বিদ্যাপতির পদাবলী
*
এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর
কবি বিদ্যাপতি

এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
এ ভরা বাদর                         মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর ||৩||
ঝঞঝা ঘন                        গরজন্তি সন্ততি
ভুবন ভরি বরিখিন্তিয়া।
কান্ত পাহুন                            কাম দারুণ
সঘনে খর শর হন্তিয়া ||৭||
কুশিল শত শত                      পাত-মোদিত
মূর নাচত মাতিয়া।
মত্ত দাদুরী,                           ডাকে ডাহুকী
ফাটি যাওত ছাতিয়া ||১১||
তিমির ভরি ভরি                     ঘোর যামিনী
থির বিজুরি পাঁতিয়া।
বিদ্যাপতি কহ                    কৈছে গোঙায়বি
হরি বিনে দিন রাতিয়া ||১৫||

.           *************************           
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর   
*
হরি গেও মধুপুর হাম কুলবালা
কবি বিদ্যাপতি
আনুমানিক ১৭২৫ সালে রাধামোহন ঠাকুর ( রাধামোহন দাস ) সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, পৃষ্ঠা-৩২৯ ।

॥ তিরোথিয়া ধানসী মণ্ঠক তালাভ্যাং॥

হরি গেও মধুপুর হাম কুল বালা।
বিপথে পরল যৈছে মালতিক মালা॥ ধ্রু॥
কি কহসি কি পুছসি শুন প্রিয় সজনী।
কৈছনে বঞ্চব ইহ দিন রজনী॥
নয়ানক নিন্দ গেও বয়ানক হাস।
সুখ গেও কানু সঙ্গে দুখ হাম পাশ॥
কহ বিদ্যাপতি শুন বর নারি।
সুজনক কুদিন দিন দুই চারি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ৪র্থ পল্লব, ভূত বিরহ, ১৬৪১সংখ্যক পদ হিসেবে এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোথা ধানশী॥

হরি গেও মধুপুর হাম কুল-বালা।
বিপথে পড়ল যৈছে মালতি-মালা॥
কি কহসি কি পুছসি শুন প্রিয় সজনি।
কৈছনে বঞ্চব ইহ দিন রজনি॥ ধ্রু॥
নয়নক নিন্দ গেও বয়ানক হাস।
সুখ গেও পিয়া সঙ্গ দুখ হাম পাশ॥
ভনয়ে বিদ্যাপতি শুন বরনারি।
সুজনক কুদিন দিবস দুই চারি॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী” এর ২০০৬ সালের “আনন্দ” সংস্করণের ২৩০
সংখ্যক পদ।

॥ তিরোথা ধানশী॥

হরি গেও মধুপুর হাম কুলবালা।
বিপথে পড়ল যৈছে মালতী মালা॥
কি কহসি কি পুছসি শুন প্রিয় সজনী।
কৈছনে বঞ্চব ইহ দিনরজনী॥ ধ্রু॥
নয়নক আনন্দ গেও, বয়নক হাস।
সুখ গেহ পিয়াসঙ্গ দুঃখ হম পাশ॥
ভণয়ে বিদ্যাপতি শুন বরনারী।
সুজনক কুদিন দিবস দুই চারি॥

ই পদটি ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (১৯০৯ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত সংকলিত ও
সম্পাদিত “বিদ্যাপতি ঠাকুরের পদাবলী”, ৬৭৩-সংখ্যক পদ, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

( রাধার উক্তি )
হরি গেল মধুপুর হম কুলবালা।
বিপথে পরল যৈসে মালতিক মালা॥
কি কহসি কি পুছসি শুন প্রিয় সজনি।
কৈসে বঞ্চব ইহ দিন রজনী॥
নয়নক নিন্দ গেও বয়ানক হাস।
সুখ গেও পিয়া সঙ্গ দুখ মোর পাস॥
ভনই বিদ্যাপতি শুন বরনারি।
সুজনক কুদিন দিবস দুই চারি॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চিন্তা-দশা
॥ সুহই॥

হরি গেও মধুপুর হাম কুল-বালা।
বিপথে পড়ল যৈছে মালতী মালা॥
কি কহসি কি পুছসি শুন প্রিয় সজনি।
কৈছনে বঞ্চব ইহ দিন রজনী॥
নয়ানক নিদ গেও বয়ানক হাস।
সুখ গেও পিয়া সঙ্গে দুঃখ হাম পাশ॥
ভনয়ে বিদ্যাপতি শুন বরনারি।
সুজনক দুঃখ দিবস দুই চারি॥

ই পদটি ১৩৪২ বঙ্গাব্দে (১৯৩৫ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত সম্পাদিত “বিদ্যাপতি-
পদাবলী”, ৫২- সংখ্যক পদ, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি গেল মধুপুর হম কুলবালা।
বিপথে পরল যৈসে মালতী মালা॥
কি কহসি কি পুছসি শুন প্রিয় সজনি।
কৈসনে বঞ্চব ইহ দিন রজনী॥
নয়নক নিদ গেও বয়ানক হাস।
সুখ গেও পিয়া সঙ্গ দুখ হম পাশ॥
ভনই বিদ্যাপতি শুন বরনারি।
সুজনক কুদিন দিবস দুই চারি॥

.           *************************           
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর