কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
গৌর বরণ মণি আভরণ
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
রাধামোহন ঠাকুর রচিত ও সংকলিত, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত পদামৃত সমুদ্র সংকলনের
প্রথম মুদ্রিত সংস্করণে ১২৮৫ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খৃষ্টাব্দ), ৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ততো বক্ষ্যমাণোচিত গৌরচন্দ্র যথা।
॥ ধানসীরাগ মধুর তালৌ॥

গৌরবরণ মণিঅভরণ নটুয়া মোহন বেশ।
দেখিতে দেখিতে ভুবন ভুলিল টলিল সকল দেশ॥
মলুঁ মলুঁ সই দেখিয়া গৌর ঠাম।
বধিতে যুবতী কি বিধি গড়ল কামের উপর কাম॥ ধ্রু॥
চম্পা নাগেশ্বর মল্লী থরে থর বিনোদ কেশের সাজ।
ও রূপ দেখিতে যুবতী উনমতি ছাড়ল ধৈরজ লাজ॥
সে ভঙ্গী দেখিয়া পতি উপেখিয়া নদীয়া নাগরী কান্দে।
ভণে বলরাম আপনা নিছিল গোরা সে পদ নখর চান্দে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২১০৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২২১৭ সংখ্যক পদ।

অথ শ্রীগৌরচন্দ্রস্য রূপাদিবর্ণনং।
॥ মঙ্গল॥

গৌর-বরণ                        মণি-আভরণ
নাটুয়া-মোহন বেশ।
দেখিতে দেখিতে                    ভুবন ভুলল
টলিল সকল দেশ॥
মলুঁ মলুঁ সোই দেখিয়া গৌর-ঠাম।
বধিতে যুবতী                    গঢ়ল কি বিধি
কামের উপরে কাম॥ ধ্রু॥
চাঁপা নাগেশ্বর                    মল্লী থরে থর
বিনোদ কেশের সাজ।
ও রূপ দেখিতে                  যুবতী উমতি
হরল ধৈরজ লাজ॥
ও রূপ দেখিয়া                 পতি উপেখিয়া
নদীয়া-নাগরী কান্দে।
ভণে বলরাম                    আপনা নিছিল
গোরা-পদ-নখ-ছান্দে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

গৌর বরণ,                       মণি আভরণ,
নাটুয়া মোহন বেশ।
দেখিতে দেখিতে,                  ভুবন ভুলল,
চলিল সকল দেশ॥
মলুঁ মলুঁ সোই দেখিয়া গৌর ঠাম।
বধিতে যুবতী,                  গঢ়ল কো বিহি,
কামের উপরে কাম॥ ধ্রু॥
চাঁপা নাগেশ্বর,                  মল্লিকা সুন্দর,
বিনোদ কেশের সাজ।
ওরূপ দেখিতে,                  যুবতী উমতি,
ধরল ধৈরজ লাজ॥
ওরূপ দেখিয়া,                    নদীয়া নাগরী,
পতি উপেখিয়া কান্দে।
ভালে বলরাম,                  আপনা নিছিল,
গোরাপদ নখছান্দে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গৌর বরণ, মণি আভরণ, নাটুয়া মোহন-বেশ।
দেখিতে দেখিতে, ভুবন ভুলল, টলল সকল দেশ॥
মনু মনু সোই দেখিয়া গৌর ঠাম।
বধিতে যুবতী, গঢ়ল কো বিধি, কামের উপরে কাম॥
চাঁপা নাগেশ্বর, মল্লিকা সুন্দর, বিনোদ কেশের সাজ।
ও রূপ দেখিতে, যুবতী উমতি, ছাড়ল ধৈরজ লাজ॥
ও রূপ দেখিয়া, পতি উপেখিয়া, নদীয়া-নাগরী কান্দে।
ভণে বলরাম, আপনা নিছিল, গোরাপদ-নখ ছান্দে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

গৌরবরণ, মণি-আভরণ, নটুয়া মোহন বেশ।
দেখিতে দেখিতে ভুবন ভুলল, ঢলিল সকল দেশ॥
মনু মনু সই দেখিয়া গোরা ঠাম।
বধিতে যুবতী গড়ল কো বিধি, কামের উপরে কাম॥ ধ্রু
চাঁপা নাগেশ্বর মল্লিকা সুন্দর, বিনোদ কেশের সাজ।
ও রূপ দেখিতে যুবতী উমতি, ধরব ধৈরজ লাজ॥
ও রূপ দেখিয়া নদীয়ানাগরী পতি উপেখিয়া কাঁদে।
ভালে বলরাম, আপনা নিছিল, গোরাপদনখছাঁদে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৪-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গৌর বরণ,                      মণি আভরণ,
নাটুয়া মোহন বেশ।
দেখিতে দেখিতে,                   ভুবন ভুলল,
টলিল সকল দেশ॥
মনু মনু সোই দেখিয়া গৌর ঠাম।
বধিতে যুবতী,                  গঢ়ল কি বিধি,
কামের উপরে কাম॥
চাঁপা নাগেশ্বর,                  মল্লিকা সুন্দর,
বিনোদ কেশের সাজ।
ও রূপ দেখিতে,                 যুবতী উমতি,
ছাড়ল ধৈরয লাজ॥
ওরূপ দেখিয়া,                 পতি উপেখিয়া,
নদীয়া-নাগরী কান্দে।
ভণে বলরাম,                  আপনা নিছিল,
গোরা-পদ নখ-ছান্দে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গৌর বরণ                        মণি আভরণ
নাটুয়া মোহন বেশ।
দেখিতে দেখিতে                   ভুবন ভুলল
টলিল সকল দেশ॥
মনু মনু সোই দেখিয়া গৌর ঠাম।
বধিতে যুবতী                    গঢ়ল কি বিধি
কামের উপরে কাম॥
চাঁপা নাগেশ্বর                   মল্লীকা সুন্দর
বিনোদ কেশের সাজ।
ও রূপ দেখিতে                 যুবতী উমতি
হরল ধৈরয লাজ॥
ও রূপ দেখিয়া                পতি উপেখিয়া
নদীয়া নাগরী কান্দে।
ভণে বলরাম                   আপনা নিছিল
গোরা-পদ নখ ছান্দে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন
পাদাবলী”, তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরী - তেওট॥

গৌর বরণ                        মণি-আভরণ
নাটুয়া মোহন বেশ।
দেখিতে দেখিতে                   ভুবন ভুলল
টলিল সকল দেশ॥
মলুঁ মলুঁ সই! দেখিয়া গৌর ঠাম।
বধিতে যুবতী                   গঢ়ল কি বিধি
কামের উপরে কাম॥ ধ্রু॥
চাঁপা নাগেশ্বর                  মল্লিকা সুন্দর
বিনোদ কেশের সাজ।
ওরূপ দেখিতে                  যুবতী উমতি
হরল ধৈরয লাজ॥
ও রূপ দেখিয়া                পতি উপেখিয়া
নদীয়া-নাগরী কান্দে।
ভণে বলরাম                   আপনা নিছিল
গোরাপদ-নখ ছান্দে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গৌর-বরণ                        মণি-আভরণ
নাটুয়া-মোহন বেশ।
দেখিতে দেখিতে                   ভুবন ভুলল
টলিল সকল দেশ॥
মলুঁ মলুঁ সোই দেখিয়া গৌর-ঠাম।
বধিতে যুবতী                   গঢ়ল কি বিধি
কামের উপরে কাম॥
চাঁপা নাগেশ্বর                   মল্লী থরে থর
বিনোদ কেশের সাজ।
ও রূপ দেখিতে                  যুবতী উমতি
হরল ধৈরজ লাজ॥
ও রূপ দেখিয়া                 পতি উপেখিয়া
নদীয়া-নাগরী কান্দে।
ভণে বলরাম                    আপনা নিছিল
গোরা-পদ-নখ-ছান্দে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর
কোথায় আছিল গোরা ভুবন সুন্দর
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৮শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১১০-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২২১৮ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর।
ও রূপে মুগধ কৈল নদীয়া নগর॥
বান্ধিয়া চিকণ কেশ দিয়া নানা ফুলে।
রঙ্গণ মালতী যূথী বান্ধুলী বকুলে॥
মধু-লোভে মধুকর তাহে কত উড়ে।
ও রূপ দেখিতে প্রাণ নাহি রহে ধড়ে॥
মণি-মুকুতার হার ঝলমল বুকে।
প্রতি অঙ্গে আভরণ বিজুরী চমকে॥
কুঙ্কুমে লেপিত অঙ্গ চন্দন মিশালে।
আজানুলম্বিত ভুজ বনমালা গলে॥
মন্থর চলনি গতি দুদিগে হেলনি।
অমিয়া উথলে কিবা গ্রীবার দোলনি॥
চলিতে মধুর-নাদে নূপুর বাজে পায়।
বলরাম দাস বলে নিছনি যাঙ তায়॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর।
ওরূপে মুগধ কৈল নদীয়া নগর॥
বাঁধিয়া চিকণ কেশ দিয়া নানা ফুলে।
রঙ্গণ মালতী যূথী পারুলী বকুলে॥
মধু লোভে মধুকর তাহে কত উড়ে।
ও রূপ দেখিতে প্রাণ নাহি রহে ধড়ে॥
মণি-মুকুতার হার ঝলমল বুকে।
প্রতি অঙ্গে আভরণ বিজুরী চমকে॥
কুঙ্কুমে লেপিত অঙ্গ চন্দন মিশালে।
আজানু-লম্বিত ভুজ বনমালা গলে॥
মন্থর চলনি গতি দুদিকে হেলানি।
অমিয়া উথলে কিবা গ্রীবার দোলনি॥
চলিতে মধুর নাদে নূপুর বাজে পায়।
বলরাম দাস বলে নিছনি যাঙ তায়॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর।
ও রূপে মুগধ কৈল নদীয়া নগর॥
বান্ধিয়া চিকণ কেশ দিয়া নানা ফুলে।
রঙ্গণ মালতী যূথী বান্ধুলী বকুলে॥
মধু-লোভে মধুকর তাহে কত উড়ে।
ও রূপ দেখিতে প্রাণ নাহি রহে ধড়ে॥
মণি মুকুতার হার ঝলমল বুকে।
প্রতি অঙ্গে আভরণ বিজুরী চমকে॥
কুঙ্কুমে লেপিত অঙ্গ চন্দন মিশালে।
আজানুলম্বিত ভুজ বনমালা গলে॥
মন্থর চলনি গতি দুদিকে হেলানি।
অমিয়া উথলে কিবা গ্রীবার দোলনি॥
চলিতে মধুর নাদে নূপুর বাজে পায়।
বলরামদাস বলে নিছনি যাউ তায়॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৭৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর।
ও রূপে মুগধ কৈল নদীয়া নগর॥
বান্ধিয়া চিকণ কেশ দিয়া নানা ফুলে।
রঙ্গণ মালতী যূথী বান্ধুলী বকুলে॥
মধু-লোভে মধুকর তাহে কত উড়ে।
ও রূপ দেখিতে প্রাণ নাহি রহে ধড়ে॥
মণি-মুকুতার হার ঝলমল বুকে।
প্রতি অঙ্গে আভরণ বিজুরী চমকে॥
কুঙ্কুমে লেপিত অঙ্গ চন্দন মিশালে।
আজানুলম্বিত ভুজ বনমালা গলে॥
মন্থর চলনি গতি দুদিগে হেলনি।
অমিয়া উথলে কিবা গ্রীবার দোলনি॥
চলিতে মধুর-নাদে নূপুর বাজে পায়।
বলরাম দাস বলে নিছনি যাঙ তায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর।
ও রূপে মুগধ কৈল নদীয়ানগর॥
বান্ধিয়া চিকণ কেশ দিয়া নানা ফুলে।
রঙ্গণ মালতী যূথী বান্ধুলী বকুলে॥
মধু-লোভে মধুকর তাহে কত উড়ে।
ওরূপ দেখিতে প্রাণ নাহি রহে ধড়ে॥
মণি মুকুতার হার ঝলমল বুকে।
প্রতি অঙ্গে আভরণ বিজুরী চমকে॥
কুঙ্কুমে লেপিত অঙ্গ চন্দন মিশালে।
আজানুলম্বিত ভুজ বনমালা গলে॥
মন্থর চলনি গতি দুদিগে হেলানি।
অমিয়া উথলে কিবা গ্রীবার দোলনি॥
চলিতে মধুর নাদে নূপুর বাজে পায়।
বলরাম দাস বলে নিছনি যাউ তায়॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর।
ও রূপে মুগধ কৈল নদীয়ানগর॥
বান্ধি চিকণ কেশ দিয়া নানা ফুলে।
রঙ্গণ মালতী যূথী বান্ধুলী বকুলে॥
মধু-লোভে মধুকর তাহে কত উড়ে।
ও রূপ দেখিতে প্রাণ নাহি রহে ধড়ে॥
মণি মুকুতার হার ঝলমল বুকে।
প্রতি অঙ্গে আভরণ বিজুরী চমকে॥
কুঙ্কুমে লেপিত অঙ্গ চন্দন মিশালে।
আজানুলম্বিত ভুজ বনমালা গলে॥
মন্থর চলনি গতি দুদিকে হেলানি।
অমিয়া উথলে কিবা গ্রীবার দোলনি॥
চলিতে মধুর নাদে নূপুর বাজে পায়।
বলরাম দাস কহে নিছনি যাঙ তায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কোথায় আছিল গোরা ভুবন সুন্দর।
ও রূপে মুগধ কৈল নদীয়া নগর॥
বান্ধিয়া চঁচর কেশ দিয়া নানা ফুলে।
রঙ্গণ মালতী যূথী বান্ধুলী বকুলে॥
মধুলোভে মধুকর তাহে কত উড়ে।
ও রূপ দেখিতে প্রাণ নাহি রহে ধড়ে॥
চন্দনে লেপিত অঙ্গ কুম্ কুম্ মিশালে।
আজানুলম্বিত ভুজ বনমালা গলে॥
মণি মুকুতার হার ঝলমল বুকে।
প্রতি অঙ্গে আভরণ বিজুরী চমকে॥
মন্থর চলনি গতি দুদিকে হেলনি।
অমিয়া উথলে কিবা গ্রীবার দোলনি॥
চলিতে মধুর নাদে নূপুর বাজে পায়।
বলরাম দাস কহে নিছনি যাঙ তায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কোথায় আছিল গোরা এমন সুন্দর।
ও রূপে মুগধ কৈল নদীয়া নগর॥
বান্ধিয়া চিকণ কেশ দিয়া নানা ফুলে।
রঙ্গণ মালতী যূথী বান্ধুলী বকুলে॥
মধু-লোভে মধুকর তাহে কত উড়ে।
ও রূপ দেখিতে প্রাণ নাহি রহে ধড়ে॥
মণি-মুকুতার হার ঝলমল বুকে।
প্রতি অঙ্গে আভরণ বিজুরী চমকে॥
কুঙ্কুমে লেপিত অঙ্গ চন্দন মিশালে।
আজানুলম্বিত ভুজ বনমালা গলে॥
মন্থর চলনি গতি দুদিগে হেলনি।
অমিয়া উথলে কিবা গ্রীবার দোলনি॥
চলিতে মধুর-নাদে নূপুর বাজে পায়।
বলরাম দাস বলে নিছনি যাঙ তায়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌর মনোহর নাগর শেখর
ভনিতা বলরাম / বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ২৮৮-পৃষ্ঠা।

॥ পুনঃ তোড়ী॥

গৌর মনোহর নাগর-শেখর। হেরইতে মুরুছই অসীম কুসুমশর॥
কাঞ্চন রুচিতর রুচিত কলেবর। মুখ হেরি রোয়ত শরদ সুধাকর॥
জিনি মত কুঞ্জর গতি অতি মন্থর। অধর সুধারস হসিত মধুর ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর। ভাবে অবশ তনু গর গর অন্তর॥
হেরি গদাধর মুখ অতি কাতর। রাই রাই করি পড়ই ধরণি পর॥
লোচন-জলধর বরিষয়ে ঝর ঝর। মরমে ভরম খর বিষম বিরহ-জ্বর॥
অতি রসে জর জর না চিনে আপন পর। রোয়ত করে ধরি পতিত নীচতর॥
ও রসসাগরে মগন সুরাসুর। বিন্দু না পরশ বলরামদাস পর॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩),
৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১১৩-পদসংখ্যায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২২২১ ও কমলাকান্ত দাসের
পদরত্নাকর পুথির ১৪|৭৬ সংখ্যক পদ।

॥ তুড়ী॥

গৌর মনোহর নাগর-শেখর।
হেরইতে মুরছই অসিম কুসুম-শর॥
কাঞ্চন রুচিতর রুচিত কলেবর।
মুখ হেরি রোয়ত শরদ-সুধাকর॥
জিনি মদ-কুঞ্জর গতি অতি মন্থর।
অধর-সুধারস মধুর হসিত ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর।
ভাবে অবশ তনু গরগর অন্তর॥
হেরি গদাধর-মুখ অতি কাতর।
রাই রাই করি পড়ই ধরণি পর॥
লোচন-জলধর বরিখয়ে ঝরঝর।
মরমে ভরল খর বিষম বিরহ-জর॥
অতি রসে গরগর না চিনে আপন পর।
রোয়ত করে ধরি পতিত নীচতর॥
ও রস-সাগরে মগন সুরাসুর।
বিন্দু না পরশল বলরাম দাস পর॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

গৌর মনোহর নাগর শেখর।
হেরইতে মূরুছই অসীম কুসুমশর॥
কাঞ্চন রুচিতর রচিত কলেবর।
মুখ হেরি রোয়ত শরদ-সুধাকর॥
জিনি মত্ত কুঞ্জর গতি অতি মন্থর।
অধর সুধারস মধুর হসিত ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর।
ভাবে অবশ তনু গর গর অন্তর॥
হেরি গদাধর মুখ অতি কাতর।
রাই রাই করি পড়ই ধরণীপর॥
লোচন জলধর বরিখয়ে ঝর ঝর।
মরমে ভরম খর বিষম বিরহ জ্বর॥
অতি রসে গর গর না চিনে আপন পর।
রোয়ত করে ধরি পতিত নীচতর॥
ওরস সাগরে মগন সুরাসুর।
বিন্দু না পরশল বলরাম দাস পর॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

গৌর মনোহর নাগর-শেখর।
হেরইতে মূরছই অসীম কুসুম-শর॥
কাঞ্চন রুচিতর রচিত কলেবর।
মুখ হেরি রোয়ত শরদ-সুধাকর॥
জিনি মত্ত কুঞ্জর, গতি অতি মন্থর।
অধর-সুধারস মধুর হসিত ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর।
ভাবে অবশ তনু গর গর অন্তর॥
হেরি গদাধর মুখ অতি কাতর।
রাই রাই করি পড়ই ধরণী পর॥
লোচন জলধর বরিখয়ে ঝর ঝর।
মরমে ভরম খর বিষম বিরহ-জ্বর॥
অতি রসে গর গর না চিনে আপন পর।
রোয়ত করে ধরি পতিত নীচতর॥
ও রস-সাগরে মগন সুরাসুর।
বিন্দু না পরশ বলরাম পর॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৯৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

গৌর মনোহর নাগর-শেখর।
হেরইতে মুরছই অসীম কুসুমশর॥
কাঞ্চনরুচিতর, রচিত কলেবর।
মুখ হেরি রোয়ত শরদ সুধাকর॥
জিনি মত্ত-কুঞ্জর-গতি অতি মন্থর।
অধর-সুধারস মধুর হসিত ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর।
ভাবে অবশ তনু গর গর অন্তর॥
হেরি গদাধরমুখ অতি কাতর।
রাই রাই করি পড়ই ধরণী পর॥
লোচন-জলধর বরিখয়ে ঝর ঝর।
রোয়ত করে ধরি পতিত নীচতর॥
ও রস-সায়রে মগন সুরাসুর।
বিন্দু না পরশ বলরাম পর॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

গৌর মনোহর নাগর-শেখর।
হেরইতে মূরুছই অসীম কুসুম-শর॥
কাঞ্চন রুচিতর রচিত কলেবর।
মুখ হেরি রোয়ত শরদ-সুধাকর॥
জিনি মত্ত কুঞ্জর গতি অতি মন্থর।
অধর-সুধারস মধুর হসিত ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর।
ভাবে অবশ তনু গর গর অন্তর॥
হেরি গদাধর-মুখ অতি কাতর।
রাই রাই করি পড়ই ধরণী’পর॥
লোচন জলধর বরিখয়ে ঝর ঝর।
মরমে ভরম খর বিষম বিরহ-জ্বর॥
অতি রসে গর গর না চিনে আপন পর।
রোয়ত করে ধরি পতিত নীচ তর॥
রস-সাগরে মগন সুরাসুর।
বিন্দু না পরশ বলরাম পর॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

গৌর মনোহর নাগর-শেখর।
হেরইতে মূরছই অসীম কুসুম-শর॥
কাঞ্চন রুচিতর রচিত কলেবর।
মুখ হেরি রোয়ত শরত-সুধাকর॥
জিনি মত্ত কুঞ্জর গতি অতি মন্থর।
অধর সুধারস মধুর হসিত ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর।
ভাবে অবশ তনু গর গর অন্তর॥
হেরি গদাধরমুখ অতি কাতর।
রাই রাই করি পড়ই ধরণী’পর॥
লোচন জলধর বরিখয়ে ঝর ঝর।
মরমে ভরম খর বিষম বিরহ জ্বর॥
অতি রসে গর গর না চিনে আপন পর।
রোয়ত করে ধরি পতিত নীচতর॥
ওরস সাগরে মগন সুরাসুর।
বিন্দু না পরশল বলরাম দাস পর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

গৌর মনোহর নাগর শেখর।
হেরইতে মুরছই অসীম কুসুমশর॥
কাঞ্চন রুচিতর রুচির কলেবর।
মুখ হেরি রোয়ত শরদসুধাকর॥
জিনি মদকুঞ্জর গতি অতি মন্থর।
অধর সুধারস মধুর হসিত ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর।
ভাবে অবশ তনু গরগর অন্তর॥
হেরি গদাধর মুখ অতি কাতর।
রাই রাই করি পড়ই ধরণি পর॥
লোচন জলধর বরিখয়ে ঝরঝর।
মরমে ভরল খর বিষম বিরহজর॥
অতি রসে গরগর না চিনে আপন পর।
রোয়ত করে ধরি পতিত নীচতর॥
ও রসসাগরে মগন সুরাসুর।
বিন্দু না পরশল বলরাম দাস পর॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

গৌর মনোহর নাগর-শেখর।
হেরইতে মুরছই অসিম কুসুম-শর॥
কাঞ্চন রুচিতর রুচিত কলেবর।
মুখ হেরি রোয়ত শরদ-সুধাকর॥
জিনি মদ-কুঞ্জর গতি অতি মন্থর।
অধর সুধারস মধুর হসিত ঝর॥
নিজ নাম মন্তর জপয়ে নিরন্তর।
ভাবে অবশ তনু গরগর অন্তর॥
হেরি গদাধর-মুখ অতি কাতর।
রাই রাই করি পড়ই ধরণি পর॥
লোচন-জলধর বরিখয়ে ঝরঝর।
মরমে ভরল খর বিষম বিরহ-জর॥
অতি রসে গরগর না চিনে আপন পর।
রোয়ত করে ধরি পতিত নীচতর॥
ও রস-সাগরে মগন সুরাসুর।
বিন্দু না পরশল বলরাম দাস পর॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পূরবে গোপত কৈলা বরজ সমাজে
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীগৌরচন্দ্র, ২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

পূরবে গোপত কৈলা বরজ সমাজে।
এবে তাঁহা গোঙাইলা সঙ্কীর্ত্তন মাঝে॥
কেন হেন কৈলা গৌরাঙ্গ  কেন হেন কৈলা।
কুলবধূ সনে প্রেম তাহা প্রকাশিলা॥  ধ্রু॥
যত যত প্রিয়জন কহিলা তারে।
যাচিয়া যাচিয়া এবে দিলা সভাকারে॥
উত্তম জনারে কহি না পূরল সাধ।
জগভরি গাওয়াইলা নিজ পরিবাদ॥
@          @          @            @
না বুঝল বলরাম করমের দোষে॥

@ - এই গ্রন্থে এই পংক্তিটি দেওয়া নেই।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ বরাড়ী॥

পূরবে গোপত কৈলা বরজ সমাজে।
এবে তাঁহা বিলাইলা সঙ্কীর্ত্তন মাঝে॥
কেন হেন কৈলা গৌর কেন হেন কৈলা।
কুলবধূ সনে প্রেম তাহা প্রকাশিলা॥
যত যত প্রিয়জন না কহিলা তারে।
যাচিয়া যাচিয়া এবে দিলা সভাকারে॥
উত্তম জনারে কহি না পূরল সাধ।
জগভরি গাওয়াইলা নিজ পরিবাদ॥
জগতের যত জন এই রসে ভাসে।
না বুঝল বলরাম করমের দোষে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

পূরবে গোপত কৈলা বরজ সমাজে।
এবে তাঁহা গোঙাইলা সঙ্কীর্ত্তন মাঝে॥
কেন হেন কৈলা গৌরাঙ্গ কেন হেন কৈলা।
কুলবধূ সনে প্রেম তাহা প্রকাশিলা॥
যত যত প্রিয়জন কহিলা তারে।
যাচিয়া যাচিয়া এবে দিলা সভাকারে॥
উত্তম জনারে কহি না পূরল সাধ।
জগভরি গাওয়াইলা নিজ পরিবাদ॥
@          @          @            @
না বুঝল বলরাম করমের দোষে॥

@ - এই গ্রন্থে এই পংক্তিটি দেওয়া নেই।

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পুলক মুকুল ভরু অঙ্গে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীগৌরচন্দ্র, ২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

পুলক মুকুল ভরু অঙ্গে।
ডগমগ প্রেম তরঙ্গে॥
খেনে উঠে খেনে পুন বৈসে।
জ্বর জ্বর রসের আবেশে॥
নাচে গৌরাঙ্গ প্রেম মণি।
দীন হীন কৈল প্রেম ধনী॥
স্বেদ কম্পে তনু নহ থির।
ঘন ঘন গরজে গভীর॥
প্রেম ভরে ঢলি ঢলি চলে।
খেনে রহি হরি হরি বোলে॥
কিয়ে অপরূপ ক্ষিতিতলে।
গোপীপতি পতিতের কোলে॥
প্রেম রসে জগজন ভাসে।
বঞ্চিত বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

পুলক মুকুল ভরু অঙ্গে।
ডগমগ প্রেম তরঙ্গে॥
খেনে উঠে খেনে পুন বৈসে।
জ্বর জ্বর রসের আবেশে॥
নাচে গৌরাঙ্গ প্রেম মণি।
দীন হীন কৈল প্রেম ধনী॥
স্বেদ কম্পে তনু নহ থির।
ঘন ঘন গরজে গভীর॥
প্রেম ভরে ঢলি ঢলি চলে।
খেনে রহি হরি হরি বোলে॥
কিয়ে অপরূপ ক্ষিতিতলে।
গোপীপতি পতিতের কোলে॥
প্রেম রসে জগজন ভাসে।
বঞ্চিত বলরাম দাসে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নটবর রসিক রমণী মনমোহন
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৪৯-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৫৪
সংখ্যক পদ।

॥ সিন্ধুড়া॥

নটবর রসিক রমণি-মনমোহন
.                কত শত বেশ বিলাস।
শ্যাম বরণ পর গৌর কলেবর
.                অখিল ভুবন পরকাশ॥
দেখ দেখ অদভুত পহুক বিলাস।
রঙ্গিণি-সঙ্গ-রঙ্গ-রস-রঙ্গিত
.                হেন জন করিল সন্ন্যাস॥
নায়রি-কুচ-তট-কুঙ্কুম-মণ্ডিত
.                বসন বেশ ধরু সাধে।
গোরিক থোরি বদন-বিধু চুম্বন
.                হৃদয় গহন উনমাদে॥
তাকর গাঢ় আলিঙ্গন সঙ্গমে
.                পুলকিত অতি অবসাধে।
মনসিজ-সমরে পরাভব অন্তরে
.                তেঁ অতি করয়ে বিষাদে॥
মরকত-বরণ রতন-মণি-ভূষণ
.                তেজি অব তরু-তলে বাস।
লম্পট-গুরুবর কোন সিধি সাধয়ে
.                না বুঝই বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নটবর রসিক,                   রমণী মনমোহন,
কত শত বেশ বিলাস।
শ্যামরি বরণ পর,                 গৌর কলেবর,
অখিল ভুবন পরকাশ॥
দেখ দেখ অদভুত পহুঁক বিলাস।
রঙ্গিণী সঙ্গ,                        রঙ্গরস রঙ্গিত,
হেনজন করিল সন্ন্যাস॥ ধ্রু॥
নায়রি কুচতট,                      কুঙ্কুম মণ্ডিত,
বসন বেশ ধরু সাধে।
গোরীক থোরি,                    বদন বিধু চুম্বন,
হৃদয়ে গহন উনমাদে॥
তাকর গাঢ়,                       আলিঙ্গন সঙ্গম,
পুলকিত অতিশয় সাধে।
মনসিজ সমরে,                   পরাভব অন্তরে,
তেঁ অতি করয়ে বিষাদে॥
মরকত বরণ,                     রতনমণি ভূষণ,
তেজি অব তরুতলে বাস।
লম্পট গুরুবর,                কোন সিদ্ধি সাধয়ে,
না বুঝই বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নটবর রসিক, রমণী-মনমোহন, কত শত বেশ বিলাস।
শ্যাম বিবরণ পর, গৌর কলেবর, অখিল ভুবন পরকাশ॥
দেখ দেখ অদভুত পহুক বিলাস।
রঙ্গিণী সঙ্গ, রঙ্গরস রঙ্গিত, হেন জন করিল সন্ন্যাস॥
নায়রী কুচ-তটকুঙ্কুম-মণ্ডিত, বসন বেশ ধরু সাধে।
গৌরিক গৌরী, বদন-বিধু চুম্বন, হৃদয়ে গহন উনমাদে॥
তাকর গাঢ়, আলিঙ্গন সঙ্গম, পুলকিত অতিশয় সাধে।
মনসিজ-সমরে, পরাভব অন্তরে, আতি করয়ে বিষাদে॥
মরকত বরণ, রতন-মণি-ভূষণ, তেজি অব তরুতলে বাস।
লম্পট গুরুবর, কোন সিদ্ধি সাধয়ে, না বুঝই বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ সিন্ধুড়া॥

নটবর রসিক রমণি-মনমোহন
.                কত শত বেশ বিলাস।
শ্যাম বরণ পর গৌর কলেবর
.                অখিল ভুবন পরকাশ॥
দেখ দেখ অদভুত পহুক বিলাস।
রঙ্গিণি-সঙ্গ-রঙ্গ-রস-রঙ্গিত
.                হেন জন করিল সন্ন্যাস॥
নায়রি-কুচ-তট-কুঙ্কুম-মণ্ডিত
.                বসন বেশ ধরু সাধে।
গোরিক থোরি বদন-বিধু চুম্বন
.                হৃদয় গহন উনমাদে॥
তাকর গাঢ় আলিঙ্গন সঙ্গমে
.                পুলকিত অতি অবসাদে।
মনসিজ-সমরে পরাভব অন্তরে
.                তেঁ অতি করয়ে বিষাদে॥
মরকত-বরণ রতন-মণি-ভূষণ
.                তেজি অব তরু-তলে বাস।
লম্পট-গুরুবর কোন সিধি সাধয়ে
.                না বুঝই বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

নটবর রসিক রমণি-মনমোহন
.        কত শত বেশ বিলাস।
শ্যাম বরণ পর গৌর কলেবর
.        অখিল ভুবন পরকাশ॥
.        দেখ দেখ অদভুত পহুক বিলাস।
রঙ্গিণি-সঙ্গ-রঙ্গ-রস-রঙ্গিত
.        হেন জন করিল সন্ন্যাস॥
নায়রি-কুচ-তট-কুঙ্কুম-মণ্ডিত
.        বসন বেশ ধরু সাধে।
গোরিক থোরি বদন-বিধু চুম্বন
.        হৃদয় গহন উনমাদে॥
তাকর গাঢ় আলিঙ্গন সঙ্গমে
.        পুলকিত অতি অবসাধে।
মনসিজ-সমরে পরাভব অন্তরে
.        তেঁ অতি করয়ে বিষাদে॥
মরকত-বরণ রতন-মণি-ভূষণ
.        তেজি অব তরু-তলে বাস।
লম্পট-গুরুবর কোন সিধি সাধয়ে
.        না বুঝই বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোপীগণ কুচ কুঙ্কুমে রঞ্জিত
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ )  রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গোপীগণ কুচ,                    কুঙ্কুমে রঞ্জিত,
অরুণ বসন শোভে অঙ্গে।
কাঞ্চন নিন্দিত,                   কান্তি কলেবর,
রাই পরশ রসরঙ্গে॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌর বিলাস।
লাখ যুবতীপতি,                যো গুরু লম্পট,
সো অব করল সন্ন্যাস॥ ধ্রু॥
যো ব্রজ বধূগণ,                  দৃঢ় ভুজ বন্ধন,
অবিরত রহত আগোর।
সো তনু পুলকে,              পূরিত অব ঢর ঢর,
নয়ানে গলয়ে প্রেম লোর॥
যো নটবর,                     ঘনশ্যাম কলেবর,
বৃন্দা বিপিন বিহারী।
কহয়ে বলরাম,                  নটবর সো অব
অকিঞ্চন ঘরে ঘরে প্রেম বিথারী॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গোপীগণ কুচ, কুঙ্কুমে রঞ্জিত, অরুণ বসন শোভে অঙ্গে।
কাঞ্চন-নিন্দিতকান্তি কলেবর রাই পরশ-রস রঙ্গে॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌর-বিলাস।
যো লাখ যুবতী, রতি-গুরু লম্পট, সো অব করল সন্ন্যাস॥
সো ব্রজ বধূগণ, দৃঢ় ভুজবন্ধন, অবিরত রহত আগোর।
সে তনু পুলকে, পূরিত অব ঢর ঢর, নয়ানে গলয়ে প্রেম-লোর॥
যো নটবর, ঘনশ্যাম কলেবর, বৃন্দাবিপিন-বিহারী।
কহয়ে বলরাম, সো অব অকিঞ্চন, ঘরে ঘরে প্রেম ভিখারী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিহরে আজু রসিক রাজ
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১১১-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৪৩০ ও
২২১৯সংখ্যক পদ।

॥ তুড়ী॥

বিহরে আজু রসিক-রাজ
গৌরচন্দ্র নদিয়া-মাঝ
কুঞ্জ কেশরপুঞ্জ উজোর
.        কনক-রুচির-কাঁতিয়া।

কোটি কাম রূপ-ধাম
ভুবনমোহন লাবণি ঠাম
হেরত জগত-যুবতি উমতি
.        ধৈরজ ধরম তেজিয়া॥

অসিম পুণিম-শরদ-চন্দ
কিরণ-দমন বদন-ছন্দ
কুন্দ-কুসুম নিন্দি সুষম
.        মঞ্জু দশন-পাঁতিয়া।

বিম্বু-অধরে মধুর হাসি
বমই কতহিঁ অমিয়া-রাশি
শুধই সীধু-নিকর নিঝর
.        বচন ঐছন ভাতিয়া॥

মধুর বরজ-বিপিন-কুঞ্জ
মধুর পিরিতি-আরতি-পুঞ্জ
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ
.        মুগদ দিবস রাতিয়া।

ভাবে অবশ অলস ধন্দ
চলত চলত খলত মন্দ
পতিত-কোর পড়ত ভোর
.        নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥

অরুণ নয়ানে করুণ চাই
সঘনে জপয়ে রাই রাই
নটত উমত লুঠত ভ্রমত
.        ফুটত মরম ছাতিয়া।

উত্তম মধ্যম অধম জীব
সবহুঁ  প্রেম-অমিয়া পীব
তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে
.        সাধু ঠামে অপরাধিয়া॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ টোড়ী॥

বিহরে আজু রসিক রাজ গৌরচন্দ্র নদিয়া মাঝ কুঞ্জ কেশর পুঞ্জ উজর কনকরুচির কাঁতিয়া।
কোটিকাম রূপ ধাম ভুবন মোহন লাবণি ঠাম হেরত জগত যুবতী উমতি ধৈরজ ধরম তেজিয়া॥
অসিম শরদ পূণিম চন্দ কিরণ বদন বদন ছন্দ কুন্দ কুসুম নিন্দি সুষম মঞ্জুরদল পাতিয়া।
বিম্বু অধরে মধুর হাসি বমই কতই অমিয়া রাশি সুধই সিন্ধু নিকর নিঝর বচন রচন ভাঁতিয়া॥
মধুর বরজ বিপিনকুঞ্জ মধুর যুবতী পিরিতি পুঞ্জ সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ মুগধ দিবস রাতিয়া।
ভাবে অবশ অলস ধন্দ চলত নটত খলত মন্দ পতিত কোর পড়ত ভোর নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥
অরুণ নয়ানে অরুণ চাই সঘনে জপয়ে রাই রাই নটত উমত লুটই ভ্রমত ফুটত মরত ছাতিয়া।
উত্তম মধ্যম অধম জীব সবহুঁ  প্রেমে অমীয়া পীব তহি বলরাম বঞ্চিত অধম সুঠাম অপরাধিয়া॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”, ২৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

বিহরে আজু রসিক রাজ
গৌরচন্দ্র নদীয়া মাঝ,
কুঞ্জ কেশর পুঞ্জ উজোর
.        কনক রুচির কাঁতিয়া।
কোটী কাম রূপ ধাম,
ভুবনমোহন লাবণী ঠাম,
হেরত জগত যুবতী উমতি
.        ধৈরয ধরণ তেজিয়া॥
অসীম পূর্ণিমার শরদ চন্দ
কিরণ মদন বদন ছন্দ,
কুন্দ কুসুম নিন্দি সুষম
.        মঞ্জু বসন পাঁতিয়া।
বিম্ব অধরে মধুর হাসি
বমইক তঁহি অমিয়া রাশি
সুধুই সীধুনি ঝরে নিঝর
.        বচন ঐছন ভাঁতিয়া॥
মধুর বরজ বিপিন কুঞ্জ,
মধুর পিরীতি আরতি পুঞ্জ,
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ
.        মুগ্ধ দিবস রাতিয়া।
আবেশে  অবশ অলস ধন্দ,
চলত চলত খলত মন্দ
পতিত কোর পড়ত ভোর
.        নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥
অরুণ নয়ানে করুণ চাই,
সঘনে জপয়ে রাই রাই,
নটত উমত লুটত ভ্রমত
.        ফুটত মরম ছাতিয়া।
উত্তম মধ্যম অধম জীব
সবহুঁ প্রেম অমিয়া পীব,
তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে
.        সাধু ঠামে অপরাধিয়া॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

বিহরে আজু রসিক রাজ,
গৌরচন্দ্র নদীয়া মাঝ,
কুঞ্জ কেশর পুঞ্জ উজোর,
.        কনক রুচির কাঁতিয়া।
কোটি কাম রূপ ধাম,
ভুবন মোহন লাবণি ঠাম,
হেরত জগত যুবতী উমতী,
.        ধৈরজ ধরম তেজিয়া॥
অসীম পূণিম শরদ চন্দ,
কিরণ মদন–বদন ছন্দ,
কুন্দ কুসুম নিন্দি ,সুষম,
.              মঞ্জু সদন পাঁতিয়া।
বিম্ব অধরে মধুর হাসি,
বমই কতহি আমিয়া রাশি,
সুধই সিধু নিকর নিঝর,
.               বচন ঐছন ভাঁতিয়া॥
মধুর বরজ --- বিপিন কুঞ্জ,
মধুর পিরীতি আরতি পুঞ্জ,
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ,
.                মুগধ দিবস রাতিয়া।
আবেশে অবশ অলস ধন্দ,
চলত চলত খলত মন্দ,
পতিত কোর পড়ত ভোর,
.             নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥
অরুণ নয়ানে করুণ চাই,
সঘনে জপয়ে রাই রাই,
নটত উমত লুঠত ভ্রমত,
.               ফুটত মরম ছাতিয়া
উত্তম মধ্যম অধম জীব,
সবহুঁ প্রেম অমিয়া পীব,
তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে,
.                সাধু ঠামে অপরাধিরা॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

বিহরে আজু রসিকরাজ, গৌরচন্দ্র নদীয়া মাঝ, কুঞ্জ কেশরপুঞ্জ উজোর কনক-রুচির-কাঁতিয়া।
কোটি কাম রূপধাম, ভুবনমোহন লাবণী ঠাম, হেরত জগত যুবতী উমতি ধৈরজ ধরম তেজিয়া॥
অসিম পূর্ণিমা-শরদ-চন্দ, কিরণ মদন বদন-ছন্দ, কুন্দ কুসুম নিন্দি সুষম মঞ্জু বসন-পাঁতিয়া।
বিম্ব অধরে মধুর হাসি, বমই কাতহুঁ অমিয়া রাশি, সুধই সীধু-নিকরে নিঝরে বচন ঐছন ভাতিয়া॥
মধুর বরজ-বিপিন-কুঞ্জ, মধুর পিরীতি আরতি-পুঞ্জ, সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ মুগধ দিবস রাতিয়া।
আবেশে অবশ অলস ধন্দ, চলত চলত খলত মন্দ, পতিত কোর পড়ত ভোর, নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥
অরুণ নয়ানে অরুণ চাই, সঘনে জপয়ে রাই রাই, নটত উমত লুঠতে ভ্রমত, ফুটত মরম ছাতিয়া।
উত্তম মধ্যম অধম জীব, সবহুঁ প্রেম-অমীয়া পিব, তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে সাধু ঠামে অপরাধিয়া॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিহরে আজি রসিকরাজ, গৌরচন্দ্র নদিয়া মাঝ,
কুঞ্জকেশর পুঞ্জ উজর, কনকরুচির কাঁতিয়া।
কোটি কাম রূপ ধাম, ভুবনমোহন লাবণি ঠাম,
হেরত জগত-যুবতী উমতী ধৈরজ ধরম তেজিয়া॥
অসীম পূণিম শরদচন্দ, কিরণ মদন বদন ছন্দ,
কুন্দকুসুম নিন্দি সুষম, মঞ্জু সদন পাঁতিয়া।
বিম্বু-অধরে মধুর হাসি, বমই কতহি অমিয়া রাশি,
সুধই সীধু নিকর ঝিকর বচন ঐছন ভাঁতিয়া॥
মধুর বরজবিপিনকুঞ্জ, মধুর পিরীতি আরতি পুঞ্জ,
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ, মুগধ দিবস রাতিয়া।
আবেশে অবশ অলসবন্দ, চলত চলত খলত মন্দ,
পতিত কোর পড়ত ভোর, নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥
অরুণ নয়ানে করুণ চাই, সঘনে জপয়ে রাই রাই,
নটত উমত লুটত ভ্রমত ফুটত মরম ছাতিয়া।
উত্তম মধ্যম অধম জীব, সবহুঁ প্রেম অমীঞা পীব,
তহি বলরাম বঞ্চিত একলে সাধু ঠামে অপরাধিয়া॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪১৫-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

বিহরে আজু রসিক-রাজ
গৌরচন্দ নদীয়া মাঝ
কুঞ্জ কেশরপুঞ্জ উজোর
কনক-রুচির-কাঁতিয়া।
কোটি কাম রূপ-ধাম
ভুবনমোহন লাবণী ঠাম
হেরত জগত যুবতী উমতি
ধৈরয ধরম তেজিয়া॥
অসীম পূর্ণিমা-শরদ চন্দ
কিরণ মদন বদন-ছন্দ
কুন্দ-কুসুম নিন্দি সুষম
মঞ্চু বসন-পাঁতিয়া।
বিম্বু অধরে মধুর হাসি
বমই কতহি অমিয়া রাশি
সুধই সীধু-নিকরে নিঝরে
বচন ঐছন ভাতিয়া॥
মধুর বরজ-বিপিন-কুঞ্জ
মধুর পিরীতি আরতি-পুঞ্জ
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ
মুগধ দিবস রাতিয়া।
আবেশে অবশ অলস ধন্দ
চলত চলত খলত মন্দ
পতিত কোর পড়ত ভোর
নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥
অরুণ নয়ানে করুণ চাই
সঘনে জপয়ে রাই রাই
নটত উমত লুঠত ভ্রমত
ফুটত মরম ছাতিয়া।
উত্তম মধ্যম অধম জীব
সবহুঁ  প্রেম অমিয়া পিব
তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে
সাধু-ঠামে অপরাধিয়া॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

বিহরে আজু রসিক-রাজ
গৌরচন্দ নদীয়া মাঝ,
কুঞ্জ কেশরপুঞ্জ উজোর
কনক-রুচির-কাঁতিয়া।
কোটি কাম রূপ-ধাম
ভুবনমোহন লাবণী ঠাম
হেরত জগত যুবতী উমতি
ধৈরয ধরম তেজিয়া॥
অসীম পূর্ণিমা-শরদ চন্দ
কিরণ মদন বদন-ছন্দ
কুন্দ-কুসুম নিন্দি সুষম
মঞ্চু বসন পাঁতিয়া।
বিম্বু অধরে মধুর হাসি
বমই কতহি অমিয়া রাশি
সুধই সীধু-নিকরে নিঝরে
বচন ঐছন ভাতিয়া॥
মধুর বরজ বিপিন-কুঞ্জ
মধুর পিরীতি আরতি-পুঞ্জ
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ
মুগধ দিবস রাতিয়া।
আবেশে অবশ অলস ধন্দ
চলত চলত খলত মন্দ
পতিত কোর পড়ত ভোর
নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥
অরুণ নয়ানে করুণ চাই
সঘনে জপয়ে রাই রাই
নটত উমত লুঠত ভ্রমত
ফুটত মরম ছাতিয়া।
উত্তম মধ্যম অধম জীব
সবহুঁ  প্রেম অমিয়া পীব
তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে
সাধু-ঠামে অপরাধিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী - যপতাল॥

বিহরে আজু রসিক রাজ
গৌরচন্দ্র নদিয়া মাঝ
কুঞ্জ কেশরপুঞ্জ উজোর
.        কনক-রুচির-কাঁতিয়া।

কোটি কাম রূপ-ধাম
ভুবনমোহন লাবণি ঠাম
হেরত জগত-যুবতি উমতি
.        ধৈরজ ধরম তেজিয়া॥

অসিম পুণিম-শরদ-চন্দ
কিরণ-দমন বদন-ছন্দ
কুন্দ-কুসুম নিন্দি সুষম
.        মঞ্জু দশন-পাঁতিয়া।

বিম্ব-অধরে মধুর হাসি
বমই কতহি অমিয়া-রাশি
শুধই সীধু-নিকর নিঝর
.        বচন ঐছন ভাতিয়া॥

মধুর বরজ-বিপিন-কুঞ্জ
মধুর পিরিতি-আরতি পুঞ্জ
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ
.        মুগদ দিবস রাতিয়া।

ভাবে অবশ অলস ধন্দ
চলত চলত খলত মন্দ
পতিত-কোর পড়ত ভোর
.        নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥

অরুণ নয়ানে করুণ চাই
সঘনে জপয়ে রাই রাই
নটত উমত লুঠত ভ্রমত
.        ফুটত মরম ছাতিয়া।

উত্তম মধ্যম অধম জীব
সবহুঁ  প্রেম-অমিয়া পীব
তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে
.        সাধু-ঠামে অপরাধিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

বিহরে আজু রসিকরাজ
গৌরচন্দ্র নদিয়া মাঝ
কঞ্জ কেশরপুঞ্জ উজোর
.        কনক রুচির কাঁতিয়া।
কোটি কাম রূপধাম
ভুবনমোহন লাবণি ঠাম
হেরত জগতযুবতি উমতি
.        ধৈরজ ধরম ঘাতিয়া॥
কিবা সে পুণিম শরদচন্দ-
কিরণদমন বদনছন্দ
কুন্দ-কুসুম নিন্দি সুষম
.        মঞ্জু দশন-পাঁতিয়া।
বিম্ব-অধরে মধুর হাস
বমই কতহিঁ অমিয়া রাশ
শুধই সীধু নিকর নিঝর
.        বচন ঐছন ভাতিয়া॥
মধুর বরজ বিপিনকুঞ্জ
মধুর পিরীতি আরতি পুঞ্জ
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ
.        মুগধ দিবস রাতিয়া।
ভাবে অবশ অলস ধন্দ
চলত ঢলত খলত মন্দ
পতিত কোর পড়ত ভোর
.        নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥
অরুণ নয়ানে করুণ চাই
সঘনে জপয়ে রাই রাই
নটত উমত লুঠত ভ্রমত
.        ফুটত মরম ছাতিয়া।
উত্তম মধ্যম অধম জীব
সবহুঁ  প্রেম-অমিয়া পীব
তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে
.        সাধু ঠামে অপরাধিয়া॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

বিহরে আজু রসিক-রাজ
গৌরচন্দ্র নদিয়া-মাঝ
কুঞ্জ কেশরপুঞ্জ উজোর
.        কনক-রুচির-কাঁতিয়া।

কোটি কাম রূপ-ধাম
ভুবনমোহন লাবণি ঠাম
হেরত জগত-যুবতি উমতি
.        ধৈরজ ধরম তেজিয়া॥

অসিম পুণিম-শরদ-চন্দ
কিরণ-দমন বদন-ছন্দ
কুন্দ-কুসুম নিন্দি সুষম
.        মঞ্জু দশন-পাঁতিয়া।

বিম্বু-অধরে মধুর হাসি
বমই কতহিঁ অমিয়া-রাশি
শুধই সীধু-নিকর নিঝর
.        বচন ঐছন ভাতিয়া॥

মধুর বরজ-বিপিন-কুঞ্জ
মধুর পিরিতি-আরতি পুঞ্জ
সোঙরি সোঙরি অধিক অবশ
.        মুগদ দিবস রাতিয়া।

ভাবে অবশ অলস ধন্দ
চলত চলত খলত মন্দ
পতিত-কোর পড়ত ভোর
.        নিবিড় আনন্দে মাতিয়া॥

অরুণ নয়ানে করুণ চাই
সঘনে জপয়ে রাই রাই
নটত উমত লুঠত ভ্রমত
.        ফুটত মরম ছাতিয়া।

উত্তম মধ্যম অধম জীব
সবহুঁ  প্রেম-অমিয়া পীব
তহিঁ বলরাম বঞ্চিত একলে
.        সাধু ঠামে অপরাধিয়া॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কুসুমে খচিত রতনে রচিত
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩
খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ২-পৃষ্ঠা।

॥ পুনঃ দেশী তোড়ী॥

কুসুমে খচিত          রতনে রচিত          চিকণ চিকুর-বন্ধ।
মধুয়ে মুগধ          সৌরভে লুবধ          ক্ষুবধ মধুপ বৃন্দ॥
ললাট ফলক            পটির তিলক          কুটিল অলক সাজে।
তাণ্ডব-পণ্ডিত          কুণ্ডল-মণ্ডিত          গণ্ড-মণ্ডল রাজে॥
কি আজ পেখিলু          কি আজ পেখিলু          গৌরাঙ্গ রসিকরাজ।
ওরূপ দেখিতে          যুবতি উমতি          হরল ধৈরজ লাজ॥ ধ্রু॥
অপাঙ্গ ইঙ্গিত          ভাঙ বিভঙ্গিতে          তুঙ্গিত রঙ্গ-তরঙ্গ।
মদন-কদন          বিকল সকল          জগত যুবতি অঙ্গ॥
অধর বন্ধূক          মাধ্বীক অধিক          আধ মধুর হাসি।
বোলনি অলসে          কলসে কলসে          ঢালয়ে অমিয়া রাশি॥
কুন্দ দাম          ঠাম হি ঠাম          সুসম-কুসুম পাতি।
ততহি লোলুপ          মধুপী মধুপ          উড়য়ে পড়য়ে মাতি॥
হিরণ হীর          বিজুরি থীর          মোহন মোহন দেহে।
অরুণ কিরণ-          হরণ বরণ          বসণে ভুবন মোহে॥
কাম চমক          ঠাম ঠমক          কুন্দন কনক গোরা।
গন্ধ-সিন্ধুর          মন্দ মন্থর          গমনে ভুবন ভোরা॥
কঞ্জ চরণ          খঞ্জন-গঞ্জন          মঞ্জু মঞ্জীর ভাষ।
ইন্দু নিকর-          নখরচন্দ্র          বলি বলরাম দাস॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১৬৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২২৭১ সংখ্যক পদ।

॥ তুড়ী॥

কুসুমে খচিত                রতনে রচিত
চিকণ চিকুর-বন্ধ।
মধুতে মুগধ                সৌরভে লুবধ
খুবধ মধুপ বৃন্দ॥
ললাট-ফলক                পটীর তিলক
কুটিল অলকা সাজে।
তাণ্ডবে পণ্ডিত             কুণ্ডলে মণ্ডিত
গণ্ড-মণ্ডল রাজে॥
ও রূপ দেখিয়া              সতী কুলবতী
ছাড়ল কুলের লাজ।
ধরম করম                    সরম ভরম
মাথাতে পড়িল বাজ॥
অপাঙ্গ-ইঙ্গিতে             ভাঙর ভঙ্গিতে
অনঙ্গ-রঙ্গিত সঙ্গ।
মদন-কদন                    হোয়ল সদন
জগত-যুবতি-অঙ্গ॥
অধর বন্ধুক                মাধ্বীক-অধিক
আধ মধুর হাসি।
বেলিনি অলসে               কলসে কলসে
বময়ে অমিয়া-রাশি॥
কুন্দ-দাম                       ঠামহি ঠাম
কুসুম-সুষম পাঁতি।
ততহিঁ লোলুপ                মধুপী মধুপ
উড়িয়া পড়য়ে মাতি॥
হিরণ হীর                     বিজুরী থীর
শোহন মোহন দেহে।
অরুণ-কিরণ-                   হরণ বসন
বরণে যুবতী মোহে॥
কাম চমক                       ঠাম ঠমক
কুন্দন-কনক-গোরা।
মত্ততা-সিন্ধুর-                   গমন-মন্থর
হেরিয়া ভুবন ভোরা॥
কঞ্জ-চরণ                        খঞ্জন-গঞ্জন
মঞ্জু মঞ্জীর ভাষ।
ইন্দু-নিন্দন                      নখর ছন্দন
বনি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ২৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

কুসুমে খচিত,                  রতনে রচিত,
চিকণ চিকুর বন্ধ।
মধুতে মুগধ,                   সৌরভে লুবধ,
ক্ষুবধ মধুপ বৃন্দ॥
ললাট ফলক,                    পটির তিলক,
কুটিল অলকা সাজে।
তাণ্ডবে পণ্ডিত,               কুণ্ডলে মণ্ডিত,
গণ্ড মণ্ডল রাজে॥
ওরূপ দেখিয়া,                 সতী কুলবতী,
ছাড়ল কুলের লাজ।
ধরম করম,                      সরম ভরম,
মাথেতে পড়িল বাজ॥
অপাঙ্গ ইঙ্গিত,                 ভাঙর ভঙ্গিত,
অনঙ্গ রঙ্গিত সঙ্গ।
মদন কদন,                       হোয়ল সদন,
জগত যুবতী অঙ্গ॥
অধর বন্ধুক,                  মাধ্বিক অধিক,
আধ মধুর হাসি।
বোলনি অলসে,                 কলসে কলসে,
বময়ে অমিয়া রাশি॥
কুন্দ দাম,                          ঠামহি ঠাম,
কুসুম সুষম পাঁতি।
ততহি লোলুপ,                    মধুপী মধুপ,
উড়িয়া পড়য়ে মাতি॥
হিরণ হীর,                       বিজুরি থীর,
শোহন মোহন দেহে।
অরুণ কিরণ,                       হরণ বসন,
বরণে যুবতী মোহে॥
কাম চমক,                         ঠাম ঠমক,
কুন্দন কনক গোরা।
মত্ততা সিন্ধুর,                      গমন মন্থর,
হেরিয়া ভুবন ভোরা॥
কঞ্জ চরণ,                        খঞ্জন গঞ্জন,
মঞ্জু মঞ্জীর ভাষ।
ইন্দু নিন্দন,                      নখর ছন্দন,
বলি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

কুসুমে খচিত, রতনে রচিত, চিকণ চিকুর বন্ধ।
মধুতে মুগধ, সৌরভে লুবধ, ক্ষুবধ মধুপবৃন্দ॥
ললাট-ফলক, পটীর তিলক, কুটিল অলকা সাজে।
তাণ্ডবে পণ্ডিত, পুলকে মণ্ডিত, গণ্ড মণ্ডল রাজে॥
ও রূপ দেখিয়া, সতী কুলবতী, ছাড়ল কুলের লাজ।
ধরম করম, সরম ভরম, মাথেতে পড়িল বাজ॥
অপাঙ্গ ইঙ্গিতে, ভাঙর ভঙ্গিতে, অনঙ্গ রঙ্গিত সঙ্গ।
মদন কদন, হোয়ল সদন, জগত যুবতী অঙ্গ॥
অধর বন্ধুক, মাধ্বিক অধিক, আধ মধুর হাসি।
বোলনি অলসে, কলসে কলসে, বময়ে অমিয়া রাশি॥
কুন্দদাম, ঠামহি ঠাম, কুসুম সুষম পাঁতি।
ততহিঁ লোলুপ, মধুপী মধুপ, উড়িয়া পড়য়ে মাতি॥
হিরণ হীর বিজুরি থীর, শোহন মোহন দেহে।
অরুণ কিরণ হরণ বসন, বরণে যুবতী মোহে॥
কাম চমক ঠাম ঠমক, কুন্দন কনক গোরা।
মত্ততা সিন্ধুর গমন মন্থর, হেরিয়া ভুবন ভোরা॥
কঞ্জ চরণ খঞ্জন-গঞ্জন, মঞ্জু মঞ্জীর ভাষ।
ইন্দু-নিন্দন নখর ছন্দন, বলি বলরামদাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই
গ্রন্থে দুইবার দেওয়া রয়েছে।

তুড়ী॥

কুসুমে খচিত, রতনে রচিত, চিকণ চিকুরবন্ধ।
মধুতে মুগধ, সৌরভে লুবধ, ক্ষুবধ মধুপবৃন্দ॥
ললাটফলক পটীর তিলক, কুটিল অলকা সাজে।
তাণ্ডবে পণ্ডিত, কুণ্ডলে মণ্ডিত, গণ্ডমণ্ডল রাজে॥
ও রূপ দেখিয়া, সতী কুলবতী, ছাড়ল কুলের লাজ।
ধরম করম, সরম ভরম, মাথাতে পড়িল বাজ॥
অপাঙ্গ ইঙ্গিত, ভাঙর ভঙ্গিত, অনঙ্গরঙ্গিত সঙ্গ।
মদন কদন, হোয়লু সদন, জগতযুবতী অঙ্গ॥
অধর বন্ধক মাধ্বিক অধিক, আধ মধুর হাসি।
বোলনি অলসে, কলসে কলসে, বময়ে অমিয়ারাশি॥
কুন্দদাম ঠামহি ঠাম কুসুম সুষম পাঁতি।
ততহি লোলুপ, মধুপী মধুপ, উড়িয়া পড়য়ে মাতি॥
হিরণ হীর, বিজুরী থীর, শোহন মোহন দেহে।
অরুণ কিরণ-হরণ বসন, বরণে যুবতী মোহে॥
কাম চমক, ঠাম ঠমক, কুন্দন কনক গোরা।
মত্ততা সিন্ধুর, গমন মন্থর, হেরিয়া ভুবন ভোরা॥
কঞ্জ চরণ, খঞ্জনগঞ্জন, মঞ্জু মঞ্জীর ভাষ।
ইন্দুনিন্দন, নখরছন্দন, বলি বলরাম দাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই
গ্রন্থে দুইবার দেওয়া রয়েছে।

তুড়ী॥

কুসুমে খচিত, রতনে রচিত, চিকণ চিকুর-বন্ধ।
মধুতে মুগধ, সৌরভে লুবধ, ক্ষুবধ মধুপবৃন্দ॥
ললাটফলক, পীবর তিলক, কুটিল অলকা সাজে।
তাণ্ডবে পণ্ডিত, পুলকে মণ্ডিত, গণ্ডমণ্ডল রাজে॥
ও রূপ দেখিয়া, সতী কুলবতী, ছাড়ল কুলের লাজ।
ধরম করম, সরম ভরম, মাথাতে পড়িল বাজ॥
অপাঙ্গ ইঙ্গিত, ভাঙর ভঙ্গিত, অনঙ্গ-রঙ্গিত সঙ্গ।
মদন কদন, হোয়ল সদন, জগত-যুবতী অঙ্গ॥
অধর বন্ধূক মাধ্বীক অধিক, আধ মধুর হাসি।
বোলনি অলসে, কলসে কলসে, বময়ে অমিয়ারাশি॥
কুন্দ-দাম ঠামহি ঠাম, কুসুম-সুষম-পাঁতি।
ততহি লোলুপ, মধুপী-মধুপ, উড়িয়া পড়য়ে মাতি॥
হিরণহীর বিজুরী থীর, শোহন মোহন দেহে।
অরুণ-কিরণ-হরণ বসন, বরণে যুবতী মোহে॥
কাম চমক, ঠাম ঠমক, কুন্দন কনক গোরা।
করুণাসিন্ধুর, গমন মন্থর, হেরিয়া ভুবন ভোরা॥
কঞ্জ চরণ, খঞ্জন-গঞ্জন, মঞ্জু মঞ্জীর ভাষ।
ইন্দুনিন্দন, নখরছন্দন, বলি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

কুসুমে খচিত                রতনে রচিত
চিকণ চিকুরবন্ধ।
মধুতে মুগধ                  সৌরভে লুবধ
খুবধ মধুপবৃন্দ॥
ললাট ফলক                   পটের তিলক
কুটিল অলকা সাজে।
তাণ্ডবে পণ্ডিত              কুণ্ডলে মণ্ডিত
গণ্ডমণ্ডল রাজে॥
ও রূপ দেখিয়া                সতী কুলবতী
ছাড়ল কুলের লাজ।
ধরম করম                      সরম ভরম
মাথাতে পড়িল বাজ॥
অপাঙ্গ ইঙ্গিতে              ভাঙর ভঙ্গিতে
অনঙ্গরঙ্গিত সঙ্গ।
মদনকদন                       হোয়ল সদন
জগতযুবতিঅঙ্গ॥
অধর বন্ধুক                   মাধ্বীকঅধিক
আধ মধুর হাসি।
বেলনি অলসে                কলসে কলসে
বময়ে অমিয়ারাশি॥
কুন্দদাম                           ঠামহি ঠাম
কুসুমসুষম পাঁতি।
ততহিঁ লোলুপ                  মধুপী মধুপ
উড়িয়া পড়য়ে মাতি॥
হিরণ হীর                       বিজুরী থীর
শোহন মোহন দেহে।
অরুণ কিরণ-                    হরণ বসন
বরণে যুবতী মোহে॥
কাম চমক                        ঠাম ঠমক
কুন্দন কনক গোরা।
মত্ত সিন্ধুর-                       গমন মন্থর
হেরিয়া ভুবন ভোরা॥
কঞ্জচরণ                           খঞ্জনগঞ্জন
মঞ্জু মঞ্জীর ভাষ।
ইন্দু নিন্দন                       নখর ছন্দন
বনি বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

কুসুমে খচিত                রতনে রচিত
চিকণ চিকুর-বন্ধ।
মধুতে মুগধ                  সৌরভে লুবধ
খুবধ মধুপ বৃন্দ॥
ললাট-ফলক                    পটীর তিলক
কুটিল অলকা সাজে।
তাণ্ডবে পণ্ডিত               কুণ্ডলে মণ্ডিত
গণ্ড-মণ্ডল রাজে॥
ও রূপ দেখিয়া                সতী কুলবতী
ছাড়ল কুলের লাজ।
ধরম করম                       সরম ভরম
মাথাতে পড়িল বাজ॥
অপাঙ্গ-ইঙ্গিতে                ভাঙর ভঙ্গিতে
অনঙ্গ-রঙ্গিত সঙ্গ।
মদন-কদন                       হোয়ল সদন
জগত-যুবতি-অঙ্গ॥
অধর বন্ধুক                  মাধ্বীক-অধিক
আধ মধুর হাসি।
বেলিনি অলসে                কলসে কলসে
বময়ে অমিয়া-রাশি॥
কুন্দ-দাম                        ঠামহি ঠাম
কুসুম-সুষম পাঁতি।
ততহিঁ লোলুপ                  মধুপী মধুপ
উড়িয়া পড়য়ে মাতি॥
হিরণ হীর                      বিজুরী থীর
শোহন মোহন দেহে।
অরুণ-কিরণ-                    হরণ বসন
বরণে যুবতী মোহে॥
কাম চমক                       ঠাম ঠমক
কুন্দন-কনক-গোরা।
মত্ততা-সিন্ধুর-                    গমন-মন্থর
হেরিয়া ভুবন ভোরা॥
কঞ্জ-চরণ                        খঞ্জন-গঞ্জন
মঞ্জু মঞ্জীর ভাষ।
ইন্দু-নিন্দন                     নখর ছন্দন
বনি বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ততঞ্জলি করি প্রভু করিলেন আচমন
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৩১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ততঞ্জলি করি প্রভু করিলেন আচমন।
কর্পূর তাম্বুলে করেন মুখের সোধন॥
মুখের সোধন করি সেই গৌর হরি।
সঙ্কীর্ত্তনের মাঝে যেয়ে নাচে ফিরি ফিরি॥
নাচেরে গৌরাঙ্গচান্দ সঙ্কীর্ত্তনের মাঝে।
সোণার নূপুর রাঙ্গা চরণে বিরাজে॥
বামে নাচে গদাধর দক্ষিণে মুকুন্দ।
সম্মুখে নাচয়ে শ্রীনিবাস নিত্যানন্দ॥
পূরবে পুরুষোত্তম পরম পণ্ডিত।
দক্ষিণে দুলাল নাচে উত্তরে অদ্বৈত॥
অগ্নিকোণে অভিরাম মরুতে মুরারী।
ঈশানে ঈশান দাস নৈঋতে নরহরি॥
বেষ্টিত বৈষ্ণব সব কীর্ত্তন মণ্ডলে।
খোল করতাল বাজে ভাসে অশ্রুজলে॥
কোলাকুলি হুলাহুলি ভাবে নাহি ওর।
বলরাম দাস তহি ভাবেতে বিভোর॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ততঞ্জলি করি প্রভু করিলেন আচমন।
কর্পূর তাম্বুলে করেন মুখের সোধন॥
মুখের সোধন করি সেই গৌরহরি।
সঙ্কীর্ত্তনের মাঝে যেয়ে নাচে ফিরি ফিরি॥
নাচেরে গৌরাঙ্গচান্দ সঙ্কীর্ত্তনের মাঝে।
সোণার নূপুর রাঙ্গা চরণে বিরাজে॥
বামে নাচে গদাধর দক্ষিণে মুকুন্দ।
সম্মুখে নাচয়ে শ্রীনিবাস নিত্যানন্দ॥
পূরবে পুরুষোত্তম পরম পণ্ডিত।
দক্ষিণে দুলাল নাচে উত্তরে অদ্বৈত॥
অগ্নি কোণে অভিরাম মরুতে মুরারি।
ঈশানে ঈশান দাস নৈঋতে নরহরি॥
বেষ্টিত বৈষ্ণব সব কীর্ত্তন মণ্ডলে।
খোল করতাল বাজে ভাসে অশ্রুজলে॥
কোলাকুলি হুলাহুলি ভাবে নাহি ওর।
বলরাম দাস তহি ভাবেতে বিভোর॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর