কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
বলরামের বেশে রাই ক্রোধাবেশে চলে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২)
এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

বলরামের বেশে মিলন
॥ তথা রাগ॥

বলরামের বেশে রাই ক্রোধাবেশে চলে।
চন্দ্রাবলী কুঞ্জে গিয়া দেখিল সকলে॥
হেদেরে কানাই দেখি একি ব্যবহার।
ডাকিয়া উত্তর আমি না পাই তোমার॥
এখানে কি কাজে আছ বলনা আমারে।
নতুবা শিঙ্গার বাড়ি মারিব তোমারে॥
বলরামে দেখি চন্দ্রাবলী লুকাইল।
শ্যামের হাত ধরি রাধা বাহির হইল॥
মনে মনে ভাবে কৃষ্ণ পরশ পাইয়া।
চিনিলেন শ্রীরাধার চরণে চাহিয়া॥
হরষিত হৈল শ্যাম চিন্তা গেল দূরে।
কর ধরাধরি করি চলে ধীরে ধীরে॥
শ্যামকে লইয়া রাধা কুঞ্জেতে প্রবেশে।
বদনে বসন দিয়া সখীগণ হাসে॥
ধিক্ ধিক্ শ্যাম তোমার এই ব্যবহার।
এখন কোথা চন্দ্রাবলী প্রয়সী তোমার॥
ফাঁপরে পড়িল শ্যাম উত্তর না সরে।
বৃন্দাবন দাস বলে বান্ধ প্রেমডোরে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২৩৫-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

বলরামের বেশে রাই ক্রোধাবেশে চলে।
চন্দ্রাবলী কুঞ্জে গিয়া দেখিল সকলে॥
হেদেরে কানাই দেখি একি ব্যবহার।
ডাকিয়া উত্তর আমি না পাই তোমার॥
এখানে কি কাজে আছ বলনা আমারে।
নতুবা শিঙ্গার বাড়ি মারিব তোমারে॥
বলরামে দেখি চন্দ্রাবলী লুকাইল।
শ্যামের হাত ধরি রাধা বাহির হইল॥
মনে মনে ভাবে কৃষ্ণ পরশ পাইয়া।
চিনিলেন শ্রীরাধার চরণে চাহিয়া॥
হরষিত হৈল শ্যাম চিন্তা গেল দূরে।
কর ধরাধরি করি চলে ধীরে ধীরে॥
শ্যামকে লইয়া রাধা কুঞ্জেতে প্রবেশে।
বদনে বসন দিয়া সখীগণ হাসে॥
ধিক্ ধিক্ শ্যাম তোমার এই ব্যবহার।
এখন কোথা চন্দ্রাবলী প্রয়সী তোমার॥
ফাঁপরে পড়িল শ্যাম উত্তর না সরে।
বৃন্দাবন দাস বলে বান্ধ প্রেমডোরে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ঘামিয়াছে চাঁদ মুখখানি
ঘামিয়াছে চান্দ মুখখানি
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৩০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ ধানশী॥

ঘামিয়াছে চাঁদ মুখখানি।
দে দে পসরা আনি                যার লাগি বিকি কিনি
সেই খাউক এ ক্ষীর নবনী॥
এত বলি মহাসুখে                     ননী দিল কৃষ্ণমুখে
সখী দিল রাধার বদনে।
ভোজন করিয়া সায়                   আচমন করি তায়
প্রসাদ পাইল জনে জনে॥
আর আমি ফিরিয়া ঘরে          যাব না গো একেবারে
জন্মের মত রইনু তরুমূলে।
সাজায়ে দে কৃষ্ণদাসী             এই বেশ বড় ভালবাসি
অঙ্গের আভরণ নেগো মোর খুলে।
ঘরে যেয়ে ইহাই বো’ল         দানঘাটেতে রাই বিকা’ল
যার রাধা হইল তাহারি।
রাধা নাম ধরি যেন                  তিলাঞ্জলী দেয় মেন
সুশীতল যমুনার বারি॥
এত বলি মহাসুখে,                    দুঁহু হেরে দুঁহু মুখে
সুখের সায়রে দুহুঁ ভাসে।
দুঁহু মুখ সুমাধুরী                      হেরিয়া নয়ন ভরি
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ গৌরী - ডাঁসপাহিড়া॥

ঘামিয়াছে চাঁদ মুখ খানি।
দে দে পসরা আনি,                যার লাগি বিকি কিনি,
সেই খাক খীর স্বর ননী॥
এত কহি কৃষ্ণ মুখে,                   ননী দিলা মহাসুখে
সখি দিলা রাধার বদনে।
ভোজন করিয়া সায়,                 আচমন কৈল তায়,
প্রসাদ লইল জনে জনে॥
আর আমি ফিরিয়া ঘরে,            যাবনাক একেবারে,
অঙ্গের আভরণ নেগো মোর খুলে।
( আমায় )
সাজায়ে দে শ্যামদাসী,                যাহা আমি ভালবাসি,
রহি গেলাম এই তরুমূলে।
ঘরে গিয়ে ইহাই বোলো,            দান ঘাটে রাই বিকাইল
যাহার রাধা হইল তাহার।
রাধা নাম ধরি যেন,                    তিলাঞ্জলি দেয় মেন,
সুশীতল জল যমুনার॥
এত কহি মহাসুখে,                     দুহুঁ হেরে দুহুঁ মুখে,
সুখের সায়র মাঝে ভাসে।
দুহুঁ রূপ সুমাধুরি,                      হেরিয়া নয়ন ভরি,
গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৫৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী গৌরী - তাল দাশপাহিড়া॥

(তোমরা কেউ কিছু বোলোনাগো)
ঘামিয়াছে চান্দ মুখখানি।
দে দে পশরা আনি, যার লাগি এ বেচা কিনি, সেই খাউক ক্ষীর
সর নবনী॥ এত বলি মনের সুখে, তুলে দিল চাঁদ মুখে, সখী
দিল রাধার বদনে। ভোজন হইল যবে, আচমন কৈল তবে,
প্রসাদ পাইল জনে জনে॥ আর আমি ফিরিয়া ঘরে, যাব নারে
একেবারে, অঙ্গের ভূষণ নেরে খুলে। সাজায়ে দে শ্যামদাসী,
যাহা আমি ভালবাসি, রয়ে গেলাম এই তরু তলে॥ ঘরে গিয়া
ইহাই ব’লো, দানঘাটে রাই বিকালো, যার রাই হইল তাহার।
রাধা নাম গায় যেন, তিলাঞ্জলি দেয় যেন, নিরমল জলে যমুনার॥
এত বলি মনের সুখে, দোঁহে হেরে দোঁহার মুখে, আনন্দ সাগরে
দুহুঁ ভাসে। দুঁহু রূপ মাধুরী, দেখিয়া নয়ন ভরি, গুণ গায়
বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে
উল্লেখ রয়েছে।

দান-মিলন
শ্রীরাধার উক্তি
॥ তথা রাগ॥

.        ঘামিয়াছে চান্দ মুখখানি।
দে দে পশরা আনি                
যার লাগি বিকিকিনি                
.        সেই খাউক ক্ষীর সর নবনী॥
এত কহি কৃষ্ণমুখে                
ননী দিল মহাসুখে                
.        সখী দিলা রাধার বদনে।
ভোজন হইল সায়                
আচমন কৈল তায়                
.        প্রসাদ লইল জনে জনে॥
আর আমি ফিরিয়া ঘরে         
যাব না গো একেবারে             
.        (যাদের) কুলের ভয় তারা যাউক ঘরে।
প্রাণ যদি ছাড়ি যাবে              
ঘর লয়ে কিবা হবে              
.        ঘরে যেতে বোলো না গো মোরে॥
তোদের যদি আজ্ঞা পাই           
শ্যামচান্দের বামেতে যাই          
.        অঙ্গের আভরণ নে গো খুলে।
আমায় সাজায়ে দে শ্যামদাসী      
যে বেশ বড় ভালবাসি             
.        রহি গেলাম এই তরুমূলে॥
ঘরে গিয়া ইহাই বোল               
দানঘাটে রাই বিকাইল               
.        যার রাধা হইল তাহার।
রাধা নাম ধরি যেন                
তিলাঞ্জলি দেয় মেন                
.        সুশীতল জলে যমুনার॥
এত বলি মহাসুখে                
দুঁহু হেরে দুঁহু মুখে                
.        সুখের সায়র মাঝে ভাসে।
দুঁহু রূপ সুমাধুরী                
হেরিয়া নয়ন ভরি                
.        গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২৩২-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে।

ঘামিয়াছে চান্দ মুখখানি।        
দে দে পশরা আনি                
যার লাগি বিকিকিনি                
.        সেই খাউক ক্ষীর সর নবনী॥
এত কহি কৃষ্ণমুখে                
ননী দিল মহাসুখে                
.        সখী দিলা রাধার বদনে।
ভোজন হইল সায়                
আচমন কৈল তায়                
.        প্রসাদ লইল জনে জনে॥
আর আমি ফিরিয়া ঘরে        
যাব না গো একেবারে            
.        (যাদের) কুলের ভয় তারা যাউক ঘরে।
প্রাণ যদি ছাড়ি যাবে             
ঘর লয়ে কিবা হবে              
.                ঘরে যেতে বোলো না গো মোরে॥
তোদের যদি আজ্ঞা পাই          
শ্যামচান্দের বামেতে যাই        
.                অঙ্গের আভরণ নে গো খুলে।
আমায় সাজায়ে দে শ্যামদাসী      
যে বেশ বড় ভালবাসি             
.        রহি গেলাম এই তরুমূলে॥
ঘরে গিয়া ইহাই বোল             
দানঘাটে রাই বিকাইল             
.        যার রাধা হইল তাহার।
রাধা নাম ধরি যেন                
তিলাঞ্জলি দেয় মেন                
.        সুশীতল জলে যমুনার॥
এত বলি মহাসুখে                
দুঁহু হেরে দুঁহু মুখে                
.        সুখের সায়র মাঝে ভাসে।
দুঁহু রূপ সুমাধুরী                
হেরিয়া নয়ন ভরি                
.        গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বহু দিনের সাধ আছে হরি
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মুরলী শিক্ষা
॥ কামোদ॥

বহু দিনের সাধ আছে হরি। বাজাইতে মোহন
মুরলী॥ তুমি লহ মোর নীল সাড়ী। তব পীতধড়া দেহ
পরি॥ তুমি লহ মোর গজমতি। মোরে দেহ তোমার
মালতী॥ ঝাপা খোপা লহ খসাইয়া। মোরে দেহ চূড়াটি
বান্ধিয়া॥ তুমি লহ সিন্দূর কপালে। তোমার চন্দন দেহ
ভালে॥ তুমি লহ কঙ্কণ কেওড়ি। তোর তাড় বালা দেহ
পরি॥ তুমি লহ মোর অভরণ। মোরে দেহ তোমারি ভূষণ॥
শুন মোর এই নিবেদন। শুনি হরষিত বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

বহু দিনের সাধ আছে হরি।
বাজাইতে মোহন মুরলী॥
তুমি লহ মোর নীল সাড়ী।
তব পীত ধড়া দেহ পরি॥
তুমি লহ মোর গজমতি।
মোরে দেহ তোমারি মালতী॥
ঝাঁপা খোঁপা লহ খসাইয়া।
মোরে দেহ চূড়াটি বান্ধিয়া॥
তুমি লহ সিন্দুর কপালে।
তোমার চন্দন দেহ ভালে॥
তুমি লহ কঙ্কণ কেওড়ি।
তোর তাড় বালা দেহ পরি॥
তুমি লহ মোর অভরণ।
মোরে দেহ তোমারি ভূষণ॥
শুন মোর এই নিবেদন।
শুনি হরষিত বৃন্দাবন॥

ই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও
খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মলীলা
॥ সুহিনী - ছোট দুঠুকী॥

বহু দিনের সাধ আছে হরি।
বাজাইতে মোহন মুরলী॥
তুমি লহ মোর নীল শাড়ী।
তব পীত ধড়া দেহ পরি॥
তুমি লেহ মোর গজমোতি।
মোরে দেহ তোমার মালতী॥
ঝাঁপা খোপা লেহ খসাইয়া।
মোরে দেহ চূড়াটী বাঁধিয়া॥
তুমি লেহ সিন্দুর কপালে।
তোমার চন্দন দেহ ভালে॥
তুমি লহ কঙ্কণ কেয়ূরী।
তোমার তাড়বালা দেহ পরি॥
তুমি লেহ মোর আভরণ।
মোরে দেহ তোমার ভূষণ॥
শুন মোর এই নিবেদন।
শুনি হরষিত বৃন্দাবন॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত, “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন
গীতিকা”, ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মুরলী শিক্ষা, দাব ও নৌকা লীলা

বহুদিনের সাধ আছে হরি।
বাজাইতে মোহন মুরলী॥
তুমি লহ মোর নীল শাড়ী।
তব পীত ধড়া দেহ পরি॥
তুমি লহ মোর গজমোতি।
মোরে দেহ তোমার মালতী॥
ঝাঁপা খোঁপা লহ খসাইয়া।
মোরে দেহ চূড়াটি বাঁধিয়া॥
তুমি লহ সিন্দূর কপালে।
তোমার চন্দন দেহ ভালে॥
তুমি লহ কঙ্কণ কেয়ূরী।
তোমার তাড় বালা দেহ পরি॥
তুমি লহ মোর আভরণ।
মোরে দেহ তোমারি ভূষণ॥
শুন মোর এই নিবেদন।
শুনি’ হরষিত বৃন্দাবন॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শ্রীহরি বাসর সমাধি কাঁদে প্রভু নিরবধি
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৪৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহান্ত বিদায়।
॥ যথারাগ॥

শ্রীহরি বাসর সমাধি                        কাঁদে প্রভু নিরবধি
আঁখি জলে বুক ভাসি যায়।
কহিলেন ধীরে ধীরে                     নিত্যানন্দের গলা ধরে
বল ভাই কি করি উপায়॥
আর কি হরির দিনে                        এই শ্রীবাস অঙ্গনে
মন প্রাণের পাইব বিরাম।
গাইব কৃষ্ণের নাম                          পূরিবে মনের কাম
গড়াগড়ি চণ্ডাল অধম॥
অনেক যতন করি                    আনিয়া শ্রীবাসের বাড়ী
পতিত উদ্ধার মহান্ত সকল।
কেমনে বলিব কারে                      আজু সবে যাও ঘরে
রসনা বাধ্য নাহি হয়॥
বলিছেন গৌরশশী                      আমি থাকি ঘরে বসি
তুমি কর মহান্ত বিদায়।
নিতাই র'ল অধোমুখে                    কহিছে কতেক দুঃখে
আমা হ’তে এ আজ্ঞা ফিরাও॥
না হয় সঙ্গ ছাড়া                        @@@@@@ নাহি দিব
(না হয়)@@@@@@@@@@@
বাজার লাগাতে পার                       @@@@@@@@ধর
এত কথা বলা আ@@@@@@@
দধি ভাণ্ড লয়ে হাতে                     @@@@@@@@@@@
গৌর হরি নাচে বাহু তু@@
সীতানাথ হরি বলি                      নিত্যা@@@@@@@@
বলে ধন্য হ’ল পাপ কলি॥
সবে হরি হরি বলি                        হাতে দেয় @@তালি
নারীগণ করে জয় কার।
দধি ভাণ্ড ভূমে ঢালি                          গরাগরি কুতূহলি
নাম যজ্ঞ সর্ব্ব যজ্ঞ সার॥
গলে বসন নিয়ে যাই                         সকল মহান্ত ঠাই
বলে পুনঃ দরশন আশ।
এতেক সঙ্কেত করি                    বিদায় করল গৌরহরি
কান্দি মরে বৃন্দাবন দাস॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহান্ত বিদায়।

শ্রীহরি বাসর সমাধি,                        কাঁদে প্রভু নিরবধি,
আঁখি জলে বুক ভাসি যায়।
কহিলেন ধীরে ধীরে,                     নিত্যানন্দের গলা ধরে
বল ভাই কি করি উপায়॥
আর কি হরির দিনে,                        এই শ্রীবাস অঙ্গনে,
মন প্রাণের পাইব বিরাম।
গাইব কৃষ্ণের নাম,                          পূরিবে মনের কাম,
গড়াগড়ি চণ্ডাল অধম॥
অনেক যতন করি,                    আনিয়া শ্রীবাসের বাড়ী,
পতিত উদ্ধার মহান্ত সকল।
কেমনে বলিব কারে,                      আজু সবে যাও ঘরে,
রসনা বাধ্য নাহি হয়॥
বলিছেন গৌর শশী,                      আমি থাকি ঘরে বসি,
তুমি কর মহান্ত বিদায়।
নিতাই র'ল অধোমুখে,                    কহিছে কতেক দুঃখে,
আমা হতে আজ্ঞা ফিরাও॥
না হয় সঙ্গ ছাড়া হব,                    ভক্ত বিদায় নাহি দিব,
(না হয়) অপরাধী হব শ্রীচরণে।
বাজার লাগাতে পার,                        ভাঙ্গিতে শক্তি ধর
এত কথা বল আমায় কেনে॥
দধি ভাণ্ড লয়ে হাতে,                      দিলা শ্রীবাসের মাথে,
গৌর হরি নাচে বাহু তুলি।
সীতানাথ হরি বলি,                        নিত্যানন্দে হৃদে ধরি,
বলে ধন্য হ’ল পাপ কলি॥
সবে হরি হরি বলি,                         হাতে দেয় করতালি,
নারীগণ করে জয় কার।
দধি ভাণ্ড ভূমে ঢালি,                         গড়াগড়ি কুতূহলি,
নামযজ্ঞ সর্ব্ব যজ্ঞ সার॥
গলে বসন নিয়ে যাই,                           সকল মহান্ত ঠাঁই,
বলে পুনঃ দরশন আশ।
এতেক সঙ্কেত করি,                      বিদায় করল গৌরহরি,
কান্দি মরে বৃন্দাবন দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
একদিন পহুঁ হাসি অদ্বৈত মন্দিরে আসি
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী - বড় দশকুশী॥

একদিন পহুঁ হাসি,                        অদ্বৈত মন্দিরে আসি,
বসিলেন শচীর কুমার।
নিত্যানন্দ করি সঙ্গে,                        অদ্বৈত বসিলা রঙ্গে,
মহোত্সবের করিলা বিচার॥
শুনিয়া আনন্দে ভাসি,                        সীতা ঠাকুরাণী আসি,
কহিলেন মধুর বচন।
তা শুনি আনন্দ মনে,                        মহোত্সবের বিধানে,
বলে কিছু শচীর নন্দন॥
শুন ঠাকুরাণী সীতা,                        বৈষ্ণব আনিয়ে এথা,
আমন্ত্রণ করিয়া যতনে।
যেবা গায় যেবা বায়,                        আমন্ত্রণ কর তায়,
পৃথক্ পৃথক্ জনে জনে॥
এত বলি গোরারায়,                        আজ্ঞা দিলা সবাকায়,
বৈষ্ণব করহ আমন্ত্রণ।
খোল করতাল লৈয়া,                          অগুরু চন্দন দিয়া,
পূর্ণ ঘট করহ স্থাপন॥
আরোপণ কর কলা,                      তাহে বান্ধি ফুল মালা,
কীর্ত্তন-মণ্ডলী কুতূহলে।
মাল্য চন্দন গুয়া,                             ঘৃত মধু দধি দিয়া,
খোল-মঙ্গল সন্ধ্যাকালে॥
শুনিয়া প্রভুর কথা,                        প্রীতে বিধি কৈল যথা,
নানা উপহারে গন্ধবাসে।
সবে হরি হরি বলে,                            খোল-মঙ্গল করে,
বৃন্দাবন দাস রস ভাসে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী - তাল বড় দশকুশী॥

একদিন পহুঁ হাসি, অদ্বৈত মন্দিরে আসি, বসিলেন শচীর
কুমার। নিত্যানন্দ করি সঙ্গে, অদ্বৈত বসিলা রঙ্গে, মহোত্সবের
করিতে বিচার॥ শুনিয়া আনন্দে ভাসি, সীতা ঠাকুরাণী আসি,
কহিলেন মধুর বচন। তা শুনি আনন্দ মনে, মহোত্সবের
বিধানে, বলে কিছু শচীর নন্দন॥ শুন ঠাকুরাণী সীতা, বৈষ্ণব
আনিবা হেথা, আমন্ত্রণ করিয়া যতনে। যেবা গায় যে বাজায়,
আমন্ত্রণ কর তায়, পৃথক পৃথক জনে জনে॥ এতশুনি গোরারায়,
আজ্ঞা দিলা সবাকায়, বৈষ্ণব করহ আমন্ত্রণ। খোল করতাল লৈয়া,
অগুরু চন্দন দিয়া, পূর্ণঘট করহ স্থাপন॥ আরোপণ কর কলা,
তাহে বাঁধ ফুল মালা, কীর্ত্তন মণ্ডলী কুতূহলে। মাল্য চন্দন গুয়া,
ঘৃত মধু দধি দিয়া, খোল মঙ্গল সন্ধ্যাকালে॥ শুনিয়া প্রভুর কথা,
প্রীতে বিধি কৈল যথা, নানা উপহারে গন্ধবাসে। সবে হরি হরি
বলে, খোল মঙ্গল করে, বৃন্দাবন দাস রসে ভাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
এমন হইবে কেবা জানে
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

এমন হইবে কেবা জানে। তবে কি চাহিতাম শ্যামপানে॥ লোক
চরাচর ভয়, কুলের ধরম যায়, সে জনা কিছুই না মানে। আমার যুগল আঁখি,
যেন সে চাতক পাখী, লাগিয়া রয়েছে শ্যামপানে॥ বেকত হয়েছে অঙ্গে,
যেন আইসে সঙ্গে সঙ্গে, পাছে যেন লোকে কিছু বলে। উলটিয়া পুন দেখি,
সঙ্গে আর নাহি দেখি, পুন দেখি কদম্বের তলে॥ তাহার মোহন বেশে,
সচেতন রহে দেশে, বুঝিলাম জাতি কুল গেল। এমন মোহন কালা, জানি গো
নন্দের বালা, গৌর তনু শ্যাম মিশাইল॥ কালা কানুর বরণ, হিয়ায় জাগে
অনুক্ষণ, কালা বিনে অন্য না লয় মনে। দাস বৃন্দাবন কয়, এই মোর মনে
লয়, চল রূপ দেখি গিয়া বনে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এমন হইবে কেবা জানে।
তবে কি চাইতাম শ্যাম পানে॥
লোক চরাচর ডর                            কুলের ধরম ঘর
সে জনা কিছুই নাহি মানে।
আমার যুগল আঁখি                       যেন সে চাতক পাখী
লাগিয়া রয়েছে শ্যাম পানে॥
বেকত হয়েছে অঙ্গে                   যেন আইসে সঙ্গে সঙ্গে
পাছে যেন লোকে কিছু বলে।
উলটিয়া পুন দেখি                        সঙ্গে আর নাহি দেখি
পুন দেখি কদম্বের তলে॥
তাহার মোহন বেশে                        সচেতন রহে দেশে
বুঝিলাম জাতি কুল গেল।
এমন মোহন কালা                        জানি গো নন্দের বালা
গৌর তনু শ্যাম মিলাইল॥
কালা কানুর বরণ                        হিয়ায় জাগে অনুক্ষণ
কালা বিনে অন্য না লয় মনে।
দাস বৃন্দাবনে কয়                            এই মোর মনে লয়
চল রূপ দেখি গিয়া বনে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শুন শুন প্রাণসখা আকুল পরাণ
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন প্রাণসখা আকুল পরাণ। নিকুঞ্জ দেখিয়ে আমি হারাইলাম
জ্ঞান॥ তোমার কারণে আমি কিছু পাই বোধ। কারণ কহিয়ে ভাই না
করিহ ক্রোধ॥ কহিতে বাসি যে লাজ, না কহিলে মরি। মূচ্ছিত হইলাম
ভাই রাধারে সোঙরি॥ একদিন রাধিকা আসিয়াছিল এথা। এই কুঞ্জে
বসিয়ে কহিলা যেই কথা॥ সে সব বিলাস কথা আজি হৈল মনে। প্রাণ মোর
স্থির নহে রাধার কারণে॥ সে রাধা বিহনে মোর আকুল অন্তর। রাধা
অদর্শনে মোর ছাড়ে কলেবর॥ না জানি কি মন্ত্র জানে রাধা বিনোদিনী।
তিলে তিলে অস্থির করয়ে মোর প্রাণী॥ এই যত ব্যাধি মোর হৈল প্রাণসখা।
রাধা দরশনে মোর প্রাণ হয় রক্ষা॥ রাধা বিনে আর মোর নাহিক ঔষধ।
রাধা দরশনে ঘুচে সকল আপদ॥ সকল বৃত্তান্ত কহিল ঘনশ্যাম। কৃষ্ণ কোলে
করি তবে বলেন শ্রীদাম॥ বৃন্দাবন দাস কহে এই কথা সত্য। রাধা দরশন
বিনে সকলি অনিত্য॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বাম হস্তের উপরে রাখিয়া কৃষ্ণের মাথা
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১০৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাম হস্তের উপরে রাখিয়া কৃষ্ণের মাথা। মুখ মুছি শ্রীদাম কথয়ে নানা
কথা॥ কত কত মত কহে রসের আবেশে। মরম বচন শ্রীদাম কহে কৃষ্ণ-
পাশে॥ শুন শুন প্রাণ কানাই শুন যদুবীর। এখনি পাইবে রাধা মন কর স্থির॥
তোমার দুখে প্রাণ পুড়ে তোমার দুখে সুখী। সব অন্ধ লাগে মোরে, তোমারে না
দেখি॥ মনের সন্তাপ ছাড় কানু মোর ভাই। যতক্ষণ নাহি যাই রাধিকার ঠাঁই॥
হেন মতে শ্রীদাম কৃষ্ণেরে বোধ দিয়ে। বৃষভানু গৃহে গেলা আনন্দিত হ’য়ে॥
যে ঘরে রাধিকা করেন রন্ধনের কাম। জল খাবার ছলে তবে উঠিলা শ্রীদাম॥
কি কর রাধিকা তুমি শুনহ বচন। কৃষ্ণ দরশনে তুমি করহ গমন॥ পূর্ব্বে
যেখানে লীলা কৈলে কৃষ্ণ ল’য়ে। তথায় আছেন কৃষ্ণ মূর্চ্ছিত হইয়ে॥ জিয়ে
কিনা জিয়ে কৃষ্ণ অধিক সংশয়। তুমি যদি দেহ দেখা প্রাণ রক্ষ হয়॥ বিনয়
করিয়া কহি শুন তার বোল। ক্ষণে ক্ষণে মূরছিত ক্ষণে রাধা বোল॥ এতেক
কহিলা যখন শ্রীদাম সুন্দর। বিকল হইল রাধা আকুল অন্তর॥ ছল ছল
করে আঁখি হইল ততপর। কৃষ্ণের অথির শুনি দ্রবিল অন্তর॥ বৃন্দাবন
দাস কহে শুন ধনি রাধা। তুমি তার সবরস তুমি তনু আধা॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শুন শুন ওরে ভাই প্রাণের শ্রীদাম
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন ওরে ভাই প্রাণের শ্রীদাম। কেমনে ছাড়িব আমি রন্ধনের কাম॥
সকল কুটুম্ব আজ খাইবেন ভাত। রন্ধন ছাড়িয়া গেলে পড়িবে প্রমাদ॥
সহজে গোকুলে মোরে দুষ্ট করি বলে। লাজে হেট মাথা করিয়াছি এ
গোকুলে॥ একে সে দিবস ভাই কিছু নহে ভাল।ভোজন করিবে তাহে
সকল গোয়াল॥ হেনই সময় যদি গৃহ ছাড়ি যাব। সকল কুটুম্ব মাঝে
কলঙ্কিনী হব॥ আমি কলঙ্কিনী হইলে তুমি পাবে লাজ। মোরে
দুষ্ট করি ভাই হইবে কোন কাজ॥ তবে ভাই তুমি কহ গিয়া
এই কথা। কুটুম্বে খাইলে ভাত আসিবেন হেথা॥ রাধিকার কথা যদি
হইল বিশেষ। শ্রীদাম কহেন তবে কহিয়ে বিশেষ॥ শুন শুন রাই তবে
কহি যে উচিত। দুই পক্ষ রহে যাতে হেনই উচিত॥ আপনার যত বেশ
আমারে পরাো। আমি রন্ধন করি তুমি কৃষ্ণ-পাশে যাও॥ তোমার রন্ধনে
থাকি আমি পরি সাড়ী। মাথায় ঘুমুটা দিয়া আমি রান্ধিবাড়ি॥ ময়ূরের
পাখা দিয়া তুমি চূড়া বান্ধ। বাধা বেত্র লহ রাধে লেহ ডোর ছান্দ॥ এতেক
মন্ত্রণা শ্রীদাম কহয়ে রাধায়। দুই জনা দুই বেশ সংঘটিত হয়॥ একরূপ দুহু
জন সোণার কমল। সমান দন্তের শোভা, সেরূপ রাধিকা॥ সমান কপাল দণ্ড
সমান আকার। বেশ ফিরাইলে কেহ নারে চিনিবার॥ চূড়া মাত্র খুলি
শ্রীদাম বান্ধিলেন বেণী। তাহাতে বান্ধিল ঝাঁপা পাটের থুপানি॥ কপালে
শোভিত কিবা কাম সিন্দূর। দুই নেত্রে পড়িল কজ্জল নিরমল॥ তাহে অতি
শোভা করে বদন কমল॥ নাসিকায় পড়িল বেসর স্বর্ণ ফুল। দুই কর্ণে
পরিলেন রাধার কুণ্ডল॥ বিচিত্র যে দুই শঙ্খ শোভে দুই হাতে। সোণার
কঙ্কণ যে শোভিত ভেল তাথে॥ সোণার সুন্দর টার দুই বেয়ে সাজে। সোণার
নূপুর দুই চরণে বিরাজে॥ গেরুয়া বান্ধিল বুকে করিলা সন্ধান। কাঁচলি
ঝাঁপিয়ে কুচ করিল নির্ম্মাণ॥ পরম যুবতী প্রায় বড় শোভা হইল। সাক্ষাৎ
যে শ্রীরাধিকা শ্রীদাম হইল॥ শ্রীদাম কৃষ্ণের সখা কে বুঝিবে লীলা। মাথায়
ঘুঙ্ঘুট দিয়ে রন্ধনেতে গেলা॥ রাধিকার বেশ যদি শ্রীদাম হইলা। শ্রীদাম
আকারে রাধা বনে প্রবেশিলা॥ দিব্য নটবর বেশ ধরিলা রাধিকা। চূড়ার
উপরে দিল ময়ূরের পাখা॥ গুঞ্জা ছান্দে দিব্য চূড়া বান্ধিলেন মাথে। শিঙ্গা
বেত্র বেণু যে পাঁচনি করে হাতে॥ গুঞাজাহার শোভে গলে কদম্বের মালা।
পুরুষ বেশ ধরি রাধা পথ কৈল আলা॥ তিলক চন্দন অঙ্গে ভূষণ পরিধান।
পূর্ণ বেশ হইল রাধা সাক্ষাৎ শ্রীদাম॥ ললাটে তিলক শোভে চন্দনের রেখা।
শ্রীদামের বেশ ধরি চলিলা রাধিকা॥ উপহার নানা দ্রব্য নহনী মিঠাই।
কর্পূর তাম্বুল সাজি চলে কৃষ্ণ ঠাঁই॥ রাধার বিরহে কৃষ্ণ আকুল হইয়ে। পুষ্প-
সজ্জা করে আছে পথপানে চেয়ে॥ ক্ষণে একান্ত রাধা ধ্যান করি থাকে।
ক্ষণে শ্রণে ভূমি পড়ি রাধা বলি ডাকে॥ ক্ষণে ক্ষণে নৃত্য গীত ক্ষণে ক্ষণে
হাস। ক্ষণে ক্ষণে বৃন্দাবনের চাহে আশ পাশ॥ ক্ষণে ক্ষণে কদম্বের গাছে
চড়ি দেখে। ক্ষণে ক্ষণে রাধা বলি মুরলিতে ডাকে॥ ক্ষণে ক্ষণে নিধুবনে
ভ্রমে শ্যাম রায়। রাধা রাধা বলি ক্ষণে ডাকিয়ে বেড়ায়॥ কুঞ্জে কুঞ্জে স্থানে স্থানে
চাহে চারি ভিতে। হেনই সময় রাই আইলা আচম্বিতে॥ দিব্য গোপবেশ
ধরি পাঁচনি লয়ে হাতে। শ্রীদামের বেশ ধরি আইলা সাক্ষাতে॥ মনে দুঃখ
হইল তখন রাধা না দেখিয়ে। শ্রীদাম ভরমে রাইকে দ্বারেতে দেখিয়ে॥ কৃষ্ণ
কহেন আইস সখা শ্রীদাম সুন্দর। রাধার মঙ্গল কহ জুড়াক অন্তর॥ কি কহিল
রাধা তোরে কহ ত্বরা করি। কখন দেখিব আমি রাধা প্রাণেশ্বরী॥ মান
করি কি জানি বা না আইল রাধিকা। আনিতে নারিলে ভাই তুমি আইলে
একা॥ হেন বুঝি রাধা@@@@ গুরুজনমাঝে। কহিতে নারিলে ভাই গুরুভয়
লাজে॥ মিথ্যা তুমি @@ দিলে প্রতিজ্ঞা করিয়ে। বাক্য ভঙ্গ হৈল তোমার
রাধা না আনিয়ে॥ কটাক্ষে চাহিয়ে রাধা ধীরে ধীরে রহে। শ্রীদামের বাক্য
যেই মিথ্যা কভূ নহে। পথ পরিশ্রমে রাধা আইসে ধীরে ধীরে। আগুসারি
যাও তুমি রাধা আনিবারে॥ এতেক ছলনা করে রাধিকা সুন্দরী। দাস বৃন্দাবন
কহে রাধার চাতুরী॥

@@@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
একদিন গোপীভাবে জগত ঈশ্বর
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৫১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি লিখেছেন যে পদটি
“শ্রীচৈতন্যভাগবত ২।২৬।৩৫৫ পৃঃ” অর্থাৎ ২য় বা মধ্য খণ্ডের ২৬তম অধ্যায়ের অংশ।
কিন্তু আসলে এটি মধ্য খণ্ডের ২৫তম অধ্যায়ের অংশ। শেষে দেওয়া ভণিতার দুটি কলি
এই স্থানে হবে না। কারণ কলি দুটি সেই অধ্যায়ের শেষে দেওয়া রয়েছে।


একদিন গোপীভাবে জগত ঈশ্বর।
‘বৃন্দাবনে গোপী গোপী’ বোলে নিরন্তর॥
কোনো যোগে তহিঁ এক পড়ুয়া আছিল।
ভাবমর্ম্ম না জানিঞা সে উত্তর দিল॥
“গোপী গোপী” কেনে বোল নিমাঞি পণ্ডিত।
“গোপী গোপী” ছাড়ি কৃষ্ণ বোলহ ত্বরিত॥
কি পুণ্য জন্মিব ‘গোপী গোপী’ নাম লৈলে।
কৃষ্ণনাম লইলে সে পুণ্য বেদে বোলে॥
ভিন্ন ভাব প্রভুর সে, অজ্ঞে নাহি বুঝে।
প্রভু বোলে দস্যু কৃষ্ণ, কোন জনে ভজে॥
কৃতঘ্ন হইয়া বলি মারে দোষ বিনে।
স্ত্রী জিত হইয়া কাটে স্ত্রীর নাক কাণে॥
সর্ব্বস্ব লইয়া বলি পাঠায় পাতালে।
কি হইব আমার তাহার নাম লৈলে॥
অত বলি মহাপ্রভু স্তম্ভ হাতে লৈয়া।
পড়ুয়া মারিতে যায় ভাবাবিষ্ট হৈয়া॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ জান।
বৃন্দাবনদাস তছু পদযুগে গান॥
.                                  শ্রীচৈতন্যভাগবত ২।২৬।৩৫৫ পৃঃ

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর