| কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| ঘামিয়াছে চাঁদ মুখখানি ঘামিয়াছে চান্দ মুখখানি ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ৩০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। দানলীলা ॥ ধানশী॥ ঘামিয়াছে চাঁদ মুখখানি। দে দে পসরা আনি যার লাগি বিকি কিনি সেই খাউক এ ক্ষীর নবনী॥ এত বলি মহাসুখে ননী দিল কৃষ্ণমুখে সখী দিল রাধার বদনে। ভোজন করিয়া সায় আচমন করি তায় প্রসাদ পাইল জনে জনে॥ আর আমি ফিরিয়া ঘরে যাব না গো একেবারে জন্মের মত রইনু তরুমূলে। সাজায়ে দে কৃষ্ণদাসী এই বেশ বড় ভালবাসি অঙ্গের আভরণ নেগো মোর খুলে। ঘরে যেয়ে ইহাই বো’ল দানঘাটেতে রাই বিকা’ল যার রাধা হইল তাহারি। রাধা নাম ধরি যেন তিলাঞ্জলী দেয় মেন সুশীতল যমুনার বারি॥ এত বলি মহাসুখে, দুঁহু হেরে দুঁহু মুখে সুখের সায়রে দুহুঁ ভাসে। দুঁহু মুখ সুমাধুরী হেরিয়া নয়ন ভরি গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥ এই পদটি আনুমানিক ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। দানলীলা ॥ গৌরী - ডাঁসপাহিড়া॥ ঘামিয়াছে চাঁদ মুখ খানি। দে দে পসরা আনি, যার লাগি বিকি কিনি, সেই খাক খীর স্বর ননী॥ এত কহি কৃষ্ণ মুখে, ননী দিলা মহাসুখে সখি দিলা রাধার বদনে। ভোজন করিয়া সায়, আচমন কৈল তায়, প্রসাদ লইল জনে জনে॥ আর আমি ফিরিয়া ঘরে, যাবনাক একেবারে, অঙ্গের আভরণ নেগো মোর খুলে। ( আমায় ) সাজায়ে দে শ্যামদাসী, যাহা আমি ভালবাসি, রহি গেলাম এই তরুমূলে। ঘরে গিয়ে ইহাই বোলো, দান ঘাটে রাই বিকাইল যাহার রাধা হইল তাহার। রাধা নাম ধরি যেন, তিলাঞ্জলি দেয় মেন, সুশীতল জল যমুনার॥ এত কহি মহাসুখে, দুহুঁ হেরে দুহুঁ মুখে, সুখের সায়র মাঝে ভাসে। দুহুঁ রূপ সুমাধুরি, হেরিয়া নয়ন ভরি, গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী গৌরী - তাল দাশপাহিড়া॥ (তোমরা কেউ কিছু বোলোনাগো) ঘামিয়াছে চান্দ মুখখানি। দে দে পশরা আনি, যার লাগি এ বেচা কিনি, সেই খাউক ক্ষীর সর নবনী॥ এত বলি মনের সুখে, তুলে দিল চাঁদ মুখে, সখী দিল রাধার বদনে। ভোজন হইল যবে, আচমন কৈল তবে, প্রসাদ পাইল জনে জনে॥ আর আমি ফিরিয়া ঘরে, যাব নারে একেবারে, অঙ্গের ভূষণ নেরে খুলে। সাজায়ে দে শ্যামদাসী, যাহা আমি ভালবাসি, রয়ে গেলাম এই তরু তলে॥ ঘরে গিয়া ইহাই ব’লো, দানঘাটে রাই বিকালো, যার রাই হইল তাহার। রাধা নাম গায় যেন, তিলাঞ্জলি দেয় যেন, নিরমল জলে যমুনার॥ এত বলি মনের সুখে, দোঁহে হেরে দোঁহার মুখে, আনন্দ সাগরে দুহুঁ ভাসে। দুঁহু রূপ মাধুরী, দেখিয়া নয়ন ভরি, গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেখানে পদটি বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ বলে উল্লেখ রয়েছে। দান-মিলন শ্রীরাধার উক্তি ॥ তথা রাগ॥ . ঘামিয়াছে চান্দ মুখখানি। দে দে পশরা আনি যার লাগি বিকিকিনি . সেই খাউক ক্ষীর সর নবনী॥ এত কহি কৃষ্ণমুখে ননী দিল মহাসুখে . সখী দিলা রাধার বদনে। ভোজন হইল সায় আচমন কৈল তায় . প্রসাদ লইল জনে জনে॥ আর আমি ফিরিয়া ঘরে যাব না গো একেবারে . (যাদের) কুলের ভয় তারা যাউক ঘরে। প্রাণ যদি ছাড়ি যাবে ঘর লয়ে কিবা হবে . ঘরে যেতে বোলো না গো মোরে॥ তোদের যদি আজ্ঞা পাই শ্যামচান্দের বামেতে যাই . অঙ্গের আভরণ নে গো খুলে। আমায় সাজায়ে দে শ্যামদাসী যে বেশ বড় ভালবাসি . রহি গেলাম এই তরুমূলে॥ ঘরে গিয়া ইহাই বোল দানঘাটে রাই বিকাইল . যার রাধা হইল তাহার। রাধা নাম ধরি যেন তিলাঞ্জলি দেয় মেন . সুশীতল জলে যমুনার॥ এত বলি মহাসুখে দুঁহু হেরে দুঁহু মুখে . সুখের সায়র মাঝে ভাসে। দুঁহু রূপ সুমাধুরী হেরিয়া নয়ন ভরি . গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২৩২-পৃষ্ঠায় বৃন্দাবন দাস (২) এর পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। ঘামিয়াছে চান্দ মুখখানি। দে দে পশরা আনি যার লাগি বিকিকিনি . সেই খাউক ক্ষীর সর নবনী॥ এত কহি কৃষ্ণমুখে ননী দিল মহাসুখে . সখী দিলা রাধার বদনে। ভোজন হইল সায় আচমন কৈল তায় . প্রসাদ লইল জনে জনে॥ আর আমি ফিরিয়া ঘরে যাব না গো একেবারে . (যাদের) কুলের ভয় তারা যাউক ঘরে। প্রাণ যদি ছাড়ি যাবে ঘর লয়ে কিবা হবে . ঘরে যেতে বোলো না গো মোরে॥ তোদের যদি আজ্ঞা পাই শ্যামচান্দের বামেতে যাই . অঙ্গের আভরণ নে গো খুলে। আমায় সাজায়ে দে শ্যামদাসী যে বেশ বড় ভালবাসি . রহি গেলাম এই তরুমূলে॥ ঘরে গিয়া ইহাই বোল দানঘাটে রাই বিকাইল . যার রাধা হইল তাহার। রাধা নাম ধরি যেন তিলাঞ্জলি দেয় মেন . সুশীতল জলে যমুনার॥ এত বলি মহাসুখে দুঁহু হেরে দুঁহু মুখে . সুখের সায়র মাঝে ভাসে। দুঁহু রূপ সুমাধুরী হেরিয়া নয়ন ভরি . গুণ গায় বৃন্দাবন দাসে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রীহরি বাসর সমাধি কাঁদে প্রভু নিরবধি কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ৪৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মহান্ত বিদায়। ॥ যথারাগ॥ শ্রীহরি বাসর সমাধি কাঁদে প্রভু নিরবধি আঁখি জলে বুক ভাসি যায়। কহিলেন ধীরে ধীরে নিত্যানন্দের গলা ধরে বল ভাই কি করি উপায়॥ আর কি হরির দিনে এই শ্রীবাস অঙ্গনে মন প্রাণের পাইব বিরাম। গাইব কৃষ্ণের নাম পূরিবে মনের কাম গড়াগড়ি চণ্ডাল অধম॥ অনেক যতন করি আনিয়া শ্রীবাসের বাড়ী পতিত উদ্ধার মহান্ত সকল। কেমনে বলিব কারে আজু সবে যাও ঘরে রসনা বাধ্য নাহি হয়॥ বলিছেন গৌরশশী আমি থাকি ঘরে বসি তুমি কর মহান্ত বিদায়। নিতাই র'ল অধোমুখে কহিছে কতেক দুঃখে আমা হ’তে এ আজ্ঞা ফিরাও॥ না হয় সঙ্গ ছাড়া @@@@@@ নাহি দিব (না হয়)@@@@@@@@@@@ বাজার লাগাতে পার @@@@@@@@ধর এত কথা বলা আ@@@@@@@ দধি ভাণ্ড লয়ে হাতে @@@@@@@@@@@ গৌর হরি নাচে বাহু তু@@ সীতানাথ হরি বলি নিত্যা@@@@@@@@ বলে ধন্য হ’ল পাপ কলি॥ সবে হরি হরি বলি হাতে দেয় @@তালি নারীগণ করে জয় কার। দধি ভাণ্ড ভূমে ঢালি গরাগরি কুতূহলি নাম যজ্ঞ সর্ব্ব যজ্ঞ সার॥ গলে বসন নিয়ে যাই সকল মহান্ত ঠাই বলে পুনঃ দরশন আশ। এতেক সঙ্কেত করি বিদায় করল গৌরহরি কান্দি মরে বৃন্দাবন দাস॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত সঙ্গীতাচার্য্য দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মহান্ত বিদায়। শ্রীহরি বাসর সমাধি, কাঁদে প্রভু নিরবধি, আঁখি জলে বুক ভাসি যায়। কহিলেন ধীরে ধীরে, নিত্যানন্দের গলা ধরে বল ভাই কি করি উপায়॥ আর কি হরির দিনে, এই শ্রীবাস অঙ্গনে, মন প্রাণের পাইব বিরাম। গাইব কৃষ্ণের নাম, পূরিবে মনের কাম, গড়াগড়ি চণ্ডাল অধম॥ অনেক যতন করি, আনিয়া শ্রীবাসের বাড়ী, পতিত উদ্ধার মহান্ত সকল। কেমনে বলিব কারে, আজু সবে যাও ঘরে, রসনা বাধ্য নাহি হয়॥ বলিছেন গৌর শশী, আমি থাকি ঘরে বসি, তুমি কর মহান্ত বিদায়। নিতাই র'ল অধোমুখে, কহিছে কতেক দুঃখে, আমা হতে আজ্ঞা ফিরাও॥ না হয় সঙ্গ ছাড়া হব, ভক্ত বিদায় নাহি দিব, (না হয়) অপরাধী হব শ্রীচরণে। বাজার লাগাতে পার, ভাঙ্গিতে শক্তি ধর এত কথা বল আমায় কেনে॥ দধি ভাণ্ড লয়ে হাতে, দিলা শ্রীবাসের মাথে, গৌর হরি নাচে বাহু তুলি। সীতানাথ হরি বলি, নিত্যানন্দে হৃদে ধরি, বলে ধন্য হ’ল পাপ কলি॥ সবে হরি হরি বলি, হাতে দেয় করতালি, নারীগণ করে জয় কার। দধি ভাণ্ড ভূমে ঢালি, গড়াগড়ি কুতূহলি, নামযজ্ঞ সর্ব্ব যজ্ঞ সার॥ গলে বসন নিয়ে যাই, সকল মহান্ত ঠাঁই, বলে পুনঃ দরশন আশ। এতেক সঙ্কেত করি, বিদায় করল গৌরহরি, কান্দি মরে বৃন্দাবন দাস॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| একদিন পহুঁ হাসি অদ্বৈত মন্দিরে আসি কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশ্রী - বড় দশকুশী॥ একদিন পহুঁ হাসি, অদ্বৈত মন্দিরে আসি, বসিলেন শচীর কুমার। নিত্যানন্দ করি সঙ্গে, অদ্বৈত বসিলা রঙ্গে, মহোত্সবের করিলা বিচার॥ শুনিয়া আনন্দে ভাসি, সীতা ঠাকুরাণী আসি, কহিলেন মধুর বচন। তা শুনি আনন্দ মনে, মহোত্সবের বিধানে, বলে কিছু শচীর নন্দন॥ শুন ঠাকুরাণী সীতা, বৈষ্ণব আনিয়ে এথা, আমন্ত্রণ করিয়া যতনে। যেবা গায় যেবা বায়, আমন্ত্রণ কর তায়, পৃথক্ পৃথক্ জনে জনে॥ এত বলি গোরারায়, আজ্ঞা দিলা সবাকায়, বৈষ্ণব করহ আমন্ত্রণ। খোল করতাল লৈয়া, অগুরু চন্দন দিয়া, পূর্ণ ঘট করহ স্থাপন॥ আরোপণ কর কলা, তাহে বান্ধি ফুল মালা, কীর্ত্তন-মণ্ডলী কুতূহলে। মাল্য চন্দন গুয়া, ঘৃত মধু দধি দিয়া, খোল-মঙ্গল সন্ধ্যাকালে॥ শুনিয়া প্রভুর কথা, প্রীতে বিধি কৈল যথা, নানা উপহারে গন্ধবাসে। সবে হরি হরি বলে, খোল-মঙ্গল করে, বৃন্দাবন দাস রস ভাসে॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী ধানশী - তাল বড় দশকুশী॥ একদিন পহুঁ হাসি, অদ্বৈত মন্দিরে আসি, বসিলেন শচীর কুমার। নিত্যানন্দ করি সঙ্গে, অদ্বৈত বসিলা রঙ্গে, মহোত্সবের করিতে বিচার॥ শুনিয়া আনন্দে ভাসি, সীতা ঠাকুরাণী আসি, কহিলেন মধুর বচন। তা শুনি আনন্দ মনে, মহোত্সবের বিধানে, বলে কিছু শচীর নন্দন॥ শুন ঠাকুরাণী সীতা, বৈষ্ণব আনিবা হেথা, আমন্ত্রণ করিয়া যতনে। যেবা গায় যে বাজায়, আমন্ত্রণ কর তায়, পৃথক পৃথক জনে জনে॥ এতশুনি গোরারায়, আজ্ঞা দিলা সবাকায়, বৈষ্ণব করহ আমন্ত্রণ। খোল করতাল লৈয়া, অগুরু চন্দন দিয়া, পূর্ণঘট করহ স্থাপন॥ আরোপণ কর কলা, তাহে বাঁধ ফুল মালা, কীর্ত্তন মণ্ডলী কুতূহলে। মাল্য চন্দন গুয়া, ঘৃত মধু দধি দিয়া, খোল মঙ্গল সন্ধ্যাকালে॥ শুনিয়া প্রভুর কথা, প্রীতে বিধি কৈল যথা, নানা উপহারে গন্ধবাসে। সবে হরি হরি বলে, খোল মঙ্গল করে, বৃন্দাবন দাস রসে ভাসে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এমন হইবে কেবা জানে কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এমন হইবে কেবা জানে। তবে কি চাহিতাম শ্যামপানে॥ লোক চরাচর ভয়, কুলের ধরম যায়, সে জনা কিছুই না মানে। আমার যুগল আঁখি, যেন সে চাতক পাখী, লাগিয়া রয়েছে শ্যামপানে॥ বেকত হয়েছে অঙ্গে, যেন আইসে সঙ্গে সঙ্গে, পাছে যেন লোকে কিছু বলে। উলটিয়া পুন দেখি, সঙ্গে আর নাহি দেখি, পুন দেখি কদম্বের তলে॥ তাহার মোহন বেশে, সচেতন রহে দেশে, বুঝিলাম জাতি কুল গেল। এমন মোহন কালা, জানি গো নন্দের বালা, গৌর তনু শ্যাম মিশাইল॥ কালা কানুর বরণ, হিয়ায় জাগে অনুক্ষণ, কালা বিনে অন্য না লয় মনে। দাস বৃন্দাবন কয়, এই মোর মনে লয়, চল রূপ দেখি গিয়া বনে॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এমন হইবে কেবা জানে। তবে কি চাইতাম শ্যাম পানে॥ লোক চরাচর ডর কুলের ধরম ঘর সে জনা কিছুই নাহি মানে। আমার যুগল আঁখি যেন সে চাতক পাখী লাগিয়া রয়েছে শ্যাম পানে॥ বেকত হয়েছে অঙ্গে যেন আইসে সঙ্গে সঙ্গে পাছে যেন লোকে কিছু বলে। উলটিয়া পুন দেখি সঙ্গে আর নাহি দেখি পুন দেখি কদম্বের তলে॥ তাহার মোহন বেশে সচেতন রহে দেশে বুঝিলাম জাতি কুল গেল। এমন মোহন কালা জানি গো নন্দের বালা গৌর তনু শ্যাম মিলাইল॥ কালা কানুর বরণ হিয়ায় জাগে অনুক্ষণ কালা বিনে অন্য না লয় মনে। দাস বৃন্দাবনে কয় এই মোর মনে লয় চল রূপ দেখি গিয়া বনে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |