| কবি বাসুদেব ঘোষ এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| গৌরীদাস করি সঙ্গে আনন্দিত তনু রঙ্গে ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি - দশকুশী॥ গৌরীদাস করি সঙ্গে আনন্দিত তনু রঙ্গে চলি যায় গোরা গুণমণি। ভাবে অঙ্গ থরহরি দুনয়নে বহে বারি চাহে গৌরীদাসের মুখখানি॥ 'আচম্বিতে অচৈতন্য প্রেমাবেশে শ্রীচৈতন্য পড়ি গেলা সুরধুনীতীরে। গৌরীদাস ধীরে ধীরে ধরিয়া করিল কোরে কোন দুখ কহত আমারে॥ কহিবার কথা নয় কেমনে কহিব তায় মরি আমি বুক বিদরিয়া। বাসু কহে আহা মরি রাধাভাবে গৌরহরি ধরিতে নারয়ে নিজ হিয়া॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুবর মিলন। গৌরীদাস করি সঙ্গে, আনন্দিত তনু রঙ্গে, চলি যায় গোরা গুণমণি। ভাবে অঙ্গ থর হরি, দুনয়নে বহে বারি, চাহে গৌরীদাস মুখ খানি॥ 'আচম্বিতে অচৈতন্য, হইল গৌরাঙ্গ চন্দ্র, পড়িলেন সুরধুনী তীরে। গৌরীদাস ধীরে ধীরে, কহে কিছু যোড় করে, কেন দুখে কহত আমারে॥ কহিবার কথা নয়, কেমনে কহিব তায়, মরি আমি বুক বিদরিয়া। বাসু কহে আহা মরি, ভাবের তরঙ্গ হেরি, কহে কিছু কাতর হইয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগে ॥ ভাটিয়ারি - দশকুশী॥ গৌরীদাস করি সঙ্গে আনন্দিত তনু রঙ্গে চলি যায় গোরা গুণমণি। ভাবে অঙ্গ থরহরি দুনয়নে বহে বারি চাহে গৌরীদাসের মুখখানি॥ 'আচম্বিতে অচৈতন্য প্রেমাবেশে শ্রীচৈতন্য পড়ি গেলা সুরধুনীতীরে। গৌরীদাস ধীরে ধীরে ধরিয়া করিল কোরে কোন দুখ কহত আমারে॥ কহিবার কথা নয় কেমনে কহিব তায় মরি আমি বুক বিদরিয়া। বাসু কহে আহা মরি রাধাভাবে গৌরহরি ধরিতে নারয়ে নিজ হিয়া॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৫৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি - দশকুশী॥ গৌরীদাস করি সঙ্গে আনন্দিত তনু রঙ্গে চলি যায় গোরা গুণমনি। ভাবে অঙ্গ থরহরি দুনয়নে বহে বারি চাহে গৌরীদাসের মুখখানি॥ 'আচম্বিতে অচৈতন্য প্রেমাবেশে শ্রীচৈতন্য পড়ি গেলা সুরধুনীতিরে। গৌরীদাস ধীরে ধীরে ধরিয়া করিল কোরে কোন দুখ কহত আমারে॥ কহিবার কথা নয় কেমনে কহিব তায় মরি আমি বুক বিদরিয়া। বাসু কহে আহা মরি রাধাভাবে গৌরহরি ধরিতে নারয়ে নিজ হিয়া॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দণ্ডে দণ্ডে তিলে তিলে গোরাচাঁদ না দেখিলে ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ দণ্ডে দণ্ডে তিলে তিলে গোরাচাঁদ না দেখিলে মরমে মরিয়া যেন থাকি। সাধ হয় নিরন্তর হেমকান্তি কলেবর হিয়ার মাঝারে সদা রাখি॥ পলকে না হেরি তায় পাজর ধসিয়া যায় ধৈরজ ধরিতে নাহি পারি। অনুরাগের তুলি দিয়ে অন্তর বাহির হিয়ে না জানি তার কত ধার ধারি॥ সুরধুনীর নীরে যেয়ে কুল দিব ভাসাইয়ে অনল জ্বালিয়া দিব লাজে। গৌরাঙ্গ সমুখে করি দেখিব নয়ান ভরি বাসু নাহি চায় আন কাজে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গ অনুরাগে ॥ সুহই॥ দণ্ডে দণ্ডে তিলে তিলে গোরাচাঁদ না দেখিলে মরমে মরিয়া যেন থাকি। সাধ হয় নিরন্তর হেমকান্তি কলেবর হিয়ার মাঝারে সদা রাখি॥ পলকে না হেরি তায় পাঁজর ধসিয়া যায় ধৈরজ ধরিতে নাহি পারি। অনুরাগের ডুরি দিয়ে ধর হৈতে নিকসয়ে না জানি তার কত ধার ধারি॥ সুরধুনীর নীরে যেয়ে কুল দিব ভাসাইয়ে অনল জ্বালিয়া দিব লাজে। গৌরাঙ্গ সমুখে করি দেখিব নয়ান ভরি বাসু নাহি চায় আন কাজে॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ দণ্ডে দণ্ডে তিলে তিলে গোরাচাঁদ না দেখিলে মরমে মরিয়া সদা থাকি। সাধ হয় নিরন্তর হেমকান্তি কলেবর হিয়ার মাঝারে পুরে রাখি॥ তিলেক না হেরি তায় পাঁজর ধসিয়া যায় ধৈরজ ধরিতে নাহি পারি। অনুরাগের ডুরি দিয়া অন্তরে কি করে লিয়া না জেন তার কত ধার ধারি॥ সুরধুনীর তিরে গিয়া কুল দিব ভাসাইয়া অনলে তেজিয়া দিব লাজে। গৌরাঙ্গ সমুখে করি দেখিব নয়ন ভরি দিন জায় মিছামিছি কাজে॥ একে হাম কুলবালা গৌরাঙ্গ কলঙ্কমালা গলায় পরিতে সাধ লাগে। বাসুদেব ঘোষে বলে ভালো দাগে দাগা দিলে গোপত গৌরাঙ্গ অনুরাগে॥ মন্তব্য - গৌরনাগরী ভাবের একখানি অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ আলোচ্য পদটি। অথচ পদটি খুব বেশী সংকলন গ্রন্থে ধৃত হয়নি। স্পর্শ দুরের কথা, গৌরাঙ্গকে শুধু দর্শনেই নাগরীর সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়েছে। তাই নাগরী ঐ অপরূপ রূপমাধুরীর চরণে নিজেকে অর্পণ করেছেন। গৌরাঙ্গের লাবণ্য যে দর্শন করে তার কাছে জাতি কুল তুচ্ছ হয়ে যায়।---চিত্রা রায়॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| স্বরূপের করে ধরি বলে কাঁদি গৌরহরি স্বরূপের করে ধরি বলে কান্দি গৌরহরি ভণিতা বাসু কবি বাসুদেব ঘোষ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” ২য় সংস্করণ, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ স্বরূপের করে ধরি বলে কাঁদি গৌরহরি। বিহনে আমার শ্যাম রায়। বিফলে বঞ্চিলু নিশি অতমিত ভেল শশী এ পরাণ ফাটি মঝু যায়॥ কোথায় আমার শ্যাম বঁধু। ফুল-শেজ বাসি ভেল ফুলহার শুখাওল না মিলল শ্যাম-প্রেমমধু॥ ধ্রু॥ চল রে স্বরূপ চল যাই সুরধুনীজল এ সকল দেই ভাসাইয়া। গেল যাক্ কুলমান আর না রাখিব প্রাণ তেজিব সলিলে ঝাঁপ দিয়া॥ আমার সে কালশশী কার কুঞ্জে বঞ্চে নিশি কাঁহে মূঝে ভেলত বৈমুখ। বাসুদেব ঘোষ কহে এ দুখে পরাণ দহে কাঁহা মিটায়ব হিয়াদুখ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৭৩-পৃষ্ঠায় ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গম্ভীরায় শ্রীগৌরাঙ্গ ॥ কামোদ॥ স্বরূপের করে ধরি বলে কাঁদি গৌরহরি বিহনে আমার শ্যামরায়। বিফলে বঞ্চিলু নিশি অতমিত ভেল শশী এ পরাণ ফাটি মঝু যায়॥ কোথায় আমার শ্যাম বঁধু। ফুলশেজ বাসি ভেল ফুলহার শুখাওল না মিলল শ্যাম প্রেমমধু॥ ধ্রু॥ চল রে স্বরূপ চল যাইয়া যমুনা জল এ সকল দেই ভাসাইয়া। গেল যাক্ কুলমান আর না রাখিব প্রাণ তেজিব সলিলে ঝাঁপ দিয়া॥ আমার সে কালশশী কার কুঞ্জে বঞ্চে নিশি কাঁহে মূঝে হৈল বৈমুখ। বাসুদেব ঘোষ কহে এ দুখে পরাণ দহে কাঁহা মিটায়ব হিয়াদুখ॥ এই পদটি ১৯৯২ সালে প্রকাশিত, ডঃ চিত্রা রায়ের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পি-এইচ.ডি. কলা (বাংলা) উপাধির জন্য প্রদত্ত গবেষণা নিবন্ধ (সৌজন্যে শোধগঙ্গা ওয়েবসাইট, https://shodhganga.inflibnet.ac.in ) “বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সাহিত্যে গোবিন্দ, মাধব ও বাসুদেব ঘোষ”, ৭ম অধ্যায়, বাসুঘোষের পদাবলী সংকলন, ৭৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিত্রা রায় পদটিকে “সন্দিগ্ধ পদ” হিসেবে রেখেছেন। ॥ কামোদ॥ স্বরূপের করে ধরি বলে কান্দি গৌরহরি বিহনে আমার শ্যামরায়। বিফলে বঞ্চিলু নিশি অতমিত ভেল শশী এ পরাণ ফাটি মঝু যায়॥ কোথায় আমার শ্যাম বঁধু। ফুল-শেজ বাসি ভেল ফুলহার শুখাওল না মিলল শ্যাম প্রেমমধু॥ ধ্রু॥ চলরে স্বরূপ চল যাই সুরধুনী জল এ সকল দেই ভাসাইয়া। গেল যাক কুলমান আর না রাখিব প্রাণ তেজিব সলিলে ঝাঁপ দিয়া॥ আমার সে কালশশী কার কুঞ্জে বঞ্চে নিশি কাঁহে মূঝে ভেলত বৈমুখ। বাসুদেব ঘোষ কহে এ দুখে পরাণ দহে কাঁহা মিটায়ব হিয়া দুখ॥ . ************************ . সূচীতে . . . মিলনসাগর |