কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
প্রভু কহে নিত্যানন্দ সব জীব হৈল অন্ধ
ভনিতা বলরাম / বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৬১-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৩৬৬
সংখ্যক পদ।

তত্র নিত্যানন্দচন্দ্রস্য গৌড়ে প্রেরণং যথা।
॥ বরাড়ী॥

প্রভু কহে নিত্যানন্দ                সব জীব হৈল অন্ধ
কেহো ত না পাইল হরিনাম।
এক নিবেদন তোরে                নয়ানে দেখিবে যারে
কৃপা করি লওয়াইবে নাম॥
কৃতপাপী দুরাচার                   নিন্দুক পাষণ্ড আর
কেহো যেন বঞ্চিত না হয়।
শমন বলিয়া ভয়                   জীবে যেন নাহি হয়
মুখে যেন হরিনাম লয়॥
কুমতি তার্কিক জন                     পড়ুয়া অধমগণ
জন্মে জন্মে ভকতি বিমুখ।
কৃষ্ণ-প্রেম দান করি                   বালক পুরুষ নারী
খণ্ডাইহ সবাকার দুখ॥
সঙ্কীর্ত্তন প্রেম রসে                    ভাসাইহ গৌড়দেশে
পূর্ণ কর সবাকার আশ।
হেন কৃপা-অবতারে                 উদ্ধার নহিল যারে
কি করিবে বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীনিত্যানন্দ চন্দ্র, ৩২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

প্রভু কহে নিত্যানন্দ,                সব জীব হৈল অন্ধ,
কেহো ত না পাইল হরিনাম।
এক নিবেদন তোরে,              নয়ানে দেখিবে যারে,
কৃপা করি লওয়াইবে নাম॥
কৃত পাপী দুরাচার,                 নিন্দুক পাষণ্ড আর,
কেহো যেন বঞ্চিত না হয়।
শমন বলিয়া ভয়,                  জীবে যেন নাহি হয়,
মুখে যেন হরিনাম লয়॥
কুমতি তার্কিক জন,                     পড়ুয়া অধমগণ,
জন্মে জন্মে ভকতি বিমুখ।
কৃষ্ণ প্রেম দান করি,                   বালক পুরুষ নারী,
খণ্ডাইহ সবাকার দুখ॥
সঙ্কীর্ত্তন প্রেম রসে,                   ভাসাইল গৌড়দেশে,
পূর্ণ কর সবাকার আশ।
হেন কৃপা অবতারে,                 উদ্ধার নহিল যারে,
কি করিবে বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

প্রভু কহে নিত্যানন্দ, সব জীব হৈল অন্ধ, কেহ ত না পাইল হরি-নাম।
এক নিবেদন তোরে, নয়ানে দেখিবে যারে, কৃপা করি লওয়াইবে নাম॥
কৃতপাপী দুরাচার, নিন্দুক পাষণ্ড আর, কেহো যেন বঞ্চিত না হয়।
শমন বলিয়া ভয়, জীবে যেন নাহি হয়, সুখে যেন হরিনাম লয়॥
কুমতি তার্কিক জন, পড়ুয়া অধমগণ, জন্মে জন্মে ভকতি-বিমুখ।
কৃষ্ণ-প্রেম দান করি, বালক পুরুষ নারী, খণ্ডাইহ সবাকার দুখ॥
সংকীর্ত্তন প্রেম-রসে, ভাসাইয়া গৌড়দেশে, পূর্ণ কর সবাকার আশ।
হেন কৃপা-অবতারে, উদ্ধার নহিল যারে, কি করিবে বলরামদাস॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ৫ম উচ্ছাস, ২৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

প্রভু কহে নিত্যানন্দ                সব জীব হৈল অন্ধ
কেহো ত না পাইল হরিনাম।
এক নিবেদন তোরে              নয়ানে দেখিবে যারে
কৃপা করি লওয়াইবে নাম॥
কতপাপী দুরাচার                  নিন্দুক পাষণ্ড আর
কেহো যেন বঞ্চিত না হয়।
শমন বলিয়া ভয়                  জীবে যেন নাহি হয়
মুখে যেন হরিনাম লয়॥
কুমতি তার্কিক জন                     পড়ুয়া অধমগণ
জন্মে জন্মে ভকতিবিমুখ।
কৃষ্ণপ্রেম দান করি                    বালক পুরুষ নারী
খণ্ডাইহ সবাকার দুখ॥
সঙ্কীর্ত্তন-প্রেমরসে                    ভাসাইল গৌড়দেশে
পূর্ণ কর সবাকার আশ।
হেন কৃপা অবতারে                 উদ্ধার নহিল যারে
কি করিবে বলরাম দাস॥

এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রভু কহে নিত্যানন্দ                জগজীব হৈল অন্ধ,
কেহত না পাইল হরিনাম।
এক নিবেদন তোরে,              নয়নে দেখিবে যারে,
কৃপা করি লওয়াইও নাম॥
কৃত পাপী দুরাচার,              নিন্দুক পাষণ্ডী আর,
কেহ যেন বঞ্চিত না হয়।
শমন বলিয়া ভয়,               জীবে যেন নাহি হয়,
সুখে যেন হরিনাম লয়॥
নাম প্রেম প্রচারিতে,             অদ্বৈতের হুঙ্কারেতে,
অবতীর্ণ হইনু ধরায়।
তারিতে কলির জীব,            করিতে তাদের শিব,
তুমি মোর পরম সহায়॥
মো হৈতে না হবে যাহা,         তুমিত পারিবে তাহা,
প্রেমদাতা পরম দয়াল।
বলরাম কহে পঁহু,                    দোঁহার সমান দুহুঁ
তার মোরে আমিত কাঙ্গাল॥

এই পদটি ১৯৩৩সালে (১৩৪০ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সঙ্কলিত ও সম্পাদিত
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী - একতালী॥

প্রভু কহে নিত্যানন্দ,                সব জীব হ’ল অন্ধ,
কেহ ত না পেল হরিনাম।
এই নিবেদন তোরে,               নয়ানে হেরিবি যারে,
কৃপা করি লওয়াইও নাম॥
কৃত পাপী দুরাচার,                নিন্দুক পাষণ্ডী আর,
কেহো যেন বঞ্চিত না হয়।
শমন বলিয়া ভয়,                  জীবে যেন নাহি হয়,
সুখে যেন হরিনাম লয়॥
কুমতি তার্কিক জন,                    পড়ুয়া অধম গণ,
জন্মে জন্মে ভকতি বিমুখ।
কৃষ্ণ প্রেম দান করি,                  বালক পুরুষ নারী,
খণ্ডাইহ সবাকার দুখ॥
সঙ্কীর্ত্তন প্রেম রসে,                 ভাসাইয়া গৌড় দেশে,
পূর্ণ কর সবাকার আশে।
হেন কৃপা অবতারে,                 উদ্ধার নহিল যারে,
কি করিবে বলরাম দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দ বিষয়ক।
শ্রীগৌরাঙ্গের উক্তি
॥ বরাড়ী॥

প্রভু কহে নিত্যানন্দ                সব জীব হৈল অন্ধ
কেহো ত না পাইল হরিনাম।
এক নিবেদন তোরে               নয়ানে দেখিবে যারে
কৃপা করি লওয়াইবে নাম॥
কতপাপী দুরাচার                  নিন্দুক পাষণ্ড আর
কেহো যেন বঞ্চিত না হয়।
শমন বলিয়া ভয়                  জীবে যেন নাহি রয়
সুখে যেন হরিনাম লয়॥
কুমতি তার্কিক জন                    পড়ুয়া অধমগণ
জন্মে জন্মে ভকতি বিমুখ।
কৃষ্ণপ্রেম দান করি                   বালক পুরুষ নারী
খণ্ডাইহ সবাকার দুখ॥
সঙ্কীর্ত্তন প্রেমরসে                  ভাসাইহ গৌড় দেশে
পূর্ণ কর সভাকার আশ।
হেন কৃপাঅবতারে                  উদ্ধার নহিল যারে
কি করিবে বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

প্রভু কহে নিত্যানন্দ                 সব জীব হৈল অন্ধ
কেহো ত না পাইল হরি নাম।
এক নিবেদন তোরে                নয়ানে দেখিবে যারে
কৃপা করি লওয়াইবে নাম॥
কৃতপাপী দুরাচার                   নিন্দুক পাষণ্ড আর
কেহো যেন বঞ্চিত না হয়।
শমন বলিয়া ভয়                    জীবে যেন নাহি হয়
সুখে যেন হরি-নাম লয়॥
কুমতি তার্কিক জন                     পড়ুয়া অধমগণ
জন্মে জন্মে ভকতি-বিমুখ।
কৃষ্ণ-প্রেম দান করি                   বালক পুরুষ নারী
খণ্ডাইহ সবাকার দুখ॥
সংকীর্ত্তন প্রেম-রসে                ভাসাইহ গৌড় দেশে
পূর্ণ কর সভাকার আশ।
হেন কৃপা-অবতারে                   উদ্ধার নহিল যারে
কি করিবে বলরাম দাস॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গজেন্দ্র গমনে যায় সকরুণ দিঠে চায়
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯৬৬-পৃষ্ঠা। এই পদটি এই গ্রন্থে ২বার
দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ মঙ্গলঃ॥

গজেন্দ্র গমনে যায়, সকরুণ দিঠে চায়, পদভরে মহী টলমল।
মহামত্ত-সিংহ যিনি, কম্পবতী মেদিনী, পাষণ্ডিগণ শুনিয়া বিকল॥
আয়ত অবধূত করুণার সিন্ধু।
প্রেমে গর গর মন, করে হরিসঙ্কীর্ত্তন, পতিত পাবন দীনবন্ধু॥ ধ্রু॥
হুঙ্কার করিয়া চলে, অচল সচল নড়ে, প্রেমে ভাসে অমর সমাজ।
সহচরগণ সঙ্গে, বিবিধ খেলন রঙ্গে, অলখিত করে সব কাজ॥
শেষশায়ী সঙ্কর্ষণ,-অবতারী নারায়ণ, যাঁর অংশ কলায় গগন।
কৃপাসিন্ধু ভক্তিদাতা, জগতের হিতকর্ত্তা, সেই রাম রোহিণীনন্দন॥
যার লীলা লাবণ্য ধাম, আগম নিগমে গান, যাঁর রূপ মদনমোহন।
এবে অকিঞ্চন বেশে, ফিরে পহুঁ দেশে দেশে, উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগ্ধী সার, যত যত লীলা আর, পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরাম দাসে কয়, মনোরথ সিদ্ধি হয়, ভজ ভাই শ্রীপাদ-চরণ॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই
পদটি এই গ্রন্থে ২বার দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গজেন্দ্র গমনে যায়,          সকরুণ দিঠে চায়          পদভরে মহী টলমল।
মহামত্ত সিংহ জিনি          কম্পমান্ মেদিনী          পাষণ্ডিগণ শুনিয়া বিকল॥
আয়ত অবধূত করুণার সিন্ধু।
প্রেমে গরগর মন          করে হরি-সংকীর্ত্তন          পতিতপাবন দীনবন্ধু॥ ধ্রু॥
হুঙ্কার করিয়া চলে          অচল সচল নড়ে          প্রেমে ভাসে অমর-সমাঝ।
সহচরগণ সঙ্গে          বিবিধ খেলন রঙ্গে          অলখিতে করে সব কাজ॥
শেষশায়ী সঙ্কর্ষণ          অবতারী নারায়ণ          যার অংশ ক@য় গণন।
কৃপাসিন্ধু ভক্তিদাতা          জগতের হিতকর্ত্তা          সেই রাম রোহিণীনন্দন॥
যার লীলা লাবণ্যধাম          আগমনিগমে গান          যার রূপ মদনমোহন।
এবে অকিঞ্চন বেশে          ফিরে পঁহু দেশে দেশে          উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগধি সার          যত যত লীলা আর          পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরাম দাসে কয়          মনোরথ সিদ্ধি হয়          ভজ ভাই শ্রীপাদ-চরণ॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২২শ পল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২২৯৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২৪০২ সংখ্যক পদ।

॥ মঙ্গল॥

গজেন্দ্র-গমনে যায়                    সকরুণ-দিঠে চায়
পদ-ভরে মহী টলমল।
মত্ত-সিংহ জিনি                        কম্পমান মেদিনী
পাষণ্ডীগণ শুনিয়া বিকল॥
আওত অবধৌত করুণার সিন্ধু।
প্রেমে গরগর মন                    করে হরি-সংকীর্ত্তন
পতিত-পাবন দীন-বন্ধু॥ ধ্রু॥
হুঙ্কার করিয়া চলে                      অচল সচল নড়ে
প্রেমে ভাসে অমর-সমাজে।
সহচরগণ সঙ্গে                        বিবিধ খেলন-রঙ্গে
অলখিতে করে সব কাজে॥
শেষ-শায়ী সঙ্কর্ষণ                       অবতারী নারায়ণ
যার অংশ-কলায় গণন।
কৃপা-সিন্ধু ভক্তি-দাতা                 জগতের হিত-কর্ত্তা
সেই রাম রোহিণী-নন্দন॥
যার লীলা লাবণ্য-ধাম                আগমে নিগমে গান
যার রূপ মদন-মোহন।
এবে অকিঞ্চন-বেশে                ফিরে পহু দেশে দেশে
উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগ্ধি-সার                   যত যত লীলা আর
পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরাম দাসে কয়                     মনোরথ সিদ্ধি হয়
ভজ ভজ শ্রীপাদ-চরণ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গজেন্দ্র গমনে যায়,                সকরুণ দিঠে চায়,
পদভরে মহী টলমল।
মত্ত সিংহ গতি জিনি,              কম্পবান মেদিনী,
পাষণ্ডীগণ শুনিয়া বিকল॥
আওত অবধূত করুণার সিন্ধু।
প্রেমে গর গর মন,                 করে হরি সঙ্কীর্ত্তন,
পতিত পাবন দীনবন্ধু॥ ধ্রু।
হুঙ্কার করিয়া চলে,                 অচল সচল নড়ে,
প্রেমে ভাসে অমর সমাজে।
সহচরগণ সঙ্গে,                   বিবিধ খেলন রঙ্গে,
অলখিতে করে সব কাজে॥
শেষ শায়ী সঙ্কর্ষণ,                 অবতার নারায়ণ,
যার অংশ কলায় গণন।
কৃপাসিন্ধু ভক্তিদাতা,              জগতের হিতকর্ত্তা,
সেই রাম রোহিণীনন্দন॥
যাঁর লীলা লাবণ্য ধাম,           আগমে নিগমে গান,
যার রূপ মদন মোহন।
এবে অকিঞ্চন বেশে,           ফিরে পহুঁ দেশে দেশে,
উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগ্ধি সার,              যত যত লীলা আর,
পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরাম দাসে কয়,                 মনোরথ সিদ্ধি হয়,
ভজ ভজ শ্রীপাদ চরণ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গজেন্দ্রগমনে যায়, সকরুণ-দিঠে চায়, পদ-ভরে মহী টলমল।
মত্ত সিংহগতি জিনি, কম্পবান মেদিনী, পাষণ্ডীগণ শুনিয়া বিকল॥
আওত অবধূত করুণার সিন্ধু।
প্রেমে গর গর মন, করে হরিসংকীর্ত্তন, পতিত-পাবন দীনবন্ধু॥
হুঙ্কার করিয়া চলে, অচল সচল নড়ে, প্রেমে ভাসে অমর সমাজে।
সহচরগণ সঙ্গে, বিবিধ খেলনরঙ্গে, অলখিতে করে সব কাজে॥
শেষশায়ী সঙ্কর্ষণ, অবতরি নারায়ণ, যার অংশ কলায় গণন।
কৃপাসিন্ধু ভক্তিদাতা, জগতের হিতকর্ত্তা, সেই রাম রোহিণীনন্দন॥
যার লীলা লাবণ্যধাম, আগমে নিগমে গান, যার রূপ মদনমোহন।
এবে অকিঞ্চন-বেশে, ফিরে পহু দেশে দেশে, উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগধি সার, যত যত লীলা আর, পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরামদাসে কয়, মনোরথ সিদ্ধি হয়, ভজ ভজ শ্রীপাদ চরণ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গজেন্দ্রগমনে যায়                   সকরুণ দিঠে চায়
পদভরে মহী টলমল।
মত্তসিংহগতি জিনি                   কম্পমান মেদিনী
পাষণ্ডিগণ শুনিয়া বিকল॥
আয়ত অবধূত করুণার সিন্ধু।
প্রেমে গর গর মন                  করে হরিসংকীর্ত্তন
পতিতপাবন দীনবন্ধু॥ ধ্রু॥
হুঙ্কার করিয়া চলে                   অচল সচল নড়ে
প্রেমে ভাসে অমরসমাজে।
সহচরগণ সঙ্গে                      বিবিধ খেলন রঙ্গে
অলখিতে করে সব কাজে॥
শেষশায়ী সঙ্কর্ষণ                     অবতরি নারায়ণ
যার অংশকলায় গণন।
কৃপাসিন্ধু ভক্তিদাতা                জগতের হিতকর্ত্তা
সেই রাম রোহিণীনন্দন॥
যার লীলা লাবণ্যধাম              আগমে নিগমে গান
যার রূপ মদনমোহন।
এবে অকিঞ্চন বেশে            ফিরে পহুঁ দেশে দেশে
উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগধিসার                যত যত লীলা আর
পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরাম দাসে কয়                  মনোরথ সিদ্ধি হয়
ভজ ভজ শ্রীপাদ চরণ॥

ই পদটি ১৯৩৩সালে (১৩৪০ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সঙ্কলিত ও সম্পাদিত
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত রাগ - ছোট দশকুশী॥

গজেন্দ্র গমনে ধায়,                সকরুণ দীঠে চায়,
পদ ভরে মহী টলমল।
মত্ত সিংহ গতি জিনি,               কম্পবান মেদিনী,
পাষণ্ডীগণ শুনিয়া বিকল॥
আওত অবধূত করুণার সিন্ধু। ধ্রু
প্রেমে গড় গড় মন,                 করে হরি সঙ্কীর্ত্তন,
পতিত পাবন দীনবন্ধু॥
যাঁর লীলা লাবণ্য ধাম,            আগমে নিগমে গান,
যার রূপ মদন মোহন।
এবে অকিঞ্চন বেশে,           ফিরে পহুঁ দেশে দেশে,
উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগ্ধি সার,              যত যত লীলা আর,
পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরাম দাসে কয়,                 মনোরথ সিদ্ধি হয়,
ভজ ভজ শ্রীপাদ চরণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের বর্ণনা
॥ মঙ্গল॥

গজেন্দ্র-গমনে যায়                     সকরুণ-দিঠে চায়
পদ-ভরে মহী টলমল।
চলে মত্ত-সিংহ জিনি                   কম্পমান মেদিনী
পাষণ্ডিগণ শুনিয়া বিকল॥
আয়ত অবধৌত করুণার সিন্ধু।
প্রেমে গরগর মন                    করে হরি-সংকীর্ত্তন
পতিত-পাবন দীন-বন্ধু॥
হুঙ্কার করিয়া চলে                     অচল সচল নড়ে
প্রেমে ভাসে অমর-সমাজে।
সহচরগণ সঙ্গে                       বিবিধ খেলন-রঙ্গে
অলখিতে করে সব কাজে॥
শেষ-শায়ী সঙ্কর্ষণ                     অবতারি নারায়ণ
যার অংশ-কলায় গণন।
কৃপা-সিন্ধু ভক্তি-দাতা               জগতের হিত-কর্ত্তা
সেই রাম রোহিণী-নন্দন॥
(যার) লীলা লাবণ্যধাম               আগমে নিগমে গান
যার রূপ মদনমোহন।
এবে অকিঞ্চন বেশে               ফিরে পহু দেশে দেশে
উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগ্ধি-সার                   যত যত লীলা আর
পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরাম দাসে কয়                     মনোরথ সিদ্ধি হয়
ভজ ভজ শ্রীপাদচরণ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গজেন্দ্র-গমনে যায়                সকরুণ-দিঠে চায়
পদ-ভরে মহী টলমল।
মত্ত-সিংহ জিনি                   কম্পমান মেদিনী
পাষণ্ডীগণ শুনিয়া বিকল॥
আওত অবধৌত করুণার সিন্ধু।
প্রেমে গরগর মন                করে হরি-সংকীর্ত্তন
পতিত-পাবন দীন-বন্ধু॥
হুঙ্কার করিয়া চলে                 অচল সচল নড়ে
প্রেমে ভাসে অমর-সমাজে।
সহচরগণ সঙ্গে                   বিবিধ খেলন-রঙ্গে
অলখিতে করে সব কাজে॥
শেষ-শায়ী সঙ্কর্ষণ                 অবতারী নারায়ণ
যার অংশ-কলায় গণন।
কৃপা-সিন্ধু ভক্তি-দাতা            জগতের হিত-কর্ত্তা
সেই রাম রোহিণী-নন্দন॥
যার লীলা লাবণ্য-ধাম             আগমে নিগমে গান
যার রূপ মদন-মোহন।
এবে অকিঞ্চন-বেশে            ফিরে পহু দেশে দেশে
উদ্ধার করয়ে ত্রিভুবন॥
ব্রজের বৈদগ্ধি-সার               যত যত লীলা আর
পাইবারে যদি থাকে মন।
বলরাম দাসে কয়                 মনোরথ সিদ্ধি হয়
ভজ ভজ শ্রীপাদ-চরণ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রূপে গুণে অনুপমা লক্ষ্মী কোটি মনোরমা
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২২শ পল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২২৯৯-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৪০৩ সংখ্যক
পদ।

॥ কল্যাণী॥

রূপে গুণে অনুপমা                লক্ষ্মী-কোটি-মনোরমা
ব্রজ-বধূ অযুতে অযুত।
রাস-কেলি-রস-রঙ্গে                  বিহরে যাহার সঙ্গে
সো পহু কি লাগি অবধূত॥
হরি হরি এ দুখ কহিব কার আগে।
সকল নাগর-গুরু                        রসের কলপতরু
সে বা কেন ফিরয়ে বৈরাগে॥ ধ্রু॥
সঙ্কর্ষণ শেষ যার                   অংশ কলা অবতার
অনুখন গোলোকে বিরাজে।
কৃষ্ণের অগ্রজ নাম                       মহাপ্রভু বলরাম
কেন নিতাই সংকীর্ত্তন মাঝে॥
শিব-বিহি-অগোচর                     আগম-নিগম-পর
কলি-যুগে শ্রীনিত্যানন্দ।
গৌর-রসে নিমগন                      করাইল জনে জন
দূরে রহু বলরাম মন্দ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

রূপে গুণে অনুপামা,                লক্ষ্মী কোটি মনোরমা,
ব্রজ বধূ অযুতে অযুত।
রাস কেলি রস রঙ্গে,                   বিহরে যাহার সঙ্গে,
সো পহুঁ কি লাগি অবধূত॥
হরি হরি এ দুখ কহিব কার আগে।
সকল নাগর গুরু,                          রসের কল্পতরু,
সে বা কেনে ফিরয়ে বৈরাগে॥ ধ্রু।
সঙ্কর্ষণ শেষ যার,                    অংশ কলা অবতার,
অনুক্ষণ গোলোকে বিরাজে।
কৃষ্ণের অগ্রজ নাম,                        মহাপ্রভু বলরাম,
কেনে নিতাই সঙ্কীর্ত্তন মাঝে॥
শিববিহি অগোচর,                       আগম নিগম পর,
কলি যুগে শ্রীনিত্যানন্দ।
গৌর রসে নিমগন,                        করাইল জনে জন
দূরে রহু বলরাম মন্দ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

রূপে গুণে অনুপমা, লক্ষ্মী কোটি মনোরমা, ব্রহ্ম-বধূ অযুত অযুত।
রাস-কেলি-রস-রঙ্গে, বিহরে যাহার সঙ্গে, সো পহু কি লাগি অবধূত॥
হরি হরি এ দুখ কহিব কার আগে।
সকল নাগর গুরু, রসের কলপতরু, সেবা কেনে ফিরয়ে বৈরাগে॥
সঙ্কর্ষণ শেষ যার, অংশ কলা অবতার, অনুক্ষণ গোলোকে বিরাজে।
কৃষ্ণের অগ্রজ নাম, মহাপ্রভু বলরাম, কেন নিতাই সংকীর্ত্তন মাঝে॥
শিব-বিহি-অগোচর, আগম-নিগম-পর, কলি-যুগে শ্রীনিত্যানন্দ।
গৌর-রসে নিমগন, করাইল জনে জন, দূরে রহু বলরাম মন্দ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া বা গান্ধার॥

রূপে গুণে অনুপমা                লক্ষ কোটি মনোরমা
ব্রজবধু অযুতে অযুত।
রাসকেলি রস রঙ্গে                  বিহরে যাহার সঙ্গে
সো এবে কি লাগি অবধূত॥
হরি হরি এ দুখ কহিব কার আগে।
সকল নাগর গুরু                        রসের কলপতরু
সে বা কেন ফিরেন বৈরাগে॥ ধ্রু॥
সঙ্কর্ষণ শেষ যার                     অংশকলা অবতার
অনুক্ষণ গোলোকে বিরাজে।
শিব বিহি অগোচর                     আগম নিগম পর
কেনে নিতাই সংকীর্ত্তন মাঝে॥
কৃষ্ণের অগ্রজ নাম                        মহাপ্রভু বলরাম
কলিযুগে শ্রীনিত্যানন্দ।
গৌররসে নিমগন                           করাইল জগজন
দূরে রহু বলরাম মন্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের বর্ণনা
॥ কল্যাণী॥

রূপে গুণে অনুপমা                লক্ষ্মী-কোটি-মনোরমা
ব্রজবধূ অযুতে অযুত।
রাসকেলি রসরঙ্গে                    বিহরে যাহার সঙ্গে
সো পহু কি লাগি অবধূত॥
হরি হরি এ দুখ কহিব কার আগে।
সকল নাগর-গুরু                        রসের কলপতরু
সে বা কেন ফিরয়ে বৈরাগে॥
সঙ্কর্ষণ শেষ যার                   অংশ কলা অবতার
অনুখন গোলোকে বিরাজে।
কৃষ্ণের অগ্রজ নাম                       মহাপ্রভু বলরাম
কেন নিতাই সংকীর্ত্তন মাঝে॥
শিববিহি অগোচর                      আগম নিগম পর
কলিযুগে শ্রীনিত্যানন্দ।
গৌররসে নিমগন                      করাইল জনে জন
দূরে রহু বলরাম মন্দ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ২৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণী॥

রূপে গুণে অনুপমা                লক্ষ্মী-কোটি-মনোরমা
ব্রজ-বধূ অযুতে অযুত।
রাস-কেলি-রস-রঙ্গে                  বিহরে যাহার সঙ্গে
সো পহু কি লাগি অবধূত॥
হরি হরি এ দুখ কহিব কার আগে।
সকল নাগর-গুরু                        রসের কলপতরু
সে বা কেন ফিরয়ে বৈরাগে॥
সঙ্কর্ষণ শেষ যার                   অংশ কলা অবতার
অনুখন গোলোকে বিরাজে।
কৃষ্ণের অগ্রজ নাম                      মহাপ্রভু বলরাম
কেন নিতাই সংকীর্ত্তন মাঝে॥
শিব-বিহি-অগোচর                      আগম-নিগম-পর
কলি-যুগে শ্রীনিত্যানন্দ।
গৌর-রসে নিমগন                      করাইল জনে জন
দূরে রহু বলরাম মন্দ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অনুখন অরুণ নয়ান ঘন ঘুরত
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩
খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯৭৪-পৃষ্ঠা।

॥ গীতে যথা - ধানশী॥

অনুক্ষণ অরুণ, -নয়ন ঘন ঘূরত, ঢর কত লোর বিথার।
কিয়ে ঘন অরুণ, বরুণালয় সঞ্চরু, অমিয়া বরিষে অনিবার॥
নাচত রে নিতাই বরচাঁদ।
সিঞ্চই প্রেম,-সুধা রস জগজনে, অদভুত নটন সুছান্দ॥ ধ্রু॥
পদতল তাল,-বলিত মণি মঞ্জরী, চলত হি টলমল অঙ্গ।
মেরু শিখর কিয়ে, তনু অনুপাম রে, ঝলমল ভাবতরঙ্গ॥
রোয়ত হসত, চলত গতি মন্থর, হরি বুলি মুরছি বিভোর।
খেনে খেনে গৌর, গৌর বলি ধায়ই, আনন্দে গরজত ঘোর॥
পামর পঙ্গু, অধম জড় আতুর, দীন অবধি নাহি মান।
অবিরত দুর্ল্লভ, প্রেম-রতন ধন, যাচি জগতে করু দান॥
অতিচল দুলহ, প্রেমধন বিতরণে, নিখিল-তাপ দূরে গেল।
দিন হিন সব হি, মনোরথ পূরল, অবলাউ উনমত ভেল॥
ঐছন করুণ, নয়ন অবলোকনে, কাহু না রহু দুরদীন।
বলরাম দাস, কাহে ভেল বঞ্চিত, দারুণ হৃদয় কঠিন॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য।
॥ মঙ্গল॥

অনুখন অরুণ          নয়ন ঘন চুয়ত          ঢরকত লোর বিথার।
কিয়ে ঘন অরুণ          বরুণালয় সঞ্চরু         অমিয়া বরষে অনিবার॥
নাচেরে নিতাই বরচাঁদ।
সিঞ্চই প্রেম-          সুধারস জগজনে         অদভুত নটন-সুছাঁদ॥ ধ্রু॥
পদতলতাল          খলিত মণি মঞ্জীর,          চলতহি টলমল অঙ্গ।
মেরু শিখর কিয়ে          তনু অনুপাম রে          ঝলমল ভাবতরঙ্গ॥
রোয়ত হসত          চলত গতি মন্থর          হরি বলি মূরছি বিভোর।
খণে খণে গৌর          গৌর বলি ধাবই          আনন্দে গরজত ঘোর॥
পামর পঙ্গু          অধম জড় আতুর          দীন অবধি নাহি মান।
অবিরত দুর্ল্লভ          প্রেম রতন ধন          যাচি জগতে করু দান॥
অবিচল দুলহ          প্রেমধন বিতরণে          নিখিল তাপ দুরে গেল।
দীনহীন সবহি          মনোরথ পূরল          অবলা উনমত ভেল॥
ঐছন করুণ          নয়ন অবলোকনে          কাহুঁ না রহু দুরদিন।
বলরাম দাস          তাহে ভেল বঞ্চিত          দারুণ হৃদয় কঠিন॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২২শ পল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩০১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ২৪০৫ ও কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথির ৪|২ সংখ্যক পদ।

॥ মঙ্গল॥

অনুখণ অরুণ নয়ন ঘন ঘূরত
ঢরকত লোর বিথার।
কিয়ে ঘন করুণ-বরুণালয় সঞ্চরু
অমিয়া বরিখে অনিবার॥
নাচত রে নিতাই বর-চাঁদ।
সিঞ্চই প্রেম-সুধারস জগ-জনে
অদভুত নটন-সুছান্দ॥ ধ্রু॥
পদ-তল-তাল-খলিত মণি-মঞ্জির
চলতহি টলমল অঙ্গ।
মেরু-শিখর কিয়ে তনু অনুপামরে
ঝলমল ভাব-তরঙ্গ॥
রোয়ত হসত চলত গতি-মন্থর
হরি বলি মুরছি বিভোর।
খেণে খেণে গৌর গৌর বলি ধায়ই
আনন্দে গরজত ঘোর॥
পামর পঙ্গু অধম জড় আতুর
দীন অবধি নাহি মান।
অবিরত দুর্ল্লভ প্রেম-রতন ধন
যাচি জগতে করু দান॥
অতিচলনোগ্র প্রেম-ধন-বিতরণে
নিখিল-তাপ দুরে গেল।
দিন হিন সবহু মনোরথ পূরল
অবলা উনমত ভেল॥
ঐছন করুণ নয়ন-অবলোকনে
কাহু না রহু দুরদিন।
বলরাম দাস কাহে ভেল বঞ্চিত
দারুণ হৃদয়-কঠিন॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

অনুক্ষণ অরুণ,                     নয়ান ঘন ঘুরত,
ঢরকত লোর বিথার।
করে ঘন করুণ                      বরুণালয় সঞ্চরু,
অমিয়া বরিখে অনিবার॥
নাচতরে নিতাই বরচান্দ।
সিঞ্চই প্রেম,                       সুধারস জগজনে,
অদভুত নটন সুছান্দ॥ ধ্রু।
পদতল তাল,                      খলিত মণি মঞ্জীর,
চলতহি টলমল অঙ্গ।
মেরু শিখরে কিয়ে,               তনু অনুপাম রে,
ঝলমল ভাব তরঙ্গ॥
রোয়ত হসত,                      চলত গতি মন্থর,
হরি বলি মূরছি বিভোর।
খেণে খেণে গৌর,                  গৌর বলি ধায়ই,
আনন্দে গরজত থোর॥
পামর পঙ্গু,                       অধম জড় আতুর,
দীন অবধি নাহি মান।
অবিরত দুর্ল্লভ,                       প্রেম রতন ধন,
যাচি জগতে করুদান॥
অতিচলনোগ্র,                      প্রেমধন বিতরণে,
নিখিল তাপ দূরে গেল।
দীন হীন সবহুঁ                         মনোরথ পূরল,
অবলা উনমত ভেল॥
ঐছন করুণ,                        নয়ন অবলোকনে,
কাহুঁ না রহ দুরদিন।
বলরাম দাস,                       কাহে ভেল বঞ্চিত
দারুণ হৃদয় কঠিন॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

অনুক্ষণ অরুণ, নয়ান ঘন ঘুরত, ঢরকত লোর বিথার।
কিয়ে ঘন করুণ, করুণালয় সঞ্চরু, অমিয়া বরিখে অনিবার॥
নাচত রে নিতাই বর-চাঁদ।
সিঞ্চই প্রেম, সুধারস জগ-জনে, অদভুত নটন-সুছান্দ॥
পদ-তল-তাল, খলিত মণি মঞ্জীর, চলতহি টল মল অঙ্গ।
মেরু-শিখর কিয়ে, তনু অনুপামরে, ঝল মল ভাব-তরঙ্গ॥
রোয়ত হসত, চলত গতি মন্থর, হরি বলি মুরছি বিভোর।
খেণে খেণে গৌর বলি ধায়ই, আনন্দে গরজত থোর॥
পামর পঙ্গু, অধম জড় আতুর, দীন অবধি নাহি নাম।
অবিরত দুর্ল্লভ, প্রেম রতন ধন, যাচি জগতে করু দান॥
অতিচলনোগ্র, প্রেম-ধন বিতরণে, নিখিল তাপ দূরে গেল।
দীন হীন সবহুঁ, মনোরথ পূরল, অবলা উনমত ভেল॥
ঐছন করুণ, নয়ন অবলোকনে, কাহু না রহু দুরদিন।
বলরাম দাস, কাঁহে ভেল বঞ্চিত, দারুণ হৃদয় কঠিন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের বর্ণনা
॥ গান্ধার॥

অনুখন অরুণ                        নয়ন ঘন ঘূরত
ঢরকত লোর বিথার।
কিয়ে ঘন করুণ                     বরুণালয় সঞ্চরু
অমিয়া বরিখে অনিবার॥
নাচত রে নিতাই বর চাঁদ।
সিঞ্চই প্রেম-                       সুধা রস জগজনে
অদভুত নটন সুছাঁদ॥
পদতল-তাল                       খলিত মণি-মঞ্জীর
চলতহি টলমল অঙ্গ।
মেরু-শিখর কিয়ে                  তনু অনুপাম রে
ঝলমল ভাব-তরঙ্গ॥
রোয়ত হসত                       চলত গতি মন্থর
হরি বলি মূরছি বিভোর।
খেনে খেনে গৌর                    গৌর বলি ধাবই
আনন্দে গরজত ঘোর॥
পামর পঙ্গু                        অধম জড় আতুর
দীন অবধি নাহি মান।
অবিরত দুর্ল্লভ                       প্রেম রতন ধন
যাচি জগতে করু দান॥
অযাচিত-রূপে                    প্রেম-ধন বিতরণে
নিখিল তাপ দূরে গেল।
দীনহীন সবহুঁ                         মনোরথ পূরল
অবলা উনমত ভেল॥
ঐছন করুণ                       নয়ন অবলোকনে
কাহু না রহ দুরদিন।
বলরাম দাস                      কাহে ভেল বঞ্চিত
দারুণ হৃদয় কঠিন॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৩০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

অনুখণ অরুণ নয়ন ঘন ঘুরত
ঢরকত লোর বিথার।
কিয়ে ঘন করুণ-বরুণালয় সঞ্চরু
অমিয়া বরিখে অনিবার॥
নাচত রে নিতাই বর-চাঁদ।
সিঞ্চই প্রেম-সুধারস জগ-জনে
অদভুত নটন-সুছান্দ॥
পদ-তল-তাল-খলিত মণি-মঞ্জির
চলতহি টলমল অঙ্গ।
মেরু-শিখর কিয়ে তনু  অনুপামরে
ঝলমল ভাব-তরঙ্গ॥
রোয়ত হসত চলত গতি-মন্থর
হরি বলি মুরছি বিভোর।
খেণে খেণে গৌর গৌর বলি ধায়ই
আনন্দে গরজত ঘোর॥
পামর পঙ্গু অধম জড় আতুর
দীন অবধি নাহি মান।
অবিরত দুর্ল্লভ প্রেম-রতন ধন
যাচি জগতে করু দান॥
অতিচলনোগ্র প্রেম ধন-বিতরণে
নিখিল-তাপ দুরে গেল।
দিন হিন সবহু মনোরথ পূরল
অবলা উনমত ভেল॥
ঐছন করুণ নয়ন-অবলোকনে
কাহু না রহু দুরদিন।
বলরাম দাস কাহে ভেল বঞ্চিত
দারুণ হৃদয়-কঠিন॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বন্দিব অদ্বৈত শিরে যে আনিলা ধীরে ধীরে
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৪শ পল্লব,
শ্রীঅদ্বৈতের গুণ-বর্ণন, ২৩৪৮-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২৪৫২ সংখ্যক পদ


অথ শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্রস্য গুণ-বর্ণনং যথা।
॥ তথা রাগ॥

বন্দিব অদ্বৈত শিরে                যে আনিলা ধীরে ধীরে
মহাপ্রভু অবনী মাঝার।
নন্দের নন্দন যে                           শচীর নন্দন সে
নিত্যানন্দ রায় সখা যার॥
প্রভু মোর অদ্বৈত গোসাঞি।
উত্তম অধম জনে                     তরাইলা ভক্তি-দানে
এমন দয়াল দাতা নাই॥ ধ্রু॥
উত্তম অধম মেলি                    করাইলা কোলাকুলি
অন্ধ বধির যত আছে।
পঙ্গুয়া চলিল ধাঞা                     হরি হরি বোলাইয়া
দু বাহু তুলিয়া তারা নাচে॥
প্রেমের বন্যা নিতাই হৈতে           অদ্বৈত তরঙ্গ তাতে
চৈতন্য-বাতাসে উথলিল।
আকাশে লাগিছে ঢেউ              স্বর্গে নাহি বাঁচে কেউ
সপ্ত পাতাল ভেদি গেল॥
ডুবিল যে নাগ-লোক                নর-লোক সুর-লোক
গোলোক ভরিল প্রেম-বন্যা।
কেহ নাচে কেহ গায়                কেহ হাসে কেহ ধায়
বিশেষে ধরণী হৈল ধন্যা॥
হেন লীলা করে যেই                অদ্বৈত আচার্য্য সেই
অনন্ত অপার রস-ধাম।
এমন প্রেমের বন্যা                      স্থাবর জঙ্গম ধন্যা
বঞ্চিত হইল বলরাম॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনি ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৩৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

বন্দিব অদ্বৈত শিরে,                যে আনিলা ধীরে ধীরে
মহাপ্রভু অবনী মাঝার।
নন্দের নন্দন যে,                           শচীর নন্দন সে,
নিত্যানন্দ রায় সখা যার॥
প্রভু মোর অদ্বৈত গোসাঞি।
উত্তম অধম জনে,.                     তরাইলা ভক্তিদানে,
এমন দয়ান দাতা নাই॥ ধ্রু।
উত্তম অধম মেলি,                      করাইল কোলাকুলি,
অন্ধ বধির যত আছে।
পঙ্গুয়া চলিল ধাঞা,                     হরি হরি বোলাইয়া,
দুবাহু তুলিয়া তারা নাচে॥
প্রেমের বন্যা নিতাই হৈতে,            অদ্বৈত তরঙ্গ তাতে,
চৈতন্য বাতাসে উথলিল।
আকাশে লাগিছে ঢেউ,                স্বর্গে নাহি বাঁচে কেউ,
সপ্ত পাতাল ভেদি গেল॥
ডুবিল যে নাগ লোক,                   নরলোক সুরলোক,
গোলোক ভরিয়া প্রেমবন্যা।
কেহ নাচে কেহ গায়,                 কেহ হাসে কেহ ধায়,
বিশেষে ধরণী হৈল ধন্যা॥
হেন লীলা করে যেই,                  অদ্বৈত আচার্য্য সেই,
অনন্ত অপার রসধাম।
এমন প্রেমের বন্যা,                       স্থাবর জঙ্গম ধন্যা,
বঞ্চিত হইল বলরাম॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীঅদ্বৈত-বন্দনা
॥ তথা রাগ॥

বন্দিব অদ্বৈত শিরে                যে আনিলা ধীরে ধীরে
মহাপ্রভু অবনী মাঝার।
নন্দের নন্দন যে                            শচীর নন্দন সে
নিত্যানন্দ রায় সখা যার॥
প্রভু মোর অদ্বৈত গোসাঞি।
উত্তম অধম জনে                      তরাইলা ভক্তি-দানে
এমন দয়াল দাতা নাই॥ ধ্রু॥
উত্তম অধম মেলি                     করাইলা কোলাকুলি
অন্ধ বধির যত আছে।
পঙ্গুয়া চলিল ধাঞা                     হরি হরি বোলাইয়া
দু বাহু তুলিয়া তারা নাচে॥
প্রেমের বন্যা নিতাই হৈতে           অদ্বৈত তরঙ্গ তাতে
চৈতন্য বাতাসে উথলিল।
আকাশে লাগিছে ঢেউ               স্বর্গে নাহি বাঁচে কেউ
সপ্ত পাতাল ভেদি গেল॥
ডুবিল যে নাগ-লোক                নর-লোক সুর-লোক
গোলোক ভরিল প্রেম-বন্যা।
কেহ নাচে কেহ গায়                কেহ হাসে কেহ ধায়
বিশেষে ধরণী হৈল ধন্যা॥
হেন লীলা করে যেই                অদ্বৈত আচার্য্য সেই
অনন্ত অপার রস-ধাম।
এমন প্রেমের বন্যা                      স্থাবর জঙ্গম ধন্যা
বঞ্চিত হইল বলরাম॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীঅদ্বৈত-বন্দনা
॥ ভাটিয়ারী॥

বন্দিব অদ্বৈত শিরে                যে আনিলা গঙ্গাতীরে
মহাপ্রভু অবনী মাঝার।
নন্দের নন্দন যেই                        শচীর নন্দন সেই
নিত্যানন্দ রায় সখা যার॥
প্রভু মোর অদ্বৈত গোসাঞি।
উত্তম অধম জনে                      তরাইলা ভক্তিদানে
এমন দয়াল দাতা নাই॥
উত্তম অধম মেলি                    করাইলা কোলাকুলি
অন্ধ বধির যত আছে।
পঙ্গুয়া চলিল ধাঞা                      হরি হরি বোলাইয়া
দু বাহু তুলিয়া তারা নাচে॥
প্রেমের বন্যা নিতাই হৈতে            অদ্বৈত তরঙ্গ তাতে
চৈতন্য বাতাসে উথলিল।
আকাশে লাগিল ঢেউ                বাধা দিতে নাহি কেউ
সপ্ত পাতাল ভেদি গেল॥
ডুবিল যে নাগলোক                     নরলোক সুরলোক
গোলোক ভরিল প্রেমবন্যা।
কেহ নাচে কেহ গায়                 কেহ হাসে কেহ ধায়
বিশেষে ধরণী হৈল ধন্যা॥
হেন লীলা করে যেই                 অদ্বৈত আচার্য্য সেই
অনন্ত অপার রস-ধাম।
এমন প্রেমের বন্যা                      স্থাবর জঙ্গম ধন্যা
বঞ্চিত হইল বলরাম॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী,
অদ্বৈত-বিষয়ক, ৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারী॥

বন্দিব অদ্বৈত শিরে                যে আনিলা ধীরে ধীরে
মহাপ্রভু অবনী মাঝার।
নন্দের নন্দন যে                          শচীর নন্দন সে
নিত্যানন্দ রায় সখা যার॥
প্রভু মোর অদ্বৈত গোসাঞি।
উত্তম অধম জনে                    তরাইলা ভক্তি-দানে
এমন দয়াল দাতা নাই॥
উত্তম অধম মেলি                  করাইলা  কোলাকুলি
অন্ধ বধির যত আছে।
পঙ্গুয়া চলিল ধাঞা                   হরি হরি বোলাইয়া
দু বাহু তুলিয়া তারা নাচে॥
প্রেমের বন্যা নিতাই হৈতে           অদ্বৈত তরঙ্গ তাতে
চৈতন্য-বাতাসে উথলিল।
আকাশে লাগিছে ঢেউ              স্বর্গে নাহি বাঁচে কেউ
সপ্ত পাতাল ভেদি গেল॥
ডুবিল যে নাগ-লোক                নর-লোক সুর-লোক
গোলোক ভরিল প্রেম-বন্যা।
কেহ নাচে কেহ গায়                কেহ হাসে কেহ ধায়
বিশেষে ধরণী হৈল ধন্যা॥
হেন লীলা করে যেই                অদ্বৈত আচার্য্য সেই
অনন্ত অপার রস-ধাম।
এমন প্রেমের বন্যা                     স্থাবর জঙ্গম ধন্যা
বঞ্চিত হইল বলরাম॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয়তি জয় বৃষভানু নন্দিনী
জয়তি জয়তি জয় বৃষভানুনন্দিনী
ভনিতা দীন বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ১ম পল্লব, মঙ্গলাচরণ,
পদসংখ্যা ২১।

॥ ধানশী॥

জয়তি জয় বৃষ-                  ভানু-নন্দিনি
শ্যাম-মোহিনি রাধিকে।
বেনি লম্বিত                     যৈছে ফণি-মণি
বেঢ়ল মালতি-মালিকে॥
শরদ-বিধুবর                      ও মুখ-মণ্ডল
ভালে সিন্দুর-বিন্দু যে।
ভাঙ-গঞ্জিত                  জিনিয়া কাম-ধনু
চিবুকে মৃগমদ-বিন্দু যে॥
গরুড়-চঞ্চু জিনি                  নাসা সুবলনি
তাহে শোহে গজমোতি যে।
রাতা-উতপল                        অধর-যূগল
দশন মোতিক পাঁতি যে॥
হৃদয় ঊপর                        শোহে কুচযুগ
লাজে চকোরিণি ভোর রে।
নাভি-সরোবরে                   লোম-ভুজগিনী
বিহরে কুচ-গিরি-কোর রে॥
কন্ঠে শোভিত                     হার মণিময়
ঝলকে দামিনি বীজই।
কনক-দণ্ড জিনি                    বাহু সুবলনি
কতহুঁ আভরণ সাজই॥
খীন কটি-তটে                  নীল শাটু শোহে
কনক-কিঙ্কিনি রোলই।
চরণে নূপুর                          শবদ সুন্দর
যৈছে চটকিনি বোলই॥
যাবক-রঞ্জিত                       ও নখ-চন্দ্রক
কাম রোয়ত তাহ রে।
দীন বলরাম                      করত পরিহার
দেহ পদযুগ-ছাহ রে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মালসী॥

জয়তি জয়                   বৃষভানু নন্দিনী,
শ্যাম মোহিনী রাধিকে।
বেণী লম্বিত,                    যৈছে ফণি মণি
বেঢ়ল মালতি মালিকে॥
শরদ বিধুবর                      ও মুখ মণ্ডল
ভালে সিন্দুর বিন্দু যে।
ভাঙ গঞ্জিত                  জিনিয়া কাম ধনু
চিবুকে মৃগমদ বিন্দু যে॥
গরুড় চঞ্চু জিনি                নাসিকা সুবলনি
তাহে শোহে গজ-মোতি যে।
রাতা উতপল                        অধর যুগল
দশন মোতিম পাঁতি যে॥
হৃদয় উপর                     শোহে কুচগিরি
লাজে চকোরিণী ভোর রে।
নাভি সরোবরে                  লোম ভুজগিনী
বিহরে কুচগিরি কোর রে॥
কন্ঠে শোভিত                      হার মণিময়
ঝলকে দামিনী বিজই।
কনক দণ্ড জিনি                    বাহু সুবলনি
কতহুঁ আভরণ সাজই॥
ক্ষীণ কটিতটে                  নীল শাটী শোহে
কনক কিঙ্কিণী রোলই।
চরণে নূপুর                         শবদ সুন্দর
যৈছে চটকিনী বোলই॥
যাবক রঞ্জিত                     ও নখ চন্দ্রিক
কাম রোয়ত তাহ রে।
দীন বলরাম                     করত পরিহার
দেহ পদযুগ ছাহ রে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জয়তি জয় বৃষভানু-নন্দিনী, শ্যামমোহিনী রাধিকে।
শরদ-বিধুবর, ও মুখমণ্ডল, ভালে সিন্দুর-বিন্দু রে।
ভাঙ গঞ্জিত, জিনিয়া কাম-ধনু, চিবুকে মৃগমদ-বিন্দু রে॥
গরুড় চঞ্চু জিনি, নাসিকা সুবলনি, তাহে শোহে গজমোতি রে।
রাতা উতপল, অধরযুগল, দশন মোতিক পাঁতি রে॥
হৃদয় উপর, শোহে কুচযুগ, লাজে চকোরিণী ভোর রে।
নাভি-সরোবরে, লোম-ভুজগিনী, বিহরে কুচ-গিরি কোর রে॥
কন্ঠে শোভিত, হার মণিময়, ঝলকে দামিনী বিজই।
কনক-দণ্ড জিনি, বাহু সুবলনী, কতহুঁ আভরণ সাজই॥
ক্ষীণ কটী-তটে, নীল শাটী শোহে, কনক কিঙ্কিণী রোলই।
চরণে নূপুর, শবদ সুন্দর, যৈছে চটকিনী বোলই॥
যাবক-রঞ্জিত, ও নখ-চন্দ্রিক, কাম রোয়ত তা হেরে।
দীন বলরাম, করত পরিহার, দেহ পদযুগ ছায়া রে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), পরিশিষিট, প্রথম, ৩৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মালসী॥

জয়তি জয়তি জয়             বৃষভানুনন্দিনী
শ্যামমোহিনী রাধিকে।
বেণী লম্বিত                     যৈছে ফণিমণি
বেঢ়ল মালতি মালিকে॥
শরদ-বিধুবর                      ও মুখমণ্ডল
ভালে সিন্দুরবিন্দু যে।
ভাঙ গঞ্জিত                  জিনিয়া কামধনু
চিবুকে মৃগমদ বিন্দু যে॥
গরুড়-চঞ্চু জিনি              নাসিকা সুবলনি
তাহে শোহে গজমোতি যে।
রাতা উতপল                       অধরযুগল
দশন মোতিম পাঁতি যে॥
হৃদয় উপর                    শোহে কুচগিরি
লাজে চকোরিণী ভোর রে।
নাভি সরোবরে                 লোম-ভুজগিনী
বিহরে কুচগিরি কোর রে॥
কন্ঠে শোভিত                     হার মণিময়
ঝলকে দামিনী বিজই।
কনকদণ্ড জিনি                    বাহু সুবলনি
কতহুঁ আভরণ সাজই॥
ক্ষীণ কটিতটে                 নীল সাটী শোহে
কনককিঙ্কিণী রোলই।
চরণে নূপুর                        শবদ সুন্দর
যৈছে চটকিনী বোলই॥
যাবক রঞ্জিত                     ও নখচন্দ্রিকা
কাম রোয়ত তাহ রে।
দীন বলরাম                     করত পরিহার
দেহ পদযুগছাহ রে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৪৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ ধানশী॥

জয়তি জয় বৃষ-                  ভানু-নন্দিনি
শ্যাম-মোহিনি রাধিকে।
বেনি লম্বিত                    যৈছে ফণি-মণি
বেঢ়ল মালতি-মালিকে॥
শরদ-বিধুবর                     ও মুখ-মণ্ডল
ভালে সিন্দুর-বিন্দু যে।
ভাঙু গঞ্জিত                  জিনিয়া কাম-ধনু
চিবুকে মৃগমদ-বিন্দু যে॥
গরুড়-চঞ্চু জিনি                  নাসা সুবলনি
তাহে শোহে গজমোতি যে।
রাতা-উতপল                       অধর যুগল
দশন মোতিক পাঁতি যে॥
হৃদয় উপর                       শোহে কুচযুগ
লাজে চকোরিণি ভোর রে।
নাভি সরোবরে                  লোম-ভুজগিনি
বিহরে কুচ-গিরি-কোর রে॥
কন্ঠে শোভিত                     হার মণিময়
ঝলকে দামিনি বীজই।
কনক-দণ্ড জিনি                    বাহু সুবলনি
কতহুঁ আভরণ সাজই॥
ক্ষীণ কটি-তটে                নীল শাটী শোহে
কনক-কিঙ্কিণী রোলই।
চরণে নূপুর                        শবদ সুন্দর
যৈছে চটকিনী বোলই॥
যাবক রঞ্জিত                      ও নখ-চন্দ্রক
কাম রোয়ত তাহ রে।
দীন বলরাম                     করত পরিহার
দেহ পদযুগ-ছাহ রে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চামর ডামরী শ্যামর করবী
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ২৯শ পল্লব,
শ্রীরাধার রূপ, ২৪৬২-পদসংখ্যা।

তত্র শ্রীরাধায়াঃ সর্ব্বাবয়ব-রূপ-বর্ণনং যথা।
॥ ধানশী॥

চামর ডামরি                       শ্যামরি কবরি
নিবিড়-তিমির রাতি।
ফণি-মণিগণ,                         ভূষণ ঐছন
উয়ল উড়ুক পাঁতি॥
কস্তুরী চন্দন                         ভ্রমরী মকরি-
পত্রক চিত্রক লেখ।
ললাটে সিন্দুর                       অনঙ্গ-মন্দির
সিমন্তে সিন্দুর-রেখ॥
কুন্তল-বলিকা                     মলিকা-কলিকা
অলকাবলকা শোভে।
মদন-মাদন,                         মনহি উদিত
মদন-কদন-ক্ষোভে॥
রতন-রচন                       বেণি সুশোভন
কুসুম ঠামহি ঠাম।
জনু পসারল                       অতনু মাতল
করি-কর অনুপাম॥
চন্দন-বিন্দু                            পুণিম-ইন্দু
সিন্দুর-মিহির পাশে।
অলকা ভুখিল                     রাহু বিয়াকুল
ধরত ফিরত আশে॥
ভাঙক ঠাম                          দেখত কাম
ধনুয়া-মান ছোড়।
হেরত বরজ-                      মকর-কেতন-
চেতন-রতন চোর॥
অঞ্জন-রঞ্জন                           নয়ন-খঞ্জন
চাহনি মোহনি ভঙ্গ।
নিমিষে নিমিষে                   হরিষে বরিষে
রমণ-রভস-রঙ্গ॥
শ্রুতি-অলঙ্কৃতি                      চক্র-আকৃতি
শোভিত চারু শলাক।
তঁহি মনোভব-                   কোটি পরাভব
ভুলল ভ্রমর-লাখ॥
দেখত দেখত                       বেকত করত
তরুণ তপন দণ্ড।
লোল কুণ্ডল                        দীপতি-মণ্ডল
উয়ল যুগল গণ্ড॥
নাসিক ওর                        মোতিম-কোর
ভোর জগত-রীঝ।
যৈছন কীর-                               চঞ্চু গীর
পড়ত দাড়িম-বীজ॥
বিম্ব-অধর                            অতি-সুমধুর
ঈষত-হসিত-ছন্দ।
হেরত বরজ-                          যুবতী উমতি
ধরতি পড়তি ধন্দ॥
থকিত চকিত                          সরস অলস
বচন-রচন আধা।
আনন্দ-হিল্লোলে                        ভুবন মগন
ধরণী ভরয়ে সুধা॥
খপুর কপুর                          সহিত লোহিত
দশন-বসন সাজ।
প্রবাল-আবলি                          বেঢ়ল বান্ধুলি
অরুণ রকত মাঝ॥
উজোর বিজুরি                       থির হির-সারি-
দমন দশন-বৃন্দ।
সিন্দুরে মণ্ডিত                      মোতিম-খণ্ডিত
কুন্দ-কোরক নিন্দ॥
চিবুক-কুহরে                            হরল নাগর-
মানস-হরিণি হেরি।
কস্তুরীর বিন্দু                         কাল জাল দেল
মদন মৃগউ ঘেরি॥
কোটি সুধাকর                          মুখ মনোহর
লাবণি অবনি ভোর।
চন্দন-চিত্রক                          ছলে কি লাগল
নাহক চিত-চকোর॥
কম্বু-গ্রীব                                    বন্ধুজীব
অম্বুজ-নীপক মাল।
আমোদে-লুবধ                        ধাবই খুবুধ
গাবই ভ্রমর-জাল॥
বিদ্রুম মৌক্তিক                        হেম হীরক
ত্রিবলি হংস-হার।
দয়িত যুবতি                         লিখন রতন-
রচিত পদক সার॥
অগুরু-রচিত                        বাহু-যুগ-চিত
অঙ্গদ কঙ্কণ সাজে।
নীলমণি বনি                           বলয় উরমী
কর-যুগে সুবিরাজে॥
আধ আধ করি                    কি বিধি মেটল
অরুণ চান্দক বাদ।
নখ করতল                           মাঝহি কমল
অতয়ে ফুটল আধ॥
উচ কটোর                            কুচক জোর
রুচির চোর সীত।
শাতকুম্ভ--                             রচিত কুম্ভ-
রুচি আরম্ভ রীত॥
তঁহি পুরাতন                         জগত অতুল
নবীন যৌবন-নিধি।
মদন-মোহন-                        মোহন-কারণ
কামে কি দেয়ল বিধি॥
গন্ধ-চরচিত                       অঙ্গে বিরাজিত
চন্দন ঘুসৃণ-চীত।
বিহি চিতাওল                         পূজক মদন
সদন দৈবক ভীত॥
কুঞ্জক মেচক                       বরজ-বিরাজ-
ধৈরজ ধরম লূট।
তরুণ তপন-                         মথন রতন-
কিরণ দামিনী-ছূট॥
জলদ-জড়িত                        যৈছন তড়িত
শীলিত-নীলিম-শাটী।
মন্থর চলিত                         মধুর শিঞ্জিত
চঞ্চল অঞ্চল ধটী॥
নাভী সুশীতল-                      সরসী অতুল
পিয়-হিয়-ঝস থাপি।
হেরি কুচ-গিরি                      উতরি পৈঠত
তহিঁ লোমাবলি-সাপী॥
কেশরী-রাজ                           খীণহি মাঝ
তিন ত্রিবলী লেখা।
একে একে তিন                     ভুবন হারিয়া
দেয়ল এ তিন রেখা॥
কবহুঁ গোপত                        কবহুঁ বেকত
নাহ-চিত-রিত-চোর।
হেরি শশি-মুখী                     নীবি-ছলে তহি
বান্ধল পাটক ডোর॥
সঘন জঘন                            চক্র-বিখণ্ডন
সরস রসনা সাজ।
তাহে কি মদন                       জিতল ভুবন
বিজই ডিণ্ডিম গাজ॥
উরুযুগ দলি                           কনক-কদলী
করভ-করক ছন্দ।
রমণ-মোহন                           বিরহ-জলধি
তরণের সেতু-বন্ধ॥
জানু-সম্পুট                          গোপি-লম্পট-
জীবন-সম্পদ-চোর।
হাটক-গঠিত                          কটক-রচিত
চটক-পটিম মোর॥
রতন-রচিত                           মঞ্জুল-মঞ্জির-
রঞ্জিত চরণ-কঞ্জ।
মন্থর-চলিত                          মধুর শিঞ্জিত
হংস বারণ গঞ্জ॥
উছলি চরণ                         ও রবি-কিরণ
দিগহি দিগহি ভাস।
মুখ-বিধু-ধূত                           পদ-তল-গত
তিমির করত নাশ॥
নখর-নিকর                         নিকে পসারল
কত নিশাকর-হাট।
পুন পুন ছবি                       দেখি যাউ রবি
তমক হৃদয় ফাট॥
প্রপদ সহিত                        জগত মোহিত
বেকত অলত-রাগ।
অধর-বরণ                          মাগত অরুণ
লাগল কি পদ-আগ॥
জিতল সুথল-                       কমল বিমল
চরণ-তলকি পাঁতি।
ধূলি-ভিন্ন-পদ-                    চিহ্নক আমোদ
ভুলল ভ্রমর মাতি॥
মৃদুল অঙ্গুলি                         সরস পরশ
উরবি দরবি জাত।
হেরি বলরাম                       পূর মন-কাম
ধরণি ধরয়ে মাথ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চামর ডামরী,                       শ্যামর কবরী,
নিবিড় তিমির রাতি।
ফণি মণিগণ,                          ভূষণ ঐছন,
উয়ল উড়ুক পাঁতি॥
কস্তুরী চন্দন,                          ভ্রমরী মকরী,
পত্রক চিত্রক লেখ।
ললাটে সিন্দুর,                      অনঙ্গ মন্দির,
সীমন্তে সিন্দুর রেখ॥
কুন্তল বলিকা,                    মণিকা কলিকা,
অলকা বলকা শোভে।
মদন মাদন,                         মনহি উদিত,
মদন কদন ক্ষোভে॥
রতন রচন,                       বেণী সুশোভন,
কুসুম ঠামহি ঠাম।
জনু পসারল,                      অতনু মাতল,
করিকর অনুপাম॥
চন্দন বিন্দু,                           পূণিম ইন্দু,
সিন্দুর মিহির পাশে।
অলকা ভুখিল,                    রাহু বিয়াকুল,
ধরত ফিরত আশে॥
ভাঙক ঠাম,                          দেখত কাম,
ধনুয়া মান ছোড়।
হেরত বরজ,                      মকর কেতন,
চেতন রতন চোর॥
অঞ্জন রঞ্জন,                          নয়ন খঞ্জন,
চাহনি মোহনি ভঙ্গ।
নিমিষে নিমিষে,                  হরিষে বরিষে,
রমণ রভস রঙ্গ॥
শ্রুতি অলঙ্কৃতি,                    চক্র আকৃতি,
শোভিত চারু শলাক।
তঁহি মনোভব,                  কোটি পরাভব,
ভুলল ভ্রমর লাখ॥
দেখত দেখত,                     বেকত করত,
তরুণ তপন দণ্ড।
লোল কুণ্ডল,                      দীপতি মণ্ডল,
উয়ল যুগল গণ্ড॥
নাসিক ওর,                      মোতিম কোর,
ভোর জগত রীঝ।
যৈছন কীর,                             চঞ্চু গীর,
পড়ত দাড়িম বীজ॥
বিম্ব অধর,                        অতি সুমধুর,
ঈষত হসিত ছন্দ।
হেরত বরজ,                       যুবতী উমতী,
ধরতি পড়তি ধন্দ॥
থকিত চকিত,                       সরস অলস,
রচন বচন আধা।
আনন্দ হিল্লোলে,                     ভুবন মগন,
ধরণী ভরয়ে সুধা॥
খপূর কপূর,                       সহিত লোহিত,
দশন বসন সাজ।
প্রবাল আবলী,                      বেঢ়ল বান্ধুলী
অরুণ রকত মাঝ॥
উজোর বিজুরী,                  থির হীর সারি,
দমন দশন বৃন্দ।
সিন্দুরে মণ্ডিত,                   মোতিম খণ্ডিত,
কুন্দ কোরক নিন্দ॥
চিবুক কূহরে                         হরল নাগর,
মানস হরিণী হেরি।
কস্তুরীর বিন্দু,                   কালোজলে দেল,
মদন মৃগ উঘেরী॥
কোটি সুধাকর                      মুখ মনোহর,
লাবনী অবনী ভোর।
চন্দন চিত্রক,                     ছলে কি লাগল,
নাহক চিত চকোর॥
কম্বু গ্রীব,                                বন্ধু-জীব,
অম্বুজ নীপক মাল।
আমোদে লুবধ,                     ধাবই ক্ষুবধ,
গাবই ভ্রমর জাল॥
বিদ্রুম মৌক্তিক,                     হেম হীরক,
ত্রিবলী হংস হার।
দয়িত যুবতী,                       লিখন রতন,
রচিত পদক সার॥
অগুরু রচিত,                      বাহু যুগ চিত,
অঙ্গদ কঙ্কণ সাজে।
নীলমণি বনি,                        বলয় উরমী,
কর যুগে সুবিরাজে॥
আধ আধ করি,                  কি বিধি মেটল,
অরুণ চান্দ কি বাদ।
নখ করতল,                        মাঝহি কমল,
অতয়ে ফুটল আধ॥
উচ কটোর,                         কুচক জোর,
রুচির চোর সীত।
সান্ত কুম্ভ,                            রচিত কুম্ভ,
রুচি আরম্ভ রীত॥
তঁহি পুরাতন,                       জগত অতুল,
নবীন যৌবন নিধি।
মদন মোহন,                        মোহন কারণ,
কামে কি দেয়ল বিধি॥
গন্ধ বরচিত,                     অঙ্গে বিরাজিত,
চন্দন ঘুসৃণ চিত।
বিহি চিতাওল,                       পূজক মদন,
সদন দৈবক ভীত॥
কুঞ্জক মেচক,                      বরজ বিরাজ,
ধৈরজ ধরম লুট।
তরুণ তপন,                        মথন রতন,
কিরণ দামিনী ছুট॥
জলদ জড়িত,                       যৈছন তড়িত,
সিলিম নীলিম শাটি।
মন্থর চলিত,                      মধুর সিঞ্চিত,
চঞ্চল অঞ্চল ধটী॥
নাভী সুশীতল,                      সরসি অতুল,
পিয় হিয় ঝস থাপি।
হেরি কুচগিরি,                      উত্তরি পৈঠত,
এহিঁ লোমাবলী সাপি॥
কেশরী রাজ,                       ক্ষীণ হি মাঝ,
তিন ত্রিবলী লেখা।
একে একে তিন,                    ভুবন হারিয়া
দেয়ল এ তিন রেখা॥
কবহুঁ গোপত,                      কবহুঁ বেকত,
নাহ চিত রীত চোর।
হেরি শশিমুখী,                     নীবীছলে তথি,
বান্ধল পাটক ডোর॥
সঘন জঘন,                          চক্র বিখণ্ডন,
সরস রসনা সাজ।
তাহে কি মদন,                     জিতল ভুবন,
বিজয় ডিণ্ডিম গাজ॥
উরুযুগ দলি,                        কনক কদলী,
করভ কনক ছন্দ।
রমণ মোহন,                         বিরহ জলধি,
রতনের সেতুবন্ধ॥
জানু সম্পুট,                        গোপী-লম্পট,
জীবন সম্পদ চোর।
হাটক সম্পুট,                        কটক রচিত
চটক পটিম মোর॥
রতন রচিত,                          মঞ্জুল মঞ্জীর,
রঞ্জিত চরণ কঞ্জ।
মন্থর চলিত,                        মধুর সিঞ্চিত,
হংস বারণ গঞ্জ॥
উছলি চরণ,                        ও রবি কিরণ
দিগহি বিগহি ভাস।
নখ বিধু ধৃত,                          পদতল গত,
তিমির করত নাশ॥
নখর নিকর,                        নিকে পসারল,
কত নিশাকর হাট।
পুনঃ পুন ছবি,                     দেখিয়া উবরি,
তমক হৃদয় ফাট॥
প্রপদ সহিত,                       জগত মোহিত,
বেকত অলত রাগ।
অধর বরণ,                         নাগত অরুণ,
নাগল কি পদ আগ॥
জিতল সুখল,                        কমল বিমল,
চরণ তল কি পাঁতি।
ধূলী ভিন্ন পদ,                     চিহ্নক আমোদ,
ভুলল ভ্রমর মাতি॥
মৃদুল অঙ্গুলী,                          সরস পরশ,
উরবি দরবি জাত।
হেরি বলরাম,                        পূর মন কাম,
ধরণী ধরয়ে মাথ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চামর-ডামরী শ্যামর কবরী নিবিড় তিমির রাতি।
ফণি মণিগণ, ভূষণ ঐছন, উয়ল উড়ুক পাঁতি॥
কস্তুরী চন্দন ভ্রমরী মকরীপত্রক চত্রক লেখা।
ললাটে সিন্দূর অনঙ্গ মন্দির সীমন্তে সিন্দূর রেখা॥
কুন্তল বালিক, মণিকাবলিকা অলকাবলিকা শোভে।
মদন মাদন, মনহি উদিত, মদন কদন ক্ষোভে॥
রতন রচন, বেণী সুশোভন, কুসুম ঠামহি ঠাম।
জনু পসারল, অতনু মাতল, করি-কর অনুপাম॥
চন্দন বিন্দু, পূণিম ইন্দু, সিন্দূর মিহির পাশে।
অলকা ভুখিল, রাহু বিয়াকুল, ধরত ফিরত আশে॥
ভাঙক ঠাম, দেখত কাম, ধনুয়া মান ছোড়।
হেরত বরজ, মকর কেতন, চেতন রতন চোর॥
অঞ্জন রঞ্জন, নয়নখঞ্জন, চাহনি মোহনি ভঙ্গ।
নিমিখে নিমিখে, হরিখে হরিখে, মরণ রভস রঙ্গ॥
শ্রুতি অলঙ্কৃতি, চক্র আকৃতি, শোভিত চারু শলাক।
তহিঁ মনোভব, কোটি পরাভব, ভুলল ভ্রমর লাখ॥
দেখত দেখত, বেকত করত, তরুণ তপন দণ্ড।
লোল কুণ্ডল, দীপতি মণ্ডল, উয়ল যুগল গণ্ড॥
নাসিক ওর, মোতিম কোর, ভোর জগত রীঝ।
যৈছন কীর, চঞ্চু গীর, পড়ত দাড়িম বীজ॥
বিম্ব অধর, অতি সুমধুর, ঈষত হসিত ছন্দ।
হেরত বরজযুবতী উমতী, ধরতি পড়তি ধন্দ॥
থকিত চকিত, সরস অলস, বচন রচন আধা।
আনন্দ হিল্লোলে, ভুবন মগন, ধরণী ভরয়ে সুধা॥
খপূর কপূর, সহিত লোহিত, দশন বসন সাজ।
প্রবাল আবলী বেঢ়ল বান্ধুলী অরুণক কত মাঝ॥
উজোর বিজুরী, থির হীর সারি, দমন দশন বৃন্দ।
সিন্দূরে মণ্ডিত, মোতিম খণ্ডিত, কুন্দ-কোরক নিন্দ॥
চিবুক কূহরে হরল নাগর, মানস হরিণী হেরি।
কস্তূরীর বিন্দু, কাল জাল দেল, মদন মৃগী উঘরি॥
কোটি সুধাকর মুখ মনোহর, লাবণী অবনী ভোর।
চন্দন-চিত্রক ছলে কি লাগল নাহক চিত-চকোর॥
কম্বু গ্রীব বন্ধুজীব, অম্বুজ নীপক মাল।
আমোদ-লূবধ ধাবই ক্ষুবধ, গাবই ভ্রমর-জাল॥
বিভ্রম মৌক্তিক হেম হীরক, ত্রিবলী হংস হার।
দয়িত যুবতী লিখন রতন, রচিত পদক সার॥
অগুরু-রচিত বাহুযুগল-চিত, অঙ্গদ কঙ্কণ সাজে।
নীল মণি বলি বলয় উরমী, করযুগে সুবিরাজে॥
আধ আধ করি কি বিধি মেটল, অরুণ চান্দকি বাদ।
নখ করতল মাঝহি কমল, অতয়ে ফুটল আধ॥
উচ কঠোর কুচক জোর, রুচির চোর সিত।
শাতকুম্ভ রচিত কুম্ভ, রুচি আরম্ভ রীত॥
তহিঁ পুরাতন, জগত অতুল, নবীন যৌবন নিধি।
মদন-মোহন মোহন-কারণ, কামে কি দেয়ল বিধি॥
গন্ধ চরচিত, অঙ্গে বিরাজিত, চন্দন ঘুসৃণ চিত।
বিহি চিতাঙল পূজক মদন, সদন দৈবক ভীত॥
কুঞ্জক মেচক, বরজ বিরাজ, ধৈরজ ধরম লুট।
তরুণ তপন-মথন রণন, কিরণ দামিনী ছুট॥
জলদ-জড়িত, যৈছন তড়িত, শীলিত-নীলিম শাটী।
মন্থর চলিত, মধুর সিঞ্চিত, চঞ্চল অঞ্চল ধটী॥
নাভী-সুশীতল-সরসী অতুল, পিয় হিয় ঝস থাপি।
হেরি কুচ-গিরি, উত্তরি পৈঠত, তহিঁ লোমাবলী সাপী॥
কেশরী-রাজ, ক্ষীণহি মাঝ, তিন ত্রিবলী লেখা।
একে একে তিন, ভুবন হারিয়া, দেয়ল এ তিন রেখা॥
কবহুঁ গোপত, কবহুঁ বেকত, নাহ-চিত-রীত-চোর।
হেরি শশিমুখী, নীবি ছলে তথি, বান্ধল পাটক ডোর॥
সঘন জঘন, চক্র বিখণ্ডন, সরস রসনা সাজ।
তাহে কি মদন, জিতল ভুবন, বিজয়ী ডিণ্ডিম গাজ॥
উরুযুগ দলে, কনক-কদলী, করভ-করক ছন্দ।
রমণ-মোহন, বিরহ-জলধি, তরণের সেতুবন্ধ॥
জানু সম্পুট, গোপী লম্পট, জীবন-সম্পদ-চোর।
হাটক-গঠিত, কনক রচিত, চটক-পটিম মোর॥
রতন-রচিত, মঞ্জুল-মঞ্জীর, রঞ্জিত চরণকঞ্জ।
মন্থর চলিত, মধুর সিঞ্চিত, হংস বারণ গঞ্জ॥
উছলি চরণ, ও রবি-কিরণ, বিগহি বিগহি ভাস।
নখ-বিধুযুত, পদতল-গত, তিমির করত নাশ॥
নখর-নিকর, নীকে পসারল, কত নিশাকর-হাট।
পুন পুন ছবি, দেখি যাউ রবি, তমক হৃদয় ফাট॥
প্রপদ সহিত, জগত মোহিত, বেকত অলপ রাগ।
অধর-বরণ, লাজত অরুণ, নাগল কি পদ আগ॥
জিতল সুথল, কমল বিমল, চরণ-তলকি কাঁতি।
ধূলী ভিন্ন পদ, চিহ্নক আমোদ, ভুলল ভ্রমর পাঁতি॥
মৃদুল অঙ্গুলী, সরস পরশ, উরবি দরবি-জাত।
হেরি বলরাম, পূরল মনকাম, ধরণী ধরয়ে মাথ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৫১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চামর ডামরি                       শ্যামরি কবরি
নিবিড়-তিমির রাতি।
ফণি-মণিগণ,                            ভূষণ ঐছন
উয়ল উড়ুক পাঁতি॥
কস্তুরী চন্দন,                         ভ্রমরী মকরী-
পত্রক চিত্রক লেখ।
ললাটে সিন্দুর                       অনঙ্গ-মন্দির
সীমন্তে সিন্দুর-রেখ॥
কুন্তল-বলিকা                     মলিকা-কলিকা
অলকাবলকা শোভে।
মদন-মাদন,                          মনহি উদিত
মদন-কদন ক্ষোভে॥
রতন-রচন,                       বেণি সুশোভন
কুসুম ঠামহি ঠাম।
জনু পসারল                       অতনু মাতল
করি-কর অনুপাম॥
চন্দন-বিন্দু                           পুণিম-ইন্দু
সিন্দুর-মিহির পাশে।
অলকা ভুখিল                     রাহু বিয়াকুল
ধরত ফিরত আশে॥
ভাঙক ঠাম                         দেখত কাম
ধনুয়া-মান ছোড়।
হেরত বরজ-                      মকর-কেতন-
চেতন-রতন চোর॥
অঞ্জন-রঞ্জন                           নয়ন-খঞ্জন
চাহনি মোহনি ভঙ্গ।
নিমিষে নিমিষে                  হরিষে বরিষে
রমণ-রভস-রঙ্গ॥
শ্রুতি-অলঙ্কৃতি                      চক্র-আকৃতি
শোভিত চারু শলাক।
তঁহি মনোভব                    কোটি পরাভব
ভুলল ভ্রমর-লাখ॥
দেখত দেখত                      বেকত করত
তরুণ তপন দণ্ড।
লোল কুণ্ডল                      দীপতি-মণ্ডল
উয়ল যুগল গণ্ড॥
নাসিক ওর                      মোতিম-কোর
ভোর জগত-রীঝ।
যৈছন কীর-                             চঞ্চু গীর
পড়ত দাড়িম-বীজ॥
বিম্ব-অধর                         অতি-সুমধুর
ঈষত-হসিত-ছন্দ।
হেরত বরজ-                      যুবতী উমতি
ধরতি পড়তি ধন্দ॥
থকিত চকিত                       সরস অলস
রচন-বচন আধা।
আনন্দ-হিল্লোলে                      ভুবন মগন
ধরণী ভরয়ে সুধা॥
খপুর কপুর                       সহিত লোহিত
দশন-বসন সাজ।
প্রবাল-আবলী                      বেঢ়ল বান্ধুলী
অরুণ রকত মাঝ॥
উজোর বিজুরি                  থির হির-সারি
দমন দশন-বৃন্দ।
সিন্দুরে মণ্ডিত                   মোতিম খণ্ডিত
কুন্দ-কোরক নিন্দ॥
চিবুক-কুহরে                       হরল নাগর-
মানস-হরিণি হেরি।
কস্তুরীর বিন্দু                    কাল জাল দেল
মদন মৃগউ ঘেরী॥
কোটি সুধাকর                      মুখ মনোহর
লাবনি অবনি ভোর।
চন্দন-চিত্রক                      ছলে কি লাগল
নাহক চিত-চকোর॥
কম্বু-গ্রীব                                 বন্ধুজীব
অম্বুজ-নীপক মাল।
আমোদে-লুবধ                       ধাবই খুবুধ
গাবই ভ্রমর-জাল॥
বিদ্রুম মৌক্তিক                      হেম হীরক
ত্রিবলি হংস-হার।
দয়িত যুবতি                        লিখন রতন
রচিত পদক সার॥
অগুরু-রচিত                      বাহু-যুগ-চিত
অঙ্গদ কঙ্কণ সাজে।
নীলমণি বনি                        বলয় উরমী
কর-যুগে সুবিরাজে॥
আধ আধ করি                  কি বিধি মেটল
অরুণ চান্দক বাদ।
নখ করতল                        মাঝহি কমল
অতয়ে ফুটল আধ॥
উচ কটোর                        কুচক জোর
রুচির চোর সীত।
শাতকুম্ভ--                         রচিত কুম্ভ-
রুচি আরম্ভ রীত॥
তঁহি পুরাতন                       জগত অতুল
নবীন যৌবন-নিধি।
মদন-মোহন-                     মোহন- কারণ
কামে কি দেয়ল বিধি॥
গন্ধ-চরচিত                     অঙ্গে বিরাজিত
চন্দন ঘুসৃণ চিত।
বিহি চিতাওল                       পূজক মদন
সদন দৈবক ভীত॥
কুঞ্জক মেচক                       বরজ-বিরাজ-
ধৈরজ ধরম লুট।
তরুণ তপন-                        মথন রতন-
কিরণ দামিনী-ছুট॥
জলদ-জড়িত                       যৈছন তড়িত
শীলিত-নীলিম-শাটী।
মন্থর চলিত                         মধুর সিঞ্চিত
চঞ্চল অঞ্চল ধটী॥
নাভী সুশীতল-                      সরসী অতুল
পিয়-হিয়-ঝস থাপি।
হেরি কুচ-গিরি                      উতরি পৈঠত
তহিঁ লোমাবলি-সাপি॥
কেশরী-রাজ                          ক্ষীণহি মাঝ
তিন ত্রিবলী লেখা।
একে একে তিন                    ভুবন হারিয়া
দেয়ল এ তিন রেখা॥
কবহুঁ গোপত                        কবহুঁ বেকত
নাহ-চিত-রিত-চোর।
হেরি শশি-মুখী                    নীবী-ছলে তহি
বান্ধল পাটক ডোর॥
সঘন জঘন                          চক্র-বিখণ্ডন
সরস রসনা সাজ।
তাহে কি মদন                       জিতল ভুবন
বিজই ডিণ্ডিম গাজ॥
উরুযুগ দলি                          কনক-কদলী
করভ-করক ছন্দ।
রমণ-মোহন                           বিরহ-জলধি
তরণের সেতু-বন্ধ॥
জানু-সম্পুট                        গোপি—লম্পট-
জীবন-সম্পদ-চোর।
হাটক-গঠিত                           কটক-রচিত
চটক-পটিম-মোর॥
রতন-রচিত                          মঞ্জুল-মঞ্জীর-
রঞ্জিত চরণ-কঞ্জ।
মন্থর-চলিত                         মধুর শিঞ্জিত
হংস বারণ গঞ্জ॥
উছলি চরণ                          ও রবি-কিরণ
দিগহি দিগহি ভাস।
মুখ-বিধু-ধূত                           পদ-তল-গত
তিমির করত নাশ॥
নখর-নিকর                         নিকে পসারল
কত নিশাকর-হাট।
পুন পুন ছবি                         দেখি যাউ রবি
তমক হৃদয় ফাট॥
প্রপদ সহিত                        জগত মোহিত
বেকত অলত-রাগ।
অধর-বরণ                          মাগত অরুণ
লাগল কি পদ-আগ॥
জিতল সুথল-                        কমল বিমল
চরণ-তলকি পাঁতি।
ধূলী-ভিন্ন-পদ-                     চিহ্নক আমোদ
ভুলল ভ্রমর মাতি॥
মৃদুল অঙ্গুলি                          সরস পরশ
উরবি দরবি জাত।
হেরি বলরাম                        পূর মন কাম
ধরণি ধরয়ে মাথ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভালে সে চন্দন চান্দ নাগরী মোহন ফান্দ
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ২য় পল্লব, রূপানুরাগ,
পদসংখ্যা ২৭৯।

॥ কামোদ॥

ভালে সে চন্দন চান্দ                নাগরি-মোহন ফান্দ
আধ টানিয়া চৃড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে,             জাতি কুল নাহি রাখে
মো পুন ঠেকিলুঁ ও না ফান্দে॥
সই কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া                ও রূপ নিছনি লৈয়া
পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ও মুখ-ছান্দ                 কান্দে পূণিমক চান্দ
লাজ ঘরে ভেজাঞা আগুনি।
নয়ান-কোণের বাণে                হিয়ার মাঝারে হানে
কিবা দুটি ভুরূর নাচনি॥
আই আই মলুঁ মলু                কি রূপ দেখিয়া আইলুঁ
কালা-অঙ্গে পড়িছে বিজলি।
স্বরূপে দঢ়াইলুঁ মনে                   এ রূপ যৌবন সনে
আপনা সাজাঞা দিব ডালি॥
কি খেনে দেখিলুঁ তারে            না জানি কি হৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাস কহে                   ও রূপ দেখিয়া কোন
পামরি রহিতে পারে ঘরে॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের
পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, নায়িকার পূর্ব্বরাগ, ৬৯ পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ভালে সে চন্দন চান্দ                নাগরী মোহন ফান্দ
আধ টানিয়া চৃড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে,            জাতি কুল নাহি রাখে,
মো পুনি ঠেকিলুঁ ও না ফান্দে॥
সই, কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া                ও রূপ নিছনি নিয়া
পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥ ধ্রু॥
দেখিয়া ও মুখ ছান্দ                 কান্দে পূনমিক চান্দ
লাজে ঘরে ভেজাঞা আগুনি।
নয়ান কোণের বাণে,                হিয়ার মাঝারে হানে,
কিবা দুটি ভূরুর নাচনি॥
আই আই মলুঁ মলু                  কি রূপ দেখিয়া আলুঁ
কালাঁ অঙ্গে পড়িছে বিজুরী।
স্বরূপে দঢ়াইলুঁ মনে                   ও রূপ যৌবন সনে
আপনি সাজাঞা দিলুঁ ডালি॥
কি খেণে দেখিলুঁ তারে           না জানি কি হৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাসে কহে                   ও রূপ দেখিয়া গো
কোন পামরি রবে ঘরে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদা॥

ভালে সে চন্দন চান্দ, নাগরী মোহন ফান্দ, আধ টানিয়া চৃড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে, জাতি কুল নাহি রাখে, মো পুনি ঠেকিনু ও না ফান্দে॥
সই কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া, ও রূপ নিছনি নিয়া, পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥
দেখিয়া ও মুখ ছান্দ, কান্দে পুনমিক চান্দ, লাজ দ্বারে ভেজাঞা আগুনি।
নয়ান কোণের বাণে, হিয়ার মাঝারে হানে, কিবা দুটী ভূরুর নাচনি॥
আই আই মনু মনু, কি রূপ দেখিয়া আইনু, কলা অঙ্গে পড়িছে বিজলি।
স্বরূপে দঢ়ানু মনে, ও রূপ যৌবন সনে, আপনা সাজাঞা দিব ডালি॥
কি খেনে দেখিনু তারে, না জানি কি হৈল মোরে, আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরামদাস কহে, ওরূপ দেখিয়া গো, কোন পামরী রবে ঘরে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪০১-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ভালে সে চন্দন চান্দ,                নাগরী মোহন ফান্দ,
আধ টানিয়া চৃড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে,             জাতি কুল নাহি রাখে,
মো পুন ঠেকিনু ও না ফান্দে॥
সই কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া,                ও রূপ নিছনি লিয়া,
পরাণে বন্ধিয়া থোব তারে॥
দেখিয়া ও মুখ চান্দ,                কান্দে পূনমিক চান্দ,
লাজ দ্বারে ভেজাঞা আগুনি।
নয়ান কোণের বাণে,                হিয়ার মাঝারে হানে,
কিবা দুটি ভুরূর নাচনি॥
আই আই মনু মনু,                কিরূপ দেখিয়া আইনু,
কালা অঙ্গে পরিছে বিজলি।
স্বরূপে দঢ়ানু তারে,                  এ রূপ যৌবন সনে,
আপনা সাজাঞা দিব ডালি॥
কি খেনে দেখিনু তারে,          না জানি কি হৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাস কহে,                     ওরূপ দেখিয়া গো,
কোন পামরী রবে ঘরে॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,“কীর্ত্তন-পদাবলী”,
৩১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ভালে সে চন্দনচান্দ, নাগরী মোহন ফান্দ
আধ টানিয়া চৃড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে, জাতিকুলনাহিরাখে
মো পুন ঠেকিনু ও না ফান্দে॥
সই কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া, ওরূপ নিছনি লিয়া
পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥
দেখিয়া ও মুখ চান্দ, কান্দে পূণমিক চান্দ
লাজ দ্বারে ভেজাঞা আগুনি।
নয়ান কোণের বাণে, হিয়ার মাঝারে হানে
কিবা দুটি ভুরূর নাচনি॥
আই আই মনু মনু, কিরূপ দেখিয়া আইনু
কালা অঙ্গে পড়িছে বিজলি।
স্বরূপে দঢ়ানুতারে, এ রূপ যৌবন সনে,
আপনা সাজাঞা দিব ডালি॥
কিখেনে দেখিনু তারে, না জানি কি হৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাস কহে, ওরূপ দেখিয়া গো
কোন পামরী রবে ঘরে॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”,
১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ভালে সে চন্দন চান্দ                নাগরি মোহন ফান্দ
আধ টানিয়া চৃড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে             জাতি কুল নাহি রাখে
মো পুন ঠেকিনু ওই ফান্দে॥
সই, কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া                ও রূপ নিছনি লিয়া
পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥
দেখিয়া ও মুখ চান্দ                 কান্দে পূনমিক চান্দ
লাজ দ্বারে ভেজাঞা আগুনি।
নয়ান-কোণের বাণে                হিয়ার মাঝারে হানে
কিবা দুটী ভুরূর নাচনি॥
আই আই মনু মনু                কি রূপ দেখিয়া আইনু
কালা অঙ্গে পড়িছে বিজলি।
স্বরূপে দঢ়ানু মনে                     ও রূপ যৌবন সনে
আপনা সাজাঞা দিব ডালি॥
কি খেণে দেখিনু তারে           না জানি কি হৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাসে কহে                    ও রূপ দেখিয়া গো
কোন পামরী রবে ঘরে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সাক্ষাদ্দর্শন
॥ কামোদ॥

ভালে সে চন্দন চান্দ                নাগরিমোহন ফান্দ
আধ টানিয়া চৃড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে             জাতি কুল নাহি রাখে
মো পুন ঠেকিলুঁ ও না ফান্দে॥
সই কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া                ও রূপ নিছনি লৈয়া
পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥
দেখিয়া ও মুখছান্দ                 কান্দে পূনমিক চান্দ
লাজ ঘরে ভেজাঞা আগুনি।
নয়ানকোণের বাণে                 হিয়ার মাঝারে হানে
কিবা দুটি ভুরূর নাচনি॥
আই আই মলুঁ মলুঁ                কি রূপ দেখিয়া আইলু
কালাঅঙ্গে পড়িছে বিজলি।
স্বরূপে দঢ়াইলুঁ মনে                 এ রূপ যৌবন সনে
আপনি সাজাঞা দিব ডালি॥
কি খেণে দেখিলুঁ তারে          না জানি কি হৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাসে কহে                 ও রূপ দেখিয়া কোন
পামরী রহিতে পারে ঘরে॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৫৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ভালে সে চন্দন চান্দ                নাগরি মোহন ফান্দ
আধ টানিয়া চৃড়া বান্ধে।
বিনোদ ময়ূরের পাখে             জাতি কুল নাহি রাখে
মো পুনি ঠেকিলুঁ ও না ফান্দে॥
সই কি আর কি আর বোল মোরে।
জাতি কুল শীল দিয়া                ও রূপ নিছনি লৈয়া
পরাণে বান্ধিয়া থোব তারে॥
দেখিয়া ও মুখ-ছান্দ                কান্দে পূনমিক চান্দ
লাজ ঘরে ভেজাঞা আগুনি।
নয়ান-কোণের বাণে                হিয়ার মাঝারে হানে
কিবা দুটি ভুরূর নাচনি॥
আই আই মলুঁ মলুঁ                কি রূপ দেখিয়া আইলু
কালা-অঙ্গে পড়িছে বিজলি।
স্বরূপে দঢ়াইলুঁ মনে                 ও রূপ যৌবন সনে
আপনি সাজাঞা দিব ডালি॥
কি খেণে দেখিলুঁ তারে         না জানি কি হৈল মোরে
আট প্রহর প্রাণ ঝুরে।
বলরাম দাসে কহে                   ও রূপ দেখিয়া কোন
পামরি রহিতে পারে  ঘরে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেদে রে নদীয়ার চান্দ বাছারে নিমাঞি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, নিমাই পণ্ডিতের সহচর কবিকুল, ৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
পদটি তিনি সাহিত্যপরিষদের ৯৬৯সংখ্যক পুথিতে পেয়েছিলেন। এই পদটি
গৌরপদতরঙ্গিণীতে
বাসুদেব ঘোষ ভণিতায় রয়েছে।


হেদে রে নদীয়ার চান্দ বাছারে নিমাঞি।
অভাগিনী শচী মায়ের আর কেহ নাঞি॥
এত বলি ধরে শচী গৌরাঙ্গের গলে।
স্নেহভরে চুম্ব দেয় বদন কমলে॥
মুঞি বৃদ্ধ মাতা তোর আমারে ফেলিয়া।
বিষ্ণুপ্রিয়া বধূ দিলি গসায় গাঁথিয়া॥
তোমার লাগিয়া কান্দে সব নদীয়ার লোক।
ঘর চল বাছা তুমি যাউক মোর শোক॥
শ্রীবাস হরিদাস যত ভকতগণ।
তা সভা লইঞা বাছা করিলা কীর্ত্তন॥
মুরারি মুকুন্দ বাসু আর যত দাস।
এ সব ছাড়িয়া কেনে করিলা সন্ন্যাস॥
যের করিলা সে করিলা চলরে ফিরিয়া।
পুন যজ্ঞসূত্র দিব ব্রাহ্মণ লইয়া॥
বলরাম দাসে কহে হেন দিন হব।
শ্রীবাস মন্দিরে আর কীর্ত্তন শুনিব॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কত নারী আছয়ে গোকুলে
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ সুহই॥

কত নারী আছয়ে গোকুলে।
অভাগিনী আমার কলঙ্ক হইল কুলে॥
ঘৃতের প্রদীপ মাঝে কার।
কি জানি না জানিয়া ঢালিনু তৈলধার॥
কার কাঁচা আইলে দিনু পা।
তার ফলে লোক লাজ বেয়াপিল গা॥
কেবা নাহি দেখে শ্যাম চাঁদে।
কোন ক্ষণে হাম নারী পড়ি গেলু ফাঁদে॥
তার সনে কেনা কথা কয়।
আমার বিষের জ্বালা সোয়াথ না হয়॥
মোরে দেয় কালা পরিবাদ।
তেজিনু তেজিনু সই জীবনের সাধ॥
কাহারে কহিব দুখ কথা।
বলরাম দাস বলে কি হৈল বিধাতা॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর