| কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| রসভরে মন্থর লহু লহু চাহনি ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১৫৭-পৃষ্ঠা। শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ। ॥ পুনঃ তোড়ী॥ রসভরে মন্থর লহু লহু চাহনি কি দিঠি ঢুলায়লি ভাতি। গরল মাখি হিয়ে শেল কি হানল জর জর করু দিন রাতি॥ সজনি! ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ। কত কত জনমক পুণফলে মিলন দিঠি ভরি না হেরলু কান॥ ধ্রু॥ কত যে অমিয়া শ্রুতি বচনে উগারই কুলবতী মোহন মন্ত্র। সো হিয় লাগি রজনী দিন জারই ডহি ডহি জীউ করু অন্ত॥ নিশি দিশি সোঙরি সোঙরি চিত আকুল ওগতি আধ আধ পায়। হঠ করি মরমে মরমে মঝু পৈঠল বিছুরি বিছুরি নাহি যায়॥ কো দেই চন্দন তিলক বনায়ল সো ভেল হৃদয়ক ফান্দ। বলরাম দাস কহ অব্ আর না রহ কুলজা-কুল মরিয়াদ॥ এই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ ) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৭৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ রসভরে মন্থর, লহু লহু চাহনি, কি দিঠি চুনায়লি ভাতি। গরল মাখি হিয়ে, শেল কি হানল, জ্বর জ্বর করু দিন রাতি॥ সজনি, ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ। কত কত জনমক, পূণ ফলে মিলল, দিঠি ভরি না হেরলু কান॥ ধ্রু। কতএ অমিয়া প্রীতি,-- বচনে উগারই, কুলবতী মোহন মন্ত্র। সো হিয় লাগি, রজনী দিন জাগই তুহি তুহি জিউ করু অন্ত॥ নিশি দিসি সোঙরি, সোঙরি চিত আকুল, ও গতি আধ আধ পায়। হঠ করি মরমে, মরমে মঝু পৈঠল, বিছুরে বিছুরি নাহি যায়॥ কে দেই চন্দন তিলক বনায়ল, সো ভেল হৃদয়ক ফান্দ। বলরাম দাস কহ, অব আর না রহ, কুল ফি মরিজাদ॥ এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। [ শ্রীরাধার পূর্ব্ব-রাগ ] রস-ভরে মন্থর লহু লহু চাহনি কি দিঠি-ঢুলাওনি-ভাতি। গরল মাখি হিয়ে শেল কি হানল জর জর করু দিন-রাতি॥ সজনী ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ। কত কত জনম- কলপ-ফলে মীলল দিঠি ভরি না হেরলু কান॥ ধ্রু॥ কত যে অমিয়া প্রতি- বচনে উগারই কুলবতি-মোহন-মন্ত্র। সো হিয় লাগি রজনি-দিন জারই উহি উহি জিউ করু অন্ত॥ নিশি-দিশি সোঙরি সোঙরি চিত আকুল ও গতি আধ-আধ পায়। হঠ করি মরমে মরমে মঝু পৈঠল কহ সখি কোন উপায়। কিবা দেই চন্দন- তিলক বনায়ল সো ভেল হৃদয়ক ফান্দ। বলরাম দাস কহ অব আর না রহ কুলজা-কুল-মরিজাদ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ তোড়ী॥ রসভরে মন্থর লহু লহু চাহনি কি দিঠি ঢুলাওনি ভাঁতি। গরল মাখি হিয়ে শেল কি হানল জরজর করু দিনরাতি॥ সজনি ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ। কত কত জনম- কলপ ফলে মীলল দিঠি ভরি না হেরলুঁ কান॥ কত যে অমিয়া প্রতি- বচনে উগারই কুলবতি মোহন মন্ত। সো হিয়া লাগি রজনি দিন জারই উহু উহু জিউ করু অন্ত॥ নিশিদিশি সোঙরি সোঙরি চিত আকুল ও গতি আধ আধ পায়। হঠ করি মরম মাধারে মঝু পৈঠল কহ সখি কোন উপায়॥ কিবা দেই চন্দন- তিলক বনায়ল সো ভেল হৃদয়ক ফাঁদ। বলরাম দাস কহ অব আর না রহ কুলজা কুলমরিযাদ॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তোড়ী॥ রস-ভরে মন্থর লহু লহু চাহনি কি দিঠি ঢুলাওনি-ভাঁতি। গরল মাখি হিয়ে শেল কি হানল জর জর করু দিন-রাতি॥ সজনি ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ। কত কত জনম- কলপ-ফলে মীলল দিঠি ভরি না হেরলুঁ কান॥ কত যে অমিয়া প্রতি- বচনে উগারই কুলবতি-মোহন-মন্ত। সো হিয় লাগি রজনি-দিন জারই উহি উহি জিউ করু অন্ত॥ নিশি-দিশি সোঙরি সোঙরি চিত আকুল ও গতি আধ-আধ পায়। হঠ করি মরমে মরমে মঝু পৈঠল কহ সখি কোন উপায়॥ কিবা দেই চন্দন- তিলক বনায়ল সো ভেল হৃদয়ক ফাঁদ। বলরাম দাস কহ অব আর না রহ, কুলজা -কুল-মরিজাদ॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাই বোলহ করিব কি ভনিতা বলরাম কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীরাধিকার স্বয়ং দৌত্য, ৮১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ রাই বোলহ করিব কি। তিলেক তোমার পরশ না পাইলে সেই ক্ষণে নাহি জী॥ ধ্রু॥ তোমার অঙ্গের সরস পরশ পাইলে যে সুখ উঠে। বুকের ভিতর বান্ধিয়া রাখয়ে, ছাড়িতে পরাণ ফাটে॥ বিহি নিদারূণ করিলেক ভিন তোমা হেন গুণ নিধি। এ মুখ দেখিয়া হৃদি উল্লাসয়ে সকলি পাইনু সিধি॥ হেন লএ মনে প্রবেশিয়া বনে, তোমারে করিয়া বুকে। বলরাম চিতে দেখি দিন রাইতে আপন মনের সুখে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের আত্মনিবেদন ॥ কেদার॥ রাই বোলহ করিব কি। তিলেক তোমার পরশ না পাইলে সেই ক্ষণে নাহি জী॥ তোমার অঙ্গের সরস পরশ পাইলে যে সুখ উঠে। বুকের ভিতর বান্ধিয়া রাখিয়ে ছাড়িতে পরাণ ফাটে॥ বিহি নিদারুণ করিলেক ভিন তোমা হেন গুণনিধি। এ মুখ দেখিয়া হৃদি উলাসয়ে সকলি পাইনু সিধি॥ হেন লএ মনে প্রবেশিয়া বনে তোমারে করিয়া বুকে। বলরাম চিতে দেখি দিন রাইতে আপন মনের সুখে॥ এই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ রাই বোলহ করিব কি। তিলেক তোমার পরশ না পাইলে সেই ক্ষণে নাহি জী॥ তোমার অঙ্গের সরস পরশ পাইলে যে সুখ উঠে। বুকের ভিতর বান্ধিয়া রাখয়ে ছাড়িতে পরাণ ফাটে॥ বিহি নিদারূণ করিলেক ভিন তোমা হেন গুণ-নিধি। এ মুখ দেখিয়া হৃদি উল্লাসয়ে সকলি পাইনু সিধি॥ হেন লএ মনে প্রবেশিয়া বনে তোমারে করিয়া বুকে। বলরাম চিতে দেখি দিন রাইতে আপন মনের সুখে॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হেরই পীন পয়োধর রোয়ই ভনিতা বলরাম দাস কবি বলরাম দাস ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, অভিসার, ৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-র “মাধব এ তুয়া কোন বিচার” পদটি এই “হেরই পীন পয়োধর রোয়ই” পদের প্রথম দুটি পংক্তি বাদ দিলে হুবহু অবশিষ্ট পদের সঙ্গে মিলে যায়, সামান্য স্বাভাবিক বিবর্তন সহ! পদাবলীর এ রকম বিবর্তনের বিষয়ে, বিশেষজ্ঞদের ভাবার অবকাশ রয়েছে। ॥ ধানশী॥ হেরই পীন পয়োধর রোয়ই, বিহিকে বোলই মন্দ। গুরুয়া নিতম্ব ভরে, এভব দুবরি ঝামরি ভেল মুখচন্দ॥ মাধব এ তুয়া কোন বিচার। ননি পুতলি তনু, সরবই গরবই, কৈছে করবি অভিসার॥ ধ্রু। কাচুরি ফারি, চরণ তলে রোধই নাসিক মোতি না রাখ। চলই না পারই, আরতি বাঢ়ই, কাতরে মাগই পাখ॥ চলতহি তুরিত, ক্ষণে পুন বৈঠত, পদযুগে দেয়ই গারি। কহ বলরাম, ততহি অতি দুতর, লোচনে শাঙন বারি॥ . ******************************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |