কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
শারি শুক পিক দেখি নিশি অবসান
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথাহি মঙ্গল রাগঃ॥

শারি শুক পিক দেখি নিশি অবসান। জাগাইতে রাধাকৃষ্ণ করি অনুমান॥
সারি বলে শুক ওহে নিশি আছে ঘোর। কেমনে জাগাইব কিশোরা কিশোর॥
ডালেতে বসিলা পিক করে চারুধ্বনি। চমকি উঠিলা তখন রাধা বিনোদিনী॥
বৃন্দাবন দাসে কহে বড় দুখ দিলি। তমালে কনকলতা কেনে ছাড়াইলি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
বিদায় মাগিয়া ধনি চলু নিজ গৃহ
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ প্রভাতী॥ একতালি॥

বিদায় মাগিয়া ধনি চলু নিজ গৃহ। গমনহি সঙ্কোচ কম্পিত দেহ॥
চলইতে ক্ষেণে ক্ষেণে পদ পালটায়। চকিত বিলোকনে দশদিশ চায়॥
বহু পরকারে নিজ মন্দির গেল। শয়ন ভবনে পুন শয়নহি কেল॥
রজনী প্রভাত হেরি জাগে গুরুজন। তৈছ উঠল ধনি কহে বৃন্দাবন॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ বসি দুই ভাই
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টপ্রহরব্যপী নামসঙ্কীর্ত্তনের অধিবাস
॥ তুড়ী - মধ্যম একতালা॥

শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ বসি দুই ভাই।
হাসি কহে মহাপ্রভু শুন ভাই নিতাই॥
জীবের নিস্তার ভাই করিতে আসিয়া।
ভুলিয়া রহিলি কেনে আউলিয়া হউয়া॥
সংকীর্ত্তন-যজ্ঞ করি জীবের নিস্তার।
সেই লাগি হৈল এবে তোমার অবতার॥
অতএব সূতারম্ভ করহ নিতাই।
অধিবাস আরম্ভ করহ তরাই॥
প্রভুর শ্রীমুখ-বাক্য শুনি নিত্যানন্দ।
ভকত-মণ্ডলী সহ হৈল আনন্দ॥
দেশে দেশে নিত্যানন্দ পত্র পাঠাইল।
মুকুন্দ অদ্বৈতেরে আনিতে চলিল॥
রামাই নন্দাইকে ডাকি হাসি প্রভু কন।
যতেক মঙ্গল দ্রব্য কর আয়োজন॥
পূর্ণ কুম্ভ আম্রসা’র মাল্য চন্দন।
চন্দ্রাতপ দিয়া করহ আচ্ছাদন॥
দধি মধু হরিদ্রাদি ঘৃত দ্বীপ গন্ধ।
অধিবেশন করি করহ আনন্দ॥
শুনি ভক্তগণের আনন্দ বড় হইল।
বৃন্দাবনদাস হেরি নাচিতে লাগিল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শ্রীধর মুকুন্দ ডাকিয়া তখন কহিছে গৌরাঙ্গ হরি
ভণিতা বৃন্দাবনদাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ
মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অষ্টপ্রহরব্যপী নামসঙ্কীর্ত্তনের অধিবাস
॥ ধানশী - যপতাল॥

শ্রীধর মুকুন্দ, ডাকিয়া তখন. কহিছে গৌরাঙ্গ হরি।
মনোহর বেদি, কর নিরমাণ, স্থান সংস্কার করি॥
দিয়া আম্রসার, রচনা করহ, তুলসীর আরাধন।
আপনে নিতাই, করহ যতনে, বৈষ্ণবের নিমন্ত্রণ॥
গীতা ভাগবত, রত্নবেদিপর, আচ্ছাদন দিয়া রাখ।
মৃদঙ্গ-মঙ্গলী, হ’য়ে কুতূহলী, প্রস্তুত হইয়া থাক॥
পাইয়া আজ্ঞাধন, নিতাই তখন, নিমন্ত্রণ পাঠাইল।
দিগ্ বিদিগ্ হ’তে, সকল বৈষ্ণব, প্রভুর নিকট আইল॥
চৌষট্টি মহান্ত, দ্বাদশ গোপাল, শাখা উপশাখাগণ।
চৈতন্যের গণ, সকলি আইল, পাই’ প্রভুর নিমন্ত্রণ॥
গৌর মুখ হেরি, বলে হরি হরি, আনন্দ-সাগরে ভাসে।
শান্তিপুর-নাথ, আনন্দে নাচিছে, কহে বৃন্দাবন দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শুন রাধে এই রস আমি যে তোমার বশ
ভণিতা দাস বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৫৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিবেদন।
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি।
॥ কড়খা ধানশী - বড় ছুটাতাল॥

শুন রাধে এই রস                        আমি যে তোমার বশ
তোমা বিনে নাহি লয় মনে।
জপিতে তোমার নাম                       ধৈরয না ধরে প্রাণ
তুয়া রূপ করিয়ে ধেয়ানে॥
শ্রীরাধে শ্রীরাধে বাণী                   যেদিগে যার মুখে শুনি
সেই দিগে ধায় মোর মন।
চাতক ফুকরে যেন                           ঘন চাহে বরিষণ
তেন হেরি ও চাঁদ বদন॥
খেনে খেনে মুখ তুলি                      ঘন ডাকি রাধা বলি
তবে প্রাণ হয় নিবারণ।
তোমা অনুসারে আসি                    কুঞ্জের ভিতরে বসি
তোমা লাগি এই বৃন্দাবন॥
করেতে মুরলী থাকে                      ঘন রাধা বলি ডাকে
যতক্ষণ না পায় দেখিতে।
তোমার নূপুর ধ্বনি                        আপন শ্রবণে শুনি
তবে মোর ক্ষমা হয় চিতে॥
রাধাকৃষ্ণ দুটি নাম                        তাহে তুমি আগুয়ান
আমি করি তোমার ভরসা।
তবে সে সফল হব                           তুয়া পদ পরশিব
দাস বৃন্দাবনের আশা॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৪১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিবেদন
॥ করখা ধানসী - ছুটাতাল॥

শুন রাধে এই রস                        আমি যে তোমার বশ
তোমা বিনে নাহি লয় মনে।
জপিতে তোমার নাম                      ধৈরজ না ধরে প্রাণ
তুয়া রূপ করিয়ে ধেয়ানে॥
শ্রীরাধে শ্রীরাধে বাণী                    যেদিকে যার মুখে শুনি
সেই দিগে ধায় মোর মন।
চাতক ফুকারে যেন                            ঘন চাহে বরিষণ
তেন হেরি ও চাঁদবদন॥
খেনে খেনে মুখ তুলি                        ঘন ডাকি রাধা বলি
তবে প্রাণ হয় নিবারণ।
তোমা অনুসারে আসি                     কুঞ্জের ভিতরে বসি
তোমা লাগি এই বৃন্দাবন॥
করেতে মুরলী থাকে                      ঘন ‘রাধা’ বলি ডাকে
যতক্ষণ না পায় দেখিতে।
তোমার নূপুরধ্বনি                            আপন শ্রবণে শুনি
তবে মোর ক্ষমা হয় চিতে॥
রাধা কৃষ্ণ দুটি নাম                        তাহে তুমি আগুয়ান
আমি করি তোমার ভরসা।
তবে সে সফল হব                            তুয়া পদ পরশিব
দাস বৃন্দাবনের ইহ আশা॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় দ্বারা
পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত, “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ১৪০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের আত্মনিবেদন

শুন রাধে এই রস---                        আমি যে তোমার বশ,
তোমা বিনে নাহি লয় মনে।
জপিতে তোমার নাম                        ধৈরজ না ধরে প্রাণ,
তুয়া রূপ করিয়ে ধেয়ানে॥
শ্রীরাধে শ্রীরাধে বাণী                        যেদিগে যার মুখে শুনি
সেই দিগে ধায় মোর মন।
চাতক ফুকরে যেন                              ঘন চাহে বরিষণ
তেন হেরি ও-চাঁদবদন॥
খেনে খেনে মুখ তুলি’                         ঘন ডাকি রাধা বুলি
তবে প্রাণ হয় নিবারণ।
তোমা অনুসারে আসি’                        কুঞ্জের ভিতরে বসি,
তোমা লাগি’ এই বৃন্দাবন॥
করেতে মুরলী থাকে                        ঘন ‘রাধা’ বলি’ ডাকে
যতক্ষণ না পায় দেখিতে।
তোমার নূপুর-ধ্বনি                             আপন শ্রবণে শুনি
তবে মোর ক্ষমা হয় চিতে॥
রাধা কৃষ্ণ দুটি নাম                        তাহে তুমি আগুয়ান,
আমি করি তোমার ভরসা।
তবে সে সফল হব                              তুয়া পদ পরশিব
দাস বৃন্দাবনের এ আশা॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
রাই দূতী দুইজনে চলে শ্যাম অন্বেষণে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণন।
॥ সিন্ধুড়া - মধ্যম দশকুশী॥

রাই দূতী দুইজনে                        চলে শ্যাম অন্বেষণে
উপনীত রাধাকুণ্ড-তীরে!
চুড়া বাঁশী ভাসে জলে,               দেখি আঁখি বহে লোরে,
করাঘাত করে শির পরে॥
ব্যাকুলা হইলা ধনি,                      মুখে নাহি সরে বাণী,
বলে বন্ধু দেহ দরশন।
দরশন দেহ তুমি,                        নতুবা মরিব আমি,
সত্য এই বলি হে বচন॥
এত বলি বিনোদিনী,                      বৃষভানুর নন্দিনী,
শ্যা-কুণ্ডে ঝাঁপ দিতে যায়।
দূতী গিয়া ধরে হাতে,                ধনীরে না দেয় যাইতে
কি কর কি কর ধনি রাই॥
বৃন্দাবন দাসে কয়,                       করি কিছু অনুনয়,
প্রাণ নাহি কর বিসর্জ্জন।
না তেজ না তেজ প্রাণ,                   শুন মোর নিবেদন,
শূন্য না করিহ বৃন্দাবন॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
দেখ নিতাই চাঁদের করুণা
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই গ্রন্থের
৬৩-পৃষ্ঠায় পুনর্বার “শ্রীশ্রীহরিনাম যজ্ঞ কীর্ত্তন” হিসেবেও দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনাম যজ্ঞ সমাপনান্তের পদ। যথা,---

দেখ নিতাই চাঁদের করুণা।
কলিতে কীর্ত্তন যাগ,                        আরম্ভিলা মহাভাগ,
পূরাইতে অদ্বৈত বাসনা॥
হোতা হৈলা নিত্যানন্দ,                        হরিনাম মহামন্ত্র,
বদ্ধ জীবের মুক্তি কল্প করি।
শ্রীঅদ্বৈত যজমান,                        শ্রীবাসালয় যজ্ঞস্থান
যজ্ঞেশ্বর গৌরাঙ্গ শ্রীহরি॥
বাসনাদি কাষ্ঠগণ,                          প্রেম-ঘৃত নির্ম্মঞ্চন,
ভক্তি-অগ্নি হইল প্রবল।
দুর্ব্বাসনা ধর্ম্মাধর্ম্ম,                         অন্য দেবাশ্রয় মর্ম্ম,
ভস্ম কৈল ইত্যাদি সকল॥
সহচরগণ মেলি,                          সমাপিলা যাগ কেলি,
নবদ্বীপে হৈল হেন ঘটা।
বৃন্দাবন দাসে ভাষে,                     বিথারল দেশে দেশে,
বৈষ্ণব-চিহ্ণ শেষ যজ্ঞ ফোঁটা॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শ্রীহরি বাসরে হরি কীর্ত্তন বিধান
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীহরি বাসরে কীর্ত্তন
( শ্রীএকাদশী রাত্রে )

শ্রীহরি বাসরে হরি কীর্ত্তন বিধান।
নৃত্য আরম্ভিলা প্রভু জগতের প্রাণ॥
পুণ্যবন্ত শ্রীবাস অঙ্গনে শুভারম্ভ।
উঠিল মঙ্গল ধ্বনি গোপাল গোবিন্দ॥
সবার অঙ্গেতে শোভে শ্রীচন্দন মালা।
আনন্দে সবেই নাচে হইয়া বিভোলা॥
মৃদঙ্গ মন্দিরা বাজে শঙ্খ করতাল।
সংকার্ত্তন সঙ্গে সব হইল মিশাল॥
ব্রহ্মাণ্ডে উঠিল ধ্বনি পুরিয়া আকাশ।
চৌদিকের অমঙ্গল যায় সব নাশ॥
চতুর্দ্দিকে শ্রীহরি মঙ্গল সংকীর্ত্তন।
মধ্যে নাচে জগন্নাথ মিশ্রের নন্দন॥
যার নামানন্দে শিব বসন না জানে।
যার রসে নাচে শিব সে নাচে আপনে॥
যাঁর নামে বাল্মীকি হইল তপোধন।
যাঁর নামে অজামিল পাইল মোচন॥
যাঁর নাম শ্রবণে সংসার বন্ধ ঘুচে।
হেন প্রভু অবতরি কলিযুগে নাচে॥
যাঁর নাম লই শুক নারদ বেড়ায়।
সহস্র বদন প্রভু যাঁর গুণ গায়॥
সর্ব্ব মহা প্রায়শ্চিত্ত যে প্রভুর নাম।
সে প্রভু নাচয়ে দেখে যত ভাগ্যবান্॥
হইল পাপীষ্ট জন্ম তখনে না হৈল।
হেন মহা মহোত্সব দেখিতে না পাইল॥
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নিত্যানন্দ চান্দ জান।
বৃন্দাবন দাস তছু পদ যুগে গান॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
হায় হায় ঠেকিলাম বিষম ফাঁদে
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

হায় হায় ঠেকিলাম বিষম ফাঁদে।
সামান্যেতে মজি                        না ভাবিলাম হরি
নিরবধি প্রাণ কাঁদে॥
বল কি হবে আমার গতি।
বিষয়ে মজিয়ে                             তাপিত হইয়ে
হারাইলাম প্রাণপতি॥
হায়, কি করিতে কি না করি।
সাধন ছাড়িয়ে                              অনুগত হয়ে
গুমরে গুমরে মরি॥
অহে, গোপীনাথ, করহ দয়।
বৃন্দাবন দাসে                           কাতর ডাকিছে
দেহ শ্রীচরণ-ছায়া॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সেই সে পীরিতি বিষম বড়
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

সেই সে পীরিতি বিষম বড়।
যাহার হইল                          সে সে জানিল
হৃদয় করিল দড়॥
পীরিতি পীরিতি                        সমতুল করি
সেখানে এখানে দেখ।
শ্রীরূপমঞ্জরি                        আশ্রয় করিয়ে
হৃদয়-মাঝারে রাখ॥
হৃদয় ধরিয়ে                          সেরূপ মাধুরী
পীরিতি জানিল যে।
আরোপ-সিদ্ধ                          সাধন করিয়া
ভবে পার হল সে॥
আমি সে বিষয়-                      তাপ্ত্ তাপিত
সদাই হইল ভোর।
বৃন্দাবন কহে                           কর অনুগত
শ্রীরূপগোস্বামী মোর॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর