কবি বলরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
*
হেথা দূতি রাই সনে ছিলা
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৭৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হেথা দূতি রাই সনে ছিলা।
শ্যাম চান্দে দেখিতে পাইলা॥
রাইয়েরে দেখায় শ্যাম চান্দে।
হেরি রাই ফুকরিয়া কান্দে॥
দূতি যাই নয়ান মুছায়।
না কান্দিহ বলি নিবারয়॥
আমি ছলে মিলাইব শ্যাম।
তুমি হেথা করহ বিশ্রাম॥
এত বলি চলে দূতি রঙ্গে।
মিলল শ্যাম ত্রিভঙ্গে॥
বলরাম দাস সঙ্গে যায়।
শ্যাম মুখ ঘন ঘন চায়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
॥ সুহিনী - একতালা॥

হেথা দূতি রাই সনে ছিলা।
শ্যাম চাঁদে দেখিতে পাইলা॥
রাইয়েরে দেখায় শ্যাম চাঁদে।
হেরি রাই ফুকারিয়া কাঁদে॥
দূতি রাইয়ের নয়ন মুছায়।
না কান্দিহ বলি নিবারয়॥
আমি ছলে মিলাইব শ্যাম।
তুমি হেথা করহ বিশ্রাম॥
এত বলি চলে দূতী রঙ্গে।
তুরিতে ভেটল শ্যাম সঙ্গে॥
বলরাম দাস সঙ্গে যায়।
শ্যাম-মুখ ঘন ঘন চায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার আপ্তদূতী
॥ সুহই॥

হেথা দূতি রাই সনে ছিলা।
শ্যাম চান্দে দেখিতে পাইলা॥
রাইয়েরে দেখায় শ্যাম চান্দে।
হেরি রাই ফুকরিয়া কান্দে॥
দূতি যাই নয়ান মুছয়।
না কান্দিহ বলি নিবারয়॥
আমি ছলে মিলাইব শ্যাম।
তুমি হেথা করহ বিশ্রাম॥
এত বলি চলে দূতী রঙ্গে।
মিলল শ্যাম ত্রিভঙ্গে॥
বলরাম দাস সঙ্গে যায়।
শ্যাম মুখ ঘন ঘন চায়॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হেথা দূতি রাই সনে ছিলা।
শ্যাম চান্দে দেখিতে পাইলা॥
রাইয়েরে দেখায় শ্যাম চান্দে।
হেরি রাই ফুকরিয়া কান্দে॥
দূতি যাই নয়ান মুছায়।
না কান্দিহ বলি নিবারয়॥
আমি ছলে মিলাইব শ্যাম।
তুমি হেথা করহ বিশ্রাম॥
এত বলি চলে দূতি রঙ্গে।
মিলল শ্যাম ত্রিভঙ্গে॥
বলরাম দাস সঙ্গে যায়।
শ্যাম মুখ ঘন ঘন চায়॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রসভরে মন্থর লহু লহু চাহনি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩
খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ১৫৭-পৃষ্ঠা।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ।
॥ পুনঃ তোড়ী॥

রসভরে মন্থর          লহু লহু চাহনি          কি দিঠি ঢুলায়লি ভাতি।
গরল মাখি হিয়ে          শেল কি হানল          জর জর করু দিন রাতি॥
সজনি! ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ।
কত কত জনমক          পুণফলে মিলন          দিঠি ভরি না হেরলু কান॥ ধ্রু॥
কত যে অমিয়া শ্রুতি          বচনে উগারই          কুলবতী মোহন মন্ত্র।
সো হিয় লাগি          রজনী দিন জারই          ডহি ডহি জীউ করু অন্ত॥
নিশি দিশি সোঙরি          সোঙরি চিত আকুল          ওগতি আধ আধ পায়।
হঠ করি মরমে          মরমে মঝু পৈঠল          বিছুরি বিছুরি নাহি যায়॥
কো দেই চন্দন          তিলক বনায়ল          সো ভেল হৃদয়ক ফান্দ।
বলরাম দাস কহ          অব্ আর না রহ          কুলজা-কুল মরিয়াদ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ( ১৮৯৯ )  রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম
দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৭৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

রসভরে মন্থর,                        লহু লহু চাহনি,
কি দিঠি চুনায়লি ভাতি।
গরল মাখি হিয়ে,                      শেল কি হানল,
জ্বর জ্বর করু দিন রাতি॥
সজনি, ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ।
কত কত জনমক,                     পূণ ফলে মিলল,
দিঠি ভরি না হেরলু কান॥ ধ্রু।
কতএ অমিয়া প্রীতি,--                  বচনে উগারই,
কুলবতী মোহন মন্ত্র।
সো হিয় লাগি,                        রজনী দিন জাগই
তুহি তুহি জিউ করু অন্ত॥
নিশি দিসি সোঙরি,            সোঙরি চিত আকুল,
ও গতি আধ আধ পায়।
হঠ করি মরমে,                     মরমে মঝু পৈঠল,
বিছুরে বিছুরি নাহি যায়॥
কে দেই চন্দন                         তিলক বনায়ল,
সো ভেল হৃদয়ক ফান্দ।
বলরাম দাস কহ,                   অব আর না রহ,
কুল ফি মরিজাদ॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

[ শ্রীরাধার পূর্ব্ব-রাগ ]

রস-ভরে মন্থর                          লহু লহু চাহনি
কি দিঠি-ঢুলাওনি-ভাতি।
গরল মাখি হিয়ে                        শেল কি হানল
জর জর করু দিন-রাতি॥
সজনী ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ।
কত কত জনম-                      কলপ-ফলে মীলল
দিঠি ভরি না হেরলু কান॥ ধ্রু॥
কত যে অমিয়া প্রতি-                   বচনে উগারই
কুলবতি-মোহন-মন্ত্র।
সো হিয় লাগি                        রজনি-দিন জারই
উহি উহি জিউ করু অন্ত॥
নিশি-দিশি সোঙরি               সোঙরি চিত আকুল
ও গতি আধ-আধ পায়।
হঠ করি মরমে                      মরমে মঝু পৈঠল
কহ সখি কোন উপায়।
কিবা দেই চন্দন-                       তিলক বনায়ল
সো ভেল হৃদয়ক ফান্দ।
বলরাম দাস কহ                     অব আর না রহ
কুলজা-কুল-মরিজাদ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তোড়ী॥

রসভরে মন্থর                       লহু লহু চাহনি
কি দিঠি ঢুলাওনি ভাঁতি।
গরল মাখি হিয়ে                    শেল কি হানল
জরজর করু দিনরাতি॥
সজনি ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ।
কত কত জনম-                  কলপ ফলে মীলল
দিঠি ভরি না হেরলুঁ কান॥
কত যে অমিয়া প্রতি-                বচনে উগারই
কুলবতি মোহন মন্ত।
সো হিয়া লাগি                    রজনি দিন জারই
উহু উহু জিউ করু অন্ত॥
নিশিদিশি সোঙরি            সোঙরি চিত আকুল
ও গতি আধ আধ পায়।
হঠ করি মরম                  মাধারে মঝু পৈঠল
কহ সখি কোন উপায়॥
কিবা দেই চন্দন-                   তিলক বনায়ল
সো ভেল হৃদয়ক ফাঁদ।
বলরাম দাস কহ                  অব আর না রহ
কুলজা কুলমরিযাদ॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৫৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী॥

রস-ভরে মন্থর                    লহু লহু চাহনি
কি দিঠি ঢুলাওনি-ভাঁতি।
গরল মাখি হিয়ে                  শেল কি হানল
জর জর করু দিন-রাতি॥
সজনি ইথে লাগি কান্দয়ে পরাণ।
কত কত জনম-                 কলপ-ফলে মীলল
দিঠি ভরি না হেরলুঁ কান॥
কত যে অমিয়া প্রতি-              বচনে উগারই
কুলবতি-মোহন-মন্ত।
সো হিয় লাগি                   রজনি-দিন জারই
উহি উহি জিউ করু অন্ত॥
নিশি-দিশি সোঙরি          সোঙরি চিত আকুল
ও গতি আধ-আধ পায়।
হঠ করি মরমে                  মরমে মঝু পৈঠল
কহ সখি কোন উপায়॥
কিবা দেই চন্দন-                    তিলক বনায়ল
সো ভেল হৃদয়ক ফাঁদ।
বলরাম দাস কহ                অব আর না রহ,
কুলজা  -কুল-মরিজাদ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ১ম খণ্ড, ২য়
শাখা, ২য় পল্লব, রূপানুরাগ, পদসংখ্যা ২৮০।

॥ সুহই॥

নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি।
গুরুজন-পথ ধরি করত নেহারি॥
গুরুজন পরিজন সভে নিন্দে গেল।
দেখি ধনি অতি উত্কন্ঠিত ভেল॥
বিছুরল আপনক বেশ বনান।
সখিগণ সঞে তব করল পয়ান॥
পূণমিক চান্দ জিনিয়া মুখ-জোতি।
ঝলমল করু তনু কতয়ে মণিমোতি॥
থলকমল-দল চরণ সঞ্চার।
নব অনুরাগে কত আরতি বিথার॥
আয়ল মদন-কুঞ্জ গৃহ মাঝ।
না হেরল তাহি বরজ-যুবরাজ॥
বৈঠলি তহিঁ পুন ছোড়ি নিশ্বাস।
নাগর আনিতে চলু বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি।
গুরুজন পথ ধরি করত নেহারি॥
গুরুজন পরিজন সভে নিন্দে গেল।
দেখি ধনী অতি উত্কন্ঠিত ভেল॥
বিছুরল আপনক বেশ বনান।
সখীগণ সঞে তব করল পয়ান॥
পূণমিক চান্দ জিনিয়া মুখ জ্যোতি।
ঝলমল করে তনু কতয়ে মণি মোতি॥
থল কমল দল চরণ সঞ্চার।
নব অনুরাগে কত আরতি বিথার॥
আওল মদন কুঞ্জগৃহ মাঝ।
না হেরল তাহি বরজ যুবরাজ॥
বৈঠলি তহিঁ পুনঃ ছোড়ি নিশ্বাস।
নাগর আনিতে চলু বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি। গুরুজন-পথ ধনী করত নেহারি॥
গুরুজন পরিজন সবে নিদ গেল। দেখি ধনি অতি উত্কন্ঠিত ভেল॥
বিছুরল আপনক বেশ বনান। সখীগণ সঞে তব করল পয়ান॥
পূর্ণিমক চান্দ জিনিয়া মুখ জ্যোতি। ঝলমল করে তনু কতয়ে মণিমোতি॥
থল-কমল-দল চরণ সঞ্চার। নব অনুরাগে কত আরতি বিথার॥
আয়ল মদন-কুঞ্জ গৃহমাঝ। না হেরল তাহি বরজ-যুবরাজ॥
বৈঠলি তহিঁ পুনঃ ছোড়ি নিশ্বাস। নাগর আনিতে চলু বলরামদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি।
গুরুজন-পথ ধনী করত নেহারি॥
গুরুজন পরিজন সবে নিঁদ গেল।
দেখি ধনী অতি উতকন্ঠিত ভেল॥
বিছুরল আপনক বেশ বনান।
সখীগণ সঞে তব করত পয়ান॥
পূণিমক চান্দ জিনিয়া মুখ জ্যোতি।
ঝলমল করে তনু কতয়ে মণিমোতি॥
থলকমল-দল চরণ সঞ্চার।
নব অনুরাগে কত আরতি বিথার॥
আয়ল মদন-কুঞ্জ গৃহ মাঝ।
না হেরল তাহি বরজ-যুবরাজ॥
বৈঠলি তহি পুন ছোড়ি নিশ্বাস।
নাগর আনিতে চলু বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯২২ সলে প্রকাশিত, কালীমোহন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত পদাবলী সংকলন,
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৩১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি।
গুরুজন-পথ ধনী করত নেহারি॥
গুরুজন পরিজন সবে নিজ গেল।
দেখি ধনী অতি উত্কন্ঠিত ভেল॥
বিছুরল আপনক বেশ বনান।
সখীগণ সঞে তব করত পয়ান॥
পূণিক চান্দ জিনিয়া মুখ জোতি।
ঝলমল করে তনু কতয়ে মণিমোতি॥
থলকমল-দল চরণ সঞ্চার।
নব অনুরাগে কত আরতি বিথার॥
আয়ল মদন-কুঞ্জ গৃহ মাঝ।
না হেরল তাহি বরজ-যুবরাজ॥
বৈঠলি তহি পুন ছোড়ি নিশ্বাস।
নাগর আনিতে চলু বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৪০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ সুহই॥

নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি।
গুরুজন পথ ধনী করত নেহারি॥
গুরুজন পরিজন সভে নিন্দ গেল।
দেখি ধনি অতি উতকন্ঠিত ভেল॥
বিছুরল আপনক বেশ বনান।
সখিগণ সঞে তব করল পয়ান॥
পুণমিক চান্দ জিনিয়া মুখজ্যোতি।
ঝলমল করু তনু কতয়ে মণিমোতি॥
থলকমল দল চরণ সঞ্চার।
নব অনুরাগে কত আরতি বিথার॥
আয়ল মদনকুঞ্জ গৃহ মাঝ।
না হেরল তাহি বরজযুবরাজ॥
বৈঠলি তহিঁ পুন ছোড়ি নিশ্বাস।
নাগর আনিতে চলু বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি।
গুরুজন-পথ ধনি করত নেহারি॥
গুরুজন পরিজন সভে নিন্দ গেল।
দেখি ধনি অতি উতকন্ঠিত ভেল॥
বিছুরল আপনক বেশ বনান।
সখিগণ সঞে তব করল পয়ান॥
পূণমিক চান্দ জিনিয়া মুখ-জ্যোতি।
ঝলমল করু তনু কতয়ে মণিমোতি॥
থলকমল-দল চরণ সঞ্চার।
নব অনুরাগে কত আরতি বিথার॥
আয়ল মদন-কুঞ্জ গৃহ মাঝ।
না হেরল তাহি বরজ-যুবরাজ॥
বৈঠলি তহিঁ পুন ছোড়ি নিশ্বাস।
নাগর আনিতে চলু বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নব অনুরাগে ঘরে রহই না পারি।
গুরুজন পথ ধনি করত নেহারি॥
গুরুজন পরিজন সভে নিন্দ গেল।
দেখি ধনি অতি উতকন্ঠিত ভেল॥
বিছুরল আপনক বেশ বনান।
সখীগণ সঞে তব করল পয়ান॥
পূণমিক চান্দ জিনিয়া মুখ-জ্যোতি।
ঝলমল করু তনু কত মণিমোতি॥
থলকমল-দল চরণ সঞ্চার।
নব অনুরাগে কত আরতি বিথার॥
আয়ল মদন-কুঞ্জ গৃহ মাঝ।
না হেরল তাহি বরজ-যুবরাজ॥
বৈঠলি তহিঁ পুন ছোড়ি নিশ্বাস।
নাগর আনিতে চলু বলরাম দাস॥

ব্যাখ্যা -
এক এক দিনের বিড়ম্বনাও কম নয়। কখন নিদ্রিত হবে সারা সংসার, তারই চিন্তায়
উত্কণ্ঠিত রাধার প্রাণ যায়। দ্রুত ব্যস্ততায় রাধার বেশ রচনায় বিভ্রাট ঘটে। তা উপেক্ষা
করে রাধা যাত্রা করলেন প্রিয়-সন্নিধানে। রূপের আলোকে জ্যোতির্ময়ী রাধার মুখশ্রী
পূর্ণিমার চাঁদকেও হার মানায়। সেই কমলচরণের দ্রুত সম্পাতে রাধা মিলনস্থলীতে পৌঁছে
দেখেন কৃষ্ণ নেই। দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বসে পড়লেন হতাশ নায়িকা। কবি বলছেন, তিনিই
দূত হয়ে নায়ককে আনতে যাবেন।---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদরত্নাবলী॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কাহে কমলমুখী ঝামরি ভেলি
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ৪০২-পৃষ্ঠা।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ বরাটী॥

কাহে কমলমুখী! ঝামরী ভেলি। পালটি আয়লি যমুনা নাহি গেলি॥
পন্থহি পুরুষ কহল ধনী থোর। রোধল কন্ঠ থকিত রহু বোল॥
আজু সতি মাধব শুভদিন তোরি। হেরলু তোহে অনুরাগিণী গোরী॥ ধ্রু॥
পুন হাম পুছলু কাহে তুহুঁ ভোরি। কৌন পুরুষ রহু পন্থ আগোরি॥
সো নাহি শকতি, কহত পুন বাত। মরকত রতন দেখায়লি হাত॥
গোপতহি অম্তরে মেটই থোর। তবহি ঢরকি পড়ু আঁচর ওর॥
বলরাম কহ ধনী চাতক লেহ। শুনি পহুঁ দিঠি ভেল শাঙন মেহ॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কাহে কমলমুখী ঝামরি ভেলি।
পালটি আওলি যমুনা নাহি গেলি॥
পুরুখ কহল ধনী থোর।
রোধল কন্ঠ থকিত রহু বোল॥
আজু সতি মাধব শুভ দিন তোরি।
হেরলু তোহে অনুরাগিণী গোরী॥ ধ্রু॥
পুন পুন পুছই কাহে তুহুঁ ভোরি।
কোন পুরুখ রহু পন্থ আগোরি॥
সো নাহি শকতি কহত পুন বাত।
মরকত রতন দেখায়লি হাত॥
গোপতহুঁ অম্বরে মেটই লোর।
তবহুঁ ঢরকি পড়ু আঁচর ওর॥
বলরাম কহ ধনি চাতক লেহ।
শুনি পহুঁ দিঠি ভেল শাঙন মেহ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতী
॥ বরাড়ী॥

কাহে কমলমুখী ঝামরি ভেলি।
পালটি আওলি যমুনা নাহি গেলি॥
পুছলু কহল ধনী থোর।
রোধল কন্ঠ থকিত রহু বোল॥
আজু সতি মাধব শুভদিন তোরি।
হেরলু তোহে অনুরাগিণি গোরি॥
পুন পুন পুছই কাহে তুহুঁ ভোরি।
কোন পুরুখ রহু পন্থ আগোরি॥
সো নাহি শকতি কহত পুন বাত।
মরকত রতন দেখায়ল হাত॥
গোপতহুঁ অম্বরে মেটই লোর।
তবহুঁ ঢরকি পড়ু আঁচর ওর॥
বলরাম কহ ধনি চাতক লেহ।
শুনি পহুঁ দিঠি ভেল শাঙন মেহ॥

ব্যাখ্যা -
কি জন্য কমলমুখী মলিনা হইলে। (জল ভরিতে গিয়া) ফিরিয়া আসিলে, আর যমুনায় গেলে
না। জিজ্ঞাসা করিলাম, ধনী সামান্যই কিছু বলিল। রুদ্ধকণ্ঠে কথা বন্ধ হইয়া গেল। মাধব,
সত্যই আজ তোমার শুভ দিন। দেখিলাম, গৌরী (রাধা) তোমারই অনুরাগিণী। বারবার
জিজ্ঞাসা করিলাম, কি জন্য তুমি এমন বিভোরা হইয়া আছ। কোন পুরুষ তোমার পথ
আগলাইয়া রহিয়াছে? পুনরায় কথা কহিবার তাহার শক্তি রহিল না। হাতে মরকতমণি
লইয়া দেখাইল (ইঙ্গিতে তোমার প্রতিই অনুরাগ জানাইল)। গেপনে আঁচলে চোখের জল
মুছিল, তবু আঁচল ছাপিয়া (চোখের) জল উছলি পড়িল। বলরাম দাস বলিতেছেন, ধনীর
প্রেম চাতকীর মত (অর্থাৎ কানুর আঁখি সজল হইল, চাতকীর পিপাসা যে তৃপ্ত হইবে তাহা
বুঝা গেল)।---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কাহে কমলমুখী ঝামরি ভেলি।
পালটি আওলি যমুনা নাহি গেলি॥
পুরুখ কহল ধনী থোর।
রোধল কন্ঠ থকিত রহু বোল॥
আজু সতি মাধব শুভ দিন তোরি।
হেরলু তোহে অনুরাগিণি গোরি॥
পুন পুন পুছই কাহে তুহুঁ ভোরি।
কোন পুরুখ রহু পন্থ আগোরি॥
সো নাহি শকতি কহত পুন বাত।
মরকত রতন দেখায়লি হাত॥
গোপতহুঁ অম্বরে মেটই লোর।
তবহুঁ ঢরকি পড়ু আঁচর ওর॥
বলরাম কহ ধনি চাতক লেহ।
শুনি পহুঁ দিঠি ভেল শাঙন মেহ॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেরতহি করু কত আদর
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ৪০২-পৃষ্ঠা।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ গান্ধার॥

হেরতহি করু কত আদর। পিরীতি বরিখ করু বাদর॥
পুছইতে কুশল তোহারি। মুগধিনী কহই না পারি॥
মাধব! কৌনে কহব তছু কাহিনী। রসবতী কোটি রমণী-শিরোমণি॥
জানলু আরতি ন রাই। কহল কুশল থির নাই॥
শুনি পুন শতগুণ বিকলী। কহলু বরজপতি কুশলী॥
মুরুছি পড়ই যব গোরি। কহলু কুশল তব তোরি॥
তব থির পরসন নয়না। হেরল বলরাম-বয়না॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, নায়কের পূর্ব্বরাগ, ৭৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হেরতহি করু কত আদর।
পিরীতি বরিখ করু বাদর॥
পুছইতে কুশল তোহারি।
মুগধিনী কহই না পারি॥
মাধব কোনে কহব তছু কাহিনী।
রসবতী কোটি শিরোমণি॥ ধ্রু।
জানলু আরতি রাই।
কহল কুশল থির নাই॥
শুন পুন শতগুণ বিকলি।
কহ লো বরজপতি কুশলি॥
মূরছি পড়ই যব গোরি।
কহল কুশল তব তোরি॥
তব থির পরসন নয়না।
হেরল বলরাম বয়না॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার আপ্তদূতী
॥ গান্ধার॥

হেরতহি করু কত আদর।
পিরিতি বরিখ করু বাদর॥
পুছইতে কুশল তোহারি।
মুগধিনী কহই না পারি॥
মাধব কোনে কহব তছু কাহিনী।
রসবতী কোটি নায়িকা শিরোমণি॥
জানলুঁ আরতি রাই।
কহল কুশল থির নাই॥
শুনি পুন শতগুণ বিকলি।
কহ লো বরজপতি কুশলি॥
মুরছি পড়ই যব গোরি।
কহল কুশল তব তোরি॥
তব থির পরসন্ন নয়না।
হেরল বলরাম বয়না॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

হেরতহি করু কত আদর।
পিরিতি বরিখ করু বাদর॥
পুছইতে কুশল তোহারি।
মুগধিনী কহই না পারি॥
মাধব কোনে কহব তছু কাহিনী।
রসবতী কোটি শিরোমণি॥
জানলুঁ আরতি রাই।
কহল কুশল থির নাই॥
শুন পুন শতগুণ বিকলি।
কহ লো বরজপতি কুশলি॥
মুরছি পড়ই যব গোরি।
কহল কুশল তব তোরি॥
তব থির পরসন নয়না।
হেরল বলরাম বয়না॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পহিলহি মোহে নিরখি লহু হাস
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ৪০১-পৃষ্ঠা।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ পুনঃ বরাড়ী॥

পহিলহি মোহে নিরখি লহু হাস। পুন ধনী তেজলি দীঘ নিশ্বাস॥
ছলে হাম কহলু তুয়া পরসঙ্গ। থোড়ি মোরি মুখ ঝাঁপলি অঙ্গ॥
পরিখত যব হাম মাগত মেলানি। গাথল হার উঘারল আনি॥
নায়ক নীলমণি লেই উঘারি। শিরপর থাপলি সো বরনারী॥
সো পুন হার তরল করি গাথ। যতনহি পহিরলি লেই মঝু হাত॥
তরল-নয়ানী রহল শির নাই। বলরাম কহ পুন কহত বুঝাই॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত , জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

পহিলহি মোহে নিরখি লহু হাস।
পুন ধনী তেজলি দীঘ নিশ্বাস॥
ছলে হাম কহল তুয়া পরসঙ্গ।
থোড়ি মোড়ি মুখ ঝাঁপলি অঙ্গ॥
পরিখত যব হাম মাগত মেলানি।
গাঁথল হার উঘারল আনি॥
নায়ক নীলমণি লেই উঘারি।
শির পর থাপলি সো বরনারী॥
সো পুন হার ভরল করি গাথ।
যতনহি পহিরলি লেই মঝু হাত॥
তরলনয়ানী রহলি শির নাই।
বলরাম কহ পহুঁ কহত বুঝাই॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।  

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি :---

॥ বরাড়ী॥

পহিলহি মোহে নিরখি লহু হাস।
পুন ধনি তেজলি দীঘ নিশাস॥
ছলে হম কহল তুয়া পরসঙ্গ।
থোড়ি মোড়ি মুখ ঝাঁপলি অঙ্গ॥
পরিখত যব হম মাগত মেলানি।
গাঁথল হার উঘারল আনি॥
নায়ক-নীলমণি লেই উঘারি।
শির পর থাপলি সো বর-নারী॥
সো পুন হার তরল করি গাঁথ।
যতনহি পহিরলি লেই মঝু হাথ॥
তরল-নয়ানী রহলি শির নাই।
বলরাম কহ পহুঁ কহত বুঝাই॥

টীকা -
“পরিখত” ইত্যাদি --- (প্রেম) পরীক্ষা করিততে যখন আমি বিদায় চাহিতেছি, তখন
(শ্রীরাধা) গ্রন্থিত রত্নহার আনিয়া খুলিয়া ফেলিল, (উহা হইতে) নায়ক অর্থাৎ
হারের মধ্যমণি নীলমণিটি খুলিয়া লইল (এবং) সুন্দরী উহাকে মস্তকের উপরে স্থাপিত
করিল। (আমি শ্রীরাধার মনের ভাব বুঝিয়া) সেই (খোলা) হারটি পুনরায় একটু ফাঁক-ফাঁক
করিয়া গাঁথিলাম ; (শ্রীরাধা) উহা আমার হাত হইতে লইয়া যত্নপূর্ব্বক পরিল। (রত্ন হার
খুলিয়া ফেলিয়া উহার মধ্যমণি নীল-রত্নটি গ্রহণ করিয়া শিরে ধারণ ও দূতীর
বিলম্ব-সম্পাদন করায় শ্রীরাধার শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সভক্তি প্রেম ও দূতীর নিকট শ্রীকৃষ্ণের
কাহিনী শুনিয়া অতৃপ্তি প্রকাশ পাইতেছে)।---সতীশচন্দ্র রায়, অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতী
॥ বরাড়ী॥

পহিলহি মোহে নিরখি লহু হাস।
পুন ধনি তেজলি দীঘ নিশাস॥
ছলে হম কহলম তুয়া পরসঙ্গ।
থোড়ি মোড়ি মুখ ঝাঁপলি অঙ্গ॥
পরিখত যব হাম মাগত মেলানি।
গাঁথল হার উঘারল আনি॥
নায়ক-নীলমণি লেই উঘারি।
শির পর থাপলি সো বরনারী॥
সো পুন হার তরল করি গাঁথ।
যতনহি পহিরলি লেই মঝু হাথ॥
তরল-নয়ানি রহলি শির নাই।
বলরাম কহ পহু কহত বুঝাই॥

ব্যাখ্যা -
(প্রথম সাক্ষাতেই) আমাকে দেখিয়া মৃদু হাসিল (যেন আশ্বস্ত হইল, কিন্তু পরক্ষণেই নিজের
দুরাশার কথা চিন্তা করিয়া) পুনরায় ধনী দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিল। ছলে যখন তোমার
প্রসঙ্গ কহিলাম, অল্প মুখ মুড়িয়া (বাহিরে ঔদাসীন্য দেখাইবার ভহঙ্গিতে) অঙ্গ আবৃত
করিল (অথবা যেন তোমার প্রসঙ্গ তোমাকে সাক্ষাতেই সেখানে উপস্থিত করিয়াছে, এই
আবেশে অঙ্গের বসন সামলাইয়া লইল)। তাহাকে পরীক্ষা করিবার জন্য বিদায় মাগিলাম।
সে একগাছি গাঁথা মালা আনিয়া খুলিয়া ফেলিল (উদ্দেশে বুঝাইল, আমাকে বন্ধনমুক্ত কর,
এখানকার সম্বন্ধ ঘুচাইয়া দাও। বিশেষ যাহার সঙ্গে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছি, তাহার
হাত হইতে কাড়িয়া লও)। হারের মধ্যমণি রূপে যে নীলমণিটি গাঁথা ছিল, তাহা খুলিয়া
লইয়া সেই রমণীশ্রেষ্ঠা মস্তকে রাখিল (বৃন্দাবনের ইন্দ্রনীলমণি তুমিই যে তার শিরোভূষণ
ইহাই জানাইল)। পুনরায় সেই হার (নূতন রূপে) তরল করিয়া গাঁথিল। (বুঝাইল এখানকার
সম্বন্ধ ঘুচাইয়া তুমি আমাকে নূতন বন্ধনে বন্দী কর। এই উদ্দেশ্য আরো স্পষ্ট করিবার জন্য
রাধা) সেই মালা আমার হাতে দিয়া আপন গলায় পরাইয়া লইল। চটুল-নয়নী (দুঃখে) শির
অবনত করিল। বলরাম দাস বলিতেছেন, প্রভু আমাকে বুঝাইয়া বল (এই রমণীর
মনোভাব কিরূপ)।---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

পহিলহি মোহে নিরখি লহু হাস।
পুন ধনি তেজলি দীঘ নিশাস॥
ছলে হম কহল তুয়া পরসঙ্গ।
থোড়ি মোড়ি মুখ ঝাঁপলি অঙ্গ॥
পরিখত যব হাম মাগত মেলানি।
গাঁথল হার উঘারল আনি॥
নায়ক-নীলমণি লেই উঘারি।
শির পর থাপলি সো বর-নারী॥
সো পুন হার তরল করি গাঁথ।
যতনহি পহিরলি লেই মঝু হাথ॥
তরল নয়ানি রহলি শির নাই।
বলরাম কহ পহু কহত বুঝাই॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শশিমুখি! পেখলু অপরুপ মেহ
শশীমুখী হেরলু অপরূপ মেহ
শশীমুখী হেরলু অপরূপ সেহ
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬
গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), হরিদাস দাস দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়” গ্রন্থ, ৪০১-পৃষ্ঠা।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ।
॥ পুনঃ ধানশী॥

শশিমুখি! পেখলু অপরুপ মেহ। শ্যামসুন্দর বর রসময় দেহ॥
শুনি তুয় কাহিনী করুণ নেহারি। ঘন ঘন চমকি রহলি শিতকারি॥
কি কহব মাধব! তুয় পুণভাগ। জানলু রাইক তোহে অনুরাগ॥
পুন হাম কহলু তড়িত তহি হেরি। পীতাম্বর জনু পহিরলি ঘেরি॥
পুন ধনী ঝাঁপই পুলকিত গাত। ছলবল লোরে রহলি নতমাথ॥
সলিল-ধার জনু মোতিক পাঁতি। শুনি ধনী দীঘ নিশ্বসি তনু ভাঁতি॥
বলরাম মনহি বিচারন কেলা। প্রেম লখিমী মুরুতিমতি ভেলা॥

ই পদটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত
বলরাম দাসের পদাবলী সংকলন “বলরামদাস”, ৭৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শশীমুখী হেরলু অপরূপ সেহ।
শ্যামর সুন্দর রসময় দেহ॥
শুনি তছু কাহিনী করুণ নিহারি।
ঘন ঘন চমকি রহলি সিতকারি॥
কি কহব মাধব তুয়া পূণভাগ।
জানলু রাইক তোহে অনুরাগ॥ ধ্রু॥
পুন হাম কইলো তড়িত তহি হেরি।
পীতাম্বর জনু পাইব না হরি॥
পুন ধনী ঝাপই পুলকিত গাত।
ছলবল লোরে রহলি নতমাথ॥
সলিল ধার জনু মোতিক পাঁতি।
শুন ধনি দিঘলি শশীতনু ভাঁতি॥
বলরাম মনহি বিচার ন কৈলা।
প্রেম লখিমি মূরতি মতি ভেলা॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।  

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতীর উক্তি :---

॥ ধানশী॥

শশিমুখি হেরলু অপরুপ মেহ।১
শ্যামর সুন্দর রসময়-দেহ॥
শুনি তছু কাহিনি করুণ নেহারি।
ঘন ঘন চমকি রহলি সিতকারি॥
কি কহব মাধব তুয়া পুণ ভাগি।
জানলুঁ রাই তোহে অনুরাগি॥
পুন হাম কহলুঁ তড়িত তহি হেরি।
পীতাম্বর জনু পহিরলি ঘেরি॥
পুন ধনি ঝাঁপই পুলকিত গাত।
ছল বল লোরে রহলি নত-মাথ॥
সলিল ধার জনু মোতিম পাঁতি।
শুনি ধনি দীঘ নিশসি তনু-ভাঁতি॥
বলরাম মনহি বিচারণ কেল।
প্রেম-লখিমি-মুরতি মতি ভেল॥

টীকা -
১। “শশিমুখি” ইত্যাদি পদে শ্রীকৃষ্ণের দূতী শ্রীরাধার নিকটে যাইয়া তাহার প্রেম পরীক্ষার
জন্যে কৌশলে শ্যামল-সুন্দর মেঘ,---উহার অঙ্গে পীতাম্বরের ন্যায় তড়িৎ ও মুক্তা-পাতির
ন্যায় জল-ধারার বর্ণনা করায়, শ্রীকৃষ্ণের উদ্দীপন হেতু শ্রীরাধা সীত্কার, রোমাঞ্চ প্রভৃতি
অনুরাগ-চিহ্ন প্রকাশ করায় দূতী সেই কাহিনী শ্রীকৃষ্ণের নিকট ব্যক্ত করিতেছে।---
সতীশচন্দ্র রায়, অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৭৩৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতী
॥ ধানশী॥

শশিমুখি হেরলুঁ অপরুপ মেহ।
শ্যামর সুন্দর রসময় দেহ॥
শুনি তছু কাহিনী করুণ নেহারি।
ঘন ঘন চমকি রহলি সিতকারি॥
কি কহব মাধব তুয়া পুণ ভাগি।
জানলুঁ রাই তোহে অনুরাগি॥
পুন হাম কহলুঁ তড়িত তঁহি হেরি।
পীতাম্বর জনু পহিরলি ঘেরি॥
পুন ধনি ঝাঁপই পুলকিত গাত।
ছল ছল লোরে রহলি নত মাথ॥
সলিল-ধার জনু মোতিমপাঁতি।
শুনি ধনি দীঘ নিশসি তনুভাঁতি॥
বলরাম মনহি বিচারণ কেল।
প্রেম লখিমি মুরতি মতি ভেল॥

ব্যাখ্যা -
(শ্যাম)---শ্রীরাধাকে বলিলাম---চাঁদবদনী, এক অপরূপ মেঘ দেখিলাম। সুন্দর শ্যামল রসে
(জলে) ভরা জলধর। সেই মেঘের কাহিনী শুনিয়া (ইঙ্গিত বুঝিয়া) রাধা করুণ চক্ষে চাহিয়া
ঘনঘন চমকিয়া রোমাঞ্চিতা হইয়া রহিল। মাধব, তোমার পুণ্য ভাগ্যের কথা কি বলিব?
জানিলাম, রাই তোমাতেই অনুরাগিণী। পুনরায় আমি বলিলাম,---মেঘে বিজলী দেখিয়া
আসিলাম। (রাধা ইঙ্গিত বুঝিয়া) একখানি পিতাম্বর লইয়া ঘেরিয়া পরিধান করিল।
(বুঝাইল, অঙ্গ ঢাকিল, আমিও এমনই করিয়াই মেঘকে জড়াইয়া রহিব। পীতাম্বর স্পর্শে
দেহ পুলকপূর্ণ হওয়ায়) ধনী পুনরায় পুলকিত দেহ ঢাকিল। এবং ছলছল চক্ষে মাথা নত
করিয়া রহিল। বলিলাম, মেঘে বৃষ্টিধারা দেখিলাম যেন মুক্তা পাঁতি। শুনিয়া
ধনী দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিল। (সেই অবসরে তাহার) দেহ-শোভা দেখিলাম (সাত্ত্বিক
ভাবাবেশে রাইদেহে স্বেদবিন্দু যেন মুক্তাপংক্তি)। বলরাম দাস মনে বিচার করিলেন প্রেম-
লক্ষ্মী মূর্ত্তিমতি হইয়াছেন।---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের
পদাবলী, ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শশিমুখি হেরলুঁ অপরুপ মেহ।
শ্যামর সুন্দর রসময়-দেহ॥
শুনি তছু কাহিনী করুণ নেহারি।
ঘন ঘন চমকি রহলি সিতকারি॥
কি কহব মাধব তুয়া পুণ ভাগি।
জানলুঁ রাই তোহে অনুরাগি॥
পুন হাম কহলুঁ তড়িত তহি হেরি।
পীতাম্বর জনু পহিরলি ঘেরি॥
পুন ধনি ঝাঁপই পুলকিত গাত।
ছল বল লোরে রহলি নত-মাথ॥
সলিল-ধার জনু মোতিক-পাতি।
শুন ধনি দীঘ নিশসি তনু-ভাঁতি॥
বলরাম মনহি বিচারন কেল।
প্রেম-লখিমি-মূরতি মতি ভেল॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই বোলহ করিব কি
ভনিতা বলরাম
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, শ্রীরাধিকার স্বয়ং দৌত্য, ৮১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাই বোলহ করিব কি।
তিলেক তোমার                     পরশ না পাইলে
সেই ক্ষণে নাহি জী॥ ধ্রু॥
তোমার অঙ্গের                             সরস পরশ
পাইলে যে সুখ উঠে।
বুকের ভিতর                          বান্ধিয়া রাখয়ে,
ছাড়িতে পরাণ ফাটে॥
বিহি নিদারূণ                          করিলেক ভিন
তোমা হেন গুণ নিধি।
এ মুখ দেখিয়া                           হৃদি উল্লাসয়ে
সকলি পাইনু সিধি॥
হেন লএ মনে                            প্রবেশিয়া বনে,
তোমারে করিয়া বুকে।
বলরাম চিতে                         দেখি দিন রাইতে
আপন মনের সুখে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের আত্মনিবেদন
॥ কেদার॥

রাই বোলহ করিব কি।
তিলেক তোমার                     পরশ না পাইলে
সেই ক্ষণে নাহি জী॥
তোমার অঙ্গের                            সরস পরশ
পাইলে যে সুখ উঠে।
বুকের ভিতর                          বান্ধিয়া রাখিয়ে
ছাড়িতে পরাণ ফাটে॥
বিহি নিদারুণ                           করিলেক ভিন
তোমা হেন গুণনিধি।
এ মুখ দেখিয়া                           হৃদি উলাসয়ে
সকলি পাইনু সিধি॥
হেন লএ মনে                            প্রবেশিয়া বনে
তোমারে করিয়া বুকে।
বলরাম চিতে                        দেখি দিন রাইতে
আপন মনের সুখে॥


ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত বলরামদাসের পদাবলী, ৬৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাই বোলহ করিব কি।
তিলেক তোমার                      পরশ না পাইলে
সেই ক্ষণে নাহি জী॥
তোমার অঙ্গের                              সরস পরশ
পাইলে যে সুখ উঠে।
বুকের ভিতর                           বান্ধিয়া রাখয়ে
ছাড়িতে পরাণ ফাটে॥
বিহি নিদারূণ                            করিলেক ভিন
তোমা হেন গুণ-নিধি।
এ মুখ দেখিয়া                            হৃদি উল্লাসয়ে
সকলি পাইনু সিধি॥
হেন লএ মনে                            প্রবেশিয়া বনে
তোমারে করিয়া বুকে।
বলরাম চিতে                         দেখি দিন রাইতে
আপন মনের সুখে॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেরই পীন পয়োধর রোয়ই
ভনিতা বলরাম দাস
কবি বলরাম দাস
১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯) রমণীমোহন মল্লিক সম্পাদিত, জীবনী ও টীকা সমেত বলরাম দাসের পদাবলী
সংকলন “বলরামদাস”, অভিসার, ৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”-র “মাধব এ তুয়া কোন বিচার” পদটি এই “হেরই পীন পয়োধর রোয়ই”
পদের প্রথম দুটি পংক্তি বাদ দিলে হুবহু অবশিষ্ট পদের সঙ্গে মিলে যায়, সামান্য স্বাভাবিক বিবর্তন সহ!
পদাবলীর এ রকম বিবর্তনের বিষয়ে, বিশেষজ্ঞদের ভাবার অবকাশ রয়েছে।

॥ ধানশী॥

হেরই পীন                             পয়োধর রোয়ই,
বিহিকে বোলই মন্দ।
গুরুয়া নিতম্ব ভরে,                        এভব দুবরি
ঝামরি ভেল মুখচন্দ॥
মাধব এ তুয়া কোন বিচার।
ননি পুতলি তনু,                        সরবই গরবই,
কৈছে করবি অভিসার॥ ধ্রু।
কাচুরি ফারি,                        চরণ তলে রোধই
নাসিক মোতি না রাখ।
চলই না পারই,                          আরতি বাঢ়ই,
কাতরে মাগই পাখ॥
চলতহি তুরিত,                       ক্ষণে পুন বৈঠত,
পদযুগে দেয়ই গারি।
কহ বলরাম,                       ততহি অতি দুতর,
লোচনে শাঙন বারি॥

.            ********************************            

.                                                                              
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর