরি স্বরূপ রামানন্দ।
পহু মোর শ্রীপাদ বলি, লোটায় ধরণী ধূলি, কোলে করি কান্দে নিত্যানন্দ॥
অন্ধ বধির যত, গোরা গুণে উনমত, দিগ-বিদিগ নাহি জানে।
ভাব-ভরে গরগর, না চিনে আপন পর, নিস্তার করয়ে জনে জনে॥
বাহু তুলি হরি বলে, পতিত লইয়া কোলে, গোরা প্রেমে জগ-জন ভাসে।
উত্তম অধম যত, তারা হৈল ভাগবত, বঞ্চিত বলরামদাসে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলী॥

গৌর সুন্দর পহুঁ                        নদীয়া উদয় করি
ভুবন ভরিয়া প্রেমদান।
পামর পাষণ্ড আদি                দীন হীন ক্ষীণ জাতি
উদ্ধারিল দিয়া হরিনাম॥
ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ শুনিতে পরাণ কাঁদে।
অগেয়ান যত জন                   দেখিয়া অথির মন
হরিবোল বলি মন বান্ধে॥ ধ্রু॥
গদাধর দেখি  কাঁদে                 পহুঁ থির নাহি বাঁধে
করে ধরি স্বরূপ রামানন্দ।
পহুঁ মোর শ্রীপাদ বলি                লোটায় ধরণী ধূলি
কোলে করি কাঁদে নিত্যানন্দ॥
অন্ধ বধির যত                      গোরা-গুণে উনমত
দিগ বিদিগ নাহি জানে।
. . . এখানে একটি কলি নেই . . .
বাহু তুলি হরি বোলে              পতিত লইয়া কোলে
গোরা-প্রেমে জগজন ভাসে।
উত্তম অধম যত                    তারা হৈল ভাগবত
বঞ্চিত বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলী॥

গৌরসুন্দর পহু                         নদীয়া উদয় করি
ভুবন ভরিয়া প্রেম-দান।
পামর পাষণ্ড আদি                  দীন হীন ক্ষীণ জাতি
উদ্ধারিল দিয়া হরি-নাম॥
ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ শুনিতে পরাণ কান্দে।
অগেয়ান যত জন                    দেখিয়া অথির মন
হরিবোল বলি মন বান্ধে॥
গদাধর দেখি  কান্দে                 মন থির নাহি বান্ধে
করে ধরি স্বরূপ রামানন্দে।
পহু মোর শ্রীপাদ বলি                  লোটায় ধরণী-ধূলী
কোলে করি কান্দে নিত্যানন্দে॥
অন্ধ বধির যত                       গোরা-গুণে উনমত
দিগ বিদিগ নাহি জানে।
ভাব-ভরে গরগর                     না চিনে আপন পর
নিস্তার করয়ে জনে জনে॥
বাহু তুলি হরি বোলে                পতিত লইয়া কোলে
গোরা-প্রেমে জগ-জন ভাসে।
উত্তম অধম যত                      তারা হৈল ভাগবত
বঞ্চিত বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৪৫-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ
দাসের পদরসসার পুথির ২৩৫০ সংখ্যক পদ।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু কান্দে উচ্চ স্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ন-কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহু মাগে পদ-ধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভাইয়া ভাইয়া বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ-মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কান্দে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সভে আনন্দিত।
বলরাম দাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগবিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহুঁ কান্দে উচ্চস্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ান কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহুঁ মাগে পদধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভায়্যা ভায়্যা বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কান্দে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরামদাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে পতিত পামর॥
শ্রীদাম বলিয়া পহু কান্দে উচ্চ স্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ন-কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহু মাগে পদ-ধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভায়া ভায়া বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল-বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কান্দে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরামদাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ৩২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই গ্রন্থে ২ বার দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কাঁদে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহুঁ ডাকে উচ্চস্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ান কমলে॥
কাঁদিয়া কাঁদিয়া পহুঁ মাগে পদধূলি।
ভূমে গড়ি কাঁদে নিতাই ভায়্যা ভায়্যা বলি॥
প্রিয় গদাধর কাঁদে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গমুখ থির নাহি বাঁধে॥
কাঁদে বাসু শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বালবৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কাঁদে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরাম দাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ১৮৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই গ্রন্থে ২ বার দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিক্ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কাঁদে পতিত পামর॥
শ্রীদাম বলিয়া পহুঁ মাগে পদধূলি।
ভূমে পড়িয়া কাঁদে নিতাই ভাই বলি॥
প্রিয় গদাধর কাঁদে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গমুখ থির নাহি বাঁধে॥
কাঁদে বাসু শ্রীনিবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কাঁদে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরাম দাস মাত্র এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস।
॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কাঁন্দে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু কান্দে উচ্চ স্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ন-কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহু মাগে পদধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভাইয়া ভাইয়া বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ-মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কাঁদে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সবে আনন্দিত।
বলরাম দাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আপনার গুণ শুনি আপনা পাসরে।
অরুণ অম্বর খসে তাহা না সম্বরে॥
নাহি দিগ বিদিগ নাহি নিজ পর।
ধরিয়া ধরিয়া কান্দে পতিত পামর॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু কান্দে উচ্চ স্বরে।
কত শত ধারা বহে নয়ন-কমলে॥
কান্দিয়া কান্দিয়া পহু মাগে পদ-ধূলি।
ভূমে পড়ি কান্দে নিতাই ভাইয়া ভাইয়া বলি॥
প্রিয় গদাধর কান্দে রায় রামানন্দে।
দেখিয়া গৌরাঙ্গ-মুখ থির নাহি বান্ধে॥
কান্দে বাসু শ্রীবাস মুকুন্দ মুরারি।
আনন্দে চলয়ে যত বাল বৃদ্ধ নারী॥
হেন অবতার ভাই কোথাও না দেখি।
ভুবন মগন সুখে কান্দে পশু পাখী॥
অন্ধ বধির জড় সভে আনন্দিত।
বলরাম দাস সবে এ রসে বঞ্চিত॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বরণ আশ্রম কিঞ্চন অকিঞ্চন
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ পল্লব,
শ্রীগৌরচন্দ্র প্রকারান্তর, ২২১২-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩২০ সংখ্যক পদ


॥ সুহই॥

বরণ-আশ্রম                        কিঞ্চন-অকিঞ্চন
কার কোন দোষ নাহি মনে।
শিব-বিরিঞ্চির                   অগোচর প্রেম-ধন
যাচিয়া বিলায় জগ-জনে॥
করুণার সাগর                       গৌর-অবতার
নিছনি লইয়া মরি।
কে জানে কিবা গুণ                কিবা সে মাধুরী
প্রাণ কান্দে পাসরিতে নারি॥
পামর পাষণ্ড আদি            দীন হীন খীণ জাতি
গুণ শুনি কান্দে জগ-জন।
অগেয়ান পশু পাখী       তারা কান্দে ঝরে আঁখি
কি দিয়া বান্ধিল সভার মন॥
রাজা ছাড়ে রাজ্য-ভোগ   যোগী ছাড়ে ধ্যান যোগ
জ্ঞানী কান্দে ছাড়ি জ্ঞান-রস।
কেবা বলরাম-হিয়া              গঢ়িল পাষাণ দিয়া
হেন রস না কৈল পরশ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ )  রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বরণ আশ্রম,                             কিঞ্চন অকিঞ্চন,
কারো কোন দোষ নাহি মানে।
শিব বিরিঞ্চির,                           অগোচর প্রেমধন,
যাচিয়া বিলায় জগ জনে॥
করুণার সাগর,                              গৌর অবতার,
নিছনি লইয়া মরি।
কে জানে কিবা গুণ,                       কিবা সে মাধুরী,
প্রাণ কান্দে পাসরিতে নারি॥
পামর পাষণ্ড আদি,                    দীন হীন খল জাতি,
গুণ শুনি কান্দে জগজন।
অগেয়ান পশু পাখী,              তারা কান্দে ঝরে আঁখি,
কি দিয়া বান্ধিল সভার মন॥
রাজা ছাড়ে রাজ্যভোগ,            যোগী ছাড়ে ধ্যান যোগ,
জ্ঞানী কান্দে ছাড়ি জ্ঞানরস।
কেবল বলরামের হিয়া,                গড়িল পাষাণ দিয়া,
হেন রস না কৈল পরশ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বরণ আশ্রম, কিঞ্চন অকিঞ্চন, কার কোন দোষ নাহি মানে।
শিব-বিরিঞ্চির-অগোচর প্রেমধন, যাচিয়া বিলায় জগজনে॥
করুণার সাগর, গৌর অবতার, নিছনি লইয়া মরি।
কে জানে কিবা, সে মাধুরী প্রাণ, কান্দে পাসরিতে নারি॥
পামর পাষণ্ড আদি, দীন হীন খল জাতি, গুণ শুনি কান্দে জগজন।
অগেয়ান পশু পাখী, তারা কান্দে ঝরে আঁখি, কি দিয়া বান্ধিল সবার মন॥
রাজা ছাড়ে রাজ্য-ভোগ, যোগী ছাড়ে ধ্যান যোগ, জ্ঞানী কান্দে ছাড়ি জ্ঞান-রস।
কিবা বলরাম হিয়া, গড়িলা পাষাণ দিয়া, হেন রস না কৈল পরশ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বরণ আশ্রম                          কিঞ্চন অকিঞ্চন
কার কোন দোষ নাহি মনে।
শিব বিরিঞ্চি                         অগোচর প্রেমধন
যাচিঞা বিলায় জগজনে॥
করুণার সাগর                          গৌর অবতার
নিছনি লইয়া মরি।
কে জানে কিবা                        সে মাধুরী, প্রাণ
কাঁদে পাসরিতে নারি॥
পামর পাষণ্ড আদি                দীন হীন খল জাতি
গুণ শুনি কাঁদে জগজ্জন।
অগেয়ান পশু পাখী           তারা কাঁদে ঝরে আঁখি
কি দিয়া বাঁধিল সবার মন॥
রাজা ছাড়ে রাজ্যভোগ        যোগী ছাড়ে ধ্যান যোগ
জ্ঞানী কাঁদে ছাড়ি জ্ঞানরসে।
কেবা বলরাম হিয়া              গড়িলা পাষাণ দিয়া
হেন রস না কৈল পরশে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বরণ আশ্রম                          কিঞ্চিন অকিঞ্চন
কার কোন দোষ নাহি মানে।
শিব আদি বিরিঞ্চির                অগোচর প্রেমধন
যাচিয়া বিলায় জগজনে॥
করুণার সাগর মোর               সব অবতার সার
দয়ার নিছনি লইয়া মরি।
কেবা জানে কিবা গুণ          কিবা সে মাধুরী তার
প্রাণ কান্দে পাসরিতে নারি॥
পামর পাষণ্ড আদি                দীন হীন খীণ জাতি
গুণ শুনি কান্দে জগজন।
অগেয়ান পশু পাখী          তারা কাঁদে ঝরে আঁখি
কি দিয়া বান্ধিল সভার মন॥
রাজা ছাড়ে রাজ্যভোগ       যোগী ছাড়ে ধ্যান যোগ
জ্ঞানী কান্দে ছাড়ি জ্ঞানরস।
কেবা বলরাম হিয়া              গঢ়িল পাষাণ দিয়া
হেন রস না কৈল পরশ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বরণ-আশ্রম                          কিঞ্চন অকিঞ্চন
কার কোন দোষ নাহি মনে।
শিব-বিরিঞ্চিকর                   অগোচর প্রেম-ধন
যাচিয়া বিলায় জগ-জনে॥
করুণার সাগর                         গৌর-অবতার
নিছনি লইয়া মরি।
কে জানে কিবা গুণ                 কিবা সে মাধুরী
প্রাণ কান্দে পাসরিতে নারি॥
পামর পাষণ্ড আদি                দীন হীন খীণ জাতি
গুণ শুনি কান্দে জগ-জন।
অগেয়ান পশু পাখী          তারা কান্দে ঝরে আঁখি
কি দিয়া বান্ধিল সভার মন॥
রাজা ছাড়ে রাজ্য-ভোগ       যোগী ছাড়ে ধ্যান যোগ
জ্ঞানী কান্দে ছাড়ি জ্ঞান-রস।
কেবা বলরাম-হিয়া                গঢ়িল পাষাণ দিয়া
হেন রস না কৈল পরশ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি এ বড় বিস্ময় লাগে মনে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৫১-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৫৬
সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

হরি হরি এ বড় বিস্ময় লাগে মনে।
জিনি নব জলধর                    পূর্ব্বে যার কলেবর
সে এবে গৌরাঙ্গ ভেল কেনে॥ ধ্রু॥
শিখি-পুচ্ছ গুঞ্জা-বেড়া               মনোহর যার চূড়া
সে মস্তকে কেশ-শূন্য দেখি।
যার বাঁকা চাহনিতে              মোহে রাধিকার চিতে
এবে প্রেমে ছলছল আঁখি॥
সদা গোপ গোপী সঙ্গে                 বিলসয়ে রস-রঙ্গে
এবে নারী-নাম না শুনয়ে।
ভুজযুগে বংশী ধরি                  আকর্ষয়ে ব্রজ-নারী
সেই ভুজে দণ্ড কেনে লয়ে॥
পিয়ল পাটের ধটি                শোভা করে যার কটি
তাহে কেনে অরুণ বসন।
না পায়্যা ভাবের ওর                বলরাম দাস ভোর
বিষাদ ভাবয়ে মনে মন॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

হরি হরি এ বড় বিস্ময় লাগে মনে।
জিনি নব জলধর,                 পূর্ব্বে যার কলেবর,
এবে সে গৌরাঙ্গ ভেল কেনে॥ ধ্রু॥
শিখিপুচ্ছ গুঞ্জা বেঢ়া,               মনোহর যার চূড়া,
সে মস্তকে কেশ শূন্য দেখি।
যার বাঁকা চাহনিতে,             মোহে রাধিকার চিতে,
এবে প্রেমে ছল ছল আঁখি॥
সদা গোপ গোপীসঙ্গে,                বিলসয়ে রস রঙ্গে,
এবে নারী নাম না শুনয়ে।
ভুজযুগে বংশী ধরি,                আকর্ষয়ে ব্রজনারী,
সেই ভুজে দণ্ড কেনে লয়ে॥
পিয়ল পাটের ধটি,              শোভা করে যার কটি,
তাহে কেনে অরুণ বসন।
না পাইয়া ভাবের ওর,                বলরামদাস ভোর,
বিষাদ ভাবয়ে মনে মন॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

হরি হরি এ বড় বিস্ময় লাগে মনে।
জিনি নব জলধর, পূর্ব্বে যার কলেবর, সে এবে গৌরাঙ্গ ভেল কেনে॥
শিখিপুচ্ছ গুঞ্জা বেড়া, মনোহর যার চূড়া, সে মস্তকে কেশ-শূন্য দেখি।
যার বাঁকা চাহনিতে, মোহে রাধিকার চিতে, এবে প্রেমে ছল ছল আঁখি॥
সদা গোপ গোপীসঙ্গে, বিলসয়ে রস রঙ্গে, এবে নারীনাম না শুনয়ে।
ভুজযুগে বংশী-ধারী, আকর্ষয়ে ব্রজনারী, সেই ভুজে দণ্ড কেনে লয়ে॥
পিঁয়ল পাটের ধূতি, শোভা করে যার কটি, তাহে কেনে অরুণ বসন।
না পাইয়া ভাবের ওর, বলরামদাস ভোর, বিষাদ ভাবয়ে মনে মনে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

হরি হরি এ বড় বিস্ময় লাগে মনে।
জিনি নব জলধর                    পূর্ব্বে যার কলেবর
সে এবে গৌরাঙ্গ ভেল কেনে॥
শিখি-পুচ্ছ গুঞ্জা-বেড়া                 মনোহর যার চূড়া
সে মস্তকে কেশ-শূন্য দেখি।
যার বাঁকা চাহনিতে              মোহে রাধিকার চিতে
এবে প্রেমে ছলছল আঁখি॥
সদা গোপ গোপী সঙ্গে                বিলসয়ে রস-রঙ্গে
এবে নারী-নাম না শুনয়ে।
ভুজযুগে বংশী ধরি                 আকর্ষয়ে ব্রজ-নারী
সেই ভুজে দণ্ড কেনে লয়ে॥
পিয়ল পাটের ধটি                শোভা করে যার কটি
তাহে কেনে অরুণ বসন।
না পায়্যা ভাবের ওর                বলরাম দাস ভোর
বিষাদ ভাবয়ে মনে মন॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রূপ-কোটি কাম জিনি বিদগধ শিরোমণি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৫২-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৫৭
সংখ্যক পদ।

॥ সিন্ধুড়া॥

রূপ কোটি কাম জিনি                  বিদগধ-শিরোমণি
গোলোকে বিহরে কুতূহলে।
ব্রজ-রাজ-নন্দন                         গোপিকার প্রাণ-ধন
কি লাগি লোটায় ভুমি-তলে॥
হরি হরি কি শেল রহিল মোর বুকে।
কি লাগি রসিক-রাজ                কান্দে সংকীর্ত্তন মাঝ
না বুঝিয়া মলুঁ মন-দুখে॥ ধ্রু॥
সঙ্গে বিলসই যার                     রাধা চন্দ্রাবলী আর
কত শত বরজ-কিশোরী।
এবে পহু বুকে বুক                    না দেখে নারীর মুখ
কি লাগি সন্ন্যাসী দণ্ড-ধারী॥
ছাড়ি নাগরালি-বেশ                    ভ্রমে পহু দেশ দেশ
পতিত চাহিয়া ঘরে ঘরে।
চিন্তামণি নিজ-গুণে                    উদ্ধারিলা জগ-জনে
বলরাম দাস রহু দূরে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

রূপ-কোটি কাম জিনি,               বিদগধ শিরোমণি,
গোলোকে বিহরে কুতূহলে।
ব্রজরাজ নন্দন,                       গোপিকার প্রাণধন,
কি লাগি লোটায় ভূমিতলে॥
হরি হরি কি শেল রহল মোর বুকে।
কি লাগি রসিকরাজ,                কান্দে সঙ্কীর্ত্তন মাঝ,
না বুঝিয়া মনু মনোদুখে॥
সঙ্গে বিলসই যার,                  রাধা চন্দ্রাবলী আর,
কত শত বরজ কিশোরী।
এবে পহুঁ বুকে বুক,                  না দেখে নারীর মুখ
কি লাগি সন্ন্যাসী দণ্ডধারী॥
ছাড়ি নাগরালি বেশ,                ভ্রমে পহুঁ দেশে দেশ,
পতিত চাহিয়া ঘরে ঘরে।
চিন্তামণি নিজগুণে,                  উদ্ধারিলা জগজনে,
বলরামদাস বহু দূরে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

রূপ কোটি কাম জিনি, বিদগধ শিরোমণি, গোলোকে বিহরে কুতূহলে।
ব্রজরাজ নন্দন, গোপিকার প্রাণ-ধন, কি লাগি লোটায় ভূমিতলে॥
হরি হরি কি শেল রহিল মোর বুকে।
কি লাগি রসিক-রাজ, কান্দে সঙ্কীর্ত্তন মাঝ, না বুঝিয়া মনু মনদুখে॥
সঙ্গে বিলসই যার, রাধা চন্দ্রাবলী আর, কত শত বরজ কিশোরী।
এবে পহু বুকে বুক, না দেখে নারীর মুখ, কি লাগি সন্ন্যাসী দণ্ডধারী॥
ছাড়ি নাগরালি বেশ, ভ্রমে পহু দেশে দেশ, পতিত চাহিয়া ঘরে ঘরে।
চিন্তামণি নিজ গুণে, উদ্ধারিলা জগজনে, বলরামদাস বহু দূরে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস।
॥ সিন্ধুড়া॥

রূপ কোটি কাম জিনি                বিদগধ-শিরোমণি
গোলোকে বিহরে কুতূহলে।
ব্রজ-রাজ-নন্দন                      গোপিকার প্রাণ-ধন
কি লাগি লোটায় ভূমি-তলে॥
হরি হরি কি শেল রহল মোর বুকে।
কি লাগি রসিকরাজ              কান্দে সংকীর্ত্তন মাঝ
না বুঝিয়া মলুঁ মনো-দুখে॥
সঙ্গে বিলসই যার                  রাধা চন্দ্রাবলী আর
কত শত বরজ-কিশোরী।
এবে পহু কোন সুখে               না দেখে নারীর মুখে
কি লাগি সন্ন্যাসী দণ্ডধারী॥
ছাড়ি নাগরালি-বেশ                ভ্রমে পহু দেশে দেশ
পতিত চাহিয়া ঘরে ঘরে।
চিন্তামণি নিজ-গুণে                  উদ্ধারিলা জগ-জনে
বলরাম দাস রহু দূরে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

রূপ কোটি কাম জিনি                   বিদগধ-শিরোমণি
গোলোকে বিহরে কুতূহলে।
ব্রজ-রাজ-নন্দন                         গোপিকার প্রাণ-ধন
কি লাগি লোটায় ভুমি-তলে॥
হরি হরি কি শেল রহিল মোর বুকে।
কি লাগি রসিক-রাজ                কান্দে সংকীর্ত্তন মাঝ
না বুঝিয়া মলুঁ মন-দুখে॥
সঙ্গে বিলসই যার                     রাধা চন্দ্রাবলী আর
কত শত বরজ-কিশোরী।
এবে পহু বুকে বুক                    না দেখে নারীর মুখ
কি লাগি সন্ন্যাসী দণ্ড-ধারী॥
ছাড়ি নাগরালি-বেশ                   ভ্রমে পহু দেশ দেশ
পতিত চাহিয়া ঘরে ঘরে।
চিন্তামণি নিজ-গুণে                    উদ্ধারিলা জগ-জনে
বলরাম দাস রহু দূরে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাগরীমোহন ফাঁদ কপালে চন্দন চাঁদ
কপালে চন্দন চান্দ নাগরীমোহন ফান্দ
ভণিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩
খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১০৬-পৃষ্ঠা।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ পুনঃ কামোদ॥
নাগরীমোহন ফাঁদ          কপালে চন্দন চাঁদ          আধ টালিয়া চূড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূর পাখে          লোক ভয় নাই রাখে      মোপুন ঠেকিল ওনা ফাঁন্দে॥
সই কি আর কি আর বোলো মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া          ওরূপ নিছনি লৈয়া          পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥ ধ্রু॥
নয়ানকোণের বাণে          হিয়ার ভিতরে হানে          কিবা দুই ভুরুর চালনি।
দেখিয়া ও মুখছান্দ          কান্দে পূণিমক চান্দ          লাজ ঘরে ভেজাল্যে আগুণি॥
আই আই মৈলু মৈলু          কি রূপ দেখিয়া আইলু          কালা অঙ্গে পড়িছে বিজুরি।
স্বরূপে দড়ালু মনে          এ নব যৌবন ধনে          আপুনি সাজায়া দিব ডালি॥
না জানি কি কৈলে মোরে          কি খেণে দেখিনু তারে          এ আটপ্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাসে বোলে          ও না রূপ নিরখিলে          কোন্ বা পামরী রহে ঘরে॥

ই পদটি রাধামোহন ঠাকুর দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ
বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত পদামৃত সমুদ্র সংকলনের প্রথম মুদ্রিত সংস্করণে ১২৮৫ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ),
৭৮-পৃষ্ঠা।

॥ কামোদ রাগোত্সাহ তালৌ॥

কপালে চন্দন চান্দ নাগরী মোহন ফান্দ আধ টানিয়া চূড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে জাতি কুল নাহি রাখে মোঁ পুনি ঠেকিলুঁ ওনা ফান্দে॥
সোই কিআর কিআর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া ওরূপ নিছনি লইয়া পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ওমুখ ছান্দ কান্দে পুণমিক চান্দ লাজ ঘরে ভেজিয়া আগুণি।
নয়ান কোণের বাণে হিয়ার মাঝারে হানে কিবা দুটী ভুরুর নাচনি॥
আই আই মলুঁ মলুঁ কি রূপ দেখিয়া আলু কালা অঙ্গে পড়িছে বিজুরি।
স্বরূপে দঢ়াইলুঁ মনে এরূপ যৌবন সনে আপনা সাজায়া দিব ডালি॥
কি খেনে দেখিলুঁ তারে নাজানি কি কৈল মোরে আঠ প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাস কয় ওরূপ দেখিয়া তায় কোন বা পামরী রহে ঘরে॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী” , ৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কপালে চন্দন চান্দ,                নাগরীমোহন ফান্দ
আধ টানিয়া চূড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে,          জাতি কুল নাহি রাখে
মো পুনি ঠেকিলুঁ ওনা ফান্দে॥
সই কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুলশীল দিয়া,                ওরূপ নিছনি নিয়া
পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥ ধ্রু
দেখিয়া ও মুখছাঁন্দ,                 কাঁদে পুণমিক চান্দ
লাজ ঘরে ভেজাঞা আগুণি।
নয়ান কোণের বাণে,               হিয়ার মাঝারে হানে
কিবা দুটি ভুরুর নাচনি॥
আই আই মনু মনু,                কিরূপ দেখিয়া আনু
কালা অঙ্গে পড়িছে বিজলি।
স্বরূপে দঢ়াইনু মনে,                এ রূপ যৌবন সনে
আপনা সাজাঞা দিব ডালি॥
কিখেনে দেখিনু তারে         না জানি কি কৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাস কহে,                  ও রূপ দেখিয়া গো
কোন বা পামরী রবে ঘরে॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে রয়েছে।

নটনারায়ণ

কপালে চন্দন চাঁদ, কামিনীমোহন ফাঁদ, আধ টানিয়া চূড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূর পাখে, লোক ভয় নাই রাখে, মো পুনি ঠেকিনু ওনা ফান্দে॥
কি আর বোলসি সখি মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া, শ্যামের নিছনি লইয়া, পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥
নয়নসন্ধান-বাণে, মরম বিন্ধিয়া হানে, কিবা দুটী ভুরুর নাচনি।
দেখিলাম মুখ চাঁদে, কান্দে পূর্ণিমার চাঁদে, লাজ ঘরে দিয়াছি আগুণি॥
আই আই মলেম মলেম, কি রূপ দেখিয়া আইলেম, অষ্ট প্রহর প্রাণ কান্দে।
বলরাম দাসে বলে, ওরূপ দেখিয়া কোন্ যুবতী প্রাণ বান্ধে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কপালে চন্দন চাঁদ                     নাগরীমোহন ফান্দ
আধ টানিয়া চূড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে,             জাতি কুল নাহি রাখে
মো পুনি ঠেকিনু ও না ফান্দে॥
সই, কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুলশীল দিয়া                   ওরূপ নিছনি লৈয়া
পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥
দেখিয়া ও মুখ ছান্দ                 কান্দে পুনমিক চান্দ
লাজঘরে ভেজিয়া আগুণি।
নয়ান কোণের বাণে                হিয়ার মাঝারে হানে
কিবা দুটি ভুরুর নাচনি॥
আই আই মলুঁ মলুঁ,                কিরূপ দেখিয়া আইলুঁ
কালা অঙ্গে পড়িছে বিজুরি।
সে রূপ দঢ়াইলু মনে                  এ রূপ যৌবন সনে
আপনা সাজাইঞা দিলুঁ ডালি॥
কি খনে দেখিলুঁ তারে           না জানি কি কৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাসে কয়                ও রূপ দেখিয়া কোন বা
পামরী রবে ঘরে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি গোরা কেনে কান্দে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৫৪-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ
দাসের পদরসসার পুথির ২৩৫৯ সংখ্যক পদ।

॥ সুহই॥

হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।
না জানি ঠেকিলা গোরা কার প্রেম-ফান্দে॥
তেজিয়া কালিন্দী-তীর কদম্ব-বিলাস।
এবে সিন্ধু-তীরে কেনে কিবা অভিলাষ॥
যে করিল শত কোটি গোপী সঙ্গে রাস।
এবে সে কান্দয়ে কেনে করিয়া সন্ন্যাস॥
যে আঁখি-ভঙ্গীতে কত অনঙ্গ মুরছে।
এবে কত শত ধারা বাহিয়া পড়িছে॥
যে মোহন চূড়া-ছাঁদে জগত মোহিত।
সে মস্তকে কেশ-শূন্য অতি বিপরীত॥
পীত বাস ছাড়ি কেনে অরুণ বসন।
কালরূপ ছাড়ি কেনে গৌর বরণ॥
কহে বলরাম দাসে না জানি কারণ।
তাহার কারণ কিবা যাহার বরণ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীগৌরচন্দ্র, ৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই॥

হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।
না জানি ঠেকিলা গোরা কার প্রেম ফান্দে॥
তেজিয়া কালিন্দী তীর কদম্ব বিলাস।
এবে সিন্ধুতীরে কেনে কিবা অভিলাষ॥
যে করিল শত কোটি গোপীসঙ্গে রাস।
এবে সে কান্দয়ে কেনে করিয়া সন্ন্যাস॥
যে আঁখি ভঙ্গীতে কত অনঙ্গ মুরুছে।
এবে কত জলধারা বাহিয়া পড়িছে॥
যে মোহন চূড়া ছান্দে জগত মোহিত।
সে মস্তক কেশ শূন্য অতি বিপরীত॥
পীতবাস ছাড়ি কেন অরুণ বসন।
কালারূপ ছাড়ি কেনে গৌরবরণ॥
কহে বলরামদাস না জানি কারণ।
তাহার কারণ কিবা যাহার বরণ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।
না জানি ঠেকিলা কার প্রেমফান্দে॥
তেজিয়া কালিন্দী তীর কদম্ব-বিলাস।
এবে সিন্ধুতীরে কেনে কিবা অভিলাষ॥
যে করিল শত কোটি গোপী সঙ্গে রাস।
এবে সে কান্দয়ে কেনে করিয়া সন্ন্যাস॥
যে আঁখি ভঙ্গীতে কত অনঙ্গ মুরুছে।
এবে কত জলধারা বাহিয়া পড়িছে॥
যে মোহন চূড়া-ফাঁদে জগত মোহিত।
সে মস্তক কেশ-শূন্য অতি বিপরীত॥
পীতবাস ছাড়ি কেন অরুণ বসন।
কালারূপ ছাড়ি কেনে গৌর বরণ॥
কহে বলরামদাস না জানি কারণ।
তাহার কারণ কিবা যাহার বরণ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ১৮৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হরি হরি গোরা কেন কাঁদে।
না জানি ঠেকিলা পহুঁ কার প্রেমফাঁদে॥
তেজিয়া কালিন্দীতীর কদম্ববিলাস।
এবে সিন্ধুতীরে কেনে কিবা অভিলাষ॥
যে করিল শতকোটি গোপী সঙ্গে রাস।
এবে সে কাঁদয়ে কেনে করিয়া সন্ন্যাস॥
যে আঁখিভঙ্গীতে কত অনঙ্গ মূরছে।
এবে কত জলধারা বাহিয়া পড়িছে॥
যে মোহন চূড়াফাঁদে জগত মোহিত।
সে মস্তক কেশশূন্য অতি বিপরীত॥
পীতবাস ছাড়ি কেন অরুণ বসন।
কালা রূপ ছাড়ি কেনে গৌর বরণ॥
কহে বলরাম দাস না জানি কারণ।
তাহার কারণ কিবা যাহার বরণ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - দশকুশী॥

হরি হরি গোরা কেনে কাঁদে।
না জানি ঠেকিলা গোরা কার প্রেম ফাঁদে॥
তেজিয়া কালিন্দী-তীর কদম্ব-বিলাস।
এবে সিন্ধুতীরে কেনে কিবা অভিলাষ॥
যে করিল শত কোটি গোপী সঙ্গে রাস।
এবে সে কান্দয়ে কেনে করিয়া সন্ন্যাস॥
যে আঁখি-ভঙ্গীতে কত অনঙ্গ মুরছে।
এবে কত শত ধারা বাহিয়া পড়িছে॥
যে মোহন চূড়া ছাঁদে জগত মোহিত।
সে মস্তকে কেশ শূন্য অতি বিপরীত॥
পীত বাস ছাড়ি কেনে অরুণ বসন।
কালরূপ ছাড়ি কেনে গৌর বরণ॥
কহে বলরাম দাসে না জানি কারণ।
তাহার কারণ কিবা যাহার বরণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস।
॥ সুহই॥

হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।
না জানি ঠেকিলা গোরা কার প্রেমফান্দে॥
তেজিয়া কালিন্দীতীর কদম্ববিলাস।
এবে সিন্ধুতীরে কেনে কিবা অভিলাষ॥
যে করিল শত কোটি গোপী সঙ্গে রাস।
এবে সে কান্দয়ে কেনে করিয়া সন্ন্যাস॥
যে আঁখিভঙ্গীতে কত অনঙ্গ মুরছে।
এবে কত শত ধারা বাহিয়া পড়িছে॥
যে মোহন চূড়াছাঁদে জগত মোহিত।
সে মস্তকে কেশশূন্য অতি বিপরীত॥
পীত বাস ছাড়ি কেনে অরুণ বসন।
কালরূপ ছাড়ি কেনে গৌর বরণ॥
কহে বলরাম দাসে না জানি কারণ।
তাহার কারণ কিবা যাহার বরণ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হরি হরি গোরা কেনে কান্দে।
না জানি ঠেকিলা গোরা কার প্রেম-ফান্দে॥
তেজিয়া কালিন্দী-তীর কদম্ব-বিলাস।
এবে সিন্ধু-তীরে কেনে কিবা অভিলাষ॥
যে করিল শত কোটি গোপী সঙ্গে রাস।
এবে সে কান্দয়ে কেনে করিয়া সন্ন্যাস॥
যে আঁখি-ভঙ্গীতে কত অনঙ্গ মুরছে।
এবে কত শত ধারা বাহিয়া পড়িছে॥
যে মোহন চূড়া-ছাঁদে জগত মোহিত।
সে মস্তকে কেশ-শূন্য অতি বিপরীত॥
পীত বাস ছাড়ি কেনে অরুণ বসন।
কালরূপ ছাড়ি কেনে গৌর বরণ॥
কহে বলরাম দাসে না জানি কারণ।
তাহার কারণ কিবা যাহার বরণ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিষম হইল কালার প্রেম লাগে শেলি
বড়ই বিষম কালার প্রেম
বড় বিষম হৈল কালার প্রেম
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব,
আক্ষেপানুরাগ, ৯২৭ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৪০৮ সংখ্যক পদ।

॥ করুণ বরাড়ী॥

বিষম হইল কালার প্রেম লাগে শেলি।
ঝুড়িয়া ঝুড়িয়া কান্দে পরাণ-পুতলী॥ ধ্রু॥
যত যত পিরিতি করিয়াছে মোরে।
আঁখরে আঁখরে লেখা হিয়ার ভিতরে॥
হাসিয়া পাঁজরকাটা কইয়াছে কথাখানি।
সোঙরিতে চিতে উঠে আগুনের খনি॥
নিরবধি বুকে থুইয়া চায় চোখে চোখে।
এ বড় দারুণ শেল ফুটি রইল বুকে॥
হিয়ায় ধরিয়া কবে দেখিব মুখখানি।
বলরাম বলে হিয়ায় দারুণ আগুনি॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ বরাড়ি॥

বড়ই বিষম কালার প্রেম
.        এ ঘর বসতি শেলি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে পরাণ পুতলি॥
.        কাহারে কহিব মরম কথা।
কানু বিনে কে জানিবে মরম বেথা॥ ধ্রু
যত যত পিরীতি করিয়াছে মোরে।
আঁখরে আঁখরে লেখা হিয়ার ভিতরে॥
হাসিয়া পাঁজরকাটা কহিয়াছে কথা খানি।
সোঙরিতে চিতে উঠে আগুনের খনি॥
নিরবধি বুকে থুইয়া চাহিলে চক্ষে ছক্ষে।
এ বড় দারুণ শেল ফুটি রৈল বুকে॥
হিয়ায় করিয়া,                নয়ান ভরিয়া
.        কবে সে দেখিব মুখখানি।
বলরাম দাসে বলে        হিয়ার ভিতরে জ্বলে
.        দারুণ শেল আগুনি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ বরাড়ী॥

বড় বিষম হৈল কালার প্রেম এ ঘর বসতি লাগে শেলি।
ঝুড়িয়া ঝুড়িয়া কান্দে পরাণ-পুতলী॥
যত যত পিরীতি করিয়াছে মোরে। আঁখরে আঁখরে লেখা হিয়ার ভিতরে॥
হাসিয়া পাঁজরকাটা কইয়াছে কথা খানি। সোঙরিতে চিতে উঠে আগুনের খনি॥
নিরবধি বুকে থুইয়া চাহিলে চোখে চোখে। এ বড় দারুণ শেল ফুটি রৈল বুকে॥
হিয়ায় ধরিয়া, নয়ান ভরিয়া, কবে দেখিব মুখ খানি।
বলরাম দাসে বলে, হিয়ার ভিতরে জ্বলে, দারুণ শেল আগুনি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ বরাড়ী॥

বড় বিষম হইল কালার প্রেম
এ ঘর বসতি লাগে শেলি।
ঝুড়িয়া ঝুড়িয়া কান্দে পরাণ-পুতলী॥
যত যত পিরীতি করিয়াছে মোরে।
আঁখরে আঁখরে লেখা হিয়ার ভিতরে॥
হাসিয়া পাঁজরকাটা কইয়াছে কথা খানি।
সোঙরিতে চিত উঠে আগুনের খনি॥
নিরবধি বুকে থুইয়া চাহিলে চোখে চোখে।
এ বড় দারুণ শেল ফুটি রৈল বুকে॥
হিয়ায় ধরিয়া,                                নয়ান ভরিয়া,
কবে দেখিব মুখ খানি।
বলরাম দাসে বলে,                   হিয়ার ভিতরে জ্বলে,
দারুণ শেল আগুনি॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ বরাড়ী॥

বড় বিষম হইল কালার প্রেম
এ ঘর বসতি লাগে শেলি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে পরাণ-পুতলী॥
যত যত পিরীতি করিয়াছে মোরে।
আঁখরে আঁখরে লেখা হিয়ার ভিতরে॥
হাসিয়া পাঁজরকাটা কহিয়াছে কথাখানি
সোঙরিতে চিত উঠে আগুনের খনি॥
নিরবধি বুকে থুইয়া চাহিলে চোখে চোখে
এ বড় দারুণ শেল ফুটি রৈল বুকে॥
হিয়ায় ধরিয়া,                        নয়ান ভরিয়া,
কবে সে দেখব মুখখানি।
বলরাম দাসে বলে,        হিয়ার ভিতরে জ্বলে,
দারুণ শেল আগুনি॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৮০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ করুণ বরাড়ী॥

বিষম হইল কালার প্রেম লাগে শেলি।
ঝুড়িয়া ঝুড়িয়া কান্দে পরাণ-পুতলী॥
যত যত পিরিতি করিয়াছে মোরে।
আঁখরে আঁখরে লেখা হিয়ার ভিতরে॥
হাসিয়া পাঁজর কাটা কইয়াছে কথা খানি।
সোঙারিতে চিতে উঠে আগুনের খনি॥
নিরবধি বুকে থুইয়া চায় চোখে চোখে।
এ বড় দারুণ শেল ফুটি রইল বুকে॥
হিয়ায় ধরিয়া কবে দেখিব মুখখানি।
বলরাম বলে হিয়ায় দারুণ আগুনি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যত যত অবতার সার
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ২২শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩৪৬-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২৪৫০ সংখ্যক পদ।

॥ ভাটিয়ারী॥

যত যত অবতার সার।
ঘুষিতে রহিল আমার গোরা অবতার॥ ধ্রু॥
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ কৃষ্ণ-প্রেম নাম-ধন।
আচণ্ডালে দিয়া পহু ভরিলা ভুবন॥
ম্লেচ্ছ পাষণ্ড আদি প্রেমের বন্যায়।
ডুবিয়া সকল লোক হাসে নাচে গায়॥
পশু পক্ষী ব্যাঘ্র মৃগী জলচরগণে।
হাসে কান্দে নাচে গায় করয়ে কীর্ত্তনে॥
স্বর্গ মর্ত্ত্য পাতাল ডুবিয়া গেল প্রেমে।
বঞ্চিত হইল একা দাস বলরামে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

যত যত অবতার সার।
ঘুষিতে রহিল আমার গোরা অবতার॥
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ কৃষ্ণ প্রেম নাম ধন।
আচণ্ডালে দিয়া পহুঁ ভরিলা ভুবন॥
ম্লেচ্ছ পাষণ্ড আদি প্রেমের বন্যায়।
ডুবিয়া সকল লোক হাসে নাচে গায়॥
পশু পক্ষ ব্যাঘ্র মৃগী জলচরগণে।
হাসে কান্দে নাচে গায় করয়ে কীর্ত্তনে॥
স্বর্গ মর্ত্ত্য পাতাল ডুবিয়া গেল প্রেমে।
বঞ্চিত হইল একা দাস বলরামে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

যত যত অবতার সার।
ঘুষিতে রহিল আমার গোরা অবতার॥ ধ্রু॥
ব্রহ্মার দুর্লভ কৃষ্ণপ্রেম নাম ধন।
আচণ্ডালে দিয়া প্রভু ভরিলা ভুবন॥
ম্লেচ্ছ পাষণ্ড আদি প্রেমের বন্যায়।
ডুবিয়া সকল লোক নাচে গান গায়॥
পশু-পক্ষী ব্যাঘ্র মৃগ জলচরগণে।
হাসে কাঁদে নাচে গায় করয়ে কীর্ত্তনে॥
স্বর্গ মর্ত্ত পাতাল ডুবিল সব গ্রামে।
বঞ্চিত হইল এক দাস বলরামে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

যত যত অবতার-সার।
ঘুষিতে রহিল আমার গোরা অবতার॥
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ কৃষ্ণপ্রেম নাম-ধন।
আচণ্ডালে দিয়া প্রভু ভরিল ভুবন॥
ম্লেচ্ছ পাষণ্ড আদি প্রেমের বন্যায়।
ডুবিল সকল লোক হাসে নাচে গায়॥
পশু পক্ষী ব্যাঘ্র মৃগ জলচরগণে।
হাসে কান্দে নাচে গায় করয়ে কীর্ত্তনে॥
স্বর্গ মর্ত্ত্য পাতাল ডুবিল গোরা-প্রেমে।
বঞ্চিত হইল এক দাস বলরামে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

যত যত অবতার-সার।
ঘুষিতে রহিল আমার গোরা অবতার॥
ব্রহ্মার দুর্ল্লভ কৃষ্ণ-প্রেম নাম-ধন।
আচণ্ডালে দিয়া পহু ভরিল ভুবন॥
ম্লেচ্ছ পাষণ্ড আদি প্রেমের বন্যায়।
ডুবিয়া সকল লোক হাসে নাচে গায়॥
পশু পক্ষী ব্যাঘ্র মৃগ জলচরগণে।
হাসে কান্দে নাচে গায় করয়ে কীর্ত্তনে॥
স্বর্গ মর্ত্ত্য পাতাল ডুবিল গোরা-প্রেমে।
বঞ্চিত হইল একা দাস বলরামে॥


.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর