কবি বৃন্দাবন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
ত্রিভুবন-মাঝে দেখহ বিচারি
ভণিতা দাস বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”,
৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ত্রিভুবন-মাঝে                        দেখহ বিচারি
কি নারী পুরুষ হয়।
রসিক বলিয়া                        রসময় কহে
রসিক কেহ ত নয়॥
রসিক বলিয়া                        রসময় দেহ
বিরল ধামেতে আছে।
সাক্ষাতে আছয়ে                    সেরূপ মাধুরী
সামান্যেতে মজে পাছে॥
দোহে বিদগধ                      গুণে বিশারদ
রসিক নাগর নাম।
সে রসে প্রবেশ                     করিল যে জন
পাইল মানুষ-ধাম॥
সে রসিক যে                       দেখহ বিচারি
সহজ একুই হয়।
সামান্য-বিশেষ                     বিচার করিলে
বেদে কুবিচার হয়॥
পূর্ব্বেতে পরেতে                  দেখহ বিচারি
রসিক আছয়ে হেথা।
অনুগত হয়ে                      ভজন করিলে
ঘুচিবে মনেরি ব্যথা॥
জগতে আছয়ে                   সেরূপ মাধুরী
বুঝিতে না পারি মনে।
ভাবেতে মিশায়ে                দেখহ বিচারি
রসিক নারীর সনে॥
সেকূপ মাধুরী                    মনে করি সদা
সাধন কেমনে হয়।
গোপীনাথ-কৃপা-                  চরণ-বলেতে
দাস বৃন্দাবন কয়॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
শুনহ পামর মন
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

শুনহ পামর মন।
শ্রীগুরুচরণ                        না করি স্মরণ
ঘুচাইলে প্রেমধন॥
দারুণ সংসারে                    সদা প্রাণ দহে
সোয়াস্তি নাহিক পাই।
বিষানলে সেই                     জারিলেক দেহ
কি দশা হইল ভাই॥
পাপেতে হইল                     এ দেহ আমার
বিষয়ে হইনু রত।
সাধন-পূজন                          স্মরণ-ভজন
বারণ করিনু যত॥
দেহের স্বভাবে                    পিরীতি করহ
কি লাগি কিসের আশে।
শ্রীগুরুচরণ                          করহ স্মরণ
কহে বৃন্দাবনদাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
মন শ্রীগুরুচরণ সেব অনুক্ষণ
ভণিতা বৃন্দাবন দাস
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

মন, শ্রীগুরুচরণ                    সেব অনুক্ষণ
ছাড়ি অন্য অভিলাষ।
অনুগত হয়ে                        সাধন করিয়ে
ব্রজেতে করহ বাস॥
নামাশ্রয় এক                        মন্ত্রাশ্রয় দেখ
দুই প্রবর্ত্তক হয়।
ভাবাশ্রয় এই                        রসাশ্রয় এই
@@@@@@@@
এ দুই রাখিয়া                    ভাবাশ্রয় হইয়া
সাধন হইবে যবে।
রসাশ্রয় প্রেম                     আরোপ হইবে
সাধন হইবে তবে॥
শিক্ষাগুরুগণ                        দেহ শ্রীচরণ
নিবেদন করি আমি।
বৃন্দাবনদাসে                        করহ প্রসাদে
কেবল তারণ তুমি॥

@@@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
প্রেমের সায়র নিতাই চান্দ
ভণিতা বৃন্দাবন
কবি বৃন্দাবন দাস
এই পদটি ১৯১৯ সালে (১৩২৬ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত, সাহিত্য-পরিষৎ-গ্রন্থাবলীর অন্তর্গত
বীরভূম রতন লাইব্রেরীতে সংগৃহীত, শিবরতন মিত্র সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির
বিবরণ”, ২য় খণ্ড, ১ম সংখ্যা, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রেমের সায়র নিতাই চান্দ।
খেনেকে হাসয়ে খেনেক কান্দ॥
কখন গৌরাঙ্গ বলিঞা ডাকে।
দীন হীন জনে প্রেমেতে দেখে॥
দেখিঞা তাপিত অখিল জনে।
দুর্লভ প্রেম করল দানে॥
এমন দয়াল কে আছে ভাই।
উত্তম অধম জাহাতে নাই॥
সভারে সমান করল দয়া।
দিঞা সে রাতুল চরণছায়া॥
নিতাই-চরণে যে করে আশ।
বৃন্দাবন তার দাসের দাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর