| কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| শুন রাধে এই রস আমি যে তোমার বশ ভণিতা দাস বৃন্দাবন কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৫৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নিবেদন। শ্রীকৃষ্ণের উক্তি। ॥ কড়খা ধানশী - বড় ছুটাতাল॥ শুন রাধে এই রস আমি যে তোমার বশ তোমা বিনে নাহি লয় মনে। জপিতে তোমার নাম ধৈরয না ধরে প্রাণ তুয়া রূপ করিয়ে ধেয়ানে॥ শ্রীরাধে শ্রীরাধে বাণী যেদিগে যার মুখে শুনি সেই দিগে ধায় মোর মন। চাতক ফুকরে যেন ঘন চাহে বরিষণ তেন হেরি ও চাঁদ বদন॥ খেনে খেনে মুখ তুলি ঘন ডাকি রাধা বলি তবে প্রাণ হয় নিবারণ। তোমা অনুসারে আসি কুঞ্জের ভিতরে বসি তোমা লাগি এই বৃন্দাবন॥ করেতে মুরলী থাকে ঘন রাধা বলি ডাকে যতক্ষণ না পায় দেখিতে। তোমার নূপুর ধ্বনি আপন শ্রবণে শুনি তবে মোর ক্ষমা হয় চিতে॥ রাধাকৃষ্ণ দুটি নাম তাহে তুমি আগুয়ান আমি করি তোমার ভরসা। তবে সে সফল হব তুয়া পদ পরশিব দাস বৃন্দাবনের আশা॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৪১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নিবেদন ॥ করখা ধানসী - ছুটাতাল॥ শুন রাধে এই রস আমি যে তোমার বশ তোমা বিনে নাহি লয় মনে। জপিতে তোমার নাম ধৈরজ না ধরে প্রাণ তুয়া রূপ করিয়ে ধেয়ানে॥ শ্রীরাধে শ্রীরাধে বাণী যেদিকে যার মুখে শুনি সেই দিগে ধায় মোর মন। চাতক ফুকারে যেন ঘন চাহে বরিষণ তেন হেরি ও চাঁদবদন॥ খেনে খেনে মুখ তুলি ঘন ডাকি রাধা বলি তবে প্রাণ হয় নিবারণ। তোমা অনুসারে আসি কুঞ্জের ভিতরে বসি তোমা লাগি এই বৃন্দাবন॥ করেতে মুরলী থাকে ঘন ‘রাধা’ বলি ডাকে যতক্ষণ না পায় দেখিতে। তোমার নূপুরধ্বনি আপন শ্রবণে শুনি তবে মোর ক্ষমা হয় চিতে॥ রাধা কৃষ্ণ দুটি নাম তাহে তুমি আগুয়ান আমি করি তোমার ভরসা। তবে সে সফল হব তুয়া পদ পরশিব দাস বৃন্দাবনের ইহ আশা॥ এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত এবং হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় দ্বারা পরিদৃষ্ট ও সংশোধিত, “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের আত্মনিবেদন শুন রাধে এই রস--- আমি যে তোমার বশ, তোমা বিনে নাহি লয় মনে। জপিতে তোমার নাম ধৈরজ না ধরে প্রাণ, তুয়া রূপ করিয়ে ধেয়ানে॥ শ্রীরাধে শ্রীরাধে বাণী যেদিগে যার মুখে শুনি সেই দিগে ধায় মোর মন। চাতক ফুকরে যেন ঘন চাহে বরিষণ তেন হেরি ও-চাঁদবদন॥ খেনে খেনে মুখ তুলি’ ঘন ডাকি রাধা বুলি তবে প্রাণ হয় নিবারণ। তোমা অনুসারে আসি’ কুঞ্জের ভিতরে বসি, তোমা লাগি’ এই বৃন্দাবন॥ করেতে মুরলী থাকে ঘন ‘রাধা’ বলি’ ডাকে যতক্ষণ না পায় দেখিতে। তোমার নূপুর-ধ্বনি আপন শ্রবণে শুনি তবে মোর ক্ষমা হয় চিতে॥ রাধা কৃষ্ণ দুটি নাম তাহে তুমি আগুয়ান, আমি করি তোমার ভরসা। তবে সে সফল হব তুয়া পদ পরশিব দাস বৃন্দাবনের এ আশা॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাই দূতী দুইজনে চলে শ্যাম অন্বেষণে ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি আনুমানিক ১৯২৫ সালে প্রকাশিত, মহাজন পদাবলী, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মানপ্রকরণন। ॥ সিন্ধুড়া - মধ্যম দশকুশী॥ রাই দূতী দুইজনে চলে শ্যাম অন্বেষণে উপনীত রাধাকুণ্ড-তীরে! চুড়া বাঁশী ভাসে জলে, দেখি আঁখি বহে লোরে, করাঘাত করে শির পরে॥ ব্যাকুলা হইলা ধনি, মুখে নাহি সরে বাণী, বলে বন্ধু দেহ দরশন। দরশন দেহ তুমি, নতুবা মরিব আমি, সত্য এই বলি হে বচন॥ এত বলি বিনোদিনী, বৃষভানুর নন্দিনী, শ্যা-কুণ্ডে ঝাঁপ দিতে যায়। দূতী গিয়া ধরে হাতে, ধনীরে না দেয় যাইতে কি কর কি কর ধনি রাই॥ বৃন্দাবন দাসে কয়, করি কিছু অনুনয়, প্রাণ নাহি কর বিসর্জ্জন। না তেজ না তেজ প্রাণ, শুন মোর নিবেদন, শূন্য না করিহ বৃন্দাবন॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ নিতাই চাঁদের করুণা ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এই গ্রন্থের ৬৩-পৃষ্ঠায় পুনর্বার “শ্রীশ্রীহরিনাম যজ্ঞ কীর্ত্তন” হিসেবেও দেওয়া রয়েছে। শ্রীনাম যজ্ঞ সমাপনান্তের পদ। যথা,--- দেখ নিতাই চাঁদের করুণা। কলিতে কীর্ত্তন যাগ, আরম্ভিলা মহাভাগ, পূরাইতে অদ্বৈত বাসনা॥ হোতা হৈলা নিত্যানন্দ, হরিনাম মহামন্ত্র, বদ্ধ জীবের মুক্তি কল্প করি। শ্রীঅদ্বৈত যজমান, শ্রীবাসালয় যজ্ঞস্থান যজ্ঞেশ্বর গৌরাঙ্গ শ্রীহরি॥ বাসনাদি কাষ্ঠগণ, প্রেম-ঘৃত নির্ম্মঞ্চন, ভক্তি-অগ্নি হইল প্রবল। দুর্ব্বাসনা ধর্ম্মাধর্ম্ম, অন্য দেবাশ্রয় মর্ম্ম, ভস্ম কৈল ইত্যাদি সকল॥ সহচরগণ মেলি, সমাপিলা যাগ কেলি, নবদ্বীপে হৈল হেন ঘটা। বৃন্দাবন দাসে ভাষে, বিথারল দেশে দেশে, বৈষ্ণব-চিহ্ণ শেষ যজ্ঞ ফোঁটা॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হায় হায় ঠেকিলাম বিষম ফাঁদে ভণিতা বৃন্দাবন দাস কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হায় হায় ঠেকিলাম বিষম ফাঁদে। সামান্যেতে মজি না ভাবিলাম হরি নিরবধি প্রাণ কাঁদে॥ বল কি হবে আমার গতি। বিষয়ে মজিয়ে তাপিত হইয়ে হারাইলাম প্রাণপতি॥ হায়, কি করিতে কি না করি। সাধন ছাড়িয়ে অনুগত হয়ে গুমরে গুমরে মরি॥ অহে, গোপীনাথ, করহ দয়। বৃন্দাবন দাসে কাতর ডাকিছে দেহ শ্রীচরণ-ছায়া॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সেই সে পীরিতি বিষম বড় ভণিতা বৃন্দাবন কবি বৃন্দাবন দাস এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেই সে পীরিতি বিষম বড়। যাহার হইল সে সে জানিল হৃদয় করিল দড়॥ পীরিতি পীরিতি সমতুল করি সেখানে এখানে দেখ। শ্রীরূপমঞ্জরি আশ্রয় করিয়ে হৃদয়-মাঝারে রাখ॥ হৃদয় ধরিয়ে সেরূপ মাধুরী পীরিতি জানিল যে। আরোপ-সিদ্ধ সাধন করিয়া ভবে পার হল সে॥ আমি সে বিষয়- তাপ্ত্ তাপিত সদাই হইল ভোর। বৃন্দাবন কহে কর অনুগত শ্রীরূপগোস্বামী মোর॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |