কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
বড় অবতার ভাই বড় অবতার
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯৫৬-পৃষ্ঠা।

॥ পুনর্ধানশী॥

বড় অবতার ভাই বড় অবতার।
পতিতেরে বিলায়ল প্রেমের ভাণ্ডার॥
বড় অপরূপ যেন গোরাচাঁদের লীলা।
রাজা হৈয়া কাঁধে করে বৈষ্ণবের ঝোলা॥
হেন অবতারের উপমা দিতে নারি।
সংকীর্ত্তন-মাঝে নাচে কুলের বৌহারী॥
সব লোক ছাড়ে যারে অপরস বলি।
দেবগণ মাগে এবে তার পদধূলি॥
যবনে হ নাচে গায় লয় হরিনাম।
হেন অবতারে সে বঞ্চিত বলরাম॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩),
৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র প্রকারান্তর, ২২০৭-পদসংখ্যায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩১৫ ও কমলাকান্ত দাসের
পদরত্নাকর পুথির ৯|১৫ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

বড় অবতার ভাই বড় অবতার।
পতিতের বিলাওল প্রেমের ভাণ্ডার॥
বড় অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
রাজা হৈয়া কান্ধে করে বৈষ্ণবের দোলা॥
হেন অবতারের উপমা দিতে নারি।
সংকীর্ত্তন মাঝে নাচে কুলের বৌহারী॥
সর্ব্ব লোক ছাড়ে যারে অপরশ বলি।
দেবগণ মাগে এবে তার পদধূলি॥
যবনেহ নাচে গায় লয় হরিনাম।
হেন অবতারে সে বঞ্চিত বলরাম॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বড় অবতার ভাই বড় অবতার।
পতিতেরে বিলাওল প্রেমের ভাণ্ডার॥
বড় অপরূপ গোরাচান্দের লীলা।
রাজা হৈয়া কান্ধে করে বৈষ্ণবের দোলা॥
হেন অবতারের উপমা দিতে নারি।
সংকীর্ত্তন মাঝে নাচে কুলের বৌহারী॥
সর্ব্ব লোক ছাড়ে যারে অপরশ বলি।
দেবগণ মাগে এবে তার পদধূলি॥
যবনেহ নাচে গায় লয় হরিনাম।
হেন অবতারে সে বঞ্চিত বলরাম॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বড় অবতার ভাই বড় অবতার।
পতিতেরে বিলাওল প্রেমের ভাণ্ডার॥
বড় অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
রাজা হৈয়া কান্ধে করে বৈষ্ণবের দোলা॥
হেন অবতারের উপমা দিতে নারি।
সংকীর্ত্তন মাঝে নাচে কুলের বৌহারী॥
সর্ব্ব লোক ছাড়ে যারে অপরশ বলি।
দেবগণ মাগে এবে তার পদধূলি॥
যবনেহ নাচে গায় লয় হরিনাম।
হেন অবতারে সে বঞ্চিত বলরাম॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বড় অবতার ভাই বড় অবতার।
পতিতেরে বিলাওল প্রেমের ভাণ্ডার॥
বড় অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
রাজা হৈয়া কান্ধে করে বৈষ্ণবের দোলা॥
হেন অবতারের উপমা দিতে নারি।
সংকীর্ত্তনের মাঝে নাচে কুলের বৌহারী॥
সর্ব্বলোক ছাড়ে যারে অপরশ বলি।
দেবগণ মাগে আগে তার পদধূলি॥
যবনেহ নাচে গায় লয় হরিনাম।
হেন অবতারে সে বঞ্চিত বলরাম॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গের মহিমা।

বড় অবতার ভাই বড় অবতার।
পতিতের বিলায়ল প্রেমের ভাণ্ডার॥
বড় অপরূপ ভাই গৌরচাঁদের লীলা।
রাজা হৈয়া কান্ধে করে বৈষ্ণবের ঝোলা॥
হেন অবতারের রে বালাই বইয়া মরি।
সংকীর্ত্তনের মাঝে নাচে কূলের বউয়ারী॥
সর্ব্বলোক ছাড়ে যারে অপরশ বলি।
দেবগণ মাগে এবে তার পদধূলি॥
যবনেও নাচে গায় লয় হরিনাম।
হেন অবতারে সে বঞ্চিত বলরাম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বড় অবতার ভাই বড় অবতার।
পতিতেরে বিলাওল প্রেমের ভাণ্ডার॥
বড় অপরূপ ভাই গৌরচাঁদের লীলা।
রাজা হৈয়া কান্ধে করে বৈষ্ণবের দোলা॥
হেন অবতারের উপমা দিতে নারি।
সংকীর্ত্তন মাঝে নাচে কুলের বৌহারী॥
সর্ব্ব লোক ছাড়ে যারে অপরশ বলি।
দেবগণ মাগে এবে তার পদধূলি॥
যবনেহ নাচে গায় লয় হরিনাম।
হেন অবতারে সে বঞ্চিত বলরাম॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

বড় অবতার ভাই বড় অবতার।
পতিতের বিলাওল প্রেমের ভাণ্ডার॥
বড় অপরূপ গোরাচাঁদের লীলা।
রাজা হৈয়া কান্ধে করে বৈষ্ণবের দোলা॥
হেন অবতারের উপমা দিতে নারি।
সংকীর্ত্তন মাঝে নাচে কুলের বৌহারী॥
সর্ব্ব লোক ছাড়ে যারে অপরশ বলি।
দেবগণ মাগে এবে তার পদধূলি॥
যবনেহ নাচে গায় লয় হরিনাম।
হেন অবতারে সে বঞ্চিত বলরাম॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সব অবতার সার গোরা অবতার
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র প্রকারান্তর, ২২০১-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২৩০৯ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

সব-অবতার-সার গোরা অবতার।
এমন করুণা কভু না দেখিয়ে আর॥
দীন হীন অধম পতিত জনে জনে।
যাচিয়া যাচিয়া পহু দিলা প্রেম-ধনে॥
এমন দয়ার নিধি যেবা না ভজিল।
আপনার হাতে তুলি গরল খাইল॥
যে জন বঞ্চিত হৈল হেন অবতারে।
কোটি কলপে তার নাহিক উধারে॥
মুঞি সে অধম হেন পহু না ভজিয়া।
কহে বলরাম এবে মরিলু পুড়িয়া॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সব অবতারের সার গোরা অবতার। এমন করুণাসিন্ধু না দেখিএ আর॥
দীন হীন অধম পতিত জনে জনে। জাচিয়ে জাচিয়ে পঁহু দিল প্রেমধনে॥
এমন দয়ার নিধি যেবা না ভজিল। আপনার হাতে তুলি গরল খাইল॥
যে জনা বঞ্চিত হৈল হেন অবতারে। কোটী কলপে তার নাহিক উদ্ধারে॥
মুই সে অধম হেন পঁহু না ভজিএ। কহে বলরাম এবে মরিল পুড়িএ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

সর্ব্ব অবতার সার গোরা অবতার।
এমন করুণা কভু না দেখিয়ে আর॥
দীন হীন অধম পতিত জনে জনে।
যাচিয়া যাচিয়া প্রভু দিলা প্রেমধনে॥
এমন দয়ার নিধি যেবা না ভজিল।
আপনার হাতে তুলি গরল খাইল॥
যে জন বঞ্চিত হৈল হেন অবতারে।
কোটি কলপে তার নাহিক উদ্ধারে॥
মুঞি সে অধম হেন প্রভু না ভজিয়া।
কহে বলরাম এবে মরিনু পুড়িয়া॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

সর্ব অবতার সার গোরা অবতার।
এমন করুণা কভু না দেখিয়ে আর॥
দীন হীন অধম পতিত জনে জনে।
যাচিয়া যাচিয়া প্রভু দিলা প্রেম ধনে॥
এমন দয়ার নিধি যেবা না ভজিল।
আপনার হাতে তুলি গরল খাইল॥
যে জন বঞ্চিত হৈল হেন অবতারে।
কোটি কলপে তার নাহিক উধারে॥
মুঞি সে অধম হেন প্রভু না ভজিয়া।
কহে বলরাম এবে মরিনু পুড়িয়া॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সব অবতার সার গোরা অবতার।
এমন করুণা কভু না দেখিয়ে আর॥
দীন হীন অধম পতিত জনে জনে।
যাচিঞা যাচিঞা প্রভু দিলা প্রেমধনে॥
এমন নয়াননিধি যেবা না ভজিল।
আপনার হাতে তুলি গরল খাইল॥
যে জন বঞ্চিত হৈল হেন অবতারে।
কোটি কলপে তার নাহিক উদ্ধারে॥
মুঞি সে অধম হেন প্রভু না ভজিয়া।
কহে বলরাম এবে মরিনু পুড়িয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সব অবতার সার গোরা অবতার।
এমন করুণা কভু না দেখিয়ে আর॥
দীন হীন অধম পতিত জনে জনে।
যাচিয়া যাচিয়া পহু দিলা প্রেম-ধনে॥
এমন দয়ার নিধি যেবা না ভজিল।
আপনার হাতে তুলি গরল খাইল॥
যে জন বঞ্চিত হৈল হেন অবতারে।
কোটি কলপে তার নাহিক উদ্ধারে॥
মুঞি সে অধম হেন পহু না ভজিয়া।
কহে বলরাম এবে মরিলু পুড়িয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সব-অবতার-সার গোরা অবতার।
এমন করুণা কভু না দেখিয়ে আর॥
দীন হীন অধম পতিত জনে জনে।
যাচিয়া যাচিয়া পহু দিলা প্রেম-ধনে॥
এমন দয়ার নিধি যেবা না ভজিল।
আপনার হাতে তুলি গরল খাইল॥
যে জন বঞ্চিত হৈল হেন অবতারে।
কোটি কলপে তার নাহিক উধারে॥
মুঞি সে অধম হেন পহু না ভজিয়া।
কহে বলরাম এবে মরিলু পুড়িয়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নবদ্বীপ গগনে উয়ল দিন রাতি
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র প্রকারান্তর, ২১৯৬-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২৩০৪ সংখ্যক পদ।

॥ কামোদ॥

নবদ্বীপ-গগনে উয়ল দিন রাতি।
ঘন-রসে সেচল থির-চর জাতি॥
দেখ দেখ গৌর জলদ-অবতার।
বরিখয়ে প্রেম-অমিয়া অনিবার॥ ধ্রু॥
তব ধরি জগ ভরি দুরদিন ডোর।
হরি-রসে ডগমগ জগ-জন ভোর॥
নাচত উনমত ভকত-ময়ূর।
অভকত-ভেক রোয়ত জলে বূর॥
ভকতি-লতা তিন ভুবনে বেয়াপ।
উত্তম অধম প্রেম-ফল পাব॥
কীর্ত্তন-কুলিশে যোগ-বন জারি।
জ্ঞান সেও-ঘন-গরজে বিদারি॥
চিত-বিল-নিকষিল করম-ভুজঙ্গ।
নিরসল কলি-মদ-দহন-তরঙ্গ॥
তাপিত-চাতক তিরপিত ভেল।
দশ দিশ সবহুঁ নদিয়া বহি গেল॥
ডুবল অবনি কাহু নাহি ঠাম।
সংসারাচলে রহু বলরাম॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় রক্ষিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীশ্রীচৈতন্য নবঘন বর্ণ॥

নবদ্বীপগগনে উয়ল দিনরাতি। ঘনরসে সেচল স্থির চর জাতি॥
দেখ দেখ গৌর জলদ অবতার। বরিখয়ে প্রেম অমিঞা অনিবার॥
জগভরি বরিখল দুরদিন লোর। হরি রসে ডগমগ জগজন ভোর॥
নাচত উনমত ভকত মউর। অভকত ভেখ আনরসে ডুব॥
ভকতি লতা তিন ভুবনে বেআপি। উত্তম অধম জনে প্রেমফল আপি॥
কীর্ত্তন কুলিশ জো গরজন জারি। জ্ঞানসেতু ঘন গরজে বিদারি॥
চিতবন নিকসিল করম ভুজঙ্গ। নিরসন কলিমদ দহন তরঙ্গ॥
অর্পিত চাতক তিরপিত ভেল। দশদিশ সবহু নদী বহে গেল॥
ডুবল অবনী কাহ নাহি ধাম। সংসারাচলে রহু দাস বলরাম॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯)  রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

নবদ্বীপ গগনে উয়ল দিন রাতি।
ঘনরসে সিঁচল স্থলচর জাতি॥
দেখ দেখ গৌর জলদ অবতার।
বরিখয়ে প্রেম-অমিয়া অনিবার॥
তবধরি জগভরি দুরদিন ডোর।
হরিরসে ডগমগ জগজনে ভোর॥
নাচত উনমত ভকত ময়ূর।
অভকত ভেক রোয়ত জলে বূর॥
ভকতি-লতা তিন-ভুবনে বেয়াপ।
উত্তম অধম প্রেম ফল পাব॥
কীর্ত্তন কুলিশ যোগ বনজারি।
জ্ঞান সেও ঘন গরজে বিদারি॥
চিত বিল নিকষিল করন ভুজঙ্গ।
নিরমল কলি-মদ-দহন তরঙ্গ॥
তাপিত চাতক তিরপিত ভেল।
দশদিশ সবহুঁ নদী বহি গেল॥
ডুবল অবনী কাহোঁ নাহি ঠাম।
সংসার বাচলে রহু বলরাম॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

নবদ্বীপ-গগনে উয়ল দিন রাতি।
ঘন-রসে সিচল স্থলচর জাতি॥
দেখ দেখ গৌর-জলদ অবতার।
বরিখয়ে প্রেমে অমিঞা অনিবার॥
তদবধি জগ ভরি দুরদিন ডোর।
হরিরসে ডগমগ জগজন ভোর॥
নাচত উনমত ভকত-ময়ূর।
অভকত-ভেক রোয়ত জলে বূর॥
ভকতি-লতা তিন ভুবন বেয়াপ।
উত্তম অধম সব প্রেমফল পাব॥
কীর্ত্তন কুলিশ “রোগ বনচারী”।
জ্ঞানসে ওঘন গরজে বিদারি॥
চিত বিলেপি কষিল করম ভুজঙ্গ।
নিরমিল কলিমদ-দহন তরঙ্গ॥
তাপিত চাতক তিরপিত ভেল।
দশ দিক সবহুঁ নদী রহি গেল॥
ডুবল অবনী কাহো নাহি ঠাম।
সংসারের অচলে রহলু বলরাম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

নবদ্বীপ-গগনে উয়ল দিন রাতি।
ঘন-রসে সেচল থির চর জাতি॥
দেখ দেখ গৌর জলদ-অবতার।
বরিখয়ে প্রেমে-অমিঞা অনিবার॥
তবধরি নিরলস দুরদিন ঘোর।
হরিরসে ডগমগ জগজন ভোর॥
নাচত উনমত ভকত-ময়ূর।
অভকত-ভেক রোয়ত জলে বূর॥
ভকতি-লতা তিন ভুবনে বেয়াপ।
উত্তম অধম প্রেমফল পাব॥
কীর্ত্তন-কুলিশে যোগ-বন জারী।
জ্ঞান বান্ধ ঘন-গরজে বিদারি॥
চিত-বিল নিকসল করম-ভুজঙ্গ।
নিরমিল কলি-মদ-দহন-তরঙ্গ॥
তাপিত-চাতকী তিরপিত ভেল।
দশ দিশ সবহু নদি রহি গেল॥
ডুবল অবনি কাহুঁ নাহি ঠাম।
সংসারের অচলে রহলু বলরাম॥

ব্যাখ্যা -
নবদ্বীপরূপ গগনে দিবারাত্রি সমানভাবে উদিত হইয়া শ্রীগৌরাঙ্গ জলধর করুণারূপ  
বারিবর্ষণে স্থাবর জঙ্গম সকলকেই সেচন করিলেন। গৌররূপ জলদ অবতারকে দেখ।
অনিবার প্রেমামৃত বর্ষণ করিতেছেন। তখন হইতে ঘোর দুর্দিন অন্তর্হিত হইল। জগতের
লোর হরি-রসে ডগমগ বিভোর হইয়া রহিল। উন্মত্ত ভক্ত ময়ূর নৃত্য করিতেছে। অভক্ত
ভেক জলে ডুবিয়া কাঁদিতেছে। (বারিসেচনে উত্ফুল্লা) ভক্তি-লতা ত্রিভুবনে ব্যাপ্ত হইল।  
উত্তম অধম সকলেই প্রেমফল পাইতেছে। (শ্রীগৌরাঙ্গ) রূপ মেঘ সংকীর্ত্তনরূপ বজ্রাঘাতে
যোগবন ছারখার করিয়া জ্ঞানের বাঁধ ঘনগর্জ্জনে বিদীর্ণ করিয়া চি্তবিলের কর্ম্মভূজঙ্গকে
দূর করিয়া দিলেন। কলিমদ দহনের জ্বালা শান্ত হইল। তাপিত চাতকী (নদীয়া নাগরীগণ)
তৃপ্তা হইল। দশ দিকে গৌর-করুণার নদী বহিয়া গেল। পৃথিবী ডুবিল। কোথাও বাকি নাই।
পদকর্ত্তা বলরাম কিন্তু সংসার-আসক্তি-রূপ পর্ব্বতের উপর বসিয়া রহিল।
---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদাবলী”॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

নবদ্বীপ-গগনে উয়ল দিন রাতি।
ঘন-রসে সেচল থির-চর জাতি॥
দেখ দেখ গৌর জলদ-অবতার।
বরিখয়ে প্রেম-অমিয়া অনিবার॥
তব ধরি জগ ভরি দুরদিন ডোর।
হরি-রসে ডগমগ জগ-জন ভোর॥
নাচত উনমত ভকত-ময়ূর।
অভকত-ভেক রোয়ত জলে বূর॥
ভকতি-লতা তিন ভুবনে বেয়াপ।
উত্তম অধম প্রেম-ফল পাব॥
কীর্ত্তন-কুলিশে যোগ-বন জারি।
জ্ঞান সেও-ঘন-গরজে বিদারি॥
চিত-বিল-নিকষিল করম-ভুজঙ্গ।
নিরসল কলি-মদ-দহন-তরঙ্গ॥
তাপিত-চাতক তিরপিত ভেল।
দশ দিশ সবহুঁ নদিয়া বহি গেল॥
ডুবল অবনি কাহুঁ নাহি ঠাম।
সংসারাচলে রহু বলরাম॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরোচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, ৩য় ক্ষণদা-কৃষ্ণা তৃতীয়া, ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ বরাড়ী॥

আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে।
ভাব-ভরে গর গর আঁখি নাহি মেলে॥
পূরব চরিত যত পিরীতি-কাহিনী।
শুনি পহুঁ মূরুছিত লোটায় ধরণী॥
পতিত হেরিয়া কান্দে নাহি বান্ধে থীর।
কত শত ধারা বহে নয়নের নীর॥
নাচে পহুঁ রসিক সুজান।
যার গুণে দরবয়ে দারু পাষাণ॥
পুলকে মণ্ডিত শ্রীভুজ-যুগ তুলি।
লোলিয়া লোলিয়া পড়ে হরি হরি বলি॥
কুলবতী ঝুরে মনে ঝুরে দুটি আঁখি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে বনের পশু পাখী॥
যার ভাবে গৃহবাসী ছাড়ে গৃহ-সুখ।
বলরাম দাস সবে এ রসে বিমুখ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩),
৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৮১-পদসংখ্যায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১৮|২১৯০ ও কমলাকান্ত
দাসের পদরত্নাকর পুথির ৪|১ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে।
ভাব-ভরে গর গর আঁখি নাহি মেলে॥
নাচে পহুঁ রসিক সুজান।
যার গুণে দরবয়ে দারু পাষাণ॥ ধ্রু॥
পূরব-চরিত যত পিরীতি-কাহিনী।
শুনি পহুঁ মুরুছিত লোটায় ধরণী॥
পতিত হেরিয়া কান্দে নাহি বান্ধে থীর।
কত শত ধারা বহে নয়নের নীর॥
পুলকে মণ্ডিত কিবা ভুজ যুগ তুলি।
লুলিয়া লুলিয়া পড়ে হরি হরি বুলি॥
কুলবতীর ঝুরে মন ঝুরে দুটি আঁখি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে বনের পশু পাখী॥
যার ভাবে গৃহবাসী ছাড়ে গৃহ সুখ।
বলরাম দাস সবে একলে বিমুখ॥
   
ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে।
ভাব ভরে গর গর আঁখি নাহি মেলে॥
নাচে পহুঁ রসিক সুজান।
যার গুণে দরবয়ে দারু পাষাণ॥ ধ্রু॥
পূরব চরিত যত পিরীতি কাহিনী।
শুনি পহুঁ মুরুছিত লোটায় ধরণী॥
পতিত হেরিয়া কান্দে নাহি বান্ধে থির।
কত শত ধারা বহে নয়নের নীর॥
পুলকে মণ্ডিত কিবা ভুজ যুগ তুলি।
লুলিয়া লুলিয়া পড়ে হরি হরি বুলি॥
কুলবতীর ঝুরে মন ঝুরে দুটি আঁখি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে বনের পশু পাখী॥
যার ভাবে গৃহবাসী ছাড়ে গৃহ সুখ।
বলরাম দাস সবে একলে বিমুখ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৬০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে।
ভাবভরে গরগর আঁখি নাহি মেলে॥
নাচে পহুঁ রসিক সুজান।
যার গুণে দরবয়ে দারু পাষাণ॥
পূরব-চরিত যত পিরীতিকাহিনী।
শুনি পহুঁ মুরুছিত লোটায় ধরণী॥
পতিত হেরিয়া কাঁদে নাহি বাঁধে থির।
কত শত ধারা বহে নয়নের নীর॥
পুলকে মণ্ডিত কিবা ভুজযুগ তুলি।
লুটিয়া লুটিয়া পড়ে হরি হরি বলি॥
কুলবতীর ঝুরে মন ঝুরে দুটী আঁখি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কাঁদে বনের পশুপাখী॥
যার ভাবে গৃহবাসী ছাড়ে গৃহসুখ।
বলরাম দাস সবে একলি বিমুখ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ১৮৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই গ্রন্থে ২ বার দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে।
ভাবভরে গর গর আঁখি নাহি মেলে॥
নাচে পহুঁ রসিক সুজান।
যার গুণে দরবয়ে দারু পাষাণ॥
পূরুব চরিত যত পীরিতি কাহিনী।
শুনি পহুঁ মূরুছিত লোটায় ধরণী॥
পতিত হেরিয়া কাঁদে নাহি হয় থির।
কত শত ধারা বহে নয়নের নীর॥
পুলকে মণ্ডিত কিবা ভুজযুগ তুলি।
লুলিয়া লুলিয়া পড়ে হরি হরি বলি॥
কুলবতীর ঝুরে মন ঝুরে দুটী আঁখি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কাঁদে বনের পশু পাখী॥
যার প্রেমে গৃহবাসী ছাড়ে গৃহসুখ।
বলরাম দাস সবে একলে বিমুখ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে।
ভাব-ভরে গর গর আঁখি নাহি মেলে॥
নাচে পহুঁ রসিক সুজান।
যার গুণে দরবয়ে দারু পাষাণ॥
পূরুব-চরিত যত পিরিতি-কাহিনী।
শুনি পহুঁ মুরছিত লোটায় ধরণী॥
পতিত হেরিয়া কান্দে নাহি বান্ধে থীর।
কত শত ধারা বহে নয়নের নীর॥
পুলকে মণ্ডিত কিবা ভুজযুগ তুলি।
লুলিয়া লুলিয়া পড়ে হরি হরি বলি॥
কুলবতীর ঝুরে মন ঝুরে দুটী আঁখি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে বনের পশুপাখী॥
যার ভাবে গৃহবাসী ছাড়ে গৃহ-সুখ।
বলরাম দাস সবে একলে বিমুখ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে।
ভাবভরে গর গর আঁখি নাহি মেলে॥
নাচে পহুঁ রসিক সুজান।
যার গুণে দরবয়ে দারু পাষাণ॥
পূরুব-চরিত যত পীরিতি-কাহিনী।
শুনি পহুঁ মুরছিত লোটায় ধরণী॥
পতিত হেরিয়া কান্দে নাহি বান্ধে থির।
কত শত ধারা বহে নয়নের নীর॥
পুলকে মণ্ডিত কিবা ভুজযুগ তুলি।
লুলিয়া লুলিয়া পড়ে হরি হরি বলি॥
কুলবতীর ঝুরে মন ঝুরে দুটি আঁখি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে বনের পশু পাখী॥
যার প্রেমে গৃহ-বাসী ছাড়ে গৃহ-সুখ।
বলরাম দাস সবে একলে বিমুখ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আবেশে অবশ অঙ্গ ধীরে ধীরে চলে।
ভাব-ভরে গর গর আঁখি নাহি মেলে॥
নাচে পহুঁ রসিক সুজান।
যার গুণে দরবয়ে দারু পাষাণ॥
পূরুব-চরিত যত পিরিতি-কাহিনী।
শুনি পহুঁ মুরছিত লোটায় ধরণী॥
পতিত হেরিয়া কান্দে নাহি বান্ধে থীর।
কত শত ধারা বহে নয়নের নীর॥
পুলকে মণ্ডিত কিবা ভুজযুগ তুলি।
লুলিয়া লুলিয়া পড়ে হরি হরি বলি॥
কুলবতীর ঝুরে মন ঝুরে দুটি আঁখি।
ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে বনের পশু পাখী॥
যার ভাবে গৃহ-বাসী ছাড়ে গৃহ-সুখ।
বলরাম দাস সবে একলে বিমুখ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে
গোবিন্দ মাধব শ্রীবাস রামানন্দে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯২২-পৃষ্ঠা।

॥ পুনর্ধানশী॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মেলি গায় নিজ বৃন্দে॥
শুনিয়া পুরুব গুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তন আনন্দে পহু পড়ে মুরুছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলকের নাথ হৈয়া ধুলায় লোটায়॥ ধ্রু॥
ভাবে গরগর চিত গদাধরে দেখি।
কান্দিয়া আকুল পঁহু ছলছল আঁখি॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু ভূমে পড়ি কান্দে।
বুঝিয়া মরম কথা কান্দে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোক কাঁন্দে গোরা-রসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাসে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩),
৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৬৭-পদসংখ্যায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২১৭৬ সংখ্যক পদ।

॥ মল্লার কামোদ॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মেলি গায় নিজ-বৃন্দে॥
শুনিয়া পুরব-গুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তন-আনন্দে পহু পড়ে মুরছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলকের নাথ হৈয়া ধুলায় লোটায়॥
ভাবে গরগর চিত গদাধর দেখি।
কান্দিয়া আকুল পহু ছলছল আঁখি॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু ভূমে পড়ি কান্দে।
বুঝিয়া মরম-কথা কান্দে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোক কান্দে গোরা-রসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯)  রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মিলি গায় নিজ বৃন্দে॥
শুনিয়া পূরব গুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তন আনন্দে পহুঁ পড়ে মূরছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলোক নাথ হৈয়া ধূলায় লোটায়॥
ভাবে গর গর চিত গদাধর দেখি।
কান্দিয়া আকুল পহুঁ ছল ছল আঁখি॥
শ্রীপাদ বলি পহুঁ ধরণী পড়ি কান্দে।
বুঝিয়া মরম কথা কান্দে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোক কান্দে গোরারসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার কামোদ॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মিলি গায় নিজবৃন্দে॥
শুনিয়া পূরব-গুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তন আনন্দে পহুঁ পড়ে মূরছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলোক-নাথ হৈয়া ধূলায় লোটায়॥
ভাবে গর গর চিত গদাধর দেখি।
কান্দিয়া আকুল পহু ছল ছল আঁখি॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু ধরণী পড়ি কান্দে।
বুঝিয়া মরম-কথা কান্দে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোক কান্দে গোরা-রসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরামদাসে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৭৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীমল্লার॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মেলি গায় নিজবৃন্দে॥
শুনিয়া পূরব গুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তন-আনন্দে পহুঁ পড়ে মুরছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলোকনাথ হৈয়া ধূলায় লোটায়॥
ভাবে গরগর চিত গদাধর দেখি।
কাঁদিয়া আকুল পহুঁ ছল ছল আঁখি॥
শ্রীপাদ বলি পহুঁ ধরণী পড়ি কাঁদে।
বুঝিয়া মরম কথা কাঁদে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোক কাঁদে গোরারসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার কামোদ॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মিলি গায় নিজবৃন্দে॥
শুনিয়া পূরব-গুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তন-আনন্দে পহু পড়ে মূরছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলোক-নাথ হৈয়া ধূলায় লোটায়॥
ভাবে গর গর চিত গদাধর দেখি।
কান্দিয়া আকুল পহুঁ ছল ছল আঁখি॥
শ্রীপাদ লয়া পহুঁ ধরণী পড়ি কান্দে।
বুঝিয়া মরম-কথা কান্দে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোক কান্দে গোরা-রসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার কামোদ॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মিলি গায় নিজবৃন্দে॥
শুনিয়া পূরবগুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তনআনন্দে পহু পড়ে মূরছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলকনাথ হৈয়া ধুলায় লোটায়॥
ভাবে গর গর চিত গদাধর দেখি।
কান্দিয়া আকুল পহুঁ ছল ছল আঁখি॥
শ্রীপদ লয়া পহুঁ ধরণী পড়ি কান্দে।
বুঝিয়া মরম কথা কান্দে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোক কান্দে গোরারসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার কামোদ॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মিলি গায় নিজবৃন্দে॥
শুনিয়া পুরবগুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তন আনন্দে পহু পড়ে মুরছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলকেত নাথ হৈয়া ধুলায় লোটায়॥
ভাবে গরগর চিত গদাধর দেখি।
কান্দিয়া আকুল পহু ছলছল আঁখি॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু ভূমে পড়ি কান্দে।
বুঝিয়া মরমকথা কান্দে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোকে কান্দে গোরা রসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার কামোদ॥

গোবিন্দ মাধব শ্রীনিবাস রামানন্দে।
মুরারি মুকুন্দ মেলি গায় নিজ-বৃন্তে॥
শুনিয়া পুরব-গুণ উনমত হৈয়া।
কীর্ত্তন-আনন্দে পহু পড়ে মুরছিয়া॥
কিয়ে অপরূপ কথা কহনে না যায়।
গোলকের নাথ হৈয়া ধুলায় লোটায়॥
ভাবে গরগর চিত গদাধর দেখি।
কান্দিয়া আকুল পহু ছলছল আঁখি॥
শ্রীপাদ বলিয়া পহু ভূমে পড়ি কান্দে।
বুঝিয়া মরম-কথা কান্দে নিত্যানন্দে॥
দেখিয়া ত্রিবিধ লোক কান্দে গোরা-রসে।
এ সুখে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচত গৌর সুনাগর মণিয়া
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৬৬-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২১৭৫ সংখ্যক
পদ। এই পদটির বহু পংক্তি “সহজই কাঞ্চন কান্তি কলেবর” পদের সঙ্গে মিলে যায়। এ ব্যাপারে
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

॥ মঙ্গল॥

নাচত গৌর সুনাগর-মণিয়া।
খঞ্জন-গঞ্জন পদযুগ-রঞ্জন
রণরণি মঞ্জির মঞ্জুল-ধ্বনিয়া॥
সহজই কাঞ্চন-কাঁতি কলেবর
হেরইতে জগ-জন-মন-মোহনিয়া।
তহি কত কোটি মদন-মন মুরছল
অরুণ-কিরণ কিয়ে অম্বর বনিয়া॥
ডগ মগ দেহ থেহ নাহি বান্ধই
দুহুঁ দিঠি-মেহ সঘনে বরিখণিয়া।
প্রেমক সায়রে ভুবন মজাওই
লোচন-কোণে করুণ নিরখণিয়া॥
ও রসে ভোর ওর নাহি পায়ই
পতিত কোরে ধরি ভুবন বিয়াপি।
কহ বলরাম লম্ফ ঘন হুঙ্কৃতি
হেরি পাষণ্ড-হৃদয় অতি কাঁপি॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নাচত গৌর সুনাগর মণিয়া।
খঞ্জন গঞ্জন,                             পদযুগ রঞ্জন
রণ-রণি মঞ্জীর মঞ্জুল ধনিয়া॥
সহজই কাঞ্চন,                      কাঁতি কলেবর,
হেরইতে জগজন মনমোহনিয়া।
তহিঁ কত কোটি,                 মদন মন মুরুছল,
অরুণ কিরণ অম্বর বনিয়া॥
ডগমগ দেহ,                       থেহ নাহি বান্ধই,
দুহুঁ দিঠি মেহ সঘনে বরিখনিয়া।
প্রেমক সায়রে,                       ভুবন মজায়ই,
লোচন কোণে করুণ নিরখনিয়া॥
ও রসে ভোর,                     ওর নাহি পাওই,
পতিত কোরে ধরি ভুবন বিয়াপি।
কহ বলরাম,                       লম্ফ ঘন হুঙ্কৃতি,
হেরি পাষণ্ড হৃদয় অতি কাঁপি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নাচত গৌর সুনাগর-মণিয়া।
খঞ্জন-গঞ্জন, পদযুগ-রঞ্জন, রণরণি মঞ্জীর মঞ্জুল-ধনিয়া॥
সহজই কাঞ্চন-কাঁতি কলেবর, হেরইতে জগ জন মন মোহনিয়া।
তহিঁ কত কোটি, মদন-মন মূরছল, অরুণকিরণ অম্বর বনিয়া॥
ডগ মগ দেহ, থেহ নাহি বান্ধই, দুহুঁ দিঠি মেহ সঘনে বরিখণিয়া।
প্রেমক সায়রে, ভুবন ডুবায়ই, লোচন কোণে করুণ নিরখণিয়া॥
ও রসে ভোর, ওর নাহি পায়ই, পতিত কোরে ধরি ভুবন বিয়াপি।
কহ বলরাম, লম্ফ ঘন হুঙ্কৃতি, হেরি পাষণ্ড-হৃদয় অতি কাঁপি॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

নাচত গৌর সুনাগরমণিয়া।
খঞ্জন গঞ্জন                           পদযুগ রঞ্জন
রণ-রণি মঞ্জির মঞ্জুল ধনিয়া॥ ধ্রু॥
সহজই কাঞ্চন-                      কান্তি কলেবর
হেরইতে জগজন মনমোহনিয়া।
তহি কত কোটি                  মদন-মন মুরছল
অরুণ-কিরণ অম্বর বনিয়া॥
ডগমগ দেহ                       থেহ নাহি বান্ধই
দুহুঁ দিঠি মেহ সঘনে বরিখনিয়া।
প্রেমক সায়রে                       ভুবন মজায়ই
লোচন-কোণে করুণ নিরখনিয়া॥
ও রসে ভোর                     ওর নাহি পাওই
পতিত কোরে ধরি ভুবন বিয়াপি।
কহ বলরাম                        লম্ফ ঘন হুঙ্কৃতি
হেরি পাষণ্ড-হৃদয় অতি কাঁপি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৭-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নাচত গৌর সুনাগর-মণিয়া।
খঞ্জন-গঞ্জন,                            পদযুগ-রঞ্জন,
রণরণি মঞ্জীর মঞ্জুল-ধ্বনিয়া॥
সহজই কাঞ্চন-                      কাঁদি কলেবর,
হেরইতে জগ-জন-মন-মোহনিয়া।
তহিঁ কত কোটি,                  মদন-মন মুরছল,
অরুণ-কিরণ অম্বর বনিয়া॥
ডগ মগ দেহ,                      থেহ নাহি বান্ধই,
দুহুঁ দিঠি-মেহ সঘনে বরিখণিয়া।
প্রেমকসায়রে,                        ভুবন ভুবারই,
লোচন কোণে করুণ নিরখণিয়া॥
ও রসে ভোর,                      ওর নাহি পায়ই,
পতিত কোরে ধরি ভুবন বিয়াপি।
কহ বলরাম,                       লম্ফ ঘন হুঙ্কৃতি,
হেরি পাষণ্ড-হৃদয় অতি কাঁপি॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা-রাগ॥

নাচত গৌর সুনাগর-মণিয়া।
খঞ্জন গঞ্জন,                           পদযুগ-রঞ্জন,
রণরণি মঞ্জীর মঞ্জুল-ধ্বনিয়া॥
সহজই কাঞ্চন,                      কাঁদি কলেবর,
হেরইতে জগজন-মোহনিয়া।
তহিঁ কত কোটি,                  মদনমন মূরছল,
অরুণকিরণ অম্বর বনিয়া॥
ডগ মগ দেহ,                থেহ নাহি বান্ধই,
দুহুঁ দিঠিমেহ সঘনে বরিখণিয়া।
প্রেমকসায়রে,                     ভুবন ডুবায়ই,
লোচন কোণে করুণ নিরখণিয়া॥
ও রসে ভোর,                ওর নাহি পায়ই,
পতিত কোরে ধরি ভুবন বিয়াপি।
কহ বলরাম,                লম্ফ ঘন হুঙ্কৃতি,
হেরি পাষণ্ডহৃদয় অতি কাঁপি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নাচত গৌর সুনাগর মণিয়া।
খঞ্জন গঞ্জন পদযুগ রঞ্জন
রণরণি মঞ্জির মঞ্জুল ধ্বনিয়া॥
সহজই কাঞ্চন কাঁতি কলেবর
হেরইতে জগ-জন-মন-মোহনিয়া।
তহিঁ কত কোটি মদনমন মুরছল
অরুণ-কিরণ কিয়ে অম্বর বনিয়া॥
রাই প্রেমভর গমন সুমন্থর
গর গর অন্তর পড়ই ধরণিয়া।
ঘন ঘন কম্প দ্বেদ পুলকাবলি
ঘন ঘন হুঙ্কার ঘন গরজনিয়া॥
ডগ মগ দেহ থেহ নাহি বান্ধই
দুহুঁ দিঠি মেহ সঘনে বরিখণিয়া।
প্রেমক সায়রে ভুবন মজাওই
লোচন কোণে করুণ নিরখণিয়া॥
ও রসে ভোর ওর নাহি পায়ই
পতিত কোরে ধরি লোর সেচনিয়া।
হরি হরি বোলি রোই কত বিলপই
বঞ্চিত বলরাম দিবস রজনিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

নাচত গৌর সুনাগর-মণিয়া।
খঞ্জন-গঞ্জন পদযুগ-রঞ্জন
রণরণি মঞ্জির মঞ্জুল-ধ্বনিয়া॥
সহজই কাঞ্চন-কাঁতি কলেবর
হেরইতে জগ-জন-মন-মোহনিয়া।
তহি কত কোটি মদন-মন মুরছল
অরুণ-কিরণ কিয়ে অম্বর বনিয়া॥
ডগ মগ দেহ থেহ নাহি বান্ধই
দুহুঁ দিঠি-মেহ সঘনে বরিখণিয়া।
প্রেমক সায়রে ভুবন মজাওই
লোচন-কোণে করুণ নিরখণিয়া॥
ও রসে ভোর ওর নাহি পায়ই
পতিত কোরে ধরি ভুবন বিয়াপি।
কহ বলরাম লম্ফ ঘন হুঙ্কৃতি
হেরি পাষণ্ড-হৃদয় অতি কাঁপি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সহজই কাঞ্চন কান্তি কলেবর
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১৪৫-পদসংখ্যা। এই পদটির বহু পংক্তি “নাচত গৌর সুনাগর মণিয়া” পদের
সঙ্গে মিলে যায়। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

॥ বেলোয়ার॥

সহজই কাঞ্চন-কান্তি কলেবর
হেরইতে জগ-জন-মন-মোহনিয়া।
তঁহি কত কোটী মদন মুরছায়ল
অরুণ-কিরণ-হর অম্বর বনিয়া॥
রাই-প্রেম-ভরে গমন সুমন্থর
অন্তর গরগর পড়ই ধরণিয়া॥
স্বেদ কম্প ঘন ঘন পুলকাবলি
ঘন হুহুঙ্কার করত গরজনিয়া॥
ডগমগ দেহ থেহ নাহি বান্ধই
দুহুঁ দিঠি-মেহ সঘনে বরখণিয়া।
ও রসে ভোর ওর নাহি পায়ই
পতিত কোরে ধরি লোর সিচনিয়া॥
হরি হরি বোলি রোই কত বিলপই
বঞ্চিত বলরাম দিবস রজনিয়া॥
ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

সহজই কাঞ্চন,                   কান্তি কলেবর,
হেরইতে জগজন মনমোহনিয়া।
তাহি কত কোটি,         মদন মুরুছাওল,
অরুণ কিরণ হর অম্বর বনিয়া॥
রাই প্রেম ভরে,                    গমন সুমন্থর,
অন্তর গর গর পড়ই ধরণীয়া।
স্বেদ কম্প ঘন,                     ঘন পুলকাবলি,
ঘন হুহুঙ্কার করত গরজনিয়া॥
ডগমগ দেহ,                  থেহ নাহি বান্ধই,
দুহুঁ দিঠি মেহ সঘনে বরিখনিয়া।
ওরসে ভোর,                ওর নাহি পায়ই,
পতিত কোরে ধরি লোর সিচনিয়া॥
হরি হরি বলি,                রোই কত বিলপই,
বঞ্চিত বলরাম দিবস রজনীয়া॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

সহজেই কাঞ্চন, কান্তি কলেবর, হেরইতে জগ-জন-মন মোহনিয়া।
তঁহি কত কোটি, মদন মুরছাওল, অরুণ কিরণ হর অম্বর বনিয়া॥
রাই-প্রেম-ভরে, গমন সুমন্থর, অন্তর গরগর পড়ই ধরণীয়া।
স্বেদ কম্প ঘন, ঘন পুলকাবলি, ঘন হুহুঙ্কার কর গরজনিয়া॥
ডগমগ দেহ, থেহ নাহি বান্ধই, দুহুঁ দিঠি-মেহ সঘনে বরিখণিয়া।
ও রসে ভোর, ওর নাহি পায়ই, পতিত কোরে ধরি লোর সিঁচনিয়া॥
হরি হরি বলি- রোই কত বিলপই বঞ্চিত বলরাম দিবস রজনীয়া॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সহজই কাঞ্চন-                   কান্তি কলেবর
হেরইতে জগজন-মনমোহনিয়া।
তাহে কত কোটি         মদন মূরছাওল
অরুণকিরণহর অম্বর বনিয়া॥
রাই প্রেম ভরে                    গমন সুমন্থর
অন্তর গর গর পড়ই ধরণীয়া।
স্বেদ কম্প ঘন                     ঘন পুলকাবলী
ঘন হুহুঙ্কার করত গরজনিয়া॥
ডগমগ দেহ                  থেহ নাহি বান্ধই
দুহু দিঠি মেহ সঘনে বরিখনিয়া।
ও রসে ভোর                ওর নাহি পাওই
পতিত কোরে ধরি লোর সিচনিয়া॥
হরি হরি বলি                রোই কত বিলপই
বঞ্চিত বলরাম দাস পামরিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার -ডাঁসপাহিড়া॥

সহজই কাঞ্চন কান্তি কলেবর
হেরইতে জগজন মনমোহনিয়া।
তঁহি কত কোটী মদন মুরছায়ল
অরুণ-কিরণ-হর অম্বর বনিয়া॥
রাই-প্রেম-ভরে গমন সুমন্থর
অন্তর গরগর পড়ই ধরনিয়া॥
স্বেদ কম্প ঘন ঘন পুলকাবলি
ঘন হুহুঙ্কার করত গরজনিয়া॥
ডগমগ দেহ থেহ নাহি বান্ধই
দুহুঁ দিঠি-মেহ সঘনে বরখনিয়া।
ও রসে ভোর ওর নাহি পায়ই
পতিত কোরে ধরি লোর সিচনিয়া॥
হরি হরি বোলি রোই কত বিলপই
বঞ্চিত বলরাম দিবস রজনিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

সহজই কাঞ্চন-কান্তি কলেবর
হেরইতে জগ-জন-মন-মোহনিয়া।
তঁহি কত কোটী মদন মুরছায়ল
অরুণ-কিরণ-হর অম্বর বনিয়া॥
রাই-প্রেম-ভরে গমন সুমন্থর
অন্তর গরগর পড়ই ধরণিয়া॥
স্বেদ কম্প ঘন ঘন পুলকাবলি
ঘন হুহুঙ্কার করত গরজনিয়া॥
ডগমগ দেহ থেহ নাহি বান্ধই
দুহুঁ দিঠি-মেহ সঘনে বরখণিয়া।
ও রসে ভোর ওর নাহি পায়ই
পতিত কোরে ধরি লোর সিচনিয়া॥
হরি হরি বোলি রোই কত বিলপই
বঞ্চিত বলরাম দিবস রজনিয়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি মঙ্গল ভরিল ক্ষিতি-মণ্ডল
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৬৫-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২১৭৪ সংখ্যক
পদ।

॥ মঙ্গল॥

হরি হরি মঙ্গল ভরল খিতি-মণ্ডল
রসময় রতন-পসার।
নিজ গুণ-কীর্ত্তন প্রেম-রতন ধন
অনুখণ করু পরচার॥
নাচত নটবর গৌর কিশোর।
অনুখণ ভাবে বিভাবিত অন্তর
প্রেম-সুখের নাহি ওর॥ ধ্রু॥
কুন্দন-কনয়-বিরাজিত কলেবর
বিহি সে করল নিরমাণ।
মনমথ মুরুছিত অঙ্গহি অঙ্গ কত
রূপ দেখি হরল গেয়ান॥
যা কর ভজন শিব চতুরানন
করু মন-মরম সন্ধান।
হেন নাম-হার যতন করি গাঁথই
পতিত জনেরে করে দান॥
অন্ধকার-কূপে                মগন দেখিয়া জীব
নবদ্বীপে পহু পরকাশ।
প্রেম-রতন ধন                জগ ভরি বিতরল
বঞ্চিত বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ )  রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

হরি হরি মঙ্গল,                      ভরিল ক্ষিতি-মণ্ডল
রসময় রতন পসার।
নিজ গুণ কীর্ত্তন,                          প্রেম রতন ধন,
অনুখন করু পরচার॥
নাচত নটবর গৌরকিশোর।
অনুখন ভাবে,                           বিভাবিত অন্তর,
প্রেম সুখের নাহি ওর॥ ধ্রু॥
কুন্দন কনয়,                           বিরাজিত কলেবর,
বিহি সে করল নিরমাণ।
মনমথ মুরুছিত,                        অঙ্গহি অঙ্গ কত,
রূপ দেখি হরল গেয়ান॥
যাকর ভজন,                              শিব চতুরানন,
করু মন মরম সন্ধান।
হেন নাম হার,                           যতন করি গাঁথই
পতিত জনেরে করে দান॥
অন্ধকার কূপে,                        মগন দেখিয়া জীব,
নবদ্বীপে পহুঁ পরকাশ।
প্রেম রতন ধন,                          জগভরি বিতরণ,
বঞ্চিত বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

হরি হরি মঙ্গল, ভরল ক্ষিতি-মণ্ডল, রসময় রতন পসার।
নিজ গুণ-কীর্ত্তন, প্রেম রতন ধন, অনুক্ষণ করু পরচার॥
নাচত নটবর গৌর কিশোর।
অনুখন ভাবে, বিভাবিত অন্তর, প্রেম-সুখের নাহি ওর॥
কুন্দন কনয়, বিরাজিত কলেবর, বিহি সে করল নিরমাণ।
মনমথ মুরুছিত, অঙ্গহি অঙ্গ কত, রূপ দেখি হরল গেয়ান॥
যা কর ভজন, শিব চতুরানন, একমন মরম সন্ধান।
হেন নাম-হার, যতন করি গাঁথই, পতিত জনেরে করে দান॥
অন্ধকার কূপে, মগন দেখিয়া জীব, নবদ্বীপে পহু পরকাশ।
প্রেম-রতন ধন, জগ ভরি বিতরল, বঞ্চিত বলরামদাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

হরি হরি মঙ্গল                      ভরিল ক্ষিতিমণ্ডল
রসময় রতন পসার।
নিজগুণ-কীর্ত্তন                           প্রেম রতন ধন
অনুখন করু পরচার॥
নাচত নটবর গৌরকিশোর।
অনুখন ভাবে                         বিভাবিত অন্তরে
প্রেম সুখের নাহি ওর॥ ধ্রু॥
কুন্দন কনয়                         বিরাজিত কলেবর
বিহি সে করল নিরমাণ।
মুরুছিত মনমথ                      অঙ্গহি অঙ্গ কত
রূপ দেখি হরল গেয়ান॥
যাকর ভজন                            শিব চতুরানন
করু মন মরম সন্ধান।
হেন নাম হার                         যতন করি গাঁথই
পতিত জনেরে করে দান॥
অন্ধকার কূপে                       মগন দেখিয়া জীব
নবদ্বীপে পহুঁ পরকাশ।
প্রেম-রতন ধন                         জগভরি বিতরণ
বঞ্চিত বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৭-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

হরি হরি মঙ্গল,                         ভরল ক্ষিতি-মণ্ডল,
রসময় রতন পসার।
নিজ গুণ-কীর্ত্তন,                             প্রেম-রতন ধন,
অনুক্ষণ করু পরচার॥
নাচত নটবর গৌর কিশোর।
অনুক্ষণ ভাবে,                           বিভাবিত অন্তর,
প্রেম-সুখের নাহি ওর॥
কুন্দন কনয়,                             বিরাজিত কলেবর,
বিহি সে করল নিরমাণ।
মনমথ মুরুছিত,                          অঙ্গহি অঙ্গ কত,
রূপ দেখি হরল গেয়ান॥
যা কর ভজন,                             শিব চতুরানন,
এ মন মরম সন্ধান।
হেন-নাম-হার,                           যতন করি গাঁথই,
পতিত জনেরে করে দান॥
অন্ধকার-কূপে,                         মগন দেখিয়া জীব,
নবদ্বীপে পহুঁ পরকাশ।
প্রেম-রতন ধন,                          জগভরি বিতরল,
বঞ্চিত বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

হরি হরি মঙ্গল,                      ভরল ক্ষিতিমণ্ডল,
রসময় রতন পসার।
নিজ গুণ-কীর্ত্তন,                         প্রেম রতন ধন,
অনুক্ষণ করু পরচার॥
নাচত নটবর গৌরকিশোর।
অনুক্ষণ ভাবে,                       বিভাবিত অন্তর,
প্রেম-সুখের নাহি ওর॥
কুন্দন কনয়,                        বিরাজিত কলেবর,
বিহি সে করল নিরমাণ।১
মনমথ মূরছিত,                     অঙ্গহি অঙ্গ কত,
রূপ দেখি হরল গেয়ান॥
যা কর ভজন,                            শিব চতুরানন,
এ মন মরম সন্ধান।
হেন-নামহার,                           যতন করি গাঁথই
পতিত জনেরে করে দান॥
অন্ধকার-কূপে,                      মগন দেখিয়া জীব,
নবদ্বীপে পহুঁ পরকাশ।
প্রেম-রতন ধন,                        জগভরি বিতরল,
বঞ্চিত বলরাম দাস॥

১ - এই পংক্তিটি এই গ্রন্থে নেই।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

হরি হরি মঙ্গল ভরল খিতিমণ্ডল
রসময় রতন পসার।
নিজ গুণকীর্ত্তন প্রেমরতন ধন
অনুখন করু পরচার॥
নাচত নটবর গৌর কিশোর।
অনুখন ভাবে বিভাবিত অন্তর
প্রেম-সুখের নাহি ওর॥
কুন্দন-কনয়-বিরাজিত কলেবর
বিহি সে করল নিরমাণ।
মনমথ মুরুছিত অঙ্গহি অঙ্গ কত
রূপ দেখি হরল গেয়ান॥
যাকর ভজন শিব চতুরানন
করু মনে মরম সন্ধান।
হেন নাম-হার যতন করি গাঁথই
পতিত জনেরে করে দান॥
অন্ধকারকূপহি মগন দেখি জীব
নবদ্বীপ পঁহু পরকাশ।
প্রেমরতনধন জগভরি বিতরণ
বঞ্চিত বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

হরি হরি মঙ্গল ভরল খিতি-মণ্ডল
রসময় রতন-পসার।
নিজ গুণ-কীর্ত্তন প্রেম-রতন ধন
অনুখন করু পরচার॥
নাচত নটবর গৌর কিশোর।
অনুখন ভাবে বিভাবিত অন্তর
প্রেম-সুখের নাহি ওর॥
কুন্দন-কনয়-বিরাজিত কলেবর
বিহি সে করল নিরমাণ।
মনমথ মুরুছিত অঙ্গহি অঙ্গ কত
রূপ দেখি হরল গেয়ান॥
যা কর ভজন শিব চতুরানন
করু মন-মরম সন্ধান।
হেন নাম-হার যতন করি গাঁথই
পতিত জনেরে করে দান॥
অন্ধকার-কূপে                মগন দেখিয়া জীব
নবদ্বীপে পহু পরকাশ।
প্রেম-রতন ধন                জগ ভরি বিতরল
বঞ্চিত বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কলিযুগ মত্ত মতঙ্গজ মরদনে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২২শ পল্লব,
শ্রীগৌরচন্দ্র, ৬১৭ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১০৯১ সংখ্যক পদ।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ কামোদ॥

কলিযুগ-মত্ত-মতঙ্গজ-মরদনে
কুমতি-করিণি দুর গেল।
পামর দুরগত নাম-মোতি শত-
দাম কন্ঠ ভরি দেল॥
অপরূপ গৌর বিরাজ।
শ্রীনবদ্বীপ-নগর-গিরি-কন্দরে
ঊয়ল কেশরু-রাজ॥ ধ্রু॥
সংকীর্ত্তন-রণ হুঙ্কৃতি শুনইতে
দুরিত দীপি-গণ ভাগি।
ভয়ে আকুল অণিমাদি মৃগীকুল
পুনবত গরব তেয়াগি॥
ত্যাগ যাগ যম তিরিথি বরত সম
শশ জাম্বুকি জরি যাতি।
বলরাম দাস কহ অতয়ে সে জগ মাহ
হরি-ধনি শবদ খেয়াতি॥

টীকা -
১ - ২। “কলিযুগ” ইত্যাদি। কলিযুগরূপ (মদ)-মত্ত মাতঙ্গের মর্দ্দন অর্থাৎ বিনাশ হেতু (তদাশ্রিত) কুবুদ্ধিরূপ
হস্তিনী দূরে পলায়ন করিল। (স্ত্রী-জাতি অবধ্য বলিয়া পরিত্যক্ত হইল, ইহাও ব্যঞ্জিত হইতেছে)।
৩ - ৪। “পামর” ইত্যাদি। (শ্রীগৌরাঙ্গ) নাম-রূপ (অমূল্য গজদন্ত-জাত) মুক্তাসমূহের মালা অধম ও দরিদ্র
ব্যক্তিদিগকে কণ্ঠ ভরিয়া দিলেন।
৫ - ৭। “অপরূপ” ইত্যাদি। অপূর্ব্ব গৌরাঙ্গ বিরাজ করিতেছেন। (বোধ হইতেছে যেন) শ্রীনবদ্বীপ নগরের
পর্ব্বত-গুহায় অর্থাৎ পর্ব্বতচূড়ার ন্যায় সমুচ্চ মন্দিরের গর্ভে সিংহ-শ্রেষ্ঠ উদিত হইয়াছেন।
৮ - ১১। “সংকীর্ত্তন” ইত্যাদি।সংকীর্ত্তনরূপ যুদ্ধের হুঙ্কার শুনিয়া পাপরীপ (হিংস্র প্রাণী) নেকড়ে বাঘ সকল
(সিংহের ভয়ে) পলায়ন করিল। (যোগৈশ্বর্য্য) অণিমা প্রভৃতি (নিরীহ প্রাণিস্বরূপ) মৃগীসমূহ ভয়ে আকুল
(হইল) ; পুণ্যবান্ ব্যক্তি (পুণ্য-কার্য্য-জনিত) গর্ব্ব পরিত্যাগ করিল।
১২ - ১৫। “ত্যাগ” ইত্যাদি। দান, যজ্ঞ, সংযম, তীর্থ ও ব্রতস্বরূপ (ক্ষুদ্র প্রাণী) শশক ও শৃগাল (সকল)
জ্বালাতন হইল। (পদকর্ত্তা) বলরাম দাস কহিতেছেন,---এই জন্যই ত জগতের মধ্যে (শ্রীগৌরাঙ্গের উদয়ে)
হরিধ্বনি শব্দ (এক অর্থে---‘হরি’ ‘হরি’ শব্দ, অপর অর্থে ‘সিংহ’ ‘সিংহ’ শব্দ) প্রচারিত হইয়াছে। (‘হরি’
শব্দের ‘কৃষ্ণ’ ও ‘সিংহ’ উভয় অর্থই প্রসিদ্ধ বটে ; এই পদে বলরাম দাস শ্রীগৌর-লীলার সহিত সিংহ-লীলার
সাদৃশ্য প্রদর্শিত করিয়াছেন)। তুলনা করুন,---
হরিঃ পুরটসুন্দরদ্যুতিঃ কদম্বসন্দীপিতঃ।
সদা হৃদয়কন্দরে স্ফুরতু বঃ শচীনন্দনঃ॥---বিদগ্ধমাধব নাটক।
---সতীশচন্দ্র রায়, শ্রীশ্রীপদকল্পতরু॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ )  রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কলিযুগ মত্ত,                       মতঙ্গজ মরদনে,
কুমতিকরিণী দূর গেল।
পামর দুরগত                     নাম মোতিম শত
দাম কন্ঠ ভরি দেল॥
অপরূপ গৌর বিরাজ।
শ্রীনবদ্বীপনগর                         গিরি কন্দরে
উঅল কেশরী বিরাজ॥
সঙ্কীর্ত্তন ঘন                          হুঙ্কৃতি শুনইতে
দুরিত দীপগণ ভাগ।
ভয়ে আকুল                      অণিমাদি মৃগীকুল
পুনবত গরব তেয়াগ॥
ত্যাগ যাগ যম                   তিরিথি বরত শম
শশ জাম্বুকী জরি জাতি।
বলরামদাস কহ                   অতএ সে জগমাহ
হরি হরি শবদ খেয়াতি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদা॥

কলিযুগ-মত্ত-মতঙ্গ যম-বদনে কুমতি করিণী দূর গেল।
পামর দুরগত নাম মোতিম-শত-দাম কন্ঠ ভরি গেল॥
অপরূপ গৌর বিরাজ।
শ্রীনবদ্বীপ নগর-গিরি-কন্দরে, উয়ল কেশরী রাজ॥
সঙ্কীর্ত্তন-ঘন হুঙ্কৃতি শুনইতে, দুরিত দ্বীপিগণ-ভাগ।
ভয়ে আকুল, অণিমাদি মৃগীকুল, পুণবত-গরব তেয়াগ॥
ত্যাগ যাগ যম তিরিথ তরসল, লালসা জম্বুকী জরি যাতি।
বলরাম দাস কহ, অতয়ে যে জগমাহ, হরি হরি শবদ খেয়াতি॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি "রায়
অনন্ত" ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে।

(গৌরাবতারের ঐশ্বর্য্য ও মাধুর্য্য)
॥ কামোদ॥

কলিযুগ মত্ত মতঙ্গজ মরদনে কুমতি করিণি দূরে গেল।
পামর দুরগত নাম মোতি শত দাম কন্ঠ ভরি দেল॥
অপরূপ গৌর বিরাজ।
শ্রীনবদ্বীপ নগর গিরিকন্দরে উঅল কেশরীরাজ॥ ধ্রু॥
সংকীর্ত্তন ঘন হুঙ্কৃতি শুনইতে, দুরিত-দ্বীপিগণ ভাগ।
ভয়ে আকুল, অণিমাদি মৃগীকুল, পুনবত গরব তেয়াগ॥
ত্যাগ যাগ যম, তিরিথি বরত সম, শশ জম্বুকী জরিজাতি।
বলরাম দাস১ কহ, অতয়ে সে জগমাহ হরি হরি শবদ খেয়াতি॥

১ - গ্রন্থান্তরে রায় অনন্ত।

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০১-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কলিযুগ-মত্ত-                        মতঙ্গ যম-বদনে,
কুমতি করিণী দূর গেল।
পামর দুরগত                           নাম-মোতিম-
শত-দাম কন্ঠ ভরি দেল॥
অপরূপ গৌর বিরাজ।
শ্রীনবদ্বীপ নগর-                         গিরি-কন্দরে,
উয়ল কেশরি-রাজ॥
সংকীর্ত্তন-ঘন                          হুঙ্কৃতি শুনইতে
দুরিত-দ্বীপি গণ ভাগ।
ভয়ে আকুল                        অণিমাদি মৃগীকুল
পুণবত-গরব তেয়াগ॥
ত্যাগ হাগ যম                        তিরথ তরসল,
লালসা জম্বুকী জরি যাতি।
বলরাম দাস কহ                অতয়ে সে জগ মাহ,
হরি হরি শবদ খেয়াতি॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কলিযুগ-মত্ত-                    মাতঙ্গ যম-বদনে,
কুমতি করিণী দূর গেল।
পামর দূরগত                        নাম-মোতিম-
শত দাম কন্ঠ ভরি দেল॥
অপরূপ গৌর বিরাজ।
শ্রীনবদ্বীপ নগর                      গিরি-কন্দরে,
উয়ল কেশরী-রাজ॥
সঙ্কীর্ত্তন-ঘন                         হুঙ্কৃতি শুনইতে
দুরিত দ্বীপি গণ ভাগ।
ভয়ে আকুল                    অণিমাদি মৃগীকুল
পুণবত-গরব তেয়াগ॥
ত্যাগ হাগ-যম                      তীরথ তরসল,
লালসা জম্বুকী জরি যাতি।
বলরামদাস কহ               অভয়ে সে জগ মাহ,
হরি হরি শবদ খেয়াতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কলিযুগ-মত্ত-মতঙ্গজ-মরদনে
.        কুমতি-করিণি দুর গেল।
পামর দুরগত নাম-মোতি শত-
.        দাম কন্ঠ ভরি দেল॥
.        অপরূপ গৌর বিরাজ।
শ্রীনবদ্বীপ-নগর-গিরি-কন্দরে
.        ঊয়ল কেশরি-রাজ॥
সংকীর্ত্তন-রণ-হুঙ্কৃতি শুনইতে
.        দুরিত দীপি-গণ ভাগি।
ভয়ে আকুল অণিমাদি মৃগীকুল
.        পুণবত গরব তেয়াগি॥
যোগ যাগ কাম তীরথ বরত সম
.        শশ জম্বুকি জরি যাতি।
বলরাম দাস কহ অতয়ে সে জগমাহ
.        হরি-ধনি শবদ খেয়াতি॥

ব্যখ্যা -
(শ্রীগৌরচন্দ্রের পদপ্রহারে) কলিযুগরূপ মত্ত হস্তী মর্ন্দিত হইল। সঙ্গে সঙ্গে কুমতি করিণীও দূরে পলাইল।
গৌরচন্দ্র হরিনামরূপ শত শত মুক্তার মালা যাত দুর্গত পামরজনের কণ্ঠে পরাইয়া দিলেন। অপরূপ
শ্রীগৌরাঙ্গ বিরাজ করিতেছেন। নবদ্বীপ নগর-রূপ পর্ব্বতকন্দরে যেন সিংহ-শ্রেষ্ঠ উদিত হইলেন।
সংকীর্ত্তনের রণ-হুঙ্কার শুনিতেই পাপ-ব্যাঘ্রগণ দূরে পলাইল। অণিমাদি অষ্টসিদ্ধিরূপ হরিণী সকল পূণ্য-গর্ব্ব
ত্যাগ করিয়া ভয়ে আকুল হইল। যোদ, যজ্ঞ, কামনাময় (অর্থাৎ কাম্যকর্ম্ম রূপ) তীর্থব্রতাদি শশক শৃগালের
মত জরাজীর্ণ হইয়া গেল। বলরাম দাস বলিতেছেন এই জন্যই জগৎ-মাঝে হরিধ্বনির এত খ্যাতি।
---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

কলিযুগ-মত্ত-মতঙ্গজ-মরদনে
.        কুমতি-করিণি দুর গেল।
পামর দুরগত নাম-মোতি শত-
.        দাম কন্ঠ ভরি দেল॥
.        অপরূপ গৌর বিরাজ।
শ্রীনবদ্বীপ-নগর-গিরি-কন্দরে
.        উয়ল কেশরি-রাজ॥
সংকীর্ত্তন-রণ হুঙ্কৃতি শুনইতে
.        দুরিত দীপি-গণ ভাগি।
ভয়ে আকুল অণিমাদি মৃগীকুল
.        পুনবত গরব তেয়াগি॥
ত্যাগ যাগ যম তিরিথি বরত সম
.        শশ জম্বুকি জরি যাতি।
বলরাম দাস কহ অতয়ে সে জগমাহ
.        হরি-ধনি শবদ খেয়াতি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভাব ভরে গর গর চিত
ভাবভরে গদগদ চিত
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৩য় পল্লব, স্বয়ং দৌত্য,
৬৩৫ পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১১১২ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

ভাব ভরে গর গর চিত।
খেণে উঠে খেণে বৈসে না পায় সম্বিত॥
অতি রসে নাহি বান্ধে থেহ।
সোঙরি সোঙরি কান্দে পুরুব সুনেহ॥
নাচে পহু গোরা নট-রাজ।
কি লাগি গোকুল-পতি সঙ্কীর্ত্তন মাঝ॥ ধ্রু॥
নিজ পর কিছুই না জানে।
দীন হীন উত্তম অধম নাহি মানে॥
প্রিয়-গদাধর-কর ধরি।
মরম-কথাটি কহে ফুকরি ফুকরি॥
ডগমগ আনন্দ-হিলোলে।
লোলিয়া লোলিয়া পড়ে পতিতের কোলে॥
গোরা-রসে সব রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ হৃদয়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই সংকলনে দুবার রয়েছে।

॥ নাপিতিনী মিলন॥ তদ্ভাবাবৃত শ্রীশচীসুত॥

ভাবভরে গদগদ চিত। খেনে উঠে খেনে বৈসে না পায় সম্বিত॥
মান বিরহ জ্বরে ভোরা। পুরূব সুনেহ সঙরি কান্দে গোরা॥
গৌরীদাস আসিও মিলিল। মরমক ভাব গোরার মরমে বুঝিল॥
পহু কহে দুটি কর ধরি। নিজভাব বিথারই কহএ উগারি॥
ডগমগ আনন্দ-হিলোলে। গৌরীদাস ভাব বুঝি বিনয়েতে বলে॥
গোরারসে সব রসময়। না বুঝল বলরাম পাষাণহৃদয়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় রক্ষিত,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই সংকলনে দুবার রয়েছে।

॥ প্রেমবিচার তদুচিত মহাপ্রভু॥

ভাবভরে গরগর চিত। খেনে উঠে খেনে বৈসে না পায় সম্বিত॥
অতি রসে বান্ধহ থেহ। সোঙরি কান্দে পুরব সুনেহ॥
নাচে পহু গোরা নটরাজ। কি লাগি গোকুলপতি সংকীর্তন মাঝ॥
নিজ পর কিছুই না জানে। উত্তম অধম নাহি মানে॥
ডগমগি প্রেম হিল্লোল। ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে ভকতের কোল॥
প্রিয় গদাধর কর ধরি। মরন কথাটি কহে ফুকরি ফুকরি॥
এবে সে জগত রসময়। নাহি দ্রবে বলরাম পাষাণহৃদয়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীগৌরচন্দ্র, ১৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভাব ভরে গর গর চিত।
ক্ষণে উঠে ক্ষণে বৈসে না পায় সম্বিত॥
হরি রসে নাহি বান্ধে থেহ।
সোঙরি সোঙরি কান্দে পূরব সুনেহ॥
নাচে পহুঁ গোরা নটরাজ।
কি লাগি গোকুলপতি সঙ্কীর্ত্তন মাঝ॥
প্রিয় গদাধর কর ধরি।
মরম কথাটী কহে ফুকরি ফুকরি॥
ডগমগ আনন্দ হিলোলে।
লোলিয়া লোলিয়া পড়ে পতিতের কোলে॥
গোরা রসে সব রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ হৃদয়॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভাব-ভরে গর গর চিত। ক্ষণে উঠে ক্ষণে বৈসে না পান সম্বিত॥
হরি রসে নাহি বান্ধে থেহ। সোঙরি কান্দে পূরু সুলেহ॥
নাচে পহু গোরা নটরাজ। কি লাগি গোকুলপতি সঙ্কীর্ত্তন মাঝ॥
প্রিয় গদাধর করে ধরি। মরম কথাটি কহে ফুকরি ফুকরি॥
ডগ মগ আনন্দ হিলোলে। লোলিয়া লোলিয়া পড়ে পতিতের কোলে॥
গোরা রসে সব রসময়। না দরবে বলরাম পাষাণ হৃদয়॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩২৬-পৃষ্ঠায় ২য়বার এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগৌরচন্দ্র॥

ভাব-ভরে গর গর চিত। খেনে উঠে খেনে বৈসে না পায় সম্বিত॥
অতি রসে নাহি বান্ধে থেহ। সোঙরি কাঁদে পুরুষ সুলেহ॥
নাচে পহু গোরা নটরাজ। কি লাগি গোকুলপতি সংকীর্ত্তন মাঝ॥
নিজ পর কিছুই না জানে। উত্তম অধম নাহি মানে॥
ডগ মগ প্রেম-হিল্লোলে। ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে ভকতের কোলে॥
প্রিয় গদাধর-কর ধরি। মরম কথাটী কহে ফুকরি ফুকরি॥
এ রসে জগত রসময়। না দরবে বলরাম পাষাণ হৃদয়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০৪-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভাব ভরে গর গর চিত।
ক্ষণে উঠে ক্ষণে বৈসে নাপান সম্বিত॥
হরি রসে নাহি বান্ধে থেহ।
সোঙরি কান্দে পূরব সুলেহ॥
নাচে পহুঁ গোরা নটরাজ।
কি লাগি গোকুলপতি সঙ্কীর্ত্তন মাঝ॥
প্রিয় গদাধর করে ধরি।
মরম কথাটী কহে ফুকরি ফুকরি॥
ডগ মগ আনন্দ হিলোলে।
লোলিয়া লোলিয়া পড়ে পতিতের কোলে॥
গোরা-রসে সব রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ-হৃদয়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১০-পৃষ্ঠায় ২য়
বার এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগৌরচন্দ্র॥

ভাব-ভরে গর গর চিত।
খেণে উঠে খেণে বৈসে না পায় সম্বিত॥
অতি রসে নাহি বান্ধে থেহ।
সোঙরি সোঙরি কাঁদে পুরুষ সুলেহ॥
নাচে পহু গোরা নটরাজ।
কি লাগি গোকুল-পতি সংকীর্ত্তন মাঝ॥
নিজ পর কিছুই না জানে।
উত্তম অধম নাহি মানে॥
ডগ মগ প্রেম-হিল্লোলে।
ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে ভকতের কোলে॥
প্রিয় গদাধর-কর ধরি।
মরম কথাটী কহে, ফুকরি ফুকরি॥
এ রসে জগৎ রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ হৃদয়॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই পদটি দুইবার দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভাব ভরে গর গর চিত।
ক্ষণে উঠে ক্ষণে বৈসে না পান সম্বিত॥
হরি রসে নাহি বান্ধে থেহ।
সোঙরি কান্দে পূরব সুলেহ॥
নাচে পহু গোরা নটরাজ।
কি লাগি গোকুলপতি সংকীর্ত্তনমাঝ॥
প্রিয় গদাধর করে ধরি।
মরম কথাটী কহে ফুকরি ফুকরি॥
ডগমগ আনন্দ হিলোলে।
লোলিয়া লোলিয়া পড়ে পতিতের কোলে॥
গোরারসে সব রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ হৃদয়॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই পদটি দুইবার দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগৌরচন্দ্র॥

ভাব-ভরে গর গর চিত।
খেণে উঠে খেণে বৈসে না পান সম্বিত॥
অতি রসে নাহি বান্ধে থেহ।
সোঙরি সোঙরি কান্দে পূরুষ সুলেহ॥
নাচে পহু গোরা নটরাজ।
কি লাগি গোকুল-পতি সংকীর্ত্তনমাঝ॥
নিজ পর কিছুই না জানে।
উত্তম অধম নাহি মানে॥
ডগ মগ প্রেম হিল্লোলে।
ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে ভকতের কোলে॥
প্রিয় গদাধর-কর ধরি।
মরম কথাটি কহে ফুকরি ফুকরি॥
এ রসে জগৎ রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ হৃদয়॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভাব ভরে গর গর চিত।
ক্ষণে উঠে ক্ষণে বৈসে না পায় সম্বিত॥
হরি রসে নাহি বাঁধে থেহ।
সোঙরি সোঙরি কাঁদে পূরুব সুলেহ॥
নাচে পহুঁ গোরা নটরাজ।
কি লাগি গোকুলপতি সংকীর্ত্তন মাঝ॥
প্রিয় গদাধর-করে ধরি।
মরম কথাটী কহে ফুকরি ফুকরি॥
ডগমগ আনন্দ-হিল্লোল।
লুটিয়া লুটিয়া পড়ে পতিতের কোল॥
গোরারসে সব রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ হৃদয়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
॥ সুহই - সমতাল॥

ভাব ভরে গর গর চিত।
খেণে উঠে খেণে বৈসে না পায় সম্বিত॥
অতি রসে নাহি বান্ধে থেহ।
সোঙরি সোঙরি কান্দে পূরুব সুনেহ॥
নাচে পহুঁ গোরা নটরাজ।
কি লাগি গোকুলপতি সঙ্কীর্ত্তন মাঝ॥ ধ্রু॥
নিজ পর কিছুই না জানে।
দীন হীন উত্তম অধম নাহি মানে॥
প্রিয় গদাধর কর ধরি।
মরম কথাটি কহে ফুকরি ফুকরি॥
ডগমগ আনন্দ হিলোলে।
লোলিয়া লোলিয়া পড়ে পতিতের কোলে॥
গোরা-রসে সব রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ-হৃদয়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ভাব-ভরে গরগর চিত।
খেণে উঠে খেণে বৈসে না পায় সম্বিত॥
অতি রসে নাহি বান্ধে থেহ।
সোঙরি সোঙরি কান্দে পুরুব সুনেহ॥
নাচে পহু গোরা নট-রাজ।
কি লাগি গোকুল-পতি সঙ্কীর্ত্তন মাঝ॥
নিজ পর কিছুই না জানে।
দীনহীন উত্তম অধম নাহি মানে॥
প্রিয়-গদাধর কর ধরি।
মরম-কথাটি কহে ফুকরি ফুকরি॥
ডগমগ আনন্দ-হিলোলে।
লোলিয়া লোলিয়া পড়ে পতিতের কোলে॥
গোরা-রসে সব রসময়।
না দরবে বলরাম পাষাণ-হৃদয়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর